Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৮২

    ৮২

    সে উনিশ-শো তেতাল্লিশের কলকাতা। কোথায় কত দূরে যুদ্ধ হচ্ছে ঠিক নেই, কিন্তু এখানে এই ইন্ডিয়ায় তখন তার ছোঁয়াচ লেগেছে বড় স্পষ্ট হয়ে। চাল-চিনির জন্যে সকাল থেকে লাইন দিতে হয়। কেরোসিনের জন্যে ধর্না দিতে হয় দোকানে-দোকানে। পাঁচ সের কয়লা পেতে গেলে খোসামোদ করতে হয় দোকানদারকে। কাশী কত দিন ফিরে এসেছে খালি হাতে। হাতে পয়সা নিয়েও কোনও কাজ হয়নি।

    এ-সব খবর দীপঙ্কর রাখতো বৈকি। সবই জানতো সে। কিন্তু কোথায় এর প্রতিকার বুঝতে পারতো না। জীবনের কত সমস্যার প্রতিকার করবে সে? নয়নরঞ্জিনী দাসী সব টাকা জমা দিয়ে এসেছেন কোর্টে গিয়ে। এবার মামলা চলছে বাদীর সঙ্গে। দিনের পর দিন মামলা চলছে। যত দিন পড়ছে তত টাকা নিচ্ছে উকীল। কত দিনে কত বছরে যে সে মামলার ফয়শালা হবে কে জানে? তারপর আছে কিরণ। কিরণের কোনও খবরই পায় নি কতদিন। কতদিন কত জায়গায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে এসেছে। কেউ বলতে পারে না। প্রাণমথবাবুও কোথায় কোন্ জেলে আছে তাও জানার উপায় নেই। প্রত্যেকদিন গড়িয়াহাটের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসে। লক্ষ্মীদি যেন দিনের পর দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে। কিছু আর খায় না তখন।

    কিন্তু সেদিন বড় অবস্থা খারাপ হয়ে গেল লক্ষ্মীদির। সন্ধ্যে থেকে কারো আর ফুরসৎ নেই। লক্ষ্মীদি যেন আর স্থির থাকতে পারছে না। সতী বললে—দাতারবাবুর কোনও খবর এল?

    দীপঙ্কর বললে— বোধহয় ঠিকানা বদলেছেন তাঁরা—

    —কিন্তু লক্ষ্মীদি এখানে আছে কিনা সে খবরটাও তো তারা একবার নেবে? কী রকম মানুষ তারা?

    দীপঙ্কর বললে—এখানে চলে এসেছে তা-ই বা তারা কী করে জানবে?

    —জানুক আর না-জানুক, তোমাকেও তো একবার একটা চিঠি লিখতে পারতো!

    কে জানে! এত লোক থাকতে দীপঙ্করকে লিখবে কী করতে! দীপঙ্কর লক্ষ্মীদির কে? কিন্তু সতী তো রয়েছে! এ-বাড়িতে সতী রয়েছে, এটা তো জানে দাতারবাবু! সতীর কাছেও তো একটা চিঠি লিখতে পারতো যে লক্ষ্মীদি কলকাতায় এসেছে কি না!

    দীপঙ্কর আরো কয়েকটা টেলিগ্রাম করেছিল। তারও কোনও উত্তর আসেনি। প্রতিদিন অনেক রাত পর্যন্ত ও-বাড়িতে কাটিয়ে শেষকালে চলে আসতো দীপঙ্কর। পা যেন আর চলতে চাইতো না। মনে হতো ওখানে থাকলেই যেন ভালো হতো। ডাক্তার এসে লক্ষ্মীদিকে দেখে যেত। কিন্তু কিছুই ধরতে পারতো না তারা।

    সেদিন ডাক্তারবাবুকে দীপঙ্কর জিজ্ঞেস করলে—কি করবো বলতে পারেন?

    ডাক্তারবাবু নতুন দেখতে এসেছিলেন। বললেন—এরকম পেসেন্ট আগে আমি কখনও দেখৌন, তবে খুব নার্ভাস শক্ পেয়েছেন মনে হচ্ছে—খুব সাবধানে থাকা দরকার, পাগল হয়ে যেতে পারে—

    —কিন্তু একটা কিছু ওষুধ দিন, যাতে অন্তত ঘুমোতে পারে পেসেন্ট—

    ডাক্তারবাবুর ঘুমের ওষুধেই যেন শেষকালে একটু ঝিমিয়ে পড়লো লক্ষ্মীদি। দীপঙ্কর বাইরের চেয়ারে তখনও চুপ করে বসেছিল। সতী বাইরে আসতেই হঠাৎ দেখে ফেললে। বললে—একী এখনও যাওনি তুমি?

    দীপঙ্কর বললে—এই অবস্থায় তোমাকে একলা ফেলে যাই কী করে?

    সতী বললে—কিন্তু কাল তো আপিস আছে তোমার। রাত্রে ঘুমোবে না?

    দীপঙ্কর বললে—একটা রাত না ঘুমোলে আর কী হয়?

    —কিন্তু এখানেই এমনি করে বসে থাকবে তা বলে!

    —বসে থাকবো না তো কী করবো?

    সতী বললে-না-না, পাগলামি করো না, বাড়ি যাও—যাও, যাও, আমাদের জন্যে কি তুমিও বাড়িঘর ত্যাগ করবে নাকি?

    দীপঙ্কর বললে—কিন্তু হঠাৎ যদি কোনও দরকার হয়, তখন?

    —তুমি যদি না-থাকতে, তোমার সঙ্গে যদি পরিচয়ই না হতো তাহলেই বা কী করতুম? যাদের দীপঙ্কর নেই, তাদের কি চলছে না? তারা কি বেঁচে নেই? সব মরে গেছে?

    দীপঙ্কর সতীর মুখের দিকে সোজাসুজি চেয়ে দেখলে। এতদিন সতীর জন্যে এত করেছে। এতদিন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর নিজের সমস্ত কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে সতীর সুখের কথা ভাবার পর সতীর মুখ থেকেই এই কথা শুনতে হচ্ছে! সতীর হয়ে যে-টাকা নয়নরঞ্জনী দাসীকে দীপঙ্কর দিয়েছে, সে-টাকা সারা জীবন ধরেই হয়ত শোধ করতে হবে তাকে। মাইনেটা হাতে পেয়ে আগে দিয়ে আসতে হবে মিস্টার হোসেনভাইকে। তারপর তার মুখের দিকেই চেয়ে আছে তিনটি প্রাণী। তাদের কথাও এতদিন দীপঙ্কর একমুহূর্তের জন্যে ভাবেনি। আর তারই প্রতিদান হিসেবে সতী এই কথা বললে তাকে। দীপঙ্কর যেন বিশ্বাস করতে পারলে না নিজের কানকেও।

    দীপঙ্কর সতীর মুখের দিকে চেয়ে বললে—তুমি আমাকে চলেই যেতে বলছো সত্যি-সত্যি?

    —হ্যাঁ যাও, লক্ষ্মীদির যা হবার হবে, আমারও একদিন যা হবার হবে, তা বলে তুমি তাই ভেবে-ভেবে নিজের শরীর খারাপ করবে নাকি! আমার কপালে যদি শ্বশুর-বাড়ির সুখ না-থাকে, লক্ষ্মীদির কপালে যদি কষ্ট থাকে তাহলে তুমি কী করবে? তুমি তো সব রকম চেষ্টা করে দেখলে?

    দীপঙ্কর তখনও চুপ করে রইল। সতী বলতে লাগলো—একদিন ছোটবেলায় দুই বোনে এসেছিলাম কলকাতায়। তখন অনেক সাধ ছিল অনেক স্বপ্ন ছিল। তারপর কত কী ঘটলো, কত জিনিস ওলোটপালোট হয়ে গেল। আমার বিয়ে হলো, আমি আবার ছিটকে কোথায় চলে এলুম, লক্ষ্মীদি কত কান্ড করে কোথায় চলে গিয়েছিল, সে-ও ফিরে এল—সব দেখে-শুনে ভেবে-চিন্তে দেখেছি—কিন্তু এখন থেকে ঠিক করেছি আর ভাবব না, মানুষ ভেবে-চিন্তে সব কিছু ঠিক করলেও, একজন বুঝি আড়াল থেকে সব কিছু উল্টে দেয়—

    দীপঙ্কর সতীর কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। সতী এত কথাও ভাবে তাহলে?

    —ভেবেছিলাম স্বামী শাশুড়ীর ওপর প্রতিশোধ নেবার জন্যে পৃথিবীতে যত কিছু অন্যায় আছে সব করে দেখবো, যা প্রাণে চায় সব করবো, কারোর কথা মানবো না। সবই তো করলুম। তুমি কত বারণ করেছিলে, তবু আমি তা শুনিনি। কিন্তু লক্ষ্মীদিকে দেখে আজ আমার আর কোনও ক্ষোভ নেই। আমার কোনও দুঃখ নেই। দু’জনে দু’পথে গিয়েছিলুম, দু’জনেরই এক পরিণতি হয়েছে—! এর পরও তুমি আমাদের ভালো চাইছো? আমাদের ভালো করবার ক্ষমতা তোমার আছে?

    দীপঙ্কর বললে—কিন্তু সনাতনবাবু কেন হতাশ হতে বারণ করেন তাহলে?

    সতী বললে—ওঁর কথা ছেড়ে দাও, মানুষের জীবনটা তো পুঁথি নয়, মানুষের জীবন ওঁর পুঁথির নিয়ম-কানুন মেনে তো চলে না! তুমি এখন যাও, তুমি এখানে এলেও যা হবে এখানে না এলেও তাই হবে। তুমি না এলেও আমাদের দুই বোনের কোনও ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না—

    দীপঙ্কর তবু যেন কথাটার মানে বুঝতে পারলে না। বললে—সত্যিই কোনও ক্ষতি- বৃদ্ধি হবে না তোমাদের?

    —কীসের ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে? আসলে যারা আপনার লোক তারা চলে যাবার পরও যখন কোনও ক্ষতি হলো না, তখণ তুমি মনে করছো তুমি চলে গেলে আমাদের মস্ত ক্ষতি হবে? তুমি তো পর ছাড়া কিছু নও!

    তারপর সতী দীপঙ্করের দুটো হাত ধরলে। বললে-বললে তুমি কষ্ট পাবে। কিন্তু তোমার ভালোর জন্যেই বলছি, আমাদের সঙ্গে তুমি আর কোনও সম্পর্ক রেখো না। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে তোমার কপালেও আমাদের মতন দুর্দশা আছে। যাও—

    .

    বলতে গেলে দীপঙ্করকে একরকম জোর করেই সতী রাস্তায় বার করে দিলে। কিন্তু সম্পর্ক রাখবো না বললেই কি সম্পর্ক মুছে ফেলা যায়? সম্পর্কটা কি শুধু বাইরের জিনিস? জামা-কাজড়ের মত একেবারে তুচ্ছ সামগ্ৰী? ফেলে দিতে চাইলেই কি ফেলা যায়?

    রাস্তায় বেরিয়েই সেদিন দীপঙ্কর ঠিক করেছিল আর সে আসবে না। অন্ততঃ এত ঘন-ঘন, এত সকাল-বিকেল আর আসবে না। কেন সে আসতে যাবে এখানে? কীসের দায়? লক্ষ্মীদির নিজের টাকা আছে, সতীরও নিজের টাকা আছে। টাকার যখন ভাবনা নেই, তখন যেমন করে হোক দু’জনের চলে যাবেই। নয়নরঞ্জিনী দাসী টাকা পেয়ে গেছেন। এর পর তাঁকে আর রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে না। মাঝখান থেকে দীপঙ্কর কেন জঞ্জাল হয়ে সকলের মাঝে বাধার সৃষ্টি করবে?

    সেদিন ক্রফোর্ড সাহেব ডেকে পাঠালেন। বললেন—বোস সেন, টেক ইওর সীট—

    দীপঙ্কর বসলো। সাহেব বললে–সেন, আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই; তুমি ভুল বুঝো না—

    দীপঙ্কর বললে—বলুন —

    সাহেব বললে—রেলওয়েতে আমার চাকরি হয়ে গেল আজ তিরিশ বছর, আমি অনেক রকম লোক দেখলাম, অনেক ইন্ডিয়ান দেখলাম, আই য়্যাম্ এ ম্যান্ অব্ ফিউ ওয়ার্ডস্—কিন্তু আমি তোমাকেও দেখলাম!

    সাহেব কী কথা বলতে চায় বুঝতে পারলে না দীপঙ্কর।

    —নাউ, আমি জানি না কার এ কাজ, কোত্থেকে দিল্লি বোর্ড এ খবর পেলে, কিন্তু আমাকে তুমি সত্যিই বলো তো, তোমার কি টাকার দরকার খুব?

    দীপঙ্কর হতবাক হয়ে চেয়ে রইল। টাকার দরকার ছিল বটে একদিন। কিন্তু সে দরকার তো তার মিটে গেছে!

    জিজ্ঞেস করলে—এ-কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন স্যার?

    সাহেব বললে—না, দিল্লি থেকে একটা কফিডেনশিয়াল চিঠি এসেছে জেনারেল ম্যানেজারের নামে, তোমাকে ট্রানস্ফার করে দিতে বলেছে এখান থেকে। ডিস্ট্রিক্টে—

    —ট্রানসফার?

    সাহেব বললে—ইয়েস, ট্র্যানসফার!

    —কিন্তু কেন স্যার? আমি কী দোষ করেছি?

    সাহেব বললে—জানি না। সে লেটার আমি দেখিনি। কিন্তু ঘোষালের কেএর পরে আর ও-পোস্টে কোনও জুনিয়ার লোককে রাখা যায় না। বোর্ড থেকে মিস্টার ভার্মা ওখানে আসবে। ইউ আর ভেরি জুনিয়ার—

    দীপাঙ্কর হতবাক হয়ে গেল কথাটা শুনে। কিছুক্ষণ কথাই বলতে পারলে না। তারপর হঠাৎ জিজ্ঞেস করলে—আমার এগেস্টে কোনও কমপ্লেন্ আছে?

    —আমি যতদূর জানি নেই। তবে সন্দেহ আছে। য়্যাস্পারশন্ আছে। তোমারও নাকি অনেক অভাব। তোমারও নাকি অনেক টাকার দরকার হয় মাঝে-মাঝে। তা কোথায় তুমি যেতে চাও? শিলিগুড়ি যাবে? শিলিগুড়িতে একটা ভেকেন্সি আছে—

    দীপঙ্কর পাথরের মত চুপ করে রইল। সমস্ত অন্তরাত্মা তার যেন বিদ্রোহ করতে চাইলো। কিন্তু তখনি নিজেকে শান্ত করে নিলে সে। আশ্চর্য! একদিন তো চাকরি ছেড়ে দিতেই চেয়েছিল সে। একদিন তো চাকরি থেকে ঘৃণায় দূরে চলে যেতেই চেয়েছিল সে। তাহলে কেন সে উত্তেজিত হয়ে উঠতে যাচ্ছে। হঠাৎ মনের সামনে প্রাণমথবাবুর মুখটা ভেবে উঠলো তার। চোখের সামনে অমলবাবুর মুখটা ভেসে উঠলো। কিরণের মুখটাও ভেসে উঠলো। মা’র মুখটা ভেবে উঠলো। কত কষ্টে নৃপেনবাবুকে ধরে মা তেত্রিশ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরিটা জোগাড় করে দিয়েছিল তাকে। তারপর ধাপে-ধাপে কত বড় হয়েছে। কত মাইনে বেড়েছে তার। দশজনের চোখে কত সম্মান সে পায় এই চাকরিটার জন্যে। আর তা ছাড়া কার জন্যেই বা এই চাকরি করবে সে? সতী, লক্ষ্মীদি, নয়ন- রঞ্জিনী, গাঙ্গুলীবাবু, সবাই চলে গেছে। কিরণও হয় দু’দিন পরে পৃথিবী থেকে চলে যাবে। একটি মাত্র বন্ধন—তার ধার। মিস্টার হোসেনভাই-এর কাছে ধার। কোনও স‍ই নেই, কোনও রসিদ নেই, কোনও ভাউচার নেই। তবু ধার তো ধারই। সে ধার শোধ করতে হলে চাকরি তাকে করতে হবেই। তার চাকরি যদি করতে হয় তো এই কলকাতা থেকে দূরে চলে যাওয়াই ভালো। এমন এক জায়গায় যেখানে প্রতিদিনের এই গ্লানি প্রতি মুহূর্তের এই অপমৃত্যু তাকে নিজের চোখে দেখতে হবে না। সেখান থেকে প্রতি মাসে সে টাকা পাঠিয়ে দেবে মিস্টার হোসেনভাইকে। প্রতি মাসের শৃঙ্খলে সে আবদ্ধ হয়ে থাকবে সতীর কাছে। এই-ই তার বন্ধন। এই-ই তার মুক্তি! এমনি করে সতীর কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েই বন্ধনের মধ্যে মুক্তির স্বাদ খুঁজে পাবে।

    দীপঙ্কর হঠাৎ দাঁড়িয়ে উঠলো। দাঁড়িয়ে উঠে বললে-অম্লাইট্‌ স্যার, থ্যাঙ্কিউ—

    বলে আর দাঁড়াল না সেখানে। একেবারে সোজা নিজের ঘরে চলে এল। তারপর কিছুক্ষণ কোনও কাজ করতে পারলে না। সমস্ত মন সমস্ত মানসিকতা যেন তার বিকল হয়ে গেছে। কখন ঘন্টায় ঘন্টায় ঘড়ি বেজে গেছে, কখন বিকেল হয়েছে, কখন সন্ধ্যে হয়েছে কিছুই খেয়াল ছিল না।

    হঠাৎ মধু এসে ঢুকলো। একটা চিঠি এনে সামনে রাখলে। আপিসের নয়। দীপঙ্করের নামে।

    কেমন অবাক হয়ে গেল। তাকে তার নামে আপিসে কে চিঠি দেবে? ওপরে দিল্লির পোস্ট-আপিসের ছাপ। চিঠিখানা হাতে তুলে নিয়ে বার কয়েক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখলে। তারপর ছিঁড়ে ফেললে খামের মুখটা।

    আশ্চর্য! দাতারবাবুর চিঠি! দাতারবাবু লিখেছে দিল্লি থেকে। দাতারবাবুর নতুন ঠিকানা করলবাগ। সমস্ত চিঠিখানা ইংরিজীতে লেখা। দীপঙ্কর দম বন্ধ করে পড়তে লাগলো—

    ‘ডিয়ার দীপুবাবু

    আমি আজ ভীষণ বিপদাপন্ন। অনন্যোপায় হয়ে অন্য ঠিকানা জানি না বরে তোমার আপিসের ঠিকানায় এই চিঠি লিখছি। জানি না এ চিঠি তোমার হাতে পৌঁছোবে কি না। তোমার লক্ষ্মীদি তোমাদের কলকাতায় গেছে কি না বুঝতে পারছি না। হঠাৎ আমাদের বাড়ি ছেড়ে কাউকে না বলে কোথায় চলে গেছে কেউ জানে না। আজ একমাস ধরে অনেক জায়গায় চিঠি দিয়েছি, অনেক জায়গায় খোঁজও করেছি। শেষের দিকে তোমার লক্ষ্মীদির মাথাটাও একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবু আমরা সাবধানে রাখতাম। কিন্তু হঠাৎ একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। তুমি বোধহয় এখানকার খবর জানো না। আমি যে এখনও বেঁচে আছি এ বোধহয় আর এক পরম আশ্চর্য ঘটনা। তোমার লক্ষ্মীদি পালিয়ে গিয়ে হয়ত বেঁচেই গেছে। আমি কিন্তু পালাতে পারিনি। আমাকে এখানেই থাকতে হবে। আমার পালাবার উপায় নেই। আমার ছেলে আজ মানুষ খুন করার অপরাধে জেলে বন্দী হয়ে আছে। বাপ হয়ে তার মামলার তদ্‌বির করতে হচ্ছে আমাকেই…..

    দীপঙ্করের চোখের সামনে চিঠির ছোট-ছোট অরগুলো যেন ঝাপসা হয়ে গেল এক নিমেষে। আরো আলোর তলায় নিয়ে এল চিঠিখানা।

    সমস্ত শরীরে তখন অবধারিত রোমাঞ্চ শুরু হয়ে গেছে দীপঙ্করের। চোখের সামনে দীপঙ্কর যেন সমস্ত ঘটনাটা স্পষ্ট দেখতে পেলে। যেন দিল্লির একটা বাড়িতে তখন নাটকের শেষ অঙ্ক শুরু হয়ে গেছে। নিস্তব্ধ রাত। কনট্ প্লেসের একটা বাড়িতে টিপি – টিপি পায়ে এ ঘর থেকে সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়াল একজন বিংশ শতাব্দীর মানুষ। সমস্ত দিল্লি তখন ঘুমিয়ে পড়েছে অকাতরে। টাকার দিল্লি, ব্যাভিচারের দিল্লি, মোগল- সম্রাটদের দিল্লি, ভাইসরয়দের দিল্লি যেন অসাড় হয়ে পড়ে আছে চোখ বুজে। যা খুশী পাপ করো তোমরা, আমরা চোখ বুজে থাকবো। আমাদের অন্য অনেক ভাবনা আছে! আমরা কেউ কিছু দেখতে যাবো না। ঘরের দরজা বন্ধ করে তোমরা এডাল্ট্রি করো, রেপ্ করো, যা-কিছু করো, তবু আমরা চোখ বুজে থাকবো। আমরা শুধু যুদ্ধে জিততে চাই। আমরা শুধু চাই ভিক্টরি। আর কিছু চাই না।

    বারান্দা পেরিয়ে মানুষটা টিপি টিপি এগিয়ে এল আর একটা ঘরের সামনে। দরজাটা ভেজানো। মানুষটা ভেজানো দরজার সামনে গিয়ে কী যেন দ্বিধা করলে একবার।

    তারপর ঘরের ভেতর ঢুকেই হঠাৎ আচমকা দুম্-দুম্ আওয়াজ করলে দু’বার। একটা মেয়েলি গলার চিৎকার। আলো জ্বলে উঠলো। সেই চিৎকারে সমস্ত দিল্লি আঁকে উঠলো আর্তস্বরে। ভাইসরয়ের দিল্লি কেঁপে উঠলো, চমকে উঠলো।

    কিন্তু লক্ষ্মীদি তখন আর চুপ করে থাকতে পারে নি। সমস্ত বাড়ি কাঁপিয়ে সমস্ত পাড়া কাঁপিয়ে আর্তনাদ করে উঠেছে গলা ছেড়ে। সে শব্দে ওঘর থেকে ঘুম ভেঙে উঠেছে দাতারবাবু। চাকর-বাকর-ঝি-খানসামা-বাবুর্চি-আর্দালী-সবাই জেগে উঠেছে। হুঁশিয়ার। হুঁশিয়ার সবাই। আসামী পালিয়ে যাবে।

    কিন্তু যে আসামী সে পালাবার এতটুকু চেষ্টা করেনি। রিভলবারটা হাতে নিয়ে চুপ করে স্থাণুর মত দাঁড়িয়ে আছে তখনও। লোকজন সবাই এসে ঘরে ভিড় করেছে। দাতারবাবুও এসে হতবাক হয়ে গেছে। লক্ষ্মীদিও তখন যেন আসামীর মুখের দিকে চেয়ে কাঁদতে ভুলে গেছে।

    শুধু একজনই উঠলো না আর। উঠতে পারলো না। লক্ষ্মীদি আর সুধাংশু একই ঘরে একই বিছানায় শুয়ে ছিল। গুলী দুটো গিয়ে সুধাংশুর বুকেই লেগেছিল টিপ্ করে। সুধাংশু বিছানাটার ওপর রক্তের সমুদ্রে যেন ভাসছে তখন। ভাসছে আর অসাড় হয়ে পড়ে আছে। মিলিটারি সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের ডাইরেক্টর তখন সমস্ত সাপ্লাই-এর উর্ধ্বে চলে গেছে—

    দাতারবাবুর মুখ দিয়ে শুধু একটা কথা বেরিয়েছিল—মানস, তুমি—

    তারপরের ইতিহাস বড় সংক্ষিপ্ত। তারপরের ইতিহাস বড় মর্মান্তিক। পুলিস, দারোগা, কোর্ট, কাছারি, একোয়ারী সে তুচ্ছ জিনিস। কিন্তু তুচ্ছ জিনিস হলেও বাপ হয়ে তার তদ্বির তাকে করতেই হচ্ছে। চিঠির শেষে দাতারবাবু লিখেছে—’যদি তোমার লক্ষ্মীদি তোমার কাছেই গিয়ে থাকে তো তাকে একটু দেখবে। তার আঘাতটাই বড় মর্মান্তিক। এই ছেলের জন্যেই তোমার লক্ষ্মীদি তার সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়েছিল একদিন, এই ছেলের জন্যেই আমি একদিন সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করেছিলাম। কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা বোধহয় তা নয়। তবু লক্ষ্মীদি যদি তোমাদের কাছে আছে জানতে পারি তো কিছুটা নিশ্চিন্ত হবো। আমাকেও একটা খবর দিও—

    ইতি তোমার দাতারবাবু

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }