Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কত অজানারে – শংকর

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়) এক পাতা গল্প336 Mins Read0
    ⤶

    কত অজানারে – ২০

    ২০

    কত অজানারে জানবার সুযোগ দুর্লভ সন্দেহ নেই। এক পরম পুণ্য লগ্নে টেম্পল চেম্বারে এসেছিলাম। দেখতে পেয়েছি জীবনের এক মহা ঐশ্বর্যময় দিক। কোনো পরিশ্রম, কোনো অনুসন্ধান না করে আকস্মিক গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি। যেন আনমনে হাঁটার পথে আচমকা হোঁচট খেয়ে চেয়ে দেখলাম, পায়ের কাছে কলসী বোঝাই মোহর। আনন্দে লাফিয়ে উঠেছি। জমা হয়ে রয়েছে অসংখ্য জীবনের আখ্যান। গতানুগতিকতার নুড়ি পাথরের স্তূপে হীরের মতো চকচক করছে বৈচিত্র্য ও সংঘাতময় জীবন।

    গল্পকার বা শিল্পী নই আমি। মামুলি পড়াশুনা, সাধারণ কৌতূহল আর আটপৌরে অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে এ-পাড়ায় এসেছিলাম। তাই মহত্তর মানবতা বা চিরন্তন মানুষের কোনো সত্য, যাদের দেখেছি, তাদের মধ্য থেকে নিংড়ে আনতে পারিনি। কিন্তু যৌবনের সন্ধিক্ষণে যে অজানা অচেনা মানুষের অন্তহীন শোভাযাত্রা বিস্মিত ও অভিভূত চিত্তে প্রত্যক্ষ করেছিলাম তার ছাপ আজও মনের মধ্যে অটুট রয়েছে। সংসারের অসংখ্য ধোয়ামোছাতেও সে স্মৃতি আজও অস্পষ্ট হয়নি।

    রাণী মীরা, ব্যারিস্টার বোস, শ্রীমতী সুনন্দা, মিস্ ট্রাইটন, হেলেন গ্রুবার্ট, নিকোলাস ড্রলাসদের একদিন যতো নিকট থেকে দেখেছিলাম, আজ তাঁরা ততদূরে সরে গিয়েছেন। আমার স্মৃতির এলবামে পরম যত্নে তাঁদের ছবি সাজিয়ে রেখেছি। সব ছবিই হয়তো সমান উজ্জ্বল নয়। কিন্তু আমার কাছে প্রতিটি ছবির এক বিশেষ মূল্য আছে। হৃদয়ের সঙ্গে স্মৃতির আঠায় তারা যে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

    সব ক’টি কিন্তু আইনের গল্প। তবে ভরসা এই যে, ব্যারিস্টারের বাবুর কাছে লোকে আইনের গল্পই আশা করে। আমিও করতাম একদিন। ছোকাদা ও জগদীশবাবুকে চেপে ধরতাম, গল্প শোনাও। উকিল, ব্যারিস্টার, এটর্নি, জজ, সাক্ষী, মক্কেলের গল্প বলো। তাঁরা বলতেন আইনের গল্প সব সময় ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে ঘর সংসারের আলোচনা করে মুখ পালটিয়ে নিতে হয়।

    তখন বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আইনটা মুখ্য নয়, উপলক্ষ মাত্র। যাদের জন্য আইন তারাই প্রধান। এতোদিন ছিলাম ও-পাড়ায়, এক বিন্দু আইন শিখিনি, কিন্তু জীবনের অনেক শিক্ষা লাভ করেছি। আইনের বিশ্লেষণ জজ- ব্যারিস্টারদের জন্য তোলা থাক। যা দেখেছি মানুষের মাঝে আমি তাতেই ধন্য। বিচারে গলদ কোথায়, কম খরচে আরও দ্রুত মামলা ফয়সালা করা যায় কিনা, পণ্ডিতরা চিন্তা করবেন। ছোকাদার ভাষায়, আমরা জিঞ্জার মার্চেন্ট, জাহাজের খবরে লাভ নেই।

    কিন্তু নদীর ধারে দাঁড়ালে আদার ব্যাপারীও যেমন মাঝে-মাঝে জাহাজ দেখতে পায়, সায়েবের সান্নিধ্যে আমিও তেমনি মাঝে-মাঝে আইনকে দেখেছি। নেপথ্য থেকে প্রত্যক্ষ করেছি বিচার-নাট্য। কোন্ ফাঁকে মক্কেলের জয় পরাজয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেছি নিজের সুখ দুঃখ। আমি তো কেবল বাবু, কিন্তু আমার গোঁ চেপে গিয়েছে জিততে হবে। যে কোনোপ্রকারে আমাদের মক্কেলের জিত চাই।

    ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীট থেকে অনেক দূরে গিয়ে আজ যখন পুরনোদিনের হিসেবনিকেশ করি, প্রশ্ন জাগে আমাদের সব মক্কেলদের দাবিই কি ন্যায়সঙ্গত ছিল? অপরাধ তাদের কেউ-কেউ নিশ্চয় করেছেন। সুতরাং পরোক্ষভাবে অন্যায় সমর্থন করেছি।

    মনে পড়ছে, সায়েব একদিন এ-প্রশ্নের বিশ্লেষণ করেছিলেন। বলেছিলেন, “মার্শাল হলের নাম শুনেছো নিশ্চয়—বিলেতের সর্বযুগের খ্যাতি-সম্পন্ন ফৌজদারী ব্যারিস্টার। তিনি বলতেন, All my geese are swans – আমার সব কানা ছেলেই পদ্মলোচন। আসামীদের পক্ষ সমর্থন করতেন তিনি। ব্রীফ হাতে করলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাতো, মক্কেল নিরপরাধ।”

    কেবল মার্শাল হল নয়, সব-আইনযোদ্ধার ক্ষেত্রে এটি সত্য।

    সকলে পারে না। কিন্তু সায়েব পারতেন। ব্যারিস্টার হয়েও নিস্পৃহভাবে হাইকোর্টের জীবনকে বিচার করতে পারতেন। কত কেস্ এল। বিচার হয়েছে, জজরা রায় দিয়েছেন, ল-রিপোর্টের পাতায় তার খানিকটা ইতিহাস বন্দী হয়েছে। আর কিছুটা আছে সায়েবের মনে।

    বলতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু বোঝবার বিদ্যে আমার ছিল না। তবু সময় পেলেই আমাকে বলতেন আমিও শুনতাম।

    বেলা পড়ে আসছে। ফোর্ট উইলিয়ম থেকে যে দীর্ঘ সুঠাম দেহ নিয়ে সায়েব একদিন টেম্পল চেম্বারে এসেছিলেন, সে-দেহ আর নেই। জীবন-সায়াহ্নে দেহ দুর্বল হচ্ছে। ব্যাধি নয়, জরার আক্রমণে। মন কিন্তু পূর্বের মতো সরল, অনাবিল আনন্দে পরিপূর্ণ। অনেকদিন থেকে তাঁকে দেখছি। পরিবর্তন আসছে কোথাও। অতীতের কাহিনী বলতে পূর্বে এতো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ঠিক ধরতে পারি না, হয়তো আমার মনের ভুল।

    কেননা, মাঝে মাঝে তিনি কৌতুকে উছলে ওঠেন। কখনো বলেন, “চলো পায়ে হেঁটে বেড়িয়ে আসি।”

    গড়ের মাঠে ঘাসের উপর দিয়ে আমরা হাঁটতে আরম্ভ করি। খেয়াল-বশে হাতের ছড়িটা মাঝে মাঝে মাটিতে ঠোকেন। একদল স্কুলের ছেলে ফুটবল খেলছে। দু’দিকে ইঁট দিয়ে গোল তৈরী হয়েছে। সায়েব দাঁড়িয়ে পড়েন। বলেন, “বিনা পয়সার ফুটবল খেলা দেখা যাক।”

    বল নিয়ে ছেলেরা ছুটছে। একজনের পা থেকে বল কেড়ে নেবার চেষ্টা করছে অন্য একজন। আনন্দে একহাতে তিনি মাটিতে ছড়ি ঠোকেন, অন্য হাতটি রাখেন আমার কাঁধে।

    আমরা আরো এগিয়ে যাই। ছেলেরা খেলছে দলে-দলে। বললেন, “আমারও ওদের দলে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। ছোটোবয়সের খেলায় অনেক আনন্দ।”

    দমকা হাওয়ায় মাথার চুলগুলো উড়ছিল। তাদের সংযত করে কিছু বলার আগেই, তিনি বললেন, “চলো এবার ফেরা যাক।”

    ফেরার পথে বিশেষ কথা হয় না। শুধু তিনি এক ফাঁকে জানিয়ে দেন, “ডবল চা খেতে হবে আজকে।”

    চা-এর টেবিলে দেওয়ান সিংকে ডাক দিয়ে বললেন, “আজকে বেজায় খিদে লেগেছে।”

    টোস্টে মাখন লাগিয়ে তার উপর খানিকটা জেলি ছড়িয়ে দেন। “এই মাখন আর জেলি নিয়ে, আমার বাবা ও মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। মা বলতেন, হয় মাখন না হয় জেলি নাও। গেরস্তর সংসারে দুটো চলে না। বাবা বলতেন, ঠিক বলেছো। তবে জেলি ও মাখন আলাদা খেলে দুটো টোস্ট লাগতো। আমি একটাতে কাজ সারছি। সুতরাং তোমার খরচ এতে আরও কম হচ্ছে। লম্বা বেণী হাতে পাকাতে পাকাতে মা রেগে উঠতেন।”

    “বেণী! ইংলন্ডে মেয়েরা বেণী রাখে?”

    “এখন বব ছাঁট। কিন্তু আমাদের মায়েরা সেকেলে। মানুষ। তাঁরা ইয়া বড়ো-বড়ো বেণী রাখতেন।”

    চা খেয়ে উঠে পড়লাম।

    কয়েক দিন পরে চেম্বারে সায়েব বললেন, “আজকাল সকালে রোজ বেড়াতে যাচ্ছি।”

    কেমন লাগছে?” জিজ্ঞাসা করলাম।

    “খুব ভালো, শরীরটা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের হাওয়ায় বেশ চাঙা হয়ে ওঠে।”

    শুনে আনন্দিত হয়েছি। হাঁটা-হাঁটিতে শরীরটা আরও ভালো থাকবে।

    কেস্ ছিল না সেদিন। একটার সময় চেম্বার থেকে তিনি চলে গেলেন। আমাকে বললেন, “ঠিক সাড়ে চারটেতে ক্লাবে এসো, জরুরী কাজ আছে।”

    সকাল-সকাল বাড়ি ফিরবো ভেবেছিলাম। কিন্তু হবে না। নিশ্চয় কোনো নতুন কেস্ আসছে।

    ঠিক সাড়ে চারটেতে হাজিরা দিলাম। ঘরে ঢুকতেই সায়েব বললেন, “আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”

    একটা রোগা ছেলে ময়লা জামা ও হাফপ্যান্ট পরে চেয়ারে বসে আছে। তার হাতে একটা রঙীন ছবির ম্যাগাজিন। আমার দিকে একবার তাকিয়ে সে আবার ছবি দেখতে লাগলো।

    যখন সাহেব বললেন, এই ছেলেটির জন্য আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন তখন ভয়ঙ্কর রাগ হলো। ইংরেজি ভালো বোঝে না, আমাকে দোভাষীর কাজ করতে হবে।

    জরুরী কাজের এই নমুনা! মনের মধ্যে রাগ গুমরে উঠছিল। বাজে লোকের জ্বালাতনে বিরক্ত হয়ে উঠছি। দিনকয়েক আগে চেম্বারে মিসেস বার্ড এসেছিলেন। সাঙ্গে গোটাতিনেক বাচ্চা। মিস্টার বার্ড লরি ড্রাইভার। মদের ঝোঁকে ছিল সেবারে, লরির তলায় একটা ছেলে চাপা পড়লো। ছ’মাসের জেল। সাহেব আপীল করেছিলেন কিছু হয়নি। স্বামী জেলে, মিসেস বার্ড চেম্বারে এসে বসে থাকেন। সংসার চলে না। একটা ছেলে কোলে শুয়ে থাকে। আর দুটো বেজায় ছটফটে। বড়োটা টাইপরাইটার নিয়ে খটখট্ করতে আরম্ভ করে। তাকে আটকাতে গেলে, ইতিমধ্যে অন্যটি র‍্যাক থেকে কাগজ বার করে ছিড়তে আরম্ভ করে। সায়েবকে বলেছি, কিন্তু তিনি খেয়াল করেন না।

    “ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ছেলেটির সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বেড়াচ্ছিলাম, ও এসে আমার ছড়ি ধরে টানছিল। কথা বুঝতে পারিনি, তাই আজকে আসতে বলেছি।” সায়েব বললেন।

    নাম বাসুদেব ধাড়া। বয়স পনেরো, দেখলে মনে হয় এগারো। শীর্ণ দেহের উপর মোটা মাথা, ঠিক যেন কাঠির ওপর আলুর দম। প্রশ্নোত্তরে জানলাম, যশোর জেলায় বাড়ি। এখানে এক দর্জির দোকানে জামার বোতাম লাগায় এবং পরিবর্তে দু’বেলা খেতে পায়, থাকে আরও বড়ো জায়গায়—নিউ মার্কেট! দর্জির ব্যবসা ভালো চলছে না, তাই তাড়িয়ে দিয়েছে।

    শুনে সায়েব বললেন, “হুঁ।”

    তিনি মিনিটখানেক ভাবলেন। তারপর বললেন, “কিন্তু বড্ড রোগা। অল্রাইট। ক্লাবের মেশিনে ওর ওজন নিয়ে এসো।”

    “চাকরি খুঁজছে ও। ওজনে কী হবে?”

    “না-না ওজন নিয়ে এসো। আমার প্ল্যান আছে।”

    “বাহাত্তর পাউন্ড।”

    “ওনলি বাহাত্তর! সকালে….না সকালে হবে না। বিকালে তুমি রোজ চা খেতে আসবে। ওজন বাড়াতে হবে।” তিনি বাসুদেবকে বললেন।

    “চা খেলে ওজন বাড়ে?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

    “না-না যতোদিন না বিরাশি পাউন্ড হচ্ছে বাটার ও জেলিটা আমরা খাবো না।”

    মুখ কুঞ্চিত করে তিনি বললেন, “ঠিক করে ফেলেছি। ওজন না বাড়লে অন্য কোনো চিন্তা করবো না।”

    বাসুদেব রোজ বিকেলে চা খেতে আসে। যাবার সময় সায়েব তাকে একটা টাকা দেন। রবিবার দেখা হয় না বলে, শনিবার দু’টাকা দেন।

    এক শনিবারে ক্লাবে গিয়েছি। দেড়টা বাজে। বাসুদেব বসে আছে। সায়েব লাঞ্চে গিয়েছেন।

    একটু পরে তিনি ফিরলেন। দরজাটা বন্ধ করে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে তিনি বললেন, “চুপ।”

    সন্তর্পণে এগিয়ে এসে ফিস-ফিস্ করে বললেন, “বামাল সমেত পালিয়ে এসেছি! ধরতে পারেনি।”

    ভয়ে পেয়ে গেলাম। বামাল মানে?

    বললেন, “পকেটেই আছে।” তারপর পকেট থেকে একটা আপেল বার হলো। “লাঞ্চ টেবিলে ডিসে দেওয়ামাত্রই চারিদিকে আড়চোখে তাকিয়ে টপ করে সরিয়ে ফেলেছি।” আপেলটা বাসুদেবকে দিয়ে বললেন, “ঠিক হ্যায়, দু’মিনিটে বেমালুম গায়েব করে দাও আপেলটা।”

    হাসতে-হাসতে পেটে ব্যথা ধরে গিয়েছিল।

    “খবরের কাগজ বিক্রি করবো ভাবছি,” বাসুদেব একদিন সায়েবকে বললে।

    বেজায় খুশি তিনি। “এই তো চাই। চেষ্টা না থাকলে কিছু হয় না।”

    জামা জুতো কিনে দিলেন। “স্মার্ট না হলে কেউ কাগজ কিনবে না।”

    প্রথমদিন বাসুদেব মুখ শুকনো করে ফিরলো। সারাদিন মাত্র দু’খানা বিক্রি হয়েছে। কাপে চা ঢাললেন সায়েব, বেশি করে দুধ মিশিয়ে বাসুদেবের দিকে এগিয়ে দিলেন। “প্রথম দিনে দু’খানা বিক্রি খারাপ নয়। তোমার কি মত?” আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন।

    “মন্দ নয়। ক্রমশ বাড়বে”, উত্তর দিলাম।

    কি ভাবে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে অনেক আলোচনা হলো। আধ ঘন্টা ধরে তিনি বাসুদেবকে উপদেশ দিলেন।

    কিন্তু কিছুতে পাঁচখানার বেশি বিক্রি হয় না। চা-এর টেবিলে বাসুদেবের বিক্রির সংখ্যা জানবার জন্য আমরা অধীর হয়ে বসে থাকি। “আজ ক’খানা?”

    “চারটে।”

    শুনে আমার মুখের দিকে তিনি তাকালেন। কপাল কুঞ্চিত করে বললেন, “কাল রাত্রে ভাবছিলাম। এতোদিনে কারণটা বুঝতে পেরেছি।”

    “কি কারণ?”

    “মোজা দরকার। আরও স্মার্ট হতে হবে, তবে বিক্রি বাড়বে।”

    হাসি চেপে রাখতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো।

    আসলে গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে অনেক কাগজওয়ালার ভিড়। নতুন লোককে তারা ভালো চোখে দেখে না। চোখ রাঙায়, অকারণে তেড়ে যায়। সায়েব কিন্তু নিরুৎসাহ হন না। বিকেলে চা-এর কাপ সামনে রেখে অপেক্ষা করেন। ক্রিকেট টেস্টের খবর নেওয়ার মতো ঘরে ঢুকতেই জিজ্ঞাসা করেন, “হাউ মেনি?”

    শরীর ভালো যাচ্ছে না তাঁর। একমাসে দু’বার অসুখে পড়লেন। সম্পূর্ণ সেরে না উঠতেই মাদ্রাজ যেতে হবে। সেখানে একটা মামলা অনেকবার নানা অজুহাতে পিছিয়ে, এবার পাকা দিন পড়েছে।

    যাবার আগে বাসুদেবকে দশটা টাকা দিয়ে তিনি বললেন, “দশদিন পরে ফিরছি।”

    মালপত্রের লগেজ কম নয়। দু’ট্রাঙ্ক বই নিয়ে হাওড়া স্টেশনে গেলাম। মাদ্রাজ মেল ছাড়তে দেরী আছে। সঙ্গে দেওয়ান সিং যাচ্ছে। বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় সাহেব বই পড়তে লাগলেন। আমি তাঁর ঠিক সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। কোন্ ফাঁকে জানলা দিয়ে দৃষ্টি বাইরে চলে গিয়েছিল। হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে বুঝলাম আমার দিকে তিনি তাকিয়ে রয়েছেন। বইটা মুড়ে পাশে রেখেছেন। চোখ নামিয়ে নিলাম।

    “সাবধানে থেকো। চেম্বারের খবরাখবর আমাকে লিখো। আমিও চিঠি দেবো।”

    মাদ্রাজ মেল ছেড়ে দিলো। শেষ বগিটার পেছনের লাল আলোটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

    চেম্বারে রোজ যাই। বেয়ারাকে সেখানে বসিয়ে হাইকোর্টে যাই। বার- লাইব্রেরীর সামনে বেঞ্চিতে বসে গল্প করি। বেঞ্চিতে অনেক নতুন মুখ। বিভূতিদার সঙ্গে প্রথম যাদের দেখেছিলাম, তাঁদের অনেকেই নেই। লোক পাল্টিয়েছে। কিন্তু বেঞ্চির রূপ পাল্টায়নি। ঠিক আগের মতো সব কিছু। ছোকাদাকে মনে পড়ছিল। তাঁর কৈশোরে হাইকোর্টের রূপ একই ছিল। আরও আগে হাইকোর্ট কেমন ছিল জানি না। কেউ লিখে যাননি তখনকার কথা। সে যুগের বাবুদের জানতে ইচ্ছে করে। জানতে ইচ্ছে করে তাঁদের সায়েবদের। এই একই বেঞ্চিতে বসে বাবুরা হয়তো সুখ দুঃখের গল্প করতেন। বার-লাইব্রেরীর ভিতরেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু কেদারবাবুর কাজ বাড়ছে। নতুন বই আসছে প্রতিমাসে। র‍্যাকগুলো উঁচু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মইটাও বড় করতে হচ্ছে।

    বাসুদেব এসেছিল চেম্বারে। মাদ্রাজের খবর নিতে। চিঠি আসেনি এখনো।

    কয়েকদিন পরে চিঠি এল। পেন্সিলে লেখা দেওয়ান সিং-এর চিঠি। সায়েবের শরীর ভালো নেই, লাঞ্চের আগে কোর্ট থেকে ফিরে এসেছেন।

    মনটা খারাপ। চেম্বারে হাজিরা দিয়ে হাইকোর্টে গেলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে মক্কেলদের দেখছিলাম। চিনি না তাদের, কিন্তু তাদের মতো অনেককে দেখেছি। লোকটা হয়তো জিতবে, ফিরে যাবে আনন্দে। কিংবা ভাগ্যে রয়েছে দুঃখময় পরিণতি।

    দুঃখের প্রতি স্বাভাবিক টান আছে নাকি আমার? প্রশ্ন করি নিজেকে। বেদনার উপলব্ধিকে আমি কিছুতে এড়াতে পারি না। প্রেমের নয়, আমার জন্য বিষাদের ফাঁদই পাতা আছে ভুবনে ভুবনে। তাই বিষাদের মধ্যেই আনন্দ সন্ধানের চেষ্টা করি। যারা আসে এখানে, তারা আনন্দ নিয়ে আসে না। সমস্যার সমাধানেও আনন্দ ফিরে পায় না অনেকে। জিতটা হয় হারের সামিল। কিন্তু আমাদের অর্থাৎ বাবুদের বেদনার উপলব্ধি ক্ষণিকের। আমরা উপভোগ করি হাইকোর্টের প্রতিটি মুহূর্ত। আমাদের সায়েবরা যখন কোর্টে কোমর-বেঁধে ঝগড়া করেন, আমাদের মক্কেলরা যখন রুদ্ধ নিঃশ্বাসে ফলাফলের প্রতীক্ষা করেন, তখন আমরা গল্প করি, বিড়ি চেয়ে খাই, তহুরির খবর নিই। আর সায়েবরা? তাঁরাও তো কোর্টের ঝগড়াঝাঁটিটা কোর্টের মধ্যেই সেরে আসেন। বাইরে ভাই-ভাই।

    জজ সায়েবরা? বলতে পারবো না। দূর থেকে সসম্ভ্রমে তাঁদের দেখেছি। এক-এক সময় মনে হয়েছে তাঁরা মানুষ নন। অন্য কিছু। বিচারের দাঁড়ি-পাল্লায় অতি সাবধানে সর্বদা ন্যায় অন্যায় ওজন করে চলেছেন। লিখছেন পাতার পর পাতা, বই হয়ে ছাপা হচ্ছে সে-সব, দপ্তরীরা বাঁধাচ্ছে। এক কপি কেদারবাবু লাইব্রেরীতে সাজিয়ে রাখছেন।

    চেম্বারে তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে গেলাম। পরের দিন তালা খুললাম ঠিক সময়ে।

    পিয়ন এসেছে। টেলিগ্রাম! দেওয়ান সিং-এর টেলিগ্রাম; গতকাল গভীর রাতে সজ্ঞানে সায়েব চোখ বুজেছেন। তিনি ফিরবেন না।

    সেই দিনই আর একটা চিঠি পেলাম সায়েব নিজের হাতে লিখেছেন—

    ‘শংকর,

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে নার্সিং হোমে এসেছি। বিশেষ চিন্তা করো না। এখন বেশ ভালো মনে হচ্ছে। তবে কলকাতায় ফিরতে আরও কয়েকদিন দেরি হবে।

    চিঠির উত্তর দিও, আর বাসুদেব ক’খানা কাগজ বিক্রি করেছে জানাতে ভুলো না।

    ভগবান তোমার মঙ্গল করুন।

    ইতি”

    কাঁদিনি। একটু কাঁদিনি। নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি। এক ফোঁটা জল আসছে না চোখে। বজ্রাঘাতে জল যেন পাথর হয়ে গিয়েছে।

    শেষ। শেষ হয়ে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসের এক অধ্যায়। আমারও। চোখ বুজেছেন শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার। ইতি পড়েছে আমারও জীবনের এক অধ্যায়ে।

    আইন-পাড়ায় আর নয়। চাকরি পেলেও নয়। এখানে থাকতে হলে পাগল হয়ে যাবো। আবার পথে বেড়িয়ে পড়তে হবে। হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে।

    শেষবারের মতো চেম্বারের দরজা বন্ধ করে ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটে দাঁড়িয়েছিলাম। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে টেম্পল চেম্বার। স্মৃতির পর্দায় সিনেমা ছবির মতো অসংখ্য দৃশ্য ভেসে উঠছে।

    বিভূতিদার হাত ধরে ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটে আসবার প্রথম দিনটি মনে পড়ছে। লালরঙের হাইকোর্ট-বাড়িটার বিশালতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেদিন সেই অচেনা জগৎকে ভালোবাসতে পারিনি—ছিল ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধার উপলব্ধি। তারপর পরিচয়ের সূর্যকিরণে ভয়ের মেঘ কেটে গিয়েছে। ছোটো হয়ে এসেছে বিশাল প্রাসাদটি। একতলা, দোতলা, তিনতলার প্রতিটি ঘর প্রতিটা থাম চিনেছি। তবুও অজানা রয়ে গিয়েছে চৌদ্দ আনা। দু’আনা জানবার আগেই শেষ হয়েছে সময়, ছিন্ন হয়েছে বাঁধন।

    যে জীবনকে দেখেছি তার কিছুই বলা হয়নি।

    ভাবীকালের কোনো ঐতিহাসিক ভারতের এই প্রাচীনতম ধর্মাধিকরণের প্রামাণিক ইতিহাস নিশ্চয়ই রচনা করবেন। ইতিহাসের উপাদান রয়েছে যথেষ্ট। হাইকোর্টের রেকর্ড রুমে জমা হয়ে রয়েছে অসংখ্য দলিল, অগণিত নথিপত্র। ভাবীকালের ঐতিহাসিক সেই স্তূপ থেকে উদ্ধার করবেন কত অজানা তত্ত্ব ও তথ্য। আমি ঐতিহাসিক নই। ইতিহাসের কোনো উপাদানও রেখে যেতে পারলাম না।

    কিন্তু পূর্ণচ্ছেদ টানবার আগে একটি ছোট কাহিনী মনে পড়ছে। সায়েবই বলেছিলেন আমাকে।

    এই শতাব্দীর প্রারম্ভে লন্ডনের এক এক্স-রে ছবির প্রদর্শনীতে তিনি গিয়েছিলেন। বেজায় ভিড়। নতুন রশ্মির অবিশ্বাস্য ক্রিয়াকলাপ দেখতে অনেকে এসেছেন। সায়েবের পাশে দাঁড়িয়ে এক চীনা ভদ্রলোকও ছবি দেখছিলেন। সায়েবের বয়স তখন খুব কম। বালকসুলভ চপলতা-বশে অজানা ভদ্রলোকটিকে তিনি বলে, ফেললেন, “কী আশ্চর্য, এই আলোতে দেহের প্রতিটি হাড় পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে!” দার্শনিক গাম্ভীর্য নিয়ে চীনা ভদ্রলোকটি তার দিকে তাকিয়ে, উদাসভাবে বললেন, “Yes my boy. But only bones. Unfortunately it does not show your heart.” (হ্যাঁ, তা সত্যি। কিন্তু কেবল হাড়। এতে হৃদয় দেখা যায় না)।

    ঠিকই বলেছিলেন চীনা ভদ্রলোকটি এবং আশা করি, আমিও অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে কেবল আইনের অন্তরস্থিত অস্থিকে খুঁজে বেড়ানোর অপরাধ করিনি।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    Related Articles

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    জন-অরণ্য – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অচেনা অজানা বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    আশা-আকাঙ্ক্ষা – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    চৌরঙ্গী – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }