Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৪

    ৪

    মা যে এমন করে হঠাৎ চলে আসবে তা কল্পনাও করতে পারেনি দীপঙ্কর। দীপঙ্করের কাছে মা শুধু মা-ই নয়, ছিল দীপঙ্করের অস্তিত্ব। মা’কে বাদ দিলে যেন দীপঙ্করের আর কিছুই থাকে না। মা নেই। এ-কথা যেন ভাবতেও পারতো না দীপঙ্কর। সেই মা বাড়িতে এসেছে আর দীপঙ্কর জানতেই পারেনি।

    নতুন পাড়ার ডাক্তারবাবুও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন—একটু অসুখ- বিসুখ হবে না তা বলে? আপনি অত ভাবছেন কেন?

    দীপঙ্কর বলেছিল—আপনি বলছেন কী ডাক্তারবাবু, মা’র অসুখ, আর আমি ভাববো না?

    ডাক্তারবাবু তো জানতেন না যে, মা দীপঙ্করের কতখানি। ডাক্তারবাবু তো জানতেন না মা’কে বাদ দিয়ে দীপঙ্কর নিজের অস্তিত্বও কল্পনা করতে পারে না। কিন্তু আশ্চর্য, মানুষের জীবনে বাপ-মায়ের আয়ু চিরস্থায়ী নয় কারো। বাপ-মা চিরদিন বেঁচে থাকা সুস্থও নয়, স্বাস্থ্যকরও নয়। তবু সেই ক’দিন দীপঙ্করের সে-যুক্তি মনে আসেনি। ডাক্তারখানার ভিড়ের মধ্যে গিয়ে দীপঙ্কর কেমন যেন শিশুর মত অসহায় হয়ে উঠতো।

    বলতো—মা’র যে জ্বর এখনও ছাড়ছে না ডাক্তারবাবু, কী হবে?

    ডাক্তার বলতেন—অত ভাবছেন কেন? ভাল হয়ে যাবেন ঠিক—

    অন্যান্য যারা থাকতো, তারা চেয়ে দেখতো দীপঙ্করের দিকে। এতখানি ব্যাকুলতা, এতখানি অধৈর্য তারা আগে দেখেনি কারো। কিন্তু সেদিকে দীপঙ্করের লক্ষ্য ছিল না। উন্মাদের মত হয়ে উঠেছিল দীপঙ্কর সে-কদিন। কোথা দিয়ে যে সকাল হতো, কোথা দিয়ে যে সন্ধ্যে নামতো টের পেত না। সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত নিজের অস্তিত্বটুকুও ভুলে গিয়েছিল।

    মা বলতো—তুই অত ভাবিসনি দীপু—

    দীপঙ্কর বলতো—তুমি একটু ভালো হয়ে ওঠো মা শিগগির শিগির —

    মা বলতো—এইবারে আমি ভাল হয়ে যাবো বাবা—দেখিস্—

    প্রথম দিন মা’র অবস্থা দেখে দীপঙ্কর ভয় পেয়ে গিয়েছিল সত্যি-সত্যিই! বলেছিল—এ কি মা, তুমি চলে এলে যে হঠাৎ?

    মা বলেছিল—না বাবা, আমি তোকে ছেড়ে থাকতে পারলাম না বাবা সেখানে-

    —কিন্তু তুমিই তো যেতে চেয়েছিলে অত করে?

    মা বলেছিল—বাড়ির বিশ্বনাথ ছেড়ে আমি কাশীর বিশ্বনাথ নিয়ে কী করবো বাবা-

    সন্তোষকাকা এসেই একেবারে রান্নাঘর নিয়ে পড়েছে। বলেছে—বাবাজী, তুমি এদিকে মন দিও না—আমি আছি ক্ষিরি আছে, খাওয়া-দাওয়ার দিকে ভাবতে হবে না তোমাকে। আর বাজারের ব্যাপারটাও আমার হাতে ছেড়ে দাও—আমি বুঝে-সুঝে এমন বাজার করবো, দেখবে কোনও অসুবিধে হবে না তোমার—

    সেই যে একদিন সন্তোষকাকা এসেছিল রসুলপুর থেকে, তারপর একেবারে এ- বাড়ির লোক হয়ে গেছে। শুধু এ-বাড়ির নয়, এ-পাড়ার লোকদের সঙ্গেও আলাপ-পরিচয় করে ফেলেছে। সকালবেলাই এক-একদিন গয়লার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। বলে—দাম পাবে না বাপু তোমার দুধের, এই বলে রাখছি-যা ইচ্ছে করোগে যাও তুমি, দাম তুমি পাবে না—

    পাড়ার লোকেরা এ-লোকটাকে চিনে গেছে। বলে—কী দত্তমশাই, কী বাজার করলেন?

    সন্তোষকাকা বলে—যাই বলুন, এ দেশ আপনাদের সুবিধের নয়—আড়াইপো আলু বলে কিনা সাত পয়সা! কলকাতা আমার মাথায় থাকুক মশাই—রসুলপুরই আমার ভাল—

    কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে—তা রসুলপুরে কবে নাগাদ ফিরছেন?

    সন্তোষকাকা বলে—এই ক্ষিরির বিয়েটা দিয়েই যাবো—সামনের অঘ্রাণেই কাজটা করবো ঠিক করেছি—

    —তা শুভ কাজ এত দেরি করছেন কেন আর?

    —আজ্ঞে, আমার বৌদির আবার ব্যামো হলো কি না? নইলে তো কাজটা আগেই চুকিয়ে ফেলতাম! মা’র অসুখ…ছেলেই বা বিয়ে করে কেমন করে বলুন! দেখেছেন তো, জামাই-এরও মাথার ওপর কর্তা বলতে কেউ নেই—আমাকে দুপক্ষের দিকটা দেখতে হবে!

    রাস্তায় চলতে চলতে কথা না বলে থাকতে পারে না সন্তোষকাকা। কেউ ফেরিওয়ালা রাস্তা দিয়ে গেলেই ডাকে। বলে—ওহে, ও ফেরিওয়ালা, কী ওতে? কী বেচছো তুমি?

    ফেরিওয়ালা কাছে আসে। মাথার ঝাঁকাটা নামায়। বলে—ছেলে-মেয়েদের খেলনা—

    —দেখি, কীরকম জিনিস?

    নানা ধরনের পুতুল। রবারের ছোট-ছোট বেলুন, ইঁদুর, খরগোশ। পেট টিপলে ট্যাঁ-ট্যা শব্দ করে। একটা-একটা করে নাড়া-চাড়া করে সন্তোষকাকা। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে। পেট টেপে। হরেক রকমের জিনিস। বাহারি মাল।

    সন্তোষকাকা বলে—কী রকম দাম গো সব?

    দাম শুনে চমকে ওঠে। বলে—য়্যাঁ, তোমরা যে ডাকাত দেখছি গো, এইটুকুন-টুকুন খেলনা, এই পলকা জিনিস—চার-আ-না? তুমি যে দিনে ডাকাতি করতে জানো দেখছি। এ তো একবার খেললেই গোল্লায় গেল—

    ফেরিওয়ালা বলে—কোন্‌টা আপনি নেবেন বলুন না—

    সন্তোষকাকা বলে—আমি নিতে যাবো কেন, আমি কি ছেলেমানুষ হে? আমার আর খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই, আমি তোমার এই খেলনা নিয়ে খেলবো ভেবেছ?

    লোকটা তো অবাক। বলে-আপনি নেবেন না তো আমাকে ডাকলেন কেন মিছিমিছি?

    —মিছিমিছি মানে? মিছিমিছি মানে কী?

    সন্তোষকাকা একেবারে আগুন হয়ে যায় রাগে। বলে—মিছিমিছি কথার মানেটা কী? তুমি জিনিস বেচবে আর আমি জিনিসের দর জিজ্ঞেস করতে পারবো না? দর জিজ্ঞেস করাতেই অপরাধ হয়ে গেল?

    ফেরিওয়ালা তখন গজ্ গজ্ করতে আরম্ভ করেছে—যদি মাল না কিনবেন তো আমার মালে হাত দিলেন কেন আপনি?

    —এই দ্যাখ, মজা তো মন্দ নয়,—

    ফেরিওয়ালা বলে—তা তো বলবেনই মজা, আপনারা ভদ্দরলোক, আপনাদের টাকা আছে, আপনারা যা ইচ্ছে করবেন আর আমাদের বলতে গেলেই যত দোষ —

    সন্তোষকাকা তখন সত্যি-সত্যিই রেগে যায়। চিৎকার করে বলে—চেঁচিও না, চেঁচিও না, এই তোমায় সাবধান করে দিচ্ছি। খবরদার বলছি ভদ্দরলোকের পাড়ায় চেঁচাবে না, এ কলকাতা শহর, এ পাড়া গাঁ নয় যে যা-ইচ্ছে করবে—

    —যা-ইচ্ছে আমি করলুম না আপনি করছেন? আপনিই তো আমার হয়রানি করলেন ঝুটমুট—

    —আবার চেঁচায়? জানো, ওপরে বাড়িতে অসুখ, এখানে চেল্লাচেল্লি করো না। এর পর যদি একটু চেঁচাও তো থানা-পুলিসে খবর দেব বলে রাখছি—

    থানা-পুলিসের নাম শুনে লোকটা ক্ষেপে ওঠে। সন্তোষকাকাও মেজাজ গরম করে। আর থাকতে পারে না। শেষকালে দুজনের চিৎকারে পাড়া গরম হয়ে ওঠে। আশে- পাশের বাড়ি থেকে দু’চারজন গৃহস্থ লোক বেরিয়ে আসে।

    তখন দু’জনে বাগ্‌-বিতন্ডা চলেছে।

    —তোম্ চোপরাও—

    —তোম্ চোপরাও—

    এর পরেই হাতাহাতি শুরু হয়ে যেত হয়ত। কিন্তু পাড়ার ভদ্রলোকেরা এসে ঠেকায়। বলে—থামুন, করছেন কী?

    সন্তোষকাকা বলে—দেখুন না মশাই, লোকটার আস্পর্ধাখানা একবার দেখুন। লোকটা দুপুরবেলা পাড়ার মধ্যে বেমক্কা চেঁচাচ্ছে। আমার দোষের মধ্যে দোষ হয়েছে, আমি ওকে বলেছি, বেশ ভদ্রভাবেই বলেছি যে আমাদের বাড়িতে অসুখ, একটু আস্তে চেঁচা বাবা, তা কথা-নেই-বার্তা-নেই একেবারে গালাগালি—। ভদ্দরলোকের বাড়ি বয়ে গালাগালি দিয়ে যাবে আর আমাদের তাই সহ্য করতে হবে?

    সবাই বলে কয়ে ফেরিওয়ালাকে সরিয়ে দিলে। বললে—থাম বাবা, তুমি যেখানে যাচ্ছিলে চলে যাও, এখানে কেউ তোমার খেলনা কিনবে না—

    লোকটা চলে গেল। তখন সন্তোষকাকার তেজ দেখে কে! বলে—এই তো, এই করে-করেই আপনারা ওদের মাথায় তুলছেন মশাই, আমাদের রসুলপুরে হলে এতক্ষণ রক্তগঙ্গা বয়ে যেত না!

    দীপঙ্কর ওপরে মা’র পাশে বসে ছিল। গোলমাল শুনে সে-ও নিচে নেমে এসেছিল। সদর দরজার বাইরে এসে জিজ্ঞেস করলে—কী হলো?

    সন্তোষকাকা হাসলো। বললে—হবে আবার কী বাবাজী! এই তোমাদের কলকাতার ফেরিওয়ালাদের আক্কেলখানা দেখছিলাম—

    শেষ পর্যন্ত সব গোলমাল মিটে যায়। সন্তোষকাকা ভেতরে চলে আসে। দীপঙ্কর বলে—আপনি কেন ও-সব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামান কাকাবাবু, ওদের সঙ্গে আপনি ঝগড়া করে পারবেন না!

    সন্তোষকাকা বলে—এই দেখ, বাবাজী, তুমিও ভুল করলে! আমি কেন ঝগড়া করতে যাবো ওদের সঙ্গে! আমার ঝগড়া করার দরকার কী! আমি কারো সাতে নেই পাঁচে নেই, আমি চুপ চাপ ঘুরে বেড়াই আর কাঁসি বাজাই! আমার দরকার কী কারো সঙ্গে কথা বলবার! আমার কথা বলতে বয়ে গেছে!

    দীপঙ্কর নিজের ঘরে চলে যাবার পরই ক্ষীরোদা কাছে এল। বললে—তুমি কেন সব ব্যাপারে থাকো বাবা—

    সন্তোষকাকা ক্ষেপে যায়। বলে—কী? কী বললি তুই? আমি সব ব্যাপারে থাকি? কখন আমাকে তুই সব ব্যাপারে থাকতে দেখলি? কখন থাকতে দেখলি, বল্? বল তুই?

    মা বিছানায় শুয়ে শুয়ে বিরক্ত হয়। বলে—দীপু নিচেয় গোলমাল হচ্ছে কিসের রে?

    দীপঙ্কর বলে—ও কিছু না মা, ও কিছু না—

    এমনি রোজই একটা-না-একটা গোলমাল বাধে বাড়িতে। সামান্য উপলক্ষকে কেন্দ্ৰ করে গোলমাল বাধাতে সন্তোষকাকার জুড়ি নেই। খেতে বসে সন্তোষকাকা মেয়েকে বকাবকি করে—এ কী রেঁধেছিস রে ক্ষিরি? কী ছাই রেঁধেছিস্ শুনি? দীপু এ-ছাই-এর রান্না খেতে পারবে? তেল না দিরে চচ্চড়ি হয়? খাবো না, আমি—এই আমি উঠলুম—

    বলে সত্যি-সত্যিই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে সন্তোষকাকা।

    ক্ষীরোদা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসে। গলা নামিয়ে বলে—বাবা, তুমি কী বল তো, তোমার কি একটুও জ্ঞান নেই। দেখছো জ্যাঠাইমার অসুখ, আর তুমি চেঁচাচ্ছ এমন করে?

    সন্তোষকাকা আরো জোরে বলে—চেঁচাবো না? চেঁচাবো না তো কী করবো। এই ছাই পাঁশ খাওয়া যায়? আমি যে হাঁড়ি হাঁড়ি তেল নিয়ে আসি বাজার থেকে, সে এই ছাই পাঁশ রান্নার জন্যে? এই দিয়ে দীপু কী করে খাবে বল্ দিকিনি? এ কেউ খেতে পারে?

    আপিসে যাবার আগে সন্তোষকাকা সামনে আসে। বলে—কী রকম রান্না বাবাজী? খেতে কিছু অসুবিধে হচ্ছে না তো?

    দীপঙ্কর বলে—না—

    সন্তোষকাকা বলে—ক্ষিরি রাঁধে ভাল বাবাজী। বুঝলে, রান্নাটা করে ভাল। আমি তো তাই বলি—ক্ষিরি তোর রান্নাটা ঠিক তোর মায়ের মত হয়েছে—দেখবে, বিয়ের পর তোমার কোনও অসুবিধে হবে না। ও ভাত ক’টা আর ফেলে রেখো না, খেয়ে ফেল—

    সন্তোষকাকা আসার পর থেকে বাজার করা, তদারক করা সমস্তই সন্তোষকাকা নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিয়েছে। কোনও দিকেই দীপঙ্করকে দেখতে হয় না আর। প্রথম প্রথম মার অসুখের জন্যে আপিসে যাবার ইচ্ছে ছিল না দীপঙ্করের। মা বলেছিল—না বাবা, আমার জন্যে আপিসে যাওয়া বন্ধ কোর না। আমি দু’দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যাবো—

    আপিসে যাবার আগে দীপঙ্কর সন্তোষকাকাকে বলে গিয়েছিল—আপনি একটু মাকে দেখবেন কাকা, পাশে থাকবেন সারাদিন—তারপর আমি আপিস থেকে এসে আবার দেখবো—

    .

    আপিসে গিয়েই সেদিন গাঙ্গুলীবাবুকে ডেকে পাঠিয়েছিল। গাঙ্গুলীবাবু প্রথমে টাকা নিতে চায়নি। বলেছিল—কিন্তু আপনি কেন টাকা দিচ্ছেন সেনবাবু? আমার এ-অভাব তো ঘুচবে না জীবনে—

    দীপঙ্কর বলেছিল—তা হোক, ধার হিসেবেই নিন্, ইচ্ছে হয় শোধ করবেন, আর না-পারলে শোধ করবেন না—

    আটশো টাকা গাঙ্গুলীবাবু গুনে গুনে নিয়েছিল। গাঙ্গুলীবাবু যাবে, গাঙ্গুলীবাবুর স্ত্রী যাবে, গাঙ্গুলীবাবুর ছোট পাঁচ বছরের মেয়েও যাবে সঙ্গে।

    টাকা ক’টা পকেটে পুরে গাঙ্গুলীবাবু বললে—কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আপনাকে আর ছোট করবো না সেনবাবু, কিছুই আমার বলবার নেই আপনাকে—

    দীপঙ্কর বললে—গিয়ে যদি সময় পান তো চিঠি দেবেন। জানাবেন কেমন থাকেন আপনার স্ত্রী—

    তারপর ছুটি নিয়ে পাস নিয়ে একদিন চলে গেল গাঙ্গুলীবাবু। কোথায় কত-দূরে কাশ্মীর! দীপঙ্কর নিজে কখনও কাশ্মীর যায়নি। হয়ত যাবেও না কোনদিন। কিন্তু দীপঙ্করের বড় তৃপ্তি হলো। মনে হলো দীপঙ্কর নিজেও যেন মুক্তি পেলে। সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্তি। সমস্ত গ্লানি থেকে মুক্তি। আপিসে সেদিন বড় আনন্দে কাটলো বহুদিন পরে। মনে হলো যেন দীপঙ্কর বহুদিন পর পবিত্র হলো। গাঙ্গুলীবাবু জানতেও পারলে না তাকে টাকা দিয়ে দীপঙ্কর কোন্ স্বর্গরাজ্য হাতে পেলে। মনে হলো সবাইকে যেন আজ ক্ষমা করতে পারে দীপঙ্কর। সমস্ত দিনটাই কেমন ভাল লাগতে লাগলো। আপিসে যে কাছে এল, সে-ই সেন-সাহেবের মেজাজ দেখে খুশী হলো। সুধীরবাবুকে ডেকে গাঙ্গুলীবাবুর ফাইলটা আনিয়ে নিলে। এতদিন পরে ক্ষমতা এসেছে দীপঙ্করের হাতে। এতদিনের অন্যায়ের প্রতিকার করতে হবে।

    সুধীরবাবু বললে—কিন্তু স্যার, আপনি যে নোট দিচ্ছেন, এ নোটে তো কাজ হবে না—

    —কাজ হবে না মানে?

    সুধরিবাবু বললে—জার্নাল সেকশ্যানে তো গ্রেড্‌ তৈরি করতে হবে—গ্রেড্‌ যাতে হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে—

    —যা করতে হবে করে ফেলুন।

    —কিন্তু তাহলে তো ক্রফোর্ড সাহেবের স্যাংশান্ চাই-—

    —তা স্যাংশান্ নিন্ আপনি! এতদিন স্যাংশান্ নেনি কেন? আপিসে কোথায় ইন্জাটিস্ হচ্ছে, কোথায় অবিচার হচ্ছে, সে-সব দেখা তো আপনাদেরই কাজ! এমন অনেক স্টাফ্ আছে যাদের প্রমোশন হওয়া দরকার, তাদের প্রমোশন দিতে হবে!

    সুধীরবাবু বললে—তা দিতে তো আমাদের আপত্তি নেই স্যার! এখন ঘোষাল সাহেব এই সব ফাইল দেখছেন। তিনি যদি ক্রফোর্ড সাহেবকে দিয়ে স্যাংশান্ করান তো আমার আপত্তি নেই।

    দীপঙ্কর বললে—আপনি মিস্টার ঘোষালের কাছে আমার নোট পাঠিয়ে দিন, তারপর আমার যা বলবার আমি বলবো—

    ফাইলটা নিয়ে সুধীরবাবু চলে গেল। সমস্ত আপিসময় তোলপাড় পড়ে গেল সেদিন। গাঙ্গুলীবাবু গ্রেড্‌ পেয়ে যাচ্ছে। সেন-সাহেব নোট দিয়েছে। শুধু তাই নয়। সকলের জন্যে গ্রেডের ব্যবস্থা করতে বলেছে। কাজের জন্যে উৎসাহ না পেলে মানুষ কাজ করবে কেন? রবিনসন সাহেব নিজে যা করতে পারেনি, দীপঙ্কর একবার শেষবারের মত করবার চেষ্টা করবে! প্রাণমথবাবু বলেছেন—অবিচার দেখলে দূরে সরে দাঁড়ালে চলবে না। অবিচারের প্রতিকার করতে হবে। পালিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। ক্ষমতা তার কেড়ে নেওয়া হয়েছে সত্যি কথা, কিন্তু ক্ষমতা আদায় করে নিতে হবে। সত্যিই তো, মর্যাদা কেই কাউকে দেয় না, মর্যাদা জোর করে আদায় করে নিতে হয়। মর্যাদা কেড়ে নিতে হয়! আদায় করত গেলে যদি ক্ষতি হয় দীপঙ্করের তো হোক!

    যাবার দিন গাঙ্গুলীবাবু এসেছিল আপিসে। শেষবারের মত দেখা করে গেল। বললে—তাহলে কাল যাচ্ছি সেনবাবু অনেক ধন্যবাদ—

    দীপঙ্কর বললে—আসুন—

    গাঙ্গুলীবাবু বললে—চিরকাল আপনার কথা মনে থাকবে সেনবাবু, আপনি পরের দুঃখ বুঝতে পারেন, পরের ব্যথা অনুভব করতে পারেন, সবাই যদি আপনার মত হতো—

    দীপঙ্কর বললে—সেখানে গিয়ে যদি আরো টাকার দরকার হয় তো আমায় টেলিগ্রাম করবেন, লজ্জা করবেন না—

    গাঙ্গুলীবাবু বললে—আর টাকার দরকার হবে না সেনবাবু, শীতের জামা-কাপড় যা দরকার সবই কেনা হয়ে গেছে—এখন শুধু ওখানে থাকবার খরচটা—তা এতেই কুলিয়ে যাবে—

    পৃথিবীর কোটি কোটি লোকের কেউই জানলো না, জার্নাল সেকশ্যানের এ-বি গ্রেড্‌ ক্লার্ক পি কে গাঙ্গুলী সেদিন মুক্তি পেলে তার ষোল বছরের বন্ধন থেকে। কোটি কোটি লোকের কেউই জানলে না যে তাদেরই মত একজন নগণ্য মানুষ সমস্ত দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে হাওড়া স্টেশন থেকে রাত্রি আটটার এস্প্লস্ ট্রেনে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে দীর্ঘযাত্রার পাড়ি দিলে। স্টেশনের লোহার ঘন্টা ঢং ঢং করে নির্দেশ দিলে বিদায়ের। ইঞ্জিনের বাঁশী বেজে উঠলো। হুইস্ল বাজালো গার্ড সাহেব।

    দীপঙ্করও মুক্তির নিশ্বাস ফেললে। একটা মানুষকেও তো কয়েকদিনের মুক্তি দিতে পেরেছে সে।

    আজ এতদিন পরে সব ঘটনা ভাবতে গিয়ে সমস্ত খুঁটিনাটিগুলোও মনে পড়ছে সঙ্গে সঙ্গে! দীপঙ্করের বোধহয় অহঙ্কারই হয়েছিল সেদিন। পি কে গাঙ্গুলী যেন দীপঙ্করেরই আর এক সত্তা। দীপঙ্করই যেন জার্নাল সেকশ্যানের পি কে গাঙ্গুলীর মধ্যে এতদিন বন্দী হয়ে কারাবাস করছিল। প্রমোশন হয়েও যেন দীপঙ্করের বন্দী আত্মার মুক্তি হয়নি। আপিস থেকে বেরোবার পর কেমন যেন হাল্কা-হাল্কা মনে হলো সমস্ত কিছু। দীপঙ্করের যে-সত্তা সতীর মধ্যে বন্দী হয়ে আছে প্রিয়নাথ মল্লিক রোডে, যে-সত্তা লক্ষ্মীদির মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে বিরাজ করছে গড়িয়াহাটের গলিতে, যে-সত্তা মিস্ মাইকেলের উদগ্র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ছট্‌ফট্ করছে ফ্রি-স্কুল স্ট্রীটে, যে-সত্তা তার মা’র মধ্যে স্থিতিশীল হয়ে আছে স্টেশন রোডের বাড়িতে, সব যেন ছুটি পেয়ে গেল এই একটা ফাঁকের মধ্যে দিয়ে। দীপঙ্করের সবগুলো সত্তা যেন বন্দীত্ব ঘুচিয়ে বন্ধন ঘুচিয়ে উধাও হয়ে গেল উন্মুক্ত আকাশের অবাধ স্বাধীনতায়। মনে হলো তার যে-সত্তা কিরণের মধ্যেও সম্ভাবনা হয়ে লুকিয়ে ছিল, তাও যেন সফলতার শিকরে গিয়ে পৌঁছুলো আজ। মনে হলো যেন পি কে গাঙ্গুলী নয়, দীপঙ্করই গার্ডের বাঁশীর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি পেয়ে গেল হাওড়া-স্টেশনের খাঁচা থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }