Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    প্রমথনাথ মল্লিক এক পাতা গল্প533 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. গবর্ণর ওয়ারেণ হেষ্টিংস

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ – গবর্ণর ওয়ারেণ হেষ্টিংস

    কলিকাতার কথার আদি পর্ব্ব ওয়ারেণ হেষ্টিংসের গবর্ণরীর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হইয়াছিল। তিনিই ইষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বের কলিকাতার শেষ গবর্ণর এবং তৎপূর্ব্ববর্ত্তী গবর্ণরগণ অপেক্ষা অধিক সুপণ্ডিত ছিলেন। তাঁহার সহানুধ্যায়ী অনেকেই প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছিল। ওয়ারেণ হেষ্টিংস একজন কলিকাতার কোম্পানির পুরাতন কর্ম্মচারি ছিলেন। তিনি দেশের অবস্থা ও দেশের লোকজন সকলকে বিলক্ষণ জানিতেন উর্দ্দুভাষা মুন্সি নবকৃষ্ণের নিকট শিক্ষা করিয়াছিলেন ও এদেশে ইংরাজের আসিবার পূর্ব্বে যাহাতে ঐ ভাষা শিক্ষা করে সেজন্য সুবিখ্যাত সহাধ্যায়ী ডাক্তার জনসনের সাহায্য চাহিয়াছিলেন। কলিকাতায় সামান্য কেরানিগিরি করিয়া গবর্ণর ও গবর্ণর জেনারেলি পদলাভ ওয়ারেণ হেষ্টিংসের ভাগ্যেই হইয়াছিল। ক্লাইবের উন্নতি মাদ্রাজের সঙ্গে জড়িত। নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন কলিকাতা অধিকার করেন তখন হেষ্টিংস কাশিমবাজারে বন্দি ও মুক্ত হইলে দিনেমারগণের সাহায্যে পলাতক ইংরাজগণের সহিত ফলতায় সম্মিলিত হন। কলিকাতা অধিকারের সময় ক্লাইবের অধীনে বজবজের যুদ্ধে ভলাণ্টিয়ারের কার্য্য করিয়া ক্লাইবের শুভদৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উহাতেই পলাশিযুদ্ধের পর তিনি মীরজাফরের দরবারে ইংরাজ কোম্পানির রেসিডেণ্টের পদলাভ করিয়াছিলেন। পরে ভান্সিটার্টের গবর্ণরীর সময় তিনি কলিকাতা সভার সভ্য ও গবর্ণরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। পনর বৎসর এইসকল কার্য্য করিয়া ১৭৬৪ খৃষ্টাব্দে বিলাতে ফিরিয়া যান। তখন তাঁহার আর্থিক অবস্থা সেকালের কর্ম্মচারিগণের ন্যায় সমুন্নত হয় নাই। ঐ সময়ের পার্লিয়ামেণ্টের তদন্ত সভায় সাক্ষ্যদান করিয়াই তাঁহার শেষ সৌভাগ্যোদয়ের পথ উন্মুক্ত হইয়াছিল। তিনি প্রভুর লবণের মর্য্যাদা রক্ষা করিয়া ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সাপক্ষে অনেক কথা বলিয়াছিলেন উহাতেই সেই কোম্পানির কৃতজ্ঞতাভাজন হইয়া ১৭৬৮ খৃষ্টাব্দে মাদ্রাজ সভার সভ্য ও ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে কলিকাতার গবর্ণর হন। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের রাজত্বকালে ইংলণ্ডের রাজা ও পার্লিয়ামেণ্টের সম্বন্ধ প্রকাশ্যভাবে স্থাপিত হইল। উহাতেই বাণিজ্য ব্যবসা হইতে দস্তুর মত দেওয়ানি রাজপাট পত্তন হইয়াছিল। কলিকাতা উহার সূত্রপাত ও কেন্দ্রস্থল হইয়াছিল। উহাতেই কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের কার্য্যাকার্য্যের বিচার আরম্ভ হইয়াছিল। কলিকাতায় সেই অভিনয়ের রঙ্গস্থল, সেইখানেই বাঙ্গালা বিহারের কর্ম্মকর্ত্তৃগণের বিচার ও তাহাদিগকে বন্দি করিয়া রাখা হইয়াছিল। বাঙ্গালা বিহারের নায়েব দেওয়ানি পদ উহাতেই লুপ্ত হয় ও দুই প্রদেশকে আঠারটি জেলায় বিভক্ত করিয়া নূতন শাসন প্রণালীর সৃষ্টি হয়। এক একজন ইংরাজ কর্ম্মচারিগণের দ্বারা এক একটি জেলার করাদায় ও বিচার কার্য্য নিষ্পন্ন হইত। হালহেড সাহেব বাঙ্গালা পার্শি অক্ষরে ছাঁচ খোদাই ও ঢালাই করেন ও পণ্ডিত মৌলবীরা হিন্দু মুসলমান জাতির আইন কানুন ইংরাজীতে তর্জ্জমা করিবার সহায়তা করেন। কারণ তদ্ভিন্ন ইংরাজেরা এদেশবাসির বিচার করিতে পারিবে না। ছয় জেলার কালেক্টারগণ সম্মিলিত হইয়া এক সভা করিত। মহাজনেরা যাহাতে খাতকগণকে রুদ্ধ করিয়া টাকা আদায় করিতে না পারে ও জমিদারেরা ধর্ম্ম ভীরু কর্ম্মচারীগণের কৃপায় অল্পখাজনা দিয়া ছাপি জমি জায়গা দখল ও উপস্বত্ত্ব ভোগ করিতে না পারে, সেজন্য ধনাগার মুর্শিদাবাদ হইতে কলিকাতায় আনয়ন করা হয়। গবর্ণর সমস্ত কার্য্য স্বচক্ষে ও স্বহস্তে করিবার জন্য কোম্পানির দেওয়ানি রাজত্বের রাজধানী কলিকাতায় হইল। ওয়ারেণ হেষ্টিংস মুসলমানী শাসন ও বিচার প্রণালী সমূহের মূলোৎপাটন করিয়া ও কলিকাতায় প্রথম ইংরাজিশাসন ও বিচারের সূত্রপাত করিয়াছিলেন। ১৭৭৪ খৃষ্টাব্দে ১লা আগষ্ট পর্য্যন্ত ঐরূপই চলিয়াছিল শেষে উহার পরিবর্ত্তন ওয়ারেণ হেষ্টিংস গবর্ণর জেনারেল হইয়া করিয়াছিলেন।

    শতবর্ষঃ— জব চার্ণকের সময় হইতে আরম্ভ করিয়া ওয়ারেণ হেষ্টিংসের গবর্ণরীর শেষ পর্য্যন্ত বাঙ্গালায় কোম্পানির ব্যবসা শতবর্ষকাল পূর্ণ হইয়াছিল। সেই এক শতাব্দিতে কোম্পানির যে ব্যবসা ও রাজত্ব পত্তন হইয়াছিল, উহার অপূর্ব্বকাহিনী আরব্য বা পারস্য উপন্যাস অপেক্ষা অধিকতর কৌতুকাবহ। সম্রাজ্ঞী নূরজাহানই সর্ব্বপ্রথমে তামার পয়সা ও ঢেপুয়ার প্রচলন করিয়াছিলেন। ইংরাজেরা দেওয়ানি লাভ করিবার পর তাঁহারা কড়ির পরিবর্ত্তে পয়সার প্রচলনে পক্ষপাতী হন ও ১৭৭০ খৃষ্টাব্দ হইতে পয়সা তৈয়ারী আরম্ভ হইয়াছিল। সেই সময়ের পর হইতে এদেশে সোনা রূপার গহনা ব্যবহার করা আরম্ভ হয়, পূর্ব্বে দুরবস্থায় এদেশের স্ত্রীলোকেরা রুলী লোহা শাঁখা সিন্দুরই ব্যবহার করিত। বর্গীর হাঙ্গামায় ও চোর ডাকাতের অত্যাচারে লোকে টাকা পয়সা মোহর ঘরে রাখিত না, বা তাহারা সোনা রূপার গহনা পরিত না। উৎপন্ন শস্যাদি মরাই করিয়া রাখিত। সে সময়ে কলিকাতার জমি জায়গা বিলি প্রতি বিঘা আট আনা হইতে বার আনা হারে দেওয়া হইত। ইংরাজ কর্ম্মচারিরা বা তাহাদের বেণিয়াণেরা সেইরূপ বিলি গ্রহণ করিয়া প্রতি বিঘা হইতে দুই টাকা চার আনা হইতে দুই টাকা বার আনা খাজনা আদায় করিত। লর্ড ক্লাইব উহা বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষগণকে জানাইয়া বিলির মেয়াদ শেষ হইলে, যাহাতে আয় কাহাকেও ঐরূপ জায়গা বিলি করা না হয়, উহার বন্দোবস্ত করিয়াছিলেন। সেকালের পাট্টাতে কিরূপ সর্ত্ত থাকিত, উহা মাগুরা পরগণা ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে ১লা নভেম্বর হইতে এক বৎসর মেয়াদে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে যে পাট্টা দেওয়া হয় উহাতে দেখিতে পাওয়া যায়। ইজারাদারেরা জায়গা বিলি করিয়া খাজনার হার বৃদ্ধি বা জোত উচ্ছেদের বা আওলাতাদি নষ্ট করিবার বা বিবাহাদিতে কোন আবওয়াব লইতে পারিত না। প্রতিবাসীর সহিত হাট গঞ্জ লইয়া বিবাদ বিসম্বাদ বা কাহারও কোন ক্ষতি করিতে পারিত না। উহাদিগকে কোম্পানির হুকুমানুসারে কার্য্য করিতে হইত। ফৌত বা পলাতক ব্যক্তির সম্পত্তির তায়দাদ কতিপয় ভদ্রলোকের শীলমোহর করিয়া কলিকাতার কালেক্টারের নিকট প্রেরণ করিতে হইত। তখন কলিকাতার গবর্ণর ও তাঁহার সভা যাহার প্রতি যে আদেশ দান করিত, উহা পালন করিতে হইত। লর্ড ক্লাইব ও তাঁহার অধীনস্থ গুপ্ত সভা যাহাতে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির ইংরাজকর্ম্মচারিগণ এদেশের লোকের উপর কোনরূপ অত্যাচার করিতে না পারে উহার প্রতিকারের যে চেষ্টা করিতেছিলেন উহা হেষ্টিংসের আমলেও কার্য্যে পরিণত হয় নাই। কেবলমাত্র সুন্দরবন, ঢাকা, চব্বিশ পরগণার নদীর মধ্যে আরাকানী মগ বোম্বেটিয়ারা যে ছেলে মেয়েদের ধরিয়া লইয়াা যাইত, গ্রাম লুটপাট করিয়া ভস্মসাৎ করিত ও নদীপথে ব্যবসার দ্রব্যাপহরণ করিত, উহারই কিঞ্চিৎ শান্তি হইয়াছিল। উহাতেই কলিকাতাবাসিরা “এটা কি মগের মুলুক নয়” বলিয়া কোম্পানির রাজত্বের সুখ্যাতি করিত, এখনও উহা প্রবাদ স্বরূপ উক্ত হয়। ১৭৬৭ খৃষ্টাব্দে কলিকাতা চব্বিশ পরগণাদি সমস্ত জায়গা রাজা নবকৃষ্ণ ও গোকুল বার্ষিক তের লক্ষ টাকা খাজনায় ইজারা লইবার প্রস্তাব করিয়াছিল, কিন্তু তৎসম্বন্ধে গবর্ণর ও তাঁহার সভা অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, উহাতেও রায়তের প্রতি অত্যাচার হইবার আশঙ্কা আছে। ঐরূপ কথা সহরের তদানীন্তন গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের প্রতিবাদে ছিল। সেই সময়ের গবর্ণর সভায় ঐরূপ সিদ্ধান্তের সারমর্ম্ম এইরূপ ছিল যে, নবকৃষ্ণ ও উহার সহযোগী গোকুলকে তাহাদের প্রস্তাবিত জমি জায়গা বিলি করিলে উহাদের অত্যাচার বর্দ্ধিত হইবে। এদেশের কোন ব্যক্তিকে কোনরূপ অতিরিক্ত ক্ষমতা দান করিয়া প্রশ্রয় দেওয়া যাইতে পারে না। যাহাতে সাধারণে ঐ সকল জমিজমা গ্রহণ করে, উহারই নোটিশ জারি করা হয়। সেই সাধু উদ্দেশের বশবর্ত্তী হইয়া ওয়ারেণ হেষ্টিংস কার্য্য করেন নাই, উহাই তাঁহার সর্ব্বাপেক্ষা অধিকতর কলঙ্কের কথা। তাঁহার শাসনকালে ঘোর কলির অত্যাচারী পঞ্চপাণ্ডবের আবির্ভাব হইয়াছিল। মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবেরা অত্যাচারীকে দমন করিবার জন্য বিখ্যাত, পঞ্চগ্রামের ভিখারী, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ দুর্য্যোধনের দরবারে সেই আর্জ্জিপেশ করিয়া কৃতকার্য্য হন নাই উহাতেই কুরুক্ষেত্রে মহাযুদ্ধ ও কুরুবংশ ধ্বংস হইয়াছিল। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের শাসনকালে তাঁহার এদেশি পৃষ্ঠপোষকগণ ধনদৌলত জমিদারী লাভ করিয়াছিল ও নিরীহ দেশবাসির সর্ব্বনাশ করিয়াছিল। যে সুতানুটীতে জব চার্নক অবতরণ করিয়া কলিকাতায় ব্যবসারম্ভ করে, সেই তালুক নবকৃষ্ণ লাভ করিয়াছিল। তাঁহার বহুদিনের মনোভিলাষ সিদ্ধ হইয়াছিল, তিনি গঙ্গামণ্ডলাদি পরগণাও পাইয়াছিলেন। গঙ্গাগোবিন্দ কান্তবাবু, কাশিনাথ, নবকৃষ্ণ ও দেবীসিংহ যেন সেকালের কলিকাতাধিবাসি বলবান পঞ্চপাণ্ডব ছিলেন। তাঁহাদের কীর্ত্তিকলাপ এই কাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত না হইলেও তাঁহাদের অভ্যুন্নতির সময় ইহার অন্তর্গত। নবকৃষ্ণের প্রথম উন্নতি ক্লাইবের অনুগ্রহেই হইয়াছিল। ১৬ই জানুয়ারী ১৭৬৭ খৃষ্টাব্দের বিশেষ সভার বিবরণে নবকৃষ্ণ সম্বন্ধে ক্লাইবের সুপারিশের সারমর্ম্ম এইরূপ ছিল:—

    নবকৃষ্ণ ও নন্দকুমারঃ— মুন্সী নবকৃষ্ণকে তাহার পরিশ্রম ও বিশ্বাসের পুরস্কার স্বরূপ কোম্পানির পলিটিকাল বেণিয়াণ পদে মাসিক দুইশত টাকা বেতনে নিয়োগ করা হয়। যখন নন্দকুমারকে বিহার প্রবাসী দিল্লির সম্রাটের সহিত ষড়যন্ত্রাপরাধে বন্দি করিয়া জেনারেল কর্ণাক কলিকাতায় পাঠাইয়া দেন, তখনও সেই নবকৃষ্ণের অনুরোধে ক্লাইব নন্দকুমারকে চট্টগ্রামে নির্ব্বাসিত করিবার সংকল্প ত্যাগ করেন। ভেরিলেষ্টের গবর্ণরীর সময়েই নন্দকুমার ও নবকৃষ্ণের মধ্যে বিবাদ ও পরস্পরের শত্রুতার সূত্রপাত হয়। ক্লাইবের নিকট নন্দকুমারকে ভান্সিটার্টের আরোপিত কতকগুলি দোষ ক্ষালন করিতে হইয়াছিল। কার্টিয়ারের শাসন কালে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় মুর্শিদাবাদের নায়েব দেওয়ান মহম্মদ রেজা খাঁ প্রমুখের অবৈধ অত্যাচারের কথা নন্দকুমার স্বীয় ব্যয়ে বিলাতে এজেন্ট পাঠাইয়া উহাকে ও পাটনার শাসন কর্ত্তাকে হেষ্টিংসের শাসন কালে সর্ব্বপ্রথমে বিচারাধীন করিয়াছিলেন। প্রথমে হেষ্টিংস সেই বিচার কার্য্যের সহায়তা করিবার জন্য তাঁহাকে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। রেজা খাঁ সেই বিপদ হইতে পরিত্রাণ লাভের জন্য হেষ্টিংসকে দশলক্ষ, ও নন্দকুমারকে দুই লক্ষ টাকা উৎকোচ দান করিতে গিয়াছিলেন, কিন্তু তখন তিনি কৃতকার্য্য হন নাই। সিতাব রায়ও বৃথা তদনুরূপ কার্য্য করিতে গিয়াছিলেন। শেষে বহ্বাড়ম্বে লঘুক্রিয়ার ন্যায় সেই বিচারে কাহারও কোন দণ্ড হইল না। কিন্তু উহাদের উভয়ের নিষ্কৃতি লাভের সঙ্গে নন্দকুমারকে দোষী সাব্যস্ত করা হইল। তিনি তাহাদিগকে দোষী করিবার সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে পারেন নাই, ইহা হেষ্টিংস বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষগণকে জানাইয়াছিলেন ও তিনি নন্দকুমারের যথারীতি নিন্দা করিতে পশ্চাৎপদ হন নাই। নন্দকুমার পুত্রের দেওয়ানি হেষ্টিংসের সম্মান রক্ষা লক্ষ টাকা নজর দিয়া মঞ্জুর করাইয়াছিলেন। অর্থই অনর্থের মূল, তখন পদ ও পদবী সমস্তই এক অর্থের দৌলতে লাভ হইত। হেষ্টিংসের শাসন কালে উহাই মূলমন্ত্র হইয়াছিল। উহারই জন্য নাবালক নবাবের সিংহাসন লাভ কালে মাতা তাঁহার অভিভাবিকা না হইয়া বিমাতা মণিবেগম মনোনীতা হইয়াছিলেন। সেই সূত্রে মণিবেগম নন্দকুমারের মারফত হেষ্টিংসকে আড়াই লক্ষ টাকা উৎকোচ দান করিয়াছিলেন বা করিতে গিয়াছিলেন।

    নূতন ব্যবসাঃ— কলিকাতা তখন কোম্পানির একশত বৎসরের তৈয়ারী রোজগারের কারখানা হইয়াছিল। সেইখানেই হরির লুটে অনেক বনিয়াদি রাজা মহারাজা ফতুর হইত, তৎপরিবর্ত্তে, মুদি, মুন্সি, কেরাণী, রাজা মহারাজা ও জমিদার হইয়াছিল। সেকালের কোম্পানির উচ্চ কর্ম্মচারিগণের উমেদারগণের দ্বারা তাহাদের প্রভুর উদর পূরণ হইত। তাঁহারা শিকারগণকে উমেদারগণের হস্তে সঁপিয়া নানা উপায়ে স্ব স্ব উদ্দেশ্য সিদ্ধি করিতেন। এইরূপে কোম্পানির রাজত্বে মুড়ি মিছরির এক দর হইয়াছিল। নুনের গোলা ও আড়ংয়ের সাহেবরা বাঙ্গালার ছোট বড় জমিদারগণের নামে নালিশ করিয়া কলিকাতায় তাহাদিগকে হাজির করিয়া নানারূপে নাকাল ও অপদস্থ করাইত। তখন তীর্থযাত্রিরা কোন ঠাকুরকে কোন প্রণামী উপহার দান করিবার অগ্রে কোম্পানিকে ভেট দিতে হইত। উহাতে হেষ্টিংসের আমলে ত্যাগী সাধু ফকিরেরা দেশ উদ্ধারের জন্য বিদ্রোহী হইয়াছিল। কাহারও কাহারও মতে পশ্চিমের সাধু ফকিরেরা বর্গীদিগের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিয়াছিল কিন্তু সাধক ৺রামপ্রসাদ সেন কলিকাতায় ৺কালীমাতার বৈরাগ্যোদ্দীপক গান গাহিয়া পীড়িতের মর্ম্মযাতনা দূর করিতেন। আর রাজা নবকৃষ্ণ প্রমুখ কোম্পানির বেণিয়ান মহাপ্রভুরা ৺কালীমাতার নিকট ও বাড়ীতে দুর্গাপূজাদি করিয়া মনোভিষ্ট সিদ্ধি করিবার নিমিত্ত জোড়া পাঠা বলিদান ও ইংরাজের খানা, নাচ তামাসা, কবির গান, তর্জ্জা, হাফ আকড়াই, ফুল আকড়াই আদি নানাবিধ আমোদ প্রমোদের দ্বারা কলিকাতা সরগরম করিতেন। তাঁহারা কলিকাতায় দুর্গাপূজাদিতে ব্রাহ্মণগণকে বৃত্তি দান করিয়া সমাজে প্রতিপত্তি ও সম্মান লাভ করিতেন। তাঁহারা এইরূপ অর্থের সদ্ব্যবহার করিতেন। দেশের লোককে লোকে তখন হিংস্র ব্যাঘ্র সিংহাপেক্ষা অধিক ভয় করিত ও সেকালের ছড়ায় উহাদের স্বরূপ বর্ত্তমান রহিয়াছে:—

    “বাঘ ভালুকে নাই ভয়, ঢেঁকি দেখলে প্রাণ যায়।”

    কোকিলের ন্যায় বর্দ্ধমানের নাবালক রাজা কলিকাতায় রাজা নবকৃষ্ণের বাড়ীতে তিন বৎসরকাল প্রতিপালিত হইয়াছিলেন। ইহাতে নবকৃষ্ণের বার্ষিক পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতন লাভ ও তদ্ব্যতীত যে টাকা ঋণদান করিতেন, উহার উপর সুদাদি নানা বাবদ বিলক্ষণ লাভ হইত। হেষ্টিংসের কৃপায় যেমন নবকৃষ্ণের নানাবিধ উপায়ে লাভ হইত, গুড্ল্যাণ্ড সাহেবের অনুগ্রহে সেইরূপ গঙ্গাগোবিন্দ ও দেবীসিংহের রাণী ভবানি ও তাঁহার পুত্রের নিকট হইতে প্রভূত অর্থাদি লাভ হইয়াছিল। বর্দ্ধমানের রাজা নবকৃষ্ণের বাড়ীতে বাস করায় যে সকল পাঞ্জাবীক্ষেত্রীরা আভিজাত্য গৌরব মূল্যবান মনে করিত, তাহারা ছেলেমেয়েদের সহিত উক্ত রাজাদের বিবাহাদি সম্বন্ধ করিতে আপত্তি করিয়াছিল। এমন কি, দেওয়ান কাশিনাথ পর্য্যন্তও সেইরূপ করিয়াছিলেন। সেই সময় বাঙ্গালার হিন্দুস্থানি ব্যবসায়িরা নিরাশ হইয়া সেকালের ইংরাজগণের সম্বন্ধে এইরূপ বলিত:—

    “সাহেব মেরা বেনিয়া, করে সকল ব্যাপার

    বিন ভারি, বিন পালরা, চোখে সকল সংসার।”

    সে সময়ে ইংরাজ কোম্পানির কর্ম্মচারিরা সাধারণ ব্যবসা করিয়া অর্থোপায় করিত না, ইহাতেই স্পষ্ট হৃদয়ঙ্গম করা যায়। সেকালের সাহেবরা সকলেই নবাবি আদব কায়দা, আহার বিহার শিক্ষা করিয়াছিল। তাহারা সকলেই প্রায় তখন তামাক খাইত, সেইজন্য হেষ্টিংস সাহেবের নিমন্ত্রণের পত্রে অন্যান্য ভৃত্য আনিবার বিশেষ উল্লেখ করা হইত কিন্তু হুঁকা বরদার সম্বন্ধে সেরূপ করা হইত না। কলিকাতায় তখন দশ মাইলের মধ্যে মদের ভাঁটি করিবার আদেশ দেওয়া হইত না। তখন কলিকাতায় ইংরাজেরা বিধবা পত্নী লাভ করিয়া বড় মানুষ হইবার জন্য যেন ওঁৎ পাতিয়া বসিয়া থাকিত। এমন কি পাদরী কায়ারনাণ্ডার সাহেবও উইলির বিধবা পত্নীকে বিবাহ করিয়া তাহার নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা ও অন্যান্য সম্পত্তি লাভ করিয়াছিলেন। বাঙ্গালার ভূতপূর্ব্ব লেফটেনাণ্ট গবর্ণর সার রিভার্স টমসনের পিতামহ জর্জ্জ নিসবেট টমসন ভান্সিটার্ট পত্নীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। তিনি ওয়ারেণ হেষ্টিংসের অনুপস্থিতিকালে তাঁহার পশুপক্ষী ও গাছের তত্ত্বাবধান করিতেন। বর্ত্তমানে তাঁহার অনেক পত্রে হেষ্টিংসের অনেক গূঢ় কথা প্রকাশ হইয়াছে। উহার মধ্যে মণিবেগমের মাসহারার টাকা বর্দ্ধিত হইলে হেষ্টিংসের পত্নীর সহিত তাঁহার যে বন্দোবস্ত আছে তিনি তাহা পালন করিতে প্রস্তুত আছেন, এইরূপ উল্লেখ আছে। আর হাউড সাহেব যিনি নন্দকুমারের মামলায় একজন বিচারপতি ছিলেন তিনি হেষ্টিংসের অত্যন্ত বাধ্য বন্ধু ছিলেন।

    ওয়ারেণ হেষ্টিংসের কর্ম্মাদি শিক্ষা করিবার হাতে খড়ি যেমন কলিকাতায় হইয়াছিল তাঁহার পরিণয়াদিও সেইরূপ সেইখানে হইয়াছিল। সিরাজউদ্দৌলার কলিকাতা অধিকারের পর ইংরাজেরা যখন পলাতক তখন হেষ্টিংস কাপ্তেন বুকাননের বিধবা পত্নীর দুর্দ্দশায় মুগ্ধ হইয়া তাঁহাকে বিবাহ করিয়াছিলেন।১৬৯২ খৃষ্টাব্দের কোম্পানির দপ্তরের কাগজে এইরূপ আদেশ জারি হইয়াছিল যে, কোম্পানির যাবতীয় কর্ম্মচারিরা স্থানীয় স্ত্রীগণের দুঃখমোচন বিবাহ করিয়া করিতে পারেন ও উহা করা কর্ত্তব্য। সেইরূপ কার্য্যই হেষ্টিংস করিয়াছিলেন কিন্তু ঐ পরিণয়ে তাঁহার সুখভোগ স্থায়ী হয় নাই; তাঁহার পত্নীর ও কন্যার সমাধি কাশিমবাজারের সমাধিক্ষেত্রে রহিয়াছে। উহাতে সেই ঘটনার সময় ১২ই জুলাই ১৭৫৯ খৃষ্টাব্দে উক্ত আছে। তাঁহার মৃত্যুর সময় হেষ্টিংস রাজমহলে গিয়াছিলেন। সেকালে এদেশী স্ত্রীলোকগণকেও উচ্চ নীচ ইংরাজ কর্ম্মচারীরা সকলেই বিবাহ করিতেন। কর্ণেল পিয়ার্স প্রমুখ অনেকেই করিয়াছিলেন ও তাঁহারা পুত্রের নামাদিও এদেশী রাখিতেন। ১৭৭৭ খৃষ্টাব্দে ওয়ারেণ হেষ্টিংসের দ্বিতীয় বিবাহ হইয়াছিল। উহা ও তাঁহার গবর্ণর জেনারেলীর সময় হইয়াছিল। ওয়ারেণ হেষ্টিংসকে বিংশতি বৎসর বিপত্নীক অবস্থায় অতিবাহিত করিতে হইয়াছিল। সেইসময় তাঁহার চরিত্র কিরূপ ছিল, উহার বিশেষ কোন উল্লেখ নাই, তবে তিনি যে বাগান বাড়ী আলিপুরে করিয়াছিলেন, উহাতে তাঁহার স্মৃতি রক্ষিত হইয়াছে। সেই বাগান বাড়ীতে যাইবার সুবিধার জন্য হেষ্টিংসকে টলির নালার উপর সেতু নির্ম্মাণের অনুমতি প্রার্থনা করিতেও দেখিতে পাওয়া যায়। উহাই তখন তাঁহার বিলাসগৃহ ছিল। উহার সন্নিকটই মীরজাফর ও মণিবেগম মীরকাশিমের রাজত্বকালে বাস করিতেন। কেহ কেহ বলেন যে, তাঁহাদের নিকট হইতে স্থান উপহার লাভ করিয়া হেষ্টিংসের সেই বিলাস উদ্যান ও গৃহ নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন। তবে এই পর্য্যন্ত দেখিতে পাওয়া যায় যে, তিনি যে উপায়ে দ্বিতীয় বিবাহ করিয়াছিলেন ও তাহার রিষড়া কাশিপুর, সুখচর প্রভৃতি স্থানে স্থানে অন্যান্য নানা বিলাসগৃহ ও উদ্যান ছিল, উহাতে তাঁহার চরিত্র যে ভাল ছিল ইহা অনুমান হয় না। আরও তাঁহার সময়ে কলিকাতায় সুন্দরীর হাট ছিল বলিলে অত্যুক্তি হয় না। কলিকাতার পুলিশের কর্ত্তা মট সাহেব দেনার দায়ে জেলে গেলে তাহার পত্নী পাঁচশত মোহর লইয়া হেষ্টিংসের পত্নীর সহিত বিলাতে গিয়াছিলেন। হেষ্টিংসের সহিত মিসেস্ মটের বিশেষ ঘনিষ্টতার কিঞ্চিৎ আভাসও পাওয়া যায়। টমসন সাহেব গঙ্গাগোবিন্দের বিপদের সময় তাহার জন্য কিছু উপায় করিবার অনুরোধ করিয়াছিলেন ইহাও প্রকাশ পায়। এইরূপে দেখা যায় যে, হেষ্টিংস এখানে গবর্ণরী করিয়া যাইবার পরও আপনার উমেদারগণের মাথা বাঁচাইবার জন্য ও মণিবেগমাদির উপকার করিবার নিমিত্ত বিব্রত থাকিতেন এবং সেইরূপ অনেক কর্ম্ম হস্তে লইয়া স্বদেশ যাত্রা করিয়াছিলেন।

    কলিকাতায় হেষ্টিংসের বসবাস ভাল লাগিত না, যদিও তাঁহার যৌবনকাল সেইখানেই কোম্পানির কেরানিগিরি করিয়া কাটিয়া ছিল। তিনি সুখসাগরে ছোট খাট জমিদারীর পত্তন করেন ও সেইখানেই অনেক সময় অতিবাহিত করিতেন। সেখানে ইংরাজি ধরনের ঘর বাড়ী, চাষ বাস সমস্তই করিয়াছিলেন। তিনি তাঁহার পশু, পক্ষী ও গাছের সমস্ত সখও মিটাইয়াছিলেন। হেষ্টিংসের আমলে এই দেশে ইংরাজী ধরনের বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ হয় ও ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ কোম্পানির অর্থলাভ করিয়া সেকালে তাহাদের বিচারাদির সহায়তা করিতে কোনরূপ মনে দ্বিধা করিতেন না। যদি কোন গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণের প্রতি অত্যাচার করে বা তাহাদের ধনরত্ন কেহ অপহরণ করে, উহার রক্ষা করিবার জন্য কোম্পানির সৈন্যেরা তাঁহাদের বাড়ীর প্রহরীর কার্য্য করিত। ত্রিবেণীর সুবিখ্যাত পণ্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন কোম্পানির বৃত্তিলাভ করিতেন ও তাঁহার বাড়ী প্রহরী দ্বারা রক্ষিত হইত। তিনি অষ্টাদশ বিবাদের বিচারগ্রন্থ ও বিবাদ ভঙ্গার্থবাদি প্রণয়ন করিয়াছিলেন। উহাতেই সেকালের ব্রাহ্মণগণেরা যাহাতে ইংরাজগণকে ম্লেচ্ছ বলিয়া ঘৃণা ও জাত পাতের জারিজুরি করিতে না পারে, সেইজন্য কোম্পানির মুলুকে কলিকাতায় লোকের জাতিবিচারের কার্য্য আরম্ভ হইয়াছিল। উহা প্রাচীন আর্য্য পদ্ধতি অনুসারে হইত না, ইংরাজের উমেদারগণের উহা করিবার শক্তি সামর্থ্য বা বিদ্যাবুদ্ধি না থাকিলেও তাহারা সেকালের উ ইংরাজ কর্ম্মচারিগণের ইঙ্গিতে উহা করিত। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নিকট জাতিপাত করিবার ভয় দেখাইয়া কোম্পানির তরফে নন্দকুমার খাজনা আদায় করিয়াছিল। বলিহারি! সেকালের কোম্পানির কল কৌশল ও আদায় প্রণালী!

    জাতি কাছারিঃ— ব্রাহ্মণের প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ করিবার জন্য কলিকাতায় জাতের বিচার করিবার কাছারি হয়। উহার বিচারপতি প্রিয়পাত্র রাজা নবকৃষ্ণ ও কান্ত বাবু হইয়াছিলেন। উহাতেই কায়স্থ ও তিলি হিন্দু সমাজের শিরোমণি হইয়াছিলেন, আর ব্রাহ্মণেরা বৃত্তিভোগী হইয়া মর্য্যাদা হারাইলেন। সেকালে অনেকেই আফিম, লবণের গোলার দারোগাদি হীন কার্য্য করিয়া বেশ অবস্থাপন্ন হইয়াছিলেনঃ— যেমন দেওয়ান ৺রাধামাধব বন্দ্যোপাধ্যায়, ৺দুর্গাচরণ মুখোপাধ্যায়, ৺বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়। এই সূত্রে আরও সেকালের অনেক নামজাদা কলিকাতার অধিবাসীর নাম উল্লেখ করা যাইতে পারে। তখন কলিকাতার ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা কোম্পানির বৃত্তি লাভ করিবার জন্য কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের ও উমেদারগণের পৃষ্ঠপোষকতা ও তাহাদের উৎসবাদিতে বৃত্তিলাভ করিয়া ধন্য হইতেন। কলিকাতার তখন হইতেই দুর্গোৎসবাদিতে ব্রাহ্মণ বিদায় নন্দকুমার, নবকৃষ্ণ প্রমুখ করিয়াছিলেন ও তাঁহাদের কৃপায় বঙ্গদেশে কায়স্থাদি নবশায়ক সম্প্রদায় ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানীয় সেই জাতি অপেক্ষা মর্য্যাদাবান হইয়াছিল। জাতি কাছারির কর্ত্তারা সেই সকল অপদার্থ ব্রাহ্মণগণকে বাধ্য করিয়া সমাজে উন্নত হইয়াছিল। তাহাদের ঐ কার্য্যের সহায়তা করিয়া উক্ত কায়স্থাদি তখন সমাজের শিরোমণি ও ইংরাজের অনুগ্রহে জাতির বিচারপতি হইয়াছিলেন।

    এইরূপে আর্য্য হিন্দু সমাজের সমাধি কোম্পানির রাজত্বের প্রারম্ভেই হইয়াছিল। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের নাম উহাতেই চিরস্মরণীয় হইয়াছে। তিনি এদেশে যথার্থরূপে দেওয়ানি কার্য্য করিবার নিমিত্ত শিক্ষা বিস্তার আবশ্যক ও কতকগুলি উমেদারের দ্বারা হিন্দু মুসলমানকে বাধ্য করা নিতান্ত প্রয়োজন মনে করিয়াছিলেন। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের শাসনকালে উচ্চ ইংরাজ কর্ম্মচারিগণ এদেশের হিতের দিকে তাকাইয়া কার্য্য করা মুর্খের কর্ম্ম মনে করিত। কিসে তাহাদের আপনার ও পুত্র পরিবারের সমুন্নতি হয়, উহারই প্রতিই সর্ব্বাগ্রে দৃষ্টিপাত করিত। ইংরাজিতে ঐ সম্বন্ধে যেমন একটি প্রসিদ্ধ চলিত কথা বিদ্যমান, বাঙ্গালায়ও সেইরূপ আছে, যথাঃ— Charity begins at home “চাচা আপন আপন বাঁচা”। আরও সেকালের ইংরাজ কর্ম্মচারী ও তাঁহাদের সৃষ্ট রাজা মহারাজগণের আচার ব্যবহারে এই কথাই যেন অক্ষরে অক্ষরে লিপিবদ্ধ হইয়া আছে যে, পৃথিবীতে কামিনী ও কাঞ্চন উপভোগ করাই মনুষ্যত্ব, আর যে পশু সেইই উহা করে না। উহাতেই লোকে বলেঃ— “এ হেন ধন ছেড়ে, রাম ভজে কোন্ ভেড়ের ভেড়ে”। ইংরাজের পাদ্রী কায়েরনাণ্ডার প্রমুখ সেই লোভে মুগ্ধ হইয়া আপনার কার্য্যেও উহা প্রমাণ করিয়াছিলেন ও অনেক হিন্দুকে তাঁহার পথানুসরণ করাইয়া খৃষ্টান করাইয়াছিলেন। কোম্পানির এদেশে দেওয়ানি রাজত্বশাসনে গৌন ও মুখ্য ভাবে হিন্দুর ধর্ম্ম লোপ হইতে আরম্ভ হইয়াছিল। মুসলমান রাজত্বকালে বলের দ্বারা যাহা হইয়াছিল, সেই সময়ে এইরূপ নানা কৌশলে উহা হইয়াছিল। কোম্পানির উচ্চ কর্ম্মচারিগণের শুভদৃষ্টির নিমিত্ত লোকে ধর্ম্ম কর্ম্ম সমাজ সমস্তই ক্রমে ক্রমে জলাঞ্জলি দিয়াছিল। উহাতেই কবি ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা সংসৃকত ভাষায় নীতির শ্লোক রচনা করিলেন “ধনৈরাপদামাপদাস্তরন্তি ধনৈঃ নিষ্কুলীনা কুলীনা ভবন্তি, ধনান্যর্জ্জয়দ্ধং ধনান্যর্জ্জয়দ্ধং নিবৃত্তরাগস্য গৃহং তপোবনং” অর্থাৎ ধনের দ্বারাই লোকে আপদ হইতে উদ্ধার লাভ করে, হীন কুলীন হয়। বাসনা শূন্য ব্যক্তির নিকট গৃহই তপোবনস্বরূপ সুতরাং ধনার্জ্জন করা সকলের লক্ষ্য হওয়া ন্যায্য ও উচিত উহাই করিতে থাক। এতদ্ভিন্ন সেকালের প্রভু ও তাহাদের ভৃত্যগণের মধ্যে কিরূপ পরস্পর সম্বন্ধ ছিল ও হওয়া উচিত সে উপদেশও সংস্কৃত কবিতায় বর্ত্তমান রহিয়াছে।—

    “দোষোহপি গুণতাং যাতি, প্রভোর্ভবতি চেৎকৃপা

    নাস্ত্যহো স্বামিভক্তানাং, পুত্রে চাত্মনি বা স্পৃহা।”

    অর্থাৎ প্রভুর যদি ভৃত্যের প্রতি অনুগ্রহ থাকে, তবে তাহার দোষ ও গুণ স্বরূপ পরিগণিত হয়, আর প্রভুভক্ত ব্যক্তি প্রভুর হিতের নিমিত্ত পুত্র বা আত্মার স্পৃহা করে না, এমন কি, তজ্জন্য জীবন পর্য্যন্তও ত্যাগ করিয়া থাকে। সেকালের পণ্ডিতগণের দীর্ঘ নিঃশ্বাস এই বলিয়া পড়িতে ছিল যে, দরিদ্র ব্যক্তির সুখ নাই, কারণ লোভী ব্যক্তিকে কেবল অর্থ দ্বারা বশীভূত করা যায়। তখন রাজা যিনি রক্ষক, তিনি লোভী, তাঁহাকে সন্তুষ্ট করিতে গেলে ধনের সঞ্চয় আবশ্যক সুতরাং দরিদ্রের দুঃখ ভিন্ন সুখের মুখাবলোকন করা সম্ভবপর নহে। কবি বললেন “নির্ধনস্য কুতঃ সুখং বাচনান্তংহি গৌরবং” অর্থাৎ নির্ধনের সুখ নাই যাচ্ঞা করিলেই গৌরব নষ্ট হইয়া যায়।

    হায়! কালের বিচিত্র প্রভাবে তখব বাঙ্গালার নবাব সুবাগণ হইতে দিল্লির সম্রাট পর্য্যন্ত ভিখারীর মত বৃত্তিভোগী, আর বিদেশী কোম্পানির উচ্চ কর্ম্মচারীরা দেশের ও তাঁহাদের দণ্ডমুুণ্ডের কর্ত্তা হইয়াছিলেন। ওয়ারণ হেষ্টিংসই উহার উদাহরণ মুর্শিদাবাদের নাবালক নবাবের বৃত্তিচ্ছেদ ও দিল্লির সম্রাটের বৃত্তিলোপ করিয়া দেখাইয়াছিলেন। প্রকৃত প্রস্তাবে তখন হইতে কলিকাতায় গবর্ণর দেওয়ানি স্থলে বাঙ্গালা বেহারে রাজার ন্যায় কার্য্য করিতেছিলেন। বিদ্যাবুদ্ধি প্রখর না হইলেও তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি প্রভাবে দেশের লোকেরা “কোম্পানির মুলুক” বলিতে আরম্ভ করিয়াছিল। প্রভু যখন ভৃত্যগণকে আপনার দুষ্কর্ম্মের সহায় স্বরূপ গ্রহণ করে, তখন তাঁহার প্রভুত্ব লোপ হইয়া যায়। কারণ তাঁহাকে ভৃত্যের মনস্তুষ্টির জন্য ভৃত্যেরও ভৃত্যত্ব স্বীকার করিতে হয়। ওয়ারেণ হেষ্টিংস ক্লাইব প্রমুখ সকলকে সেইরূপ কার্য্য করিতে হইয়াছিল। উহাতেই দেশের লোকেরা নবকৃষ্ণাদির উন্নতিতে আনন্দিত হইতে পারে নাই, বরং তাহাদের অত্যাচারে ব্যথিত হইয়া তাহাদিগকে হিংস্র পশুগণাপেক্ষা ভয় ও ঘৃণা করিতে থাকে। ইংরাজ ব্যবসায়ী গবর্ণরের কি বিচিত্র ব্যবসা! কি কার্য্য প্রণালী ও কৌশল!

    আদালতঃ— হেষ্টীংস আদালতে ধর্ম্মানুযায়ী হিন্দুমুসলমানগণের বিচার কার্য্যারম্ভ পূর্ব্বক বাদী প্রতিবাদীর অর্থে পণ্ডিত ও মৌলবীগণের উদর পূরণ করিবার ব্যবস্থা করিয়া তাঁহাদিগকে হস্তগত করিয়াছিলেন। তাঁহাদের আর্য্য তেজস্বিতা ও ধর্ম্মাচরণ উহাতেই পণ্ড হইয়াছিল। সেকালের ধর্ম্ম ভীরু বণিকেরা আর কোম্পানির বেণিয়াণী করিত না ক্রমশঃ সে কার্য্য সকল জাতির ব্যক্তিরা করিতে আরম্ভ করে, উদাহরণ স্বরূপ কয়েকজনের নামোল্লেখ করা যাইতেছে, যথাঃ— নবকৃষ্ণ, দেবী সিংহ, গঙ্গাগোবিন্দ কান্তবাবু, কাশিনাথ, রামচরণ, ক্লাইব ও হেষ্টিংসের, ভেরিলষ্টের গোকুল ঘোষাল, মিডলটনের শান্তিরাম সিং, গ্লাডউইনের বারাণসী ঘোষ, হুইলারের দর্পনারায়ণ ঠাকুর প্রভৃতি অনেনকেই বেণিয়ানের কার্য্য করিয়াছিল। কোম্পানির রাজত্বের সূত্রপাতেই বর্ণশ্রমধর্ম্ম ও জাতিগত ব্যবসা একরূপ শেষ হইয়াছিল। নবকৃষ্ণ দেবের পোষ্যপুত্র গোপীমোহনের সহিত ঔরসপুত্র রাজকৃষ্ণের মামলায় তাঁহারা আপনাদিগকে বৈশ্য বলিয়া পরিচয় দিয়াছিলেন। মাগনটন সহেবের হিন্দু উইল নাম পুস্তকে উহা উল্লিখিত হইয়াছে। ইহা আশ্চর্য্যের কথা নয়, কারণ তাহারা বোধ হয়, ব্যবসা করিত বলিয়া বৈশ্যত্ব লাভ করিয়াছিল। জাতির কর্ত্তার পক্ষে ইহা আর বেশী কথা নয়। পাদরী হাউসের বাঙ্গালার পেরিশ পুস্তকের ৮৭ পৃষ্ঠায় মহারাজা নবকৃষ্ণ দে উল্লেখ আছে। দেব উপাধি পরে হইয়া থাকিবে।

    দেশের সামাজিক দুর্দ্দশাঃ— মুড়ি মিছরীর একদর হইয়াছিল, প্রসিদ্ধ ঈশপের দাঁড়কাকের গল্পের ন্যায় যাহারা আপনার বেশ পরিবর্ত্তন করে তাহাদের দুঃখের শেষ নাই। হিন্দু মুসলমানের মধ্যে কখনও কোন মনোমালিন্য ছিল না, বা মুসলমান হিন্দুকে কাফের বলিয়া ঘৃণা করিত না, বা হিন্দুরা কোন মুসলমানকে সেইরূপ কোন অনাদর করিত না। মুসলমানেরাই জাতিচ্যুত ব্যক্তিকে বেলমাত্র বিলক্ষণ ঘৃৃণা করিত, বোধ হয়। কারণ সামাজিক ইতিহাসকার যাহা বলিয়াছেন উহাতেই বোধ হয় যথাঃ— “ইংরাজেরা বিবেচনা করেন যে, নবাবী আমলে এদেশের মুসলমানেরা রাজার জাতি ছিল এবং বিশেষ সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ পদস্থ ছিল বাস্তবিক উহা নহে। বাঙ্গালাদেশের মুসমলান মধ্যে প্রায় সাড়ে পনের আনাই অতি নিম্ন শ্রেণীর হিন্দু সন্তান, অতি অল্প সংখ্যক সদ্বংশজাত হিন্দু সন্তান। কোন কারণে জাতিভ্রষ্ট হইয়া মুসলমান হইয়ারছে। বিদেশ হইতে সমাগত মুসলমান শতকরা একজন হইবে কিনা সন্দেহ। মোগলরা এদেশের মুসলমানদিগকে স্বজাতি বলিয়া জ্ঞান করিত না। এদেশীয় মুসলমানদিগকে লোকে “পাতিনেড়ে” বলিত। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়েরা হাড়ী মুচিদিগকে যেরূপ জ্ঞান করে, সৈয়দ ও মোগলরা পাতিনেড়েদিগকে তদ্রূপ জ্ঞান করিত। মুসলমান রাজপুরুষেরা হিন্দুদিগকে যতদূর সম্ভ্রম করিত, পাতিনেড়েদিগকে কদাচ তত সম্ভ্রম করিত না,—অথবা তাহাদিগকে কখন কোন উচ্চপদ দিত না। ফলতঃ ইংরাজ রাজত্বে বাঙ্গালী মুসলমানদিগের মান মর্য্যাদা ও অবস্থা যেরূপ আছে, মোগল রাজত্বে কালে তদপেক্ষা সর্ব্বাংশেই অপকৃষ্ট ছিল।” ইহাতেই ইংরাজ রাজত্বে মুসলমানগণের ক্ষতিবৃদ্ধি হয় নাই, বরং রেজাখাঁ প্রমুখের সর্ব্বোচ্চ পদলাভ করায় মুসলমানেরা সন্তুষ্ট হইয়াছিল।

    বৈষ্ণবীঃ— উক্ত গ্রন্থকার * মুসলমান অবলা বিধবাগণের সুখ শান্তি ইংরাজ রাজত্বে হইয়াছিল বলিয়া আভাস এইরূপ দিয়াছেলঃ— ** “অতি সামান্য কারণেই জাতিচ্যুতি বা সমাজচ্যুতি হইত, কিন্তু সহস্র সৎকার্য্য দ্বারা উহার প্রতিবিধান হইত না। বিধর্ম্মীকে স্বধর্ম্মে গ্রহণ করার রীতি শ্রীচৈতন্য প্রভু সংস্থাপন করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু অল্পকাল পরেই উহা পুরুষের সম্বন্ধে রহিত হইয়াছিল। অথচ মুসলমানগণ রমণী মধ্যে যাহারা হিন্দুর উপপত্নী হইত, তাহারা বৈষ্ণবী হইতে পারিত। বোধ হয়, মুসলমান শাসনই ঈদৃশ বৈষম্যের আদিকারণ। মুসলমানেরা স্ত্রীজাতির আত্মার স্থায়ীত্ব স্বীকার করে না, সুতরাং তাহাদের পাপ পুণ্যের জন্য পরলোকে কোনরূপ দণ্ড বা পুরস্কার হইবে বলিয়া মনে করে না। তজ্জন্য পরদাবদ্ধ কুলবধূ ভিন্ন অপর কোন মুসলমানী বৈষ্ণবী বা খৃষ্টানি হইলে মুসলমান কাজিরা তাহাকে কোন শাস্তি দান করিত না, কেবল মুসলমান পুরুষ ধর্ম্মান্তর গ্রহণ করিলে কাজিরা তাহাদিগকে এবং তৎসংসৃষ্ট সমস্ত লোককে অতি কঠিন দণ্ড করিত। মোতি বিবি, ঘষেটি বাই প্রভৃতি বুদ্ধিমতী মুসলমানীরা স্পষ্ট বলিত যে, ‘মুসলমান ধর্ম্ম যদি সম্পূর্ণ সত্যই হয়, তথাপি উহা মানিয়া স্ত্রীলোকের কোন লাভ নাই। যদি বৈষ্ণবধর্ম্ম সত্য হয়, তবে আমরাও হরিনাম জপিয়া বৈকুণ্ঠে যাইতে পারি।’ এইজন্য অনেক মুসলমানী বৈষ্ণবী হইত। তখন তাহাদের সঙ্গে বসিয়া পান খাওয়া এবং জলভরা হুঁকায় তামাক খাওয়া হিন্দুরা দুষ্যজ্ঞান করিত না।” হিন্দু মুসলমানের মধ্যে তখন কিরূপ সুন্দর সৌহার্দ্দ্য ছিল ও কোনরূপ বিবাদ ছিল না বলিয়াই বোধ হয়।

    গ্রন্থকার ১৪৪ পৃষ্ঠায় এই সম্বন্ধে আরও লিখিয়াছেনঃ— “হিন্দুদের নানাজাতি, নানাশ্রেণী এবং তাহাতে অসংখ্য শাখা প্রশাখা হওয়াতে এমন কোন্ বিধর্ম্মীকে কোন্ শ্রেণীতে গ্রহণ করা হইবে, উহা নিবর্বাচন করা যায় না। সেইজন্য বিধর্ম্মীকে হিন্দুধর্ম্মে গ্রহণ করিবার প্রথা অপ্রচলিত হইয়াছে। চৈতন্য প্রভুর বৈষ্ণব মতে ব্রাহ্মণেরা “অধিকারী” আর সকল জাতীয় লোকই “বৈষ্ণব”। এই দুইটি মাত্র ভাগ ছিল এবং সেই দুই ভাগের আর কোন শাখা প্রশাখা ছিল না। এজন্য তিনি কতিপয় মুসলমানকে বৈষ্ণবরূপে গ্রহণ করিয়াছিলেন। উহার পর বৈষ্ণবদিগের মধ্যে জাতি বিচার আরম্ভ হওয়ায় বিধর্ম্মীকে বৈষ্ণব করা অসম্ভব হইয়াছে।”

    হায়! হিন্দু সমাজের যখন এইরূপ শোচনীয় দুরবস্থা তখন সে নবকৃষ্ণ ও কান্তবাবু জাতির বিচার কলিকাতায় করিবেন ইহাতে অর আশ্চর্য্য হইবার বিষয় কিছুই নাই ইংরাজ গবর্ণেরা এইরূপে শতবর্ষে তখন ব্যবসা, রাজ্য ও জাতির হর্ত্তা কর্ত্তা বিধাতাপুরুষ স্বরূপ হইয়াছিলেন বলিলে অত্যুক্তি হয় না।

    দেশের ব্যবসায়ীর তখন কি কার্য্য করিত, উহার উল্লেখ ওয়ার্ড সাহেব তাঁহার পুস্তকে এইরূপ করিয়াছেনঃ— “দেশের সকল স্থানে সুবর্ণ বণিকেরা লোক রাখিয়া ব্যবসা ও টাকা ধার দিত। পুরাতন সোনারূপা খরিদ, বিক্রী ও যাচাই আদি করিয়া অনেকে সামান্য অবস্থা হইতে ধনী হইয়াছে। তিনি তাহাদের সম্বন্ধে কোনরূপ সামাজিক উৎপীড়নের কথা লিপিবদ্ধ করেন নাই, বরং তাহাদের কীর্ত্তি কলাপ বাঙ্গলা ও উড়িষ্যায় ছিল বলিয়াছেন। যশোহরের অন্তর্গত চাঁচড়ার মন্দিরাদি প্রতিষ্ঠা নয়ানচাঁদের পুত্র নিমাইচরণ মল্লিক করিয়াছিলেন ও তাহার সেবার জন্য জমিদারী দান ও পুরীর জগন্নাথ দেবের নিত্যভোগের নিমিত্ত অর্থদানের উল্লেখ করিয়াছেন। দুর্গারাম ব্রহ্মচারী ঐ সকল দেবতার সেবা করিতেন ও সেখানে সেই নিমাইচরণ মল্লিকের জন্মোৎসবাদি নির্ব্বাহ করিয়া তাঁহাকে অমর করিয়াছিলেন।

    উক্ত মল্লিকের পূর্ব্বপুরুষের উপদেশ মতে ১৬৮৬ খৃষ্টাব্দে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি সর্ব্বপ্রথমে মালদহে রেশমের কুঠি খুলিয়া কার্য্য করিত এবং হুগলী হইতে পলায়ন করিয়া কলিকাতায় কুঠি করিয়াছিলেন। ১৭৭০ খৃষ্টাব্দে সেই মালদহের ইংরাজ কুঠিকে সকলে ইংরাজ বাজার নামে উল্লেখ করিত মালদহের নামোৎপত্তি ও ব্যবসার কথা উপসংহারে উল্লিখিত হইয়াছে।

    তহবিলদারীঃ— ক্লাইব কোম্পানির কর্ম্মচারিগণকে যেরূপ শাসন করিয়াছিলেন, তিনি তাহাদের উপায়ের পথও সেইরূপ আবিষ্কার করিয়া যান। উহাতে তাঁহারা অতি অল্পদিনেই স্বদেশে গিয়া নবাবী করিতে পারিতেন। সাইকস সাহেব মুর্শিদাবাদের রেসিডেন্টের কার্য্য করিয়া দুইবৎসরের খাজনার কমিশনে ছত্রিশ হাজার, মাথটে ছয় হাজার এবং নজরে দুই হাজার পাউণ্ড লাভ করিয়াছিলেন। সেই সাইকস সাহবেকে ক্লাইব তাঁহার এক বৎসরের লবণের একচেটিয়া ব্যবসার অংশ পঁচিশ হাজার পাউণ্ডে বিক্রি করিয়াছিলেন। তখন টাকার বিনিময় দুই শিলিং আট পেন্স পর্য্যন্ত হইত। এদেশে তখন কোম্পানিকে শতকরা পঁয়ত্রিশ টাকা ডিস্কাউন্টে টাকা ধার করিতে হইত ও সুদের হার শতকরা বার টাকারও অধিক ছিল। বিদেশী বণিকগণের নিকট হইতে পণ্ডিতগণের অর্থ লাভের উপায় হেষ্টিংস করেন, সেকালের বিখ্যাত পণ্ডিত ৺বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার বিবাদভঞ্জনসূচক পুস্তক প্রণয়ন করিয়াছিলেন। প্রসিদ্ধ গায়ক রামপ্রসাদ ও কলিকাতার জমিদারের বাড়ীতে কার্য্যারম্ভ করে ও শেষে মা কালির গান গাহিয়া বিখ্যাত হইয়াছিলেন। কলিকাতায় ভিখারীরা সেই প্রসিদ্ধ সাধকের সঙ্গীত গান করিয়া অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করিয়াছিল। তিনি হিসাবের খাতায় মায়ের সঙ্গীত লিখিয়া জমিদারের শ্রদ্ধাকর্ষণ করিয়াছিলেন। তখন মায়ের কৃপায় আর প্রকৃত প্রস্তাবে ইংরাজ কোম্পানি বাঙ্গালার তহবিলদারী লাভ করিয়া পৃথিবীর ঈশ্বর হইয়াছিলেন। “আমায় দাও মা তহবিলদারী, আমি নিমকহারাম নই মা শঙ্করী।” কোথায় সেই রামপ্রসাদ! আর কোথায় সেই ক্লাইব ও ওয়ারেণ হেষ্টিংস!

    সততাঃ— তখন রামপ্রসদের গানে বিষয়ী ও উদাসী সকলেই যেমন মুগ্ধ হইয়াছিল, সেইরূপ বিলায়েতের পার্লিয়ামেন্ট মহাসভায় ক্লাইব ও ওয়ারেন হেষ্টিংসের কার্য্যের বিচারে ইংরাজ জাতির অপূর্ব্ব সততার পরিচয়ে সেকালের লোকেরা চমৎকৃত হইয়াছিল। কালের কি অপার মহিমা! তখন ইংরাজজাতির গৌরব প্রতিধ্বনিত হইল। ইতিহাসের ছত্রে ছত্রে যেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত কেবল অনর্গল বত্তৃতায় রহিয়া গেল। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের সঞ্চিতার্থ নিঃশেষ হইল, আর ক্লাইব নিজেই তাঁহার জীবনোৎসর্গ করিলেন। সেইখানেই ভগবানের ন্যায় বিচার যেন নশ্বর মানুষের দৃষ্টিপথে পতিত হইল। এডমণ্ডবর্ক প্রমুখ ইংরাজ মণীষি বাগ্মিগণ কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের জাল, জুয়াচুরি ও মিথ্যাকথার কলঙ্ক যাহাতে ইংরাজ জাতির অঙ্গস্পর্শ না করে, সেইজন্য বিলাতের পার্লিয়ামেন্টে মহাসভায় তুমুলান্দোলন উপস্থিথ করিয়াছিলেন ও এদেশবাসির প্রতি অমানুষিক অত্যাচারের কথা এরূপ সুন্দর করিয়া বলিয়াছিলেন যে, হেষ্টিংসকেও উহা শ্রবণ করিয়া আপনাকে সম্পূর্ণ দোষী মনে করিতে হইয়াছিল ও উহা তিনি মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করিয়াছিলেন। তখন উহা অন্যের কিরূপ বোধ হইয়াছিল ইহাতে স্পষ্টই অনুভব করা যাইতে পারে। অবশেষে সেই ইংরাজজাতি সেই সৃষ্টিধর পুরুষগণের গুণের পক্ষপাতী হইয়াছিলেন। মেকলে প্রমুখলেখকাদি এদেশের অন্নে পুষ্ট হইয়া বাঙ্গালীজাতির উপর জলন্তভাষার ছটায় গালিবর্ষণ করিয়া সেই সকল মহাত্মাগণের প্রেতাত্মার যে তৃপ্তি সাধন করিয়াছিলেন, এখন বাঙ্গালার কৃতি সন্তানেরা উহার তথ্যানুসন্ধান করিয়া তাঁহাদের মুখে চুনকালি মাখাইতেছেন—ইহাই ইংরাজি শিক্ষাদীক্ষার পরিণাম ও গৌরব। এডমাণ্ডবার্ক প্রমুখ ইংরাজগণই ভারতবাসীকে ইংরাজ জাতির অকৃত্রিম সত্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ বিচার প্রার্থনায় তাঁহাদের পক্ষপাতী করিয়াছিল। উহাতেই ভারতবাসি গোলামি শিক্ষা করে। গোলামির জন্যই নন্দকুমার রেজাখাঁ আদির বিচার প্রার্থনা করিয়াছিলেন। যদি নন্দকুমারকে সেই রেজাখাঁর পদে প্রতিষ্ঠিত করা হইত, তাহা হইলে তাহার পরিণাম স্বতন্ত্র হইত।

    ঋণপরিশোধঃ— যাহাই হউক, সে সময়ে কি ওয়ারেন হেষ্টিংস, কি বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষগণের সভাপতি কেহই বাঙ্গালার ও বাঙ্গালীর যুদ্ধ বিগ্রহ, অরাজকতা ও দুর্ভিক্ষে যে সর্ব্বনাশ হইতেছিল উহার প্রতি কোন দৃষ্টিপাত করেন নাই, কোম্পানির যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হইতেছিল কেবল উহা পরিশোধ করিবার জন্যই বিব্রত ছিলেন। রেজা খাঁ আদির নিষ্কৃতি দানের সঙ্গে উহার যে কোন সম্বন্ধ নাই, একথা কেহই বলেন নাই। সেইজন্যই মুর্শিদাবাদের নবাবের বৃত্তি হ্রাস ও দিল্লির সম্রাটকে করদান করা রহিত এবং কোড়া ও এলাহাবাদ এই দুই প্রবেশ অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করা হইল। ওয়ারেণ হেষ্টিংস আমলেই লোকে “কোম্পানির মুলুক” বলিতে লাগিল ও কলিকাতা সেই দেওয়ানি রাজত্বের রাজধানী হইয়াছিল।

    আক্কেলসেলামিঃ— কলিকাতায় হেষ্টিংসের গবর্ণরী করিবার পূর্ব্বেই ভান্সিটার্টের সভায় সভ্যের কার্যের সময় বাটসন সাহেব তাঁহাকে মিথ্যাবাদি বলিয়া গালে চড় মারিয়াছিলেন ও সেইজন্য তাহাকে সেই সভার সভ্যপদ হইতে বহিষ্কৃত করা হয় ও ক্ষমা ভিক্ষা করিলে উহা রহিত করা হয়। সেই ঘটনা রিচার্ড কোর্টের বাড়ীতে হইয়াছিল। ঐ কোর্ট সাহেব ১৭৫৮ খৃষ্টাব্দে নদীতে মগ্ন হইয়া মারা যান ও কোম্পানি তাঁহার বাড়ী খরিদ করিয়া সেইখানে গবর্ণরের সভাদি করিবার স্থান করিয়াছিল। এইরূপে দেখা যায় যে, কলিকাতায় ওয়ারেণ হেস্টিংসের আক্কেল সেলামি গবর্ণরীর পূর্ব্বেই লাভ হইয়াছিল।

    “Mr. Batson making some unbecoming reflections on the Governor, writes Hastings in his official representation, I replied thereto and I appealed to the Board whether any indecent or provoking terms upon which Mr. Batson gave me the lie and struck me in the presence of the Board. I leave them to take such notice as they may think proper of the indignity offered to themselves by this step of Mr. Batson. For my part I can not think of sitting any longer at a Board where I am subjected to such insult.”

    তখন হেষ্টিংস শান্তপ্রকৃতির, লোক ছিলেন ও সেকালের গবর্ণর সভায় সভ্যগণ কিরূপ সভ্য ও শিষ্ট ছিল কেমন করিয়া তাহারা দেশ অধিকার ও রাজত্ব করিত উহার উদাহরণ জাজ্জ্বল্যমান বর্ত্তমান রহিয়াছে। ওয়ারেন হেষ্টিংস লাল দিঘির সর্ব্ববিধ সংস্কার করিয়াছিলেন। উহার জল সেকালের ইংরাজেরা ব্যবহার করিত। কলিকাতার বিখ্যাত সওদাগর জন্ পামারের পিতা ওয়ারেণ হেষ্টিংসের সেক্রেটারি ছিলেন। সেই জন পামারের সওদাগরী বাড়ী ও অফিস বর্ত্তমান লাল বাজারের পুলিশ গৃহস্থলে ছিল। উহার সম্মুখেই সেকালের জেল ও উহার পার্শ্বে নাবিকগণেণ থাকিবার স্থান ছিল। সেইখানেই হারনোনিক টাভারণ নামক সেকালের ইংরাজগণের আহার বিহারের সুন্দর স্থান বলিয়া বিখ্যাত ছিল। সেকালের চাঁদ পাল মুদির দোকান গঙ্গার ঘাটের ধারে ছিল ও ঐ নামেই ঐ ঘাট এখনও পরিচিত। এখন লোকে ঘাট তৈয়ারী করিয়া যে কার্য্য স্মৃতি ফলক দ্বারা করিতে পারে না, উহা এক সামান্য মুদির দোকান থাকায় সেই স্মৃতি আজও বহন করাইতেছে। সেইরূপ রাণিমুদি গালির রাস্তা, আজও ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান স্ট্রীটকে বলিয়া থাকে। সেই চাঁদপাল ঘাটেই সেকালের গবর্ণরাদি জাহাজ হইতে অবতরণ করিত ও সন্নিকটস্থ কেল্লায় তোপধবনি দ্বারা কলিকাতা মুখরিত হইত। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের কলিকাতা আবাস গৃহ হইতে বর্ত্তমান হেষ্টিংস ষ্ট্রীটের নামপত্তন হইয়াছে। তিনি যে বাড়ীতে থাকিতেন, উহা এখনও বর্ত্তমান আছে ও উহা রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকের সম্পত্তি। সেইখানে কিছুদিন পূবের্ব বরণ কোম্পানির আফিস ছিল। সওদাগর জন পামারের * কারবার বন্ধ হওয়ায় কলিকাতার ব্যবসার অতীব শোচনীয় অবস্থা হইয়াছিল। উহাতে সতের মিলিয়ান পাউণ্ড নষ্ট হওয়ায় অপর ছয়টি সওদাগরের আফিস নষ্ট হইয়াছিলঃ—

    “Palmer & Co. whose fall in 1830 shook Calcutta society to its foundation, followed as it was by the collapse of six other houses of agency between 1830 and 1834 for a total of seventeen millions sterling.” (Page 579) Cotton’s Calcutta,

    পাদ্রীর কীর্ত্তিঃ— কিরূপে কলিকাতার মিশন রোর গির্জ্জা নির্ম্মাণ হইয়াছিল উহাও উল্লেখ যোগ্য বিষয়। উহা কলিকাতার প্রোটেষ্টন পাদরী কায়রণাণ্ডারের স্মৃতি রক্ষা করিতেছে। পাদরী সাহেব কর্ণেল ফিসারের বিধবা-পত্নীকে বিবাহ করিয়া যে কিছু অর্থলাভ করিয়াছিলেন উহাতেই তিনি ঐ গির্জ্জার প্রথম পত্তন করেন। ১৭৬১খৃষ্টাব্দে পত্নীর মৃত্যু হইলে পাদরী সাহেব মিসেস আনা উলিকে বিবাহ করেন। তাঁহার মৃত্যুও ১৭৭৩ খৃষ্টাব্দের জুনমাসে হয় ও তাঁহার অলঙ্কারাদি বিক্রয় করিয়া পাদরী সাহেব ছয় হাজার টাকার মিশনের বিদ্যালয়ে ব্যয় করিয়াছিলেন। সেই পাদরী সাহেবের কামাক স্ট্রীটে বাড়ী ও ভবানীপুরে বাগান ছিল ও তিনি কারবারও করিতেন। উহাতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তাঁহাকে আদালতে ইনসলভেন্ট হইয়া ঋণমুক্ত হইতে হইয়াছিল। ঐ সময় ঐ গির্জ্জা সেরিফের লোকেরা বিক্রি করিতে গিয়াছিল, কিন্তু উহার মূল্য দশ হাজার টাকা মালদহের চার্লস গ্রান্টসাহেব দান করিয়া গির্জ্জাকে বিক্রি করিতে গিয়াছিল, কিন্তু উহার মূল্য দশহাজার টাকা মালদহের চার্লস গ্রান্টসাহেব দান করিয়া গির্জ্জাকে দায় মুক্ত করিয়াছিলেন। সেই পুণ্যে, তিনি কোম্পানির ডাইরেক্টার হইয়াছিলেন ও তাঁহার সন্তান বোধহয়, লর্ড গ্লেনেলা হইয়াছিলেন। ১৭৯৯ খৃষ্টাব্দে যে মিশানরোর গির্জ্জায় পূর্ব্বোক্ত দুই পত্নীর দেহ সমাধিত হইয়াছিল, সেইখানে পাদরি কায়রনাণ্ডারের শেষক্রিয়া সম্পন্ন হইয়াছিল। ১৭৭০ খৃষ্টাব্দে ২৩এ ডিসেম্বর উক্ত পাদরি বিবাহাদি লব্ধধনে যে গির্জ্জাদি ৭৫০০০ পঁচাত্তর হাজার টাকা ব্যয়ে করিয়াছিলেন, উহা ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দে অক্টোবর মাসে উক্ত গ্রান্ট সাহেব তিন জন ট্রাষ্টীর হস্তে দশহাজার টাকায় খরিদ করিয়া অর্পণ করিয়াছিলেন। উহার পরে বর্ত্তমান গির্জ্জার পরিবর্ত্তন হইয়াছিল। ঐ মিশনের গির্জ্জানুসারে বর্ত্তমান মিশন রোর নাম পত্তন হইয়াছিল। সেই গির্জ্জায় মিসেস হানা এলারটনের সমাধি বর্ত্তমান, তিনি হেষ্টিংসের সহিত ফ্রান্সিসের ডুয়েলযুদ্ধ ও চৌরঙ্গিতে সবে মাত্র দুইখাটি বাড়ী ছিল দেখিয়াছিলেন। পাদ্রি জেমস লঙকে বলিয়াছিলেন এই গির্জ্জায় উৎপত্তি ও রক্ষার কথা কৌতুকাবহ নয় কি?

    The original church, as Kiernander built it, appears to have been a plain, oblong building, extending from the present west porch to the beginning of the semi-circular chancel in the east.” “Mrs. Hannah Ellerton died in January 21st, 1858 aged 86 years. This is the lady who assured the Revd. James Long that she had a vivid recollection of the duel between Hastings and Francis and could remember the day when there were only two houses in the “road to Chowringhy.” Cotton’s Calcutta (P. 635-7.)

    জবাবদিহিঃ— হেষ্টিংসের গবর্ণরী করিবার সময় তাঁহার সভার সভ্যগণের সহিত অনেক সময় বিলক্ষণ মতভেদ হইত ও তজ্জন্য তিনি সুখী হইতে পারেন নাই। ওয়ারেণ হেষ্টিংস বিলাতের গুপ্ত সভার অভিমতানুসারে কলিকাতা কাউন্সিলের সভাপতি পদে প্রতিষ্ঠিত হইয়াই ২৮ শে এপ্রেল ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে মহম্মদ রেজা খাঁ, দেওয়ান রাজা অমৃত সিংহ ও সেতাব রায়কে বন্দি করিয়া কলিকাতায় প্রেরণ করিবার আদেশ দিয়াছিলেন। কলিকাতা সভার অধিকাংশ সভ্যগণ বলিয়াছেন যে, রেজা খাঁ কলিকাতায় আসিলে তখন তাহাদের মধ্যে একজন তাহদের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া উহাকে বন্দি করিবার কারণ জ্ঞাত করান কর্ত্তব্য, গবর্ণর হেষ্টিংস উহার প্রতিবাদ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, উহা নীতি বিগর্হিত কারণ কোন বন্দিব্যক্তির প্রতি কোনরূপ সম্মানদর্শন করা উচিত নয়। রেজা খাঁর সেই পদচ্যুতির পর মণিবেগমকে মুর্শিদাবাদের নাবালক নাবারের তত্ত্বাবধারক ও রাজা গুরুদাসকে তাঁহার দেওয়ান নিযুক্ত করিবার প্রস্তাব করিলে সেখানেও অধিকাংশ সভ্যগণ আপত্তি করিলেন যে, রাজা গুরুদাসকে দেওয়ানি কার্য্যে মনোনীত করা যাইতে পারে না, কারণ তাঁহার পিতা কোম্পানির বিরুদ্ধে কার্য্য করিয়া বিখ্যাত হইয়াছেন। নন্দকুমারের উপর তাঁহারা যে কটাক্ষপাত করিয়াছিলেন উহা ন্যায়সঙ্গত নয়, ইহা তখন হেষ্টিংস প্রতিবাদ করিতে কুণ্ঠিত হন নাই।, হেষ্টিংসের সহিত নন্দকুমারের শত্রুতার কথা স্বয়ং হেষ্টিংস তাঁহার বন্ধুকে পত্রে এইরূপ লিখিয়াছেন যে, সেই ব্যক্তি তাঁহাকে সাতবৎসর ধরিয়া উৎপীড়ন ও কোম্পানির পরম শত্রু ছিলেন। আবার ভূতের মুখে রামনামও উচ্চারিত হইয়াছিল যে, নন্দকুমার তাঁহার প্রভু মীরজাফর ও তদ্ববংশধরগণের পক্ষে কার্য্য করিয়া ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যে কিছু বিপক্ষতাচরণ করিয়াছিল উহার জন্য ন্যায় বিচারে তাঁহাকে দোষী করিতে পারা যায় না, কারণ যদি তিনি উহা না করিতেন, তাহা হইলে তাঁহার বিশ্বাসঘাতকতার কার্য্য করা হইত। ওয়ারেন হেষ্টিংস কোর্ট অফ ডিরেক্টারগণকে ১১ই নভেম্বর ১৭৭৩ খৃষ্টাব্দে এক পত্র লেখেন উহার মধ্যে সেকালের অবস্থা যাহা বিবৃত আছে, উহারই কিঞ্চিৎ সার মর্ম্ম দেওয়া গেল। বাঙ্গালার কর্ত্তৃপক্ষগণের উপর যে দোষারোপ করা হয়, উহা ন্যায্য নহে, কারণ তখনও উহাদের শাসন করিবার প্রণালী ও ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে হয় নাই কেবলমাত্র ব্যবসা করিবার স্বত্ব লাভই হইয়াছিল। বাঙ্গালাদির পরিধি অনুসারে রাজত্ব করিতে গেলে ও আপনাদের যাবতীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করিবার যে পরিমাণ ক্ষমতা ও লোকজন আবশ্যক, উহা ছিল না। আর কর্ম্মকর্ত্তারা যেমনই সর্ব্বাঙ্গীন অভিজ্ঞতা লাভ করিয়া কার্য্য করিবেন স্থির করেন, অমনি তাহাদের কাল শেষ হয়। ইহাতে কেমন করিয়া সুফল প্রত্যাশা করা যাইতে পারে। এতদ্ভিন্ন কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের মধ্যে এমন ধর্মাত্মা ব্যক্তি অতি অল্পই ছিল যে, যাঁহারা নিজের স্বার্থত্যাগ করিয়া কোম্পানির স্বার্থাস্বার্থের দিকে তাকাইতে পারেন। তবে তিনি এই পর্য্যন্ত বলিতে পারেন যে, ইহা তিনি নিজের কোন দোষাক্ষলনের জন্য লেখেন নাই, কেবল সত্যের অনুরোধে বলিতেছেন জানিবেন। আরও তিনি বলিয়াছিলেন যে, তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করিবেন যে, যাহাতে তাঁহার। আর কোম্পানির কর্ম্মচারিগণের নষ্ট চরিত্রের কথা শুনিতে না পান। আমাকে বর্ত্তমান রাজ্যপ্রণালীর দোষ সংস্কার সম্বন্ধে প্রস্তাব প্রেরণ করিতে অনুমতি দান করা হউক। সেই সকল দোষের মধ্যে দুইটি প্রধান যথাঃ—(১) কর্ম্মকর্ত্তাকে তাহার কার্য্য করিবার সম্পূর্ণ অবসর ও সময় দান করা উচিত, (২) প্রত্যেক কর্ম্মচারির কার্য্যের তালিকা নির্দ্দিষ্ট করিয়া দেওয়া প্রধান কর্ত্তব্য কর্ম্ম, একথা আমায় বেনারসের সভার উজীরও (মন্ত্রী) স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছিলেন। গবর্ণরের ক্ষমতা অসীম অথচ প্রকৃত পক্ষে সভার প্রত্যেক সভ্যের সমান ভিন্ন অধিক কিছুই নয়।

    যুক্তিঃ— উক্ত পত্রের সহিত ওয়ারেন হেষ্টিংসের বিলাতের পার্লিয়ামেন্টের সভার অভিযোগের প্রত্যুত্তরের সহিত তুলনা করিয়া দেখা উচিত। উহাতে তাঁহার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগাদি উল্লিখিত হইয়াছে উহা কখনই তাঁহার নিজকৃত বলিয়া গণ্য হইতে পারে না, কারণ উহা সমস্তই সভার সভ্যগণের অনুমোদিত হইয়া করা হইয়াছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁহার অভিমতের বিরুদ্ধেও তাঁহারা কার্য্য করিয়াছেন, তিনি এই যুক্তি দ্বারা অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়াছিলেন।

    যাহাই হউক, ওয়রেন হেষ্টিংসের গুণ গরিমা ইংরাজী ঐতিহাসিকেরা যতই প্রশংসা করুন না, কিন্তু তাঁহার নিজের বিচারের সময় তিনি যেকথা বলিয়া তাঁহার কৃতাপরাধের দোষ প্রত্যাখ্যান করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন উহা এখনও জাজ্জ্বল্যমান রহিয়াছে। সেইখানে তাহার পরিচয় হয়। তিনি তের বৎসর কাল রাজত্ব করিয়াছিলেন তিন ‘ত আর পাঁচ বৎসর করিয়া চলিয়া যান নাই। কোর্ট অফ ডিরেক্টার তাঁহার প্রার্থিত অতিরিক্তকাল ঐ রাজত্ব করিতে দিয়াই ভয়ানক সর্ব্বনাশ করিয়াছিলেন। তিনি তাঁহার সময়কে অতি ঘোর সমস্যার সময় বলিয়াছেন। তখন তিনি যাহা করিয়াছেন উহা না করিলে, কোম্পানির রাজত্ব থাকিত না বলিয়া সকল দোষের ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ক্লাইবের বিচারে যে পথালম্বন করিয়া তিনি মুক্তি লাভ করিয়াছিলেন সেই উপায়ই ন্যায্য, অধিকন্তু চতুর ওয়ারেণ হেষ্টিংস এক নূতন অকাট্য যুক্তির অবতারণা করিয়াছিলেন। তিনি বাল্যাবস্থাতেই দেশ হইতে বিচ্ছিন্ন, তজ্জন্য স্বদেশের রীতিনীতি আদির বিষয় সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ও উহা জানিবার প্রকৃষ্ট সুবিধা লাভও করেন নাই। যাঁহারা তাঁহাকে উচ্চ গবর্ণরী পদের যোগ্য বিবেচনা করিয়া তাঁহাকে সেই পদে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন, যদি কোন দোষ বা অপরাধ হইয়া থাকে, তবে তাঁহারা সেজন্য দায়ী উহার জন্য তিনি কেমন করিয়া দোষী হইতে পারেন? অর্থাৎ যাঁহারা অনুপযুক্ত লোককে সেই পদে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন তাঁহারা কি সর্ব্বাগ্রে দোষী নন? এইখানেই হেষ্টিংসের যুক্তির বাহাদুরি ও যেন চক্ষে অঙ্গুলি দান করিয়া বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষগণের অকর্ম্মণ্যতা প্রমাণ করিয়াছিলেন। আরও তিনি যে কোন দুরভিসন্ধি বশতঃ কোন অন্যায় কার্য্য করেন নাই বলেন। আর যদি কিছু দোষ হইয়া থাকে তবে, উহা তাঁহার অধিক বয়সের দোষের কথাই মনে করিতে হইবে অর্থাৎ যাহাকে ভীমরতি বলে। বলিহারি!! ওয়ারেণ হেষ্টিংস ভিন্ন আর কে চারিদিক বজায় রাখিয়া কথা কহিতে জানেন?

    “For, with respect to the said charges, the said Warren Hastings begs leave to observe that they consist of a minute and elaborate scrutiny into his whole official conduct during a government of thirteen years comprehending an infinite variety of events, and involving the management of a great commercial and political system in a service of uniform difficulty and exigence, and at many times of extreme National peril. Nor are the said charges confined to measures, but even his declarations and opinions delivered in the course debate and consultation. according to such information as he possessed at the moment and often under circumstances which would not afford time for adequate deliberation, are. made subjects of accusation against him. The said Warren Hastings therefore humbly represents, that, under such circumstances he must necessarily stand in much need of your Lordships favourable construction of his conduct, in order that the many omissions and imperfections, which in the review of the past measures of his long and arduous administration, your Lord ships superior wisdom shall discover, may be imputed to error and infirmity, and not to any corrupt or criminal intention. And the said Warren Hastings feels it the more necessary to solicit your Lordships indulgence, as he was separated at a very early age from his native country, from every advantage of that instruction which might have better qualified him for the high offices and difficult situations which it has been his lot to fill, and left to form his rule of conduct in a great degree on his own practice, and by the light of his own understanding.”

    অর্থাৎ সারকথা লোকের যোগ্যতানুসারে দোষগুণ বিচার করিতে হইবে। যে যেখানে যেমন করিয়া কার্য্য প্রণালী শিক্ষা করিয়াছে, সে যদি তদনুসারে কার্য্য করিয়া থাকে, তবে তাহাতে তাহার দোষ কি? এইখানেই বলিতে হয় তিনি কি সম্রাট সাহ আলমের পদানুসরণ করেছিলেন?

    সার মর্ম্মঃ— কলিকাতার গবর্ণরীর শিক্ষা দীক্ষা তখন কিরূপ ছিল, ও ওয়ারেণ হেষ্টিংস যিনি ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের ভিত্তিস্থাপন করিয়াছিলেন অনেকে বলিয়া থাকেন, তিনিই পার্লিয়ামেন্টের বিশিষ্ট বিচারপতিগণের নিকট কি বলিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছিলেন উহাই উল্লেখ করা হইয়াছে, কেবল হেষ্টিংসের গুণকীর্ত্তন করা হয় নাই। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের জয়!!! গবর্ণরী করিবার তুমিই যোগ্যপাত্র “যখন যেমন তখন তেমন”।

    “দোষ গুণ কব কার, এক ভস্ম আর ছার।”

    ক্লাইবের ভাগে K.C.B উপাধি লাভ ও তিনি ব্যারণ হইয়াছিলেন, কিন্তু ওয়ারেণ হেষ্টিংসের সে সব কিছুই হয় নাই, এমনকি, তাঁহার ভাগ্যে সার উপাধি লাভও হয় নাই। বিচারের পরে ক্লাইবের অর্থকৃচ্ছ্রতা হয় নাই, কিন্তু ওয়ারেণ হেষ্টিংস সেরূপ ভাগ্যবান ছিলেন না। তবে সাত বৎসর ধরিয়া ওয়ারেণ হেষ্টিংসের বিচার হয়, উহার পরেও অনেকদিন তিনি বাঁচিয়া ছিলেন। ক্লাইবের ন্যায় তাহাকে বিবেকের তাড়নায় মৃত্যুকে শরণ লইবার আয়োজন স্বয়ংকে করিতে হয় নাই। ইহাই শেষ গবর্ণর ওয়ারেণ হেষ্টিংসের বিশেষত্ব বলিতে হইবে। এইখানেই আদি কবি বাল্মীকির কথা মনে পড়ে, তিনি রাবণ বধের পর সতী সাবিত্রী সীতা হনুমানকে এই উপদেশ দান করিয়াছিলেন ঃ— “কার্য্যংকারুণ্যমার্য্যেণ ন কিঞ্চিন্নাপরাধ্যতি” অর্থাৎ জগতে কে না অপরাধি তবে ক্ষমা করাই আর্য্যের লক্ষ্মণ।

    ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলাতের রাজার অনুমতি লইয়া এদেশের সম্রাট, নবাব ও কর্ত্তৃপক্ষের মনস্তুষ্টি দ্বারা সর্ব্বপ্রথমে ব্যবসা আরম্ভ করিয়াছিল। উহাতে তাঁহারা নানারূপে নির্য্যাতীত হইয়া ক্লাইব ওয়ারেণ হেষ্টিংস বল দ্বারা সেই ব্যবসা রক্ষা করা আবশ্যক মনে করেন। তাঁহারা সেই বল সংগ্রহ বিলাত হইতে না করিয়া এদেশের মূর্খ নবাব রাজা উজীরগণের ঈর্ষাদ্রোহাদিসূচক মনোভিলাষ সিদ্ধ করিয়া কাঁটা দিয়া কাঁটা তুলিয়াছিলেন ও শেষে তাঁহারই দেশের সর্ব্বেসর্ব্বা ও মালিক হইয়াছিলেন। তাঁহার তখন বারাকে কোম্পানির ব্যবসার গুদাম ও সৈন্যর আবাস করিয়াছিলেন। কলিকাতা বহরমপুর প্রভৃতি স্থানে ঐরূপ ব্যবসা ও সৈন্যগণ থাকিত। ক্লাইব উহার পথপ্রদর্শক ও ওয়ারেণ হেষ্টিংস উহার পরিপোষক মাত্র। ক্লাইব মীরজাফরের নিকট হইতে যে ৪০০বিঘা জমি কাশিমবাজার খগড়ার দক্ষিণে সনন্দ দ্বারা লাভ করিয়া সৈন্যবারাক করিবেন স্থির করিয়াছিলেন, কিন্তু ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত বিলাতের ডিরেক্টারগণের অনুমতি অভাবে উহা হয় নাই। শেষে উহা ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে আরম্ভ হইয়া খাত পরিখা দ্বারা বেষ্টিত করিয়া দুই বৎসর শেষ করা হইয়াছিল। পরে ১৭৭২ ও ১৭৭৩ খৃষ্টাব্দে ওয়ারেণ হেষ্টিংস উহার উন্নতি কাঁটা তারের বেড়া ও পাকা দেওয়াল দিয়া করিয়াছিলেন। উহাতে ক্লাইবের স্মৃতিই বিজড়িত। ক্লাইব হেষ্টিংস রাম লক্ষ্মণ দুই ভাই বলিলে অত্যুক্তি হয় না। কলিকাতা কথার আদিকাণ্ডে তাঁহাদেরই পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুর্শিদাবাদ হইতে দেওয়ানি আদি কার্য্য করিবার জন্য সমস্তই কলিকাতায় স্থানান্তরিত করা হইল। আইন আকবরীর রাজস্ব হিসাবে আছে যে, সরকার সাতগাঁর অধীনে কলিকাতা ছিল, এবং সাতগাঁ ও হুগলী ইউরোপবাসীগণের অধিকৃত বলিয়াছিল। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের গবর্ণরীর সময় যুক্ত ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বাঙ্গালা বেহারের দেওয়ানি উড়িষ্যার সহিত লাভ করিয়াছিল বটে, কিন্তু তখনও উড়িষ্যা তাঁহার করায়ত্ত করিতে পারে নাই। যদিও কোম্পানি সুরাট হইতে সর্ব্বপ্রথমে উড়িষ্যায় ব্যবসা করিতে আসিয়াছিল, শেষে কলিকাতাই সেই বাঙ্গালা বিহারের মধ্যে প্রধান কোম্পানির কর্ম্মক্ষেত্র ও দেওয়ানির যাবতীয় কার্য্যারম্ভ হইল। কলিকাতার নাম প্রতিপত্তি ও উন্নতি ক্লাইব ও ওয়ারেন হেষ্টিংস পূর্ণমাত্রায় করিয়াছিলেন, ইহা সর্ব্ববাদিসম্মত! কলিকাতাবাসিকে একথা স্বীকার করিতে হইবে। কলিকাতার আদিম অধিবাসিরাও সে সম্বন্ধে যৎকিঞ্চিৎ যাহা দাবি করিত উহাও অতি সংক্ষেপে বলা হইয়াছে। পূর্ব্বের ব্যবসায় বাঙ্গালার উন্নতি কেমন করিয়া হইয়াছিল ও উহা কিরূপে হইয়াছিল সেইকথা অতি সংক্ষেপে বিদেশী ও স্বদেশী বাণিজ্যের পরস্পর উন্নতি ও অবনতির কারণের সহিত প্রকাশ করা উচিত।

    *  পৃঃ ৩৩৬।

    ** পৃঃ ৪২৮।

    * His cemetery tablet reads:—John Palmer, friend of the Poor born 8th October

    1767 died 21st. January 1836 aged 69.”

    “Palmer, whose bust may be seen in the Town Hall, lived in the large house

    in Lall Bazar, which was subsequently the old Police Office. His father who

    died a General at Berhampore in 1814, had been confidential minister to

    Warren Hastings and was Grand’s proposed second in his duel with Francis.”

    Cotton’s Calcutta. (Page 579)

    “And the said Warren Hastings begs leave to represent that many of the measures which in the said articles are stated as crimes or misdemeanours by him individually committed, were, in fact, measures of the council at large, and for which, therefore, he humbly conceives, he ought not to be separately and distinctly charged; and with respect to many others of the said measures, he trusts he shall be able to satisfy your Lordships that they were rendered ex pedient and necessary by former Acts and Resolutions of the Board, adopted, in some instances, not only without bis concurrence, but against his opinion and vots”

    “There are two emporiums, a mile distant from each other, one called Satgong

    and the other Hooghly, with its dependancies, both of which are in the

    possession of the Europeans.”

    “Diamonds, emeralds, pearls, agates and cornelians are brought from other

    countries to the seaports of Bengal.”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস
    Next Article সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }