Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প10 Mins Read0

    ০১. কবিতা ও সংস্কৃতি

    ০১. কবিতা ও সংস্কৃতি

    আমরা যদি আঙুল তুলে দেখিয়ে দিতে পারতুম যে, কোন সংস্কৃতির কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ, তাহলে ধরতে পারা যেত, কোন কবিতা কোন সংস্কৃতির এলাকার মধ্যে পড়ে কিংবা পড়ে না। কিন্তু তেমনভাবে আমরা আঙুল তুলতে পারছি কোথায়? যত সহজে একটা রাষ্ট্র, রাজ্য, জেলা, মহকুমা কিংবা পৌর এলাকার সীমানা আমরা নির্দেশ করতে পারি, সংস্কৃতির সীমানা তত সহজে নির্দেশ করবার জো নেই। দিনের আলো যেরকম নিজের শেষ সীমানার স্পষ্ট কোনও নির্দেশ না-রেখে রাত্রির অন্ধকারে হারিয়ে যায়, একটা সংস্কৃতিও ঠিক তেমনভাবেই অন্য সংস্কৃতির মধ্যে গিয়ে মেশে। বস্তৃত, না-আলো না-আঁধার গোধূলির এলাকা এক্ষেত্রে আরও বড়ো বলেই ধাঁধাটা আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়, এবং একটা সংস্কৃতির শেষ সীমানার পিলপেগুলোকে খুঁজতে খুঁজতে, হঠাৎ একসময়ে আমরা বুঝতে পারি যে, ইতিমধ্যে আমরা আর-একটা সংস্কৃতির ভিতর-মহলে এসে ঢুকে পড়েছি।

    তিরিশের এক ইংরেজ কবিও ঠিক এই রকমের একটা ধাঁধার কথা তুলেছিলেন। তবে তাঁর সমস্যার ক্ষেত্রটা ছিল আরও ছােটো। সংস্কৃতির সঙ্গে কবিতার যোগসম্পর্ক নয়, তিনি খুঁজছিলেন এক ধরনের কবিতার সঙ্গে আর-এক ধরনের কবিতার যোগসূত্র। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ইংরেজি কবিতাকে একটা উদ্যান হিসেবে কল্পনা করে নিয়ে সেই উদ্যানকে কি আমরা ছোটোবড়ো কতকগুলো টুকরোয় ভাগ করে ফেলতে পারি, এবং সেই টুকরোগুলোর চারধারে বেড়া বেঁধে বলতে পারি যে, দ্যাখো, এইটে হচ্ছে ওয়ার্ডসওয়ার্থের বাগান, আর ওইটে হচ্ছে শেলির? সেই কবি, ডে-লুইস, নিজেই অতঃপর জানাচ্ছেন যে, না, তা আমরা পারি না।

    বলা বাহুল্য, কবিতার ক্ষেত্রে যে-বেড়া বাঁধা যায় না, সংস্কৃতির বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাকে বাঁধতে যাওয়া আরও হাস্যকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কেন-না, এক সংস্কৃতি যেখানে অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে যায়, সেই টোয়াইলাইট জোন সে-ক্ষেত্রে আরও বড়ো। কথাটা সত্য আমাদের বঙ্গীয় সংস্কৃতি সম্পর্কেও। সীমানা-নিৰ্দেশক কোনও পিলপে কিংবা চেকপোস্ট সেখানে আমাদের চোখে পড়ে না। কিংবা সাইনবোর্ড লটকে কেউ সেখানে আমাদের বলে দেয় না যে, এই তুমি বঙ্গসংস্কৃতির এলাকা ছাড়িয়ে অন্য সংস্কৃতির মধ্যে ঢুকছে। তাহলে তার চৌহদ্দি আমরা কীভাবে বুঝে নেব, এবং কীভাবেই-বা নিশ্চিত হয়ে বলব যে, আধুনিক ংলা কবিতা বলতে যা আমরা বুঝি, তা এই বঙ্গসংস্কৃতির চৌহদ্দির মধ্যে পড়ে না?

    তবে, বঙ্গসংস্কৃতির চতুঃসীমার স্পষ্ট কোনও নির্দেশ না-পেলেও, আধুনিক বাংলা কবিতার সঙ্গে তার যোগ-সম্পর্ক নিয়ে যে কেন প্রশ্ন ওঠে, সেটা আমরা ঠিকই বুঝতে পারি। প্রশ্ন ওঠবার কারণ আর কিছুই নয়, আমাদের এই বঙ্গভূমির সংস্কৃতি সম্পর্কে যে একটা মোটাদাগের ধারণা অনেকে লালন করে থাকেন, আধুনিক বাংলা কবিতার প্রকৃতিকে তাঁরা চট করে তার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। না। ফলে তাঁরা অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের মনের মধ্যে এই নতুন ধাঁচের কবিতা সম্পর্কে নানা সংশয়ের ছায়া পড়তে থাকে, এবং একসময়ে তারা বলেও বসেন যে, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোনও যোগ-সম্পর্ক নেই, এটা নেহাতই বাইরেথেকে-আমদানি-করা কিংবা উপর-থেকে-চাপিয়ে-দেওয়া উটকো একটা ব্যাপার।

    স্বীকার করা ভালো যে, মোটা-দাগের এই ধারণা আসলে মোটা-দাগের কিছু অনুষ্ঠানকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠে। অর্থাৎ এমন কিছু অনুষ্ঠানের কাছে সে প্রশ্রয় পায়, যার সাংস্কৃতিক কুলপরিচয় নিয়ে তর্কের কোনও অবকাশ নেই, এবং খুব সহজেই যাকে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের অঙ্গীভূত ব্যাপার বলে শনাক্ত করতে পারি। যথা মাঘমণ্ডল কিংবা পৌষপার্বণ। এ যে আমাদের বঙ্গসংস্কৃতির একেবারে খাসমহলের ব্যাপার, তা নিয়ে কোনও তর্কই কখনও উঠবে না। বলা বাহুল্য, এই রকমের আরও অসংখ্য অনুষ্ঠান আমাদের রয়েছে। কিন্তু শুধু এইসব অনুষ্ঠানকেই যদি আমরা আমাদের সংস্কৃতির একমাত্র অভিজ্ঞান বলে গণ্য করি, এবং শুধু এরই উপরে নির্ভর করে পেতে চাই আমাদের সংস্কৃতির সার্বিক পরিচয়, তা হলে আমাদের অবস্থা হবে সেইসব অন্ধের মতো, যাদের কেউ-বা শূড়, কেউ বা লেজ আর কেউ-বা পায়ের উপরে হাত বুলিয়ে হাতির চেহারা আন্দাজ করতে চেয়েছিল। হাতি নামক প্রাণীটির তারা খণ্ড-পরিচয় পেয়েছিল, পূর্ণ-পরিচয় পায়নি। একটু আগে যেসব অনুষ্ঠানের উল্লেখ করেছি, তার মধ্যেও বস্তৃত আমাদের সংস্কৃতির একটা খণ্ড-পরিচয় ধরা রয়েছে। এগুলি আমাদের সংস্কৃতির। সেই অংশের মধ্যে পড়ে, মূলত যা গ্রােমজ সংস্কৃতি কিংবা লোকসংস্কৃতি। এদের যোগ অনেকটাই আঞলিক ধর্মবিধি, সংস্কার কিংবা লোকচারের সঙ্গে। এবং শুধু এরই উপরে নির্ভর করে যদি আমরা বঙ্গসংস্কৃতির পরিচয় পাবার চেষ্টা করি, তাহলে তার পূর্ণ পরিচয় আমরা জানতে পারব না।

    কার্যত আমরা অনেকে কিন্তু তা-ই করে থাকি। সংস্কৃতির বিচার করতে বসে অতিমাত্রায় নির্ভর করি এইসব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কিংবা লক্ষণের উপরে। এবং মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে যেহেতু লোকসংস্কৃতির এলাকাভুক্ত নানা পদ্ধতি-প্রক্রিয়ার লক্ষণ খুবই ভুরিপরিমাণে ছড়িয়ে আছে, তাই সেই কাব্যকে বিশুদ্ধ বঙ্গীয় সংস্কৃতির ফসল বলে গণ্য করতে আমাদের কোনও অসুবিধে হয় না। মধ্যযুগ অবসিত হবার পরেও আমাদের কবিতায় এসব লক্ষণ অনেক পরিমাণে থেকে গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতায়। খুবসম্ভব সেই কারণেই গুপ্তকবিকে আমরা খাটি বাঙালি কবি বলতে অভ্যস্ত হয়েছি।

    গুপ্তকবি খাঁটি বাঙালি কবি ছিলেন হয়তো, কিন্তু খুব বড়ো দরের কবি ছিলেন কি না, সেটা সন্দেহের বিষয়। যা দিয়ে কবিতা লেখা হয়, সেই উপকরণের ঊর্ধ্বে যিনি উঠতে পারেন, তাকেই আমরা বড়ো কবি বলি। গুপ্তকবি সে-ক্ষেত্রে তার উপকরণের দ্বারাই শৃঙ্খলিত, তার ঊর্ধ্বে তিনি উঠতে পারেননি। কিন্তু সে-কথা এখন থাক। ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র যা বলেছিলেন, আপাতত সেটাই আমাদের বিচার্য। বঙ্কিম বলেছিলেন, “এখন আর খাঁটি বাঙালি কবি জন্মে না- জন্মিবার জো নাই- জন্মিয়া কাজ নাই।” কথাটার অর্থ কী? আসলে, বঙ্কিম খুব স্পষ্ট করেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, সামাজিক যে-পরিবেশ আমাদের কবিতার ক্ষেত্রে তথাকথিত খাঁটি বাঙালিয়ানাকে উৎসাহিত করে, সেই পরিবেশটিাই আর নেই। তিনি লক্ষ করেছিলেন যে, এতাবৎকােল যা ছিল মূলত গ্ৰামমুখী, ফলত লোকসংস্কৃতির নানা লক্ষণের দ্বারা আপাদমস্তক চিহ্নিত, নগরজীবনের বিকাশের সঙ্গে-সঙ্গে সেই বঙ্গসংস্কৃতির ক্ষেত্র স্বতই আরও প্রসারিত হয়েছে, এবং গ্রামীণ চরিত্রের পাশাপাশি তার একটা নাগরিক চরিত্রও গড়ে উঠেছে। তার চেয়েও বড়ো কথা, আমাদের সাহিত্যপ্রয়াস ইতিমধ্যে শহরে এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, এবং— সেই কারণে— তার মধ্যে আর গ্রামজি সংস্কৃতির মোটাদাগের লক্ষণগুলোকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য, এটাই যে স্বাভাবিক এবং এর জন্য হা-হুতাশ করা যে নিরর্থক, বঙ্কিম তা-ও খুব ভালোই বুঝেছিলেন। নইলে, “পৌষপার্বণে যে একটা সুখ আছে, বৃত্ৰসংহারে তাহা নাই” এ-কথা জেনেও তিনি বলবেন কেন যে, আমরা বৃত্ৰসংহারই চাই, তার বদলে “পৌষপার্বণ চাই না”?

    এখানে একটা কথা বলে নেওয়া দরকার। সেটা এই যে, শহর। এদেশে আগেও ছিল। কিন্তু সেই শহর আর বঙ্কিমের সময়কার শহরের চরিত্র এক নয়। বঙ্কিমের শহর তো মধ্য-উনিশ শতকের কলকাতা। গ্রামজ সংস্কৃতির সঙ্গে তার চিত্তের সম্পর্ক নিশ্চয় আগের তুলনায়- ধরা যাক গ্রামজ সংস্কৃতির সঙ্গে শেষ মধ্যযুগীয় কৃষ্ণনগরের চিত্তের যে-সম্পর্ক, সেই তুলনায়— অনেক কমে এসেছিল। এখন আরও কমেছে। ফলত, যে ‘বৃত্ৰসংহার’কে বঙ্কিম- ‘পৌষপার্বণের তুলনায়— প্রগত মানসিকতার ফসল বলে মনে করেছিলেন, একালের কলকাতার শিক্ষিত সমাজ তাকেও বিশেষ প্ৰগত কিংবা প্রাসঙ্গিক ব্যাপার বলে গণ্য করে না। সাহিত্যমাত্ৰেই তো এক ধরনের উচ্চারণ। বৃত্ৰসংহারীও তা-ই। কিন্তু যে-ধরনের উচ্চারণ, একালের শিক্ষিত নাগরিক মানুষ তার সঙ্গে কোনও সাযুজ্য অনুভব করে। না, ফলে তার দ্বারা তার নান্দনিক ক্ষুধার তৃপ্তি ঘটে না। এই সহজ সত্যটাকে স্বীকার করে নিলেই ধরতে পারা যাবে যে, রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে বাংলা কবিতা যে একটা ভিন্ন পথে মোড় নেয়, এবং সেইখানেই থেমে না গিয়ে ক্ৰমেই। আরও নূতনতর সম্ভাবনার মধ্যে খুঁজতে থাকে তার মুক্তি, এটা কোনও উটকো আকস্মিক ঘটনা নয়। আসলে আমাদের নাগরিক মানসিকতার ক্ৰমিক বিবর্তনের মধ্যেই কবিতার এই দিক-বদলের জমি ক্ৰমে তৈরি হয়ে উঠেছিল।

    কিন্তু অত্যন্ত সহজ সত্যকেও অনেক ক্ষেত্রে আমরা স্বীকার করি না। এবং আমরা খেয়াল করে দেখি না যে, এরই ফলে আমাদের আচরণে ও উক্তিতে কত পার্থক্য ঘটে যায়। আমরা একদিকে আমাদের অর্থনৈতিক প্রয়োজনের তাড়নায় বৃহৎ-সংসার থেকে সরে গিয়ে ছোটোমাপের সংসার রচনায় প্রবৃত্ত হই, এবং অন্যদিকে একান্নাবতী পরিবারের জন্য সমানে আশ্রমোচন করি। আমরা একদিকে বিজলিবাতির সুবিধেটুকু গ্ৰহণ করতে ছাড়ি না, এবং অন্যদিকে বলি যে, রেড়ির তেলের আলোয় চক্ষু খুবই মিগধ থাকে, সুতরাং আমাদের ‘বাপ-পিতেমো’রা যে রেড়ির তেলের পিদ্দিম জ্বেলে পড়াশোনা করতেন, সেটাই ছিল ভালো ব্যবস্থা। মেয়েদের যে স্বয়ং-নির্ভর হওয়া দরকার, মনে মনে এইটে বুঝে গিয়ে আমরা একদিকে আমাদের কন্যাদের ইশকুল-কলেজে পাঠাই, এবং অন্যদিকে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলি, “আর কি এরা আদর করে পিড়ি পেতে অন্ন দেবে? আহা, কী কথাই না গুপ্তকবি লিখে গিয়েছেন!” আসলে এসব মায়াকান্না ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি সত্যিই বুঝতুমি যে, একান্নবর্তী পরিবারই ভাল, রেড়ির তেলের আলোই ভালো এবং স্ত্রীজাতিকে হেঁসেলের মধ্যে আটকে রাখাই ভাল, তা হলে নিশ্চয় একান্নবর্তী পরিবার থেকে আমরা বেরিয়ে আসতুম না, বিজলিবাতিকে আমাদের বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দিতুম না এবং বাড়ির মেয়েদের ইশকুল-কলেজে পাঠাতুম না। কিন্তু তাতে আমরা রাজি নই। আমরা একই সঙ্গে বর্তমানের আঁচল ধরে চলব, এবং অতীতের জন্যে মায়াকান্না কঁদব। ভেবেও দেখব না যে, এটা কত বড়ো ভণ্ডামি।

    এই ভণ্ডামি আসলে আমাদের সংস্কৃতির সর্বক্ষেত্রেই চলেছে। প্রশ্নটা অবশ্য সর্বদা ঠিক ভালো-মন্দেরও নয়। এমনকি প্রয়োজন-অপ্রয়োজনেরও নয়। বরং বলা যায়, সাযুজ্যবোধের। আমাদের শহুরে শিক্ষিত মানুষদের অনেকেই যে ময়দানে গিয়ে সংস্কৃতি-সম্মেলনের ছাউনির তলায় বসে, দেহতত্ত্বের গান শুনে কিংবা কবির লড়াই দেখে মুগ্ধ হন, তাতে বিস্ময়ের কিছুই নেই। কেন-না, এ তো আমরা জানিই যে, যা একেবারে আহেলা বিদেশি বস্তু, তা-ও অনেকক্ষেত্ৰে- আর কিছু নয়, শুধু আউটল্যানডিশ বলেই— আমাদের চিত্তে কিছুটা মোহের সঞার করে। দেহতত্ত্ব কিংবা কবির লড়াই তো সে-ক্ষেত্রে আমাদের ঘরেরই জিনিস, সুতরাং তার সান্নিধ্যে এসে কেউ মুগ্ধ হলে আমরা বিস্মিত হব কেন। কিন্তু শহুরে শিক্ষিত মানুষরা যখন নিতান্ত মুগ্ধ হয়েই ক্ষান্ত হন না, উপরন্তু বলেন যে, ওরই মধ্যে তাঁদের চিত্তের মুক্তি, তখন একটু ধাঁধা লাগে বইকি। তার কারণ, যে-পরিবেশে তারা লালিত হয়েছেন ও যে-ধরনের শিক্ষা তারা পেয়েছেন, তাতে তাদের চিত্তবৃত্তি আরও সূক্ষ্ম ও জটিল হবার কথা, এবং— সেই কারণেই- লোকসংস্কৃতির ওই দুই নিদর্শনের সঙ্গে র্তাদের বিশেষ সাযুজ্যবোধ করবার কথা নয়। বস্তৃত তাদের অনেক বেশি আত্মীয়তা বোধ করবার কথা আরও সূক্ষ্ম এবং আরও জটিল গান কিংবা কবিতার সান্নিধ্যে এসে।

    হতে পারে যে, সত্যিই তাদের একাংশ তা করেন না। সে-ক্ষেত্রে সন্দেহ স্বাভাবিক যে, যদিও তারা শহুরে সংস্কৃতির কোলে বর্ধিত হয়েছেন, তবু নাগরিক পরিবেশ ও শিক্ষার সূক্ষ্মতা ও জটিলতা তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। (সেটা যে একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার, তা-ও নয়। বস্তৃত, আজন্ম শহরে কাটিয়েও চলনে-বালনে আমৃত্যু এক ধরনের গ্রাম্য সারল্য বজায় রেখে যান, এমন মানুষও এই কলকাতায় অনেক চোখে পড়বে।) অন্যদিকে, সূক্ষ্মতা ও জটিলতার মধ্যে যাঁরা আদৌ অস্বস্তি বোধ করেন না, এবং চরিত্রে ও মেজাজে যাঁরা সর্বৈব আর্বান, বৈঠকখানায় বাঁকুড়ার ধর্মঠাকুরের ঘোড়া কিংবা পুরুলিয়ার ছৌ-নৃত্যের মুখোশ সাজিয়ে তাঁরা যখন আধুনিক বাংলা কবিতার আদ্যশ্ৰাদ্ধ করেন, এবং ঘোষণা করেন যে, এই কবিতা আমাদের সংস্কৃতির বহির্ভূত একটা ব্যাপার, ফলত এতে আমাদের নান্দনিক ক্ষুধার তৃপ্তি নেই, তখন তাঁদের ভণ্ড না-বলে কোনও গত্যন্তর থাকে না।

    ভণ্ডামির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে মুখতা। ভণ্ডেরা সব জেনেশুনেও যে অতীতের জয়ধ্বনি দেয়, তার কারণ, তারা জানে যে, তাতেই হাততালি মিলাবার সম্ভাবনা। সেকেলে ছায়াছবিতে দূরবাসী স্বামীকে যে-কারণে একটু শিথিল-চরিত্রের মানুষ হিসেবে দেখানো হত, এবং মদিরাক্ষী মায়াবিনীর খপ্পর থেকে যে-কারণে তাকে আবার সাধবী রমণীর কাছে ফিরিয়ে আনা হত, কিংবা শ্রমিকের প্রণয়িনী নায়িকার শিল্পপতি-পিতাকে দিয়ে যে-কারণে অতি উদাত্ত কণ্ঠে বালানো হত, “ভাইসব, এই কারখানা আমি তোমাদের নামেই লিখে দিলুম”, একেলে নাগরিক মজলিশেও ঠিক সেই একই কারণে অনেকসময়ে সেকেলে ধাঁচের কবিতার জন্য অশ্রুমোচন করা হয়। এ আর কিছুই নয়, নিছক ক্ল্যাপট্র্যাপের ব্যাপার।

    আর মূর্খেরা সে-ক্ষেত্রে জানেও না যে, জীবন্ত যে-কোনও সংস্কৃতির সীমারেখা কীভাবে দিনে দিনে, আমাদের দৃষ্টির অগোচরে, দূর থেকে আরও দূরে সরে যেতে থাকে। একটি জীবন্ত ভাষা যেভাবে অন্য ভাষার শব্দ আত্মসাৎ করে, একটি জীবন্ত সংস্কৃতিও ঠিক তেমনভাবেই রচনা করে তার নবীনতর প্রয়াসের ক্ষেত্র, কিংবা হাত বাড়িয়ে দেয় অন্যবিধ প্রবণতার দিকে, এবং এইভাবেই ক্ৰমে বাড়িয়ে নেয়। তার সীমানা। এই যে জীবন্ততা, এরই দিকে আঙুল তুলেছিলেন এক বাঙালি কবি। সংস্কৃতি-বিষয়ক এক বিতর্ক-বৈঠকে রহস্যচ্ছলে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বঙ্গসংস্কৃতি বলতে কি আমরা এমন এক অট্টালিকার কথা বুঝব, যার নির্মাণকার্য আজ থেকে অনেককাল আগেই সমাপ্ত হয়ে গেছে, এবং যাতে আর এখন নতুন করে কিছু জানলা-দরজা ফোটাবার কিংবা যার ঘরের সংখ্যা কিছু বাড়িয়ে নেবার কোনও উপায়ই আর নেই?

    না, তা আমরা বুঝি না। বঙ্গসংস্কৃতি যদি শুধু জারি সারি, আউল বাউল, পালপার্বণ, আলপনা আর পাঁচালির মধ্যেই আটকে থাকত, তাহলে বুঝতে হত যে, এর প্রাণশক্তি কবেই নিঃশেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা হয়নি বলেই তার পরিসর এখন আগের তুলনায় অনেক বড়ো। একদিকে সে যেমন গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে তার রাজ্যপাট, অন্যদিকে তেমনই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত থেকে মাইকেল কি হেম নবীন পর্যন্ত এসেই তার দম ফুরিয়ে যায়নি। রবীন্দ্রনাথ থেকে জীবনানন্দ, সবকিছুকেই সে অক্লেশে আত্মসাৎ করতে পেরেছে। আরও পারবে। শহরে বসে চণ্ডীমণ্ডপের জন্য যিনি যতই হা-হুতাশ করুন, বঙ্গসংস্কৃতির অগ্রগতি তাতে আটকে থাকবে না।

    চৈত্র, ১৩৮১

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    Next Article কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }