Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একা একা – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একা একা – ২

    ০২.

    শরদিন্দু তখনও আলস্য বোধ করছিলেন। বেলা পড়ে গিয়েছে, বিকেলেও হয়ে গিয়েছিল। ঘরের দরজাটা ভেজানেনা। মাথার দিকের জানলাটা বন্ধ, পাশের জানলা খানিকটা ভোলা, পরদা ঝুলছে গাঢ় রঙের। পরদার ওপর দিয়ে বিকেলের ঝিমোনো রোদ দেখা যাচ্ছিল।

    অল্প করে দরজা খুলে নীহার ঘরে পা বাড়ালেন। তাঁর প্রথমে মনে হয়েছিল, শরদিন্দু ঘুমোচ্ছেন, পরে সিগারেটের গন্ধে বুঝলেন মানুষটি নিশ্চয় জেগে আছেন।

    ঘুমোচ্ছ? নীহার বললেন। ঘুমন্ত মানুষকে কেউ ঘুমোচ্ছ বলে না, নীহার নিজেই যেন মনে মনে হাসলেন।

    সাড়া দিলেন শরদিন্দু।

    দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নীহার; সাড়া পাবার পর দরজার পাট খানিকটা খুলে দিলেন। চৌকাঠ থেকে রোদ অনেক দূরে সরে গেছে। ঘরের মধ্যে এগিয়ে এসে নীহার বললেন, ওপরের ঘরে শুতে কষ্ট হল? গরম পেলে খুব?

    না। তোমাদের কলকাতায় আর গরম কোথায়! গরম আমাদের দিকে।

    তোমাদের ওদিকে তো বলো পাহাড়।

    পাহাড় মানে পাঁচমারি হিলসের একটা রেঞ্জ। আমাদের ওখান থেকে মাইল দশা শরদিন্দু বিছানা থেকে সামান্য উঠে বালিশে ভর দিলেন। এম পির ক্লাইমেট সব জায়গায় এক রকম নয়। কোথাও কোথাও বেজায় গরম পড়ে, আমাদের বিহারের মতন। কোনও কোনও জায়গায় মডারেট ক্লাইমেট। তবে শীতটা বেশিই হয়।

    নীহারের মনে হল ঘুম থেকে শরদিন্দু বেশিক্ষণ ওঠেননি৷ হাই তুলছেন বড় বড়। জল খাবে? নীহার জিজ্ঞেস করলেন।

    দাও। তোমাদের ঠাণ্ডা-জল নয়।

    ঘরেই জলের পাত্র ছিল। নীহার জল গড়িয়ে দিলেন।

    শরদিন্দু তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন; জল খেয়ে আরামের শব্দ করলেন। তারপর কী মনে করে বললেন, আমার পেটে কলকাতার জল পড়ল কত বছর পরে বলো তো?

    নীহার মুচকি হাসলেন। সে তো তোমারই মনে রাখার কথা।

    শরদিন্দু যেন হিসেব করছিলেন নীহারের মুখের দিকে তাকিয়ে। বললেন, বছর আটাশ হবে। হবে না?

    নীহার সায় দেওয়া ঘাড় নাড়লেন, ওই রকমই হবে।

    আমি কলকাতা ছাড়লাম, যুদ্ধের মাঝামাঝি। ফরটি টুয়ে, অগাস্ট রেভুলেশনের বছর।

    ছিলেই বা কবছর। নীহার এবার মাথার দিকের জানলা খুলে দিচ্ছিলেন। পাশের জানলাও পুরোপুরি মেলে দিলেন। ঘরে পড়ন্ত বিকেলের স্বাভাবিক আলো এল।

    শরদিন্দু বললেন, কলকাতায় আমার বছর চারেক থাকা। কলেজের কটা বছর। যুদ্ধ লেগে সব এলোমেলো হয়ে গেল; আমি হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে চলে গেলাম।

    নীহার সবই জানেন। তাঁর কাছে শরদিন্দুর জীবনের অন্তত গোড়ার ছাব্বিশ সাতাশটা বছর নিজের জীবনের মতোই জানা। বিছানার পায়ের দিকের দেওয়াল ঘেঁষে মালপত্র ডাঁই করা আছে, সেদিকে তাকিয়ে থাকলেন নীহার। তারপর বললেন, মুখ টুখ ধুয়ে এসো; চা খাও।

    চা হয়ে গিয়েছে?

    হচ্ছে। পাঁচটা বাজতে চলল।

    পাঁচ? …আমি বেশ খানিকটা ঘুমিয়ে নিয়েছি তা হলে! শরদিন্দু এবার ছোট মাপের হাই তুললেন। তুমি এত খাওয়ালে, খেয়েদেয়ে আমি সেই যে এসে ব্যাঙের মতন চিত হলাম, আর এপাশ ওপাশ করতে পারি না শরদিন্দু হাসতে গিয়ে কাশি বাধিয়ে ফেললেন।

    নীহার মজা করে বললেন, তুমি আর খেলে কোথায়? মাছের কাঁটা বাছতে ভুলে গেছ, খাবে কী?

    বিছানা থেকে নেমে পড়তে পড়তে শরদিন্দু বললেন, লোক আগে আমাদের ছাতু বলত, মনে আছে নীহার। এখন আবার বলে মাছু। কেন যে বলে কে জানে। তা মাড়ুদের দেশে থাকতে থাকতে মাছ খাওয়া ভুলে গিয়েছি। …তবে তুমি আজ যত রকম মাছ খাইয়েছ সব বলতে পারি।

    নীহার হেসে বললেন, আচ্ছা,.সে আর বলবে কী? খাবার সময়েই তো আমরা বললাম।

    শরদিন্দু ভুরু কুঁচকে বললেন, বললে নাকি! তবে তো আমার আর বলার উপায় থাকল না। পারশে মাছের ঝালটা আমার মুখে লেগে আছে এখনও। কত বছর পরে পারশে মাছ খেলাম। শরদিন্দু যেন ঝালের স্বাদটা এখনও জিবের কোথাও রেখে দিয়েছেন এমন এক মুখ করলেন।

    নীহার বেশ শব্দ করেই হেসে উঠলেন। বুড়ো বয়সে কত যে করছ। যাও মুখ ধুয়ে এসো।

    শরদিন্দু পরিতৃপ্ত মুখে ঘর ছেড়ে চলে গেলেন।

    সামান্য পরে শরদিন্দু ফিরে এসে দেখলেন নীহার ঘরে নেই। চশমাটা খুঁজে নিয়ে বেতের হেলানো চেয়ারটায় তিনি বসলেন। বেতের ওপর পাতলা গদি পাতা রয়েছে: তুলোর গদি। গদিটা নতুন নতুন লাগছে। একরঙা একটা পিঠ কাপড়ও রেখেছেনীহার। শরদিন্দুর মনে হল, তাঁর জন্যেইনীহারের এত ব্যবস্থা। জানলার গা ঘেঁষেই বসলেন শরদিন্দু। পাখাটা আগের মতন ঘুরে যাচ্ছে।

    বাইরে নীহারের গলা পাওয়া গেল। তেতলায় পা দিয়ে ঝি কিংবা চাকরকে কিছু বলছিলেন হয়তো, তারপর ঘরে এলেন।

    তোমাকে আর নীচে নামালাম না, চা নিয়ে এলাম নীহার বললেন। তাঁর হাতে শরদিন্দুর চা।

    শ্যাম কী করছে? শরদিন্দু জিজ্ঞেস করলেন।

    চা খেয়ে এই তো উঠল,নীহার শরদিন্দুর চা ঢালতে ঢালতে বললেন, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট দেখছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে। কলকাতা দেখছে।

    শরদিন্দু চায়ের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে বললেন, ওর কলকাতা দেখার খুব সাধ ছিল।

    কার না থাকে, তোমারও ছিল. নীহার যেন মুচকি হাসলেন, চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে শরদিন্দুর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। কলকাতায় পড়তে আসার জন্যে তোমার কী বায়না! আমার বাপু বেশ মনে আছে। জ্যাঠামশাইয়ের মোটে ইচ্ছে ছিল না তুমি কলকাতায় পড়তে আস। তিনি চাইছিলেন পাটনা পাঠাতে। কাছে হত। কলকাতা ওঁদের পছন্দ ছিল না। তা তোমার একেবারে ধনুকভাঙা পণ, সেই কলকাতাতেই এলে। জেদে তোমায় কে হারায়।

    শরদিন্দু যেন পুরনো কথাটাকে তেমন করে গায়ে মাখলেন না, বললেন, আমি শখ করে কলকাতায় আসিনি। কলকাতায় পড়ার আমার খুব ইচ্ছে ছিল। পুরো সাধটা আর মিটল কই। তার আগেই পালাতে হল। বলে চায়ের কাপে মুখ দিতে গিয়ে বললেন, তোমার চা?

    আমি সন্ধের আগে চা খেতে পারি না আর। বলে সামান্য সরে এসে জানলার পরদাটা আরও গুটিয়ে দিলেন নীহার। রোদ আসছে না। বাতাসই আসছিল। মধ্যে অম্বল-টম্বল নিয়ে খুব ভুগেছিলাম। আলসারের মতন হয়ে গিয়েছিল। ধরাকাটা করে থাকতে হত। বিকেলে চা খেলে বুকটা জ্বালাজ্বালা করে। সন্ধেবেলাতেই খাই।

    শরদিন্দু আয়েশ করে ধীরে সুস্থে চা খেতে লাগলেন। নীহার বললেন, আমি ভাবলাম, তুমি বসে বসে চা খাবে, আমি তোমার মোটঘাট খুলে যা-যা দরকার বের করে গুছিয়ে দেব।

    শরদিন্দু বললেন, দেবেখন; একটু বোসো৷

    বসব তো। আমি বসে বসেই কাজ করব। আমার কি আর দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থা আছে। দেখছ না, কেমন ভারী হয়ে গিয়েছি।

    ভারী–? শরদিন্দু হাসি হাসি মুখ করলেন।

    মোটা বলবে তো? বলল। নীহার হাসলেন।

    শরদিন্দুনীহারকে দেখতে লাগলেন। এই নীহারের সঙ্গে পুরনোনীহারের তুলনা করা ঠিক নয়, বয়স মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই বদলায়, কখনও কখনও অতিমাত্রায়, চেনাই যায় না। নীহারকে কিন্তু চেনা যায়। মুখের অদলবদল সত্ত্বেও আদলটি তেমন কিছু পালটায়নি। চৌকো ধরনের মুখে সামান্য চাপা থুতনি নীহারকে চিনিয়ে দিত, আজও দেয়। তফাতের মধ্যে, তখন যা ছিল ছিমছাম পরিষ্কার এখন তা ভরাট হয়ে গিয়েছে। সমস্ত মুখটাই প্রায় গোল দেখায়। নাকটি আরও ফুলে গিয়েছে, চোখ দুটি একেবারে সংসারী, মমতা মাখানো, মাসিপিসি ধরনের। নীহারের মাথার চুলও কোথাও কোথাও সাদাটে হয়ে আসছে। শরদিন্দুর মনে হল না, নীহারকে ঠিক মোটা বলা যায়, তবে বয়েসের মেদে কেমন এক গড়নভাঙা চেহারা হয়ে গিয়েছে নীহারের। নীহার এখনও সাদা থান পরে না, সরু কালো পাড়ের ধুতি পরে। হালকা হলুদ পাড়ের ধুতি পরে সে স্টেশনে গিয়েছিল। গায়ের জামা সাদা। গলায় সরু হার, হাতে সরু চুড়ি দু গাছা করে।

    শরদিন্দু হেসে বললেন, তুমি আর মোটা কোথায়? ওই একটু..

    নীহার হেসে জবাব দিলেন, মোটা নয়, তবে মোটামুটি–এই তো?

    কথাটা উপভোগ করে শরদিন্দু হাসতে লাগলেন।

    নীহার সামান্য অপেক্ষা করে বিছানার পায়ের দিকে এগিয়ে গেলেন, মালপত্রের কাছে। তুমি কি সমস্ত সংসার উঠিয়ে এনেছ?

    বাইরে বেরুলে কখন কী লাগবে বোঝা তো যায় না, নীহার। আমি দরকারিগুলোই নিয়েছি।

    এত জিনিস তোমার দরকারি! মোটা মোটা বিছানাগুলো বয়ে এনেছ কেন? আমি না তোমায় বিছানাপত্র আনতে বারণ করেছিলাম।

    শরদিন্দু কী যে বলবেন বুঝতে না পেরে বললেন, তুমি লিখেছিলে ঠিকই। তবে আমি ভাবলাম, বেডিং-ফেডিং নেওয়া ভাল, দরকারে কাজে লাগবে।

    তোমার ওই রকম ভাবনা। আমার বাড়িতে আর দুজনের বাড়তি বিছানা নেই!

    শরদিন্দু অপ্রস্তুত বোধ করলেন।  তুমি যে কী বলো! ব্যবস্থা যা করে রেখেছ এ একেবারে রাজসূয়…।

    তোমাদের বিছানা আমি খুলছি না। কাল রোদে দিয়ে আবার সব বেঁধেবঁধে রেখে দিতে বলব নারানদের। বেডিংয়ের মধ্যে তোমাদের দরকারি যদি কিছু রেখে থাকো কাল বের করে নিয়ো।

    কী আছে আমার ঠিক মনে পড়ছে না। কাল দেখব।

    ওই বড় ট্রাংকটা কার? তোমারই তো?

    আমার। খোকারটা বোধহয় নীচেই থেকে গেছে।

    আর-একটা ছোট ট্রাংক?

    ওতে আমার জিনিস রয়েছে।

    কী জিনিস? চাবি কোথায় তোমার?

    চাবি জামার পকেটে।

    সুটকেসে কী আছে?

    খুচরো জিনিস। ওষুধপত্র আছে কিছু।

    তোমার ওষুধ?

    হ্যাঁ।

    কী অসুখ তোমার?

    ডেফিনিট কিছু নয়। ওই জেনারেল কমপ্লেন। বয়স বাড়লে যা হয়। এখানে ওখানে ব্যথা, অল্পসল্প দুর্বলতা, মাঝে মাঝে ঘুম না হওয়া–এই আর কি! ওষুধ-টষুধ তেমন একটা কিছু নেই, ক্রুশনসল্ট, হজমের দু-চারটে ওষুধ। তবে মাঝে মাঝে নিশ্বাসের একটা কষ্ট হয়, ব্রিদিং ট্রাবল..

    নীহার দু পা এগিয়ে শরদিন্দুর ঝোলানো কোটের পকেটে হাত ডোবালেন। চাবি খুঁজতে খুঁজতে বললেন, নিশ্বাসের কষ্ট ভাল নয়। এখানে বড় কাউকে দেখিয়ে নাও। বুক নিয়ে অবহেলা করতে নেই।

    শরদিন্দু চা খেতে লাগলেন।

    পকেট হাতড়ে চাবিটা শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হল। নীহার চাবি নিয়ে সোজা বাক্সর সামনে মাটিতে বসে পড়লেন।

    তোমার কটা কাপড়-চোপড় আগে বের করে দিই। কোন ট্রাংক খুলব বলো?

    শরদিন্দু বললেন, তুমি অত ব্যস্ত হচ্ছ কেন? আমি নিজেই বার করে নিতে পারতাম।

    নীহার ট্রাংকের তালার সঙ্গে চাবি মেলাতে লাগলেন। কথার কোনও জবাব দিলেন না।

    শরদিন্দু উঠে গিয়ে সিগারেট, লাইটার নিয়ে এসে আবার চেয়ারে বসলেন।

    তোমায় দুটো পাজামা বের করে দিই, গেঞ্জিনীহার বললেন, কোন জামা পরবে? হাফ-হাতা ঢোলাগুলো?

    দাও, যা হয় দাও; বাড়িতেই রয়েছি

    নীহার বাক্স হাতড়ে কাপড়-চোপড় বের করতে লাগলেন।

    সিগারেট ধরিয়ে নিলেন শরদিন্দু৷ আরও খানিকটা চা নিজেই কাপে ঢেলে নিতে নিতে বললেন, তোমাদের এই বাড়িটি বেশ। পাড়াটাও নিরিবিলি দেখছি।

    নীহার হাতের কাজ সারতে সারতে জবাব দিলেন, নিরিবিলি আর কোথায়? এখন এখানে গায়ে গায়ে বাড়ি, একটুকরো জমি পড়ে নেই। কত লোক তরে এমনিতে পাড়াটা শান্ত-টান্ত। নীহার বাক্স হাতড়ে শরদিন্দুর পাজামা বের করে কোলের ওপর রাখলেন, একটা তোয়ালেও পাওয়া গেল। গেঞ্জি তাঁর চোখে পড়ছিল না।

    শরদিন্দু নীহারকে দেখছিলেন। মাথার কাপড় নেমে কাঁধে পড়ে আছে। নীহারের চুল বেশ কোঁকড়ানো ছিল, এখন চুলের দীর্ঘতা কমে গিয়েছে, ঘনতা কমেছে, দু-এক জায়গায় ধূসর রং ধরেছে।

    শরদিন্দুর মনে পড়ল নীহার একবার দুর্গামণ্ডপে পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে কান ঘেঁষে বেশ জখম হয়েছিল। অনেকটা কেটে গিয়েছিল বেচারির। সেলাই পড়েছিল, জ্বর হয়েছিল বেশ। দাগটা নিশ্চয় এখনও আছে। শরদিন্দু প্রায় বলতে যাচ্ছিলেন কিছু, এমন সময় নীহার কথা বললেন।

    নীহার বললেন, তুমি যদি আর দশ বারোটা বছর আগেও এখানে আসতে, ফাঁকা কাকে বলে বুঝতে পারতে! সন্ধের পর শেয়াল ডাকত। বিয়ের পর আমিই যখন এলাম, তখন সবে শ্বশুরমশাই একতলাটুকু করেছেন। আমাদের এই বাড়ি, আর ধরো আঙুলে গুনে তিনটে কি চারটে বাড়ি। রাজ্যের গাছপালা, বাদাড়, এঁদো পুকুর। অন্ধকার হল তো এই তল্লাট জুড়ে শুধু শিয়ালের ডাক, কানের পাশে ঝিঁঝি শুনছি সারাক্ষণ। ঘুটঘুট করত সব। ভয়ে আমি মরতাম বাপু। কী বিচ্ছিরি যে লাগত?

    তোমার শ্বশুরমশাই না ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন?

    ডিজাইনার; সাহেব কোম্পানিতে কাজ করতেন। আমি যখন বিয়ের পর এলাম, তখন তাঁর বাতে অঙ্গ পড়ে গেছে। ডান হাতটা আর তুলতেও পারেন না উঁচু করে। ওঁর মুখে শুনেছি, এই জমি উনি হাজার দেড়েক করে কাঠা কিনেছিলেন। অনেক আগেই। আমাদের বাড়ি যখন হচ্ছে তখনই জমির দর চার-টার হয়ে গেছে। এখন তো জমিই নেই। বছর কয়েক আগেও পনেরো আঠারো হাজার টাকা কাঠা হয়ে গিয়েছিল।

    শরদিন্দু মোটামুটি নীহারের শ্বশুরবাড়ির কথা জানেন। নীহারের শ্বশুর মোটামুটি সচ্ছলই ছিলেন। মানুষটিও খুব ভাল ছিলেন নিশ্চয়, নয়তো কে আর ডাক্তার ছেলের বিয়েতে একটা পাই-পয়সাও দাবি জানায় না। শরদিন্দুনীহারের শ্বশুরকে দেখেননি। তবে সবই শুনেছেন। নীহারের শ্বশুর স্বাস্থ্য বদলাবার জন্যে মাস দুয়েকের জন্যে বাইরে বেড়াতে যান। জায়গাটা অবশ্য মধুবনী শরদিন্দু আর নীহারের জায়গা। নীহারের কাকার সঙ্গে ভদ্রলোকের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয়। সেই সূত্র ধরেই নীহারের বিয়ে। শরদিন্দুর তখন মনে হত, পৃথিবীতে এত জায়গা থাকতে, ভদ্রলোক তাদের শহরে কেন জলহাওয়া বদলাতে এসেছিলেন? তিনি না এলেও কি ভাগ্যের অদলবদল কিছু হত? বোধহয় হত না।

    নীহার কথা বললেন। শরদিন্দু মুখ ফিরিয়ে দেখলেন, বাক্সর ডালা বন্ধ করেছেন নীহার।

    এই বাড়ি নীহার বললেন, বারো আনাই শ্বশুরমশাই শেষ করে গিয়েছিলেন। তখন খরচপত্রও কম ছিল। বাবা নিজে সব জানতেন-টানতেন–তাঁর হাতে না হলে এ বাড়ি আর এমনটি হত না। বাক্সটায় তালা দিয়ে এবার স্যুটকেসটা টেনে নিলেন নীহার। খুললেন না। আমরা আর কতটুকু করেছি। এদিকে এই তেতলার ঘরটা আর ওদিকে দোতলার ছাদটাদ, বাকি কিছু টুকটাক করতে হয়েছে। বাড়িতে ভাড়াটে বসাতে হলে কিছু সুখসুবিধে দেখতে হয়।

    তোমাদের ওপাশটায় পুরোটাই ভাড়া?

    হ্যাঁ; দুঘর ভাড়াটে থাকে, নীচে আর ওপরে। ওদিকটা দোতলা। আর আমার এদিকে, নীচে গ্যারেজ আর খান-দুই ঘর নিয়ে মিসেস বাগচি নার্সারি স্কুল করেছেন। স্কুল আর কী, কাচ্চাবাচ্চা আসে কিছু পাড়ার, চেঁচামেচি করে, দোলনা দোলে, লাফালাফি করে খানিকটা, তারপর বাড়ি ফিরে যায়। বাড়ির মা মাসিরা দুপুরে জিরোতে পারে নিঝঞ্ঝাটে তারই ব্যবস্থা। নীহার হাসলেন।

    শরদিন্দু ঠাট্টা করে বললেন, তুমি নার্সারি স্কুলের প্রেসিডেন্ট?

    দূর দূর– নীহার মাথা নেড়ে হাসতে হাসতে উঠে দাঁড়ালেন। কোলের জিনিসগুলো ঘরের আলনায় গুছিয়ে রাখতে রাখতে বললেন, আমার নিজের দিকটায় আর ভাড়াটে বসাবার ইচ্ছে ছিল না। বড় ঝঞ্ঝাট করে। আগে বার-দুই ছিল। বাবা, সে কী বায়নাক্কা। তার ওপর হইচই, গণ্ডগোল। এ তোমার অনেক নির্ঝঞ্ঝাট। সকালের দিকে ঘণ্টা দুই-তিন, তারপর তো ফাঁকা।

    কথা বললেন না শরদিন্দু; সিগারেট শেষ হয়ে এসেছিল, ছাইদান খুঁজতে লাগলেন। নীহারের চোখে পড়ল শরদিন্দু এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। নীহার ছাইদান তুলে নিয়ে টিপয়টা শরদিন্দুর চেয়ারের পাশে টেনে দিলেন।

    এবার তোমার ওষুধপত্রগুলো বের করে রেখে দিই, নীহার বললেন।

    থাক না, আমি নিয়ে নেব।

    না না, ঘর জোড়া করে সব পড়ে আছে; পরিষ্কার করে দিলে তুমিও হাঁটাচলা করতে পারবে, দেখতে ভাল লাগবে। নীহার আবার মাটির ওপর বসে পড়লেন।

    খানিকটা চুপচাপ থেকে শরদিন্দু বললেন, নীহার তুমি দেখছি বেশ ভাল ভাবেই হালটা ধরতে পেরেছে সংসারের, নয়তো কী যে হত…!

    সুটকেসের চাবি বাছতে বাছতে নীহার শরদিন্দুর দিকে তাকালেন। মাথার কাপড় আর তিনি তুলে দেননি, সেই রকমই ঘাড়ের কাছে পড়ে আছে। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন, আমি না ধরলে আর কে ধরবে বলো? আমার আর কে ছিল? শ্বশুরমশাইয়ের ওই একটি মাত্র ছেলে, মেয়েটি বিয়ে থা করে তার বরের সঙ্গে সেই যে বিদেশ চলে গেল, আর ফিরল না। ফিরবেও না। আজকাল খোঁজখবরও করে না। বছরে এক আধখানা চিঠিও পাই না। শ্বশুরমশাই মারা যাবার পর আমরাই তো ওর সব ছিলাম। কী দোষ করেছি জানি না সম্পর্কটাও রাখল না আর।

    শরদিন্দু অন্যমনস্কভাবে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। কলকাতায় নীহার এতটা একা তাঁর যেন জানা ছিল না। কী মন করে জিজ্ঞেস করলেন, কলকাতায় তোমার শ্বশুরবাড়ির আরও আত্মীয়স্বজন ছিলেন শুনেছিলাম!

    একেবারে নিজের কেউ নেই; জ্ঞাতিগোষ্ঠী আছে। আমার এক দেওর আছে, রিনির বাবার মাসতুতো ভাই; আর আছে এক বড় ননদ, ওদের জ্যাঠতুতো দিদি। দেওরটিই যা মাঝে সাঝে এসে খোঁজখবর করে যায়। সে বড় পাগলা। তেমন আপদে বিপদে সেই সম্বল। তবে গজেন ঠাকুরপো থাকে অনেক দুরে, পাতিপুকুরে। যখন তখন আসতে পারে না। ওদের ওদিকে আসা যাওয়াও মুশকিল, নিত্যি গণ্ডগোল। তা ছাড়া মানুষ আজকাল নিজেকে নিয়েই পারে না তো জ্ঞাতিগোষ্ঠী! নীহার কথা বলতে বলতে কাজ শুরু করলেন। ওষুধপত্রর শিশি, হট ওয়াটার ব্যাগ, এটা-সেটা বার করতে লাগলেন।

    শরদিন্দু খানিকটা সোজা হয়ে বসলেন। শেষ বেলার এক ফলা আলো মেঝেতে পড়ে আছে, নীহারের বেশ কাছাকাছি। চারপাশে জিনিসপত্র ছড়ান। শরদিন্দু অলস চোখে নীহারকে দেখছিলেন: সব গোছগাছ শেষ না করে নীহার উঠবে না। এখনও যেন তার একরোখা ভাবটা রয়েছে।

    ওরা কেউ আসে-টাসে? শরদিন্দু জিজ্ঞেস করলেন, দুলালদা, মণি?

    দাদা গত বছর এসেছিল একবার। মণিরা তো দিল্লি চলে গেছে..বাপ-মা যতদিন থাকে ততদিন মেয়েদের বাপের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক, তারপর সবাই ভুলে যায়, বুঝলে না। মা মারা যাবার পর আমিও আর ওদিকে যাই নি।

    শরদিন্দু ঠাট্টা করে বললেন, বাপের বাড়ির দোষ দিয়ো না, নীহার। এই তো আমি এলাম। তোমার বাপের বাড়ির মানুষ।

    নীহার ঘাড় ফিরিয়ে তাকালেন। কাঁধ, ঘাড়, গলা খানিকটা মোটা হয়ে যাওয়ায় এখন ভাল করে ঘাড় ফেরাতে পারেন না। সামান্য পাশ ফিরেই বসতে হল। বললেন, তা ঠিক। তবে কত বছর পরে তার হিসেবটা করো।

    কত বছর? শরদিন্দু নতুন করে সময়টার হিসেবটা করলেন না। হিসেব করাই আছে। আস্তে করে বললেন, বছর কুড়ি।

    তার বেশি ছাড়া কম নয়। তোমায় আমি শেষ দেখেছি, রিনি যখন কোলে। মার কাছে গিয়েছিলাম। তুমি এসেছিলে ছুটিতে। শ্যাম তখন বছর চারেকের। তাই না?

    শরদিন্দু অন্যমনস্কভাবে বললেন, হ্যাঁ। তাই হবে।

    বউদিকে সেই আমি প্রথম দেখলাম। কী সুন্দর মানুষ ছিল বউদি। কী কপাল তোমার অমন বউটিকে হারালে।

    শরদিন্দু নীরব থাকতে থাকতে এক সময় নিশ্বাস ফেলে বললেন, তোমার কপালটাই বা ভাল কোথায়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প – বিমল কর
    Next Article কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }