Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কল্পগল্প সমগ্র – এইচ জি ওয়েলস

    এইচ জি ওয়েলস এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আত্মার ব্রহ্মাণ্ড পর্যটন

    আত্মার ব্রহ্মাণ্ড পর্যটন ( Under the Knife )

    [‘Under the Knife’ প্রথম প্রকাশিত হয় ‘The New Review’ পত্রিকায় জানুয়ারি ১৮৯৬ সালে। ১৯১১ সালে প্রকাশিত ‘The Country of the Blind and Other Stories’ সংকলনটিতে গল্পটি স্থান পায়।]

    হ্যাডনের বাড়ি থেকে ফেরবার পথে কেবলই ভাবছিলাম, কাল যদি মরে যাই তো কী হবে? বউ নেই যে কাঁদবে, বন্ধুবান্ধব যা আছে, তাদের ব্যাপারে আমি এমনই নিস্পৃহ যে, মোটেই শোকে বিহ্বল হবে না। বাল্যবন্ধু ছাড়া জীবনের শেষ ভাগে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী আর শুভাকাক্ষীও জুটিয়ে ফেলেছি, কিন্তু এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আমি এতই উদাসীন যে, আমার মৃত্যুতে তাদের যেমন কোনও মাথাব্যথা নেই–আমারও তা নিয়ে অযথা মস্তিষ্কপীড়ন নেই। সুতরাং দুনিয়ায় কেউ কেঁদে ভাসিয়ে দেবে না কালকের অপারেশনে আমি অক্কা পেলে।

    ভাবাবেগ জিনিসটা যেন একেবারেই মরে গেছে আমার ভেতরে। একেবারেই নির্বিকার। শরীর ভেঙে পড়ার লক্ষণ নিঃসন্দেহে। ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গেল। হঠাৎ খুব রক্তক্ষরণ হয়েছিল। মরতে বসেছিলাম। তখনকার সেই অনুভূতির ছিটেফোঁটাও আর নেই মনের ভেতরে–নিংড়ে বেরিয়ে গেছে বললেই চলে। নিবিড় প্রশান্তি–ভাগ্যের হাতে নিঃশেষে নিজেকে সঁপে দিলে যা হয়। বেশ কয়েক হপ্তা আগে অনুভূতি, উচ্চাশা, মমত্ববোধ–সবই ছিল পুরো মাত্রায়।

    রক্তশূন্য হয়েছি আবার। হপ্তাখানেক কিছুই খেতে পারছি না। খিদেই নেই। মানুষ নামক প্রাণীটাকে চালিত করে যন্ত্রণা আর আনন্দবোধের চক্র। এই চক্র হঠাৎ আমার ভেতর থেকে সরে গেছে। তাই এই উদাসীনতা। ছোটখাটো ভয় আর আকাক্ষা থেকেই বড় রকমের আবেগ, অনুভূতি, মমত্ববোধের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর ছায়াপাত ঘটলেই অবসান ঘটে এই জটিল চক্রবর্তের। উদ্যম তিরোহিত হয়। তখন আর কিছুই থাকে না।

    একটা কসাই-ছোকরার বারকোশে ধাঁই করে ধাক্কা খেতেই ছিঁড়ে গেল চিন্তার সুতো। ঘটনাটা ঘটল রিজেন্ট পার্ক ক্যানালের ব্রিজ পেরনোর সময়ে। নীলবসন ছোকরা ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে রয়েছে একটা কালো মালবাহী বড় নৌকোর দিকে। হাড় বার-করা সাদা ঘোড়া গুন টেনে নিয়ে যাচ্ছে নৌকোটাকে। ব্রিজের ওপরে হাত ধরে তিনটে খুশি-খুশি বাচ্চাকে নিয়ে আসছে একজন আয়া। উজ্জ্বল সবুজ গাছ, ঝকঝকে আকাশ, তরঙ্গায়িত কালো জল এবং বসন্তের মৃদুমন্দ সমীরণও নাড়া দিতে পারল না আমার অসাড় মনে।

    কীসের পূর্বাভাস এই অসাড়তা? যুক্তিবুদ্ধির ধার তো ভোঁতা হয়নি। কেন এমন হচ্ছে, তা তো বেশ ভাবতে পারছি। অসাড়তা নয়, প্রশান্তি চেপে বসছে চেতনায়। মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ নাকি? মন জানতে পেরেছে আগে থেকেই? মৃত্যুর কনকনে আলিঙ্গনে দেহ ঠান্ডা হওয়ার আগেই কি মন নিজে থেকেই এইভাবে সরে আসে জড়জগৎ আর অনুভূতির জগৎ থেকে? দলছাড়া মনে হল নিজেকে। জীবন থেকে, চারপাশের অস্তিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দরুন কিন্তু বিন্দুমাত্র পরিতাপের উদয় ঘটল না মনের মধ্যে। জীবনের চাঞ্চল্য চারদিকে। ছেলেমেয়েরা খেলছে, মালি-আয়ার সঙ্গে গল্প করছে, হাসতে হাসতে পাশ দিয়ে চলে গেল প্রাণবন্ত দুটি তরুণ-তরুণী, রাস্তার পাশের গাছগুলো নতুন পাতা মেলে ধরছে। সূর্যকিরণের দিকে, মর্মরধ্বনি শোনা যাচ্ছে ডালপালার মধ্যে। প্রাণময় এই জগতের অংশ ছিলাম আমিও। এখন নেই। ফুরিয়ে গেছে আমার ভূমিকা।

    ক্লান্ত বোধ করছিলাম। পা যেন আর চলছে না। বসলাম রাস্তার পাশের সবুজ চেয়ারে। বেশ গরম পড়েছে। ঢুলুনি এল বসতে-না-বসতেই। তলিয়ে গেলাম অদ্ভুত স্বপ্নের মধ্যে। উদবেল চিন্তা ধুয়ে-মুছে গেল পুনর্জন্মের স্বপ্নদৃশ্যে। বসে রয়েছি চেয়ারেই, কিন্তু প্রাণ নেই দেহে৷ শুষ্ক, জীর্ণ দেহ। একটা চোখ খোবলাচ্ছে কয়েকটা পাখি। জাগ বলে কে হেঁকে উঠতেই বিদ্রোহী হল যেন রাস্তার ধুলো আর ঘাসের তলাকার মাটির ঢিপি। রিজেন্ট পার্কের এই বাগানটাকে কবরখানা বলে কোনওদিনই ভাবতে পারিনি। সেই মুহূর্তে কিন্তু দেখলাম, যত দূর দুচোখ যায়, কেবল কবর আর সমাধিস্তম্ভ। কাঁপছে, দুলছে, শিরশির করছে, কিলবিল করছে। কোথায় যেন একটা বিরাট গোলমাল চলেছে। জাগ্রত মড়ারা কবর ঠেলে উঠে আসতে চাইছে প্রাণপণে! রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে সর্বাঙ্গ। সাদা হাড় থেকে খসে পড়ছে লাল মাংস। জাগ হাঁক আবার শোনা গেল কানের কাছে। কিন্তু দাঁতে দাঁত কামড়ে বসে রইলাম আমি। জাগুক সবাই, আমি জাগব না। দানোদের দলে ভিড়ব না। চাষাড়ে গলায় আবার জাগতে বলছি না? বলেই কাঁধ ধরে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিল চোয়াড়ে লোকটা। টিকিট চাইছে বাগানের মালি।

    পয়সা গুনে দিয়ে টিকিট পকেটস্থ করে, হাই তুলে উঠে পড়লাম চেয়ার ছেড়ে, চললাম ল্যাংহাম প্লেসের দিকে। আবার মৃত্যুর চিন্তা জলপ্রপাতের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল মনের ওপর। আর-একটু হলে গাড়িচাপা পড়তাম মোড়ের মাথায়। ধাক্কাটা গেল কাঁধের ওপর দিয়ে। রক্ত তো বেরলই, সেই সঙ্গে উত্তাল হল হৃদযন্ত্র। টলতে টলতে সরে এলাম পাশে। কালকের মৃত্যু-ধ্যান আর-একটু হলেই মৃত্যু ঘটিয়ে ছাড়ত এখুনি।

    যা-ই হোক, সেই দিনের এবং তার পরের দিনের অভিজ্ঞতা শুনিয়ে আপনাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না। সময় যতই গড়িয়েছে, ততই নিশ্চিত হয়েছি। কাল অপারেশন হবে এবং আমিও মরব। বাড়ি ফিরে দেখলাম, প্রস্তুতিপর্ব সাঙ্গ হয়েছে। ঘর পরিষ্কার। সাদা চাদর ঝুলছে। নার্স মোতায়েন হয়েছে। জোর করেই শুতে পাঠাল সকাল সকাল।

    বড় কুঁড়ে মনে হল নিজেকে সকালবেলা। সকালের ডাকে আসা খবরের কাগজ আর চিঠিপত্র নিয়ে বসলাম বটে, কিন্তু মন দিতে পারলাম না। আমার লেখা নতুন বইটায় কয়েক জায়গায় ত্রুটি আছে, ছাপার ভুলও আছে–লিখেছে স্কুলের বন্ধু অ্যাডিসন। বাকি চিঠিপত্র ব্যাবসা সংক্রান্ত। এক কাপ চা ছাড়া খেতে দেওয়া হল না কিছুই। পাঁজরায়। যন্ত্রণাটা আরও বেড়েছে। কিন্তু অনুভব করতে পারছি না। রাত্রে ঘুমাইনি। মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। তেষ্টা পাচ্ছিল। সকালে কিন্তু বেশ ভালোই লাগল। সারারাত অতীতের ঘটনা ভেবেছি। ভোরের দিকে অমরত্ব নিয়ে ভাবতে ভাবতে চুলেছি। ঘড়ি ধরে ঠিক সময়ে এল হ্যাডন–হাতে কালো ব্যাগ। মোব্রে এল তার পরেই। ওরা আসতে জবুথবু ভাবটা একটু কাটল। আটকোনা ছোট টেবিলটা খাটের পাশে এনে রাখল হ্যাডন। আমার দিকে পেছন ফিরে ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করে রাখতে লাগল টেবিলে। শুনলাম স্টিলের ওপর স্টিল রাখার আওয়াজ। চিন্তাধারা আর ডোবা জলের মতো বদ্ধ নয়। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ছুরি চালালে খুব লাগবে কি?

    হ্যাডন বলেছিল, মোটেই না। ক্লোরোফর্ম করা হবে তো। আমার হার্ট নাকি দারুণ মজবুত। নাকে ভেসে এসেছিল ঘুমপাড়ানি ওষুধের মিষ্টি গন্ধ।

    পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিয়েই ক্লোরোফর্ম দিয়েছিল তৎক্ষণাৎ। প্রথমে মনে হয়েছিল, দম আটকে আসছে। মরতে চলেছি তো জানি, এবার লোপ পাবে জ্ঞান। হঠাৎ মনে হল, সে কী! মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হইনি তো এখনও অনেক কর্তব্য যে এখনও বাকি। কী কর্তব্য তা অবশ্য জানি না, মনেও করতে পারলাম না, কী কাজ এখনও করা হয়নি। জীবনে কী কী আকাক্ষা এখনও অপূর্ণ রয়েছে, কিছুতেই মনে করতে পারলাম না। অথচ মরবার ইচ্ছেও হল না। শারীরিক অস্বস্তি যন্ত্রণার পর্যায়ে পৌঁছেছে–বেশ উপলব্ধি করলাম। ছটফট করেছিলাম। তারপর নিস্পন্দ হয়ে গেলাম। নৈঃশব্দ্য আর তমিস্রা গ্রাস করল আমাকে।

    কত মিনিট কত সেকেন্ড জ্ঞান হারিয়েছিলাম, বলতে পারব না। হঠাৎ গা শিরশির-করা আবেগহীন অনুভূতির মধ্যে দিয়ে টের পেলাম, আমি মরিনি। দেহের খাঁচার মধ্যেই রয়েছি। কিন্তু যেন মুক্তি পেয়েছি। পুরোপুরি নয়। মাংসময় দেহে আটকে আছি ঠিকই, কিন্তু দেহটা যেন আর আমার নয়। কিছুই দেখিনি, কিছুই শুনিনি, তবুও যা যা ঘটেছে, তার সবই টের পেয়েছি–শোনা আর দেখার মতোই। হ্যাডন ঝুঁকে রয়েছে আমার ওপর, বিরাট একটা স্ক্যালপেল হাতে পাঁজরা কেটে ফালাফালা করছে মোব্রে। যন্ত্রণা নেই। মাংস কেটে যাচ্ছে টের পাচ্ছি কিন্তু ভালোই লাগছে। যেন দুজন দাবা খেলোয়াড়ের দান দেওয়া দেখছি মজা লাগছে। কৌতূহল নিবিড়। হ্যাডনের মুখ শক্ত, হাত অচঞ্চল। কিন্তু অপারেশন যে সাকসেসফুল হবে না–এইরকম একটা ধারণা রয়েছে মনের মধ্যে। কী করে ওর মনের কথা টের পেলাম, তা বলতে পারব না।

    মোব্রে কী ভাবছে, তা-ও টের পেয়েছিলাম। ও ভাবছিল, বিশেষজ্ঞ হয়েও হ্যাডন এত মন্থরগতি কেন? কী কী করা উচিত, বলতে চাইছে, মাথার মধ্যে চিন্তাগুলো হাজার হাজার বুদবুদের মতো ঠেলে উঠছে। হ্যাডনের দক্ষ ক্ষিপ্র ছুরিচালনা দেখে মুগ্ধ হয়েছে, তা-ও টের পাচ্ছি ওর চেতনার বিস্ফোরণ অনুভব করে। হ্যাডনের দক্ষতা মোরে মাথার মধ্যে ঈর্ষার সঞ্চার ঘটাচ্ছে, তা-ও উপলব্ধি করছি। যকৃৎ খুলে বার করে নেওয়া দেখলাম। হতভম্ব হলাম নিজের অবস্থা দেখে। মরিনি। কিন্তু জীবিত সত্তা বলতে যা বোঝায়, তা-ও নই। বছরখানেক যে বিষণ্ণতায় ভুগেছি, আচম্বিতে তা উধাও হয়েছে। চিন্তা করছি, উপলব্ধি করছি কিন্তু আবেগের ছিটেফোঁটাও অনুভব করছি না। জানি না আর কেউ এভাবে ক্লোরোফর্মে জ্ঞান হারিয়ে সবকিছু টের পেয়েছে কি না, অন্যের মনের মধ্যে ঢুকতে পেরেছে কি না, তারপরেও সব মনে রাখতে পেরেছে কি না।

    মরিনি এখনও বলতে পেরেও এইটুকু বুঝলাম, মরতে আর দেরি নেই। ঢুকলাম হ্যাডনের মনের মধ্যে। ভয় পাচ্ছে একটা মূল শিরার শাখা কাটতে। স্পষ্ট দেখতে পেলাম ওর মানসিক দ্বন্দ্ব। গ্যালভানোমিটারের আয়নায় আলো কাঁপে যেভাবে থিরথির করে, ওর সজ্ঞান মনে তেমনি দুটো চিন্তার লড়াই চলছে। একটা আলো জোরালো হয়ে উঠছে। এই আলোয় দেখা যাচ্ছে ওর মনের ভাবনা–একটা কাটা শিরার ছবি। পরক্ষণেই জোরালো হয়ে উঠল আর-একটা আলোকময় চিন্তা-ভুল জায়গায় কাটা হয়েছে শিরা। ধস্তাধস্তি লেগে গেল দুটো আলোকময় সম্ভাবনাচিত্রে। প্রথমটা জোর করে হটিয়ে দিলে দ্বিতীয়টাকে। ভয় পেয়েছে হ্যাডন। বেশি কেটে ফেললেও বিপদ, কম কেটে ফেললেও বিপদ।

    আচমকা যেন লক গেট খুলে তোড়ে জল বেরিয়ে গেল। দোটানার চিন্তাপ্রবাহ হু-উ-উ-স করে বেরিয়ে গেল ওর চেতনাকেন্দ্রের আলোময় অঞ্চল থেকে। মনস্থির করে ফেলেছে। হ্যাডন। টের পেলাম, শিরা কাটাও হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। ভাঙা গলায় পেঁচিয়ে উঠল সঙ্গে সঙ্গে। ছিটকে সরে গেল পেছনে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছে। বাদামি-বেগুনি রক্ত। সে কী আতঙ্ক হ্যাডনের। দুই ডাক্তারই আটকোনা টেবিল থেকে স্ক্যালপেল তুলে নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল বিপর্যয় রোধ করার জন্যে। আমি কিন্তু জানলাম, মৃত্যু হল আমার সেই মুহূর্তেই–দেহটা অবশ্য তখনও আঁকড়ে রয়েছে আমাকে নাছোড়বান্দার মতো।

    সবই উপলব্ধি করলাম। কিন্তু খুঁটিয়ে বর্ণনা আর দেব না। চেষ্টার ত্রুটি করেনি দুজনে আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে। জীবনে এত ধারালোভাবে দ্রুতগতিতে কিছু উপলব্ধি করতে পারিনি। অবিশ্বাস্য গতিবেগে চিন্তা ছুটছে মনের মধ্যে দিয়ে–আশ্চর্য রকমের অনাবিল সুস্পষ্টভাবে। সঠিক মাত্রায় আফিম খেলে চিন্তারাশি যেভাবে গাদাগাদি অবস্থায় থেকেও স্পষ্ট থাকে, আমার তখনকার অবস্থা যেন সেইরকমই। এ ছাড়া আর কোনও উপমা মাথায় আনতে পারছি না। বুঝলাম, এখুনি সব শেষ হয়ে যাবে, মুক্তি পাব আমি। আমি জানি, আমি অমর। কিন্তু কী ঘটবে, তা জানি না। বন্দুকের নল থেকে ফুস করে ধোঁয়া ঠিকরে যায় যেভাবে, সেইভাবেই কি ছিটকে যাব দেহের খাঁচা থেকে? মৃতদের জগতে হাজির হব কি এবার? প্রেতচক্রে হাজির হব নাকি তারপর? বেরং প্রত্যাশা, আবেগহীন কৌতূহলে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলাম সেই মুহূর্তে। তারপরেই একটা চাপ অনুভব করলাম। উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। যেন একটা অতিকায় মানবিক চুম্বক আমাকে আমার দেহ থেকে টেনে ওপরে তুলে নিয়ে যেতে চাইছে। বাড়ছে… ক্রমশ বেড়ে চলেছে অস্বস্তি। প্রচণ্ড আকর্ষণ আর এড়ানো যাচ্ছে না। অনেকগুলো দানবিক শক্তির সঙ্গে সঙ্গে আমি একটা খুদে পরমাণুর মতো যুঝে চলেছি। পারছি না… প্রচণ্ড এই আকর্ষণকে ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা আমার নেই। ক্ষণেকের জন্যে একটা বিশাল কালো তমিস্রা জলপ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ে মহা-আতঙ্কের অমানিশায় ডুবিয়ে দিল আমাকে… ভয়াবহ আতঙ্ক চকিতের মতো চাবুক আঘাতে জড়তা কাটিয়ে দিল আমার এক নিমেষের জন্যে। পরক্ষণেই দুই ডাক্তার, ছোট্ট ঘর, পাঁজরা-কাটা দেহ প্রবল জলোচ্ছ্বাসে একটা ফেণা-বুদবুদের মতো ভেসে গেল কোথায় কে জানে।

    দেখলাম, শূন্যে ভাসছি। শুধু ভাসছি নয়, প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে যাচ্ছি ওপরদিকে। অনেক নিচে দ্রুত ছোট হয়ে আসছে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড। ঊর্ধ্বগতি কিন্তু পশ্চিম-ঘেঁষা। পাতলা ধোঁয়াশার মধ্যে দিয়ে দেখতে পেলাম অসংখ্য ছাদের চিমনি, মানুষ আর যানবাহনে বোঝাই সরু সরু রাস্তা, ছোট্ট ছোট্ট ধূলিকণার মতো চৌকোনা পার্ক, আর কাপড়ের গায়ে বিঁধে থাকা কাঁটার মতো গির্জের চূড়া। অচিরেই তা সরে গেল দৃষ্টিপথ থেকে পৃথিবী ঘুরছে বলে। সে জায়গায় আবির্ভূত হল পাশের গ্রাম, শহরতলি, নদী। কোথায় যে চলেছি নক্ষত্রবেগে, কিছু বলতে পারলাম না।

    পলকে পলকে নিচের নিসর্গদৃশ্য বিশাল হতে বিশালতর অঞ্চল জুড়ে জেগে উঠল চোখের সামনে, শহর আর প্রান্তর, পাহাড় আর উপত্যকা, আরও কুয়াশাচ্ছন্ন, আরও ম্যাড়মেড়ে, আরও অস্পষ্ট হয়ে এল, পাহাড়ের নীল বর্ণ আর মাঠ-ময়দানের সবুজ রঙের সঙ্গে আলোকময় ধূসরাভা আরও বেশি মিশে যেতে লাগল। নিচে অনেক পশ্চিমে ছোট ছোট মেঘের টুকরো আরও ঝকমকে সাদা হয়ে উঠতে লাগল। মাথার ওপর আকাশের রংও পালটে গেল একটু একটু করে। প্রথমে যা ছিল বসন্তের আকাশের মতো নীলিমায় নীল, আস্তে আস্তে তা গাঢ়তর হয়ে মধ্যরাতের আকাশের মতো কালো হয়ে গেল, তারপর হল তুষার-ঝরা নক্ষত্রলোকের মতো মিশমিশে কালো, তারপর যে মসিকৃষ্ণ রংটি উপস্থিত হল, সেরকম কালো রং কখনও দেখিনি। প্রথমে দেখা গেল একটা তারা, তারপর অনেক, তারপর ঝাঁকে ঝাঁকে–অগুনতি। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে এত নক্ষত্র একসঙ্গে কেউ কখনও দেখেনি। দিনের আলোয় তারা দেখা যায় না নীল গগনে। শীতের রাতেও দেখা যায় না। তারার আলো থাকে বলে। কিন্তু এখন আর চোখে ধাঁধা লাগছে না–রাশি রাশি তারার অদ্ভুত সমারোহ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মরলোকের কেউ এমন স্বর্গীয় দৃশ্য কখনও দেখেনি। অবিশ্বাস্যভাবে অদ্ভুত এবং আশ্চর্য হয়ে উঠেছে সূর্য। চোখধাঁধানো সাদা আলোয় গড়া সূর্য। পৃথিবী থেকে দেখায় হলদেটে। কিন্তু আমি দেখলাম ধবধবে সাদা সূর্য। লাল ডোরা রয়েছে সাদার ওপর। কিনারা ঘিরে লকলকে লোহিত অগ্নিজিহ্বা। দুপাশে পাখির ডানার মতো রুপোলি সাদা দুটো প্রত্যঙ্গ ঠিকরে গেছে মহাশূন্যের বহু দূর পর্যন্ত। ঠিক যেন ডানাওয়ালা গোলক। মিশরীয় ভাস্কর্যে দেখেছিলাম এই ধরনের ছবি। পার্থিব জীবনে সৌরচ্ছটার ছবি দেখেছিলাম–এখন দেখলাম স্বচক্ষে।

    পৃথিবীর দিকে ফের তাকিয়ে দেখি, সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ সরে গেছে আরও দূরে। অনেক আগে থেকেই মাঠ-ময়দান-প্রান্তর পর্বতকে আলাদাভাবে চেনা যাচ্ছিল না। সব রং মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এখন যা দেখা যাচ্ছে তা একটা সমান উজ্জ্বল ধূসর রং। মাঝে মাঝে ঝকঝকে সাদা মেঘপিণ্ড। সমুদ্র ডাঙার চাইতে গাঢ় ধূসর রঙের। পুরো দৃশ্যটা আস্তে আস্তে ঘুরে যাচ্ছে পূর্বদিকে।

    দ্রুত ঘটে চলেছে ঘটনাস্রোত। পৃথিবী থেকে হাজারখানেক মাইল সরে আসার আগে নিজের কথা মনেই হয়নি। উপলব্ধি করলাম একটা আশ্চর্য ব্যাপার। আমার হাত নেই, পা নেই, দেহাংশ নেই, দেহযন্ত্র নেই, ভয় নেই, যন্ত্রণা নেই। বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে এসেছি অনেকক্ষণ। চারপাশে শূন্যতা। মানুষের কল্পনাতীত। আমি কিন্তু নির্বিকার। নির্ভয়। সূর্যালোক ধেয়ে যাচ্ছে শূন্যতার মধ্যে দিয়ে। বস্তুতে প্রতিহত হচ্ছে না বলে আলো বা উত্তাপ দিচ্ছে না। নিবিড় প্রশান্তিময় বিস্মৃতিতে আছন্ন আমার সত্তা। যেন স্বয়ং ঈশ্বর আমি। সেকেন্ডে সেকেন্ডে অসংখ্য মাইল দূরে সরে যাচ্ছে বহু নিচে লন্ডন শহরের আমার ছোট্ট ঘরখানি–দুজন ডাক্তার আমার খোলসটাকে নিয়ে প্রাণপণে চেষ্টা করে চলেছে আবার তার মধ্যে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু আমি যে মুক্তির স্বাদ, যে অনাবিল প্রশান্তি, যে অনির্বচনীয় পরিতৃপ্তি পেয়েছি, তার সঙ্গে মরজগতের কোনও আনন্দের তুলনা হয় না।

    পলকের মধ্যে এতগুলো উপলব্ধির পর পৃথিবী ছেড়ে বেগে উধাও হওয়ার অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এত সহজ আর অবশ্যম্ভাবী ব্যাপারটা কেন যে আগে ভাবিনি, ভাবতে গিয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি হঠাৎ–ভেসে যাচ্ছি শূন্যপথে। বস্তুজগতের সঙ্গে যেখানে এতটুকু বাঁধন ছিল, সব ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে সেকেন্ডে সেকেন্ডে প্রচণ্ড গতিবেগে ধেয়ে চলেছি আকাশভরা সব চন্দ্র-গ্রহ-নক্ষত্রর দিকে। মাধ্যাকর্ষণের আকর্ষণ অনুভব করছি না। বস্তুরহিত বলেই মহাশূন্যে এত আকর্ষণশূন্য। মাংস দিয়ে গড়া পিঞ্জর পড়ে তো পৃথিবীতে। পৃথিবীকে আমি ত্যাগ করছি না–পৃথিবীই আমাকে ত্যাগ করছে–গোটা সৌরজগৎটাই সাঁ সাঁ করে সরে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। চোখে দেখতে না পেলেও উপলব্ধি করছি, আমার মতোই মুক্তির আনন্দে বিহ্বল বহু আত্মা বিরাজমান আমার চতুর্দিকে। বস্তুপিঞ্জর থেকে মুক্তি পেয়ে, পাশবিক লোভ, নগ্ন বুদ্ধিমত্তা, অর্থহীন আবেগ-অনুভূতি থেকে ছাড়া পেয়ে আচম্বিতে উদবেল হয়ে উঠেছে প্রত্যেকেই। মহাশূন্য ভেদ করে ধেয়ে চলেছে তারা আমার পাশে পাশে–অদৃশ্য অবস্থায়!

    পৃথিবী আর সূর্যের কাছ থেকে ক্রমশ দুরে সরে যেতে যেতে উপলব্ধি করলাম, অবিশ্বাস্যভাবে আকারে-আয়তনে বড় হয়ে যাচ্ছি যেন। মানুষের জীবনে বড় বলতে যা কল্পনা করা যায়, সেই তুলনায় অনেক… অনেক বড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পূর্ণিমার চাঁদের মতোই বৃহদাকার ধারণ করল পৃথিবী। মিনিটকয়েক আগে দ্বিপ্রহরের সূর্য প্রদীপ্ত রেখেছিল যেখানে ইংল্যান্ডে, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে রোদ্দুর ঝকঝকে আমেরিকাকে। মুহূর্তে মুহূর্তে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে আসছে পৃথিবী গোলক। কিনারায় আবির্ভূত হল চন্দ্র। নক্ষত্রমণ্ডলী দেখে অবাক হলাম। চেনাজানা তার মালা ছাড়াও দেখলাম অনেক অজানা অচেনা নক্ষত্রমণ্ডলী। প্রশান্ত দ্যুতি সমুজ্জ্বল নক্ষত্ররাশিতে উদ্ভাসিত মহাশূন্য। পৃথিবী পলকের মধ্যে সূর্যের মতো ছোট হয়ে এল। বিপরীতদিকে আলপিনের ডগার মতো মঙ্গল গ্রহকে দেখা গেল। মহাজাগতিক ধূলিকণার মতো পৃথিবী মিলিয়ে যাচ্ছে বহু দূরে। আতঙ্ক বা বিস্ময়–কোনওটাতেই আচ্ছন্ন হলাম না।

    এরপরেই উপলব্ধি করলাম, মন মন্থরগতি হয়েছে, ধারণা নতুন রূপ নিচ্ছে, মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে আবর্তন দেখলাম, এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তার মধ্যেকার সময়ের ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে–এক-এক মুহূর্তে এক-একটা হাজার বছর অতিবাহিত হচ্ছে।

    অনন্ত মহাশূন্যের কালো পটভূমিকায় এতক্ষণ নিশ্চল ছিল নক্ষত্রমণ্ডলী। হঠাৎ তাদেরকেও সরে যেতে দেখলাম। ছিটকে ছিটকে যাচ্ছে দুর হতে দুরে। আচমকা অন্ধকারের মধ্যে থেকে সূর্যকরোজ্জ্বল একঝাঁক প্রস্তরখণ্ড ধূলিকণার মতো আলোকময় প্রভায় চারদিক উজ্জ্বল করে দিয়ে বেরিয়ে গেল আশপাশ দিয়ে। মিলিয়ে গেল দুরে। তারপরেই দেখলাম, একটা উজ্জ্বল আলোর কণা দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। দেখতে দেখতে বড় হয়ে উঠল আলোটা। শনি গ্রহ। আকার বেড়েই চলেছে পলকে পলকে। মুহূর্তে মুহূর্তে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে পেছনের মহাকাশ আর অগুনতি নক্ষত্র। চ্যাপটা, ঘুরন্ত গ্রহের চারদিকে থালার মতো বলয় আর সাতটা উপগ্রহকে স্পষ্ট লক্ষ করা যাচ্ছে। নিমেষে বিশাল হতে বিশালতর হয়ে যেন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল অতিকায় শনি গ্রহ, ধেয়ে চললাম অগুনতি পাথরের ধারাবর্ষণের মধ্যে দিয়ে… পাথরে পাথরে সে কী সংঘাত। ধূলিকণার তাণ্ডবনৃত্য আর গ্যাস-আবর্তের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে চকিতের জন্যে দেখলাম মাথার ওপর প্রকাণ্ড তিনটে বেল্ট; একই কেন্দ্র ঘিরে যেন তিনটে চন্দ্রালোকিত খিলেন। ছায়া পড়েছে নিচের ফুটন্ত প্রলয়কাণ্ডের ওপর। বলতে যতটা সময় গেল, তার এক দশমাংশ সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল এত কাণ্ড। বিদ্যুঝলকের মতো উধাও হয়ে গেল শনি গ্রহ। সূর্যকে ঢেকে রাখল কয়েক সেকেন্ডের জন্যে। তারপরেই দেখা গেল আলোর পটভূমিকায় পাক খেতে খেতে মিলিয়ে যাচ্ছে একটা ধ্যাবড়া কালচে দাগ। ধরিত্রী মা-কে। আর দেখতে পেলাম না।

    রাজকীয় গতিবেগে, অখণ্ড নৈঃশব্দ্যের মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে এলাম সৌরজগৎ। যেন একটা জামা খুলে পড়ে গেল গা থেকে। অগণিত তারকারাজির মধ্যে নিছক একটা নক্ষত্র হয়ে জেগে রইল সূর্য-আশপাশে ধূলিকণার মতো গ্রহ–বহু দূরের আলোয় স্পষ্ট নয় কোনওটাই মিলেমিশে একাকার। সৌরজগতের বাসিন্দা আর নই আমি। এসে পড়েছি বাইরের ব্রহ্মাণ্ডে–বহিঃমহাকাশে। আরও দ্রুত ঘনীভূত হল কয়েকটা নক্ষত্রমণ্ডলী–চেনা তারকামণ্ডলীরা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর। ঘুরন্ত নীহারিকার মতো দেখতে হল মহাকাশের সেইদিকটা। তার ওপারে ব্যাদিত মহাশূন্যতা–খণ্ড খণ্ড নিঃসীম তমিস্রা–মাঝে মাঝে চিকমিক করছে নক্ষত্র। কমে আসছে সংখ্যায়। মনে হল যেন দ্রুত হতে দ্রুততর হচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডের ছুটে যাওয়া–ধূলিকণার আকারে নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে মহাশূন্যে। ঝকঝকে নক্ষত্ররা আরও ঝকঝকে হয়ে উঠছে, কাছাকাছি এসে দেখছি, গ্রহদের গা থেকে ঠিকরে যাচ্ছে যেন ভৌতিক দ্যুতি। পরমুহূর্তেই দপ করে নিবে যাচ্ছে ভূতুড়ে আলো–মিলিয়ে যাচ্ছে অনস্তিত্বের মধ্যে। অস্পষ্ট ধূমকেতু, উল্কার ঝাঁক, বস্তুকণা, আলোককণার ঘূর্ণি সাঁত সাঁত করে বেরিয়ে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। কেউ কোটি কোটি মাইল দূর দিয়ে, কেউ কাছ দিয়ে। অকল্পনীয় গতিবেগ প্রত্যেকেরই। ধাবমান তারকামণ্ডলী, ক্ষণিক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ কুচকুচে কালো প্রকাণ্ড রাত্রির বুক ভেদ করে ছুটে এসেই মিলিয়ে যাচ্ছে নিমেষে নিমেষে। বিশাল হতে বিশালতর হচ্ছে নক্ষত্রহীন দুরের মহাশূন্য–যেদিকে আকৃষ্ট হয়ে চলেছি আমি বিরামবিহীনভাবে। দেখতে দেখতে মসিকৃষ্ণ এবং বেবাক শূন্য হয়ে গেল মহাকাশের সিকি অঞ্চল–দ্যুতিময় নক্ষত্রময় ব্রহ্মাণ্ড পেছনে ছুটে গিয়ে কাছাকাছি হতে হতে আলোকপুঞ্জ হয়ে গেল। এসে পড়লাম ধু ধু মহাশূন্যতার মধ্যে। কালো অমানিশা আস্তে আস্তে বিরাটতর হয়ে চারদিক থেকে ছেকে ধরল আমাকে–আগুনের কণার মতো নক্ষত্রগুলো ঝটিতি সরে গেল দূর হতে দূরে–নাস্তি আর শূন্যতার গহ্বরে একা আমি ধেয়ে চললাম কোথায় কে জানো বস্তু দিয়ে গড়া অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডও শেষকালে এক কণা আলোকময় ধুলোর মতো অস্পষ্ট হয়ে এল পেছনে–একেবারেই অদৃশ্য হতে আর দেরি নেই।

    আচম্বিতে মহা-আতঙ্ক পেয়ে বসল আমাকে। ভাষা দিয়ে সেই আতঙ্ক অনুভূতিকে প্রকাশ করা যায় না। সীমাহীন এই অন্ধকারের মধ্যে আমার মতোই কি রয়েছে আরও অনেক অদৃশ্য আত্মা? পৃথিবীর সমাজবদ্ধ জীব আমি–আত্মাদের সমাজ কি পাব এখানেনা, একাই থাকতে হবে? কী অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছি, তা-ও তো বুঝছি না। জীবসত্তা থেকে বেরিয়ে এসে সত্তা আর সত্তাহীনতার মাঝামাঝি পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম নাকি? দেহের খোলস, বস্তুর খোলস সবই টেনে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে আমার কাছ থেকে সঙ্গ আর নিরাপত্তা এখন নিছক মরীচিকা। চারদিকেই তো নিবিড় তমিস্রা–অখণ্ড নীরবতা। সত্তা ছিল –এখন নেই। কিছুই নই এখন আমি। নিতল গহ্বরে নিরতিশয় ক্ষুদ্র এক কণা আলো ছাড়া কিছুই তো আর দেখা যাচ্ছে না। প্রাণপণে শোনার, দেখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অসীম নৈঃশব্দ্য, অসহ্য অন্ধকার, বিভীষিকা আর নৈরাশ্য ছাড়া কিছুই উপলব্ধি করিনি।

    ব্রহ্মাণ্ডের সব বস্তু যেখানে জড়ো হয়েছে, সেইখানে হঠাৎ দেখলাম একটা ক্ষীণ দ্যুতি। দ্যুতির দুপাশের পটিও নিঃসীম তমিস্রায় আবৃত নয়। যেন অনন্তকাল ধরে চেয়ে ছিলাম সেইদিকে। দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষার পর ঝাপসা দ্যুতি স্পষ্টতর হল বটে, কিন্তু বোধগম্য হল না কিছুই। তারপরেই পটির চারদিকে আবির্ভূত হল অতিশয় ক্ষীণ, অতিশয় ম্যাড়মেড়ে বাদামি রঙের মেঘ। অসহ্য অসহিষ্ণুতায় অস্থির হয়েছিলাম। কিন্তু এত ধীরগতিতে মেঘটার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পাচ্ছিল যে, কিছুতেই আন্দাজ করতে পারলাম না কী ধরনের বিস্ময়ের সম্মুখীন হতে চলেছি। মহাশূন্যের চিররাত্রির মধ্যে ওই অদ্ভুত লালাভ উষা কীসের সূচনা বহন করছে, কিছুতেই বুঝে উঠলাম না।

    আস্তে আস্তে বিদঘুটে হয়ে উঠছিল মেঘের আকার। তলার দিকে যেন ঠেলে বেরিয়ে রয়েছে চারটে বস্তুপুঞ্জ–ওপরদিকে কী যেন একটা উঠে গেছে সিধে সরলরেখায়। অপচ্ছায়ার মতো এ আবার কী জিনিস? এ জিনিস দেখছি আগে… হ্যাঁ, হ্যাঁ, দেখেছি… কিন্তু কোথায় যে দেখেছি, কিছুতেই খেয়াল করতে পারলাম না। আচমকা উপলব্ধি করলাম বিচিত্র আকৃতির স্বরূপ। মুঠো-করা একটা হাত! মহাশূন্যে আমি একা, সামনে ওই প্রকাণ্ড ছায়াসম হাত, বস্তুময় গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক কণা অকিঞ্চিৎকর ধুলোর মতো পড়ে রয়েছে ওই হাতের নিচে। তর্জনীতে ঝকঝক করছে একটা আংটি। আংটির কিনারায় চিকমিক করছে এক কণা অলো–যে ব্রহ্মাণ্ড ছেড়ে এলাম–ওই ব্রহ্মাণ্ড। মুঠোয় ধরা বস্তুটাকে দেখতে অনেকটা কালো ডান্ডার মতো। অনন্তকাল ধরে ভয়ে-বিস্ময়ে অসহায়ভাবে চেয়ে ছিলাম সেই হাত আর সেই ডান্ডার দিকে–কী যে ঘটবে এরপর, বুঝতে পারিনি। কেবলই মনে হচ্ছিল, ঘটবে না কিছুই, চেয়ে থাকতে হবে অনন্তকাল ধরে এইভাবে কোনওদিনই বুঝব না ওই হাত আর ওই ডান্ডার তাৎপর্য, কেন ওই উপস্থাপন, কীসের ছায়া। আমার সত্তাহীন নৈর্ব্যক্তিক সত্তায় থেকে যাবে শুধু যা অমোঘ, যা আদি এবং অন্তহীন–তারই উপস্থিতি। বৃহত্তর অন্য কোনও সত্তার ওপরে এই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডটা প্রতিসরিত আলোককণা কি না, এ প্রশ্নের জবাবও পাব না কোনওদিন। কোনওদিনই জানব না এই রবি-শশী-তারাভরা বিশাল ব্ৰহ্মাণ্ড আরেকটা ব্রহ্মাণ্ডের পরমাণুমাত্র কি না, সেই ব্রহ্মাণ্ডটাও হয়তো আরেকটা ব্রহ্মাণ্ডের পরমাণু। এবং সে ব্রহ্মাণ্ডও আরেক ব্রহ্মাণ্ডের পরমাণু ছাড়া কিছুই নয়। এইভাবেই কি চলছে সৃষ্টির পরম্পরা? কে জবাব দেবে এই প্রহেলিকার? আমিই বা কী? বাস্তবিকই কি অ-বস্তু? আমার চারদিকে একটা দেহ দানা বেঁধে উঠছে যেন মনে হল–খুবই আবছা উপলব্ধি। নারকীয় তমিস্রার মধ্যে ওই হাত যে ইঙ্গিত বহন। করছে, নিশ্চিতভাবে তা বুঝলাম না। হৃদয়ভাব দিয়ে শুধু টের পেলাম, নিরাকারের মধ্যে থেকে অনেক আকার তৈরি হয়ে যাচ্ছে… কাঁপছে… দুলছে… আবার মিলিয়ে যাচ্ছে।

    ঘণ্টাধ্বনির মতো একটা শব্দ শুনলাম। ক্ষীণ শব্দ। যেন অসীমের ওপার থেকে ভেসে আসা শব্দ–নিরেট তমিস্রা ফুঁড়ে আসতে হচ্ছে বলে, এত অস্পষ্ট। আবার… আবার সেই ঘণ্টাধ্বনি… অনুধ্বনিত হচ্ছে সুগম্ভীর শব্দে… অনুকম্পন আর অনুরণন কাঁপছে একটি ঘণ্টাধ্বনি থেকে আরেকটি ঘণ্টাধ্বনির অন্তর্বর্তী সময়ে। সেই সঙ্গে মনে হল যেন শক্তভাবে ডান্ডা চেপে ধরল হাতটা। হাতের অনেক ঊর্ধ্বে, অন্ধকারের মধ্যবিন্দুতে দেখলাম একটা আলোকবৃত্ত–অস্পষ্ট ফসফরাস-দ্যুতির মতো। ভৌতিক বর্তুলের মতো আলোক-গোলকের মধ্যে ধুক ধুক করে শব্দনাদ সৃষ্টি করে চলেছে ঘণ্টাধ্বনি। শেষ ধ্বনিটার সঙ্গে সঙ্গেই অদৃশ্য হয়ে গেল হাতখানা। বুঝলাম, সময় হয়েছে নিকট। শুনলাম বিপুল জলোচ্ছাসের গুরুগম্ভীর দূরায়ত গর্জন। মহাকাশের বুকে বিশাল পটির মতো কিন্তু স্থির হয়ে রইল কালো ডান্ডাটা। তারপরেই মহাশূন্যের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত ধেয়ে গেল একটা কণ্ঠস্বর অবসান ঘটল যন্ত্রণার।

    তৎক্ষণাৎ অসহ্য হর্ষ-উল্লাসের আবর্তে মুহ্যমান হয়ে গেলাম। দেখলাম, উজ্জ্বল হয়ে উঠছে চকচকে সাদা বৃত্তটা, চেকনাই ছড়াচ্ছে কালো ডান্ডাটা, স্পষ্ট পরিষ্কার হয়ে উঠছে আরও অনেক কিছু। বৃত্তটা হয়ে গেল ঘড়ির ডায়াল, ডান্ডাটা আমার খাটের রেলিং। হ্যাডনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম আমার পায়ের দিকে রেলিং-এর পাশে–হাতে একটা ছোট কাঁচি। ঘাড়ের ওপর দিয়ে ম্যান্টেলে রাখা ঘড়ির ডায়ালে দেখা যাচ্ছে, কাঁটা দুটো এক হয়ে গিয়ে খাড়া হয়ে রয়েছে বারোটার ঘরে। আটকোনা টেবিলে কী যেন ধুচ্ছে। মোত্রে, পাঁজরে অনুভব করলাম একটা চাপা অনুভূতি–যাকে যন্ত্রণা বলা যায় না কোনওমতেই।

    সাঙ্গ হয়েছে অপারেশন। আমি মরিনি। আচম্বিতে উপলব্ধি করলাম, আধখানা বছর জুড়ে থাকা চাপা বিষাদবোধও তিরোহিত হয়েছে মনের ভেতর থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস – এইচ জি ওয়েলস
    Next Article টাইম মেশিন – এইচ জি ওয়েলস

    Related Articles

    এইচ জি ওয়েলস

    টাইম মেশিন – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    এইচ জি ওয়েলস

    দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    এইচ জি ওয়েলস

    ভাবীকালের একটি গল্প – এইচ জি ওয়েলস

    July 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }