Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একেই বলে শুটিং – সত্যজিৎ রায়

    উপন্যাস সত্যজিৎ রায় এক পাতা গল্প110 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হুণ্ডী-ঝুণ্ডী-শুণ্ডী

    গুপী-বাঘা ভূতের রাজার কাছ থেকে বর পেয়ে নদীর ধারে বসে ভরপেট খেয়ে সবে হাত মুখ ধুয়েছে, এমন সময় এক বাহারের ডুলিতে চড়ে কোথাকার কোন এক গানের ওস্তাদ সঙ্গে বাজনদার পেয়াদা বরকন্দাজ নিয়ে গলা সাধতে সাধতে তাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। কোথায় যাচ্ছে তারা? গুপী বাঘা জিগ্যেস করে জানে—শুণ্ডী। কারণ সেখানে রাজবাড়িতে গানের বাজি হবে, ওস্তাদমশাই তাতে যোগ দেবেন।

    দল চলে যাবার খানিকক্ষণের মধ্যেই গুপী-বাঘার খেয়াল হল—তা হলে আমরাই বা গানের বাজিতে যোগ দেব না কেন? আমরা তো গান বাজনা জানি; যদি বাজি জিতি তা হলে রাজা হয়তো আমাদের সভাগায়ক করে রেখে দেবেন। বরের জোরে যে কোনও জায়গার নাম করে দু’জনে এ-ওর হাতে তালি মারলেই তো হুশ করে সেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়।

    তা যায় ঠিকই, কিন্তু মুস্কিল হয়েছে কী, ওস্তাদের গানের ঠেলায় জায়গার নামটা দু’জনের কারুর কানেই ঠিক করে ঢোকেনি; বা ঢুকলেও এরই মধ্যে তারা সে নামটা ভুলে বসে আছে। গুপী বলে ‘ঝুণ্ডী’, বাঘা বলে ‘হুণ্ডী’। তা হলে কোন জায়গার নাম করে তালি দেবে তারা? ঠিক হল গুপীর কথামতো প্রথম ঝুণ্ডীতেই যাওয়া যাক।

    যারা গুপী গাইন ফিল্মটা দেখেছে তাদের হয়তো মনে থাকবে এর পরের ঘটনা। এবার ঝুণ্ডী বলে তালি দিতেই চোখের নিমেষে তারা হাজির হল বরফের দেশে। হু-হু কাঁপুনির মধ্যে আবার হাততালি দিয়ে গরম পোশাক আনতে হল। সেই পোশাক পরে দু’জনের লেগে গেল ঝগড়া। বাঘার ধমকের চোটে শেষটায় গুপী বলে ‘চলো তা হলে হুণ্ডীই চলো’।

    ওমা, এবারে তালির ফলে তারা পৌঁছল একেবারে ধূ ধূ মরুভূমির মধ্যিখানে। বরফের দেশের পোশাক তখন গায়ে আগুন ছুটিয়ে দিচ্ছে—দু’জনে সেগুলো গা থেকে খুলে ছুড়ে ফেলে দেয়। আর গুপী বাঘাকে গাল দিতে গিয়ে হঠাৎ দু’জনেরই একসঙ্গে মনে পড়ে যায় শুণ্ডী নামটা।

    প্রথম হাততালি থেকে শুণ্ডী নাম মনে পড়া পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাটা ফিল্মে দেখতে লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন মিনিট। এই তিন সাড়ে তিন মিনিটের দৃশ্য তুলতে আমাদের কত হাঙ্গামা করতে হয়েছিল সেটাই আজ তোমাদের বলব।

    প্রথমে বলে রাখি গুপী গাইনের প্রথম দিকের দৃশ্য তোলা হয়েছিল বীরভূমের রামপুরহাট থেকে বিশ মাইল দূরে একটা গ্রামে। তার নাম নতুন গ্রাম। গুপী বাঘার প্রথম ভোজ, ডুলিতে ওস্তাদ যাবার দৃশ্য, আর ‘ঝুণ্ডী’ বলে প্রথম হাততালি—সবই এই গ্রামের এক নদীর ধারে তোলা হয়েছিল।

    হাতে তালি দেবার পরেই দেখা যায় গুপী বাঘা শূন্যে উঠে গেল। এই ব্যাপারটা করতে অবিশ্যি একটা কারসাজির প্রয়োজন হয়েছিল। একটা আট ফুট বাঁশের মাচা তৈরি করে ক্যামেরাটাকে তার নীচে বসানো হয়, তারপর গুপী-বাঘাকে মই দিয়ে মাচায় তুলে বলা হয় ঠিক ক্যামেরার সামনে বালির উপর লাফিয়ে পড়তে। এই ব্যাপারটার ছবি তোলার সময় ক্যামেরার মধ্যে ফিল্ম চলবে উল্টো দিকে—সে ব্যবস্থাও আগেই করে রাখা হয়েছে। এই উল্টো-তোলা ছবি সোজা ভাবে চালালেই পর্দায় সেটা আবার উল্টে গিয়ে হয়ে যাবে গুপী বাঘা উপর থেকে নীচে না নেমে, নীচ থেকে হুশ্ করে উপরে উঠছে।

    এর পরেই দর্শক দেখবে দৃশ্য একেবারে পাল্টে গেছে। কোথায় বাংলার গ্রাম!—মাঠ ঘাট ঘাস নদী গাছ বালি সব উধাও। তার জায়গায় খালি বরফ আর বরফ। এই বরফের দৃশ্য কোথায় তোলা হবে সেটাই এখন ঠিক করা দরকার। খোঁজ নিয়ে জানা গেল ফেব্রুয়ারি মাসে সিমলায় বরফ থাকে। আর সিমলা থেকে আট মাইল দূরে আরও এক হাজার ফুট উপরে এমন জায়গা আছে যেখানে শুধুই বরফ, ঘরবাড়ির চিহ্ন নেই। এই জায়গার নাম নাকি কুফরি। এই কুফরিতেই ছবি তোলা হবে স্থির করে আমরা দল নিয়ে ট্রেনে করে হাজার মাইলের পাড়িতে বেরিয়ে পড়লাম। কিছু লোক দিল্লিতে রয়ে গেল, কারণ আমরা সিমলা থেকে দিল্লি হয়ে যাব রাজস্থানে। সেখানে শুণ্ডী আর হাল্লার দৃশ্য তোলা হবে। সিমলা যাবার দলে গুপী বাঘা সমেত সবশুদ্ধ জন দশেক লোক।

    আমি সিমলা আগেও গিয়েছি একবার গরমের সময়। এবারে শহরটাকে দেখে চেনা মুশকিল। মনে হয় সমস্ত শহরের গায়ে শ্বেতী হয়েছে। রাস্তার উপর, ঘর বাড়ির ছাতে, পাহাড়ের গায়ে, পাইন গাছের ডালে পুরু বরফ জমে আছে। পথের বরফ গলে পিছল হয়ে আছে, হাঁটতে গেলে সাবধানে পা ফেলতে হয়।

    আমাদের হাতে সময় কম, তাই দুপুরের খাওয়া সেরে তিনটে ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কুফরির উদ্দেশে। প্রথম কাজ হল কোথায় শুটিং হবে সেই জায়গা খুঁজে বার করা। মনের মতো জায়গা বাছাই করে কাল আবার আসতে হবে শুটিং-এর লটবহর সঙ্গে নিয়ে। সঙ্গে ক্যামেরা তো থাকবেই, তা ছাড়া থাকবে আট ফুট উঁচু মাচা—যদিও এ মাচা বাঁশের নয়, ইস্পাতের। এখানেও গুপী বাঘাকে হাততালি দিয়ে শূন্যে নিতে হবে—তাই মাচা ছাড়া গতি নেই।

    মাত্র আট মাইল পথ, কিন্তু যেতে লাগল প্রায় এক ঘণ্টা। পাহাড়ের গা ঘেঁসে এঁকে বেঁকে চলা পুরো রাস্তাটাই বরফে ঢাকা। প্রায় আট দশ ইঞ্চি পুরু বরফ, তাতে খাদ কেটে গাড়ির চাকা এগিয়ে এগিয়ে চলেছে। গলা বরফে চাকা মাঝে মাঝে এগোতে চায় না, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে বরফ ছিটিয়ে বন্ বন্ করে ঘুরতে থাকে।

    পথে মেঘ করেছিল, ফলে ঠাণ্ডাও বেড়েছিল বেশ, কিন্তু কুফরি পৌঁছনোর অল্পক্ষণের মধ্যেই রোদ উঠল। কুফরি আসলে একটি গ্রাম, কিন্তু এখানে শীতকালে বহু লোক ski-ing করতে আসে। তাদের জন্য সরকার একটি ক্লাব, একটি বাংলো, আর একটি রেস্ট হাউস তৈরি করে দিয়েছেন। আমাদের এ সবের দরকার নেই, তাই আমরা এগিয়ে গেলাম আমাদের কল্পনায় যে বরফের রাজ্য রয়েছে, তার সন্ধানে। রাস্তার ধারেই জায়গা পেতে হবে, কারণ দুর্গম জায়গা হলে সেখানে শুটিং-এর মালপত্র নিয়ে পৌঁছনো মুশকিল হবে।

    আরও শ’দু-এক ফুট উপরে উঠতেই এমন একটি জায়গায় পৌঁছলাম যেখানে তিন দিক একেবারে খোলা, চোখ ঘোরালে স্তরের পর স্তর বরফে ঢাকা পাহাড় ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। আমাদের ডাইনে রাস্তার ঠিক পাশ দিয়েই উঠে গেছে তুষারাবৃত পাহাড়ের গা। আমরা গাড়ি থামিয়ে বাইরে বেরোলাম, আর বেরিয়েই বুঝলাম যে, চারিদিকে বরফ সত্ত্বেও ঠাণ্ডা বেশি লাগছে না। বিশেষতঃ রোদ যখন উঠল তখন তো দিব্যি আরামই লাগছিল।

    এই রোদের মধ্যেই আবার হঠাৎ বরফ পড়া শুরু হল। মিহি পাউডারের মতো বরফ আকাশ থেকে হেলে দুলে নেমে আসছে, হাত পাতলে হাতের তেলো কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাদা হয়ে যায়। বরফ পড়ায় কোনও শব্দ নেই বলেই যেন ব্যাপারটা ভারি রহস্যময় মনে হয়। তা ছাড়া আকাশে মেঘ, নেই অথচ আকাশ থেকে কিছু পড়ছে ভাবতেও অবাক লাগছে।

    এই মিহিদানা তুষার বরফের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করে এক জায়গায় লক্ষ করলাম রাস্তা থেকে হাত দশেক উপরে পাহাড়ের গায়ে একটা স্বাভাবিক প্ল্যাটফর্ম গোছের জায়গা হয়ে আছে, সেখানে গুপী বাঘা বেশ স্বচ্ছন্দে দাঁড়াতে পারবে। তখনই ঠিক করলাম যে, তালির জোরে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে সটান ওখানেই এসে হাজির হবে তারা। চারিদিক চোখ বুলিয়ে দেখে নিলাম যে, কাছাকাছির মধ্যে কেবল বরফ আর তারই ফাঁকে কালো পাথর ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না।

    জায়গা তো পাওয়া গেল, কিন্তু এবার আর এক সমস্যা। বাংলাদেশের গ্রামে গুপী বাঘাকে দেখানো হয়েছে পরনে পিরেন, কাঁধে চাপানো দোলাই, আর খাটো করে পরা ধুতি। এই অবস্থাতেই তারা হাততালি দিয়ে বরফের দেশে হাজির হয়েছে। তার মানে তাদের যখন প্রথম দেখতে পাচ্ছি বরফের উপর, তখন তাদের গায়ে এই গ্রামের পোশাকই থাকবে। অথচ এই ঠাণ্ডায় এ পোশাক চলবে কী করে? গুপী বাঘার অবিশ্যি উৎসাহের শেষ নেই। তারা বলল গ্রামের পোশাকেই বরফে নামবে। কিন্তু আমাদের কাছে এটা একটু বাড়াবাড়ি বলে মনে হল। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল যে, পিরেনের তলায় তারা পরবে হাতকাটা পুলোভার, আর পায়ে চাপাবে নাইলনের তৈরি লম্বা মেয়েদের মোজা। এই মোজার রঙ চামড়ার রঙের থেকে তফাত করা যাবে না—আর তাই একটু দূর থেকে আর মোজা বলে মনে হবে না। এ ছাড়া দু’জনেরই পায়ে থাকবে ভূতের রাজার দেওয়া জাদু জুতো। এই জুতো আমাদের ছবির জন্য তৈরি করা স্পেশ্যাল জুতো।

    দৃশ্যটি যাতে জমে ভাল তাই ঠিক করা হল যে, বরফের প্ল্যাটফর্মের উপর পড়েই গুপী বাঘা ঠাণ্ডায় এবং ভড়কানিতে লাফাতে শুরু করবে, আর তার ফলে তারা ওই বারো হাত উঁচু থেকে পা হড়কে বরফের গা দিয়ে গড়িয়ে সটান একেবারে নীচে এসে পড়বে। আইডিয়াটা ভাল, আর গুপী বাঘাও রাজি, কিন্তু মনে ষোলো আনা ভরসা আসছে না। এই ভাবে গড়িয়ে পড়তে গিয়ে কী ধরনের বিপদ হতে পারে তা আমাদের জানা নেই।

    এ নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি, এমন সময় একজন স্থানীয় লোক আমাদের কথাবার্তা শুনে আশ্বাস দিল যে, এতে কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। আমরা পাহাড়ের যে অংশ পেয়েছি সেখানে নাকি বরফের তলায় লুকনো কোনও গর্তটর্ত নেই, বা এবড়ো খেবড়ো পাথরও নেই। কথা শুনে মনে হল, লোকটি নির্ভরযোগ্য। তারই উপর ভরসা করে ক্যামেরা খাটানো হল আর গুপী বাঘাও বরফের ফাঁকে ফাঁকে পাথরের উপর পা ফেলে উপরে উঠে সেই সমতল জায়গাটায় গিয়ে হাজির হল। শট্‌টা নিতে মিনিট পাঁচেকের বেশি সময় লাগল না। এটা বোধহয় না বললেও চলবে যে এ ধরনের শট্-এর রিহার্সাল নেওয়া সম্ভব নয়, একেবারে সরাসরি দুর্গা বলে ক্যামেরা চালিয়ে দিতে হয়—তারপর যা হয় হবে।

    বরফের গা দিয়ে গুপী বাঘার গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য হয়তো তোমাদের মনে আছে। কিন্তু শট্‌টা শেষ হবার পরেই যে ঘটনাটা ঘটল সেটা তোমাদের জানার কথা নয়।

    দুই মূর্তিমান গড়াগড়ি অবস্থা থেকে কোনও মতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েই বলল, ‘আমাদের চটি হারিয়ে গেছে।’ কী ব্যাপার? কখন হারাল? জানা গেল একেবারে শট্-এর শুরুতেই। দুটো লাফ মারতেই নাকি দু’জনের চটি খুলে বরফের তলায় তলিয়ে গেছে।

    আধ ঘণ্টা বরফ খোঁড়াখুঁড়ি করেও সে চটির আর কোনও হদিশ পাওয়া গেল না। গ্রীষ্মকালে বরফ গলার আগে আর সে চটি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেই ভূতের চোখ আঁকা চটিগুলো কবে কী ভাবে কুফরির কোন অধিবাসীর চোখে পড়বে, আর পড়লে তখন তার মনের ভাব কী হবে কল্পনা করতে বেশ মজা লাগছিল। যাই হোক, চটি তৈরি করানোর সময়ই এক জোড়া করে এক্সট্রা করিয়ে রাখা হয়েছিল তাই রক্ষে।

    এর পরের শট্‌গুলো বেশ ভালভাবেই উতরে গেল। শীতে কাঁপতে কাঁপতে গুপী বাঘা হাতে তালি মেরে গরম জামা চায়, আর তৎক্ষণাৎ তাদের গায়ে এসে যায় তিব্বতী পশমের পোশাক। এই পোশাক আমরা জোগাড় করেছিলাম, কলকাতারই এক সাহেবের কাছ থেকে। গায়ে গরমজামা চাপামাত্র বাঘা তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। গুপীর দিকে মুঠো মুঠো বরফ ছুড়ে মারতে মারতে বলে—‘এই তোমার ঝুণ্ডী? এইখানে হবে তোমার গানের বাজি? অগত্যা গুপীকে বলতে হয়, ‘তা হলে চলো হুণ্ডীই যাওয়া যাক’| নতুন গ্রামের বালির উপর বাঁশের মাচার বদলে এবার কুফরির বরফের উপর লোহার মাচা খাটানো হয়। ক্যামেরা তার নীচে বসে, আর গুপী বাঘা মাচায় চড়ে ক্যামেরার সামনে বরফের উপর লাফিয়ে পড়ে। ব্যস, কুফরি-পর্বের শুটিং শেষ। এবার চলো, মরুভূমির দেশে।

    আমাদের দেশে একমাত্র মরুভূমি হল পশ্চিম রাজস্থানের থর। গুপী গাইনের ভাল রাজার দেশ শুণ্ডী আর দুষ্টু রাজার দেশ হাল্লা—এই দুটো জায়গার জন্য রাজস্থানের দুটো শহর বুঁদি আর জয়সলমির বাছা হয়েছিল। গাছপালা ফুল ফসল হ্রদ পাহাড় সব মিলিয়ে বুঁদির মতো এমন সুন্দর শহর রাজস্থানে কমই আছে। আর ঠিক উল্টো হল জয়সলমির—সেখানে সবুজ নেই বললেই চলে, আর তার সৌন্দর্যের মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর রুক্ষ ভাব আছে। জয়সলমিরে কিন্তু যাকে মরুভূমি বলে ঠিক সে জিনিস নেই। সেটা পেতে হলে নাকি মাইল পঁচিশেক পশ্চিমে যেতে হয়। কাজের ফাঁকে আমরা একদিন গুপী বাঘাকে নিয়ে তাদের শুণ্ডীতে আসার দৃশ্য তোলার জন্য মরুভূমির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম।

    যে জায়গায় আমরা হাল্লারাজার মেলার দৃশ্য তুলেছিলাম, সেটাকে পাশ কাটিয়ে জয়সলমির পিছনে ফেলে মাইলখানেক গিয়ে একটা পাথরে ভরা নালা পেরিয়ে আমরা যে অঞ্চলটায় পৌঁছলাম সেখানে জিপ ছাড়া আর কোনও গাড়ি চলবে না। আমরা অবিশ্যি জিপেই চলেছি, তবে সব সময় যে পথ দিয়ে চলেছি তা নয়। ড্রাইভারের গতিবিধি দেখে মনে হয় সে এ তল্লাটের নাড়ীনক্ষত্র জানে, আর না হয় কিছুই জানে না, তাই চোখ কান বুজে যে দিকে দু’চোখ যায় সেদিকেই পাড়ি দিচ্ছে আল্লার নাম করে| এদিকে বালির চিহ্ন যেন ক্রমে কমে আসছে। দশ মিনিট অন্তর মরুভূমি কোথায় জিগ্যেস করাতে সে খালি বলে ‘মিল যায়গা’। এটুকু জানি যে আমাদের মোহনগড় বলে একটা জায়গা পেরোতে হবে। গড় বললেই কেল্লার চেহারা ভেসে ওঠে, তাই মনে একটা আগ্রহের ভাব রয়েছে—বিশেষ করে এই কারণে যে, রাজস্থানের কোনও বইয়ে মোহনগড়ের কোনও উল্লেখ পাইনি।

    দশ-বারো মাইল যাবার পর এমন একটা জায়গায় পৌঁছলাম যেখানে রাস্তা বলে সত্যিই আর কিছু নেই। শুধু রাস্তা নয়, গাছপালা, ঘর বাড়ি, টিলা পাহাড়, সব উধাও, আর সেই সঙ্গে বালিও উধাও। এটুকু বলতে পারি যে, ভারতবর্ষে অনেক ঘুরেও এমন দৃশ্য এর আগে কোথাও দেখিনি। আর দৃশ্য যে একই রকম তা নয়। একবার দেখছি নুড়ি পাথরের রাজ্য; কিছু দূর গিয়ে দেখছি সেটা হয়ে গেল খোলামকুচির রাজ্য, আর তার পরেই এসে গেলাম ঝামার রাজ্যে। আর এ সব রাজ্যের কোনওটাই সমতল নয়। গাড়ি ধীরে ধীরে উপরে উঠছে আবার ধীরে ধীরে ঢাল দিয়ে নেমে যাচ্ছে। যেদিকে দু’চোখ যায় কেবল বিশাল জমাট বাঁধা ঢেউ। অদ্ভুত দৃশ্য ঠিকই, কিন্তু এতে আমাদের কাজ চলবে না। কারণ আমাদের দরকার মরুভূমি। বরফের পর মরুভূমি হলে তবেই না মজা, দেখেই মনে হবে গুপী বাঘা প্রচণ্ড ঠাণ্ডার দেশ থেকে প্রচণ্ড গরমের দেশে এসে পড়েছে।

    যে পথ দিয়েই যাওয়া হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত মোহনগড় পৌঁছানো গেল। গড় একটা আছে বটে, কিন্তু এ সেই রাজস্থানের ঐতিহাসিক কেল্লা নয়। এ হল একটা আধুনিক খুদে কেল্লা, দেখলে রোমাঞ্চর চেয়ে হাসিই আসে বেশি। তবু কেল্লা বলে কথা, একবার ভিতরে যাওয়া দরকার। গিয়ে দেখি কেল্লার উঠোনে পাঠশালা বসেছে। যুদ্ধ যে এখানে কস্মিনকালেও হয়নি সেটা আর বলে দিতে হয় না।

    এদিকে বিশ মাইল এসে গেছি তবু মরুভূমির কোনও চিহ্ন নেই। এত মেহনত, এত পেট্রোল খরচা, জিপের এত হাড় নড়বড় করা ঝাঁকুনি সব কি মাঠে মারা যাবে?

    শেষে মোহনগড়েরই একজন লোক বলল যে, আমরা নাকি গোড়াতেই ভুল রাস্তা ধরেছি—মরুভূমি পেতে হলে অমুক দিকে যেতে হয়—এদিকে নয়। কথাটা শুনে মাথায় হাত দেব কিনা ভাবছি, এমন সময় আমাদের জিপের ড্রাইভাররা বললেন যে, এত দূরে এসে ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না। আরও খানিকটা পশ্চিমে যাওয়া হোক। এই শেষ চেষ্টায় যদি ফল না হয় তা হলে জয়সলমির ফিরে যাওয়া হবে।

    তাদের কথায় আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম, আর এবার কয়েক মাইল যেতেই এমন একটা জায়গায় এসে পড়লাম যেটাকে হয়তো মরুভূমি বলা ঠিক হবে না, কিন্তু আমার ছবির পক্ষে এর চেয়ে ভাল জায়গা আর কল্পনা করা যায় না। এ জায়গার কোনও নাম যদি থেকেও থাকে সেটা জানা হয়নি। এখানে বালি আছে, কিন্তু মরুভূমির শুকনো ঢেউ খেলানো বালি নয়। এ বালি চাপ বেঁধে সমতল হয়ে বিছিয়ে আছে, চারিদিকে দিগন্ত পর্যন্ত, পা ফেললে বোঝা যায় তার ভিতরটা জোলো। তারই মধ্যে আবার ফাঁকে ফাঁকে একেবারে শুকনো অংশও আছে, সেখানে বালির রং একটু ফিকে। সমস্ত প্রান্তরের উপর দুপুরের রোদ এসে পড়েছে, আর সে রোদ প্রতিফলিত হয়ে চোখ ঝলসে দিচ্ছে। আসলে ফেব্রুয়ারির শেষে এখানে গরম নেই, কিন্তু ক্যামেরার চোখে এটা যে সাহারার সামিল হয়ে দাঁড়াবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    জায়গাটায় পৌঁছনোমাত্র জিপ থামাতে বললাম। অনেক খোঁজার পর মনের মতো জায়গা পেয়ে কেমন যেন একটা দম বন্ধ করা উত্তেজনা হয়; এখনও তাই হচ্ছে। গাড়ি থেকে নেমে পশ্চিম দিকে চাইতেই এক মুহূর্তের জন্য হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেল। কোথায় এসে হাজির হয়েছি আমরা। রাজস্থানের এ অঞ্চলে এত বিশাল একটা হ্রদ আছে এ কথা তো কেউ বলেনি আমাদের। হ্রদ না বলে সমুদ্রও বলা যেত, কিন্তু জলে ঢেউ-এর চিহ্নমাত্র নেই দেখে সেটা আর বলতে পারলাম না। সারা পশ্চিম দিকটা জুড়ে বালু প্রান্তরের শেষ মাথায় স্পষ্ট দেখছি জলের রেখা। তাতে ছায়া পড়েছে আকাশের মেঘ আর ডান দিকে বহু দূরে একসার গাছের। এ দৃশ্য প্রথমে আমাদের সকলকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিলেও পরে বুঝতে বাকি রইল না যে হ্রদ নয়, মরীচিকা। আর এমনই মরীচিকা, যেমন সচরাচর দেখা যায় না।

    গুপী বাঘাকে নিয়ে আমাদের দেড় মিনিটের দৃশ্য তুলে সন্ধ্যায় জয়সলমির ফিরে এসে স্থানীয় লোকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম যে এই আশ্চর্য জায়গা আর সেখানকার মরীচিকার কথা অনেকেই জানেন। তাঁরাই বললেন যে এই মরীচিকা শুধু মানুষ কেন, জন্তু-জানোয়ারদেরও নাকি বোকা বানিয়ে দেয়। প্রতি বছর পালে পালে তৃষ্ণার্ত হরিণ জল ভেবে এরই দিকে হাঁটতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত জলের নাগাল না পেয়ে প্রাণ ত্যাগ করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকের পিঠে দুই – সত্যজিৎ রায়
    Next Article আরো বারো – সত্যজিৎ রায়

    Related Articles

    সত্যজিৎ রায়

    মানপত্র সত্যজিৎ রায় | Maanpotro Satyajit Ray

    October 12, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }