Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ । প্রথম ও দ্বিতীয় বলি

    ‘জয় জয়, ভারতবর্ষের জয়!’

    সেই পূর্ণ-কণ্ঠের জয়ধ্বনি প্রবেশ করল আলেকজান্ডারের শিবিরের মধ্যে।

    তারপরই সম্মিলিত গ্রিক-কণ্ঠে জাগল আবার সেই সমুদ্রগর্জনের মতো গম্ভীর ধ্বনি—’জয় জয়, আলেকজান্ডারের জয়!’

    আলেকজান্ডার ভারতের ভাষা জানতেন না। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার সৈন্যদের সঙ্গে বিদেশি ভাষায় কারা চিৎকার করে কী বলছে?’

    তখনই দোভাষী এসে জানালে, ‘তিনজন ভারতের সৈনিক এখান দিয়ে যাচ্ছিল। আমরা ভারত আক্রমণ করতে যাব শুনে তারা ভারতের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে।’

    আলেকজান্ডার বিস্মিত কণ্ঠে বললেন, ‘আশ্চর্য ওদের সাহস! মাত্র ওরা তিনজন, অথচ আমার সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে!’

    ‘সম্রাট, ওরা দাঁড়িয়ে নেই,—বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে যেতে যেতে চিৎকার করছে!’

    দুই ভুরু কুঁচকে আলেকজান্ডার খানিকক্ষণ ধরে কী ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘ঘোড়া ছুটিয়ে ওরা কোন দিকে গেল?’

    ‘দক্ষিণ দিকে।’

    ‘দক্ষিণ দিকে? তার মানে ভারতবর্ষের দিকে!’ আলেকজান্ডার হঠাৎ এক লাফে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর চিৎকার করে বললেন, ‘তেজি ঘোড়ায় চড়ে আমার সৈনিকেরা এখনি ওদের পিছনে ছুটে যাক! ওদের বন্দি করো! ওদের বধ করো! নইলে আমরা মহা বিপদে পড়ব!’

    হুকুম প্রচার করবার জন্যে দোভাষী তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে গেল। আলেকজান্ডার অস্থির চরণে শিবিরের মধ্যে পায়চারি করতে করতে বললেন, ‘আমার সৈন্যরা মূর্খ। কেন তারা ওদের ছেড়ে দিলে?’

    কয়েকজন গ্রিক সেনানী সেইখানে উপস্থিত ছিলেন। একজন এগিয়ে এসে বললেন, ‘সম্রাট, তুচ্ছ কারণে আপনি এতটা উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? ওই তিনজন মাত্র পলাতক সৈনিক আমাদের কী অপকার করতে পারে?’

    আলেকজান্ডার বললেন, ‘তোমরাও কম মূর্খ নও! এই কি তুচ্ছ কারণ হল? বুঝতে পারছ না, আমাদের এই অভিযানের কথা ভারত যত দেরিতে টের পায়, ততই ভালো! শত্রুদের প্রস্তুত হতে অবসর দেওয়া যে আত্মহত্যার চেষ্টার মতো! সারা ভারত যদি অস্ত্রধারণ করবার সময় পায়, তাহলে আমাদের অবস্থা কী হবে? ওই তিনজন সৈনিক ভারতে ছুটে চলেছে তাদের স্বদেশকে সাবধান করবার জন্যে। বন্দি করো, তাদের বধ করো, তাদের কণ্ঠরোধ করো!’

    ‘সম্রাট, এখান থেকে ভারত শত শত ক্রোশ দূরে! সেখানে যাওয়ার আগেই পলাতকরা নিশ্চয়ই ধরা পড়বে।’

    সত্যই তাই! সমরখন্দ এবং ভারতবর্ষ! তাদের মাঝখানে বিরাজ করছে শত-শত ক্রোশ ব্যাপী পথ ও বিপথের মধ্যে আমুদরিয়া প্রভৃতি নদী, হিন্দুকুশ প্রভৃতি পবর্ত, বিজন অরণ্য, বৃহৎ মরুপ্রান্তর এবং আরও কত কী বিষম বাধা! এত বাধা-বিপত্তিকে ঠেলে দুর্গম পথের তিন যাত্রী কি আবার তাদের স্বদেশের আশ্রয়ে ফিরে আসতে পারবে? কত সূর্য ডুববে, কত চন্দ্র উঠবে, কত তারকা ফুটবে, বাতাস কখনও হবে আগুনের মতো গরম ও কখনও হবে তুষারের মতো শীতল, আকাশ কখনও করবে বজ্রপাত এবং কখনও পাঠিয়ে দেবে প্রবল ঝঞ্ঝার দলবল, বনে বনে গর্জন করে জাগবে হিংস্র জন্তুরা, আনাচেকানাচে অতর্কিতে আবির্ভূত হবে তাদের চেয়ে আরও নিষ্ঠুর দস্যুরা এবং সেই সঙ্গে তাদের লক্ষ করে ধেয়ে আসছে দৃঢ় পণ নিয়ে তিরিশজন অশ্বারোহী গ্রিক সৈনিক! ভারতের ছেলে আর কি ভারতে ফিরবে?

    শেষোক্ত বিপদের কথা আগে তারা টের পায়নি। প্রত্যাবর্তন আরম্ভ করে তাদের বেগবান অশ্বেরা অনেকখানি পথ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তিরিশজন গ্রিক সৈনিক সাজসজ্জা করে বেরুতে কম সময় নেয়নি। ভারতের তিন ভাগ্যান্বেষী বীর স্বদেশে ফেরবার পথঘাটও ভালো করে জানত, গ্রিকদের যা জানা ছিল না। তিনজন ভারতবাসী কখন কোন পথ অবলম্বন করছে, গ্রামে গ্রামে দাঁড়িয়ে পড়ে সে খবর সংগ্রহ করতেও গ্রিকদের যথেষ্ট বিলম্ব হয়ে যাচ্ছিল।

    কিন্তু গ্রিকরা নিশ্চিতভাবেই তিন বীরের পিছনে এগিয়ে চলেছে। কেবল তাই নয়, তারা ক্রমেই তাদের নিকটস্থ হচ্ছে।

    সেদিন সকালে আমুদরিয়া নদী পার হয়ে তিন বন্ধুতে বিশ্রাম করছিল। হঠাৎ সুবন্ধু চমকে দাঁড়িয়ে উঠে নদীর পরপারে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলে।

    তার দৃষ্টি অনুসরণ করে চিত্ররথ ও পুরঞ্জনও দেখলে, একখানা ধুলোর মেঘ নদীর ওপারে এসে থেমে পড়ল।

    ধীরে ধীরে ধুলোর মেঘ উড়ে গেল এবং সেই সঙ্গেই দেখা গেল, একদল অশ্বারোহী সৈনিকের উজ্জ্বল শিরস্ত্রাণ ও বর্মের উপরে পড়ে ঝকমক করে উঠছে প্রভাতের সূর্যকিরণ!

    সুবন্ধু সচকিত কণ্ঠে বললে, ‘গ্রিক সৈন্য!’

    চিত্ররথ বললে, ‘ওরা পার-ঘাটে গিয়ে ঘোড়া থেকে তাড়াতাড়ি নেমে পড়ল! ওরা নদী পার হতে চায়!’

    পুরঞ্জন বললে, ‘এত শীঘ্র অতবড় শিবির তুলে ওরা কি অভিযান আরম্ভ করে দিয়েছে?’

    সুবন্ধু ঘাড় নেড়ে বললে, ‘আসল বাহিনী হয়তো শিবির তোলবার চেষ্টাতে এখনও ব্যস্ত হয়ে আছে।’

    ‘তবে কি ওরা অগ্রবতী রক্ষীর দল?’

    ‘হতে পারে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ওরা আমাদেরই খুঁজছে। নইলে ওরা প্রায় আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই এখানে এসেছে কেন? এ পথ তো ভারতে যাওয়ার পথ নয়—এ পথ তো কেবল আমাদের মতন সন্ধানী লোকেরাই জানে! ওরা নিশ্চয় আমাদের উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে—ওরা নিশ্চয় আমাদের বন্দি করতে এসেছে!’

    ‘কিন্তু আমরা বন্দি হব না। নদী পার হতে ওদের সময় লাগবে। ততক্ষণে আমরা অনেক দূরে এগিয়ে যেতে পারব। ভারতে যাওয়ার কত পথ আছে, সব পথ ওরা জানবে কী করে?

    ‘ঘোড়ার চড়ো, ঘোড়ায় চড়ো! ভারত এখনও বহু দূর—’

    তিন বীরকে পিঠে নিয়ে তিন ঘোড়া ছুটল আবার ভারতের দিকে।

    ওপারে গ্রিকদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে উঠল, মুখের শিকার আবার হাতছাড়া হল দেখে।

    আবার দিন যায় রাত আসে, রাত যায় তিন আসে। দিকচক্রবালরের উপরে ফুটে উঠল হিন্দুকুশের মর্মভেদী শিখরমালা। গ্রিকরা হতাশ হয়, তিন ভারতবীরের চোখে জ্বলে আশার আলো। হিন্দুকুশের অন্দরে গিয়ে ঢুকতে পারলে কে আর তাদের নাগাল ধরতে পারবে? হিন্দুকুশের ওপার থেকে ডাকছে তাদের মহাভারতের প্রাচীন আত্মা! স্বদেশগামী ঘোড়াদের খুরে খুরে জাগছে বিদ্যুৎগতির ছন্দ!

    বিস্তীর্ণ এক সমতল প্রান্তর—একান্ত অসহায়ের মতো দুপুরের রোদের আগুনে পুড়ে পুড়ে দগ্ধ হচ্ছে। প্রান্তরের শেষে একটা বেশ উঁচু পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে পথ জুড়ে। তিন ঘোড়া পাশাপাশি ছুটছে সেই দিকেই।

    পাহাড়ের খুব কাছে এসে হঠাৎ পুরঞ্জনের ঘোড়া প্রথমে দাঁড়িয়ে—তারপর মাটির উপরে শুয়ে পড়ল। দু-একবার ছটফট করেই একেবারে স্থির!

    পুরঞ্জন মাটির উপরে হাঁটু গেড়ে বসে ঘোড়াকে পরীক্ষা করতে লাগল, সুবন্ধু ও চিত্ররথও নিজেদের ঘোড়া থেকে নামল।

    মৃতের মতো বর্ণহীন মুখ ঊর্ধ্বে তুলে পুরঞ্জন অবরুদ্ধ স্বরে বললে, ‘আমার ঘোড়া এ-জীবনে আর উঠবে না!’

    সুবন্ধু বললে, ‘এখন ঘোড়া যাওয়ার মানেই হচ্ছে, শত্রুর হাতে বন্দি হওয়া। আমাদেরও ঘোড়ার অবস্থা ভালো নয়। এদের কোনওটাই দুজন সওয়ার পিঠে নিয়ে তাড়াতাড়ি ছুটতে পারবে না।’

    চিত্ররথ পিছন দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করে ত্রস্ত স্বরে বললে, ‘ওদিকে চেয়ে দ্যাখো—ওদিকে চেয়ে দ্যাখো!’

    সকলে সভয়ে দেখলে, দূর অরণ্যের বক্ষ ভেদ করে একে একে বেরিয়ে আসছে গ্রিক সৈনিকের পর গ্রিক সৈনিক! তাদের দেখেই তারা উচ্চস্বরে জয়নাদ করে উঠল!

    সুবন্ধু ব্যস্তভাবে বললে, ‘কী করি এখন? পুরঞ্জনকে এখানে ফেলে রেখে কী করেই বা আমরা পালিয়ে যাই?’

    পুরঞ্জন দৃঢ়স্বরে বললে, ‘শোনো সুবন্ধু! আমি এক উপায় স্থির করেছি। এখন এই উপায়ই হচ্ছে একমাত্র উপায়।’

    গ্রিকরা তখন ঘোড়া ছুটিয়ে দ্রুততর বেগে এগিয়ে আসছে। সেইদিকে দৃষ্টি রেখে সুবন্ধু বললে, ‘যা বলবার শীঘ্র বলো। নইলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বন্দি হতে হবে।’

    পুরঞ্জন সুদীর্ঘ একটা নিশ্বাস টেনে বুক ফুলিয়ে বললে, ‘ভারতের ছেলে এত সহজে বন্দি হয় না। শোনো সুবন্ধু! সামনে উঁচু পাহাড় আর পিছনে গ্রিক সৈন্য—ঘোড়া ছুটিয়ে আমরা আর কোথাও পালাতে পারব না! কিন্তু পাহাড়ের ওই সরু পথটা দেখছ তো? পাশাপাশি দুজন লোক ও-পথে উপরে উঠতে পারে না! চলো, ঘোড়া ছেড়ে ওই পথে আমরা উপরে গিয়ে উঠি। গ্রিকদেরও ঘোড়া ছেড়ে ওই পথেই এক-একজন করে উঠতে হবে। আমি আর চিত্ররথ পাহাড়ে উঠে ওই পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে শত্রুদের বাধা দেব।’

    সুবন্ধু বিস্মিত স্বরে বললে, ‘আর আমি?’

    ‘ভগবানের আশীর্বাদ নিয়ে তুমি ছুটে যাও ভারতের দিকে। তুমি একলা দু-চারদিন লুকিয়ে এগুতে পারবে। তারপর নতুন তাজা ঘোড়া কিনে যথাসময়ে ভাঙিয়ে দেবে ভারতের নিশ্চিন্ত নিদ্রা!

    ‘আর তোমরা?’

    ‘যতক্ষণ পারি শত্রুদের ঠেকিয়ে রাখব। তারপর স্বদেশের জন্যে হাসতে হাসতে প্রাণ দেব?’

    ‘সে হয় না পুরঞ্জন! স্বদেশের জন্যে প্রাণ দেওয়ার আনন্দ থেকে আমিই বা বঞ্চিত হব কেন?’

    পুরঞ্জন কর্কশ স্বরে বললে, ‘প্রতিবাদ কোরো না সুবন্ধু, এখন কথা কাটাকাটির সময় নেই! গ্রিকরা যাচ্ছে ভারতবর্ষে, স্বদেশের জন্যে প্রাণ দেওয়ার অনেক সুযোগ তুমি পাবে! এখন সবচেয়ে বড় কর্তব্য তুমি পালন করো, শত্রুদের আমরা বাধা দিই।—চিত্ররথ! তুমি নীরব কেন? তোমার কি ভয় হচ্ছে?’

    চিত্ররথ সদর্পে বললে, ‘ভয়! ক্ষত্রিয় মরতে ভয় পায়? আমি চুপ করে আছি—কারণ মৌনতাই হচ্ছে সম্মতির লক্ষণ!’

    পুরঞ্জন তরবারি কোশমুক্ত করে পাহাড়ের দিকে ছুটতে ছুটতে বললে, ‘তাহলে এসো আমার সঙ্গে! বলো—জয় ভারতবর্ষের জয়!’

    ভারতবর্ষের নামে জয়ধ্বনিতে আকাশ বাতাস পরিপূর্ণ করে তিনজন ভারতসন্তান সামনের পাহাড়ের দিকে বেগে ছুটে চলল।

    সেখানে গিয়ে পৌঁছেই সুবন্ধু বুঝলে, পুরঞ্জন ভুল বলেনি, এই সরু পথ রুখে দাঁড়ালে দুজন মাত্র লোক অনেকক্ষণ ধরে বহু লোককে বাধা দিতে পারবে!

    প্রায় সত্তর-আশি ফুট উপরে গিয়ে পথটা আবার আরও সরু হয়ে গেছে।

    পুরঞ্জন বললে, ‘এই হচ্ছে আমাদের দাঁড়াবার জায়গা! এখন অগ্রসর হও সুবন্ধু, আমাদের পিতৃভূমির পবিত্র পথে! জয়, ভারতবর্ষের জয়!’

    সুবন্ধু ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললে, ‘ভাগ্যবান বন্ধু! দুদিন পরে বিরাট ভারতবর্ষ দেবে কৃতজ্ঞ হৃদয়ে তোমাদেরই নামে জয়ধ্বনি! এসো একবার শেষ আলিঙ্গন দাও! তারপর আমি চলি ঘুমন্ত ভারতের পথে, আর তোমরা চলো জাগন্ত মৃত্যুর পথে!’

    পুরঞ্জন সজোরে সুবন্ধুকে বুকের ভিতরে চেপে ধরে বললে, ‘না বন্ধু, মৃত্যুর পথ এখন ভারতের দিকেই অগ্রসর হয়েছে! আমরাও বাঁচব না, তোমরাও বাঁচবে না, বিদায়!’

    চিত্ররথকে আলিঙ্গন করে সুবন্ধু যখন বেগে ছুটতে লাগল তখন তার দুই চোখ দিয়ে ঝরছে ঝর ঝর করে অশ্রুর ঝরনা!

    চিত্ররথ তার বিরাট দেহ নিয়ে সেই দেড়হাত সরু পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে অট্টহাস্য করে বললে, ‘ভাই পুরঞ্জন, কাঁধ থেকে ধনুক নামাও! দেখছ, নির্বোধ গ্রিকদের কেউ ধনুক-বাণ আনেনি। আমাদের ধনুকের বাণগুলোই আজ ওদের উপরে উঠতে দেবে না।’ বলেই সে নিজের ধনুক হাতে নিলে।

    ওদিকে তিরিশজন গ্রিক সৈনিক তখন পাহাড়ের তলদেশে এসে হাজির হয়েছে। এখানে ঘোড়া অচল এবং পদব্রজেও উপরে উঠে একসঙ্গে আক্রমণ করা অসম্ভব দেখে তারা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে পরামর্শ করতে লাগল।

    তাদের অধ্যক্ষ তরবারি নেড়ে নীচে থেকে চেঁচিয়ে বললে, ‘ওরে ভারতের নির্বোধরা! ভালো চাস তো এখনও আত্মসমর্পণ কর, নইলে মৃত্যু তোদের নিশ্চিত!’

    পুরঞ্জন ও চিত্ররথ কোনও জবাব দিলে না, কেবল ধনুকে বাণ লাগিয়ে পাথরের মূর্তির মতন স্থির হয়ে রইল।

    অধ্যক্ষ চিৎকার করে বললে, ‘শোনো গ্রিসের বিশ্বজয়ী বীরগণ! সম্রাটের আদেশ, হয় ওদের বন্দি, নয় বধ করতে হবে! প্রাণের ভয়ে ওই কাপুরুষরা নীচে যখন নামতে রাজি নয়, তখন ওদের আক্রমণ করা ছাড়া উপায় নেই! যাও, তোমরা ওদের বন্দি করো, নয় ইঁদুরের মতো টিপে মেরে ফেলো!’

    ঢাল, বর্শা, তরবারি নিয়ে গ্রিকরা পাহাড়-পথের উপরে উঠতে লাগল—কিন্তু একে একে, কারণ পাশাপাশি দুজনের ঠাঁই সেখানে নেই, এ কথা আগেই বলা হয়েছে।

    সঙ্গে সঙ্গে পুরঞ্জন ও চিত্ররথের ধনুকের ছিলায় জাগল মৃত্যু-বীণার অপূর্ব সংগীত,—সাহসী যোদ্ধাদের চিত্তে চিত্তে নাচায় যা উন্মত্ত আনন্দের বিচিত্র নূপুর!

    গ্রিকরা ঢাল তুলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে, কিন্তু বৃথা! মিনিট-তিনেকের মধ্যেই চারজন গ্রিক সৈনিকের দেহ হত বা আহত হয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে নীচের দিকে নামতে লাগল।

    চিত্ররথ তার প্রচণ্ড কণ্ঠে চিৎকার করে বললে, ‘আয় রে গ্রিক কুক্কুরের দল! ভারতের দুই জোড়া বাহু আজ তোদের তিরিশজোড়া বাহুকে অক্ষম করে দেবে!’

    পুরঞ্জন ধনুক থেকে বাণ ত্যাগ করে বললে, ‘তোরা যদি না পারিস, তোদের সরদার ডাকাত আলেকজান্ডারকে ডেকে আন!’

    পাঁচ-ছয়বার চেষ্টার পর গ্রিকদের দলের এগারো জন লোক হত বা আহত হল।

    পুরঞ্জন সানন্দে বললে, ‘দু-ঘণ্টা কেটে গেছে! সুবন্ধুকে আর কেউ ধরতে পারবে না। জয়, ভারতবর্ষের জয়।’

    গ্রিক সেনাধ্যক্ষ মনে মনে প্রমাদ গুণলে, ও-পথ হচ্ছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর পথ! তিরিশজনের মধ্যে এগারোজন অক্ষম হয়েছে, বাকি আছে উনিশজন মাত্র! দুজনের কাছ ত্রিশজনের শক্তি ব্যর্থ, সম্রাট শুনলে কী বলবেন!

    হঠাৎ একজন সৈনিক এসে খবর দিলে, ‘পাহাড়ে ওঠবার আর একটা নতুন পথ পাওয়া গেছে!’

    সেনাধ্যক্ষ সানন্দে বললে, ‘জয় আলেকজান্ডারের জয়! আমরা নয়জনে এইখানেই থাকি। বাকি দশজনে নতুন পথ দিয়ে উপরে উঠে গিয়ে শত্রুদের পিছনে গিয়ে দাঁড়াক! তারপরে দুই দিক থেকে ওদের আক্রমণ করো!

    বেশ খানিকক্ষণ কেটে গেল। শত্রুদের কেউ আর উপরে ওঠবার চেষ্টা করছে না দেখে চিত্ররথ আশ্চর্য হয়ে বললে, ‘পুরঞ্জন, তাহলে আমরা কি অনন্ত কালের জন্যে এইখানেই ধনুকে তির লাগিয়ে বসে থাকব?’

    পুরঞ্জন বললে, ‘হাঁ, যত সময় কাটবে, সুবন্ধু ততই দূরে গিয়ে পড়বে। আমরা তো তাই-ই চাই!’

    পাহাড়ের গায়ে ছায়া ক্রমেই দীর্ঘতর হয়ে উঠতে লাগল। সূর্য গিয়েছে আকাশের পশ্চিমে।

    আচম্বিতে পাহাড়ের উপর জেগে উঠল ঘন ঘন পাদুকার পর পাদুকার শব্দ!

    চিত্ররথ মুখ ফিরিয়ে দেখেই কঠোর হাসি হেসে বললে, ‘পুরঞ্জন, এ-জীবনে শেষবারের মতো ভারতের নাম করে নাও! জয় ভারতবর্ষের জয়! চেয়ে দ্যাখো, শত্রুরা আমাদের পিছনে!’

    ‘শত্রুরা আমাদের দুই দিকেই! দ্যাখো চিত্ররথ, নীচে থেকেও ওরা উপরে উঠছে!’

    ‘পুরঞ্জন, আমার ধনুকের জন্যে আর দুটি মাত্র বাণ আছে!’

    ‘চিত্ররথ, আমার ধনুকের জন্যে আর একটিমাত্র বাণও নেই!’

    ‘তাহলে আবার বলো,—জয়, ভারতবর্ষের জয়!’

    ‘জয়, ভারতবর্ষের জয়! নাও তরবারি, ঝাঁপিয়ে পড়ো মৃত্যুর মুখে!’

    পুরঞ্জন ও চিত্ররথের তরবারি নাচতে লাগল অধীর পুলকে, অস্তগামী সূর্যের শেষকিরণ আরক্ত করে তুললে তাদের সাংঘাতিক আকাঙ্ক্ষাকে। তিনজন গ্রিক সৈনিকের মৃতদেহ পাহাড়ের কালো দেহকে লালে লাল করে তুললে বটে, কিন্তু তারপর আর আত্মরক্ষা করতে পারলে না ভারতের বীরত্ব! তিরিশজনের বিরুদ্ধে মাত্র দুইজন দাঁড়িয়ে চোদ্দোজন শত্রুনাশ করেছে, কিন্তু তারপরেও অবশ্যম্ভাবীকে আর বাধা দেওয়া গেল না! গ্রিক তরবারির মুখে পুরঞ্জনের দক্ষিণ বাহু বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটির উপরে গিয়ে পড়ল, কিন্তু তখনও সে কাতর হল না, বাম হাতে বর্শা নিয়ে শত্রুদের দিকে বেগে তেড়ে গেল আহত সিংহের মতো গর্জন করে।

    পরমুহূর্তেই পুরঞ্জনের ছিন্নমুণ্ড দেহ ভূমিতলকে আশ্রয় করলে।

    চিত্ররথেরও সর্বাঙ্গ দিয়ে ঝরছে তখন রক্তের রাঙা হাসি! প্রায়-বিবশ দেহে পাহাড়ের গা ধরে উঠে দাঁড়িয়ে প্রাণপণে সে বলে উঠল, ‘নমস্কার ভারতবর্ষ! নমস্কার পঞ্চনদের তীর!’ তারপরেই আবার এলিয়ে শুয়ে পড়ে অন্তিম নিশ্বাস ত্যাগ করলে।

    গ্রিক সেনাধ্যক্ষ চমৎকৃত ভাবে দুই মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে বললে, ‘এই যদি ভারতের বীরত্বের নমুনা হয়, তাহলে আমাদের অদৃষ্ট নেহাত মন্দ বলতে হবে!’

    আর একজন সৈনিক বললে, ‘এরা ছিল তো তিনজন, কিন্তু আর একটা লোককে দেখতে পাচ্ছি না কেন?’

    সেনাধ্যক্ষ চমকে উঠে বললে, ‘ঠিক বলেছ, তাই তো! সে পালাতে পারলে এত রক্তারক্তি, হত্যাকাণ্ড সব ব্যর্থ হবে!’

    গ্রিকরা ব্যস্ত হয়ে পাহাড়ের আরও উপরে উঠতে লাগল।

    কিন্তু সুবন্ধু পাহাড় ছেড়ে নেমে গেছে পাঁচ ঘণ্টা আগে। স্বদেশের পথ থেকে তাকে আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না। পুরঞ্জন ও চিত্ররথের আত্মদান বিফল হবে না।

    তখনও ভীমার্জুনের বীরত্ব-গাথা প্রাচীন কাব্যের সম্পত্তি হয়নি। ভারতের বীরগণ তখন ভীমার্জুনকে প্রায় সমসাময়িক বলে মনে করতেন। ভারতের ঘরে ঘরে, পঞ্চনদের তীরে তাই তখন বিরাজ করত লক্ষ লক্ষ পুরঞ্জন ও চিত্ররথ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }