Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একা একা – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একা একা – ৮

    ০৮.

    কয়েকটা দিন কলকাতা গুম হয়ে থাকল। এমন গুমট আর গরম সচরাচর এখানে দেখা যায় না। সকাল থেকেই আকাশটা গনগনে হয়ে থাকে, দুপুরে গরম বাতাসের হলকা বয়ে যায়, রাস্তার পিচ গলছে, ট্রামলাইনে ছড়ানো যত বালি রাস্তায় ঘাটে উড়ে বেড়াচ্ছে, মনে হচ্ছিল প্রবল এক জ্বর নিয়ে কলকাতা বেহুঁশ হয়ে পড়েছে। তারপর আচমকা একদিন শেষ বিকেলে গঙ্গার কোল ঘেঁষে বিশাল এক কালবৈশাখী ছুটে এল। বৃষ্টি হল অফুরন্ত। বেহুশ ভাবটা কাটল কলকাতার। জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। আর বারকয়েক ঝড়ঝাঁপটা, তারপর বর্ষা নামবে।

    সেদিনও সকাল থেকে মেঘলা। গাঢ় মেঘলা ছিল প্রথমটায়, বেলায় হালকা হল, দুপুর থেকে আবার মেঘলা।

    দুপুরবেলায় রিনি বিছানায় শুয়ে খানিকক্ষণ আকাশপাতাল ভেবে হঠাৎ উঠে পড়ল। তনুর ঘরে এসে বলল, এই, ওঠো, জলদি।

    তনু লাফ উইথ লিকক পড়ছিল। এমনিতেই তার হাস্যধ্বনি উঠছিল মাঝে মাঝে, রিনির আবির্ভাব এবং জলদি শুনে সে হেসে ফেলে বলল, ফরমাইয়ে জি?

    রিনি নাক সিটকে বলল, তোমার জি-ফি রাখো। তাড়াতাড়ি উঠে পড়ো৷ চলো তোমায় ইউনিভারসিটি দেখিয়ে আনি।

    অনু বলল, এই দুপুরে?

    আজ সারাদিন মেঘলা স্যার, এখন বাইরে একবার দেখেছ? চমৎকার মেঘলা হয়ে আছে। তোমারই তো কলকাতা ইউনিভারসিটি দেখবার শখ। রোজ বলো। চলো, তোমায় ইউনিভারসিটি দেখিয়ে অন্য কোথাও যাব।

    কোথায়?

    সে যেখানে হোক। গঙ্গার ঘাটে যেতে পারি, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যেতে পারি। যদি বৃষ্টি নেমে যায়, আরও মজা হবে। ..নাও, তাড়াতাড়ি নাও, আমি কাপড় বদলাতে যাচ্ছি।

    তনু বই রেখে উঠে বসেছিল। বলল, পিসিকে বলে যেতে হবে না?

    তোমার নীহারপিসি নাক ডাকছে। ওপরে মামাও ঘুমোচ্ছন। মাকে আমি কানে কানে বলে যাব। রিনি ব্যস্ত হয়ে চলে গেল, যেন বাইরের মেঘলা পালাবার ভয় রয়েছে তার, কিংবা মেঘলার পর যদি বৃষ্টি নামে সেই বৃষ্টি হারাবার জন্যে বেচারি বড় ব্যস্ত।

    তনু চোখ-মুখ ধুয়ে পোশাকটা পালটাবার জন্যে উঠে পড়ল।

    বাড়ির বাইরে এসে তনু দেখল, সত্যিই আকাশটা গাঢ় মেঘলা হয়ে আছে। তেমন গুমট নেই, গরমটা তার সহ্য না হওয়ার মতন নয়। আজকাল তাকে সমস্ত চোখ ঢেকে চশমা পরতে হয় না; তার দিনে-রাত্রের একই চশমা। চোখ যেন এটা মেনে নিতে শুরু করেছে। রাস্তায় নেমে তনুর হঠাৎ মনে পড়ল, তার দুপুরের ওষুধটা খাওয়া হয়নি।

    রিনি, আমার একটা ভুল হয়ে গেল?

    কী?

    দুপুরের ওষুধটা খাওয়া হয়নি।

    তুমি একেবারে শ্যামচাঁদই! …যাকগে, ফিরে এসে খেয়ো। আমরা সন্ধের আগেই ফিরে আসব।

    হাঁটতে হাঁটতে তনু বলল, ইউনিভারসিটি এখন বন্ধ না?

    গরমের ছুটি চলছে। তাতে তোমার কী? তুমি তো আর ইউনিভারসিটিতে পড়তে যাচ্ছ না, দেখতে যাচ্ছ।

    তনু রিনির সঙ্গে তাল দিয়ে হাঁটছিল। বলল, বাবা পড়েছে। বাবার কাছে ক্যালকাটা ইউনিভারসিটির কত গল্প শুনেছি। বাবা তার ইউনিভারসিটির ব্যাপারে বহুত প্রাউড। …ইউ নো, বাবার এক প্রফেসার স্যার জগদীশকে দেখেছিলেন। …

    রিনি আর কথা শেষ করতে দিল না তনুকে, একটা রিকশা ডেকে চেপে বসল। বলল, বাসস্টপে চলো।

    বাসস্টপে নেমেই বাস পাওয়া গেল। দোতলা বাস। তনু ইতস্তত করছিল, তার আগেই রিনি একরকম তাকে ঠেলেই তুলে দিল। দিয়ে সোজা দোতলায়।

    দোতলায় ভিড় নেই। দুপুরের বাস। পাশাপাশি বসল দুজনে। রিনি তনুকে জানালার ধারে বসাল, যেন বাচ্চা ছেলেকে জানালার ধার ঘেঁষে বসিয়ে কলকাতা দেখাচ্ছে।

    লবঙ্গ খাবে?

    না। ঝাল।

    কচি খোকা। এলাচ খাও। রিনি তার হাতব্যাগের মধ্যে থেকে এলাচ-লবঙ্গ বের করে মুঠোয় নিয়েছিল। এলাচ দিল তনুর হাতে। তারা খানিকটা এগিয়ে বসেছে। পেছনে দুসারিতে লোক নেই। পাশের সারিতে অবাঙালি কে একজন ঘুমঘুম চোখে চলেছে। তনু রিনি নিচু গলায় কথা বলছিল।

    দোতলা বাসটা যেন মেঘলা পেয়ে বেশ আলস্যের সঙ্গে হেলে-দুলে চলেছিল। একটা ফুটপাথের গাছের মাথার ডালপাতাকে নাড়া দিয়ে চলে গেল। নিরিবিলি ট্রামরাস্তায় আপন মনে ট্রাম চলেছে। তনু আর রিনি কথা বলছে, থামছে, কথা বলছে, আবার থেমে যাচ্ছে।

    রিনি তার হাতের ঘড়িটা দেখল। এখন প্রায় পৌনে তিন। পৌঁছতে পৌঁছতে তিনটে বেজে যাবে। আমরা চারটের মধ্যেই আবার ফিরব, বুঝলে; সোজা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। সেখান থেকে ছটা নাগাদ বাড়ি।

    টিকিট কাটল রিনি। কোথায় উঠেছে তারা, আর আধখানা পথ পেরিয়ে টিকিট হল। টিকিট দুটো দুষ্টুমি করে তনুর হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, রেখে দাও। তোমাদের এখতিয়ারপুর না ছাই কোথায়, সেখানে গিয়ে দেখবে মাঝে মাঝে। কলকাতার স্মৃতি!

    তনু টিকিট দুটো বুক-পকেটে রেখে দিল। হাসল একটু।

    রিনি বলল, কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে তুমি কী খাবে? কফি না শরবত?

    শরবত।

    আইসক্রিম?

    না। …আমি একটা পান খাব।

    পান।

    কলকাতার পান। তুমি সেদিন খাইয়েছিলে।

    বিড়ি খাবে না?

    তনু এবার জোরে হেসে উঠল। এত জোরে হাসল যে তখনকার বাসের লোকজন যেন ওকে দেখতে লাগল। রিনি তনুর হাঁটুর ওপরে চিমটি কাটল। ফিসফিস করে বলল, একেবারে থার্ড ক্লাস।

    .

    মেডিকেল কলেজ পৌঁছবার সঙ্গে সঙ্গে রিনি উঠে পড়ল। ওঠো।

    বাস থেকে নেমে পড়ে রিনি তনুকে নিয়ে একপাশে দাঁড়াল। বাসটা চলে গেল। তার গায়ে গায়ে আরও একটা বাস। ডালহাউসির ট্রাম। রাস্তা ফাঁকা হবার জন্যে অপেক্ষা না করে বাঁ দিকের ফুটপাথ ধরে কয়েক পা এগিয়ে গেল রিনি।

    ওই দেখো আমাদের ইউনিভারসিটি, রিনি বলল। তার গলায় আবেগ নেই, আতিশয্য নেই; একেবারে সাদামাটা গলা। আঙুল তুলে শুধু বাড়িটা দেখাল।

    তনু থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। তার যেন পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছিল না। মাথা তুলে সে দেখছিল।

    রিনি এপাশ-ওপাশ তাকাচ্ছিল। তনু একেবারে হাঁ করে আশুতোষ বিল্ডিংটা দেখছে। ওকে একবার ভেতর থেকে ঘুরিয়ে আনলে হয়, সামনের ফটক দিয়ে ঢুকে ওদিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে পড়লেই হবে। রিনি নিজেই এদিকে তেমন একটা আসাযাওয়া করেনি। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে শখ করে বেড়াতে এসেছে বার দুই-তিন, আর একবার এসেছিল শকুন্তলাদির সঙ্গে। শকুন্তলাদি তখন এম-এ পড়ত, কিসের একটা টাকা জমা দিতে এসেছিল ইউনিভারসিটিতে, রিনিকে সঙ্গে করে বেড়াতে নিয়ে এসেছিল। রিনির এটুকু বেশ মনে আছে, ওপাশে ফটক আছে বেরুবার।

    চলো, ভেতরটা দেখিয়ে দিই– রিনি বলল তনুর জামায় সামান্য টান মেরে।

    ফটকটা খোলা ছিল। ঢুকে পড়ল রিনিরা। তনু দেওয়ালের গায়ে বিশাল করে লেখা শ্লোগানগুলো পড়তে পড়তে এগুচ্ছিল।

    তোমাদের ইউনিভারসিটির ওয়াল এ-রকম ডার্টি করে রাখে?

    রিনি ঠাট্টা করে জবাব দিল, আমরা বিপ্লব করি। তোমাদের মতন ছাতু নাকি?

    তনু এমন করে রিনির দিকে তাকাল যেন বিপ্লব কথাটার মানে বোঝার চেষ্টা করছে।

    রিনি তনুকে ঠেলা মারল, বলল, এখানে আগে সেনেট বিল্ডিং ছিল, খুব পুরনো; ভেঙে ফেলে নতুন সেনটিনারি বিল্ডিং হয়েছে।

    বাবার কাছে গল্প শুনেছি। সেনেট খুব সুন্দর দেখতে ছিল।

    আমার মনে নেই তেমন। দেখেছি আগে। আমরা এদিকে আসিই না।

    ইউনিভারসিটিতে পড়বার সময় আসবে।

    বয়ে গেছে আমার আসতে।

    ভেতরে খুব একটা দাঁড়াতে দিল না রিনি তনুকে। নিতান্ত একবার চোখের দেখা দেখে তারা ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে এল। আবার ট্রামরাস্তা। বঙ্কিম চাটুজ্যে স্ট্রিট দিয়ে ঘুরে তারা পুবের দিকে চলে গেল। কফি হাউসটা দেখাল রিনি। তনু বইয়ের দোকান দেখছিল।

    শরবতের দোকানে ঢুকে রিনি ঘড়ি দেখল। ইস, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    তুমি একটু বসো, শরবত খাও। আমি পাশের দোকান থেকে গীতবিতানের একটা খণ্ড কিনে আনি।

    শরবতটা পুরোপুরি খেল না রিনি, যেন বইটা কিনেই বাকিটুকু খাবে–খুব ব্যস্ত হয়ে চলে গেল। তনু বসে বসে শরবত খেতে লাগল। মাথার ওপর বনবন করে পাখা ঘুরছে, দোকানে মাত্র দু-চারজন লোক, বাইরের মেঘলা যেন আরও গম্ভীর হয়ে দোকানের মধ্যেটা ছায়ায় ভরে রেখেছে। আরাম লাগছিল তনুর। খুব শান্ত লাগছিল। কলকাতা বড় সুন্দর শরবত করে।

    হঠাৎ যেন কী হল তনু বুঝতে পারল না, বিকট একটা শব্দে সে চমকে গেল। কাচের গ্লাস, টেবিলের ওপর পাতা সুন্দর কাঁচসব যেন একসঙ্গে কেঁপে উঠল। তনু বোকার মতন দোকানের মধ্যে তাকিয়ে রয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে আবার শব্দ। শব্দটা তনুর বুকে এসে ছিটকে লাগল যেন। দোকান থেকে কে একজন বেরিয়ে গেল হুড়মুড় করে, চেয়ার ঠেলার শব্দ, আবার একজন বাইরে ছুটল, দোকানের ভদ্রলোক কী বলছেন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে, কেমন একটা ছোটাছুটির শব্দ বাইরে, অদ্ভুত এক কোলাহল, আবার শব্দ, পর পর, বার তিনেক। দোকানটা যেন হঠাৎ একেবারে কঁকা লাগল। সবাই বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তনুর বুক ধকধক করছিল, হাত-পা থরথর করে কেঁপে উঠল। তনুও হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। চেয়ারটা ঠেলতে গিয়ে সেটা উলটে গিয়ে শব্দ হল। রিনি, রিনি কোথায়? রিনির জন্যে তনু একেবারে অসহায় বোধ করতে লাগল। দোকানের ভদ্রলোক কলাপসিবল গেটটা বন্ধ করতে চাইছেন, পারছেন না, রাস্তার কিছু লোক দোকানের সিঁড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। রাস্তা দিয়ে তোক পালাচ্ছে, দোকানপত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছে না তনু। একটা রিকশা পালিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে তনুর বুকের ভেতরটা কেমন যেন শব্দ করে দপদপ করছিল, গলা শুকিয়ে এসেছিল, সে ঘামছিল। চোখে যেন যন্ত্রণাও অনুভব করল তনু। রাস্তা একেবারে ফাঁকা। একটা কুকুর ছুটে চলে গেল। কোথায় যে কী ঘটেছে কেউ বলতে পারছে না, নানা রকম শোনা যাচ্ছে।

    রিনি যেন ছুটতে ছুটতে এসে পড়ল এই সময়। চোখ-মুখ উদভ্রান্ত, ভয়ে উৎকণ্ঠায় কথা বলতে পারছে না। এসে তনুর হাতটা ধরে ফেলল। শক্ত করে। তার হাত তনুর হাত দুই-ই কাঁপছিল, দুজনের হাতই গরম।

    আর খানিকটা পরে লোকজন সরে যেতে লাগল। রিনি নেমে যাচ্ছিল, হঠাৎ তার মনে পড়ল শরবতের পয়সা দেওয়া হয়নি। দুটাকার একটা নোট ফেলে দিয়ে রিনি আর দাঁড়াল না, তনুকে নিয়ে পথে নামল। তারপর প্রায় ছুটতে ছুটতে হ্যারিসন রোডের দিকে চলল।

    ট্যাক্সিতে উঠে রিনি বড় করে নিশ্বাস ফেলল। আঁচলেই মুখ মুছল। বলল, বাব্বা! আর আমি এদিকে আসব না।

    তনুর কাছে রুমাল ছিল না। তার সারা মুখে ঘাম, গলা ভিজে গিয়েছে। জামার হাতায় কপাল মুছছিল। রিনি তার রুমালটা দিল।

    কী হয়েছিল? তনু জিজ্ঞেস করল।

    কী আর, এখানে যা রোজ হয়! বোমা মারামারি হচ্ছিল।

    কারা?

    কে জানে! আমি বইটা কিনে বেরুব, এমন সময় বোমা ফাটল। দোকান থেকে বেরুতে দিচ্ছিল না। যত বলি, আমার লোক আছে, ততই তারা আটকে দেয়। তোমার জন্যে আমার যা ভয় করছিল!

    আমারও…তুমি কোথায় চলে গিয়েছ আমি বুঝতে পারছিলাম না।

    আমি তো মাত্র চার-পাঁচটা দোকান পাশে। আমায় আসতেই দিল না। রিনি রুমালটা ব্যাগের মধ্যে রেখে দিল। ওরা বলছিল মির্জাপুর স্ট্রিটে গোলমাল হচ্ছে।

    কোথায়?

    পাশের রাস্তাটাই নাকি মির্জাপুর স্ট্রিট।

    আমার কান দুটো এখনও বন্ধ হয়ে আছে।

    ট্যাক্সিটা পেয়ে বাঁচলাম। নয়তো ট্রামবাস বন্ধ হয়ে থাকতে পারত। কী জানি, বাবা। বলে রিনি তার হাতব্যাগ খুলল। টাকা-পয়সা গুনল। নিচু গলায় বলল, মার টাকা খুব খরচ করছি। বলে এবার সামান্য ফিকে করে হাসল।

    খানিকটা এগিয়ে রিনি আবার বলল, আজ আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখা হবে না। চলো আমরা ওর আশেপাশে ঘুরে ওখান থেকে বাসে করে বাড়ি ফিরে যাব।

    তনু একপাশে ঘাড় হেলিয়ে দিল।

    .

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনেকটা আগেই নেমে পড়েছিল রিনি। তারপর রাস্তা দিয়ে হাঁটল খানিকটা, খানিকটা মাঠ দিয়ে। বিকেল হয়ে গিয়েছে, মেঘলা আরও নিবিড় হয়ে এসেছে কখন। বৃষ্টি আসবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। বিরাট এক মেঘ মাথার ওপর চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। বাদলা নয়, তবু বাদলা বাদলা গন্ধ উঠেছে কোথাও। মেমোরিয়ালের দিকে অনেক গাড়ি জমে যাচ্ছে।

    রিনি বলল, দুর ছাই, আর পারছি না হাঁটতে। একটু বসি!

    জায়গা বেছে রিনি বসল। পাশেই মস্ত একটা গাছ। রেড রোডে গাড়ির ভিড় বাড়ছে।

    তনুও বসল। তার হাত-পা খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

    রিনি আবার ব্যাগ খুলে এলাচ-লবঙ্গ বের করল। তনুকে এক টুকরো এলাচ দিল। তোমায় পান খাওয়ানো হল না। পরে খাওয়াব।

    তনু এলাচটা নিল।

    তোমার এখনও ভয় করছে? রিনি শুধোল।

    না।

    বাড়িতে গিয়ে তোমার নীহারপিসির কাছে বোমা-টোমার গল্প কোরো না, তোমার পেটে আবার কথা থাকে না। মেয়েরাও তোমার চেয়ে ভাল।

    তনু কিছু বলল না। তার বলবারই বা কী আছে। কী যে হয়ে গেল সে নিজেই বিন্দুমাত্র বুঝতে পারছে না। কেমন চমৎকার মেঘলা দুপুর, দোতলা বাসে চেপে কলকাতা দেখতে দেখতে রিনির সঙ্গে গল্প করতে করতে সে ইউনিভারসিটি দেখতে গিয়েছিল, ট্রাম বাস চলছে, মানুষজন হাঁটছে, বইপত্রর দোকান খোলা, শরবতের দোকানে বসে সে কলকাতার শরবত খাচ্ছিল, আর হঠাৎ পর পর শব্দ, হুড়োহুড়ি, মানুষজনের কোলাহল, ছুটতে ছুটতে রিনির এসে পড়া, তারপর দুজনে কোনও রকমে পালিয়ে এসে একটা ট্যাক্সি ধরা। ট্যাক্সিতে ওঠার পর তনু যতটা দেখেছে তার মনে হল না, কোথাও কিছু আটকে আছে, তাদের ট্যাক্সির রাস্তায় দোকানপত্র খোলা, লোকজন হাঁটছে, সবই স্বাভাবিক। অথচ ওরই মধ্যে কোথায় যেন কিছু হয়ে গেছে যা তনুরাই শুধু জানতে পেরেছিল, অন্য কেউ নয়।

    রিনি বলল, ইস, আজ ইউনিভারসিটিতে না গেলে আমরা কত বেড়াতে পারতাম! সে দুপাশে দু হাত রেখে ঘাসের ওপর হাত বোলাচ্ছিল। মাঠের দিকে তাকিয়ে বলল, একটা বাসে চেপে আমরা কত দূর বেড়িয়ে আসতে পারতাম।

    কোথায়?

    ডায়মন্ডহারবার, বজবজ, যে কোনও জায়গায়।

    তোমাদের কলকাতা খুব পিকিউলিয়ার।

    রিনি ঘাড় বেঁকিয়ে তাকাল। কেন?

    কেয়া মালুম। বাট ইট লুকস সো।

    রিনি আবার ঘাড় ঘুরিয়ে সামনের মাঠ দেখতে লাগল। চুপ করে থাকল সামান্য। তারপর আবার বলল, আজকের মেঘলাটা খুব ফাইন, না?

    বেশ।

    তোমার চোখে খুব আরাম লাগছে না? ওই মেঘটা দেখেছ? একেবারে এপার-ওপার। কত বড়! মাইল দুই হতে পারে, কী বলো? তুমি তো আকাশ-টাকাশ তারাফারা ভালবাসো, বলতে পারো একটা মেঘ কত বড় হয়?

    ছোট ছোটও হয়?

    ছোটর কথা আমি বলছি না, বড়র কথা বলছি। তুমি যেমন মাইনাস টেন ইলেভেনের চশমা পরো, তোমার মাথাও সেই রকম মাইনাস।

    তনু এবার একটু হাসল। মাথার মধ্যে যে হতচকিত, বিমূঢ় ভাব ছিল এতক্ষণ, তা যেন কেটে আসছে।

    রিনি তনুর হাসি লক্ষ করে তার চোখ আড় করে চেয়ে থাকল। পিঠের চুল বুকের ওপর নিয়ে নিজেই চুলের গন্ধ শুকল। আজ তার চুলে বিনুনি নেই, এলো চুল, চুলের আগায় একটা ফাঁস দেওয়া। আকাশের দিকে আবার তাকাল রিনি। তারপর হেসে বলল, মেঘটার রং দেখেছ একেবারে তোমার মতন।

    তনু কিছু বলল না, হাসল।

    তোমার নাম তনুশ্যাম না হয়ে ঘনশ্যাম হল না কেন? আমাদের একজন ঘণ্টাশ্যাম ছিল। কলেজে ঘণ্টা বাজাত। রিনি খিলখিল করে হেসে উঠল।

    তনু বলল, আমার নাম মা দিয়েছিল।

    রিনি কেমন একটু অপ্রতিভ হয়ে তনুকে দেখল, তারপর মুখ ফিরিয়ে নিল।

    দুজনেই চুপচাপ। ঘাসের ওপর কালচে ছায়া পড়ে গিয়েছে। জাহাজঘাটা থেকে ভোঁ এল। গাড়ি ছোটার বহরটা বেড়ে গেছে। মেমোরিয়ালের দিকে আরও ভিড় বাড়ছে।

    বসে থাকতে থাকতে রিনি আলস্য ভেঙে হাই তুলল। তার সারা গা কেমন বেঁকে উঠেছিল হাই তোলার সময়। তনু সেটা দেখল।

    এখন যদি একটু বৃষ্টি আসত, বেশ হত, না? রিনি বলল।

    ভিজতাম।

    অত সস্তা নয়, পাশে কেমন জাঁদরেল একটা গাছ দেখে নিয়ে বসেছি। ওর তলায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতুম।

    তনু গাছটা দেখল। বড় গাছ। অজস্র পাতা আছে।

    একটু ভিজলেই বা ক্ষতি কীসের? রিনি বলল, ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজতে আমার খুব ভাল লাগে।

    বৃষ্টি হবে না।

    কী করে বুঝলে? তুমি বৃষ্টি গুনতে পারো?

    এ মেঘে বৃষ্টি হয় না।

    রিনি তনুর চোখ মুখ দেখতে দেখতে ঠোঁট উলটে বলল, কী আমার ভগবান রে।

    তনু হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল, ভগবান কাকে বলে জানো?

    না, আমি তোমার মতন ফিলজফার নই।

    ফিলজফাররাও ভগবানকে জানেন না।

    তারা তবে কী জানে?

    তারা মানে কী? সব ফিলজফাররাই কি ভগবান নিয়ে ভেবেছেন? কেউ ভেবেছেন কেউ ভাবেননি। ভগবান নিয়ে যাঁরা ভেবেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করে নিয়েছেন, কোনও ক্লিয়ার ডেফিনেশান দেননি। গড ইজ কনসিভড।

    তনু হয়তো আরও কিছু বলত, তার আগেই রিনি নাক, মুখ কুঁচকে বিরক্তির ভঙ্গি করে বলল, রাখো তো তোমার ভগবান-টগবান শুনতে আমার ভাল লাগে না। কী যে এক অভ্যেস করেছ, চান্স পেলেই জ্ঞান দিতে আস। আমায় তুমি জ্ঞান দেবে না।

    তনু হেসে ফেলে চুপ করে গেল।

    রিনি দুহাত মুঠো করে কিছু ঘাস ছিডল। বাতাসে উড়িয়ে দিল, হাঁটুর ওপর মুখ রেখে মাঠের ওপর চোখ নামিয়ে বসে থাকল খানিক। নিজের মনেই গুনগুন করে গাইল: মেঘের পরে মেঘ জমেছে আঁধার করে আসে; দুটি চরণ গেয়ে থেমে গেল। তারপর আকাশের দিকে কয়েক পলক তাকিয়ে হঠাৎ বলল, শোনো, আমরা খানিকটা হেঁটে যাব। হেঁটে হেঁটে সেন্ট ক্যাথিড্রাল পর্যন্ত যাব। তরপর ট্রাম, বাস ধরব। রাজি?

    তনু বলল, আমি কী জানি! আমি কিছু চিনি না। তোমাকেই চিনি শুধু। যেখানে যাবে চলো।

    রিনি তনুর চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেমন লজ্জা পেয়ে গেল। মুখ ফিরিয়ে নিল। খানিকক্ষণ পরে উঠে পড়ল। চলো, বিকেল পড়ে যাচ্ছে।

    .

    দেরিই হয়ে গেল। সেন্ট ক্যাথিড্রাল পর্যন্ত হেঁটে আসতে সময় গেল। মেঘলা এখন আঁধার হয়ে এসেছে। রাস্তায় বাতি জ্বলে উঠল।

    গাছ, ছায়া, রাস্তার আলো, নিরিবিলি পথ দিয়ে আসতে আসতে রিনি বলল, অনেক দেরি হয়ে গেল। আজ বাড়ি ফিরে তোমার নীহারপিসির বকুনি খেতে হবে।

    তনু বলল, তুমি পিসিকে বলোনি?

    বলেছি। ঘুমের মধ্যে শুনেছে মা। কী শুনেছে কে জানে।

    সেন্ট ক্যাথিড্রালের পাশ দিয়ে যেতে যেতে তনুরা শুনল গাছের পাতাগুলো হঠাৎ দমকা বাতাসে কেঁপে উঠছে। কয়েকটা শুকনো পাতা তাদের মাথা ছুঁয়ে উড়তে উড়তে মাটিতে গিয়ে পড়ল। বাতাসের দমকাটা থামল না। কোথা থেকে কিছু ধুলো উড়ে এল। গাছপালায় শন শন করে বাতাস এসে ঝাঁপটা মারছিল।

    রিনি আচমকা তনুর হাত চেপে ধরল।

    এই!

    তনু ধুলো থেকে চোখ বাঁচাবার জন্যে মাথা নিচু করে ফেলেছিল।

    ঝড় উঠেছে, রিনি বলল।

    হ্যাঁ।

    বৃষ্টি আসতে পারে। একটু বৃষ্টি আসুক। আমরা ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরব। রিনি যেন আনন্দে গলে যাচ্ছিল।

    বৃষ্টি এল না। আরও কিছু শুকনো পাতা উড়ে এসে তাদের মাথা মুখ গায়ে পড়ে আবার অন্ধকারে হারিয়ে গেল।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প – বিমল কর
    Next Article কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }