Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কত অজানারে – শংকর

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়) এক পাতা গল্প336 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কত অজানারে – ৫

    ৫

    আইনপাড়ায় জীবনটা মন্দ কাটছিল না। কয়েকমাসের ভিতর কত লোকের সঙ্গে চেনা জানা হলো। এটর্নিদের পরিচয় এখন আমার মুখস্থ, তাঁদের নাম শুনলেই বলে দিতে পারি ক’ নম্বরে আপিস। ছোকাদার সাহায্য না পেলে এত সহজে নিশ্চয়ই পোক্ত হয়ে উঠতে পারতাম না।

    ছোকাদা প্রশ্ন করতেন, “বলো দিকিনি মুখুজ্যে-বিশ্বাস।” উত্তর দিতে একটু দেরি হলে তিনি বলেন, “এর মধ্যে ভুলে গেলে, কাল বলে দিয়েছি, দশ নম্বর।”

    ব্যারিস্টার সুব্রত রায়ের বাবু পাঁচুগোপাল ব্যস্ত লোক আমাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুনছিলেন মন দিয়ে। তিনি বলে দিলেন, “কতক জিনিস, বিশেষ করে এটর্নিদের নাম-ঠিকানাটা নামতার মতো মুখস্থ করে ফেলো; কাজে লাগবে।”

    মুখস্থ করতে আমার মোটেই আপত্তি নেই। সুতরাং প্রচুর আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে ব্যারিস্টারের বাবু হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা চলতে লাগলো।

    চেম্বারের সায়েব-ভীতিটাও ক্রমশ কেটে যাচ্ছে। বিলিতি উচ্চারণ এখন আর অবোধ্য ঠেকে না। কয়েকদিন কোর্টে সায়েবকে কেস্ করতেও দেখে এসেছি। বেশিরভাগ মামলা আইনের জটিলতায় কণ্টকিত। কিছু বুঝিনি, এবং বোঝার চেষ্টাও বিশেষ করিনি। বেয়ারা মোহনচাঁদ আমার থেকে হাইকোর্টের খবর অনেক বেশি জানে। পণ্ডিতের মতো ঘাড় নেড়ে সে আমাকে জানিয়ে যেত, আজকের কেসে সায়েবের জিত হয়েছে, কিংবা কেস এখনও শেষ হয়নি, আগামীকাল চলবে।

    কোর্টে কাজ না থাকলে সায়েব ভিতরে বসে পড়াশুনা করেন। আমি তাঁর ঘরের বাইরে বসে টাইপ করি। সায়েবের সঙ্গে কারুর দেখা করতে হলে আমার সামনে দিয়ে যেতে হয়।

    ভয়ঙ্কর গরম পড়েছিল ক’দিন। পুরোদমে পাখা চালিয়ে দিয়ে টাইপ করে যাচ্ছিলাম। এমন সময় কে যেন জিজ্ঞাসা করলে, “সায়েব ভিতরে আছেন নাকি?”

    আগন্তুকের দিকে চেয়ে দেখলাম। এমন বিচিত্র বেশভূষা সচরাচর চোখে পড়ে না। বিলিতি আদবকায়দা, কিন্তু প্যান্টে অন্তত ডজনখানেক তালি। শার্টের কলার ফেটে প্রায় জামা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। জামাটি শেষ কবে কাচা হয়েছে ভগবান জানেন। তেল ও ঘামে টাইটা যে রঙ ধারণ করেছে তা বর্ণনা করার মতো ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না। জুতো ক‍্যাম্বিশের হলেও অসংখ্য চামড়ার তালিতে প্রায় চামড়ার জুতোর রূপ নিয়েছে।

    এমন লোককে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া ঠিক হবে কিনা ভাবছি। সাধারণত ভিক্ষার জন্য এই ধরনের লোক আপিসে আপিসে হানা দেয়।

    আগন্তুকের মুখের দিকে আবার তাকালাম। শরীরে কোথাও মাংসের লেশমাত্র নেই। একটা দীর্ঘ কঙ্কাল যেন চামড়া দিয়ে ঢাকা। কিন্তু এই শ্রীহীনতার মধ্যেও দাড়ি নিখুঁতভাবে কামানো।

    হাতের জীর্ণ এটাচি কেসটা খুলতে খুলতে আগন্তুক বললে, “আমি সায়েবের বন্ধু।”

    অতি কষ্টে হাসি সংবরণ করতে হলো।

    আমাকে নির্বাক দেখে লোকটা তীব্র দৃষ্টিতে আমার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সামনের চেয়ারে বসলো। এটাচি কেসের ভিতর বিরক্তভাবে হাত চালিয়ে একটা কার্ড বার করলো। কার্ডটিও মালিকের মতো বহু ব্যবহারে মলিন।

    কার্ড পড়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। তাতে লেখা—

    “বি. কে. বোস, বি.এ. (ক্যান্টাব),
    ব্যারিস্টার-এট-ল”

    ইনি ব্যারিস্টার? অসম্ভব! চৌরঙ্গী অঞ্চলের সিনেমা হাউসগুলির সামনে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ভিখারির গোষ্ঠীভুক্ত বলে যাকে আন্দাজ করেছিলাম তিনি কিনা ব্যারিস্টার! ওল্ড পোস্ট আপিস স্ট্রীটে কাজ করতে এসে বহু ব্যারিস্টার দেখেছি, অনেকের সঙ্গে ইতিমধ্যে পরিচয় হয়েছে। তাঁদের অনেকের ভালো পসার, দু’হাতে টাকা রোজগার করেন; আবার কেউ হয়তো ছ’মাসে একবার গাউন পরেন। তবু সকলেরই চালচলনে, বেশবাসে আভিজাত্যের ছাপ লক্ষ্য করেছি। কিন্তু ব্যারিস্টার বোসের এরি রূপ!

    আমার অনুমতির জন্য অপেক্ষা না করে ব্যারিস্টার বোস ভিতরে ঢুকে গেলেন।

    “এই যে বোস, অনেকদিন কোন খবর নেই কেন?” চেয়ার থেকে উঠে যখন সায়েব বোসকে অভ্যর্থনা করলেন, তখন আমার সন্দেহ নিরসন হলো, লোকটা সত্যই তাঁর পরিচিত।

    “নানা কাজে ব্যস্ত থাকি, আসা হয়ে ওঠে না।” বোস উত্তর দিলেন।

    আমাকে ডেকে সায়েব চায়ের ব্যবস্থা করতে বললেন।

    “শরীর কেমন?”

    বোস উত্তর দিলেন, “বেশ ভালোই আছি। শরীরে মেদ থাকলেই সুস্থ এবং না থাকলেই অসুস্থ, এমন কোন নিয়ম নেই।”

    দু’জনের আলাপ-আলোচনা অনেকক্ষণ চলল। আমার চেয়ার থেকে সে- সব স্পষ্ট শোনা না গেলেও, মিস্টার বোসের ইংরেজি কথনের অপূর্ব ভঙ্গিমায় বেশ আশ্চর্য বোধ করলাম।

    সায়েবের ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যারিস্টার বোস আমার কাছে এলেন। সামনের বেঞ্চিতে পা তুলে ক্যাম্বিসের জুতোর ফিতেটা আঁট করে নিলেন। তারপর এটাচি কেস্ নিয়ে বিদায় নিলেন।

    “বোসকে দেখলে?” সায়েব জিজ্ঞাসা করলেন।

    উত্তর দিলাম, “হ্যাঁ”।

    কথার ভঙ্গিতে হয়তো সায়েব আমার মনের কথা বুঝলেন। তাই বললেন, তোমাদের শাস্ত্রেই বলে পুরুষের ভাগ্য স্বয়ং দেবতার অজ্ঞাত, মানুষ তো ছার। এমন এক দিন ছিল যখন আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারতাম না বোসকে এই বেশে দেখতে হবে কোনোদিন।”

    আর কিছু বললেন না তিনি। একটা চিঠি টাইপ করতে দিয়ে বোসের প্রসঙ্গ চাপা দিলেন।

    ব্যারিস্টার বোসের দারিদ্র্যক্লিষ্ট কঙ্কালসার চেহারাটি ক্রমশ আমার খুব পরিচিত হয়ে উঠল। এটাচি কেস্ হাতে তিনি চেম্বারে আসেন। সেই তালিমারা প্যান্ট, তেল চিটচিটে শার্ট ও টাই; সেই ক্যাম্বিসের জুতো, সেই একই ভঙ্গিতে এটাচি কেস্ ও ব্রীফের বান্ডিল নামিয়ে জিজ্ঞাসা—”সায়েব ভিতরে আছেন?” এবং ভিতরে প্রবেশ ও সায়েবের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা ও প্রস্থান।

    ইদানীং প্রায়ই চেম্বারে আসছিলেন তিনি। আগে মাসে একবারের বেশি দেখা হতো না। কিন্তু সময়ের ব্যবধান কমতে কমতে সপ্তাহে দু’তিনবার হাজিরা দিতে লাগলেন ব্যারিস্টার বোস।

    ফলে সায়েবের কাজে ক্ষতি হয়। গল্পে বসলে মিস্টার বোস সহজে উঠতে চান না। কেসের কাগজপত্র ফেলে সায়েবকেও কথা বলতে হয়। আড়ালে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। দুপুরবেলায় সময় নষ্ট করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে যাঁর একঘণ্টার মূল্য বেশ কয়েক মোহর।

    “বোসের কি কোনো কাজকর্ম নেই?” একদিন সায়েবকে জিজ্ঞাসা করলাম।

    ম্লান হেসে তিনি বললেন, “বেচারা ব্রীফ পায় না।”

    “কিন্তু ওঁর হাতে তো সর্বদাই ব্রীফের বান্ডিল থাকে।”

    সায়েব আবার হাসলেন। “ওগুলো বাসি ব্রীফ। পড়লে দেখবে একটারও বয়স কুড়ি বছরের কম নয়। ডাক্তারদের স্টেথিস্কোপের মতো ব্যারিস্টারদের ব্রীফ হাতে রাখতেই হয়, মক্কেল থাক আর না থাক।”

    ব্রীফ রহস্য আমার জানা ছিল না। নতুন জ্ঞান সঞ্চয়ে তাই মনে মনে বেশ ধাক্কা খেলাম।

    আর একদিন বোস এটাচি কেস্ ও ব্রীফের বান্ডিলটা আমার টেবিলে রেখে সায়েবের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। একটু পরে সুইং ডোরের ফাঁক দিয়ে দেখলাম, বোস কয়েকটা নোট পকেটে রাখছেন। বলছেন, “মেনি থ্যাঙ্কস। এখন উঠি, অনেক কাজ পড়ে আছে।”

    “কাজ থাকলে এখানে সময় নষ্ট করতে বলতে পারি না।” সায়েবের উত্তর কানে এল।

    ভারিক্কি চালে গটমট করে বোস বেরিয়ে গেলেন।

    টাকার পরিমাণটা জানতাম না, সায়েবও বলেননি আমাকে। কিন্তু বোসের ঘন-ঘন আবির্ভাবে, অর্থনৈতিক দিক থেকে সায়েব যে লজ্জিত হচ্ছেন তা বুঝতে পারি। বোস এসেই চাপা গলায় কিছুক্ষণ কথা বলেন, এবং সায়েব পকেট থেকে টাকা বার করে দেন। মুখে কিছু বলতে পারেন না।

    শেষে একদিন আমি বললাম, “বোস এবার এলে আভাসে খানিকটা বুঝিয়ে দেব।” নিজের পক্ষে সেটি সম্ভব নয় বলেই সায়েব প্রথমে কিছুতে রাজী হন না, কিন্তু পরে নিতান্ত অনিচ্ছা সহকারে মত দিলেন।

    একদিন সকালে বোস এলেন। এটাচি কেস্টা নামিয়েই জিজ্ঞাসা করলেন, “সায়েব আছেন?”

    কথাটা কিভাবে পাড়বো, পূর্বাহ্ণেই মনে-মনে রিহার্সাল দিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু বোসের চালচলন ও ব্যবহারে এমন একটা প্রখর ব্যক্তিত্ব আছে যে, ঘটনাস্থলে

    সব গোলমাল হয়ে গেল। সঙ্কোচ বোধ করতে লাগলাম।

    যথাসম্ভব মনোবল সঞ্চয় করে বললাম, “হ্যাঁ আছেন, তবে কাজে ব্যস্ত। যদি কিছু মনে না করেন, আপনার কী প্রয়োজন এই স্লিপটিতে লিখে দিন।”

    চমকে উঠলেন বোস। উত্তেজনায় থর-থর করে তাঁর দেহ কাঁপতে লাগল। “কি বললেন? স্লিপ? স্লিপ দিয়ে দেখা করতে হবে!”

    প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। আকস্মিক আঘাতে তাঁর সুপ্ত আত্মসম্মানবোধ জেগে উঠেছে। তিনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যে, চোখ নামিয়ে নিলাম। মনে হলো যেন অসংখ্য রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ আমার ভিতরে প্রবেশ করে সবকিছু দেখে নিচ্ছে। প্রস্তুত হয়ে রইলাম, অপ্রীতিকর কথা শুনতেই হবে তাঁর কাছে।

    কিন্তু পরমুহূর্তেই পরিবর্তন। শান্ত হয়ে গিয়েছে তাঁর মুখমণ্ডল। চোখের আগুন দপ করে জ্বলে উঠেই নিবে গিয়েছে।

    কোনো কথা নয়। এটাচি কেস্ ও ব্রীফের বান্ডিলটা হাতে তুলে তিমি দরজার দিকে পা বাড়ালেন। লজ্জিতকণ্ঠে বললাম, “চলে যাচ্ছেন কেন?”

    মুখ ফিরিয়ে তিনি আর একবার তাকালেন। চোখ কুঞ্চিত করলেন, কিন্তু উত্তর দিলেন না। শুধু তাঁর দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাওয়ার, শব্দ কানে বাজতে লাগলো।

    আমি বিমূঢ়! সম্বিত ফিরে এলে বেদনা বোধ করলাম। ব্যারিস্টার বোসকে অপমানের উদ্দেশ্য আমার ছিল না।

    যথাসময়ে সায়েবকে সব বললাম। শুনে তিনি নির্বাক নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন। মনের গোপন কোণে তিনি আঘাত পেয়েছেন, লজ্জিত হয়েছেন। সামনের একখানা মোটা আইন বই-এর দিকে শূন্য দৃষ্টিপাত করে তিনি বললেন, “ বোস চলে গেল? নাঃ, খুব অন্যায় করেছি।”

    আমি বললাম, “কোন রূঢ় কথা বলিনি তাঁকে।”

    সায়েব আমার মুখের দিকে তাকালেন। “সে-কথা বলছি না। অপরাধ আমারই।”

    তাঁর মনের আকাশে বিষণ্ণ মেঘ ক্রমে-ক্রমে জমে উঠছিল। বোধ করি তাই তিনি ধীরে ধীরে ব্যক্ত করলেন বোসের কাহিনী। হাতে কাজ ছিল, সেগুলো পাশে সরিয়ে রেখে বললেন, “এসব তো রোজই আছে।”

    “তোমাকে আগে বলিনি, বোস আমার বহুদিনের পরিচিত, সে আমার সহপাঠী।”

    “আপনার সহপাঠী?” ধিক্কারে মাটিতে মিশিয়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিল আমার।

    “হ্যাঁ।”

    “আশ্চর্যভাবে পরিচয় হয়েছিল তার সঙ্গে। ছাত্রজীবনের কথা। বেশ ছিল দিনগুলো।”

    আমি শুনছি, সায়েব বলছেন—

    তখন আমরা কেমব্রিজে পড়ি। ওখানকার কয়েকজন দুষ্টু ছাত্র বুলডগ নামে যত রাজ্যের গোলমেলে খবরে বোঝাই এক পত্রিকা বার করত। কাগজটিকে ভয় করত না, এমন লোক কেমব্রিজে ছিল না। মাসের তিন তারিখে ছাত্র শিক্ষক সকলে তটস্থ; বুলডগ কাকে কামড় দিয়েছে, কে জানে।

    আমাদের নিজেদের ছোট্ট একটি সাহিত্য আসর ছিল। বুলডগের নজর সেটির উপরও পড়ল। আসরের কীর্তিকাহিনী ব্যঙ্গ করে বুলডগে যে লেখা প্রকাশিত হল তাতে ছাত্রসমাজে আমাদের মুখ দেখানো দায় হয়ে উঠল। এমন কি আসর ভাঙবার দাখিল। ভয়ঙ্কর রেগে একদিন সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে চললাম। সম্পাদক জন ক্রফোর্ড আমাদের পাশের কিংস কলেজের ছাত্র। উত্তেজনার মাথায় বেশ কিছু শুনিয়ে দিলাম তাকে। ক্রফোর্ড হেসে বললে, “প্রবন্ধটি বিশেষ – প্রতিনিধি লিখিত। একটু অপেক্ষা করলেই লেখকের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে।”

    কিছুক্ষন পরে এক সুদর্শন যুবক ঘরে প্রবেশ করল। মিষ্টি হাসিতে সারা মুখখানি ভরে আছে। গৌরকান্তি। কালো কুচকুচে চুল। নিখুঁত বেশবাস। হাতের চওড়া কব্জি দেখলেই বোঝা যায় স্পোর্টসম্যান।

    ক্রফোর্ড পরিচয় করিয়ে দিলে, “এই নিন আপনার লেখক। যা-কিছু বলার একেই বলুন। মিস্টার বোস, সেন্ট জনের ছাত্র। ইন্ডিয়া থেকে পড়তে এসেছেন।” আমি স্তম্ভিত। ইংরেজি যার মাতৃভাষা নয়, সে এমন সুন্দর লিখতে পারে। বিদেশে পড়তে এসে মাথায় এত দুষ্টুমি বুদ্ধি খেলে!

    রাগ দেখানোর সুযোগই দিলে না বোস। বললে, “বন্ধ ঘরের মধ্যে ঝগড়া করা আমার পোষায় না। এসব খোলা মাঠে জমে ভালো।”

    সম্মোহনী শক্তি আছে বোসের। প্রতিবাদ করতে পারলাম না। ক্রফোর্ডের ঘর থেকে বেরিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে ‘বায়রনস্ পুলে’র ধারে হাজির হলাম আমরা। কতদিনের প্রাচীন স্মৃতি। ছাত্রাবস্থায় লর্ড বায়রন এই পুকুরের সামনে বসতেন, কখনো ছেলেমানুষের মতো ক্রীড়াচ্ছলে ঝাঁপিয়ে পড়তেন জলে।

    পুকুরপাড়ে বসে আমরা বায়রনের দিনের কথা ভাবছিলাম। বোস বক্তা, আমি শ্রোতা।

    সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে আমরা উঠে পড়লাম। হঠাৎ মনে পড়লো ঝগড়া করার জন্য এসেছিলাম আমরা।

    বোস নিজেই বললে, “বাক্যুদ্ধটা আজ হলো না। ঠিক আছে, তোলা রইল। আর একদিন আসুন, সুদে আসলে ঝগড়া করা যাবে।”

    ঝগড়ার দিনটা ক্রমশ পিছিয়ে গিয়েছে এবং শেষপর্যন্ত তামাদি। হাতাহাতি করতে এসে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব। বোসের আড্ডা-সভার আমি অন্যতম মেম্বার।

    বাবার একমাত্র সন্তান বীরেন বোস, বন্ধুবান্ধবের পিছনে দু’হাতে টাকা খরচ করে। একা কিছু খাওয়া, একা থিয়েটারে যাওয়া বোসের কল্পনার অতীত। কোথাও পিকনিক হবে, খাবারের দায়িত্ব সে জোর করে নিজের উপর নেবে। পাঁচটা কি দশটা টাকা আজ তার কাছে কত মূল্যবান অথচ একদিন কথায়-কথায় সে দু- তিন পাউন্ড খরচ করেছে।

    বোস ছবি আঁকে, ঘোড়ায় চড়ে। ছুটির দিনে বন্দুক কাঁধে শিকারে বার হয়। অব্যর্থ তার লক্ষ্য। সারাদিন জলা-জঙ্গলে ঘুরে সন্ধ্যার আগে যখন সে ফেরে, তার ঝুলিতে তখন বেশ কয়েকটা বন্য পাখি। গুন-গুন করে সে নিজের ভাষায় গান গাইতো। আমরা বুঝতাম না, তবু ভালো লাগতো। বোসের ইস্টেলে ঘরের এক কোণে একটা ছোট্ট কটেজ-পিয়ানো ছিল। কত সন্ধ্যায় তার বাজনা শুনেছি। সে উঠে এসেছে, আমি বাজাতে আরম্ভ করেছি। বাজনায় বিভোর হয়ে সময় ভুলে গিয়েছি। তারপর হঠাৎ দূরে ট্রিনিটি কলেজের ভারী পুরুষালী স্বরের ঘণ্টা শুনে চমকে উঠেছি, রাত অনেক। বোস তখনো বিভোর, সুরের মূর্ছনায় সম্পূর্ণ মগ্ন। কোনোদিন বা কাব্যচর্চা—বায়রন, শেলী কিংবা কীটস্।

    বীরেন বোসের আর এক রূপ ছিল। কলেজের পড়াশুনোর বাইরের যত রাজ্যের দুষ্টুমি বুদ্ধি তার মাথায় খেলে যায়। কোনো মতলবের প্রয়োজন হলে বন্ধুবান্ধবরা তার পরামর্শ নিতে ছুটে আসে। বোস বলতো, “ভেবেছিলাম বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি শিখে দেশে প্র্যাকটিস করবো। এখন দেখছি ইচ্ছে করলে এখানেই ব্যবসা ফাঁদতে পারি।”

    বোসের বহু কীর্তির মধ্যে একটি আজও বেশ মনে পড়ে। ডক্টর ডেভিস ছিলেন ল্যাটিনের প্রধান অধ্যাপক। তাঁর পাণ্ডিত্যের খ্যাতি জগৎ-জোড়া। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে যা হয়, অধ্যাপক হিসেবে তিনি একেবারে ব্যর্থ। মানুষ হিসাবে কিন্তু তাঁর তুলনা হয় না। অবিবাহিত অধ্যাপকের সংসারে কোনো আকর্ষণ নেই। ছাত্রদের কিসে উপকার হয়, কিভাবে তাদের সাহায্য করা যায়, এই চিন্তায় তিনি ডুবে থাকেন। ছাত্রমঙ্গলের অদম্য আগ্রহে অধ্যাপক ডেভিস মাঝে মাঝে উদ্ভট কিছু করে বসতেন।

    একবার ডক্টর ডেভিসের মাথায় ঢুকলো যে, তাঁর ছাত্রদের জ্যাম ও জেলির পিছনে অনেক খরচ করতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে মনস্থির! সুলভ মূল্যে জেলি তৈরি করতে হবে। ল্যাটিনের অধ্যাপক আহার নিদ্রা ত্যাগ করে জেলি তৈরির বিভিন্ন মসলা নিয়ে রান্নাঘরে রাতের পর রাত কাটাতে লাগলেন। কটু গন্ধে চার দিক ভরপুর হয়ে উঠল। অধ্যাপকের কিন্তু খেয়াল নেই। মোটা মোটা বই নিয়ে তিনি রান্নাঘরে বসে আছেন, আর সামনের কড়াইয়ে জেলি তৈরি হচ্ছে। কোনো বাধা তিনি মানবেন না। বাজারে জেলির পিছনে ছাত্রদের অপচয় বন্ধ করতেই হবে।

    অবশেষে অধ্যাপক ডেভিসের জেলি আন্ডার গ্রাজুয়েট বাজারে বেরুলো। অতি সুলভ মূল্য মাত্র এক পেনিতে এক শিশি। তিনি নিজে প্রত্যেক হস্টেল ঘুরে দেখতে লাগলেন, ছাত্ররা এখনও অন্য জেলি কিনে পয়সা নষ্ট করছে কিনা।

    অধ্যাপক ডেভিসের জেলি স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। মুখে দিলে বমি হওয়ার উপক্রম। প্রতিবাদে ফল নেই, কারণ অধ্যাপক ডেভিসের জেলি ‘হাইজিনিক’, রসনা তৃপ্ত না হলেও আখেরে ফল দেবে।

    জেলির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কয়েকজন ছাত্র অবশেষে বোসের শরণাপন্ন হলো।

    মন্ত্রণাপরিষদের বৈঠক বসতো গোপনে। আমরা কিছু জানতে পারিনি।

    দিন দশেক পরে সমস্ত কেমব্রিজ শহর সেদিনের প্রভাতী সংবাদ-পত্রে অবাক হয়ে এই বিজ্ঞাপনটি পড়লো :

    “কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাটিনের প্রধান অধ্যাপক আমি, ডক্টর জন ডেভিস এতদ্বারা সর্বসমক্ষে বিখ্যাত জেলি প্রস্তুতকারক মেসার্স কাইলার এন্ড কোম্পানীর নিকট উক্ত কোম্পানীর ছাপামারা শিশিতে নকল জেলি বিক্রয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি ও অঙ্গীকার করিতেছি যে, ভবিষ্যতে কখনও এরূপ কাজ করিব না।”

    পরে অনুসন্ধান করে সমস্ত জানলাম। অধ্যাপক ডেভিস জেলি তৈরির পর খেয়াল করলেন যে, জেলি রাখার জন্য কোনো শিশি আনা হয়নি। তাঁর ঝি তখন কাছাকাছি হস্টেলে যত খালি শিশি ছিল নিয়ে আসে। দুর্ভাগ্যক্রমে শিশিগুলো কাইলার এন্ড কোম্পানীর নামাঙ্কিত। এই খবরটুকুই কাইলার এন্ড কোম্পানীকে জানিয়ে দেওয়ার বুদ্ধি বোস সেদিন দিয়েছিল।

    কেমব্রিজের পাঠ শেষ করে আমরা দু’জনেই ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডনে এলাম। আমি গেলাম ইনার টেম্পলে, বোস লিঙ্কনস্ ইনে। বেশিরভাগ ভারতীয় ছাত্র লিঙ্কনস্ ইনে যেত সেই সময়।

    বোসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কমে এল, তবে একেবারে সম্পর্কচ্ছেদ নয়। পত্রালাপ তো ছিলই, তাছাড়া ছুটি-ছাটায় সে আমার ফ্ল্যাটে আসতো। আমিও মাঝে-মাঝে তার কাছে যেতাম। বোস আতিথ্যের কোনো ত্রুটি রাখতো না। খাওয়া-দাওয়া, এমন কি প্রায়ই থিয়েটারের টিকিট কাটা। কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করিনি— সেই চিরপরিচিত সদাহাস্যময় আনন্দের প্রস্রবণ। আমরা গল্প করেছি, কবিতা পড়েছি, আর শুনেছি সুন্দরবনের জঙ্গলে বোসের বাবার শিকার কাহিনী।

    ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধির কাজ পেয়ে এক ছুটির সময় আমাকে জার্মানি যেতে হলো। সমস্ত জার্মানি পরিভ্রমণ করে মাস কয়েক পরে লন্ডনে ফিরে এলাম। ইতিমধ্যে বোসের সংবাদ রাখতে পারিনি, তাই সুযোগ পেয়েই দেখা করতে গেলাম। প্রথম দর্শনেই চমকে উঠলাম। বোসকে একেবারে অন্য মানুষ মনে হচ্ছে! আগেকার মতো আমাকে দেখে সে উল্লাসে চিৎকার করে উঠলো না। মুখে চোখে অত্যধিক গাম্ভীর্যের ছাপ। বেশ অস্বস্তি বোধ হতে লাগলো। মামুলি কথাবার্তার পর সেদিনের মতো বিদায় নিলাম।

    সপ্তাহখানেক পরেই এক সন্ধ্যায় বোস আমার ফ্ল্যাটে দর্শন দিলো। রাতের মতো তাকে থেকে যেতে বললাম। বোস আপত্তি করল না।

    ইতিমধ্যে ব্যারিস্টারি পরীক্ষায় দু’জনেই সাফল্য লাভ করেছি। ডিনার সেরে আমরা ফায়ার প্লেসের সামনে এসে বসলাম। দু’জনের মুখে পাইপ। প্ৰথমে কোনো কথা নেই। শুধু পাইপের ধোঁয়ায় ড্রইং রুমের আলোটা ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। বাইরে বেজায় শীত, ফায়ার প্লেসে আগুন গন গন করছে। বোস অবশেষে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে জিজ্ঞাসা করলে, ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আমি কী প্ল্যান করছি। বললাম, এখনও ঠিক করে উঠতে পারিনি, খুব সম্ভবত ব্যারিস্টারি করবো না।

    আলোচনা জমে উঠলো। বিষয় অনেক—কেমব্রিজের ছাত্রজীবন, আমার জার্মানি ভ্রমণ, ইত্যাদি। হঠাৎ বোস বলে উঠল, “আজ কেন এলাম জানো?”

    “না, কেন?”

    বোস গম্ভীর হয়ে উঠলো। একটু থেমে বুকপকেট থেকে একটা ছবি বার করে আমার সামনে ধরলো, “চিনতে পারো?”

    চিনতে না পারার কারণ নেই। বোস যাঁদের বাড়িতে পেইং গেস্ট সেই মিস্টার এন্ড মিসেস ডেবেনহামের মেয়ে এমিলি।

    বোসের পকেটে এমিলি ডেবেনহামের ছবি! আমি অবাক।

    আরও অবাক হলাম, যখন আমার পিঠে একটা হাত রেখে বোস বলল, “এমিলিকে বিয়ে করছি।”

    “কংগ্রাচুলেশনস্। এই তো বীরোচিত কার্য। করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম।

    নিতান্ত ঠাণ্ডাভাবে বোস তার হাতটা এগিয়ে দিলো। পাইপের ধোঁয়া ছেড়ে বললো, “আমাদের দেশে বাপ-মায়ের অমতে বিয়ে করাটা রীতি নয়। হয়তো অনেক গঞ্জনা সইতে হবে। মা বেঁচে থাকলে কান্নাকাটি করতেন, কিন্তু তিনি অনেককাল চোখ বুজেছেন। বাবা? সে যা হয় হবে।”

    “হোস্টের মেয়েকে ভালোবাসার মধ্যে থ্রিল আছে।” আমি বোসকে উৎসাহ দিলাম।

    “সত্য কথা।” এক মুখ ধোঁয়া ছাড়লো বোস। “আমাদের মতো গোঁড়া দেশেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।”

    সেদিন বোসের মুখে তোমাদের কচ ও দেবযানীর গল্প শুনেছিলাম। সুন্দর কাহিনী। সর্বদেশের শিষ্য ও গুরুকন্যাদের কাহিনী। গুরুগৃহে শিক্ষা সমাপ্ত করে বিদায় নেবার কাল সমাগত। কচ গুরুকন্যা দেবযানীর সঙ্গে শেষ দেখা করতে এলেন। “দেবযানী আমার যাবার সময় হয়েছে, তাই দেখা করতে এলাম।” মধুকণ্ঠে দেবযানী জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার সকল অভিলাষ পূর্ণ হয়েছে তো?” প্রশ্নের ইঙ্গিত কচ ধরতে পারলেন না। তাই বললেন, “হ্যাঁ সুন্দরী, আমার জীবন কৃতার্থ আমার সকল আশা চরিতার্থ।” অভিমানিনী গুরুকন্যা তখন মনে করিয়ে দিলেন, “হে উদারদর্শন যুবক, ভেবে দেখো কত ঊষায়, কত জ্যোৎস্নায়, কত অমানিশায় এই পুষ্পগন্ধঘন বনে তুমি আমার প্রতি সলজ্জ দৃষ্টি হেনেছে। সে কি আমি দেখিনি? আমার হৃদয়ও কি সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে ওঠেনি?”

    পৃথিবীর সকল কচ ও দেবযানীর উপাখ্যান অভিশাপ বর্ষণে শেষ হয় না। কচের প্রশস্ত ও উষ্ণ বক্ষে ব্রীড়াবিধুরা দেবযানীরা অনেক সময় ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্তত বীরেন বোস ও এমিলি ডেবেনহামের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

    তবুও আমার কেমন আশ্চর্য মনে হয়েছে। এমিলি ডেবেনহাম কুৎসিত না হলেও সুন্দরী নন। একদা কেমব্রিজে এই বীরেন বোস অনেক সুন্দরী ইংরেজ তরুণীর জীবনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে এসেছে। আমি অন্তত দুজনের কথা নিশ্চিত জানি। নিউনহাম কলেজের বেরিল ও ভেরনিকার পাশে এমিলি সৌন্দর্য ও বংশ-গৌরব কোনোটাতেই দাঁড়াতে পারে না। আগুনের দিকে পতঙ্গের মতো তারা দু’জনেই বোসের দিকে ছুটে এসেছে। বোস বাধা দেয়নি। একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে, কাফেতে মুখোমুখি বসে গল্প করেছে, বড় বড় চিঠি লিখেছে। তারপর বেরিল হিউম তাকে মনের কথা জানিয়েছে। বীরেন নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভেরনিকা সাদারল্যান্ডও একই ভুল করেছিল। মরমে আঘাত পেয়েছে সে বীরেনের কাছে। চোখের জলে রুমাল সিক্ত করেছে ভেরনিকা। নির্বিকার চিত্তে বীরেন বলেছে, জীবনটা স্পোর্টসম্যানের মতো নিতে হবে, সেন্টিমেন্টাল হয়ে লাভ নেই।

    কেমব্রিজের প্রত্যাখ্যান ও আজকের আকস্মিক আত্মসমর্পণের কোনো যুক্তি খুঁজে পাইনি। কারণ অনুসন্ধান ছেড়ে দিয়েছি ব্যর্থ হয়ে। প্রবোধ দিয়েছি মনকে, বোসের ভালো লেগেছে এমিলিকে, সেই যথেষ্ট। গিয়েছি বীরেন বোস ও এমিলি ডেবেনহামের বিয়েতে।

    কিছুদিন পরেই সস্ত্রীক বীরেন বোস ভারতবর্ষের পথে রওনা হলো।

    বোম্বাই থেকে বীরেন আমাকে শেষ চিঠি লিখেছিল, জানিয়েছিল কলকাতায় পৌঁছে আবার চিঠি লিখবে।

    ব্যারিস্টারি ও সাংবাদিকতার মধ্যে টানা-পোড়েন চলছিল, কোন পথে যাব তখনো ঠিক করে উঠতে পারিনি। পাকাপাকি কোনো ব্যবস্থার আগেই মহাযুদ্ধ

    বেধে গেল। অন্য অনেকের মতো কলম ছেড়ে বন্দুক ধরতে হলো আমাকে। ফলে বোসের কোনো সংবাদ নেওয়া হয়নি।

    যুদ্ধজীবনের অনেক কথা। কিন্তু সে-সব এখন থাক। যুদ্ধ শেষে অক্সফোর্ড ও বাকিংহামশায়ার রেজিমেন্টের কর্নেল রূপে ভারতবর্ষ পাড়ি দেবার হুকুম হলো। এক সপ্তাহের নোটিশে লন্ডন থেকে বোম্বাই।

    টিলবেরী ডক থেকে যে জাহাজে চড়েছিলাম সেটি আমাদের একদিন বোম্বাইয়ে নামিয়ে দিল।

    তারপর বোম্বাই থেকে ফৈজাবাদ। কয়েক বছর সেখানে কাটিয়ে কলকাতা। ফোর্ট উইলিয়াম থেকে হাইকোর্ট এমন কিছু দূর নয়। মাঝে মাঝে আসতাম এই পাড়ায়, দর্শক হিসেবে। ভাগ্যের লিখন, কয়েকজন বিচারক বন্ধুর উপদেশে সৈন্যবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে, ব্যারিস্টারি আরম্ভ করলাম এখানে।

    ভুলেই গিয়েছিলাম বোসকে।

    হাইকোর্টের করিডরে একদিন কে যেন আমার নাম ধরে ডাকলো, “হ্যাল্লো কেমন আছো? সারপ্রাইজিং তোমার আবির্ভাব!” চেহারা দেখে চিনতে পারিনি, গলার স্বরে বুঝতে পারলাম, বীরেন বোস। আমার দোষ নেই। কেমব্রিজের বীরেনের সঙ্গে আজকের বীরেনের একটুও সাদৃশ্য নেই। শরীর শুকিয়ে কাঠ, কাঁচা সোনার রঙ তামার মতো ম্যাড়ম্যাড় করছে। অস্বাভাবিক ক্লান্তিময় মুখচ্ছবি।

    আনন্দে জড়িয়ে ধরলাম বোসকে। “হ্যাল্লো, সত্যি সারপ্রাইজিং! কলকাতা থেকে চিঠি লেখার প্রতিশ্রুতি রাখোনি তুমি। কেমন আছো? এমিলি কেমন? অসুখ হয়েছিল নাকি?” এক ঝাঁক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম তার দিকে।

    “না, অসুখ করেনি।” অন্য প্রশ্নের উত্তর দিল না সে। কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে বললে, “আজ খুব ব্যস্ত আছি, চললাম।”

    পুরনো বন্ধু, কতদিন পরে দেখা। এমন কী তাড়াতাড়ি থাকতে পারে যে পাঁচ মিনিট কথা বলা চলে না। ভালো লাগলো না আমার। সত্যি বলতে আপত্তি নেই, নিজেকে অপমানিত মনে হচ্ছিল।

    সময়মতো খোঁজ নিলাম বোস সম্বন্ধে। কিন্তু যা শুনলাম তাতে আমার রাগ করবার কিছু রইল না। একটা পয়সা রোজগার করতে পারে না বোস। কোনো পসার নেই তার। তোমরা যাকে বলো ব্রীফহীন ব্যারিস্টার। ব্যারিস্টার বোসের নাম শুনলে এটর্নিরা মুখ টিপে হাসে।

    বোসের মতো প্রতিভাবান ছাত্র আদালতে ব্যর্থ। এ এক রহস্য। রহস্যমোচনের উপায় খুঁজে পেলাম না। লোককে জিজ্ঞাসা করলে বলে, “বীরেন বোস? রাবিশ! অকম্মা!”

    চিঠি লিখলাম বোসকে। একদিন ডিনারে এসো। কোনো উত্তর দিল না। অসৌজন্যে, আঘাত পেলেও, কিছুদিন পরে আবার চিঠি লিখেছি। উত্তর নেই।

    একদিন বিকেলে টাউন হলের সামনে হঠাৎ বোসকে দেখতে পেলাম। ধরলাম তাকে। “আজ ছাড়ছি না। সঙ্গে চলো।”

    বোস বললে, “কাজ আছে। এখন যেতে পারবো না।”

    প্রতিবাদে কান না দিয়ে একপ্রকার জোর করেই তাকে বাড়িতে নিয়ে এলাম। “ডিনারের আগে ছাড়ছি না”, বোসকে বলে দিলাম।

    চা পর্ব শেষ না হতেই সন্ধ্যা নেমে এসেছে। ঘরে কেবল আমরা দুটি প্রাণী বেতের চেয়ারে মুখোমুখি বসে আছি। কোনো কথা নেই। মনে পড়ছিল অনেকদিন আগে লন্ডনের এমনি এক সন্ধ্যার কথা। সেদিন আমাদের আলোচনায় প্রাণ ছিল। প্রাণের আনন্দে দু’জনের কথা চলেছিল। আজ আমাকে জেরা করে উত্তর বার করতে হচ্ছে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বোস কিছুই বলবে না।

    ডিনার শেষে আমরা খোলা বারান্দায় এসে বসলাম। আধো অন্ধকারে সামনের টবের ফুলগাছগুলো ভালো দেখা যাচ্ছে না। চাঁদের স্তিমিত আলো এসে পড়েছে বারান্দার এক কোণে। বোস বায়রন থেকে আবৃত্তি করছিল। তারপর ধীরে ধীরে তার জীবনের অনধীত অধ্যায়টি আমাকে শোনাতে আরম্ভ করলো।

    বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন অধ্যায়, কয়েকঘণ্টা লেগেছিল শুনতে।

    .

    বিলাতফেরত মেম-বিয়ে-করা ছেলেকে বীরেন বোসের বাবা বাড়িতে স্থান দেননি, তবে বলেছিলেন, “অন্য কোথাও থাকো, যা খরচ লাগে দেব।”

    বুঝেসুঝে চলতে হয় বীরেন বোসকে। তার বাবা খরচ দিতে প্ৰতিশ্ৰুত হলেও, পরিমাণটা বেঁধে দিয়েছেন। মোটেই ভালো লাগছে না এমিলির। টাকা আনা পাই-এর সূক্ষ্ম হিসেব করে জীবনটাকে নষ্ট করার জন্য সে লন্ডন ছেড়ে আসেনি।

    এর নাম কলকাতা। লন্ডনের এমিলি কলকাতা দেখে একেবারে হতাশ। রঙিন স্বপ্নজাল বুনেছিল সে ইন্ডিয়ার জীবন সম্বন্ধে। এমিলি ভেবেছিল স্বামী তাকে রাজপ্রাসাদে রাখবেন, দামী মোটরে রোজ রেড রোডে হাওয়া খেতে নিয়ে যাবেন, ছুটিতে কলকাতা ছেড়ে গোপালপুরে সমুদ্রতীরে তারা রঙিন ছাতার তলায় শুয়ে থাকবে, কিংবা লুকোচুরি খেলবে মুসৌরী ও ডালহৌসি পাহাড়ের কোণে কোণে।

    স্বপ্নভঙ্গজনিত আঘাতটা কাটাবার জন্যই ক্লাবে যেত এমিলি। প্রথমদিকে আটটার মধ্যে এমিলি বাড়ি ফিরতো। একঘণ্টা এগিয়ে ফেরার সময় ন’টায় দাঁড়ালো। তারপর দশটা। এগারোটা। অনেকরাতে যখন সে ক্লাব থেকে ফেরে মদে বেহুঁশ, শিথিল বস্ত্রবাসে ট্যাক্সি থেকে ঘর পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ক্ষমতা থাকে না।

    উচ্ছৃঙ্খলতার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছে এমিলি। বোস বাধা দিতে অনেক চেষ্টা করে। আদর করে বুঝিয়ে বলে, “ক্লাবে যেও না, আর গেলেও সকাল সকাল ফিরবে।” এমিলি মুখ বেঁকায়—”আমি কি তোমার হিন্দু ওয়াইফ যে, ঘরের কোণে প্যাকিং বাক্সের মতো পড়ে থাকবো?”

    তবুও বোস হতাশ হয় না; এমিলির কটূক্তি অসুস্থ প্রিয়জনের প্রলাপ মনে করার চেষ্টা করে।

    দিন কাটে। বোসেরও জীবনের শ্যামলতা, সরসতা শুকিয়ে আসে। বোসের মনে হয় সব মেকি, সর নিরর্থক। এমিলির ক্লাব-বিল ও ফ্ল্যাশের টাকা মেটাতেই তার শোচনীয় অবস্থা। এমিলি আরও টাকা চায়। টাকা ছাড়া অন্য কোনো সম্বন্ধ নেই স্বামীর সঙ্গে।

    গল্প উপন্যাসে যা পড়া যায়, এক্ষেত্রেও প্রায় সেইরকম ঘটলো। অশান্তিক্লিষ্ট বীরেন বোসও অন্য পাঁচজনের মতো ধ্বংসের পথে পা বাড়ালো। নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা না পেয়ে সে মিতালি পাতালো মদের পেয়ালার সঙ্গে।

    বড় ব্যারিস্টার হবার সকল গুণই ছিল তার। তবুও কিছু হলো না। সিদ্ধির জন্য প্রয়োজন একাগ্র সাধনা, একনিষ্ঠ পরিশ্রম। সেই কারণেই সংসারে শান্তি পুরুষের পক্ষে অপরিহার্য। বাইরে জীবনদেবতার সঙ্গে যুদ্ধের অনুপ্রেরণা ও উদ্যম অন্দরমহল থেকে আসা চাই, নচেৎ বীরেন বোসের মতো অবস্থা। নিম্নতর প্রতিভা নিয়ে বোসের সমসাময়িক অনেকে কোর্টে সুনাম ও অর্থের অধিকারী হলেন। তাঁরা যখন মক্কেলের মামলা হৃদয়ঙ্গম করার জন্য ব্রীফের পাতায় লাল ও নীল পেন্সিলের দাগ দেন, বোস তখন মদের ঝোঁকে লাল ও নীল রঙের খেলা দেখে। তাঁরা যখন প্রয়োজনীয় নজিরের সন্ধানে কিংসবেঞ্চ, কুইন্সবেঞ্চ ও এ-আই-আরের পাতা তল্লাশী করেন, রোস তখন বায়রনের পাতা ওল্টায়।

    প্রথমদিকে বোস ব্রীফ পায়নি এমন নয়। কিন্তু সেদিকে মোটেই খেয়াল ছিল না তার। কোর্টেই যায় না অর্ধেক দিন। এটর্নিরা ঠেকে শিখেছেন। কোর্টে ডাক হয়েছে অথচ ব্যারিস্টার বোসের দেখা নেই। এটর্নি মহলে এসব খবর চাপা থাকে না। অন্য এটর্নিরা সাবধান হয়ে গিয়েছেন।

    থোড়াই তোয়াক্কা করে বোস, মদ নিয়ে ব্যস্ত সে। এমিলির অন্তরে সামান্যতম দায়িত্বজ্ঞানের উদয় বোসকে নিশ্চিত পতন থেকে রক্ষা করতে পারতো। কিন্তু তা হবার নয়। বোসের বাবা ভাগ্যবান, ছেলের অধঃপতন চোখে দেখার আগেই তিনি চোখ বুজেছেন।

    এমিলি ও বীরেন কেউ কারুর খবর রাখে না। লাট্টুর মতো এমিলি ও বীরেন নিজেকে কেন্দ্র করেই পাক খাচ্ছে। এমিলি কখনও ফেরে গভীর রাতে, কখনও বা রাত কাটিয়ে ভোরবেলায়। বীরেন বোস ড্রইংরুমের সোফায় পড়ে থাকে। খালি মদের বোতল মেঝেতে গড়াগড়ি যায়।

    অনেক আগে যা ঘটা উচিত ছিল তা ঘটলো দেরিতে। কলকাতার কাছাকাছি এক পাটকলের জনৈক ইংরেজ-নন্দনের কণ্ঠলগ্না হলো এমিলি। এবং যথাসময়ে তারই অঙ্কশায়িনী হয়ে প্রস্থান করলো স্বদেশে।

    সময়ের গতিতে বোসও একদিন সম্বিত ফিরে পেলো। নেশার ঘোর কেটে গিয়েছে। চোখ খুলে দেখলো, সর্বস্বান্ত সে। পৈতৃক বাড়িটি ছাড়া সবই লোকসানের অঙ্কে। কেবল লাভ হয়েছে যকৃতের ব্যাধি। অনুতপ্ত বোস নতুন জীবনযাপন করতে মনস্থ করলো। পূর্ণ উদ্দীপনা নিয়ে ব্যারিস্টারি করার সঙ্কল্প এবার। কিন্তু ইতিমধ্যে সঙ্কল্প ও সিদ্ধির মধ্যে অনতিক্রম্য ব্যবধান রচিত হয়েছে। ব্রীফবিহীন ব্যারিস্টারদের পাকা খাতায় বীরেন বোসের নাম ইতিপূর্বেই লেখা হয়ে গিয়েছে। অপ্রকৃতিস্থ মদ্যপকে কোনো এটর্নি কেস দিতে চান না। মক্কেলের স্বার্থ তাঁকে দেখতে হবে তো! ফলে এগারোটা থেকে চারটা পর্যন্ত বার লাইব্রেরীতে দিবানিদ্রা ছাড়া বোসের আর কিছু করার রইলো না। বন্ধ্যা নারীর সন্তানলাভের মতো বীরেন বোসের ব্রীফ লাভ স্বপ্নেই রয়ে গেল।

    পত্রপুষ্পেভরা বৃক্ষে শীতের আগমনে ক্ষয় শুরু হয়, একে একে ঝরে পড়ে প্রতিটি পাতা। শুধু শাখাপ্রশাখার দল কঙ্কালের মতো বীভৎস রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বীরেন বোসেরও তাই। তার জীবনযাত্রার ব্যারোমিটারের পারা ক্রমশ নিচের দিকে নামতে লাগলো। র‍্যাঙ্কিনের তৈরি স্যুট ছাড়া পরতো না বীরেন। র‍্যাঙ্কিন ছেড়ে ওয়াছেল মোল্লা। সেখান থেকে হাওড়া হাটের জামা। সে জামাতেও তালি পড়তে লাগলো একের পর এক। মোটর ছেড়ে ট্যাক্সি ধরলো বীরেন বোস। ট্যাক্সি ছেড়ে বাস্।

    একটানা বলে যাচ্ছিলেন সায়েব। আমি শুনে যাচ্ছিলাম নীরবে। একটা প্রশ্ন পর্যন্ত করিনি। ডুবেছিলাম কাহিনীর অতলে। সায়েব থামতে, আমিও যেন জেগে উঠে নড়ে চড়ে বসলাম। মাথার ভিতর অদ্ভুত অদ্ভুত চিন্তা তালগোল পাকাচ্ছে। জানতে পেরেছি একটা বিচিত্র জীবনকে। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি বীরেন বোস যেন একটা নয়। ছেঁড়া ও নোংরা জামাকাপড় পরা বীরেন বোস, কেমব্রিজের বীরেন বোস একটা সারির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যিখানে আরও অনেকগুলো বীরেন বোস, বিভিন্ন রূপ ও বয়স তাদের।

    সায়েব আবার বললেন, “বোস কিন্তু কখনও আমার কাছে হাত পাতেনি। প্রকারান্তরে বুঝতে পেরে আমিই কিছু কিছু দিয়েছি।”

    “তাই নাকি? ভিক্ষা চায়নি বীরেন বোস!”

    “বোসকে আমি জানি। আর কখনও সে আসবে না।” সায়েব উঠে পড়লেন।

    বেশ মনে আছে, সেদিন বিকেলে চেম্বার থেকে ডালহৌসি যাচ্ছিলাম, ওখান থেকে বাড়ি ফিরবার বাস মিলবে। কাউন্সিল হাউস স্ট্রীটে পড়েই দেখি যে, আমার কয়েকগজ সামনে বোস শালপাতার ঠোঙা হাতে ছোলামটরসিদ্ধ চিবোতে চিবোতে চলেছেন। ভাবলাম, ছুটে গিয়ে ক্ষমা চাই। বলি, আমাকে ভুল বুঝবেন না।

    না যাবো না। হয়তো লজ্জা পাবেন! চলার বেগ কমিয়ে দিয়ে দু’জনের দূরত্ব আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিলাম। একমনে ছোলা চিবোচ্ছেন তিনি, আমি পিছন থেকে দেখছি। ডালহৌসির মোড়ে হাজির হলাম আমরা; সেখানে শালপাতাটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, ব্রীফের বান্ডিল বাঁ বগলে চেপে ধরে একটা চলন্ত ধর্মতলামুখো সেকেন্ড ক্লাস ট্রামের কামরায় উঠে পড়লেন ব্যারিষ্টার বোস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    Related Articles

    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    জন-অরণ্য – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অচেনা অজানা বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    অবিশ্বাস্য বিবেকানন্দ – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    আশা-আকাঙ্ক্ষা – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    চৌরঙ্গী – শংকর

    November 20, 2025
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)

    নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি – শংকর

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }