Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.২৩

    ২৩

    সত্যিই তো, তাদের কী দোষ। তারা কী করবে। জীবনের এই উদার বিস্তারের মধ্যে আমরা যতই বিস্তীর্ণ হবো, ততই তো আমাদের আনন্দ, আবার ততই তো আমাদের আঘাত সহ্য করতে হবে। আনন্দকে যদি স্বীকার করে নিয়ে থাকি, তাহলে আঘাতকে ও এড়ালে চলবে না তো—! যে সৃষ্টিকার্যটি নিঃশব্দে সারা ভুবনময় চিরদিন ধরে চলে আসছে, ধ্বংসের অঙ্কুরটি তো তার মধ্যেই চির-নিহিত আছে। এসব জেনেও দীপঙ্কর সেদিন প্রথমে হতবাক হয়ে গিয়েছিল খবরটা শুনে। তাই প্রথমে বিশ্বাস হয়নি ক্লার্কের কথাগুলো। তাই বার-বার প্রশ্ন করে ঘটনার সত্যতা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হতে চেয়েছিল। তাহলে? সমস্ত আশ্রয়গুলো নির্মূল হয়ে গেলে কোথায় আশ্রয় পাবে সতী? কোথায় সান্ত্বনা পাবে সে?

    —হুজুর!

    আপিসের নির্জন কামরার মধ্যে এতক্ষণ দীপঙ্কর যেন আত্ম-সংবিত হারিয়ে ফেলেছিল। কোথায় কত দূরে কোন্ এক অত্যন্ত পরিচিত আত্মীয়রে যেন অন্তৰ্ধান হয়েছে, তারই বিয়োগ দীপঙ্করকে কয়েক ঘণ্টার জন্যে মুহ্যমান করে দিয়েছিল একেবারে। অথচ পাশেই রয়েছে সতী। একেবারে পাশের ঘরেই। সেই সতীও জানে না কোন্ অপঘাত তার অজ্ঞাতে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে তার জীবনে। শুধু সতী নয়, কেউই জানে না। লক্ষ্মীদিও জানে না হয়ত!

    —হুজুর!

    এতক্ষণে মুখ তুলে চাইলে দীপঙ্কর। মধু দাঁড়িয়ে আছে সামনে। দীপঙ্কর জিজ্ঞেস করলে—কী রে?

    —ক্রফোর্ড সাহেব ডেকেছেন হুজুর।

    সেদিন ক্রফোর্ড সাহেব হয়ত আশা করেছিল দীপঙ্কর তার কাছে অনুনয়-বিনয় করবে। হয়ত তার ট্র্যান্সফার ক্যানসেন্ড করবার জন্যে দরবার করবে। সদাশিব ক্রডোর্ফ সাহেব শুধু বললে—তোমার কবে যেতে সুবিধে হবে সেন?

    দীপঙ্কর বললে—যেদিন আপনি বলবেন।

    সাহেব বোধহয় সান্ত্বনা দিতে চেয়েছিল। বললে—তোমার বোধহয় সুবিধেই হলো সেন, এ-সময়ে ক্যালকাটা ইজ এ ডেঞ্জার জোন্, ডেঞ্জার জোন্ ছেড়ে যাওয়াই হয়ত ভালো তোমার পক্ষে!

    সাহেব চেয়েছিল দীপঙ্কর প্রতিবাদ করে দরখাস্ত করবে। কিন্তু কিছুই করেনি দীপঙ্কর। এ ট্যান্সফার সে মাথা পেতেই নিয়েছে। আপিসের হুকুম বলে নয়। এ সতীর দেওয়া শাস্তি বলে সে মাথা পেতে নিয়েছে। সতী তাকে মমতা দেয়নি। সতী তাকে সান্নিধ্য দেয়নি, তাতে দীপঙ্করের মনে মনে যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল, সতীর ঘৃণা পেয়ে সতীর শাস্তি পেয়ে যেন তার সমস্তটুকু ধুয়ে মুছে গেল।

    —তোমার যদি ময়মনসিংএ যেতে কোনও অসুবিধে থাকে তো তুমি অ্যাপীল করতে পারো-ইউ ক্যান অ্যাপীল—আমি কসীডার করবো তোমার অ্যাপ্লিকেশন্ সেন!

    আশ্চর্য! ক্রফোর্ড সাহেব জানতো বাঙালীরা কলকাতা শহর ছেড়ে বাইরে যেতে চায় না, তাই বার বার অনুরোধ করেছিল সেদিন। কিন্তু তবু দীপঙ্কর কিছুতেই রাজী হয়নি। অভয়ঙ্কর সোজা এসে ঢুকেছিল ঘরের মধ্যে। সেও বুঝতে পেরেছিল এ ট্র্যান্সফার অন্যায়, এ ট্র্যান্সফার অবৈধ, অকারণ। দীপঙ্কর ক্লার্ক থেকে বড় হয়েছে, সেইটেই হয়ত তার একমাত্র অপরাধ। কিন্তু আর কোনও অপরাধের রেকর্ড তার পার্সোন্যাল ফাইলে নেই। দিল্লীর বোর্ড থেকে শুরু করে জেনারেল ম্যানেজার পর্যন্ত সবাই জানে সেন এফিসিয়্যান্ট অফিসার। ডি-টি-আই হিসেবেও এফিসিয়্যান্ট ছিল, এখন অফিসার হিসেবেও এফিসিয়্যান্ট। স্টাফের কাছে পপুলার। স্টাফরা ভালবাসে। ক্রফোর্ড সাহেব বেশী কাজ দেখে না, ঘোষাল ওয়াগন আর এস্টাবলিশমেন্ট নিয়েই ব্যস্ত। ট্র্যাফিকের কাজ সেনকেই সব করতে হয়। আর কেউ নেই।

    অভয়ঙ্কর বলেছিল—কিন্তু দিস্ ইজ রং, দিস্ ইজ আওয়ারেন্টেড—ইউ মাস্ট প্রোটেস্ট—

    দীপঙ্কর হেসেছিল। বলেছিল—আমি প্রোটেস্ট করবো না—

    —কিন্তু কেন? হোয়াই? তোমার কি ভয় করছে প্রোটেস্ট করতে?

    দীপঙ্কর বলেছিল—না, ভয় করছে না, ভাল লাগছে, এই ইনসাল্ট আমার ভাল লাগছে—

    —তার মানে?

    অভয়ঙ্কর কিছু বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারবেই বা কী করে! এ দীপঙ্করের এক অদ্ভূত আস্বাদ। সতীর সমস্ত ইনসাল্ট যেন দীপঙ্করের কাছে আশীর্বাদ। আর তাই-ই তার আনন্দ। সতী তাকে আরো আঘাত করুক। আরো অপমান করুক। তার আঘাতের মধ্যে দিয়েও যেন দীপঙ্কর সতীর সান্নিধ্য অনুভব করতে পারে। মমতা না দিক, আঘাতের মধ্যে দিয়েই তাকে মর্যাদা দিক, তাকে আপন আত্মীয় করুক।

    সেই আনন্দের কথাটা বলতেই বোধহয় দীপঙ্কর সেদিন আবার লক্ষ্মীদির বাড়িতে গিয়েছিল। সেই লক্ষ্মীদির বাড়ি। সেখানে তখন আরো পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবীর সমস্ত ঐশ্বর্য সেখানে তখন আকাশের মত নিচু হয়ে নেমে এসেছে লক্ষ্মীদির মাথায়। লক্ষ্মীদি শুধু হুকুম করে। একদিন যে ঐশ্বর্য সতীর করায়ত্ত হয়েছিল ভুবনেশ্বর মিত্রের অর্থের যৌতুকে, সেই ঐশ্বর্যের সবটুকু আশীর্বাদের মত লক্ষ্মীদির মাথায় এসে নেমেছে। লক্ষ্মীদি ঘুম থেকে ওঠে দেরি করে। তারপর চা খায়। তারপর ব্রেকফাস্ট। পাড়ার লোকেরা অবাক হয়ে চেয়ে দেখেছে, বাড়িটা কেমন ভাঙা-বাড়ি ছিল, আর কেমন রাতারাতি হঠাৎ একটা প্রাসাদ হয়ে উঠেছে। ভেতরের অনেক বিলাসের প্রাচুর্য বাইরের জগতে উঁকি-ঝুঁকি মারে। সবটা দেখা যায় না, বেশির ভাগটাই আন্দাজ করে নিতে হয়। বড় বড় গাড়ি এসে দাঁড়ায় বাড়ির গেটের সামনে। বড় বড় সম্ভ্রান্ত লোক নামে। তারপর ভেতরে ঢুকে যায় তারা। কোট-ট্রাউজার পরা সম্ভ্রান্ত লোকদের চেহারা দেখলেই চেনা যায়। লক্ষ্মীদি তাদের অভ্যর্থনা করে আমন্ত্রণ করে। লক্ষ্মীদির সঙ্গ পেয়ে তারা ধন্য হয়ে যায়।

    কেউ বলে—আজকাল হুইস্কিতে বড় ভেজাল চলছে—

    তখনি টনক নড়ে ওঠে লক্ষ্মীদির। বলে—ভেজাল! ভেজাল তো হতে পারে না। আমি তো ওল্ড কাস্টমার, আমাকে ভেজাল প্রভিসন দেবে কেন? আচ্ছা দেখছি—

    বলে তখনই ফোন করে দেয় স্টোরে। মিসেস দাতারের বাড়িতে হুইস্কি সাপ্লাই করা হয়েছে অমুক তারিখে। সে হুইস্কি কবেকার ইনডেন্ট, কোন্ কোম্পানীর সাপ্লাই, সব খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। হুলুস্থুল পড়ে যায় দোকানে। মিসেস দাতার আমাদের পুরোন কাস্টমার। ওয়ারের শুরু থেকেই তার বাড়িতে মাল যাচ্ছে, এরকম কম্‌প্লেন হওয়া অন্যায়। এমনি করে শুধু হুইস্কি নয়। সব কিছুই মিসেস দাতারের বাড়িতে সচ্ছল। সব কিছুই উদার। টাকার জন্যে চিন্তা নেই, শুধু পিওর মাল দরকার। পিওর মাল দাও, পেমেন্ট দেব ক্যাশ। মিসেস দাতারের কাছে পেমেন্টের জন্যে কেউ ভাবনা করে না। বিরাট মিলিটারি কন্ট্রাক্টর। যুদ্ধ যদি চলে আরো কিছুদিন, মিসেস দাতার আরো উদার হবে, আরো সচ্ছল হবে! টি একটু একটু বেশী বয়েল হয়ে গেলে মিসেস দাতারের মেজাজ বিগড়ে যায়। বলে—কী যে করে এরা সব, এখনও চা তৈরি করতে শিখলে না—

    তারপর ডাকে—কেশব—

    কেশব তখনও আছে। কেশবের পদমর্যাদা বেড়েছে মাইনে বেড়েছে এ-বাড়িতে। সে দৌড়ে এসে বলে—কী মা?

    লক্ষ্মীদি বিছানায় শুয়ে শুয়েই বলে-এ চা কে করেছে রে? এখনও চা করতে শেখেনি? আকবর বুঝি?

    সামান্য একটু চা, সেই চা খারাপ হলেই লক্ষ্মীদির মাথায় এখন বজ্রাঘাত হয়। বজ্রাঘাত হয় বাড়ির বাবুর্চি, বয়, খানসামা, চাকর—সকলের মাথায়! তারপর হুইস্কি, চা, সোডা, লেমনেড, ডিনার ব্রেকফাস্ট—সব কিছুর দিকেই মিসেস দাতারের তীক্ষ্ম নজর। মিস্টার দাতার চুপ করে থাকেন। তার পোশাক-পরিচ্ছদেও এখন আরো জৌলুস এসেছে। কোথা থেকে টাকা আসছে, কে টাকা জোগাচ্ছে, সব দেখতে পান। তাঁর নামেই কারবার। যে ফ্যাক্টরি তাঁর নেই, সেই ফ্যাক্টরি থেকেই লক্ষ-লক্ষ টাকার অর্ডার সাপ্লাই হচ্ছে। তিনিই চেক সই করছেন, তিনিই চেক রিসিভ করছেন। তিনিই সব। তাঁর নামেই ব্যাঙ্ক য়্যাকাউন্ট। লক্ষ্মীদি কেউ না, কিছু না। কিন্তু তবু যখন সুধাংশু আসে বাড়ির সবাই তটস্থ হয়ে থাকে। সুধাংশুর হুইস্কিতে একটু সোডার প্রপোরশন কম হলে চলবে না, সুধাংশুর চা’য়ে একটু কম চিনি হলে চলবে না। সুধাংশুর জন্যেই এই বাড়ি, এই গাড়ি, এই ঐশ্বর্য, এই সুখ, এই টাকা, এই সব কিছু। সবাই টেবিলে বসে আছে, হঠাৎ খবর এল। সুধাংশুর গাড়ির হর্ন-এর শব্দ শুনেই সবাই বুঝতে পারে।

    —কী হলো সুধাংশু, এত দেরি যে?

    সকলেরই মুখ এই একটি মানুষের মুখের দিকে। এই একটি মানুষকে ঘিরেই সকলের সব উৎসব, সব আয়োজন।

    —আর বলেন কেন মিসেস দাতার, এবার গভর্নমেন্ট আমাকে খেয়ে ফেলবে। হোল্ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার সাপ্লাই সেন্টার হয়ে গেছে আমাদের আপিসটা, কাজ করে করে আর পারছি না।

    মিসেস দাতার বলে—সত্যিই তো, তুমি আর কতদিক সামলাবে, কিন্তু এ-রকম করলে যে তোমার হেলথ ব্রেক করবে—আরো গোটা কয়েক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নাও—

    সুধাংশু বলে—সে তো নিয়েছি, কিন্তু যেমন হয়েছে আমাদের রটন গভর্নমেন্ট, তেমনি হয়েছে আমাদের রটন অ্যাসিস্ট্যান্টস্—কারোর যদি একটু বুদ্ধি থাকে—ওয়ান আউন্স অব ব্রেন থাকে—রট—রট—

    মিসেস দাতার বলে—কেন, আজকেও বুঝি কনফারেন্স ছিল?

    —কনফারেন্সের কথা ছেড়ে দিন মিসেস দাতার, এই মুসলিম লীগ মিনিস্ট্রি হয়েছে যেমন, তার মিনিস্টাররাও হয়েছে তেমনি— খাজা হাবিবুল্লোর সঙ্গে কথা বলতে বলতে আজ আর মাথা ধরে গেছে। কিছু বোঝে না—ইংরিজী ভাষাটাও এর ভালো করে শেখেনি, অথচ মিনিস্টার হয়েছে—।

    তারপর হঠাৎ বললে—ভাবছি দিল্লীতে চলে যাবো—

    দিল্লীতে! সবাই চমকে উঠলো। মিসেস দাতার বললে—দিল্লীতে?

    সুধাংশু ততক্ষণে চায়ে চুমুক দিয়ে সিগ্রেট ধরিয়েছে। বললে—দিল্লীতে না গেলে কাজের বড় অসুবিধে হচ্ছে, বার বার দিল্লীতে যেতে-আসতে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে, কেউ তো কিছু কাজ জানে না—সমস্ত রটন্‌ হয়ে গেছে, এ ওয়ার যে এরা কেমন করে জিবতে বুঝতে পারছি না।

    চৌধুরীও এতক্ষণ সব শুনেছিল সে যেন আঁতকে উঠলো। বললে—ওয়ার কি শেষ হয়ে যাবে না কি?

    মিসেস দাতারও চমকে উঠলো। বললে—বলছো কী, সুধাংশু, ওয়ার শেষ হয়ে যাবে?

    সুধাংশু চায়ে আর একবার চুমুক দিয়ে বললে-আমি যদি ঠিকমত সাপ্লাই না দিতে পারি তো ওয়ার তো শেষ হয়ে যাবেই—ওয়ার করবে সোলজাররা কী খেয়ে?

    মিসেস দাতার বললে—না, না, সে কি? ওয়ার যেন শেষ করতে দিও না, আরো কয়েকটা বছর অন্ততঃ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া চাই—তুমি যে আমাকে ভয় পাইয়ে দিলে দেখছি সুধাংশু—

    চৌধুরী বললে—আমিও ভয় পেয়ে গেছি, তিনশো টাকা অ্যালাওয়েন্স হঠাৎ স্টপ হয়ে গেলে খাবো কী?

    সুধাংশু বললে—সেই অবস্থাই হয়ে উঠেছে—কেউ কিছু কাজ করবে না, সবাই ডিস্-অনেস্ট হয়ে উঠেছে, কীসে আরো একস্ট্রা উপায় করবে তাই ভাবছে—সে গভর্নমেন্ট থেকে আরম্ভ করে ডাউন টু মিনিস্টারস্—

    মিস্টার দাতার এতক্ষণ শুনছিলেন সব কথা। বললেন—ওয়ার কি সত্যিই থেমে যাবে সুধাংশুবাবু?

    সাধারণত এ-সব আলোচনার সময় মিস্টার দাতার কথা বলেন না। তিনি সেজেগুজে চুপ করে বসে থাকার দলে। কিন্তু তাঁকে কথা বলতে শুনে সুধাংশু একটু অবাক হলো। বললে-আপনার কিছু ভয় নেই মিস্টার দাতার—অন্তত আমি যতদিন সাপ্লাইতে আছি—

    মিস্টার দাতার বললে—না, আপনারা তো সেসব দিন দেখেননি সুধাংশুবাবু, ট্রেড- ডিপ্রেসনের ভিক্‌টিম যে আমি—অনেক ভুগেছি—তখন এখনকার মত ক্যাশে পেমেন্ট হতো না তো—দু বছর তিন বছর পর্যন্ত ক্রেডিট পড়ে থাকতো পার্টির কাছে—

    এমনি করেই প্রতিদিন এ-বাড়িতে আড্ডা হয়। বাইরে যখন ব্ল্যাক আউট, যখন মিলিটারি লরী রাস্তা কাঁপিয়ে লোক চাপা দিয়ে ছুটে বেড়ায় বাইরে, যখন যুদ্ধ কবে শেষ হবে তাই নিয়ে আলোচনা করে গৃহস্থেরা, তখন এখানে হুইস্কিতে ভেজাল হলে হুলুস্থুল পড়ে যায়, চায়ে চিনি কম হলে খানসামার চাকরি চলে যায়, তখন যুদ্ধ হঠাৎ শেষ হয়ে যাবে শুনলে সবাই চমকে ওঠে।

    তারপর যখন রাত আরো গভীর হয়, এ-পাড়ার রাস্তায় মিলিটারি লরীর আওয়াজ আরো বাড়ে, তখন চলে তাস। দল বেঁধে তাস খেলা শুরু হয়। হুইস্কির বোতল খোলা হয় নতুন করে। সিগারেটের টিন খোলা হয় নতুন করে।

    মিসেস দাতার সুধাংশুর হাতটা চেপে ধরে। বলে—আর খেও না সুধাংশু, এর পরে আর ড্রাইভ করতে পারবে না—

    সুধাংশু হাসে। বলে—কী বলছেন মিসেস দাতার, আপনি আমাকে এখনও চিনলেন না—

    মিসেস দাতার বলে—আর চিনে দরকার নেই তোমাকে—

    সুধাংশু তবু হাসে। বলে—আপনি ভয় পাবেন না মিসেস দাতার, বর্ন ইন এইটিন এইট্টি অ্যান্ড স্টিল গোয়িং স্ট্রং—আমি খাঁটি স্কচ—ডাইরেক্ট ফ্রম ব্রুয়ারী, হোয়াইট হর্স- রেড লেবেল—ব্ল্যাক-মার্কেটে আমার দাম পঁচাত্তর টাকা পার বট —

    মিসেস দাতার বলে–আস্তে, একটু আস্তে সুধাংশু—

    সুধাংশু বলে—কেন, আস্তে কেন মিসেস দাতার, আমি কাউকে ভয় করি না কি?

    মিসেস দাতার বলে—পাশের ঘরে যে মানস আছে—

    —মানস!

    এতক্ষণ কারোরই খেয়াল ছিল না। সুধাংশু বললে—তা মানস কবে যাবে?

    কোথায় যাবে? ও তো আর কোথাও যেতে চাইছে না!

    —পাঠিয়ে দিন! জোর করে পাঠিয়ে দিন আপনি! অক্সফোর্ড কেম্ব্রিজ যেখানে হোক পাঠিয়ে দিন। আমি পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে পারি—

    মিসেস দাতার বললে—কিন্তু এখন পাঠাই কী করে আমি? ওকে সেই যুদ্ধের মধ্যে পাঠিয়ে কি আমিই থাকতে পারবো?

    সুধাংশু বললে কিন্তু এখানে আপনার চোখের সামনে অত বড় ছেলে থাকলে ফুর্তি জমবে কী করে মিসেস দাতার? ছেলের সামনে কি ফুর্তি জমে? আপনিই বলুন?

    ওদিকে ভেতরে মিস্টার দাতার নিজের বিছানার ওপর চিত হয়ে চুপ করে শুয়ে ছিল। অন্ধকার চারদিকে। মাঝে মাঝে অনেক দূর থেকে অ্যান্টি-এয়ার-ক্র্যাফ্ট বন্দুকের আওয়াজ আসছে। হঠাৎ ঘরের ভেতরে কার পায়ের শব্দ পেয়েই চমকে উঠলো।

    —কে?

    —এ কি, তুমি ঘুমোও নি এখনও? রাত তো অনেক হয়েছে, ঘুমিয়ে পড়। আবার তোমার শরীর-খারাপ হবে দেখছি—

    মিস্টার দাতার বললে—তুমি ঘুমোবে না?

    মিসেস দাতার বললে—আমি কী করে ঘুমোই, ওরা যে এখনও রয়েছে—

    –ওরা কখন যাবে?

    মিসেস দাতার বললে—তা ওরা না গেলে কি ওদের জোর করে তাড়িয়ে দেব বলতে চাও? তুমি যে কী বল তার ঠিক নেই। আমি কি ওদের চলে যেতে বলতে পারি?

    —না; আমি কি তাই বলেছি? বলছিলুম যে ওদের কি ঘুমও পায় না?

    —যাক, তোমার সঙ্গে আমি আর তর্ক করতে পারি না।

    দাতারবাবু কিছু বললে না। খানিক চুপ করে রইলো। তারপর আবার বললে—তুমি কি কোথাও বেরোচ্ছ নাকি এখন?

    মিসেস দাতার শাড়ি বদলাচ্ছিল। বললে—হ্যাঁ, একটু মাঠের দিকে বেড়াতে যেতে বলছে সুধাংশু—

    —তা বলে এত রাত্তিরে? এখন তো অনেক রাত!

    মিসেস দাতার বললে—ওরা বায়না ধরেছে এখন, না গেলে চলে?

    দাতারবাবু একটু, চুপ করে থেকে বললে—একটা কথা তোমাকে বলছিলুম—

    —কী কথা বলো, আমার আবার দেরি হয়ে যাচ্ছে, শিগগির বলো।

    দাতারবাবু বললে—আমাদের তো অনেক টাকা হয়ে গেল, সেদিন ব্যাঙ্কের পাস- বইটা দেখছিলুম, আর এখন টাকার দরকারই বা কী!

    —তুমি যে কী বলো! তোমার দেখছি মাথাটা এখনও ভাল করে সারেনি। টাকার দরকারের আবার শেষ আছে নাকি? যে-কষ্ট আমরা করেছি, তোমার মনে না-থাক, আমার তো মনে আছে। তুমি ঘুমোবার চেষ্টা কর দিকিনি। আমি চললুম—

    দাতারবাবু আর কথা বললে না। লক্ষ্মীদি নতুন শাড়িটা গায়ে জড়ালে। মুখে, গালে, গলায় পাউডার, স্নো ঘষলে। তারপর বললে—মানস যদি ওঠে, তাহলে যেন বোল না আবার কোথায় গেছি আমি, —

    —কখন আসবে?

    —মানস টের পাবে না। মানস ঘুম থেকে ওঠবার আগেই আমি ফিরে আসবো- যাই, কেমন?

    —খানিক পরেই বাইরের রাস্তায় সুধাংশুবাবুর গাড়ির ইঞ্জিনটা গর্জন করে উঠলো। হৈ হৈ শব্দ করতে করতে দল-বল বেরিয়ে গেল। দাতারবাবু শুনতে পেলে লেভেল— ক্রসিং-এর কাছে গিয়ে গাড়িটা জোরে জোরে হর্ন বাজাচ্ছে। বোধহয় গেটটা বন্ধ। সেই মাল-গাড়িটা এই সময়ে রোজ আসে। রোজ রাত্রে দাতারবাবু জেগে-জেগে মাল-গাড়ির শব্দটা শোনে। প্রথমে ঝিক্-ঝিক্ ক্ষীণ শব্দ। তারপর শব্দটা আরও স্পষ্ট হয়, আরও তীক্ষ্ম হয়। ক্রমে আরও স্পষ্ট, আরও তীক্ষ্ণ। তারপর একেবারে হুড়মুড় করে এসে পড়ে বাড়িটার কাছাকাছি। তখন মাটি কাঁপে, বাড়িটাও কাঁপে। দাতারবাবুও থর থর কাঁপে বিছানায় শুয়ে শুয়ে। তার মনে হয় আবার বুঝি তার মাথার মধ্যে সমস্ত গোলমাল হয়ে যাবে আগেকার মত। একদিন টাকার অভাবে মাথাটা গোলমাল হয়ে গিয়েছিল, এখন আবার টাকার প্রাচুর্যে সব গোলমাল হয়ে যাবে।

    এমনি রোজ। রোজ রোজ এমনি করে বেরিয়ে যায় মিসেস দাতার শেষ রাত্রের দিকে। গড়িয়াহাট লেভেল-ক্রসিং-এর কাছে গিয়ে সুধাংশুর গাড়িটার হর্ন বেজে ওঠে। অধৈর্য হয়ে ওঠে সুধাংশুর রক্ত। অধৈর্য হয়ে ওঠে রেড-লেভেল হুইস্কি। অধৈর্য হয়ে ওঠে উনিশ শো বিয়াল্লিশ সাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }