Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এগারো । সূর্যাস্ত

    এলবা থেকে ফিরে এসে নেপোলিয়নের একশো দিনের রাজত্ব শেষ হল। নেপোলিয়ন আবার বাধ্য হলেন সিংহাসন ত্যাগ করতে (২৩ জুন, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে)।

    কিন্তু মিত্রপক্ষ এবারে আর তাঁর সঙ্গে কোনওরকম সদয় ব্যবহার করতে রাজি হলেন না। এজন্যে মিত্রপক্ষের দোষ নেই। ইউরোপের রাজারা তাঁর কাছে বহুবার নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁর অসীম উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইউরোপকে বারে বারে করে তুলেছে রক্তপিচ্ছিল। রাজাদের কাছে তিনি ছিলেন বাস্তব দুঃস্বপ্নের মতন। গতবারে তাঁকে স্বাধীনভাবে এলবা দ্বীপে বাস করবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তিনি আবার এসে সব ওলটপালট করে দিলেন।

    নেপোলিয়ন বললেন, আমাকে আমেরিকায় যেতে দাও।

    ইউরোপ বললে, না। তুমি আবার ফিরে আসতে পারো।

    নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডগামী জাহাজে চড়ে বললেন, আমি ইংরেজদের আতিথ্য স্বীকার করলুম।

    ইংলন্ড বললে, না, তুমি যুদ্ধে বন্দি। তোমার নিজের মতামতের মূল্য নেই। তোমাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বন্দির মতন থাকতে হবে। আজ থেকে তুমি আর সম্রাট নও, জেনারেল বোনাপার্ট মাত্র।

    ছেলেবেলায় ‘কপি-বুকে’র শেষ পাতায় তিনি লিখে রেখেছিলেন—’সেন্ট হেলেনা, আটলান্টিক মহাসাগরের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। ইংরেজদের উপনিবেশ।’

    আজ সেইখানেই তাঁকে যেতে হল, জীবনের শেষ-অঙ্কের উপরে যবনিকাপাত করতে (১৭ অক্টোবর, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে)।

    দ্বীপ-কারাগারের পর্বত। নেপোলিয়ন বসে আছেন একখানি পাথরের উপরে। সুমুখ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে অশান্ত মহাসাগর।…মানুষ-নেপোলিয়নকে সমুদ্রের সামনে দেখাচ্ছে কত ছোট! কিন্তু মানুষ-নেপোলিয়নের হৃদয়-সাগরে যে অনন্তের প্রকাশ, আটলান্টিক কি তার চেয়েও বৃহৎ?

    স্বাধীন হলে মানুষ-নেপোলিয়ন যে আরও কত বড় হতে পারতেন, তা আমরা কল্পনা করতে পারি না। কিন্তু তিনি যতটা বৃহৎ হতে পেরেছেন, তাও ছিল কল্পনার অতীত। জার্মান কবি গ্যেটে বলেছেন!

    ‘যাহা কিছু তুচ্ছ হেথা, দৃষ্টি হতে যায় যে মিলায়ে,

    গণনীয় হয় শুধু মহাদেশ, বিপুল সাগর!’

    মানুষ হলেও নেপোলিয়নের সঙ্গে মহাদেশ বা মহাসাগরেরই তুলনা করা চলে।

    সেন্ট হেলেনায় বড় কষ্টে যে নেপোলিয়নের দিন কাটতে লাগল, সে কথা বলাই বাহুল্য। তিনি ছিলেন মুক্ত পৃথিবীর স্বাধীন জীব। দুই মহাদেশ—ইউরোপ ও আফ্রিকা ছিল তাঁর বিচরণ-ক্ষেত্র, কর্মের প্রচণ্ড স্রোতে অশ্রান্ত ভাবে সাঁতার দেওয়াই তাঁর একমাত্র আনন্দ ছিল। শিলাময় ক্ষুদ্র সেন্ট হেলেনার সংকীর্ণতার মধ্যে অলসভাবে বসে বসে কেবল অতীত-গৌরবের স্বপ্ন দেখা তাঁর সহ্য হবে কেন? তার উপরে এ দ্বীপটি ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। তাঁকে এখানে বন্দি রেখে ইংরেজরা মানবতার পরিচয় দেননি। দেখতে দেখতে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ল।

    প্রথম প্রথম তিনি বাড়ির বাইরে বহুদূর পর্যন্ত ভ্রমণ করে আসতেন। কিন্তু সর্বদাই তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকত ইংরেজ সেপাই—পাছে তিনি আবার ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান।

    এই নির্দয় বাড়াবাড়ি দেখে তিনি যার-পর-নাই অপমান জ্ঞান করলেন এবং বাইরে বেড়ানো একেবারেই ছেড়ে দিলেন। ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে কাটাতে লাগলেন দিন-রাত। ফলে স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হল। এমনকী অঙ্গ-সঞ্চালনের অভাবে তাঁর দুই পা ফুলে উঠল।

    দ্বীপের গভর্নর স্যার হাডসন লো যে তাঁর উপরে অত্যাচার ও তাঁকে অপমান করে আনন্দলাভ করতেন, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। অকারণেই তিনি বন্দিকে অন্বেষণ করতে আসতেন। একদিন নেপোলিয়ন কফির পেয়ালা হাতে করেছেন, এমন সময় লো এসে হাজির। তিনি বিদায় হলে পর নেপোলিয়ন বললেন, ‘কফির পেয়ালা ছুড়ে ফেলে দাও। ওই নোংরা লোকটা এর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল।’

    নেপোলিয়নের মুখের উপরে তাঁকে ‘জেনারেল’ বলে ডেকে গভর্নর তাঁকে আহত করবার চেষ্টা করতেন। সম্রাট নেপোলিয়নের পক্ষে এ সম্বোধন ছিল অসহনীয়!

    একদিন লো এসে অভিযোগ করলেন, ‘আপনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। খরচ কমাবার চেষ্টা করুন।’

    নেপোলিয়নের দুই চক্ষে জ্বলে উঠল অগ্নিশিখা। মহাক্রোধে বললেন, ‘এ সব বিষয় নিয়ে তুমি কোন সাহসে আমার সঙ্গে কথা কইতে আসো? তুমি সামান্য জেল-দারোগা ছাড়া আর কিছুই নও!’

    গভর্নর বিনাবাক্যব্যয়ে সরে পড়লেন।

    তারপর থেকে গভর্নর আর কোনওদিন নেপোলিয়নের দেখা পাননি। তিনি এলেই শুনতেন, দেখা হবে না।’ তবু একদিন তিনি জোর করে দেখা করবার চেষ্টা করলেন।

    ঘরের ভিতর থেকে চাকরকে সম্বোধন করে নেপোলিয়ন চেঁচিয়ে বললেন, ‘ওকে বলে দাও ঘাতকের কুঠার আনতে। ও লোকটাকে এ ঘরে ঢুকতে হবে আমার মৃতদেহ মাড়িয়ে। শীঘ্র আমার পিস্তল নিয়ে এসো!’

    গভর্নর আর ভিতরে ঢুকতে ভরসা করলেন না। তারপর তিনি আর একদিন মাত্র বন্দির দেখা পেয়েছিলেন—নেপোলিয়ন যখন মৃত।

    সেন্ট হেলেনায় নেপোলিয়নের সঙ্গে কয়েকজন ফরাসি সঙ্গী ছিলেন, একজন সস্ত্রীক। তাঁদের নিয়েই অতীত ও বর্তমানের গল্প করে তাঁর দিন কোনওরকমে কাটত। কিন্তু এভাবে দিনকাটানো যে অত্যন্ত কষ্টকর, এটা তাঁর হাব-ভাব-ব্যবহারে বোঝা যেত সর্বদাই। নির্বাসিত জীবনে প্রতিদিন খুব বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে তিনি ঘরের বাইরে আসতেন—জাগ্রত অবস্থায় দিনের দীর্ঘতা কমে যাবে বলে। কোনও কোনও দিন রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে বলতেন, ‘আঃ, জীবনের আর-একটা দিন কমে গেল!’

    এলবা যাত্রার সময়ে ইম্পিরিয়াল গার্ডদের কাছে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, তাদের কীর্তিকাহিনি রচনা করবেন। কিন্তু এতদিন সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। সেন্ট হেলেনায় হাতে প্রচুর সময় পেয়ে নেপোলিয়ন নিজের জীবনস্মৃতি রচনায় প্রবৃত্ত হলেন। ঘরের ভিতর পায়চারি করতে করতে তিনি বলে যেতেন, অন্য কেউ লিখে নিত। কিছুমাত্র বিশ্রাম না নিয়ে পুরো চোদ্দো ঘণ্টা তিনি নানা বর্ণনা করে যাচ্ছেন, যে লিখছে একেবারে অবসন্ন হয়ে পড়ছে এবং তার স্থানগ্রহণ করছে নতুন কোনও লোক, এই সামান্য পরিশ্রমে শ্রান্তি দেখে নেপোলিয়নের মুখে ফুটে ওঠে অবজ্ঞার হাসি!

    কোনও কোনও দিন অতীতের কথা স্মরণ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আমার মরা উচিত ছিল মস্কো শহরে গিয়ে। তখনও পর্যন্ত আমার যশোগৌরব ম্লান হয়নি!…ভগবান তখন যদি একটি বুলেট পাঠিয়ে দিতেন! তাহলে ফ্রান্সের সিংহাসনে বিরাজ করত আমার বংশই; আলেকজান্ডার আর সিজারের সঙ্গে ইতিহাস আমার তুলনা করত। ব্যাপার যা দাঁড়িয়েছে, এখন আমি প্রায় কিছুই নই।’

    আর একদিন বলেন, ‘বোরোডিনো যুদ্ধক্ষেত্রে মরলে আমার মৃত্যু হত আলেকজান্ডারের মতন। ওয়াটার্লুতে মরাও ছিল ভালো। বোধহয় ড্রেসডেনের যুদ্ধে মরলে ভালো হত আরও। না, না, ওয়াটার্লুর মৃত্যুই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। লোকের ভালোবাসা পেতুম, তারা আমার জন্যে কাঁদত।’

    এমনিভাবে ভেবে ভেবে দিন যায়। দেহের ভিতরে ব্যাধির অত্যাচার ক্রমেই বেড়ে উঠতে লাগল। তিনি বলেন, ‘আমার পেটের ভিতরটা জ্বলছে যেন আগুনের মতন।’ কখনও কখনও দারুণ যন্ত্রণায় মেঝের উপরে পড়ে ছটফট করতে থাকেন।

    তাঁর জীবনের শেষ বৎসর এসে উপস্থিত হয়েছে। প্রথম সাত মাস ধরে তিনি নিজের বাড়ি-সংলগ্ন জমির উপরে করলেন চমৎকার বাগান রচনা। যাঁরা সে বাগান দেখলেন, বললেন—’বিস্ময়কর কীর্তি!’ এটি হচ্ছে নেপোলিয়নের নিজের হাতের শেষ-দান। যুদ্ধ নয়, রাজনীতি নয়, শেষের কবিতা!

    জন্মদিন। নেপোলিয়ন সকলকে খাওয়ালেন, শিশুদের উপহার দিলেন। বললেন, ‘এই আমার শেষ জন্মদিন।’

    শরৎকাল। চার বৎসর পরে নেপোলিয়ন প্রথম বাড়ির বাইরে গেলেন। ঘোড়ায় চড়ে অনেকটা পথ বেড়িয়ে এলেন। এই তাঁর শেষ ভ্রমণ।

    ভক্তরা গোপনে তাঁকে দ্বীপ থেকে উদ্ধার করে আমেরিকায় নিয়ে যেতে চাইলেন! এমন প্রস্তাব দুই দুই বার হয়। নেপোলিয়ন নারাজ হয়ে বললেন, ‘নিয়তির লিখন হচ্ছে, আমি এইখানেই মরব। আমেরিকায় গেলে হয় আমাকে হত্যা করা হবে, নয় লোকে আমাকে ভুলে যাবে। আমি আত্মোৎসর্গ না করলে ফ্রান্সের সিংহাসনে আমার বংশের প্রতিষ্ঠা হবে না। তাই আমি থাকতে চাই সেন্ট হেলেনায়।’

    রোগের লক্ষণ অধিকতর প্রকট। নেপোলিয়ন দুঃখিত স্বরে বলেন, ‘বিছানা আজ আমার এত প্রিয় হয়ে উঠেছে যে, এর বদলে আমি আর সিংহাসনও গ্রহণ করব না। আমি কি করুণাপাত্র জীব হয়ে উঠেছি! আমি—যার কখনও ঘুমোবার প্রায় দরকারই হত না—এখন কিনা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েই দিনের পর দিন কাটাই। আগে আমি বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে বলে যেতুম, আর তা লিখে নেওয়ার জন্যে আবশ্যক হত একসঙ্গে চার-চারজন সেক্রেটারির! সেদিন গিয়েছে, যেদিন আমি ছিলুম নেপোলিয়ন।’

    নেপোলিয়নের এই উক্তির মধ্যে নেই অত্যুক্তি। কার্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি জীবনে একদিনের জন্যেও ছুটি নেননি। কাজ, কাজ, কাজ! তিনি স্ফূর্তিলাভ করতেন কর্মস্রোতে ঝম্প দিয়েই। এতবড় কর্মবীর পৃথিবীতে আর কখনও জন্মেছেন কিনা সন্দেহ!

    মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে তাঁর অবশিষ্ট শক্তির শেষ-বিকাশ দেখা গেল। একাসনে একটানা পুরো পাঁচঘণ্টা ধরে বসে তিনি নিজের উইল রচনা করলেন। সে উইল এক অপূর্ব জিনিস এবং প্রমাণিত করে যে, শেষপর্যন্ত তাঁর মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা কিছুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয়নি।

    নেপোলিয়নের নিজের মত হচ্ছে, ‘আমার মৃত্যুর কারণ, এই অস্বাস্থ্যকর দ্বীপ। তার উপরে এক বৎসরকাল আমাকে চিকিৎসকের সাহায্য থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল।…ইংরেজ রাজমন্ত্রীদের চক্রান্তে ওই নগণ্য পাহারাওয়ালা হাডসন লো আমাকে তিলে তিলে হত্যা করবার চেষ্টা করছে।… ইংল্যান্ডেরও ধ্বংস হবে ভিনিসের গর্বিত প্রজাতন্ত্রের মতন। আমার মৃত্যুর জন্যে যা-কিছু লজ্জা আর নৃশংসতা, ইংল্যান্ডের রাজপরিবারকে আমি দান করে গেলুম।’

    বন্দি দশায় যে কয়েকজন সহচর বা অনুচর নেপোলিয়নের সেবা-পরিচর্যায় নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের সম্বোধন করে তিনি বললেন, ‘আমার মৃত্যুর পর তোমরা লাভ করবে স্বদেশ প্রত্যাগমনের মিষ্ট শান্তি। তোমরা আবার দেখতে পাবে তোমাদের আত্মীয়-বন্ধুগণকে। আর আমি? স্বর্গধামে গিয়ে আবার দেখতে পাব আমার নির্ভীক যোদ্ধাবৃন্দকে।’—বলতে বলতে কণ্ঠস্বর উচ্চতর হয়ে উঠল—’হ্যাঁ, ক্লেবার, দেসেক্স বিসিয়ার্স, দুরক, নে, মুরাট, মেসেনা, বার্দিয়ার,—তারা সবাই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে, আমরা সবাই মিলে যে কীর্তি স্থাপন করেছি, তারা সেই গল্পই করবে। আমিও তাদের কাছে বলব আমার শেষজীবন-কাহিনি। যখন তারা আমাকে দেখবে, তারা আবার সেই পুরোনো উৎসাহে, যশোগৌরবের জন্যে সেই পুরোনো আবেগে অনুপ্রাণিত হয়ে উঠবে। মহাবীর স্কিপিয়ো, হানিবল, সিজার আর ফ্রেডারিকের সঙ্গে আমরা আমাদের যুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা কইব! সে কী আনন্দ!’

    মৃত্যুর দিনকয় আগে তিনি এই পত্রখানি নিজেই রচনা করলেন এবং বললেন, তাঁর মৃত্যুর পরে পত্রখানি যেন যথাস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়! :

    ‘মিঃ গভর্নর,

    গত—তারিখে, দীর্ঘকালব্যাপী যন্ত্রণাদায়ক রোগে ভুগে সম্রাট নেপোলিয়ন পরলোকগমন করেছেন। মহাশয়কে এই সংবাদ জানানো হল। আপনাদের গভর্মেন্ট তাঁর দেহকে ইউরোপে পাঠাবার কী ব্যবস্থা করেছেন, অনুগ্রহ করে তা জানাবেন।’

    যথাসময়ে সবদিক গুছিয়ে-গাছিয়ে তিনি আসন্ন মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হয়ে রইলেন।

    মৃত্যুর পদশব্দ শুনতে পেয়ে আর এক বিষয়ের জন্যে সকলকে সাবধান করলেন : ‘যখন আমি জ্ঞান হারাব, তখন তোমরা কিছুতেই কোনও ইংরেজ ডাক্তারকে আমার ছায়া মাড়াতে দিও না।’

    তিনি জ্ঞান হারালেন—জ্ঞানোদয়য়ের পর এই প্রথম এবং শেষ বার!

    ঘোর বিকার! মাঝে মাঝে উচ্চৈঃস্বরে প্রলাপ বকছেন : ‘দেসেক্স! মেসেনা! আমরাই বিজয়লাভ করব! জলদি! অগ্রসর হও! ওরা আমাদের পাল্লায় এসে পড়েছে…’

    ভয়াবহ শেষ রাত্রি। ভোরের কিছু আগে তাঁর মুখে শোনা গেল, ‘ফ্রান্স!…সৈন্যদল!… জোসেফাইন!’

    পৃথিবীতে এই তাঁর শেষ উক্তি।

    সারাদিন চুপ করে শান্তভাবে শুয়ে রইলেন—অন্তিম শ্বাস আরম্ভ হয়েছে! অস্টারলিটজের যুদ্ধক্ষেত্রে যে খাট ব্যবহার করেছিলেন, তাঁর শেষ-শয্যা বিছানো হয়েছে সেই খাটেই।

    বাড়ির বাইরে আকাশ ফুঁড়ে পড়ছে ঝম-ঝম বৃষ্টি—ঝোড়ো বাতাসে ছটফট করছে কুয়াশা।

    বৈকাল পাঁচটা। ঝড়-বৃষ্টির হুঙ্কার বেড়ে উঠল—বাগানের দুটো গাছ শিকড়শুদ্ধ উপড়ে পড়ল!

    মৃত্যু আক্রান্ত নেপোলিয়ন! দেহের কোথাও যাতনার কোনও চিহ্ন নেই। দুই চক্ষু বিস্ফারিত—শূন্য দৃষ্টি। কণ্ঠে ঘড়-ঘড় শব্দ।

    সমুদ্রে মগ্ন হল সূর্য। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গেল নেপোলিয়নের হৃৎপিণ্ড! (৫ মে, ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে)।

    শবদেহ ব্যবচ্ছেদ করে জানা গেল, নেপোলিয়নের মৃত্যুর কারণ উদরের ক্যান্সার।

    মৃত্যু এসে নেপোলিয়নকে দিয়ে গিয়েছে তরুণ সৌন্দর্য! সিংহাসনে আরোহণ করবার পর থেকেই তার মুখ ও দেহ অত্যন্ত স্থূল হয়ে উঠেছিল, কিন্তু এখন তাঁকে দেখাচ্ছে এক সুন্দর যুবকের মতন!

    ইংরেজরা বললেন, মৃতদেহ ইউরোপে পাঠানো হতে পারে না।

    মরা নেপোলিয়নও বিপদজ্জনক! দেহ দেখে ফরাসিরা যদি শোকে ও ক্রোধে ক্ষেপে উঠে আবার অস্ত্র ধারণ করে!

    পাহাড়ের এক নির্জন উপত্যকা। সেইখানেই মহাবীরের শেষ শয়ন পাতা হল। সমাধির উপরে নত হয়ে ছায়া ছড়িয়ে দিলে দুটি উইলো গাছ। যুদ্ধক্ষেত্রে বারংবার যিনি মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, তাঁর জন্যে গীতি-কবিতার সুরসৃষ্টি করতে লাগল ছোট একটি নির্ঝর।

    ইংল্যান্ড মৃতের জন্যে একটি সম্মানের ব্যবস্থা করলেন। তাঁর সমাধিকে সর্বদাই পাহারা দিয়েছিল একজন করে সৈনিক। একে একে কেটে গেল উনিশ বৎসর। তারপরে আর পাহারার দরকার হল না, কারণ ফ্রান্স দাবি করলে মৃতদেহ ফিরে পাওয়ার জন্যে। নেপোলিয়ন আবার প্রত্যাগমন করলেন বিজয়ীর মতন।

    সম্রাটের মৃত্যুর পরেও ফ্রান্সের নতুন বুর্বন রাজা নেপোলিয়নের নাম শুনলেই ভয়ে চমকে উঠতেন। রাজধানীতে নেপোলিয়নের এক অশ্বারোহী মূর্তি ছিল, রাজার হুকুমে তা স্থানান্তরিত হয়েছিল।

    ফরাসিরা আবার বুর্বন রাজাকে তাড়িয়ে দিলে। ভিন্ন বংশের নতুন রাজা সিংহাসনে বসে জনসাধারণের অনুরোধে নেপোলিয়নের প্রস্তর-মূর্তি আবার ফিরিয়ে আনলেন—পনেরো বৎসর পর।

    ছোট ছেলে জেরোম এসে মা লেটিজিয়াকে এই খবর দিলেন।

    জরায় ও রোগে মা তখন বিছানা আশ্রয় করেছেন। চলতে পারেন না, চোখ অন্ধ। কিন্তু খবর শুনেই মায়ের দেহে এল নতুন শক্তি।

    বহুকাল পরে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। বৈঠকখানায় নেমে এলেন।

    নেপোলিয়নের একটি প্রস্তরমূর্তির দিকে অন্ধ চোখদুটি ফিরিয়ে মা লেটিজিয়া বললেন, ‘সম্রাট আবার প্যারিতে এসেছেন!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }