কয়েদি – ৬
৬
পবিত্র হত্যার কোনও পুরস্কার নেই। কিন্তু খুনের শাস্তি আছে।
সে যখন হত্যা থেকে খুনে নেমে এল, দেশহিতব্রতীরা কেউ তার পাশে ছিল না। সে যাকে-তাকে খুন করলে বলার কিছু ছিল না। পুরো ঘটনা চাপা দেওয়া যেত। কিন্তু যে মরেছে সে দামি লোক। যে খুন করেছে, তার চেয়ে লক্ষগুণ দামি। অতএব, ব্যবহৃত টিনের কৌটোর মতো পরিত্যক্ত হল সে। কারাপ্রধান তার পরিচিত। অনুকম্পায় নিছক খুনি ভাবতে পারেননি তাকে। মানুষটা নরম, দরদি। জেলকর্মীরা, নিরাপত্তারক্ষী, দীর্ঘমেয়াদি বন্দিগণ তাঁকে ভালোবাসে।
নিষ্ঠুর কারাগারে স্নেহের স্পর্শ দুর্লভ। যদি জোটে, লোকে তা সম্মানে সম্ভ্রমে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখে।
সমস্ত ছেড়ে, সব হারিয়ে, শুধু ভালোবাসা নিয়ে সে এল জেল খাটতে। বিশ্বাস, সেই মেয়ে নিশ্চয় অপেক্ষা করবে। প্রেমপথে আর বাধা নেই। মুক্তি পেলেই চলে যাবে তার কাছে। কবে মুক্তি?
.
কারাপ্রধানের পরিচিত হওয়ায় তাঁর দরদি হৃদয়ের স্নেহধারা সে পেল অনেকখানি, কিন্তু বুঝল না, কী অমূল্য এই দান। ধরে নিল, এই সমস্তই তার প্রাপ্য। সে ভদ্র, উচ্চশিক্ষিত, সুদর্শন, দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিল, দেশহিতার্থে কতবার নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে কর্তব্য সম্পন্ন করেছে। কারাপ্রধান তার মূল্য বুঝবেন, এমনটাই স্বাভাবিক। সে, কারাপ্রধানের সহানুভূতি ও স্নেহের প্রাপ্তিতে, ভদ্রতাবশত মুখে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করল, অন্তরে বন্দি হয়ে রইল প্রেমিকার ধ্যানমূর্তির আলিঙ্গনে।