Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একা একা – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একা একা – ৫

    ০৫.

    দোতলার বারান্দায় বসে শরদিন্দু কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলেন; তারপর ওপরে তেতলায় নিজের ঘরে চলে গেলেন। নীহার গেলেন গা ধুতে; গা ধুয়ে পুজোয় বসবেন। তনুশ্যাম বসে থাকল। তারা চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল বিকেলে, ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে গিয়েছে।

    দোতলার বারান্দায় এই বসবার জায়গাটুকুতে তনু দিনের বেশির ভাগ সময়টাই আজ কাটিয়ে দিল। সকালে অনেকটা বেলা পর্যন্ত বসে বসে কথা বলেছে, কাগজ দেখেছে, বই পড়েছে খানিকটা। বারান্দার রেলিংয়ের ওপর বসানো কাঠের পাল্লা আর শার্সি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে আসছিল, এখন কিন্তু সবই প্রায় খোলা, বাতাস আসছে, মাথার ওপর পাখাও চলছে।

    হাত কয়েক দূরে খাবার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে রিনি কিছু একটা ইস্ত্রি করছিল। ইস্ত্রি শেষ হলে সাজসরঞ্জাম নিয়ে সে তার ঘরের দিকে চলে গেল; সামান্য পরে ফিরে এসে তনুর মুখোমুখি দাঁড়াল।

    একেবারে চুপটি করে বসে আছ যে–? রিনি শুধোল; একবার পার্ক স্ট্রিট গিয়েই হাঁপিয়ে পড়লে!

    তনু রিনিকে দেখতে দেখতে বলল, না। চোখ দেখাবার পর মাথা ধরে যায়।

    রিনি রগড় করে বলল, শির দরদ?

    তনু হেসে ফেলে বলল, আমি তোমাদের কলকাতার বাঙালিদের চেয়ে খারাপ বাংলা বলি না।

    তা দেখতেই পাচ্ছি। রিনি সোফার ওপর বসে পড়ল।

    তনু রিনির হাসিভরা মুখ, ঝকঝকে চোখ, লতাপাতা করা ছাপা শাড়িটা দেখতে দেখতে তার বাঙালিত্ব প্রমাণ করার জন্যই যেন বলল, আমাদের ওখানে বাঙালি অনেক আছে। কলেজে তিন চার জন। গভর্নমেন্ট সারভিসে আছে আট দশ জন। বিজনেস আছে বাঙালির, সেলস-এজেন্ট কত আসে।

    রিনি আগের মতোই মুখ করে বলল, তোমাদের ওখানে মানে পুরো মধ্যপ্রদেশ তো?

    তনু সামান্য জোরেই হেসে ফেলল। বলার কিছু নেই। রিনি আজ সকাল থেকেই তার খুঁত ধরে তাকে খেপাবার চেষ্টা করছে। দু-চারটে শব্দ বা দু-চারটে কথায় কিছু হিন্দুস্থানি টান থেকে গেলে দোষের যে কী আছে তনু বুঝতে পারছেনা। রিনি যে নিজে চিঠিকে চিটি বলে তাতে কোনও দোষ নেই। আজ দুপুরে খাবার সময় টেবিলে বাবা, নীহারপিসি, রিনি আর তনু এই নিয়ে খুব হাসি-রগড়, মজা করেছে।

    বাবাই সবচেয়ে মজার কথা বলেছিল। বলেছিল: নীহার তোমার আমার বাড়ি ছিল বিহারে, আমরা হলাম বেহারি বাঙালি, তুমি আমাদের দলে, রিনি হল পুরোপুরি কলকাতা। কলকাতাকে আমরা বলতাম, হালুম-হুঁলুমের দেশ, ওরা খেলুম, গেলুম, শুলুম করেই কাটায়। রিনি এখন বুঝে দেখুক কোন দেশেতে আছে।

    তখনকার কথা মনে পড়ায় তনু একটু হাসল। রিনিদের কলকাতা হালুম-হুঁলুমের দেশ তবে!

    তনু কিছু বলার আগেই রিনি বলল, মাথা ধরেছে বলে প্যাঁচার মতন মুখ করে বসে আছ! একটা ট্যাবলেট এনে দিই, খেয়ে নাও।

    খেতে হবে তনু বলল, কপালটা ফেটে যাচ্ছে।

    রিনি ওষুধ আনতে উঠি উঠি ভাব করছিল, তনু বলল, চোখের ডাক্তাররা চোখ নিয়ে টরচার করে, ভীষণ স্ট্রেন হয়।

    আমায় চোখ শিখিও না, আমি চোখের ডাক্তারের মেয়ে।

    জানি, তনু হাসল, শুনেছি আমি।

    তা তোমার চোখের কথা গুপ্তসাহেব কী বললেন?

    আমায় কিছু বলেননি। বাবার সঙ্গে কীসব কথা হয়েছে আসবার সময় ট্যাক্সিতে বাবা আর পিসি কথা বলছিল। মালুম হল, কমপ্লিকেটেড কেস। কী কী সব টেস্ট করতে হবে।

    রিনিরও সেই রকম মনে হল। শরদিন্দুমামা এবং মার দু-একটা কথা শুনে, মুখ-চোখ দেখে তারও মনে হয়েছে, দুজনেই যেন খানিকটা মনমরা। তনুর সত্যিই খুব মাথা ধরেছে, না বেচারি খুব হতাশ হয়ে গেছে–মুখে সেটা বলছে না, রিনি বুঝতে পারল না, তবে চোখ দেখার সময় ডাক্তার যা করে তাতে ভাল চোখও টনটন করে ওঠে। মাথাও ধরে যায়। রিনি তনুর জন্যে মাথাধরার বড়ি আনতে উঠল।

    তনু সোফার মধ্যে ডুবে পা টানটান করে বসে থাকল। বারান্দার ওপাশের বাতিটা নিবিয়ে দিয়েছে রিনি, এপাশেরটা জ্বলছে। খোলা শার্সি দিয়ে সামনের বাড়ির সিঁড়ির প্যাসেজটা চোখে পড়ে। বাতি জ্বলছে। চারপাশে একটা কলরব যেন ভেসেই আছে। বেজায় জোরে কোথাও রেডিয়ো বাজছে। রিনি একসময় বাহারি মাছ পুষেছিল, অ্যাকুরিয়ামটা এখন ফাঁকা, একপাশে রাখা আছে, তার মধ্যে কীসের এক গাছ পুঁতে রেখেছে রিনি, পাতাগুলো বাড়ছে বেশ।

    রিনি ওষুধ এনে দিল, জলের গ্লাস।

    তনু ট্যাবলেটটা খেয়ে ফেলল। পুরো গ্লাস জলও।

    রিনি বসে পড়ল। মা পুজো সেরে এসে চা খাবে। তখন তোমার পিসিকে ম্যানেজ করতে পারলে এক কাপ চাও পেতে পারো। মাথা ধরা ছেড়ে যাবে।

    তনু বলল, চা পেলে গ্র্যান্ড হয়।

    হয় ঠিকই; কিন্তু তোমার পিসি তোমায় হরিণঘাটা খাওয়াতে চাইবে।

    তনু বুঝতে পারল না। হরিণঘাটা কী?

    হরিণের দুধ, রিনি মুখটা গম্ভীর করে বলল, কলকাতায় আমরা হরিণের দুধ খাই। বলে মুহূর্ত পরে গাম্ভীর্য হারিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল, কলকাতার মানুষকে যা ছোটছুটি করতে হয় তাতে গোরুমোষের দুধে চলে না, বুঝলে।

    তনু ঠাট্টাটা বুঝতে পেরে হেসে ফুলেছিল: বলল, তুমি হরিণ দেখেছ?

    অনেক।

    কোথায় দেখেছ?

    চিড়িয়াখানায়।

    আমি হরিণের জঙ্গল দেখেছি। মোস্ট বিউটিফুল।

    রিনি চোখের তারা বেঁকা করে নিরীহ গলায় শুধোল, হরিণের জঙ্গলে কারা থাকে।

    তনু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। কারা?

    মানে কী থাকে? শুধু হরিণ?

    না শুধু হরিণ কেন! আরও জীবজন্তু থাকে। হরিণ বেশি।

    তা হলে আর হরিণের জঙ্গল বলছ কেন, বলো জঙ্গলের হরিণ। বনে থাকে বাঘ, খাটালে থাকে মোষ, বলতে বলতে রিনি উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তনুও হাসতে লাগল।

    রিনি এবার অন্য কথা পাড়ল। পার্ক স্ট্রিটে তো গেলে চোখ দেখাতে: পার্ক সার্কাস কেমন লাগল?

    তনু সকৌতুকে বলল, জাস্ট লাইক এ সার্কাস। গ্র্যাঞ্জার, ডেকোরেশান, লাইট, শো।

    ইয়ার্কি?

    ইয়ার্কি নয়। সত্যিই চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যাবার সময় আমি দেখেছিলাম। আসবার সময় চোখের যা হাল, চাইতে পারছিলাম না। বড় ভিড়, আর শব্দ।

    বাঃ, সার্কাসে ভিড় হবে না। ওটা সাহেবপাড়া। তুমি যদি বড়দিনের সময় আসতে পার্ক সার্কাসের চেহারা দেখতে।

    তনু তার দু হাত ঘাড়ের তলায় রেখে খানিকটা আরামের চেষ্টা করল। বলল, বাবা তোমাদের কলকাতা দেখে খুব অবাক হয়ে যাচ্ছে। বাবা যখন কলকাতায় থাকত স্টুডেন্ট লাইফে–তখন কলকাতা এরকম ছিল না। বাবা পিসিকে বলছিল, কলকাতার রাস্তায় বেরুলেই দম আটকে আসছে। বাবার।

    মজার চোখ করে রিনি জিজ্ঞেস করল, তোমারও দম আটকে যাচ্ছে নাকি? তা হলে আগেভাগেই বলে রাখো, বাবা! এরপর তোমায় কলকাতা বেড়াতে নিয়ে গিয়ে আমি ফ্যাসাদে পড়ব নাকি?

    তনু ঘাড় নাড়ল। আমার দেখতে ভাল লাগে বহুৎ। কিন্তু ক্রাউড দেখলে আমি নার্ভাস হয়ে যাই। আমার চোখের নার্ভগুলো সহ্য করতে পারে না, কেমন একটা ফিলিং হয়। বলতে বলতে তনু থামল, হঠাৎ বোধহয় কপালে তীব্র ব্যথা এসেছিল, চোখ বুজে কপাল কুঁচকে ব্যথাটাকে সে সইয়ে নিল। তারপর বলল, তোমাদের কলকাতায় ডবল ডেকার বাসগুলো দেখলে আমার ভীষণ ভয় হয়। মনে হয়, এই বুঝি সব চাপা পড়ল।

    রিনি যেন তনুর ওপর করুণা করে হাসল। বলল, তুমি একেবারেই গাঁইয়া।

    ট্রাম দেখতে আমার ভীষণ ভাল লাগে–তনু বলল, ভেরি নাইস। আজ আমরা যখন যাচ্ছিলাম, আসছিলাম–গাছপালার গা দিয়ে মাঠের পাশে পাশে ট্রাম যাচ্ছিল। খুব নাইস লাগছিল।

    রিনি হাসল খানিকটা। বলল, তোমায় কলকাতা দেখাতে নিয়ে আমিই পড়ব বিপদে। তোমার যে কোনটা নাইস হবে আর হাঁ করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে কে জানে! কলকাতার ট্রাফিক পুলিশও তোমার কাছে নাইস হয়ে যাবে হয়তো, কে জানে!

    আমায় আগে তুমি প্ল্যানেটোরিয়ামটা দেখাও।

    গেলেই হল একদিন, কাগজটা সকালে দেখে নিতে হবে, রোজ খোলা থাকে না।

    তনু রিনির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল, খানিকটা অন্যমনস্ক। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি, বুঝলে রিনি, আমার খুব ইচ্ছে ছিল অ্যাস্ট্রনমি পড়ব। ছেলেবেলা থেকেই আকাশ, তারা, ওই এন্ডলেস স্পেস দেখতে খুব ভাল লাগে আমার। ইট অ্যাট্রাক্টস মি। আমার চোখের জন্যে আমি আকাশটাও ভাল করে দেখতে পেতাম না। তবু আমার ভীষণ ভাল লাগত। খালি চোখে আমরা দু হাজারের মতন তারা দেখতে পাই, বুঝলে। আমি কত পেতাম কে জানে। পাঁচশো, সাতশো হয়তো। একটা তারা আছে সাড়ে ছশো লাইট-ইয়ার দুরে, তার মানে এখান থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে, সেই তারাটা আমাদের সুর্যের চেয়ে একানব্বই হাজার গুণ আলো ছড়ায়। তুমি ইমাজিন করতে পারো? কত দূর থেকে এই আলো আসছে ভাবলে গায়ের মধ্যে তোমার শিউরে ওঠে না? আমার গা শিউরে যায়…বুঝলে রিনি, আমাদের এই জগৎটাই কত বড়, কত রকম মিষ্ট্রি এর মধ্যে। কিন্তু ওই যে মাথার ওপর এটারন্যাল স্পেস ওটা আরও মিস্টিরিয়াস। ভাবাই যায় না। তোমায় একটা কথা শোনাই, প্রতিদিন ওখানে কত কী ঘটে যাচ্ছে ভাবতে পারবে না। ওখানে–ওয়ান্ডর্স ইন দি মেকিং, ওয়ার্ডস ডেড অ্যান্ড অ্যারিড, হোয়ারলিং ফ্রাগমেন্টস অব ওয়ান্ডর্স–অল পাস অ্যাবাভ আস ফ্রম নাইট টু নাইট।

    রিনি তনুর মুখ দেখছিল। তনু যতটা পেরেছে চোখের পাতা খুলে ফেলেছে কথা বলতে বলতে, মুখটি যেন আবেগে ভরে উঠেছে। গলার স্বর বড় সুন্দর। রিনি বলল, তুমি অ্যাস্ট্রনমি পড়লে না কেন?

    এই চোখ নিয়ে? চোখের জন্যে আমার পড়াশোনাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তনু একটু থামল, তারপর আবার বলল, বাবা বটানির প্রফেসার, বাবার ইচ্ছে ছিল আমি বটানিটা যদি পড়তে পারি। তাও হল না।

    তুমি এখন কী পড়ছ? ফিলজফি।

    রিনি মুখ হাঁ করে চোখ বড় বড় করে অদ্ভুত এক মজার ভঙ্গি করে বলল, দর্শন! ও বাব্বা, তাই বললা; তুমি হলে ফিলজফার। তাই তোমার মুখে অত জ্ঞান। রিনি হাসতে লাগল।

    তনু কেমন অপ্রস্তুত বোধ করে চুপ করে গেল। তার মুখেও স্নান হাসি।

    রিনি বেশ নজর করে তনুকে দেখল। ঠাট্টাটা তনু ভাল মনে নেয়নি। কী ছেলে রে বাবা! রিনি বলল, বড় হয়ে তুমি তা হলে ফিলজফার হচ্ছ?

    তনু রিনির দিকে তাকিয়ে বলল, না, আমি অন্ধ হচ্ছি।

    এবার রিনি যেন রাগ দেখিয়ে তনুকে ভেঙাল, বলল, অত শখে কাজ নেই। তুমি ফিলজফারই হও, তাও তো অন্ধ হওয়া।

    নীহার ততক্ষণে এসে পড়েছেন। তাঁর পুজোপাঠ শেষ হয়েছে। গা ধুয়ে, কাপড়জামা বদলে, পুজো সেরে আসতে আজ তাঁর বেশি সময় লাগল না। তাঁকে খুব শুভ্র সতেজ দেখাচ্ছিল। তনুদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে নীহার মেয়েকে বললেন, সারাদিন তুই কী যে হিহি করে হাসিস রিনি, দু দণ্ড শান্তিতে পুজো করাও দায় হল। অত হাসির কী হল?

    রিনি বলল, যার পুজোয় মন থাকে সে হাসি শোনে না।

    তুই থাম। আমায় জ্ঞান দিচ্ছে। আমি তোর পেটে জন্মাইনি, তুই আমার পেটে জন্মেছিস।

    রিনি হেসে ফেলল। পরে বলল, তোমার চা করে দিই। বলে রিনি উঠে পড়ল। চোখ দেখিয়ে এসে তোমার শ্যামের মাথা ধরে গিয়েছে। একটা ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়েছি। এক কাপ চা খেতে চাইছে।

    নীহার তনুর পাশে এসে দাঁড়ালেন। তোর মাথা ধরেছে?

    তনু ঘাড় নাড়ল।‘ যা করে ডাক্তাররা চোখ নিয়ে, মাথা ধরতেই পারে। তা তুই জামাকাপড় পরে বসে আছিস কেন তখন থেকে? যা হাতমুখ ধুয়ে বিছানায় শুয়ে থাক খানিকটা, ধকল কাটলেই সেরে যাবে। বলে নীহার আদর করে তনুর মাথার এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।

    রিনি আড়চোখে সেটা দেখল, দেখে চলে গেল। মার তনুশ্যাম এবাড়িতে এসেই মার কাছে তুই হয়ে গেছে। বলা যায় না, এরপর মা হয়তো তার শ্যামের মাথা টিপতে বসে যাবে!

    তনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীহার ডাকলেন, শ্যাম।

    উঁ–

    তোর চোখ ভাল হয়ে যাবে। কলকাতায় কত বড় বড় ডাক্তার আছে। তুই দেখ না, আমি সকলকে দিয়ে তোকে দেখাব। ভাবিস না। …যা হাতমুখ ধুয়ে নিগে যা।

    তনু জামাকাপড় ছেড়ে, বাথরুম থেকে ফিরে এসে তার ঘরে বিছানায় শুয়ে ছিল। মাথার ব্যথাটা যে তার কাছে আরও অসহ্য হয়ে উঠেছে তা নয়, বরং রিনির কাছ থেকে অ্যাসপিরিনের বড়ি খেয়ে, ঠাণ্ডা জলে হাতমুখ ধুয়ে এসে এখন তার আরামই লাগছিল। কিন্তু শরীরটা কেমন ক্লান্ত লাগছিল তনুর। চুপ করে শুয়ে ছিল। শুয়ে শুয়ে এই ঘর দেখছিল, তাদের ঘরবাড়ির কথা ভাবছিল, চোখের ডাক্তারের চেম্বার, গুপ্ত সাহেবের জাঁদরেল চেহারা, আরও কত কী তার মাথায় আসছিল। হঠাৎ রিনির গলা কানে এল।

    চা নিয়ে এসে রিনি বলল, এই যে ফিলজফার মশাই, উঠুন; চা নিন; দেখুন চায়ে চিনি হল, না নুন হল!

    তনু বিছানার ওপর উঠে বসে চা নিল। তার পা খাটের পাশে ঝুলছে।

    চা দিয়ে রিনি চলে গেল না। মার চা সে ওপরে দিয়ে এসেছে; চা আর পান। মা বলেছিল। শরদিন্দুমামার ইসবগুলের শরবত তৈরি করে মা নিজে ওপরে নিয়ে গেছে আগেই।

    রিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঠাট্টা করে বলল, চায়ে চিনি-নুন ঠিক হয়েছে?

    তনু চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, নাইস।

    তা হলে তুমি চা খাও, আমি যাই।

    বোসো না। তুমি এখন কী করবে?

    গ্রাস কাটিং।

    গ্রাস!

    ঘাস কাটব। রিনির গলায় হাসির দমক উঠল।

    তনু হেসে ফেলল। তুমি হরবখত তামাশা করো।

    হরবখতই করি।

    বোসো না। তনু আবার বলল।

    রিনি বাস্তবিকই যাবার জন্যে আসেনি। চেয়ার টেনে নিয়ে বসল। বসে বলল, আমি ঘাস কাটতে যাব শুনে তুমি ইয়ার্কি ভাবলে। জানো, আমায় গিয়ে এখন পড়তে বসতে হবে।

    তনু অবাক হয়ে বলল, পড়তে বসা, আর ঘাস কাটা এক হল?

    আলাদা হবে কেন! আমার কাছে দুই-ই সমান। আমি কি তোমার মতন স্টুডেন্ট? আমি বইয়ের পাতা খুলে কচকচ করে কাটব। ব্যাস…। পড়াশোনা আমার ধাতে সয় না। কী হবে পড়ে। আমার কাঁচকলা হবে। কারুরই কিছু হয় না আমাদের। এক্সামিনেশনের সময় কী টুকলি! সে-ঘটা তো দেখনি?

    তনু হাসছিল। তুমি টোকো!

    ওমা, টুকব না। কেনা টোকে! রিনি তনুর কথায় যেন একটু নাক সিঁটকে নিল।

    তনু বলল, পেপারে দেখি, তোমাদের এখানে এক্সামিনেশনের সময় গোলমাল হয় বহুত?

    রিনি বিনা প্রতিবাদে ঘাড় এক পাশে হেলিয়ে বলল, হয়। বহুত হয়। তোমাদের ওখানে হয় না?

    হয়। কম হয়। তনু রিনির পা নাচানো দেখতে দেখতে বলল। রিনি স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না, পা নাচায় অনবরত। তনুর এই বদঅভ্যাস একেবারে নেই। সে চুপচাপ বসে থাকার সময় মাঝে মাঝে ডান হাতটা মুখের কাছে নিয়ে দাঁতে নখ কাটে। তনু এবার জিজ্ঞেস করল, তোমার সাবজেক্ট কী?

    আমার আলাদা কোনও সাবজেক্ট নেই। অনার্স-ফনার্স নেই, স্যার। আমার শুধু পাস।

    অনার্স নাওনি?

    আহা নিতে চাইলেই দিত আর কী! আমি চাইনি, ওরাও দেয়নি। লেখাপড়ায় আমার মাথা নেই। কী হবে আমার পড়ে! আমি দিদিমণিও হব না, চাকরিও করব না।

    তনু হেসে ফেলে বলল, তা হলে তুমি কী করবে?

    রিনি এমন সহজ প্রশ্নটা আগে নিশ্চয় ভেবে নেয়নি৷ জবাব দেবার সময় হঠাৎ কেমন থতমত খেয়ে গেল। তারপর বলল, কিছুই করব না। বলে একটু থেমে কী যেন ভাবল, বলল, বাবা থাকলে আমার এত সুখ আর হত না। আমায় ডাক্তারি পড়তে হত। বাবার খুব ইচ্ছে ছিল আমায় ডাক্তারি পড়াবে। হয় আমায় ডাক্তারি পড়তে হত, না হয় বায়ো-কেমিস্ট্রি। বাবা বলত, আমাদে দেশে বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে কেউ ভাবে না। আমি বাবা, বায়ো-কেমিস্ট্রি যে কী তা একেবারে জানি না।

    তনু বলল, আমিও ঠিক জানি না। বায়োলজি আর কেমিস্ট্রি মিলিয়ে সামথিং কিছু হবে। মালুম, ইট ইজ রিলেটেড টু মেডিক্যাল সায়েন্স।

    সামথিং কিছু! ঘাড় দুলিয়ে ভেঙচে দিল রিনি, চোখ বাঁকা করে বলল, কী যে এক মালুম মালুম করো। ছাতু কোথাকার!

    তনু হেসে উঠল।

    রিনিও মুখ ভেঙিয়ে বলল। আমাকে তো তখন খুব হালুম হলুম করলে, তুমিও বা কোন দেশের বাঘ?

    চায়ের কাপটা তনু নামিয়ে রাখল। তারপর বলল, তুমি ডাক্তার হলে রেপুটেশান হত। তোমার ট্যাবলেটটা ভাল। মাথা ধরা কমে এসেছে।

    রিনি সামান্য চুপ করে থেকে জবাব দিল, বাবারই শখ ছিল আমায় ডাক্তারি পড়াবে। ডাক্তারি পড়লে আমি আই স্পেশ্যালিস্ট হতাম। অন্য কিছু আমি হতাম না। আমি আই স্পেশ্যালিস্ট হলে তোমার চোখ সারিয়ে দিতাম।

    সরল মুখে হাসল তনু। ঠাট্টা করে নিজের কপালটা দেখাল। আমার কপাল খারাপ। বলে মুহূর্তখানেক পরে জিজ্ঞেস করল, পিসেমশায় অনেকদিন মারা গেছেন, না?

    বাবা! বাবা মারা গেছে অনেকদিন। আমার তখন তেরো বছর বয়েস। সাত বছর হতে চলল। রিনি ধীরে ধীরে বলল, অন্যমনস্কভাবে।

    তনু বলল, আমার মা মারা গেছে আরও আগে। আমার সাত কি আট বছর বয়েস তখন। বলে তনু যেন উদাস মুখ করে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকল। পরে বলল, নীহারপিসি আমার মাকে দেখেছে।

    রিনি যেন তার বাবার কথা ভাবছিল। বলল, আমার বাবার ছবি তুমি দেখেছ। মার ঘরে আছে, আমার ঘরে আছে। আমার বাবাকে দেখলে তুমি অবাক হয়ে যেতে। কেমন লম্বা চেহারা, গায়ের রং ধবধব করত। বাবা যা মজা করতে পারত না, কী বলব! বাবা নীচের তলায় বসে হাসলে ওপরে আমরা শুনতে পেতাম। কী ভাল মানুষ ছিল বাবা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।

    তনু রিনির কথা শুনতে শুনতে তার মার কথা ভাবছিল। তাদের বাড়িতেও মার ছবি আছে। মার কথা মনে পড়লে মার ছবির মুখটাই চোখের সামনে ভাসে। তনু বলল, আমার মার নাম ছিল পুষ্প পুষ্পলতা। মার রং ফরসা ছিল। মাথায় যা চুল ছিল–হাঁটু পর্যন্ত। লম্বা লম্বা চোখ। মা খুব বাইবেল জানত। আমায় কত গল্প বলত বাইবেলের।

    রিনি বলল, তোমার মা কী করে মারা গেলেন?

    তনু চুপ করে থাকল। তার চোখ-মুখের বিষণ্ণতা নজরে পড়ছিল। মাথার চুলে অন্যমনস্কভাবে হাত বুলিয়ে সে বলল, মার ডেলিভারি হচ্ছিল। কিছু গোলমাল হয়ে গিয়েছিল, সাম কমপ্লিকেশানস। দুজনেই মারা গেল। আমি তখন খুব ছোট। আমার সব মনে নেই।

    রিনি অপলকে তাকিয়ে তাকিয়ে তনুর কথা শুনছিল। তার পা নাচানো বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। হঠাৎ রিনি বলল, তোমার মা, আমার বাবা! অদ্ভুত, না?

    তনু কিছু বলল না, রিনির দিকে তাকিয়ে থাকল।

    রিনি বড় করে নিশ্বাস ফেলল। আবার তার পা নাচানো শুরু হয়ে গেল। ঘাড়ের পাশ থেকে চুলের বিনুনিটা বুকের কাছে এনে হাতের ঝাঁপটায় দুলিয়ে খেলার মতন করল, তারপর হেসে ফেলে বলল, কী রকম মজা দেখো, আমার মনে হচ্ছে, আমার বাবা আর তোমার মা এখন স্বর্গে খুব গল্প করছে।

    বলে রিনি থামল, যেন স্বর্গের সেই গল্প করার আসরটা উঁকি মেরে দেখে নিল; তারপর তনুর দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে বলল, আর এখানে আমার মা আর তোমার বাবা তেতলায় বসে কথা বলছে। আমরাও বলছি–তুমি আর আমি। তিন জায়গায় তিন পেয়ার। কী অদ্ভুত, না?

    তনু যেন খুব ধীরে মাথা দুলিয়ে জানাল, হ্যাঁ–বেশ অদ্ভুতই।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প – বিমল কর
    Next Article কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }