Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কল্পগল্প সমগ্র – এইচ জি ওয়েলস

    এইচ জি ওয়েলস এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রস্তরযুগের একটি গল্প

    প্রস্তরযুগের একটি গল্প ( A Story of the Stone Age )

    [‘A Story of the Stone Age’ প্রথম প্রকাশিত হয় ধারাবাহিক আকারে ‘The Idler’ পত্রিকায় ১৮৯৭ সালে। পরে ‘Doubleday & McClure Co.’ থেকে ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত ‘Tales of Space and Time’ সংকলনটিতে গল্পটি স্থান পায়। নভেম্বর ১৯২৭ সালে গল্পটি পুনঃপ্রকাশিত হয় ‘Amazing Stories’ পত্রিকায়।]

    ১। আঘ-লোমি আর উয়ায়া

    এ গল্প ইতিহাস শুরু হওয়ার আগের গল্প। মানুষের স্মৃতি যদূর পৌঁছায়, তারও ওপারের গল্প। তখন মানুষ হেঁটেই চলে যেতে পারত আজকের ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে। তখন ঘোলাটে জলের চওড়া নদী টেমস আর তার জনক নদী রাইনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল জলাভূমির মধ্যে দিয়ে। মাঝখানে ছিল বিরাট সমতলভূমি–এখন যা উত্তর সাগর নামক জলরাশির তলায় তলিয়ে গেছে। ডাউন্সের সানুদেশ বরাবর উপত্যকার অস্তিত্ব ছিল না সুদূর সেই যুগে। সারের দক্ষিণে ছিল একটা পর্বতমালা। মাঝামাঝি ঢালু জায়গায় বিরাজ করত নিবিড় ফার বৃক্ষ। বছরের বেশির ভাগ সময় তুষার-ঢাকা থাকত শীর্ষদেশ। পর্বতমালার নিচের থাকে তৃণভূমিতে চরে বেড়াত বুনো ঘোড়া, জঙ্গলে টহল দিত হায়না আর বৃহদাকার ভয়ংকর ধূসর রঙের গ্রিজলি ভালুক। ডালে ডালে বিচরণ করত ধূসরবর্ণ বনমানুষ। তারও নিচে অরণ্য, জল আর ঘাসজমির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ছোট্ট একটা নাটক। এ কাহিনি সেই নাটকেরই কাহিনি। পঞ্চাশ হাজার বছর আগেকার কাহিনি –ভূতত্ত্ববিদদের হিসাব অনুযায়ী।

    এ যুগের মতো সে যুগেও বসন্ত ঋতুতে পলক জাগত প্রাণে, রক্ত উত্তাল হত ধমনিতে। বিকেলের আকাশ টলটলে নীল। পাল তুলে ভেসে যাচ্ছে সাদা মেঘের স্তূপ। দক্ষিণ-পশ্চিম সমীরণে গা জুড়িয়ে যাচ্ছে। উড়ে উড়ে খেলা করছে সোয়ালো পাখি। নদীর জল ঘুলিয়ে তুলছে কালো দৈত্যের মতো জলহস্তীর দল।

    একটু দূরেই নদীর জলে দাপাদাপি করছে একদল ছেলেমেয়ে। এদের বসতি নদী যেখানে বাঁক নিয়েছে–সেইখানে। ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এখান থেকেও। কানে লতি নেই– ওপরের অংশ ছুঁচোলো-আজও এই ধরনের কান দেখা যায় কোনও কোনও জায়গায়। নাক থ্যাবড়া। পরনে কিসসু নেই। লম্বা বাহু। যাযাবরে ভবঘুরেদের ছেলেমেয়ে। মাথার চুল জট পাকানো–কপাল ঢেকে গেছে চুলের জটায়–ফ্যাশনটা দেখা যায় আজও।

    জল ঘুনিয়ে খেলা করছে এরাও। জলহস্তীদের এগিয়ে আসতে দেখে চেঁচিয়ে উঠল সোল্লাসে–বোলু! বোলু! বোলু! বায়ায়া, বোলু!

    ফুর্তিবাজ ঠিকই কিন্তু মনের ভাব প্রকাশ করার ভাষাটা অপর্যাপ্ত।

    বাচ্চাদের এই খেলার জায়গায় ছড়িয়ে আছে বিস্তর চকমকি পাথর। বাবা-মায়েরা দুহাত ভরে তুলে নিয়ে গিয়ে জড়ো করেছে নদীর বাঁকে। সকালবেলা শিকারি কুকুরের কামড়ে জখম হওয়া একটা হরিণের মাংস খেয়ে ভরপেট ঘুমাচ্ছে পুরুষরা হাঁটুতে মাথা রেখে। মেয়েরা এখনও হাড় চিবুচ্ছে আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলছে চারপাশে। বুড়িরা কাঠ খুঁজে দিচ্ছে ভায়া আগুন-এর মধ্যে যাতে–রাত ঘনিয়ে এলেই লম্বা হয়ে বনের পশুকে ঠেকিয়ে রাখে–নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়।

    এদের কারও গায়ে পোশাক বলে কিছু নেই। কয়েকজনের কোমর ঘিরে ঝুলছে পশুর চামড়া। আর ঝুলছে একটা করে থলি। থলি ভরতি চকমকি পাথর–সেই যুগের মূল হাতিয়ার। কোনওমতে মেজে-ঘষে ধারালো করা পাথর। এদের সর্দারের নাম ধড়িবাজ উয়ায়া। গালে কালো দাড়ি। বুকে কালো লোম। বাহুবল এবং বুদ্ধিবলে সে এদের দলপতি। চকমকি পাথর দিয়ে ছুঁচোলো করছে একটা হাড়। সবাই ঘুমাচ্ছে–জেগে বসে আছে কেবল উয়ায়া। তার বউয়ের গলা ঘিরে দুলছে ঘেঁদা-করা জীবাশ্মর মালা। বসে বসে যারা ঘুমাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের পাশে রয়েছে শান দিয়ে ছুঁচোলো করা হরিণের শিং আর চকমকির ফলা লাগানো কাঠের ডান্ডা।

    জঙ্গলের অলডার গাছের আড়ালে লুকিয়ে একটি মেয়ে চেয়ে রয়েছে এইদিকে। এর নাম ইউদেনা। নেহাতই বালিকা। চকচকে চোখ। হাসিটি সুন্দর। আজ তাকে উয়ায়া বড় রকমের মাংসের টুকরো খেতে দিতেই নেকলেস গলায় বউটা গজরে উঠছিল গলার মধ্যে। ঈর্ষা। সঙ্গে সঙ্গে চাপা গজরানি ছেড়েছিল একটি তরুণ। নাম তার আঘ-লোমি। ইউদেনা একদৃষ্টে আঘ-লোমির দিকে চেয়ে ছিল কিছুক্ষণ। চোখ নামিয়ে নিয়েছিল আঘ-লোমি। কিন্তু ইউদোর দিকে চোখ তুলেছিল উয়ায়া। চোখের চাহনিটা ভালো লাগেনি ইউদেনার। ভয়ে পালিয়ে এসেছে জঙ্গলে। উয়ায়া হাড় ছুঁচোলো করছে কেন, বোঝা যাচ্ছে না। আঘ লোমিকেও ধারেকাছে দেখা যাচ্ছে না।

    হঠাৎ কোত্থেকে একটা কাঠবেড়ালি এসে ধমকাধমকি শুরু করে দিলে ইউদেনাকে। ভাবখানা যেন, সাহস তো তোমার কম নয়? বেটাছেলেদের কাছ থেকে এত দূরে এসেছ জঙ্গলে? যাও, ভাগ হিয়াসে!

    কাঠের টুকরো ছুঁড়ে মেরেছিল ইউদেন। পাশ কাটিয়ে দূরে সরে গিয়েও তড়পানি কমেনি কাঠবেড়ালির। কাঠ ছুঁড়তে ছুঁড়তে এবার তাড়া করল ইউদো। খেলা মন্দ নয়। কিন্তু…

    চোখ তুলে তাকিয়েছে উয়ায়া। অলডার গাছ খুব নিচু গাছ। গাছের মাথায় হাত দেখা গেছে ইউদোর। উঠে দাঁড়াল উয়ায়া। চকমকি হাতে এগল সেইদিকে।

    পিঠটান দিল ইউদেনা। উয়ায়ার রকমসকম তার ভালো লাগেনি। ঢাল বেয়ে উঠে গেল গভীর জঙ্গলে। দূর হতে দূরে। এত দূরে কখনও না এলেও খেলার ছলে এর কাছাকাছি আগে সে এসেছে। তাই প্রাণে ভয় নেই।

    সন্ধ্যা নামছে। হঠাৎ শূকরের ঘোঁতঘোঁতানি শোনা গেল অদূরে।

    সরে দাঁড়াল ইউদেনা।

    তারপরেই শুনল ধাবমান একটা শব্দ।

    গাছের ডাল ধরে বানরের মতোই দোল খেয়ে ওপরে উঠে বসল ইউদেনা।

    তলা দিয়ে বেরিয়ে গেল দাঁতালো বরাহটা, ধাবমান শব্দটা কিন্তু এগিয়েই আসছে। একটা হরিণও ছুটে গেল তলা দিয়ে। ভয় পেয়েছে। বরাহ আর হরিণ–দুটোই ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। কীসের ভয়ে?

    বিষম উৎকণ্ঠায় কাঠ হয়ে শব্দের দিকে চেয়ে রইল ইউদো।

    আচমকা জঙ্গলের মধ্যে থেকে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে এল আঘ-লোমি। মুখে রক্তের দাগ। ফের উধাও হল জঙ্গলের মধ্যে।

    ঝোপঝাড় ভেঙে এগিয়ে-আসা শব্দটা তো কই থামল না?

    আবার দেখা গেল একটা ছুটন্ত মূর্তিকে। উয়ায়া। প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছে। মুখ সাদা। লম্বা লম্বা লাফ মেরে মিলিয়ে গেল জঙ্গলের মধ্যে।

    তারপরেই বেরিয়ে এল জঙ্গলের রাজা–গ্রিজলি ভালুক। রাজামশাইকে কোনওদিন দেখবার সৌভাগ্য হয়নি ইউদেনার। নাম শুনেছে ছেলেবেলা থেকেই। দুষ্টুমি করলেই মায়েরা যার নাম করে ভয় দেখায়, এই সেই অরণ্য অধিপতি মহাভয়ংকর গ্রিজলি ভালুক। বিরাটকায় লোমশ সচল টিলা বললেই চলে। অরণ্যের আতঙ্ক নামটা অকারণে দেওয়া হয়নি।

    পলায়মান মানুষ দুটোকে উদ্দেশ্য করেই তর্জন-গর্জন করে চলেছে জঙ্গলের বিভীষিকা। এত বড় আস্পদ্দা–তারই এলাকায় রক্তারক্তি, মারামারি? আরে, আমি হলাম গিয়ে জঙ্গলের রাজা, গুহামানবদেরও রাজা… একটু সমঝে চল!

    ঘোঁতঘোঁত গরগর করতে করতে হেলেদুলে জঙ্গলে মিলিয়ে গেল অরণ্য আতঙ্ক।

    গাছেই বসে রইল ইউদেনা। ভয়ে বুক ঢিপঢিপ করছে। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এল জঙ্গলের রাজা, উধাও হল ওপরের দিকে। কিন্তু উয়ায়া অথবা আঘ-লোমি তো কই এল না। রাত হল। নদীর ধারে জল খেতে নামল ম্যামথ হাতির দল। দূর থেকেই বৃংহতি ডাক শুনেই চিনতে পারল ইউদেনা। বাছুরের মতো ডাকতে ডাকতে গাছের তলা দিয়ে চলে গেল বৃহদাকার একটা প্রাণী। খুব সম্ভব ইয়ায়া গন্ডার। তারা দেখা দিল আকাশে। সারারাত ভয়ের চোটে ঘুমাতে পারল না বেচারি। সঞ্চরমাণ ছায়া দেখে আঁতকে উঠল বারবার।

    ভোর হল। সূর্য উঠল। ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল ইউদেনা। নেমে এল গাছ থেকে। কিন্তু যাবে কোনদিকে? একরাত বনে কাটিয়েই পথ গুলিয়ে গেছে। কান খাড়া করে রইল কিছুক্ষণ। অনেক দূর থেকে ভেসে এল একটা ক্ষীণ ঠং ঠং শদ। চকমকি শান দেওয়ার শব্দ।

    শব্দ লক্ষ্য করে এগল ইউনো। অচিরেই দেখল একটা চেনা গাছ, ওপরে মৌমাছি উড়ছে ভনভন করে। তারপরেই কানে ভেসে এল নদীর জলে জলহস্তী আর বাচ্চাদের দাপাদাপির শব্দ। ওই তো দেখা যাচ্ছে নদী। ওই তো সেই অলডারকুঞ্জ, যার মধ্যে লুকিয়েছিল ইউনো। দেখেই উয়ায়া-আতঙ্ক আবার পেয়ে বসল বেচারাকে। লুকিয়ে রইল জঙ্গলে।

    খিদে পেলেও কাতর হয়নি। আধুনিকাদের মতো তিন ঘণ্টা অন্তর খাওয়ার ট্রেনিং তো পায়নি। দরকার হলে তিন দিন না খেয়েও থাকতে পারে, কাহিল হয় না। সারারাত বনে কাটিয়ে গা-হাত-পা একটু আড়ষ্ট হয়েছে বটে, তবে সহবত দেখাতে গিয়ে আধুনিকাদের আড়ষ্ট হওয়ার মতো নয়। ভয়? পাবে বইকী। ডাগর চেহারা হলেও মনে মনে ইউদেনা তো বালিকা। তবে আধুনিকাদের মতো ছায়া দেখে চিল-চেঁচানোর মতো ভয়কাতুরে নয়। আমাদের ইউদেনা।

    বাউ ছাড়া কোনও পুরুষকে দেখা যাচ্ছে না। চকমকি ঠুকে শান দেওয়াই ওর কাজ। বাউকে দেখে নিশ্চিন্ত হল ইউদেনা। অন্য পুরুষরা নিশ্চয় শিকারে বেরিয়েছে। কয়েকজন মেয়েও গেছে নদীর ধারে। হেঁট হয়ে শামুক-গেঁড়ি কুড়াচ্ছে। দেখেই খিদে পেয়ে গেল ইউদেনার। দৌড়ে গেল ফার্ন গাছের আশপাশ দিয়ে। মতলব, মেয়েদের সঙ্গে ভিড়ে যাওয়া। আচমকা শুনল, মৃদুস্বরে কে যেন তার নাম ধরে ডাকছে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে। থমকে দাঁড়াতেই পেছন থেকে খড়মড় শব্দে ঝোপ ঠেলে বেরিয়ে এল আঘ-লোমি। দুচোখে যেন আগুন জলছে। মুখে রক্ত। শুকিয়ে বাদামি হয়ে গেছে। হাতে উয়ায়ার সেই সাদা পাথর। সাদা আগুন-পাথর। এ পাথর উয়ায়া ছাড়া কেউ ছোঁয় না, কিন্তু বুকের পাটা তো কম নয় আঘ-লোমির! উয়ায়ার সাদা পাথর ওর হাতে এল কী করে?

    লাফিয়ে পাশে এসে দাঁড়াল আঘ-লোমি। খপ করে খামচে ধরল ইউদোর বাহু, ঠেলে নিয়ে গেল ঝোপের মধ্যে।

    যেতে যেতেই ইউদেনা শুনল, শোরগোল উঠেছে পেছনে। ঘাড় ফিরিয়ে দেখল, জল ঠেলে এগিয়ে আসছে দুটি মেয়ে। উঠে দাঁড়িয়েছে অন্য মেয়েরা। আগুনে কাঠ গুঁজে আগুন জ্বালিয়ে রাখা যার কাজ, দাড়িওয়ালা সেই বুড়িটা দুহাত নেড়ে চেঁচাচ্ছে। চকমকি ঠোকা বন্ধ রেখে উঠে দাঁড়িয়েছে বাউ। চেঁচাতে চেঁচাতে ছুটছে বাচ্চার দল।

    ব্যাপারটা কী? স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ইউদেনা।

    তাড়া লাগাল আঘ-লোমি। বুঝিয়ে দিল কী ব্যাপার। উয়ায়া মৃত্যু পরোয়ানা ছেড়েছে দুজনের নামে। রক্ষে নেই ইউদেনা আর আঘ-লোমির।

    আর বোঝানোর দরকার হল না। শুধু মেয়েরা নয়, আস্তানার দিক থেকেও দুজন বেটাছেলে আসছে এদিকে। জঙ্গলের মধ্যে থেকেও বেরিয়ে আসতে দেখা গেল একজনকে।

    ইউদেনার হাত ধরে টেনে দৌড়াল আঘ-লোমি। দেখতে দেখতে আবার পৌঁছে গেল চেস্টনাট জঙ্গলে। এখন আর ভয় নেই ইউদেনার-আঘ-লোমি রয়েছে তো সঙ্গে। দৌড়ে বেশ মজাও পাচ্ছে। হাসছে খিলখিল করে। আঘ-লোমি দৌড়ায় ভালোই–তবে ইউদোর। সঙ্গে পাল্লা দিতে সে পারছে না।

    খোলা জমি পেরিয়ে ফের চেস্টনাট জঙ্গলে গতিবেগ কমিয়ে আনল দুজনে। আর ভয় নেই। এত দূরে কেউ আসতে সাহস পাবে না।

    ভুল ভেঙে গেল অচিরেই। হাত তুলে দেখাল ইউদেনা। গাছের গুঁড়ির ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে অনেকগুলো মানুষের ছুটন্ত পা। উয়ায়ার ক্রুদ্ধ হুংকার শোনা গেল তারপরেই।

    এবার ভয় পেল দুই পলাতক। দুদিক থেকে তেড়ে আসছে দুটো দল। একটা দলে রয়েছে উয়ায়া। আরেকটা দলে বাউ আর মেয়েরা। বাচ্চাগুলোসুদ্ধ ভিড়ে গেছে দল দুটোয়।

    এবার ইউদেনা দৌড়াল আগে–আঘ-লোমি পেছনে। ঝোপঝাড় টপকে, খানাখন্দ পেরিয়ে, পশুচলা পথ মাড়িয়ে, কাদা পেরিয়ে, জলা পেরিয়ে দে দৌড়, দে দৌড়!

    পেছন ফিরে দেখল ইউদেনা, পেছিয়ে পড়েছে আঘ-লোমি। খুবই স্বাভাবিক, উয়ায়ার আগুন-পাথর বয়ে আনতে হচ্ছে যে তাকে।

    স্বয়ং উয়ায়াকে দেখা যাচ্ছে তার পেছনে। দলের আর সব পেছিয়ে পড়লেও শক্তিমান উয়ায় এগিয়ে আছে সবার আগে মাথার ওপর তুলে ধরেছে হরিণের ডালপালাওয়ালা শিং… যার প্রতিটি শাখার ডগা শানিয়ে ছুঁচোলো করা।

    দুজনের মধ্যে ব্যবধান মোটে পঞ্চাশ গজ!

    তাই পাশ ফিরে দৌড়াতে দৌড়াতে পেছনে নজর রাখল ইউনো। দেখল, ব্যবধান আরও কমে আসতেই হরিণের শিং ছুঁড়তে উদ্যত হয়েছে উয়ায়া।

    সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল ইউদেনা, আঘ-লোমি, সাবধান!

    শুনেই টুপ করে বসে পড়েছিল আঘ-লোমি। শনশন করে হরিণের শিং বেরিয়ে গিয়েছিল মাথার ওপর দিয়ে–কিন্তু একটা শাখার খোঁচা লেগে কেটে গেল মাথার চামড়া।

    সঙ্গে সঙ্গে ক্রুদ্ধ হংকার ছেড়ে পেছন ফিরেই দুহাতের আগুন-পাথর ছুঁড়ে মারল আঘ লোমি উয়ায়ার দিকে। পাথর গিয়ে লাগল উয়ায়ার পাঁজরে। দম আটকে এল তৎক্ষণাৎ। হুমড়ি খেয়ে পড়ল মাটিতে।

    হরিণের শিংখানা কুড়িয়ে নিয়েই আঘ-লোমি দৌড়াল ইউদেনার দিকে। এবার আর ধরে কে! দৌড়! দৌড়! দৌড়!

    এদিকে মাটিতে আছড়ে পড়েও টলতে টলতে উঠে দাঁড়িয়ে ফের দৌড়াতে গিয়ে উয়ায়া দেখলে, দম ফুরিয়ে যাচ্ছে–হাঁপ ধরছে। বাউ ছুটে এসেছে পেছন থেকে। উয়ায়ার পাশ দিয়ে দুদ্দাড় করে সে দৌড়ে গেল দুই পলাতকের দিকে।

    পলাতকরা ততক্ষণে নদীর ধারে পৌঁছে গেছে। আঘ-লোমি নদী পেরিয়ে ওপরে উঠে দৌড়াচ্ছে। নদীর মাঝামাঝি যখন পৌঁছেছে ইউদেনা, এমন সময়ে….

    নদীর এপারে এসে পৌঁছাল বাউ। বিকট উল্লাসে ফেটে পড়ল নাগালের মধ্যে ইউনোকে পেয়ে। আদিম মানুষদের কাছে নরমাংস বড় প্রিয়। আজকের ভূরিভোজ হবে যে ওই দুজনের অন্তত একজনকে দিয়ে।

    অতএব দুহাতে ধরা চকমকি পাথর দুটোর একটা উঁচিয়ে ধরল মাথার ওপর। ঝিনুকের গড়নে ক্ষুরের মতো ধারালো পাথর।

    পাথর নিক্ষিপ্ত হল ইউদেনার দিকে। বাউয়ের লক্ষ্য কখনও ফসকায় না। ইউদোর হাঁটু কেটে রক্তারক্তি করে দিয়ে ঠিকরে গেল পাথর। যন্ত্রণায় খোঁড়াতে খোঁড়াতে পাড় বেয়ে উঠতে যাচ্ছে ইউদেনা, এমন সময়ে ঠিকরে এল দ্বিতীয় ধারালো পাথরটা।

    কিন্তু বেরিয়ে গেল মাথার পাশ দিয়ে। কেননা, ইউদোর গোঙানি শুনে ফিরে এসেছিল। আঘ-লোমি। এক ঝটকায় ইউদোকে টেনে এনেছিল পাথরের গতিপথ থেকে।

    বাউ লাফিয়ে পড়েছে জলে। দেখল আঘ-লোমি। ইউদোকে টেনে টেনে ওপরে নিয়ে গিয়েই ছুটল লম্বা লম্বা লাফ মেরে। কিন্তু ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে অত জোরে দৌড়ানোর ক্ষমতা তো আর নেই ইউদোর। পিছিয়ে পড়ল বেচারি।

    এদিকে বাউ উঠে এল বলে পাড়ে।

    দেখেই আবার ফিরে এল আঘ-লোমি। হিংস্র বিকট চিৎকার ছেড়ে হরিণের শিং ঘোরাতে ঘোরাতে ধেয়ে গেল বাউয়ের দিকে। এক ঘায়েই ঠিকরে গেল বাউ। জল লাল হয়ে গেল তার রক্তে।

    হাঁপাতে হাঁপাতে ওপারে তখন এসে পৌঁছেছে উয়ায়া। দুজন ডাকাবুকো ছোকরা নদীর মাঝবরাবর গিয়েই আঘ-লোমির খুনে চেহারা দেখে পেছন ফিরেই চম্পট দিচ্ছে উয়ায়ার দিকে।

    ওই পর্যন্ত দেখেই আর দাঁড়ায়নি আঘ-লোমি। পালিয়েছিল ইউজেনাকে নিয়ে। শক্তের ভক্ত প্রত্যেকেই। তরুণ আঘ-লোমি দেখিয়ে দিয়েছে শক্তির নমুনা। হঠাৎ যেন পূর্ণ মানুষ হয়ে গিয়েছে। উয়ায়া পর্যন্ত অবাক হয়েছে, ভয় পেয়েছে তার হুংকার শুনে, তার শিং ঘোরানো দেখে, এক ঘায়ে বাউ-নিধন দেখে।

    অতএব, কেউ আর তার পেছন নিল না। ছুটতে ছুটতে অনেক দূর এসে বার্চ গাছে উঠে রাত কাটাল দুজনে। ঘুম এল না চোখে। খিদেও পেয়েছে বিলক্ষণ। শাখাপ্রশাখা আর কচি পাতা চিবিয়ে নিয়ে পেটের জ্বালা কমানো গেল কোনওমতে। গভীর রাতে অনেক হিংস্র পশু টহল দিয়ে গেল গাছতলায়। হেলেদুলে চলে গেল একটা লোমশ গন্ডার।

    ভোর হতেই আরও দূরে সরে এল দুজনে। পৌঁছাল একটা নদীর পাড়ে। বিস্তর চকমকি পাথর পড়ে ছিল সেখানে। পাথর ঠুকে জ্বালিয়ে নিল দুজনে। পাথর ছুঁড়ে একটা খরগোশ মেরে আনল আঘ-লোমি৷ আগুনে পুড়িয়ে খেল মাংস। তারপর বসল চকমকি পাথরে শান দিতে।

    হঠাৎ হাতে উঠে এল একটা অদ্ভুত পাথর। মাঝখানে একটা ফুটো। এরকম পাথর কখনও দেখেনি আঘ-লোমি। উলটে-পালটে দেখে কাঠের ডান্ডাটা গলিয়ে দিল ভেতরে খেলার ছলে। ডান্ডার ডগায় এত জোরে এঁটে গেল পাথরটা, যে টেনে খুলে আনতেও পারল না। মাথার ওপর বাঁইবাঁই করে ঘুরিয়ে দেখলে, বেশ ভারীও বটে। অস্ত্র হিসেবে মন্দ নয়।

    কুঠার আবিষ্কার করল মানুষ এইভাবে।

    তারপর? দিনকয়েক পরে পুরানো আস্তানায় ফিরে গেল আঘ-লোমি–একা। দুদিন দুরাত আগুন জ্বালিয়ে একা বসে রইল। আঘ-লোমি ফিরে এসে উপহার দিলে একটা কণ্ঠহার।

    চমকে উঠেছিল ইউদেনা। এ যে উয়ায়ার কণ্ঠহার!

    কুঠার তুলে দেখিয়েছিল আঘ-লোমি। রক্তরঞ্জিত কুঠার। উয়ায়ার রক্ত। নতুন অস্ত্র কুঠারের এক ঘায়েই খতম হয়ে গিয়েছে ধড়িবাজ উয়ায়া। অঙ্গভঙ্গি করে বাঁইবাঁই করে মাথার ওপর কুঠার ঘুরিয়ে আঘ-লোমি দেখিয়ে দিলে, পরম শত্রুকে হনন করেছে সে কীভাবে।

    পঞ্চাশ হাজার বছর আগে এইভাবেই আমাদের পূর্বপুরুষ শিখল প্রস্তর কুঠারের মহিমা।

    .

    ২। গুহা ভালুক

    নতুন অস্ত্র দিয়ে জঙ্গলের রাজাকে জখম করল আঘ-লোমি এর কদিন পরেই।

    দুজনে ঠাঁই নিয়েছিল একটা সংকীর্ণ খাদের মধ্যে। জন্তুজানোয়ারের উপদ্রব এখানে নেই। রাত্রে চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালিয়ে দিব্যি ঘুমানো যায়।

    কিন্তু এহেন নিরাপদ জায়গাতেও একরাত্রে হানা দিল অরণ্যের আতঙ্ক আন্দু-মানে, গুহা-ভালুক।

    আন্দু কদিন ধরেই দেখছিল, দুটো দুপেয়ে জানোয়ার ঘুরঘুর করছে তার এলাকায়। দেখতে বাঁদরের মতো, আবার শুয়োরের মতোও বটে। শুয়োরের গায়েই অত লোম থাকে। গিন্নিকেও বলেছিল এই নতুন উৎপাতের কথা। মানুষ তখনও এ অঞ্চলে বেশি আসেনি। আন্দু তাই অবাক হয়েছিল প্রথম মানুষ দেখে।

    চুপিসারে একদিন হানা দিয়েছিল খাদের মধ্যে। গাছপালা আঁকড়ে ধরে একটু একটু করে খাড়া দেওয়াল বেয়ে নেমে এসেছিল নিচে। কিন্তু শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থাতেই কোপ খেল প্রস্তর-কুঠারের।

    মারাত্মক কোপ! জখম হয়ে রাগে গজরাতে গজরাতে, দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল রাজা আন্দু৷ সেই ফাঁকে চম্পট দিলে মানুষ-শুয়োর দুটো।

    মুখ চুন করে রক্তাক্ত দেহে গুহায় ফিরে এসেছিল আন্দু। গিন্নি তো অবাক রাজামশায়ের হাল দেখে।

    এরপরেই যা ঘটল, তা কহতব্য নয়।

    ভালুক-গুহায় পাথর খসে পড়ল ওপর থেকে। পড়ল এক্কেবারে আন্দুর মাথার ওপর। করোটি চুরমার হল সঙ্গে সঙ্গে। আন্দু আর নড়ল না।

    বিকট হল্লা শুনে কোনওরকমে ওপরে তাকিয়ে আন্দুর বউ দেখেছিল সেই বাঁদর-শুয়োর দুটোকে। নাচছে আর চেঁচাচ্ছে।

    প্রস্তর-কুঠার আর বুদ্ধির জোরে এইভাবেই জঙ্গলেও আধিপত্য বিস্তার শুরু করল আদিম মানব… আজ থেকে পঞ্চাশ হাজার বছর আগে।

    .

    ৩। প্রথম ঘোড়সওয়ার

    বুদ্ধিই শক্তি। মানুষ আজ বুদ্ধির জোরেই মুঠোয় এনেছে পৃথিবীটাকে। কিন্তু তা একদিনে ঘটেনি। জঙ্গলের পশুনিধনই শুধু নয়, পশুকে বশও করতে হয়েছে এই বুদ্ধির জোরে।

    ঘোড়া আজকে অতীব প্রিয় বাহন। কলের বাহনের অভাব নেই–ঘোড়ার কদর কিন্তু আজও যায়নি।

    আঘ-লোমিই প্রথম মানুষ, যে ঘোড়া দেখে মুগ্ধ হয়েছিল, ঘোড়ার কদর করতে শিখেছিল, ঘোড়ার পিঠে চেপেছিল।

    ওদের আস্তানার কিছু দূরেই খোলা ঘাসজমিতে চরতে আসত একপাল বুনো ঘোড়া। দূর থেকে অবাক হয়ে দেখত আঘ-লোমি। শিং নেই, খোঁচা দাঁত নেই কিন্তু কী আশ্চর্য ছোটার বেগ। লাথির জোর অবশ্য আছে–কিন্তু ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়ানোর কায়দাটা অপূর্ব।

    রোজ এইভাবে দেখতে দেখতে একটা মতলব মাথায় এল আঘ-লোমির।

    নিরস্ত্র অবস্থায় বসে রইল মাঠের মাঝখানে। ঘোড়ার পাল দূর থেকে দেখল, বাঁদরের মতো একটা জীব চুপচাপ বসে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে। কাজেই অযথা মাথা না ঘামিয়ে ব্যস্ত রইল ঘাস খাওয়া নিয়ে।

    প্রথম দিন গেল এইভাবে। দ্বিতীয় দিন আরও কাছে সরে বসল আঘ-লোমি।

    তৃতীয় দিন আরও কাছে। আস্তে আস্তে ওর সান্নিধ্য গা-সওয়া হয়ে গেল ঘোড়াদের।

    সবচেয়ে তেজিয়ান ঘোড়াটাকে আগে থেকেই দেখে রেখেছিল আঘ-লোমি। তক্কে তকে ছিল তার পিঠে চাপবার। তরুণ বয়স তো, অ্যাডভেঞ্চারের মোহ রক্তে।

    একদিন সুযোগটা এসে গেল হাতে।

    ঘোড়ার পাল যে পথ দিয়ে রোজ ফিরে যায় ধুলো উড়িয়ে, সেই পথে একটা গাছের ডালে বসে রইল আঘ-লোমি৷ তেজিয়ান ঘোড়াটা পায়ের তলায় আসতেই টুপ করে লাফিয়ে নেমে এল পিঠে৷

    আচমকা পিঠের ওপর কী খসে পড়ায় বিষম আতঙ্কে টেনে দৌড়েছিল ঘোড়াটা। খটখটাখট শব্দে প্রান্তির কাঁপিয়ে, চার পায়ে ধুলো উড়িয়ে ছুটেছিল দিশেহারা হয়ে। কেশর খামচে ধরে, দুপা দিয়ে ঘোড়ার দুপাশ আঁকড়ে ধরে কোনওমতে পিঠে বসে ছিল আঘ লোমি। মাঠ-বন-নদী পেরিয়ে ঘোড়া বেচারা ছুটেছিল ঊধ্বশ্বাসে। ফেনা গড়িয়ে পড়েছিল কষ বেয়ে। বেদম হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে শির-পা হয়ে খসিয়ে ফেলতে চেয়েছিল পিঠের উৎপাতকে, দুপা মুড়ে বসে পড়েও পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিল আপদটাকে। কিন্তু পারেনি–কিছুতেই পারেনি। নাছোড়বান্দা আঘ-লোমিকে কিছুতেই পিঠ থেকে খসিয়ে ফেলা যায়নি। আবার শুরু হয়েছিল খটখটাখট খটখটাখট শব্দে মাঠ-বন-প্রান্তর কাঁপিয়ে দৌড়।

    দৌড়াতে দৌড়াতে এসে পৌঁছেছিল একটা নদীর ধারে। ঝাঁকুনির চোটে আঘ-লোমির অবস্থাও তখন কাহিল। ঝুলছে একপাশে। কিন্তু কেশর ছাড়েনি মুঠো থেকে। এইখানেই আচমকা বাহন দাঁড়িয়ে যেতেই পিঠ থেকে ঠিকরে গিয়েছিল আঘ-লোমি। তৎক্ষণাৎ হ্রেষা রবে দিগ্‌বিদিক কাঁপিয়ে বনের মধ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল মানুষের হাতে পরাভূত প্রথম ঘোড়াটি।

    বিশ্বের প্রথম ঘোড়সওয়ারটি কিন্তু এল কোথায়? এ যে তারই পুরানো আস্তানা। নদীর ওপারে ওই তো মেয়েরা অবাক হয়ে চেয়ে আছে তার দিকে। চার পেয়ের পিঠ থেকে দুপেয়েকে অবতীর্ণ হতে দেখে হতভম্ব প্রত্যেকেই।

    এরপরেই নতুন অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেল আঘ-লোমির টগবগে তাজা জীবনে।

    .

    ৪। সিংহের নাম উয়ায়া

    জোর যার মুলুক তার–এই তো নীতি এখনকার দুনিয়ার?

    কিন্তু এ নীতি খুবই আদিম নীতি। এ গল্পের নায়ক আদিম মানুষ আঘ-লোমি গায়ের জোরে আর বুদ্ধির জোরে মুলুক দখল করেই তার প্রমাণ রেখে গিয়েছিল ইতিহাসেরও আগের ইতিহাসে।

    ঘোড়ার পিঠ থেকে ঠিকরে পড়েই চম্পট দিয়েছিল সে। নদীর ওপার থেকে মেয়েরা তাকে ডেকেছিল–তবুও যায়নি। শুধু দেখেছিল, দলে পুরুষ একজনও না। শিকারে গেছে নিশ্চয়।

    শিকারে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পশু শিকারে নয়, মানুষে শিকারের অভিযানে। এবং, আঘ-লোমি আর ইউদেনাই সেই মানুষ।

    তাই, নিজের ডেরায় ফিরে এসে ইউনোকে আর দেখতে পায়নি আঘ-লোমি।

    ব্যাপারটা আঁচ করতে দেরি হয়নি। তৎক্ষণাৎ কুঠার ঘাড়ে রওনা হয়েছিল ইউদেনা উদ্ধারের অভিযানে।

    ইতিমধ্যে ইউদেনাকে নিয়ে ফিরে এল তারই উপজাতির মানুষরা। বিস্তর নিগ্রহ করার পর দিনকয়েক পরে বেঁধে রেখে এল জঙ্গলের মধ্যে সিংহ দিয়ে খাওয়ানোর জন্যে।

    বেশ কিছুদিন ধরেই বুড়ো সিংহটা উৎপাত জুড়েছিল এদের ডেরায়। রোজই একজনকে ধরে নিয়ে যেত আগুনের কুণ্ড টপকে এসে। গুজব ছড়িয়ে গিয়েছিল, ধড়িবাজ উয়ায়া মরে সিংহ হয়েছে। হত্যাকারী আঘ-লোমি আর তার দোসর ইউদোকে না-খাওয়া পর্যন্ত কারও নিস্তার নেই।

    সুতরাং উয়ায়া নামক সিংহটিকে ঠান্ডা করার জন্যেই ইউদোকে বেঁধে রেখে আসা হল গভীর জঙ্গলে।

    রাত হল। কাঠ হয়ে রয়েছে ইউনো। আশপাশে শোনা যাচ্ছে নিশাচরদের হাঁকডাক। একবার রক্ত জল-করা গজরানিও শোনা গেল। সিংহের গর্জন। সত্যিই যেন রক্ত জল হয়ে এল ইউদেনার।

    তারপরেই খসখস করে নড়ে উঠল ঝোপঝাড়। টলতে টলতে বেরিয়ে এল—

    সিংহ নয়–আঘ-লোমি।

    প্রস্তর-কুঠারের মহিমা প্রাণ দিয়ে বুঝেছে সিংহ। কিন্তু মারাত্মক জখম করে ছেড়েছে আঘ-লোমিকেও। একটা পা ফালাফালা করে দিয়েছে থাবার ঘায়ে।

    জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে গেল ইউদেনা নিঝুম আঘ-লোমিকে নিয়ে।

    .

    ৫। শেষ লড়াই

    দুজনে লুকিয়ে রইল একটা অলডার গাছের তলায়। ওঠবার ক্ষমতা নেই আঘ-লোমির। গুঁড়িতে পিঠ দিয়ে বসে রইল দিনের পর দিন। সে যুগের মানুষ বলেই ওষুধপত্তরের দরকার হল না। ক্ষতস্থান সেরে আসতে লাগল একটু একটু করে।

    কিন্তু খিদের জ্বালা যে বড় জ্বালা। ইউদেনা তো আর আঘ-লোমির মতো শিকারি নয়। তাই চুরি করা ছাড়া আর করে কী বেচারি?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, চুরি। খাবার চুরি। ইউদেনাকে সিংহের আস্তানায় বেঁধে রেখে আসার পরের দিন সকালে পুরুষ যোদ্ধারা জঙ্গলে গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে ধরে নিয়েছিল, আপদ গেছে সিংহের পেটে। কিন্তু রোজই এক ডেলা মাংস খুঁটির ডগায় গেঁথে রেখে আসত জঙ্গলের কিনারায় উয়ায়া সিংহের জন্যে। এই মাংসই চুরি করে এনে ভাগাভাগি করে খেত আঘ-লোমি আর ইউদো। কাঁচা মাংস অতিশয় বলকারক। দুদিনেই শক্তি ফিরে পেয়েছিল আঘ-লোমি। কিন্তু খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল বাকি জীবনের মতো।

    কিন্তু রোজ রোজ চুপিসারে চুরি কি সম্ভব? একদিন ইউদোকে দেখেই আঁতকে উঠেছিল পুরুষ যোদ্ধারা। তারপরেই অবশ্য মার মার করে তেড়ে এসেছিল পেছন পেছন। কিন্তু সুবিধে করতে পারেনি। প্রস্তর-কুঠারের এক-এক কোপে এক-একজনকে ধরাশায়ী করেছিল খোঁড়া আঘ-লোমি। ইউদেনাও কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকেনি–এ যুগের মেয়েরা যা করে। হরিণের শিং ঘুরিয়ে জখম করেছিল বেশ কয়েকজনকে। জনা তিনেক পুরুষ যোদ্ধা প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিল জঙ্গলে।

    পুরুষশূন্য দলটার অধিপতি হয়ে বসেছিল আঘ-লোমি–বাহুবলে এবং শক্তিবলে। শুধু জিঘাংসা নয়, ক্ষমাও ছিল বইকী তার অন্তরে–যা এ যুগের মানুষের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। জীবিত যোদ্ধা তিনজন পরে ফিরে এসেছিল–রোজ রোজ কাঁচা মাংস দূরে রেখে দূরেই বসে থাকত। একদিন মন নরম হল আঘ-লোমির। ক্ষমা করেছিল তিনজনকে।

    দীর্ঘদিন দলপতি ছিল সে। তারপর বুড়ো হলে তার জায়গায় এসেছিল আর-একজন।

    পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে চলছে এই একই কাণ্ড। সভ্যতা এগিয়ে চলেছে শনৈঃ শনৈঃ।

    ————

    [অনুবাদক: ওয়েলস এই বৃহৎ গল্পটি লেখেন ১৮৯৯-তে। এডগার রাইস বারোজ টারজানের জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চারের প্রথম কাহিনি লেখেন ১৯১৪-তে। টারজানের গল্প আজ অধিকতর জনপ্রিয়। ওয়েলসের গল্পটি সংক্ষেপিত করা হল জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চারের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস – এইচ জি ওয়েলস
    Next Article টাইম মেশিন – এইচ জি ওয়েলস

    Related Articles

    এইচ জি ওয়েলস

    টাইম মেশিন – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    এইচ জি ওয়েলস

    দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    এইচ জি ওয়েলস

    ভাবীকালের একটি গল্প – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }