Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৫০

    ৫০

    একই গাড়িতে অনেকগুলো লোক আসছিল। তা ন’দিদির গাড়িটা বেশ বড়ই। নয়ন বসেছে, ন’দিদি বসেছে, মিত্তির-গিন্নী আর মিত্তির-গিন্নীর মেয়ে। আর ড্রাইভার তো আছেই—

    ন’দিদিই কথা বলছিল বেশি। বললে—আগে বিয়ে হোক, কুটুম কর, তখন বুঝবি কেমন বউ করে দিলুম—

    মিত্তির-গিন্নী বললে—আমার তো এই একই মেয়ে দিদি, আমার সাধ-আহ্লাদ সব এই মেয়েকে নিয়েই,

    ন’দিদি বললে—কিন্তু তত্ত্ব-তাবাস ভালো করে করতে হবে, এই এখন থেকে বলে রাখছি, শেষকালে নয়ন যেন বলতে না পারে ন’দিদি এমন সম্বন্ধ করলে যে কুটুম তত্ত্ব করতে জানে না!

    নয়ন বললে—তত্ত্ব তো আমার নিজের জন্যে নয় দিদি, তোমাদের দশজনের জন্যেই তত্ত্ব করা। তোমরা দশজনে দেখেশুনে ভালো বললেই ভালো—আমার আর কী!

    মিত্তির-গিন্নীর মেয়ে এতক্ষণ মা’র কোল ঘেঁষে বসে ছিল। সবই তার কানে যাচ্ছিল। সিল্কের শাড়ি পরে ঘেমে নেয়ে উঠেছে মেয়ে। মিত্তির-গিন্নী নিজের আঁচল দিয়ে মেয়ের কপাল মুছিয়ে দিলে।

    ন’দিনি বললে—কী রে, ভয় করছে নাকি তোর? ভয় কী? এমন ঘরে তোকে বিয়ে দিচ্ছি যে তখন বলবি ন’মাসীমা শাশুড়ী করে দিয়েছিল বটে!

    মিত্তির-গিন্নী বললে—ওর ভাগ্যি আর তোমার হাত-যশ দিদি—

    ন’দিদি বললে—হাত-যশ ফাত-যশ কিছু নয়, যার হাঁড়িতে যার চাল মাপা আছে, তা কেউ রদ করতে পারে না, আমি তো নিমিত্ত মাত্তর—

    এতক্ষণে গাড়ি এসে পৌঁছেছে হাজরা রোডের মোড়ে। হাজরা রোড থেকে বাঁয়ে ঘুরে প্রিয়নাথ মল্লিক রোড। গাড়ি প্রিয়নাথ মল্লিক রোডে ঢুকলো। চেনা রাস্তা। তারপর ঘোষ-বাড়ি। ঘোষ-বাড়ির গেট বন্ধ ছিল। শম্ভু গাড়ির বাজনা শুনেই দৌড়ে গেট খুলে দিয়েছে।

    গাড়ি এসে বাগানে ঢুকলো। ন’দিদি মিত্তির-গিন্নীকে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো। মিত্তির-গিন্নীর মেয়েও নামলো। নয়নরঞ্জিনী দাসীও নামলো। শম্ভুকে বললে— দাদাবাবু কোথায় রে তোর?

    ভেতর-বাড়িতে ততক্ষণে খবর পৌঁছে গেছে। কৈলাস তাড়াতাড়ি গিয়ে বাতাসীর- মাকে খবরটা দিলে। বললে—বাতাসীর-মা সব্বনাশ হয়েছে, মা-মণি এসে গেছে—

    ভূতির-মা আঁচলটা মাটিতে পেতে একটু গড়িয়ে নিচ্ছিল। বললে—সে কী রে কৈলাস, মা-মণি?

    বাতাসীর-মা বললে-বউদিমণি কোথায়?

    কৈলাস বললে—বউদিমণি তো দাদাবাবুর ঘরে—

    বাতাসীর-মা বললে—বুড়ী আর সময় পেলে না, মরতে ঠিক এই সময়েই হাজির হলো গা!

    —কী হবে বাতাসীর-মা? এবার তো আর রক্ষে থাকবে না!

    ন’দিদি তখন মিত্তির-গিন্নীকে সমস্ত দেখাচ্ছে। এই বাড়ি, এই ভবানীপুরে এত বড় বাড়ি আর কারো নেই। কর্তাদের আমলে এ-বাড়ির চেহারা আরো ভালো ছিল। আর এখন কার জন্যেই বা বাড়ি সাজাবে বল? ছেলে আর মা—এই তো সংসার। আর যে- বউ ছিল আগে, সসে তো ঘর করলে না এখানে! বর্মার মেয়ে তো, তাদের বাপু শিক্ষা- দীক্ষাই আলাদা। সেবার ছেলের বিয়ে দেবার সময় তো নয়ন আমাকে জিজ্ঞেস করেনি। জিজ্ঞেস করলে আমিই বারণ করতুম।

    নয়ন বললে—চলো ন’দিদি ভেতরে চলো—

    ন’দিদি বললে—তোর ছেলে কোথায়?

    নয়ন বললে—শুনছি তো ওপরের ঘরে গিয়েছে—

    ন’দিদি বললে—তবে যে বলেছিলে ছেলে দিনরাত পড়াশোনা করে, বই মুখে দিয়ে থাকে?

    মিত্তির-গিন্নী গলা নিচু করে বললে—ছেলে বুঝি বই মুখে দিয়ে থাকে দিনরাত? ন’দিদি বললে—বউ নেই তো, তাই বই নিয়েই আছে কেবল, এবার বউ এলেই আবার সব বদলে যাবে! জোয়ান বয়েস ছেলের, বউ-এর জন্যে বিবাগী হয়ে যায়নি, তাই-ই যথেষ্ট।

    নয়ন একতলার ঘরগুলো দেখালে। এই হচ্ছে সরকারের ঘর, এই ঘরে বসে সরকারবাবু স্টেটের কাজ-কর্ম করে। এইটে হচ্ছে লাইব্রেরী ঘর—ছেলে পড়াশোনা করে এখানে। এর পেছন দিকে রান্নাঘর, কল-বাথরুম। আর এই হলো সিঁড়ি। সেকালে এই মোজেইকের সিঁড়ি করতেই সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন আমার শরীর- গতিকও ভাল ছিল, সংসারে আঠাও ছিল, ভাবতাম এই সব নিয়ে থাকলেই সুখ হবে। তা এবার আমি ছেলের বিয়ে দিয়েই কাশী চলে যাবো ভাই। যে-ক’টা দিন বাঁচি, বাবা বিশ্বনাথের নাম করেই বাঁচবো। ছেলে-বউ রইলো। তারা সব গুছিয়ে চালাতে পারলেই চলবে এ-সব আর নয়ত সব পুড়ে-ঝুড়ে যাবে। আমি তখন দেখতেও আসবো না এ- সব।

    একে একে দোতলার ঘরগুলো দেখালে নয়ন। তারপর তেতলা।

    ন’দিদি, মিত্তির-গিন্নী, মিত্তির-গিন্নীর মেয়ে সবাই পেছন-পেছন আসছিল। এমন চমৎকার বাড়ি, এমন খোলা হাওয়া। এখানে মেয়ে বউ হবে, এ তো ভাগ্যের কথা।

    হঠাৎ সোনার ঘরের দিকে গেল নয়ন। বললে—এই হচ্ছে আমার ছেলের শোবার ঘর—

    ন’দিদি বললে—ছেলে ঘরে আছে নাকি?

    নয়ন বললে—হ্যাঁ, শুনছি তো আছে—

    বলে নয়নরঞ্জিনী দাসী ছেলের ঘরের দরজাটা ঠেলতেই দশ হাত পেছিয়ে এসেছে। সতী ততক্ষণে সনাতনবাবুর পাশ থেকে সরে এসে সোজা হয়ে বসেছে।

    মা-মণি বললেন—তুমি যে? তুমি যে এসেছ হঠাৎ? তুমি কী করতে এসেছ এ- বাড়িতে?

    এতখানি মুখোমুখি হয়ে যাবার কল্পনাও করেনি সতী! প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। এতগুলো লোক একসঙ্গে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে। নিজের শাশুড়ী ছাড়াও ন’মাসীমা আছেন। আরো দুজন সঙ্গে। কী করবে, কী বলবে,—এতগুলো চোখের দৃষ্টির কৌতূহল কেমন করে মেটাবে সে। সতী সনাতনবাবুর দিকে একবার চাইলে। সনাতনবাবু চেয়ে আছেন বাইরে সকলের দিকে। তাঁর দৃষ্টির অর্থ খুঁজে পাওয়া ভার। সতীর মনে হলো সে একলা। একলাই এই অভিযোগের মুখোমুখি হবে। কারো সাহায্যই আর দরকার নেই তার!

    —বলো, আবার কেন ঢলানি করতে এসেছো এখানে?

    সতীর জবাব দিতে বোধহয় একটু দেরি হচ্ছিল। ন’দিদি তার আগেই ফোড়ন কাটলেন—সত্যিই তো বৌমা, তুমি কোথাকার কোন্ ছোঁড়ার সঙ্গে পালিয়ে গিলে, ঝঞ্ঝাট চুকে গেছলো। তা আবার কেন আসতে গেলে বাছা? এ-সংসারে কি আর তোমার ঢোকা উচিত? এ হলো গেরস্থ-বাড়ি—কাজটা কি ভালো করলে বাছা তুমি?

    মা-মণি তালে তাল মিলিয়ে বলতে লাগলেন—বাড়ি থেকে আমি একটু বেরিয়েছি, আর সেই ফাঁকে তুমি ঢুকে পড়েছ? তোমার আক্কেল তো খুব!

    ন’দিদি বললে—তক্কে তক্কে ছিলে বোধ হয় যে শাশুড়ী যেই বেরোবে, ওমনি ঢুকে পড়বো! অনেক মেয়েমানুষ দেখিছি বৌমা, আমারও নিজের মেয়ে-বউ আছে, আমিও বেটা-বেটারবৌ নিয়ে ঘর করি। কিন্তু এমন তো কখনও দেখিনি গা—

    মা-মণি বললেন—তবে আর বলছি কী ন’দিদি, সাধে কি আর আমার এমন উড়োন-চন্ডী দশা হয়েছে! এই বউ আসার পর থেকেই আকাল পড়েছে আমার সংসারে। তুমি তো জানো কী ছিল আমার আর কী ছিল না?

    মিত্তির-গিন্নী ঘোমটা দিয়ে এপাশে দাঁড়িয়ে শুনছিল আর ঘোমটার ফাঁক দিয়ে সব দেখছিল। পাশেই জড়সড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার মেয়ে। লীলারাণী দাসী।

    মেয়ে আর কৌতূহল দমন করতে পারলে না। চুপি চুপি মা’র কানের কাছে মুখ রেখে জিজ্ঞেস করলে—ও কে মা? কাদের বাড়ির?

    মিত্তির-গিন্নী চাপা-গলায় ঝঙ্কার দিয়ে উঠলো—তুমি চুপ করো। অমন হাঁ করে দেখতে নেই ওদিকে—

    —কিন্তু ওকে বকছে কেন মা সবাই?

    মিত্তির-গিন্নী মেয়ের হাতটা টিপে দিয়ে বললে—আবার কথা বলে, তুমি আমার পেছনে এসো—

    তারপর মিত্তির-গিন্নী ন’দিদির কাছে ঘেঁষে দাঁড়াল। ইচ্ছে ছিল ন’দিদিকে জিজ্ঞেস করবে—এই কি সেই বউ নাকি? কিন্তু তার আগেই ন’দিদি সামনে এগিয়ে গেছে। বললে—সে-সব কথা এখন থাক্ বৌমা, তুমি এখন যাও, আমার বোন ভালমানুষ শাশুড়ী তাই যো পেয়েছিলে! পড়তে আমার হাতে মা তো তোমার দাঁতের গোড়া আমি ভেঙ্গে দিতুম—। যাও বৌমা, ভালোমানুষের মত বলছি, তুমি এখন বিদেয় হও, আপদের শান্তি হোক—

    মা-মণি এতক্ষণ ন’দিদির জোরে জোর করছিলেন। কিন্তু ন’দিদিকেও যেন নির্ভর করতে পারলেন না আর। মনে হলো ন’দিদিও যেন হেরে যাচ্ছে। বললেন—কথা বলছো না কেন? ভেবেছ বোবার শত্রু নেই? মুখে কথা না বেরোয় তো বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে—যাও—

    ন’দিদি অন্যপন্থা ধরলে এবার। সনাতনবাবুর দিকে চেয়ে বললে-বাবা সোনা, তুমি বাবা এ-ঘর থেকে একটু বেরোও তো, তুমি থাকলে তোমার বউকে শায়েস্তা করা যাবে না—

    এতক্ষণে সনাতনবাবুর মুখ দিয়ে কথা বেরোল। বললেন-শায়েস্তা নাই বা করলে ন’মাসীমা, না-হয় ক্ষমাই করলে তোমাদের বউমাকে—

    —কী বললে?

    মা-মণি আর সহ্য করতে পারলেন না। বললেন—কী বললে সোনা? ওই বউকে আমি খোশামোদ করবো?

    ন’দিদি বললে—তুমি বিবেচক ছেলে হয়ে এই কথা বলছো বাবা? তোমার মত লেখা-পড়া জানা ছেলের মুখ থেকেও এই কথা শুনতে হলো আজ আমাদের? ছি ছি ছি….

    মা-মণি বললেন—দেখ ন’দিদি, তুমিই দেখ। এতদিন তুমি আমারই দোষ দেখতে, এখন দেখ কী রকম ছেলে গভ্যে ধরেছি আমি—

    সনাতনবাবু বললেন—ন’মাসীমা, তুমি মা’কে একটু বুঝিয়ে বলো তো, এত হৈ চৈ না করে ধীরে সুস্থে সব জিনিসটার একটা মীমাংসা করা কি ভালো নয়? তোমরা সবাই এমন উত্তেজিত হলে চলবে কী করে? যা বলবার ধীরে সুস্থে বলো না!

    মা-মণি বললেন-ধীরে সুস্থে কথা বলবার লোক বটে! বলো না ন’দিদি, বলো না, চুপ করে রইলে কেন? বাড়ি থেকে একটু বেরিয়েছি আর ওমনি সর্বনাশী ফাঁকা বাড়ি পেয়ে ঢুকে পড়েছে—

    ন’দিদি বললে—তা তো বটেই, তুমি যে বাবা আজ বউ-এর হয়ে সাফাই গাইছো, গেরস্থ-বাড়ির কোনও মা কি কোনও বউ-এর এই কীর্তি সহ্যি করতে পারে, না পারা উচিত?

    সনাতনবাবু বললেন—তোমাদের প্রশ্ন তো শুধু এই? না, আরো আছে?

    মা-মণি কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন, ন’দিদি তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললে —হ্যাঁ ধরো, এইটেই আমাদের কথা, এর কী উত্তর দেবে তুমি দাও?

    সনাতনবাবু হাসলেন। বললেন-এর উত্তরও তোমাদের জানা—

    তারপর একটু থেমে বললেন—আর তোমার যদি জানা না-ও থাকে তো মা-মণির তো জানতে বাকি নেই!

    ন’দিদি বললে—কী যে বাবা বলো, তোমার হেঁয়ালি-কথা আমরা কিছুই বুঝতে পারিনে, আমাদের অত লেখাপড়া জানা নেই তোমার মত, আমরা মেয়ে-মানুষ একটু সহজ করে বলো!

    সনাতনবাবু বললেন—ন’মাসীমা, তুমি আসলেই ভুল করলে! সমস্যাটা যদি সহজ হতো তো তার সমাধানটাও সহজ হতো। আসলে যে গোড়াতেই আমরা সব জটিল করে ফেলেছি, সবটা তো তুমি জানো না!

    মা-মণি আবার কী বলতে যাচ্ছিলেন, ন’দিদি আবার তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললে-তোমার কথা তো বুঝলাম, কিন্তু বাবা আমি একটা কথা তোমাকে বলি, তুমি হলে বেটাছেলে, লেখাপড়া জানা বিবেচক বেটাছেলে, তুমি মেয়েদের ব্যাপারে কথা বলবে এটা কি ভালো দেখায় বাবা? ওই দেখ, বাইরের একজন হবু-কুটুম দাঁড়িয়ে রয়েছে, ওরা সব শুনে কী ভাবছে বলো তো! তোমার বাপ-পিতেমোরাও তো আগে একদিন ঘর-সংসার করেছেন, তাঁরা তো কখনও এ-সব মেয়েলি ব্যাপারের মধ্যে থাকেতেন না! আমার বেটারাও তো রয়েছে। আমার বেটার বউদের ব্যাপারেও তারা তো কেউ কখনও মাথা ঘামায় না। আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ আমার কোনও ছেলে আমার মুখের ওপর কিছু বলুক দিকি! মুখ একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব না—

    তারপর হঠাৎ থেমে সুর বদলে সনাতনবাবুর হাতটা আস্তে আস্তে ধরে বললে— তুমি বাবা ভালো ছেলের মত এখান থেকে যাও তো! যাও! তুমি তোমার লেখা-পড়া নিয়ে থাকো গে,–শাশুড়ী-বউতে কথা হচ্ছে এর মধ্যে বেটাছেলের থাকতে নেই— যাও—লক্ষ্মীটি—

    সনাতনবাবু হাসলেন আবার। সেই বরাবরের মৃদু হাসি। যে-হাসি দেখে সতীর বরাবর গা-জ্বালা করতো। সনাতনবাবু যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন। এক পাও নড়লেন না। বললেন—না, ন’মাসীমা, আমি তো তেমন বেটাছেলে নই,

    ন’দিদি গালে হাত দিলে। বললে—ওমা, বলছো কী বাবা তুমি? তুমি বংশ-ছাড়া নাকি?

    —হ্যাঁ ন’মাসীমা, আমি হয়ত তাই!

    মা-মনি হঠাৎ আর্তনাদ করে উঠলেন। বললেন—ওমা, কী সব্বনেশে কথা বলে গো, আমি একটুখানি বাড়ি থেকে বেরিয়েছি, এরই মধ্যে এত? এমন করে আমার ছেলেকে বশ করে ফেলেছে গা? এমন বউও আমি ঘরে এনেছিলাম মরতে, এমন হেনস্থাও আমার কপালে ছিল?

    মিত্তির-গিন্নী আর তার মেয়ে এতক্ষণ সব ব্যাপার দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা এমন অবস্থার মধ্যে পড়বে এ যেন কল্পনাও করতে পারেনি। মিত্তির-গিন্নী এক ফাঁকে ন’দিদির কাছে এসে গায়ে টোকা দিলে। বললে—ও কে ন’দিদি? এ-সব কী কান্ড?

    এতক্ষণে ন’দিদিরও যেন খেয়াল হলো। গায়ে টোকা লাগতেই পেছন ফিরেছে। পেছন ফিরে মিত্তির-গিন্নীকে দেখেই সব খেয়াল হয়েছে। বললে—ওমা, নয়ন, কী কান্ড দ্যাখ, এরা এখানে রয়েছে। তুই এদের বসাস্ নি এখনও?—তোর ঘরে নিয়ে গিয়ে বসা এদের—

    মা-মণি তখন উগ্র মূর্তি। বললেন—তা দেখুক না ওরা, আমার বউ-এর কান্ডটা দেখুক একবার। কেন আমার ছেলের বিয়ে দিচ্ছি আবার, তা নিজের চোখেই দেখে যাক্, আমার তো কিছু লুকোন-ছাপানো নেই, সবই দেখে যাক্—

    ন’দিদি বললে—না ভাই এতক্ষণ খেয়ালই হয়নি, চল্ তোরা বসবি চল্, তোদের বসিয়ে রেখে আসি, একেবারে ঘেমে নেয়ে উঠেছে দুজনে—

    মিত্তির-গিন্নী বললে—না না ন’দিদি, তাতে কী হয়েছে, আমাদের কিছু কষ্ট হচ্ছে না। তোমরা কথা সেরে নাও।

    —আরে, আমাদের কথা কি এমনি শেষ হবে, আজ এর একটা হেস্ত-নেস্ত করে তবে আমি বাড়ি যাবো—আমি আবার বাড়িতে আঁতুড় ফেলে এসেছি, কত ভাবনা আমার, তার মধ্যে আবার এই সব হ্যাঙ্গামা জুটেছে—

    তারপর সনাতনবাবুর দিকে চেয়ে বললে—তাহলে তুমি বাবা নিজের মা’র কথা শুনবে না? তোমার গর্ভধারিণী মা, সে-ও পর হলো তোমর বউ-এর কাছে—?

    সনাতনবাবু হাসলেন আবার। বললেন—ন’মাসীমা, তুমি বোধহয় বাড়ি চলে গেলেই ভালো হয়, তোমার অনেক ভাবনা—

    ন’দিদি বললে—ঠিক বলেছ বাবা, ভাবনা আমার চিরকাল থাকবে। কিন্তু আমি নয়নের ভাবনাও নিজের মাথায় ঢুকিয়েছি। তোমরা সুখে শান্তিতে থাকো, এটাও যে আমি চাই! আর নয়ন আর আমি কি আলাদা বাবা?

    সনাতনবাবু বললেন—আলাদা যে নও, তা তো দেখতেই পাচ্ছি, আলাদা হলে এত কথা আমাকে বলতেও না তুমি! আর আমাকেও এত কথা বলতে হতো না।

    ন’দিদি কথাগুলোর অর্থ কী বুঝলো কে জানে। বললে—তা তো বটেই বাবা, তোমাকে তো বরাবর মুখচোরা লাজুক ছেলে বলেই জানতুম, তোমার এই ব্যাভার দেখে আমিও তো তাই অবাক হয়ে গেছি—

    মা-মণি বললেন—অবাক হবার কিছু নেই ন’দিদি, আমি একটুখানি বাড়ি থেকে বেরিয়েছি, আর সেই ফাঁকে ঢুকে পড়েছে এখানে। এত বড় হারামজাদী বউ—

    —ছি!

    সনাতনবাবুর গম্ভীর গলার ‘ছি’ শব্দটা যেন হঠাৎ মা-মণির মুখের ওপর ছিকে পড়লো। সবাই চেয়ে দেখলে সনাতনবাবুর মুখের দিকে। সনাতনবাবুর মুখের সেই হাসিটা যেন এতক্ষণে মুখ থেকে অন্তর্ধান করেছে। ব্যঙ্গ নয়, তিরস্কার নয়, প্রতিবাদ ও নয়। এমন কি বিদ্রোহও নয়। আসলে কিছুই নয়। একটি সহজ-সরল ছি-ছিৎকার যেন এতদিনকার সব অভিযোগ-অনুযোগের একমাত্র প্রতিষেধক হয়ে সকলের কানে গিয়ে খট্ করে বাজলো। এতদিন যেন এ-লোকটাকে চিনতে পারা যায়নি। সেই চিরদিনের বই মুখে দেওয়া মানুষটার অন্তরে যে এতখানি ধিক্কার জমা হয়ে থাকতে পারে, তাও যেন কেউ কল্পনা করতে পারেনি। যেন আজ সবাই নতুন করে আবিষ্কার করলে সনাতনবাবুকে।

    সনাতনবাবু বলতে লাগলেন—শ্রদ্ধা দিয়ে যে মানুষকে জয় করা যায়, ভালবাসা দিয়েও যে-মানুষকে আকর্ষণ করা যায়, তোমরা সেই সামান্য কথাটাও ভুলে গেছ ন’মাসীমা—

    মা-মণি কিন্তু এক মুহূর্তেই সামলে নিয়েছিলেন। বললেন—তা এতই যদি তোমার বউ-এর ওপর দরদ তো, এ-বাড়িতে তুমিও থাকতে পারবে না, এও আমি বলে দিচ্ছি, এও আমার বাড়ি, আমার শ্বশুরের ভিটে—

    ন’দিদি মা-মণির মুখে হাত চাপা দিলে। বললে—তুই থাম্ তো নয়ন, কাকে কী বলছিস। রাগের মাথায় তার ঠিক নেই-দেখছিস্ বাইরের লোক রয়েছে—

    —কেন বলবো না শুনি? আমি কি ছেলের ভাত খাই, না ছেলের পরি? আমার নিজের ছেলে যাকে আমি বুকে পিঠে করে মানুষ করেছি, সেই ছেলে আমাকে উপদেশ দিতে আসবে, এত বড় বুকের পাটা?

    ন’দিদি আবার মুখে হাত চাপা দিতে গেল। বললে—তুই থাম্ নয়ন—

    মা-মণি ন’দিদির হাত সরিয়ে দিয়ে বললে—না আমি কেন থামবো? আমার বউ বেশ্যা হয়ে বেরিয়ে যাবে পাড়ার ছোঁড়ার সঙ্গে……

    সতী এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল কোনও রকমে। থর থর করে কাঁপছিল। তার দিকে এতক্ষণ কারো নজর ছিল না। হঠাৎ আর সহ্য হলো না। সে টলে পড়ে যাচ্ছিল, সনাতনবাবু তাকে ধরে ফেললেন।

    —ওমনি মূর্ছো গেল। অমন মূর্ছো যেতে আমরাও জানি গো, আমরাও জানি। বেহায়াপনা করবার সময় তখন তো ঘোমটার ঠিক থাকে না, সত্যি কথা শুনে মূর্ছো যাবার ঢংটা শিখেছে খুব। ঢং দেখলে গা জ্বলে যায়—

    সনাতনবাবু এর একটা উত্তর দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ শম্ভু ঘরে ঢুকলো। একেবারে সকলের ভিড় কাটিয়ে মা-মণির সামনে এসে বললে—মা-মণি, দারোগাবাবু এসেছে—

    —দারোগাবাবু? কে দারোগাবাবু?

    —আজ্ঞে, ভবানীপুর থানার দারোগাবাবু। আগে, অনেক দিন আগে কয়েকবার এসেছিলেন এ-বাড়িতে, সেই তিনি—

    মা-মণি ভেবে কিছুই ঠিক করতে পারলেন না। বললেন—দারোগাবাবু আবার কে আসবে আমার কাছে? ভবানীপুরের দারোগাবাবু এ-বাড়িতে কী করতে?

    তবু জিজ্ঞেস করলেন শম্ভুকে—কাকে ডাকছে? আমাকে?

    —হ্যাঁ মা-মণি আপনাকে ডাকতে বললেন। সঙ্গে পুলিস কনেস্টোবল আছে দু’জন।

    নয়নরঞ্জিনী দাসী একটু ভেবে নিলেন। তাঁর কাছে পুলিস কী জন্যে আসতে পারে!

    বললেন—তুই যা গিয়ে তাদের সরকারবাবুর ঘরে বসতে বল্। আমি আসছি—

    শম্ভু চলে গেল। সিঁড়ির মাথায় বাতাসীর-মা, ভূতির-মা, কৈলাস, সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ মজা দেখছিল। এতক্ষণ তারা আর কৌতূহল চাপতে পারে নি। সবাই জানতে চায় কী হয়। এতদিন পরে বৌদিমণি এসেছে, মা-মণিও এসে পড়েছে, এবার একটা কিছু ফাটাফাটি হবেই।

    ভূতির মা বললে—তা ঠিক এই সময়েই কি পুলিস আসেত হয় বাছা! আর একটু দেরি সইল না গো!

    বাতাসীর-মা মুখ ঝামটা দিলে। বললে—তুই চুপ কর তো ভূতির-মা, মাগী শুনতে পাবে আবার—

    ভূতির-মা এমনিতেই ভীতু মানুষ। বললে—তা শুনলে আর কী করবে মাগী, তাড়িয়ে তো আর দিতে পারবে না, লাথি-ঝ্যাঁটা মারুক আর যাই করুক, এমন গতর খাটা মিনি-মাইনের ঝি তো আর পাবে না—

    —তবে বক্ বক্ কর তুই, আমি চললুম এখেন থেকে—

    কিন্তু মা-মণি ততক্ষণে সিঁড়ির দিকে আসছে। হুড়মুড় করে নেমে গেল বাতাসীর- মা। ভূতির-মা কৈলাস—তারাও সরে পড়েছে সঙ্গে সঙ্গে।

    সতী তখনও সনাতনবাবুর গায়ে হেলান দিয়ে মুখ লুকিয়ে ছিল।

    মা-মণি হঠাৎ যেন বাধা পেয়ে ন’দিদিকে বললেন—তুমি তা হলে এ-দিকটা সামলাও, দেখি ওদিকে থানার দারোগা এসেছে কেন আবার—

    ন’দিদিও পুলিস-দারোগার নাম শুনে একটু অবাক হয়ে গিয়েছিল। বললে—তা পুলিস-দারোগা আবার তোর কাছে এল কেন নয়ন? কে কী করলো?

    মা-মণি বললেন—আমার কি একটা জ্বালা ন’দিদি, আমার শতেক জ্বালা ন’দিদি, আমার শতেক জ্বালা। সেই উকীল-ব্যারিস্টারের মামলা নিয়ে তো আমি নাজেহাল হবার জোগাড়, বোধ হয় সেই ব্যাপারেই এসেছে, আমার সঙ্গে আবার দারোগার আর কী সম্পর্ক থাকবে? তুমি সামলে রেখো দিদি, আমি চলি—

    মিত্তির-গিন্নী একেবারে নতুন মানুষ এ-বাড়িতে। এখানে এসে এমন ব্যাপারে আটকে পড়বে, তা জানলে আর আসতো না। একদিকে শাশুড়ী-বউ-এর ঝগড়া, আর একদিকে দারোগা-পুলিস–সমস্ত যেন কেমন বেনিয়মের সংসার বলে মনে হলো। ন’দিদির কাছে এগিয়ে এসে বললে-পুলিস-দারোগা কীসের ন’দিদি?

    ন’দিদি বললে—ও কিছু না, বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে সংসার করতে গেলে পুলিস- দারোগা উকীল-মোক্তার ছাড়া কী চলে বাছা? তোকে বরং পাশের ঘরে বসিয়ে রেখে আসি! দ্যাখ্ দিকিনি, আনন্দ করতে এসে এ কী ঝঞ্ঝাটের মধ্যে পড়ে গেলুম—

    বলে মিত্তির-গিন্নীকে পাশের ঘরে রেখে আসতে গেল ন’দিদি।

    সনাতনবাবু সতীর কপালে মাথায় হাত বুলিয়ে দেখলেন। মনে হলো যেন তার জ্বর এসেছে। আস্তে আস্তে সতীর মুখের কাছে নিচু হয়ে বললেন—তুমি বিছানায় শুয়ে পড়ো একটু—

    .

    সরকারবাবুর কাছারি-ঘরে ভবানীপুরের থানার দারোগা বসেছিলেন। কনস্টেবল দুজন বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল। তাদের হাতে ফাইলপত্র।

    মা-মণি হন্তদন্ত হয়ে নেমে আসতেই দারোগাবাবু উঠে দাঁড়ালেন। বললেন- আপনাকে বিরক্ত করলুম মিসেস ঘোষ, আমি সেই মিস্টার পালিতের কেস-এর জন্যে এসেছিলাম। আপনার মিস্টার পালিত ধরা পড়েছেন—

    —ধরা পড়েছে? তাহলে টাকাগুলো সব পাওয়া যাবে?

    দারোগা সাহেব বাঙালী ভদ্রলোক। খাকি কোট প্যান্ট ক্রস-বেল্ট আঁটা। হাসলেন একটু। বললেন—এখানে তো ধরা পড়েননি, সব খবরও এখন আমার কাছে পুরো এসে পৌঁছোয়নি।

    —কোথায় ধরা পড়েছে?

    —ধরা পড়েছে করাচীতে। করাচীর এক হোটেলে হাজব্যান্ড-ওয়াইফ দুজনে অন্য নামে থাকতো। সব জায়গাতেই তো ওয়্যার পাঠানো হয়েছিল, এ ক’বছর সব জায়গা থেকে আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছিল—নো ট্রেস। কোনও সন্ধান নেই। হঠাৎ ক’দিন আগে করাচী থেকে খবর এসেছে—মিস্টার পালিতকে পাওয়া গেছে। আমি নিজেই সেখানে গিয়েছিলুম ইনভেস্টিগেশন করতে। আমাদের ফটোগ্রাফের সঙ্গে হুবহু মিলে গেল—এখন আন্ডার অ্যারেস্ট—

    মা-মণি বললেন—কিন্তু আমার অতগুলো টাকা?

    —টাকার কথা তো পরে। আগে আইডেন্টিফিকেশন হবে, তবে তো?

    —কিন্তু তুমি জিজ্ঞেস করলে না কেন বাবা, যে নয়নরঞ্জিনী দাসীর অতগুলো টাকা মেরে যে পালিয়ে এলে তার কী করলে? সে-টাকাগুলো কবে ফেরত দেবে?

    দারোগা সাহেব বললেন—কিন্তু আমাদের পুলিসেরও তো একটা আইন-কানুন আছে, আর মিস্টার পালিতও তো একজন ব্যারিস্টার—

    মা-মণি বললেন—ছাই, ছাই-এর ব্যারিস্টার বাবা, ওর বাবা আমাদের কাজকর্ম করতেন, তিনি আমার শ্বশুরের আমলের লোক, তাই আমি তাঁরই ওপর সব বিশ্বাস করে তাঁর ছেলেকে ওকালত-নামা দিয়েছিলুম। আজ আমার এই যে হাল হয়েছে, আমার গাড়ি ছিল ড্রাইভার ছিল, বাগানে মালী ছিল, আজ পাঁচ বছর বাড়িতে চুন-বালি পড়েনি, বাড়ি ভেঙে পড়ছে, গেটে দরোয়ান পর্যন্ত নেই একটা, চোর-ডাকাত যে-ইচ্ছে ঢুকে পড়তে পারে—এ তো ওই সব্বনেশে ব্যারিস্টারের কাজ—তুমি জিজ্ঞেস করলে না কেন?

    দারোগা সাহেব বললেন—আপনি সব কথা ঠিক বুঝতে পারবেন না, আপনার ছেলে কোথায়? মিস্টার ঘোষ?

    —ছেলের কথা আর বোল না বাবা, সে আর এক পন্ডিত। এই সব পন্ডিত নিয়েই আমাকে এতদিন চালাতে হয়েছে বাবা, আমার জ্বালা ঠিক তোমরা কেউ বুঝতে পারবে না। যা বলবার, ছেলেকে না বলে আমাকেই বলো, আমিই শুনবো— জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সব কিছু আমাকেই করতে হবে—

    দারোগা সাহেব বললেন—তাহলে শুনুন।

    বলে দারোগা সাহেব সব কাহিনীটা বললেন। সে এক আজব কাহিনী। করাচীর প্রিন্সেস হোটেলে গিয়ে উঠলো এক জোড়া মানুষ। একজন হাজব্যান্ড আর একজন ওয়াইফ। মিস্টার এন লাহিড়ী আর মিসেস লাহিড়ী। এসেছে দিল্লী থেকে। কিন্তু মিস্টার লাহিড়ী আর মিসেস লাহিড়ীর জন্যে প্রিন্সেস হোটেলের বয়, বাবুর্চি, খানসামা, স্টুয়ার্ড সবাই নাজেহাল। সবাই তটস্থ।

    মিস্টার লাহিড়ী ডাকে—বোয়—

    বয় দৌড়ে আসে। সামনে এসেই বকুনি খায়। জল ঠিক গরম হয়নি। কিম্বা চায়ে ঠিক ফ্লেবার হয়নি। কিম্বা ডিনারের কফি ঠান্ডা। একটা-না-একটা খুঁত ধরা পড়বেই মিস্টার লাহিড়ীর কাছে আর মিস্টার লাহিড়ী যদিই বা ক্ষমা করেন তো মিসেস লাহিড়ী আরো এক-কাঠি বাড়া।

    মিস্টার এন্ড মিসেস লাহিড়ী আসবার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের ইনকাম বেড়ে গেল রাতারাতি। যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে সাউথ-ইস্ট-এশিয়া কম্যান্ডের মিলিটারি অফিসারে হোটেল ভরে গেছে। মেজর, ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্ট হরদম আসছে যাচ্ছে। তাদের মিস্টার লাহিড়ী পার্টি দেন। এক-এক দিনে দু তিন হাজার টাকা ইনকাম হয় হোটেলের।

    মিস্টার লাহিড়ী সকলকেই বলে—কায়রো যাচ্ছিলাম, হঠাৎ এসে দেখি রুট বন্ধ হয়ে গেছে—

    যদি কেউ জিজ্ঞেস করে—কায়রোতে আপনার কী কাজ?

    মিস্টার লাহিড়ী বলে—বিজনেস ট্রিপ—

    এক-একদিন ভোর থেকে ট্যাক্সি এনগেজ করে মিস্টার লাহিড়ী। সারা দিন ধরে ট্যাক্সি দাঁড়িয়েই থাকে। কেউ আসে না, কেউ নামে না হোটেল থেকে। শেষকালে রাত দশটার সময় ফুল ওয়েটিং চার্জ দিয়ে ট্যাক্সি বিদায় দেওয়া হয়। বলা হয়-নেহি, সাহাব নেহি যায়েঙ্গে—

    এমনি প্রায়ই। প্রায়ই এমনি হয়। অথচ ভেতরে তখন মিস্টার লাহিড়ী আর মিসেস লাহিড়ী ব্যালকনিতে বসে অ্যারেবিয়ান ওস্যান-এর ভিউ দেখছেন। পাশে বসে আছে মিলিটারি মেজর—টম ডিক হ্যারি—

    উনিশ শো বেয়াল্লিশের আগস্ট পেরিয়ে গেছে। অ্যাক্সিস পাওয়ার্স সিঙ্গাপুর, রেঙ্গুন, আকিয়াব পর্যন্ত এসে গেছে। আর ঠিক সেই সময় বাঙালী-সন্তান মিস্টার লাহিড়ী করাচীর প্রিন্সেস হোটেলের ব্যালকনিতে বসে টম-ডিক-হ্যারির মনোরঞ্জন করছে।

    তারপর একদিন এক কান্ড ঘটলো।

    হোটেলের বয় যথারীতি রাত্রে ঘরে কফি দিতে গিয়ে দেখে মিস্টার লাহিড়ী চিৎকার করছে—ব্লাডি সোয়াইন, সান-অর্-এ-বিচ

    এ-এক অবাক কান্ড! হোটেলসুদ্ধ লোক সন্ত্রস্ত। বয়রা ছুটে এল, বাবুর্চি ছুটে এল, খানসামা ছুটে এল, স্টুয়ার্ড, বিল-ক্লার্ক, অ্যাকাউন্টেন্ট সবাই ছুটে এল। অন্য সব বোর্ডাররাও ছুটে এল বাইরে। সামথিং রং ইন দি স্টেট অব ডেনমার্ক।

    —কী হয়েছে?

    —হোয়াটস্ আপ?

    —কেয়া হুয়া?

    —হোয়াটস্ রং দেয়ার?

    হোটেলসুদ্ধ লোকের ওই এক প্রশ্ন। চারদিকে হৈ চৈ। রুম নাম্বার ওয়ানের বোর্ডার সামনে যা পাচ্ছে তাই ভাঙছে। গ্লাস ভাঙছে, বাল্ব ভাঙছে, টী-পট ভাঙছে। সব ভেঙে চুরমার করছে। মিস্টার লাহিড়ী চীৎকার করছে—ব্লাডি সোয়াইন, সান-অব্-এ-বিচ—

    খবর গেল পুলিসের কাছে। পুলিস এল। পুলিসের ডাক্তার এল। ততক্ষণে মিস্টার লাহিড়ী কান্ত হয়ে পড়ছে। অকারণ চীৎকারে গলা ভারি হয়ে গেছে। ডাক্তার পরীক্ষা করলে অনেকক্ষণ। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রায় দিলে—এ কেস অব ইনস্যানিটি। পাগল হয়ে গেছেন মিস্টার লাহিড়ী। হঠাৎ শক পেলে এরকম হয়। তবে সারলে সারতেও পারে। অনেক দিন অবজারভেশনে থাকতে হবে।

    কিন্তু আশ্চর্য! মিসেস লাহিড়ীকে আর সেদিন থেকে পাওয়া গেল না কোথাও। হাজব্যান্ডের অসুখের পরেও অনেক দিন তার কোনও ট্রেস নেই। খবর পাওয়া গেল ঘটনার আগের দিন মিসেস লাহিড়ীকে সাউথ-ইস্ট-এশিয়া কম্যান্ডের আমেরিকান মেজর ওয়াটকিনস-এর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। মেজর ওয়াটকিনস ফ্লাই করে চলে গেছে সেইদিন। তার সঙ্গে মিসেস লাহিড়ীকে দেখা গেছে কিনা কেউ জানে না।

    দারোগা সাহেব বললে—আসলে আমাদের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ-এর লোক তখন খবর পেয়ে আমাদের ওয়্যার করে। আমরা গিয়ে দেখি—যার নাম মিস্টার লাহিড়ী তার নামই মিস্টার পালিত—! আমাদের আইডেন্টিফিকেশন ফোটোগ্রাফের সঙ্গে হুবহু মিলে গেল—

    —এখন তাহলে কোথায় আছে সে বদমাইশটা?

    দারোগা সাহেব বললেন-সেই করাচীতে, এবার এখানে আনলে আপনি আইডেন্টিফাই করবেন—তখন যা হয় হবে! আর পাগলের এগেনস্টে কেস করেই বা কী করবেন?

    —কিন্তু আমার অতগুলো টাকা? সে-টাকা পাওয়া যাবে না! সব মিলিয়ে যে তিরিশ লক্ষ টাকার মত হবে!

    দারোগা সাহেব বললেন—টাকার একটা ব্যবস্থা করা যাবে যাহোক, তবে কোথায় যে অতটাকা রেখেছে তাও জানি না, এখনও ট্রেস পাওয়া যায়নি। হোটেলের রুম নাম্বার ওয়ানটা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সামান্য কয়েকটা টাকা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    মা-মণি বললেন—অত টাকা তো আর কাছে রাখে না কেউ, নিশ্চয়ই ব্যাঙ্কে-ট্যাঙ্কে রেখেছে কোথাও লুকিয়ে।

    দারোগা সাহেব বললেন—ব্যাঙ্কে রাখবার ছেলেই নয় মিস্টার পালিত। বিশেষ করে ব্ল্যাক টাকা! আমার মনে হয় মিসেস পালিতই সব কুড়িয়ে বাড়িয়ে নিয়ে চলে গেছে। মেজর ওয়াটকিনসেরই ভোগে লাগবে হয়ত—

    মা-মণি বললেন—তা তাদেরই না-হয় ধরবার ব্যবস্থা করো—বিধবার অতগুলো টাকা নষ্ট হবে, আর তোমরা থাকতে কিছু করবে না বাবা?

    দারোগা সাহেব বললেন—তা তো সম্ভব নয় মিসেস ঘোষ। বিশেষ করে এই ওয়ারের সময়, এখন তার আর কোনও ট্রেস পাওয়া যাবে না—

    —তাহলে আমার কী হবে?

    কীযে হবে তাই-ই যদি তিনি জানবেন তো তিনিই বলে দিতেন। খানিক পরে বললেন—কী হবে জানি না, তবে পানিশমেন্ট যা-হবার তা তো হয়েই গেল। আমরা পানিশমেন্ট দেবার আগেই ভগবান শাস্তি দিয়ে দিলে—

    মা-মণি রেগে গেলেন। বললেন—ভগবানের নাম কোর না আর বাবা তুমি! ভগবান থাকলে আমার এই দুর্দশা হয়? ভগবান থাকলে এই অনাথা বিধবার টাকাগুলো এমন করে নয়-ছয় হয়ে যায়? তুমি এত বুদ্ধিমান হয়ে ভগবানের নাম করছো? অন্য কেউ ভগবানের নাম করলে…..

    বলতে বলতে মা-মণি যেন উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। তাঁর স্থূল-শরীরটা ফুলে-ফুলে উঠতে লাগলো রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে, অপমানে। তাঁর এতদিনের ক্ষমতা যেন হঠাৎ তাঁর হাত থেকে অন্য হাতে চলে যেতে বসেছে। তাঁর গৌরব যেন ধূলোয় গুঁড়িয়ে যেতে বসেছে! আরো যেন তিনি কী সব বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁর মুখের কথা মুখেই আটকে গেল। ন’দিদি হাঁফাতে হাঁফাতে এসে হাজির হলো ঘরের মধ্যে। বললে—ওরে নয়ন, ওদিকে যে সর্বোনাশ হয়েছে—

    —কী সর্বোনাশ ন’দিদি?

    মা-মণি পেছন ফিরে ন’দিদিকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন! বললে—কী হলো?

    —তোর বউ যে নাটক করছে রে!

    —নাটক?

    —হ্যাঁ রে, নাটক। বউ যে তোর ভিরমি গেছে! বিছানায় শুয়ে চোখ উল্টে পড়েছে—

    মা-মণি বললেন—ও ছেনালী ন’দিদি, ওদিকে চোখ দিও না। তোমরা চোখ দিলে আরো বাড়িয়ে তুলবে—ও ছেনালী আমি অনেক দেখেছি—

    ন’দিদি বললে—কিন্তু শেষকালে যদি একটা বাড়াবাড়ি কিছু হয়ে যায়, তখন কেলেঙ্কারী হবে যে। তখন পুলিসে এসে তোকেই ধরবে যে—

    দারোগা সাহেব জিজ্ঞেস করলেন—কী হয়েছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }