Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. পাণ্ডুলিপির রোমান্স

    পাণ্ডুলিপির রোমান্স

    প্রথম স্তবক

    .

    যে দেশে ছাপার কর্ম চলিত না হইয়াছে সে দেশকে প্রকৃত সভ্য বলা যায় না। এই দেশে পূর্বকালে কতক লোকের ঘরে পুস্তক ছিল এবং অল্প লোক বিদ্যাভ্যাস করিত অন্য সকল লোক অন্ধকারে থাকিত এখন এই দেশে ক্রমে ছাপার পুস্তকে প্রায় ছোট বড় ঘর সকল ব্যাপ্ত হইয়াছে যে ব্যক্তি এক পুস্তক লইয়াছে তাহার অন্য পুস্তকের লওনের চেষ্টা জন্মে এইরূপে এদেশে বিদ্যা প্রচলিত হইয়াছে।

    সমাচার দর্পণ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৮১৯

    ডাকবিভাগ ও ডাকপিয়ন না থাকলে যেমন দেশের লোকের মানসিক বৃত্তির স্বাভাবিক বিকাশ হত না, নানা রকমের ভাবাবেগ পত্রপক্ষ বিস্তারের অভাবে মনের চৌকাঠে মাথা খুঁড়ে মরে যেত—এতমনি যদি ছাপাখানা ও ছাপা বই না থাকত তাহলে জ্ঞানবিদ্যার আলো দেশের লোকসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হত না, মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অসম্ভব হত, আমরা যে তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরেই থাকতাম। সুতরাং ছাপা বইয়ের জন্য যে ‘এদেশে বিদ্যা প্রচলিত হইতেছে’ এবং ‘যে ব্যক্তি এক পুস্তক লইয়াছে তাহার অন্য পুস্তক লওনের চেষ্টা’ জন্মাচ্ছে—’সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার এ কথা খুব সত্য কথা। কিন্তু তবু যখন প্রেসের কল্যাণে একালের পাণ্ডুলিপির চরম দুরবস্থা দেখতে পাই, কম্পোজিটারের ডেস্ক থেকে কালিঝুলি মেখে ক্ষতবিক্ষত হয়ে লেখকের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি প্রুফরিডারের নির্মম নির্যাতনচিহ্ন বুকে করে অবশেষে সম্পাদকের বা প্রকাশকের ওয়েস্টপেপার বাস্কেটের আবর্জনাস্তূপে নিদারুণ অবজ্ঞায় নিক্ষিপ্ত হয়—তখন, একমাত্র তখনই মনে হয় সেই পাণ্ডুলিপির রোমান্সের কথা। মনে হয়, অনর্থক অসহায় পাণ্ডুলিপির উপর ছাপাখানার এই অমানুষিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখকদের দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিবাদ করা উচিত। অবশ্য লেখকদের ক্ষীণকণ্ঠের আওয়াজ ছাপাখানার ট্রেডল—ফ্ল্যাট বা রোটারি মেশিনের গর্জনের মধ্যে ডুবে তলিয়ে যাবে। তবু প্রতিবাদের প্রয়োজন আছে, পাণ্ডুলিপি যে পবিত্র জিনিস, অন্তত সেই কথাটা জানাবার জন্য। ছাপাখানার প্রসার হোক ক্ষতি নেই, কিন্তু তার জন্য লেখকের পাণ্ডুলিপির সমস্ত মর্যাদা যে বিসর্জন দিতে হবে, তার কোনো মানে নেই। ‘লেখার কপি রেখে পাঠাবেন’—’অমনোনীত রচনা ফেরত দেওয়া হয় না’—ইত্যাদি সম্পাদকীয় বিজ্ঞপ্তির মধ্যেই পাণ্ডুলিপির বর্তমান দুরবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। সম্পাদকরা অবশ্য নিরুপায়, কারণ পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণের মতন ‘গোডাউন’ তৈরি করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। স্ট্র্যান্ড রোডে গঙ্গার ধারের মালগুদামঘরের মতন পত্রিকা অফিসের পাশে পাণ্ডুলিপির গুদামঘর তৈরি করতে হয় তাহলে। কিন্তু লেখকদের অবস্থা কী?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    লেখকের বই
    গল্প, কবিতা
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা অডিওবুক
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল

     

    আজকালকার অধিকাংশ লেখকদের দেখেছি পাণ্ডুলিপির প্রতি তাঁদের কোনো মমতা, কোনো শ্রদ্ধা বা যত্ন নেই। মনের মধ্যে ভাবের আবেগ এল, কতকটা যেন ‘নসিয়া’ বা বমি—বমি ভাবের মতন, অমনি তাঁরা সামনে যা পেলেন, দোকানের পুরনো মেমোর বা অফিসের ফর্মের পিছনদিক, এমনকি ঠোঙার কাগজ পর্যন্ত, তাতেই সমস্ত ইমোশনটাকে উগরে দিলেন, অত্যন্ত কুৎসিতভাবে কলমের আঁচড় টেনে। কোনো কোনো লব্ধপ্রতিষ্ঠ লেখকেরও পাণ্ডুলিপির প্রতি এই অশ্রদ্ধার ভাব দেখেছি। এটা কি যন্ত্রযুগের প্রভাব? ছাপাখানার মাহাত্ম্য? তাহলেও কম্পোজিটার ও রিডারদের কথা একটু ভাবা উচিত। পাণ্ডুলিপির যদি রীতিমতো পাঠোদ্ধার করতে হয়, প্রতিটি শব্দ তার ডিসাইফার করতে হয়, তাহলে ছাপাখানার কর্মীদের অবস্থাটা কী হয় সে সম্বন্ধেও রীতিমতো জ্ঞান থাকা দরকার। ছাপাখানার যুগেও পাণ্ডুলিপির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে এবং থাকাও উচিত। কিন্তু অনেক লেখকেরই সে সম্বন্ধে কোনো চেতনা নেই। পাণ্ডুলিপি আজ স্বয়ং লেখকের কাছেই অনাদৃত ও অবজ্ঞাত। তা কেন হবে? লেখা ছাপা হোক বা না হোক, প্রথম যখন নিজ হাতে লেখক তা লেখেন, তখন যদি তার প্রতি মমতা ও দরদ না থাকে, তাকে সুন্দর কাগজে সুশোভন অক্ষরে সুদৃশ্য করে প্রকাশ করবার ইচ্ছা তাঁর না হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, লেখাকে তিনি আন্তরিক ভালবাসেন না এবং লেখাটা তাঁর পেশামাত্র, প্যাশন নয়। আমার তো মনে হয়, পাণ্ডুলিপিটা একটা অত্যন্ত শখের শৌখিন জিনিস। দেখেছি, লেখা যাঁদের জীবনের প্যাশন, লেখা যাঁরা ভালবাসেন, তাঁদের পাণ্ডুলিপি ঠিক যেন অরিজিনাল পেইন্টিং—এর মতন। যেমন, রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি। কাটাকাটির পাকচক্রের মধ্যেও অত্যন্ত সজাগ শিল্পীমনের চক্রমণের যে পরিচয় রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়, তেমনটি আর কোথাও পাওয়া যায় না। আর দেখেছি, রাজশেখর বসুর পাণ্ডুলিপি, দেখবার মতন, শিল্পী ও বিজ্ঞানী এখানে যেন একাত্মা হয়ে গেছেন। শব্দ গুনে, লাইন গুনে এক—একটি পৃষ্ঠা অত্যন্ত সযত্নে লেখা, অক্ষরের দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সমান—কাটা শব্দের উপর মেপেজুখে সাদা কাগজ এঁটে তার উপর সংশোধিত শব্দটি লেখা। আশ্চর্য পাণ্ডুলিপি, দেখিনি কখনও। পাণ্ডুলিপি যে একরকম হতে পারে তা ‘পরশুরামের’ পাণ্ডুলিপি দেখার আগে কল্পনাও করিনি। আমি তাঁর একটি ব্যঙ্গকবিতার পাণ্ডুলিপি সযত্নে বাঁধিয়ে রেখেছি ঘরে, দেখলেও লেখার প্রেরণা পাওয়া যায়, মনে হয় লেখাই জীবনের জপতপধ্যান, লেখাই ব্রত, লেখাই সাধনা। লেখাটা তাসপাশা খেলার মতন বা শনিবারের ঘোড়দৌড় খেলার মতন অবসরবিনোদন নয়, হঠাৎ কোনো চিত্তচাঞ্চল্য যেনতেন প্রকারেণ কাগজে—কলমে খালাস করার ব্যাপারও নয়। শিল্পীর প্যাশন ও বিজ্ঞানীর প্রিসিশিন, শিল্পীর সাধনা ও বিজ্ঞানীর সংযম—লেখার জন্য দুইই থাকা চাই। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির মধ্যে যদি লেখকের চরিত্র ও মনের পরিচয় পাওয়া যায়, তাহলে এই দুইয়ের বিচিত্র প্রকাশ রবীন্দ্রনাথ ও রাজশেখর বসুর পাণ্ডুলিপির মধ্যে রয়েছে বলা চলে। রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি বিচিত্রগতি প্যাশনের প্রতিমূর্তি—ভাব—অনুভাব, খুশিখেয়াল ও কল্পনার অসংখ্য উচ্ছ্বসিত তরঙ্গায়িত স্রোতধারার চিহ্ন তার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজশেখর বসুর পাণ্ডুলিপি একাগ্রচিত্ত কঠোর জ্ঞানতপস্বীর পাণ্ডুলিপি, বিজ্ঞানীর সংযমনিষ্ঠা ও স্থিরতার প্রতিমূর্তি। তার ভেতর দিয়েই তাঁর সুরসিক শিল্পীমনের পরিচয়টিও পরিষ্কার ধরা পড়ে। ছাপা বইয়ের মধ্যে এত কথা জানা যায় না, এত কিছু ভাবাও যায় না। ছাপা বই তো সবই সমান, পাইকা বা স্মলপাইকাতে ছাপা হোক, আর লাইনোতেই ছাপা হোক। তা দেখে লেখকের মন বোঝা যায় না, মনের বিচিত্র গতির কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। হয়তো বলবেন, লেখাই তো ছাপা রয়েছে, সুতরাং সমালোচকের দৃষ্টিতে লেখককে বিচার করা যাবে না কেন? কিন্তু সে হল সমালোচনা, লেখকের লেখার মূল্য বিচার, দূর থেকে লেখক ও লেখাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। পাণ্ডুলিপির মধ্যে শিল্পীর সঙ্গে যে প্রত্যক্ষ ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়, তার সঙ্গে ছাপা বইয়ের কোনো তুলনাই হয় না। ব্যক্তিগত হাতে লেখা চিঠি আর ছাপানো বুকপোস্টে পাঠানো চিঠি কি এক? বই পড়ে দেশ দেখা, ফোটোগ্রাফে ও সিনেমায় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্পকলার নিদর্শন দেখা, আর দেশ ভ্রমণ করে সোজা সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখ দিয়ে সব দেখার মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য নেই কি? নিশ্চয় আছে, পাণ্ডুলিপি ও ছাপা বইয়ের মধ্যেও পার্থক্য ঠিক ততখানি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    রেসিপি বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বই
    অনলাইনে বই
    গল্প, কবিতা
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি

     

    কল্পনা করুন, কোনো ‘শিল্পী’ তাঁর পাণ্ডুলিপি লিখছেন। নিভৃতে বসে একমনে তিনি লিখছেন, চিন্তাধারার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে কলম চলছে কাগজের উপর। মনটা যেন তিনি উপুড় করে দিচ্ছেন পাণ্ডুলিপির মধ্যে। চিন্তার স্রোত যখন ঝর্ণা—ধারার মতন কুলকুল করে বয়ে চলেছে তখন কলমও চলেছে অবাধ গতিতে, পাণ্ডুলিপির অক্ষর ও শব্দবিন্যাসের ঝকঝকে—তরতরে চেহারা দেখলেই তা বোঝা যায়। ভাব যেখানে লেখ্যভাষার গণ্ডিকে ছাড়িয়ে দুরন্তবেগে ছুটতে চাইছে, কলম যেখানে মনের দুর্বার গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না, হয়রান হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভাবের সঙ্গে পাশাপশি কাঁধ মিলিয়ে ভাষার প্রাণপণ দৌড়বার চেষ্টা অতিদ্রুত লেখার অক্ষর ও শব্দগুলির ব্যস্তবাগীশ মূর্তির মধ্যে ধরা পড়ে যায় পাণ্ডুলিপিতে। চিন্তা ও ভাবধারা যেখানে সংযত, লেখাও সেখানে স্থির ধীর স্পষ্ট ও মন্থরগতি। বিরোধী ভাবধারার সংঘাত যেখানে আবর্তের সৃষ্টি করেছে, সেখানে অক্ষর ও শব্দগুলিও যেন বিক্ষুব্ধ ও প্রতিহত হয়ে পাণ্ডুলিপির উপর ঘন ঘন কাটাকাটি, আছড়া—আছড়ি করছে। পাণ্ডুলিপির মধ্যেকার কাটা শব্দ এবং সেই কাটা শব্দের দেহ ও পরিপার্শ্ব জুড়ে কলমের হিজিবিজি আঁচড়ের আবর্তন দেখলেই তা বোঝা যায়। রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপিতে কেন এর প্রতিপত্তি তা বুঝতে একটুও কষ্ট হয় না। কবিমনের উদ্বেল ভাবতরঙ্গোচ্ছ্বাস রবীন্দ্র—পাণ্ডুলিপির মধ্যে চিহ্নিত ও রূপায়িত হয়ে থাকে। সেইজন্যই রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপির মধ্যে তাঁর যেরকম প্রত্যক্ষ পরিচয় পাওয়া যায়, রবীন্দ্রনাথের ছাপা বইয়ের মধ্যে তা কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়। তেমনি ছোটবড় সব লেখকের ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। পাণ্ডুলিপির মধ্যে আমরা লেখকের জীবন্ত সত্তাকে খুঁজে পাই, তাঁর মন ও চরিত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় হয় তার মধ্যে। প্রত্যেক রচনা সৃষ্টির পিছনে যে গভীর বেদনা থাকে, সেই বেদনা প্রকাশ করার ব্যাকুলতা যেভাবে লেখক অনুভব করেন, প্রকাশের পথে যে দ্বন্দ্ব—সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়, এমনকি যে স্নায়বিক শিহরন পর্যন্ত তিনি অনুভব করেন—তার প্রত্যেকটি সুস্পষ্ট ছাপ থাকে একমাত্র লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির মধ্যে। ছাপা বইয়ের মধ্যে এছাপা থাকে না, থাকতে পারে না। শুধু লেখাটার বাইরের ইতিহাসটুকু নয়, সেই লেখা সৃষ্টির সমস্ত আভ্যন্তরিক, একান্ত গোপন ইতিহাসের ধারাও পাণ্ডুলিপির মধ্যে রূপায়িত হয়ে ওঠে। পাণ্ডুলিপির রোমান্স এইখানে, ছাপা বইয়ের মধ্যে কোনো রোমান্স নেই। ছাপাখানার একমাপের অক্ষরে সব বইয়ের মূল্য (বিষয়গত মূল্য নয়) সমান হয়ে যায়, ফ্ল্যাট মেশিনের চাপে সব লেখকের ব্যক্তিগত সত্তা ফ্ল্যাট হয়ে একাকার হয়ে যায়। কিন্তু পাণ্ডুলিপিতে তা হবার উপায় নেই। স্বাতন্ত্র্য তার থাকবেই থাকবে। সাজানো পাণ্ডুলিপির গ্যালারিতে বা প্রদর্শনীতে ঢুকে তাই মনে হয়, লেখকেরা যেন নিজেরাই দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁদের সঙ্গে একেবারে মুখোমুখি পরিচয় হচ্ছে। আমাদের দেশের বড় বড় জাতীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি—বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকদিন এই কথা আমার মনে হয়েছে, লেখকদের ব্যক্তিগত সত্তাকে মনে মনে অনুভব করেছি, রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছে দেহ—মন, কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম থেকে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করে। বইয়ের দোকানে দোকানে দিনরাত ঘুরে বেড়িয়েও এই অভিজ্ঞতা কোনোদিন হয়নি। আনন্দ হয়েছে, আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু রোমাঞ্চ হয়নি। বইয়ের দোকানে আইনস্টাইন ও আলিমুদ্দিন এক, রবীন্দ্রনাথে ও যাদবেন্দ্রনাথে কোনো তফাত নেই। কিন্তু পাণ্ডুলিপি দেখুন, সঙ্গে সঙ্গে আপনি অনুভব করবেন এই আইনস্টাইন, ওই আলিমুদ্দিন, এই রবীন্দ্রনাথ, ওই যাদবেন্দ্রনাথ। বলে দিতে হবে না, বুঝিতে দিতে হবে না, ছাপার হরফে নাম দেখেও চিনতে হবে না। দেখলেই বুঝতে পারবেন, রক্তমাংসের জীবন্ত রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন তাঁর পাণ্ডুলিপির মধ্যে। পাণ্ডুলিপির এই যে রোমান্স, এ কি ভবিষ্যতে আর থাকবে না, আর কেউ অনুভব করবে না কোনোদিন? ছাপাখানা ও ছাপা বইয়ের জন্য পাণ্ডুলিপির নিজস্ব যে রোমান্টিক জগৎ তা কি একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে? শুধু ছাপাখানা নয়, মনে হচ্ছে টাইপরাইটারও যেন স্টিমরোলারের মতন পাণ্ডুলিপির এই রোমান্স ও রোমান্টিক জগৎকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। তা যদি দেয়, তাহলে আপশোসের আর সীমা থাকবে না।

     

    আরও দেখুন
    PDF
    ডিজিটাল বই
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থাগার
    গল্প, কবিতা
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা অডিওবুক
    নতুন বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    পাণ্ডুলিপির রোমান্স

    দ্বিতীয় স্তবক

    তিল ত্রিফলা শিমুলছালা

    ছাগদুগ্ধে করি মেলা

    লৌহপাত্রে লোহায় ঘষি

    ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুকস্টোর
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    PDF বই
    বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা কৌতুক বই
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    .

    ছড়া বা কবিতা নয়, কালি তৈরির ফর্মুলা যেকালি দিয়ে পাণ্ডুলিপি লেখা হত। আজকালকার ফাউন্টেন—পেনের কালি নয় বা কারখানায় তৈরি ছাপার কালি নয়। পাণ্ডুলিপি হাতে লেখার জন্য কালি তিল ত্রিফলা শিমুলছাল লৌহপাত্রে লোহায় ঘষে তৈরি কালি। এমন কালি যে, কলমের টানে পত্র ছিঁড়ে যেতে পারে, তবু কালি ছাড়বে না। কিন্তু পত্র ছিঁড়ে যাবার কোনো সম্ভাবনা ছিল কি? কলমের টান দিয়ে যাঁরা পাণ্ডুলিপি নকল করতেন তাঁদের কি বিদ্যাবুদ্ধি কিছুই ছিল না? মোটেই তা নয়। জবরদস্ত পণ্ডিত না হলেও, তাঁরা বেশ সুশিক্ষিত ছিলেন এবং লিখন—পঠনেও তাঁদের অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তাঁরা অবশ্য ব্যবসাদার ছিলেন, অর্থাৎ পেশাদার নকলনবিশ। বেশ বোঝা যায়, সমাজের উচ্চস্তরের বা সাধারণ নিম্নস্তরের লোক পেশা হিসেবে এটা গ্রহণ করতেন না। মধ্যস্তরের স্বল্পবিত্ত লোকেরা পেশা হিসেবে পাণ্ডুলিপি নকল করার কাজ করতেন। পাণ্ডুলিপি নকল করেই তাঁরা জীবিকা অর্জন করতেন। এইভাবে ছাপাখানার আগের যুগে একটা পেশাদার নকলনবিশ—শ্রেণি গড়ে উঠেছিল দেখা যায়, অনেকটা এ যুগের কেরানি, প্রাইভেট সেক্রেটারি ও স্টেনো—টাইপিস্টদের মতন। তাঁদের লেখা ছিল অত্যন্ত সুন্দর, ছাপার হরফকেও হার মানাত। পাণ্ডুলিপির হস্তাক্ষর এতে সুন্দর ও নিখুঁত ছিল যে, ছাপাখানার প্রথম যুগে এই হস্তাক্ষর অনুকরণ করেই বাংলা ছাপার হরফ তৈরি হয়েছিল। হওয়াই স্বাভাবিক। লেখকরা বড় বড় রামায়ণ, মহাভারত, চৈতন্যচরিতামৃত, ভাগবত ইত্যাদি পুঁথি দিনের পর দিন বসে এমন সযত্নে সুন্দরভাবে নকল করতেন যে, তার মধ্যেও কোথাও কাটাকুটি থাকত না। লেখাগুলি—’সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ’।

     

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    অনলাইনে বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    বইয়ের তালিকা
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    স্বাস্থ্য টিপস

     

    আবার সেই লেখার কালিই বা কত সুন্দর ছিল তা ওই ‘ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি’র আর্জা থেকেই বোঝা যায়। গৃহস্থের বৈঠকখানায় বা চণ্ডীমণ্ডপে বসে পুঁথির অনুলিপি তৈরি করতে হত। দু’চার দিনে যে কাজ শেষ হত না, তিন—চার—ছ’মাস ধরে ক্রমাগত পরিশ্রম করে এক—একটা পুঁথি নকল করা শেষ হত। তারপর গৃহস্বামী হয়তো লেখককে নগদ দু’টি টাকা ও একজোড়া কাপড় প্রণামি দিয়ে বিদায় দিতেন। নগদ দক্ষিণার কথা ভেবে বিস্মিত হবার কিছুই নেই, কারণ তখন মাসিক চার—পাঁচ টাকা বেতনে যিনি চাকরি করতেন তিনি দোল—দুর্গোৎসবে, অষ্টপ্রহর নবরাত্রে, বারোমাসে তেরোপার্বণে লোককে ভূরিভোজনে তৃপ্ত করতেন। অর্থাৎ নগদ ক্যাশ টাকার যুগই সেটা ছিল না, পণ্যবিনিময়েই কাজ চলে যেত। নগদ দশ—পনেরো টাকাতে তখন গৃহস্থের ঘরে শুভবিবাহ সম্পন্ন হত। সুতরাং নকলনবিশরা যা পেতেন তা একালের স্টেনোদের তুলনায় কম নয়। পুঁথি অনুলিখনের খরচও একালের ছাপার খরচের তুলনায় কম ছিল না। একখানি মাত্র পাণ্ডুলিপি একজনে একেবারে কপি করতে পারেন এবং খরচ ও মেহনত দুইদিক দিয়েই তার মূল্য ছাপা বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি। ছাপা বই হারিয়ে গেলে সহজেই কিনে ফেলা যায়, কিন্তু পাণ্ডুলিপি ও পুঁথির বেলায় তা যায় না। সেইজন্য পাণ্ডুলিপির মধ্যে চুরি করা বা নষ্ট করা সম্বন্ধে কঠোর দিব্যি দেওয়া থাকত—এমনকি রীতিমতো অকথ্য কটু ভাষা প্রয়োগ করতেও লেখকরা কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছি :

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    PDF
    গল্প, কবিতা
    রেসিপি বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    যত্নেন লিখিতং চেদং যশ্চোরয়তি পুস্তকম্।

    শূকরী তস্য মাতা চ পিতা তস্য চ গর্দভঃ।।

    (সোসাইটির পুঁথিসংখ্যা ৫২০৪)

    পুস্তকং হরতে যস্তু কাণো দুঃখী ভবেন্নরঃ।

    মৃতঃ স্বর্গং ন গচ্ছেত্তু পিতরং নয়েৎ।।

    (সংস্কৃত কলেজের পুঁথিবিবরণ, ৫।৭৬)

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বুক শেল্ফ
    বই পড়ুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বইয়ের
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা সাহিত্য

     

    অর্জিতং ভুরিকষ্টেন পুস্তকং যচ্চ মেহনঘ।

    হর্তুমিচ্ছ ত সঃ পাপী তস্য বংশক্ষয়ো ভয়েৎ।।

    (সোসাইটি পুঁথি ৮।৬০৬২)

    পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি অনুলিখনের কাজ শুধু যে পুরুষরাই করতেন তা নয়, মহিলারাও করতেন। অনেকে হয়তো অবাক হয়ে প্রশ্ন করবেন, কী করে করতেন? পেশা হিসেবে বাইরের কোনো কাজ, অথবা জীবিকা অর্জনের জন্য কোনো কাজ করার কোনো স্বাধীনতা তখন মেয়েদের ছিল না। সুতরাং মেয়েরা পুঁথি নকল করার কাজ করবেন কী করে? এমনও তো হতে পারে যে পিতা ও স্বামীরা বাইরে থেকে কাজটা ঠিক করে আনতেন এবং ঘরে বসে তাঁদের কন্যা ও স্ত্রী—রা সেটা সযত্নে করে দিতেন। একালের অনেক গোঁড়া পরিবারের মেয়েরা অভাবের তাড়নায় ঘরে বসে নানা রকমের কাজ করে থাকেন। সুতরাং সেকালে মহিলা নকলনবিশ থাকা কিছুই আশ্চর্য নয়। তা ছাড়া একালে সামান্য লেখাপড়া জেনে যেমন মেয়েদের মধ্যে অনেকে টাইপরাইটিং শেখেন, তেমনি হয়তো সেকালে চলনসই সংস্কৃত বাংলা শিখে মেয়েরা ঘরে বসে হাতের লেখা মকশো করতেন এবং একজন পাকা লিখিয়ে হবার চেষ্টা করতেন। হাতের লেখাটা ভাল করে রপ্ত করতে পারলেই গৃহস্থ ঘরের মেয়েদের ঘরে বসে কিছু রোজগারের একটা পথ খোলা থাকত—পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি নকল করে। দরিদ্র ঘরের মেয়েরা, অসহায় বিধবারা হয়তো অনেকে এইভাবে জীবিকা অর্জন করতেন। মেয়েদের মধ্যে লিখন—পঠনক্ষম শিক্ষিতের সংখ্যা খুব অল্প থাকলেও, একেবারেই যে ছিল না তা নয়। তখনকার বৈষ্ণব—ঘরের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষিতের সংখ্যা নাকি নেহাত অল্প ছিল না। এমনিতেই তো বোঝা যায়, যাঁরা ভেক নিতেন তাঁরা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক স্বাধীনচেতা ছিলেন। বিশেষ করে ভেকধারী বৈষ্ণবদের কথা বলছি। লেখাপড়াতেও এই ভেকধারিণীরা কিছুটা দুরন্ত ছিলেন। সামাজিক ব্যাপারেও তাঁরা সবচেয়ে আধুনিকা ও ‘ফরওয়ার্ড’ ছিলেন বলে মনে হয়। আজকাল ‘স্মার্ট’ বলতে যা বোঝায়, তা—ও তাঁরা কম ছিলেন না। সুললিত কণ্ঠে যাঁরা বাবাজিদের আখড়ায় শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ও ভাগবত পাঠ করতেন, তাঁরা যে লীলায়িত ছন্দে কলমের আঁচড় টেনে তার পুঁথিও নকল করতে পারতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কলকাতা শহরবাসিনী এক বৈষ্ণবী বিধবার উল্লেখ করেছেন লং সাহেব। বাংলা লেখাপড়া তিনি ভালই জানতেন, সংস্কৃতেও জ্ঞান ছিল। জীবিকা হিসেবে এই বৈষ্ণবীর নাকি প্রধান পেশা ছিল বাংলা ও সংস্কৃত পুঁথি নকল করা। লোকের বাড়ি—বাড়ি গিয়ে নিশ্চয়ই তিনি এই কাজ করতেন অথবা কাজ নিয়ে এসে ঘরে বসে করতেন। কতকটা একালের লেডি সেক্রেটারি ও পার্সোনাল স্টেনোর কাজ এই বৈষ্ণব মহিলারা করতেন। তখনকার সমাজে তাঁরাই প্রগতিশীল ছিলেন এবং রক্ষণশীলরা তাঁদের এই জাতীয় স্বাধীন কাজকর্ম নিশ্চয় সুনজরে দেখতেন না। সাহিত্যিক ও কবিরা এইসব বৈষ্ণব মহিলা অনুলেখিকাদের পুঁথি কপি করবার জন্য বিশেষভাবে নিয়োগ করতেন কি না সঠিক জানা যায় না, তবে করাটা অসম্ভব নয়। তা যদি সম্ভব হয়, তাহলে পাণ্ডুলিপির যুগ আরও অনেক বেশি রোমান্টিক হয়ে ওঠে। লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির একটা রোমান্স তো আছেই, ছাপা বইয়ে যে রোমান্সের কোনো আভাসও নেই। কিন্তু আসল লেখকরা ছাড়াও, অনুলেখক—অনুলেখিকাদের নিয়ে পাণ্ডুলিপি ঘিরে এমন একটা রোমান্টিক পরিবেশের সৃষ্টি হত সেকালে যা একালে কোনো ছাপাখানায় হতে পারে না, অথবা লেডি স্টেনোরাও সৃষ্টি করতে পারেন না।

     

    আরও দেখুন
    Library
    বইয়ের
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের
    স্বাস্থ্য টিপস
    লাইব্রেরি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    PDF
    রেসিপি বই

     

    পদকর্তা পদাবলি রচনা করছেন, চরিতকার চরিতামৃত, রসিক কবি বিদ্যাসুন্দর। ভাবোন্মত্ত অবস্থায় হয়তো মুখে মুখে তিনি কাব্য রচনা করে চলেছেন, আর তাঁর সামনে বসে অনুলেখিকা (বৈষ্ণব বা শাক্ত মহিলা) লিখছেন একাগ্রচিত্তে, ঘাড় হেঁট করে। কবির ভাবতরঙ্গে তিনিও ওঠানামা করছেন এবং করতে করতে দিশাহারা হয়ে কলম ছেড়ে দিয়ে ভাবসমুদ্রের কিনারা খুঁজছেন। ঠিক এরকম অবস্থা, একেবারে কবি ডিকটেশন দিচ্ছেন এবং অনুলেখিকা লিখছেন, এ যদি কল্পনা করতে কষ্ট হয়, তাহলে করবার দরকার নেই। ভিন্ন অবস্থা কল্পনা করুন। কবি নিজে লিখছেন এবং অনুলেখিকা তাঁরই একটা পুঁথি পাশে বসে নকল করছেন। অথবা তা—ও যদি না হয়, তাহলে কোনো বিশেষ একজন অনুলেখিকাকে দিয়ে সকলেই লেখাতে চান। (হয়তো নির্ভুল ও সুন্দর করে লিখতে পারার জন্য এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।) মোট কথা, যত রকমের অবস্থাই কল্পনা করা যাক—না কেন, প্রত্যেকটার মধ্যে কিছু—না—কিছু রোমান্স আছে, একটা থ্রিল আছে। ছাপাখানায় তার কোনো চিহ্ন নেই। ছাপাখানায় যাঁরা কাজ করিয়েছেন ও করা দেখেছেন দিনের পর দিন, পাণ্ডুলিপির মর্মান্তিক করুণ পরিণতির কথা তাঁরা নিশ্চয় জানেন। মসিলিপ্ত, জীর্ণ (দ্রুত কম্পোজের জন্য) পাণ্ডুলিপির চেহারা দেখলে কান্না আসে। বই, তা সে যত সুন্দর ছাপা ও বাঁধা হোক না কেন, লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির মধ্যে বা অনুলিখিত পাণ্ডুলিপির মধ্যেও যে প্রত্যক্ষ প্রাণের স্পর্শ পাওয়া যায়, বইয়ের মধ্যে তা পাওয়া যায় না। যন্ত্রযুগের যান্ত্রিক কম্পোজিটারের পাশে সেকালের কোনো ভেকধারী বৈষ্ণবী অনুলেখিকার কথা স্মরণ করলেই, বইয়ের সঙ্গে পাণ্ডুলিপির রোমান্টিক জগতের পার্থক্য যে কতখানি তা পরিষ্কার বোঝা যায়।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    রেসিপি বই
    PDF বই
    বই
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    গ্রন্থাগার

     

    কলকাতাবাসিনী বৈষ্ণবী অনুলেখিকা পুঁথি পাণ্ডুলিপি নকল করে কীরকম রোজগার করতেন, জানি না। তবে খুব বেশি হলে মাসে নগদ চার—পাঁচ টাকা এবং বছরে হয়তো দু’একজোড়া শাড়ি বা কাপড়। পাণ্ডুলিপি কপি করার কী ‘রেট’ ছিল তা সঠিক না—জানা গেলেও, অনেকটা আন্দাজ করা যায়। কলকাতা শহরে ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়াতে যে রেট চালু ছিল, সে সম্বন্ধে ওয়ার্ড সাহেব মোটামুটি একটা হদিশ দিয়েছেন। হাতে লেখা ‘মুগ্ধবোধ’ তিন টাকায় বিক্রি হত, তা—ও খুব সুন্দর লেখা কপি হলে। খারাপ লেখা কপি দেড় টাকাতেও পাওয়া যেত। হাতে লেখা ‘অমরকোষ’ও তিন টাকাতে বিক্রি হত। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়াতে বিদ্যাসাগরমশায় কয়েকটি পাণ্ডুলিপি এই দামে কিনেছেন :

    কাব্যদর্শ : পাঁচ সিকা

    মাঘটীকা : পাঁচ টাকা

     

    আরও দেখুন
    Books
    রেসিপি বই
    অনলাইনে বই
    গল্প, কবিতা
    গ্রন্থাগার
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    লেখকের বই
    লাইব্রেরি
    ডিকশনারি
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন

     

    রসমঞ্জরী প্রকাশ : আট আনা

    কিরাতটীকা : আড়াই টাকা

    এছাড়া আরও অনেক পুঁথি নকল করার দক্ষিণার কথা জানা যায় ‘সাহিত্য পরিষদ’ ও ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ক্যাটালগ থেকে। যেমন—কৃষ্ণরাম দাসের ‘কালিকামঙ্গল’ ১৭৫২ সালে কপি করানো হয়েছিল অনুলেখককে নগদ দুটি টাকা ও একজোড়া কাপড় দিয়ে। ‘রামায়ণ’ (চার কাণ্ড) ১৭১৪ সালে কপি করানো হয়েছিল নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় ও মিষ্টি দিয়ে। ১৭০৭ সালে ‘মহাভারত’ (বিরাটপর্ব) কপি করানো হয়েছিল নগদ একটি টাকা দিয়ে। ১৮৪৬ সালে মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’ মাত্র তেরো আনায় কপি করানো হয়। ওয়ার্ড সাহেব লিখেছেন, গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে কপি করার রেট ছিল বারো আনায় বত্রিশ হাজার অক্ষর। একেও উচ্চহার বলা হয়েছে, কারণ এইভাবে বড় বড় পুঁথি কপি করাতে নাকি অনেক টাকা ব্যয় হত। রাজেন্দ্রলাল মিত্র বলেছেন যে, গত শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এক হাজার শ্লোক কপি করার রেট ছিল চার টাকা, অর্থাৎ এক টাকায় আড়াইশো শ্লোক। খুব প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে আরও উচ্চহার ও যাবজ্জীবন ভরণপোষণের কথাও জানা যায়। মনে হয়, ধনী লোকেরা হয়তো পণ্ডিত ও বয়স্যের মতন কপিস্ট বা অনুলেখকও বেতন দিয়ে প্রতিপালন করতেন এবং তাঁর নিজস্ব ‘ভাণ্ডার’ বা পাঠাগারের জন্য তাঁকে দিয়ে পুঁথি নকল করাতেন। যা—ই হোক—না কেন, সেকালে পেশাদার কপিস্ট বা অনুলেখকদেরও একটা স্বতন্ত্র শ্রেণি গড়ে উঠেছিল এবং সমাজের চোখে তাঁদের পেশাটা খুব প্রশংসনীয় ছিল না। এমনিতেই যে পুঁথিপত্র খুব বেশি নকল করানো হত তা নয়, কারণ সাধারণ লোকসমাজে জ্ঞান বিতরণ করাটাই তখন মহাপাপ বলে মনে করা হত। ধর্মকর্মে, উৎসব—পার্বণে পণ্ডিত ও পুরোহিতদের পাণ্ডুলিপি দান করা অথবা নেহাত খেয়াল ও শখ চরিতার্থের জন্য নিজের ঘরে এক—আধখানা ধর্মগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি রাখা—প্রধানত এইজন্যই পুঁথি নকল করানো হত। পেশাদার কপিস্টদের কোনোদিক দিয়েই সামাজিক সম্মান ছিল না। লিপিকররা চাটুকারে পরিণত হয়েছিল, সভাকবিদের মতন। সভাকবিদের চাইতেও তাঁদের অবস্থা আরও শোচনীয় ছিল। দর্পনারায়ণ দাস নামক জনৈক লিপিকারের উক্তি এখানে উদ্ধৃত করছি। এই উক্তি থেকে লিপিকারদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুরবস্থার কথা পরিষ্কার বোঝা যায়। চার কাণ্ড রামায়ণ লিখে দর্পনারায়ণ কীভাবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তা তিনি লঙ্কাকাণ্ডের পুঁথির শেষে লিখে গেছেন। দর্পনারায়ণ লিখেছেন :

     

    আরও দেখুন
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    অনলাইন বুকস্টোর
    উপন্যাস সংগ্রহ
    PDF
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    পিডিএফ
    Books
    বইয়ের
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    সেইমত আনন্দেতে রাখ গুরুচরণ দাসে।

    কোন প্রকারে পুস্তক লইলে আমার পাশে।।

    দাসবাবু আমাকে দিলেন সাত টাকা।

    সেইমত দাসের পাপ খণ্ডাহ প্রভুর একা।।

    পুস্তক লেখাইয়া আমার কৈলেন উপগার।

    অনেক জঞ্জালে ত্রাণ করিলে বাবু কর্মকার।

    কর্মকার বাবুরে রাম তুমি কর দয়া।

    পুস্তক সাঙ্গেতে বাবু দিবেন বস্ত্র মোয়া।।

    আমাকে গামছা দিবেন বহুবাদ ঘুষি।

    অতএব রাম দয়া কর সগোষ্ঠী পরিবারে আসি।।

    বালিট্যা গ্রামবাসী আমি জাতি যে কায়স্থ।

    চারিকাণ্ড রামায়ণ লিখিলাম সমস্ত।।

    (সাহিত্য পরিষদ, চিত্তরঞ্জন সংগ্রহ, পুঁথি ৩০৩)

    একালের ছাপাখানার কম্পোজিটারদের যা অবস্থা, সেকালের পেশাদার কপিস্টদেরও ঠিক সেই অবস্থা ছিল। কপিস্টদের কথা মনে হলে পাণ্ডুলিপির সমস্ত রোমান্স উবে যায়, এমনকী কলকাতাবাসিনী বৈষ্ণবী অনুলেখিকার কথা মনে হলেও। বাস্তবিকই পাণ্ডুলিপির যুগের কোনো রোমান্স নেই, কিন্তু পাণ্ডুলিপির নিশ্চয় রোমান্স আছে। লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির, হতভাগ্য পেশাদার কপিস্টদের অনুলিখিত পাণ্ডুলিপি নয়। ছাপাখানা তার সমস্ত যান্ত্রিক মালিন্য নিয়েও জ্ঞানের অগ্রদূত, আর পাণ্ডুলিপি অজ্ঞানের প্রতীক। কিন্তু আমি যে পাণ্ডুলিপির রোমান্সের কথা বলেছি, সে হল লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির। অনুলিখিত পাণ্ডুলিপির নয়, পাণ্ডুলিপি যুগেরও নয়। ছাপাখানার যুগে এবং ছাপা বইয়ের যুগে পাণ্ডুলিপির যে নিজস্ব রোমান্স তা আমরা যেন একেবারে হারিয়ে ফেলেছি। কিছুদিন পরে টাইপরাইটার হয়তো একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির এই পরিপূর্ণ যান্ত্রিক রূপান্তরের বিরোধী আমি, কারণ তার ফলে পাণ্ডুলিপির মধ্যে তার স্রষ্টাদের ব্যক্তিসত্তার জীবন্ত স্পর্শ আমরা চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলেছি। ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে তার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে। টাইপ—করা কপি বা ছাপা বই দেখে তারা খুশি হবে না। জীবন্ত মানুষের পরিচয় খুঁজবে তারা হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির মধ্যে, লেডি টাইপিস্টদের নিখুঁত কপি বা লাইনোতে ছাপা ঝকঝকে বই দেখিয়ে তাদের কৌতূহল মেটানো যাবে না। পাণ্ডুলিপির অন্ধকার যুগ পার হয়ে এসে ছাপাখানার আলোর রাজ্যে প্রবেশ করলেও, পাণ্ডুলিপির এই নিজস্ব রোমান্স নষ্ট করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। লেডি টাইপিস্ট বা বৈষ্ণবী অনুলেখিকাদের নিয়ে যত রোমান্টিক পরিবেশই সৃষ্টি করি—না কেন, তাঁদের অনুলিখিত পাণ্ডুলিপির কোনো রোমান্স নেই। লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপির রোমান্স চিরকাল ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে, কারণ তার মধ্যে তাঁর সমস্ত সত্তার জীবন্ত ছাপ থেকে যায়—কপিস্টের লেখায় বা কম্পোজিটারের টাইপ সেটিঙে সে ছাপ থাকে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ
    Next Article বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }