Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একেই বলে শুটিং – সত্যজিৎ রায়

    উপন্যাস সত্যজিৎ রায় এক পাতা গল্প110 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হাল্লারাজার সেনা

    সোনার কেল্লায় জয়সলমিরে ট্রেন আর উটের দৃশ্য তুলতে গিয়ে কী ঝক্কি পোয়াতে হয়েছিল সেটা তোমাদের বলেছি। সেখানে উট ছিল মাত্র পাঁচটা। আর গুপী গাইন ছবিতে হাল্লার সেনার দৃশ্য তুলতে আমাদের কত উটের দরকার হয়েছিল জান? এক হাজার। আর সেনা মানে তো শুধু উট নয়, তার জন্য সোয়ার চাই; আর শুধু সোয়ার হলেও চলে না—তাদের জন্য চাই সৈন্যের সাজ-পোষাক ঢাল তলোয়ার বল্লম নিশান পায়ের নাগরা, সব কিছুই। এই সব জোগাড় হলে পরে তাদের নিয়ে শুটিং। সত্যি বলতে কি, এরকম বিরাট শুটিং এর আগে আমরা কখনও করিনি। তাই এটা হয়েছিল আমাদের সকলের পক্ষেই চিরকাল মনে রাখার মতো একটা ঘটনা। এই শুটিং-এর বিষয় আজ তোমাদের কিছু বলব।

    সন্দেশে পড়া উপেন্দ্রকিশোরের ‘গুপী গাইন’ গল্প থেকে যখন ‘গুপী গাইন’ ফিল্ম করার জন্য চিত্রনাট্য লিখি, তখন হাল্লার দৃশ্য ভারতবর্ষের কোথায় তোলা হবে তা ঠিক ছিল না, তবে এটা মাথায় ছিল যে হাল্লার সৈন্য হবে অশ্বারোহী। ট্রেনে আর মোটরে করে নানান জায়গা ঘুরে দেখতে দেখতে অবশেষে যখন রাজস্থানের পশ্চিম প্রান্তে মরু অঞ্চলের জয়সলমির শহরে পৌঁছলাম, তখন মনে হল হাল্লার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা আর পাওয়া যাবে না। অথচ রাজস্থানের এই অঞ্চলে ঘোড়া নেই, আছে উট। তাই অশ্ববাহিনী হয়ে গেল উষ্ট্রবাহিনী।

    কিন্তু খাতায় ঘোড়া কেটে উট লিখে দিলেই তো আর কাজ ফুরিয়ে গেল না, বরং এটা হল কাজের শুরু। এর পরে আছে অনেক হিসেব, অনেক প্ল্যানিং, অনেক তোড়জোড়। হাল্লার সৈন্যদের জন্য সাজ পোশাকের নকশা করতে হবে। তার মানে মাথার পাগড়ি থেকে পায়ের নাগরা পর্যন্ত সব কিছু চাই, তা ছাড়া আছে ঢাল, তলোয়ার, তলোয়ারের খাপ, বল্লম, পতাকা। সেনাপতির জন্য আবার চাই একটু বিশেষ ধরনের পোশাক, বর্ম, আর শিরস্ত্রাণ।

    সাইকেল রিক্সাতে ক্যামেরা হাতে পরিচালক।

    সাইকেল রিক্সাতে ক্যামেরা হাতে পরিচালক।

    ‘তোমার পায় পড়ি বাঘমামা’। সে বাঘ মাঠে নেমেই ঘার বেঁকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তার বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

    ‘তোমার পায় পড়ি বাঘমামা’। সে বাঘ মাঠে নেমেই ঘার বেঁকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তার বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

    তার শরীরটা বাঘের ওপর দিয়ে ধনুকের মতো বাঁকা, তার হাত দুটো যেন দেওয়ালে আটকে গেছে…

    তার শরীরটা বাঘের ওপর দিয়ে ধনুকের মতো বাঁকা, তার হাত দুটো যেন দেওয়ালে আটকে গেছে…

    গুপী গান চালিয়ে যায়। পাশে বাঘা, পিছনে বাঘ।

    গুপী গান চালিয়ে যায়। পাশে বাঘা, পিছনে বাঘ।

    পাঁড়ে হাউলির জনমানবশূন্য থমথমে গলিতে ফেলুদা, তোপ্‌সে আর লালমোহন।

    পাঁড়ে হাউলির জনমানবশূন্য থমথমে গলিতে ফেলুদা, তোপ্‌সে আর লালমোহন।

    ট্যাক্সির সঙ্গে রিক্সাতে চেপে পরিচালক দেখে নিচ্ছেন ব্যবস্থা ঠিক হয়েছে কি না।

    ট্যাক্সির সঙ্গে রিক্সাতে চেপে পরিচালক দেখে নিচ্ছেন ব্যবস্থা ঠিক হয়েছে কি না।

    কাশীর ঠঠেরি বাজারের বিখ্যাত মিঠাইয়ের দোকান শ্রীরামভান্ডারের সামনে শুটিং।

    কাশীর ঠঠেরি বাজারের বিখ্যাত মিঠাইয়ের দোকান শ্রীরামভান্ডারের সামনে শুটিং।

    সেই বাজারের আরেক গলিতে পরের একটি শটের তোড়জোড়। রাস্তায় লাইন পাতা…ট্রলির উপর ক্যামেরা।

    সেই বাজারের আরেক গলিতে পরের একটি শটের তোড়জোড়। রাস্তায় লাইন পাতা…ট্রলির উপর ক্যামেরা।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাটে ছদ্মবেশী তোপ্‌সে আর লালমোহনকে নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাটে ছদ্মবেশী তোপ্‌সে আর লালমোহনকে নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক।

    রিক্সাতে লালমোহন আর তোপ্‌সে। গাড়ির ভিতর ক্যামেরায় চোখ লাগিয়ে পরিচালক।

    রিক্সাতে লালমোহন আর তোপ্‌সে। গাড়ির ভিতর ক্যামেরায় চোখ লাগিয়ে পরিচালক।

    ষাঁড়ের গলিতে ভিড় জমতে আরম্ভ করেছে।

    ষাঁড়ের গলিতে ভিড় জমতে আরম্ভ করেছে।

    ফেলু আর তোপ্‌সে দিব্যি বেরিয়ে গেল।

    ফেলু আর তোপ্‌সে দিব্যি বেরিয়ে গেল।

    রুকু রিভলভার হাতে তার ছাতের ঘরের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

    রুকু রিভলভার হাতে তার ছাতের ঘরের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাটে শুটিং দেখার জন্য ভিড়।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাটে শুটিং দেখার জন্য ভিড়।

    মগনলাল তার বজরায় চড়ে মছলিবাবার কাছে আসছে।

    মগনলাল তার বজরায় চড়ে মছলিবাবার কাছে আসছে।

    ঘাটে শুটিং-এর পরে সেই বজরা করেই দশাশ্বমেধ ঘাটে ফেরা।

    ঘাটে শুটিং-এর পরে সেই বজরা করেই দশাশ্বমেধ ঘাটে ফেরা।

    ফেলুদার সঙ্গে কাশীতে। মগনলাল মেঘরাজের বাড়ির সদর দরজা।

    ফেলুদার সঙ্গে কাশীতে। মগনলাল মেঘরাজের বাড়ির সদর দরজা।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাট থেকে প্যালেসে ওঠার সিঁড়ি। পাশেই বুরুজে পায়রার ঝাঁক।

    দ্বারভাঙ্গা ঘাট থেকে প্যালেসে ওঠার সিঁড়ি। পাশেই বুরুজে পায়রার ঝাঁক।

    ফেলুদা মছলিবাবার গোপন আস্তানার সন্ধানে পরিত্যক্ত দ্বারভাঙ্গা প্যালেসে ঢুকেছে।

    ফেলুদা মছলিবাবার গোপন আস্তানার সন্ধানে পরিত্যক্ত দ্বারভাঙ্গা প্যালেসে ঢুকেছে।

    নাগওয়া-তে জ্ঞান চক্রবর্তীর বাড়ি—‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এ ঘোষালদের বাড়ি।

    নাগওয়া-তে জ্ঞান চক্রবর্তীর বাড়ি—‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এ ঘোষালদের বাড়ি।

    হাল্লারাজার সেনা। সেনাপতি তাঁর উটের পিঠ থেকে হুকুম করলেন—‘শুণ্ডী চলো’।

    হাল্লারাজার সেনা। সেনাপতি তাঁর উটের পিঠ থেকে হুকুম করলেন—‘শুণ্ডী চলো’।

    সামনে সৈন্যদল আর দূরে গুপী-বাঘা–‘ওরে হাল্লারাজার সেনা, তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল্।

    সামনে সৈন্যদল আর দূরে গুপী-বাঘা–‘ওরে হাল্লারাজার সেনা, তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল্।

    উট বনাম ট্রেন। ক্যামেরা আসার অপেক্ষায় পরিচালক। দূরে সকলে উটে চেপে প্রস্তুত।

    উট বনাম ট্রেন। ক্যামেরা আসার অপেক্ষায় পরিচালক। দূরে সকলে উটে চেপে প্রস্তুত।

    উটের পিঠে ফেলু, তোপ্‌সে আর আধমরা জটায়ু।

    উটের পিঠে ফেলু, তোপ্‌সে আর আধমরা জটায়ু।

    শটের আগে দুজনকে নিয়ে পরিচালক।

    শটের আগে দুজনকে নিয়ে পরিচালক।

    টুলের উপর দাঁড়িয়ে, অতি কষ্টে ক্যামেরায় চোখ লাগাতে চেষ্টা করছে অপু।

    টুলের উপর দাঁড়িয়ে, অতি কষ্টে ক্যামেরায় চোখ লাগাতে চেষ্টা করছে অপু।

    হুণ্ডী-ঝুণ্ডী-শুণ্ডী। সিমলার কাছে বরফে-ঢাকা কুফরি হয়ে উঠল ‘ঝুণ্ডী’—

    হুণ্ডী-ঝুণ্ডী-শুণ্ডী। সিমলার কাছে বরফে-ঢাকা কুফরি হয়ে উঠল ‘ঝুণ্ডী’—

    —তারপর ‘হুণ্ডী’। জয়সলমীর থেকে কিছু দূরে এক নাম-না-জানা জায়গা।

    —তারপর ‘হুণ্ডী’। জয়সলমীর থেকে কিছু দূরে এক নাম-না-জানা জায়গা।

    অবশেষে ‘শুণ্ডী’। এই দৃশ্য তোলা হয়েছিল রাজস্থানের কুঁদি শহরের কাছে।

    অবশেষে ‘শুণ্ডী’। এই দৃশ্য তোলা হয়েছিল রাজস্থানের কুঁদি শহরের কাছে।

    অপুর সঙ্গে আড়াই বছর। কাশবনে দুর্গা ও অপুকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন পরিচালক।

    অপুর সঙ্গে আড়াই বছর। কাশবনে দুর্গা ও অপুকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন পরিচালক।

    মেঘের অপেক্ষায় সকলে বসে।

    মেঘের অপেক্ষায় সকলে বসে।

    চায়ের বিরতি। পরিচালক ও অপু।

    চায়ের বিরতি। পরিচালক ও অপু।

    কাজের ফাঁকে ভাই-বোনের আড্ডা।

    কাজের ফাঁকে ভাই-বোনের আড্ডা।

    এই সব কিছুর নকশা করে জিনিসগুলো তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল বোম্বাইয়ের এক কোম্পানিকে, যারা অনেকদিন থেকে ফিল্মে ব্যবহারের জন্য এসব জিনিস তৈরি করে আসছে। হাজারের কমে সেনাবাহিনী বোঝানো যাবে না এই আন্দাজ করে প্রত্যেকটা জিনিসই তৈরি করতে দেওয়া হয়েছিল হাজারটা করে। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে এসব তৈরি করে চারটি লরির পিঠে ট্রাঙ্ক বোঝাই করে তুলে দেওয়া হবে। সেই লরি বোম্বাই থেকে জয়সলমিরে এসে পৌঁছলে পর তবে আমাদের হাল্লার সেনার শুটিং হবে।

    এখন কথা হচ্ছে, উট জিনিসটা তো রাজস্থানের মাঠে ঘাটে যেখানে সেখানে দেখা যায়, কিন্তু মালিক সমেত হাজার উট ঠিক যেদিন চাইব সেদিন শুটিং-এর জায়গায় জমায়েত হবে কী করে?

    ঠিক হল এ ব্যাপারে জয়সলমিরের রাজার সাহায্য চাওয়া হবে।। আমার জওহরনিবাস বলে যে বাড়িটায় আস্তানা করেছিলাম, তার দোতলার ঘরের জানালা দিয়ে উত্তর দিকে চাইলেই রাজপ্রাসাদ দেখা যায়। আমি ও আমাদের দলের আরও জনাচারেক লোক আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে এক সকালে গেলাম রাজার সঙ্গে দেখা করতে। মানুষটিকে দেখে রাজা বলে বোঝার উপায় নেই; অন্তত রাজপুত রাজা বলতে গোঁফ-গালপাট্টা সমেত যে জাঁদরেল চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তার সঙ্গে এনার চেহারার কোনই মিল নেই। কিন্তু ইনি যে ক্ষমতা রাখেন সেটা তাঁর কথাতেই বোঝা গেল। আমাদের ব্যাপারটা শুনেটুনে বললেন ‘হাজার উট? সে আর এমন কি কথা; কুমার বাহাদুরকে বললেই ও ব্যবস্থা করে দেবে।

    কুমার বাহাদুরের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল আগেই। বছর পঁচিশ-ছাব্বিশের যুবক, মোটর সাইকেলে ফট্ ফট্ করে রাস্তায় বালি উড়িয়ে ঘুরে বেড়ান, সম্পর্কে রাজার কিরকম যেন ভাই। তাঁকে অনুরোধ করতে তিনি সানন্দে উটের ব্যবস্থা করার ভার নিলেন। জয়সলমিরে ফিল্মের শুটিং হবে শুনে তিনি এমনিতেই ভারি মেতে উঠেছিলেন।

    তোমাদের মধ্যে যারা গুপী গাইন ছবি দেখেছ, তারা জান যে হাল্লার সেনাকে নিয়ে একটি মাত্র দৃশ্যই আছে—যদিও সে দৃশ্য বেশ ঘটনাবহুল। হাল্লারাজ শুণ্ডীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এক বিশেষ দিনে সৈন্য জমায়েত হয়েছে। উট ও সেনা দুইই আপাতত মাটিতে বসা, সেনাপতি তাঁর উটের পিঠ থেকে হুকুম করলেন—‘উট উঠাও!’—কিন্তু আধপেটা খাওয়া সৈন্যদল হুকুম না মেনে বসেই রইল। সেনাপতি হন্তদন্ত হয়ে মন্ত্রীমহাশয়ের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা রিপোর্ট করলেন, মন্ত্রী অগত্যা যাদুকর বরফির শরণাপন্ন হলেন। বরফি মুহুর্তের মধ্যে মন্ত্রবলে সৈন্যদের উটের পিঠে চড়িয়ে দিলেন। সৈন্য রওনা দেয়, এমন সময় গুপী-বাঘা হারানো ঢোল ও জুতোর সন্ধান পেয়ে ঝড়ের মতো এসে ‘ওরে হাল্লারাজার সেনা’ গান গেয়ে সেনাবাহিনীকে রুখে দেয়। গানের শেষে আকাশ থেকে মিষ্টির হাঁড়ি নেমে আসে, বুভুক্ষু সেনা উটের পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে পাগলের মতো দৌড়ে গিয়ে গোগ্রাসে মণ্ডামিঠাই মিলতে থাকে। মন্ত্রীমশাইও একটি হাঁড়ি নিয়ে সটকাবার তাল করছিলেন, কিন্তু তাঁরই সেনার পায়ের তলায় সে হাঁড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই হুলুস্থুলের মধ্যে এক ফাঁকে গুপী বাঘা হাল্লারাজাকে তুলে নিয়ে শুণ্ডীর উদ্দেশে হাওয়া হয়ে যায়। এই সৈন্য সমাবেশের দৃশ্য তোলার জন্য একটা চমৎকার জায়গা বাছা হয়েছিল কেল্লার পূবদিকে। তিন দিকে ধুধু প্রান্তর, গাছ-পালার চিহ্নমাত্র নেই, আর জমিতে বালি থাকলেও তা মোটেই গভীর নয়—অর্থাৎ পা বসে যায় না, তাই চলতে ফিরতে কোনও অসুবিধা নেই। উত্তরদিকে মাইল খানেক জায়গা জুড়ে পাঁচিলের মতো খাড়াই উঠে গেছে পাথুরে পাহাড়। এই পাহাড়ের মাথাটা আবার সমতল। এরই একটা অংশে একাদশ শতাব্দীতে ভাটি রাজপুতরা বানিয়েছিল তাদের কেল্লা। এই ধরনের পাহাড়—যাকে ইংরাজিতে বলে table mountain—রাজস্থানের চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। চিতোরের দুর্গ ও শহরও এইরকমই একটা মাথা-চাঁছা পাহাড়ের উপর তৈরি।

    শুটিং-এর জায়গার একটা অংশে ছিল প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র। প্রায় দুশো গজের মতো জায়গা জুড়ে নানান আকারের হলদে পাথরের সমাধিস্তম্ভে জায়গাটা ভরা। এটা দেখার পর ঠিক করেছিলাম গুপী যেখানে গাইতে গাইতে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে আসছে, সেখানে ‘মিথ্যে অস্ত্র শস্ত্র ধরে প্রাণটা কেন যায় বেঘোরে, রাজ্যে রাজ্যে পরস্পরে দ্বন্দ্বে অমঙ্গল’—এই অংশটায় গুপী-বাঘা হাঁটবে এই সমাধি ক্ষেত্রের উপর দিয়ে।

    শুটিং-এর দিন সকালে জওহর নিবাসে খবর এল মালিক সমেত এক হাজার উট যুদ্ধক্ষেত্রে এসে হাজির হয়েছে। আমরা সকলে একসঙ্গে নিশ্চিন্তির হাঁফ ছাড়লাম। দুদিন আগেই বোম্বাই থেকে লরিতে করে সাজ-পোশাক এসে গেছে, এবং ইতিমধ্যে ট্রাঙ্ক থেকে সে সব পোশাক অস্ত্রশস্ত্র পাগড়ি বল্লম পতাকা সব কিছুই বার করে এক এক করে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। এইসব জিনিস এখন পাঠিয়ে দেওয়া হল দু’মাইল দূরে যুদ্ধক্ষেত্রে। হাল্লার সেনাকে সাজ পরানো তো কম কথা নয়। এর জন্য আমাদের দলে জনা দশেকের বেশি লোক নেই। আমরা আন্দাজ করেছিলাম ঘণ্টা পাঁচেক লাগবে কাজটা সারতে। সকালে অন্য শুটিং রাখা হয়েছে; সেটা সেরে দুপুর দুটো নাগাদ আমরা হাজির হব যুদ্ধক্ষেত্রে। তখন থেকে শুরু করে ঘণ্টা চারেক শুটিং অনায়াসে করা যাবে, কারণ মাসটা হল মার্চ—রোদ থাকে সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত।

    আমাদের দলে লোক ছিল সবশুদ্ধ জনা চল্লিশেক। অভিনেতাদের মধ্যে গুপী বাঘা বাদে ছিল হাল্লার রাজা (সন্তোষ দত্ত), হাল্লার মন্ত্রী (জহর রায়), সেনাপতি (শান্তি চট্টোপাধ্যায়), গুপ্তচর (চিন্ময় রায়), জনা পাঁচেক পেয়াদা (কামু মুখার্জি, অশোক মিত্র, রাজকুমার লাহিড়ি ইত্যাদি)। এ ছাড়া ক্যামেরাম্যান, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট, মেক-আপম্যান, এঁদের সকলের সহকারী, আমার নিজের চারজন সহকারী, আলো রিফ্লেক্টর ক্যামেরা ও সাউন্ডের সরঞ্জাম বইবার লোক, প্রোডাকশন ম্যানেজার ও তাঁর দলের লোক ইত্যাদি মিলিয়ে আরও জনাত্রিশেক। এর মধ্যে এক জহর রায় ছাড়া আমরা আর সকলেই আগে আগে একসঙ্গে এসে কাজ শুরু করে দিয়েছি। জহর রায় আসবেন কলকাতার একটা শুটিং শেষ করে। যোধপুর থেকে দেড়শো মাইল ট্যাক্সিতে আসবেন। জয়সলমির এসে পৌঁছনোর কথা রাত দশটায়, এলেন মাঝরাত্তিরে, আড়াইটার পর। কী ব্যাপার? জানা গেল মাঝপথে নাকি চলন্ত ট্যাক্সি উল্টে গিয়েছিল। জহরবাবুর নাক যে জখম হয়েছে সেটা চোখেই দেখতে পাচ্ছিলাম। বললেন, ‘আরে মশাই—চাঁদনি রাত, ষাট মাইল স্পিডে চলেছি, দিব্যি পিচ ঢালা সোজা রাস্তা, অন্য গাড়ির চলাচল নেই—সর্দারজি ড্রাইভার বাঁ হাত কাঁধের পিছনে রেখে ডান হাতে আপেল নিয়ে তাতে কামড় দিচ্ছেন, স্টিয়ারিং-এ রেখেছেন নিজের ভুঁড়িটা। সেটাকে একটু এদিক ওদিক করলেই গাড়ি এদিক ওদিক ঘুরছে। এমন সময় হুশ্ করে রাস্তার মাঝখানে পড়ে গেল খরগোশ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ি গেল উল্টে। আমার হুঁশ ছিল, দেখলাম আমি গড়াচ্ছি, আর আমার পাশ দিয়ে গড়াচ্ছে দুটো হোল্‌ডঅল। খটকা লাগল—হোল্‌ডঅল তো সঙ্গে একটি, অন্যটি এল কোত্থেকে? বুঝলাম ওটি হলেন আমাদের সর্দারজি।

    আশ্চর্য এই যে, জহরবাবু, ড্রাইভার সাহেব ও গাড়ি, এই তিনটের কোনওটাই খুব বেশি জখম হয়নি। ফলে হাল্লার সেনার দৃশ্যে অ্যাকটিং করতে জহরবাবুর বিশেষ অসুবিধা হয়নি।

    অভিনেতা বাদে এই যে ত্রিশ পঁয়ত্রিশজন লোক, একটা বড় রকমের শুটিং হলে এদের সকলকেই কাজে লেগে যেতে হয়। হলিউড বা বিলেত বা বোম্বাই হলে হাজার উট সমেত হাল্লারাজার সেনার এই দৃশ্য তুলতে মাইনে করা কাজের লোক থাকত অন্তত শতিনেক। সেখানে আমাদের কাজ চালাতে হবে ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জনকে নিয়ে। তোড়জোড় শুরু হয়ে যাবে ভোর চারটে থেকে, যাতে নাকি সাড়ে ছটার মধ্যে শুটিং-এর জায়গায় পৌঁছে সাতটার মধ্যে শট্ নেওয়া শুরু করে দেওয়া যায়। সকাল আর বিকেলের রোদটা ফোটোগ্রাফির পক্ষে সবচেয়ে ভাল, তাই সেটা মাঠে মারা গেলে চলে না।

    আজ অবিশ্যি আমরা সকলে অন্য জায়গায় হালকা কাজ রেখেছিলাম, ‘কারণ জানতাম বিকেলে ঝক্কি আছে। সকালে শুটিং শেষ করে বারোটা নাগাদ জওহর নিবাসে ফিরে এসে স্নান খাওয়া এবং সামান্য বিশ্রাম সেরে দুটোয় গিয়ে হাজির হলাম যুদ্ধক্ষেত্রে। উটের বহর আর বাহার দেখে চোখ মন একসঙ্গে জুড়িয়ে গেল। রাজস্থানের সব উটওয়ালাদের কাছেই ঝালর দেওয়া কড়ি বসানো চমৎকার সব রঙিন উটের পোশাক আর জাজিম থাকে। এদের সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন উটগুলোকে সাজপোশাক পরিয়ে নিয়ে আসে।

    উট তো হল, কিন্তু সৈন্যদের এ চেহারা কেন? কোথায় গেল আমাদের লাল নীল হলদে পোশাক, আর কোথায় গেল সেই বাহারের উষ্ণীষ? আর হাজার জোড়া নাগরা যে কেনা হল, সেগুলোই বা এরা পরেনি কেন? এতো দেখছি সবাই সাধারণ সাদা পোশাক পরে বসে আছে, যেমন সব সময়েই থাকে।

    জিগ্যেস করে আসল কারণটা জানা গেল। উটওয়ালাদের মধ্যে বেশির ভাগই মুসলমান, আর মুসলমানদের নাকি সাদা ছাড়া আর কোনও রঙে ঘোর আপত্তি। বোম্বাইয়ের তৈরি বাহারের পোশাক দেখে তারা কেউ কেউ হেসেছে, কেউ কেউ বিশ্রী ভাবে ভুরু কুঁচকে মাথা নেড়েছে, আবার কেউ সে পোশাক হাতে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন উপায়? এদের ব্যাপারটা ভাল করে বোঝাতে হয়, নইলে সব ভণ্ডুল হয়ে যাবে।

    কিন্তু এক হাজার লোককে একসঙ্গে বোঝানোর কোনও উপায় আছে কি? আছে। খোলা মাঠে ভিড় নিয়ে কাজ করতে হবে জেনে আমরা কলকাতা থেকে আসার সময় সাড়ে তিনশো টাকা দিয়ে একটা ব্যাটারি অপারেটেড লাউডস্পিকার কিনে এনেছি। এ জিনিস তোমরা অনেকেই হয়তো দেখেছ—কাঁধে ঝোলানো ব্যাটারির সুইচ টিপে একটা চোঙার মতো জিনিস মুখের সামনে ধরে কথা বললেই গলার স্বর অনেকগুণ বেড়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

    ডাক পড়ল তিনু আনন্দের। তিনু আমার চারজন সহকারীর একজন। সে বোম্বাই থেকে এসেছে, তার ভাষা হিন্দি—যদিও বাংলাও ভাঙা ভাঙা বলতে পারে এবং চটপট শিখে নিচ্ছে। লাউডস্পিকারটা তিনুর হাতে দিয়ে তাকে শিখিয়ে দিলাম উটওয়ালাদের কী বলতে হবে। বললাম, ‘বলো—তোমরা এখন আর উটওয়ালা নও, তোমরা হচ্ছ সৈন্য। তোমরা সবাই এক-একজন বীর যোদ্ধা। তোমরা যুদ্ধ করতে যাচ্ছ। তোমাদের উটের এত বাহার, তোমাদের সেনাপতি এত বাহারের পোশাক পরেছে, তোমরাও যদি রঙিন পোশাক পরে হাতিয়ার নিয়ে উটের পিঠে চড়, তবেই না তোমাদের খুবসুরৎ দেখাবে, বীর বলে মনে হবে, লোকে দেখে বাহবা দেবে। এখানে তো আর তোমরা সামান্য উটপালক নয়। তোমরা সবাই হলে ‘ফিল্মের অ্যাক্টর’—ইত্যাদি।

    তিনু আমাদের থেকে হাত বিশেক দূরে দাঁড়িয়ে উটওয়ালাদের দিকে মুখ করে চোঙা মুখের সামনে এনে কাজে লেগে গেল। একটা গগনভেদী ‘ভাইয়োঁ’-র পর কোনও কথা শুনতে না পেয়ে তিনুর দিকে ফিরে দেখি সে নানারকম অঙ্গভঙ্গি সহকারে দিব্যি নেতা-নেতা ভাব করে মুখ নেড়ে চলেছে, কিন্তু তার চোঙা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যাটারিটি অকেজো হয়ে গেছে। এটা যাঁর হাতে লাউডস্পিকার রয়েছে তিনি নিজে অনেক সময়ই বুঝতে পারেন না, কারণ নিজে তিনি নিজের কথা স্পষ্টই শুনছেন।

    এর পরে অবিশ্যি লাউডস্পিকারটা মাঝে মাঝে কাজ করলেও সেটার উপর আর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারিনি। আজকের কাজটা আমরা সকলে ভাগাভাগি করে উটওয়ালাদের মধ্যে গিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোনও মতে সারলাম। দু’একজন করে লোক নিজেদের পোশাক ছেড়ে যুদ্ধসাজ পরতেই ক্রমে বাকিরাও তাদের দেখাদেখি তৈরি হয়ে নিল।

    প্রথম কাজ শুরু হল গানের দৃশ্য দিয়ে। সৈন্যদল এখানে উটের পিঠে অনড় হয়ে বসে থাকবে। উটওয়ালাদের মধ্যে যাদের বয়স কমের দিকে তাদের একটু ছটফটে মনে হওয়াতে পাঠিয়ে দেওয়া হল একেবারে পিছন দিকে। সামনের দিকে রাখা হল যত মাঝবয়সী আর বুড়োদের। উট যদি এলোমেলো ভাবে দাঁড়ায় তা হলে যুদ্ধে যাওয়ার ভাবটা আসে না। ‘ফরমেশন’ হয় না। তাই আরও মিনিট পনেরো সময় দিয়ে তাদের সার বেঁধে দাঁড় করানো হল। তার পর শুরু হল শুটিং।

    সাড়ে চার মিনিটের গান। সেটা তোলা হবে অন্তত চল্লিশটা বিভিন্ন শটে, এক একটি শট্ নিতে সময় লাগবে আন্দাজ গড়ে পনেরো মিনিট করে। কিছু শটে গুপী-বাঘাকে দেখা যাবে, কিছু শটে শুধু সৈন্যদের, আবার কিছুতে গুপী বাঘা সৈন্য সব কিছুই একসঙ্গে দেখা যাবে। প্রত্যেক শট্-এর সঙ্গে সঙ্গে প্লে-ব্যাক যন্ত্রে গান চলবে, গুপী সেই গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলাবে, বাঘা মেলাবে ঢোলের কাঠি, আর ক্যামেরাও এদিক ওদিক চলবে গানের ছন্দের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে।

    মিষ্টিবর্ষণের আগে পর্যন্ত গানের শট্ প্রথম দিন তিন ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেল। মিষ্টির দৃশ্য তোলা হবে আগামীকাল। উট এবং উটওয়ালা জয়সলমিরেই থাকবে, তাদের খোরাকি দেব আমরা।

    মিষ্টির ব্যাপারটা বলার আগে একটা অন্য ঘটনা বলে নিই, কারণ এটা ঘটেছিল এই প্রথম দিনেই।

    রোদ পড়ে যাওয়া পর্যন্ত কাজ করার পর সবাই যখন ঘরে ফেরার জন্য তৈরি হচ্ছি, উটওয়ালারা আমাদের পোশাক খুলে ফেলে তাদের নিজের পোশাক পরছে, হাল্লার সেনাপতি নধরকান্তি শ্রীমান শান্তি চট্টোপাধ্যায় উটের পিঠ থেকে নেমে হাড়গোড় সব ঠিক আছে কিনা টিপে টিপে দেখে নিচ্ছেন, এমন সময় কোত্থেকে জানি ভেসে এল এক আশ্চর্য সুন্দর বাঁশির সুর। খোঁজ নিয়ে জানলাম বংশীবাদক নাকি উটের দলের সঙ্গেই এসেছেন, যদিও তিনি সেনার পোশাক পরেননি।

    লোকটিকে খুঁজে বার করা হল। মাথায় পাগড়ি, গায়ে সাদা সার্টের উপর কালো ওয়েস্ট কোট, চোখে অমায়িক, উদাস দৃষ্টি। বয়স মনে হল, চল্লিশের কাছাকাছি। ওয়েস্ট কোটের পকেট থেকে উঁকি দিচ্ছে বাঁশি—তবে একটা নয় দুটো। এই লোকটির সঙ্গে আরেকজন রয়েছে দেখলাম, তার চেহারায় বেশ চোখে পড়ার মতো বিশেষত্ব। এর পোশাকও বংশীবাদকের মতোই, তবে দৈর্ঘ্যে ইনি ছ’ফুটের উপর। গায়ের রং এত পালিশ করা মিশকালো আর কারুর দেখেছি বলে মনে পড়ে না, আর তীক্ষ্ণ নাকের নীচে এমন গোঁফজোড়াও আর কারুর আছে কিনা জানি না। গোঁফের দুটো দিক বিরাট ঘড়ির স্প্রিং-এর মতো আড়াই পাক প্যাঁচ খেয়ে দুটি গাল জুড়ে বসে আছে। পরে জেনেছিলাম প্যাঁচ খুলে গোঁফ দুদিকে টেনে সোজা করলে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দৈর্ঘ্য হয় সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি।

    আমরা বংশীবাদককে বললাম, তাঁর বাজনা আমাদের দূর থেকে শুনে খুব ভাল লেগেছে—তিনি কি সন্ধেবেলা আমাদের ডেরায় এসে একটু বাজনা শুনিয়ে যাবেন? ইচ্ছে ছিল সম্ভব হলে এই বাঁশির রেকর্ড করে আমাদের ছবিতে ব্যবহার করব। বাঁশিওয়ালা এক কথাতেই রাজি হয়ে গেল।

    সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ জওহরনিবাসে এসে হাজির হল বাঁশিওয়ালা আর তার বন্ধু। আমার ঘরে মাটিতে কার্পেটের উপর বসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাঁশি শোনা ও রেকর্ড করা হল। শুরুতেই অবাক হলাম দেখে যে পকেট থেকে দুটো বাঁশি বার করে দুটোই এক সঙ্গে মুখে পুরলেন শওকত আলি (নামটা আগেই জেনে নিয়েছিলাম)। ফুঁ দেবার পরে বুঝলাম কী আশ্চর্য ব্যাপার ঘটতে চলেছে। একটা বাঁশিতে কেবল একটা ফুটো ছাড়া অন্যগুলো সব মোম দিয়ে বন্ধ করে ফেলা হয়েছে। এই বাঁশি কাজ করবে সানাই-এর পোঁ-এর মতো। আর অন্য বাঁশির সব ফুটোই খোলা; এতে বাজবে সুর। পরে জিগ্যেস করে জানলাম, এই বাঁশির নাম হল সাতারা। এর উৎপত্তি হয়েছে জয়সলমিরের পঁচিশ মাইল পশ্চিমে পাকিস্তান সীমানা থেকে মাত্র কুড়ি মাইল দূরে খুড়ি নামে একটি গ্রামে। ছোট্ট গরিব গ্রাম—কিন্তু সে গ্রামের প্রত্যেকটি লোক নাকি গান বাজনায় ওস্তাদ। এই গ্রামেই নাকি উদ্ভব হয়েছিল সাপুড়ের বাঁশির—যাকে রাজস্থানে বলে বিন—যা আজকাল ভারতবর্ষের সব শহরে শুনতে পাওয়া যায়।

    শওকত আলির আশ্চর্য সুন্দর বাঁশি রেকর্ড করে তাকে শোনালে পর তার মুখের ভাব হল অদ্ভুত। সে বলল ‘আমার একমাত্র ভাই সীমানা পেরিয়ে চলে গেছে পাকিস্তানে। তোমরা যদি আমার এ বাঁশি রেডিওতে বাজাতে পারো, তা হলে সে হয়তো সেখান থেকে শুনতে পাবে।’

    শওকত আলি যতক্ষণ বাঁশি বাজাল, তার সেই বন্ধুটি চুপ করে বসে রইল। দেখে মনে হচ্ছিল এর মতো নিরীহ লোক বুঝি আর হয় না। তাঁর গোঁফের বাহার আমাদের সকলেরই কৌতুহল উদ্রেক করেছিল, তাই এবার তাঁর সঙ্গে একটু আলাপ করার ইচ্ছে হল।

    পরিচয় জিগ্যেস করে যা জানলাম তাতে আমাদের চক্ষু চড়ক গাছ; ইনি হচ্ছেন জাতে ভিল, নাম কর্ণ, আর ইনিই এককালে ছিলেন রাজস্থানের দূর্ধর্ষতম ডাকাত। বললেন, ‘এখন আমাকে কী দেখছ—এক কালে আমার স্বাস্থ্য এমন ছিল যে একটা আস্ত জিপগাড়ি একটা কাঁধে তুলে নিতে পারতাম। দুবার আমাকে পুলিশ ধরে জেলে পোরে; দুবারই আমি কয়েদ ঘরের জানালার লোহার শিক হাতে বেঁকিয়ে ফাঁক করে পালাই। তিনবারের বার এরা করল কী, আমাকে ধরেই আমার শরীর থেকে দুবাটি রক্ত বার করে নিল। রক্তই তো মানুষের প্রাণ সেটা গেলে আর কী থাকে বলো।’

    এই ঘটনার সাত বছর পরে সোনার কেল্লার শুটিং করতে গিয়ে আবার এই কর্ণ ভিলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাকে প্রথমে চিনতে পারিনি, কারণ গোঁফের সেই মার্কামারা প্যাঁচটি নেই, আর শরীরও যেন আরও ভেঙে গেছে| তার কাছে জানলাম যে, শওকত আলি নাকি তার জোড়া-বাঁশি নিয়ে পাকিস্তানে চলে গেছে। এবারে এক আশ্চর্য জিনিস দেখলাম। এই এককালের ডাকাতটিও বাঁশি বাজান, আর এও এক অভিনব বাঁশি। এর রাজস্থানি নাম হল নাড়। এরও উৎপত্তি সেই খুড়ি গ্রামে। এ বাঁশি লম্বায় আড়াই হাত। বাজানোর বিশেষত্ব হচ্ছে যে, ফুঁয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজিয়ের গলাতেও সুর চলতে থাকে। বাঁশির সুর আর গলার স্বর দুটোই গুরুগম্ভীর, আর দুটো মিলে বেশ একটা গা ছম ছম করা সংগীতের সৃষ্টি হয়। এ বাঁশিও নাকি সাতারার মতোই দেশে এই একটি লোকই বাজাতে পারে, কারণ এতে দম লাগে অফুরন্ত।

    গান বাজনার কথা শেষ করে এবার, হাল্লার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসা যাক।

    দ্বিতীয় দিন তোলা হবে গানের শেষ অংশ, অর্থাৎ গুপী যেখানে গাইছে—‘আয় আয় আয়রে আয়, মণ্ডামিঠাই হাঁড়ি হাঁড়ি’—ইত্যাদি।

    গান শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে সেনাদের ঘোর কেটে যাবে, আর তারপর আকাশ থেকে নামবে মিষ্টির হাঁড়ি। এখানে বলে রাখি মিষ্টির হাঁড়ি নামার দৃশ্যে Trick photographyর প্রয়োজন হওয়াতে সেটা তোলা হয়েছিল কলকাতায়, আর তাতে নানা রকম ক্যামেরা আর ল্যাবরেটরির কারসাজি ব্যবহার করতে হয়েছিল। সে সব আর তোমাদের কাছে ভেঙে বলব না, তা হলে মজা মাটি হয়ে যাবে। হাল্লার যুদ্ধক্ষেত্রে কী হয়েছিল সেটাই বলি।

    জয়সলমিরে এমনিতে খাবার দাবার বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না, তবে যে জিনিসটার অভাব নেই সেটা হল ক্ষীরের মিষ্টি। শ’খানেক বড় বড় মাটির হাঁড়ি অর্ডার দিয়ে করিয়ে তাতে ওই ক্ষীরের মিষ্টি ভরে সেগুলো লাইন করে রাখা হয়েছিল সৈন্য যেদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সেইদিকে, উটের সামনের সারির প্রায় একশো গজ দূরে।

    ছবিতে প্রথম দেখানো হবে গানের শেষে সৈন্যরা আকাশের দিকে দেখছে, তারপর তাদের মধ্যে ‘মিঠাই, মিঠাই’ বলে সোরগোল উঠবে। তারপর তারা উটের পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে হাঁড়িগুলোর দিকে দৌড় দেবে, তারপর হাঁড়ির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গোগ্রাসে মিষ্টি গিলবে। এরই মধ্যে আবার পেটুক মন্ত্রীমশাইকেও দেখানো হবে, তিনিও একটি হাঁড়ির সন্ধান করছেন, এবং ছত্রভঙ্গ সৈন্যদের ভিড়ে পড়ে হিমসিম খাচ্ছেন।

    ব্যাপারটা যখন সৈন্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন এক আজব সমস্যা দেখা দিল। আমাদের ধারণা ছিল সব উটওয়ালাই বুঝি মুসলমান, কিন্তু এখন জানা গেল তাদের মধ্যে অনেকেই নাকি হিন্দু। হাঁড়ি থেকে মিষ্টি খেতে হবে শুনেই রব উঠল হিন্দু আর মুসলমানের হাঁড়ি আলাদা করে সাজিয়ে দিতে হবে, দুই দল এক সঙ্গে হাঁড়ি থেকে খাবে না। কেউ কেউ আবার এও বলল যে, তাদের মিঠাইয়ের রুচি নেই। এই দ্বিতীয় সমস্যা সমাধান করার অবিশ্যি কোনও উপায় নেই। মিষ্টি যারা খায়ই না তাদের দিয়ে জোর করে গোগ্রাসে মিষ্টি গেলানোর কারসাজি আমার জানা নেই। কাজেই তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হল। হিন্দুদের বলা হল, এইগুলো তোমাদের হাঁড়ি, আর মুসলমানদের বলা হল, তোমরা খাবে ওইগুলো থেকে।

    তোড়জোড় শেষ করে শট্ নিতে যাব, এমন সময় দেখি আরেক কাণ্ড। সৈন্যরা যেখান দিয়ে হাঁড়ির দিকে ছুটবে সেই খোলা জায়গার মাঝখানে হঠাৎ একটা জিপ এসে হাজির। সর্বনাশ, স্বয়ং জয়সলমিরের মহারাজ এসেছেন শুটিং দেখতে—সঙ্গে আছেন মহারানী আর সাত বছরের ফুটফুটে রাজকন্যা। রানী বসেছেন জিপের পিছন দিকে পর্দার আড়ালে, আর রাজা বসেছেন রাজকন্যাকে কোলে নিয়ে সামনে, ড্রাইভারের পাশে। বাধ্য হয়ে তাঁকে গিয়ে বলতে হল যে তামাশা দেখার জায়গাটা বাছাইয়ে তাঁরা একটু ভুল করে ফেলেছেন। গাড়ি অন্তত ত্রিশ হাত দক্ষিণে না সরালে আমরা কাজই করতে পারব না। রাজা শুনলেন, আমাদের সমস্যা বুঝলেন, এবং তৎক্ষণাৎ গাড়ি সরে গিয়ে আমাদের কাজের জায়গা খুলে দিল।

    এই সব কিছুর পরেও হঠাৎ নতুন ভাবনায় মনটা খচ্ খচ্ করে উঠল। এমনি মিষ্টি খাওয়া এক জিনিস আর অনেকদিন আধপেটা খেয়ে হঠাৎ আকাশ থেকে পড়া অফুরন্ত মিষ্টি দেখে সে মিষ্টি খাওয়া আরেক জিনিস। এখানে দিশেহারা হয়ে হাভাতের মতো খাওয়ার ভাবটা ফুটিয়ে তুলতে রীতিমতো অ্যাকটিং-এর দরকার হবে। সে অ্যাকটিং যদি এই উটওয়ালাদের দ্বারা না হয়, তাই আমাদের অভিনেতাদের মধ্যে যাদের খাইয়ে বলে নাম আছে তাদের কয়েক জনকে চটপট মেক-আপের সাহায্যে রাজস্থানি দাড়ি গোঁফ লাগিয়ে নিয়ে হাল্লার সেনার পোশাক পরিয়ে কাজে নামিয়ে দেওয়া হল।

    তোমরা ছবির এই দৃশ্যে যাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহের সঙ্গে খেতে দেখেছ, তাদের অনেকেই আসলে আমাদের লোক। তাদের মধ্যে একজন—কামু মুখার্জি (সোনার কেল্লার মন্দার বোস)—সেদিন একাই সাবাড় করে দিয়েছিল অর্ধেক হাঁড়ি মিষ্টি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকের পিঠে দুই – সত্যজিৎ রায়
    Next Article আরো বারো – সত্যজিৎ রায়

    Related Articles

    সত্যজিৎ রায়

    মানপত্র সত্যজিৎ রায় | Maanpotro Satyajit Ray

    October 12, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }