Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৩১

    ৩১

    আপিসের ভেতরে সেদিন তখনও সেই আলোচনা চলেছে। সেই মিস্টার ঘোষালের কীর্তি-কাহিনী। এতদিন ভয়ে কারো মুখ ফোটেনি। সবাই ভেবেছিল মিস্টার ঘোষাল শুধু দেবতা নয়, শয়তানেরও নাগালের বাইরে। এতদিন সবাই মিস্টার ঘোষালকে সেলাম করেছে, সামনে খোশামোদ করেছে, সামনে স্বার্থসিদ্ধির একটা মহা-অস্ত্র হিসেবে দেখেছে। আর আজ এক মুহূর্তে সেই দেবতাই বাঁদরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এক মুহূর্তে সব শাসনের বাঁধ ভেঙে গেছে। সবাই বলছে—বাবা, কলিযুগ হলে কি হবে, এতগুলো লোকের শাপ ওম্‌নি যায় কখনও?

    পুলিনবাবু টেবিলের ওপর পা তুলে দিয়ে বললে—আমি বলে দিচ্ছি ও কিস্যু হবে না—

    —কিচ্ছু হবে না মানে?

    —কিছু হবে না মানে, দেখবেন, ও ঠিক ছাড়া পেয়ে যাবে!

    —কখনো ছাড়া পাবে না, ছাড়া যদি পায় তো ব্রিটিশ-রাজত্ব উল্টে যাবে মশাই, দেখে নেবেন!

    ওপাশ থেকে কাঞ্চনবাবু বললে—উল্টোতে আর বাকিটা কী আছে মশাই? ব্রিটিশ- রাজত্ব এমনিতেও উল্টোবে, ওম্‌নিতেও উল্টোবে! আজকের কাগজ দেখেছেন?

    এমনি প্রত্যেক সেকশানে। প্রতিটি কোণে কোণে প্রকাশ্যে আলোচনা চলেছে। টিফিনরুমেই সবচেয়ে বেশি। সিঁড়িতে, কোরিডোরে সর্বত্র। কেবিনে কেবিনে, কন্ট্রোল- রুমে-রুমে। খবরটা রেলের ডিভিসনে-ডিভিসনে ছড়িয়ে গেছে। টরে-টক্কায় সেদিন যে কত আর এক ডিভিসন থেকে আর এক ডিভিসনে পাঠানো হলো, তার কোনও হিসেবই রইল না রেলের খরচের খাতায়।

    মিস্টার ক্রফোর্ড বললে-এবার থকে ওয়াগন অ্যালমেন্টের কাজ আর তোমায় করতে হবে না সেন—জেনালের ম্যানেজার দিল্লিতে কথা বলেছে, নতুন প্রায়রিটি-অফিস খোলা হবে—যদ্দিন না খোলা হয়, ততদিন আমি দেখবো—

    দীপঙ্কর চুপ করে সামনে বসে ছিল। বললে—ভালোই হয়েছে, আমি তাতে দুঃখিত নই—

    ক্রফোর্ড সাহেব আবার বললে—মিস্টার রবিনসন্ আমাকে মিস্টার ঘোষাল সম্বন্ধে খুব হাইলি বলেছিল। তোমার কী মনে হয় সেন, মিস্টার ঘোষাল এ-কাজ করতে পারে? সাহেবের প্রিয়পাত্র হবার জন্যে যে-লোক বাঙালী হয়েও নিজেকে সাইথ-ইন্ডিয়ান বলে প্রচার করতে পারে তার দ্বারা কী যে অসম্ভব, তা দীপঙ্কর কল্পনাও করতে পারে না। মিস্টার ক্রফোর্ডকে এ সব কথা বলেও বোঝানো যাবে না। নৃপেনবাবুর ফেয়ারওয়েলের সময়ও কি সত্যি-কথা কেউ মিটিং-এ দাঁড়িয়ে বলতে পেরেছিল? আসলে আমরা কেউ-ই অপ্রিয় হতে চাই না। মানুষের কাছে অপ্রিয় হবার ভয়ে অনেক ঘা-ই তো আমরা ফরসা ধুতি-পাঞ্জাবি দিয়ে ঢেকে রাখি। আমরা আমাদের দারিদ্র্য ঢেকে রাখি, লজ্জা ঢেকে রাখি, দীনতা-নীচতা সমস্ত ঢেকে রাখি কিন্তু আমরা জানতেও পারি না, সেই ঘা-ই একদিন সাইনাস্ হয়ে আমাদের মেরুদন্ড আক্রমণ করবে, মস্তিষ্ক আক্রমণ করবে। সেই ঘা-ই একদিন সমস্ত জাতির মেরুদন্ডে গিয়ে তার বিস্ফোরণ ঘটাবে। মিস্টার ঘোষাল কি শুধু একলা নিজের ক্ষতি করলে? আর কারো নয়? শুধু কি সতীরই সর্বনাশ ডেকে আনলে? আর কোনও মেয়ের নয়? চেঙ্গিস খাঁ কি শুধু নিজেরই সর্বনাশ করেছিল নিজের হাতে? আর কারো সর্বনাশ করেনি? একজন চৈতন্যদেবের কি একজন রামমোহন রায়ে পুণ্যের ফল যদি কোটি-কোটি মানুষের কাজে আসে, তাহলে একজন কালাপাহাড়ের পাপও সমস্ত মানুষ-জাতকে স্পর্শ করতে বাধ্য। পুণ্যে ফলের মত পাপের ফলও যে ভাগাভাগি করে ভোগ করতে হয়।

    —আমায় ডেকেছিলেন?

    দীপঙ্কর তাকিয়ে দেখলে লক্ষ্মণ সরকার। বললে—তোমার সঙ্গে কথা ছিল একটু বোস—

    তবু লক্ষ্মণ সরকার বসতে একটু দ্বিধা করতে লাগলো। কবে একদিন একসঙ্গে পড়েছিল একই স্কুলে। সেদিন অপমানের চূড়ান্ত করেছে। আজ তারই দয়ায় চাকরি পেয়েছে। তারই দয়ায় একটা ভদ্র পরিচয় পেয়েছে।

    লক্ষ্মণ সসঙ্কোচে বসলো সামনের একটা চেয়ারে। দীপঙ্কর বললে—কেমন চাকরি চলছে তোমার?

    লক্ষ্মণ বললে—কোনও অসুবিধে হচ্ছে না, তোমার দয়ায় আমি বেঁচে গেছি ভাই— দু’বেলা খেতে পাচ্ছি—

    —সংসারে কে-কে আছে তোমার?

    লক্ষ্মণ বললে—ছিল সবাই, কিন্তু কেউই নেই এখন।

    —তাহলে কোথায় থাকো?

    লক্ষ্মণ বললে—একটা মেসে—

    —চিরকাল কি মেসেই থাকবে?

    লক্ষ্মণ বললে—আমাদের জীবনে তাছাড়া আর কী আছে?

    সেন-সাহেবের সামনে কথাগুলো বলতে পেরেই যেন ধন্য হয়ে গিয়েছিল লক্ষ্মণ সরকর। অনেক কথাই জিজ্ঞেস করলে দীপঙ্কর। হাতে কত মাইনে পায় লক্ষ্মণ। মেসে কত টাকা খরচ হয়। অনেক কথা। এতক্ষণ সামনে বসিয়ে সেন-সাহেব কথা বলবে, এটা লক্ষ্মণ সরকার কল্পনা করতেই পারেনি। তারপর দীপঙ্কর হঠাৎ বললে—আচ্ছা তুমি যাও, কে-জি-দাশবাবুকে পাঠিয়ে পাঠিয়ে দাও তো একবার—

    কে-জি-দাশবাবু এল। বললে—আমায় ডেকেছিলেন স্যার?

    দীপঙ্কর জিজ্ঞেস করলে—আচ্ছা কে-জি-দাশবাবু আপনার সেকশানে ওই যে নতুন ক্লার্ক দিয়েছি, লক্ষ্মণ সরকার, ও কেমন কাজ করছে—?

    কে-জি-দাশবাবু বললে—কিছুই জানে না স্যার, ড্রাফ্ট পর্যন্ত লিখতে শেখেনি এখনও, ইংরিজীর বানান্ ভুল করে বড্ড, আমকে সব দেখে-শুনে তবে আপনার কাছে পাঠাতে হয়—

    —নতুন তো এখন, কিছুদিন থাকতে-থাকতেই সব শিখে নিতে পারবে বোধহয়—

    কে-জি-দাশবাবু বললে-স্যার, আপনারা ছিলেন অন্যরকম, আপনাদের শেখবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এরা তেমন নয়, লেখাপড়াটাও জানে না তেমন, আর সকলেরই যদি বুদ্ধি থাকবে তাহলে তো আর কথাই ছিল না—

    দীপঙ্কর বললে—আপনি একটু দেখে দেবেন, তাহলেই শিখে যাবে—ছেলেটা অত্যন্ত গরীব, খেতে পায় না এমন অবস্থা—

    —আপনি যখন বলছেন, তখন দেখবো বৈকি নিশ্চয়ই দেখবো—বলে কে-জি- দাশবাবু চলে গেল। সেক্‌শানে যেতেই সবাই উন্মুখ হয়ে ছিল। সবাই একসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে—কী হলো কে-জি-দাশবাবু, সেন-সাহেব ডেকেছিল কেন?

    কে-জি-দাশবাবু গায়ের কোট্ খুলতে খুলতে বললে—লক্ষ্মণবাবুর ওপর সাহেব খুব চটে গেছে,—

    —কেন? কেন?

    —আর কেন? ইংরিজীর ভুল। ছি ছি ড্রাফ্ট পাঠালেন সাহেবের কাছে, আর আমাকে একবার দেখালেন না পর্যন্ত। ফাইলের নিচে অসবর্ন সাহেবের নোট ছিল, সেটা দেখে টুকে দিতেও আলিস্যি হলো?

    —তারপর কী হলো?

    কে-জি-দাশবাবু চেয়ারের ওপর বসে পড়েছে তখন। বললে—উঃ, সেন-সাহেব যা রেগে গেছে লক্ষ্মণবাবুর ওপর, বললে, ওঁকে আমি ডিসচার্জ করে দেব। তা আমি খুব বুঝিয়ে বললুম, গরীব লোক, কেন চাকরিটা খাবেন, চাকরি দেওয়া শক্ত, চাকরি কেন খাবেন তার?

    —তারপর?

    কে-জি-দাশবাবু বললে-তোমরা তো বিশ্বাস করবে না, তোমরা ভাবো সাহেবদের কাছে আমি তোমাদের এগেস্টেই বলি কেবল—

    লক্ষ্মণ সরকার নিজের সীটের ওপর বসে ভয়ে ভয়ে কাঁপছিল। মুখ দিয়ে কিছু কথা বেরোল না। আজ অভাবে পড়ে সমস্তই মুখ বুজে সহ্য করে যেতে হয় তাকে। একদিন অকারণে সবাইকে অপমান করে বেেিয়ছে সে। অকারণে বন্ধুদের মাথায় চাঁটি মেরে বেরিয়েছে। কিন্তু সেদিন আর নেই। দীপু যদি আজ তার চাকরি খতম্ করেও দেয়, তাতেই বা তার বলবার মুখ কোথায়? পৃথিবীটাকে একদিন সে-ই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার স্বপ্ন দেখেছিল। আর আজ তাকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাইছে পৃথিবীটা। মেসের চার্জ দিন দিন বাড়ছে। চালের দাম চার টাকা থেকে পাঁচ টাকায় উঠেছে, একদিন হয়ত এই চালের দামই ছ’ টাকা মণ দাঁড়াবে। তখন? তখন চাকরি না-থাকলে খাবে কী? দীপঙ্কর যখন আপিসে আসে, গুর্খা দারোয়ান থেকে শুরু করে যে সামনে পড়ে, সেই-ই সেলাম করে। দূরে আড়ালে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মণ সব লক্ষ্য করে। সেই ধর্ম-দাস ট্রাস্ট মডেল স্কুলের নিরীহ লাজুক মুখচোরা ছেলেটা কেমন করে এই পোস্টে উঠলো। সেইটেই লক্ষ্মণের কাছে এক বিচিত্র ব্যাপার বলে মনে হয়। কত সুখে আছে দীপু। ঝি- এর ছেলে—ওর মা পরের বাড়িতে রাঁধুনি-বামুনের কাজ করতো। একেই বলে কপাল মশাই। আর যত ফাটাকপাল আমাদের বেলায়!

    —আপনি সেন-সাহেবকে চিনতেন নাকি আগে?

    —চিনতাম মানে? ছোটবেলায় এক স্কুলে একসঙ্গে একই ক্লাশে পড়েছি। কী গো- বেচারা মানুষ ছিল তখন, সাত চড়ে রা বেরোত না মুখে—তখন ওর মাথায় কত চাঁটি মেরেছি, জানেন—

    এমনি অবাকই লাগে বটে। পৃথিবীর হাল-চাল নিয়ম-কানুন দেখে এমনি অবাকই হয়ে যায় লক্ষ্মণ সরকারের দল। এমনি কপালের ওপর দোষারোপ করে সান্ত্বনার সস্তা- সহজ আশ্রয়টিতেই সবাই মুখ লুকোয়। কিন্তু ওরা যদি জানতো দীপঙ্করের মনের গোপন কক্ষটিতে দিনরাত কত দ্বন্দ্বের আন্দোলন চলেছে। সেই ঈশ্বর গাঙ্গুলী লেনের সরু গলি থেকে শুরু করে আজই এই ডি-টি-এস’এর চেয়ারে এসেও কেন যে সেই যন্ত্রণার জানোয়ারটা তাকে দিনরাত কামড়ে ছিঁড়ে খুঁড়ে ছারখার করে দিচ্ছে—তা যদি জানতো! শুধু নিজের একান্ত আপন ইচ্ছেটা নিয়ে থাকলে সে তো বেঁচে যেত। কিন্তু তা তো হয় না। মনে হয়, এই কলকাতাই শুধু নয়, সমস্ত পৃথিবীর সব সমস্যাগুলো যেন তার মাথার ভার হয়ে বোঝা হয়ে চেপে বসে থাকে। নিজের উন্নতির বিড়ম্বনা তাকে যে দিনের পর দিন অশান্তির আগুনে পুড়িয়ে মারে।

    —জানেন, আপনি এখন যে-চেয়ারে বসছেন, এই চেয়ারেই গাঙ্গুলীবাবু বলে এক ভদ্রলোক বসতো। তার কাছেই শুনেছি আমরা, ওই সেন-সাহেব একদিন তেত্রিশ টাকা ঘুষ দিয়ে এই চাকরিতে ঢোকে!

    —সে কি? কে বললে আপনাকে?

    —জানি মশাই সব জানি। নৃপেনবাবু বলে আগে যে সুপারভাইজার ছিল, তাকেই ঘুষ দিয়েছিল। ঘুষ দিতে আর ঘুষ নিতে না পারলে আজকের পৃথিবীতে কেউ বড় হতে পারবে না। এ আর সত্যযুগ নয়। দেখলেন না আজ মিস্টার ঘোষালের কী হলো? ভালোমানুষ হয়ে মুখ বুজে থাকুন, জীবনে আপনার চাকরিতে প্রমোশন হবে না! ওই সেন-সাহেব ঘোষাল-সাহেবদের মত তোখোড় ধড়িবাজ হতে হবে—এটা ধড়িবাজদেরই যুগ যে মশাই—

    —কিন্তু ঘোষাল-সাহেবকে তো অ্যারেস্ট করেছে পুলিস, এবার তো জেল হয়ে যাবে।

    —রাখুন মশাই, বড়লোকরা অত সহজে জেলে যায় না। জজ্‌ ম্যাজিস্ট্রেটরাও ঘুষ খায় না ভেবেছেন? আপনি আছেন কোথায়? পৃথিবী যে চোরের রাজ্যি—যে চুরি-ডাকাতি করতে পারবে এখানে, তারই পোয়া বারো! আর সৎপথে থাকুন, তাহলে ওই গাঙ্গুলী- বাবুর মত গলায় দড়ি দিয়ে মনের জ্বালা জুড়োতে হবে! কোটা করবেন বলুন এখন!

    সত্যি, দীপঙ্করও অনেকদিন নিজের মনে ভেবেছে সে কাদের দলে? তার আগেকার চেয়ারটাতে এসে বসেছে অভয়ঙ্কর। সেই চেয়ারে বসার পর থেকেই যেন অন্যরকম হয়ে গেল রাতারাতি। তারও মত বদলে গেল এক মুহূর্তে। সে-ও বললে—ক্লার্কদের বেশি প্রশ্রয় দিলে তারা মাথায় ওঠে সেন—তাহলে আর ওরা তোমায় রেসপেক্ট করবে না—

    দীপঙ্কর বলেছিল—রেসপেক্ট বড়ো না কাজটা বড়ো?

    —কিন্তু রেসপেক্ট না করলে যে কাজও করবে না ওরা!

    দীপঙ্কর বলেছিল—ভুল তোমার ধারণা অভয়ঙ্কর, আমিও একদিন ক্লার্ক ছিলাম, আমিও ক্লার্কদের ব্যথাটা বুঝি, ওদের একবার ভালবেসে দেখো তুমি, ওরা ডবল্ কাজ করবে—

    অভয়ঙ্কর তাই বলতো—তুমি বড় ভীতু সেন, অত ভয় করে কেন চলো ওদের? অত ভীতু বলেই ওরা অত কাজে ফাঁকি দেয় তোমার কাছে—।

    কথাটা শুনে দীপঙ্কর হেসেছিল। সত্যিই কি দীপঙ্কর ভীত! ভয় পায় বলেই কি এত সহানুভূতি ওদের ওপর! কিন্তু যখন ছেঁড়া জামা, ময়লা কাপড়, একমুখ দাড়ি দেখে ওদের, তখন কেমন করে কোন প্রাণে শাস্তি দেয়? ওদের মধ্যেই যে দীপঙ্কর নিজের ছায়াকে দেখতে পায়। ওরাই যেন হাজার-হাজার দীপঙ্কর হয়ে সেকশানে সেকশানে ধুঁকছে। ওদের সামনে ফরসা কোট-প্যান্ট পরতেও লজ্জা হয় দীপঙ্করের। ওদের জন্যে কিরণ নিজের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আর দীপঙ্কর ওদেরই একজন হয়ে আজ এই ওদের মাথায় বসে হুকুম চালাচ্ছে।

    হাসপাতাল থেকে ঘরে ঢুকতেই মধু সেলাম করে সুইং-ডোরটা খুলে দাঁড়াল। কিন্তু ঘরে ঢুকতে গিয়েই একটা চেনা-মুখের সঙ্গে আট্‌কে গেল দৃষ্টিটা।

    —আরে কী খবর? তুমি এখানে?

    ছিটেও অবাক হয়ে গেছে। বহুদিন ধরে বহুভাবে দেখে দেখে ছিটে-ফোঁটাদের সম্বন্ধে আর অবাক হবার কিছু ছিল না। এখন আর চেনা যায় না দু’জনকেই। সেই যেদিন থেকে নতুন অ্যাক্ট চালু হয়েছে দেশে, সেইদিন থেকেই ছিটে-ফোঁটার আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। অবস্থা ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাল-চলনেও কেমন একটা গাম্ভীর্য আসে। অতীতের দারিদ্র্য, অতীতের হীনতা, নীচতা, ভন্ডামি, গুন্ডামি সব কিছুই বুঝি ঢাকা পড়ে যায়। সেই কালিঘাটের বস্তির দু’টো গুন্ডাকে আজ এই খদ্দর- পরা চেহারার মধ্যে কে খুঁজে বার করতে পারবে!

    ছিটে এসে চেয়ারে বসে চারদিকে চেয়ে দেখতে লাগলো। বললে—তুই এখানে? ঘোষাল-সাহেব কোথায়?

    দীপঙ্কর অবাক হয়ে গেল। বললে— ঘোষাল-সাহেবকে তুমি চিনতে নাকি?

    —সেকি রে, ঘোষাল-সাহেবকে চিনবো না? কত দহরম-মহরম করেছি একসঙ্গে। প্যালেস-কোর্টে কতদিন রাত কাটিয়েছি। আর শুধু রাত কেন, দিনও কাটিয়েছি একসঙ্গে। ছুটিতে বুঝি ঘোষাল-সাহেব?

    —না।—দীপঙ্কর সমস্ত ঘটনাটাই খুলে বললে।

    —তাহলে ওয়াগন অ্যালমেন্ট কে করবে? তুই?

    দীপঙ্কর বললে—না, নতুন প্রায়রিটি আপিস হচ্ছে—সব অ্যালমেন্ট সেখান থেকেই হবে। কিন্তু তুমিও কি ব্যবসা করছো নাকি? তোমরা তো ব্যবসা করতে না আগে? তোমরা তো কংগ্রেসে ঢুকেছিলে।

    ছিটে হেসে উঠলো। বললে—ব্যবসার সুবিধে হবে বলেই তো কংগ্রেসে ঢুকেছি— দীপঙ্করের মনে পড়লো সেই হাজরা পার্কের মিটিং-এর দৃশ্যটা। সেই বক্তৃতার কথাগুলোও ভেসে উঠলো কানে। বললে—কিন্তু কংগ্রেস করলে ব্যবসা করবে কখন? এই তো শুনছি কংগ্রেসকেই ব্যান্ করে দেবে, তখন তো সব কংগ্রেস-লীডারদের ধরবে—তখন ব্যবসা করবে কী করে?

    ছিটে বললে—আরে, আমি তো কংগ্রেসের কেউ নই, কংগ্রেস করছে ফোঁটা। ফোঁটা পারমিট বার করে দেয় আমার নামে, আর আমি ব্যবসাটা দেখি। দু’জনে জেলে গেলে কখনও চলে? ফোঁটা যদি জেলেও যায়, আমি তো আছি—অঘোরদাদু তো বেশি টাকা রেখে যায়নি—সিন্দুক ভেঙে মাত্র দশ লাখ টাকা পেয়েছিলুম—আর কিছু গয়না, কিন্তু তাতে তো পোষায় না—

    —কেন পোষায় না?

    —পোষাবে কী করে? এখন তো তুই আর যানি বাড়িতে। সে-বাড়ি তো ঢেলে সেজে নতুন করে ফেলেছি, বাড়িটা সারতেই তো হাজার ষাটেক টাকা বেরিয়ে গেল। তারপর গাড়ি কিনলাম দু’জনে দুটো প্রথমে গাড়ি তো কিনতে চাইনি। কিন্তু দেখলাম কংগ্রেসই করি আর যাই করি, গাড়ি না থাকলে কেউ মানতে চায় না—তার ওপর আবার ড্রাইভার পুষতে হচ্ছে—আর সংসার তো বেড়েই চলেছে দিন-দিন, জিনিসপত্তরের দাম যে কী হচ্ছে, তা দেখছিস তো—

    উনিশ শো বিয়াল্লিশের সেই বালা দেশ। বাঙলা দেশ শুধু নয়, সমস্ত ভারতবর্ষ সমস্ত পৃথিবীটাই যেন ভূমিকম্পের আঘাতে টল্ করছে। একদিন ইন্ডিয়া থেকে আয়রন ওরা নিয়ে গিয়েছিল জাপানে। তখন নগদ দাম পেয়ে ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট মাল বেচেছে তাকে। কিন্তু তখন কি জানতো সেই আয়রন-ওরই আবার বোমা হয়ে ফিরে আসবে ব্রিটিশ এম্পায়ারের সেকেন্ড সিটি এই কলকাতার বুকে! আর ঠিক সময় বুঝেই মহাত্মা গান্ধী আরম্ভ করে দিয়েছেন তাঁর আন্দোলন। এই কলকাতা! এই কলকাতাই হলো ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ইনডাস্ট্রিয়্যাল স্ট্রংহোন্ড্। এই এখানকার ইন্ডিয়ান ব্যবসাদাররাও চাঁদা দিয়েছে কংগ্রেসকে। নিউ ইয়র্ক টাইমস্ লিখেছে—

    .

    Birla brothers of Bombay finance the All India Congress. Mr. Birla is out openly to oust the British and he subsides the Congress heavily. Mr. Birla, Sir Badridas Goenka, Mr. J. C. Mahindra and others are not afraid that Jawaharlal Nehru’s socialistic ideal will gain the ascendency. Even if he runs the show, the Indians believed that he will be ‘sensible’,

    ছিটে বললে-আমিই তো কংগ্রেস ফান্ডে চাঁদা দিয়েছি বিশ হাজার টাকা—একলা-

    দীপঙ্কর অবাক হয়ে গেল। বলে—তুমিও দিয়েছ?

    —শুধু কি আমি? সবই দিয়েছে। বিড়লা দিয়েছে, টাটা দিয়েছে, গোয়েঙ্কা দিয়েছে আমি কি ওনি-ওনি দিচ্ছি ভেবেছিস? এর চার ডবল তুলে নেব না পরে! তখন তো ফোঁটাই কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হয়ে যাচ্ছে—

    মনে আছে সেদিন ছিটের কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। প্রাণমথবাবু থাকতে ফোঁটা হবে প্রেসিডেন্ট! শুধু দীপঙ্কর কেন, কেউ-ই বিশ্বাস করেনি। কেউ-ই বিশ্বাস করেনি, মিস্টার চার্চিলও বিশ্বাস করেনি, এত কষ্টে গড়া ইন্ডিয়ান এম্পায়ার এত শীঘ্র চার্চিলের হাত-ছাড়া হয়ে যাবে। ধর্ম দিয়ে যখন ইন্ডিয়া জয় করেনি ব্রিটিশ, তখন ধর্ম আশ্রয় করে তাকে ধরে রাখতেও পারা যাবে না। ইন্ডিয়াকে কে রুখবে? একদিকে মহাত্মা গান্ধী আর একদিকে মিস্টার বিড়লা। একদিকে বাইবেল আর একদিকে গীতা। বাইবেলের সঙ্গে রুজভেল্ট আছে। গীতার সঙ্গেও আছে বিড়লা। দেখা যাক্ কার শক্তি বেশি!

    —এ ক’দিন কাজ চালাবে কে?

    দীপঙ্কর বললে—ক্রফোর্ড সাহেব নিজে!

    —সাহেব কত ঘুষ নেবে?

    দীপঙ্কর বললে—তা আমি জানি না। নেবে কিনা তাও জানি না।

    ছিটে হেসে উঠলো। বললে—দূর, ঘুষ নেয় না এমন মানুষ আছে নাকি দুনিয়ায়? কত বড়-বড় মহারথীকে দেখলুম, তোদের সাহেব তো কোন্ ছার। তোদের জেনারেল ম্যানেজারকে পর্যন্ত ঘুষ দিতে পারি। বাজি রাখ্। সব শালা ঘুষ নেয়। ঘুষ না নিলে বড়লোক হওয়া যায়? আমি নিজেই ঘুষ দিই পারমিট্ বার করবার জন্যে—ঘুষটা নিস্ বুঝলি? যদি দু’পয়সা করতে চাস্ তো বড় ভাই-এর মত উপদেশ দিয়ে যাচ্ছি তোকে—ঘুষটা নিস। তোর এই চাকরিতে কিছু হবে না। হাজার মন দিয়ে কাজ করলেও কিছু হবে না—

    আশ্চর্য, ছিটে সেই ছিটেই আছে। বাইরেই শুধু খদ্দর পরেছে, সভ্য হয়েছে, কংগ্রেসের মেম্বার হয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }