Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. গ্রন্থনগরী কলকাতা

    গ্রন্থনগরী কলকাতা

    প্রথম প্রস্তাব

    ‘কলকাতা কালচারের’ গোড়াপত্তন হয় গ্রন্থ দিয়ে, যন্ত্র দিয়ে নয়। অবশ্য, ‘যন্ত্র’ বলতে যদি পণ্য—উৎপাদনেরই যন্ত্র বোঝায় শুধু। কিন্তু মুদ্রাযন্ত্রও যন্ত্র এবং যন্ত্রযুগের সমস্ত যন্ত্রের মধ্যে বোধহয় সবচেয়ে শক্তিশালী যন্ত্র; সামান্য একটি নড়বড়ে মুদ্রাযন্ত্র গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে, আর কোনো যন্ত্র তা পারে না। প্রাচীন ও মধ্যযুগের নগর পাণ্ডুলিপির নগর, আধুনিক নগর ছাপাখানার ও ছাপা বইয়ের নগর। ‘মেশিন—মেড গুডস’ নয়, ‘মেশিন—মেড বুকস’ই আধুনিক নাগরিক কালচারের বনিয়াদ, আমাদের ক্যালকাটা কালচারেরও।

    হুগলী শহরে ১৭৭৮ সালে এবং কলকাতা শহরে ১৭৮০ সালে মুদ্রাযন্ত্র প্রথম স্থাপিত হয়। জানি না তার আগে আর কোনো যন্ত্র কলকাতায় এসেছিল কি না, এবং এলেও মুদ্রাযন্ত্রের মতন যুগান্তকারী প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল কি না। ১৮২৫—২৬ সালে আমরা কলকাতা শহরের গঙ্গাতীরে ধানভাঙা কল ও গমপেষাই কলের বিচিত্র কীর্তিকলাপের সংবাদ পাই। সারাজীবন ঢেঁকি আর জাঁতা দেখেছেন যাঁরা, তাঁরা ভিড় করেছেন গঙ্গাতীরে এই ধানভাঙা আর গমভাঙা কল দেখার জন্য। কলের আশ্চর্য কীর্তির কথা ঘোষণা করে তখনকার পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, হইচই পড়ে গেছে শহরে। কল এসেছে, বিলেত থেকে কল, ইংরেজদের কলের কীবা মহিমা। ‘ওই যন্ত্রে প্রতিদিন কেবল দুইজন লোক ১০ মন তণ্ডুল প্রস্তুত করিতে পারে, তাহার একজন কল লাড়ে’—এই হল ধানকল। ঢেঁকিতে আধ মনের বেশি ধান ভানতে তিন—চারজনকে হয়রান হয়ে যেতে হয়, তা—ও আবার সমস্বরে শিবের গীত গেয়ে এনার্জি আহরণ করতে হয়। ধানকলে তা হয় না। আর গমভাঙা কলের তো কথাই নেই। ‘এই কলের দ্বারা গম পেষা যাইবে ও ধান ভানা যাইবে ও মর্দনের দ্বারা তৈলাদি প্রস্তুত হইবে এবং এই সকল কার্য ত্রিশ অশ্বের বলধারী বাষ্পের দুইটা যন্ত্রের দ্বারা সম্পন্ন হইবে।’ এহেন ইংরেজের কল দেখার জন্য লোকের ভিড় তো হবেই—’এতদ্দেশীয় অনেক লোক আশ্চর্য বিষয় দর্শনার্থে যাইতেছেন’—

    এবং পত্রিকার সম্পাদক সকলকে দেখতে যাবার অনুরোধ করছেন—’আমরা আপনাদের সকল মিত্রকে এই পরামর্শ দিই যে তাহারা এই অদ্ভুত যন্ত্রবাষ্পের দ্বারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার মন গম পিষিতে পারে তৎস্থানে গমন করিয়া তাহা দর্শন করেন।’

    এই ধানভাঙা কল ও গমপেষা কলের অনেক আগে বইছাপা কল এসেছিল কলকাতা শহরে। হিকি সাহেব ও গ্লাডউইন সাহেব যখন বইছাপা কল বসান কলকাতা শহরে তখন তা দেখবার জন্যে লোকে ভিড় করেছিল কি না, কোনো সাময়িক পত্রিকায় তার বিবরণ পাওয়া যায় না। পাওয়া সম্ভবও নয়। কেন নয়, কথাটা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়। বইছাপা কল যখন প্রথমে এল, তখন তার আগমনবার্তা ঘোষণা করবে কে, তাকে অভিনন্দন জানাবে কে? কোনো ছাপা সাময়িক পত্রিকা বা কাগজের তখনও জন্ম হয়নি। তার জনক যে মুদ্রাযন্ত্র, তারই তো প্রথম আবির্ভাব হল। সুতরাং তাকে অভ্যর্থনা করার কেউ ছিল না তখন এবং তার আগমন—সংবাদ জানানোও তখন সম্ভব ছিল না। শহরেও লিপিকররা হাতে লেখা পত্র মারফত নিশ্চয়ই দেশের লোককে সেসংবাদ জানাবার চেষ্টা করেননি। চেষ্টা করলেও জানাতে পারতেন কি না সন্দেহ, কারণ একমাত্র হাতে লেখা প্রাচীরপত্র শহরময় দেয়াল ও গাছের গায়ে লটকে দিয়ে তাঁরা হয়তো বইছাপা কলের খবরটা লোককে জানাতে পারতেন। কিন্তু ‘প্রাচীরপত্র’র আইডিয়াও আধুনিক। সুতরাং তাঁরা তা জানাননি এবং বইছাপা কল নিঃশব্দেই এসেছিল কলকাতা শহরে। তারপর প্রথম ছাপা বই ও ছাপা পত্রিকা যখন বাইরে প্রকাশ হল, তখন ধীরে ধীরে লোকমুখে গুঞ্জিত হতে থাকল বইছাপা কলের কথা এবং তা দেখবার জন্য লোকের ভিড়ও হল। প্রথম বইছাপা কল, প্রথম ছাপা বই ও ছাপা পত্রিকা যাঁরা দেখেছিলেন কলকাতায়, তাঁদের সেই বিস্ময় আজ আমরা কল্পনাতেও বুঝতে পারব না। দিব্যচক্ষে দেখা যায়, কলকাতা শহরের তখনকার বৈষ্ণব—বৈষ্ণবী স্ত্রী—পুরুষ লিপিকারেরা বোধহয় সবার আগে এই বইছাপা কল দেখতে গিয়েছিলেন, হিকি সাহেব ও গ্লাডউইন সাহেবের ছাপাখানায়। দুঃখের বিষয় তার প্রত্যক্ষ বিবরণ কেউ লিপিবদ্ধ করে যাননি। অন্তত হিকি সাহেব তাঁর বিখ্যাত ‘গেজেট’—এ বা গ্লাডউইন সাহেব ‘ক্যালকাটা গেজেট’—এ নিশ্চয়ই পরে এ সম্বন্ধে কিছু লেখেননি, কারণ এই ধরনের বিবরণ তাঁদের গেজেটে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    গল্প, কবিতা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    রেসিপি বই
    বই পড়ুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা হস্তলিপি কুইল

     

    খুঁজে না পেলেও ক্ষতি নেই। ধানভাঙা ও গমভাঙা কল বা অন্যান্য নানা রকমের কল কলকাতা শহরে ও তার উপকণ্ঠে পৌঁছনোর অনেক আগে, মুদ্রাযন্ত্র বা বইছাপা কল যে এ দেশে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৮২৫—২৬ সালের মধ্যে আমরা কলকাতা শহরে একাধিক ছাপাখানার খবর পাই। তার মধ্যে শোভাবাজারের বিশ্বনাথ দেবের প্রেস, শাস্ত্রপ্রকাশ প্রেস, শিয়ালদহের পীতাম্বর সেনের প্রেস, সিন্ধুযন্ত্র মির্জাপুরের সম্বাদতিমিরনাশক প্রেস, মুনশি হেদাতুল্লার প্রেস, চোরবাগানের রামকৃষ্ণ, মল্লিকের প্রেস, বহুবাজারের লেবেন্ডিয়ার সাহেবের প্রেস, আরপুলির হরচন্দ্র রায়ের প্রেস, এন্টালির পিয়ার্স সাহেবের প্রেস, শাঁখারিটোলার বদন পালিতের প্রেস, মহেন্দ্রলাল প্রেস, ধর্মতলার রামমোহন রায়ের ইউনিটেরিয়ান প্রেস, বঙ্গদূত প্রেস, সমাচার চন্দ্রিকা প্রেস, ফেরিস এন্ড কোম্পানির প্রেস, সংস্কৃত যন্ত্র, হিন্দুস্থানি প্রেস, কলেজ প্রেস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ধানকল, গমকল, পাটকল, কাপড়ের কলের অনেক আগে হিকি সাহেব, গ্লাডউইন সাহেব, রামমোহন রায় মির্জাপুরের ব্রাহ্মণ, গুজরাটি ব্রাহ্মণ লললুলাল, বাঙালি ব্রাহ্মণ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, চোরবাগানের রামকৃষ্ণ মল্লিক, শাঁখারিটোলার বদন পালিত ও মহেন্দ্রলাল, বিশ্বনাথ দেব, মুনশি হেদাতুল্লা প্রভৃতির বইছাপা কল বাংলার ও বাঙালির নবজীবনকেন্দ্র কলকাতা শহরকে গ্রন্থনগরীতে পরিণত করেছিল। কলকাতা শহর যদি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের মহাকেন্দ্র হয়, তাহলে ধানকলের চাল, পাটকলের পাট বা কাপড়ের কলের কাপড়ের অনেক আগে, বইছাপা কলের বইপত্র সেই জাগরণের সঞ্চার করেছে বলতে হবে। প্রাসাদপুরী কলকাতা নয়, বা কলকারখানার চিমনির ধোঁয়ায় ঢাকা কলকাতা নয়, ছাপাখানার ছাপা বইপত্রের কলকাতা, গ্রন্থনগরী কলকাতাই আমাদের নবজাগরণের আদি তীর্থস্থান। গৌড়, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর, মুর্শিদাবাদ, ঢাকা হল হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির রাজনগর বা তীর্থনগর—প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় কালচারের প্রতীক। কলকাতা শহর ছাপাখানায় ছাপা গ্রন্থনগরী—আধুনিক কালচারের প্রতীক।

     

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    Library
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা কৌতুক বই
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    আধুনিক কালচারের তীর্থস্থান কলকাতা মহানগরকে যাঁরা গ্রন্থনগরী রূপে গড়ে তুলেছেন, ছাপা বই ও পত্রিকা দিয়ে, তাঁদের মধ্যে সবার আগে দু’জন বাঙালি নাম করতে হয়—পঞ্চানন কর্মকার ও গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর। একজন বাঙালি কর্মকার, আর—একজন বাঙালি ব্রাহ্মণ—আধুনিক ইতিহাসের এ এক আশ্চর্য রাখিবন্ধন। এ ছাড়া খিদিরপুরের ‘সংস্কৃত যন্ত্র’ প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অবাঙালি বাবুরাম ও লললুর নামও করা উচিত। কিন্তু আনুমানিক ১৮০৬—০৭ সালে এই ছাপাখানা স্থাপিত হলেও, প্রধানত দেবনাগরী অক্ষরে হিন্দি ও সংস্কৃত বই সেখান থেকে ছাপা হত। তবু ভারতীয় ভাষায় ছাপার জন্য একজন ভারতীয় প্রতিষ্ঠিত কলকাতা শহরের প্রথম ছাপাখানা এই ‘সংস্কৃত যন্ত্র’। তার আগে পঞ্চানন কর্মকার অবশ্য উইলকিন্স সাহেবের কাছে কাজ শিখে বাংলা ছাপার হরফ তৈরি করেছেন এবং তাতে বইও ছাপা হয়েছে, কিন্তু সাহেবদের প্রেস থেকে। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যই প্রথম বাংলা বই ছাপা শুরু করেন কলকাতার ‘ফেরিস এন্ড কোম্পানির প্রেস’ থেকে। তার আগে তিনি শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশনের ছাপাখানায় কম্পোজিটারের কাজ করেন। কলকাতা থেকে তাঁর প্রথম ছাপা বাংলা বই ভারতচন্দ্রর ‘অন্নদামঙ্গল’—১৮১৬ সালে প্রকাশিত হয়। গঙ্গাকিশোরের ছাপা এই ‘অন্নদামঙ্গল’ই প্রথম সচিত্র ছাপা বাংলা বই। কয়েকখানি ধাতুখোদাই ও কাঠখোদাই চিত্র ছিল বইখানির মধ্যে, খোদাই করেছিলেন শিল্পী রামচাঁদ রায়। বইয়ের সংখ্যা ও কাটতি বাড়াতে গঙ্গাকিশোর একটি বইয়ের দোকান খোলেন এবং প্রতিনিধি পাঠিয়ে বাইরে বই বিক্রির ব্যবস্থা করেন। বোধ হয়, গঙ্গাকিশোরই প্রথম কলকাতা শহরে বইয়ের দোকান খোলার পথ দেখান। তারপর ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর নিজেই একটি ছাপাখানা করেন—’বাঙ্গাল গেজেটি প্রেস’ এবং সেখান থেকে ‘বাঙাল গেজেটি’ নামে বাংলা সাময়িকপত্র প্রকাশ করেন। গঙ্গাকিশোরের এই ‘বাঙাল গেজেটি’ই বাঙালি প্রবর্তিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র বলে অনুসন্ধানীরা স্বীকার করেন।

     

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    গ্রন্থাগার
    Library
    লেখকের বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বইয়ের তালিকা
    বই ডাউনলোড
    লাইব্রেরি
    বই পড়ুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

     

    তাহলে দেখা যাচ্ছে, কম্পোজিটার গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর কাছে আমরা অনেক দিক থেকে ঋণী। তিনিই প্রথম সচিত্র বাংলা বইয়ের মুদ্রাকর ও প্রকাশক, প্রথম বইয়ের দোকানদার ও ব্যবসাদার এবং প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের বাঙালি প্রবর্তক। আর পঞ্চানন কর্মকার তো বাংলা ছাপার হরফের অন্যতম স্রষ্টা। সুতরাং আজকাল বাংলা কম্পোজিটার, বাংলা হরফনির্মাতা, মুদ্রাকর, প্রকাশক, গ্রন্থব্যবসায়ী, গ্রন্থকার ও সাংবাদিক, সকলের কাছে সর্বাগ্রে বরণীয় হলেন এই দু’জন বাঙালি—পঞ্চানন কর্মকার, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। যে ছাপাখানা ও ছাপা বইপত্র থেকে আধুনিক কলকাতা কালচারের জন্ম ও বিকাশ হয়েছে, বাঙালিদের মধ্যে তার আদি ও অন্যতম প্রবর্তক এই দু’জন। দুর্ভাগ্যবশত এঁরা কেউ মুনশি থেকে মহারাজা হননি, বেনিয়ানি ও মচ্ছুদ্দিগিরি করে লক্ষপতি ‘বাবু’ হননি, অথবা ইংরেজ প্রভুদের মোসাহেবি করে রাতারাতি হঠাৎ জমিদার বা তালুকদার হননি, তাই এঁদের স্মরণ করা দূরে থাকুক, স্মৃতিরক্ষা বা স্মৃতি উৎসবের কথা চুলোয় যাক, নাম পর্যন্ত আমরা ভুলে গেছি। আমরা নব্যকালচারের বড়াই করি, খ্যাতনামা যুগ—প্রবর্তকের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু কর্মকার ও কম্পোজিটার বলে পঞ্চানন ও গঙ্গাকিশোরের নামও করি না। তার মানে, আমরা নিজেদের কালচার্ড বলি, কিন্তু কালচারের ইতিহাসের খবর রাখি না।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    অনলাইনে বই
    বইয়ের
    গল্প, কবিতা
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বই
    পিডিএফ
    বই

     

    একটা কথা এখানে বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে কলকাতা শহরে বইপত্র ছাপা শুরু হবার পর থেকে আমরা যখন অর্ধবর্বর মধ্যযুগ থেকে আধুনিক সভ্য যুগে পদার্পণ করি, তখন ইয়োরোপবাসী বা ইংরেজরা আমাদের চেয়ে বেশি সভ্য ছিলেন না। যেমন একটা দৃষ্টান্ত দিই। আমাদের দেশের দাসপ্রথার কথা বিদেশিরা বিদ্রুপ করে উল্লেখ করেন। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষেও ইংলন্ডে নিয়মিত দাম কেনাবেচা চলত, পণ্যের মতন, বিশেষ করে নিগ্রোদের। বিখ্যাত ‘লিভারপুল ক্রনিকল’ পত্রিকার ১৭৬৮ সালের ১৫ ডিসেম্বরের সংখ্যা থেকে একটি বিচিত্র বিজ্ঞাপন তার সাক্ষী হিসেবে তুলে দিচ্ছি :

    To be sold

    A fine Negro Boy

    of about 4 ft. 5 inches high

    of a sober, tractable, human disposition.

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    অনলাইনে বই
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    নতুন বই
    বাংলা বই
    Books
    গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

     

    Eleven or twelve years of Age, talks English

    very well and can dress hair in a tolerable way.

    ১৮০৬ সালে ইংলন্ডে দাস ব্যবসা বন্ধ হয়। যাঁরা নিজেরা দাস কেনাবেচা করতেন এবং কাগজে এরকম প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন দিতেন, তাঁরা যে কেবল কয়েকটা যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে শিল্প বিপ্লব করে ফেলেছিলেন বলে আমাদের চেয়ে বেশি সভ্য ছিলেন তা ভাববার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। কলকাতার ‘ক্যালকাটা গেজেট’, ‘সমাচার দর্পণ’ ও অন্যান্য পত্রিকায় আমাদের দেশে দাস কেনাবেচার বহু বিজ্ঞাপন ও সংবাদ বেরিয়েছে, কিন্তু তার অধিকাংশই হল নির্মম দারিদ্র্যের চাপে স্ত্রী—পুত্র—কন্যা বিক্রয়ের সংবাদ। মর্মান্তিক সংবাদ সন্দেহ নেই, কিন্তু তখনকার ইংরেজদের কাজে তার জন্য লজ্জিত হবার কোনো কারণ ছিল না। জাতি হিসেবে ইংরেজদের তখনকার অবস্থা সম্বন্ধে একজন শ্রেষ্ঠ ইংরেজ হোরেস ওয়ালপোল বলে গেছেন :

    A gaming, robbing, wrangling, railing nation without principles, genius character or allies; the over-grown shadow of what it was (1771).

     

    আরও দেখুন
    ই-বই পড়ুন
    বাইশে শ্রাবণ
    অনলাইনে বই
    Books
    অনলাইন বুকস্টোর
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    PDF বই
    কৌতুক সংগ্রহ

     

    আমাদের বক্তব্য হল, এহেন ইংরেজরা যে আমাদের দেশে জাতীয় নবজাগরণের অগ্রদূতরূপে কাজ করেছেন সেটা অতিকথা, রূপকথা ও নিছক কল্পনা কিছু নয়। একই সময় পৃথিবীতে কতকগুলি যুগান্তকারী আবিষ্কার ও বৈপ্লবিক আন্দোলনের ফলে ইংরেজরা যেমন সজাগ হয়েছেন, তেমনি আমরাও হয়েছি, শুধু ঘটনাচক্রে ইংরেজরা যোগসূত্রের কাজ করেছেন মাত্র। ফরাসি বিপ্লব ও আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের আঘাত অনুভব না করলে শুধু শিল্প বিপ্লব ইংরেজ জাতকে কতটা ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যেত তা নিশ্চয়ই ভাববার বিষয়। এই সময় ইংলন্ডের ছাপাখানার প্রসার হয়, ছাপা বই—পত্রিকার সংখ্যা বাড়ে, অসংখ্য সংঘ গড়ে ওঠে, নগরে নগরে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বিস্তার হয়। এককথায়, নতুন ভাবধারা প্রচারের জন্য বইছাপা কল যখন অসংখ্য বইপত্র—ইস্তেহার ছেপে ইংলন্ডের কুৎসিত শিল্পনগরগুলিকে গ্রন্থনগরীতে পরিণত করে, তখন ইংরেজ জাতিরও নবজাগরণ শুরু হয়। সেটা বেশি দিনের কথা নয়, অষ্টাদশ শতাব্দীর কথা। এই সময়েই যে ইংলন্ড বই ছাপা ও ছাপার হরফের সংস্কার হয়, তা আগে বলেছি। ঠিক এই সময়েই আমাদের দেশের বড় বড় শহরে মুদ্রাযন্ত্র আসে, যন্ত্রযুগের সবচেয়ে বৈপ্লবিক যন্ত্র। পর্তুগিজ ও ইংরেজরাই তা আনেন, কিন্তু সেটাও বড় কথা নয়, একটা ঘটনামাত্র। মুদ্রাযন্ত্র তাঁদের আবিষ্কার নয়, জার্মানদের। ইংরেজরা মুদ্রাযন্ত্র বহন করে এনেছিলেন এ দেশে নিজেদের কাজের জন্য। তার চেয়ে অনেক বড় কথা, অনেক বেশি ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ কথা হল, এই মুদ্রাযন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ও ব্যবহারে ইংরেজদের চেয়ে এ দেশের লোক বেশি ছাড়া কম আগ্রহশীল ও তৎপর ছিলেন না। পাদরি সাহেবরা বই ছাপার ব্যাপারে তৎপর ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ছাপাখানার এ দেশি কম্পোজিটার ও কারিগররা তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহ নিয়ে এ পথে এগিয়ে গেছেন। তার প্রমাণ গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এবং এরকম আরও অনেকে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামমাঝির মধ্যে কলকাতা শহরে যতগুলি ছাপাখানা স্থাপিত হয় এবং যতগুলি বই ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তা প্রধানত এ দেশি বাঙালিদের উদ্যোগে। কলকাতা শহরকে প্রধানত বাঙালিরাই গ্রন্থনগরীতে পরিণত করেন। শুধু রামমোহন রায় বা দ্বারকানাথ ঠাকুর নন, পঞ্চানন কর্মকার, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, বিশ্বানাথ দেব, বদন পালিত, মহেন্দ্রলাল মুনশি হেদাতুল্লা, মহম্মদ দেরাসতুল্লা (‘মহাম্মদি যন্ত্র’র প্রতিষ্ঠাতা) কাজী সফীউদ্দিন (‘সোলেমান প্রেস’—এর প্রতিষ্ঠাতা) এবং আরও অনেকে বাঙালির নবজীবনের অগ্রদূত। আমাদের আধুনিক সংস্কৃতি—প্রাসাদের বনিয়াদ, এমনকি একতলা পর্যন্ত বলা চলে, এঁরাই ইট গেঁথে গড়ে তুলেছেন।

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের তালিকা
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা সাহিত্য
    লাইব্রেরি
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    ঐতিহাসিকরা শুধু ইংরেজ শিক্ষাব্রতী ও পাদরিদের কথা, রামমোহন রায় ও দ্বারকানাথের কথা লিখে গেছেন—ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকরা এঁদের কথা সমান শ্রদ্ধার সঙ্গে লিখবেন। না লিখলে নতুন যুগের বাঙালির ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকবে। কারণ যখন কলকারখানা বিশেষ গড়ে ওঠেনি, শুধু দু’একটা ধানকল ও গমপেষাই কল এসেছে—যখন রেলপথ, টেলিগ্রাফ হয়নি, আধুনিক ডাকব্যবস্থাও ছিল না—তখন এঁরাই মুদ্রাযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে, বইপত্র ছেপে প্রকাশ ও প্রচার করে, ঘুমন্ত দেশকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। বাঙালির নবজীবনের এঁরাই প্রথম চারণ, প্রথম বৈতালিক—ধর্মতলা, শাঁখারিটোলা, চোরবাগান, শোভাবাজার, বটতলা, মির্জাপুর, শিয়ালদহের ছোট ছোট ছাপাখানার খটাং খটাং শব্দে যাঁরা কলকাতাকে গ্রন্থনগরী তথা জ্ঞানবিদ্যার মহানগরী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির তীর্থস্থানে পরিণত করেছেন। কলকারখানার ভোঁ তার অনেক পরে বেজেছে।

    গ্রন্থনগরী কলকাতা

    দ্বিতীয় প্রস্তাব

     

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাইশে শ্রাবণ
    বই ডাউনলোড
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বইয়ের
    ডিকশনারি
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি

     

    .

    কিন্তু দশ বৎসরাবধি ভারতবর্ষে মুদ্রাঙ্কনকার্য্যের অপূর্বরূপ বৃদ্ধি হইয়াছে এবং কলিকাতা নগরে ভুরি ভুরি ঐ যন্ত্রালয় হইয়াছে। তদধ্যক্ষেরা এইক্ষণে প্রতিযোগিতা রূপে এমত উদ্যোগ করিতেছেন যে কে কত উত্তমরূপে অথচ অল্পমূল্যে গ্রন্থাদি ছাপাইতে পারেন।

    সমাচার দর্পণ, ২৩ অক্টোবর, ১৮৩৩

    ছাপাখানার দৌলতে কলকাতা শহর যে গ্রন্থনগরী হয়ে উঠেছে, ‘সমাচার দর্পণ’—এর এই মন্তব্য থেকেই তা পরিষ্কার বোঝা যায়। তখনও কলকাতা শহর প্রাসাদপুরী হয়ে ওঠেনি, বিগত শতাব্দীর গোড়ার দিকের কথা বলছি। কলকারখানার চিমনির ধোঁয়ায় কলকাতার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়নি। প্রয়াগ বারাণসীর মতন প্রাচীন ও মধ্যযুগের নগরের তুলনায় কলকাতা তখনও বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছাড়া কিছু নয়, কারণ তখন কলকাতা ছিল—

    পাকা বাড়ি …… ……. ১৪,৬২৩

     

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    বই পড়ুন
    অনলাইন বুকস্টোর
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    উপন্যাস সংগ্রহ
    লাইব্রেরি

     

    খোলাঘর …… …… ২০,৩০৪

    খড়ের ঘর ….. …… ৩০,৫৬৭

    কাঁচা ঘর …. …. ১৯,১৯১

    কাঁচাপাকা ঘর …. …. ২,৪১৬

    একতলা …. …. ১৫,০৩৪

    দোতলা …. …. ১২,১২০

    তেতলা …. …. ২,৯৯৮

    চৌতলা …. …. ১,০১৯

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বুক শেল্ফ
    ডিজিটাল বই
    বইয়ের
    লেখকের বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    গল্প, কবিতা
    ডিকশনারি

     

    পাঁচতলা …. …. ২০০

    ছয়তলা …. …. ৭

    সাততলা …. …. ১

    অর্থাৎ ইট পাথরের শহর হিসেবেও মধ্যযুগের তীর্থনগরকে তখনও অতিক্রম করতে পারেনি আধুনিক কলকাতা মহানগর। দেবালয়ের নগর, রাজপ্রাসাদের নগর, কারুশিল্পী ও লোকশিল্পীর নগর, এবং পাণ্ডুলিপি ও লিপিকরের নগর তখনও কল—কারখানার আধুনিক শিল্প—বাণিজ্যের নগরের তুলনায় অনেক বেশি ঐশ্বর্যমণ্ডিত। প্রাসাদ নয়, ছাপাখানাই তখন কলকাতা শহরে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং আধুনিকতার অন্যতম প্রতীক। প্রাসাদপুরীর ধনিক বাসিন্দাদের জন্য নয়, কোটিপতি—লক্ষপতি ব্যবসায়ী বা মিল—মালিকদের জন্যও নয়, এমনকি চাকুরিজীবী মধ্যবিত্ত বা শ্রমজীবী মজুরদের জন্যেও নয়—মুদ্রাযন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও কম্পোজিটারদের জন্যেই প্রধানত কলকাতা শহরের ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব তখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আধুনিক কালচারের পীঠস্থানরূপে কলকাতা শহরকে যাঁরা প্রথম রূপায়িত করেছেন, যাঁরা সর্বপ্রথম উদ্যোগী হয়ে কলকাতাকে আধুনিক জ্ঞান—বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত করেছেন, তাঁরা মুদ্রাযন্ত্রের মালিক, ছাপা হরফ নির্মাতা ও ছাপাখানার কম্পোজিটার। নতুন যুগের চিন্তা বিপ্লবের তাঁরাই অগ্রদূত, প্রগতির তাঁরাই পথিকৃৎ। আজ তাঁদেরই প্রথম অভিনন্দন জানাতে হয়। শুধু ইট—পাথর নয়, তার চেয়েও বেশি মুদ্রিত গ্রন্থ দিয়ে কলকাতার ভিত গড়া হয়েছে। আজও কলকাতা শহরের মোট গ্রন্থের সংখ্যা ইটের সংখ্যার চেয়ে কম হলেও, নিশ্চয় গৃহের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    ই-বই পড়ুন
    লেখকের বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা অডিওবুক
    বই ডাউনলোড
    বই
    PDF বই
    বইয়ের

     

    ১৮২৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর ‘বঙ্গদূত’ পত্রিকায় মুদ্রিত সমাচারপত্রের যে তালিকা ছাপা হয়, তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিগত শতাব্দীর তৃতীয় দশকের মধ্যেই, অর্থাৎ রামমোহনের যুগেই, কলকাত শহর ও তার আশপাশে (প্রধানত শ্রীরামপুরে) ছাপাখানার প্রসার কতখানি হয়েছিল। এই সময় ইংরেজি ভাষায় দৈনিকপত্র প্রকাশিত হচ্ছে—’বেঙ্গল হরকরা ও ক্রনিকল’, ‘জানবুল’, ‘কলিকাতা গেজেট’, সপ্তাহে দুই—তিনবার ‘গবর্নমেন্ট গেজেট’, ‘ইন্ডিয়া গেজেট’, ‘বেঙ্গল ক্রাণিকল’, সাপ্তাহিক ‘বেঙ্গল হেরাল্ড’, ‘লিটেররি গেজেট’, ‘ওরিয়েন্টাল অবজর্বর’, সাপ্তাহিক দ্রব্যমূল্যের পত্রিকা ‘কলিকাতা এক্সচেঞ্জ প্রাইস করেন্ট’, ‘কলিকাতা উইকলি প্রাইস করেন্ট’, ‘ডোমেস্টিক রিটেল প্রাইস করেন্ট’, ‘শ্রীরামপুরের ইংরেজি—বাংলা ‘সমাচার দর্পণ’, ফরাসি সাপ্তাহিক ‘জামিজাহানুমা’, বাংলা পত্রিকা ‘বঙ্গদূত’, ‘সমাচারচন্দ্রিকা’, ‘সম্বাদ কৌমুদী’, ‘সম্বাদ তিমিরনাশক’। মুদ্রাযন্ত্রের রীতিমতো প্রতিষ্ঠা না হলে এতগুলি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্র প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ‘বঙ্গদূত’ পত্রিকায় এ সম্বন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে: ‘এতদ্ভিন্ন ইংরাজিতে মাসিক ও ত্রৈমাসিক ও সাম্বৎসরিক অনেক প্রকার সংবাদ সংঘটিত পুস্তক ছাপা হইয়া প্রতিনিয়ত প্রকাশ পায় এবং ক্ষুদ্র যন্ত্রালয়ে অনেকানেক গ্রন্থ ইংরাজি পারস্য ও দেবনাগর ও বাঙ্গলা অক্ষরে মুদ্রাঙ্কিত হয় তাহার সংখ্যা লিখনাতিরিক্ত অতএব পাঠকবর্গ বিবেচনা করিবেন যে এতদ্দেশে ছাপা যন্ত্রের কি পর্যন্ত বিস্তার হইয়াছে ও তদ্দারা নানা দেশীয় সমাচার ও নানাবিধ গ্রন্থ রচনায় লোকের কীদৃক উপকার দর্শিতেছে।’ এবার বিচার করে দেখা যাক, বাস্তবিকই ‘লেকের কীদৃক্ উপকার দর্শিতেছে।’

    প্রথমত দেশের লোক চোখ মেলে ছাপার অক্ষরের দিকে দেখতে শিখেছেন। গোড়ার দিকে ছাপার অক্ষর দেখলেই তাঁরা চোখ বুজে থাকতেন। কথাটা আরও একটু ব্যাখ্যা করে বলা দরকার। প্রথম প্রথম ছাপাখানায় বইপত্র ছাপা আরম্ভ হল, তখন সেই ছাপা বইপত্র, এমনকি ছাপা অক্ষরকে পর্যন্ত এ দেশের লোক অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য মনে করতেন। বিদেশি ও বিজাতীয় গ্রন্থে বই ছাপা হচ্ছে, তা—ও গোড়ায় দিকে ধর্মগ্রন্থই বেশি, সুতরাং সমস্ত ছাপার ব্যাপরটাকে সকলে পাদরি সাহেবদের ষড়যন্ত্র বলে মনে করতেন। এ দেশের ধর্মনাশের ষড়যন্ত্র। বিধর্মীর খাদ্য, পোশাক—পরিচ্ছদ, ধর্মানুষ্ঠানাদি যেমন, ছাপাখানা ও ছাপা বইপত্রও তেমনি অস্পৃশ্য ও বর্জনীয়। ছাপাখানার নাম শুনলে এবং ছাপা বইপত্র দেখলে তাই দেশের লোক ‘নারায়ণ, নারায়ণ’ বলে চক্ষু মুদ্রিত করতেন, এবং হয়তো আত্মশুদ্ধির জন্য মন্ত্রোচ্চারণও করতেন মনে মনে। মনে করুন, কোনো মুদ্রাযন্ত্র চোখে দেখলে বা ছাপা বই স্পর্শ করলে তিনবার গঙ্গায় ডুব দিয়ে আসতে হত। আরও মনে হয়, মুদ্রাযন্ত্রে ও মুদ্রণের বিরুদ্ধে এই প্রচারে ধর্মান্ধদের সঙ্গে হয়তো কিছুটা পেশাদার লিপিকাররাও তখন বেকার হবার আশঙ্কায় হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রমে মুদ্রাযন্ত্রের ছাপা পত্রিকা ও গ্রন্থাদির চাপে সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। সাধারণের গোঁড়ামি ও অজ্ঞতাপ্রসূত কুসংস্কারও দূর হয়ে যায়। ‘বঙ্গদূত’ পত্রের এই মন্তব্যটি থেকে এই কথাই মনে হয়: ‘পূর্বে অস্মদেশীয় লোক কোন পত্র ছাপা অক্ষরে মুদ্রিত দেখিলে নয়ন মুদ্রিত করিতেন যেহেতু সাধারণের সাধারণবোধে ইহাই নিশ্চয়ই ছিল যে বর্ণান্তরীয় লোক ছাপায় কেবল আমাদিগের ধর্ম ছাপায় এক্ষণে সে ভয়ে নির্ভর হইয়া অনেক চক্ষুঃপ্রকাশপূর্বক ছাপার পত্র দেখিয়া থাকেন, যেহেতু যথার্থ তাৎপর্য বোধ করিয়াছেন।’

    লোকের যে ‘কীদৃক উপকার দর্শিতেছে’, ছাপাখানা ও ছাপা বইপত্রের বিস্তারের ফলে, এই হল তার প্রথম নিদর্শন। দ্বিতীয় ‘উপকার’ হল সাধারণ গ্রন্থাগার। ছাপাখানার আগের যুগে ‘সাধারণ গ্রন্থাগার’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীর কোনো দেশে ছিল না, এ দেশের ছিল না। প্রাচীন পুঁথিতে গ্রন্থ ‘ভাণ্ডারের’ কথা যা—ই থাক—না কেন এবং তাতে গ্রন্থদানের পুণ্য ও মাহাত্ম্যের কথা যতই বলা হোক—না কেন, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির যুগে ‘পাবলিক লাইব্রেরি’ বা সাধারণ গ্রন্থাগার বলতে আমরা যা বুঝি, তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না। কলকাতা শহর সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয় ছাপাখানার বিস্তারের পরে। ১৮৩৫ সালে জন গ্রান্ট সাহেবের সভাপতিত্বে টাউন হলের এক সভায় কলকাতায় সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্কল্প করা হয়। ‘একশতজন সাহেব ঐ পুস্তাকলয়ে তিনশত টাকা করিয়া দান করিতে স্বীকার করিয়াছেন অতএব ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্থির হইয়াছে এবং অতি শীঘ্র সাহেব লোকেরা নানা পুস্তক দান করিয়া ঐ আলয়ে প্রেরণ করিতেছেন’ (সমাচার দর্পণ, ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৩৫)। দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে প্রথম উদযোগী প্রধানত কলকাতার সাহেবরা, অবশ্য এ দেশের লোকেরাও পিছিয়ে রইলেন না। চার বছর পরে, ১৮৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির এক সংবাদে জানা যায় যে, ‘কলকাতাস্থ কতিপয় বিশিষ্ট ধনী মহাশয়েরা স্বদেশীয় লোকদের উপকারার্থে সাধারণ এক পুস্তকালয় স্থাপন করিতে নিশ্চয় করিয়াছেন’। ওই বছর ২৯ জুনের সংবাদে দেখা যায়—’পুস্তকালয়ের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হইতেছে এবং তদ্বিষয়ে অনেক চাঁদা হইয়া অনেক আপাততঃ দান ও বার্ষিক মাসে মাসে দান করণে প্রবৃত্ত হইয়াছেন। এই পুস্তকালয়ে এইক্ষণে ১৮০০ সংখ্যক পুস্তক আছে। এতদ্দেশীয়দিগের পুস্তকালয়ে সংস্থাপন দ্বারা সুধীরা করণের যে ইচ্ছা তাহা এইক্ষণে হইয়াছে। ১৮৩৩ সালে এই প্রকার এক পুস্তকালয় সংস্থাপনের উদ্যোগ হইয়াছিল কিন্তু তৎসময়ে দ্বাদশ জনও সাহায্য করেন নাই।’ এই সাধারণ গ্রন্থাগার হল মুদ্রাযন্ত্র ও মুদ্রিত গ্রন্থপত্রাদির কীর্তি। কলকাতা শহরের নতুন জ্ঞান—বিজ্ঞানের পথে বিজয়যাত্রার অন্যতম হাতিয়ার এই ‘সাধারণ গ্রন্থাগার’, পাণ্ডুলিপির শহরের কাছে যা ছিল কল্পনাতীত এবং আধুনিক মুদ্রাযন্ত্রের অন্যতম দান।

    এইবার ছাপা বইপত্রাদির সবচেয়ে স্মরণীয় কীর্তির কথা বলা যাক। জ্ঞানের রাজ্য আজকাল আর পুঁথির পাতায়, দেবালয়ের অন্ধকার কক্ষে, গৃহস্থের চালের বাতায় বা রাজার গোপন ভাণ্ডারে সীমাবদ্ধ নেই। পাণ্ডুলিপি—যুগের সোনার খাঁচায় আবদ্ধ জ্ঞানবিচার মুদ্রাযন্ত্রের যুগে মুদ্রিত বইপত্রের ডানায় ভর দিয়ে, মুক্ত আলো—বাতাসের মধ্যে জয়যাত্রা করেছে। তার গতিরোধ করার শক্তি নেই কারও। পাণ্ডুলিপির শহর থেকে বহু দূরের নির্বাসিত গ্রাম নয় আর কলকাতা। কলকাতা এখন গ্রন্থনগরী। বাইরের জগৎ থেকে সমস্ত চিন্তাধারা, নতুন নতুন সংবাদ, ইতিহাস ও ভাবধারা বহন করে নিয়ে আসছে ছাপাখানায় ছাপা বইপত্র। শহরের মধ্যেও নানা বিষয়ে ছাপা বইয়ের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। দু’চারটে মাত্র সাহেবদের দোকানও, তা—ও কেবল বইয়ের দোকান নয়, মদ, জুতো, জুয়েলার, আসবাবপত্রের সঙ্গেও বই আছে। দোকানদাররা মধ্যে মধ্যে নানা জিনিসের সঙ্গে বইয়ের বিজ্ঞাপন দেন, কলিকাতার বাসিন্দারা বইয়ের সংবাদ পান। ছাপাখানার আগে এই বিজ্ঞাপন ছিল না, কোনো সংবাদ—বিজ্ঞাপন দিয়ে কাউকে জানানো সম্ভব ছিল না। এখন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, বিজ্ঞাপন দিয়ে কলকাতাবাসীকে জানানো যায় যে, বিদেশ থেকে ভাল ভাল মদ—মদিরা এসেছে, জামাইকার রম, হল্যান্ডের জিন, কানয়াক ব্রান্ডি, ভাল ভাল লিনেন কেম্ব্রিজের পোশাক, রিংপন লকেট, সোনার ঘড়ি, সোনা—বাঁধানো ছড়ি, সোনা—রুপোর পাতমোড়া টুপি, ইলাস্টিক ব্যান্ডসহ গোল কালো লাল সবুজ বেগুনে টুনি, ঘোড়সওয়ার লেডিদের টুপি, ডেস্ক, বাকসো, ট্রাঙ্ক, ম্যাট্রেস, অপটিকাল ও ম্যাথমেটিকাল যন্ত্রপাতি, হার্পিসকর্ড পিয়ানো অর্গান গিটার ভায়োলিন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র আর তার সঙ্গে কিছু ছাপানো সংবাদপত্র ও বই, যেমন :

    Complete set of Churchill’s Voyages, adorned with copper plates & 8 vols Folio.

    Brisbane’s Anatomy of Paintaing.

    1 vol, folio

    Birch’s History of the Royal Society,

    4 vols, 4 to

    Halhed’s Gentoo laws, 1 vol, 8 vo Gogul’s arts and sciences,

    3 vols, 8 vo.

    Bruenonia climents medicinoe, 1 vol. 12 mo.

    Hume’s History of England 8 vols. 8 vo.

    Harris’s Life of Cromwell, 1 vol, 8 vo.

    Raynal’s Revolution of America, 1 vol. 8 vo.

    Voltaire’s Age of Lewis XIV and XV, 3 vols.

    8 vo,

    Voltaire’s Philosophical History, 1 vol, 8 vo,

    Voltaire’s Memoirs, 1 vol, 8 vo,   ইত্যাদি।

    ১৭৮৪ সালের ৭ অক্টোবরের ‘ক্যালকাটা গেজেট’ পত্রিকায় অ্যান্ড সাহেবের বিজ্ঞাপন থেকে উদ্ধৃত কয়েকটি বইয়ের নাম, তা—ও বিজ্ঞাপনটি হল—‘Part of the elegant collection lately arrived from London.’

    এইভাবে মদ—মদিরা, লকেট—ঘড়ি, ছড়ি—টুপির সঙ্গে বইয়ের বিজ্ঞাপন যাঁরা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন তাঁরা জানতেন না যে, কী প্রচণ্ড সামাজিক বিপ্লবের পথ তাঁরা সুগম করে দিয়েছিলেন। যাঁরা ব্যবসা করবেন টাকার জন্য, তাঁদের কাছে বইও যা, ব্রান্ডিও তা—ই। তাই নিশ্চিন্ত মনে ‘Ladies and Gentlemen of the Settlement’—এর কাছে যেমন তাঁরা ‘bottled in London’ শেরি—বার্গান্ডি ব্রান্ডির বার্তা জানাতেন, তেমনি লন্ডন থেকে আমদানি ভল্টেয়ারের গ্রন্থাবলি, রেনলের মার্কিন বিপ্লব, গিবনের ‘রোম—সাম্রাজ্যের উত্থান—পতনের ইতিহাস’, হিউমের ‘ইংলন্ডের ইতিহাস’ ইত্যাদি গ্রন্থের কথাও জানাতে ভুলতেন না। মুদ্রাযন্ত্র ও মুদ্রিত গ্রন্থের মাধ্যমে আমেরিকার বিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লবের কাহিনি তখন প্রচারিত হচ্ছে এ দেশের লোকের মধ্যে, কলকাতা শহরে ‘ক্যালকাটা গেজেট’ সম্বন্ধে সিটন—কার সাহেব লিখেছেন—

    ‘The accounts of the progress of the French Revolution, with all its horrible incidents take up half of the paper.’

    কোথায় প্যারিস, আর কোথায় কলকাতা শহর। শুধু বাষ্পীয় জাহাজ নয়, মুদ্রণযন্ত্র ও মুদ্রিত বইপত্র সমস্ত ব্যবধান দূর করে দিয়েছে। গিবন—হিউমের ইতিহাসের সঙ্গে, ভল্টেয়ারের ভাবধারার সঙ্গে কলকাতাবাসীর পরিচয় হচ্ছে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ থেকে। বিলেত থেকে আমদানি শেরি—ব্রান্ডি—জিনই যে আমরা পান করেছি তা নয়, গিবন—হিউম—ভল্টেয়ারের ভাবধারায় অবগাহনও করেছি। বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে কলকাতা শহরে, নতুন যুগের ভাববিপ্লব। তরুণ রামমোহনপন্থীরা, ডিরোজিও—রিচার্ডসনের ছাত্র ‘ইয়াং বেঙ্গল’ দল এই ভাববিপ্লবের আলোড়ন তুলেছেন কলকাতা শহরে, এক হাতে মুদ্রিত গ্রন্থ এবং আর—এক হাতে মদের গ্লাস নিয়ে। রাজনারায়ণ বসু লিখেছেন : ‘আমি ও আমার সহচরেরা এইরূপ মাংস ও জলস্পর্শশূন্য ব্র্যান্ডি খাওয়া সভ্যতা ও সমাজসংস্কারের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শক কার্য মনে করিতাম।’ মদ্যপানের সঙ্গে ভাববিপ্লবের প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ। অন্যত্র তিনি লিখছেন : ‘Cyrus’s travels by Chevalier Ramsay.’ পড়িয়া প্রচলিত হিন্দুধর্মে আমার বিশ্বাস বিচলিত হয়। তৎপরে রামমোহন রায়ের ‘Appeal to the Christian Public in favour of the precepts of Jesus’ এবং চ্যানিং—এর (Channing) গ্রন্থ পাঠ করিয়া ইউনিটেরিয়ান খ্রিস্টিয়ান হই, তৎপরে ঈষৎ মুসলমান হই, পরিশেষে কলেজ ছাড়িবার অব্যবহিত পূর্বে Hume পড়িয়া সংশয়বাদী হই।’ মুদ্রিত গ্রন্থের প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়ার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত এগুলি—একবার হিন্দু, একবার ইউনিটেরিয়ান খ্রীস্টান, একবার কিঞ্চিৎ মুসলমান, তারপর ঘোর সংশয়বাদী হয়ে আবার হিন্দু—এইভাবে এক একখানা বইয়ের ধাক্কায় এক—একজন বাংলার তরুণ নাকানিচোবানি খেয়েছেন। জানি না, মধ্যযুগের পাণ্ডুলিপির পক্ষে এইভাবে দেশের তরুণদের মেরুদণ্ড ধরে নাড়া দেওয়া এবং ওষুধের বোতলের মতন ব্রেন ধরে ঝাঁকানি দেওয়া সম্ভব হয়েছে কি না! নিশ্চয়ই হয়নি, তাই মদের ঝিমুনিরই জয় হয়েছে মধ্যযুগে। কিন্তু আধুনিক কলকাতা শহরে তা হয়নি। মদ্য ও মুদ্রিত গ্রন্থ নিয়ে ভাববিপ্লবের সূচনা হলেও, এবং তার অনেকটাই উচ্ছ্বসিত ফেনা ও বুদবুদ হলেও, তার তলানি যেটুকু জমেছে তা গ্রন্থের জন্যেই। শুধু বিলেত থেকে যে বই আমদানি হয়েছে তা নয়, কলকাতা শহরেই ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, সাহিত্যের বই বাংলা ভাষায় প্রায় দেড় হাজার ছাপা হয়েছে, বিগত শতাব্দীর মাঝামাঝির মধ্যে। লঙের ‘Descriptive Catalogue’ দেখলেই মুদ্রিত বাংলা বইয়ের এই দুঃসাহসিক অভিযানের পরিচয় পাওয়া যায়, বোঝা যায় কেন মদ্য ও মুদ্রিত গ্রন্থের ভাববিপ্লব কেবল ফেনায়িত বুদবুদের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়নি, কিছুটা তার সলিড তলানিও জমেছিল। পরবর্তীকালে, ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের যুগে যখন রেললাইন তৈরি হল, কলকারখানা গড়ে উঠতে লাগল এবং তার ভিতর দিয়ে আধুনিক ধনতান্ত্রিক যুগের সত্যিকারের গোড়াপত্তন শুরু হল, তখন আমরাও ভাববিপ্লব থেকে সমাজবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে লাগলাম, আমাদের জাগৃতি—আন্দোলনের বনিয়াদও পাকা হল।

    কলকাতা শহর তখন গ্রন্থনগরী থেকে শিল্পনগরীতে পরিণত হয়েছে। মুদ্রণযন্ত্রের পাশে তখন কলকারখানা ও স্টিম ইঞ্জিনের শব্দও শোনা যাচ্ছে।

    .

    * এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমার ‘জনসভায় সাহিত্য’ গ্রন্থে করেছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ
    Next Article বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }