Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কন্যা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    লেখক এক পাতা গল্প155 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. কান্তি ও কান্তিমতী

    ইন্দ্রসভার নর্তক-নর্তকীদেরও নাচতে নাচতে তাল কেটে যায়। ইন্দ্র তাদের শাপ দিয়ে বলেন, ‘যাও, মানুষ হয়ে জন্মাও।’ তখন স্বর্গ হতে বিদায়।

    কিন্তু কেন তাল কেটে যায়? কারণ তাদের হৃদয় আছে। ঠিক মানুষের মতো। হৃদয় যদি বশ না থাকে চরণ কী করে বশ মানবে! তখন গন্ধর্বলোক থেকে নরলোকে অবতরণ।

    কান্তির জীবনেও এমন এক দিন এল যেদিন তার মনে হল তার নৃত্যের তাল কেটে যাবে। যাবে মীনাক্ষীরও। একঘর দর্শকের সুমুখে অপদস্থ হবে তারা দু-জনে। ধরা পড়বে সমঝদারদের চোখে। একালের ইন্দ্ররাজ তেমন কোনো শাপ দেবেন না, তবু শাপভ্রষ্ট হবে তারা অন্যভাবে। নাটবেদি থেকে অকালে অবসর নেবে। আর নৃত্য করবে না।

    মীনাক্ষী যদি অন্যপূর্বা না হত তা হলেও কান্তি তাকে নিয়ে রাসমঞ্চ থেকে প্রস্থান করত না। কান্তির জীবনের পরিকল্পনায় নিত্য রাস। মীনাক্ষী যদি তার সঙ্গে নৃত্যে যোগ দিতে চায় তবে লক্ষ রাখতে হবে যাতে তাল কেটে না যায়। মীনাক্ষীর কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি নেই। সে মর্ত্যসুখী। শাপকেই সে বর মনে করে। সে অপ্সরা নয়, মানবী।

    সংকটে পড়ল কান্তি। জনান্তিকে বলল, ‘মীনু, যারা নাচবে তারা ভালোবাসবে না। এই তার অলিখিত শর্ত।’

    মীনাক্ষী লজ্জিত হল। বলল, ‘যে রাঁধে সে কি চুল বাঁধে না?’

    ‘কী জানি! আমার তো আশঙ্কা হয় একদিন তাল কেটে যাবে। তখন নৃত্য থেকে অপসরণ। কী নিয়ে আমি থাকব তার পরে! বিয়ে আমার কুষ্ঠিতে লেখেনি। তা ছাড়া বিয়ে করতে চাইলেও দুস্তর বাধা।’

    ‘কিন্তু তাল কেটে যাবেই-বা কেন? যদি-বা যায় তবে নৃত্য থেকে অপসরণ কেন? আর যেসব কথা বললে তার প্রশ্নই ওঠে না। ভালোবাসলেই বিয়ে করতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? আমি তো ভাবতেই পারিনে।’

    কান্তির এত চিন্তা, কিন্তু মীনাক্ষীর একটুও নেই। তার জীবনে যেন বসন্ত এসেছে। দেখতে দেখতে তার তনুমন পল্লবিত মুকুলিত পুষ্পিত প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তাল কেটে যাবে বলে তার পরোয়া নেই। ধরা পড়ার ভয়ে হৃৎকম্প নেই। নাটবেদি থেকে অবসর নিলে তার পরে কী নিয়ে থাকবে এ বিষয়ে হুঁশ নেই। তার জীবনের কোনো পরিকল্পনাই নেই। ফুল ফুটলে ঝরে পড়ে। সেও ঝরে পড়বে যখন বসন্ত ফুরোবে। যখন ভালোবাসা মিটবে।

    ওদিকে কান্তির ভিতরে অবিরাম বোঝাপড়া চলছিল। দিনের পর দিন যারা রাধাকৃষ্ণ সেজে নাচবে তাদের দু-জনের সম্বন্ধটা আসলে কীরকম হবে? শুধু মঞ্চের সম্বন্ধ! হৃদয়ের নয়? আত্মার নয়? তারা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নিখুঁত আঙ্গিকে অভ্রান্ত পদক্ষেপে নাচবে, কিন্তু নাটবেদির বাইরে বাঁচবে না, ভালোবাসবে না? সেখানে তারা পর? তারা পরকীয়?

    নিতান্ত অপরিচিতাকেও যে মাসি পিসি দিদি বলে ডাকে, নেহাত নিঃসম্পর্কীয়ার সঙ্গে যে নানা বিচিত্র সম্পর্ক পাতায়, সেই কান্তি যদি বলে যে মীনাক্ষী তার কেউ নয়, ওর সঙ্গে সে কোনোরকম সম্পর্ক পাতায়নি, তা হলে বন্ধুরা পর্যন্ত অবিশ্বাস করবে। কেন? এই একটিমাত্র মেয়ের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক পাতায়নি কেন? বন্ধুরা শুধোবে।

    বন্ধুরা হয়তো বলবে, ভাই-বোন সম্পর্ক কী দোষ করল? ভাই-বোন! কান্তি হেসে উড়িয়ে দেবে। না। ভাই-বোন সম্পর্ক নয়। রাসনৃত্য ভাই-বোনের নয়।

    তা হলে স্বামী-স্ত্রী? সর্বনাশ! মীনাক্ষীর যে জলজ্যান্ত স্বামী রয়েছে! না থাকলেও কান্তি ছাদনাতলায় যেত না। না। রাসলীলা স্বামী-স্ত্রীর নয়।

    তা হলে সখা-সখী? কান্তি চিন্তা করবে। না। রাসরঙ্গ সখা-সখীর নয়। তাদের জন্যে হোলি। পার্থক্য আছে।

    তা হলে আর কী বাকি থাকে?

    ভাবতে ভাবতে কান্তাভাব মনে জাগে। কান্ত আর কান্তা।

    কান্তি শিউরে উঠে। মানুষের মন মানুষ নিজেই জানে না। জানতে পেলে চমকায়। কান্তি বার বার মাথা নাড়ে। না, না, কান্তাভাব নয়। আমি যে শ্যামলকে কথা দিয়েছি। আমি কি তাকে ধোঁকা দিতে পারি।

    সবচেয়ে ভালো কোনোরূপ সম্পর্ক না পাতানো। ইন্দ্রসভার নর্তক-নর্তকীর মতো। ওদের হৃদয়ের বালাই ছিল না। তাই ওদের তালভঙ্গ হত না। কিন্তু মাঝে মাঝে হত বই কী। তার থেকে বোঝা যায় ওরাও একেবারে নিঃসম্পর্কীয় ছিল না। হৃদয়হীন ছিল না।

    কান্তি ভেবে দেখল নৃত্য করে কে? অঙ্গ না হৃদয়? হৃদয়ের ভাব ব্যক্ত করার জন্যে বা হৃদয়ের ভাব থেকে মুক্ত হবার জন্যে কেউ লেখে কবিতা, কেউ আঁকে ছবি, কেউ গায় গান। ঘটলই বা ছন্দপতন। সেটাকে এত ভয় কেন? মোটের উপর একটা কিছু সৃষ্টি হয়ে উঠছে। বিশ্বসৃষ্টির মতো।

    তা হলে মীনাক্ষীর সঙ্গে নাচলে ক্ষতি কী? ক্ষতি এই যে অন্যের অলক্ষ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হয়তো নিজের অলক্ষ্যে। কান্ত আর কান্তা। শ্যামল ক্ষমা করবে না। শ্যামল যদি ভদ্রতা করে সরে যায় তা হলে মীনাক্ষীকে বিয়ে করার বাধ্যবাধকতা জন্মাবে, নইলে মীনাক্ষী ক্ষমা করবে না। একজনের সঙ্গে নাচতে গেলে যদি অবশেষে তাকে বিয়ে করতে হয় তা হলে তার সঙ্গে নাচতে চাইবে কোন মূঢ়! এ কী সংকট, বলো দেখি!

    কান্তি স্থির করল মীনাক্ষীর সঙ্গে আর নাচবে না। একই কারণে আর কোনো মেয়ের সঙ্গে নাচবে না। নৃত্য বলতে এখন থেকে একক নৃত্য। কিন্তু সে নিজে চাইলে কী হবে, লোকে চায় না তার একার নাচ। তারা চায় রাধাকৃষ্ণের যুগল নৃত্য। হরপার্বতীর যুগ্ম নৃত্য। নর-নারী উভয়ের সংযুক্ত পদক্ষেপ, সুসমঞ্জস পদক্ষেপ।

    না, একক নৃত্য জমবে না। কান্তি ভেবে পায় না আর কী সমাধান আছে। আর কী সম্ভবপর! এরূপ স্থলে আগে যা করেছে এবারেও তাই করল। পলায়ন। দৌড়। এক দিন কাউকে কিছু না বলে একরকম একবস্ত্রে বেরিয়ে পড়ল। যেদিকে দু-চোখ যায়।

    স্টুডিয়ো আর স্টেজ নিয়ে তন্ময় ছিল। জীবনের দিকে ফিরে তাকাবার ফাঁক পায়নি। যাদের সঙ্গে চোখাচোখি হয়েছে তারা দর্শক। তারা যেন মানুষের একজোড়া চোখ, গোটা মানুষটা নয়। জীবনের বহমান স্রোতে ঝাঁপ দিয়ে কান্তি সমগ্রতার স্বাদ পায়।

    রসের সায়র। প্রতিদিন তাতে ডুব দিয়ে ওঠে আর নতুন হয়ে যায়। যাই দেখে তাই নতুন লাগে। যাকে দেখে সেই তার চোখে নতুন। পরম বিস্ময় নিয়ে কান্তি এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়ায়। হাতের কাছে যে কাজ জোটে সে কাজ করে। বাড়ি তৈরি হচ্ছে, রাজমিস্ত্রির সাগরেদ চাই। আচ্ছা, রাজি। কাঠ চেরাই হচ্ছে, করাতির সাথি আসেনি, মদত চাই। আচ্ছা, রাজি। জাহাজ মেরামত হচ্ছে, রং করছে একদল লোক, কান্তি তাদের ওখানে হাজির।

    পথে-বিপথে রকমারি মেয়ের সঙ্গে দেখা। কেউ বা কোকেন চালান দেয়, কেউ চোরাই মাল পাচার করে। কেউ পান বেচে, কেউ জাহাজিদের সঙ্গে নিকা বসে। কেউ পরের ছেলে দেখিয়ে ভিখ মাগে। কেউ রং মেখে সং সেজে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের কার সঙ্গে কোন সম্পর্ক পাতাবে কান্তি! মানুষের অভিধানে ক-টাই বা শব্দ আছে! মানুষ আছে তার চেয়ে অনেক বেশি।

    বিয়ের জন্যে কেউ ঝোলাঝুলি করে না। বিয়ের কথা কেউ মুখে আনে না। বিয়ে একটা সমস্যাই নয়। সমস্যা হচ্ছে আত্মিক সম্বন্ধ। আত্মিক সম্বন্ধ স্থির না হলে কায়িক সম্বন্ধ শুরু হতে পারে না। কিন্তু তার আগেই কান্তি উধাও হয়। কাউকেই ধরা-ছোঁয়া দেয় না। কী জানি কী আছে তার ভিতরে নারীকে যা চুম্বকের মতো টানে। কিন্তু ফি বারেই সে আপনাকে ছাড়িয়ে নেয়। সঞ্চারিণীর বন্ধনী এড়ায়।

    পূর্বেই তার প্রত্যয় জন্মেছিল একজনের হওয়া মানে আর সবাইকে হারানো। একদিন একজনের হলে আর সব দিন আর সব জনের সঙ্গে বিচ্ছেদ। ক্রমে তার প্রত্যয় হল মুক্ত থাকতে হলে শুদ্ধ থাকতে হয়। কে কতটা মুক্ত সেটা নির্ভর করে কে কতটা শুদ্ধ তার উপর। তা বলে জীবনের ধূলিকাদা থেকে সন্তর্পণে সরে থাকার নাম শুদ্ধি নয়।

    এতকাল যত্ন করে সে নৃত্য শিখেছিল। কিন্তু জীবনের সঙ্গে তার যোগ ছিল না। রসের দীক্ষা তার হয়নি। এই বার ঘুরতে ঘুরতে তার রসের দীক্ষা হল। যার কাছে হল সে এক রঙ্গিণী নারী। ছইলা গোপিনী।

    ছইলা তাকে শেখাল কেমন করে গাই দুইতে হয়, কেমন করে চিড়ে কোটে, মুড়ি ভাজে, কেমন করে ঘুঁটে দেয়, ঘর নিকোয়। সারাদিন একটা না একটা কাজে হাত জোড়া থাকে ছইলার। তার সঙ্গে বসে গল্প করতে হলে তার হাতের কাজে হাত লাগাতে হয়। প্রথম প্রথম কান্তির লজ্জা করত। এসব যে মেয়েলি কাজ। কে কী মনে করবে! বলবে, বা রে পুরুষ! কিন্তু ধীরে ধীরে তার গায়ের চামড়া মোটা হল। কে কী বলে তার গায়ে বাজে না। সে মুচকি হাসে। আর কাজে মন দেয়। ছইলার কাজ হালকা করাই তার কাজ।

    কয়েক মাস কাটলে পরে ছইলা বলল, ‘ঠাকুরপো, তুমি যে এত কিছু করলে, বলো দেখি আমার কাছ থেকে কী পেলে।’

    কান্তি বলল, ‘সেকালের শিষ্যরা ঋষিদের গোরু বাছুর চরিয়ে যা পেত তাই। ব্রহ্মবিদ্যা। ঠিক ব্রহ্মবিদ্যা নয়, তার কাছাকাছি। আত্মবিদ্যা।’

    জ্যোৎস্নারাত্রে পাশাপাশি বসেছিল তারা, নদীর জলে পা ডুবিয়ে। কে দেখল, না দেখল, ভ্রূক্ষেপ নেই।

    ‘বউদি’, কান্তি বলল ইতস্তত করে, ‘তোমার সঙ্গে থেকে আমি কী শিখেছি, বলব?’

    ‘বলো।’

    ‘শিখেছি, আমি পুরুষ নই।’

    ‘ওমা, তবে তুমি কী?’

    ‘আমি না-পুরুষ।’

    ছইলা হেসে আকুল। বলল, ‘আর আমি?’

    ‘তুমি? তুমি নারী নও।’

    ‘নারী নই? ঠিক জান?’

    ‘তুমি না-নারী।’

    ছইলা হাসতে হাসতে দম আটকে মারা যাবে মনে হল। হাসির চোটে জল এল চোখে। মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘প্রথম ভাগ শেষ করেছ। এখন আর কিছু দিন থেকে যাও।’

    এরপরের কয়েক মাস ওরা দুধ দই বেচতে হাটে-বাজারে পসরা মাথায় বাঁক কাঁধে ঘুরে বেড়াল। লজ্জায় কান্তির মাথা কাটা যায়। লোকের চোখে চোখে টরেটক্কা। ছইলার কী! সে তো সংসারের বাইর। তা ছাড়া সে মধ্যবয়সিনী। খেলবার বয়স নয়। খেলাবার বয়স।

    ‘আর কিছু পেলে, ঠাকুরপো!’ ছইলা শুধোয় তারায় ভরা আকাশের তলে।

    ‘পেয়েছি, বউদি।’ কান্তি বলে আত্মস্থ হয়ে। ‘আমি পুরুষ নই, কিন্তু আমার পুরুষভাব।’

    ‘আর আমি?’

    ‘তুমি নারী নও, কিন্তু তোমার নারীভাব।’

    এবার ছইলা হাসল না। তার চোখে জল এল কি না আঁধারে দেখা গেল না। স্নিগ্ধস্বরে বলল, ‘আর কিছু দিন থেকে গেলে হয় না?’

    ‘কেন?’ এবার রহস্য করল কান্তি। ‘তৃতীয় ভাগ পড়তে হবে?’

    ছইলা উত্তর দিল না। কান্তি যাবার জন্যে ছটফট করছিল। সে নাচিয়ে মানুষ। কত কাল নাচ ছেড়ে থাকতে পারে! তবু তাকে থাকতেই হল। কালিদাসকেও থাকতে হয়েছিল বিদ্যানগরের গয়লানির ঘরে রসের পাঠ নিতে। কান্তির বিদ্যানগর উৎকলে।

    ছইলার সঙ্গে গোরুর গাড়িতে করে গেল কুটুমবাড়ি, নৌকায় করে গেল মেলায়। পরের ঘরে হল ঘরের লোক। গাছতলার আস্তানায় আপনজন। মানুষের বুকে কত যে মধু, তার স্বাদ নিল। দু-দিনের চেনা। মনে হয় জন্মজন্মান্তরের। পাঁজির হিসাবে দু-টিমাত্র দিন। হৃদয়ের হিসাবে চিরদিন। কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না, বিদায় নিতে গেলে কেঁদে ভাসায়।

    মধু, মধু, মধু। মানুষ মধু, পৃথিবী মধু, মধুময় পৃথিবীর ধূলি।

    মাস কয়েক পরে ছইলা বলল, ‘আর কিছু পেলে কি?’

    কান্তি বলল, ‘পেয়েছি, পেয়েছি।’

    ‘কী পেয়েছ?’

    ‘রস’।

    ছইলার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে নীরবে শুনে যেতে থাকল, কান্তি বলে যেতে লাগল, ‘বন্ধনের ভয়ে কখনো কারো সঙ্গে রসের সম্পর্ক পাতাইনি। রসের সম্পর্ক আপনা থেকে পাতা হচ্ছে দেখে দৌড় দিয়েছি। এখন আমার ভয় ভেঙে গেছে।’

    ‘কী করে ভাঙল?’

    ‘তোমার সঙ্গে থেকে। তুমি নারী নও। অথচ তোমার সত্তা নারীসত্তা। আমিও পুরুষ নই। অথচ আমার সত্তা পুরুষসত্তা। তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ তোমার সঙ্গে আমার মধুর সম্পর্ক।’

    কান্তির প্রয়োজন শেষ হয়েছিল, সে তার সমস্যার সমাধান পেয়েছিল। এবার সে ফিরে যাবে, ফিরে গিয়ে নাচের দল গড়বে, নাচবে, নাচাবে, ভয় পাবে না, ভয়ের কারণ হবে না। মীনাক্ষী যদি তার নৃত্যসহচরী হয় তবে ওর সঙ্গে তার সম্পর্ক হবে বিশুদ্ধ রসের। সে সম্পর্ক হৃদয়কে বাদ দিয়ে নয়, হৃদয়ই তো রসের মধুচক্র। কিন্তু নারীকে বাদ দিয়ে। পুরুষকে বাদ দিয়ে। অথচ নারীসত্তাকে রেখে, পুরুষসত্তাকে রেখে।

    ছইলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কান্তি কলকাতা গেল। যা ভেবেছিল তাই। দলের অস্তিত্ব নেই। নতুন করে গড়তে হবে। কে কোথায় ছিটকে পড়েছে, আবার খুঁজে পেতে ধরে আনতে হবে। মীনাক্ষীর খোঁজ নিয়ে জানতে পেল সে ঘর-সংসার করছে, সুখে আছে। আর নাচবে না। তার স্বামীরও আর উৎসাহ নেই। সে পলিটিক্সে নেমেছে।

    ইতিমধ্যে দিন বদলে গেছে। নয়া জমানার দর্শকরা কলকারখানার ছোঁয়াচ চায়, কিষান মজদুর কী করে না করে ওরা তা খেতেখামারে দেখবে না, নাটবেদীতে দেখবে। কান্তিও তো কিছুদিন রাজমিস্ত্রি, করাতি, রং মিস্ত্রি হয়েছে, গোরুর খুরে নাল বসিয়েছে, বাঁক কাঁধে করে হাটে গেছে। এসব অভিজ্ঞতা নৃত্যে রূপান্তরিত করা নিয়ে তার মনে ভাবনা জেগেছিল। কল্পনা তার উপর রং ফলাতে শুরু করেছিল। নতুন ধরনের নাচ দিয়ে সে দেশের লোকের মনোহরণ তা করবেই, দুঃখীদের দুঃখমোচনও করবে। তামাশা নয়। গান দিয়ে সেকালের গুণীরা আকাশ থেকে বর্ষা নামাতেন। অনাবৃষ্টির দিন গাইয়েরাই ছিলেন মানুষের শেষ আশা। একালের নাচিয়েরাই বোধ হয় মানুষের শেষ ভরসা।

    কান্তির দল বরফের গোলার মতো দিন দিন বেড়ে চলল। করাত নৃত্য, বাঁক নৃত্য ইত্যাদি আনকোরা নাচ দর্শকদেরও টেনে আনল। একজন ক্যাপিটালিস্ট মুগ্ধ হয়ে ধনসম্পদ উৎসর্গ করলেন। তবে ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনিই হলেন। অনুতাপে বিনম্র হয়ে ধনিক পরিবারের কন্যারাও মজুরনি কিষানি সাজতে এগিয়ে এলেন। নয়া জমানা। সেকালের যাত্রায় হাড়িডোমের উচ্চাভিলাষ ছিল রাজা মন্ত্রী সাজতে। একালের ফিলমে উঁচু ঘরানাদের সাধ অচ্ছুৎ-কন্যা সাজতে।

    ভারতের পূর্ব-পশ্চিম উত্তর-দক্ষিণ প্রদক্ষিণ করে কান্তির দল অশ্বমেধ ঘোড়ার মতো ইউরোপের দিকে পা বাড়াল। তাদের জাহাজ যেদিন মুম্বাই ছাড়বে সেদিন হঠাৎ চার বন্ধুর পুনর্মিলন। অনুত্তম, কান্তি, তন্ময়, সুজন। রূপকথার চার কুমার।

    সাফল্যের নেশায় কান্তির মাথা ঘুরে গেছিল। তা হলেও কোনোদিন সে ভুলে যায়নি যে সে কান্তিমতী রাজকন্যার অন্বেষণে বেরিয়েছে, যে রাজকন্যা তার হাতের কাছে, অথচ নাগালের বাইরে। অন্তরে অন্তরে তার ব্যথা জমছিল। বাইরে যদিও অন্তহীন ফুর্তি।

    কেন ব্যথা? কারণ তার নৃত্যসহচরী হবার জন্যে আজকাল দস্তুরমতো প্রতিযোগিতা। তাই সবাইকে সন্তুষ্ট রাখবার জন্যে সে সকলের সঙ্গে নাচে। গোপী সকলেই। রাধা কেউ নয়। রসের সম্পর্ক পাতিয়ে এক সমস্যার সমাধান হল, কিন্তু আরেক সমস্যা নতুন করে দেখা দিল। সে তো কৃষ্ণের মতো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী নয় যে একই সময়ে দশটি গোপীর সঙ্গে রাসনৃত্য করতে পারবে। দশটির মধ্যে একটির সঙ্গেই সে তা পারে। কিন্তু তা হলে একজনকে প্রাধান্য দিতে হয়। মীনাক্ষীর স্থান দিতে হয়।

    সাফল্যের দিনে অত বড়ো একটা ঝুঁকি নিতে তার সাহসে কুলোয় না। আছে একটি মেয়ে তার নজরে। খুবই অল্পবয়সী। কুমারী। কিন্তু রত্নাকে সে যদি রাধার সম্মান দেয় গোপীরা তাকে ক্ষমা করবে না। দলে ভাঙন ধরবে। তা না হয় হল। কিন্তু রত্না নিজেই স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করবে সম্পর্কটাকে অক্ষয় করবার জন্যে। নাটবেদিতে তো বটেই, বিবাহবেদিতেও। শেষকালে ওই রত্নাকেই কেন্দ্র করে ঘুরবে তার জীবন, তার জীবিকা, তার শিল্প, তার দল। ওই রত্নাই হবে তার দলের একমাত্র সম্বল। মুথুলক্ষ্মী, খুরশিদ, ফিরোজা, ইন্দিরা, হানসা—এরা কি থাকবে!

    বিয়ে যখন করবেই না তখন রত্নাকে রাধার ভূমিকা না দেওয়াই ভালো। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতেই হবে। নীড় রচনার স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে যাক। রত্না শিখুক আকাশে উড়তে, আকাশেই বিশ্রাম করতে। তা যদি না পারে তবে অন্য কাউকে বিয়ে করুক। কান্তিকে নয়।

    কিন্তু একথা ভাবতেও যে তার কষ্ট হচ্ছিল না তা নয়। রত্না এক দিন বড়ো হবে, তার বাপ মা তার বিয়ে দেবেন, তার মতো সুন্দর মেয়ের জন্যে পাত্রের অভাব হবে না। দূর হোক অপ্রীতিকর ভাবনা। আপাতত ইউরোপ আমেরিকা ঘুরে আসা যাক। দিগবিজয়ীর মতো।

    মুম্বই-এর কয়েকটা ঘণ্টা বন্ধুদের সঙ্গে খেয়ে গল্প করে ফোটো তুলিয়ে কেটে গেল। ভাব বিনিময়ের জন্যে সময় ছিল না। উপাখ্যান বলার জন্যে তো নয়ই। জাহাজ ধরতে হবে। এক-শো রকমের খুঁটিনাটি। মনটা ভারী হয়ে রয়েছে সুমতির জন্যে। সেও চেয়েছিল সহযাত্রিণী হতে। তার তুলোর ব্যাপারী স্বামী বাদ সাধলেন। তবে মনটা খুশ আছে আরেকটা খোশ খবরে। প্যারিসের বিখ্যাত নর্তকী ইভেৎ তার দলে যোগ দিতে উৎসুক।

    জাহাজ ছাড়বে, জাহাজ থেকে নেমে যাবার সময় সুজন বলল, ‘প্যারিসে হয়তো সোনিয়ার সঙ্গে দেখা হবে। তাকে লিখব তোর কথা।’

    কান্তি বলল, ‘বেশ, বেশ। যদিও জানিনে কে তিনি। আহা! শোনা হল না তোর কাহিনি! তন্ময়েরটা মোটামুটি শুনেছি। আর অনুত্তম, তোরটাও শোনা হল না। সুজন তবু হেডলাইনটা শুনিয়ে রেখেছে। সোনিয়ার নাম করে। তুই কিন্তু একটুখানি আভাস পর্যন্ত দিসনি।’

    ওইখান দিয়ে চলাফেরা করছিল রত্না। কান্তি তার গলা জড়িয়ে ধরল এক হাতে। অমনি মনে হল দলের লোক ঠাওরাবে সে অপক্ষপাত নয়। তখন আরেক হাত বাড়িয়ে দিল ফিরোজার কাঁধে। নিজের অপক্ষপাতিতায় নিজেই তৃপ্ত হয়ে সে তার বন্ধুদের বলল, ‘পুনর্দর্শনায় চ।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিনুর বই ও নির্বাচিত ছোটোগল্প – অন্নদাশঙ্কর রায়
    Next Article পুতুল নিয়ে খেলা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }