Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. প্রাচীন রাজসরকারে চুরিচামারি

    প্রাচীন রাজসরকারে চুরিচামারি

    প্রায় সবার জানা একটা গল্প দিয়ে শুরু করতে ক্ষতি নেই এইজন্যে যে, এই প্রাচীন গল্পে চিরকালের সত্যটি ধরা পড়েছে। মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি অনেকগুলি গল্প লিখে, একটি গল্প-সংকলন করেন। নাম দেন পুরুষপরীক্ষা। এমনি একটি গল্পে এক চোরের কথা আছে, যে শুধু বুদ্ধির জোরে রাজদণ্ড পরিহার করতে পেরেছিল। চোরটি এক ধনী লোকের বাড়িতে সিঁদ কাটার মুখেই ধরা পড়ে।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সে ভাবল বাঁচবার উপায় একটা করতেই হবে; উপায় সফল হলে রক্ষা পাব, আর নিষ্ফল হলে মৃত্যুর বেশি তো কিছু হবে না। সে রাজপুরুষদের বলল–তোমরা রাজাকে গিয়ে বলল যে, আমি সোনার চাষ জানি। মরার আগে এই স্বর্ণকৃষির বিদ্যা আমি রাজাকে দিয়ে যেতে চাই। কারণ আমি মারা গেলে এ-বিদ্যা পৃথিবী থেকে লুপ্ত হবে। রাজপুরুষেরা রাজাকে সব জানাল এবং রাজা চোরের সঙ্গে মোলাকাত করে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন যে, চোর এ-কাজটি করে দেখাবে। মাসখানেক সময় নিয়ে চোর নানা কারিগরি করে রাজাকে জানাল, জমি এবং সোনার বীজ দুই-ই তৈরি। এখন শুধু একজন লোক দরকার, যে বীজগুলি ছড়িয়ে দেবে জমিতে। রাজা বললেন–তুমি নিজে কেন বীজ বুনছো না বাপু। চোর বলল–এই বীজ বোনায় যদি চোরেরই অধিকার থাকবে, তাহলে কি এ-বিদ্যা জানা সত্ত্বেও আমি বসে থাকি, না চুরি করি। চোর রাজাকে প্রশ্ন ফিরিয়ে দিয়ে বলল–কেন, মহারাজা আপনিই বরঞ্চ এই বীজগুলি ছড়িয়ে দিন না জমিতে। রাজা বললেন কিন্তু বাপু! আমি যে একবার চুরি করেছিলাম। আমার বাবা গায়েনদের টাকা পাঠিয়েছিলেন আমার হাত দিয়ে, আমি সেই টাকা সরিয়েছিলাম। চোর বলল–ঠিক আছে, ঠিক আছে, তাহলে মন্ত্রীমশাইরা বুনুন। মন্ত্রীরা হেসে বলল রাজার ওপরেই আমাদের জীবিকা, রাজপুরুষেরা কি চোর না হয়ে পারেবয়ং রাজোপজীবিনঃ, কথম্ অস্তেয়িনো ভবামঃ।

    পাঠকের কৌতূহল নিবারণার্থে জানাই যে, ওই রাজ্যের “চিফ জাস্টিস” পর্যন্ত ছোটোবেলায় মায়ের রাখা লুকোনো মিষ্টি চুরি করে খাওয়ার ফলে চোর সবাইকেই চোর প্রতিপন্ন করেছিল এবং শেষপর্যন্ত রাজদণ্ড থেকে বেঁচেছিল। কিন্তু আসল কথা হল, রাজপুরুষের চরিত্র, রাজার ওপরে যাঁরা জীবিকানির্বাহ করেন। এখন রাজা নেই, সরকার আছে। সরকার মানে শাসনযন্ত্র, ইংরেজিতে যাকে বলে “অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ মেশিনারি”। তা সেই শাসনযন্ত্রের যন্ত্রী পুরুষেরা যদি এমন জায়গায় বহাল থাকেন, যেখানে আলগা টাকাপয়সা আলগোছে জনগণের পকেট থেকে রাজপুরুষের পকেটে আসে, তবে সে শাসনযন্ত্রের নাম সরকারই হোক, কী রাজাই হোক, দুর্নাম হয় সরকারি কর্মচারীর। আসলে ‘ট্র্যাডিশন”-টা বহুদিনের। মিথিলার বিদ্যাপতি তো মোটেই সাত/আটশো বছর আগে কবুল করেছেন যে, রাজপুরুষেরা বুঝি চোর না হয়ে পারে না, কিন্তু আমরা জানি যে, প্রাচীনকালে, অতি প্রাচীন কালেও রাজপুরুষদের স্বভাবচরিত্তির ভালো ছিল না।

    আসলে রাজ্য শাসনতন্ত্রে অভিজ্ঞ লোক মাত্রেই জানেন যে, রাজা কিংবা সরকারের কতকগুলি সাধারণ বিপদ আছে। প্রথমত অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, মড়ক, আগুন লাগা, দুর্ভিক্ষ–এগুলি যখন রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, সেই ক্ষতিগুলিকে বলে দৈব বিপদ। কিন্তু রাজ্যে বা সরকারের শাসনে আরও এক ধরনের ক্ষতি হয় এবং সে ক্ষতি করে মানুষ। তাই এর নাম মানুষ বিপদ। নারদমুনি যুধিষ্ঠিরকে এই মানুষ বিপদ থেকে সাবধান হতে বলেছেন। কোন্ কোন্ মানুষ এই বিপদ তৈরি করতে পারে? প্রথম হলেন তারা, যাঁরা বিভিন্ন রাজকার্যে নিযুক্ত আছেন, দ্বিতীয় হল সোজাসুজি চোর, তৃতীয় রাজার শত্রুরা। চতুর্থ রাজার কাছের লোক এবং পঞ্চম রাজা নিজে–আযুক্তকেভ্য শ্চৌরেভ্যঃ পরেভ্যো রাজবল্লভা। লক্ষণীয়, এখানে নিযুক্ত রাজকর্মচারীর পাশেই সিঁদেল চোরের স্থান হওয়ায় রাজকর্মচারীদের কী চোখে দেখা হত অথবা কেমন সন্দেহ করা হত সেটা বেশ বোঝা যায়। অবশ্য রাজকর্মচারী বলতে তখনকার দিনে মন্ত্রী থেকে আরম্ভ করে একেবারে রান্নাঘরের পাঁচকটি পর্যন্ত ধরা হত, ঠিক এখন যেমন গণতন্ত্রে সেক্রেটারি থেকে আরম্ভ করে পিয়ন পর্যন্ত।

    রাজা যদি নিজে কামপরতন্ত্র হন, স্বার্থান্বেষী হন, তাহলে রাজকোষে প্রজাদের জমা-করা অর্থের অপব্যবহার হতে পারে, ঠিক যেমন অপব্যবহার হতে পারে জনগণের করস্বরূপ দেওয়া অর্থের এখনকার মন্ত্রীদের হাতে। শাস্ত্রকার অবশ্য রাজাকে মোটামুটি ইন্দ্রিয়জয়ী, প্রজারঞ্জক পুরুষ হিসেবে ধরে নিয়েই অন্যান্য রাজকর্মচারীদের সম্বন্ধে প্রশ্ন তুলবেন। মন্ত্রীদের প্রসঙ্গে অনেকগুলি আদর্শ গুণের বর্ণনা করলেও বারবার তারা বলছেন–যে-মন্ত্রীই নিয়োগ করো, সে যেন অর্থের ব্যাপারে শুচি হয়। মনু মহারাজ এবং অর্থশাস্ত্রকার কৌটিল্য দুজনেই কিন্তু মনে করেন, অর্থ-সংক্রান্ত ব্যাপারে রাজকার্যের সর্বোচ্চ পদাধিকারী মন্ত্রীমশাইরা একেবারে শুদ্ধ হবেন, নইলে সমূহ বিপদ। বিশেষত, রাজকর্মের যেসব বিষয়ে টাকাপয়সার অসদ্ব্যবহার হওয়ার বিরাট সম্ভাবনা আছে, সেইসব জায়গায় এমন মন্ত্রীর বিধান দিয়েছেন শাস্ত্রকারেরা, যাঁরা অর্থের ব্যাপারে বারবার পরীক্ষিত হয়েছেন এবং যাঁরা স্বভাবতই শুদ্ধচরিত্র–পরীক্ষিতা শুচী। মনু একটা উদাহরণও দিয়েছেন, যেমন–শুচী আকরকর্মান্তে অর্থাৎ আকর বলতে সোনারুপোর উৎপত্তিস্থান এবং কর্মান্ত বলতে যেসব জায়গায় ধানচাষ, আখের চাষ ইত্যাদি হয়। অথবা নিদেনপক্ষে কারখানা। সোনার খনি কিংবা রুপোর খনিতে যে খানিকটা চুরিচামারি হবে সেটা না হয় সোনারুপোর দোষেই হল। কিন্তু প্রাচীন শাস্ত্রকারেরা জানতেন যে, ধান, পাট কিংবা অন্যান্য শস্যের ফলন কম দেখিয়ে রাজকর্মচারীরা যথেষ্ট চুরি করতে পারেন।

    ঠিক এইসব জায়গাতেই নারদের সাবধান-বাণীটি মনে পড়ে–বাপু হে! তোমার রাজ্যে যারা আয়ব্যয়ের হিসেব রাখে, সেই গণনাকারী রাজপুরুষেরা এবং হিসেব-লিখিয়েরা ঠিকঠিক সময়ে টাকাপয়সা গুণে-গেঁথে রাখে তো? আসলে এই পুরো ব্যাপারটাই প্রাচীনকালের রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের এক্তিয়ারে পড়ে। রাজ্যশাসনে অত্যন্ত অভিজ্ঞ লোক হিসেবে অর্থশাস্ত্রকার কৌটিল্য জানতেন যে, এই বিভাগে পুকুরচুরি হতে পারে। এই বিভাগের প্রত্যেকটি চ্যানেল সম্বন্ধে তার মনোভাব অত্যন্ত কড়া। চুরি বন্ধ করার জন্য প্রত্যেক বিভাগের কোন্ জায়গা থেকে কত আয় ধরা আছে, নগরে এবং গ্রামে আয়ব্যয়ের হিসেব কী, কে কে সেখানে কাজে লেগেছে, কী কী ভেজাল মেশানো হতে পারে, এমনকি দাঁড়িপাল্লা, বাটখারা, জমি-জরিপের দড়ি খেয়াখাটের নৌকোটির ওপর পর্যন্ত কৌটিল্যের নজর আছে। কৌটিল্য বলছেন–প্রত্যেক বিভাগের আয়, ব্যয়, রাজকোষে জমা দেওয়া অর্থ কিংবা যে টাকা পাওয়া যেতে পারে এবং আয়ব্যয়ের শেষে যে উদ্বৃত্ত অর্থসব যেন খাতায় লেখা থাকে। তাছাড়া, এসব বিভাগে যেসব লোক নিযুক্ত থাকবে তারা যেন ব্রাহ্মণ না হয়, কিংবা রাজার আত্মীয় না হয়। অর্থাৎ হিসেবে গরমিল হলে শাস্তির সময় কেউ যেন ব্রাহ্মণ বলে পার না পায়, অথবা আত্মীয় বলে রাজার মমতা না হয়।

    কৌটিল্যের সময়ে ফিনানসিয়াল ইয়ার শেষ হত আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায়। ওইদিন সমস্ত হিসাবের খাতা “সিল” করে আয়ব্যয়ের উত্ত টাকা নিয়ে এসে জমা দিতে হত মহাগাণনিকের কাছে। এই জমা দেওয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত অফিসারেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ পর্যন্ত করতে পারবেন না। বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের পেছনে চর লাগানো থাকত এবং যাঁরা হিসেব লিখতেন তারা যে শুধু প্রতিদিনের হিসেব রাখতেন তা নয়; প্রতিদিনের, প্রতি পাঁচদিনের, প্রত্যেক পক্ষকালের, প্রত্যেক চারমাসের এবং শেষে এক বৎসরের আলাদা-আলাদা হিসেব রাখতেন। ছোটো কর্মচারী-করণিক যদি এই হিসেব ঠিক ঠিক মতো না লেখে এবং যেভাবে লিখতে বলা হয়েছে, সেইভাবে যদি না লেখে কিংবা আয়ব্যয়ের হিসেব অন্যরকম করে দেখায়–অন্যথা বাপি বিকল্পয়তঃ –তবে তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। কৌটিল্য জানেন–করণিকের হাতে চুরিটা কীভাবে হয়। সেইজন্যে তিনি হিসেব লেখার ব্যাপারে ক্রমহীনতা পছন্দ করেন না। এক জিনিসের দুবার এনট্রি’ পছন্দ করেন না, এমনকি অন্যের বোধবিরুদ্ধভাবে হিসেব-লেখাও পছন্দ করেন না। কৌটিল্যের সময়ে উদ্বৃত্ত অর্থ যেটা রাজকোষে দেয়, সেটা খাতায় “এনট্রি” না করা মানেই ছিল চুরির দায়।

    “ট্যাক্স” এর ব্যাপারটার ওপর আমাদের অর্থশাস্ত্রকারদের নজর ছিল সাংঘাতিক। পণ্ডিতেরা এমন অফিসারের সন্ধান পেয়েছেন যে, একটি পুরো রাজবর্ষের (ফিনানসিয়াল ইয়ারের সুযোগ নিয়ে করের টাকা সুদে খাঁটিয়েছে–কোশদ্ৰব্যানাং বৃদ্ধিপ্রয়োগঃ। টাকা খাটাচ্ছে খাটাও, কিন্তু একবার যদি কৌটিল্য ধরতে পারেন, তাহলে মুনাফার দ্বিগুণ আদায় করে ছাড়বেন তিনি।

    আবার কর আদায়ের সময় হয়ে গেছে অথচ অফিসার করদাতার কাছ থেকে কর সংগ্রহ না করে ঘুষ খেয়েছেন, ট্যাক্সেবল নয় “সার্টিফিকেটও দিয়েছেন–এই অবস্থায় অপরাধী “অফিসার” রাজকোষের যা ক্ষতি করেছেন তার পাঁচগুণ দণ্ড বর্তাবে তার ওপর। আসলে বিভাগীয় কর্মাধ্যক্ষ, পুলিশ, করণিক–কেউই কিন্তু সন্দেহমুক্ত নয়।

    নারদমুনি যুধিষ্ঠিরকে পুলিশের ব্যাপারেও খুব সাবধান থাকতে বলেছিলেন। বলেছিলেনধরো, তোমার রাজ্যে কাউকে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হলে ধরা হল। শুধু তাই নয়, অপরাধী যদি চোর হয়, তাকে হয়তো উপস্থিত বামাল-সমেত ধরা হল অর্থাৎ তাকে ধরার সাক্ষী-প্রমাণ সব উপস্থিত। এই অবস্থায়, নারদমুনি রীতিমতো পুলিশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন–এই অবস্থায় তোমার রাজপুরুষদের হাত থেকে সে চোর ঘুষ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে না তো কচিন্ন মুচ্যতে স্তেনো দ্রব্যলোভান্ নরষভ। মহাভারতের যুগের পুলিশেরা অনেক সময় ওপরওয়ালাদের চাপ সহ্য করতে না পেরে, যে চুরি করেনি তার ওপরে মিথ্যে “কে” দিয়ে কর্মকুশলতা প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন। নারদ মুনির ধারণা, নিরাপরাধ লোক যদি চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়, তাহলে আপন সামাজিক মানমর্যাদা এবং উটকো ঝুটঝামেলা এড়ানোর জন্য আরও বেশি ঘুষ দেবে অথবা যে সত্যি অপরাধী, সে যদি অন্য লোককে কেসে জড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে নিজে বাঁচল বলে সে পুলিশকে আরও ঘুষ দেবে এবং এই বেশি ঘুষের আশায়–অধিকধনলোভাৎ পুলিশও ভালো লোককে “কে” খাওয়াতে কিংবা তাকে মেরে ফেলতেও কসুর করবে না। পুলিশের তরফ থেকে এই ধরনের উদ্যোগ নারদমুনি কিন্তু সাংঘাতিক বলে মনে করেন। যুধিষ্ঠিরকে তাই তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন–তোমার দেশে ঘুষের লোভে মূর্খ রাজপুরুষেরা ভালো লোককে মেরেটেরে ফেলে না তো–অদৃষ্টশাস্ত্ৰকুশলৈ ন লোভাদ বধ্যতে শুচিঃ। পুলিশের অন্যায় আচরণ ছাড়া কাস্টমস-ডিউটির জায়গাটাও যে রাজকর্মচারীদের চক্ষুদানের জায়গা, মহাভারতের কবি সেটাও নারদমুনির মুখে খানিকটা ইঙ্গিত করেছেন। যুধিষ্ঠিরকে তিনি বলেছেন–তোমার রাজ্যে দূর দূর থেকে যেসব বণিক আসে পণ্য বিক্রি করে লাভ করার আশায়, সেইসব বণিকের বিক্রেয় পণ্যের ওপর তোমার রাজপুরুষেরা নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায় করে তো? তোমার রাজ্যে বিদেশি ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবহার পায় তোতা? তাদের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে কোনো ছলনা সহ্য করতে হয় না তো–উপিনয়ন্তি পণ্যানি উপধাভিরবঞ্চিতাঃ?

    কৌটিল্য লিখেছেন–রাজকর্মচারীরা অন্তত চল্লিশ রকমভাবে রাজার। ধন আত্মসাৎ করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কায়দাগুলি হল–যে টাকা আগে আদায় হয়েছে, কিন্তু পরে খাতায় “এনট্রি” করা হচ্ছে। এই মাঝখানের সময়টা রাজকর্মচারীর ভোগে লাগে। ঘুষ খেয়ে করকিতে সাহায্য করা। যারা করমুক্ত, তাদের কাছ থেকে কর আদায় করা। এই টাকাটা পুরোই লাভ। কারণ, রাজা জানেন–যে করমুক্ত, তাকে হিসেবের মধ্যেই আনা হবে না। বেশি কর আদায় করে কম লিখে রাখা। যেখানে ধরুন, চাল, গম পাওয়ার কথা, সেখানে রাজকর্মী যদি খাতায় লেখে যে, “জোয়ার” পাওয়া গেছে, তাহলেও রাজপুরুষ ভালোই সংসার চালাতে পারে। আবার ধরুন রাজকোষ থেকে একজনকে পঞ্চাশ টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু খাতায় লিখে রাখা হল একশ টাকা। কখনও বা। রাজবাড়ির রানিমা, রাজপুতুরদের জন্য জামাকাপড় কেনা হয়েছে এবং তার মূল্যও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাজবাড়ির জাবদা খাতায় লেখা হল–”দাম দেওয়া হয়নি; রাজার সরকার পরে দামটি সরিয়ে নিলেন নিজে। রাজার প্রধান স্থপতি এক জায়গায় মন্দির কিংবা বাড়ি বানানোর জন্য লোক লাগিয়েছেন। সেখানে কর্মকরের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত নামগুলির জন্য দেয় টাকাটি নিজে আত্মসাৎ করলেন। দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারার (কূটমান এবং কূটতুলা) কারসারজিতে যারা ওজনে মারছে, ঘুষ খেয়ে সেগুলি না ধরা। টাকশালের অধিপতি যিনি, তিনি স্বর্ণমুদ্রায় তামা মিশিয়ে যদি নিয়মিত সোনা মেরে গৃহিণীর সাতনরি হার গড়িয়ে দেন, তাহলেই বা ক্ষতি কী?

    আসলে এই সব কিছুই চুরি। মহাভারতে, পুরাণে, সাহিত্যে এরকম, চুরির হদিশ আছে হাজার রকমের। তার কয়েকটা মাত্র উল্লেখ করেই আমরা আমাদের পুরানো কথায় ফিরে এসেছি। বিদ্যাপতির বহু আগে কৌটিল্য লিখে গেছেন–রাজসরকারের চাকুরেরা বুবি চোর না হয়ে পারে না। তিনি বলেছেন–যেমন মুখের মধ্যে জিবের তলায় যদি মধু রাখা যায়, তাহলে সেই মধুর স্বাদ একটুও নেব না বলে প্রতিজ্ঞা করলেও যেমন সে স্বাদ না নিয়ে পারা যায় না, তেমনি রাজার অর্থ-সংক্রান্ত ব্যাপারে নিযুক্ত রাজপুরুষেরাও অল্প হলেও রাজার টাকা কোনো-না-কোনো ভাবে না চেখে থাকতে পারেন না–অর্থস্তথা হ্যর্থচরেণরাজ্ঞঃ, স্বল্পো’প্যনাস্বাদয়িতুং ন শক্যঃ। আমরা বলতে পারি কুটিলমতি কৌটিল্য! তোমার বড়ো সন্দেহবাই। রাজপুরুষেরা যে চুরি করেছেন, তা তুমি জানলে কী করে। কৌটিল্য উত্তর দেবেন–জলের মধ্যে চলাচল করার সময় মাছ যেমনি ঢুকুটুকু করে জল খেলেও লোকে ধরতে পারবে না, তেমনি রাজার টাকা যেসব জায়গায় ছড়ানো রয়েছে, সেখানে রাজপুরুষেরা টাকা মারলেও সেটা বেশিরভাগ সময় ধরা যায় না–জ্ঞাতুং ন শক্যাঃ সলিলং পিবন্তঃ। কৌটিল্যের ধারণা, আকাশে উড়ে-যাওয়া পাখির গতিও জানা যেতে পারে, কিন্তু রাজকর্মচারীর চুরি জানা বড়ো কঠিন। তাই তিনি বলেন যদি দ্যাখো, হঠাৎ কোনো রাজকর্মচারী হঠাৎ ফুলেফেঁপে উঠেছে–উপচিতা–তাহলে সব বুঝেশুনে তার টাকাপয়সা নিয়ে নেবেন রাজা। সত্যি বলতে কী, শ্রমিক-আন্দোলনের সঙ্গে কৌটিল্যের যোগ ছিল কিনা কে জানে! কেননা, এই কর্মচারীদের ছাঁটাই করেননি, শুধু উঁচু “পোস্ট” থেকে নীচে নামিয়ে দিয়েছেন মাত্র বিপর্যস্যেচ্চ কর্মসু। তবে এই ছাঁটাই না করে পোস্ট থেকে নামিয়ে দেওয়ার মধ্যেও কৌটিল্যের পঁাচ আছে। কৌটিল্যের ধারণা, পদস্থ লোককে নীচে নামিয়ে দিলে সে আর টাকা খাবে না এবং চাকরিটা থাকার ফলে যা খেয়েছিল, তা উগরে দেবে–যথা না ভক্ষয়ন্ত্যর্থং ভক্ষিতং নিবন্তি বা।

    আমরা আর বাড়াব না কেননা, রাজকার্যে চুরির জায়গা অনন্ত। আমি শুধু ট্র্যাডিশনের কথা বলেছি। তবে দুঃখ এই যে, ঘুষখোর এবং চোর রাজপুরুষদের ধরার জন্য কৌটিল্য পূর্ণবিস্তারিত এক গোয়েন্দা-ব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন। কিন্তু আমাদের পবিত্র গণসমাজতন্ত্রে সেই ব্যবস্থা চাকরিজীবীদের শুধু সম্মান নষ্ট করবে, শোধরাবে না। কাজেই আমরা বলব গণতন্ত্রে সরকারি টাকা কেউ মারে না, মারতে পারে না–আইন আছে না!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }