Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এবং কালরাত্রি – মনোজ সেন

    মনোজ সেন এক পাতা গল্প485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংহারক সারমেয়

    উদয়গড় থানার ওসি বিজয় চৌধুরির সামনে ধুতি-পাঞ্জাবি আর গরম জহরকোট পরা একজন নিতান্ত নিরীহ দর্শন মাঝবয়সি ভদ্রলোক বসেছিলেন। অত্যন্ত সন্ত্রস্তভাবে ভদ্রলোকটি তাঁর বক্তব্য বলতে শুরু করলেন, ‘আমার নাম অরিন্দম ঘোষাল, এই কাছেই বৃন্দাবন গোস্বামী লেনের বাইশ নম্বর বাড়িতে থাকি। আমি আপনার কাছে একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি।’

    বিজয় চৌধুরি একটা মস্ত বড়ো হাই তুলে বললেন, ‘কীসের অনুরোধ?’

    ‘ইয়ে মানে, ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। তাই কীভাবে বলব, বুঝতে পারছি না।’

    ‘খুলে বলুন, তাহলেই হবে।’ বলে বিজয় চৌধুরি কানে একটা পেনসিল ঢুকিয়ে সেটা ঘোরাতে শুরু করলেন।

    ‘আজ্ঞে, হ্যাঁ, তাই বলছি। মানে, আমার অনুরোধটা ওই কুকুরটা সংক্রান্ত আর কী।’

    বিজয় চৌধুরি এবার সোজা হয়ে বসলেন। বললেন, ‘কুকুরটা? কোন কুকুরটা?’

    ‘ওই তো যেটাকে বাংলা পত্রিকা ”সংহারক সারমেয়” নাম দিয়েছে।’

    পেনসিলটা খটাস করে টেবিলের ওপর ফেলে বিজয় চৌধুরি বললেন, ‘বলেন কী? ওটাকে আপনি দেখেছেন নাকি? কোথায় দেখেছেন? কবে?’

    মাথা নেড়ে অরিন্দম বললেন, ‘না না, আমি ওটাকে কোনোদিন দেখিনি। তবে ওই কুকুরটাকে নিয়েই আমার একটা অনুরোধ আছে। আর তা হল, তার পরের শিকারকে আপনারা বাঁচান।’

    ‘তার পরের শিকার কে তা আপনি জানেন?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। তিনি হলেন নিউ ট্যাংরাবাজার রোডের পূর্বাচল অ্যাপার্টমেন্টসের সতেরো নম্বর ফ্ল্যাটের শ্রী কমলেশ্বর নন্দী।’

    ‘এঁকে আপনি চিনলেন কী করে?’

    ‘আমি এঁকে চিনি না।’

    ‘অ!’ বলে বিজয় চৌধুরি আবার পেনসিলটা তুলে নিলেন। বললেন, ‘আপনি কুকুরটাকে কোনোদিন দেখেননি, কমলেশ্বর নন্দীকে চেনেন না, অথচ কুকুরটা এবার ওই ভদ্রলোকটিকেই মারবে, সেটা আপনি জানেন। কী করে জানলেন?’

    ‘দেখুন, সেটা আমি বলতে পারব না। কারণ, বললে আপনি হাসবেন, আমার কথায় গুরুত্ব দেবেন না। তবে যে-ভাবেই হোক, আমি জানতে পেরেছি। এর আগে কুকুরটা যে তিনজনকে মারে, তাদের খবরও আমি পেয়েছিলুম। প্রথমটা পাত্তা দিইনি। দ্বিতীয়টা ভেবেছিলুম কাকতালীয় ব্যাপার। কিন্তু তৃতীয়টা যখন মিলে গেল, তখন আর ব্যাপারটা হালকাভাবে নেওয়া গেল না। তাই বিবেকের তাড়নায় আপনার কাছে ছুটে এসেছি।’

    বিজয় চৌধুরির পেনিসিল ইতিমধ্যে আবার তাঁর কানে ঢুকে গেছে। সেটা ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন, ‘তা বেশ করেছেন, অরিন্দমবাবু। আপনি বাড়ি যান। আমরা যা করবার, ঠিক করব।’ বলে আবার প্রকাণ্ড একটা হাই তুললেন।

    অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অসিতবরণ আইচের ঘরে কথা হচ্ছিল। বিজয় চৌধুরি বলছিলেন, ‘আমি তো স্যার লোকটাকে পাত্তাই দিইনি। ভেবেছিলুম আর একটা পাগল। আর না-ভেবেই বা কী করব স্যার? প্রত্যেকদিনই তো সমস্ত থানায় তিন-চারজন করে এই ‘সংহারক সারমেয়’ আর তার মালিকদের খোঁজ নিয়ে আসছে। সব ক-টা উন্মাদ। তবে, আমার কপাল ভালো যে আমার থানায় এরকম যারা আসে তাদের প্রত্যেকের নাম-ঠিকানা আর বক্তব্য আমার ডায়েরিতে লিখে রাখি। নইলে স্যার, হয়তো এই অরিন্দম ঘোষালকে আর খুঁজে পাওয়া যেত না।’

    অসিতবরণ বললেন, ‘এই অরিন্দম ঘোষাল সম্পর্কে কী খোঁজখবর পেলে?’

    বাইশ নম্বর বৃন্দাবন গোস্বামী লেনে থাকেন। স্ত্রী আর এক ছেলে নিয়ে সংসার। জন্মেছেন ঢাকায়, সেখানেই বড়ো হয়েছেন। বাইশ বছর বয়সে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাশ করে আটাত্তর সালে কলকাতায় চলে আসেন। এখন ব্যাঙ্ক অব কেরালায় চাকরি করেন। বয়েস চুয়াল্লিশ বা পঁয়তাল্লিশ। ভদ্রলোক কুকুর পোষেন না। ওঁর স্ত্রী কোনোরকম জীবজন্তুই পছন্দ করেন না। পাড়ার লোক সকলেই একবাক্যে বলেছে ভদ্রলোক অত্যন্ত ভালোমানুষ। কারুর সাতে-পাঁচে নেই। পলিটিকসে নেই। তাঁর কোনো শত্রু আছে সেরকম কোনো সম্ভাবনার কথাই কেউ ভাবতে পারে না। তবে ওঁর স্ত্রী কিন্তু একেবারে অন্যরকম। তিনি প্রচণ্ড ঝগড়াটে, অভব্য এবং রেগে গেলে মাথার ঠিক থাকে না। ভদ্রলোক নাকি প্রায় রোজই তাঁর স্ত্রী হাতে বেধড়ক মার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির মোড়ে চায়ের দোকানে গিয়ে বসে থাকেন। শুধু উনিই নন, পাড়ার আরও কয়েক জন ভদ্রলোক তাঁর হাতে মার খেয়েছেন। দু-জন মস্তানও বাদ যায়নি। এর ফলে ওঁদের ছেলেটি কেমনধারা হয়ে গিয়েছে। সে শুনলুম কারুর সঙ্গে কথা বলে না, হাসে না, প্রশ্ন করলে হাঁ-হাঁ করে গলার মধ্যে একটা শব্দ করে। যার মা-র অমন ভয়ংকর স্বভাব, সে এমন হবে না-তো কী হবে?’

    ‘তোমরা যে ইনভেস্টিগেশনে গিয়েছিলে, কীরকম সংবর্ধনা পেলে?’

    ‘আমরা স্যার, ওই বাড়িতে আর ঢুকিনি। লোকাল কমিটির চেয়ারম্যান শিবদাস দে আর ও-পাড়ার ক্লাব কল্যাণ সংঘের ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে এইসব খবর পেয়েছি। আপাতত আর তো জানবার কিছু নেই। যদি ও-বাড়িতে ঢুকতে বলেন, তাহলে কিন্তু স্যার, সার্চ-ওয়ারেন্ট নিয়ে পুরো ফোর্স নিয়ে যেতে হবে।’

    ফিক করে হেসে অসিতবরণ বললেন, ‘ঠিক আছে, তাই হবে।’ তারপর ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর সিদ্ধার্থ বাগচির দিকে ফিরে বললেন, ‘দ্যাখো সিদ্ধার্থ, আমরা যে ভাবছিলুম— যে ব্যাপারটা একটা পাগলা কুকুরের কাজ, মনে হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। এই অরিন্দম ঘোষালের কথা যদি ঠিক হয়, তাহলে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোথাও একটা যোগসূত্র আছে। সেটা বের করতে পারলে হয়তো রহস্যটা পরিষ্কার হবে।’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘যোগসূত্রের যে খোঁজ করিনি, তা নয় স্যার। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। দুটো জায়গায় মিল আছে। প্রথমত, এঁরা প্রত্যেকেই রট ওয়াইলার জাতীয় কোনো কুকুরের আক্রমণে মারা গেছেন নির্জন জায়গায় মর্নিংওয়াক করতে বেরিয়ে। আর দ্বিতীয়ত, এঁরা প্রত্যেকেই অর্থশালী প্রৌঢ়-ভদ্রলোক। ডাক্তার হরিমোহন কুণ্ডু নামজাদা হোমিয়োপ্যাথ, চেম্বার ঢাকুরিয়ায়। বিবেক বিশ্বাস কাগজের ব্যাবসা করতেন, থাকতেন এলগিন রোডে। শান্তিময় ঘোষ কনট্রাক্টর, থাকতেন বাগবাজারে। আর এই কমলেশ্বর নন্দী একটা ফ্যাব্রিকেশন শপের মালিক ছিলেন। আমরা এঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে যা জেনেছি, তাতে মনে হয় এঁরা পরস্পরকে চিনতেনই না। মিল অবশ্য আরও একটা অছে। এঁরা প্রত্যেকেই আশির দশকের গোড়ায় সপরিবারে বাংলাদেশ থেকে ভারতবর্ষে আসেন। ওখানেও ওঁরা যা করতেন, এখানে এসে সেই ব্যাবসাই শুরু করেন। প্রথমদিকে কষ্ট হয়তো হয়েছিল, পরে সকলেই দাঁড়িয়ে যান। এখন স্যার, এই মিলগুলো যে কিছু প্রমাণ তা আমার মনে হয় না।’

    ‘বাংলাদেশে এরা কি একই জায়গায় থাকতেন?’

    ‘না, স্যার। ডা. কুণ্ডু থাকতেন ঢাকায়, বিবেক বিশ্বাস যশোরে, শান্তিময় কুষ্ঠিয়ায় আর কমলেশ্বর চট্টগ্রামে।’

    ‘চমৎকার! বিজয়, তুমি একটা কাজ করো। ওই অরিন্দম ঘোষালকে আবার ভালো করে জেরা করো। দ্যাখো, কিছু বের করতে পারো কিনা। আর সে কীভাবে খবরটা পায়, সেটা বের করবার চেষ্টা করো। ভয়-টয় দেখাও, কাকুতি-মিনতি করো। যাহোক, কিছু একটা করো। আজকের কাগজগুলো আমাদের যা গালাগাল করছে, তা আর সহ্য হচ্ছে না।’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘একটা কাজ করলে হয় না স্যার? কলকাতায় যাদের রট ওয়াইলার বা ওই জাতীয় কুকুর আছে, তাদের থানায় ডেকে এনে জেরা করলে হয় না? হয়তো কিছু সূত্র বেরিয়ে পড়তে পারে।’

    ‘তোমার মাথা খারাপ হয়েছে? রট ওয়াইলার তুমি চেনো? আমি তো চিনি না। ওই কর্ম করতে গেলে তোমার লোকেরা কলকাতা সুদ্ধু নেড়ী থেকে গ্রেট ডেন সবার মালিকদের থানায় টেনে আনবে আর আবার একটা হুলুস্থুল পড়ে যাবে। তা ছাড়া, কুকুরটা যে রট ওয়াইলার সেটা তো কাউকে জানানো হয়নি। সে-কথাটা প্রকাশ হয়ে পড়লে তার মালিকটি সাবধান হয়ে যাবে না? ওভাবে হবে না।’

    ‘তাহলে কীভাবে এগোব স্যার? আর কিছুদিনের মধ্যেই কিন্তু কলকাতা সুদ্ধু লোক খেপে যাবে। কেউ বেলা আটটার আগে বাড়ি থেকে বেরুচ্ছে না। কাগজ আসছে দশটায়, দুধ আসছে তারও পরে। মর্নিংওয়াকাররা নুনওয়াকার হয়ে রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এমনভাবে আর বেশিদিন চলবে না স্যার। যা করার খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে।’

    ‘এক কাজ করো। তুমি যে চারজন মারা গেছেন তাঁদের বাড়িতে যাও, তাঁদের যাবতীয় কাগজপত্র ভালো করে ঘেঁটে দ্যাখো, এঁদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল কি না। তবে কাজটা সাবধানে কোরো, তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের মনে যেন কোনোরকম আঘাত না-লাগে। আর বিজয়, তোমাকে যেরকম বললুম, সেইরকম করো। ওই অরিন্দম ঘোষালকে বাজিয়ে দ্যাখো।’

    বিজয় চৌধুরি বললেন, ‘আপনাকে এত সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছে কেন অরিন্দমবাবু? আপনি কি ভাবছেন যে আমি আপনাকে হাজতে ঢোকাব বলে ডেকে পাঠিয়েছি? একেবারেই তা নয়। আমি শুধু একটা অনুরোধ করব আপনাকে। ওই রহস্যময় খুনে কুকুরটার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের একমাত্র সূত্র আপনি। কাজেই, জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আপনাকে অনুরোধ করছি যে অসম্ভব না-হলে প্রত্যেকদিন একবার করে এসে যদি আমার সঙ্গে দেখা করে যান তো বড়ো ভালো হয়। সকাল, বিকেল বা দুপুর— যখন আপনার সুবিধে।’

    অরিন্দম বিমর্ষ মুখে বললেন, ‘রোজ হাজিরা দিতে হবে?’

    ‘আহা-হা, হাজিরা কেন বলছেন? সে তো দেবে ক্রিমিন্যালরা। আপনি তো তা নন। আপনি তো আমাদের সাহায্যই করতে চান, তাই না? আচ্ছা, অরিন্দমবাবু, আপনি তো এই হত্যাকাণ্ডগুলোর খবর কী করে পান সেটা বলবেন না। বেশ, না-ই বললেন। কিন্তু এই খুনে কুকুরটা কী জাতীয় কুকুর তা কি আপনার জানা আছে?’

    ‘আছে। রট ওয়াইলার।’

    বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো সোজা হয়ে বসলেন বিজয়। বললেন, ‘কী করে জানলেন? রট ওয়াইলার আপনি চেনেন?’

    ‘চিনি। আমার ছোটোমামার একটা ওই কুকুর ছিল। তার ভয়ে আমাদের তাঁর বাড়িতে যাওয়াই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’

    ‘কোথায় থাকেন আপনার ছোটোমামা? কী করেন?’ উত্তেজিতভাবে প্রশ্ন করলেন বিজয়।

    ‘ঢাকার কাছে টঙ্গি বলে একটা শহর আছে। সেখানে থাকতেন। কলেজে পড়াতেন। সাতাত্তর সালে মারা যান।’

    ‘মারা গেছেন?’ বিজয়ের গলাটা একটু হতাশই শোনাল। ‘তাঁর কুকুরটা কোথায়?’

    ‘জানি না। শুনেছি, ছোটোমামা মারা যাওয়ার পর তার আর হদিশ পাওয়া যায়নি।’

    ‘আপনার মামাবাড়ির অন্যান্য আত্মীয়রা কোথায় থাকেন? মানে কলকাতার কাছে-পিঠে কেউ থাকেন কি?’

    ‘অনেকেই থাকেন। বড়োমামা থাকেন গড়িয়ায়, মেজোমামা ভবানীপুরে। আমার দিদিমা মেজোমামার সঙ্গে থাকেন।’

    ‘আপনার ছোটোমামা তাহলে বেশ অল্প বয়সেই মারা যান, তাই না? কী হয়েছিল?’

    ভাবলেশহীন গলায় অরিন্দম বললেন, ‘খুন হয়েছিলেন। ওঁর বাড়ির সামনে ওঁকে গুলি করে মেরেছিল কেউ। ঢাকা পুলিশ তদন্ত বেশি করেনি। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ব্যাপার বলে ফাইল ক্লোজ করে দিয়েছিল।’

    ‘বলেন কী? আপনার মামাদের ঠিকানাগুলো আমাকে দিতে পারেন?’

    ‘হ্যাঁ, পারি।’ বলে অরিন্দম একটা কাগজ টেনে নিলেন।

    অসিতবরণ বললেন, ‘বিজয়ের রিপোর্টটা পড়েছ সিদ্ধার্থ? কোথায় যেন একটা ক্ষীণ আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে, তাই না?’

    সিদ্ধার্থ ব্যাজার মুখে বললেন, ‘কী জানি স্যার। আমি তো কোনো আলোই দেখতে পাচ্ছি না। আজ থেকে তেইশ বছর আগে টঙ্গিতে প্রফেসর কৃষ্ণদেব চক্রবর্তীর একটা রট ওয়াইলার কুকুর ছিল, আর তার তেইশ বছর বাদে কলকাতায় চারজন লোক ওই জাতীয় কুকুরের আক্রমণে বীভৎসভাবে মারা গেছেন। টঙ্গির কুকুরটা নিরুদ্দেশই হোক আর যাই হোক, এত বছর বাদে কলকাতায় এসে এই খুন-খারাপি শুরু করবে, এ কখনোই হতে পারে না। একটা রট ওয়াইলার বারো বছরের বেশি বাঁচতেই পারে না।’

    ‘এমন তো হতে পারে যে, কৃষ্ণদেব দাঙ্গায় মারা যাননি। এই চারজনে তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মেরেছিল। এখন কেউ তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। রট ওয়াইলার দিয়ে খুন করিয়ে ব্যাপারটা বেশ নাটকীয় করা হচ্ছে।’

    ‘এটাও স্যার, খুব জোরালো অনুমান হচ্ছে না। প্রথমত, এত বছর বাদে কেন? দ্বিতীয়ত, এই চারজনের মধ্যে কিন্তু কোনোরকম যোগাযোগের খবর আমরা পাইনি। আর স্যার, নাটকীয়তার একটা সীমা আছে। রট ওয়াইলার ভয়ংকর খুনে কুকুর তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাকে নাটকীয়তার জন্য শিখিয়ে পড়িয়ে কেউ চার-চারটে লোককে মারবে— এটা যেন কেমন ঠিক হচ্ছে না বলে মনে হয়।’

    অসিতবরণ চিন্তিতভাবে কী বলতে যাচ্ছিলেন, তার আগেই ভয়ানক উত্তেজিত বিজয় চৌধুরি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন। বললেন, ‘কুকুরটার পরের শিকারের নাম জেনেছি স্যার। আজ সকালে অরিন্দম ঘোষাল এসেছিলেন। বললেন, সংহারক সারমেয় এবার যাকে মারবে তিনি শোভারাম মল্লিক লেনের সনাতন হালদার।’

    অসিতবরণ বিস্ফারিত চোখে বললেন, ‘বলো কী? সনাতন হালদার মানে আমাদের হায়না হালদার? শোভারাম মল্লিক লেন যখন তখন হায়নাই বটে। ইস! ব্যাটাচ্ছেলে আমাদের কী-জ্বালান জ্বালিয়েছে! আগে যখন স্মাগলিং আর জাল নোটের ব্যাবসা করত তখন ছিল একরকম। ইদানীং পলিটিশিয়ান হয়ে একেবারে সাপের পাঁচ পা দেখেছে।’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘যা বলেছেন স্যার! ওই হায়না হালদার আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা সকলেই একেবারে নরকের জীব। সংহারক সারমেয় যদি হায়নাকে মারে তাহলে অন্তত আমার মনে কোনো দুঃখ থাকবে না।’

    ‘অত রেগে যেও না সিদ্ধার্থ। হায়নাকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। সেটা অন্য কারুর ওপর ছেড়ে দিলে তো চলবে না। তুমি আজ থেকেই চারজন দায়িত্বশীল অফিসারকে হায়নার ওপরে সর্বত্র আর সর্বক্ষণ নজর রাখার কাজে লাগিয়ে দাও। তবে, হায়না যেন কিছু জানতে না-পারে। যে বা যা-কিছু হায়নাকে আক্রমণ করবে, তাকে যেন যেন-তেন-প্রকারেণ আটকে ফেলা হয়।’

    ‘ঠিক আছে স্যার। তা আপনি যখন বলছেন তখন লোক লাগিয়ে দিচ্ছি। তবে, এর কিন্তু কোনো দরকার ছিল না স্যার।’

    ‘কেন? দরকার নেই কেন?’

    ‘আগে তো হায়না দু-জন বডিগার্ড নিয়ে ঘুরত, ইদানীং ঘুরছে ছ-জনকে নিয়ে। সে যেখানেই যায়, তার গাড়ির পেছনে একটা সুমো যায়। এই বডিগার্ডরা তাকে সবসময় ঘিরে থাকে, এমনকী সে যখন কোনো জনসভায় বক্তৃতা দেয় তখনও। সেদিন টিভি-তেও তাই দেখাল। আমরা নিজেদের মধ্যে এ ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনাও করেছি।’

    ‘তার মানে, সে তার বিপদটা আঁচ করেছে। কী করে করল? তবে কি এই অরিন্দম ঘোষাল তাকে জানিয়েছে? নাঃ, এই ঘোষাল লোকটাকে আমার সুবিধের বলে মনে হচ্ছে না, বিজয়। যতই শান্তশিষ্ট দেখাক, লোকটা কিন্তু ঘোড়েল আছে। সে সবকথা আমাদের বলছে না। কিছু চেপে যাচ্ছে। এবার তুমি ওকে থানায় এনে একটু কড়কাও তো।’

    বিজয় বললেন, ‘একটা কথা বলব স্যার? আমি বরং এখুনি গিয়ে অরিন্দমের ছেলেটাকে ধরে লক-আপে ঢুকিয়ে দি। সে উদয়গড় কলেজে পড়ে, ফার্স্ট ইয়ারে। সে যখন কলেজ থেকে ফিরবে তখন রাস্তা থেকে তাকে তুলে নেব।’

    ‘অরিন্দমের ছেলেটাকে লক-আপে ঢোকাবে কেন? সে আবার কী করল?’

    ‘আমার ধারণা যে, ব্যাপারটা স্বাভাবিক নয় স্যার। আপনি তো অক্ষয়, মানে এই ছেলেটিকে দেখেননি, আমি দেখেছি। আপনি দেখলেই বুঝতে পারতেন যে তার মধ্যে একটা জটিল গণ্ডোগোল আছে। কেমন যেন ভূতুড়ে ছেলেটা। গায়ের রং ঘোর কালো, মুখে অবিন্যস্ত দাড়িগোঁফ, দাঁতগুলো বড়ো বড়ো আর ছুঁচোলো, চোখ দুটো লাল। কোনো কথাই প্রায় বলে না ছেলেটা।’

    ‘গায়ের রং আর দাড়ি গোঁফের জন্য তুমি অক্ষয়কে লক-আপে ঢোকাতে চাও? কী ভাবছ বলো তো তুমি? এই অক্ষয় ছেলেটি চারজনকে কামড়ে খুন করেছে আর আমাদের ফরেন্সিক এক্সপার্টরা সেটা রট ওয়াইলারের কাণ্ড বলে সনাক্ত করেছেন?’

    ‘সেটাও হতে পারে স্যার। তবে আমার ধারণা ঘটনাটা অলৌকিক। আমার বিশ্বাস অক্ষয় কুকুরে রূপান্তরিত হয়, অনেকটা ওয়্যারউল্ফের মতো।’

    ‘অলৌকিক! তুমি না পুলিশ? তুমি এসবে বিশ্বাস করো? আরে, অলৌকিক উপায়ে যদি খুনখারাপি করা যেত তাহলে লোকে পুলিশ না-ডেকে ওঝা ডাকত, বুঝেছ? এইরকম গেঁয়ো কুসংস্কার মন থেকে বের করে দাও তো।’

    পরদিন সকাল থেকে কলকাতায় হুলুস্থুল পড়ে গেল। দলেদলে সাংবাদিক, ফোটোগ্রাফার আর টিভি ক্যামেরাম্যান অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের ঘরে ঢুকে প্রচণ্ড চেঁচামেচি জুড়ে দিল। সবাই একসঙ্গে কথা বলছে। কে কার কথা শোনে তার ঠিক নেই।

    অসিতবরণ কিন্তু মাথা ঠান্ডা করে রইলেন। ধৈর্য ধরে সবার কথা শুনে, উত্তর দিতে শুরু করলেন। গত কাল সন্ধ্যায় জননেতা সনাতন হালদার ফকিরহাটে একটি জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কলকাতা ফিরতে ওঁর রাত এগারোটা হয়ে যায়। ওঁর সঙ্গে ছ-জন বডিগার্ড ছিল। শোভারাম মল্লিক লেনে ওঁরা যখন পৌঁছল তখন রাত সাড়ে এগারোটা। তখন লোডশেডিং চলছিল আর এই জানুয়ারি মাসে যেরকম কুয়াশা হয় সেইরকমই ছিল। সনাতনবাবু গলির মুখে গাড়ি থেকে নামামাত্র কুয়াশার ভেতর থেকে কালো র‌্যাপার মুড়ি দেওয়া কিছু একটা বেরিয়ে এসে ওঁকে আক্রমণ করে। ব্যাপারটা এতই অতর্কিতে ঘটে যায় যে ওই বডিগার্ডরা বাধা দেওয়ারও সময় পায়নি। প্রথমদিকে তারা গুলিও চালাতে পারেনি পাছে সেই গুলি সনাতনবাবুর গায়ে লাগে এই ভয়ে। পরে কোনোরকমে আততায়ীকে ছাড়িয়ে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। সেটা পালিয়ে যায়। এই আততায়ী কে বা কী তা নিয়ে বডিগার্ডদের মধ্যে মতভেদ আছে। যারা খুব কাছে ছিল তারা বলছে সেটা নেকড়ে জাতীয় কোনো জানোয়ার আর যারা একটু দূরে ছিল তারা বলছে আক্রমণকারী ছিল মানুষ। আমাদের ধারণা প্রথম মতটিই ঠিক। সনাতনবাবুর গলায় যে দাগ তা কোনো জানোয়ারের দাঁতের বলেই মনে হয়।

    যাই হোক আমাদের দু-জন অফিসার হঠাৎই ওখানে গিয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা সনাতনবাবুকে নিয়ে সঙ্গেসঙ্গে হাসপাতালে চলে যান। ডাক্তারদের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। যেতও না, কারণ গলাটা একেবারে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আজ ভোররাতে এই মহান সমাজসেবীর জীবনাবসান ঘটে।

    এই ঘটনাগুলো থেকে মাইল দুয়েক দূরে প্রাণকৃষ্ণ সরকার রোডের ওপরে একজন অজ্ঞাত পরিচয় মধ্যবয়স্কা মহিলার গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে এখনও কেউ সনাক্ত করেনি। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক আছে, তা আমাদের মনে হয় না। যাহোক, আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চিত যে এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না। কারণ সনাতন হালদারকে যে আক্রমণ করেছিল, সে মানুষই হোক বা জানোয়ারই হোক, আটটা গুলি খেয়ে সে বেঁচে থাকতে পারে না।

    অসিতবরণের ঘরে তিনি ছাড়া আর ছিলেন বিজয় চৌধুরি, সিদ্ধার্থ বাগচি আর অরিন্দম ঘোষাল। ঘরের বাইরে লাল আলো জ্বলছিল। অসিতবরণ বলছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখিত অরিন্দমবাবু যে আপনার স্ত্রীর মৃতদেহ বেওয়ারিশ বলে আমাদের দাহ করতে হল। তবে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এবং ব্যাপারটা নিয়ে আর কোনো গোলমাল যাতে না-হয়, যার মধ্যে নিরপরাধ হলেও আপনাকে জড়িয়ে পড়তেই হত, আমরা এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছি। আশা করি, আপনি আমাদের অবস্থাটা বুঝতে পারবেন এবং আমাদের ক্ষমা করবেন। নিতান্ত নিরুপায় হয়েই…’

    অরিন্দম বাধা দিয়ে বললেন, ‘আপনারা যা করেছেন ঠিকই করেছেন। সত্যি এ ছাড়া আর উপায় ছিল না। আমি সবাইকে বলেছি উনি বদ্রীনাথে ওঁর গুরুর আশ্রমে চলে গিয়েছেন। সম্ভবত সন্ন্যাস নেবেন। তাই শুনে সবাই এতই স্বস্তি পেয়েছেন যে, আর কেউ কোনোরকম প্রশ্নই করেননি।’

    ‘এইবার ব্যাপারটা আমাদের একটু খুলে বলবেন?’

    ‘কী আর বলব? অবিশ্বাস্য ব্যাপার! আমি তো নিজেই ভালো করে সব ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারিনি। তাহলেও বলছি শুনুন।’ বলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অরিন্দম শুরু করলেন— ‘প্রথমেই বলি আমার ছোটোমামার কথা। উনি লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন বটে কিন্তু তাঁর স্বভাবচরিত্র ভালো ছিল না। তাঁর একটা স্বাভাবিক অপরাধপ্রবণতা ছিল। সেজন্য আমার দাদু তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন। আমার মামাবাড়ি ছিল ঢাকায়। ছোটোমামা টঙ্গিতে চলে গেলে সবাই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল। টঙ্গিতে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ছোটোমামা একটা স্মাগলিং-এর চক্রের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। আজ বুঝতে পারছি যে-পাঁচজন মারা গেছেন, তাঁরাই এই চক্রটা চালাতেন। সারা বাংলাদেশে এদের জাল ছড়ানো ছিল। এঁরাই কোনো কারণে ছোটোমামাকে খুন করেছিল।’

    অসিতবরণ বললেন, ‘আপনার অনুমান ঠিক। হায়না তার মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে সেই কথাই বলে গেছে। এদের নিজের নিজের ব্যাবসার আড়ালে এরা এই কাজ চালাত। আপনার ছোটোমামা কৃষ্ণদেব চক্রবর্তী এদের একটা বিরাট অঙ্কের টাকা সরিয়ে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার সব ব্যবস্থা প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন। শেষমুহূর্তে ধরা পড়ে যান আর চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়ে খুন হন। ওরা আপনার ছোটোমামা আর কুকুরটাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর আর নৃশংসভাবে মেরেছিল।’

    ‘তাই হবে। তবে ছোটোমামা মারা যাওয়ায় আমার মা খুব ভয় পেয়ে যান আর আমাকে প্রায় ঠেলে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।

    এই ঘটনার প্রায় পঁচিশ বছর বাদে এই কয়েক মাস আগে আমার একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল। কালীপুজোর তিন-চারদিন আগে রাত তিনটে নাগাদ লোডশেডিং-এ গুমোট সহ্য করতে না-পেরে বাড়ির সামনে রোয়াকে বসে আছি। হঠাৎ দেখি সামনে ছোটোমামা দাঁড়িয়ে আর তাঁর পাশে গলায় চেন-বাঁধা একটা ভয়ংকর দর্শন কালো কুকুর। আমি প্রথমটা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলুম কারণ দৃশ্যটা যে অনৈসর্গিক তাতে সন্দেহের তো কোনো অবকাশ ছিল না। তার ওপর দেখলুম ছোটোমামা আর তাঁর কাকুরটার চারপাশে একটা অপার্থিব অস্পষ্ট আলোর বলয়। অনেক কষ্টে নিজেকে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচালুম।

    ছোটোমামা বললেন, ”ভয় পাস না, মৈন্টা।” মৈন্টা বা মন্টু আমার ডাকনাম। তারপর বললেন যে, একটা বিশেষ ব্যাপারে তাঁকে আমার কাছে আসতে হয়েছে। ব্যাপারটা কী? না তিনি শত্রু নিধন করতে চান। সেই কাজের জন্য একজন দেহধারীর দরকার। গত পঁচিশ বছর যাবৎ তিনি একজন উপযুক্ত লোক খুঁজে বেরিয়েছেন, কিন্তু পাননি। এদিকে তাঁর শত্রুদের বয়েস বেড়ে যাচ্ছে। ষাট-সত্তর পেরিয়ে এমনিতেই মারা যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। তাহলে, প্রতিশোধ এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়ে ফেলতে হয়। সেজন্য, খুব একটা পছন্দ না-হলেও তিনি আমার পরিবারকেই বেছে নিয়েছেন।

    ততক্ষণে আমার ভয় কিছুটা কেটেছে। বললুম, ”ওসব প্রতিশোধ-টতিশোধ আমি নিতে পারব না।”

    ছোটোমামা বললেন, ”তা আমি জানি। তুমি একটা বিশ্বন্যাকা আর তোমার ছেলেটা একটা আস্ত গবেট। এ-কাজ আমি করাব তোমার পরিবার, মানে তোমার স্ত্রীকে দিয়ে। তুমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা কোরো না। কোনো লাভ হবে না। তোমাকে কথাটা জানালুম এইজন্য যে এখন তোমার বাড়িতে কিছু ঘটনা ঘটবে যা দেখলে তোমার দাঁতকপাটি লাগতে পারে, হার্টফেল হওয়াও অসম্ভব নয়। শত হলেও তুমি আমার ভাগনে, তোমার এই ধরনের কোনোরকম ক্ষতি তো আমি চাই না। শুধু তোমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্যেই আমি এসেছি।”

    আমি পরে ভেবে দেখেছি, মালতী মানে আমার স্ত্রীকে এই কাজের জন্য আন্দাজে বা ঝোঁকের মাথায় নির্বাচিত করা হয়নি। মালতীর মধ্যে স্পষ্টতই দুটো আলাদা ব্যক্তিত্ব ছিল। একটা ব্যক্তিত্ব ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক কিন্তু অন্যটা ছিল ভীতিজনক। রেগে গেলে তার রূপটাই পালটে যেত। তার ভেতর থেকে তখন একটা আদিম জান্তব ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসত। তার সেই চেহারা শুধু আমি নয়, আমাদের পাড়ার অনেকেই দেখেছে এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহ নেই যে ছোটোমামা তার চরিত্রের এই পাশবিক অংশটিকেই কাজে লাগিয়েছিলেন।

    আপনারা হয়তো প্রশ্ন করবেন যে, মালতীকে সাইক্যায়াট্রিস্ট দেখানো হয়েছিল কি না। হয়নি। তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রস্তাব তোলবার সাহসই হয়নি আমার। শেষ পর্যন্ত বারাসতে ওদের বাপের বাড়ির গুরুদেব স্বামী সীতানাথানন্দের কাছে নিয়ে যেতে শুরু করেছিলুম। তাতে লাভ বিশেষ হয়নি। আমার কেবল ভয় হত যে স্বয়ং গুরুদেবই না কোনোদিন মারধোর বা আচড়-কামড় খেয়ে বসেন।

    এরপর সত্যিই আমাদের সংসারে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। একদিন গভীর রাত্রে ঘুম ভেঙে শুনি মালতী ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কী বলছে। কান পেতে শুনলুম কোনো এক ঘোষের নাম বলছে বার বার আর সেইসঙ্গে নয়নকৃষ্ণ সাহা লেনের একটা ঠিকানা। আমি পাত্তা না-দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। দু-দিন পরে কাগজে যখন শান্তিময় ঘোষের মৃত্যুসংবাদ পড়লুম তখন তাঁর ঠিকানাটা কেমন চেনা চেনা লাগল। মনের মধ্যে কেমন একটা ধন্দ লেগে গেল। এর কিছুদিন বাদে আবার সেই ব্যাপার, এবার শুনি মালতী কোনো এক হরিমোহন কুণ্ডুর নাম আওড়াচ্ছে আর সেইসঙ্গে শরৎ ঘোষ গার্ডেন রোডের একটা ঠিকানা। আমি নাম-ঠিকানাটা মনে করে রাখলুম। দু-দিন পরে কাগজে সংহারক সারমেয়র ঘটনা পড়ে দেখলুম, তার শিকারের নাম-ঠিকানা আর আমার মনে করে রাখা নাম-ঠিকানা এক। কী করে হল? এটা বুঝলুম যে এর পেছনে ছোটোমামার কারসাজি রয়েছে, কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে কী করে? তৃতীয়বার যখন মালতী কোনো এক বিশ্বাস আর এলগিন রোডের ঠিকানা আওড়াল, আমি তার পরদিন থেকে রাত জাগার সিদ্ধান্ত নিলুম।

    এর দু-দিন পরে, মশায়, যা ঘটল তাতে তো সত্যি-সত্যি আমার হার্টফেল হওয়ার অবস্থা! শেষরাত্রে প্রায় তিনটে নাগাদ হঠাৎ মালতী খাটের ওপর উঠে বসল। আমাদের শোওয়ার ঘরটা নিশ্ছিদ্র নয়। রাস্তা থেকে এসে পড়া আলোয় আমি সব দেখতে পাচ্ছিলুম। বললে বিশ্বাস করবেন না, আমার চোখের সামনে মালতীর মুখটা বড়ো বড়ো কালো লোমে ভরে গেল, ওর এমনিতে ছুঁচোলো মুখ আরও ছুঁচোলো হয়ে লম্বা হয়ে গেল, দাঁতগুলো বড়ো বড়ো হয়ে গেল আর তার চোখে সে-এক কী ভয়ংকর জিঘাংসা! সে কিছুটা হামাগুড়ি দিয়ে কিছুটা হেঁচড়ে খাট থেকে নেমে কেমন একটা অদ্ভুত ভঙ্গিতে দুলতে-দুলতে গিয়ে দরজা খুলে বিদ্যুদ্বেগে বেরিয়ে গেল। আমি অজ্ঞান হয়ে ধপাস করে খাটের ওপর পড়ে গেলুম। পরদিন সকাল সাতটায় যখন জ্ঞান ফিরল, দেখি মালতী নির্বিকার মুখে ঘরের কাজকর্ম করছে।’

    এইখানে বিজয় চৌধুরি বললেন, ‘আমি তো এইরকমই সন্দেহ করেছিলুম স্যার। আপনি বললেন, গেঁয়ো কুসংস্কার।’

    অসিতবরণ চোখ পাকিয়ে বললেন, ‘চোপ!’ তারপর অরিন্দমকে বললেন, ‘তারপর? বলে যান।’

    অরিন্দম মাথা নেড়ে বললেন, ‘আর বলবার কিছু নেই। চতুর্থ ব্যাক্তির নাম শুনেই আমি থানায় চলে যাই। এর পরের ঘটনা আপনারা সবাই জানেন।’

    ‘হুঁ, তা জানি। আচ্ছা, অরিন্দমবাবু, এ-কথাগুলো আপনি গোড়াতেই পুলিশকে বলেননি কেন?’

    ‘কী করে বলি? আপনারা কি আমার কথা বিশ্বাস করতেন? উলটে আমাকেই পাগলাগারদে পাঠিয়ে দিতেন।’

    ‘তা তো না-ও হতে পারত। অন্তত পুলিশ আপনার বাড়ির চারদিকে পাহারা বসাতে পারত। আপনার বাড়ি থেকে সকলের ঢোকা-বেরুনো মনিটর করতে পারত।’

    অরিন্দম চুপ করে রইলেন। অসিতবরণ বলে চললেন, ‘আপনি জানতেন যে আপনি যাদের নাম করেছেন, পুলিশ তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করবে আর মানুষই হোক বা কুকুরই হোক, যে তাদের আক্রমণ করবে তাকে তারা গুলি করে মারবে। আপনি নিখরচায় বেঁচে যাবেন। আমি এদের সেই কথাই বলেছিলুম যে আপনাকে দেখতে যতটা বোকাসোকা মনে হয়, আপনি মোটেই তা নন। সুযোগের সদব্যবহার করতে আপনি আপনার ছোটোমামার চেয়ে কিছু কম যান না।’

    সিদ্ধার্থ বাগচি নীচু গলায় বললেন, ‘নরানাং মাতুলক্রমঃ’।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালসন্ধ্যা – মনোজ সেন
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মনোজ সেন

    কালসন্ধ্যা – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    ৫x৫ = পঁচিশ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ১ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }