Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নতুন বাংলার প্রথম কবি

    তোমরা কবি ঈশ্বর গুপ্তের কবিতা পড়েছ? পুরোনো বাংলার শেষ কবি ভারতচন্দ্র আর রামপ্রসাদ। নূতন বাংলার প্রথম কবি ঈশ্বর গুপ্ত। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিছু কম দেড়শো বছর আগে (১২১৮ সালে)।

    যে যুগে পলাশির যুদ্ধ হয়, ভারতচন্দ্র ও রামপ্রসাদ ছিলেন সেই যুগের কবি। এ-দেশে ইংরেজ তখন সবে শিকড় গেড়ে কায়েমি হয়ে বসবার চেষ্টা করছে, কিন্তু ব্রিটিশ রাজ্যের বনিয়াদ তখনও শক্ত হয়নি এবং ইংরেজিয়ানা বলতে কী বুঝায়, বাঙালি তাও জানত না। তাই ভারতচন্দ্র ও রামপ্রসাদের সমস্ত কবিতা তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও এতটুকু ফিরিঙ্গি গন্ধ আবিষ্কার করা যাবে না। এই জন্যেই বলতে হয় খাঁটি বাংলার শেষ কবি ভারতচন্দ্র আর রামপ্রসাদ।

    কিন্তু ঈশ্বর গুপ্তের যুগে এ দেশে বইতে শুরু করেছে দস্তুরমতো বিলাতি হাওয়া। বাঙালি ইংরেজি বলতে, কোট-পেন্টুলুন পরতে, খানার টেবিলে বসে ছুরি-কাঁটা ধরতে, রামপাখি খেতে এবং সভায় গিয়ে রাজনীতি নিয়ে বক্তৃতা করতে শিখেছে। ঈশ্বর গুপ্তের বহু ব্যঙ্গ-কবিতার ভিতরে সেই সব ইঙ্গ-বঙ্গ উপসর্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর পূর্ববর্তী কোনও বাঙালি কবির কাব্যে ওই সব বিষয় স্থান পায়নি। এই জন্যেই তাঁকে বলি নূতন বাংলার প্রথম কবি।

    দেশের হালচাল দেখে গুপ্তকবি দুঃখ করে বলছেন :

    ‘একদিকে দ্বিজ তুষ্ট গোল্লাভোগ দিয়া,
    আরদিকে মোল্লা ব’সে মুর্গি মাস নিয়া।
    একদিকে কোশকুশী আয়োজন নানা,
    আরদিকে টেবিলে ডেবিলে খায় খানা।
    পিতা দেয় গলে সূত্র, পুত্র ফেলে কেটে,
    বাপ পুজে ভগবতী, বেটা দেয় পেটে।’

    মেয়েদের ইংরেজিয়ানার দিকে সত্যদ্রষ্টা কবি যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আজ তা প্রায় অক্ষরে অক্ষরে সফল হয়েছে :

    তখন, ‘এ-বি’ শিখে, বিবি সেজে
    বিলাতী বোল কবেই কবে।
    এখন, আর কি তারা সাজি নিয়ে
    সাঁজ-সেঁজোতির ব্রত গাবে?
    সব, কাঁটা-চামচে ধরবে শেষে
    পিঁড়ি পেতে আর কি খাবে?
    ও ভাই, আর কিছুদিন বেঁচে থাকলে
    পাবেই পাবেই দেখতে পাবে,
    এরা, আপন হাতে হাঁকিয়ে বগী,
    গড়ের মাঠে হাওয়া খাবে।”

    ঈশ্বর গুপ্তের আর একটি মস্ত গুণ, বাংলা কাব্য-সাহিত্যে তিনিই হচ্ছেন প্রথম স্বদেশভক্ত কবি। তাঁর পূর্ববতী বাঙালি কবিরা দেশকে ভালোবাসতেন না, এমন অপবাদ দিতে পারি না—স্বদেশকে ভালোবাসে না এমন অমানুষ কে আছে? নিশ্চয়ই তাঁরা স্বদেশকে ভালোবাসতেন। কিন্তু স্বদেশের আশা-নিরাশা আলোচনা করা তাঁরা কাব্যের ধর্ম বলে মনে করতেন না। দৃষ্টান্তস্বরূপ ভারতচন্দ্রকে দেখানো যেতে পারে। বিধর্মী ফিরিঙ্গির আক্রমণে দেশের সর্বনাশ হল পলাশির প্রান্তরে। এতবড় একটা ওলটপালটে বাঙালি ভারতচন্দ্র যে প্রাণে বেদনা অনুভব করেছিলেন, এটুকু আমরা অনায়াসেই অনুমান করে নিতে পারি। কিন্তু তাঁর সমগ্র কাব্যগ্রন্থাবলীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না কবির সে বেদনাকে।

    কিন্তু ঈশ্বর গুপ্তই নানা কবিতার ভিতর দিয়ে বাঙালি জাতিকে সর্বপ্রথমে শোনান অধীনতার দুঃখ এবং স্বদেশের দুর্দশার কথা। তিনি হচ্ছেন বাংলার প্রথম চারণ-কবি এবং পরে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেখা দিয়েছেন : মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও দ্বিজেন্দ্রলাল প্রমুখ। তাঁর ‘স্বদেশী কবিতার কিছু কিছু নমুনা উদ্ধার করছি।

    স্বদেশ সম্বন্ধে কবির উক্তি :

    ‘জানো না কি জীব তুমি, জননী জনমভূমি,
    সে তোমারে হৃদয়ে রেখেছে।
    থাকিয়া মায়ের কোলে, সন্তানে জননী ভোলে,
    কে কোথায় এমন দেখেছে।’

    ভারতবাসীকে সম্বোধন করে কবি বলছেন :

    ‘জাগ জাগ জাগ সব ভারত-কুমার,
    আলস্যের বশ হয়ে ঘুমায়োনা আর।
    তোল তোল তোল মুখ, খোল রে লোচন,
    জননীর অশ্রুপাত কর রে মোচন।
    ভেঙেছে শোবার খাট পড়িয়াছে ভূমে,
    এখনও তোমার এত সাধ কেন ঘুমে?’
    কবির এই আশা আজ সফল হয়েছে :
    স্বাধীনতা মাতৃস্নেহে, ভারতের জরা দেহে
    করিবেন শোভার সঞ্চার।
    দূর হবে সব ক্লান্তি, পালাবে প্রবলা ভ্রান্তি,
    শান্তিজল হবে বরিষণ!
    পুণ্যভূমি পুনর্বার, পূর্বমুখ সহকার,
    প্রাপ্ত হবে জীবন-যৌবন।’

    অন্যত্র :

    ‘জন্মভূমি জননীর
    কোলেতে বসেছি।’

    আর এক জায়গায় :

    ‘ভারতের দৃশ্য হেরি বিদরে হৃদয়।
    জননী দুর্ভাগ্যে যথা অর্পিত তনয়।’

    আবার :

    ‘জননী ভারতভূমি
    আর কেন থাক তুমি,
    ধর্মরূপে ভূষাহীন হয়ে?
    তোমার কুমার যত
    সকলেই জ্ঞানহত,
    মিছে কেন মর ভার বয়ে?’

    অন্যত্র বলেছেন :

    ‘ভ্রাতৃভাব ভাবি মনে, দেখ দেশবাসিগণে,
    প্রেমপূর্ণ নয়ন মেলিয়া।
    কত রূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি,
    বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।’

    বিলাতের টোরি ও হুইগ সম্বন্ধে :

    ‘কিছুমাত্র নাহি জানি রাম রাম হরি,
    কারে বলে রেডিকেল, কারে বলে টোরি।
    হুইগ কাহারে বলে কেবা তাহা জানে,
    হুইগের অর্থ কভু শুনি নাই কানে।
    টোরি আর হুইগের যে হন প্রধান,
    আমাদের পক্ষে ভাই সকল সমান।’

    ইংরেজ সম্পাদক সম্বন্ধে :

    ‘এ দেশেতে আছে যত সম্পাদক সাদা,
    সকলেই আমাদের বড় ভাই—দাদা।’

    বহু-ব্যবহারের ফলে এ-সব ভাব ও কথা আজকাল এত সাধারণ হয়ে পড়েছে যে, আমাদের হৃদয়তন্ত্রীতে ঝঙ্কার তোলবার ক্ষমতা হয়তো আর ওদের নেই। কিন্তু ঈশ্বর গুপ্তের সমসাময়িক যুগে ওই সব ভাব এবং ‘জননী জনমভূমি’ ও ‘জননী ভারতভূমি’ প্রভৃতি কথা যে বাঙালিদের মনে কতখানি অপ্রত্যাশিত বিস্ময় জাগিয়ে তুলত, সেটুকু কল্পনা করা কঠিন নয়! জন্মভূমিকে মা বলে ডাকতে পেরেছিলেন বাঙালি কবিদের মধ্যে ঈশ্বর গুপ্তই সর্বপ্রথমে।

    তবে নীচের এই কয়েকটি পঙক্তি লিখতে পারলে একালেরও যে-কোনও প্রথম শ্রেণির কবি গৌরব অনুভব করতেন :

    ‘ভ্রাতৃভাব ভাবি মনে, দেখ দেশবাসিগণে,
    প্রেমপূর্ণ নয়ন মেলিয়া।
    কত রূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি,
    বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।’

    ঈশ্বর গুপ্তের কাব্য সমালোচনা করতে বসে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন : ‘দেশবাৎসল্য! বাৎসল্য পরমধর্ম; কিন্তু এ ধর্ম অনেক দিন হইতে বাঙালা দেশে ছিল না। কখনও ছিল কি না, বলিতে পারি না। এখন ইহা সাধারণ হইতেছে দেখিয়া আনন্দ হয়, কিন্তু ঈশ্বর গুপ্তের সময়ে ইহা বড়ই বিরল ছিল। তখনকার লোকে আপন আপন সমাজ, আপন আপন জাতি বা আপন আপন ধর্মকে ভালোবাসিত, ইহা দেশবাৎসল্যের ন্যায় নহে—অনেক নিকৃষ্ট। মহাত্মা, রামমোহন রায়ের কথা ছাড়িয়া দিয়া রামগোপাল ঘোষ ও হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়কে বাঙালা দেশে দেশবাৎসল্যের প্রথম নেতা বলা যাইতে পারে। ঈশ্বর গুপ্তের দেশবাৎসল্য তাঁহাদিগেরও কিঞ্চিৎ পূর্বগামী।’

    এই তো গেল ঈশ্বরচন্দ্রের একটা দিক। আর একদিক দিয়ে দেখি তাঁকে সাহিত্য-গুরুরূপে। নতুন নতুন লেখক তৈরি করবার জন্যে তিনি প্রকাশ করতেন বিপুল উৎসাহ। সে-কালের অনেক লেখকেরই হাতে-খড়ি হয়েছিল তাঁর সাহিত্য-পাঠশালায়। রচনা-শক্তি প্রকাশ করলে ছাত্রদের জন্যে তিনি নগদ টাকা পুরস্কারের ব্যবস্থাও করতেন। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনের নাম বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে—বঙ্কিমচন্দ্র ও দীনবন্ধু, কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যকার মনোমোহন বসু ও গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

    পুরাতন ‘সংবাদ প্রভাকর’-এ প্রকাশিত ঈশ্বরচন্দ্রের ছাত্রদের কবিতা পাঠ করবার সুযোগ আমার হয়েছে। দেখেছি, ঈশ্বরচন্দ্র কেবল নতুন কবিদের কবিতাই প্রকাশ করতেন না, সেইসঙ্গে প্রকাশ করতেন ছাত্রদের দোষ ও গুণ সম্বন্ধে নিজের মতামতও। তরুণ বঙ্কিমচন্দ্র সম্বন্ধে বলেছিলেন : ‘বঙ্কিমের ভাষা কিঞ্চিৎ বঙ্কিম।’ তাঁকে উপদেশ দিয়েছিলেন সরল ভাষায় লিখতে। পদ্যের চেয়ে গদ্যই বঙ্কিমের পক্ষে অধিকতর উপযোগী, এমন কথাও বলেছিলেন। তাঁর শেষোক্ত উক্তিটি রীতিমতো ভবিষ্যদ্বাণীর মতো। পরে প্রমাণিত হয়েছিল তার সত্যতা।

    সাহিত্যই ছিল ঈশ্বরচন্দ্রের জীবনের একমাত্র সাধনা এবং সেই জন্যেই বাংলাদেশে যাতে সাহিত্যসাধকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তিনি বরাবরই সেই চেষ্টা করে গিয়েছেন। তাঁর এই উক্তিটির তুলনা নেই :

    ‘যে ভাষায় হতে প্রীত পরমেশ-গুণ-গীত
    বৃদ্ধকালে গান কর মুখে।
    মাতৃ-সম মাতৃ-ভাষা পুরালে তোমার আশা,
    তুমি তার সেবা কর সুখে।’

    আর একদিকে দিয়েও দেখা যায় ঈশ্বর গুপ্তকে। প্রথমে তাঁর সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের কথা উদ্ধার করি : ‘তিনি সদাই হাস্যবদন। মিষ্টি কথা, রসের কথা, রসের হাসির কথা নিয়তই মুখে লাগিয়া থাকিত। রহস্য এবং ব্যঙ্গ তাঁহার প্রিয় সহচর ছিল। কপটতা, ছলনা, চাতুরী জানিতেন না। তিনি সদালাপী ছিলেন। কথায় হউক, বক্তৃতায় হউক, বিষাদে হউক, কবিতার হউক, গীতে হউক, লোককে হাসাইতে বিলক্ষণ পটু ছিলেন…তিনি রস ব্যতীত একদণ্ড থাকিতে পারিতেন না!’

    ঈশ্বরচন্দ্রের রসের কবিতা অনেক আছে, তা নিয়ে আমার নাড়াচাড়া করবার দরকার নেই, পাঠকরা অনায়াসেই সেগুলির আস্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

    তিনি খাবার জিনিস নিয়ে কতকগুলি কবিতা লিখেছেন, যেমন ‘পাঁটা’, ‘এন্ডাওয়ালা তপ্স্যা মাছ’ ও ‘আনারস’ প্রভৃতি : কিন্তু তাঁর কদলী কবিতা রচনার কথা কি আপনাদের জানা আছে?

    বঙ্কিমচন্দ্রের মুখে আরও জানতে পারি : ‘ঈশ্বর গুপ্ত মেকির উপরে গালি-গালাজ করিতেন। মেকির উপর যথার্থ রাগ ছিল। মেকি বাবুরা তাঁহার কাছে গালি খাইতেন, মেকি সাহেবরা গালি খাইতেন, মেকি ব্রাহ্মণ-পণ্ডিতেরা ‘নস্য-লোসা দধি চোষা’র দল গালি খাইতেন।’

    ঠিক কারণ জানি না, তবে অনুমানে বোধ হয়, ‘সংবাদ প্রভাকর’-এ ঈশ্বরচন্দ্রের কোনও মন্তব্য পাঠ করে একদল ক্রুদ্ধ ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের মুণ্ডিত মস্তকের শিখাগুলো অত্যন্ত চঞ্চল হয়ে উঠল। তাঁরা মারমুখো হয়ে ঈশ্বরচন্দ্রের কাঁচড়াপাড়ার বাসভবনের দিকে ধাবমান হলেন।

    তখন বেলা দুপুর। কবি বসেছেন মধ্যাহ্ন ভোজনে এবং খাদ্য পরিবেশন করছেন কবিজায়া দুর্গামণি দেবী।

    এমন সময়ে বাড়ির সদর দরজায় এসে হানা দিলেন দুর্বাসার আধুনিক অবতারের দল। সে এক বিষম গন্ডগোল।

    কেউ চিৎকার করছেন, ‘ওরে পাষণ্ড ঈশ্বর গুপ্ত, বেরিয়ে আয় তুই ভিতর থেকে, আমরা আজ তোর শাস্তিবিধান করব।’

    কেউ বলছেন, ‘আজ তোকে পৈতে ছিঁড়ে অভিশাপ দেব!’

    কেউ বলছেন, ‘আজ তোকে ভস্ম করে ফেলব।’

    দুর্গামণি দেবী তো ভয়ে তটস্থ! ঈশ্বরচন্দ্র তাড়াতাড়ি খাওয়া সেরে ও হাত-মুখ ধুয়ে নিয়ে হাসতে হাসতে বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    তারপর কথাবার্তার ধরনটা হল বোধ করি এইরকম :

    মনে মনে সব বুঝে, কিন্তু মুখে হেসে ঈশ্বরচন্দ্র শুধোলেন, ‘দেবতারা হঠাৎ পায়ের ধুলো দিতে এলেন কেন?’

    ও-তরফ থেকে জবাব এল, ‘জেনে শুনে আবার ন্যাকা সাজা হচ্ছে? ‘সংবাদ প্রভাকর’-এ তুই আমাদের নামে কি দোষারোপ করেছিস?’

    কবি বললেন, ‘প্রভুরা যখন ‘প্রভাকর’ পাঠ করেছেন, তখন আমাকে আর জিজ্ঞাসা করে মুখ ব্যথা করছেন কেন?’

    প্রভুরা সগর্জনে ভবিষ্যদবাণী করলেন, ‘সর্বনাশ হবে, তোর সর্বনাশ হবে!’

    বাড়ির কাছেই ছিল কলাগাছের ঝাড়। সেই দিকে তাকিয়ে হঠাৎ এক ব্রাহ্মণ সন্তানের মাথায় জাগল দুষ্টু-বুদ্ধি। ব্যঙ্গের স্বরে তিনি বলে উঠলেন, ‘ওঃ, ভারি তো কবি! ফরমাজ করলে এখনি তুই মুখে মুখে কবিতা রচনা করতে পারবি?’

    কবি যুক্তকরে বললেন, ‘আজ্ঞে, হুকুম দিলেই পারি।’

    ‘উত্তম। এখনি কদলী নিয়ে একটা কবিতা রচনা কর দেখি।’

    ‘যথা আজ্ঞা! কিন্তু কবিতা শুনে প্রভুরা আরও বেশি ক্রুদ্ধ হবেন না তো?’

    ‘না, না, আমরা অভয় দিচ্ছি!’

    কবি বললেন :

    ‘গোলোকবিহারী হরি,
    ভূগুপদ বক্ষে ধরি
    তোদের মান বাড়িয়েছে
    শোন রে শোন নেড়ে নেড়ে,
    গলায় দড়ি ভেড়ে ভেড়ে
    তাইতে তোদের প্রণাম করি,
    (দুই হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে)
    নইলে কলা কেঁদেছে।’

    অবশ্য গাছের কলার বদলে কবি দেখালেন হাতের কলা, তবে সেকালকার ব্রাহ্মণ-পণ্ডিতরাও নিতান্ত বেরসিক ছিলেন না, গুপ্ত-কবির অভিনব কদলী-কবিতা শ্রবণ করে সম্ভবত তাঁরা মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

    ঘটনাটি বললুম আমার নিজের ভাষায়। গল্পটি শুনেছিলুম আমার স্বর্গীয় পিতৃদেবের মুখে।

    নাট্যকার গিরিশচন্দ্র বলেন : ‘একদিন ছেলেবেলায় পাঁচালির গাওনা শুনতে যাই—খুব ভিড়। দেখলেম সেই গোলমালের মধ্যে একজন সহাস্যবদন পুরুষ এলেন—মুখে চোখে তাঁর প্রতিভার ছবি—বেশ উজ্জ্বল মূর্তি bright face আসরের তাবৎ লোক তাঁকে দেখে দাঁড়িয়ে উঠল—বেজায় খাতির, বেজায় সম্মান। তাঁর নাম জানবার জন্য আমার কৌতূহল হল। পাশের লোককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম ইনিই কবি ঈশ্বর গুপ্ত। গুপ্তকবির এইরকম সম্মান-প্রতিপত্তি দেখে একবার কবি হবার সাধ হয়েছিল।’

    ঈশ্বর গুপ্তের যুগে প্রথম ইংরেজি সভ্যতার চাকচিক্যে ভুলে শিক্ষিত বাঙালিরা দেশের সব কিছুকেই অনাদর করতে শিখেছিল। তাদের সবচেয়ে বেশি ঘৃণা ছিল বাংলা ভাষার উপরে। এমনকী মাইকেল মধুসূদনও প্রথমে বাংলা ভাষা প্রায় জানতেন না বললেই হয়। ‘পৃথিবী’ শব্দটি বানান পর্যন্ত করতে পারতেন না। কবিতা রচনা করতেন ইংরেজিতে। এইজন্যে পরে তিনি অনুতপ্ত হয়ে লিখেছিলেন :

    ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন,—
    তা সবে (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
    পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
    পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।’

    মাতৃভাষার প্রতি এই অবহেলা ঈশ্বর গুপ্তের বুকে বড় বাজত। তাই তিনি বলেছেন :

    ‘হায় হায় পরিতাপে পরিপূর্ণ দেশ।
    দেশের ভাষার প্রতি সকলের দ্বেষ।।’

    আধুনিক বাংলা ভাষার মূলে ছিলেন কবি ঈশ্বর গুপ্ত। কারণ তাঁর কাছ থেকেই উপদেশ ও প্রেরণা লাভ করে বঙ্কিমচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র, কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাট্যকার মনোমোহন বসু প্রমুখ স্বনামধন্য পুরুষরা তখনকার দিনে অবহেলিত বাংলা ভাষায় উচ্চশ্রেণির সাহিত্য সৃষ্টি করে গিয়েছেন।

    আজ এ-উপদেশ অতিশয় সহজ ও পুরাতন বলে মনে হবে, কিন্তু গুপ্তকবির যুগে একমাত্র তিনিই দরাজ বুকে এমন কথা বলতে পেরেছিলেন। না, সেই সময়কার আর এক কবির (রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু) মুখেও আমরা এই রকম উক্তি শুনতে পাই :

    ‘নানান দেশের নানান ভাষা,
    বিনে স্বদেশী ভাষা, মিটে কি আশা?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }