Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. সংবাদপত্রে সেকালের কলকাতা

    সংবাদপত্রে সেকালের কলকাতা

    সেকালের সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনে সমাজের চিত্র কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তার কিছুটা পরিচয় দিয়েছি। বিজ্ঞাপন ছাড়াও নানা রকমের সংবাদের মধ্যে সামাজিক জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তার গুরুত্বও কম নয়। আমাদের দেশের সামাজিক ইতিহাস এখনও লেখা আরম্ভ হয়নি বললেও ভুল হয় না। সংবাদপত্রের আবির্ভাবের পর, সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিকের বহু মূল্যবান উপাদান তার পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে। বিজ্ঞানীর দৃষ্টি দিয়ে সেগুলি বিচার—বিশ্লেষণ করলে, কেবল তা—ই দিয়েই অতীত জীবনের চমৎকার বাস্তব ইতিবৃত্ত রচনা করা যায়। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর কলকাতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অনেক ‘সংবাদ’ সেকালের ইংরেজি—বাংলা সংবাদপত্রের স্তম্ভে সমাধিস্থ হয়ে আছে। এইসব অতীব দুষ্প্রাপ্য জরাজীর্ণ পত্রিকাস্তূপের ভিতর থেকে এখনও সেগুলি পুনরুদ্ধার করে ইতিহাস রচনার কাজে লাগানো যায়। কিন্তু অধিকাংশ পত্রিকার দুরবস্থা দেখে মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে সেগুলি আর ব্যবহারযোগ্য থাকবে না। কেবল একখানি পত্রিকা থেকে (‘সমাচার দর্পণ’) কত মূল্যবান উপকরণ আহরণ করা যেতে পারে, স্বর্গীয় ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সংবাদপত্রে সেকালের কথা’ গ্রন্থে তার প্রমাণ দিয়েছেন। এরকম আরও অনেক মূল্যবান পত্রিকা আছে, বাংলা ও ইংরেজি দুইই। তা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে কোনো সঙ্কলন গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে পত্রিকগুলির বিলুপ্তির সঙ্গে আমাদের দেশের ইতিহাসের অনেক মূল্যবান উপকরণ চিরদিনের মতন লুপ্ত হয়ে যাবে।

    জীর্ণ পত্রিকার স্তূপ ঘেঁটে এরকম অনেক সংবাদ আমি আহরণ করেছি। তা—ই দিয়ে সেকালের কলকাতার তথা বাংলার সামাজিক জীবন সম্বন্ধে স্বতন্ত্র একটি বই লেখা যায়। এখানে ছোট একটি অধ্যায়ের মধ্যে কয়েকটি মাত্র টুকরো সংবাদের ভিতর দিয়ে সেকালের কলকাতার প্রাত্যহিক ও সামাজিক জীবনের যংসামান্য আভাস দেবার চেষ্টা করেছি।

    বেঙ্গল হরকরা, ১২ মে, ১৮২৯ : সম্পাদকীয় প্রবন্ধ : ‘শহরের পুলিশের উদাসীনতা ও অকর্মণ্যতার একটি লজ্জাকর দৃষ্টান্ত আমরা কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে চাই। দৃষ্টান্তটি বিরল নয় বলে এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানুষিক বলে, কর্তৃপক্ষের নজরে আনা দরকার বোধ করছি। আমাদের ধারণা, ব্রিটিশ আইনশাসিত আর কোনো দেশে এরকম ঘটনা ঘটে না।

    ‘আমাদের এই প্রবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত আমরা জানি, ওয়েলিংটন স্কোয়্যারের দক্ষিণ—পশ্চিম কোণে একটি লোকের মৃতদেহ প্রকাশ্যে পথের উপর পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান করে আমরা জেনেছি, লোকটি গত রবিবার (আজ মঙ্গলবার) বেলা দুটোর সময় চলতে চলতে হঠাৎ ক্লান্তিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় এবং বেলা পাঁচটার সময় মারা যায়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত করা হয়নি এবং ভাবগতিক দেখে মনে হয়, হবার কোনো সম্ভাবনাও নেই। এমনকি মৃতদেহটি যে শহরের প্রকাশ্য জনপথ থেকে সরিয়ে ফেলা বাঞ্ছনীয়, সে চেতনাও যেন পুলিশের লোপ পেয়েছে। এর মধ্যে মৃতদেহটি নিশ্চয় পচতে আরম্ভ করেছে, তার পাশ দিয়ে লোকজন চলাচল করছে এবং তারা এই বীভৎস দৃশ্য দেখছে। প্রতিবেশীদের অসুখবিসুখও হতে পারে। সুতরাং পুলিশের উদাসীনতা অমার্জনীয় ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    Library
    লাইব্রেরি
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    কৌতুক সংগ্রহ
    নতুন বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বইয়ের তালিকা

     

    ‘প্রথমত, পুলিশের কর্তব্য ছিল, লোকটি যখন অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, তখন তাকে হাসপাতালে (কাছে ধর্মতলায় ছিল) পাঠানো। তা করলে, হয়তো লোকটি বেঁচে যেত। তা যখন করা হয়নি, তখন সে প্রশ্ন না—তোলাই ভাল। কিন্তু লোকটি যে কী কারণে ওইভাবে পড়ে মারা গেল, সে সম্বন্ধে অন্তত পুলিশের তদন্ত করা কর্তব্য ছিল। এমনও হতে পারে যে লোকটিকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আরও অন্যান্য কৌশলে হত্যা করাও সম্ভব। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, খোঁজ করলে, ব্যাপারটা জানা সম্ভব হত। তা—ও করা হয়নি।

    ‘কলকাতার পুলিশের এরকম মর্মান্তিক উদাসীনতার দৃষ্টান্ত এর আগেও আমরা অনেক লক্ষ করেছি। কলকাতার সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি কিছুদিন আগে একটি মামলার রায়—প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে কলকাতা শহরের ক্রমে যে অবস্থা হচ্ছে তাতে মানুষের জীবন একেবারেই নিরাপদ নয় দেখা যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতির এই সুচিন্তিত মন্তব্যের পর, আমরা ভেবেছিলাম, শহরের কর্তা ও প্রহরীদের দৃষ্টি আরও সজাগ হবে এবং তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সম্বন্ধে আরও সচেতন হবেন। কিন্তু এইসব দৃষ্টান্ত দেখে মনে হয়, তাঁরা তা হননি। যাঁরা এ ব্যাপারে দোষী নন, তাঁদের সম্বন্ধে আমরা কিছু বলছি না। কিন্তু শহরের অবস্থার উন্নতির জন্য আরও বেশি অবহিত হওয়া প্রয়োজন।’ (অনুবাদ)

     

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    Library
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইনে বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    গল্প, কবিতা
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    ১৮২৯—৩০ সালেও কলকাতা শহরের অবস্থা কীরকম ছিল, ‘হরকরা’র এই সম্পাদকীয় প্রবন্ধ থেকে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। নাগরিক শাসন—শৃঙ্খলা, দৈনন্দিন জীবনের শোভনতা বা নিরাপত্তা বসে এখনও কলকাতায় বিশেষ কিছু ছিল না। সাধারণ লোকসমাজের নাগরিক চেতনার তখনও বিকাশ হয়নি। নগরকর্তারাও অত্যন্ত উদাসীন ছিলেন। অথচ ‘হিন্দু কলেজ’ ও অন্যান্য শিক্ষায়তনের প্রতিষ্ঠার ফলে কলকাতায় তখন একশ্রেণির শিক্ষিত মধ্যবিত্তের বিকাশ হয়েছে। বোঝা যায়, সংখ্যায় তাঁরা নগণ্য ছিলেন এবং সমাজে তাঁদের প্রভাবও খুব সঙ্কীর্ণ ছিল।

    আধুনিক যুগে শহরের সমস্ত কদর্যতার মধ্যে কলকাতার মহানগরের ক্রমবিকাশ হয়েছে। মধ্যযুগের নগরের অন্যতম ভূষণ ছিল বারাঙ্গনাপল্লি। রাজার পারিষদ ও আমলা—অমাত্যরা প্রকাশ্যে বারাঙ্গনা—গৃহে যাতায়াত করতেন, সকলে মিলেমিশে আমোদ—আহ্লাদ করতেন। তার মধ্যে একটা মধ্যযুগীয় পৌরুষ ও আভিজাত্যও ছিল। পতিতাসঙ্গদোষে সামাজিক মর্যাদার হানি হত না। বড়বাবুরা যাঁরা বিদেশে চাকরি করতে যেতেন, সাধারণত কোনো নগরে, তাঁরা প্রথম থেকেই পরিবার—পরিজন সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন না। সেইজন্য চাকুরিস্থলে তাঁদের উপপত্নীর প্রয়োজন হত এবং তাঁদের বসতির কাছাকাছি অঞ্চলে বারাঙ্গনাপল্লি গড়ে উঠত। দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায় তাঁর ”আত্মজীবনচরিত”—এ এ সম্বন্ধে গোয়াড়ি কৃষ্ণনগরের কথা উল্লেখ করে যা লিখেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। পূর্বে কৃষ্ণনগরের কেবল আমিনবাজারে পতিতালয় ছিল। গোয়াড়িতে গোপ, মালো প্রভৃতি জাতির বাস ছিল। পরে ইংরেজরা যখন এখানে বিচারালয় ইত্যাদি স্থাপন করেন, তখন গোয়াড়ির পরিবর্তন হতে থাকে। কীভাবে এই পরিবর্তন হয়, সে সম্বন্ধে কার্তিকেয়চন্দ্র লিখেছেন :

     

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    বইয়ের
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    লাইব্রেরি
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বইয়ের

     

    ‘পরে যখন ইংরাজ গবর্ণমেন্ট এই স্থান প্রশস্ত ও নদীতীরস্থ দেখিয়া ইহাতে বিচারালয় সকল স্থাপন করিলেন, সেই সময় সাহেবেরা গোয়াড়ীতে পশ্চিম দিকে, ও তাঁহাদের আমলা উকীল ও মোক্তারেরা ইহার পূর্ব দিকে, আপন আপন বাসস্থান নির্মাণ করিতে লাগিলেন। তৎকালে বিদেশে পরিবার সঙ্গে লইয়া যাইবার প্রথা অপ্রচলিত থাকাতে, প্রায় সকল আমলা উকিল বা মোক্তারের এক একটি উপপত্নী আবশ্যক হইত। সুতরাং তাঁহাদের বাসস্থানের সন্নিহিত স্থানে স্থানে গণিকালয় সংস্থাপিত হইতে লাগিল। পূর্বে গ্রিস দেশে যেমন পণ্ডিত সকলও বেশ্যালয়ে একত্রিত হইয়া সদালাপ করিতেন সেইরূপ প্রথা এখানেও প্রচলিত হইয়া উঠিল। যাঁহারা ইন্দ্রিয়াসক্ত নহেন, তাঁহারাও আমোদের ও পরস্পরের সাক্ষাতের নিমিত্ত এই সকল গরিকালয়ে যাইতেন।’

    গোয়াড়ির মতন কলকাতা শহরেও গণিকালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ইংরেজ আমলে। উত্তর কলকাতায় প্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত শহরবাসীদের বসতিকেন্দ্রের আশপাশেই সেইজন্য শহরের ‘বিখ্যাত’ গণিকাপল্লিগুলি প্রতিষ্ঠিত দেখা যায়। এইসব পল্লির নৈতিক পরিবেশ কীরকম কলুষিত ছিল, তার পরিচয় পাওয়া যায়, সেকালের সংবাদপত্রের নানারকম বিবরণ থেকে। একটি বিবরণ এখানে উদ্ধৃত করছি, ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকা থেকে। ১৮৪৩ সালের ১ জুন তারিখের পত্রে, জনৈক পত্রলেখক লেখেন :

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বইয়ের তালিকা
    Books
    নতুন বই
    ই-বই পড়ুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    ডিজিটাল বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    গ্রন্থাগার

     

    ‘…শুনিয়াছিলাম এতন্নগরীয় কোন কোন স্থানস্থ প্রজারা পোলীসে আবেদন করেন যে বারাঙ্গনারা প্রত্যহ সন্ধ্যা সময়াবধি ১০/১১ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজপথে শ্রেণীবদ্ধ হইয়া যে সকল কুভাষা কদর্যালাপ করিয়া থাকে তাহা আর করিতে না পারে যেহেতু তাহারা ক্রমে ক্রমে এমত আরম্ভ করিয়াছে যে, সেই পথ দিয়া কোনো ভদ্রলোক গমনাগমন করিলেও তাহাদিগের প্রতি লক্ষ্য হইতে লাগিল তাহাতে শ্রুত আছি এই আবেদনে অনুমোদিত হইয়া তাহার নিবারণানুমতি হইয়াছিল ইহাতে অন্য অন্য পল্লীস্থ অনেকেই বিবেচনা করিয়াছিলেন যে তাঁহারাও আবেদন করিয়া যে যে পল্লীতে ঐ উৎপাত আছে তাহার শান্তির চেষ্টা করিবেন, কিন্তু এক্ষণে প্রায় তদবধি দেখা যাইতেছে যে ঐ কুৎসিত কাণ্ডের কোন অংশই শোধন হয় নাই যথা পূর্বং তথা পরং বরঞ্চ এক্ষণে তাহারা রাস্তার মধ্যে নৃত্য পর্যন্ত করিয়া থাকে…’

    কলকাতা শহরের বনেদি পরিবারের বসতিকেন্দ্রে গণিকাদের উৎপাত যে কী পরিমাণে ছিল, তা এই পত্রখানি থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়। উন্মুক্ত রাজপথে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে গণিকারা যে ভাষায় কদর্য আলাপ—আলোচনা করত, পথচারী ভদ্রলোকদের লক্ষ করে যেসব মন্তব্যাদি করত, তা কতকটা অনুমান করা যায়। পুলিশের কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও তার কোনো প্রতিকার করা হয়নি। তার প্রধান কারণ গণিকারা কলকাতা শহরের বনেদি রাজা—মহারাজা, জমিদার ও ধনিক বড়বাবুদের পক্ষপুটে পরম নিশ্চিন্তে বসবাস করত। কলকাতার পুলিশ তাঁদের আশ্রিত এলাকায় হস্তক্ষেপ করতে সাহস পেতেন না। স্থানীয় বর্ধিষ্ণু সাধারণ মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকদের নীতিবোধ ও রুচিবোধ গণিকাদের এই প্রকাশ্য ইতরামিতে ক্ষুণ্ণ হত এবং তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন—নিবেদন করতেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হত না। বিত্তবানদের আশ্রিত বারাঙ্গনারা শহরের প্রকাশ্য রাজপথে নৃত্য করতেও ভয় পেত না। কলকাতার সম্ভ্রান্ত পল্লির নৈতিক পরিবেশ যে কত কদর্য ছিল, তা আজ কল্পনাও করা যায় না।

     

    আরও দেখুন
    রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    PDF বই
    Library
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বই ডাউনলোড
    বইয়ের
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    গ্রন্থাগার
    বাইশে শ্রাবণ

     

    শহর আর গ্রামের সামাজিক পরিবেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল, গ্রামের মানুষ পরস্পর—পরিচিত, শহরের মানুষের কোনো পরিচয় নেই। গ্রাম্য সমাজের মানুষের একাধিক পরিচয় আছে, নামগোত্র জাতিবর্ণ সব দিক দিয়ে সে পরিচিত। কেবল জাতিবর্ণ নয়, সামাজিক পেশার দিক দিয়েও প্রত্যেকে পরিচিত। আত্মপরিচয় গোপন করার কোনো সুযোগ নেই গ্রাম্য সমাজে। তাই অসামাজিক কোনো কাজ করে সেখানে গা—ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়। গ্রামের চোরদেরও সকলে চেনে—জানে। গ্রামে চুরি হলে প্রথমে চেনা চোর যারা, তারা রাত্রে বাড়ি ছিল কি না, খোঁজ করা হয়। শহরে কেউ কারও সঙ্গে পরিচিত নয়। পরিচয়ের একমাত্র মানদণ্ড ধনদৌলত বা বিদ্যাবুদ্ধি—প্রতিপত্তি। তা—ও যাঁদের আছে, তাঁরা নামেমাত্র পরিচিত, মুখ—চেনা নন। বাকি সকলে জনসমুদ্রের বুদবুদের মতন। নামগোত্রহীন জাতিবর্ণহীন মানুষ নিয়েই শহরে সমাজ। বিজ্ঞানীরা তাই শহুরে সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য ‘অ্যানোনিমিটি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরকম নামগোত্রহীন সর্বপরিচয়হীন নাগরিক সমাজে চোর—ডাকাত খুনি—অপরাধীদের পক্ষে আত্মগোপন করে থাকা খুবই সহজ। তাই ইংরেজরা যখন তাঁদের নতুন শাসনব্যবস্থা ও ভূমিব্যবস্থা প্রবর্তন করে এ দেশের গ্রাম্য সমাজকে ভেঙে দিলেন, বংশানুক্রমিক পেশা ও বৃত্তি থেকে সাধারণ লোককে উৎখাত করে ভ্রাম্যমাণ চোর—ডাকাতের দল সৃষ্টি করলেন, তখন কলকাতা শহরের নতুন নামগোত্রহীন সমাজ এইসব চোর—ডাকাত খুনি—ক্রিমিনালদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠল। শহরই হল তাদের প্রধান ঘাঁটি। প্রধানত শহরে বাস করেই তারা গ্রামে—গ্রামান্তরে চুরি—ডাকাতি করে বেড়াত এবং আবার শহরে ফিরে এসে আত্মপরিচয়হীন অবস্থায় বসবাস করত। কলকাতা শহরের এই সামাজিক অবস্থা সম্বন্ধে, ১৮৪৩ সালের ৩ জুলাই তারিখে ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকায় জনৈক পত্রলেখক লিখেছেন :

     

    আরও দেখুন
    Library
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    অনলাইনে বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    লেখকের বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বই ডাউনলোড
    বাংলা অডিওবুক
    PDF বই

     

    ‘…বিজ্ঞ লোকেরা অনুমান করেন যে এই কলিকাতা নগরে এক্ষণে বহুতর মন্দ লোক বাস করিতেছে তাহারাই নানা গ্রামে দস্যুতার মূল তজ্জন্য এই মূলোৎপাটন না হইলে বাহিরের উক্ত আপদ কখনই নিবারণ হইবেক না সেই সকল লোকেরাই সরদার তাহারা দিবাভাগে একটা একটা অবিদ্যার বাটীতে কালযাপন করে রাত্রি হইলে বাহিরে যায় ইহাদিগের অধীনে সুলুক সন্ধান করিবার নিমিত্ত চর আছে তাহাদের বসতি পল্লীগ্রামে, তাহারা নানা অনুসন্ধান করিয়া সমাচার আনয়ন করে পরে সেই অনুসারে লোক সঙ্গে লইয়া ডাকাইতী করিতে যায় পুনশ্চ এই নগরে আইসে এক্ষণে কলিকাতা যে প্রকার আইনে মুক্ত আছে তাহাতে নষ্টদুষ্ট লোকের কোনো আপদুপদ্রব নাই কেহ কাহাকে জিজ্ঞাসাও করে না যে তুমি এই নগরে কি নিমিত্ত বাস কর তোমার জীবিকা কি সুতরাং তাহারা পরমসুখে বায়ুসেবন করিয়া বেড়ায় রাত্রি হইলে শিষ্ট প্রজার সর্বনাশ যজ্ঞে ব্রতী হয় তাহাতে যে দক্ষিণা পাইয়া থাকে তাহাতেই নগরে বাস করিয়া নবাবী করে…।’

    পত্রলেখকের শেষের কয়েকটি কথা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন যে কলকাতা শহরে যেরকম স্বাধীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে নষ্টদুষ্ট লোকের কোনো আপদ—উপদ্রব নেই। কেউ কাউকে জিজ্ঞাসাও করে না যে এই নগরে কেন তুমি বাস করছ, তোমার জীবিকা কী? সুতরাং দুষ্ট লোকেরা পরম নিশ্চিন্তে শহরে বাস করে, দিনের আলোয় শহরের বায়ু সেবন করে বেড়ায় এবং রাতে চুরি—ডাকাতি—রাহাজানি ইত্যাদি যাবতীয় কুকর্ম করে। নাগরিক সমাজের অ্যানোনিমিটির কুফলের এটি একটি দৃষ্টান্তমাত্র।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    গ্রন্থাগার
    কৌতুক সংগ্রহ
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা সাহিত্য

     

    কলকাতা শহরে প্রথমে যে সাহেবরা এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন অস্তগামী মধ্যযুগের উচ্ছিষ্টতুল্য প্রতিনিধি। নতুন শিক্ষা বা নতুন সভ্যতার অগ্রদূত তাঁরা ছিলেন না। তাঁরা ডুয়েল লড়তেন, হিন্দুদের পূজাপার্বণে যোগদান করতেন, হিন্দুদের মতো নিজেরাও তুকতাকে বিশ্বাস করতেন। তাঁদের সঙ্গে হেয়ারড্রেসার এসেছিলেন, বাজিকর সাহেবরাও এসেছিলেন। উৎসবে বাঙালি ধনিক বাবুদের এবং ইংরেজ প্রভুদের অন্যতম অনুষ্ঠান ছিল বাজি পোড়ানো ও নানারকম খেলা দেখারনো। অনেক সাহেব এইসব খেলা দেখিয়ে জীবিকা অর্জন করতেন। তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত সেকালের ‘সংবাদপূর্ণচন্দ্রোদয়’ পত্রিকা থেকে উদ্ধৃত করে দিচ্ছি :

    .

    ।। ছায়াবাজীর বিজ্ঞাপন ।।

    মনঃ অতি আকষণীয় সৌন্দর্য্য নব্যপ্রকার দর্শন বিদ্যা সম্বন্ধীয় নানাপ্রকার দ্রব্যদর্শন। চিৎপুর রোডের সিন্দুরিয়াপটি নামক স্থাননিবাসী শ্রীযুক্ত বাবু লালমোহন মল্লিক মহাশয়ের পূজার বাটীতে আগামী ১৭ এপ্রিল বুধবার সায়াহ্নে ঠিক নবম ঘটিকার পর আকসি হাইড্রোজেন যন্ত্র দ্বারা হিরকের ন্যায় অতি প্রবল আলোক সন্দর্শিত হইবেক, তাহার প্রত্যেক টিকিটের মূল্য ১ টাকা, স্পেনস হোটেলের ৬ নং লৌডন বিলডিং নামক স্থানে মেং জে ডবলিউ নিউলেণ্ড সাহেবের নিকট এবং বাটীর দ্বারে টিকিট পাইবেন। নিউলেণ্ড সাহেব সমাদর পূর্বক এতদ্দেশীয় মান্যমান মহাশয়দিগকে জ্ঞাপন করিতেছেন যে তন্মহাশয়দিগের আনন্দ জন্মাওনার্থ এই সকল অতি মনোরম দ্রব্য প্রস্তুত করিয়াছেন এবং পূর্বে সহস্র সহস্র ব্যক্তি তদ্দৃষ্টে অতিশয় সন্তুষ্টও হইয়াছেন, ইহা সমুদয় দর্শনবিদ্যা বিষয়ক এবং সাধারণের সাহায্য যোগ্যও বটে, বিশেষতঃ হিরকের ন্যায় জ্যোতিমান যে আলোক সন্দর্শিত হইবেক তন্নিমিত্ত এক টাকা ব্যয় অধিক বোধ হইবেক না, তদ্ব্যতীত নানাপ্রকার মূল্যবান আশ্চর্য মনাকর্ষণীয় ব্যাপার সকল সন্দর্শিত হইবেক যে কোন ব্যক্তি পূর্বে ইহা দৃষ্টি করেন নাই এমত কি বিদ্বান কি সাধারণ। ব্যক্তি সকলেরই মনোরঞ্জনীয় বোধ হইবেক।’ (সংবাদপূর্ণচন্দ্রোদয়, ১৬ এপ্রিল, ১৮৫০)।

     

    আরও দেখুন
    নতুন বই
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইনে বই
    বইয়ের
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    গল্প, কবিতা
    বাংলা অডিওবুক

     

    আমরা মানুষের নৃত্যশালার কথা জানি, কলকাতা শহরে অনেকেই তা দেখেছেন। কিন্তু একসময় কলকাতা শহরে অশ্বের নৃত্যশালা ছিল এবং সাহেবরা ছিলেন তার মালিক। অশ্বের নৃত্য দেখিয়ে তাঁরা বেশ দু’পয়সা রোজগার করতেন। এ বিষয়ে সংবাদপত্রের একটি বিজ্ঞাপন উদ্ধৃত করছি।

    .

    ।। ব্যবসায়ের বিজ্ঞাপন।।

    (অক্টরলোনি মনুমেন্টের নিকটস্থ অশ্ব নৃতশালা)

    শ্রীযুত হিলর ও জর্ডন সাহেবরা সর্বসাধারণকে সমাদরপূর্বক জ্ঞাপন করিতেছেন যে তাঁরা অল্পদিনের মধ্যে আপনাদের দলসহযোগে (১২) বারো দফা অশ্বের নাট্যক্রিয়া করিবেন, তাহা প্রত্যেকবারে ভিন্ন হইবেক। তাঁহারা আগামী জানুআরি মাসে মাদ্রাজে গমন করিবেন প্রযুক্ত অল্পদিন এখানে থাকিবেন মাত্র।

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    PDF
    রেসিপি বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের
    বই ডাউনলোড

     

    এখানে অল্পদিন বাসের কালে কলিকাতাস্থ সর্বসাধারণ লোকের সাহায্যে সমাদরপূর্বক প্রার্থনা করেন।

    .

    Hillier & Jourdan

    কলিকাতা, ২১ অক্টোবর, ১৮৫০। (সংবাদপূর্ণচন্দ্রোদয়, ২৪ অক্টোবর, ১৮৫০)

    অশ্বের বারো দফা নাট্যক্রিয়া কি, একালের শহরবাসীর কল্পনা করার ক্ষমতা নেই। সেকালের শহরবাসীর কাছে ব্যাপারটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল নিশ্চয়। তা না হলে সাহেবরা এইভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের নাট্যাভিনয়ের (অশ্বের) ব্যবসা জমাবার চেষ্টা করতেন না।

    সেকালের কলকাতায় সাহেবরা বেলুনে উড়তেন এবং পত্রিকার সাহায্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে সকলকে তা জানাতেন। যেমন,

     

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লাইব্রেরি
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুকস্টোর
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    ”আমরা জনশ্রুতি দ্বারা শ্রবণ করিয়া বেলুনযোগে মানুষ উড়ার কল্পনার বিষয় যাহা প্রকাশ করিয়াছিলাম এক্ষণে ফলে তাহাই হইবার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে। পুনর্বার বেলুনে উড়িবার সাহেব স্থিরতাপূর্বক প্রচার করিয়াছেন যে আগামী মঙ্গলবার প্রাতঃকালীন আট ঘটিকার সময় উড়িবেন।

    ”এবারকার বেলুনের সাহেব ঐ বিষয়ে আপনার সাধারণ লোকের বিদিত নিমিত্ত আদৌ প্রচার করিয়াছেন যে প্রকৃত গ্যাস বা বাষ্প দ্বারা বেলুন পূর্ণ করিবেন এবং পূর্বকার মেগ্রি সাহেব যে যে সময় বেলুন উঠাইবার জন্য ধার্য করেন তাহারও পরিবর্তন করিয়াছে অর্থাৎ ইহার বেলুনের সময় অপরাহ্ন না হইয়া পূর্বাহ্ন হইয়াছেন ইহাতে অনুমান হয় কৌতুকার্থি ভুরি তদ্দর্শনাভিলাষী হইয়া তাঁহার মানসপূর্ণ করিতে পারেন…এদেশের লোকেরা অদ্ভূত কৌতুকের নাম শ্রবণেও মহা কৌতুকী হয়েন বর্তমান বেলুনি সাহেব যে মানসে আসিয়াছেন তাহার মানসসিদ্ধি হইবেক তাহাতে সন্দেহ নাই।” (সংবাদপূর্ণচন্দ্রোদয়, ২ নভেম্বর, ১৮৫০)

    ‘বেলুনি সাহেবের’ মতন অনেক বাজিকর সাহেব ও সার্কাসের খেলা দেখিয়ে কৌতুকপ্রিয় এ দেশি জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সাহেবরা কীরকম খেলা দেখাতেন, তার একটি বিবরণ এখানে সেকালের সংবাদপত্র থেকে উদ্ধৃত করে দিচ্ছি :

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্য
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    লাইব্রেরি
    Library
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    ডিজিটাল বই
    অনলাইন বুকস্টোর

     

    ”গত পরশু রাত্রিযোগে টৌনহালে প্রোফেসার লিস ও তাঁহার পুত্রদিগের আশ্চর্য্য বাজী দৃষ্টে আমরা মহা হর্ষুযুক্ত, চমৎকৃত ও কৌতুকী হইয়াছি। উক্ত স্থানে বহুতর সাহেব বিবি ও এতদ্দেশীয় মান্যলোকেরা উপস্থিত হইয়াছিলেন, তাঁহারা বাজীকরদিগের কার্য্য দৃষ্টে ঘন ঘন কলরবে যে প্রকার সাধুবাদ প্রদান করেন তাহাতেই প্রমাণ হইয়াছে উক্ত—ক্রীড়া কি প্রকার আনন্দোৎপাদক হইয়াছিল। প্রোফেসরের বালকেরা এক ২ বার যে প্রকার কঠিনতর বাজীতে শরীর সংপৃক্ত করিয়াছিল তাহাতে লোকে ত্রাসে প্রায় নিঃশ্বাসহীন হইয়া শঙ্কা করিতেছিলেন যে বালকদের শরীর যে সূক্ষ্ম ওজনে স্থিত তাহার একচুল পরিমাণে দিগ্বিদিগ হইয়া দুর্ঘটনা না ঘটে। বাজীকরেরা যত প্রকার বাজী যে মত সুন্দররূপে করিয়াছেন ও তাহাতে দর্শকদিগের যত সুখ জন্মে তাহা বর্ণনা করা অসাধ্য, চক্ষে যিনি যখন তাহা দেখিবেন তখনই তাহা স্বয়ং অনুভব ও সম্ভোগ করিবেন। অতএব আমরা বিবেচনা করি যে এদেশীয় মহাশয়দের নিদানে একবার এ ক্রীড়া দর্শন করা আবশ্যক। কারণ ইউরোপীয় বিদ্যা ও দর্শনশাস্ত্রের গুণ প্রদর্শক এমত কার্য্য দৃষ্টি করিয়া বহুদর্শি হওয়া সকলের কর্তব্য।

    ”উক্ত বীর্য্যমান প্রোফেসারের একটি মাত্র ক্রীড়ার বিবরণ পাঠকবর্গ অবধান করুন। তিনি একপদে দণ্ডায়মান হইয়া কেবল একহস্ত দ্বারা শায়িত একটি পুত্রের পদ ধারণপূর্বক শূন্যে উত্তোলনপূর্বক কতক্ষণ আপন মস্তকোপরি রাখিলেন।…” (সংবাদপূর্ণচন্দ্রোদয়, ২৪ জানুয়ারি, ১৮৫২)

    .

    সাহেব বাজিকরেরাও আমাদের সামাজিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, কেবল বিজ্ঞানী ও শিক্ষাব্রতীরা করেননি।

    একালের কলকাতায় রাজপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা এবং পথচারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এক কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা রকমের বিধিব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কলকাতার পথে দুর্ঘটনার অন্ত নেই। আজকাল দুর্ঘটনা বলতে আমরা বুঝি মোটর বা ট্রামের দুর্ঘটনা। কিন্তু সেকালের কলকাতায় মোটর বা বৈদ্যুতিক ট্রাম, কোনাটাই যখন ছিল না, তখনও রাস্তায় যানবাহনের উপদ্রব পথচারীদের সহ্য করতে হত। ঘোড়ার গাড়িই ছিল তখন একমাত্র যান, অবশ্য গোগাড়ি ও পাল্কি ছাড়া। নানা রকমের ঘোড়ার গাড়ি ছিল এবং আজকালকার মোটরের মতন তার নামের ও আকারের বৈচিত্র্যও ছিল। গাড়ি চাপা পড়ে তখনও কলকাতার নিরীহ লোকজনের মৃত্যু হত। ঘোড়ার গাড়ির উৎপাতে পাল্কি—বেয়ারা ও আরোহীরাও বিপন্ন হত। এখন যেমন সংবাদপত্রে মোটর ও ট্রাম দুর্ঘটনার কথা প্রায়ই প্রকাশিত হয়, একশো বছর আগেও তেমনি পথের এইসব দুর্ঘটনার দুঃসংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হত। এরকম কয়েকটি সংবাদ এখানে পরিবেশন করছি :

    .

    ।। গাড়ি চাপায় মৃত্যু।।

    গত ১১ জ্যৈষ্ঠ বুধবার রাত্রে নতুন চীনাবাজারের সম্মুখে একজন জবন মদিরা পানে মত্ত হইয়া রাস্তায় ভ্রমণ করিতেছিল এমতকালে একখানি চেরেট অতি দ্রুত আসিয়া উপস্থিত হইয়া তাহার কালান্তক হইল অর্থাৎ উক্ত জবন তাহার চক্রে পড়িয়া দেহত্যাগ করিয়াছে।—(সমাচার চন্দ্রিকা, ২৯ মে, ১৮৪৩)

    ঘোড়ার গাড়িরও নানা রকমের নাম ছিল, আজকালকার মোটরের মতন, তার মধ্যে ‘চেরেট’ একটি।

    ।। গাড়ি চাপায় মৃত্যু।।

    আমরা অবগত হইয়া দুঃখীত হইলাম যে গত ১৭ শ্রাবণ কলিঙ্গায় একটি জবন কন্যা রাত্রিকালে গ্রীষ্মপ্রযুক্ত তাহার মাতার সহিত রাস্তার ধারে শয়ন করিয়া নিদ্রা যাইতেছিল হঠাৎ তাহার উপর দিয়া গাড়ি যাওয়াতে প্রাণত্যাগ হয় কিন্তু তৎকালে তাহার মাতা এমত নিদ্রিতা ছিল যে তার কোন বৃত্তান্ত জ্ঞাত হইতে পারে নাই… (সমাচার চন্দ্রিকা, ৩ আগষ্ট, ১৮৪৩)

    দুর্ঘটনাটি ভয়াবহ।

    .

    ।। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া।।

    ৯ আগষ্ট তারিখের রাত্রে একজন বিবি একটি বালক লইয়া পাল্কী আরোহণপূর্বক চৌরঙ্গী হইতে কসাইটোলার দিগে আসিতেছিলেন ইতিমধ্যে কসাইটোলার চৌরাস্তার উপর এক চেরিয়াট গাড়ি দুই অশ্ব সমেত অতি বেগে আসিয়া ঐ পাল্কীর উপরি পতিত হওয়াতে বেহারা পাল্কী হইতে বাহির হইয়া প্রাণরক্ষা করিয়াছেন পরে বেহারা ঐ পাল্কীতে বিবিকে লইয়া গৃহে গমন করে। (সমাচার চন্দ্রিকা, ৩১ আগস্ট, ১৮৪৩)

    আজকালকার মোটরের তুলনায় ‘চেরেট’ গাড়ির উপদ্রব সেকালে কম ভয়াবহ ছিল না। রিকশা বা সাইকেলের দুর্দশার মতন পাল্কিরও সেকালে যথেষ্ট দুর্ভোগ ভুগতে হত। পাল্কি—বেহারা ঘোড়ার উপদ্রবে পাল্কি ছেড়ে দিয়ে পলায়ন করত বলে যাত্রীরা বিপদে পড়ত।

    .

    ।। গাড়ি চাপায় আঘাত।।

    গত ১৩ ভাদ্র সোমবার বেলা ৮/৯ ঘণ্টার সময়ে শোভাবাজারের বটতলার নিকট পাল্কিগাড়ি গমন করিতেছিল হঠাৎ একজন বৃদ্ধা স্ত্রীলোক তাহার চক্রে পতিত হইয়া আঘাত প্রাপ্তা হইয়াছে কিন্তু বোধ হয় যে ঐ আঘাতে তাহার প্রাণাঘাত হইবেক না।

    পাল্কিগাড়িও চেরেটের মতন এক রকমের ঘোড়ার গাড়ি। এমনি পাল্কির সামনে ঘোড়া জুতে দিলে যেরকম চেহারা হয়, সেইরকম দেখতে বলে পাল্কি গাড়ি বলা হত। কলকাতার রাস্তায় তখন লোকের বা গাড়ির ভিড় খুব বেশি ছিল না। তা সত্ত্বেও লোকে গাড়ির তলায় চাপা পড়ত। কাঁধের পাল্কি ও গোরুর গাড়ির যুগ থেকে হঠাৎ অশ্বযানের যুগেও সাধারণ লোককে খাপ খাইয়ে নিতে বেশ কষ্ট পেতে হয়েছিল। সাধারণ লোক তখনও যারা কলকাতার রাজপথে চলাচল করত, তারা মৃদুগতি গ্রাম্য জীবনধারায় অভ্যস্ত। অশ্বযানের বেগের সঙ্গেও সে জীবন পরিচিত নয়। তাই কলকাতা শহরে পদে পদে তাদের নতুন বেগবান অশ্বযানের আঘাতে বিপন্ন হতে হয়েছে।

    .

    ।। গাড়ি চাপায় আঘাতী।।

    ২১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার অতি প্রত্যুষে চিৎপুর হইতে কৃষক লোকেরা তরিতরকারি ও ফলাদি লইয়া কলিকাতায় বিক্রয়ার্থে আসিতেছিল পথিমধ্যে মৃত রাজা রামচাঁদের বাটীর সমীপে এক সাহেবের পাল্কিগাড়ির চক্রে একজন কৃষক পতিত হওয়াতে তাহার পদে সাংঘাতিক আঘাত লাগিয়াছে সাহেব তাহা দৃষ্ট করিয়া আপন কৌচমেনকে অতি বেগে গাড়ি চালাইতে আজ্ঞা প্রদান করিলেন গরীব কৃষক আঘাতী হইয়া ভূমে পতিত থাকিয়া ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। (সমাচার চন্দ্রিকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ১৮৪৩)

    নতুন নাগরিক সভ্যতায় বেগের সঞ্চার করেছে প্রথমে অশ্বযান, তারপর মোটর, ট্রাম ইত্যাদি। গোযানের গতি থেকে অশ্বযানের গতির সঙ্গে প্রথম থেকেই সাধারণ অনভ্যস্ত মানুষের পক্ষে তাল রেখে চলা সম্ভব হয়নি।

    এই ধরনের বিচিত্র সব সংবাদের ভিতর থেকে সেকালের কলকাতা শহরের সামাজিক জীবনের যে পরিচয় পাওয়া যায় তার মূল্য অল্প নয়। টুকরো টুকরো চিত্র হলেও, সবগুলি জোড়া দিলে সমাজের একটি সমগ্র—চিত্রও পাওয়া সম্ভবপর। সামাজিক ইতিহাস রচনার এরকম আকর্ষণীয় উপকরণ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। প্রাচীন পত্রপত্রিকার জীর্ণ পৃষ্ঠার মধ্যে এইসব উপকরণ উপেক্ষিত অবস্থায় সমাধিস্থ হয়ে রয়েছে। লক্ষ না থাকলে, দৃষ্টি না থাকলে, এইসব উপকরণ আহরণ করাও সম্ভব নয়, এবং কোন উপকরণের কী গুরুত্ব তা—ও বোঝা যায় না। কলকাতা শহরের কোনো ইতিহাসই এখনও লেখা হয়নি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস তো নয়ই। যদি কোনোদিন লেখা হয়, তাহলে সেকালের সংবাদপত্রের ও সাময়িকপত্রের এইসব উপেক্ষিত উপকরণ যে কত মূল্যবান, তা যে—কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন।*

    .

    * বর্তমান লেখক কর্তৃক সঙ্কলিত ও সম্পাদিত ‘সাময়িকপত্রে বাংলার সমাজচিত্র’ (চার খণ্ড) এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ
    Next Article বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }