Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এবং কালরাত্রি – মনোজ সেন

    মনোজ সেন এক পাতা গল্প485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাসুদেবের নতুন বাসা

    সন্ধের ম্লান আলোয় মুগ্ধ চোখে বাড়িটা দেখছিলেন বাসুদেব সরকার। ঠিক এইরকমই একটা বাড়ি খুঁজছিলেন কিছু দিন ধরে। শ্যাওড়াফুলি থেকে যে রাস্তাটা চন্দননগরের দিকে গেছে, তার মাঝামাঝি একটা সরু রাস্তা বেরিয়ে দু-পাশে কলাবাগানের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে কয়েকটা গ্রাম ঘুরে দিয়াড়ার দিকে চলে গেছে। তারই ওপরে একটা গ্রাম গোবিন্দনগর। তার একপ্রান্তে পেছন দিকে চারদিকে ধান খেতের মধ্যিখানে বাড়িটা অসহায় নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    বাড়িটার বয়েস এক-শো বছর তো হবেই আর কতদিন যে পরিত্যক্ত তা বোধ হয় কেউ জানে না। একটা মস্ত চৌকো উঠোনের চারদিক ঘিরে প্রকাণ্ড দোতলা ইমারত। বাইরের পলেস্তারা কবেই খসে পড়ে গেছে, জানলাগুলোর চিহ্নমাত্র নেই, উঠোন ভরতি বড়ো বড়ো ঘাস, উঠোনের মাঝখানে শ্বেতপাথরের স্নানরতা নগ্ন ভেনাসের মূর্তি, তবে তাঁর আর সংকোচের কোনো কারণ আপাতত নেই; কারণ বুনো লতায় তাঁকে প্রায় আগাপাস্তলা ঢেকে ফেলেছে। ভেতরে ঢোকার উঁচু খিলেন করা দেউড়ির দরজা অদৃশ্য আর তার চুড়োয় রাখা গোটাতিনেক পরির সকলেই আজ ধরাশায়ী।

    খুবই পুলকিত চিত্তে এক হাতে বেহালার বাক্স আর অন্য হাতে একটা বড়ো সুটকেশ নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন বাসুদেব। ভেবেছিলেন, হিংস্র আর পরশ্রীকাতর প্রতিবেশীদের অসভ্যতা আর চারদিকের টেলি-ভীষণের সশব্দ অত্যাচারে তাঁর শিল্পসাধনায় তিনি বোধ হয় আর কোনদিনই সফল হতে পারবেন না। এইবার এইখানে তিনি মুক্ত, তাঁর সাধনায় কেউ বাধা দিতে আসবে না। স্টেশনে শুনে এসেছেন যে, লোকে এই বাড়িটাকে রাজবাড়ি বলে আর সন্ধের পর ভয়ে কোনো লোক এর ধারেকাছে আসে না। শুনে যে কী খুশি হয়েছিলেন! সারাদিন ঘুমোবেন, সন্ধের পরেই শুরু করবেন তাঁর সাধনা। সেটাই তো প্রকৃষ্ট সময়।

    বাসুদেব একজন শিল্পী। এতদিন মগ্ন ছিলেন ছবি আঁকা নিয়ে, যদিও এজন্য তাঁর পরিবারের লোক আর গর্দভ সমালোচকদের নানারকম কটুকথা তাঁকে শুনতে হয়েছে। তিনি অবশ্য তাতে মোটেই বিচলিত হননি। আর্টের ব্যাপারে এদের যা জ্ঞানগম্যি তাতে এর চেয়ে অন্যরকম কিছু তিনি আশাও করেননি। কিন্তু ঘটনাটা গুরুতর হয়ে উঠল যখন তিনি বেহালা বাজানো শুরু করলেন। এবার তাঁর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে প্রতিবেশীরাও যোগ দিল। রীতিমতো অত্যাচার শুরু হয়ে গেল। তাঁর চিলেকোঠার ঘরে রাত্রি বেলা যেই তিনি বেহালায় ছড় টানতেন, অমনি জানালার ওপর ঠকাস ঠকাস করে ঢিল পড়তে শুরু করত। দু-একটা ভেতরেও যে চলে আসত না তা নয়। ভীমের সঙ্গে হনুমানের মোলাকাতের একটা অসাধারণ বিমূর্ত ছবি এঁকেছিলেন, সেটা তো ছিঁড়েই গেল। আর সেইসঙ্গে নীচের তলা আর চারপাশ থেকে গালাগালির ঝড়। এহেন অসহ্য অবস্থায় সাধনা করা কি কারুর পক্ষে সম্ভব?

    এখন আর ভয় নেই। এখানে কেউ তাঁকে বিরক্ত করতে আসবে না। এই নীরব শান্ত নিষ্কলুষ নির্জনতায় তিনি নিশ্চিন্তে তাঁর সাধনা চালিয়ে যেতে পারবেন।

    এইবার বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখতে শুরু করলেন বাসুদেব।

    একতলার ঘরগুলো বাস করার পক্ষে যথেষ্ট উপযুক্ত বলে মনে হল না। মেঝে ফাটিয়ে ঘাস গজিয়েছে, জানালা দিয়ে ঢুকে এসেছে জংলি লতা। একটা ঘরই কিছুটা পরিষ্কার আছে, বোধ হয় বছর দশেক আগে এখানে কিছু অসামাজিক লোক আশ্রয় নিয়েছিল। আজও মাকড়শার ঝুলে ঢাকা একটা তোলা উনুন আর একটা কুঁজো তাদের স্মৃতি বহন করছে।

    দোতলায় যেতে গিয়ে কিছুটা বাধা পেলেন বাসুদেব। ওপরে ওঠার চওড়া কাঠের সিঁড়িটা ভেঙে নীচে পড়ে আছে। তবে, কে বা কারা, হয়তো বা সেই অসামাজিক লোকগুলোই হবে, তার জায়গায় একটা বাঁশের মই লাগিয়ে রেখে গেছে। পাকা বাঁশ এখনও প্রায় অক্ষতই আছে। ভালোই হল। ওপরে গিয়ে মই তুলে নিলে আর কেউ আচমকা উঠে আসতে পারবে না।

    দোতলার ঘরগুলোর অবস্থা অনেক ভালো। দেওয়ালে মেঝেতে বড়ো বড়ো ফাটল আছে বটে, তবে তা একেবারে বসবাসের অনুপযুক্ত, সেরকম নয়। বাসুদেব একটা বড়ো ঘর দেখতে পেলেন যার ভেতরে একটা প্রকাণ্ড কালো কাঠের টেবিল তিনটে তাকওলা কারুকার্য করা একটা আলমারিও আছে। প্রায় অক্ষত। চমৎকার ব্যবস্থা। টেবিলটার ওপর শোওয়া যাবে। সুটকেসের জিনিসপত্রগুলো আরামসে আলমারিতে ধরে যাবে।

    তিনতলায় ছাদে যাবার সিঁড়িটাও ভাঙা। মইটা লাগিয়ে উঠে চারদিকের দৃশ্য দেখে একেবারে বিমোহিত হয়ে গেল বাসুদেব। বাড়িটার ঠিক পেছনেই একটা আধবিঘে পরিমাণ ডোবা বা পুকুর, কচুরিপানায় ঢাকা, তবে জল আছে। আর, চারদিকে ধান খেত। দূরে কয়েকটা গ্রাম আসন্ন সন্ধ্যায় গাঢ় কমলারঙের ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর কালো কালো স্তূপের বিমূর্ত ছবির মতো দেখাচ্ছে। এই তো শিল্পীর শিল্পসাধনার প্রকৃষ্ট জায়গা।

    বড়ো সুখে দিন কাটছিল বাসুদেবের। তিনি আসবার পর ভাগ্যক্রমে বাড়িটার বদনাম আরও বেড়েছে। আগে চাষিরা দুপুর বেলা বাড়িটার ছায়ায় বসে ভাত খেত, খুব সাহসীদের কেউ কেউ ভেতরে ঢুকে ঘাসও কাটত, এখন সেসব বন্ধ। কিছুদিন আগে গোবিন্দনগর গিয়েছিলেন বাসুদেব। সেখানে মুদির দোকানে শোনেন খুব উত্তেজিত আলোচনা চলছে। দু-দিন আগে কার্তিক সাঁতরার বড়ো ছেলে ব্রজগোপাল চন্দননগরে কলেজ সেরে ফিরছিল। রাত হয়ে গিয়েছিল বলে মাঠের ভেতর দিয়ে শটকার্ট মারছিল। ডাকাবুকো ছেলে ভয়ডর কম। রাজবাড়ির কাছাকাছি আসতে সে শোনে ভেতর থেকে একটি মেয়ের কান্নার আওয়াজ আসছে। তখন তার মধ্যে বীরত্ব জেগে ওঠে। সে ওদিকে ছুটে যায়। কিন্তু কাছাকাছি যেতেই সে স্পষ্ট শোনে দেউড়ির পেছনে একটা ক্রুদ্ধ ঘোড়ার চিঁহি চিঁহি ডাক। তখন তার সব সাহস উবে যায়, সে ঊর্ধ্বশ্বাসে পালিয়ে চলে আসে। তার কারণ গোবিন্দনগর কেন, আশেপাশে পাঁচটা গাঁয়ের লোক এই তল্লাটে ঘোড়া তো দূরস্থান, গাধাই দেখেনি কোনোদিন।

    শুনে বাসুদেব মনে মনে হেসে অস্থির। হিসাব করে দেখলেন, ঘটনাটি যে রাত্রের এবং যে সময়ের কথা হচ্ছে, তখন তিনি পুরিয়া ধানেশ্রী বাজাচ্ছিলেন। তাঁর সূক্ষ্ম মীড় আর ঝালার কাজ শুনে যতসব হিজিবিজি কথা ভেবেছে ব্রজগোপাল। তবে তারই বা দোষ কী? গাঁয়ের ছেলে, সে কি আর কোনোদিন বেহালায় ক্লাসিক্যাল রাগরাগিণী শুনেছে!

    দুর্ভাগ্য এই যে, সুখ কখনোই নিরবচ্ছিন্ন হয় না। তা না-হলে ছ-টা মাস কাটতে না-কাটতেই খামোখা একজোড়া ঘরপালানো প্রেমিক-প্রেমিকা এ বাড়িতে উপস্থিত হবে কেন।

    সেদিন বিকেল বেলা ছাদে বসে ছবি আঁকছিলেন বাসুদেব। বিষয়বস্তুটা অত্যন্ত জটিল। বালক শ্রীকৃষ্ণ গিরিগোবর্ধন ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছেন আর তাঁকে সে অবস্থায় দেখে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে না-পেরে একটি অত্যন্ত দুষ্ট গোপবালক তাঁকে কাতুকুতু দিতে এগিয়ে আসছে। এই দৃশ্যে সমবেত গোপমণ্ডলীর প্রত্যেকটি লোকের মুখে যে বিভিন্ন রকমের ভাবোদয় হচ্ছে সেটা আলাদা আলাদা করে ফুটিয়ে তোলা তো চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। কাজেই, গভীর মনোযোগ সহকারে সেই কর্মে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন তিনি। এইসময় তাঁর কানে এল নীচের উঠোন থেকে একটি নারী ও একটি পুরুষের কণ্ঠস্বর। পুরুষ কণ্ঠ বলছিল, ‘দ্যাখো রূপা, লুকিয়ে থাকার এরচেয়ে ভালো জায়গা আর পাবে না। তোমার বাবা দুঁদে দারোগা, কলকাতা আর চন্দননগর চষে ফেলে দেবেন কালকেই। কিন্তু এ জায়গার খবর ডায়েরিতে লেখা নেই। আজ থেকে বছর বারো আগে, আমি তখন স্কুলে পড়ি, এই বাড়িতে এসে লুকিয়েছিলুম প্রায় একমাস পাড়ার পলিটিকাল পার্টির দাদাদের সঙ্গে। কোনোদিন একটা পুলিশেরও টিকি দেখিনি। দিনদশেক যেতে দাও, দেখবে তোমার মার মন দিব্যি নরম হয়ে এসেছে। তোমার মা-ই ঘ্যানঘ্যান ঘ্যানঘ্যান করে সে-ই কাজটি করবেন। আমি একদিন গোপনে চন্দননগরে গিয়ে খবর নিয়ে আসব, তারপর ড্যাংড্যাং করতে করতে ফিরে যাব।

    রূপা বলল, ‘কিন্তু আমার যে বড্ডো গা-ছমছম করছে, মন্টুদা।’ মন্টুদা বলল, ‘তা তো একটু করবেই। এরকম একটা পোড়ো-বাড়িতে সেটাই স্বাভাবিক। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি তো ছিলুম এখানে। এখন শীতকাল, সাপখোপের ভয় নেই। আর, ভূতপ্রেত? ওসবে আমি বিশ্বাসও করি না, ভয়ও পাই না।’

    দু-জনে দিনদশেক থাকবে শুনে বাসুদেব প্রায় ভির্মি যাচ্ছিলেন। এ তো মহাবিপদ। এতদিন তো নিজেকে লুকিয়ে রাখা যাবে না। আর, একবার উপস্থিতি টের পেলে দু-জনে যদি মেসোমশাই, মেসোমশাই করতে করতে ঘাড়ে এসে পড়ে তবে তো তাঁর সাধনার দফা, গয়া। তার ওপর আবার থানা-পুলিশের ব্যাপার আছে। নাঃ এদের পত্রপাঠ না-তাড়াতে পারলে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা।

    ছবি আঁকা মাথায় উঠল। অত্যন্ত চিন্তাকুল চিত্তে রং, তুলি, কাগজ বগলদাবা করে মই বেয়ে দোতলায় নেমে এলেন বাসুদেব। একটুও সময় নষ্ট করা চলবে না, আজ রাত্রের মধ্যেই তাড়াতে হবে। মেরে তাড়ানো সম্ভব নয়। একমাত্র উপায় ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করা। এমন ভয় দেখাতে হবে যাতে জীবনে আর দু-জনে এমুখো না-হয়। ভূতের ভয়ই দেখাতে হবে। অন্য অনেক কিছুই হয়তো করা যেত, কিন্তু সেসব করবার সময় নেই। মেয়েটা তো এখনি ভয় পেয়েই গেছে। সেটা বাড়াতে হবে আর ছেলেটাকেও তদানুরূপ ভয় পাওয়াতে হবে। তিনি নাকি আবার ভূতে বিশ্বাস করেন না! দেখা যাক সে ব্যাপারে কিছু করা যায় কিনা।

    প্ল্যান-প্রোগ্রাম ঠিক করে সবকিছু তৈরি করতে করতে সন্ধে গাড়িয়ে রাত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে ছেলেমেয়ে দুটো বাজার থেকে কিনে আনা ডালপুরি আলুর দম খেয়ে, গায়ে ওডোসম মেখে, তোলা উনুনওলা ঘরটায় গিয়ে শুয়ে পড়েছে। মেয়েটির চিত্তে কিন্তু একটুও সুখ নেই। না থাকারই কথা। কোথায় দারোগার কোয়ার্টার্স-এর শোবার ঘর আর কোথায় এই ভূতুড়ে পোড়ো বাড়ির ভাঙা ঘরে মাটিতে বিছানা। মন্টুদা একটু ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড মুখঝামটা খেয়ে বিষণ্ণ মনে নাক ডাকানোই স্থির করেছেন।

    রূপার প্রবল ঠেলা খেয়ে ‘কে কে, কী কী’ করতে করতে উঠে বসল মন্টু। কাঁপা কাঁপা গলায় রূপা বলল, ‘শুনছ? ওপরতলায় কে যেন বেহালা বাজাচ্ছে।’

    ‘কোথায়?’ বলে কান পেতে শুনে মন্টু বলল, ‘এঃ, কী জঘন্য হাত! এ কি বাজনা হচ্ছে? মনে হচ্ছে, বাগেশ্রী বাজাবার চেষ্টা করছে। বাগেশ্রী তো নয়, হচ্ছে বাঘের শ্রী। কিংবা বিশ্রীও বলতে পারো।

    কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিলেন বাসুদেব। ভীষণ চটে গেলেন। যতসব অশিক্ষিত পাষণ্ড। রেগেমেগে একটা দারুণ মীড়ের কাজ লাগালেন। এইবার বোঝ।

    মন্টু বলল, ‘ইসস! মার্ডার, মার্ডার! নাঃ, এর দ্বারা জীবনেও বেহালা বাজানো হবে না।’

    রূপা চেঁচিয়ে উঠে বলল, ‘উফ, মন্টুদা! আমি কি তোমাকে বাজনার সমালোচনা করতে বলেছি? দোতলায় তো যাবার কোনো পথ নেই। সেখানে বসে কে এইসময় বেহালা বাজাচ্ছে, সেটা ভেবে দেখছ কি?’

    ‘যেই বাজাক, তার বাজানো কিন্তু একেবারেই উচিত হচ্ছে না। আর, তুমি কি ভাবছ কোনো অশরীরী ওপরে বসে এহেন বেসুরো বেহালা বাজাচ্ছে? আমার তা মোটেই মনে হচ্ছে না। অশরীরীদের কি আর খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই? দ্যাখো গিয়ে, গোবিন্দনগরের কোনো ছেলে যাত্রাদলে নাম লেখানোর জন্য ধান খেতে বসে বাজনা প্র্যাকটিস করছে। পাড়ার মধ্যে করলে তো মার খেয়ে চিরকালের জন্য খোঁড়া হয়ে যাবে, সেইজন্য। আর সেই আওয়াজ প্রতিধ্বনি হয়ে মনে হচ্ছে দোতলা থেকে আসছে। তবে, প্র্যাকটিসটা বৃথা যাচ্ছে। দুনিয়ায় কোনো যাত্রা পার্টি নেই যারা এই বেহালাবাদককে দলে নেবে— এটা আমি লিখে দিতে পারি। বলে মন্টুদা আবার নাক ডাকতে শুরু করে দিল।

    একটু বাদেই আবার প্রবল ঠেলা খেয়ে উঠে বসল মন্টু। ঘুমজড়িত গলায় বলল, ‘আবার কী হল?’

    কাঁদোকাঁদো গলায় রূপা বলল, ‘ওই শোনো, ওপরে কী যেন গড়াচ্ছে।’

    ‘ও কিছু নয়। ইঁদুর-টিদুর হবে। গড়াচ্ছে তো গড়াতে দাও না।’

    ‘ইঁদুর কি কখনো অনবরত একটা ভারী জিনিস ঘরের এককোণ থেকে অন্যকোণে ঠেলে নিয়ে যায় আর নিয়ে আসে?’

    ‘দ্যাখো রূপা, কবি বলেছেন, ইঁদুরের কেন বলো হেন ব্যবহার, যাহা পায় কেটেকুটে করে ছারখার? তা, সত্যদ্রষ্টা কবিরাই যখন ইঁদুরের ব্যবহারের রহস্য ভেদ করতে পারেননি, সেখানে চুনোপুঁটি আমি কোত্থেকে পারব বলো দেখি?’

    রূপা চেঁচিয়ে বলল, ‘এই কি তোমার পদ্য আওড়ানোর সময় হল? ওপরে ভূত বল খেলছে আর তুমি পদ্য আওড়াচ্ছ!’

    ‘বল খেলছে? নাঃ আর খেলছে না। ভূত এখন পায়চারি করছে।’

    ভারী সুটকেসটা ঠেলাঠেলি করে বাসুদেব ক্লান্তবোধ করছিলেন। এখন লেদার-সোলের পাম্পশু জোড়া পরে খটাস খটাস করে ঘর থেকে বারান্দা আর বারান্দা থেকে ঘর পায়চারি করতে শুরু করে দিয়েছেন।

    রূপা প্রায় কেঁদে ফেলল। বলল, ‘অ মন্টুদা, কিছু একটা করো!’

    মন্টুদা একটু যেন নার্ভাস হয়েছে বলে মনে হল। বলল, ‘দাঁড়াও, একটু চিন্তা করতে দাও। ওপরে নিশ্চয়ই কেউ আছে। সে আমাদের ভয় দেখাতে চাইছে। তার মানে সে খুব একটা সুবিধের লোক নয়। যদি গুণ্ডা-ফুন্ডা হয়, তবে তো চিত্তির। আমি আবার মারামারিটা তেমন পছন্দ করি না।’

    ‘তা তো জানিই। ওই তো হাড়জিরজিরে স্বাস্থ্য, সারা বছর জিয়ারডিয়ায় ভোগো। তুমি আবার মারামারি করবে কি! তার চেয়ে চলো পালাই।’

    ‘ব্যস্ত হয়ো না। পালাই বললেই তো আর হল না। এই রাতবিরেতে কোথায় পালাবে? তার চেয়ে আগে ওপরের ওই লোকটার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে দেখি। দেখি যদি ভজাতে পারি।’

    ফিক করে হেসে রূপা বলল, ‘তা তুমি পারবে। দারোগার মেয়েকে যখন ভজাতে পেরেছ, একেও পারবে।’

    ‘সেই ভালো।’ বলে মন্টু উঠে দাঁড়াল। বাইরের উঠোনে ত্রয়োদশীর চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। তাই দেখে মন্টুর সাহস কিছুটা বাড়ল। দু-হাত ঘষতে ঘষতে যথাসাধ্য বীরত্ব দেখিয়ে উঠোনে নেমে ওপরের দিকে তাকিয়ে হাঁকল, ‘এই যে দোতলার দাদা! একটু বাইরে বারান্দায় আসবেন, কথা….’

    এই পর্যন্ত বলেই মন্টু হঠাৎ যেন পাথর হয়ে গেল। মুখটা হাঁ হয়েই রইল, চোখদুটো বিস্ফারিত হয়ে গেল, হাত-পা একেবারে নট নড়নচড়ন।

    রূপা দৌড়ে এসে পাশে দাঁড়াল। ব্যাকুল হয়ে বলল, ‘মন্টুদা কী হয়েছে তোমার?’

    মন্টুদা সম্বিৎ ফিরে পেতেই ওর মুখ বন্ধ হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। দাঁতে দাঁতে লেগে ঠকাঠক ঠকাঠক করে বাদ্যবৃন্দ হয়ে গেল। তার ফাঁকে কোনোরকমে বলতে পারল, ‘বার বার বার বার।’

    ‘বার বার? কী বার বার, মন্টুদা?’

    প্রবলবেগে মাথা নেড়ে মন্টুদা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘বার বার না। বারান্দায় একটা কং কং কং কং।’

    ‘কংকং। সে আবার কী?’

    আবার মাথা নেড়ে মন্টুদা পূর্ববৎ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘কংকং না। বারান্দায় একটা কঙ্কাল!’

    ‘হিইঁইঁইঁইঁইঁ!’

    ‘আমাকে হাত নেড়ে ডাকল, তারপর চলে গেল।’

    ‘হিইঁইঁইঁইঁইঁইঁ! আর আর এক মুহূর্তও এখানে থাকব না। থাকতে হয় তুমি থাকো।’

    রূপার সান্নিধ্যে মন্টুর বোধ হয় সাহস কিঞ্চিৎ বেড়েছিল। বলল, ‘একটু দাঁড়াও। চাঁদের আলোয় ভুল দেখলুম কি?’

    কথাটা শেষ করতে পারল না মন্টু, তার আগেই ঝপাস করে এক বালতি পানাপুকুরের বরফঠান্ডা দুর্গন্ধ পচা জল এসে পড়ল দু-জনের মাথায়। সেইসঙ্গে বারান্দার ওপরে একটা সাদাকালো ছায়ামূর্তিও দেখা গেল।

    তৎক্ষণাৎ হাঁটুর ওপর শাড়ি তুলে, ‘আঁমি মাঁ-র কাঁছে যাঁব’ বলে যে গতিতে রূপা দেউড়ির দিকে ছুট লাগাল তা উইলমা রুডলফ দেখলে দৌড়নো ছেড়ে যে লুডো খেলার সাধনায় আত্মনিয়োগ করতেন তাতে কোনো সন্দেহই থাকে না। মন্টুদাও চোখের জল মুছে, ‘ও রূপা আমিও যাব, আমাকে ফেলে যেও না গো,’ বলে ঊর্ধ্বশ্বাসে পেছনে দৌড়ল।

    হাসতে হাসতে বাসুদেব সরকার প্রায় শুয়েই পড়েছিলেন। কোনোরকমে ধুতির ওপর কালো রং দিয়ে আঁকা কঙ্কালের পোশাকটা খুলে ফেলে লাফাতে লাফাতে নীচে নেমে এলেন। এতদিনে তাঁর বহুকালের বাসনা চরিতার্থ হল। বলে কিনা বাগেশ্রী না-হয় বাঘের শ্রী হচ্ছে? জঘন্য হাত? এতবড়ো আস্পর্ধা। এইরকম সব সমালোচকদের মুখে নুড়ো জ্বেলে দিতে পারলে আরও খুশি হতেন। তবে যা দিয়েছেন তা যথেষ্টরও বেশি। মন ভরে গিয়েছে। পেট চেপে হাসতে হাসতে দেউড়িতে দাঁড়িয়ে চাঁদের আলোয় ধান খেতের ওপর দিয়ে বিদ্যুদ্বেগে অপস্রিয়মাণ মূর্তি দুটোকে যতক্ষণ পারলেন দেখলেন বাসুদেব। তারপর, আনন্দের আতিশয্যে একটা প্রকাণ্ড লাফ মেরে দোতলার একটা ছোট্ট ঘুলঘুলির ভেতর দিয়ে সুড়ুৎ করে গলে নিজের ঘরে চলে গেলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালসন্ধ্যা – মনোজ সেন
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মনোজ সেন

    কালসন্ধ্যা – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    ৫x৫ = পঁচিশ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ১ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }