Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.২৬

    ২৬

    কিন্তু দীপঙ্কর কি জানতো তারই অজ্ঞাতে প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের বাড়িতে তখন আর- এক নাটক অভিনয় হচ্ছে। আর-এক নাটকের প্রথম অঙ্ক। আর প্রথম অঙ্কও ঠিক নয়। প্রথম অঙ্ক আরম্ভ হয়েছিল অনেক আগেই। অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। সে কবেকার কথা। কোন্ এক বিচক্ষণ লোক কবে টাকা আবিষ্কার করেছিলেন কে জানে। ইতিহাসের সে মধ্যযুগের কাহিনী। ধান, চাল, বাসন, তৈজস, ঘরবাড়ি, গরু-মোষ সমস্তই ছিল, টাকা ছিল না। কিন্তু একদিন সেই অদ্ভুত জিনিসটার আবির্ভাব হলো সংসারে আর সব ওলোটপালোট হয়ে গেল রাতারাতি। দরকারের বেশি টাকা এসে জমলো যাদের হাতে, তারাই হলো শেষে মহাজন। মহাজনদের তখন ভারি খাতির! যুদ্ধ বাধবে, টাকা চাই। দাও ধার। রাজা প্রাসাদ বানাবে, টাকা চাই। দাও ধার। রাজা-রাজড়াদের স্বার্থেই মহাজনরা ফুলে-ফেঁপে উঠতে লাগলো দেশে দেশে। টাকা এল—আর সঙ্গে সঙ্গে এল টাকার সুদ। শেষে একদিন সেই মহাজনরাই রাজার ঘাড়ে চেপে বসলো। বললে—আমার কারবারের সুবিধে হচ্ছে না, আইন বানাও। এমন আইন করো, যাতে আমার টাকা-খাটানোর সুবিধে হয়। তা সেই আইনই হলো। সেই টাকা এদেশ থেকে ওদেশে গেল। স্বদেশ থেকে বিদেশে। কোথায় কাদের দেশে দুর্ভিক্ষ হয়ে খেতে পায় না, মোটা সুদে সেখানে ধার দাও। অবস্থা ভাল হলে শোধ দিও। শেষে রাজা-রাজড়ারা আর কেউ কিছু নয়—আসলে মহাজনরাই সর্বেসর্বা। এডওয়ার্ড থার্ড কি একশো বছর ধরে যুদ্ধ চালাতে পারতো—মহাজনেরা সাহায্য না করলে? সেই মহাজনেরাই শেষে ব্যাঙ্ক খুললে, টাকা খাটাবার নানান ফন্দি বার করলে। ব্যবসাদারদের টাকা দাদন দিতে লাগলো। মোটা সুদ, মোটা লাভ। নতুন নতুন ব্যবসা গড়ে উঠলো টাকা পেয়ে পেয়ে। সেই টাকায় জাহাজ বানিয়ে ভাস্কো-ডি-গামা আরো টাকা উপায় করতে বেরোল—আরো নতুন মার্কেট। আরো নতুন মহাদেশ। নতুন টাকার বাজার খুললো আমেরিকায়, ইন্ডিয়ায়। তারপর এল মেশিন। মেশিনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গোটা চেহারাটাই বদলে গেল। গোটা সমাজটার ভোল পাল্টে গেল। এক নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন সমাজ, পুঁজিপতি, মজুর, কেরানী, উকিল, ব্যারিস্টার—যাদের নাম কখনও কেউ শোনেনি আগে। আর সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠলো লন্ডন, প্যারিস, বার্লিন, নিউ ইয়র্ক, বোম্বাই, কলকাতা। নেপোলিয়ান যুদ্ধ করবে—টাকা জোগায় মহাজনেরা। আকবর যুদ্ধ করবে, টাকা জোগায় মহাজনেরা, আলীবর্দীও যুদ্ধ করবে, টাকা জোগায় জগৎশেঠরা। হিটলার যুদ্ধ করবে, টাকা জোগায় থাইসেনরা। এমনি করে গড়ে উঠলো একাদশী বাঁদুজ্জে আর শশধর চাটুজ্জেরা। এমনি করে গড়ে উঠলো অঘোরদাদুরা। এমনি করে গড়ে উঠলো শিরীষ ঘোষ, নয়নরঞ্জিনী দাসী, প্রাণমথবাবু। এমনি করেই তৈরি হলো ধর্মদাস ট্রাস্ট মডেল স্কুল। এমনি করেই গজিয়ে উঠলো রেল কোম্পানি, রবিনসন সাহেব, রোটারী ক্লাব। এমনি করেই সৃষ্টি হলো মিস্টার ঘোষাল, ছিটে-ফোঁটা, কিরণ, দীপঙ্কর। এমনি করেই সম্ভব হলো লক্ষ্মীদি, দাতারবাবু আর সুধাংশু। এমনি করেই একদিন এসে হাজির হলো নির্মল পালিতরা।

    নির্মল পালিতরাই একদিন শিরীষ ঘোষকে হটিয়ে দিয়ে গ্রাস করলো প্রপার্টি কাইজার গেল, জার গেল, পোপ গেল, পুরোহিত গেল, সিরাজউদ্দৌলা গেল, নির্মল পালিতরাই একদিন দখল করে বসলো গদি। তারপর যখন যুদ্ধ বাধলো, তখন তাদের জয়-জয়কার। এবার কেবল টাকা, টাকা, টাকা! টাকা তখন উড়তে শুরু করেছে।

    সেই নির্মল পালিতেরই সেদিন খোঁজ পড়লো প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের নয়নরঞ্জিনী দাসীর বাড়িতে।

    সরকারবাবু ছুটতে ছুটতে এসেছে। ডাকলে—মা-মণি—

    মা-মণি তখনও বিছানায় পড়ে। পা’টা মচকে গেছে। জখম-পায়ের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। বললেন—আবার কী? তুমি কি আমাকে একটু স্বস্তিতে থাকতে দেবে না, সরকারবাবু!

    —আজ্ঞে, চেক ফিরে এসেছে।

    —সে কি? বলছো কী তুমি?

    মা-মণি চমকে উঠলেন। মাসকাবারি সংসার খরচের চেক কেটেছিলেন তিনি। যেমন কাটেন বরাবর। এমন প্রত্যেক মাসে কাটা হয়ে থাকে। নেই-নেই করেও তো এখনও অনেক খরচ আছে। ঝি-চাকরের মাইনে, খাই-খরচ, জামা-কাপড়। সরকারবাবু আছে, তার মাইনে আছে। তারও সংসার চালাতে হয় এই মাইনের ওপর নির্ভর করে। নিজের হাতে দায়িত্ব নেবার পর থেকেই খরচের বহরটা টের পাচ্ছেন তিনি। সনাতনবাবু যখন চেক কাটতেন, তখনকার কথা আলাদা। নির্মল পালিতই সেসব আলাদা করে দিয়েছে। নির্মল পালিতকেই আমমোক্তার-নামা দিয়ে দিয়েছেন নয়নরঞ্জিনী দাসী। নির্মল পালিতই তাঁর একমাত্র বিশ্বাসী লোক। তার সঙ্গে এক-পুরুষের নয়, দু-পুরুষের সম্পর্ক।

    মা-মণি বললেন—চেক ফেরত দিলে কেন? কী বললে তারা?

    —আজ্ঞে, বললে, টাকা নেই—

    —সে কি? হাজার টাকা নেই? এই যে গেল মাসে বউবাজারের বাড়ি বিক্রি করে কুড়ি হাজার টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে এলে তুমি? সে টাকা কি রাতারাতি উড়ে গেল? যাও, তুমি আবার যাও, আবার গিয়ে বলো তাদের। তোমাদের নিয়ে যত ঝামেলা হয়েছে আমার, একটা কাজ যদি তোমাদের দিয়ে হয়। যাও,হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছ কী? যাও —

    সরকারবাবু বললে—আজ্ঞে, মা-মণি, আমি তা বলেছি—দিলে না কিছুতেই—

    —তার মানে?

    খোঁড়া পায়েই উঠে বসতে চাইলেন মা-মণি। টাকা গেল কোথায়? টাকার কি পাখা আছে নাকি যে উড়ে পালাবে! চিৎকার করে ধমক দিয়ে উঠলেন। সেই চিৎকার রান্নাঘরের মধ্যে কৈলাস, বাতাসীর-মা, ভূতির-মা সবাই চমকে উঠলো। আবার মাগী ধম্‌কায় কাকে! মাগীর পা খোঁড়া হয়ে গেছে, তবু গলার তেজ কমলো না এতটুকু গা। বউটাকে তো বাড়ির তিষ্ঠোতে দিলে না এখন কাকে আবার ধম্‌কাচ্ছে?

    শম্ভু বললে—ও সরকারবাবুকে—সরকারবাবুরও যেমন কপাল।

    বাতাসীর-মা বললে—তা সরকারবাবু ছেড়ে দিলেই পারে চাকরি। কে খোশামোদ করতে বলেছে তোর সরকারবাবুকে শুনি? মাইনে নেবে কাজ করবে, তুমি কি আমার পর! এ-মাসে তো মাইনে দিলে না এখনও—এখনও কাজ করছে কেন?

    কৈলাস বললে—গেল মাসেও তো মাইনে পাইনি আমার বাতাসীর-মা—

    বাতাসীর-মা বললে—আর পেয়েছিস তুমি ছোঁড়া, এখন ভালোয় ভালোয় বিদেয় হ’ দিকিনি—সেই যে কথায় আছে না—বিশ্বকর্মাও ঋষি, পদীর মা-ও পিসী—। ওই আবার চেঁচাচ্ছে মাগী—

    সত্যিই তখন ওপরে আবার চেঁচামেচি শুরু হয়েছে জোর। চেক্ ভাঙানো যায়নি। নিশ্চয় কোথাও গণ্ডগোল হয়েছে। সনাতনবাবুর ডাক পড়লো। নিজের লাইব্রেরী ঘরে তিনি পড়ছিলেন। সরকারবাবু গিয়ে বললেন— দাদাবাবু, ব্যাঙ্ক থেকে চেক্ ভাঙায়নি, আপনি একটু দেখবেন?

    সনাতনবাবু বললেন—কীসের চে? কার চেক সরকারবাবু?

    কোনওদিন চেক্-বই নিয়ে মাথা ঘামাননি তিনি। আগে শুধু সই করতেন। ইদানীং তাও করতে হয় না। তিনি বেঁচেই গিয়েছিলেন। সরকারবাবু বললেন-আজ্ঞে, মহা মুশকিলে পড়েছি, মা-মণি আমায় বকাবকি করছেন—আপনি একবার চলুন—

    সনাতনবাবু বললেন—তা আমি কী করবো গিয়ে, নির্মল পালিত বাবুকে খবর দাও না—

    সরকারবাবু বললে—আজ্ঞে তাঁকে তো মা-মণি টেলিফোন করেছিলেন, তিনি তো বাড়িতে নেই—

    —তা তাড়াতাড়ি কীসের সরকারবাবু, তিনি বাড়ি ফিরে এলে আসবেন—

    —আজ্ঞে না, তিনি কলকাতাতেই নেই।

    —কলকাতাতেই নেই তো কোথায় গেলেন? তিনি তো পালিয়ে যেতে পারেন না। মা-মণি কিন্তু অতটা অপেক্ষা করতে পারেন নি। তাঁর যেন কেমন সন্দেহ হয়েছিল। তিনি প্রথমে পাঠালেন শম্ভুকে। তারপরে পাঠালেন কৈলাসকে। শেষে সরকারবাবু নিজেই গেল। আগে একবার টেলিফোল করলেই হতো। টেলিফোন পেলেই নির্মল পালিত কাজ-কর্ম ফেলে দৌড়ে আসতো। কিন্তু সেই নির্মল পালিত আর বাড়িতেই নেই। দারোয়ান কিছু বলতে পারলে না। মুহুরি ম্যানেজার কেউই কিছু বলতে পারলে না। শুধু বললে—সাহেব কাল সন্ধ্যেবেলা মেমসাহেবকে নিয়ে কলকাতার বাইরে চলে গেছে।

    সরকারবাবু জিজ্ঞেস করলে—কবে আসবে সাহেব?

    মুহুরি বললে—সাহেব তা বলে যায়নি—

    আর তারপরই মা-মণির উদ্বেগটা আরো বেড়ে গেল। একবার টেলিফোন করেন ব্যাঙ্কে। তাতে সুবিধে না পেয়ে, সরকারবাবুকে যেতে হয়। সরকারবাবু ফিরে আসেন শুকনো মুখে। মা-মণির কাছে আরো বকুনি খেতে হয়। তখন আবার ছুটতে হয় নির্মল পালিতের বাড়িতে। সেখানে গিয়েও কোন সুরাহা হয় না। সমস্ত সকালটা এ-বাড়িতে একটা তুমুল কান্ড বেধে গেল। সরকারবাবু আবার সনাতনবাবুর কাছে গিয়ে হাজির হয় ভয়ে-ভয়ে। বলে—দাদাবাবু, সর্বনাশ হয়েছে

    —কীসের সর্বনাশ সরকারবাবু?

    —আজ্ঞে আপনি একবার মা-মণির কাছে চলুন—সর্বনাশ হয়ে গেছে—

    মা-মণি সনাতনবাবুকে দেখেও ধমক্ দেন। পায়ের যন্ত্রণায় ক’দিন থেকেই তিনি ছট্‌ফট্ করছিলেন। সামনে সনাতনবাবুকে দেখে আরো জ্বলে উঠলেন। বললেন- তোমাকে কে আবার আসতে বললে আমার কাছে? তুমি আমার কাছে এসেছ কিসের জন্যে শুনি? যাও, বেরিয়ে যাও সামনে থেকে, যেমন আহাম্মক বাড়ির সরকার, তেমনি হয়েছে পেটের ছেলে—সবাই সমান!

    সনাতনবাবু নির্বাক হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

    মা-মণি আবার তেড়ে উঠলেন—বলি, সামনে দাঁড়িয়ে দেখছো কী, হাবার মত? যা দু’ চক্ষে দেখতে পারিনে, তাই হয়েছে আমার—

    সনাতনবাবু বললেন—কী হয়েছে মা-মণি?

    মা-মণি তখন পারলে যেন নিজের মাথাটাই নিজে কামড়ে ছিঁড়ে ফেলতেন। বললেন-তোমাকে আর সোহাগ করতে হবে না, তোমাকেই যদি বলে বোঝাতে পারবো, তো আমার এই দশা হয়! আমি মরছি পায়ের ব্যথায়, আর তুমি এলে এখন সোহাগ জানাতে। এখনও গেলে না সামনে থেকে? এখনও দাঁড়িয়ে আছো হাঁ করে?

    —তা কী হয়েছে বলবে তো?

    মা-মণি বললেন—আমার কিছু হয়নি, আমি মহা আরামে আছি, তোমাদের সোহাগে আমি একেবারে স্বর্গে বাস করছি, আমার সুখের আর সীমে-পরিসীমে নেই, টাকার গাদায় শুইয়ে তোমরা কিতাথ করে দিয়েছ একেবারে—

    —শুনছিলুম চেক্ নাকি ফিরে এসেছে ব্যাঙ্ক থেকে। সরকারবাবু বলছিল ব্যাঙ্কের টাকা নাকি সব তোলা হয়ে গেছে।

    মা-মণি আরো উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। বললেন—সরকারবাবু বলছিল? কোথায় গেল সরকাবাবু? ডাক তাকে আমার কাছে। ডেকে দাও—

    সরকারবাবু পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। সামনে আসতেই মা-মণি গর্জন করে উঠলেন— বলি, তুমি ডেকেছ দাদাবাবুকে? কেন তুমি ডাকলে শুনি আমার হুকুম ছাড়া? আমার হুকুম ছাড়া তুমি ডাকবার কে? তোমায় এত নবাবী করতে কে বললে বলো তো? কেন তুমি ডাকলে জবাব দাও। দাও, জবাব দাও। চুপ করে রইলে কেন, কৈফিয়ৎ দাও—

    —আজ্ঞে, আমার ভুল হয়ে গেছে।

    —ভুল হয়ে গেছে? এমন ভুল কেন হলো তাই বলো আগে। কেন তুমি ডাকলে? তুমি জানো আমার কেউ নেই। আমার ছেলে বউ কেউ নেই। তুমি জানো আমার পেটের ছেলে আমার শত্রু! অমন ছেলের মুখদর্শন পর্যন্ত আমি করি না। তবু কেন তুমি ডাকলে শুনি? কী করতে ডাকলে?

    সনাতনবাবু বললেন—কিন্তু চেকটা কেন ক্যাশ হলো না, সেইটেই তো আগে ভাবতে হবে—

    —রাখো তোমার ভাবনা, তুমি বৌকে আনতে যাচ্ছিলে আগে তাই যাও, পরে চেকের কথা ভেবো। এ-বাড়ি ভেঙে যাক্, চুরে যাক্, চুলোয় যাক্, আমার টাকা সাত ভূতে লুটে-পুটে নিক্, তা তো তোমার দেখবার দরকার নেই—।

    —কিন্তু নির্মলবাবুর তো খোঁজ-খবর নিতে হবে। তিনি এই সময়ে হঠাৎ না-বলে- কয়ে কোথায় গেলেন, তাও তো দেখতে হবে!

    মা-মণি বললেন—খুব হয়েছে, যা দেখবার যা করবার, তা আমি করবো। আমি এই খোঁড়া পা নিয়েই করবো। আমার পর ভেঙে গেছে বলে আমি তো মরে যাইনি। আর আমি নির্মলকে আমমোক্তার-নামা দিয়েছি, সে আমার খুশি! আমার টাকা যদি খোয়া যায় তো তোমার কী? তুমি কেন বলতে আসো আমাকে? তোমার টাকা খুইয়েছি আমি? তোমার টাকায় আমি হাত দিয়েছি? তুমি বলবার কে?

    সনাতনবাবু কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মা-মণি থামিয়ে দিলেন। বললেন— যাও, আর কথা বাড়িও না—যাও আমার সামনে থেকে—

    নিচে একতলায় দীপঙ্কর এসে ঢুকতেই কেমন যেন একটা সন্দেহ হলো। সরকারবাবুর ঘরটা খোলা। ওপর থেকে মামণির গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। কাকে ডাকবে, কেমন করে সনাতনবাবুকে খবর দেবে ভাবছিল। হঠাৎ দেখলে শম্ভু সিঁড়ি দিয়ে নামছে।

    দীপঙ্কর ডাকলে। বললে—তোমার দাদাবাবু কোথায় শম্ভু?

    শম্ভু কাছে এসে বললে—আপনি এসেছেন? কিন্তু ওপরে মা-মণির সঙ্গে দাদাবাবুর খুব ঝগড়া হচ্ছে—

    –কেন? হঠাৎ ঝগড়া হচ্ছে কেন?

    —আজ্ঞে, ঝগড়া তো রোজই হয়, আজকেও হচ্ছে। ব্যারিস্টারবাবুকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। মা-মণির ব্যাঙ্কের টাকা চুরি হয়ে গেছে—

    দীপঙ্কর স্তম্ভিত হয়ে গেল। বললে—সে কি? কোন্ ব্যারিস্টারবাবু? নিৰ্মল পালিত বাবু?

    শম্ভু বললে—হ্যাঁ, তাঁকে খুঁজতেই তো আমরা সবাই তঁর বাড়ি গিয়েছিলুম—আপনি বসুন, আমি দাদাবাবুকে ডেকে দিচ্ছি—

    সনাতনবাবু খানিক পরেই এলেন। বললেন—এই যে দীপঙ্করবাবু, কী হয়েছে জানেন, আমাদের একজন ব্যারিস্টার ছিলেন, নির্মল পালিত বাবু, তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না—

    দীপঙ্কর বললে— হয়ত বাইরে কোথাও গেছেন।

    সনাতনবাবু বললেন—তা তো বটেই, পাওয়া যাচ্ছে না মানে, তিনি বাইরে গেছেন—আবার ফিরে এলেই পাওয়া যাবে। তিনি লোক খুব ভালো, ভেরি অনেস্ট ম্যান্‌, তাঁকেই তো পাওয়ার-অর্-য়্যাটর্নী দেওয়া ছিল। এখন একটা হাজার টাকার চেক্‌ ডিঅনার্ড হয়ে ফিরে এসেছে—

    —এখন কী হবে?

    সনাতনবাবু বললেন—সেই কথাই তো আমি মা-মণিকে বলছিলাম। টাকা বড় তুচ্ছ জিনিস দীপঙ্করবাবু, কিন্তু সেই তুচ্ছ জিনিসটাও তো এক-এক সময় অনিবার্য হয়ে ওঠে। তাই হয়েছে আর কি—আর কিছু নয়! ওর জন্যে আপনি ভাববেন না, নির্মল পালিত বাবু এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে—

    দীপঙ্কর বললে—তা হলে আমি উঠি, আমি ভেবেছিলাম, আজকে আপনাকে নিয়ে আমাদের আপিসে যাবো—

    এতক্ষণে যেন সনাতনবাবুর মনে পড়লো। বললেন—ও, তাই তো! আমার একেবারে মনে ছিল না। আপনি সতীকে সব বলেছিলেন তো সেদিন? বলেছিলেন তো যে সেদিন বাধা পড়ে গিয়েছিল? বলেছিলেন তো?

    —আজ্ঞে না বলিনি। বলবার সুযোগ পাইনি। আর আপনাকে তো বলেইছিলাম, সতী আমার সঙ্গে কথা বলে না।

    —কেন? কথা বলে না কেন?

    দীপঙ্কর বললে— সে-সব অনেক কথা, পরে সব আপনাকে বলবো। তা এখন বোধহয় আপনি যেতে পারবেন না আমার সঙ্গে?

    সনাতনবাবু বললেন—কেন? যেতে পারবো না কেন?

    দীপঙ্কর বললে—এই অবস্থায় আপনার বোধহয় যেতে অসুবিধা হবে। তার চেয়ে আপনি যদি একটা চিঠি দেন—তাহলেও হতে পারে। আমি পরশু দিন তো ময়মনসিং- এ বদলি হয়ে যাচ্ছি-আজকেই আমি তার হাতে চিঠিটা দিয়ে দিতে পারতাম। যাবার আগে আমি দেখে গেলে মনে তৃপ্তি পেতাম যে, সতী আপনার কাছে এসেছে।

    —তা দিতে পারি। চিঠিও দিতে পারি। চিঠি দিলে যদি কাজ হয়, আমি তা-ও দিতে পারি। আমি এখনি দিয়ে দিচ্ছি। আর বলে দেবেন, আমি ব্যাঙ্কের ব্যাপারটা মিটে গেলেই যাবো তাঁর কাছে। আর তিনি তো আমার ওপর রাগ করেননি? আপনি কী বলেন? তিনি রাগ করেছেন আমার ওপর? তাঁকে তো আমি চিনি দীপঙ্করবাবু, রাগ তিনি আমার ওপর করতেই পারেন না—

    তারপর একটা কাগজ টেনে নিয়ে একটা চিঠি লিখতে বসলেন। অনেকক্ষণ ধরে চিঠি লিখে সেটা দিলেন দীপঙ্করের হাতে। বললেন-এবার আপনি পড়ে দেখুন তো, ঠিক হয়েছে কি না!

    দীপঙ্কর বললে—এ-চিঠি আমি আর পড়বো না, আমার পড়া উচিত নয়।

    —না-না, তাতে কী! আপনি পড়ন। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে গোপনীয় কিছু নেই, আপনি স্বচ্ছন্দে পড়তে পারেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে আবার গোপনীয় কী থাকতে পারে বলুন—

    শম্ভু হঠাৎ এসে বললে-দাদাবাবু, মা-মণি আপনাকে ডাকছেন আবার।

    —আমাকে? আচ্ছা যাচ্ছি, তাহলে ওই কথাই রইল দীপঙ্করবাবু।

    সনাতনবাবু বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

    দীপঙ্কর আবার রাস্তায় বেরিয়ে এল। এতদিন যে-ভয় করছিল, সেই ভয়ই যেন ঘটে গেল শেষ পর্যন্ত। চিঠিটা পকেটে পুরে ট্যাক্সিতে উঠে বসলো আবার। তারপর আপিসে পৌঁছে ট্যাক্সি থেকে নামতেই যথারীতি গুর্খা দারোয়ান সেলাম করলে। কিন্তু কোরিডোরের ভেতরে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল। মিস্টার ঘোষালের ঘরের সামনে অনেক লোকের ভিড়। ম্যাকফারসেন সাহেব নিজের ঘর থেকে বেরোলেন। অভয়ঙ্কর, সোম, সবাই এদিক থেকে ওদিকে যাতায়াত করছে। আপিসের চাপরাসীরা, বাবুরা, সবাই ভিড় করেছে। অন্যদিন মার্চেন্টদের ভিড় থাকে, তারা কেউ নেই। এ যেন অন্য রকম। যেন কোনও ব্যতিক্রম ঘটেছে আপিসে। কী হলো? কীসের এত ভিড়? দীপঙ্কর সোজা নিজের কামরার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পাসবাবু সামনে এসেই মাথা নিচু করে সেলাম করলে—গুড মর্নিং স্যার।

    দীপঙ্কর চলতে চলতে বললে—এত ভিড় কীসের এখানে?

    পাসবাবু বললে—স্যার, মিস্টার ঘোষালকে পুলিসে ধরেছে স্যার—আন্টি- করাপশনের পুলিস ধরেছে—

    —কেন? দীপঙ্কর যেন আকাশ থেকে পড়লো। ওদিক থেকে ক্রফোর্ড সাহেব নিজের ঘরে যাবার পথে দীপঙ্করকে দেখেই ডাকলে। বললে—মিস্টার সেন, কাম টু মাই রুম, আমার ঘরে এসো—

    ঘরে গিয়ে বসতেই ক্রফোর্ড সাহেব বললে—তুমি শুনেছ বোধহয় মিস্টার ঘোষাল হ্যাজ বীন অ্যারেস্টড্ বাই স্পেশাল পুলিস। বেইল-এ রিলিজ করবার ব্যবস্থা করেছি আমি–আমি চাই, তুমি চার্জ টেক-ওভার করে নেবে—

    —কিন্তু আমি যে ময়মনসিং-এ ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছি স্যার, ডে আফটার টু-মরো।

    ক্রফোর্ড সাহেব বললে-দ্যাট্ অর্ডার ইজ ক্যানসেলড্—

    সমস্ত পরিস্থিতিটা যেন এক মুহূর্তে ওলোট-পালোট হয়ে গেল। দীপঙ্কর হঠাৎ দাঁড়িয়ে উঠে বললে—স্যার, আমি মিসেস ঘোষের সঙ্গে একবার দেখা করে আসি, সী মাস্ট বি ফীলিং আন্‌ইজি—

    মিস্টার ক্রফোর্ড বললে—মিসেস ঘোষ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল—সী ইজ সীক, আমি তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি বুঝতে পারছি না কী করবো—আই ডোন্ট নো হোয়াট টু ডু—

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }