Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প950 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২.৮৬

    ৮৬

    ন’দিদি যেন কোত্থেকে খোঁজ পেয়েছিল। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ সেদিন এসে হাজির। সেইদিনই সন্ধ্যোবেলা। সনাতনবাবু তখন গেছেন বউকে আনতে। নয়নরঞ্জিনী শম্ভুকে ডেকে বলে দিয়েছিলেন—বলি, খুব যে মাইনে মাইনে করেছিলি সবাই এবার সব টাকা বুঝে পেয়েছিস্ তো! সব টাকা গুনে নিয়েছিস্ তো?

    শম্ভু মাথা নিচু করে বললে-আজ্ঞে, হ্যাঁ মা-মণি!

    —খুব যে তখন পাড়ায়-পাড়ায় বলে বেড়াচ্ছিলি যে ঘোষ-বাড়ি এবার নীলেম হবে, খুব যে তোরা সবাই পাড়ায়-পাড়ায় চাকরি খুঁজতে বেরিয়েছিলি! দেখি কে তোদের কত কালিয়া-পোলোয়া খেতে দেয়। একবার অন্য বাড়িতে কাজ করে দ্যাখ্ না কেমন সুখটা সেখানে—

    শম্ভু প্রতিবাদ করলে—আজ্ঞে, মা-মণি, আমি তো বলিনি—আমি আপনার পা-ছুঁয়ে দিব্যি গালতে পারি —

    মা-মণি ধমকে উঠলেন—আলবাৎ বলেছিলিস্। তোরা ভাবিস্ আমি কিছু খবর পাই না, ভাবিস্ বুড়ী মাগী কালা হয়ে গেছে কানে, কিন্তু আমার কাছে সব খবর আসে—

    শম্ভু তবু বললে-আজ্ঞে, মা-কালীর দিব্যি বলছি, আমি অমন কথা কখনও বলিনি—

    —তা হলে ডাক্ বাতাসীর মা’কে, ডাক্ ভূতির মা’কে, ডাক্ কৈলাসকে, কে কাকে কী বলেছে সব আমার কানে এসেছে। ওরে, এখনও আমি মরিনি! নেমখারামের জাত তোরা, আমার খেয়ে, আমার পরে আমারই গলায় পা দিয়ে আমাকে থ্যালাবি? ডাক্‌ ওদের সবাইকে, আমি দেখি তাদের কত কেরামতি—

    ঝি-চাকর-ঠাকুর মহলে ততদিনে রটে গেছে খবরটা। পাড়াতেও খবর রটে গেছে ঘোষ-বাড়ির গিন্নী আবার চাকর ঝি-দের বকেয়া মাইনে মিটিয়ে দিয়েছে। পুরোন সরকারবাবুরও বকেয়া মাইনে মিটিয়ে দেওয়া হয়ে গিয়েছে, আবার সে এসে কাজ-কর্ম শুরু করে দিয়েছে আবার বাড়িতে মিস্ত্রী লেগেছে। চুন-কাম হচ্ছে দেয়ালে। বাইরে বাঁশের ভারা বাঁধা হয়েছে। অর্থাৎ আবার অবস্থা ফিরে গেছে ঘোষ-বাড়ির। বকেয়া মাইনে হাঁতে পেয়ে ঘোষ-বাড়ির চাকর-বাকররাও আবার দেশে টাকা পাঠিয়েছে।

    ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সবাই এল মা-মণির সামনে। নয়নরঞ্জিনী বললেন—কী গো বাতাসীর মা, তোমাকেই বলি, তুমিই তো দলের পান্ডা, যত দল তুমিই পাকিয়েছ—

    বাতাসীর মা’কে আর বেশি বলতে হলো না। সে হাউ-হাউ করে কেঁদে উঠলো। বললে—আমাকেই তুমি দুষলে মা-মণি, আমিই হলুম দলের পান্ডা—

    —থামো, ভর সন্ধ্যেবেলায় মড়া কান্না কেঁদো না! বলি, মাইনে সব মিটিয়ে দিয়েছে তো সরকারবাবু?

    বাতাসীর মা বললে-আমি তো মাইনের জন্যে কখনও বলিনি মা-মণি তোমাকে—

    —বেশি বক্-বক্ কোর না বাতাসীর-মা, নেমখ হারামের দল যত, আমার বাড়িতে খেয়ে-পরে এ্যাদ্দিন আমারই শতেক খোয়ার করেছ, এ্যাদ্দিন কিছু বলিনি, মুখ বুজে সব সহ্য করিছি। শুধু দেখছিলুম হারামজাদীরা কত বাড় বাড়ে! তা হ্যাঁগা এতদিন আমার খেলে-পরলে, মানুষের একটা হায়া বলে তো জিনিস থাকে! তা তোমাদের কি তাও নেই বাছা? পরের বাড়িতে কাজ করতে এয়েছ বলে কি সেটারও মাথা খেয়ে বসে আছো?

    নয়নরঞ্জিনীর লম্বা বক্তৃতায় আর কারো মুখে একটা কথা বেরোবার সাহস হলো না।

    -–তোমাদের মত নেমখারামের হক্কের টাকা নিয়ে ভেবো না আমি বড়লোক হবো বাতাসীর মা। অমন বাপের জম্মিত্ নই আমি। অমন দুশো-পাঁচশো টাকা আমি খোলামকুচির মত ছুঁড়ে দিতে পারি, তা জানো? এই যে আমার বিপদ গেল এতবড়, সবাই তো হেসেছিল, ভেবেছিল এবার ঘোষ-বাড়ি টকে যাবে, কই, গেল? তোমাদের সব পাওনা-গন্ডা মিটিয়ে দিলাম তো! সরকারবাবুকে সেই আমার কাছে এসেই দু’ মুঠো ভাতের জন্যে চাকরি করতে হলো তো! ওগো, ভগবান বলে একজন মানুষ মাথার ওপর আছেন, তিনি সব দেখছেন, তিনি দর্পহারী মধুসূদন, তাঁর কাছে কিছু অজানা থাকে না, জানো? কে কী-রকম মানুষ তাঁর খাতায় সব লেখা থাকে, বুঝলে বাছা? নইলে ছেলের বয়ে দিয়ে মোটা টাকা নিতে পারতুম না? বলো না তোমরা, নিতে পারতুম না?

    এ-প্রশ্নের কেউ উত্তর দিলে না। উত্তর বোধহয় তিনি চানও নি।

    —আর এই যে আমার বৌমা, বৌমাকে কী সুখে রেখেছিলুম, আর কেউ না-দেখুক, তোমরা তো দেখেছ? তোমরা তো জানো, আমার নিজের মেয়ে ছিল না বলে বৌমাকে আমি পেটের মেয়ের মতন আদর করতুম! পাড়ার লোকে যা-ই বলুক, তোমরা তো বাপু সে-আদর দেখেছ! আমার ন’দিদিও বলতো—তুই আদর দিয়ে দিয়ে তোর বৌ-এর মাথাটা খেয়ে ফেলবি নয়ন! তা ন’দিদির কথাই তো সত্যি হলো শেষ-পর্যন্ত! ন’দিদিকে আমি দোষ দিলে কী হবে, ন’দিদি তো মিথ্যে কথা বলবার লোক নয়। তা তোমাদের আমি বলে দিচ্ছি বাপু, বৌমা আজ আসছে, এতটুকু যদি আদিখ্যেতা দেখি তো আমি কারো হাড়-মাস আর এক ঠাঁই রাখবো না—এই বলে দিলুম—

    ভূতির-মা বুঝি খবরটা জানতো না, বললে–বৌদিমণি কি আসবে মা-মণি?

    —হ্যাঁ আসবে, কিন্তু এতটুকু আদিখ্যেতা যদি দেখি তোমাদের তো আমি বরদাস্ত করবো না, এই বলে দিলুম, যেমন বড়-মুখ করে গিয়েছিল, তেমনি খোঁতা-মুখ ভোঁতা করে আসছে। তা আসুক্, ছেলের বউ যখন তখন আসবার হক্ থাকবে বৈ কি! কিন্তু খবরদার শম্ভু, তোকেও বলে দিচ্ছি, তোরই বেশি বাড়, তুই যেন বৌদিমণি বলতে আদেখলেপনা করিনি—আমি এখন থেকে সাবধান করে দিচ্ছি—

    —বৌদিমণি কি আজই আসবে? কৈলাস জিজ্ঞেস করলে।

    নয়নরঞ্জিনী আর থাকতে পারলেন না। বললেন-আসবে না তো যাবে কোথায় শুনি? যাবে কোথায়? কোন্ চুলো আছে তার? বাপ তো পটোল তুলেছে, এক বাউন্ডুলে বোন ছিল, তার কীর্তিতে তো মুখ-দেখানো ভার, এখন আমি না ঠাঁই দিলে কোথায় দাঁড়ায় সে? তা আমি ভাবলাম মরুক গে, হাজার হোক, ছেলের বউ তো, এত করে সাধছে, বাড়িতেই ঠাঁই দিই—

    বাতাসীর মা বললে—বেশ করেছ মা-মণি, তুমি শাউড়ীর কাজই করেছ—তোমার জন্যে ভগমান আছে—

    —না-বাছা, ভগমানের ভরসা আমি রাখিনে। ভগমানের ভরসায় থাকলে কবে আমি সংসার-ধর্ম ছেড়ে কাশীবাসী হতুম, আমার এ পোড়া সংসার নিয়ে আর এত জ্বালায় জ্বলতে হতো না। এই যে তোমাদের মাইনেকড়ি মিটিয়ে দিলুম, এ কি ভগমান দিলে আমাকে? ভগমান টাকা দিলে? ভগমানের কি দশটা হাত আছে না সিন্ধুক-ভর্তি টাকা আছে যে চাইলেই হুড়-হুড় করে ঢেলে দেবে? ভগমান মানুষকে হাত দিয়েছে, মানুষের মাথায় বুদ্ধি দিয়েছে, মানুষকে বুদ্ধি খাটিয়ে টাকা উপায় করতে হয় গো, তবে টাকা আসে! বুঝলে? টাকা অত সহজ জিনিস নয় বাতাসীর-মা, আমি বুড়ো মানুষ, উকীল- কাছারি করে হাড়ে হাড়ে বুঝেছি আজ…….

    কথা তখন শেষ হয়নি। হঠাৎ সিঁড়ির সামনে ন’দিদির চেহারা দেখা গেল। নয়নরঞ্জিনী বললে—ওমা তুমি?

    মোটা মানুষ, হাঁফাচ্ছিলেন। বললেন—বিপদের ওপর বিপদ চলছিল ভাই, কতদিন আসবো-আসবো করে আসতে পারিনি—তা শুনলুম, তোর দেনাটেনা নাকি মিটে গেছে? বাড়িতে ভারা বাঁধা দেখলুম, মিস্ত্রী খাটছে?

    বহুদিন নয়নরঞ্জিনীর মনে একটা অভিযোগ ছিল ন’দিদির ব্যবহারে। একবারও দেখা করেনি। টেলিফোন করেও উত্তর পাননি তিনি। যখন টাকার জন্যে স্বর্গ-মর্ত দৌড়োদৌড়ি করছেন, তখন ন’দিদির টিকিটিরও সাক্ষাৎ পাননি। আজ এতদিন পরে কোত্থেকে শুনেছেন, কোর্টের টাকা জমা দেওয়া হয়ে গেছে, ঝি-চাকর-ঠাকুর-সরকারের মাইনে-কড়ি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর ওমনি এসে ভালবাসা দেখাতে হাজির হয়েছেন। ধন্যি আত্মীয়-স্বজন, ধন্যি জ্ঞাতি-কুটুম!

    ন’দিদি বললে—ওরে না রে নয়ন, না, তুই কিনা আমাকে ভুল বুঝলি শেষকালে? আমি কি বেঁচে ছিলুম রে এ্যাদ্দিন? আমি যে কী জ্বালায় জ্বলছিলুম তা আমি জানতুম আর আমার ভগবান জানতো রে। আমার বৌ তো আঁতুড় থেকে উঠে মরো-মরো হয়ে গিয়েছিল—শেষকালে ডাক্তার-বদ্যি, যমে-মানুষে টানাটানি চললো এতদিন, শেষকালে তোর জামাইবাবুকে বললুম—আর নয়, আমি নয়নকে এবার গিয়ে দেখে আসি, তার বিপদের সময় আমি না দাঁড়ালে দাঁড়াবার আর কেউ নেই—! উঃ, তোর জামাইবাবু কি আসতে দেয় আমাকে? শেষে জোর করে চলে এলুম—

    নয়নরঞ্জিনী তখনও কথা বলছেন না। ন’দিদির আবির্ভাবের সঙ্গে-সঙ্গেই ঝি-চাকর সবাই চলে গিয়েছিল। ন’দিদি এবার সামনে বসলো। বললে—যাক্, বিপদ থেকে যে উদ্ধার হয়েছিস এই-ই বড় কথা, আমি বৌ-এর সেবা করতুম আর দিনরাত ভগবানকে ডাকতুম। তোর জন্যে কত ঠাকুরকে যে ডেকেছি নয়ন কী বলবো! বলতুম—হে মা কালী, হে মা দুগ্যা, নয়ন আমার বড় দুঃখী, সে যেন সব দুঃখ থেকে রেহাই পায় মা! যাক্, এখন ভালোই হলো, বড় আনন্দ হলো ভাই দেখে—

    তখনও নয়নরঞ্জিনী কিছু বলছিলেন না।

    ন’দিদি বললে—তা হ্যাঁরে, টাকা তাহলে কে দিলে? তোর বৌ? তোর বৌকে তো ভাল বলতে হবে তবে! এত কান্ডর পরেও তো টাকা দিলে তোকে!

    —ছাই দিয়েছে! তুমি ভাবছো আমি বৌ-এর কাছে ভিখ্ মাঙবো? বৌ-এর টাকা নিয়ে আমি দেনা শোধ করবো! গলায় দড়ি আমার!

    —তাই বল্। আমি ভাবলুম বউ-এর বুঝি শেষকালে সুমতি হয়েছে!

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—আমাকে তুমি তেমন মেয়ে পাওনি ন’দিদি! আমি তোমার কাছে হাজারবার যেতে পারি, লক্ষবার খোসামোদ করতে পারি তোমাকে, কিন্তু তা বলে বৌ? তুমি কী বলে ভাবতে পারলে শুনি?

    —তা কোত্থেকে টাকা পেলি তুই?

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—জুটে গেল ন’দিদি, দীন-দুঃখীরা যার কাছে পায়, আমিও তার কাছ থেকেই পেয়েছি! ভগবান মুখ রেখেছে আমার। নইলে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়ালে তখন তুমিই কি আসতে আর ন’দিদি?

    —ওই দ্যাখ, তুই যে কী বলিস্ নয়ন। আমার যে কী-বিপদের মধ্যে দিন কেটেছে তা ভগবানই জানেন। এ ক’মাসে কত টাকা যে জলের মত খরচ হয়ে গেল, তা তোর জামাইবাবুকে তুই জিজ্ঞেস করিস গিয়ে—

    —আর জিজ্ঞেস করতে হবে না ন’দিদি, আমি এবার কলকাতাতেই থাকবো না।

    —ওমা, কলকাতাতে থাকবি নে কী রে? বাড়ির দেনা মিট্‌লো, ঝি-চাকরদের মাইনে মিটিয়ে দিলি, বাড়িতে মিস্ত্রি খাটাচ্ছিস, আর তুই চলে যাবি মানে? তোর ছেলে কোথায় থাকবে? ছেলেকে কার কাছে রেখে যাবি?

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—বৌ-এর কাছে—

    —ওমা সে কী কথা? এত কষ্টে বাড়ি উদ্ধার করলি, সব বৌ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে?

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—বাড়ি তো এখনও উদ্ধার হয়নি ন’দিদি, এখনও মামলা চালাচ্ছি—

    —তাহলে মামলার কী হবে?

    —ওরা যদি মামলা চালাতে পারে তো চলবে। ওরা যদি বাড়ি রাখতে পারে তো বাড়িও থাকবে। ওদের সংসার ওরাই বুঝবে, আমি সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে কাশী-বাসী হবো ন’দিদি! আমি সংসার চিনে নিয়েছি, আমি সংসারের মানুষকেও চিনে নিয়েছি, আর আমার কিছু চিনতে বাকি নেই। যথেষ্ট হয়েছে। এই দেখ, আজ বৌ এলে বৌ-এর হাতে এই সব চাবির গোছা তুলে দিয়ে আমি কালই বিদেয় নেব—

    —আজ আসবে তোর বউ? আজই?

    —হ্যাঁ ন’দিদি আজই, এই এখনি এসে পড়লো বলে! সোনা গেছে তাকে আনতে!

    –তা জেনে শুনে তুই ছেলেকে আনতে পাঠালি? ছেলেকে বারণ করতে পারলি নে?

    নয়নরঞ্জিনীর চোখ দুটো হঠাৎ ছল্ ছল্ করে উঠলো। বললেন—সোনা আর সে- সোনা নেই ন’দিদি, আমার ছেলে আর আমার বশে নেই! বশে থাকলে আমার আজ ভাবনা? তেমন হলে আমি আজই আবার ওই ছেলের বিয়ে দিয়ে বৌ-কে জব্দ করতে পারতুম, আমার সে পথও গেল! এখন সেই বৌ এসে আমার বুকে ঢেঁকির পাড় দেবে, তা-ও আমাকে সহ্য করতে হবে!

    বলে কান্নায় একেবারে ভেঙে পড়লেন নয়নরঞ্জিনী।

    ন’দিদি বললে—এই এত দেনা তোর মাথার ওপর, আর এখন কি না বৌ আনতে গেল ছেলে?

    —তুমিই বলো ন’দিদি, তুমিই বলো! এই এত দেনা করে সকলের মাইনে- কড়ি মিটিয়ে দিলুম, বাড়িতে মিস্ত্রি লাগালুম। এ সব বউ এসে ভোগ করবে বলে? সবই আমার বউ-এর ভোগে লাগবে ন’দিদি!

    ন’দিদি বললে—তা তোরই দোষ! তুই যদি জানিস যে বউ এসে তোর সব ভোগ করবে তো কেন এত দেনা করতে গেলি? এ কে শুধবে? তোর বউ?

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—আগে কি জানতুম ন’দিদি যে পেটের ছেলে আমার এত শত্রুতা করবে? তাহলে আমি এত উপকীল-আদালত করে মরি? আমার কীসের দায় বলো না! একটা তো বিধবার পেট, এটার জন্যে কি আর ভাবনা?

    ন’দিদি অনেক সান্ত্বনা দিলে। কত বোঝালে। বললে—এ সংসারে কেউ কারো নয় রে নয়ন। তুই কত কষ্ট করে টাকা রেখে গেলি, সেই টাকা তোরই ছেলে-বউতে উড়িয়ে দেবে। এই-ই আছার হচ্ছে সংসারে।

    জীবন বড় অনিত্য, আগেই বোঝা উচিত ছিল নয়নরঞ্জিনীর। আগেই নিজের কাজ গোছান উচিত ছিল! ছেলে-বউকে ছেড়ে তীর্থ ধর্মে মতি দেওয়া উচিত ছিল।

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—এখন আমি কী করি বলো তো ন’দিদি? নিজের পায়ে কুড়ুল মেরে, এখন কার কাছে নালিশ করি?

    হঠাৎ মনে হলো যেন নিচেয় গাড়ির আওয়াজ হলো। নয়নরঞ্জিনী চমকে উঠলেন। বললেন—ওই বউ এসেছে—

    ন’দিদি বললে—তুই চুপ করে থাক, রাগের মুখে হুট্ করে কিছু বলে ফেলিসনি, যা বলবার আমি বলবো—

    কিন্তু না, বৌ আসেনি। সনাতনবাবু একলা এসে নামলেন ট্যাক্সি থেকে। সদাশিব মানুষ। মুখ দেখে তার কিছুই বোঝবার উপায় নেই। শম্ভু খবর পেয়েই দৌড়ে এসেছিল। বললে-বউদিমণি আসেনি দাদাবাবু?

    সনাতনবাবু বললেন—না—

    তারপর সোজা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে নিজের ঘরে যাচ্ছিলেন। সামনেই ন’দিদি মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। জিজ্ঞেস করলে—কী বাবা, বৌমাকে নিয়ে এলে না?

    সনাতনবাবু থেমে বললেন—না।

    —এল না বুঝি? তা সে যখন নিজে আসতে চায় না তখন অত খোসামোদ করবার দরকার কী বাবা?

    —খোসামোদ? সনাতনবাবু যেন কথাটা বুঝতে পারলেন না। বললেন—তার সঙ্গে খোসামোদের সম্পর্ক তো নয় ন’মাসীমা

    —খোসামোদের সম্পর্ক যদি নয় তো কেন তাকে আনতে গিয়েছিলে তুমি? তোমার মা’র কথাও তো শুনতে হয় একটু। তোমার বউ এসে তোমার মাকে লাথি-ঝাঁটা মারবে, সেটাই কি ভাল কথা বাবা?

    সনাতনবাবু আরো অবাক হয়ে গেলেন। বললেন—লাথি-ঝাঁটা মারবে কেন? লাথি- ঝাঁটা কি কখনও মেরেছে সে? আর তা ছাড়া মা’ই তো আমার বিয়ে দিয়েছিল!

    —এই তো তোমার মা’ই বলছিল বউ এলেই কাশী-বাসী হবে। কতখানি দুঃখু হলে নিজের মা হয়ে এমন কথা বলে, ভাবতে পারো? তুমি তো সব বোঝ বাবা। এত লেখা- পড়া করে এত শিখেছ আর এই কথাটা বোঝ না?

    সনাতনবাবু বললেন—মা কাশী-বাসী হবে? আপনি ঠিক শুনেছেন?

    —হ্যাঁ বাবা, আমি এমন ভুল শুনবো কেন?

    সনাতনবাবু বললেন—ভুল যদি না শুনে থাকেন তো মা’কে আপনি বলুন গিয়ে যে এ-বাড়িতে মা যদি থাকে তো সতীও থাকবে, আর সতী যদি না থাকতে পায় তো মারও থাকা দরকার নেই, আমারও থাকা মিথ্যে!

    —বলছো কি বাবা? তোমার কি মাথার গোলমাল হয়েছে?

    —না ন’মাসীমা, গোলমাল আমার হয়নি। এ-বাড়ির গৃহলক্ষ্মীকে আজ হোক কাল হোক আমি এ-বাড়িতে আনবোই, তাতে এ-বাড়ির কল্যাণই হবে, মা’রও অকল্যাণ হবে না!

    বলে আর ন’দিদির উত্তরের অপেক্ষা না করে সোজা নিজের ঘরে গিয়ে ঢুকে পড়লেন।

    নয়নরঞ্জিনী এতক্ষণ নিজের ঘর থেকে লুকিয়ে-লুকিয়ে সব শুনছিলেন। ন’দিদি আসতেই গলা নামিয়ে বললেন—কী হলো? বৌ আসেনি?

    ন’দিদি বললে—কই দেখছিনে তো! তা তোর ছেলের যে-রকম মতি-গতি দেখছি, তাতে কোন্‌দিন বউকেই এনে তুলতে পারে বাপু, ও-ছেলের ওপর কিছু ভরসা নেই!

    নয়নরঞ্জিনী বললেন—তাহলে কী করি বলো তো ন’দিদি!

    —কী আবার করবি? তুই গ্যাট্ হয়ে বসে থাক! তোর টাকা, তোর বাড়ি, এখন তো আর টাকার জন্যে তোর বউকে খোসামোদ করতে হবে না—তোর ভাবনা কী শুনি? তুই এ-বাড়ি ভাড়া দে, ভাড়ার টাকায় তোর জীবনটা আয়েস করে চলে যাবে! কথায় আছে—ঝি জব্দ শিলে আর বৌ জব্দ কিলে! আর যদি তেমন কিছু হয়, আমাকে খবর দিবি, আমি আছি কি করতে? কিছু ভাবনা নেই তোর—

    বলে সে-দিনের মত ন’দিদি বাড়ি চলে গেক্ষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবলি – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }