Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    লেখক এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. খুলে যাক জীবনের বদ্ধ দুয়ার

    ১০. খুলে যাক জীবনের বদ্ধ দুয়ার

    এক.

    একবার এক ভাই আমার অফিসে এসে বললেন, ‘আরিফ ভাই, একটা কথা ভাবছি।’

    আমি বেশ আগ্রহের সাথেই বললাম, ‘কী কথা?’

    ‘ভাই, ভাবছি বিয়ে করবো।

    বিয়ের কথাটা শুনে আমি খানিকটা চমকালাম। আমার সামনে বসা মানুষটা তিন সন্তানের জনক। এমনও নয় যে, তার বিয়ের ব্যাপারটা আমার কাছে অজানা কিছু। সুতরাং, তার মুখে নতুন করে বিয়ের কথা শোনাটা হালকা চমকে ওঠার মতোই ব্যাপার। আর আজকাল হয়েছে কী, মানুষজন দ্বিতীয়-তৃতীয় বিয়ে নিয়ে এত মজা-মশকরা করেন যে, বিয়ের মতো গুরুতর ব্যাপারও আজকাল হাসি-তামাশার ব্যাপারে পরিণত হয়েছে! আমাদের এই অধঃপতনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার দায়টাও অবশ্য কোনো অংশে কম নয়।

    যা-হোক, উৎসাহের সাথেই ভাইটাকে বললাম, ‘মাশা আল্লাহ, বিয়ের চিন্তা তো বেশ ভালো, কিন্তু হঠাৎ করে দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা এলো কেন মাথায়?

    আমি খেয়াল করলাম তার মুখ বেশ ফ্যাকাশে ও মলিন। চোখে-মুখে বিষণ্ণতার ছাপ গাঢ় হয়ে ধরা পড়ছে। চেহারার এমন দুর্দশা নিয়ে আর যাই হোক, মজা করার জন্য যে তিনি আমার কাছে বিয়ের ব্যাপারটা উত্থাপন করেননি–সে ব্যাপারে আমি ঘোরতর নিশ্চিত।

    ‘আসলে ভাই, জীবনে কেমন যেন ছন্দহারা হয়ে পড়েছি। যেদিকেই যাচ্ছি কোনো গতি পাচ্ছি না। কত দিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছি একটা ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য, কোনোভাবেই কুল-কিনারা হচ্ছে না। যেখানেই হাত দিচ্ছি মনে হচ্ছে, ক্ষতি ছাড়া আর কোনোকিছুই উঠে আসছে না। জীবন থেকে বারাকাহ একেবারে উঠে গেলো মনে হয়। তাই ভাবছি আরেকটা বিয়ে করবো। বিয়ে করলে আয়-রোজগারে বারাকাহ আসে, তা তো জানেন?’–একনিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন ওই ভাই।

    বুঝতে পারলাম, জীবন থেকে হারানো বারাকাহ ফিরে পেতে তিনি পুনরায় বিয়ের কথা ভাবছেন। ছন্দহীন যে জীবনের জাঁতাকলে পিষ্ট তিনি, তা থেকে মুক্তি লাভ করতে এবং জীবন থেকে হারানো বারাকাহ পুনরুদ্ধারে নতুন করে বিয়ে করাকেই তার কাছে এই মুহূর্তে সঠিক কাজ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    এটা ঠিক যে–বিয়ে করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জীবনে বারাকাহ দেন, আয়-রোজগারে বারাকাহ দেন, তবে বিয়েই যে বারাকাহ লাভের একমাত্র পথ্য– তা কিন্তু নয়। বারাকাহ লাভের অনেকগুলো পথ ও পন্থা আছে।

    তাকে অনেকটা মজা করেই বললাম, ‘বিয়ে তো একটা করেই আছেন ভাই, তারপরও যখন বারাকাহ পাচ্ছেন না, তখন বারাকাহ লাভের নতুন দরোজার সন্ধান করার চাইতে বারাকাহ আসার যে দরোজাগুলো বন্ধ হয়ে আছে, তা উন্মুক্ত করবার চেষ্টা করাই ঢের উত্তম নয় কি?

    বলাই বাহুল্য, তিনি আমার গভীর দার্শনিকসুলভ কথাটা বুঝতে বেমালুম ব্যর্থ হলেন! কপালের কুঞ্চিত রেখাকে আরো দীর্ঘ করে তিনি বললেন, ‘কী-সব জটিল-কঠিন কথা বলেন ভাইজান। সহজ করে না বললে বুঝি কীভাবে বলেন?

    আমি স্মিত হাসলাম। লিখতে দিলে খানিকটা সহজ করে হয়তো লিখতে পারি, কিন্তু বলতে দিলে যে আমি একেবারে তালগোল পাকিয়ে বসি–হাতেনাতে তার প্রমাণ পেয়ে একটু শরমিন্দা হলাম বটে।

    ‘না, আসলে বলতে চাইলাম যে, বিয়ে করলে বারাকাহ পাওয়া যায় এটা ঠিক, তবে বারাকাহ লাভের জন্য নতুন করে বিয়ে করার আগে, জীবন থেকে বারাকাহ চলে গেলো কেন, সেই কারণ উদঘাটন করাটাই বেশি জরুরি। হতে পারে এমন কোনো কাজ আপনি করে যাচ্ছেন, যা হয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পছন্দ করছেন না। এমন কোনো কাজ যা আল্লাহকে আপনার ব্যাপারে ক্রোধান্বিত করে তুলছে। ফলস্বরূপ, আপনার জীবন থেকে তিনি বারাকাহ উঠিয়ে নিলেন। হতে পারে না এমন?

    তিনি সোৎসাহে বললেন, ‘ভালো কথা বলেছেন তো! এভাবে ভাবা হয়নি আগে। আমার তো নিজেকেই আগে প্রশ্ন করা দরকার যে, বারাকাহ আসার পথগুলো আমি আদৌ ঠিক রাখতে পেরেছি কি না।

    ‘একদম ঠিক। নিজেকে মনের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে একবার চিন্তা করুন তো–জীবনের কোনো এক পর্যায়ে আপনার এমন কোনো কাজ আছে বা হচ্ছে। কি না, যার দরুন আপনি জীবনে ছন্দ হারাচ্ছেন? এমন কোনো ভুল যা আপনি প্রতিদিনই করছেন, কিন্তু তা যে ভুল, সে ব্যাপারে আপনি বেমালুম ও বেখবর। যদি সেরকম কোনোকিছুর দেখা মেলে, সবার আগে সেটা সংশোধন করে ফেলুন। বারাকাহ লাভের যে পথগুলো রুদ্ধ হয়ে আছে, সেগুলোকে প্রবল ধাক্কায় উন্মুক্ত করে দেন। এরপরও যদি জীবনে বারাকাহ না পান, তখন বারাকাহ লাভের নতুন কোনো দরোজার কথা ভাবতে পারেন।

    দুই.

    আমার এক কলিগ একদিন বেশ মন খারাপ করে তার পরিবারের কথা বললেন। সংসারে ঝামেলা যাচ্ছে, স্ত্রীর সাথে নিত্য-নৈমিত্তিক ঝগড়া-ঝাটি হচ্ছে। সংসারের টানাপোড়েনের দরুন ঘরে ঢুকলে অস্থির অস্থির লাগছে তার। কাজে মন বসে না, ইবাদতে মনোযোগ নেই ইত্যাদি ইত্যাদি।

    কারো জীবনের করুণ এবং হাপিত্যেশের গল্প শুনলে বিমর্ষ হয়ে পড়ি। জীবনের জানা-পথে যখন অজানা শঙ্কা এসে ভর করে, তার ভার তখন হিমালয়ের ভারত্বকেও ছাড়িয়ে যায়। সব ঠিকঠাক চলার পরেও কেবল সংসারে যদি দহন লাগে, সেই আগুন-স্পর্শ তখন সব ভালো চলাকেই ভস্ম করে ছাড়ে।

    এক বন্ধুর কাছে বেশ অনেকদিন হলো কিছু টাকা পাই। কয়েকদিন আগে তাকে বললাম, সম্ভব হলে টাকাগুলো দেওয়ার জন্য। সে বেশ আফসোস নিয়ে লজ্জিত মুখেই বললো, এখন যদি আমাকে কেটে দুই ভাগও করিস, তারপরও একটা টাকা আমি তোকে দিতে পারবো না। বউ আর শিশুকে অনেকদিন হয় তার বাপের বাড়ি রেখে এসেছি। যে কাজেই হাত দিচ্ছি, মনে হচ্ছে সব ছাই হয়ে যাচ্ছে। জীবনের ওপর বিতৃষা জন্মে যাচ্ছে আমার। মনে হচ্ছে, এর পরের ধাপে আমাকে আত্মহত্যাই করতে হবে।

    তিন.

    আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এই পর্যায়গুলো আসতে পারে–জীবনে বারাকাহ না পাওয়া, সংসার থেকে সুখ-শান্তি উবে যাওয়া, জীবনের কোথাও নিদারুণ ছন্দপতন ঘটা। সময়ে, আয়-রোজগারে, ব্যবসাপাতিতে, কাজে-কর্মে, এমনকি আমল-ইবাদত থেকে শুরু করে জ্ঞানার্জনেও আমরা বারাকাহ হারাতে পারি। মনে হতে পারে প্রবল প্রচেষ্টার পরেও প্রাপ্তির খাতাটা কেমন যেন শূন্যতায় ঠাসা! কোথাও যেন স্বস্তি নেই, যেন কোথাও নেই একটু আনন্দ আর আয়েশের ঘনঘটা।

    জীবনে যখনই এ ধরনের মুহূর্তের মুখোমুখি হবো, সবার আগে আমাদেরকে মনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। যে আয়নায় চেহারা দেখা যায়, তাতে মনের রোগ ধরা পড়ে না, কিন্তু মনের আয়নায় সুন্দর মুখাবয়বের দেখা না মিললেও, মনের রোগগুলো তাতে একে একে ভেসে উঠতে থাকে; অবশ্য যদি সে ইচ্ছে ও আন্তরিকতা নিয়ে আমরা মনের আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারি তবেই তো!

    আকাশে মেঘ জমলে আদিগন্ত নীলাকাশ মেঘের আড়ালে লুপ্ত হয়ে যায়, প্রবল প্রতাপের সূর্য-রশ্মি মিলিয়ে যায় অন্ধকারের গহ্বরে। এমন মুহূর্তে ঝকঝকে নীলাকাশ দেখতে হলে শর্ত কী? শর্ত হলো–আকাশ থেকে মেঘ কেটে যাওয়া। মেঘ কেটে গেলেই আবার আমরা দূরদ্বিগলয়লীন নীল আকাশ দেখতে পাই, সূর্য-কিরণে আবারও গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে প্রকৃতি।

    জীবনে বারাকাহ লাভের এবং বারাকাহ হারানোর ব্যাপারগুলোও একইরকম। জীবন হলো সেই সীমানা-বিহীন আকাশের মতোই, আর তার নীল রঙ এবং অবারিত সূর্য-কিরণ হলো বারাকাহ-র প্রতিচ্ছবি। জীবনের আকাশে যখন মেঘের আস্তরণ পড়বে, যখন তাতে দলে দলে ঘনীভূত হবে কালো মেঘ, তখন বারাকাহ হিশেবে পাওয়া অবারিত নীল আর সূর্য-কিরণ জীবনাকাশ থেকে লুপ্ত হবে–এই তো স্বাভাবিক।

    তবে সেই মেঘ কেন জমে, কোথায় তার উৎসস্থল, সেটা নির্ণয় করা গেলে, তা সংশোধন করা গেলে ঘনায়মান মেঘের অন্ধকার গহ্বর থেকে জীবনের নীল আর প্রভাতের সূর্য-কিরণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

    চার.

    পুনরুদ্ধার? কিন্তু কীভাবে?

    জীবনে যে পথে বারাকাহ আসে, কিংবা যে পথে রুদ্ধ হয়ে যায় বারাকাহ লাভের দুয়ার, সেই পথগুলোেতে অনুসন্ধান চালিয়ে। আপনার সেই গুনাহটার কথা ভাবুন তো, যা আপনি নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছেন। যা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আপনার রাজ্যের অনীহা! আছে এমন কোনো গুনাহ আপনার? সেটা হতে পারে দৃষ্টির হিফাযত না করা, পরনারী বা পরপুরুষের দিকে নিজেকে আকৃষ্ট করে রাখা, চোখের যিনায় নিজেকে মগ্ন করে রাখা, নেট দুনিয়ায় অশ্লীল-অশালীন ভিডিও দেখে বেড়ানো।

    অথবা কখনো কি কারো আমানত নষ্ট করেছেন? কেউ বিশ্বাস করে আপনার কাছে কোনো আমানত গচ্ছিত রেখেছে, কিন্তু আপনি তা ভোগ করে বসে আছেন? সেই আমানত হতে পারে তার অর্থকড়ি, যা আপনি যথেচ্ছ খরচ করে ফেলেছেন; হতে পারে তার গোপন কোনো কথা, যা আপনি অন্যদের বলে বেড়িয়েছেন; হতে পারে অর্পিত কোনো দায়িত্ব, যা আপনি পালন করেননি। আছে এমন কিছু?

    কিংবা কারো হক কি নষ্ট করেছেন কোনোদিন? কোনো ইয়াতিমের সম্পদ ভোগ করা কিংবা কারো ন্যায্য পাওনা না দেওয়া? ক্ষমতা দেখিয়ে কোনোদিন কি কারো জমি-জমা দখল করেছেন বা হাতিয়ে নিয়েছেন কোনো ব্যক্তির জমানো অর্থ-সম্পদ?

    আল্লাহর সাথেই-বা আপনার সম্পর্কটা কেমন? তিনি যে কাজগুলো আপনার জন্য ফরয করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারে আপনি কতখানি যত্নবান? আযান শুনে আপনি কি মসজিদে যাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন নাকি বুঁদ হয়ে থাকেন নিজের কাজে? আপনার ওপর যাকাত ফরয হওয়ার পরেও কি কৃপণতা করে তা আদায় করেন না? আপনার কুরবানিগুলো কি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর জন্যই হয় নাকি সমাজে আপনি কত বড়লোক তা প্রমাণের উপলক্ষ হয়ে ওঠে? রামাদানের সিয়াম পালনে আপনার আন্তরিকতা কেমন? নাকি তা কেবলই উপোস থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা হয়েই থাকে?

    এসব হলো ‘মনের আয়না’র কয়েকটা উদাহরণ। সত্যিকার অর্থে কোন গোপন গুনাহে আপনি নিমজ্জিত, তা আপনার রব আর আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। জীবনে হারানো বারাকাহ পুনরুদ্ধারে তাই মনের সেই আয়নার সামনে আজকেই দাঁড়িয়ে যান। যে নিরন্তর পাপ কাজে নিমজ্জিত আছেন, তা থেকে নিজেকে অতি-শীঘ্রই টেনে তুলুন। যেখানে যার সাথে যা অন্যায় করেছেন, সম্ভব হলে সেগুলো মিটিয়ে নিন। যার পাওনা অপরিশোধিত আছে, তা পরিশোধ করে দেন। যদি তা না-ও পারেন, অন্তত তার কাছে গিয়ে করজোড়ে ‘দুঃখিত’ বলে ক্ষমা চান। আল্লাহর যে হকগুলো আদায়ে আপনি উদাসীন হয়ে আছেন, সেগুলোতেও তৎপর হতে হবে আপনাকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে–আজ থেকে আর কোনোদিন এক ওয়াক্ত সালাত কাযা করা যাবে না। মিথ্যা কথা বলা যাবে না। খারাপ কাজ করা, খারাপ কথা শোনা, খারাপ কিছু দেখা যাবে না। রামাদান মাসে নিজেকে নিবিড়ভাবে সঁপে দিতে হবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে। যাকাত আদায়ে আর কোনো কৃপণতা নয়। এবার থেকে কুরবানিগুলো হবে সত্যিকার অর্থে আল্লাহর জন্যই।

    মনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যদি খুঁজে বের করে আনতে পারেন জীবন থেকে বারাকাহ কমে যাওয়ার সত্যিকার কারণ, তবে সেটাই আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে দাঁড়াবে।

    পাঁচ.

    জীবনে বারাকাহ লাভের কিংবা হারানো বারাকাহ পুনরুদ্ধারের কার্যকরী একটা পন্থা হলো ইস্তিগফার।

    জনপদে বহুদিন ধরে বৃষ্টি হয় না। মাঠ ফেঁটে চৌচির। পানির জলাশয়গুলো শুকিয়ে আস্তে আস্তে বিলীন হতে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষের জীবন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এমন করুণ অবস্থার কথা বর্ণনা করে এক লোক হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহর কাছে এসে বললো, ‘ইয়া শাইখ, বহুদিন বৃষ্টির দেখা নেই। জীবনধারণ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। আমাদের এই বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেন।

    তখন হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করো। বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ো।

    অন্যদিন আরেকজন এলো হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহর কাছে। এসে বললো, ‘শাইখ, দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছি। আয়-রোজগার নেই কোনো। সন্তান সন্ততি নিয়ে উপোসে কাটছে দিন। এই সমস্যা থেকে বাঁচবার পথ বাতলে দেন, দয়া করে।

    হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘অধিক পরিমাণে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করো। বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ো৷

    তৃতীয় একজন এসে বললো, ‘শাইখ, বিয়ের এতগুলো বছর পার হলো, কিন্তু কোলজুড়ে কোনো সন্তানাদি এলো না এখনো। আপনি কি আমাদের সন্তানাদি লাভের কোনো আমল শিখিয়ে দিতে পারেন?

    হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ তাকেও বললেন, ‘অত্যধিক পরিমাণে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ো৷

    প্রত্যেককে একই উপদেশ আর পরামর্শ দিতে দেখে, তখন একজন জিগ্যেশ করে বসল, ‘ইয়া শাইখ, কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে এলেই আপনি তাকে একই সমাধান। দিচ্ছেন। ইস্তিগফার করতে বলছেন। এমনটা কেন?

    লোকটার প্রশ্নের জবাবে তখন হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘তোমরা। কি আল্লাহর কিতাবের ওই কথাগুলো পড়োনি?’ এরপর তিনি সুরা নুহের আয়াতটা তিলাওয়াত করলেন–

    ‘আর আমি তাদেরকে বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করো; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল।(তোমরা ইস্তিগফার করলে) তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টিবর্ষণ করবেন। আর তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি দিয়ে। তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত নদীমালা।[১][২]

    নুহ আলাইহিস সালাম তার অবাধ্য জাতিকে বলছেন, যেন তারা আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার তথা ক্ষমাপ্রার্থনা করে। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করলে কী হবে? নুহ আলাইহিস সালাম বলে দিচ্ছেন–তারা যদি ক্ষমাপ্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জন্য মুষলধারে বৃষ্টিবর্ষণ করবেন, তাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তানাদি দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন এবং সাথে আছে জান্নাতের চির সবুজ উদ্যান আর প্রবাহিত নদীমালার নিশ্চয়তা। এটা নুহ আলাইহিস সালাম কর্তৃক দেওয়া আল্লাহর একটা ওয়াদা। সবকিছুর জন্য শর্ত কী? ইস্তিগফার তথা আল্লাহর কাছে অবারিত ক্ষমাপ্রার্থনা করা।

    ক্ষমাপ্রার্থনা করলে কুরআনুল কারিমে দুনিয়ায় তিনটা জিনিস দেওয়ার কথা আছে– এক. মুষলধারে বৃষ্টি। দুই. সম্পদ। তিন, সন্তানাদি।

    তবে অবারিত ক্ষমাপ্রার্থনার ফলাফল কি কেবল এই তিনটা বিষয়েই সীমাবদ্ধ? এর বাইরে আল্লাহ কি আর কিছুই দেবেন না বান্দাদের? দেবেন তো অবশ্যই। এই আয়াতে যে তিনটা বিষয়ের কথা এসেছে, ওই তিনটা জিনিসের প্রকট ঘাটতি ছিলো নুহ আলাইহিস সালামের জাতির মাঝে। প্রচণ্ড খরায় তাদের জীবন দুর্বিষহ ছিলো, দরিদ্রতায় তারা নাস্তানাবুদ হচ্ছিলো তখন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলো নিঃসন্তান। কোনো সন্তানাদি হচ্ছিলো না। এজন্যই এই আয়াতে তাদের সমস্যাগুলোকে ধরে কথা বলা হয়েছে মূলত। কিন্তু আয়াতটার গূঢ় অর্থ হচ্ছে এই–বান্দার যদি কোনোকিছুর দরকার হয়, যদি তার জীবনে কোনোকিছুর ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়, যদি তার কোনোকিছু পেতে ইচ্ছে করে, তবে সে যেন আল্লাহর কাছে অবারিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তবেই আল্লাহ তার মনোবা পূরণ করে দেবেন।

    ইস্তিগফার নিয়ে চমৎকার একটা ঘটনা পাওয়া যায় ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহর জীবনীতে। একবার ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ শামের একটা শহর হয়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ইশার সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তিনি কাছের এক মসজিদে ঢুকলেন সালাত আদায়ের জন্য।

    যেহেতু রাত হয়ে গেছে এবং তাকে যেতেও হবে অনেকদূর, তাই ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ রাতটা ওই মসজিদে কাটানোর ব্যাপারে মনস্থির করলেন। যাতে ফজর সালাত পড়ে ভোরে ভোরেই তিনি পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পারেন।

    তল্পিতল্পা নিয়ে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ মসজিদে ঢুকলেন এবং যথারীতি ইশার সালাত আদায় করলেন। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধলো তার পরে। ইমাম আহমাদকে সালাত শেষ করার পরেও মসজিদে বসে থাকতে দেখে মসজিদের দ্বাররক্ষী বললো, ‘মসজিদ বন্ধ করা হবে। আপনার সালাত কি শেষ হয়েছে?

    দ্বাররক্ষীর প্রশ্নের জবাবে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘জি, আমার সালাত শেষ হয়েছে; কিন্তু আমার ইচ্ছা যে, আজ রাতটা আমি এই মসজিদেই কাটাবো। আসলে আমি একজন মুসাফির। আমার গন্তব্য এখান থেকে বহুদূরে। রাতের অন্ধকার আর সফরের ক্লান্তির কথা ভেবে আমি রাতের বিশ্রামটা এখানে করতে চাই।

    চারদিকে তখন যদিও ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহর অনেক সুনাম আর খ্যাতি, তবু শামের ওই অঞ্চলের মানুষ যেহেতু ইতোপূর্বে ইমাম আহমাদকে স্ব-শরীরে কখনো দেখেনি, তাই ব্যক্তি হিশেবে তাকে কেউ চেনে না। মসজিদের ওই দ্বাররক্ষীও ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহকে চিনতে পারেনি।

    ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ মসজিদে থাকতে চাচ্ছেন শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো দ্বাররক্ষী। সে বললো, ‘না না। মসজিদে থাকা যাবে না। আমাকে এক্ষুনি মসজিদে তালা দিতে হবে। দয়া করে আপনি থাকবার জন্য অন্য ব্যবস্থা দেখুন।

    নিজের মুসাফির পরিচয় এবং সফরের ক্লান্তির কথা শুনিয়েও দ্বাররক্ষীর মন গলাতে ব্যর্থ হলেন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত সফরের তল্পিতল্পা নিয়ে তাকে মসজিদের বাইরে বের হয়ে আসতে হলো।

    মসজিদের বাইরেই ছিলো একটা রুটির দোকান। রুটিওয়ালা মসজিদের দ্বাররক্ষী ও ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের মধ্যকার কথাবার্তা কিছুটা আঁচ করতে পেরে ইমাম আহমাদকে বললেন, ‘জনাব, যদি কিছু মনে না করেন, আমার রুটির দোকানে আপনি রাতটা পার করতে পারেন। আপনি মুসাফির মানুষ। সফরের ক্লান্তি নিয়ে এই দীর্ঘ রাতে দূরের পানে যাত্রা করা আপনার উচিত হবে না। আমার এখানে থাকতে আশা করছি আপনার কোনো অসুবিধে হবে না।

    রুটিওয়ালার আতিথ্য গ্রহণ করলেন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ। তিনি তার তল্পিতল্পা নিয়ে রাতের বিশ্রামের জন্য রুটির দোকানটায় ঢুকে পড়লেন।

    রুটির দোকানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বেশ অভিনব একটা ব্যাপার খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন, যে রুটির দোকানদার তাকে এই বিজন রাতে তার দোকানে থাকবার ঠাঁই দিয়েছেন, সেই রুটিওয়ালার মুখে গুনগুন শব্দে সর্বদা ইস্তিগফার উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ঠোঁট নেড়ে নেড়ে এক-ধ্যানে আওড়াচ্ছেন–’আসতাগফিরুল্লাহ… আসতাগফিরুল্লাহ… আসতাগফিরুল্লাহ।

    ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহর। এমন চমৎকার আমলের ব্যাপারে কৌতূহল আটকে রাখতে না পেরে তিনি রুটিওয়ালাকে বললেন, ‘আচ্ছা ভাই, যদি কিছু মনে না করেন, একটা কথা জানতে পারি?

    রুটিওয়ালা বিনীত গলায় বললেন, ‘অবশ্যই! অবশ্যই!

    ‘এখানে আসার পর থেকে দেখছি আপনার মুখে সর্বদা ইস্তিগফার লেগে আছে। নিবিষ্ট মনে আপনি সারাটা সময় ইস্তিগফারে মজে থাকছেন। নিঃসন্দেহে এটা অতি উত্তম একটা আমল। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে–এই আমলের কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জীবনে কোনো রহমত নাযিল করেছেন কি না?’

    রুটিওয়ালা স্মিত হেসে বললেন, ‘জি। এই আমলটার কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে তাঁর অপার অনুগ্রহে সিক্ত করেছেন।

    ‘কীরকম?’-ইমাম আহমাদের জিজ্ঞাসা।

    এবার রুটিওয়ালা বললেন, ‘আজ পর্যন্ত আমার এমন কোনো দুআ নেই, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কবুল করেননি।

    রুটিওয়ালার কথা শুনে বিস্মিত হয়ে যান ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ! আল্লাহর যমিনে এমন বান্দাও আছে, যার কোনো দুআ ব্যর্থ হয় না? সে যা চায়, আল্লাহ তা দিয়ে দেন? সুবহানাল্লাহ!

    বিস্ময়ের রেশ গলায় ধরে রেখেই তিনি রুটিওয়ালাকে বললেন, তার মানে, আপনার সব দুআই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়?’

    ‘জি, কেবল একটা দুআ আমার বাকি আছে, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এখনো কবুল করেননি।

    ‘কোন দুআ?’–জানতে চাইলেন ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল।

    ‘আল্লাহর এক মুখলিস বান্দা, ইমাম আহমাদকে দেখার আমার বড় শখ! আল্লাহর কাছে করজোড়ে ফরিয়াদ করে যাচ্ছি, যাতে জীবনে অন্তত একবার তাকে আমি চোখের দেখা দেখতে পারি।’

    রুটিওয়ালার কথা শুনে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ। বান্দার দুআ দয়াময় আল্লাহ কতভাবে যে কবুল করেন, তা ভেবে অশ্রুজলে সিক্ত হতে লাগলো তার দু-চোখ। তাকে এভাবে কাঁদতে দেখে রুটিওয়ালা বললেন, আপনার চোখে পানি কেন? আমি কি কোনোভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি?

    ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ তার কান্না বিজড়িত গলায় বললেন, আপনার কবুল না হওয়া দুআটাও আজ কবুল হলো, ভাই। আপনার সম্মুখে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তিনিই আহমাদ ইবনু হাম্বল। নিশ্চয় আপনার দুআর কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার বান্দা আহমাদকে আপনার দোরগোড়ায় টেনে এনেছেন।[৩]

    ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ এবং রুটিওয়ালার গল্পের সবচেয়ে মুখ্য বিষয়টা হলো–অবিরত ইস্তিগফার! রুটিওয়ালা সর্বদা, তার কাজের ফাঁকে ফাঁকে বলতেন–আসতাগফিরুল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ! এই আমলটা তার জীবনের একটা নিত্য-নৈমিত্তিক রুটিন হয়ে দাঁড়ালো। যখনই সময় পান, তখনই ইস্তিগফারে মশগুল থাকার কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার জীবনের সমস্ত দুআ কবুল করতেন। তার ইস্তিগফার অবশ্যই তোক দেখানো ছিলো না এবং তাতে ছিলো না কোনো খেয়ালিপনাও। হৃদয়ের গভীর থেকে সত্যিকারভাবে তিনি আল্লাহর কাছে এই ইস্তিগফারের মাধ্যমে তাওবা করতেন বলেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরস্কার হিশেবে তার দুআগুলো কবুল করে নিতেন। এমনকি ইমাম আহমাদকে দেখার যে বাসনা তার ছিলো, সেটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূরণ করে দিলেন একদিন। তার সেই বাসনা পূরণ করার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে ইমাম আহমাদের কাছে টেনে নেননি, বরং ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহকেই টেনে এনেছিলেন তার কাছে।

    ইস্তিগফারের এই হলো শক্তি!

    আপনি কি সংসার জীবনে ভীষণ অসুখী? স্ত্রীর সাথে, বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে নিত্য-নিয়মিত মনোমালিন্য হচ্ছে? মনে হচ্ছে সংসার জীবন থেকে বারাকাহ হারিয়েছেন? তাহলে আজ থেকে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পাঠ শুরু করুন।

    আপনার কি চাকরি হচ্ছে না? বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে ঘুরছেন? অর্থকষ্টে আপনার জীবনটাই নাজেহাল? জীবন-সমুদ্রে খুঁজে পাচ্ছেন না পথের দিশা? আপনার জন্য কুরআনের সমাধান–অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার।

    আপনার ভালো ক্যারিয়ার চাই, ভালো জীবনসঙ্গী চাই, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল চাই-ইস্তিগফার! ইস্তিগফার! ইস্তিগফার!

    আপনি যা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, তার সামনে একটা দেওয়াল তৈরি হয়ে আছে। সেই দেওয়াল ভেদ করে কাঙ্ক্ষিত বস্তু আপনার কাছে আসতে পারছে না। তাহলে আপনার কাজটা কী? আপনার কাজ হলো বাধার সেই দেওয়ালটা ভেঙে দেওয়া, যাতে আপনি পৌঁছাতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। সেই দেওয়াল ভাঙার কাজে আপনার হাতে সবচাইতে যে মজবুত শাবলটি আছে তার নাম হলো ইস্তিগফার! ইস্তিগফারের এত ক্ষমতা যে জীবনে যদি একবার তার ফল পান, তাহলে বিস্ময়াবিভূত হয়ে যাবেন।

    ইস্তিগফার বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। আপনার জীবনে যা এতদিন কেবল স্বপ্ন ছিলো, আপনার অবারিত ইস্তিগফার সেগুলোকে রূপ দিতে পারে বাস্তবতায়। কল্পনাতেও যা আপনার কাছে ছিলো অসম্ভব, ইস্তিগফার আপনাকে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে সেই সম্ভাবনার দুয়ারে।

    মদিনায় একবার ভীষণরকম খরা দেখা দিলে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু লোকজনকে নিয়ে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে আরম্ভ করেন। সেদিন কেবল ইস্তিগফার পাঠ করেই উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেমে গেলে অন্যরা তাকে প্রশ্ন করলো, ‘ইয়া আমিরুল মুমিনিন, আপনি তো কেবল ইস্তিগফার পাঠ করেই থেমে গেলেন। অন্য কোনো দুআ তো আল্লাহর কাছে করলেন না।

    তাদের জবাবে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘ইস্তিগফার দুআ কবুলের এমন এক জায়গায় আঘাত হানে, যেখানে কোনো দুআ ব্যর্থ হয় না।[৪]

    উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথাগুলো আপনার জীবনের জন্যও ভীষণরকম সত্যি। দুআ কবুলের সেই দরোজাটা আপনার জন্যও ভোলা আছে, যেভাবে ভোলা ছিলো উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর জন্য, মদিনাবাসীদের জন্য। সেই দরোজাটা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু চিনেছেন বলেই নিশ্চিন্তে বলতে পেরেছেন–’ইস্তিগফার দুআ কবুলের এমন এক জায়গায় আঘাত হানে, যেখানে কোনো দুআ ব্যর্থ হয় না।

    ইস্তিগফারের শক্তি তারা চিনেছেন, আমরা চিনবো কবে?

    ছয়.

    কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দুটো ওয়াদা আছে। দুটো অবস্থায় তিনি আমাদের ওপর আযাব নাযিল করবেন না বলে জানিয়েছেন। একটা হলো যতক্ষণ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে জীবিত আছেন, আর অন্যটা হচ্ছে–যতক্ষণ আমরা আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার তথা ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকবো।

    যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে আছেন (ইয়া মুহাম্মাদ), ততক্ষণ আল্লাহ তাদের ওপর কোনো আযাব নাযিল করবেন না, এবং যতক্ষণ তারা ইস্তিগফার করতে থাকবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাদের আযাব দেবেন না(৫)

    দুটো সুযোগের একটা আমরা হারিয়েছি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর মাধ্যমে। যেহেতু তিনি আমাদের মাঝে নেই, সুতরাং প্রথম শর্তটাও আর বলবৎ থাকবে না, কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগটা আমাদের জন্য মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত খোলা। আল্লাহ বলছেন যে, আমরা যদি তাঁর কাছে অবারিত ইস্তিগফার তথা ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে থাকি, তাহলে আমাদের জীবনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কোনো আযাব নেমে আসবে না।

    আল্লাহর আযাব বড় কঠিন জিনিস! আল্লাহর ক্রোধে আপনার জীবন লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে মুহূর্তেই। যে পাপের দরিয়ায় আপনি হাবুডুবু খাচ্ছেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ যদি আপনাকে শাস্তি দিতে চান, তাহলে চোখের পলকে তিনি আপনার জীবনকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারেন। আপনার জীবনে থাকা সুখ ছিনিয়ে নিতে পারেন, আপনার সম্পদ কেড়ে নিতে পারেন, ধূলিসাৎ করে দিতে পারেন আপনার মান-মর্যাদা। আপনার জীবনটাকে বিষিয়ে তুলতে আল্লাহর একটু অসন্তুষ্টিই যথেষ্ট।

    তবে আপনি যদি ফিরে আসেন, যদি যাবতীয় ভুলের জন্য করজোড়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করেন, যদি অনুতপ্ত হোন, অনুশোচনায় যদি আপনি নত হতে পারেন, তিনি বলছেন–তাঁর আযাব তিনি আপনার ওপর আরোপিত করবেন না।

    জীবনের বদ্ধ দুয়ারগুলো খোলার জন্য আপনার হাতে একটা চাবি আছে। সেই চাবির নাম ইস্তিগফার। চাবিটা ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য আজ থেকেই তৎপর হয়ে পড়ুন। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ শব্দটাকে বানিয়ে নিন জীবনের নিত্য সঙ্গী।

    ————
    [1] সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২ [২] আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (তাফসিরুল কুরতুবি), ইমাম কুরতুবি, খণ্ড : ১৮; পৃষ্ঠা : ৩০২

    [3] সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড : ১১; পৃষ্ঠা : ৩২১-৩২২; মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা : ৫১২

    [4] তাফসিরুল কুরতুবি, খণ্ড :১৮; পৃষ্ঠা : ৩০২; জামিউল আহাদিস: ২৯৮৮৪; আল-লুবাব ফি উলুমিল কিতাব, খণ্ড : ১৯; পৃষ্ঠা : ৩৮৫

    [5] সুরা আনফাল, আয়াত : ৩৩

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত
    Next Article জীবন যেখানে যেমন – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }