কয়েদি – ৮
৮
দিন যায়।
মাস যায়।
বছর পেরিয়ে যায়।
গড়িয়ে গড়িয়ে সময় কেবল যায়। তার সাময়িক মুক্তির অনুমোদন আর আসে না। সে কয়েদখানার ভেতর ঘোরেফেরে, কিছু কাজ করে, বই পড়ে। উকিল এসে মাঝেমধ্যে কিছু পরামর্শ দিয়ে যায়। এখন সে কয়েদখানার পাঠাগার ব্যবহার করতে পারে।
যে ৫-এর কক্ষে সে জায়গা পেয়েছে, সেখানে উপদ্রব বিশেষ নেই। মাঝে মাঝে সেই মুসলমান বৃদ্ধের কথা তার মনে হয়। গত সাত বছরে আর কারো সঙ্গে তার এমন সৌহার্দ্য তৈরি হয়নি।
প্রেয়সীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কেটে গেল আরও এক বছর। অধীর হয়ে সে জিজ্ঞেস করল কারাপ্রধানকে, ‘কবে আমি প্যারোল পাবো?’
‘পাবে। নিশ্চয়।’ বললেন সেই সহানুভূতিশীল কারাপ্রধান। তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন। চুল পেকে সাদা। অবসরকাল পেরিয়ে তিনি অতিরিক্ত সময়ের বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। মধ্য ত্রিশের তরুণ অপরাধীও এই আট বছরে চল্লিশোর্ধ্ব যুবক। বন্ধু নেই, আত্মীয় নেই, সমব্যথী সহকর্মী নেই কেউ। শূন্য একাকী থাকতে থাকতে সে অভাব বোধ করতে ভুলে গেছে। শুধু ভোলে না তার প্রিয়তমাকে, যে অপেক্ষা করে আছে নিশিদিন, একবুক ভালোবাসা নিয়ে।
কিন্তু তার অপেক্ষা আর বিলম্ব সয় না। ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। এত কাছে এসেও, একই নগরে, একই আকাশতলে থেকেও কেন সে প্রিয়তমাকে দেখতে পাবে না? ক্রমে তার সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে, জেলার মহাশয় তার অনুকূলে অনেক কিছুই করতে পারেন, কিন্তু ওই পরিবারের লোকেরা তাঁকে কুমন্ত্রণা দেওয়ায় তিনি নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তাকে ঘিরে চলছে এক বৃহৎ চক্রান্ত।
আমি প্যারোল পাচ্ছি না কেন?
আমি প্যারোল পাচ্ছি না।
আমি প্যারোলের জন্য আপনার পরামর্শ অনুযায়ী সব করছি, তবু পাচ্ছি না কেন?