Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কন্যা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    লেখক এক পাতা গল্প155 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. কান্তিমতীর অন্বেষণ

    কান্তির যাত্রা দক্ষিণ মুখে। হাওড়া স্টেশনে মাদ্রাজ মেল দাঁড়িয়েছিল, তুলে দিতে এসেছিল অনুত্তম, সুজন, তন্ময়। বাড়ির লোক কেউ আসেনি। তাদের অমত। তাই বাড়ি থেকেও কিছু আনা হয়নি। বন্ধুরা জোগাড় করে যা দিয়েছিল তাই তার সম্বল।

    ‘এই ভালো।’ কান্তি বলল ব্যথা চেপে, ‘বোঝা আমার হালকা। যেমন ভ্রমণে তেমনি জীবনে। হৃদয় আমার ভারাক্রান্ত নয়। হবেও না।’

    ট্রেন চলে গেল তাকে বহন করে দক্ষিণ ভারতে। সেখানে তার বছর আড়াই কেমন করে যে কেটে গেল তার হিসাব রাখে না সে নিজে। দক্ষিণী নৃত্যকলা মন্দিরকেন্দ্রিক। মন্দিরে মন্দিরে দেবদাসীদের নাচ দেখে গুরুস্থানীয়দের কাছে ভরতনাট্যম শিখে নৃত্য সম্বন্ধে তার ধারণার আমূল পরিবর্তন হল। সে ভেবেছিল ওটা সামাজিক জীবনের অঙ্গ। তা নয়। ওটা দেবতার সঙ্গে কথোপকথনের ভাষা। একপ্রকার দেবভাষা বলতে পার। তেমনি ব্যাকরণশুদ্ধ, সূত্রবদ্ধ। দেবতা স্বয়ং নর্তক। নটরাজ। রঙ্গনাথ। বিশ্বরঙ্গমঞ্চে, গ্রহনক্ষত্রের নাটমন্দিরে তিনিও নৃত্যপর। সৃষ্টিকর। প্রলয়ংকর।

    ভরতনাট্যম কোনোরকমে আয়ত্ত করে কথাকলি শিখতে কোচিনে গেল কান্তি। কথাকলি মন্দিরকেন্দ্রিক নয়, গ্রামকেন্দ্রিক। তার জন্যে দল চাই, পৌরাণিক কাহিনি জানা চাই, পালার বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর অভিনয়ের ভাষাও বিভিন্ন। সে ভাষা মুদ্রাময়। কিন্তু কিছু দিন দেখে ছেড়ে দিল। কারণ নর্তক তৈরি করা যেমন কঠিন তার চেয়েও কঠিন দর্শক তৈরি করা। দর্শক যদি মুদ্রার অর্থ না বোঝে তা হলে নর্তকের মনের কথাই বুঝল না।

    কথাকলিতে ভঙ্গ দিয়ে কান্তি চলল উত্তর মুখে। গুজরাতের গরবা তার কাছে বেশ সহজ লাগল। তার প্রকৃতির সঙ্গে মিল ছিল বলে সহজ। মিল ছিল রাজস্থানের লোক নৃত্যেরও। সেও যেন ব্রজের গোপযোগীদের একজন। সেও যেন আদিম ভিল উপজাতির মতো বন্য। মাস কয়েক কাটিয়ে দিল কাঠিয়াবাড়ে, রাজপুতানায়। মথুরায়, বৃন্দাবনে। তারপরে উত্তর ভারতের নাগরিক বিলাসনৃত্যে গা ঢেলে দিল। বাইনাচ, কথকনাচ। হাস্য-লাস্য বিলোপ কটাক্ষ। শৌখিন, সম্ভ্রান্ত, ক্ষীয়মাণ, ক্ষয়িষ্ণু। অমন করে আপনাকে দুর্বল করা ক-দিন চলতে পারে? বছর ঘুরতে-না-ঘুরতে কান্তি কলকাতা ফিরে গেল। সেখান থেকে গেল মণিপুর।

    মণিপুরে অপেক্ষা করছিল তার জন্যে সবচেয়ে বড়ো সম্পদ। হ্যাঁ, এরই নাম কেলি, এরই নাম লীলা। দক্ষিণের মতো ক্লাসিকাল নয়, উত্তরের মতো নাগরিক নয়, পশ্চিমের মতো লোক নয়, পূর্ব প্রান্তের এই নৃত্যপদ্ধতি রসেভরা নৈসর্গিক। এর ছন্দ ধরতে কান্তির মতো অভিজ্ঞের তিন-চার মাস লাগার কথা, কিন্তু এর লালিত্য তার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেল, ধরা দিল না বারো-চোদ্দো মাসের আগে। রাসলীলার রাত্রে কৃষ্ণনৃত্য করে তার অঙ্গ শীতল হল। মধুর, মধুর, অতি মধুর। কলামাত্রেরই সার কথা মাধুর্য। কান্তির মনে হল সে উত্তীর্ণ হয়েছে।

    মধুরেণ সমাপয়েৎ। মণিপুর থেকে সে কলকাতা ফিরে এল। কিন্তু স্থির হয়ে এক জায়গায় বসে থাকা তার ধাতে নেই। একটা বিদেশি নটসম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারতব্যাপী সফরে বেরিয়ে সে তাদের পরিচালন কৌশল শিখে নিল। তাদের নৃত্যপ্রকরণের সঙ্গেও পরিচিত হল। তাদের সঙ্গে ইউরোপে যাবার সুযোগ জুটেছিল, কিন্তু তার পক্ষপাতীরা তাকে যেতে দিল না। তাকে নিয়ে তারা একটা সম্প্রদায় গড়ল বিদেশি ছাঁচে। দেশ ক্রমশ নৃত্যসচেতন হচ্ছিল। ভদ্রঘরের মহিলারাও যোগ দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু নৃত্যকে তাঁদের সারাজীবনের সাধনা করতে তখনও প্রস্তুত হননি। সারাজীবনের জন্যে ঘরগৃহস্থালি। দু-দিনের জন্যে নৃত্য।

    মুম্বই-এর ভাটিয়া পারসি গোয়ানিজ তরুণ-তরুণীদের নিয়ে সেই যে সম্প্রদায় গঠিত হল তার মূলধন ছিল উৎসাহ। তাই নিয়ে তারা শুরু করে দিল কথাকলি মণিপুরি ও ভরতনাট্যমের সমাহার। নিন্দুকরা বলাবলি করল এটা পাশ্চাত্য ব্যালের অনুকরণ। তা শুনে নাচিয়েরা বলল, চলো আমরা বিশ্বভ্রমণে যাই, পাশ্চাত্যের লোক দেখে বলুক এটা তাদের অনুকরণ কি না। এ পোড়া দেশে গুণের আদর নেই। এরা আমাদের চিনবে না।

    কিন্তু জহুরি যারা তারা চিনল ঠিকই। দেখতে দেখতে একটির পর একটি কন্যারত্নের বিবাহ হয়ে গেল। তাদের যারা নৃত্যসহচর তারা মাথায় হাত দিয়ে বসল। নেচে সুখ কী যদি একা নাচতে হয়। দক্ষিণ ভারতের যিনি নটরাজ তাঁর সঙ্গেও একটি পার্বতী দেওয়া হয়েছিল। উত্তর-দক্ষিণ সমন্বয়। তিনি তো মনের দুঃখে বিবাগী হয়ে গেলেন। আর নাচবেন না বললেন। ভাঙা দল নিয়ে কান্তি কী করে সাগর পাড়ি দেয়? মণিপুরি কৃষ্ণের সঙ্গে গুজরাতি রাধা সাজবে কে? সুমতি এখন বউ হয়ে চলে গেছে সুরতে। সেখানকার এক তুলোর ব্যাপারীর কনিষ্ঠ পুত্রবধূরূপে।

    সে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছিল এ ধরনের দল টিকতে পারে না। ভদ্রঘরের তরুণীরা বিয়ে একদিন করবেই। গুরুজনের ইচ্ছা, নিজেদেরও অনিচ্ছা নেই। তখন তাদের নৃত্যসহচরদের নাচের তাল কেটে যাবে। নতুন সহচরীর অভাব হবে না, কিন্তু তাদের শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে সময়ের অভাব হবে। ততদিন তাদের সঙ্গে ‘চলি চলি পা পা’ করতে করতে নিজেরাই পা ভুলে যাবে। তার তো ততদিন ধৈর্যই থাকবে না। তার বন্ধু শাপুরজি কিন্তু অবুঝ। বলে, ‘বাঙালিরা একটুতেই হাল ছেড়ে দেয়। সমস্যা তো আছেই, তার মীমাংসাও আছে নিশ্চয়। ধীরে সুস্থে করো। প্রথম ধাক্কায় কাত হয়ে পড়ছ কেন?’

    কান্তি ভাবতে আরম্ভ করেছিল এসব নৃত্য দক্ষিণ ভারতে দেবদাসীরা, উত্তর ভারতে বাইজিরাই রক্ষা করে এসেছে প্রধানত। গড়তে হলে তাদের নিয়েই সম্প্রদায় গড়তে হবে। তারা বিয়ে করবে না, বিয়ে করবামাত্র নাচ ছেড়ে দেবে না। সারাজীবনের, সাধনাকে তারা ঘরগৃহস্থালির চেয়ে ভালোবাসে। শাপুরজি একথা শুনে লাল। ‘তোমরা হিন্দুরা চিরকাল এই করে এসেছ, এই করতে থাক চিরকাল। আমরা এর মধ্যে নেই। গোপনে যাই করি না কেন, প্রকাশ্যে একপাল বারবনিতা নিয়ে ঘুরতে পারব না। বিশ্বভ্রমণ দূরের কথা, ভারত ভ্রমণেরও দুঃসাহস নেই। পারসি থিয়েটার আজকাল চলে না কেন? লোকে ওসব পছন্দ করে না।’

    তারপর ভট্টজি বললেন, ‘আমরা সেকেলে মানুষ, আমরাও এটা কল্পনা করতে পারিনে। আমরা বাইজিদেরও নাচতে দেখিনি ভদ্র পুরুষদের সঙ্গে। তুমি যদি ভদ্রাদের বাদ দিতে চাও ভদ্রদেরও বাদ দাও। নইলে ভদ্রদের মান ইজ্জত যাবে। ভারতীয় নৃত্যেরও পুনরুদয় হবে না।’

    একেলে মানুষ মগনভাই বলল, ‘কান্তি, তুমি নৃত্য নৃত্য করে বাউরা হলে। তাই আর একটা দিক তোমার নজরে পড়ছে না। ভদ্রঘরের মেয়েদের সঙ্গে নাচলে আমরাও নিরাপদ থাকি। নইলে আমাদেরও একটির পর একটির পতন হত। তোমারও।’

    কান্তি বাধা দিয়ে বলল, ‘না, আমার না।’

    কেউ বিশ্বাস করতে চাইল না তার কথা। যেখানে মুনিদেরও মতিভ্রম সেখানে কান্তির মতি স্থির থাকবে! শোনো, শোনো।

    দল ভেঙে গেল। কারণ কান্তিই ছিল তার প্রাণ। সে একদিন নিরুদ্দেশ হল সঙ্গে কিছু না নিয়ে। বোঝা হালকা হলেই সে বাঁচে।

    অন্য কারণে তার মন ভারী ছিল। সে-কথা কাউকে বলতে পারে না। বলত মন্ত্রীপুত্র কোটালপুত্র সওদাগরপুত্রদের। কিন্তু কোথায় তারা কে জানে! কে কার খোঁজ রাখে!

    তার কান্তিমতীর অন্বেষণ ক্ষান্ত ছিল না। যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, আলাপ হয়েছে, নৃত্যের সুযোগ হয়েছে তাদের সকলেই তো কান্তিমতী। কেই বা নয়! কারো কেশ ভালো লেগেছে, কারও বেশ ভালো লেগেছে, কারও চাউনি, কারও চলন। কারো হাসি ভালো লেগেছে, কারও কান্না ভালো লেগেছে, কারও কোপনতা, কারও শরম। কারও মুদ্রা ভালো লেগেছে, কারও ভঙ্গি ভালো লেগেছে, কারও পদপাত, কারো পরশ।

    না, সে বলতে পারল না যে এরা কেউ কান্তিমতী নয়, কান্তিমতী হচ্ছে এক এবং অদ্বিতীয়। তার বহুচারী মন কোনোখানে স্থিতি পেল না। যদিও ঠাঁই পেল সবখানে। প্রীতিও পেল কোনো কোনোখানে। এই তো সেদিন সুমতির কাছে। সুমতির বিয়ের খবর সে-ই জানত সকলের আগে। খবর দিয়েছিল সুমতি স্বয়ং। বলেছিল, ‘এ বিয়ে আমি করতে চাইনে যদি আর একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়।’

    ‘আর একজনটি কে?’ প্রশ্ন করেছিল কান্তি।

    ‘তুমি কি জান না যে আমাকে লজ্জার মাথা খেয়ে জানাতে হবে? বাধাও তো নেই।’

    ‘বাধা আছে। যে পাখি আকাশের তাকে আমি নীড়ে ভরতে গেলে আকাশ তো যাবেই, নীড়ও যাবে। আর আমাকেই বা সে নীড়ে ধরে রাখতে পারবে কেন? সুমতি, তুমি বিয়ে করতে চাও করো, কিন্তু বিয়ে না করলেই আমি সুখী হতুম।’

    ‘বিয়ে না করেই সারাজীবন কাটবে, এ কি কখনো সম্ভব! জান তো, রূপযৌবন দু-দিনে ঝরে যায়। তারপরে নাচবে কে? নাচ দেখবে কে? বাকি জীবন কী নিয়ে কাটবে? কাকে নিয়ে? বিয়ে তোমাকে করতেই হবে, কান্তি। আজ না হয়, বিশ বছর বাদে। ততদিন আমি কি তোমার সঙ্গে নাচতে পারব? রূপযৌবন থাকলে তো?’

    সব সত্যি। তবু কান্তি বলেছিল, ‘এখন তুমি বিয়ে না করলেই সুখী হতুম, সুমতি। হয়তো ততদিন অপেক্ষা করতে পারতে না, কিন্তু কিছুদিন অন্তত পারতে। তবে অপেক্ষা করে ফল হত না, ঠিক। বিয়ে আমি করতে চাইতুম না কখনো। করব না কোনো দিন। করব না কাউকেই।’

    সুমতি বিশ্বাস করল না। মুচকি হেসে চলে গেল। বলল, ‘আমি তো বাঙালিই নই।’

    মধ্যভারতের এক মহারাজা তখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৃত্যবিদ আনিয়ে তাদের সহযোগিতায় তাঁর নিজের খেয়ালখুশি মতো পরীক্ষানিরীক্ষায় ব্যাপৃত ছিলেন। বাইজি শ্রেণি থেকেই তাঁকে নর্তকী সংগ্রহ করতে হয়েছিল। এঁরা যেমন-তেমন বাইজি নন, শিক্ষায় সহবতে সাধনায় ও পরিশ্রমে এক-একটি নক্ষত্র। দরবার থেকে এঁদের বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল, সুতরাং ইতরবৃত্তির প্রয়োজন ছিল না। তবে লোকে বলে রাজকীয় অতিথিদের সঙ্গে রানি না থাকলে এঁরাই রানির মর্যাদা পেতেন।

    কান্তির নাম ইতিমধ্যেই মহারাজের দরবারে পৌঁছেছিল। মানুষটিকে দেখে মহারাজ তৎক্ষণাৎ নিয়োগপত্র দিলেন। বললেন, ‘তোমাকেই আমি খুঁজছিলুম। তুমি এলে, এখন অঙ্গহানি দূর হল। মন দিয়ে লেগে যাও। কেউ হস্তক্ষেপ করবে না।’

    নৃত্যের স্টুডিয়ো ছিল কান্তির স্বপ্ন। সুসজ্জিত স্টুডিয়োর অভাব সে পদে পদে বোধ করছিল। মহারাজের স্টুডিয়ো নেই, যা আছে তাকে স্টেজ বলা যায়। কান্তি বলল, ‘ইয়োর রয়্যাল হাইনেস, ভয়ে বলি কী নির্ভয়ে বলি।’

    ‘বলো, বলো, কী বলতে চাও বলেই ফেলো।’

    ‘জাঁহাপনা, এ যে স্টুডিয়ো নয়। এ যে স্টেজ।’

    ‘হাঁ, হাঁ, ইস্টেজ, ইস্টেজ। ইস্টুডিয়ো ক্যা চিজ?’

    ‘আমার কাছে ফোটো আছে। দেখাব। রাশিয়ান ব্যালের জন্যে ডিয়াগিলেফ যা ব্যবহার করতেন। নিজিনস্কি যেখানে অনুশীলন করতেন।’

    ‘ডিয়াগিলেফ কৌন আদমি? নিজিনস্কি কৌন আওরত?’ মহারাজ তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের দিকে তাকান আর দাড়ি চোমরান।

    কেউ বলতে পারে না। কান্তিই বলে, ‘নিজিনস্কি আওরত নন, পুরুষ। এ যুগের শ্রেষ্ঠ নর্তক। বোধ হয় পূর্বজন্মে গন্ধর্ব ছিলেন। ইদানীং পাগলা গারদে। আর ডিয়াগিলেফ সম্প্রতি মারা গেছেন। তিনি ছিলেন রাশিয়ান ব্যালে’র পরিচালক।’

    সাঙ্গোপাঙ্গরা ধরা পড়ে অপ্রতিভ হলেন। মহারাজ ফোটো দেখে তাজ্জব বনলেন। তারপর স্টুডিয়ো নির্মাণের ফরমান বার হল। কান্তি যেমনটি চায়। তিন মাসের মধ্যে বাড়ি তৈরি। চার মাসের মধ্যে কাঠের মেঝে। ছ-মাসের মধ্যে সাজসরঞ্জাম। তার পরে শুরু হল কান্তির পরিচালনায় নতুন ধরনের তালিম। সে কেবল শেখায় না, দেখায়। লালিত্যে ও মাধুর্যে সে-রাজ্যে তার সমকক্ষ ছিল না। আগন্তুকদের মধ্যেও না।

    তার নৃত্যসহচরী হল লায়লা জান। রাজনর্তকী মেহের জান যার মা। লায়লার সঙ্গে কোনো ভদ্র যুবক আর কখনো নাচেনি, লায়লা যেন কৃতার্থ হয়ে গেল, ধন্য হয়ে গেল। ধন্য হয়ে তার শ্রেষ্ঠ যা কিছু তাই এনে দিল নৃত্যবেদিতে। তার নটীর পূজার অর্ঘ্য। আর কান্তি আপনাকে ভাগ্যবান মনে করল সত্যিকারের একজন শিল্পীর সাহচর্য পেয়ে। যাকে পাখিপড়া করে শেখাতে হয় না, যার ভুল দেখে বিরক্ত হতে হয় না, যে কাঠের পুতুল নয় যে, তার দিয়ে বেঁধে নাচাতে হবে। লায়লার তুলনায় সুমতি যেন মানুষের তুলনায় পুত্তলিকা।

    একজন ভাগ্যবান, আর একজন ধন্য। নাচ যা জমল তা দেখে তৃপ্তি। লায়লার প্রখর বুদ্ধি। এক পদ্ধতির সঙ্গে অপর পদ্ধতির সংমিশ্রণে নীর বাদ দিয়ে ক্ষীর নিতে সে কান্তির চেয়েও সুদক্ষ। বরং কান্তিকেই চাইতে হয় তার পরামর্শ, তার সমালোচনা। শ্রদ্ধায় কান্তির মাথা নুয়ে আসে। ভারতের বিভিন্ন ও বিচিত্র নৃত্যের সমন্বয় একটু এখান থেকে, একটু ওখান থেকে নিয়ে জুড়ে জুড়ে হবে না। হবে একটি বিশেষ ঐতিহ্যকে ঘিরে, একটি বিশেষ পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে, তার চারদিকে আর সমস্তকে বিনুনির মতো বুনে।

    কিন্তু এর চেয়েও বড়ো কথা, লায়লার নৃত্যে এমন একটা দরদ ছিল যা হাজার তালিম সত্ত্বেও সুমতির নৃত্যে আসত না। হাজার অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও কান্তির নৃত্যে আসবে না। এটা সাধনলব্ধ নয়। কান্তি একদিন লায়লাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘লায়লি, এ তুমি কোথায় পেলে?’

    সে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল। ধীরে ধীরে সজল হল তার সুরমা-আঁকা আঁখি-পল্লব। ক্ষীণ স্বরে বলল, ‘জীবনের কাছে।’

    ‘তোমার জীবন কি—’ কান্তি বলতে বলতে থেমে গেল।

    ‘কান্তি’, সে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলল, ‘তুমিই একমাত্র পুরুষ যে আমাকে ঘৃণা করেনি, হীন জ্ঞান করেনি, মৌখিক ভদ্রতা জানায়নি, ক্ষুধা মেটাবার খাদ্য মনে করেনি। তোমার কাছে আমার গোপন করবার কী আছে?’

    কান্তির চোখে জল এলো। মুখে কথা জোগাল না। কান সজাগ হল।

    ‘বড়ো দুঃখের জীবন আমাদের। মহারাজার কখন কে অতিথি আসবেন, তার জন্যে আমরা বাঁধা। নিমক খাই, হারামি করতে পারি কি?’

    কান্তি যে জানত না তা নয়। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল এটা একটা প্রথা। সইতে সইতে সব প্রথার মতো এটাও গা-সওয়া হয়ে যায়। নইলে নৃত্যকলা রক্ষা পাবে কী করে? রক্ষিতারাই রক্ষা করে এসেছে। আবার রক্ষিতাদের রক্ষক হয়েছে রাজ্যের রাজা, মন্দিরের ব্রাহ্মণ। পাপ? এর মধ্যে পাপ যদি থাকে তবে পাপের শোধন হয়ে যায় নটরাজের উপাসনায়, কলাদেবীর আরাধনায়।

    কিন্তু লায়লা যা বলল, যেমন করে বলল, তাতে কান্তির বহুদিনের বদ্ধমূল ধারণার মর্মে আঘাত লাগল। হু-হু করে উঠল তার হৃদয়। চোখের জলে মুখ ভেসে গেল। নারীর অপমানের উপর যার প্রতিষ্ঠা সে কীসের শিল্প, সে কীসের সাধনা। লায়লা কি নারী নয়? তার কি অপমানবোধ নেই? কান্তিমতী রাজকন্যা কি আর সব নারীতে আছে, লায়লাতে নেই?

    আছে। আছে। এও সেই কান্তিমতী। কখনো রাধানৃত্যে, কখনো পার্বতীনৃত্যে, কখনো অপ্সরানৃত্যে সে তার চিরন্তন সৌন্দর্য উন্মোচন করে দেখিয়েছে। তখন মনে হয়েছে সে শাশ্বতী নারী। যে নারীর প্রতিরূপ ভারতের চেতনায় রাধা, গৌরী, উর্বশী। ইরানের চেতনায় লায়লা। গ্রিসের চেতনায় হেলেন। জুডিয়ার চেতনায় মেরি। ইটালির চেতনায় ম্যাডোনা।

    কান্তি বলল, ‘তোমার জন্যে আমি কী করতে পারি, লায়লি?’

    ‘কিছুই না। সব আমার নসিব।’ সে দার্শনিকের মতো শান্ত।

    কিন্তু কান্তির জীবনের তাল কেটে গেল। তার নৃত্যেরও। একদিন সে কাউকে কিছু না বলে কারও কাছে বিদায় না নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। না, ভারতের নৃত্যকলার পুনরুদয় ওভাবে হবে না। সমাধানের জন্যে অন্য উপায় দেখতে হবে। অতীতে যা কার্যকরী হয়েছে বর্তমানেই তার কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে, ভবিষ্যতে কি তা বৃদ্ধি পাবে? না। নারীকে পতিতা করে তার পতনের উপর যা দাঁড়িয়েছে তা মন্দিরই হোক আর প্রাসাদই হোক তা পতনোন্মুখ। কান্তি তার সঙ্গে আপন ভাগ্য যোগ করে পতিত হবে না। ভারতের নারী যদি নর্তকী হয়ে গ্লানি বোধ করে তবে নারীকে সে ডাকবে না সারাজীবনের জন্যে নৃত্যসাধনা করতে।

    অশান্ত হৃদয় নিয়ে সে তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াল, ভুলে গেল যে সে শিল্পী। ক্রমে বুঝতে পারল আদর্শ অবস্থার জন্যে অপেক্ষা করলে চলবে না। সুমতিদের নিয়ে, লায়লাদের নিয়ে কাজে লেগে যেতে হবে। পরে যারা আসবে তাদের জন্যে বসে থাকলে কাজ হবে না। আসবে তারা একদিন, আসবেই। যেমন এসেছে ইউরোপে আমেরিকায় তেমনি আসবে ভারতে। আধুনিক নারী। যে পতিতা নয়, যে শিল্পের খাতিরে অবিবাহিতা কিংবা বিবাহ করলেও শিল্পচর্চায় নিবেদিতা।

    আবার সম্প্রদায় গঠন। এবার কলকাতায়। যা সে আশা করেনি তাই ঘটল। দলে যোগ দিল একটি দু-টি করে বেশ কয়েকটি বিবাহিতা মেয়ে, তাদের স্বামীরাও। এরা অবশ্য কিছুতেই লায়লার মতো মেয়েদের আসতে দেবে না। তা ছাড়া আর কোনো খেদ রইল না কান্তির মনে। কী করে লায়লাকে উদ্ধার করবে এ চিন্তা তাকে অনবরত পীড়া দিচ্ছিল।

    এবার দেখা দিল নতুন এক সমস্যা। তার নৃত্যসহচরী হল মীনাক্ষী। তাতে শ্যামলের আপত্তি। শ্যামল ওর স্বামী। বেচারার নাচতে শখ। কিন্তু নাচে নিজের খেয়ালে। আড়াই বছরের শিশু ভোলানাথের মতো। মীনাক্ষীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে এই তার নাচের যোগ্যতা। কান্তি তার নাচের দাবি নাকচ করায় সে দারুণ দুঃখ পেল। কিন্তু তার বিয়ের দাবি নাকচ করা অত সহজ নয়। সে হল স্বামী। স্বামী যদি অনুমতি না দেয় তা হলে স্ত্রী কেমন করে অপরের সঙ্গে নাচবে?

    কান্তি তাকে একান্তে ডেকে নিয়ে বলল, ‘শ্যামল, তোমার মনে যে শঙ্কা জাগছে সেটা অমূলক। আমার নৃত্যসহচরী কোনোদিন নর্মসহচরী হবে না। কোনখানে লাইন টানতে হয় সে আমি জানি। যদি না জানতুম তা হলে এতদিন সব প্রলোভন তুচ্ছ করলুম কোন মন্ত্রবলে?’

    শ্যামল অভিভূত হয়ে বলল, ‘কান্তিদা, তোমাকে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু ওই যে তোমার পণ—বিয়ে করবে না, ওর তাৎপর্য কী?’

    এরূপ প্রশ্ন এই প্রথম। অবাক হল কান্তি। তখন শ্যামল বলে চলল, ‘ওর তাৎপর্য কি এই নয় যে তোমার জন্যে আমি বিয়ে করব, আর তুমি আমার বিয়ের সুযোগ নেবে?’

    সর্বনাশ! মানুষের মনে কত ময়লা যে আছে! কান্তি কী উত্তর দেবে ভাবছে, শ্যামল আবার বলল, ‘তুমিও বিয়ে করে ফেলো, কান্তিদা। নইলে দল রাখতে পারবে না। তারপর তোমার যদি পছন্দ হয় তুমি মীনাক্ষীর সঙ্গে নাচবে, আর আমি নাচব বউদির সঙ্গে। কেমন? অন্যায় বলেছি? এটা কি অন্যান্য স্বামীদেরও মনের কথা নয়?’

    হা ভগবান! কান্তি একবার আকাশের দিকে তাকাল। একবার শ্যামলের দিকে। তারপর বলল, ‘শ্যামল, আমাকে বিশ্বাস করো। আমি যখন যার সঙ্গে নাচি তখন তার সঙ্গে আমার নিষ্কাম সম্পর্ক। সৌন্দর্য ভিন্ন আর কিছু আমি দেখিনে। ফুল দেখে আমি আনন্দ পাই, ছিঁড়তে যাইনে। এর মধ্যে কোনো দুরভিসন্ধি নেই, চাতুরী নেই, শ্যামল। ভুল বুঝো না আমাকে।’

    শ্যামল নিরস্ত হল। কিন্তু কয়েক মাস পরে কান্তির নিজেরই টনক নড়ল। মীনাক্ষী তার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকাল যার অর্থ, যদস্তি হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিনুর বই ও নির্বাচিত ছোটোগল্প – অন্নদাশঙ্কর রায়
    Next Article পুতুল নিয়ে খেলা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }