Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কত অজানারে – শংকর

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়) এক পাতা গল্প336 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কত অজানারে – ১৬

    ১৬

    টেলিফোনটা বাজছিল অনেকক্ষণ ধরে, ওটা আমার টেবিলেই থাকে। ভিতরে সায়েবের কাছে নোট নিচ্ছিলাম। খাতা-পেন্সিল সেখানে রেখে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে ফোনের রিসিভার তুলে নিলাম। ওপাশ থেকে একটি মেয়েলী কণ্ঠস্বর ভেসে এল। “সিটি ওয়ান-সেভেন-টু-ফোর?” এপাশ থেকে জানিয়ে দিলাম তাঁর ভুল হয়নি। ওপাশ থেকে আবার বলা হলো, “আমি ডক্টর মিত্র কথা বলছি। আপনার সায়েবের সঙ্গে কখন দেখা হতে পারে?” ডক্টর মিত্রকে দেখা করার সময় জানিয়ে সেটা সায়েবের ডাইরীতে লিখে রাখলাম।

    টেলিফোনে কথা শেষ করে কতবার এমনিভাবে ডাইরীতে দিনক্ষণ লিখে রেখেছি। ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটের জীবনে, টেলিফোনের মাধ্যমে কত আলাপের সূত্রপাত হয়েছে। ফোনের অজানা অচেনা লোকটি হাজির হয়েছেন তাঁর সমস্যার বোঝা নিয়ে। সায়েব চেষ্টা করেছেন সাহায্য করার, আমি নেপথ্যে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত সব দেখে গিয়েছি। কেউ জিতেছে, কেউ বা হেরেছে। আশা সফল হয়নি, বিদায় নিয়েছে, ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীট থেকে। তাদের পায়ের চিহ্ন হয়তো ও-পাড়ায় আর কোনো দিনও পড়বে না। তাদের সকলকে মনে রাখতে পারিনি। অপরিচয় থেকে পরিচয় যেমন দ্রুত ও আকস্মিকভাবে হয়েছিল, বিস্মৃতি ততো দ্রুত না হলেও ধীরে-ধীরে কুয়াশার মতো নেমে এসেছে।

    তবু সেই অন্ধকারের মধ্যেও অনেকে আজও স্মৃতিপটে জ্বল-জ্বল করছেন। তাঁদের মুখগুলো অতি স্পষ্টভাবে এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। চোখ, মুখ, কপালের প্রতিটি রেখা মনে পড়ে যায়। ডাইরী লিখিনি কোনোদিন, দৈনন্দিন ঘটনাগুলো রোজনামচার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখিনি। কিন্তু সেজন্য আপসোস করি না, হয়তো ভালোই হয়েছে। আমার অগোচরে মন যাকে ভালো বুঝেছে, শুধু তাকেই সযত্নে সঞ্চয় করেছে, প্রয়োজন অপ্রয়োজনের বাছাই করার হাঙ্গামা থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দিয়েছে।

    ডক্টর শেফালী মিত্র প্রথম দিন চেম্বারে কিভাবে এসেছিলেন, একটুও ভুলিনি। চোখে চশমা, মণিবন্ধে কালো সিল্কের ব্যাণ্ডে খুব ছোট্ট একটি ঘড়ি। বর্ণ উজ্জ্বল শ্যাম হলেও স্নিগ্ধ। অতি সাধারণ সরু কালোপেড়ে শাড়ি পরেছিলেন তিনি। দোহারা চেহারা। হাতে স্টেথসকোপ।

    ডক্টর মিত্রের চিকিৎসা-জগতে সুনাম আছে। তাঁর চেম্বারে মাসিমাকে নিয়ে আমি একবার গিয়েছিলাম। শাড়ির উপর সাদা অ্যাপ্রন পরে রোগী দেখছিলেন তিনি। টেম্পল চেম্বারে প্রথম দর্শনেই তাঁকে চিনতে পারলাম।

    তাঁকে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে সায়েব বললেন, “বসুন ডক্টর মিত্র। উকিল ডাক্তারদের সম্বন্ধটা সাধারণত এক তরফা হয়। আপনারা এ-দিকে আসুন আর নাই আসুন, আমি আপনাদের চেম্বারে যেতে প্রায়ই বাধ্য হই, রোগবিরোগ তো লেগেই আছে! আপনাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতাবোধ সেইজন্য খুবই সজাগ।”

    ডক্টর মিত্র ম্লান হেসে টেবিলের উপরে স্টেথসকোপটা রাখলেন। “আচ্ছা, বলতে পারেন মেয়ে কার?”

    শর্টহ্যাণ্ডের নোটবুক হাতে আমিও পাশে বসেছিলাম। প্রশ্ন শুনে ডক্টর মিত্রের মুখের দিকে তাকালাম। মেয়ে কার—আইনের প্রশ্ন? না, হেঁয়ালি? শাস্ত্রবাক্য মনে পড়ে গেল—নারী প্রথম জীবনে পিতার, যৌবনে স্বামীর এবং বার্ধক্যে পুত্রের অধীন।

    সায়েব বললেন, “আপনার প্রশ্নের অর্থ ঠিক বুঝতে পারলাম না। আইনের চোখে বয়ঃপ্রাপ্ত হলে প্রত্যেক মেয়েই স্বাধীন।”

    ডক্টর মিত্র একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে বললেন, “আমি নিজেও কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। অন্তরাত্মা জানেন, জাহানারা আমার। কিন্তু আইনে নাকি অন্যরকম লেখা আছে! সত্যি নাকি, আপনি ঠিক করে বই-টই দেখে বলুন! আপনি যা ফী বলবেন তাই দেবো, কিন্তু জাহানারাকে আমার চাই।”

    বিলেত-ফেরত ডক্টর শেফালী মিত্রকে এমন ভাবাবেগে কথা বলতে দেখে আমি অবাক।

    “কে এই জাহানারা?” সায়েব জিজ্ঞাসা করলেন।

    “আমি দুঃখিত, কিছু মনে করবেন না। এমন অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম যে, আসল ঘটনা বর্ণনা না করেই প্রশ্নের উত্তর চাইছি।” নিজেকে সংযত করে নিলেন ডক্টর মিত্র। তিনি বেশ লজ্জা পেয়েছেন।

    “জাহানারা আমার মেয়ে। তার পুরো নাম জাহানারা প্যাটেল।”

    শেফালী মিত্রের মেয়ে জাহানারা প্যাটেল! বিস্মিত হলেও অত্যন্ত সহজভাবে সায়েব জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার মেয়ে?”

    শেফালী মিত্র গম্ভীরভাবে বললেন, “জাহানারা আমাকেই মা বলে জানে। আমি তাকে গর্ভে ধরিনি সত্য, কিন্তু নিজের মেয়ের মতনই মানুষ করেছি।” তাঁর এলোমেলো কথায় সমস্ত ঘটনা আরও হেঁয়ালিপূর্ণ হয়ে উঠছে, মনে হলো।

    সায়েবের অনুরূপ অবস্থা। তিনি নিজেই বললেন, “আপনার সম্পূর্ণ ইতিহাস আমার গোড়াতে শোনা প্রয়োজন। জাহানারা সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।”

    ডক্টর মিত্র লজ্জিত হলেন। “ঠিক বলেছেন। ইতিহাসটা খাপছাড়াভাবে বর্ণনা করে লাভ নেই।”

    .

    “আজ থেকে অনেকবছর আগে আমি একজন ইহুদিকে বিয়ে করি। আমি তখন শেফালী মিত্র নই, শেফালী সলোমন। আমার স্বামীর কাঠের ব্যবসা ছিল। তাঁকে বেশ ধনী বলা চলতে পারে। কিন্তু ফ্যান, ফোন, বাড়ি, গাড়ি সব থেকেও আমাদের শান্তি ছিল না।

    আমি নিজে ডাক্তার, বিশেষ প্র্যাকটিস করতাম না। করার প্রয়োজন ছিল না এবং স্বামীও পছন্দ করতেন না যে, আমি দিনরাত ডাক্তারীতে মেতে থাকি।

    কিন্তু অশান্তি সেজন্য নয়, কারণ অন্য। বছর কয়েকের মধ্যে আমার কোনো সন্তান হলো না। বড়ো বড়ো কয়েকজন ডাক্তারকে দেখালাম। তাঁরা সকলে একমত—আমার সন্তান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

    শেফালী মিত্র আস্তে-আস্তে, ভেবে-ভেবে কথা বলায় শর্টহ্যাণ্ডে অনায়াসে লিখে যাচ্ছিলাম।

    “তারপর?” সায়েব জিজ্ঞাসা করলেন।

    “তারপর বিবাহ-বিচ্ছেদ। মিস্টার সলোমন বেশি বয়সে আবার বিয়ে করেছিলেন, আমি সংবাদ পেয়েছিলাম।

    মিস্টার সলোমন ব্যবসাসূত্রে মাঝে-মাঝে রেঙ্গুনে যেতেন। আমিও তাঁর সঙ্গে সেখানে কয়েকবার গিয়েছি। জানাশোনা হয়ে গিয়েছিল কিছু-কিছু। ওখানকার এক মেয়েদের হাসপাতালে চাকরি খালি ছিল। মাইনে কম হলেও কাজটা ছাড়লাম না। হাসপাতালের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কিছু-কিছু প্রাইভেট প্র্যাকটিসও করতে লাগলাম।

    আউট-ডোরে কত রকমের লোক আসে—চীনা, বার্মিজ, ভারতীয়। কিছু- কিছু বাঙালীর সঙ্গেও দেখা হতো। মাতৃসদনটির সুনাম আছে রেঙ্গুনে।

    ওখানেই সোফিয়া প্যাটেলের সঙ্গে প্রথম দেখা। রক্তহীন ফ্যাকাশে, শীর্ণ দেহ। চোখের কোণে কালো রেখা। মুখের ম্লান হাসিটুকু ছাড়া জীবনের আর কোনো লক্ষণ নেই।” ডক্টর শেফালী মিত্র হাতের স্টেথসকোপটা নাচাতে নাচাতে বলতে লাগলেন, আর আমি লিখে চললাম দ্রুতবেগে।

    সোফিয়া প্যাটেলের রোগ নির্ণয় করলেন শেফালী মিত্র—অ্যানিমিয়া। মেয়েটির বছর তেইশ বয়স। অস্থিসার দেহে বড়ো বড়ো চোখ দুটি বেমানান মনে হয়। ডক্টর মিস্ শেফালী মিত্র কোন্ সময়ে সোফিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছেন। সপ্তাহে একদিন সে আউট-ডোরে আসে। ডক্টর মিত্র সেই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। অন্য রোগীদের ফেলে রেখে তাকে পরীক্ষা করেন, ওষুধ দেন। সুন্দর ইংরেজি বলে মেয়েটি। দু’জনে গল্প হয়। ডক্টর মিত্র ভুলে যান আরও রোগী বাইরে অপেক্ষা করছে। তারপর অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিদায় দিতে হয়। সোফিয়াকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন তিনি।

    নতুন রোগিণী ডাক্তারকে একদিন চা-এ নিমন্ত্রণ করলেন। ডাক্তার খুবই আনন্দের সঙ্গে তাঁদের বাড়িতে গেলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে গল্প করে, শেষপর্যন্ত চা ছাড়াও রাত্রের খাবার পালা সাঙ্গ করে তিনি বাড়ি ফিরলেন।

    সোফিয়ার আউট-ডোরে যাওয়া বন্ধ হলো। রোগ যে সেরে গেল তা নয়, শেফালী মিত্র নিজেই রোগিণীর বাড়িতে আসেন, দুজনে খুব ভাব। নিঃসঙ্গ প্রবাস জীবনে সোফিয়ার মতো বন্ধু পেয়ে ডক্টর মিত্রের আনন্দের সীমা নেই।

    কিন্তু রোগ প্রশমনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং বাড়ছে। ডক্টর মিত্র কিন্তু পরাজিত হতে প্রস্তুত নন। বড়ো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তিনি চিকিৎসা চালাতে লাগলেন।

    সোফিয়া মুসলমান। তাঁর স্বামীর সামান্য চাকরি। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। স্বামীও বেশ মিশুক। ডাক্তারের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তিনি প্রায়ই বলেন, “আপনার সঙ্গে দেখা না হলে সোফিয়ার যে কি হতো জানি না।”

    যা হোক, সোফিয়া অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠলেন। শেফালী মিত্র এজন্য সকল কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। সম্পূর্ণ সেরে উঠে সোফিয়া একদিন নিজের হাতে রান্না করে ডাক্তারকে খাওয়ালেন। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তাঁরা তিনজন সামনাসামনি বসেছিলেন। শেফালী মিত্রের মনটা সামান্য খারাপ। সোফিয়া ভালো হয়ে গিয়েছেন, তাঁরও প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল।

    কিন্তু বেশ খুশি মনে সে-রাত্রে ডক্টর মিত্র বিদায় নিলেন। সোফিয়া তাঁর দুটি হাত ধরে বলেছেন, “রোগ ফুরোলেই যে নটে গাছটি মুড়োলো এমন যেন না হয়। তোমাকে আসতেই হবে। এখন আর ডাক্তার-রোগী সম্পর্ক নয় কিন্তু! আমার জোর বেড়ে গিয়েছে। এখন সমান-সমান ক্ষমতা, আমরা দুজনে বন্ধু।”

    তাঁরা দু’জনে সত্যই বন্ধু হয়ে উঠলেন। সোফিয়া সাধারণ ঘরের মেয়ে, উচ্চশিক্ষা পাননি। তবুও তিনি শেফালী মিত্রের শ্রেষ্ঠ বান্ধবী। সোফিয়ার বাড়িতে প্রায়ই আসেন ডক্টর মিত্র। হাসপাতালের বদ্ধ হাওয়ায় যখন মনটা হাঁপিয়ে ওঠে, তখন সেখান থেকে পালিয়ে এসে সোফিয়ার সঙ্গে ঘর-সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করতে বেশ লাগে। সোফিয়ার রান্না ভালো। ডাক্তারী ছেড়ে শেফালী মাঝে-মাঝে রান্নাঘরে এপ্রেন্টিসগিরি করেন। তেল-নুন-লঙ্কার পরিমাণ নিয়ে তর্ক হয়।

    দু’জনের মনের কথাও চাপা থাকে না। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখের কথা সোফিয়াকে খুলে বলেন শেফালী মিত্র। নিঃসঙ্গ জীবনের বেদনার বোঝা খানিকটা হাল্কা হয়ে যায়। রুগ্ন দেহ সোফিয়া ডক্টর শেফালী মিত্র অপেক্ষা মনে অনেক সুস্থ ও সবল। সোফিয়া তাঁকে অনুপ্রেরণা দেয়। দেয় খানিকটা মানসিক সান্ত্বনা।

    সোফিয়ার শরীর আবার খারাপ হচ্ছিলো। দেহে যে মাংস লেগেছিল, ক্রমশ তা শুকোতে লাগলো। মুখের রক্তাভা, চোখের দীপ্তিও কমছে। স্টেথসকোপটা কান থেকে খুলতে খুলতে শেফালী মিত্র রোগিণীর স্বামীকে একদিন বললেন, “এবার আরও সাবধান হতে হবে। প্রেগনেন্সি।”

    সোফিয়াকে মাস কয়েক ধরে শেফালী মিত্র যে যত্ন ও সেবা করলেন, চোখে না দেখলে তা বিশ্বাস হয় না। সোফিয়ার স্বামী প্রায়ই বলতেন, “আপনার ঋণ কখনও শোধ করতে পারবো না। আল্লার দয়ায় আমার স্ত্রী আপনার মতো বন্ধু পেয়েছে।”

    সোফিয়া বিছানায় শুয়ে থাকেন। তাঁকে দেখলেই হাতটা তুলে নাড়ান। ম্লান মুখখানি আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বিছানার খুব কাছে চেয়ারটা এগিয়ে নিয়ে শেফালী বসেন। গল্প হয় দু’জনে। কখনো বই পড়েন তিনি, আর সোফিয়া চুপ করে শোনেন।

    ভাবী-মায়ের চেয়ে ডাক্তারের আগ্রহ উদ্দীপনা অনেক বেশি। সোফিয়াকে কতরকমের উপদেশ দেন তিনি। বলেন, “কোনো অনাচার যেন না হয়। মনে থাকে যেন শরীরটা এখন তোমার একার নয়।”

    কিছুদিন পরে শেফালী মিত্রকে আরও আনন্দিত মনে হলো। সোফিয়ার খুব কাছে বসে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে-দিতে তিনি বললেন, “সোফিয়া নতুন খবর আছে।

    ভাবী-মা উৎকর্ণ হয়ে থাকেন। “কী খবর?”

    শেফালী স্নেহভরে সোফিয়ার একটি হাত ধরে বললেন, “যতোদূর মনে হয়, একজন নয়, ওরা দু’জন আসছে।”

    “যমজ!” সোফিয়া উত্তেজনায় উঠে বসলেন।

    পরের দিন শেফালী আবার যথাসময়ে সোফিয়াকে দেখতে এলেন। হাসপাতালে সারাদিনের পরিশ্রমে দেহ ক্লান্ত। রুমালে মুখ মুছতে-মুছতে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেমন আছো?”

    দুষ্টুমিভরা হাসি দিয়ে সোফিয়া উত্তর দিলেন, “ভালোই আছি। খুব ভালো আছি।”

    তারপর সোফিয়া যা বললেন, শেফালী মিত্রের অবচেতন মনে সেই কামনা বহুদিন অবহেলিত হয়ে ঘুমিয়ে ছিল। প্রথম ধাক্কায় তিনি কেঁদে ফেললেন, বিশ্বাস হচ্ছিল না কিছুতেই। সোফিয়া স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। যমজ ছেলে হলে তার একটি শেফালী নিতে পারেন। জীবন বেঁচেছে তাঁর করুণায়। কোনো কিছুতেই সে ঋণ পরিশোধ হবে না। তাছাড়া দুটি সন্তান মানুষ করাও সোফিয়ার রুগ্ন দেহে সম্ভব নয়।

    যমজ সন্তানই এল শেষপর্যন্ত। একটি ছেলে, একটি মেয়ে। অর্ধচেতন সোফিয়ার বিছানার পাশে শেফালী মিত্রকে অনেক বিনিদ্র রাত কাটাতে হলো। হাসপাতালের বড়ো ডাক্তার অবশেষে বললেন, এবার বিপদ কেটে গিয়েছে।

    .

    “সুস্থ হয়ে নতুন-মা বাড়ি ফিরে এলেন।” ডক্টর শেফালী মিত্র চেম্বারে বসে বলে যাচ্ছেন।

    আমার হঠাৎ খেয়াল হলো কাহিনীর মধ্যে এমন ডুবে গিয়েছি যে, কোন্ ফাঁকে লেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

    “সব লিখে নিচ্ছো তো?” সায়েব আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর ডক্টর মিত্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি বলে যান।”

    “আমার বর্ণনা হয়তো একটু দীর্ঘ হচ্ছে, কিন্তু আমি আপনাকে সব বলতে চাই। আপনি তবেই বুঝতে পারবেন, কে অন্যায় করেছে।” ডক্টর মিত্র সায়েবের মুখের দিকে সম্মতির জন্য তাকালেন।

    “নিশ্চয়, আপনি যা বলতে চান বলুন।”

    “সোফিয়া কথা রেখেছিল। মেয়েটি আমাকে দিয়ে দিলো সে।” শেফালী মিত্র আবার বলতে লাগলেন।

    “সোফিয়া কিন্তু একটি শর্ত আরোপ করেছিল। মেয়ের নাম আমি নিজেই দিয়েছি জাহানারা, ও নাম পরিবর্তন করবে না,” সে বলেছিল।

    ডক্টর মিত্র আপত্তি করেননি। ছোট্ট ফুলের মতো মেয়েটি বুকে করে তিনি বাড়ি ফিরে এসেছেন

    আট মাসের মেয়ে জাহানারা প্রথম কয়েকদিন কেঁদেছিল। পরে সব ঠিক। আয়া রেখেছেন ডক্টর মিত্র। পেরেম্বুলেটরে জাহানারাকে বসিয়ে প্রতি সন্ধ্যায় অন্য কাজ বন্ধ রেখে নিজে পার্কে বেড়িয়েছেন।

    জাহানারা হাঁটতে শিখেছে। শেফালীর চিন্তা বেড়েছে। সবাইকে বলে বেড়ান, “আমার নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। মেয়ের এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। মেয়ে খুব দুষ্টু, কিছুতে আয়ার কাছে ঘুমোবে না। আমাকে সময়মতো বাড়ি ফিরতেই হবে।”

    মেয়ের দৌরাত্ম্যে সোফিয়ার কাছে যাওয়া কমিয়ে দিলেন ডক্টর মিত্র। দু’- একবার মেয়েকে নিয়েই ওখানে গিয়েছেন তিনি। জাহানারা সোফিয়াকে মাসি বলে ডাকে।

    ডক্টর মিত্রের সমগ্র হৃদয় সে ধীরে-ধীরে গ্রাস করলো।

    কিছুদিন পরে রেঙ্গুনে এক ভয়ঙ্কর দাঙ্গা বাঁধলো। দাঙ্গায় অনেকে প্ৰাণ হারালো, লুঠতরাজ কম হলো না।

    দাঙ্গা থামতেই ডক্টর মিত্র কলকাতায় চলে এলেন। রেঙ্গুন বাস আর নিরাপদ নয়। কলকাতায় তিনি চেম্বার খুললেন।

    সোফিয়াও আর রেঙ্গুনে থাকলেন না, ফিরে গেলেন বোম্বাই। সেখানে তাঁর স্বামী একটি চাকরি পেয়েছেন, মাইনে অনেক কম। কিন্তু উপায় কী?

    শেফালী আর সোফিয়ার পত্রালাপ এই গোলমালেও বন্ধ হয়নি। শেফালী বোম্বাইতে জাহানারার ছবি পাঠিয়েছেন।

    একটু বড়ো হলে জাহানারাকে দিয়ে চিঠি লিখিয়েছেন, “মাই ডিয়ার আন্টি, তুমি কেমন আছো?”

    আণ্টি উত্তর দিয়েছেন, “সোনা মেয়ে আমরা ভালো আছি। তোমার মামি লিখেছে, তুমি নাকি খুব ভালো মেয়ে। শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছি।”

    ইংরেজি শেখাবার জন্য গভর্নেস রেখেছেন ডক্টর মিত্র।

    কলকাতার সেরা মিশনারী কনভেন্টে জাহানারা পড়তে যায়। নিজে গাড়ি করে মেয়েকে স্কুলে রেখে আসেন। ছুটির আগেই গেটের কাছে গাড়ি নিয়ে তিনি অপেক্ষা করেন। ঘণ্টা পড়ার একটু পরে মেয়ে লাফাতে লাফাতে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসে। হাত থেকে বইগুলো নামিয়ে নিয়ে মেয়েকে পাশে বসান তিনি। ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে দেয়। তিনি বললেন, “মুখ শুকিয়ে গিয়েছে, রোদে ঘুরেছো নিশ্চয়!”

    জাহানারা রাস্তার দু’দিকে তাকাতে তাকাতে বলে, “না মা, আমি একটুও রোদে ঘুরি না। রোদে ঘুরলে যে কালো হয়ে যায়, আমাদের ক্লাসের নমিতা বলেছে।”

    ডক্টর মিত্র লোভ সামলাতে পারেন না। জিজ্ঞাসা করেন, “রঙ কালো হলে কী হয়?”

    জাহানারা সন্দিগ্ধভাবে তাকিয়ে বলে, “আহা তুমি যেন জানো না। রঙ কালো হলে বিয়ে হবেনা।

    শেফালী মিত্র হাসতে-হাসতে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

    বাড়ি ফিরেই সোফিয়াকে চিঠি লিখেছেন তিনি। জাহানারার দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি বর্ণনা করতে ভোলেন না। “তোমার মেয়ে তোমার মতোই হয়ে উঠছে ক্রমশ। যে কোনো মানুষের মন পাঁচ মিনিটে জয় করে নিতে পারে। জাহানারাকে দেখে আমি সহজে কল্পনা করতে পারি ছোটবেলায় তুমি কেমন ছিলে।”

    “চোদ্দবছরে পড়লো জাহানারা আর আমারও কপাল মন্দ হতে বসেছে।” ডক্টর শেফালী মিত্র একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন।

    “কেন?” প্রশ্নটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়লো। আমার কাজ শুধু লিখে যাওয়া, যা কিছু জিজ্ঞাস্য সায়েব জেনে নেবেন। কিন্তু গল্পের ঝোঁকে জিজ্ঞাসা করে ফেলেছি।

    শেফালী মিত্র ম্লানমুখে বলতে লাগলেন, “মাসখানেক আগে সোফিয়া চিঠি লিখেছিল, কয়েকদিনের কাজে তার স্বামী কলকাতায় আসছেন।

    উত্তরে আমি লিখলাম, “তুমিও চলে এসো কলকাতায়, কতদিন দেখা নেই। আমার বাড়িতে অনেক ঘর খালি পড়ে আছে, থাকবার অসুবিধা হবে না।”

    তারপর একদিন হাওড়া স্টেশন থেকে সোফিয়া ও তার স্বামীকে আনতে গেলাম। কতদিন পরে দেখা। প্ল্যাটফর্মেই আনন্দে সোফিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরলো। বাড়িতে এসেই জাহানারাকে ডাকলাম। সেও ছুটে এল, জিজ্ঞাসা করলে, “কেমন আছো আণ্টি?”

    জাহানারা, সোফিয়া ও আমি একসঙ্গে প্রায়ই সিনেমায় যেতাম। বোটানিকাল গার্ডেনে ফিস্ট হলো এক রবিবার। জাহানারার কনভেন্ট দেখিয়ে আনলাম সোফিয়াকে। পিয়ানো বাজিয়ে শোনালো জাহানারা, দেখালো তার নিজের আঁকা রঙীন ছবি। আণ্টিকে একটা বাঁধানো ছবি উপহার দিয়েছে সে।

    আতিথেয়তার কোনো ত্রুটি আমি রাখিনি। তবুও সোফিয়া কেমন গম্ভীরভাবে থাকে। জাহানারার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে চেষ্টা করছিল সে। আমি আপত্তি করিনি, ভেবেছি এমনি গল্প হচ্ছে, আর কিছু নয়

    কিন্তু জাহানারার বাবা সেদিন আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলেন। সোজাসুজি বললেন, “জাহানারাকে এবার আমরা নিয়ে যেতে চাই। এতোদিন দেখাশোনা করেছেন। সেজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।”

    মাথাটা কেমন ঘুরে উঠলো প্রথমে। মনে হলো এখনই মেঝেতে লুটিয়ে পড়বো। “এ-সব কথার অর্থ?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

    সোফিয়া আড়ালে দাঁড়িয়েছিল এতোক্ষণ। কাছে এগিয়ে এসে সে বললে, “আমার মেয়ে আমি ফেরত চাই; অতি সরল অর্থ।”

    আমি সহ্য করতে পারলাম না। তখনি বার করে দিয়েছি দু’জনকে। বলেছি, “হোটেলে যাও। আমার বাড়িতে জায়গা হবে না।”

    ওরা চলে গেলে রাগটা একটু কমলো। অতোটা অভদ্রতা না করলেও হতো। কিন্তু আপনি বলুন, “আমার রাগ করাটা কি অন্যায় হয়েছে?” শেফালী মিত্র জিজ্ঞাসা করলেন।

    “গতকাল পুলিশ এসেছিল আমার বাড়িতে। জাহানারার সমস্ত খবর নিয়ে গেল। ওরা নাকি থানায় খবর দিয়েছে।”

    আমি কিছু বুঝতে পারছি না। বড়ো ভয় লাগছে।

    আজ সকালে আবার এক এটর্নির চিঠি পেয়েছি। জাহানারাকে সত্বর তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিতে লিখেছে।

    “কিন্তু জাহানারা…জাহানারাকে আমি কেন দেবো? সে-তো আমারই মেয়ে।” উত্তেজনায় শেফালী মিত্রের স্বর থরথর করে কাঁপছে।

    “আমি আইনের কিছু জানি না। আমাকে কি করতে হবে বলুন। জাহানারাকে আমি এতো বড়ো করে তুলেছি, তাকে ছাড়তে পারবো না। আমি পাগল হয়ে যাবো—।” শেফালী মিত্র, কলকাতার প্রথিতযশা ডাক্তার শেফালী মিত্র, রুমালে চোখ মুছতে লাগলেন।

    “টাকার জন্য ভাবনা নেই। আপনি বলুন জাহানারা কি আমার নয়?” রুমালে আবার চোখ মুছলেন তিনি।

    চশমাটা খুলে রেখে সায়েব জিজ্ঞাসা করলে, “রেঙ্গুনে জাহানারাকে যখন আপনি প্রথম নিয়ে এলেন তখন কোনো লেখাপড়া হয়েছিল কী? লিখিতভাবে দত্তক গ্রহণ করাটাই সাধারণ রীতি।”

    শেফালী মিত্র উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, “না লেখাপড়া তো হয়নি!” হঠাৎ রেগে উঠলেন তিনি। “কিন্তু কাগজে লেখাটাই কি সব? আপনাদের আইনে মুখের কথার কি কোনো মূল্য নেই? কোনো কিছু লেখা নেই বলে ওরা জাহানারাকে নিয়ে যাবে?” শেফালী মিত্রের মুখ লাল হয়ে উঠেছে।

    “উতলা হবেন না ডক্টর মিত্র। আইনে রেল ইঞ্জিনের মতো একটা নির্দিষ্ট লাইন ধরে যেতে হয়। মুখের কথায় বিশ্বাস করা যে সব সময় সম্ভব হয় না!” সায়েব প্রবোধ দিলেন।

    সামান্য চিন্তা করে তিনি আবার বললেন, “আপনার পক্ষে অনেক কিছু বলবার আছে। তবে জাহানারার বাবার কেসও যে খুব দুর্বল তাও বলা যায় না। জাহানারা এখনও নাবালিকা। নাবালিকার অভিভাবকত্ব নিয়েই দু’পক্ষের টাগ- অফ-ওয়ার। আমাদের দুটি পথ খোলা আছে—এক জাহানারার বাবা কোর্টে মামলা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা; অথবা হাইকোর্টে আমরাই জাহানারার অভিভাবকত্বের জন্য আবেদন করতে পারি।”

    শেফালী মিত্র বললেন, “আর অপেক্ষা করতে চাই না। আমরাই বরং কোর্টে কেস্ করি।”

    এটর্নির নাম বলে দিলেন সায়েব। তাঁর কাছে প্রথমে যেতে হবে, তিনি কেস ফাইলের প্রাথমিক কাজগুলো করবেন।

    চেয়ার থেকে ডক্টর শেফালী মিত্র উঠে পড়লেন। স্টেথসকোপটা টেবিল থেকে তুলে তিনি সায়েবকে বললেন, “পরিচিত মহলে আপনার অনেক কেসের গল্প শুনেছি। আমার বিশ্বাস আছে আপনার উপর। জাহানারাকে ওরা যেন ছিনিয়ে না নেয়।”

    শেফালী মিত্র চলে গেলেন।

    নোটবুকের পাতাগুলো উলটিয়ে দেখছিলাম। শেফালী মিত্রের হৃদয়ের কথা শর্টহ্যান্ডের আঁকাবাঁকা টানের মধ্যে ধরে রেখেছি।

    ঘড়িতে চারটে বাজে। সায়েব বললেন, “এবার যাওয়া যাক।” আমার নোটবুকের দিকে তাকিয়ে তিনি একটু হাসলেন। কিন্তু কথা বললেন না।

    হাইকোর্টে মামলা ফাইলের পর ডক্টর মিত্র মাঝে-মাঝে চেম্বারে আসতেন। নমস্কার জানিয়ে বলতাম, “সায়েব ভিতরে আছেন, চলে যান।”

    তিনি কিন্তু মাঝে-মাঝে আমার কাছে এসে দাঁড়াতেন। “আপনারা তো এ- লাইনে রয়েছেন, আইনের কিছু-কিছু বোঝেন। আচ্ছা জাহানারাকে আমি রাখতে পারবো না?”

    যতোদূর জানি, অতি কঠিন মামলা। তবু হেসে বলতাম, “আপনি ভাববেন না। জাহানারার আসল মা আপনিই।”

    তিনি একটু সাহস পেতেন। বলতেন, “আমার ছবির এলবাম এনে একদিন আপনাদের দেখাবো, কতটুকু মেয়েকে বুকে করে এনেছিলাম। সেবার ওর নিউমোনিয়ার মতো হলো। তখন কোথায় ছিল ওর আপন মা? এতো যদি ভালোবাসা, কলকাতায় এসে মেয়ের সেবা করলে না কেন? আমি বলে রাখলাম, ওর মায়ের হাতে পড়লে জাহানারা ছ’মাসও বাঁচবে না। বলুন, আমি অন্যায় বলেছি?”

    “না না, এক শ’ বার সত্যি। সে-সব আমার তো ভালোভাবে জানা আছে।” আমি বলতাম।

    ইতিমধ্যে কেসের কাজ এগোচ্ছে। জাহানারার বাবা প্রতিবাদ জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ের অভিভাবক তিনি হবেন, বাইরের লোকের অধিকার নেই সেখানে। প্রত্যুত্তরে শেফালী মিত্র এফিডেভিটে আপন বক্তব্য জানিয়েছেন।

    সায়েব শেফালী মিত্রের বাড়িতে গেলেন একদিন। বললেন “আপনার মেয়েকে ডাকুন, একটু গল্প করে যাই।” জাহানারার সঙ্গে দেখা করে ফিরে এসেছেন তিনি।

    নেপথ্যের সকল প্রস্তুতি শেষে যে জজের কোর্টে মামলা উঠলো বিচক্ষণ বিচারক হিসাবে ব্যারিস্টার মহলে তাঁর প্রচুর সুনাম।

    জাহানারার বাবার পক্ষেও বড়ো ব্যারিস্টার। তিনি জাহানারাকে মা-বাবার কাছে ফেরত দিতে চান।

    সায়েব বললেন, “জাহানারাকে তার বাবা ও মা ডক্টর মিত্রকে দিয়ে দেন।”

    অপরপক্ষ সঙ্গে-সঙ্গে দান প্রমাণের কাগজপত্র চেয়ে বসলেন। কিন্তু আমাদের কাগজপত্র কিছু নেই। তখন ওঁরা বললেন, জাহানারাকে ডক্টর মিত্র ভালোবাসতেন এবং তার মায়ের শরীর অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। মেয়ের ভরণপোষণের জন্য জাহানারার বাবা কয়েকবার টাকা পাঠাতে চেয়েছেন। কিন্তু শেফালী মিত্র নেননি।

    তাঁরা আরও বললেন, মুসলমান আইনে মেয়ের স্বাভাবিক অভিভাবিকা মা; সুতরাং জাহানারার অভিভাবিকা সোফিয়া প্যাটেল।

    সায়েব বললেন, “তাঁরা অভিভাবকের কর্তব্য করেননি।”

    ওঁরা উত্তর দিলেন, নিশ্চয় করা হয়েছে। অসংখ্য চিঠিতে মেয়ের সংবাদ নিয়েছেন তাঁরা। অনেক দূরে বাস ও আর্থিক অনটনের জন্য সব সময় চাক্ষুষ দেখা হয়নি। কিন্তু মেয়ের অভিভাবকত্ব তাঁরা কোনোদিন ত্যাগ করেননি। মেয়েকে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে ভর্তির সময়ও তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। ডক্টর মিত্র জাহানারাকে নিয়ে দু’বার সমস্ত ভারতবর্ষ ভ্রমণে বেরিয়েছেন, দু’বারই অনুমতির জন্য তিনি চিঠি দিয়েছেন।

    সায়েব উত্তরে বললেন, “অনুমতির জন্য চিঠি দেননি ডাঃ মিত্র, দিয়েছিলেন সাধারণ সংবাদ হিসেবে। যাঁরা তাঁকে মেয়ে দিয়েছেন মেয়ের খবরাখবর তাঁদের মাঝে-মাঝে জানানোটা তিনি কর্তব্য মনে করেছেন।”

    শেফালী মিত্র রোজ কোর্টে বসে থাকতেন। দেড়টায় লাঞ্চের জন্য জজসায়েবের সঙ্গে-সঙ্গে সবাই উঠে পড়লেন। ডক্টর মিত্র নিজের চেয়ারে বসে রইলেন। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “খেতে যাবেন না?”

    ডক্টর মিত্রের চোখ ছলছল করছে। “আমার খেতে ইচ্ছে নেই। কেমন বুঝছেন বলুন?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

    “রায় না বেরুনো পর্যন্ত কেউ বলতে পারে না কী হবে। অযথা চিন্তা করবেন না। কিছু খেয়ে আসুন।”

    তবু গেলেন না তিনি। বললেন, “খেতে গেলে বমি হয়ে যাবে, এখানেই বসে থাকি।”

    লাঞ্চ শেষে আবার কোর্ট বসলো। তর্কযুদ্ধ পুনরায় আরম্ভ হলো।

    অপরপক্ষের ব্যারিস্টার বললেন, “বাবা কিংবা মায়ের অভিভাবকত্বের দাবি অনস্বীকার্য। একমাত্র কোনো ঘোরতর অপরাধ বা ত্রুটি প্রমাণিত হলে তাদের অপসারিত করে অন্য অভিভাবক নিযুক্ত করা যেতে পারে। ডক্টর মিত্রের এমন কোনো অভিযোগ আছে কি যে, জাহানারার বাবা চরিত্রহীন, মদ্যপ, উচ্ছৃঙ্খল বা অভিভাবক হিসেবে অযোগ্য?”

    সায়েব বললেন, “না,–জাহানারার বাবার বিরুদ্ধে সেরকম অভিযোগ আমাদের নেই।”

    অপরপক্ষের ব্যারিস্টার জিজ্ঞাসা করলেন, “তবে কোন্ অপরাধে জাহানারার মা এবং বাবা নিজের মেয়েকে পাবেন না?”

    “আমরাও একই প্রশ্ন উত্থাপন করছি। চোদ্দবছর ধরে নিজের সকল স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে পালন করে শেফালী মিত্র আজ জাহানারাকে হারাবেন কেন!” সায়েব উত্তর দিলেন।

    তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনারা এতোদিন পরে কেন মেয়েকে ফেরত চাইছেন?”

    “আমরা মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই এবং অল্প বয়সেই।” জাহানারাকে যে ধরণের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাতে সে একটি পুরো মেসায়েব বনে যাবে। কোনোদিন ঘরসংসার করতে পারবে না।” অপরপক্ষ উত্তর দিলেন।

    সায়েব বললেন, “মাই লর্ড, নাবালিকার মঙ্গলের জন্যই অভিভাবকের প্রয়োজন। যতোদিন না বয়ঃপ্রাপ্ত হয়, নিজের মঙ্গলামঙ্গলের জ্ঞান জন্মায়, ততদিন অভিভাবক তাকে ঠিক পথে চালিয়ে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে জাহানারার ভবিষ্যতই আমাদের একমাত্র চিন্তার বিষয়। বাবা-মা’র কাছে থাকা তার ভবিষ্যতের পক্ষে শ্রেষ্ঠ হলে, আপনি জাহানারাকে নিশ্চয় তাঁদের কাছে ফেরত দেবেন।”

    তারপর তিনি একে-একে দেখালেন, চোদ্দবছর ধরে জাহানারা প্রাচুর্যের পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছে। হঠাৎ পরিবেশ পরিবর্তন বাঞ্ছনীয় নয়। ভালো স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে সে এবং ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে মনে-মনে সে যে ছবি এঁকেছে বাবার কাছে ফিরে গেলে তা কখনো বাস্তবে রূপান্তরিত হবে না।

    জড়সায়েব বললেন, “আমি নিজে জাহানারার সঙ্গে কথা কইতে চাই।” জাহানারা কোর্ট-রুমে এল। সাদা সিল্কের সালোয়ার পরা ফুটফুটে মেয়ে। চাঁপা ফুলের রঙ। চুলে লাল সার্টিনের রিবন, হাতে লেডিজ রিস্টওয়াচ। জজসায়েব জাহানারাকে নিজের বসার ঘরে নিয়ে গেলেন। দরজা বন্ধ, অন্য কারও প্রবেশ নিষেধ।

    ডক্টর মিত্র কোর্ট-ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। উত্তেজনায় ছটফট করছেন তিনি। আমাকে বললেন, “আমার বুক ঢিপ ঢিপ করছে। জাহানারাকে জজসায়েব কী জিজ্ঞাসা করবেন?”

    “বলা শক্ত। কিন্তু জাহানারা আপনার বিরুদ্ধে কিছু বলবে না নিশ্চয়!” আমি তাঁকে আশ্বাস দিলাম।

    ডক্টর মিত্র একটু মনোবল পেলেন বোধহয়। “হুঁ, জাহানারা আমাকে খুব ভালোবাসে।” কিছুক্ষণের জন্য ভ্রূকুঞ্চন করলেন তিনি। তারপর বললেন, “কিছুই বলা যায় না। হয়তো—”

    মিনিট চল্লিশ পরে জজসায়েব কোর্টে ফিরে এলেন। বললেন, “চল্লিশ মিনিট সময় নেওয়া আমার উচিত হয়নি। কিন্তু জাহানারার সঙ্গে আমার এমন ভাব হয়ে গেল যে, একটা ছোট্ট গল্প পর্যন্ত এই ফাঁকে শুনে নিয়েছি।” জজসায়েবের কথায় কোর্টের সবাই হেসে উঠলেন।

    অবশেষে পাঁচদিনব্যাপী যুদ্ধের অবসান হলো। ডক্টর মিত্র আমাদের সঙ্গে টেম্পল চেম্বারে এলেন। চোখ দেখে বোঝা যায় রাতে ঘুম হচ্ছে না। আমাকে চুপি- চুপি জিজ্ঞাসা করলেন, “কেমন বুঝছেন, সত্যি করে বলুন।”

    আমি বললাম, “কালকে রায় বেরিয়ে যাবে। যুদ্ধ সায়েবও কম করেননি। দেখা যাক।”

    পরের দিন সকালে ডক্টর মিত্র, জাহানারাকে সঙ্গে করে চেম্বারে এলেন। জাহানারার চুলে আজ নীল রঙের ফিতে। পরনে অর্গাণ্ডির ফ্রক, বুকের কাছে হনিকুম্ব করা, হাতে একখানা বাংলা বই।

    “তুমি বাংলা জানো?” আমি জাহানারাকে জিজ্ঞাসা করলাম। “বাঃ, আমি তো মামিকে প্রায়ই বাংলা পড়ে শোনাই।”

    যথা সময়ে আমরা হাইকোর্টে ছ’নম্বর ঘরে হাজির হলাম। জজসায়েব এলেন একটু পরে। সামনের সারিতে সায়েব ব্রীফ হাতে বসে আছেন। পাশে বিপক্ষের ব্যারিস্টার। অনেক পিছনে একটা চেয়ারে শেফালী মিত্র। আমাকে কাছে ডেকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন বুঝছেন?” উত্তেজনায় তাঁর হাত কাঁপছে। জাহানারাকে চেম্বারে রেখে এসেছেন। সেখানে সে ছবির বই পড়ছে।

    জজসায়েব তাঁর রায় পড়তে লাগলেন। দু’পক্ষের বক্তব্য তিনি বিশদভাবে আলোচনা করলেন। তারপর জাহানারার চোদ্দ বছরের জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস, এমন কি তার জন্মের পূর্বে রেঙ্গুনে ডক্টর মিত্র ও সোফিয়ার পরিচয় কাহিনীর বর্ণনা দিতে লাগলেন।

    সে-কাহিনী আমাদের ভালোভাবে জানা আছে। আমরা শুধু তাঁর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি। শেফালী মিত্র সামনের চেয়ারটায় হাত দিয়ে জজের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। উত্তেজনায় হাতটা তখনও মাঝে-মাঝে কেঁপে উঠছে। ভাবছেন, জজসায়েব ফলাফলটা আগেই বলে দিতে পারতেন।

    জজসায়েব গার্ডিয়ানস্ এণ্ড ওয়ার্ডস্ এ্যাক্ট-এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। আমি একবার শেফালী মিত্র এবং আর একবার জাহানারার বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছি। সোফিয়া কোর্টে আসেননি। প্যান্ট পরে জাহানারার বাবা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন। শেফালী মিত্র চেয়ারটা আরও সামনে এগিয়ে নিলেন। জজসায়েব টাইপ-করা জাজমেন্ট পড়ে যাচ্ছেন—মামলাটা বিচিত্র। জাহানারার কোনো সম্পত্তি বা গচ্ছিত অর্থ নেই। সুতরাং, নাবালিকার অভিভাবকত্বের জন্য যাঁরা কোর্টে মামলা করতে এসেছেন তাঁদের বৈষয়িক স্বার্থ নেই। তাঁরা দু’জনেই জাহানারাকে ভালোবাসেন, আর কিছু নয়। ফলে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া আমার পক্ষে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। জাহানারার বাবা ও মা’কে অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত করার মতো কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না। অথচ মেয়ের প্রতি আদর্শ পিতামাতার সকল কর্তব্য তাঁরা নিশ্চয় পালন করেননি। অপরদিকে ডক্টর শেফালী মিত্রের ব্যারিস্টার যে কথা বলেছেন, তাঁর মক্কেল হৃদয়ের সমস্ত স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে জাহানারাকে পালন করছেন।

    জাহানারার বাবা ও মা সামাজিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। বেশি লেখাপড়া শেখা, তাঁরা ভালো চক্ষে দেখেন না এবং তাঁরা কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী।

    আমার মনে হয়, এই দোটানায় জাহানারার ভবিষ্যৎ আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয়। তার সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। বালিকা হলেও পৃথিবীর খানিকটা বোঝবার মতো বুদ্ধি তার হয়েছে। জাহানারার সঙ্গে কথা বলে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ক্লাশে ফার্স্ট হয় সে। ভবিষ্যতে সে মস্ত বৈজ্ঞানিক হতে চায়। জগৎকে জানবার আগ্রহ আছে প্রচুর। ডক্টর মিত্রকে সে মা বলে, এবং তাঁকে ছেড়ে যেতে চায় না। শুধু তাই নয়, এখনই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে তার নেই। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমাকে ছোটোখাটো বক্তৃতা সে শুনিয়েছে।

    সুতরাং, জাহানারার অভিভাবকত্ব ডক্টর মিত্রকে দিলাম। তবে আশা করি, মেয়েকে মাঝে-মাঝে, বাবা-মা’র সঙ্গে তিনি মেলামেশা করতে দেবেন।

    জজসায়েব কাগজ বন্ধ করে হাসতে লাগলেন। আনন্দে শেফালী মিত্রের চোখ দিয়ে জল গড়াতে লাগলো। খুব খুশি তিনি। প্রায় নাচতে-নাচতে কোর্ট-ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। মজা করে জিজ্ঞাসা করলাম, “আমাকে তো অনেকরার প্রশ্ন করেছেন, এখন আপনি কেমন বুঝছেন বলুন?”

    “তখন আমার মাথার ঠিক ছিল না। এখন আবার প্রশ্ন করছি, ক’সের সন্দেশ খেতে পারেন বলুন?” আমরা দু’জনে হাসতে লাগলাম।

    জাহানারাকে নিতে ডক্টর মিত্র চেম্বারে এলেন। সায়েব আগেই এসে বসেছিলেন। মেয়েকে কোলে বসিয়ে শেফালী মিত্র অনেকক্ষণ গল্প করলেন। “মেয়েকে নিয়ে আমার কত মুশকিল দেখছেন তো?”

    জাহানারা চুপচাপ এইসব কথাবার্তা শুনছিল। হঠাৎ কপট গাম্ভীর্যের সঙ্গে সায়েব বললেন, “আপনার মেয়ে আমার কাছে মুখ বুজে থাকে, কিন্তু জজের কাছে খুব কথা বলে। আমি কী অন্যায় করেছি?”

    ঘাড় নিচু করে জাহানারা বললে, “না-না।”

    “আর না-না, বেশ দেখতে পাচ্ছি!” সায়েব উত্তর দিলেন।

    “আপনাকে দেখলে ও লজ্জা পায়”, ডক্টর মিত্র বললেন।

    “তা নয়, আসলে আমি যে বুড়ো হয়ে গিয়েছি। মাথায় একটি চুলও নেই। তাই হয়তো…নাঃ, বলবো না। বলার খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু জজসায়েবকে বিয়ে করার বিরুদ্ধে ও যেভাবে বলেছে, তাতে আমার বলতে সাহস হচ্ছে না।” আমরা হাসিতে ফেটে পড়লাম।

    লজ্জায় চোখ বুজে জাহানারা বললে, “ধ্যাৎ!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    Related Articles

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    জন-অরণ্য – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অচেনা অজানা বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    আশা-আকাঙ্ক্ষা – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    চৌরঙ্গী – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }