Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন

    মনোজ সেন এক পাতা গল্প203 Mins Read0
    ⤷

    সমাপ্তি – মনোজ সেন

    সমাপ্তি

    বাগবাজারে বিমল কুণ্ডু স্ট্রিটে সকাল বেলা কাগজ আসে সাড়ে ছ-টা থেকে সাতটার মধ্যে। ব্রজকিশোরবাবু ঠিক সাতটায় কাগজ নিয়ে রোয়াকে বসেন, ওঠেন আটটায়। গভীর মনোযোগ দিয়ে আগাপাস্তলা পড়েন। সেইসময় কোনোরকম গোলযোগ হলে খুব বিরক্ত হন।

    সেদিন কিন্তু তিনি কোনোমতেই মনঃসংযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে পারছিলেন না। তার কারণ, তিনি রোয়াকে এসে বসা পর্যন্ত দেখছেন যে, একজন মাঝবয়সি ভদ্রলোক উলটোদিকের ফুটপাথে ষোলো নম্বর বাড়িটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মতলবটা কী? ব্রজকিশোরবাবুর বাড়ি দশ নম্বর। মাঝে মাত্র দুটো বাড়ি। লোকটির পরনে কালো প্যান্ট আর সাদা রঙের শার্ট। হাতে একটা পোর্টফোলিও ব্যাগ। হয় উকিল নয়তো বাড়ির দালাল। ষোলো নম্বর সম্পর্কে কিছু জানবার থাকলে তাঁকে এসে জিজ্ঞাসা করলেই পারেন। তা তো নয়ই, রাস্তা দিয়ে যে লোকজন যাচ্ছে তাদেরও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। ব্যাপারটা কী? অমন করে সারাদিন দাঁড়িয়েই থাকবেন নাকি?

    শেষপর্যন্ত, আর কৌতূহল দমন করতে না-পেরে ব্রজকিশোরবাবু লুঙ্গি সামলে রোয়াক থেকে নেমে রাস্তা পার হয়ে লোকটির কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কে? দেখছি অনেকক্ষণ ধরে এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কী ব্যাপার, কোথায় যাবেন আপনি?’

    ভদ্রলোক অত্যন্ত বিনয়ী। লজ্জিতভাবে বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে আমার এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা বেশ দৃষ্টিকটু হচ্ছে। আমার নাম সুকুমার হালদার। আমি শেয়ার কেনা-বেচা করে থাকি। আসলে আমি যেতে চাই ষোলো নম্বর, বিমল কুণ্ডু স্ট্রিটে। ওই বাড়িটাই তো ষোলো নম্বর, বিমল কুণ্ডু স্ট্রিট, তাই না? কিন্তু একটা গোলমাল হচ্ছে।’

    ‘গোলমাল? কীসের গোলমাল?”

    ‘না মানে, আমি যাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই, তাঁর নাম শ্ৰী হরিশঙ্কর রায়বর্মন। অথচ, গেটে লেখা আছে অধীরচন্দ্র বসাক। এখানে আসবার আগে দু-চার জন ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করেছিলুম। সকলেই বললেন ষোলো মন্ত্রের বসাক। ঝাড়ি। তাই এখানে ওই বাড়ি থেকে কারোর বেরোবার অপেক্ষা করছিলুম। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই নিশ্চিত হওয়া যেত যে, আমি যে ঠিকানাটা পেয়েছি সেটা ঠিক না ভুল।’

    ব্রজকিশোরবাবু মৃদু হেসে বললেন, ‘আপনি ঠিক ঠিকানাই পেয়েছেন। ওই বাড়িটা কিছুদিন আগে পর্যন্ত অধীরচন্দ্র বসাকের বংশধরদেরই ছিল। তিনি প্রায় এক-শো বছর আগে বাড়িটা বানিয়েছিলেন। তাঁর বর্তমান বংশধরদের এত পুরোনো সাবেকি ডিজাইনের বাংলো টাইপের বাড়ি পছন্দ হচ্ছিল না। তাই, বছরখানেক আগে বাড়ি বিক্রি করে তাঁরা নিউ আলিপুরে ফ্ল্যাট কিনে চলে গেছেন। এখন যিনি মালিক, তাঁর নাম হরিবাবুই বটে। তিনি গেটের নেমপ্লেটটা আর পালটাননি। আর, পাড়ার লোকেরাও এতদিনের অভ্যস্ত বসাকবাড়ি নামটাই চালিয়ে যাচ্ছে। কাজেই, আপনি স্বামুনের ঝুড়িতে যেতে পারেন।’

    সুকুমার হালদার হাসলেন। বললেন, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, তাই যাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। তবে, যদি কিছু মনে না করেন তো আপনাকে আর একটু বিরক্ত করতে পারি?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘মানে, এই হরিশঙ্কর রায়বর্মনবাবু সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন? শুনেছি উনি খুব বড়োলোক, তার ওপরে ভীষণ রাসভারী। ওঁকে আমার ক্লায়েন্ট করতে পারলে আমার খুব সুবিধে হত। কাজেই, ওঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলব বলে এসেছিলুম । তবে, এ বিষয়ে একেবারে কিছু না-জেনে কথা বলতে যেতে একটু নার্ভাস লাগছে। আপনি যদি সে বিষয়ে আমাকে কিছু বলে দেন, এই আর কী!

    ব্রজকিশোরবাবু হাসি চেপে বললেন, ‘বুঝতে পেরেছি। আপনি আমার বাড়ির রোয়াকে ছায়ায় এসে বসুন। রোদটা বাড়ছে তো । হরিবাবু সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি, বলব আপনাকে।’

    ব্রজকিশোরবাবু বললেন, ‘হরিশঙ্করবাবু আদৌ ত্রিপুরার লোক। ওঁর পৈতৃক বাড়ি আগরতলায়, মেলার মাঠের পাশে। এ পাড়ার বাড়িটা কিনে এখানে আসেন বছর পাঁচেক আগে। পরিবার বলতে উনি আর ওনার স্ত্রী। ওঁর স্ত্রীর নাম বোধ হয় অন্নপূর্ণা। ওঁরা বড়োলোক না গরিবলোক তা আমি জানি না, তবে এটা জানি যে ওঁরা আদ্যন্ত সজ্জন আর শ্রদ্ধেয়। দু-জনের কেউই গালগল্প করতে ভালোবাসেন না, তবে দু-জনেরই ব্যবহারে এমন একটা আভিজাত্য আছে যে ওঁদের সঙ্গে থেবড়ে বসে পরনিন্দা পরচর্চা করবার কথাও কেউ চিন্তাই করতে পারে না।

    ‘দুঃখের কথা, হরিবাবু ইদানীং বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তা অবশ্য হতেই পারেন। বয়েস তো কম হল না। নব্বই পার হয়ে গেছে। চোখে একেবারেই দেখতে পান না। তা ছাড়া নানারকম বার্ধক্যজনিত রোগে প্রায় শয্যাশায়ী। তবে, ওনার স্ত্রী আশি পেরিয়েও বেশ শক্তসমর্থই আছেন। দু-জনেরই মাথা এখনও বেশ পরিষ্কার।’

    সুকুমার হালদার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওঁর ছেলেপুলে?’

    ‘ওঁর বোধ হয় একটিই ছেলে। সে মনে হয় বিদেশে থাকে। আমি একবার ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলুম যে অতবড়ো বাড়িতে একটিমাত্র মাঝবয়সি কাজের মেয়ে কমলার ভরসায় থাকতে ভয় করে কি না। অন্তত একজন দারোয়ান তো রাখা যায় । তা, উনি বলেছিলেন যে ওঁদের ছেলে থাকতে ভয়ের কোনো কারণই নেই। অথচ, মজা কি জানেন? সেই ছেলেকে গত পাঁচ বছরে আমরা, মানে পাড়ার লোকেরা কোনোদিনই দেখিনি। সে কখনোই বাবা-মাকে দেখতে আসে না। তাই, আমাদের সকলেরই ধারণা যে সেই ছেলে বিদেশে থাকে এবং এত বড়ো চাকরি করে যে ছুটি পায় না। ওখান থেকেই হরিবাবুদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে থাকে।’

    ‘উনি কখনো বার্মা মানে আজকাল যাকে মিয়ানমার বলে সেখানে ছিলেন?’

    ব্রজকিশোরবাবু সহাস্যে বললেন, ‘একদিন কথায় কথায় বলেছিলেন বটে যে বার্মায় ওঁর শ্বশুরবাড়ি। ওঁর স্ত্রীর ওখানেই জন্ম, ওখানেই পড়াশুনো। তবে? আপনি তো অনেক কিছুই জানেন দেখছি।’

    ‘না, না, ও কিছু নয়। ওনার শেয়ারের ব্যাপারে খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখেছি ওঁর স্ত্রীর নামে শেয়ারগুলো বার্মার এক দালালের থু দিয়ে কেনা। আর, ইয়ে, মানে, উনি কি খুব কিপটে টাইপ?’

    ‘জানি না মশাই। তবে আমাদের পাড়ার পুজো বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভালোই চাঁদা দেন আর সন্তুষ্ট চিত্তেই দেন।’

    ‘শেষ প্রশ্ন, উনি আগরতলা ছেড়ে একেবারে শেষ বয়সে এখানে এলেন কেন?’

    ‘এ-রকম ব্যক্তিগত ব্যাপারে প্রশ্ন করবার দুঃসাহস আমার কোনোদিন হয়নি। কাজেই, আপনার এই প্রশ্নেরও উত্তর আমার জানা নেই।’

    সুকুমার হালদার তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘ঠিক আছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমার খুব উপকার করলেন আপনি।’

    সুকুমার হালদার বসাক বাড়িতে ঢোকার পরেও ব্রজকিশোরবাবু রোয়াকে বসেই রইলেন। বোধ হয়, সুকুমার কতক্ষণ ও বাড়িতে টিকে থাকতে পারেন, সেটাই দেখবার জন্য। সুকুমার তাঁকে হতাশ করেননি। মিনিট পনেরোর মধ্যেই ব্যাজার মুখে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে তাঁকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল।

    ব্রজকিশোরবাবুকে দেখে ম্লান হেসে বললেন, ‘পাত্তা দিলেন না। আমি ডিটেলসে কিছু বলে ওঠবার আগেই জানিয়ে দিলেন যে ওনার সমস্ত সম্পত্তির ম্যানেজমেন্টের ভার ফক্স অ্যান্ড ঘোষালের ওপর দেওয়া আছে। কাজেই, আমার বাক্যব্যয় করে কোনো লাভ নেই। ঠিকই, কোথায় ফক্স অ্যান্ড ঘোষাল আর কোথায় আমি! পত্রপাঠ উঠে চলে এসেছি।

    ব্রজকিশোরবাবু বললেন, ‘ভালোই করেছেন। মিসেস চা খাওয়াননি?’

    ‘অফার করেছিলেন। আমি আর খাইনি। কি হবে সময় নষ্ট করে?’

    এই ঘটনার দু-তিন দিন বাদে পাড়ার পার্কে বৈকালিক ভ্রমণ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন ব্রজকিশোরবাবু। তখন সন্ধে হয়ে এসেছে। দিনের আলোটি পশ্চিম আকাশে তখনও গড়িমসি করছে, যাওয়ার একেবারেই ইচ্ছে নেই। সেই আলোয় দূর থেকে দেখলেন যে সুকুমার হালদার একটি লোককে ষোলো নম্বরটা দেখিয়ে দিয়েই ভয়ে ভয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে হনহন করে হেঁটে বড়ো রাস্তার দিকে চলে গেল।

    ব্রজকিশোরবাবুর ব্যাপারটা একেবারেই ভালো লাগল না । তাঁর মনে হল যেন সুকুমার হালদার পালিয়ে গেল। কেন? তার ওপরে তার সঙ্গের লোকটির চেহারাও কেমন যেন সন্দেহজনক। লোকটির বয়েস পঞ্চাশের কাছাকাছি। তার বেশিও হতে পারে। মোটাসোটা শরীর, চোখে বাহারে ফ্রেমের চশমা, কানের তলা পর্যন্ত ঝোলা মোটা জুলপি, মাথায় চকচকে কালো চুলে অ্যালবার্ট কাটা, পরনে সবুজ রঙের প্যান্ট আর বড়ো বড়ো লাল ফুলের ছাপওলা হাওয়াই শার্ট। বাঁ-হাতে একটা মোটা ফাইল। তার বয়েসের সঙ্গে একেবারে বেমানান চ্যাংড়া ছেলেদের ভঙ্গিতে হেঁটে রাস্তা পার হয়ে লোকটি ষোলো নম্বরের গেট খুলে ভেতরে ঢুকে গেল৷

    ব্রজকিশোরবাবু চিন্তিতভাবে বাড়িতে ঢুকে কাজের মেয়ে বিনুকে ডেকে বললেন রোয়াকে একটা ইজিচেয়ার আর বিকেলের জলখাবারটা দিয়ে যেতে। পাড়ায় একটা সন্দেহজনক ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। হয়তো, পুলিশ-টুলিশ ডাকতে হতে পারে। এখন কি ঘরে বসে টিভি দেখা উচিত? নজর তো রাখতেই হবে। কাজেই রোয়াকেই আজকের সন্ধেটা কাটাতে হবে মনে হচ্ছে। আর, তারজন্যে যদি অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয় তো থাকা যাবে।

    ষোলো নম্বরের সদর দরজা খুলে দিল কমলা। তার মুখ দেখে একবারও মনে হল না যে এই সময়ে একজন অতিথিকে দেখে সে কিছুমাত্র আশ্চর্য হয়েছে। দরজা খুলে হাসিমুখে নবাগতকে ভেতরে নিয়ে এল।

    বাড়িটা একটা বড়ো উঠোনের চারদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পর পর ঘর। কমলা পথ দেখিয়ে শিবনাথকে হরিশঙ্করের শোবার ঘরে নিয়ে গেল। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলল, ‘দাদামশাই, একজন আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।’

    একটি প্রকাণ্ড পালঙ্কের একপাশে সাদা সুতির চাদর মুড়ি দিয়ে হরিশঙ্কর রায়বর্মন শুয়ে ছিলেন চোখে মোটা ফ্রেমের কালো চশমা। উঠে বসে বললেন, ‘কে?’

    অতিথি ঘরের ভেতর ঢুকে এল। বলল, ‘নমস্কার জ্যাঠামশাই। আমার নাম শিবনাথ, শিবনাথ তরফদার। আপনার কি আমাকে মনে পড়ে?’

    নির্বিকার গলায় হরিশঙ্কর বললেন, ‘হ্যাঁ, মনে পড়ে। তুমি আগরতলায় থাক বা থাকতে। তোমার একটা ট্রাভেল এজেন্সি ছিল। যতদূর মনে পড়ে, তার নাম ছিল গ্র্যান্ড ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলস।’

    শিবনাথ মুখ বেঁকিয়ে হাসল। বলল, ‘আমি এখন আর আগরতলায় থাকি না জ্যাঠামশাই। আপনি কলকাতায় চলে আসার মাস ছয়েক আগে আমিও এখানে চলে আসি। এখান থেকেই গ্র্যান্ড ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলস চালাই। তবে আপনার দেখছি দারুণ স্মৃতিশক্তি! পুরোনো দিনের প্রায় সব কথাই মনে আছে।’

    ‘হ্যাঁ, আমার চোখ দুটো চলে যাওয়ার পর দেখছি আমার স্মৃতিশক্তি খুব বেড়ে গেছে। তা, শিবনাথ, তুমি কি আমার কুশল সংবাদ নেবার জন্যে এখানে এসেছ? নাকি অন্য কোনো দরকার আছে?’

    জানলার বাইরে তখন রাত ঘনিয়ে আসছে। প্রকাণ্ড ঘরটার কোনায় কোনায় অন্ধকার জমাট বেঁধে উঠছে। শিবনাথের কেমন যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগল। অথচ শিবনাথ ভয় পাওয়ার লোক নয়। জীবনে সে কাউকে বা কোনো কিছুকে কখনো ভয় পায়নি। দু-পাঁচটা যে খুন-টুন করেছে— সেসব কোনো ব্যাপারই নয়। একবার একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা টিপে মেরে তার পাশে শুয়ে সারারাত ঘুমিয়ে, ভোর রাত্রে হৃষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরে গেছে। কোনো অসুবিধে হয়নি। কিন্তু, আজ তার শরীর আর মন দুই-ই বলছে এই বাড়ি থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যেতে হবে। এর জমাট বেঁধে আসা অন্ধকারের মধ্যে কোথাও একটা ভয়ংকর বিপদ লুকিয়ে আছে।

    তবে, খামোখা ভয় পেলে তো চলবে না। অনেক টাকার ব্যাপার। পকেট থেকে একটা ছোটো কিন্তু শক্তিশালী টর্চ বের করে ঘরের দেওয়াল আর ছাদটা দেখে নিল শিবনাথ। না, কোথাও সিসিটিভির ক্যামেরা লাগানো নেই। এঁর একমাত্র ছেলে তো বছর ছয়েক আগেই মরে গেছে। তাহলে বোধ হয় অন্য কেউ বিদেশে বসে এঁদের ওপর নজর রাখে। তাকেই উনি ছেলের মতো দেখেন। কিন্তু, নজর রাখে কী করে? ওই কাজের মেয়েটি যেন কেমন। ঠিক বোঝা গেল না। কিন্তু খটকা একটা আছে। সে দরজা খুলে দিয়ে এমনভাবে হাসল যেন এই সময়ে শিবনাথের আসাটা সে আশাই করছিল। কেন? তবে কি কেউ তাকে খবর দিয়ে রেখেছে? কে দেবে? একমাত্র সুকুমার ছাড়া তো কেউ হতে পারে না। এটা তো সুকুমার ঠিক কাজ করেনি। তবে, হরিবাবুর কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি কিছু সন্দেহ করেননি।

    এইসব ভাবতে ভাবতে শিবনাথ অন্যমনস্কভাবে বলল, ‘আপনাদের কুশল সংবাদ তো আছেই। কাজের কথাও আছে।’

    হরিশঙ্কর বললেন, ‘আমার এই বয়েসে আবার কুশল সংবাদ কী? বেঁচে যে আছি, সেটাই তো কুশল সংবাদ।’

    ‘তা তো বটেই। তবে, দেশ ছেড়ে এই শেষবয়সে এখানে এলেন কেন? নিশ্চয় চিকিৎসার জন্য?’

    ‘সেটাই আসল কারণ তা ঠিক। তবে, আরও একটা কারণ আছে। তোমাকে বলতে দ্বিধা নেই। তুমি তো আমার দেশের লোক। কত বছরের পরিচয় বলোতো?’

    ‘আজ্ঞে, তা অনেক বছর হল। কারণটা যদি বলেন।’

    ‘হ্যাঁ, তুমি কি জানতে যে আমাদের বাড়িতে একটা মহামূল্যবান জিনিস আছে? সেটার ওপরে যদি কারও নজর পড়ে, তাহলে আগরতলার মতো খোলামেলা শহরে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। তাও যদি আমার ছেলেটা আমার সঙ্গে থাকত, তাহলে একটা ভরসা ছিল। কেন যে ঘর ছেড়ে চলে গেল। আমি ওকে ত্যাজ্যপুত্র করেছি। সে যাকগে। এখন ওই জিনিসটা কলকাতায় নিয়ে এসেছি। কোনো বিদেশি মিউজিয়ামে বিক্রি করে দেবার ইচ্ছে আছে। আমার অ্যাটর্নি ফক্স অ্যান্ড ঘোষালের ওপরে সেই ভার দিয়েছি। ওরা চেষ্টা করছে। তবে, জানোই তো, এসব ব্যাপারে সময় লাগে।’

    শিবনাথ এটা একেবারেই আশা করেনি। গলাটা যথাসাধ্য অকম্পিত রেখে বলল, ‘কোন মহামূল্যবান জিনিস? আমি তো জানি না। জানেনই তো, এসব ব্যাপারে আমার আবার তেমন ইন্টারেস্ট নেই।’

    ‘তুমি জানো না, না? এটা একটা সোনার বুদ্ধমূর্তি, সারা গায়ে চুনি মানে রুবি, পান্না আর হিরের কারুকার্য। ইঞ্চি দশেক উঁচু। এখন এটার বাজারে দাম হবে কয়েক কোটি টাকা। অথচ, মজা কী জানো, আজ থেকে প্রায় পঁয়ষট্টি বছর আগে যখন আমার শ্বশুরমশাই তাঁর মেয়েকে, মানে আমার স্ত্রীকে, বিয়েতে যৌতুক দিয়েছিলেন তখন বার্মায় এর দাম ছিল মাত্র কয়েক হাজার টাকা। আমাদের বসবার ঘরে একটা কাচের আলমারিতে চিনেমাটির পুতুল-টুতুলের সঙ্গে সাজানো ছিল। এটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাত না। সবাই জানত কতগুলো ঝুটো কাচের স্টোন বসানো সোনালি রং করা একটা সস্তার মূর্তি।’

    কয়েক কোটি টাকা! বলে কি? এ জানলে তো আরও একটু তৈরি হয়ে আসা যেত। সুকুমার হালদারটা একদম অপদার্থ! কোথায় কোটি টাকার অ্যান্টিক আর কোথায় লাখ টাকার শেয়ারের কাগজ। ইডিয়েট! কালকেই লাথি মেরে ব্যাটাকে তাড়াতে হবে। শিবনাথ মনে মনে সমস্ত প্ল্যানটা ঝটপট ঢেলে সাজাতে শুরু করল।

    হরিশঙ্কর তখন বলে চলেছেন, ‘এটা যে আসলে কী সেটা আমি জানতে পারি রামপ্রসাদ গুপ্তার কাছ থেকে। রামপ্রসাদকে তো চেনই। চারিপাড়া পোস্টঅফিসের কাছে ওর গয়নার দোকান। ওকে একটা সোনার হার বানাতে দিয়েছিলুম। আমার বাড়িতে এসেছিল সেটা ডেলিভারি দিতে। আমার স্ত্রী তখন বসবার ঘরে বসে কাচের আলমারির জিনিসগুলো সেন্টার টেবিলের ওপরে রেখে পরিষ্কার করছিলেন।’

    হরিশঙ্কর আরও কিছু বলতেন কিন্তু তার আগেই শিবনাথ বাধা দিয়ে বলল, ‘সেটা এখন আছে কোথায়? ফক্স অ্যান্ড ঘোষালের অফিসে?’

    ‘তুমি কি পাগল নাকি? এ জিনিস কি অন্যের হেপাজতে রাখা যায়? এমনিতেই তো কলকাতাতেই জানাজানি হয়ে গেছে। গত তিন মাসে দু-জন, এসেছিল ওটা চুরি করতে। পারেনি। ভাগ্যিস কমলা ছিল। এমন চেঁচামেচি জুড়ে দিল যে পালিয়ে গেল।’

    ‘ওটা এই বাড়িতেই রেখেছেন? সেটা ভালো করেননি। কোনো ব্যাঙ্কের লকারে রাখা উচিত ছিল।’

    ‘তা তো ছিলই। কিন্তু যা দিনকাল পড়েছে, আমি এখন ব্যাঙ্কওয়ালাদেরও বিশ্বাস করি না। তা ছাড়া, ব্যাঙ্কে দৌড়দৌড়ি করবে কে? ছেলেটা চলে যাওয়ার পরেই আমার চোখ দুটোও গেল। কেন যে ছেলেটা এমনভাবে চলে গেল? আমি তো ওর বিদেশ যাওয়া নিয়ে তেমন ভাবে কোনো আপত্তি করিনি কোনোদিন। আর কোনোদিন যোগাযোগও করল না। এখন আমার ভরসা বলতে আমার জাঠতুতো ভাইয়ের ছেলে। সে শিকাগোতে থাকে। সে-ই আমাদের খোঁজখবর নেয়।’

    শিবনাথ ঠোট টিপে হাসল। ভাবল, ‘যাক, ঠিকই অনুমান করা গেছিল। ছেলের ব্যাপারটা তাহলে এই।’ তারপরে বলল, ‘সত্যি, বিষ্ণুর চলে যাওয়াটা আমার কাছেও একটা বিরাট রহস্য। আমরা যখন শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি যাই, তখন ওর এই মতলবের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি আমি। চেরাপুঞ্জি পৌঁছে তারপরদিনই মাঝরাত্রে ট্যাক্সি ডেকে চলে গেল, হোটেলের রিসেপশনে বলে গেল শিলং এয়ারপোর্টে যাচ্ছি, একটা এমারজেন্সি দরকার আছে। আমাকে কিছু বলেও গেল না।’

    ভাবলেশহীন গলায় হরিশঙ্কর বললেন, ‘হ্যাঁ, এ গল্পটা তুমি আমাকে আগেও বলেছ।’

    শিবনাথ বুঝতে পারল না যে কথাটার মধ্যে কোনো শ্লেষ আছে কি না। তার মনে হল, শ্লেষ বোধ হয় নেই। বুড়ো যেরকম গড়গড় করে সব গোপন কথা বলে যাচ্ছে তাতে বিষ্ণুশঙ্করের সপরিবারে হাপিস হয়ে যাওয়ার পেছনে তার কোনো যোগ আছে সে-রকম সন্দেহ তাঁর থাকতেই পারে না।

    তবে, তখন আর সেসব চিন্তা করবার সময় নেই। তার মনের ভেতরে ভয়টা আরও চেপে বসেছে। তার অন্তরাত্মা বলছে যত তাড়াতাড়ি হয় কাজ শেষ করে এখান থেকে পালাতে হবে। তাই, এখুনি জানতে হবে যে মালটা বাড়ির কোথায় আছে। বুড়ো যখন ব্যাড়ব্যাড় করে সব কথাই বলে যাচ্ছেন, তখন এ কথাটাও বলবেন বলেই মনে হয়। এই ঘরে তো কোনো সিন্দুক-টিন্দুক নেই। থাকার মধ্যে হলদে রঙের একটা কাঠের দেওয়াল আলমারি। তবে কোথায়? সেটা যদি না বলেন, তখন অন্য রাস্তা বের করতে হবে।

    ঠিক এই সময়, হরিশঙ্কর বললেন, ‘কি শিবনাথ, ঘরে আছ নাকি?’

    শিবনাথ বলল, ‘আছি, জ্যাঠামশাই।’

    ‘কিছু ভাবছ? চুপচাপ কেন?’

    ‘কী ভাবছি, সেটা আপনাকে বললে আপনি আমার ওপরে অসন্তুষ্ট হবেন। ভাববেন আমি অনধিকারচর্চা করছি।’

    হরিশঙ্কর ম্লান হেসে বললেন, ‘কী যে বলো। অনধিকারচর্চা আবার কী? তুমি নিশ্চিন্তে বলো কী ভাবছিলে।’

    শিবনাথ থেমে থেমে বলল, ‘আমি ভাবছিলুম আপনার নিরাপত্তার কথা। দেখুন, আপনার কথা শুনে আমার মনে হল আপনি খুব সাবধানী লোক। তার মানে, ওই মূর্তিটা আপনি যথাসাধ্য নিজের হাতের কাছে রাখবেন। অথচ এ ঘরে ওই একটা কাঠের দেওয়াল আলমারি ছাড়া আর কোনো রাখবার জায়গা দেখছি না। এটা ঠিক হচ্ছে না। অন্তত একটা লোহার সিন্দুক থাকা উচিত। আপনি যদি বলেন তাহলে আমি ছোটো দেখে একটা কিনে এনে দিতে পারি।’

    হরিশঙ্কর বললেন, ‘আরে, না না। তার কোনো দরকার হবে না। ওটা একটা যে সে কাঠের আলমারি ভেব না। দু-ইঞ্চি মোটা লোহা কাঠ, ভেতরে এক জ মোটা স্টিলের লাইনিং দেওয়া। ওটার ওপর কামানের গোলা মারলেও ওটা টসকাবে না।’

    তাহলে এখন প্রশ্ন আলমারির চাবিটা কোথায়? সেটা জানতে পারলে, তিন জনকে খুন করে আলমারি খুলে মূর্তিটা নিয়ে বেরিয়ে যেতে পাঁচ মিনিটও লাগবে না।

    হরিশঙ্কর যেন প্রশ্নটা আঁচ করে বললেন, ‘ওটা খোলাও খুব সহজ ব্যাপার নয়। দুটো চাবি লাগে খুলতে। একটার পর একটা। কোনটার পর কোনটা সেটা জানেন একমাত্র তোমার জ্যেঠিমা। তুমি তো জানো নিশ্চয়ই যে, তিনি একজন খুব কঠিন ধাতুর মহিলা। মরে গেলেও কাউকেই সেই গোপন তথ্যটি জানাবেন না।’

    শিবনাথ প্রায় বলে ফেলেছিল যে সেটা পরে দেখা যাবে। ভাগ্যক্রমে ঠিক সেই সময়ে কমলা নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে একটা ট্রেতে এক প্লেট লুচি আর একবাটি কষা মাংস এনে শিবনাথের চেয়ারের পাশে একটা ছোটো টেবিলের ওপরে ঠক করে রাখল। শিবনাথ চমকে উঠে ঘুরে বসতে গিয়ে তার হাতটা কমলার হাতের সঙ্গে লেগে গেল। কমলার হাতটা বরফের মতো ঠান্ডা! শিউরে উঠল শিবনাথ, কিন্তু আর কিছু ভাববার আগেই কমলা মিষ্টি হেসে বলল, ‘এটা খেয়ে নিন, দিদিমা আপনার জন্যে বানিয়েছেন।’

    হরিশঙ্করও বললেন, ‘লুচি মাংস এনেছ? নাও, শিবনাথ, আগে গরম গরম খেয়ে নাও। তারপরে কথা হবে।’ খাবারটা এতই লোভনীয় যে কার হাত ঠান্ডা কার হাত গরম সেসব বিচার করবার মতো সময় তখন শিবনাথের নেই। খাওয়াটা তো চটপট সেরে নেওয়া যাক।

    শিবনাথের খাওয়া যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, হঠাৎ দরজার কাছে অন্নপূর্ণার গলা শোনা গেল, ‘কি, খেয়েছে?’

    মৃদু হেসে হরিশঙ্কর বললেন, ‘হ্যাঁ, খেয়েছে।’

    শিবনাথের ভুরু দুটো কুঁচকে গেল। খেয়েছে? খেয়েছে মানে কি? লুচি-মাংস না কোনো ঢপ? ঢপ হলে কীসের ঢপ? এই বুড়ো-বুড়ির মনে কি কোনো অভিসন্ধি আছে? তা যদি হয়, তবে তো আর দেরি করা চলে না। এক্ষুনি অ্যাকশন নিতে হবে।

    ঠিক এই সময়ে হরিশঙ্কর বললেন, ‘অনু, শিবনাথ বুদ্ধমূর্তিটা একবার দেখতে চায়। ওকে একবার দেখাও না।’

    শিবনাথ চেয়ার ছেড়ে উঠছিল, আবার বসে পড়ল। কার মুখ দেখে উঠেছে আজ? সব কিছু যে না চাইতেই হাতে এসে যাচ্ছে! কোনো খুনখারাবির তো দরকার নেই। মুর্তিটা একবার হাতে এলে তাকে আর ঠেকায় কে? সোজা দরজা খুলে বেরিয়ে গেলে কেউ আটকাতে পারবে? যদি কেউ ঠেকাতে আসে তবে তার অদ্যই শেষ রজনী। ওই কাজের মেয়েটা যদি চেঁচাতে যায় তখন তার চ্যাচানি চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়াটা কোনো ব্যাপারই নয়।

    হরিশঙ্করের কথা শুনে অন্নপূর্ণা প্রায়ান্ধকার ঘরের এক কোনায় চলে গেলেন। একটু পরেই ঠুনঠুন শব্দে বোঝা গেল কিছু চাবি নিলেন। আলমারিটা ঘরে ঢোকার দরজার ঠিক উলটোদিকে। উঠোন থেকে আসা ম্লান আলোয় অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। অন্নপূর্ণা যখন আলমারিটা খুলতে শুরু করলেন, শিবনাথ যথাসাধ্য নিঃশব্দে, প্যান্টের পকেট থেকে ফ্লিপ ড্যাগারটা বের করতে করতে তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। ঠিক তখুনি উঠোন থেকে আসা আলোটা ঝপ করে কমে গিয়ে সমস্ত ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল।

    তার পেছনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে কি না সেটা দেখে নেবার জন্যে ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাতেই শিবনাথের বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল! দেখা গেল, কাজের মেয়ে কমলা কখন যেন নিঃশব্দে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। আলোটা পেছনে থাকায় তার নাক-মুখ কিছু দেখা যাচ্ছে না। শুধু অন্ধকারে তার চোখ দুটো হিংস্র মাংসাশী শ্বাপদের চোখের মতো একটা নীলাভ-সবুজ দ্যুতিতে জ্বলছে।

    সর্বনাশ, এখন কী করা কর্তব্য? সেটা ঠিক করে ওঠার আগেই অন্নপূর্ণা বললেন, ‘আলমারিটা খুলে দিয়েছি, শিবনাথ। বুদ্ধমূর্তিটা দেখে নাও।’

    চিন্তিত শিবনাথ চমকে মুখ ঘুরিয়ে বিস্ফারিত চোখে আলমারিটার দিকে তাকাতেই, তার ভেতর থেকে একটা প্রচণ্ড তীব্র আলো ক্ষিপ্ত একপাল নেকড়ের মতো তার ওপরে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল। সেই আলোর অভিঘাতে শিবনাথ ছিটকে মেঝের ওপরে পড়ে ব্যথায় কাতরে উঠল, ‘ও মাগো… ও জ্যেঠিমা, এত আলো এল কোত্থেকে? আমি যে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না…’

    এই প্রশ্নের উত্তর দিল একটি পুরুষকণ্ঠ, ‘যেখান থেকে আলোটা আসছে, সেইখানেই তুমি যাবে, শিবনাথ। গেলেই বুঝতে পারবে।’

    ‘তার মানে? কে তুমি?’

    ‘তার মানে বুঝতে পারলে না? ওই আলো যেখান থেকে আসছে, সেখানেই তুমি যারে এখন আর আমি? আমার গলাটা ভুলে গেলে, শিবনাথ? চিনতে পারলে না? আমি বিষ্ণু, তোমার প্রাণের বন্ধু বিষ্ণুশঙ্কর রায়বর্মন।’

    ‘তুমি বিষ্ণু? হতে পারে না। আমি তাকে নিজের হাতে… বিষ্ণু মরে গেছে।’

    ‘তোমার তাই ধারণা। সেটা ঠিক নাও হতে পারে। তুমি যে লোহার স্প্যানার দিয়ে পেছন থেকে মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়ে আমাকে খাদের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলে, কাজটা হয়তো পরিষ্কার হয়নি।’

    একটি উৎফুল্ল নারীকণ্ঠ বলল, ‘আমিও এসেছি, ঠাকুরপো, তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।’

    শিবনাথ কেঁদে উঠল, ‘ওরে বাবা, এ যে বউদির গলা! আমি কোত্থাও যাব না! আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও!’

    ‘আমিও তো তোমাকে বলেছিলুম আমাকে ছেড়ে দিতে। আমার সেই অনুরোধে। কান দিয়েছিলে? তোমার ইচ্ছেমতো সব জঘন্য কাজ শেষ করে আমার গলা টিপে ধরেছিলে। তারপরে, মরে গিয়েছি ভেবে বিষ্ণুর পেছনে ছুঁড়ে দিয়েছিলে। আমার ছেলেটাকে পর্যন্ত রেয়াত করোনি। ওই খাদে ফেলে দিয়েছিলে। আজ তোমার নাকিকান্নায় গলে গিয়ে তোমাকে ছেড়ে দেব, তার কোনো কারণ আছে কি?’

    ‘ওমাগো! আমাকে ছেড়ে দাও। মা কালীর দিব্যি, আর কোনোদিন খারাপ কাজ করব না। মাইরি বলছি। কোন শালা মিথ্যেকথা বলে। আর ওই আলোটা নিভিয়ে দাও না। আমার যে গা পুড়ে যাচ্ছে!’

    বিষ্ণুশঙ্করের গলা শোনা গেল, ‘এ আর কী দেখছ? তোমাকে যখন ওই আলোর একেবারে ভেতরে নিয়ে যাব, তখন দেখবে তোমার শরীরটা ভয়ংকর উত্তাপে আস্তে আস্তে গলে ধোঁওয়া হয়ে যাবে। শেষপর্যন্ত তোমার মগজটা কিছুক্ষণ টিকে থাকবে যাতে সেই অবর্ণনীয় যন্ত্রণার প্রতিটি মুহূর্ত তুমি অনুভব করতে পারো। নাও, সময় হয়েছে। চলো এবার।’

    হঠাৎ শিবনাথ হুংকার দিয়ে উঠল, ‘না, আমি কোথাও যাব না। তোমরা মানুষ হও, ভূত হও, প্রেত হও— যা খুশি হও, আমার গায়ে হাত দেবার চেষ্টা করবে না বলে দিলুম। যদি দিয়েছ তো আমি এমন চিৎকার করব, যে পাড়াসুদ্ধু লোক দৌড়ে আসবে।’

    বিষ্ণুশঙ্করের গলা হেসে উঠল, ‘বেশ তো। চিৎকার করতে চাও তো করো। এসো কমলা।’

    পরমুহূর্তেই কেউ শিবনাথের মোটাসোটা শরীরটা শূন্যে তুলে নিল আর অবলীলাক্রমে ছুঁড়ে দিল আলমারির ভেতরে। সেখানে একটা ভয়ংকর বুকফাটা আর্তনাদ যেন দূর থেকে আরও দূরে চলে গেল।

    অন্নপূর্ণা আলমারির পাল্লা দুটো বন্ধ করে দিলেন। বললেন, ‘এতদিনে একটা বিভীষিকা শেষ হল। এবার আমরা যেতে পারি।’

    কমলা বলল, ‘আমি এখন কী করব, দাদামশাই?’

    হরিশঙ্কর বললেন, ‘আমরা যতদিন আছি ততদিন থাকতে পারো। তার পরে যেখান থেকে এসেছ, সেখানেই চলে যেও। অথবা তোমার দাদাবাবুর সঙ্গে কথা বলে নাও। তিনিই তো তোমাকে এনেছেন। তিনি যা বলবেন তাই হবে।’

    ব্রজকিশোরবাবু অপেক্ষা করতে করতে বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেল। বসাক বাড়ি থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না, কেউ বেরোলও না। রংচঙে জামা পরা লোকটা তাহলে রাতের খাওয়াটা সেরেই বেরোবে বা, রাত্রিটা থেকেও যেতে পারে। তাহলে আর বসে থেকে লাভ কী? ব্রজকিশোরবাবু ইজিচেয়ার ছেড়ে উঠেই পড়লেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদুর্ব্বৃত্ত জাতি – সম্পাদক : মোস্তাক আহমাদ দীন
    Next Article দময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন

    Related Articles

    মনোজ সেন

    এবং কালরাত্রি – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    কালসন্ধ্যা – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    ৫x৫ = পঁচিশ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ১ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    মনোজ সেন

    দময়ন্তী সমগ্র ২ – মনোজ সেন

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }