Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ওগো টুনটুনি কীগো ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্ল্যাক উইডো বনাম সিংহ

    টুনি স্কুলের বারান্দায় বসে মাঠে ছোটাছুটি করা ছেলেমেয়েদের দেখছিল। সে নিজেও মাঝে মাঝে তাদের সাথে ছোটাছুটি করে খেলে কিন্তু তার বেশি ভালো লাগে সবাইকে দেখতে। প্রত্যেকটা ছেলে না হয় মেয়ে একজন আরেকজন থেকে আলাদা, প্রত্যেকের নিজের একটা ভাবভঙ্গি আছে। খেলার মাঝে কখনও উত্তেজনা, কখনো আনন্দ, কখনো কৌতুক, কখনও দুষ্টুমি, কখনও ঝগড়াঝাঁটি—টুনির মনে হয় সে ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের অঙ্গভঙ্গি দেখেই একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে।

    হঠাৎ করে সে একটা রেগে যাওয়া গলার স্বর শুনতে পেল, একটি মেয়ের গলা, কী বলছে বোঝা গেল না কিন্তু সে যে খুব রেগে গিয়ে কিছু একটা বলছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। টুনি মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, একটা মেয়ে কোমরে হাত দিয়ে একটা ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারে ছেলেটা মুখ ভেংচে কিছু একটা বলল, কী বলেছে বোঝা গেল না কিন্তু শুনে মেয়েটা যে প্রচণ্ড রেগে উঠেছে তাতে সন্দেহ নেই। মেয়েটা এবারে চিৎকার করে ছেলেটাকে একটা ধাক্কা দিল এবং কিছু বোঝার আগেই ছেলেটাও মেয়েটাকে এত জোরে ধাক্কা দিল যে, মেয়েটা পড়তে পড়তে কোনোভাবে সামলে নিল।

    টুনি ততক্ষণে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, সে জানে ধাক্কাধাক্কির পরের ধাপই হচ্ছে মারামারি। মারামারিটি সাধারণত ছেলে এবং ছেলের মাঝে হয়—খুবই কম হয় মেয়ে এবং মেয়ের মাঝে। ছেলে এবং মেয়ের মাঝে মারামারি একেবারেই হয় না—খুব ছোট ক্লাসের বাচ্চারা যারা এখনও জানেই না কে ছেলে আর কে মেয়ে, তারা মাঝে মাঝে করে থাকে, কিন্তু যারা একটু বড় হয়ে কিশোর কিশোরী হয়ে গেছে তারা একেবারেই মারামারি করে না। টুনি ছুটে গিয়ে ছেলে আর মেয়েটার কাছে যেতে যেতে মেয়েটা বাঘিনীর মত ছেলেটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং কিছু বোঝার আগে একেবারে সিনেমার কায়দায় ছেলেটার নাকে একটা ঘুষি মেরে দিয়েছে।

    ছেলেটা নিজের নাক চেপে ধরে একটা চিৎকার করে মেয়েটাকে পালটা ঘুষি মেরে বসল, কিন্তু এর মাঝে টুনি লাফ দিয়ে দুজনের মাঝখানে হাজির হয়েছে এবং ঘুষিটা এসে লাগল টুনির মাথায়, তার চশমাটা ছিটকে পড়ে যায় এবং এক সেকেন্ডের জন্য টুনি তার চোখে অন্ধকার দেখে। ততক্ষণে আরও অনেকে হাজির হয়েছে, বেশ কয়েকজন মেয়েটাকে ধরে রেখেছে এবং অন্য কয়েকজন ছেলেটাকে ধরে রেখেছে এবং কয়েকজন এসে টুনিকে ধরেছে—ছোট একটি মেয়ে টুনির চশমাটা কুড়িয়ে এনে তার হাতে দিল। সবাই মিলে কথা বলছে, চিৎকার হইচই চেঁচামেচি, তাই কেউ কারো শুনতে পাচ্ছে না।

    একটা স্কুলের এই বয়সি ছেলেমেয়েদের মাঝে এরকম ঘটনা কম ঘটলেও একেবারে ঘটে না তা নয়, কিন্তু ছেলেমেয়েরা নিজেরা চেষ্টা করে সেটা খুবই তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ফেলার, চেষ্টা করে যেন কোনোভাবেই সেটা স্যার ম্যাডামের কাছে না পৌঁছায়। কাজেই সবাই মিলে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু তখন ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটে গেল। সবাই তাদের প্রিন্সিপাল ম্যাডামের গলার স্বর শুনতে পেল, খুবই ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “এখানে কী হচ্ছে?”

    কেউ স্বপ্নেও চিন্তা করে নাই এরকম একটা ঘটনার মাঝে হঠাৎ করে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম এসে হাজির হবেন। নিশ্চয়ই কোনো কাজে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দাঁড়িয়ে গেছেন।

    এক মুহূর্তে সমস্ত চিৎকার চেঁচামেচি থেমে গেল এবং ছেলেমেয়েরা দুই পাশে সরে গিয়ে প্রিন্সিপাল ম্যাডামকে এগিয়ে আসার জায়গা করে দিল। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কখনও কোনোকিছু দেখে রাগেন না কিংবা অবাক হন না। আজকেও রাগলেন না এবং অবাক হলেন না, খুবই শান্ত গলায় প্রায় হাসিহাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?”

    যারা একটু বড় তারা ‘কিছু হয় নাই’ জাতীয় কথা বলে ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল কিন্তু তার আগেই একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে রিনরিনে গলায় বলল, “এই ভাইয়া টুনি আপাকে ঘুষি মেরেছে।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম টুনিকে চিনেন এবং তাকে বেশ স্নেহ করেন, কাজেই তাকে একটা ভাইয়া ঘুষি মেরেছে সেটা তার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খবর। ভুরু দুইটা একটু উপরে তুলে বললেন, “টুনিকে ঘুষি মেরেছে?”

    টুনি তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল, বলল, “না, না আমাকে কেউ ঘুষি মারে নাই। একটু ধাক্কাধাক্কি হচ্ছিল—আমি মাঝখানে ছিলাম তাই—”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “ধাক্কাধাক্কিটা কী নিয়ে হচ্ছিল?”

    সবাই একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকায়, কেউই ঠিক ভালো করে জানে না। যে ছেলে এবং মেয়ে ঘুষোঘুষি করছিল তারা মুখ গোঁজ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। টুনি বলল, “আমার মনে হয় ব্যাপারটা এমন কিছু নয়, তারা নিজেরা নিজেরা মিটিয়ে নিতে পারবে।”

    “ঠিক আছে। নিজেরা নিজেরা মিটিয়ে নিতে পারলে ভালো—” বলে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালেন, তখন হঠাৎ নাকে ঘুষি খাওয়া ছেলেটা বলে ফেলল, “ঝিনু ছেলেদের নিয়ে খুব খারাপ কথা বলেছে।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম দাঁড়িয়ে গেলেন, মাথা ঘুরিয়ে ছেলেটার দিকে তাকালেন। জিজ্ঞেস করলেন, “ঝিনু খারাপ কথা বলেছে?”

    ঝিনু নামের মেয়েটা বলল, “বলি নাই।“

    ছেলেটা বলল, “বলেছে।”

    ঝিনু বলল, “কী বলেছি বল।”

    ছেলেটা বলল, “খুব খারাপ কথা, সবার সামনে বলা যাবে না। “ ঝিনু বলল, “একশবার বলা যাবে। তুই বল।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “শুনি কী খারাপ কথা। আমার ছেলেমেয়েরা ভালো কথা খারাপ কথা কী বলে সব আমার জানা দরকার।”

    ছেলেটা বলল, “ঝিনু বলেছে, রঞ্জু তুই হচ্ছিস ছেলে। ছেলেদের ওয়াই ক্রোমোজম ছোট, একটুখানি কেনি আঙুলের মত বিন্দি সাইজ। মেয়েদের এক্স ক্রোমোজম ইয়া লম্বা—”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “এটা তো খারাপ কথা মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে একটা বৈজ্ঞানিক কথা।”

    টুনিদের ক্লাসের রাজু পাশে দাঁড়িয়েছিল, সে বলল, “জি ম্যাডাম এটা একটা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। মানুষের কোষের নিউক্লিয়াসে যে তেইশ জোড়া ক্রোমোজম থাকে তার এক জোড়া ছেলেমেয়েদের বেলায় আলাদা, মেয়েদের দুইটা লম্বা এক্স ক্রোমোজম। ছেলেদের একটা এক্সের বদলে আছে ওয়াই। ওয়াইটা অনেক ছোট ক্রোমোজম।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম রঞ্জুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “এটা তো খারাপ কথা না—সত্যি কথা।”

    রঞ্জু একটু থতমত খেয়ে বলল, “ম্যাডাম, ঝিনু বলেছে খুব খারাপভাবে, কেনি আঙুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে, খারাপ কথার মত।”

    প্রিন্সিপাল বললেন, “হুম। বুঝতে পারছি।”

    রঞ্জু বলল, “আরও বলেছে ম্যাডাম।”

    “আর কী বলেছে?”

    “পৃথিবীর সব কবিরা ছেলেদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছে। বলেছে ছেলেরা অপদার্থ, কোনোকিছু পারে না, শুধু বড় বড় কথা বলে সেইজন্য কবিতা লিখেছে।”

    “সেটা কোন কবিতা?”

    রঞ্জু বলল, “আমাদের দেশে সেই ছেলে হবে কবে, যারা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে—”

    “ইন্টারেস্টিং।”

    “ঝিনু বলেছে, কবিরা কখনও মেয়ে নিয়ে বলে না, আমাদের দেশে সেই মেয়ে হবে কবে—”

    “বুঝতে পারছি। বেচারি কুসুমকুমারী যদি জানতেন তার লেখা এরকম সুইট একটা কবিতাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, বেচারির নিশ্চয়ই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত।”

    ঝিনু বলল, “ম্যাডাম, রঞ্জু খালি আমার দোষ দিচ্ছে। সে নিজে কী করেছে একবারও বলছে না। আপনি জানেন ম্যাডাম সে মেয়েদের নিয়ে কী কবিতা বানিয়েছে?”

    রঞ্জু একটু নড়াচড়া করল, দুর্বল গলায় বলল, “ঠাট্টা করে—”

    ঝিনু বলল, “মোটেও ঠাট্টা না। সত্যি সত্যি বলেছে।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন, “কী কবিতা বলেছে?”

    ঝিনু বলল, “বলেছে, মাইয়া রে মাইয়া
    মোটা হইছে খাইয়া
    দেখ দেখি চাইয়া—”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম খুব সাবধানে হাসি গোপন করে রঞ্জুর দিকে তাকালেন, জিজ্ঞেস করলেন, “কে লিখেছে এই কবিতা?”

    রঞ্জু মিনমিন করে বলল, “আমি।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন, “কোথাও ছাপানোর জন্য পাঠিয়েছ?”

    “না ম্যাডাম।”

    “না পাঠানোই ভালো। ছন্দ ঠিক আছে কিন্তু বক্তব্য বিতর্কিত মনে হতে পারে।”

    ঝিনু ফোঁস ফোঁস করে বলল, “খালি কবিতাটা খারাপ তা না, সে সেটা বলে আরও খারাপভাবে। তার ইয়েটা এইভাবে নাড়ায়।” ঝিনু তার ইয়েটা নাড়িয়ে দেখাল।

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “মনে হচ্ছে একটা খুবই জটিল সমস্যা। ছেলে নাকি মেয়েকে ভালো।”

    কেউ কোনো কথা বলল না। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, ‘আমার মনে হয় প্রশ্নটাকে জিইয়ে না রেখে নিষ্পত্তি করে ফেলা ভালো। কী বল তোমরা?”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন কেউ বুঝতে পারল না। তারপরেও সবাই মাথা নাড়ল। টুনি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে নিষ্পত্তি করবেন ম্যাডাম।”

    “আলোচনার মাধ্যমে।”

    “আলোচনা? কে আলোচনা করবে?”

    “ছেলেদের এবং মেয়েদের প্রতিনিধিরা।”

    “কে ছেলেদের প্রতিনিধি আর কে মেয়েদের প্রতিনিধি হবে ম্যাডাম?”

    “সেটা এই স্কুলের ছেলেরা এবং মেয়েরা ঠিক করবে। আমি এক সপ্তাহ সময় দিব। এক সপ্তাহ পর একটা ডিবেট হবে, ছেলে না মেয়ে কে সর্বশ্রেষ্ঠ। সেই ডিবেটে নিষ্পত্তি হবে।”

    টুনি শুকনো মুখে বলল, “ম্যাডাম তাহলে তো ছেলে আর মেয়েরা আরও বেশি ভাগাভাগি হয়ে যাবে!”

    “সেটা যেন না হয় সেই দায়িত্ব এই স্কুলের ছেলে এবং মেয়েদের।” প্রিন্সিপাল ম্যাডাম গম্ভীর মুখে বললেন, “আমি এই স্কুলের ছেলে আর মেয়েদের উপর বিশ্বাস করে একটা দায়িত্ব দিতে চাই। আশা করছি তারা এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবে।”

    টুনি প্রিন্সিপাল ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে বলল, “কিন্তু  ম্যাডাম-ম্যাডাম—”

    টুনির মনে হল প্রিন্সিপাল ম্যাডাম তার দিকে তাকিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে তার চোখ টিপলেন! টুনি তার কথা শেষ না করে থেমে গেল। কিন্তু এটা কি সম্ভব? প্রিন্সিপাল ম্যাডামের মত এরকম একজন গম্ভীর বড় মানুষ তার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপছেন?

    শুধু যে চোখ টিপেছেন তা নয়, মনে হল মুখ টিপে একটু হেসে হাসি গোপন করেছেন! কিন্তু এটা কি সম্ভব? সে কি ভুল দেখেছে?

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম হেঁটে চলে গেলেন এবং ছেলেরা আর মেয়েরা উত্তেজিতভাবে কথা বলতে লাগল। কয়েকজন রঞ্জুকে এবং অন্যরা ঝিনুকে টেনে সরিয়ে নিয়ে গেল। টুনি আবার বারান্দায় গালে হাত দিয়ে বসে চিন্তা করতে লাগল।

    .

    রাতে টুনি তার আম্মুর সাথে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলছে, আম্মু সবকিছু শুনে মাথা নেড়ে বললেন, “তুই ঠিকই বলেছিস। ডিবেট করে ছেলেমেয়ের সমস্যা মিটানো যাবে না। বরং উল্টোটা না হয়।”

    “উল্টো কী হবে?”

    “ছেলেরা আরো বেশি বিশ্বাস করবে যে, ছেলেরাই ভালো আর মেয়েরা ভাববে মেয়েরাই ভালো।”

    “কিন্তু—”

    “কিন্তু কী?”

    “আমাদের প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কি এটা বুঝতে পারছেন না?”

    “মনে হয় তার অন্য কোনো প্ল্যান আছে।”

    টুনি বলল, “অন্য আর কী প্ল্যান থাকবে? নোটিশ করা হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার স্কুলের ছেলে আর মেয়েদের মাঝে ডিবেট। ডিবেটের বিষয়বস্তু, কে সর্বশ্রেষ্ঠ, ছেলে না মেয়ে।”

    টুনির আম্মু বললেন, “দেখা যাক কী হয়।”

    .

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা স্কুলে উত্তেজনা। পুরো সপ্তাহটি ছেলেদের আর মেয়েদের মাঝে এক ধরনের রেষারেষিতে কেটেছে। ছেলেরা তাদের সবচেয়ে ভালো ডিবেটরদের রেডি করেছে। ঠিক একইভাবে মেয়েরাও তাদের টিম রেডি করেছে। বইপত্র ইন্টারনেট গুগল ঘেঁটে তারা সব রকম তথ্য ডাউনলোড করেছে। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে এবং টিমের কোন জন কী বলবে সেটা ঠিক করেছে। দুই দলই অনুমান করার চেষ্টা করছে বিপক্ষ দল কী বলবে এবং তাদের যুক্তি খণ্ডন করার জন্য তারা পাল্টা কী বলবে সেটা নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণা চলছে। শুধু তাই নয়, ডিবেটে কথা বলার সময় ছেলেরা এবং মেয়েরা তাদের দলের জন্য যেন ঠিক জায়গায় হাততালি দিতে পারে সেইজন্য তাদেরকে রেডি করে রাখা হয়েছে। শুধু হাততালি দিয়ে থেমে গেলে হবে না, দরকার হলে বিপক্ষ দলকে যেন দুয়ো দিতে পারে, ভুয়া ভুয়া বলে চেঁচাতে পারে সেটা পর্যন্ত ঠিক করে রাখা আছে। সহজ কথায় বলা যায় একেবারে টানটান উত্তেজনা।

    প্রথম চার পিরিয়ড হওয়ার পর সবাই স্কুলের অডিটরিয়ামে হাজির হল। অডিটরিয়ামে ছেলেমেয়েরা মিলেমিশে বসে, আজকে কী হয়েছে কে জানে, ছেলেরা এবং মেয়েরা আলাদা আলাদা বসেছে। শুধু তাই না, মাঝে মাঝেই ছেলেরা একসাথে “ছেলে ছেলে ছেলে” বলে চিৎকার করছে। ঠিক তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে মেয়েরা “মেয়ে মেয়ে মেয়ে” বলে চিৎকার করছে।

    একটু পরে তাদের প্রিন্সিপাল ম্যাডাম এসে অডিটরিয়ামে ঢুকলেন, তখন ছেলেমেয়েরা একটু চুপ করল। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম স্টেজে উঠে বসলেন, তার ডান পাশে আর বাম পাশে আলাদাভাবে ছেলেদের আর মেয়েদের বসায় জায়গা আছে। স্টেজে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের সাথে নার্গিস ম্যাডামও আছেন। অন্য আরও কয়েকজন স্যার ম্যাডাম এসেছেন, তারা সবাই নিচে দর্শকদের সাথে বসেছেন।

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “ছেলেদের টিম আর মেয়েদের টিম এসে তোমাদের জায়গায় বসে যাও। টিমের মেম্বারদের নামগুলো আমাকে দাও।”

    খুবই গম্ভীর মুখে ডিবেটররা তাদের জায়গায় বসে। দুই দলের দলপতি তাদের টিমের মেম্বারদের নাম লেখা কাগজ প্রিন্সিপাল ম্যাডামের হাতে দিল। ছেলেরা এবং মেয়েরা চিৎকার করে যাচ্ছে, তার মাঝে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে বললেন, “এক্ষুণি আমাদের ডিবেট শুরু হয়ে যাবে। ডিবেট শুরু করার জন্য আমাদের একজন সঞ্চালক দরকার। কে হবে সঞ্চালক?”

    কেউ নিজ থেকে সঞ্চালক হওয়ার আগ্রহ দেখাল না, তখন প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “টুনি? টুনি কি আছ?”

    টুনি মাঝামাঝি জায়গায় বসে ছিল, সে চমকে উঠল। স্কুলের অনুষ্ঠানে সে সবসময় ভলান্টিয়ার হয়ে কাজ করে কিন্তু কখনোই স্টেজে উঠে না। সে গান, আবৃত্তি, ডিবেট, অভিনয় কিছুই করতে পারে না, অনুষ্ঠান সঞ্চালনার প্রশ্নই ওঠে না।

    প্রিন্সিপাল ম্যাডামের মুখে নিজের নাম শুনে টুনি ঘাবড়ে গেল, দাঁড়িয়ে বলল, “জি ম্যাডাম। আমি আছি।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “তুমি চলে এসো স্টেজে।”

    টুনি চিঁচিঁ করে বলল, “ম্যাডাম, আমি জীবনে স্টেজে উঠি নাই। জীবনে সঞ্চালনা করি নাই। আর কাউকে নেন ম্যাডাম।”

    “না, না তুমিই আস। তোমার মত একজন দরকার। আস।”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম ডাকলে তো আর সে না করতে পারে না। কাজেই টুনি যথেষ্ট নার্ভাস হয়ে ছেলেমেয়েদের ভিড় ঠেলে স্টেজের দিকে যেতে থাকে। টুনি স্টেজে ওঠার পর সামনে শত শত ছেলেমেয়েকে দেখে তার গলা শুকিয়ে যায়। ছেলেমেয়েদেরও আজ সবকিছু নিয়ে উত্তেজনা, তাই তারাও টেবিল চাপড়ে শব্দ করতে থাকে।

    স্টেজে পৌঁছানোর পর প্রিন্সিপাল ম্যাডাম তাকে দুই দলের টিম মেম্বারদের দুটি কাগজ ধরিয়ে দিলেন, বললেন, “নাও টিম মেম্বারদের নাম ঘোষণা কর।”

    টুনি কাগজগুলো নিয়ে দেখল, ছেলেদের টিমের উপরে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম লাল কালি দিয়ে লিখে রেখেছেন, “এই ছেলেরা বলবে মেয়েদের পক্ষে।” আর মেয়েদের টিমের উপর লাল কালি দিয়ে লিখে রেখেছেন, “এই মেয়েরা বলবে ছেলেদের পক্ষে”! টুনি অবাক হয়ে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের দিকে তাকাল, প্রিন্সিপাল ম্যাডাম সেদিনের মত আবার চোখ টিপলেন! মুখে একটা চাপা হাসি—পরিষ্কার দুষ্টুমির হাসি!

    হঠাৎ করে অনেক কিছু টুনির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। ছেলেমেয়ে নিয়ে বিতর্ক করলে তো এভাবেই করতে হবে! ছেলেরা বলবে মেয়েদের পক্ষে আর মেয়েরা বলবে ছেলেদের পক্ষে!

    একটু আগে শত শত উত্তেজিত ছেলেমেয়েদের দেখে টুনির যেরকম নার্ভাস লাগছিল, গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ করে সব দূর হয়ে সে নিজের ভেতর একটা অন্যরকম আনন্দ টের পেতে থাকে। সবগুলো দাঁত বের করে হেসে সে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, “আমার প্রিয় ভাইবোনেরা। আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা—এক্ষুণি শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা—কে সর্বশ্রেষ্ঠ: ছেলে না মেয়ে?”

    ছেলেরা চিৎকার করে বলল, “ছেলে ছেলে”—মেয়েরা চিৎকার করে বলল, “মেয়ে মেয়ে”, কাজেই অডিটরিয়ামে একটা বিকট হট্টগোল ছাড়া আর কিছুই শোনা গেল না। টুনি হট্টগোলটা থেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করল, তারপর মাইক্রোফোনটা মুখের কাছে নিয়ে বলল, “এবারে আমি টিম মেম্বারদের নাম ঘোষণা করছি। এই যে ডানদিকে ছেলেরা বসে আছে তারা বলবে—” টুনি এক সেকেন্ড অপেক্ষা করে বলল, “তারা বলবে মেয়েদের পক্ষে। অর্থাৎ তারা বলবে মেয়েরাই শ্রেষ্ঠ!”

    হঠাৎ করে পুরো হলঘরের সবাই একেবারে নীরব হয়ে যায়। টুনি দাঁত বের করে হেসে বলল, “না, আমি ভুল বলি নাই, তোমরাও ভুল শুনো নাই। ছেলেরা বলবে, মেয়েরাই শ্রেষ্ঠ! আর মেয়েরা বলবে, ছেলেরাই শ্রেষ্ঠ! আমরা দেখি কে বিজয়ী হয়। ছেলেরা না মেয়েরা।”

    কিছুক্ষণ পুরো হলঘর নীরব হয়ে থাকে এবং হঠাৎ করে সবাই আনন্দে চিৎকার করে ওঠে, টেবিলে থাবা দিতে থাকে, হাততালি দিতে থাকে, মুখে বিচিত্র শব্দ করতে থাকে। শুধু স্টেজে বসে থাকা ছেলে এবং মেয়ে ডিবেটররা ফ্যালফ্যাল করে এদিক সেদিক তাকাতে থাকে। তাদের মুখ রক্তশূন্য ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছেলেদের দলের টিম লিডার দাঁড়িয়ে দুর্বলভাবে প্রিন্সিপাল ম্যাডামকে বলল, “কিন্তু ম্যাডাম সেটা তো আগে বলা হয় নাই—আমরা তো স্ক্রিপ্ট রেডি করেছি ছেলেদের পক্ষে!”

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “কেন করেছ? আমি বলেছি ছেলে আর মেয়ে নিয়ে ডিবেট হবে, কে পক্ষে কে বিপক্ষে সেটা তো বলি নাই। তোমরা জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হও নাই কেন?”

    “কিন্তু ম্যাডাম –” দলনেতা মাথা চুলকায়। মেয়ে দলের মেম্বারদেরও একই অবস্থা, তারাও চিঁচিঁ করে বলল, “ম্যাডাম এটা আমরা কেমন করে বলব? আমরা তো রেডি না।”

    নার্গিস ম্যাডাম এতক্ষণ চুপ করে মিটিমিটি হাসছিলেন, এবারে বললেন, “দোষ তোমাদের! তোমরা কেমন করে ভাবলে আমরা তোমাদের এরকম নিজেদের নিয়ে বড়াই করার সুযোগ করে দেব? আর স্ক্রিপ্ট আবার কীরকম কথা? স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলবে—”

    ছেলেরা এবং মেয়েরা মাথা চুলকাতে থাকে, নার্গিস ম্যাডাম বললেন, “ঠিক আছে তোমরা একটু সময় নাও। আর টুনি এই সময়টাতে তুমি কথা বলে ছেলেমেয়েদের ব্যস্ত রাখ।”

    টুনি আঁতকে উঠল, বলল, “আমি? আমি কেমন করে ব্যস্ত রাখব?”

    “পারবে, পারবে। শুরু কর।”

    ঠিক তখন টুনির মাথায় চিড়িক করে একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে মাইক্রোফোন নিয়ে বলল, “আমাদের দুর্ধর্ষ টিমদের রেডি হতে একটু সময় লাগবে, ততক্ষণ আমরা নিজেরা একটু কথা বলি! আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রী ভাইবোনেরা, তোমাদের মাঝে কে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাও? ছেলেরা শ্রেষ্ঠ না মেয়েরা শ্রেষ্ঠ? ছেলেদের বলতে হবে মেয়েরা শ্রেষ্ঠ। আর মেয়েদের বলতে হবে ছেলেরা শ্রেষ্ঠ! কে আছ?”

    সামনে বসে থাকা ছেলেমেয়েদের মাঝ থেকে অসংখ্য হাত উঠে গেল। সবাই চিৎকার করতে থাকল, “আমি-আমি-আমি-”

    টুনি সামনের দিকে বসে থাকা একটা ছোট ছেলেকে ডাকল, সে গম্ভীর হয়ে স্টেজে উঠে আসে। টুনি বাচ্চাটিকে মনে করিয়ে দিল, তোমাকে কিন্তু মেয়েদের পক্ষে কথা বলতে হবে।” ছেলেটি মাথা নাড়ল, বলল, “সেইটাই বলতে এসেছি।”

    টুনি তার হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেয়, সে মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে বলল, “আমার আব্বুর মাথায় ইয়া বড় টাক, আমার আম্মুর মাথায় কোনো টাক নাই। আব্বু বলেছে, মেয়েদের মাথায় টাক পড়ে না, শুধু ছেলেদের মাথায় টাক পড়ে—”

    ছেলেটি কথা শেষ করার আগেই সবাই মিলে চিৎকার করে হাততালি দিতে থাকে। ছেলেটি আর একটা কথা না বলে টুনির হাতে মাইক্রোফোনটা দিয়ে হেঁটে স্টেজ থেকে নেমে গেল। সামনে কয়েকজন স্যার ম্যাডাম বসে আছেন, তার মাঝে জলীল স্যারের মাথায় টাক। স্যার খুবই বিমর্ষভাবে তার টাক মাথায় হাত বুলালেন।

    অসংখ্য বাচ্চা কথা বলার জন্য হাত তুলে চেঁচামেচি করছে। টুনি এবারে ডাকল একটা ছোট মেয়েকে। মেয়েটিকে টুনি আবার মনে করিয়ে দিল তাকে ছেলেদের পক্ষে বলতে হবে। সে মাথা নেড়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, “আমাদের বাসায় আমরা যখন কোথাও বেড়াতে যাই তখন আমার আম্মুর শাড়ি পছন্দ হলে ব্লাউজ পছন্দ হয় না। ব্লাউজ পছন্দ হলে শাড়ি পছন্দ হয় না। শেষ পর্যন্ত যখন দুইটাই পছন্দ হয় তখন জুতা পছন্দ হয় না। শেষ পর্যন্ত যখন পছন্দ করা শেষ হয় তখন সেগুলো পরেন। তারপর চুল আঁচড়াতে বসেন, তারপর ম্যাচিং কানের দুল খুঁজে বের করতে হয়, তারপর ম্যাচিং টিপ লাগাতে হয়, তারপর ম্যাচিং লিপস্টিক সবকিছু শেষ করতে করতে এক ঘণ্টা লেগে যায়। আর আমার আব্বুর রেডি হতে লাগে এক মিনিট। আব্বু শার্ট পরেন আর স্যান্ডেল পরেন—ব্যস রেডি। আমার আব্বু খুবই ভালো, আম্মু সাজগোজ করতে এত সময় নিলেও আব্বু একটুকুও বিরক্ত হন না। চুপচাপ বসে থাকেন।”

    ছেলেমেয়ে চিৎকার করে হাততালি দিল। শুধু ছেলেমেয়েরা না, স্টেজে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আর নার্গিস ম্যাডাম একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে কুটকুট করে হাসলেন।

    টুনি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, এখন কে বলবে?”

    ছোট ছোট বাচ্চারা হাত তুলে চিৎকার করতে লাগল, “আমি, আমি, আমি!” একজন ছেলে প্রায় পাগল হয়ে গেল, নিজের জায়গায় দুই হাত নাড়িয়ে সে লাফাতে লাগল। মনে হল তাকে কথা বলার সুযোগ না দিলে সে পাগল হয়ে যাবে। তাই টুনি তাকে ডাকল।

    ছেলেটা প্রায় দৌড়ে স্টেজে এসে মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে বলল, “আমার আম্মুও সাজগোজ করতে এক ঘণ্টার বেশি সময় নেন—” টুনি তাড়াতাড়ি তাকে থামাল, বলল, “তুমি ছেলে। তোমাকে মেয়েদের পক্ষে বলতে হবে। তোমার আম্মুর পক্ষে কথা বলতে হবে।”

    ছেলেটা বলল, “আমি তো আম্মুর পক্ষেই বলব।“

    টুনি একটু অবাক হয়ে বলল, “ও! ঠিক আছে, বল।”

    ছেলেটা বলল, “আমার আব্বুও দুই মিনিটে রেডি হয়ে যান আর আমার আম্মুর এক ঘণ্টা লেগে যায়। তারপর যখন দুইজন বাসা থেকে বের হয় তখন আমার আম্মুকে দেখলে মনে হয় সিনেমার নায়িকা, এত সুন্দর! আর আব্বুকে দেখলে মনে হয় ডাকাত!”

    ছেলেটার কথা শুনে সবাই হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল, প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আর নার্গিস ম্যাডামও হাসলেন। এরপরে যে মেয়েটি এসেছে তার মাথাভর্তি চুল। সে বলল, “আমার মাথায় এত চুল, যখন গোসল করি তখন আমার চুল মুছে মুছে টায়ার্ড হয়ে যাই! তাও চুল শুকায় না। আর আমার ভাইয়ার মাথায় ছোট ছোট চুল, ঝট করে সব চুল শুকিয়ে যায়! আমি যদি ছেলে হতাম তাহলে সব চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে ফেলতাম। ছেলে হওয়া কত মজা! তারা কত মজা করে। আমার কত হিংসা হয়।”

    মেয়েটার কথা শেষ হওয়ার পর অনেক মেয়ে মাথা নাড়ল। এরপরে যে ছেলেটি বলতে এসেছে, সে মুখ শুকনো করে বলল, “তোমরা ছেলেদের এত হিংসা করো না। ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ হয়—যখন তাদের দাড়ি-গোঁফ গজাতে শুরু করে, তখন তাদের দেখতে একেবারে ছাগলের মত লাগে। বড় হয়ে কেউ কেউ আবার গোঁফ রাখে। তাদের হয় সবচেয়ে বিপদ। সর্দি হলে ঠিক করে নাক ঝাড়তে পারে না, আইসক্রিম খেলে গোঁফের মাঝে আইসক্রিম লেগে থাকে।”

    ছেলেটার কথা শেষ হওয়ার আগেই গোঁফের যন্ত্রণার কথা শুনে সবাই হেসে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

    এরপরে যে মেয়েটা এসেছে সে বলল, “তার বাসায় যেতে যদি একটু দেরি হয়, তাহলে তার মা তাকে বকাবকি করে। মেয়েদের জীবনে কোনো আনন্দ নাই, মায়েরা মেয়েদের কঠিন শাসন করে।”

    তারপর যে ছেলেটা এসেছে সে বলল যে, “তার বাবা তার নাম জানে না। পরীক্ষার রেজাল্ট কার্ড দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছে, এটা কার পরীক্ষার কার্ড? ছেলেটা যখন বলেছে তার, তখন অবাক হয়ে বলেছে, তাই নাকি? তার আব্বু শুধু তার ডাকনাম জানে, ভালো নাম জানে না!”

    এভাবে মনে হয় চলতেই থাকত, কিন্তু এরকম সময়ে ছেলেদের টিম আর মেয়েদের টিমের দলনেতারা এসে বলল, তারা ডিবেট করার জন্য রেডি। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন, “ঠিক আছে, তাহলে শুরু কর।’ তারপর টুনির দিকে তাকিয়ে বলছেন, “টুনি তুমি বক্তার নাম ঘোষণা কর। প্রথমে ছেলেদের দল থেকে একজন।”

    টুনি ছেলেদের দল থেকে প্রথম জনের নাম ঘোষণা করল, চশমা পরা জ্ঞানী টাইপের একজন ছেলে। সে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় বলল, “মহামান্য বিচারকমণ্ডলী এবং উপস্থিত দর্শকবৃন্দ। আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে আমি বলি হে পৃথিবী দ্বিধা হও–আমি সেখানে নিজেকে বিসর্জন দিয়ে আমার পাপ মোচন করি। যে নারী জাতির গর্ভে আমি জন্ম নিয়েছি, সেই জন্মদাত্রী মাতার জাতির সাথে আমি বিতর্ক করার মত দুঃসাহস দেখাচ্ছি? যাদের পদতলে আমাদের মাথা রাখার কথা, আমরা তাদের সাথে বিতর্ক করছি? ছিঃ ছিঃ ছিঃ। তোমরা আমাদের ক্ষমা কর। আমি কেমন করে বিতর্ক করব, যে নারী আমাকে জন্ম দিয়েছে, সেই নারী জাতির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আমি সন্দেহ পোষণ করব? না—না—না—আমি পৃথিবীর বুকে কুলাঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই না—”

    ছেলেটার বক্তৃতার ভাষা এবং আবেগ শুনে সবাই ভুলে গেল যে একটু আগেই সে তার দলকে নিয়ে নারী জাতিকে ধোলাই দিতে প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। অথচ এখানে দাঁড়িয়ে নারী জাতির অবদানের কথা বলতে গিয়ে তার গলা বন্ধ হয়ে যায়, চোখে প্রায় পানি আসে আসে অবস্থা। ছেলেরা মুগ্ধ হয়ে শুনে, একটু পরপর তালি দিতে থাকে।

    মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনো অংশে কম যায় না। তারা বলল, “এটি সত্যি নারী জাতি মায়ের জাতি, তারা গর্ভে সন্তান ধারণ করে কিন্তু সেটি তো হতেই হবে কারণ প্রকৃতি এটার ব্যবস্থা। কিন্তু পুরুষ জাতি যেটি করে সেটি তাদের মহত্ত্ব। নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পুরুষ জাতি শুধু সেই সন্তানকে রক্ষা করে না, তার মাকেও বুক আগলে রক্ষা করে। কিন্তু যেহেতু পৃথিবীতে বহু অপদার্থ পুরুষ আছে তাই তারা এই যুক্তিটির পিছনে বেশি সময় নষ্ট করল না। পুরুষ নারী থেকে শ্ৰেষ্ঠ প্ৰমাণ করার জন্য তারা পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীদের কথা বলতে শুরু করল! আইনস্টাইন, নিউটন, গ্যালেলিও সবাই পুরুষ সেটা মনে করিয়ে দিল।”

    ছেলেরা তখন গণিতবিদ হাইপেশিয়ার কথা নিয়ে এলো। ধর্মান্ধ পুরুষ মানুষ কীভাবে মহিলা গণিতবিদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল তার একটা ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে নারী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলল, “পুরুষ মানুষ সুযোগ দিচ্ছে না বলেই নারী বিজ্ঞানীর সংখ্যা কম। এখন যে মেয়েরা বেশি লেখাপড়া করছে সেটা বলে তারা ঘোষণা দিল, কিছুদিনের ভিতরেই নারী বিজ্ঞানী এবং নারী গণিতবিদে দেশ ভরে যাবে।”

    মেয়েরা বলল : ছেলেরা লম্বা চওড়া এবং সুদর্শন। (হাততালি হাততালি)

    ছেলেরা বলল : ছেলেরা সুদর্শন নয়, তারা দেখতে রাক্ষসের মত। (হাততালি এবং টেবিল থাবা)

    মেয়েরা বলল : নারী জাতি ভয়ংকর। তার প্রমাণ ব্ল্যাক উইডো মাকড়শা, নারী মাকড়শা পুরুষ মাকড়শাকে খেয়ে ফেলে (আতঙ্ক এবং চিৎকার)

    ছেলেরা বলল : পুরুষ জাতি আরও বেশি ভয়ংকর। পুরুষ সিংহ তার সন্তানদের হত্যা করে (আতঙ্ক এবং চিৎকার)

    মেয়েরা বলল : ছেলেরা শক্তিশালী এবং সাইজে বড় (হাততালি ও চিৎকার)

    ছেলেরা বলল : পুরুষ মোটা এবং থলথলে (টেবিলে থাবা ও চিৎকার)

    .

    কিছুক্ষণের মাঝেই দুই দলই বিতর্কের সব নিয়মকানুন ভেঙে বানিয়ে বানিয়ে একে অন্যকে মহান হিসেবে বলতে শুরু করল। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছাল যে, কারোই বুঝতে বাকি থাকল না তারা বানিয়ে বানিয়ে নানা গল্প বলতে শুরু করেছে!

    প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বাধা দিলেন না—তারা যদি একে অন্যকে মহৎ বলে বলতে শুরু করে খারাপ কী!

    টুনিও স্টেজে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের পিছনে দাঁড়িয়ে হেসে কুটিকুটি হল। ডিবেটটা নিয়ে শুধু শুধু সে ভয় পাচ্ছিল!

    যেটা ভয় পাচ্ছিল, ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাইক্লোন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article বাহ্ টুনটুনি বাহ্ বাহ্ ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }