Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৫৯

    ৫৯

    রাস্তায় অন্ধকার ঘুরঘুট্টি। সমস্ত গাড়িগুলো ছুটেছে সামনের আলোর ওপর ঠুলি এঁটে, সমস্ত কলকাতাটা যেন মা-মণির মেজাজের মত থম্থম্ করছে। মা-মণিকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। জাপানীদের কাছেও যেন সমস্ত কলকাতাটা ছেড়ে দিতে হবে বাঙালীদের।

    এসব দিনগুলোর কথা দীপঙ্করের মনে আছে। নয়নরঞ্জনী দাসী যখন বাড়িটাকে বাঁচাবার জন্যে ছটফট করে বেড়াচ্ছেন, একবার উকীল আর একবার ঘর করছেন, যখন দু’হাতে উকীলরা পয়সা দুয়ে নিচ্ছে, কোনও দিকেই কোনও আশার রেখা খুঁজে পাচ্ছেন না, দীপঙ্করও সেই সময়ে একবার আপিসে, একবার গড়িয়াহাটায় গিয়ে সতীর কাছে গিয়ে সান্ত্বনা খুঁজছে। বাড়িতেও শান্তি নেই, বাইরেও তাই। সেই সব দিনগুলোতে অন্ধকার বিছানার ওপর শুয়ে চোখ বুজলেই কেবল কিরণের কথাটা মনে পড়তো। কিরণ যেন বলতো—আমার কথা ভাবিসনি তুই দীপু, এখন কোনও বাজে কথা ভাববার সময় নেই, এখন গ্লোবে আগুন লেগে গেছে, তুই নিজের কথা ভাব, এখনও কেবল চুপ করে দেখবি—? গান্ধীজীর কথাও মনে পড়তো দীপঙ্করের।

    “I have not asked the British to hand over India to the Congress or to the Hindus. Let them entrust India to God or in modern parlance to anarchy. Then all the parties will fight one another like dogs, or will, when real responsibility faces them come to a reasonable agree- ment.”

    সেদিন দীপঙ্কর যথানিয়মে আপিস থেকে সোজা চলে এসেছিল সতীর কাছে। এ আসাটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল দীপঙ্করের। রঘুও জানতো ঠিক কখন আসবে দাদাবাবু। এসে চুপ করে বসে থাকবে হেলানো-চেয়ারটায়। চা খাবে না, খাবার খাবে না, সিগারেট পান কিছুই চাইবে না। শুধু বসে থাকবে। পৃথিবীর সমস্ত সমস্যা, জীবনের সমস্ত জটিলতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দীপঙ্কর এখানে এই গড়িয়াহাটার বাড়িটার নির্জন ঘরটাতে এসে মুক্তি খুঁজবে। মুক্তি খুঁজবে না জটিলতা বাড়াবে তা সেদিন সে বুঝতে পারেনি। কিন্তু প্রতিদিনই এসে বসতো, প্রতিদিনই সতী তৈরি থাকতো। দীপঙ্কর এলেই সতী এসে বসতো পাশের চেয়ারটায়। তারপর চুপচাপ মুখোমুখি বসে চলতো দু’জনের নির্বাক আলাপ।

    একবার দুবার শুধু সতী বলতো—কেন তুমি আর আসো?

    কিংবা বলতো—আজ সকালে বৃষ্টি হয়েছিল—

    এই রকম অনাবশ্যক আলাপের মধ্যে দিয়ে কোথায় যেন একটা গ্ৰন্থি বেঁধে উঠছিল একেবারে অন্তরের অভ্যন্তরে। লোকচুর আড়ালে কোন্ এক অদ্ভুত সম্পর্কের ক্ষীণ সূত্র সৃষ্টি হচ্ছিল, তা দু’জনের কেউই জানতে পারেনি। দীপঙ্কর শুধু জানতো সতী নিয়ম মাফিক পাশের খালি চেয়ারটায় এসে বসবে। আর সতীও জানতো দীপঙ্কর আপিস থেকে সোজা এখানে একটা চেয়ারে বসে গা এলিয়ে দেবে।

    কিন্তু সেদিন একটু তাড়াতাড়ি এসে পড়েছিল দীপঙ্কর। অভয়ঙ্কর এসেই খবরটা দিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল—মিস্টার ঘোষালের কেস-এর খবর কিছু রাখো সেন?

    —কে মিস্টার ঘোষাল!

    কথাটা বলেই নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিল। এই অল্পদিনের মধ্যেই ভুলে গেল নাকি দীপঙ্কর। অভয়ঙ্করও অবাক হয়ে গিয়েছিল। বলেছিল—শুনেছ বোধহয় মিসেস ঘোষের এভিডেন্সের ওপরেই এখন মিস্টার ঘোষালের ভাগ্য নির্ভর করছে?

    —সে কী? কেন?

    অভয়ঙ্কর বললে—তুমি জানো না?

    দীপঙ্কর বললে—কই পেপারে তো কিছু দেখিনি—? মার্ডার কেসএর খবর তো পেপারে বেরোচ্ছে না কিছু?

    —সেদিকে মিস্টার ঘোষাল এক্সপার্ট। টাকা দিয়ে প্রেসকে গ্যাগ করে দিয়েছে। কোনও খবরের কাগজেই তার কেস-এর রিপোর্ট বেরোবে না। কিন্তু শুনছি এবার মিসেস ঘোষকে ডিফেন্স উইটনেস করেছে—

    —কোন্ মিসেস ঘোষ?

    অভয়ঙ্কর বললে—মিস্টার ঘোষালের এক্স পি-এ, সতী ঘোষ। কেন, তোমার সঙ্গে তার দেখা হয় না আর?

    দীপঙ্কর আকাশ থেকে পড়লো। বললে—আর ইউ সিওর? তুমি ঠিক জানো? অভয়ঙ্কর বললে—আমি কারেক্ট! হাইকোর্টে আমার এক য়্যাডভোকেট ফ্রেন্ড আছে, সে ডে-টু-ডে অকারেন্স আমাকে বলে যায়, তার কাছেই সব শুনেছি। শুনছি মিসেস ঘোষের আজকে স্টেটমেন্ট দেবার কথা আছে, মিসেস ঘোষকে সামন করা হয়েছে আজ—

    —আজ কখন?

    —আজ এই এখন, এখন হিয়ারিং হচ্ছে হয়ত

    বলে ঘড়িটা দেখলে অভয়ঙ্কর। দু’টো বেজেছে। দীপঙ্কর তখন অন্য কথা ভাবছে। ঘৃণা নয়, রাগও নয়। মিস্টার ঘোষালের ওপর কোনও রাগ কোনও ঘৃণা নেই দীপঙ্করের। পৃথিবীর কোনও লোকের ওপরেই রাগ নেই তার। কিন্তু যা-কিছু কুৎসিত, যা কিছু অন্যায়, যা কিছু অসুন্দর, তার কাছ থেকেই বরাবর দূরে থাকতে চেষ্টা করেছে সে। দীপঙ্কর মুক্তি চায়নি, সংগ্রাম করে কুশ্রীকে সুশ্রী করতেও চায়নি! তার কেবল মনে হয়েছে সমস্ত কলঙ্ক থেকে সে প্রাণপণে দূরে থাকবে! কলঙ্ক থেকে দূরে থাকা কি সহজ কথা নাকি? প্রতি মুহূর্তে আমরা সংগ্রাম করি মিথ্যার সঙ্গে, আত্মরক্ষা করি শত্রু থেকে। আমরা তেল-নুন-মশলার অধীন, আমরা তো তুচ্ছতাকে অস্বীকার করে এক মুহূর্ত ও বাঁচতে পারি না। তবু তো মানুষ পরিচ্ছন্ন হতে চায়, নিজের সংসারকে সকাল-বিকেল ঝাঁটা দিয়ে আবর্জনা—মুক্ত করতে চায়। এই এতটুকুই মাত্র করতে বলেছিল সতীকে এর বেশী কিছু নয়। সেই সামান্য কথাটুকুও সতী রাখলো না তার! সত্যিই কি সতী আবার মিস্টার ঘোষালের সংস্রবে গেছে? আবার, এত কান্ডের পরেও সেখানে গিয়ে সে আত্মবিক্রয় করছে!

    —তুমি ঠিক জানো অভয়ঙ্কর? আর ইউ ভেরি সিওর?

    দীপঙ্কর উঠলো। বললে—আমি আজ সকাল-সকাল উঠবো অভয়ঙ্কর, আমার একটা কাজ আছে—

    —হঠাৎ মনে পড়লো বুঝি?

    দীপঙ্কর বললে—না, আজ ক’মাস ধরে আই য়্যাম ফীলিং ভেরি ব্যাড। আমার আর কিছু ভালো লাগছে না—

    —তাহলে ছুটি নাও না, টেক লীভ্—

    দীপঙ্কর বললে—ছুটি নিয়েই বা কী করবো। ভাবছি ট্রান্সফার নেব, কলকাতা থেকে ট্র্যান্সফার নিয়ে শিলিগুড়ি কিংবা ময়মনসিং কোথাও গিয়ে চাকরি করবো, আমার এই টেনশন্ আর ভালো লাগছে না অভয়ঙ্কর, আমি রান-ডাউন হয়ে গেছি, আমি হেরে গেছি, আমি লস্ট অভয়ঙ্কর, লাইফের রেসে আমি আজ লাস্ট হর্স—

    হঠাৎ দীপঙ্করের কথা শুনে অভয়ঙ্কর আরো অবাক হয়ে গেল। যত প্রমোশন হয়েছে মিস্টার সেন-এর ততই যেন কেমন মনমরা হয়ে গেছে। আগে যেন একটু নিজের শরীরের দিকে যত্ন দিত, আগে যেন জামা-কাপড়ের দিকেও একটু যত্ন নিত। হয়ত মাদার মারা যাবার পর থেকেই সেন এরকম হয়ে গেছে। আর তো কোনও কারণ নেই। আর কোনও কারণই খুঁজে পেলে না অভয়ঙ্কর।

    তাড়াতাড়ি ক্রফোর্ড সাহেবকে বলে দীপঙ্কর সোজা বাইরে বেরিয়ে গেল।

    অভয়ঙ্কররা জানবে কী করে? অভয়ঙ্কররা বুঝবেই বা কী করে? দীপঙ্করই বা কাউকে বোঝাবে কেমন করে? সকালে ঘুম ভাঙবার পর থেকে শুরু করে রাত্রে ঘুমোতে যাবার সময় পর্যন্ত মানুষের কেবল তো দেবারই পালা চলে প্রতি মুহূর্তে। চাকরকে দিতে হয়, আত্মীয়-স্বজনকে দিতে হয়, ভাই, বোন, বন্ধু, সমাজ, রাষ্ট্র, সকলকে কেবল দিয়েই যেতে হয়। এ দেওয়ায় যেন তৃপ্তি পায় না দীপঙ্কর। এমন কে আছে সংসারে, কিংবা এমন কে আছে এই সংসারের বাইরে, যাকে দিলে সব দান দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে? দীপঙ্কর তো দিতেই চায় কেবল। কিন্তু নেবার মত সেই মহাপ্রাণ কোথায়? তাকে সব কিছু দিতেই চায় কেবল। তাকে সব কিছু দিতে পারলেই যেন কৃতার্থ হতো সে। ধন্য হতো। এতদিন মা ছিল, এতদিন কিরণ ছিল, এতদিন প্রাণমথাবাবু ছিল, তাদের কেউ নেই আর। তারা সবাই দীপঙ্করের দেওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। একজন মাত্র ছিল তখনও। সে সতী! সেই সতীও যেন দীপঙ্করের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেল আজ। দরজার কড়া নাড়তেই রঘু দরজা খুলে দিয়েছে। আজ এত সকাল-সকাল দীপঙ্করকে আসতে দেখে রঘু একটু অবাক হয়ে গেল। দীপঙ্করের সেদিকে নজর ছিল না। সোজা গিয়ে হেলানো চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিলে। রঘু পাখাটা ঘুরিয়ে দিলে জোর করে।

    —দিদিমণি তো নেই!

    দীপঙ্কর যেন সব জেনেও বিশ্বাস করতে চায়নি। অভয়ঙ্কর এত কথা বলবার পরও যেন অবিশ্বাসে মন থেকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল কথাটা। কিন্তু রঘুর মুখ থেকে কথাটা শুনে যেন নতুন করে আবার অবাক হবার পালা এল।

    —কোথায় গেছে?

    —হাইকোর্টে।

    —হাইকোর্টে? কার সঙ্গে গেছে? একলা?

    —একজন ভদ্রলোক এসেছিল, তিনিই ডেকে নিয়ে গেলেন। আমাকেও যেতে বলেছিলেন সঙ্গে, কিন্তু আপনি আসবেন আপিস থেকে, তাই যাবার সময় আমাকে থাকতে বলে গেলেন—

    এরপর আর রঘুর কোনও কাজ নেই। রঘু নিজের কাজে চলে গেল। দীপঙ্করের মনে হলো পৃথিবীর কোথায় এক কোণে যেন একটা ক্ষীণ আশার আশ্রয় ছিল তার, তাও যেন হঠাৎ এক ঝড়ের ফুৎকার রাতারাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। তবু যেন কিছু করবার নেই তার। তবু যেন এখানেই তাকে বসে থাকতে হবে। তবু যেন এমনি করেই প্রতিদিন প্ৰতি মুহূর্ত প্রতীক্ষা করে করে মুহূর্তের পদধ্বনি শুনতে হবে—

    .

    সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সতীরও মনে হচ্ছিল সেও যেন মুহূর্তের পদধ্বনি শুনতে এসেছে এখানে। একদিন জীবনের সব অবলম্বন নিঃশেষ করে দিয়ে যখন নিরাশ্রয়ের শিখরটার ওপরে উঠেছে সে, তখনই যেন সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে ভাগ্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবার হুকুম হলো তার ওপর। এ-এক অদ্ভূত জগৎ। কোনও দিকে চাইবারই সাহস হয়নি তার। মাথা নিচু করে সে যেন তার নিজের ভাগ্যদেবতার শেষ জাজমেন্ট শুনতে এসেছে এই হাইকোর্টে।

    —আপনি তো একদিন রেলের আপিসে চাকরি করতেন মিসেস ঘোষ? একথা কি সত্যি যে সে চাকরি আপনি নিজের ইচ্ছেয় ছেড়ে দিয়েছেন?

    সতী মাথা নিচু করেই ছিল। মাথার ঘোমটাটা আরো একটু নামিয়ে দিলে। তারপর বললে—হ্যাঁ—

    স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল বললে—অনুগ্রহ করে আপনি আর একটু জোরে উত্তর দিলে সুবিধে হয়, আমরা তাহলে একটু স্পষ্ট শুনতে পাই—

    সতী স্পষ্ট গলায় আবার বললে—হ্যাঁ—

    —যদি নিজের ইচ্ছেতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে আসামী মিস্টার ঘোষাল য়্যারেস্ট হবার আগে চাকরি ছাড়লেন না কেন? আপনার স্বামী কি আপত্তি করেছিলেন বলেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন?

    সতী বললে—না—

    সমস্ত কোর্টময় শ্মশানের স্তব্ধতা বিরাজ করছে। আজ এতদিন ধরে কেস চলছে, বহু লোক উদ্‌দ্গ্রীব হয়ে আছে ফলাফল শুনবে বলে। আজকের সাক্ষীর ওপরে মিস্টার ঘোষালের ভাগ্য নির্ভর করছে। সার সার বেঞ্চের ওপর সভ্য-শিক্ষিত কৌতূহলী মানুষের ভিড়। কৌতূহল মিস্টার ঘোষালের জন্যে নয়, কৌতূহল অন্য করণে। এত বড় নৃশংস মার্ডার যে করেছে তাকে দেখবে সবাই। প্রতিটি সাক্ষীর জবানবন্দীর সঙ্গে আসামীর মুখের হাবভাব, চোখের চাউনি সমস্ত প্রতিক্রিয়া দেখবে। মিলিয়ে নেবে। খুন চোখের সামনে দেখবার সৌভাগ্য সকলের হয় না, কিন্তু কোর্টের কল্যাণে হত্যাকারীকে দেখবার সৌভাগ্য সকলের মেলে। আসলে দীপঙ্করের মনে হয়, সকলেই মার্ডার করতে চায়। সকলেই খুন করতে চায়। শিক্ষা, সংস্কার খুনের বাধা হয়ে দাঁড়ায় পদে পদে, তাই খুন করে না কেউ, তাই হত্যার খবর, হত্যাকারী আর ডিটেকটিভ উপন্যাসের এত আদর মানুষের সমাজে। নইলে কেন মানুষ নিজের কাজ ফেলে স্বাস্থ্য নষ্ট করে খুনের মামলা শোনে কোর্টে গিয়ে দিনের পর দিন!

    —আপনি চাকরি করতেন বলে আপনার শাশুড়ী কি কোনওদিন আপত্তি করেছিলেন?

    —হ্যাঁ—

    —আপনি তো স্ত্রী হিসেবে খুব সুখী, হ্যাঁ কি না বলুন?

    সতী বললে-না—

    মিস্টার ঘোষালের এটর্নী বিশেষ করে শিখিয়েছিল সতীকে যে স্ত্রী-হিসেবে তার বিবাহিত জীবন সুখী এইটেই প্রমাণ করতে চাইবে স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল।

    —আপনার স্বামীর অগাধ টাকা, আপনার স্বামীর অপরূপ স্বাস্থ্য, কলকাতার এক নামকরা ধনী-বংশে আপনার বিয়ে হয়েছিল-একথা কি সত্যি?

    সতী বললে—না—আমার শাশুড়ীর সমস্ত টাকা লোকসান হয়ে গেছে!

    —কিন্তু নষ্ট তো আগে হয়নি, তখন কেন চাকরি করতে গিয়েছিলেন? মিস্টার ঘোষালই কি আপনার চাকরি করে দিয়েছিলেন?

    সতী বললে—হ্যাঁ-আমার নিজের টাকা উপার্জন করবার ইচ্ছে হয়েছিল।

    —কিন্তু আপনি চাকরি করার পরও তো আপনার স্বামী আপনার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছেন। আপনার স্বামী একজন দেবতুল্য মানুষ,–

    সতী মাথা তুললো। সিংহের মতন যেন কেশর নাড়া দিয়ে নিলে। বললে—না—দেবতুল্য মানুষ হলে আমি প্যালেস-কোর্টে ফ্ল্যাট ভাড়া করতুম না—

    স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল ভদ্রভাবে সবিনয়ে বললে—মিসেস ঘোষ, আমি যে প্রশ্নটুকু করবো আপনি শুধু সেই প্রশ্নেরই জবাব দেবেন, তার বেশী দেবার দরকার নেই—। এখন বলুন, আপনার এত সুখের মধ্যেও কেন আপনি এই জঘন্য চিঠি লিখতে গেলেন? মিস্টার ঘোষালকে বাঁচাবার জন্যে, সত্যি কি না বলুন তো?

    সতী যেন একটু ঘাড়বে গেল। তারপর ব্যারিস্টার দত্তর মুখের দিকে চাইলে একবার। সামনে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মিস্টার ঘোষালের দিকেও চাইলে।

    —বলুন, বলুন, যা সত্যি ঘটেছিল তাই-ই বলুন? কেন এমন জঘন্য অদৰ্য চিঠি লিখলেন? আপনি অন্যের বিবাহিতা সতীসাধ্বী স্ত্রী হয়ে, আপনার অমন স্বাস্থ্যবান সুন্দর স্বামী থাকতে, আপনার নিজের মায়ের মত অমন শাশুড়ী থাকতে, কেন লুকিয়ে লুকিয়ে এমন চিঠি লিখেলেন? আপনি কি জানতেন না যে এতে আপনার নামে মিথ্যে কলঙ্ক রটতে পারে? আপনার সংসারে আগুন জ্বলে উঠতে পারে? আপনি মিস্টার ঘোষালের প্ররোচনায় ব্যাক ডেট দিয়ে নিজের ক্ষতি করে এই চিঠি লিখলেন? জানেন না যে এতে নিজের হাতে নিজের ডেথ-সেনটেন্স লিখে দেওয়া হলো? আপনি এমন শিক্ষিতা মহিলা হয়েও এই সহজ কথাটা একবার বুঝতে পারলেন না?

    হঠাৎ কী যেন একটা গোলমাল হলো।

    ব্যারিস্টার দত্ত কী যেন বললেন জজকে। স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের সঙ্গে ব্যারিস্টার দত্তর কী যেন নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলতে লাগলো অনেকক্ষণ ধরে। সতীর চোখের সামনে তখন সমস্ত হাইকোর্টটা যেন ঘুরছে। মনে হলো সে পড়ে যাবে। চারিদিকে গুজ্- গুজ্ ফিস্-ফিস শব্দ। সমস্ত এজলাস যেন গম্ গম্ করছে এতগুলো মানুষের কৌতূহলে। হঠাৎ সব থেমে গেল। হঠাৎ আবার প্রশ্নে ঝড় বয়ে যেতে লাগলো।

    —আপনি জানেন যে, এই চিঠি যদি আপনি নিজের হাতের লেখা বলে স্বীকার করেন, তাহলে সমস্ত কলকাতার নারী-সমাজে আপনার নামে ঢি ঢি পড়ে যাবে? আপনার নামে কলঙ্ক রটবে?

    সতী বললে-আমি জানি।

    —এ চিঠি কি আপনার মত একজন সম্ভ্রান্ত মহিলার দ্বারা লেখা সম্ভব? এও জজকে বিশ্বাস করতে বলেন?

    সতী বললে—হ্যাঁ, সম্ভব!

    —আপনি জানেন যে যদি আসামী এই মামলায় দোষী প্রমাণিত না হন, তাহলে বাঙলা দেশের ঘরে-ঘরে একদিন এই পাপ সংক্রামিত হবে? খুনীর যদি শাস্তি না হয়, তাহলে সমাজে খুনের সংখ্যা বেড়ে যাবে? সে-অধঃপতন থেকে বাঙলা দেশের কোনও বাঙালীই আর রেহাই পারে না? আরো জানেন কি যে আপনিও তার অংশভাগী হবেন?

    সতী মাথা নিচু করে ঘোমটা টেনে দিলে।

    —এ-সব জেনেও আপনি স্বীকার করছেন এ আপনার নিজের হাতের লেখা চিঠি? তবে কি আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হবো যে, বাঙলার নারী-সমাজ থেকে সতী নারীর সম্পূর্ণ অন্তর্ধান হয়েছে? এতদিন ধরে এত মহাপুরুষ যা উপদেশ দিয়ে গেছেন,–বেদ উপনিষদ, মহাভারত, শ্রীরামকৃষ্ণদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, কেশবচন্দ্র, বিদ্যাসাগর- সকলের সব শিক্ষা, সব উপদেশ কেবল ভস্মে ঘি ঢালা হয়েছে? বাঙলার নারী-সমাজের ওপর তার কোনও প্রতিক্রিয়াই হয়নি? মানুষ এখনও সেই আদিম অসভ্য মানুষই রয়েছে, তার এতটুকু একতিলও উন্নতি হয়নি? তাহলে কেন নারীকে আমরা মায়ের জাত বলে এত শ্রদ্ধা করি? কেন মাতৃভূমিকে আমরা এত সম্মান দিই? কেন বঙ্কিমচন্দ্ৰ সেই মাকেই উদ্দেশ্য করে গান গেয়েছিলেন— বন্দেমাতরম্—

    সতীর মাথার মধ্যে সব যেন তখন তাল-গোল পাকিয়ে গেছে। স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের পোশাক পরিচ্ছদ, স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের বক্তৃতার ভঙ্গি, হাতের কাজগটাকে পাকিয়ে গোল করে দুলিয়ে দুলিয়ে সতীর দিকে চ্যালেঞ্জ করা—এ যেন অসহ্য হয়ে উঠলো। সতীর শেষকালের দিকে আর কিছুই কানে গেল না। নিন্দে, কলঙ্ক, খ্যাতি, অখ্যাতি, সতীত্ব, অসতীত্ব সমস্ত শব্দগুলো যেন মাথার মধ্যে ঢুকে এক অশরীরী আন্দোলন শুরু করে দিলে। সতীর মনে হলো যেন এবার আর তার শাশুড়ী নয়, এবার আর প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের বাড়ির ভেতরের উঠোনে নয়, এবার যেন কলকাতার চৌমাথার ওপর দাঁড়িয়ে সভ্য-শিক্ষিত মানুষের সার একের পর এক তার ওপর রেপ করছে। আর সে অসাড় অচৈতন্য হয়ে পড়ে আছে সকলের সামনে বিবস্ত্র হয়ে—!

    শুধু সামান্য একটা-দুটো ক্ষীণ শব্দ যেন তার কানে ভেসে এল দূর থেকে। কেউ বলছে-বরফ, কেউ বলছে-হাওয়া, কেউ বলছে—

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }