Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একেই বলে শুটিং – সত্যজিৎ রায়

    উপন্যাস সত্যজিৎ রায় এক পাতা গল্প110 Mins Read0
    ⤶

    তোমার পায়ে পড়ি বাঘ মামা

    হীরক রাজার রাজকোষে সিন্দুক বোঝাই হীরে। সেই হীরের বেশ কিছুটা বার করে আনতে হবে গুপী বাঘাকে, কারণ পেয়াদাদের ঘুষ দিতে হবে। দুষ্টু রাজাকে গদি থেকে নামানো চাই; কাজটা অনেক সোজা হয়ে যায় যদি পেয়াদাদের হাতে আনা যায়। পাঠশালার উদয়ন পণ্ডিতের ফন্দি এটা। অত্যাচারী রাজাকে শায়েস্তা করতে গুপী-বাঘা উদয়নের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

    গুপী-বাঘা রাজকোষের সামনে গিয়ে হাজির হয়। সেখানে প্রহরী টহল দিচ্ছে। গুপী-বাঘা গান গেয়ে তাকে বশ করে দড়ি দিয়ে হাত পা আর গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে, ট্যাঁক থেকে চাবি নিয়ে ঢাউস তালা খুলে তো রাজকোষে ঢোকে। তাদের ধারণা আর কোনও বাধা নেই; এবার সিন্দুক খুলে হীরে বার করলেই হল। কিন্তু সিন্দুকের তিনটে তালার তিনটে চাবি পাহারা দেবার জন্য যে বাঘমামা বসে আছেন রাজকোষের ভিতর সেটা তারা জানবে কী করে? অবিশ্যি বাঘকেও গান গেয়ে বশ করা যায়। কিন্তু গুপীর গলা যে শুকিয়ে কাঠ, গান বেরোবে কী করে?

    অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত বেরোল গান—

    ‘পায় পড়ি বাঘ মামা
    কোরো নাকো রাগ মামা
    তুমি যে এ ঘরে কে জানত?’

    বাঘমামা বশ হলেন। পরে তাঁর উপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে বাঘা রিং সমেত তিনটে চাবি নিয়ে সিন্দুক খুলে হীরে বার করে নিল।

    এই তো দৃশ্য। তোমাদের মধ্যে যারা হীরক রাজার দেশে ছবি দেখেছ তারা এই দৃশ্য পর্দায় দেখেছ। এবার সেই দৃশ্য তোলা হয়েছিল কী ভাবে সেইটে তোমাদের বলি।

    আজকাল অনেক হিন্দি ছবিতেই বাঘ সিংহের খেলা দেখা যায়। এই বাঘ সিংহের বেশির ভাগই আসে মাদ্রাজ থেকে। তোমরা জান যে আজকাল সার্কাস মানেই দক্ষিণ ভারতের সার্কাস। আমরা তাই ঠিক করেছিলাম যে বাঘের এই দৃশ্যটা মাদ্রাজের স্টুডিওর মধ্যেই তৈরি হবে। আর বাঘকেও আমরা এনে ফেলব এই স্টুডিওর ভিতরেই। দশ বছর আগে গুপী গাইন ছবিতে বাঘকে নিয়ে যেতে হয়েছিল গ্রামের বাঁশবনে। সে এক অভিজ্ঞতা, আর এবার হল সম্পূর্ণ আর এক অভিজ্ঞতা।

    প্রথমে মাদ্রাজে ভাড়া পাওয়া যায় এমন বাঘের খোঁজ করার জন্য মাদ্রাজেরই বাসিন্দা এক বাঙালি ভদ্রলোককে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এনার সিনেমা জগতের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, বাঙালিরা ওখানে শুটিং করতে গেলে তাদের নানারকম ভাবে সাহায্য করেন, এমন একটা খ্যাতিও আছে। আসল নামটা লিখলে মুশকিল হতে পারে তাই এঁকে ব-বাবু বলেই বলব। ব-বাবু জিজ্ঞেস করে পাঠালেন বাঘকে নিয়ে ঘটনাটা কী। আমরা তাঁকে জানালাম। উনি এবার অনুরোধ জানালেন বাঘের সামনে যে গানটা গাওয়া হবে সেই গানের একটা টেপ পাঠিয়ে দিতে। সেইটে বেশ কয়েকদিন ধরে বাঘকে শোনানো হবে। তাতে নাকি বাঘের সুবিধে হবে। ছবি শুরু হবার আগেই ছবির গান রেকর্ড করা হয়। আমরা একটা ক্যাসেটে ‘পায় পড়ি বাঘমামা’ গানটা রেকর্ড করে ব-বাবুকে পাঠিয়ে দিলাম।

    শুটিং-এর দিন-দশেক আগে আমাদের দলের অশোক বোস চলে গেলেন মাদ্রাজের প্রসাদ স্টুডিওর ভিতর রাজকোষ তৈরি করার জন্য।

    কাঠের কাঠামোর উপর প্লাস্টার দিয়ে সাধারণত স্টুডিওর বাড়িঘর তৈরি হয়; দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেটা নিরেট ইট পাথরের তৈরি নয়। কেবল আঙুল দিয়ে টোকা মারলে ঠক ঠকের বদলে ঢপ ঢপ শব্দ শুনলে বোঝা যায় সেটা ফাঁপা।

    যে ঘরে সিন্দুক তারই লাগোয়া একটা ঘরে থাকবে বাঘ; দুই ঘরের মাঝখানে দরজার বদলে থাকবে একটা খিলান। বাঘের মাথার উপরে দেয়ালে একটা পেরেকে ঝোলানো থাকবে চাবির রিং।

    আমরা গিয়ে পৌঁছলাম শুটিং-এর দু’ দিন আগে। মনে ভারি উৎকণ্ঠা, ক্যাসেট শোনা বাঘের চেহারাটা কি রকম সেটা জানা নেই, বেশ তাগড়াই বাঘ না হলে দৃশ্য একেবারেই জমবে না। ব-বাবু মুখে যাই বলুন না কেন, নিজের চোখে না দেখা অবধি মনে সোয়াস্তি নেই। তাই পৌঁছুবার পর দিনই সকালে ব-বাবুর সঙ্গে গিয়ে হাজির হলাম বাঘের আস্তানায়। বাঘ ছাড়াও অন্য জানোয়ার আছে এখানে। একটা ছাউনির নীচে একটি বাচ্চা হাতিকে দেখলাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনবরত আগুপিছু দুলছে। ব-বাবু এক ছড়া কলা কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন; একটার পর একটা কলা হাতির মুখে পুরে দিতে লাগলেন। বাঘ দেখতে এসে হাতি কেন? তার কারণ বাঘের ট্রেনার একটু বাইরে গেছেন, এই এলেন বলে।

    ট্রেনার আসার পরে একটা ঘরের মধ্যে খাঁচায় পোরা বাঘের চেহারা দেখানো হল আমাদের। এই বাঘই নাকি এতদিন ক্যাসেটে ‘পায় পড়ি বাঘমামা” শুনে একেবারে তৈরি হয়ে আছে।

    আবছা অন্ধকারে বাঘ দেখে মন ভরল না। ট্রেনারকে বললাম ‘ওটাকে বাইরে বার করা যায় না?’

    ‘জরুর’, বললে ট্রেনার।

    ‘তা হলে তাই করো। আমরা খোলা মাঠে বাঘটাকে দেখতে চাই।’

    ট্রেনারের খুব উৎসাহ আছে বলে মনে হল না, আর ব-বাবু যেন কেমন সিটিয়ে গেছেন। ব্যাপারটা কী?

    কারণটা বুঝতে বেশি সময় লাগল না। খাঁচা থেকে মাঠে বার করতেই বুঝলাম সে বাঘের তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে। সত্যি বলতে কি, এমন শুকনো ঘোলাটে চোখ, লোম খসে পড়া, খিট্‌খিটে বুড়ো বাঘ এক গ্রামের সার্কাসের বাইরে আমি আর দেখিনি। সে বাঘ মাঠে নেমেই ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তার বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এই বাঘ পাহারা দেবে হীরকের রাজকোষ? হতেই পারে না।

    ব-বাবুর দিকে চাইতে দেখি তিনি অপরাধী ভাব করে মুখ আমসি করে দাঁড়িয়ে আছেন। বললাম, ‘আপনি বলতে চান ম্যাড্রাসের সেরা শেখানো-পড়ানো বাঘ এটাই?’

    ব-বাবু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললেন। এই সেই বাঘ, একেই গান শোনানো হয়েছে, আর এই বাঘের ট্রেনারকেই দেওয়া হয়েছে দু’ হাজার টাকা আগাম। যেখানে একটা ফিল্মে দশ-পনেরো লাখ টাকা খরচ সেখানে দু’ হাজার টাকা বেশি কিছু নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে এত তোড়জোড় করে পুরো দল নিয়ে মাদ্রাজ আসা হয়েছে, স্টুডিওতে রাজকোষ তৈরি হয়ে পড়ে আছে, পরশু শুটিং, অথচ মনের মতো বাঘ পাওয়া গেল না। এখন হবে কী?

    আমার মনে খট্‌কা লাগছিল, কারণ হিন্দি ফিল্মে দুর্দান্ত সব বাঘ-সিংহ দেখেছি, আর জানি তারা এসেছে মাদ্রাজ থেকেই। সেই সব বাঘ-সিংহ গেল কোথায়? ব-বাবুকে প্রশ্ন করে কোনও জবাব পাওয়া গেল না। তিনি কেবল বিড় বিড় করে বলতে লাগলেন ‘এটাই বেস্ট’।

    ঘোর দুশ্চিন্তা নিয়ে হোটেলে ফিরলাম। ব-বাবুকে মিঠে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলাম যে আজ বিকেলের মধ্যে ভাল বাঘের সন্ধান চাই, না হলে তুলকালাম কাণ্ড হবে।

    বিকেলে যখন স্টুডিওতে গেলাম তখন দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে। এবার যাকে বলে একেবারে প্যানিক। বুঝলাম যে সব ভেস্তে যেতে চলেছে। আমার দৃশ্য হয় ছবি থেকে বাদ পড়ে যাবে, আর না হয়—যেটা আরও খারাপ—ওই ঘেয়ো বাঘকে নিয়েই কোনওরকমে তুলতে হবে দৃশ্যটা।

    স্টুডিওতে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব-বাবু ব্যস্তভাবে এসে হাজির। কী ব্যাপার? না, কাছাকাছির মধ্যেই এক ট্রেনারের সন্ধান পাওয়া গেছে যার কাছে খুব ভাল বাঘ আছে। কালকের শুটিং এর জন্য নাকি সে বাঘ পাওয়া যাবে।

    বেরোলাম গাড়িতে করে। ব-বাবু নির্দেশ দিচ্ছেন। মিনিট খানেক চলার পরেই বললেন, ‘এসে গেছি’।

    বাইরে থেকে দেখে বোঝবার জো নেই। রাস্তার পাশেই একটা টিনের ছাউনি দেওয়া খোলা জায়গা তার পিছনেই ট্রেনারের বাড়ি। বাড়ি পর্যন্ত যেতে হল না। গাড়ি থেকে নেমে কয়েক পা যেতেই বাঁয়ে একটা খাঁচা পড়ল। তাতে একটি চিতাবাঘ। তার পর ঘেঁষাঘেষি তিনটে খাঁচার একটায় আর একটা চিতা, একটায় সিংহ আর একটায় বাঘ।

    বাঘ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল, ধড়ে প্রাণ এল। এই ঘুপচি পরিবেশে এমন একটা রাজকীয় জানোয়ার, ঠিক যেমনটি চেয়েছিলাম তেমনটি, এ ভাবা যায় না।

    ট্রেনারটিও দেখবার মতো। নাম টাইগার গোবিন্দরাজন্‌। এখানে যত বাঘের জোগানদার আছে সকলেই তাদের নামের আগে টাইগার জুড়ে দেয়। ইনি আসলে রাজস্থানের লোক, তবে বহুদিন মাদ্রাজে প্রবাসী এবং নামটাও বদলে মাদ্রাজি করে নিয়েছেন। এক কালে সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এখন ফিল্মে জানোয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা ধরেছেন। ভদ্রলোক নিজেই বললেন যে তিনি নাকি পাঁচ বার বিয়ে করেছেন; এখন যে মহিলাটি সঙ্গে আছেন তিনি নাকি পাঁচ নম্বর স্ত্রী। দুজনেই জানোয়ার ট্রেন করেন।

    ‘আমার বাঘকে দিয়ে কী কাজ করাতে চান? জিজ্ঞেস করলেন টাইগার গোবিন্দরাজন্। বললাম, ‘খুবই সহজ ব্যাপার। একজন গান গাইবে। বাঘ একটা ঘরের কোণায় চুপচাপ বসে সে গান শুনবে।’

    গোবিন্দরাজন্ বিরসভাবে মাথা নাড়লেন—‘যে লোক জেট প্লেন চালায় তাকে যদি বলা হয় তুমি গরুর গাড়ি চালাও সে কি পারবে? আমার বাঘ লড়াকু বাঘ। বোম্বাইয়ের বড় বড় স্টারের সঙ্গে লড়েছে সে। সে চুপচাপ বসে থাকবে কী করে?’

    মহা মুশকিল। বললাম, ‘’তুমি, বাঘকে নিয়ে এসো স্টুডিওতে। তার পর দেখা যাক কী করা যায়।’

    আমাদের কথা শুনে বোধ হয় ভদ্রলোকের একটু অনুশোচনা হয়েছে। বললেন, ‘ঠিক আছে। এর জন্যে আমার ট্রেনিং-এর কোন দরকার হবে না। যা করবার আমার স্ত্রীই করবেন।’

    গুপী গাইনে যে বাঘের দৃশ্য তুলেছিলাম, তাতে গুপী বাঘার বা আমাদের বাঘের কাছে যাওয়ার কোনও দরকার হয়নি। বাঘ ছিল অন্তত বিশ-ত্রিশ হাত দূরে বাঁশবনের মধ্যে। বাঘের গলার বকলশের সঙ্গে বাঁধা ছিল মজবুত তার। আর সে তারের অপর প্রান্ত ছিল ট্রেনারের হাতে। এবারের দৃশ্যে তারের ব্যবহার অচল, কারণ ক্যামেরা থাকবে বাঘের খুব কাছে। ছবিতে তার বোঝা গেলে খুব বিশ্রী ব্যাপার হবে। তা ছাড়া এখানে বাঘাকে একেবারে বাঘের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেয়াল থেকে সিন্দুকের চাবি নিতে হবে।

    সিনেমার বাঘ ব্যবহারের যা রীতি, সেই অনুযায়ী বাঘকে শুটিং-এর আগে আফিম জাতীয় কিছু খাইয়ে খানিকটা নিস্তেজ করে নিতে হয়। আমরাও সেটা করব বলে ঠিক করেছিলাম। যদি ট্রেনারের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখা সম্ভব হত তা হলে হয়তো এটা না করলেও চলত; কিন্তু গোবিন্দরাজনের হাব ভাব ঠিক ততটা ভরসা উদ্রেক করার মতো নয়। এখানে বলে রাখি যে বাঘ নেশা করে এলেও, সে নেশা যে খুব বেশিক্ষণ টেকে না সেটা শুটিং করতে করতেই বুঝেছিলাম।

    শুটিং-এর দিন সকলের স্টুডিওতে ন’টায় হাজিরা। বাঘকে বলা হয়েছিল দশটায় আসতে। গাড়ির ওপর স্পেশাল খাঁচায় বাঘমশাই হাজির হয়ে গেলেন ঠিক টাইমমাফিক। খাঁচার তলায় চাকা লাগানো। বাঘশুদ্ধ খাঁচাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ঠেলে নিয়ে গিয়ে হাজির করা হল একেবারে রাজকোষের দরজার সামনে। তার পর বাঘমশাই খাঁচা থেকে বেরিয়ে, তাঁর যে ঘরে থাকার কথা সেই ঘরে গিয়ে হাজির হলেন। সঙ্গে ট্রেনারগিন্নি আর আর একটি তরুণ বয়সের লোক, দেখে মনে হল বাঘটার সঙ্গে মিশতে অভ্যস্ত। গোবিন্দরাজন্ নিজে প্রায় বিশ হাত দূরে একটা দশ ফুট উঁচু তড়পার উপরে চড়ে বসেছেন সেইখান থেকে খেলা দেখবেন বলে। আমাদের দলের লোকেদের সকলের মনের অবস্থা আলাদা করে বর্ণনা করা মুশকিল; সকলকেই বাইরে একটা ডোন্ট-কেয়ার ভাব রাখতে হয়েছে যেন বাঘকে নিয়ে শুটিং হচ্ছে সে আর এমন কি কথা। কিন্তু আমি নিজে বলতে পারি যে ভয় না পেলেও, এত কাছে একটা খোলা বাঘ থাকলে নাড়ির গতি আপনা থেকেই একটু দ্রুত হয়ে যায়।

    বাঘার ভূমিকায় যিনি অভিনয় করছেন সেই রবি ঘোষের জীবনে আজ একটা মার্কা মারা দিন। অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সাহসের পরীক্ষাও হতে চলেছে আজকে। তাঁকেই আজ বাঘের সবচেয়ে বেশি কাছে যেতে হবে।

    নেশাই হোক আর যাই হোক, বাঘকে এক জায়গায় চুপ করে বসিয়ে রাখা যে কী দুরূহ ব্যাপার সেটা সে দিন বুঝেছিলাম।

    প্রথমে বাঘের একার শট্‌গুলো নেবার ব্যবস্থা হল। ক্যামেরা বাঘের থেকে দশ হাত দূরে দাঁড় করিয়ে তাতে চোখ লাগিয়ে অপেক্ষা করছি; যেই বাঘ ছটফটানি বন্ধ করে আমাদের দিকে চাইছে, অমনি ক্যামেরা চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ বাঘ অনড়, ততক্ষণ ছবি উঠেছে। এই টুকরো টুকরো শট্ থেকে আবার সবচেয়ে ভাল অংশগুলো কেটে গানের ফাঁকে ফাঁকে জুড়ে দিলে পর্দায় মনে হবে বাঘমামা তন্ময় হয়ে গান শুনছেন।

    ঘণ্টা খানেক কাজের পর একটা জিনিস লক্ষ করলাম সেটা আগে কখনও দেখিনি। মাদ্রাজের গরম আবহাওয়া আর স্টুডিওর আলোর উত্তাপ মিলে রাজকোষের ভিতরটা প্রচণ্ড গরম। আমরা সকলেই ঘামছিলাম; এখন দেখলাম বাঘেরও সর্বাঙ্গে লোমের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিয়েছে। বাঘ বা অন্য কোনও জানোয়ার যে এভাবে ঘামতে পারে সেটা আগে জানা ছিল না। গোবিন্দরাজন্ এবার তড়পা থেকে নেমে এসে বললেন, ‘ওকে একটু হাওয়া খাইয়ে আনা দরকার। আপনারা কিছুক্ষণের জন্য কাজ বন্ধ করুন।’

    রাজকোষের দরজার মুখে খাঁচা-গাড়ি রাখাই ছিল। বাঘমামা গাড়ি চড়ে স্টুডিওর বাইরে বেরিয়ে গেলেন মিনিট পনেরো হাওয়া খাওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে আমরা এর পরের শট্-এর তোড়জোড় করে নিলাম।

    গোলমেলে শট্‌গুলো আগে নিয়ে নেব বলে বাঘাকে বললাম, ‘এবার তুমি তৈরি হও’। ট্রেনারকে কাজের শুরুতেই বলেছিলাম, ‘আমাদের এক জন অভিনেতাকে বাঘের খুব কাছাকাছি যেতে হবে; তাতে কোনও গোলমাল হবে না তো?’ ট্রেনার বলেছিল, ‘বাঘের নাম উমা। যিনি বাঘের কাছে যাবেন, তিনি যেন সেই সময় নামটা বলতে বলতে যান। বাঘ তা হলে ভাববে চেনা লোক আসছে, আর তা হলেই সে কোনও গণ্ডগোল করবে না।’ বাঘ যে আসলে মামা নন, মাসি, সেটা তখনই প্রথম জানতে পেরেছিলাম।

    বাঘ হাওয়া খেয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে এল। সকাল থেকেই অনেকবার ‘উমা, উমা’ বলতে বলতে বাঘের কাছে এগিয়ে গিয়ে বাঘা রীতিমতো সাহসের পরিচয় দিয়েছে। বাঘও কোনও আপত্তি করেনি। ট্রেনারের ধারণা বাঘের বাঘাকে খুব পছন্দ হয়ে গেছে। সেটা অবশ্যি সকলের পক্ষেই ভাল। শট-এর আগে বাঘা আর বার চারেক বাঘের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে তার দিকে এগিয়ে গেল। পরে বাঘা বলেছিল দিনের শেষে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার চাপে তার নাকি প্রায় জ্বর এসে গিয়েছিল, যদিও শুটিং-এর সময় সেটা মোটেই বুঝতে পারা যায়নি।

    দৃশ্যটা যাতে আরও জমে, তাই বাঘাকে দিয়ে শুধু বাঘের উপর থেকে চাবি নিতে দেখানো হয়নি; কাজটা করতে গিয়ে তাকে টাল হারিয়ে দেওয়ালের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখানো হয়েছিল। তার শরীরটা বাঘের উপর দিয়ে ধনুকের মতো বাঁকা, তার হাত যেন দেওয়ালে আটকে গেছে, সে চেষ্টাও করে নিজেকে সোজা করে পিছিয়ে আসতে পারছে না।

    এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য গুপীকে গান গাইতে গাইতে এগিয়ে গিয়ে বাঘার কোমর ধরে টেনে আনতে দেখানো হয়েছিল। এই দৃশ্যে ট্রেনার-গিন্নির ধমকানি আর অন্য ছেলেটির আপ্রাণ চেষ্টার ফলে বাঘ মোটামুটি ভদ্র ব্যবহারই করেছিল।

    গোলমালটা শুরু হল টিফিনের পর থেকে। স্টুডিওর শুটিং-এ টিফিনের ছুটি হয় একটা থেকে দুটো পর্যন্ত। এই সময়টাতে আমাদের কাজ এগিয়ে রাখলাম। বাঘ যে দেওয়ালের সামনে বসেছে, সেই প্লাস্টারের দেওয়ালের খানিকটা অংশ কেটে ফেলে একটা চতুষ্কোণ ফাঁক তৈরি করে তার পিছনে ক্যামেরা বসানো হল। এই ফাঁকের ঠিক মধ্যিখানে ছিল একটা ইঞ্চি চারেক চওড়া আড়াআড়ি কাঠের তক্তা—সেটা আসলে কাঠামোর অংশ। এই তক্তার ঠিক ওপরের ফাঁকটায় ক্যামেরার লেন্স এমন ভাবে বসানো হয়েছে যাতে শট্‌টা নিলে দেখা যাবে বাঘ বসেছে ক্যামেরার ঠিক সামনে, গুপী বাঘা দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে সিন্দুকের ঘরে।

    বাঘ বাইরে গিয়েছিল হাওয়া খেতে। আমরা তৈরি হলে পর তাকে আবার ফিরিয়ে এনে জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হল। অর্থাৎ এবার জায়গাটা হল ক্যামেরার তিন হাত সামনে। ভরসা মাঝখানের ওই কাঠের তক্তা।

    কিন্তু এবার আর বাঘ কিছুতেই বসে থাকতে চায় না। ট্রেনার-গিন্নির ধমক সত্ত্বেও বার বার উঠে পায়চারি করে, ছটফট করে। বোঝা গেল নেশা কাটতে শুরু করেছে, লড়াকু বাঘের এখন লড়াইয়ের মেজাজ এসে গেছে। অথচ আমাদের দেখাতে হবে বাঘ এখনও শুনছে, এখনও তন্ময়।

    ক্যামেরার দু’ হাত পিছনে স্টুডিওর আসল দেওয়াল। সেই সংকীর্ণ জায়গায় আমরা ঘর্মাক্ত দেহে চারজন লোক বসে আছি বাঘের কখন মর্জি হয় তার অপেক্ষায়—লেন্‌সে চোখ লাগিয়ে আমি, আমার ডান পাশে নিকন ক্যামেরা হাতে আমাদের স্টিল ফটোগ্রাফার নিমাই ঘোষ, আমার বাঁয়ে ক্যামেরাম্যান সৌমেন্দু ও আমার অন্যতম সহকারী সন্দীপ। গুপী বাঘাও রেডি হয়ে আছে। সিন্দুকের ঘরে। গানের প্লে-ব্যাক বার বার চলছে বার বার থামছে।

    এক ঘণ্টা ধস্তাধস্তির পর কী কারণে বাঘমামা কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হলেন, যে দিকে চাওয়ার দরকার সে দিকেই চাইলেন আর আমাদের শট্ও হয়ে গেল। কিন্তু শট্ হবার পরমুহূর্তে যেটা ঘটল সেটা ভাবতে এখনও ঘাম ছুটে যায়। বাঘ এতক্ষণ ক্যামেরা সম্বন্ধে উদাসীন ছিল। হঠাৎ কেন জানি এক ঝটকায় ক্যামেরার দিকে ফিরে তার ডান পা-টা তুলে মরিয়া হয়ে থাবা দিয়ে এক প্রচণ্ড চাপড় মারল সেই কাঠের তক্তাটার উপর। সে চাপড় আর ছ’ ইঞ্চি ডান দিকে পড়লেই আমাদের ক্যামেরার লেন্স ভেঙে চুরমার হয়ে যেত।

    দিনের শেষে ‘প্যাক আপ’ বলার পর ট্রেনার তাঁর বাঘকে খাঁচায় পুরে নিয়ে গেলেন। নেওয়া মাত্র শুরু হল বাঘের গগনভেদী হুংকার। একটানা পাঁচ মিনিট ধরে হুংকার দিয়ে তাঁর উপর আমাদের সারাদিনের জুলুমের ঘোর প্রতিবাদ জানিয়ে তবে বাঘমামা ক্ষান্ত হলেন।

    _____

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকের পিঠে দুই – সত্যজিৎ রায়
    Next Article আরো বারো – সত্যজিৎ রায়

    Related Articles

    সত্যজিৎ রায়

    মানপত্র সত্যজিৎ রায় | Maanpotro Satyajit Ray

    October 12, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }