Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতার রাত্রি রহস্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প214 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তৃতীয় দৃশ্য – চীনেপাড়া

    এই যে চীনেপাড়া, কলকাতার এটি মস্ত একটি দ্রষ্টব্য স্থান। বড়োবাজারের মাড়োয়ারিদের, মেছোবাজারে মুসলমানদের ও চৌরঙ্গিতে ইউরোপীয়দের জাতীয় বিশেষত্বের ছাপ আছে খুব স্পষ্ট— তবু সেসব পাড়াতেও কলকাতা আপনাকে একেবারে হারিয়ে ফেলেনি। কিন্তু আপনি চীনেপাড়ার ভিতরে একবার ঢুকুন, আপনার আর মনে হবে না আপনি সত্যই কলকাতাতেই আছেন! রাত্রে এখানকার আলোছায়া, লোকজন, কথাবার্তা, ঘরবাড়ি সবই সুদূর চীনের বিচিত্র স্মৃতি আপনার মনের মধ্যে জাগিয়ে তুলবে।

    সরু রাস্তা, সাপের মতো এঁকে বেঁকে দু-ধারের বাড়ির মাঝখান দিয়ে চলে গেছে। আপনি চলতে চলতে দু-পাশেই দেখবেন, কোথাও কোনো একতলা বাড়ির পথের ধারের খোলা ঘরে বসে চীনে-মা পথিকদের সামনেই প্রকাশ্যে বুক খুলে অসংকোচে শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছে, কোথাও বাড়ির দরজার ওপরে দুর্বোধ্য চিত্রবৎ চীনে ভাষায় রঙিন বিজ্ঞাপন ঝুলছে, কোথাও এক চীনে তানসেন অচিন সুরের অদ্ভুত গান জুড়ে দিয়েছে, কোথাও-বা তিন চার জন্য চীনেম্যান তাদের অনুস্বর বহুল ভাষায় কী এক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছে। প্রতি পদেই প্রায় দেখবেন, একটা চীনে সরাই বা একেলে ধরনের হোটেল, কিংবা জুয়াখানা ও চণ্ডুখোরের আড্ডা৩.২ অথবা চৈনিক ধর্মমন্দির। আবহাওয়া একেবারে নতুনতরো।

    চীনেপাড়া সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ দুই বন্ধু আমাকে একদিন নিমন্ত্রণ করলেন— চীনে হোটেলে খাওয়াবেন বলে।… তাঁদের সঙ্গে প্রথমে এক খাঁটি চীনে সরাইয়ে গিয়ে ঢুকলুম। দুটি ঘর— একটি রান্নার ঘর ও আর একটি খরিদ্দারের জন্যে, কিন্তু রান্নাঘরটি বড়ো। সেখানে মেঝের ওপরে নানান রকমের খাবার সাজানো রয়েছে, উপরে কতগুলো ছালছাড়ানো কাঁচা মুরগি ঝুলছে। আহার গৃহে তিনকোণে তিনটি ছোটো ছোটো কাঠের টেবিল। প্রত্যেক টেবিলের দুই পাশে অত্যন্ত বিশীর্ণ প্রায় দাঁড়ের মতো দু-খানা করে বেঞ্চি— শুনলুম এ-রকম আসন নাকি চীনে সরাইয়েরই বিশেষত্ব। দরজার পাশের এককোণে একটা উঁচু টেবিল, তাতেও নানারকম খাবার, বোতল ও পাত্রাদি সাজানো এবং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে হাসিমুখে দোকানের মালিক।

    আমরা একটা টেবিলের ধারে গিয়ে বসলুম। নাকে যেন কেমন একটা অজানা গন্ধ পেতে লাগলুম, সে গন্ধ ঘৃণাকরও নয়, উপভোগ্যও নয়। পাশের টেবিলে দু-জন চীনেম্যান মাঝে মাঝে মুখের সামনে বাটি তুলে, দুটো কাঠি দিয়ে৩.৩ কী খাবার নিয়ে খাচ্ছে, মাঝে মাঝে কথা কইছে, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে আমাদের মুখের পানে চেয়ে দেখছে— খাঁটি চীনে সরাইয়ে আমাদের মতো নব্য বঙ্গের হাল ফ্যাশানের নমুনার আবির্ভাব যে প্রায়ই ঘটে না, তাদের ভাব দেখে তা স্পষ্ট বুঝতে পারলুম। আহারকালে চীনেম্যানদের মুখের অদ্ভুত ভাবও দর্শনীয়— কিন্তু কলমে তা অবর্ণনীয়।

    বন্ধুর ফরমাশে একটি ছোকরা চীনে বেয়ারা আমাদের ক-জনের জন্যে একখানা মাত্র ছোটো সানকিতে খানিকটা মাংসের তরকারি, এক বাটি ভাতের ফেন, ঝুরি ভাজার মতো একথালা আলু না ময়দার তৈরি কী একটা জিনিস এবং প্রত্যেকের জন্য দুটো করে কাঠি রেখে গেল। এই কাঠি হচ্ছে চীনেম্যানদের ছুরি কাঁটা। খাবারগুলি খেতে নেহাত মন্দ লাগল না।

    শুনলুম, এখানে খুব সস্তায় মদ বিক্রি হয়। অন্য অন্য জায়গায় যে মদের এক এক ‘পেগে’র দাম পাঁচসিকা৩.৪, এখানে তাই-ই পাওয়া যায় মাত্রে সাড়ে পাঁচ আনায়। এত সস্তার কারণ, এখানে মদ আনা হয় আবগারি বিভাগ ফাঁকি দিয়ে। এখানে চীনে মদও পাওয়া যায়, তার দাম কিন্তু বেশি। এই সুসংবাদ বোধ করি বাঙালি মাতালদের কানে গিয়ে এখনও ওঠেনি— নইলে এতক্ষণে এ স্থানটা নিশ্চয়ই লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকত। এমন প্রকাশ্যভাবে এরা কোন সাহসে মদ বিক্রি করে, বলা যায় না। খুব সম্ভব অচেনা মাতাল এখানে এসে আবদার করলে দোকানের মালিক তাকে গলাধাক্কা দেয়।

    তারপরে গেলুম আর একটা দোকানে। সে দোকানের মালিক কে তা জানি না, কিন্তু মালিকের স্ত্রী নিজেই এসে একগাল হেসে আমাদের অভ্যর্থনা করলেন ও নিজের হাতেই আমাদের জন্য ‘কোকো’৩.৫ তৈরি করে দিলেন। এ-ঘরেও দু-দিকে দুটো টেবিল। একটার উপরে কতকগুলো চীনে মিষ্টান্ন সাজানো। —আর একটা টেবিল খুব উঁচু— তার ওপরে তিন চারটি হৃষ্টপুষ্ট শিশু কখনো গড়াগড়ি দিচ্ছে ও কখনো পরস্পরের সঙ্গে আঁচড়া-আঁচড়ি কামড়া-কামড়ি করছে। টেবিলের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখতে লাগল— মালিকের জামাই ও তার বালিকা স্ত্রী। মেয়েটি এই বয়সে মা হয়েছে— আমাদের বাঙালি বালিকার মতো। আমরা যখন বিদায় নিলুম মালিকের স্ত্রী তখন দরজা পর্যন্ত এসে আমাদের এগিয়ে দিয়ে সেলাম করলেন। এই বিদেশিনির ভদ্রতায় মুগ্ধ হলুম।

    তারপরে আর একটি চীনে সরাইয়ে ঢুকলুম। এটি আকারে মস্ত বড়ো ও খুব সাজানো গুছানো। ভেতরে ইলেকট্রিকের আলো জ্বলছে, হরেকরকম গোলমাল শোনা যাচ্ছে, ব্যস্তভাবে লোক আনাগোনা করছে, চীনেম্যানরা চেয়ারের ওপরে উবু হয়ে খেতে বসেছে। একটি লোক পরিবেশন করছে— উচ্চস্বরে গান গাইতে গাইতে! আমরা একটি কোণের ঘরে গিয়ে বসলুম— বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা। টেবিলের ওপর হরেকরকমের চীনে খাবার সাজানো আছে— যার যা খুশি নিজেই নিয়ে খেতে পারে। দু-চারটে খাবার খেয়ে আমরা চীনে চায়ের ফরমাশ করলুম। একটি চৈনিক যুবতী এসে হাতলহীন চীনে বাটিতে খানিকটা করে চা রেখে গরম জল ঢেলে, তার ওপরে আর একটি বাটি চাপা দিয়ে গেল। খানিকবাদে চায়ের পাতা সিদ্ধ হল। কিন্তু উপুড় করা বাটিটা এমনি তেতে উঠল যে সেটি নামানো অসম্ভব— কারণ তাতেও হাতল নেই। —চা খোর চীনেম্যানদের চা তৈরির এই ব্যবস্থাটি মোটেই সুবিধাজনক বলে মনে হল না।

    এক বন্ধু বাহাদুরি করে বাটিটা নামাতে গেলেন— কিন্তু পারবেন কেন? খানিকটা চা চলকে টেবিলের উপরে এসে পড়ল, তার পর আমাদের দুরবস্থা দেখে সেই চীনে যুবতীটি এসে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। চীনে চায়ে দুধও নেই, চিনিও নেই— তবু আমার বড়ো মন্দ লাগল না, যদিও তার গন্ধটা চিরতার মতো। …খানিক পরে দেখি, অনেকে এসে উঁকি মেরে আমাদের দেখে যাচ্ছে! চৈনিক সুন্দরীটি নিশ্চয়ই বাইরে গিয়ে প্রচার করে দিয়েছেন এ-ঘরে এমন একদল জানোয়ার এসেছে যারা কীরকম করে চা খেতে হয়, তা পর্যন্ত জানে না! যা হোক, আমরাও অপ্রস্তুত হবার পাত্র নই— দিব্য গম্ভীর মুখে চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে লাগলুম— যেন কিছুই হয়নি।

    … আমি লক্ষ করলুম, যতক্ষণ এখানে আছি ততক্ষণ ধরেই একজন চীনেম্যান পাশের ঘর থেকে গম্ভীরভাবে আমার মুখের পানে চেয়ে আছে। আমার সঙ্গে বারংবার চোখাচোখি হলেও একবারও সে চোখ নাবালে না, টেবিলের ওপর দুই কনুই রেখে তেমনই নিষ্পলক নেত্রেই আমার দিকে তাকিয়ে রইল! আমি তার দিকে চেয়ে দু-একবার হাসলুম, কিন্তু তবু তার মুখোশের মতন মুখ স্থির মুখের একটিমাত্র মাংসপেশিও সংকুচিত হল না। তার চাউনি দেখলে মনে হয়, আমি যেন তার পূর্বজন্মের পরিচিত! …কী চায় সে? আমাকে সম্মোহিত করবে নাকি? এমন অস্বস্তি হতে লাগল! …ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এসে তবে আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলুম।

    যেতে যেতে দেখলুম, এক জায়গায় একটা আলোকজ্জ্বল লম্বা ঘর থেকে টাকার আওয়াজ ও বহু কণ্ঠের মৃদুধ্বনি উঠছে। উঁকি মেরে দেখলুম, সত্যিই সে ঘরে অনেক লোক, সবাই চীনেম্যান। তারপর শুনলুম, এটা জুয়াখেলা। এটা নাকি চীনেদের ধর্মানুমোদিত, জুয়া না খেললে তাদের ধর্মহানি হয়! তাই প্রকাশ্যভাবে জুয়া খেললেও গভর্নমেন্ট তাদের বাধা দেয় না। অধিকাংশ চীনেম্যানই নিয়মিতভাবে জুয়া খেলে। সম্প্রতি কিন্তু সরকারি হুকুমে চীনেপাড়ার প্রধান বিশেষত্ব— প্রকাশ্য জুয়াখেলা বন্ধ হয়ে গেছে।

    মগ, ফিরিঙ্গি, চীনেম্যান ও নিম্নশ্রেণির মুসলমানে পরিপূর্ণ, সংকীর্ণ ও মলিন গলির ভেতরে এগিয়ে আমরা আর দুটি হোটেল দেখলুম— এ দুটি হোটেল একেবারে ইউরোপীয় ধরনে সাজানো গুছানো। একটির নাম ‘ক্যান্টন’ অন্যটি ‘চাঙ্গুয়া’৩.৬ (এখন ‘ন্যানকিন’ নামে আর একটি নতুন হোটেল হয়েছে)। আমরা শেষোক্ত হোটেলে প্রবেশ করলুম। ঢুকবামাত্রই এক বুড়ো ও রোগা চীনেম্যান শুষ্ক ভাবহীন মুখে আমাদের অভিবাদন করলে— তার পরই এল এক ছিপছিপে যুবক, তার মুখ হাসিখুশিতে ভরা।

    বার্নিস করা কাঠের দেয়াল দিয়ে ঘেরা একটি কোণের ঘরে গিয়ে আমরা বসে পড়লুম— দু-জন খিদমৎগার এল, তারা চীনে নয়, মুসলমান। চারিদিকে চেয়ে দেখলুম, চীনেপাড়ার এই চীনে হোটেলে চীনে আবহাওয়া একটুও নেই।

    ওপাশের একটা ঘরের পর্দা খোলা ছিল— একটি যুবতী মেম হাতে মদের গেলাস নিয়ে একবার লীলাভরে হেসে গড়িয়ে পড়ছে, একবার আসনে বসেই পুলকে নেচে নেচে উঠছে, একবার ঘরের অদৃশ্য অংশে কোনো সাহেবের সঙ্গে সুরাজড়িত স্বরে ইয়ার্কি করছে। হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে আমার কালো চেহারা চোখে পড়তেই সে উত্তেজিত স্বরে ডাকলে— ম্যানেজার! আমি ভাবলুম, ব্যাপার কী? …ম্যানেজার আসবামাত্র সে তার ঘরের পর্দা টেনে দিতে বললেন— আমার কালো মুখ বোধ হয় তার স্ফূর্তির রং ময়লা করে দিচ্ছিল। —অথচ এ শ্রেণির মেমদের আমি খুব চিনি। আজ কোনো শ্বেতাঙ্গের ঘাড় ভেঙে সে হোটেলের খরচ চালিয়ে নিচ্ছে বলেই কালো চেহারার ওপর মৌখিক রাগ দেখাচ্ছে, কিন্তু কাল আমার পকেটে টাকার আওয়াজ শুনলে এই সুন্দরীটিই আমার পাশে এসে বসে অমনি ভঙ্গিভরেই হেসে মুচকে পড়বে।

    এখানকার এই দুটি হোটেলে রাত্রিবেলায় সুরা ও নারীর মহিমা নগ্নরূপে আত্মপ্রকাশ করে। এটি বেপাড়া— চেনা লোকের সঙ্গে চোখাচোখি হবার ভয় নেই, তাই অনেক ইংরেজ ও বাঙালি এখানে এসে রাত্রির খানিক অংশ বেপরোয়া স্ফূর্তিতে কাটিয়ে দেয়। এখানকার লোকগুলো অনেক যুবক ও যুবতীকেই টেবিলের তলায় নেশায় বেসামাল হয়ে গড়াগড়ি দিতে দেখেছে! সুরা ও নারী চর্চার অবশ্যম্ভাবী ফল— মারামারি, তাও এখানে নতুন দৃশ্য নয়। খালি আহার করতে খুব কম ইংরেজ ও বাঙালিই আসে, কারণ চীনেপাড়ার বাইরে ইউরোপীয় ধরনের হোটেলের কোনো অভাব নেই!

    ‘চাঙ্গুয়া’র পাশে একটি জুয়াখানা ও চণ্ডুখোরের আস্তানা আছে। (আজকাল আর নেই)। চীনে জুয়াখানায় আমাদের প্রবেশ নিষেধ— কারণ সে কেবল চীনেদের জন্যেই। ভিন্নজাতীয় লোকদের মধ্যে জুয়াখেলা তো পবিত্র বা ধর্মের অঙ্গ নয়, তাই তারা এখানে এসে জুটলেই সেটা বেআইনি হয় এবং পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু আমার বন্ধুদের প্রভাব এখানে যথেষ্ট। তাই আমি চীনে জুয়াখানার ভেতরে একবার দৃষ্টিপাত করবার দুর্লভ সুযোগ পেলুম। …ঘরের ভিতরে ঢুকেই দেখলুম, মাঝখানে একটা বড়ো মেঝের চারপাশে প্রায় ত্রিশ-চল্লিশজন লোক দাঁড়িয়ে বা চেয়ারের উপর বসে রয়েছে। জুয়াখেলার কিছুই আমি জানি না, তারা কোন শ্রেণির জুয়া খেলছিল তা বলতে পারি না। তবে এটা আমার চোখে পড়ল যে, মেঝের উপরে থাকে টাকা ও পয়সা সাজানো রয়েছে। সেই টাকা-পয়সার থাকগুলো মাঝে মাঝে এ, ওর দিকে এগিয়ে দিচ্ছে— হার-জিত অনুসারে। শুনেছি জুয়াখেলায় জয়লাভের চেয়ে যে অনিশ্চয়তার প্রবল উত্তেজনা আছে, সেই উত্তেজনাই ভূতের মতো জুয়াড়িদের পেয়ে বসে এবং সেইজন্যেই তারা জুয়া না খেলে থাকতে পারে না— এমনকী সর্বস্ব পণ করেও। ঘোড়দৌড়ের উত্তেজনায় খেলোয়াড়দের আমি পাগলের মতো হয়ে উঠতে দেখেছি। ভেবেছিলুম এখানেও সেই উত্তেজনা দেখতে পাব। কিন্তু বৈদ্যুতিক বাতির প্রখর আলোকেও, এই চীনেম্যানগুলির কারোর মুখেই উত্তেজনার আভাসমাত্র আমি পেলুম না। অধিকাংশ লোকই ভাগ্যদেবীর চঞ্চল লীলা প্রশান্ত মুখে, স্থির নেত্রে নিরীক্ষণ করছে— কেবল কেউ কেউ মৃদু মৃদু হাসছে এইমাত্র! তারা কথাও কইছে খুব আস্তে আস্তে —গলার আওয়াজেও উত্তেজনার কোনো সাড়া নেই। মনে মনে ভাবলুম, হ্যাঁ, জুয়াখেলা সত্যই চিনাদের ধর্ম বটে। তাদের খেলা একমনে দেখছি —হঠাৎ একটা লোক ফিরে বললে, ‘বাবু এ জায়গা তোমাদের জন্য নয়!’ আমরা বিনা বাক্যব্যয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলুম।

    ঠিক পাশের ঘরেই চণ্ডুখানা। সকলেই জানেন বোধ হয়, চীনে চণ্ডু আর দেশি গুলি একজাতীয় নেশা! তবে চিনারা চণ্ডু খায় সাইকেলের ‘পাম্পে’র মতো একরকম পাইপে, আর গুলিখোরেরা খায় ছোটো একটা হুঁকায় নল লাগিয়ে। চণ্ডুখানায় তখন একজন চীনেম্যান একখানা সোফার উপর শুয়েছিল, তার দেহের কোমর থেকে পা পর্যন্ত সোফার নীচে ঝুলে পড়েছে। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, একটা মৃতদেহ! —তার শরীরে কোথাও প্রাণের লক্ষণ নেই! নেশার ফলে সে এখন সংসারের দুঃখঝঞ্ঝাটের মধ্যে বাঞ্ছিত ও দুর্লভ বিস্মৃতিকে লাভ করেছে। চণ্ডু নাকি শুয়ে শুয়েই টানতে হয়— নইলে আফিমের ধোঁয়া এত শীঘ্র মস্তিষ্কের ভেতরে গিয়ে পৌঁছায় যে, উপভোগে বাধা উপস্থিত হয়। খানিকক্ষণ চণ্ডুর সেবন করার পরেই চণ্ডুখোর আর উঠতে বা নড়তে পারে না, তখন সে সদ্যোজাত শিশুর চেয়েও অসহায়, একটা মাছি পর্যন্ত মারা তার পক্ষে অসম্ভব! এমন নেশাও মানুষ করে!

    তারপর আমরা রাস্তায় এসে, এই আলো-আঁধারির রহস্যে ভরা, গুন্ডার বিচরণক্ষেত্র, সরু সরু গলি, জুয়াখানা, চণ্ডুর আড্ডা, মন্দির-হোটেল ও পানাগারে এবং চীনে ছেলে-মেয়ে বুড়োর জটলাতে বিচিত্র ‘চায়না টাউন’-এর কাছ থেকে বিদায় গ্রহণ করলুম। এইরকম চীনেপাড়া পৃথিবীর সব দেশেই আছে— কারণ চীনেরা ভবঘুরে জাতি, বাঙালির মতো ঘরমুখো নয়। শুনেছি পৃথিবীর সর্বত্রই চীনেপাড়া দেখতে নাকি একইরকম। আমেরিকা ও বিলাতের চীনেপাড়া নেশা, নানা পাপ ও অশান্তির জন্যে বিখ্যাত। কলকাতার চীনেপাড়া ততটা ভয়ানক না হলেও সাধারণের পক্ষে রাত্রে এখানে যাওয়াটা বিশেষ নিরাপদ নয়! অন্ধকার আনাচকানাচ থেকে যে-কোনো মুহূর্তেই ছোরা-ছুরির মতো বিদ্যুৎচমক জ্বলে উঠতে পারে।

    ***

    টীকা

    ৩.১ চীনেপাড়া—

    “যাহারা কলিকাতা শহরের সহিত ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তাঁহাদের মধ্যেও অনেকে হয়তো জানেন না যে, এই শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি পল্লী আছে, যাহার একদিকে দুঃস্থ ভাটিয়া-মাড়ওয়ারী সম্প্রদায়ের বাস, অন্যদিকে খোলার বস্তি, ও তৃতীয় দিকে তীর্যকচক্ষু পিতবর্ণ চীনাদের উপনিবেশ।”— সত্যান্বেষী, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।

    সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে কথা। ইটালিয়ান সাহিত্যিক ক্যাসানোভার প্রিয় বন্ধু ছিলেন এদোয়ার্দো তেরিত্তি। কিন্তু বিধি বাম, তাঁকে দেশছাড়া হতে হল রাজনৈতিক কারণে। নানান জায়গাতে ভাসতে ভাসতে এসে ঠেকলেন এই কলকাতায়। সুপারিন্টেনডেন্ট অফ স্ট্রিটস অ্যান্ড বিল্ডিং-এর চাকরি জুটিয়ে ফেললেন তিনি! আর সেই টাকায় কিনে ফেললেন একটা গোটা বাজার। নাম দিলেন তেরিত্তিবাজার, যা আজকের টেরিটিবাজার। আর বিয়ে করে ফেললেন এক ফরাসি কাউন্টের মেয়ে, পরমাসুন্দরী এঞ্জেলিকাকে। অগাধ পয়সা আর সঙ্গে সুন্দরী স্ত্রী… আর কী চাই!

    কিন্তু এখানেও বিধি বাম! দেনার দায়ে বিক্রি হয়ে গেল বাজার, আর ১৭৯৬ সালে মারা গেলেন এঞ্জেলিকা। প্রথমে শিয়ালদা বৈঠকখানার এক পর্তুগিজ কবরখানায় ওঁকে কবর দেবার পরে, ওখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তেরিত্তির বিবাদ হওয়ায়, সেই কবর তিনি তুলে নিয়ে আসেন, নিজের কেনা জমিতে কবর দেন। প্রতিষ্ঠা হয় তেরিত্তি কবরখানা বা ফ্রেঞ্চ বেরিয়াল গ্রাউন্ডের। সাউথ পার্ক কবরখানার কোনাকুনি ছিল এই কবরখানা, যা সবার জন্য খোলা ছিল। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত ছিল প্রায় একশো আটজন। আজকের তারিখে, সেই কবরখানার কোনও অস্তিত্ব নেই। বহুদিন আগেই তার লিজ শেষ হয়ে যাওয়ায়, সেখানে আজ দাঁড়িয়ে আছে উঁচু উঁচু বাড়ি। এরপর থেকে তেরিত্তি সাহেবের আর-কোনো হদিশ পাওয়া যায় না। সম্ভবত তিনি দেশে চলে গেছিলেন।

    একসময় ব্রিটিশরা এখান থেকে প্রচুর আফিম রপ্তানি করত চিনে। সেই সূত্র, আর বাণিজ্যের সূত্রে কলকাতায় চিনেরা আসতে শুরু করে। এদের মধ্যে টং আছু-র নাম উল্লেখযোগ্য, যাকে কলকাতার একজন চীনে শিল্পপতি বলে অভিহিত করা যেতে পারে। বজবজের কাছের যে অছিপুর জায়গাটা, সেটা তো ওঁর নামেই! ধীরে ধীরে তারা ছড়িয়ে পড়ে ট্যাংরা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ আর এই টেরিটিবাজারের অঞ্চলে।

    সেকালের টেরিটি আর একালের টেরিটির মধ্যে অনেক তফাত। এখন এই জায়গাটা একটা ট্রান্সপোর্ট হাব হয়ে উঠেছে। কিন্তু আজ থেকে চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে, এখানে হিন্দু মুসলিম ও চীনারা মিলেমিশে থাকত। বেশির ভাগ বাড়িগুলোর মালিকানা ছিল বাঙালিদের। আর এই পাড়াতে বাঙালি মেস ছিল অনেক। এরকম একটা মেস থেকেই তো সূত্রপাত ব্যোমকেশের প্রথম গল্পের! রাস্তার ধারে প্রচুর চিনে দোকান, অনেক চীনে রেস্তোরাঁ, আর সকালে রাস্তার ধারে বসা চীনে ব্রেকফাস্ট! এখন সেই বাড়িগুলোর মালিকানা বেশির ভাগ চলে গেছে অবাঙালি মুসলিমদের হাতে, আর ট্রান্সপোর্ট হাব হবার জন্য রাস্তাঘাট হয়ে উঠেছে নোংরা। এ পাড়ায় এখন নতুন প্রজন্মের চীনেদের দেখাই যায় না। হয় তারা কলকাতার অন্য জায়গায় চলে গেছে, নাহয় পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। এখানে রয়েছে শুধু কিছু চীনে বুড়ো-বুড়ি, তাদের পুরোনো স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে। হাতে গোনা কয়েকটা চীনে দোকান আর রেস্তোরাঁ দেখা যায় এখন। তবে হ্যাঁ, একটা জিনিস এখনও রয়েছে, সেটা হল চীনে ব্রেকফাস্ট। সকাল পাঁচটা থেকে আটটা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সংখ্যাতে অনেক কমে গেলেও, নিজেদের এই ব্রেকফাস্টের কালচারটা তারা ধরে রেখেছে।

    ৩.২ চণ্ডুখোরের আস্তানা— চণ্ডু হল আফিং থেকে প্রস্তুত মাদকবিশেষ। হুতোমের আমলে যুবকরা বেশ্যাসক্ত ছিলেন, কিন্তু মদ্যপান করতেন না, গাঁজা, চরস বা আফিম খেতেন। ইংরেজি শিক্ষার ফলে পুরোনো নেশা চণ্ডু, গুলি, আফিম বা কালাচাঁদ, তড়িতানন্দ বা গাঁজা বিদায় নিল নতুন জাতে ওঠা অভিজাতদের কাছ থেকে। আগে নেশাখোর বোঝাতে ‘গুলিখোর’, ‘গাঁজাখোর’, ‘চণ্ডুখোর’, ‘আফিমখোর’, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হত। ইংরেজিশিক্ষিতদের কল্যাণে জন্ম হল নতুন শব্দ ‘মদখোর’।

    চণ্ডু তৈরি করতে দুখানা চকচকে মাজা সরা লাগত। মিঠে আঁচে সরা চড়িয়ে তাতে আফিম গলিয়ে নিতে হত। আফিম টলটলে হয়ে গেলে আর-একখানা মাজা সরায় ফরসা ন্যাকড়া দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। সেই ছাঁকা তরলের সঙ্গে কচি পেয়ারাপাতা মিশিয়ে যখন বেশ ঘন কাই হয়ে যাবে, সেটিকে আবার ছেঁকে ছোটো ছোটো গুলি পাকাতে হবে অল্প গরম থাকতে থাকতে। এরপর সেটা চলে যেত আড্ডায়। আড্ডায় আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী চণ্ডুখোরদের সুবিধার তারতম্য হত। যারা কম পয়সার খাবে, তাদের বসার একটা পিঁড়ে আর ঠেস দেবার একটা পিঁড়ে। একটু বেশি পয়সা হলে ঠেস দিতে বালিশ। আরও বেশি হলে বসার জন্য তুলোভরা তোশক আর ঠেস দেবার জন্য বড়ো মাথার বালিশ। সবটাই তেলচিটচিটে।

    চণ্ডু টানতে হত পাইপ দিয়ে। পাইপের একটা দিক লম্বা আর অন্যদিক তিনটে প্যাঁচ খেয়ে সোজা দাঁড়িয়ে আছে। এই মুখটা একটা ছোটো কলকের মতো। এখানে চণ্ডুর গুলি পুরে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে। যিনি গুলি খাবেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে টান মেরেই ঘুরে পড়বেন। তখন আড্ডার লোকেরা চিনির জলে ভেজানো শোলার টুকরো তাঁর মুখে গুঁজে দেবেন। একটু বেশি পয়সা দিলে তিনি পাবেন বাতাসা, আর সবচেয়ে বেশি পয়সার খদ্দেররা পাবেন রসমুন্ডি। নেশা করে উঠে দাঁড়াতে দেড় দুই ঘণ্টা তো লাগতই। সঙ্গের ছবিতে ১৮৯২ সালে তোলা চণ্ডুখোরের আস্তানা।

    ৩.৩ দুটো কাঠি দিয়ে— চপস্টিক। চিনের এক উপকথা থেকে জানা যায়, গরম খাবার সহজে মুখে পুরে দেওয়ার জন্যই নাকি প্রাচীন এক ব্যক্তির মাথা থেকে এসেছিল এই চপস্টিকের ধারণা। উপকথা অনুযায়ী, একবার একজন লোকের নাকি খুব খিদে পেয়েছিল। অথচ, তাঁর জন্য রান্না করা মাংস ছিল বেজায় গরম। কাজেই, গরম পাত্র থেকে মাংস তুলে মুখে দেওয়ার জন্য তিনি বেছে নেন সরু দুটো কাঠি। তারপর সেই কাঠি দিয়ে মাংস তুলে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে খুব দ্রুত খাওয়া শেষ করেন তিনি। আর এ থেকেই এতদঞ্চলের লোকেদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে চপস্টিক।

    আনুমানিক ৫০০ খ্রিস্টাব্দে এই চপস্টিকের ব্যবহার পরিচিত হয়ে ওঠে বৃহত্তর চিন থেকে শুরু করে মঙ্গোলিয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। মজার বিষয় হলে, আমাদের কাছে কিংবা ইংরেজিতে যে বস্তুটি চপস্টিক নামে পরিচিত, জাপানে সেই চপস্টিককেই বলা হয় ‘হাসি’, যার অর্থ হল সাঁকো। চপস্টিক খাবার পেট আর মুখের মাঝে সাঁকোর মতো কাজ করে বলেই এমন নাম। অন্যদিকে চিনে এর প্রচলিত নাম হল ‘কু আই-জি’ বা চটপটে বন্ধু। চপস্টিকের মাধ্যমে খাওয়া দ্রুত শেষ করা যায় বলেই সম্ভবত এর এমন একটি নাম দিয়েছিল চিনারা। অন্যদিকে, নামের প্রকারভেদের মতো দেশে দেশে চপস্টিক দিয়ে খাবার গ্রহণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা সংস্কারও। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে চপস্টিক দিয়ে খাবার পাশের জনকে দেওয়া বারণ। কেন-না, দেশটিতে মৃতদেহের সৎকারের সময় চপস্টিক দিয়ে মৃতের অস্থি-ভস্ম আত্মীয়দের মাঝে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চিনে যেমন হোস্ট যতক্ষণ না তাঁর চপস্টিক ভাতের প্লেটে রাখছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অতিথিরা চপস্টিকে হাত দেন না। একইভাবে খাওয়া শেষে প্লেটের উপর পাশাপাশি চপস্টিক দুটি শুইয়ে দেওয়াও চিনা রীতি।

    ৩.৪ পাঁচ সিকা— ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর বোধোদয় বইতে লিখছেন, “সকল দেশেই নানাবিধ মুদ্রা প্রচলিত আছে। আমাদের দেশে যে সকল মুদ্রা প্রচলিত, তন্মধ্যে পয়সা তাম্রনিৰ্ম্মিত; দুআনি, সিকি, আধুলি, টাকা রৌপ্যনিৰ্ম্মিত। আর, ঐরূপ সিকি, আধুলি, টাকা স্বর্ণনিৰ্ম্মিতও আছে। স্বর্ণনিৰ্ম্মিত টাকাকে স্বর্ণ ও মোহর বলে।

    ৪ পয়সায় ১ আনা ;

    ৮ পয়সায় ১ দুআনি ;

    8 আনায় ১ সিকি;

    ৮ আনায় ১ আধুলি ;

    ১৬ আনায় ১ টাকা।

    সিকি, পয়সা অপেক্ষা অনেক ছোট, কিন্তু এক সিকির মূল্য ১৬ পয়সা ; ইহার কারণ এই যে, রৌপ্য তাম্র অপেক্ষা দুষ্প্রাপ্য ; এজন্য রৌপ্যের মূল্য তাম্র অপেক্ষা এত অধিক। স্বর্ণ সৰ্ব্বাপেক্ষা দুষ্প্রাপ্য ; এজন্য স্বর্ণের মূল্য সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক। পূর্বে এক মোহরের মূল্য ১৬ টাকা অথবা ১০২৪ পয়সা ছিল ; কিন্তু এক্ষণে উহার মূল্য তদপেক্ষা অনেক অধিক হইয়াছে।”

    ৩.৫ কোকো— কোকো বা কোকোয়া দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ। যার বীজ থেকে চকোলেট তৈরি হয়। মধ্য আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে এর চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে ক্রমান্বয়ে। তারপর আফ্রিকার ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট ও ক্যামেরুনে এর চাষ শুরু হয়। এরপর এশিয়ার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নিউগিনিতে সূচনা হয় এর চাষ। দক্ষিণ ভারত ও উড়িষ্যা রাজ্যেও এর চাষ দেখা যায়। ১৮৯০ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৫০ সালের দিকে এর চাষের বেশি প্রসার ঘটে। বর্তমানে পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি কোকোয়া উৎপাদিত হয় আইভরি কোস্ট, ব্রাজিল ও ঘানা থেকে।

    আমাদের দেশেও অনেক ভেষজ বা শৌখিন বাগানে কোকোয়ার গাছ দেখা যায়। এই কোকোয়া ফলের বীজ থেকেই তৈরি হয় আমাদের অতি প্রিয় চকলেট। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, কোকোয়া ফল কলম্বাস ১৪৯৫ সালে মধ্য আমেরিকা থেকে ইউরোপে নিয়ে এসেছিলেন। তবে স্প্যানিশ জেনারেল কোরেটজ্ ১৫২০ সালের মাঝামাঝি এই স্বর্গীয় ফল স্পেনে আমদানি করেন। পরে ফরাসিরা এই গাছের সন্ধান পায়। ১৬৫৭ সালে এক ফরাসি নাগরিক লন্ডনে ‘চকোলেট হাউস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চকোলেট জনপ্রিয় করে তোলেন। কোকোয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Theobroma cacao। গ্রিক ভাষায় Theos মানে ভগবান আর broma মানে খাদ্য, অর্থাৎ ভগবানের খাদ্য।

    এখানে কোকো মানে হট চকোলেট- এর কথা বলা হয়েছে। শক্ত চকোলেট, গলানো চকোলেট বা কোকো, উত্তপ্ত দুধ বা জল এবং চিনির সমন্বয়ে তৈরি এক ধরনের উত্তপ্ত পানীয়। গলানো চকোলেট দিয়ে তৈরি এই হট চকোলেটকে কখনও কখনও বেভারেজ চকোলেট বা পানীয় চকোলেটও বলা হয়।

    ৩.৬ ক্যান্টন, চাঙ্গুয়া— দুটি চিনা রেস্তোরাঁই প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর উপরে অবস্থিত চাঙ্গুয়া কলকাতার প্রাচীনতম বার। সেই উত্তমকুমারের যুগের বাংলা সিনেমার ‘কেবিন’-কালচার বজায় রয়েছে এখনও। বাংলার দিকপাল কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের প্রিয় ঠেক ছিল চাংওয়া। শিবরাম চক্রবর্তী থেকে জহর রায়, সবার প্রিয় ছিল এই খাবার জায়গাটি। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় লিখছেন, “একদিন দেশ পত্রিকার অফিসে একজন লেখক এসে জানালেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর ফুটপাথে শিবরামবাবু চিত হয়ে শুয়ে আছেন। সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সাগরদা আমাকে ডেকে বললেন, ওর তো আজ লেখা দিতে আসার কথা। ফুটপাথে শুয়ে আছে কেন! দেখে এসো তো।আমি গিয়ে দেখি, ‘চাংওয়া’র সামনে তিনি আরামে শুয়ে আছেন। একটা হাত কপালে, আর একটা হাত সিল্কের পাঞ্জাবির পকেটে। একটু আড়ালে দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছি। ডান হাতটা পাঞ্জাবির পকেটে। পকেট থেকে তেলেভাজা বের করে মাঝে মাঝে মুখে দিচ্ছেন। এই বার আমি গিয়ে ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করলুম, এইখানে এইভাবে শুয়ে আছেন কেন! আমাকে নিচু হতে ইশারা করলেন। ফিসফিস করে বললেন, চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়ে কোঁচা জড়িয়ে পড়ে গেছি। একটা ধেড়ে মানুষের পড়ে যাওয়াটা লজ্জার, না শুয়ে থাকাটা লজ্জার! আমি বললুম, এর উত্তর দেবেন সাগরদা। আপনি এখন উঠুন। সিল্কের পাঞ্জাবির পিছনে ধুলো। মাথার পিছনে ধুলো। আমি ঝাড়ার চেষ্টা করতেই বললেন, তুমি কিছুই জানো না। একসময় কলকাতার বাবুরা ভোরবেলায় খানা থেকে উঠে প্রাসাদে প্রবেশ করত। পাঞ্জাবির পিছনে ধুলো এটা একটা অ্যারিস্টোক্রেসি।”

    ক্যান্টন রেস্টুরেন্টটি অবশ্য এখন আর নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভূত ৭৩ – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article বিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }