Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    মোস্তফা মীর এক পাতা গল্প1071 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হৃদয়ের গোপনীয়তা [সেক্রেটস অব দ্য হার্ট]

    আমার দেশবাসী 

    হে আমার দেশবাসী, তোমরা কি অনুসন্ধান করো?
    তোমরা কি মনে করো আমি তোমাদের জন্য এই
    জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ নির্মাণ করি, যা
    অর্থহীন কথা দিয়ে সজ্জিত অথবা তোমরা কী
    আমাকে আদেশ দাও সেইসব ধ্বংস করতে
    যা মিথ্যাবাদী ও প্রজাপীড়কেরা নির্মাণ করেছে।
    আমি কি আমার আঙুল দিয়ে সেইসব উৎপাটন
    করব যা ভণ্ড ও মন্দ লোকেরা প্রোথিত করেছে?
    বলো তোমাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ইচ্ছাগুলি!

    হে আমার দেশবাসী তোমরা আমাকে কী করতে বলবে?
    তোমাদেরকে সুখী করতে আমি কি বিড়ালছানার
    মতো ঘড়ঘড় আওয়াজ করব অথবা নিজেকে
    খুশি করতে গর্জন করব সিংহের মতো? আমি
    গান গেয়েছি তোমাদের জন্য কিন্তু তোমরা
    নাচো নাই। আমি তোমাদের সামনে কেঁদেছিলাম
    কিন্তু তোমরা কাঁদো নাই। আমি কি একই সঙ্গে
    গান গাইব এবং কাঁদব?

    তোমাদের আত্মা ক্ষুধার তীব্র বেদনায়
    কষ্ট পাচ্ছে যদিও জ্ঞানের ফলগুলি উপত্যকার
    পাথরগুলির চেয়েও পরিমাণে অধিক, অধিক।

    তোমাদের হৃদয়গুলি শুকিয়ে যাচ্ছে তৃষ্ণায়, যদিও
    জীবনের বসন্তগুলি প্রবাহিত হচ্ছে তোমাদের
    গৃহের দিকে— তোমরা তা পান করো না কেন?
    সমুদ্রের রয়েছে জোয়ার ও ভাটা, চাঁদের রয়েছে
    পরিপূর্ণতা এবং অর্ধাকার আকৃতি এবং
    অনন্তকালের রয়েছে শীত ও গ্রীষ্মকাল
    এবং সবকিছুরই তারতম্য রয়েছে সূর্য ও পৃথিবীর
    মাঝে চলাচলরত একজন ঈশ্বরের
    ছায়ার মতো, যার এখনও জন্ম হয়নি, কিন্তু সত্য
    পরিবর্তিত হতে পারে না, পারে না মারা যেতে, তাহলে
    মুখের প্রসন্ন ভাব বিকৃত করার চেষ্টা কেন তোমাদের?

    রাত্রির নৈঃশব্দের ভেতরে আমি তোমাদের
    আহ্বান জানিয়েছি চাঁদের মহিমা ও নক্ষত্রের
    মর্যাদার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে, কিন্তু তোমরা
    ভয়ে সুখনিদ্রা থেকে জেগে উঠেছিলে এবং আঁকড়ে
    ধরেছিলে তোমাদের তরবারি এবং কেঁদে উঠেছিলে :
    ‘কোথায় শত্রু? প্রথমে তাকে অবশ্যই হত্যা করা উচিত।’
    ভোরবেলায় যখন শত্রু এল আমি আবার তোমাদের
    আহ্বান জানালাম কিন্তু তোমরা সুখনিদ্রা থেকে জেগে উঠলে না
    কারণ তোমরা ভীতির ভেতরে বন্দি অবস্থায় ছিলে, যুদ্ধ করছিলে
    স্বপ্নের ভেতরে প্রেতাত্মাদের মিছিলের সঙ্গে।

    আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম,চলো পাহাড়চূড়ায়
    আরোহণ করি এবং পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখি।’
    তোমরা উত্তরে বলেছিলে, ‘এই উপত্যকার গভীরতায়
    আমাদের পিতারা বসবাস করতেন এবং এর ছায়ায়
    তারা মারা গিয়েছিলেন এবং এই উপত্যাকার গুহায়
    তারা সমাহিত হয়েছেন। কীভাবে আমরা এই জায়গা
    পরিত্যাগ করে যেতে পারি একজনের জন্য, যাকে
    আমরা শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হয়েছি?’
    আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম, ‘চলো সমতলভূমিতে
    যাই যা অকৃপণভাবে দান করে সমুদ্রকে।’
    তোমরা সলজ্জভাবে বলেছিলে, ‘নরকের
    হৈচৈ আমাদের আত্মাকে ভীত করে তুলবে এবং
    গভীরতার আতঙ্ক অনুভূতিহীন করে তুলবে আমাদের শরীরকে।’

    আমি তোমাদেরকে ভালোবেসেছি হে আমার দেশবাসী
    কিন্তু তোমাদের জন্য এই ভালোবাসা আমার কাছে খুবই
    বেদনাদায়ক এবং তোমাদের কাছে অর্থহীন। আজ আমি
    তোমাদেরকে ঘৃণা করি এবং ঘৃণা হচ্ছে প্লাবন
    যা শুকনো ডালপালা এবং শিহরিত ঘরবাড়িগুলি
    ঝেঁটিয়ে বিদায় করে।

    তোমাদের দুর্বলতাকে আমি করুণা করেছি
    হে আমার দেশবাসী, কিন্তু আমার করুণা
    তোমাদের দুর্বলতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে, উচ্চপ্রশংসাও
    পরিচর্যা করছে অলসতার, যা জীবনকে নিষ্ফল
    করে তোলে এবং আজ আমি তোমাদের দুর্বলতা দেখি
    এবং আমার আত্মা বিরক্ত ও ভীত হয়ে ওঠে।

    তোমাদের অবমাননা ও আত্মসমর্পণে আমি কেঁদেছি
    এবং আমার অশ্রুজল প্রবাহিত হচ্ছে স্ফটিকের মতো,
    কিন্তু তোমাদের নিশ্চল দুর্বলতাকে অপসারণ করতে পারেনি
    যদিও তারা আমার চোখের অবগুণ্ঠন খুলে নিয়েছিল।
    আমার কান্না তোমাদের পাথুরে হৃদয়ে
    কখনও গিয়ে পৌঁছায় না কিন্তু তারা আমার অন্তরাত্মার
    অন্ধকার পরিষ্কার করে। আজ আমি
    তোমাদের ভোগান্তি নিয়ে তামাশা করছি, কারণ উচ্চহাসি
    হচ্ছে একটা উন্মত্ত বজ্র যা ঝড়কে অগ্রগামী
    করে তোলে এবং ঝড়ের পর কখনও তা আর
    ফিরে আসে না।

    তোমাদের আকাঙ্ক্ষা কী হে আমার দেশবাসী?
    তোমাদের কি ইচ্ছা হয় স্থির জলের মুখের
    ওপর তোমাদের প্রসন্ন মুখের প্রেতাত্মা আমাকে
    দেখাবে? এসো এবং দ্যাখো কী পরিমাণ
    কুৎসিত তোমরা!

    দ্যাখো এবং গভীরভাবে চিন্তা করো। আতঙ্ক
    তোমাদের চুলকে ছাইয়ের মতো ধূসর করে তুলেছে
    এবং ক্ষতিকর আমোদপ্রমোদের আকাঙ্ক্ষা
    ফুটে উঠছে তোমাদের চোখে এবং তাকে
    পরিণত করছে অন্ধকারময় শূন্যতায় এবং কাপুরুষতা
    স্পর্শ করেছে তোমাদের কপোল, যা এখন উপত্যকার
    নিরানন্দের গহ্বরে আবির্ভূত হয়েছে এবং মৃত্যু
    চুম্বন করেছে তোমাদের ঠোঁটে এবং পরিত্যাগ
    করেছে তাদেরকে শরতের হলুদ পাতার মতো।
    হে আমার দেশবাসী, কী অনুসন্ধান করো তোমরা?
    জীবনের কাছে তোমরা কী চাও, যে তোমাদেরকে
    তার সন্তানদের ভেতরে গণনাও করে না।

    তোমাদের আত্মা বরফের মতো জমে আছে যাজক
    ও জাদুকরদের বজ্রমুষ্ঠির ভেতরে এবং তোমাদের
    শরীর শিহরিত হয় উৎপীড়ক ও রক্তপাতকারীদের থাবার
    মাঝখানে এবং তোমার দেশ দখলকারী শত্রুর
    কুচকাওয়াজরত পায়ের নিচে কাঁপতে থাকে।
    কী চাও তোমরা সূর্যের কাছে, যদিও তার মুখোমুখি
    তোমরা গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকো? তোমাদের
    কোষবদ্ধ তরবারিতে মরচে ধরে গেছে
    এবং তোমাদের ঢাল শূন্যতায় বোঝাই, তাহলে কেন
    তোমরা যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছ?

    ভণ্ডামি হল তোমাদের ধর্ম এবং মিথ্যাচার হল
    তোমাদের জীবন এবং অস্তিত্বহীনতা হল তোমাদের
    পরিসমাপ্তি, তাহলে কেন তোমরা বেঁচে আছ?
    দুর্গতির একমাত্র সুখ কি মৃত্যু নয়?

    জীবন হচ্ছে একটা দৃঢ়সংকল্প, যৌবন যাকে
    সঙ্গ দেয় এবং অধ্যবসায় যা অনুসরণ
    করে, পরিপক্বতা এবং প্রাজ্ঞতা পশ্চাৎধাবন করে
    জরাগ্রস্ততার, কিন্তু হে আমার দেশবাসী
    তোমরা জন্মেছিলে বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে এবং তোমাদের
    চামড়া বিবর্ণ এবং মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে গেছে, তারপর
    তোমরা পরিণত হলে শিশুতে এবং দৌড়ালে
    কাদার ভেতরে এবং জড়ো করলে পাথর
    একজন আরেকজনের ওপর।

    জ্ঞান হচ্ছে আলো, যা সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে জীবনের
    উষ্ণতায় এবং সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে
    যারা এটা অনুসন্ধান করে, কিন্তু তোমরা, হে আমার
    দেশবাসী, অনুসন্ধান করো অন্ধকার এবং
    আলো পালিয়ে যায়, অপেক্ষা করতে থাকো
    কখন পাথরের ভেতর থেকে পানি বেরিয়ে আসবে
    এবং জাতির দুর্গতি হচ্ছে তোমাদের
    অপরাধ… আমি তোমাদের ক্ষমা
    করব না তোমাদের পাপের জন্য, কারণ
    তোমরা জানো, তোমরা কী করছ।

    মানবতা হচ্ছে একটা চমৎকার নদী, যেতে যেতে
    গান গাইছে এবং বহন করে নিচ্ছে পাহাড়ের
    গোপনীয়তা সমুদ্রের হৃদয়ের কাছে, কিন্তু তোমরা
    আমার দেশবাসী তোমরা হলে বদ্ধ জলাশয়-
    সাপ ও পতঙ্গে পরিপূর্ণ।

    আত্মারা হল ঐশ্বরিক নীল মশাল, জ্বলছে
    এবং গোগ্রাসে গিলে ফেলছে শুকনো চারাগাছ
    এবং বেড়ে উঠছে ঝড়ের সঙ্গে এবং আলোকিত
    করে তুলছে ঈশ্বরীদের মুখমণ্ডল, কিন্তু তোমরা?
    আমার দেশবাসী… তোমাদের আত্মা
    ছাইয়ের মতো বাতাস যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়
    বরফের ওপর এবং ঝড় যাকে উপত্যকায়
    ছত্রভঙ্গ করে চিরকালের জন্য।

    আতঙ্ক মৃত্যুর প্রেতাত্মা নয় হে আমার দেশবাসী,
    কারণ তার ক্ষমা ও বিশালত্ব তোমার
    ক্ষুদ্রতার কাছে আসতে অস্বীকার করবে এবং
    ছুরিকে ভয় পাবে না কারণ তা তোমার সংকীর্ণ
    আত্মার ভেতরে সাময়িক আশ্রয়ও প্রত্যাখ্যান করবে।

    হে আমার দেশবাসী আমি তোমাদেরকে ঘৃণা করি,
    কারণ তোমরা বিশালতা ও মহিমাকে ঘৃণা করো।
    আমি ঘৃণা করি তোমাদের, কারণ তোমরা ঘৃণা করো
    নিজেদেরকে। আমি তোমাদের শত্রু, কারণ
    তোমরা যে ঈশ্বরীদের শত্রু তা তোমরা
    উপলব্ধি করতে চাও না।

    .

    হৃদয়ের গোপনীয়তা 

    নীরব রাত্রির পাখার তলায় দাঁড়িয়ে ছিল একটা রাজকীয় বৃহৎ অট্টালিকা, যেমন জীবন দাঁড়িয়ে থাকে মৃত্যুর আচ্ছাদনের নিচে। এই অট্টালিকার ভেতরে হাতির দাঁতের তৈরি একটা টেবিলে বসে ছিল এক তরুণী। তার কোমল হাতের ওপর রাখা মাথাটাকে মনে হচ্ছিল যেন পাপড়ির ওপর শুকিয়ে যাওয়া একটা পদ্মফুল শুয়ে আছে। সে চারদিকে তাকাল। নিজেকে তার দুর্গত বন্দির মতো মনে হচ্ছিল যে ভূগর্ভস্থ অন্ধকার কারাগারের দেয়াল ভেদ করার জন্য সংগ্রাম করছিল তাদের দৃষ্টি দিয়ে এবং দেখছিল জীবন হেঁটে যাচ্ছে স্বাধীনতার মিছিলের সঙ্গে।

    ঘণ্টাগুলি পার হল রাত্রির প্রেতাত্মার মতো, যেমন একটা মিছিল তার দুঃখের জন্য শোকগীতি গাইছিল এবং সে অনুভব করল তার অশ্রুজল ঝরে পড়ছে মর্মবেদনার নির্জনতার ভেতরে, যখন সে তার ভোগান্তির চাপ প্রতিহত করতে পারল না এবং অনুভব করল তার হৃদয়ের ভাণ্ডারকৃত গোপনীয়তাগুলির ওপর তার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সে তুলে নিল একটা পালকের কলম এবং তার অশ্রু মেশাতে শুরু করল কালির সঙ্গে পশুচর্মের ওপর এবং সে লিপিবদ্ধ করল :

    ‘প্রিয়তম বোন আমার,

    গোপনীয়তার কারণে যখন হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে আসে এবং চোখ পুড়তে শুরু করে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুর কারণে এবং পাঁজর বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ওঠে হৃদয়ের বন্দিত্বের সাথে সাথে, তখন এরকম গোলকধাঁধার ব্যাখ্যা কেউই খুঁজে পায় না শুধুমাত্র এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া ছাড়া।

    বেদনার্ত মানুষেরা আনন্দ খুঁজে পায় বিলাপের ভেতরে এবং প্রেমিক-প্রেমিকার মুখোমুখি শত্রুতায় সুখী হয় এবং শোক প্রকাশ করে স্বপ্নের ভেতরে এবং অন্যায়ভাবে শাসিত যারা, তারা উল্লসিত হয় সহানুভূতি পেলে। আমি এখন তোমাকে লিখছি কারণ আমি অনুভব করি একজন কবির মতো যে কল্পনা করে বস্তুর সৌন্দর্য, যার প্রতিক্রিয়ায় সে সৃজন করে কবিতাকে যখন সে শাসিত হয় ঐশ্বরিক ক্ষমতা দ্বারা … আমি হলাম ক্ষুধার কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া গরিবদের শিশুর মতো, যে খাবারের জন্য কাঁদে, ক্ষুধার তিক্ততা দ্বারা প্ররোচিত হয় এবং অগ্রাহ্য করে দারিদ্র্যের দুরবস্থা, দয়ালু মাতা এবং জীবনের পরাজয়কে।

    ‘প্রিয় বোন আমার, শোনো আমার বেদনার্ত কাহিনী এবং আমার সঙ্গে কাঁদো, কারণ ফুঁপিয়ে কাঁদা হচ্ছে প্রার্থনার মতো এবং ক্ষমার অশ্রু হচ্ছে দানের মতো, কারণ তারা বেদির সামনে আসে জীবন্ত, সংবেদনশীল এবং উত্তম আত্মা থেকে এবং তারা ব্যর্থতায় পতিত হয় না। এটা ছিল আমার পিতার ইচ্ছা এবং একজন সৎ ও ধনী মানুষকে আমি বিয়ে করেছিলাম। আমার পিতা ধনীদের পছন্দ করতেন বেশি, যার জীবনের একমাত্র আনন্দ হচ্ছে সম্পদ বাড়ানো, ধনভাণ্ডারে সোনার পরিমাণ বাড়িয়ে তোলা, দারিদ্র এবং দুঃসময়ের আক্রমণের ভয়ে আগে থেকেই সততার সঙ্গে মহিমার অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করা… আমার সমস্ত ভালোবাসা ও স্বপ্নসহ আমি তখন আমাকে খুঁজে পেয়েছি সোনালি বেদির ওপর যে কেবলই একটা শিকার, যাকে আমি ঘৃণা করি এবং আমি তুচ্ছজ্ঞান করি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সম্মান।

    ‘আমি আমার স্বামীকে সম্মান করি, কারণ সে সবার প্রতি দয়ালু ও উদার, সে চেষ্টা করে সুখ আমার কাছে বহন করে আনতে এবং আমাকে খুশি করতে সে ব্যয় করে সোনা, কিন্তু আমি দেখেছি এসব জিনিসের প্রতিক্রিয়া সত্য ও ঐশ্বরিক ভালোবাসার একটি মুহূর্তের চেয়ে মোটেও মুল্যবান নয়। হে আমার বোন, আমাকে উপহাস কোরো না, কারণ একজন নারীর হৃদয়ের প্রয়োজনের বিবেচনায় আমি এখন একজন সবচেয়ে আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তি—সেই স্পন্দিত হৃদয়, যা একটা পাখির মতো ভালোবাসার প্রশস্ত আকাশে উড়ছে… এটা হল একটা গ্রন্থের মতো যা পৃষ্ঠাগুলোতে একজন পড়ে সুখ এবং দুর্গতি, উল্লাস ও বেদনা, উচ্চহাসি ও দুঃখ নামের অধ্যায়গুলি। প্রকৃত সঙ্গী ছাড়া কেউই এ গ্রন্থ পড়তে পারে না, যারা নারীর অর্ধাঙ্গ এবং যারা সৃষ্টি হয়েছিল পৃথিবীর শুরুতেই। ‘হ্যাঁ, সমস্ত নারীর ভেতরে আমি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলাম আত্মার উদ্দেশ্য এবং হৃদয়ের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে, কারণ আমি দেখেছিলাম আমার চমৎকার ঘোড়া ও সুন্দর গাড়ি এবং সোনার উজ্জ্বল রত্নভাণ্ডার এবং মহিমান্বিত সততা কোনোকিছুই গরিব যুবকদের চোখের একটা পলকের চেয়ে মূল্যবান নয়, যারা ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছে এবং ভুগছে দুর্গতি ও তিক্ততার তীব্র বেদনায়… সেই যৌবন, যা অন্যায়ভাবে শাসিত হয়েছিল নিষ্ঠুরতা এবং আমার পিতার ইচ্ছা দ্বারা এবং তাকে বন্দি করে রেখেছিল জীবনের বিষাদগ্রস্ত ও সংকীর্ণ কারাগারে…

    ‘দয়া করে আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কৌশল আবিষ্কার কোরো না আমার প্রিয় বোন, কারণ এটা একটা বিপর্যয় যার ভেতর দিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি যে আমার ভালোবাসাই আমার বিশাল সান্ত্বনাদানকারী। এখন আমি আমার অশ্রুজলের পেছন থেকে সামনের দিকে তাকাচ্ছি এবং অপেক্ষা করছি মৃত্যুর আগমনের আমাকে নেতৃত্ব দিতে সেই দিকে যেখানে আমি আমার আত্মার সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হব এবং তাকে আলিঙ্গন করব, যেভাবে এই অদ্ভুত পৃথিবীতে প্রবেশের আগে তাকে আলিঙ্গন করেছিলাম।

    ‘আমাকে খারাপ ভেবো না, কারণ বিশ্বস্ত স্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি এবং শাস্তভাবে ও ধৈর্যের সঙ্গে মতামত প্রকাশ করছি মানুষের আইন ও নিয়ম-কানুনসহ আমি শ্রদ্ধা করি আমার স্বামীকে আমার বিচারবুদ্ধি অনুসারে এবং সম্মান করি তাকে আমার হৃদয় থেকে এবং গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি আমার আত্মার ভেতরে, কিন্তু সেখানে একটা পিছুটান রয়েছে, কারণ ঈশ্বর আমার একটা অংশ আমার প্রিয়তমাকে দান করেছিলেন আমি তাকে চেনার আগেই।

    ‘স্বর্গের ইচ্ছা হয়েছিল আমি এমন একটা লোকের সঙ্গে জীবন কাটাই আমার জন্য যার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং আমি নীরবে অতিবাহিত করছি আমার নিষ্ফলা দিনগুলি স্বর্গের ইচ্ছা অনুযায়ী, কিন্তু যদি অনন্তকালের দরজাগুলি না খোলে, আমি থেকে যাব আমার আত্মার চমৎকার অর্ধাংশের সাথে, তাকাব পেছনে অতীতের দিকে এবং সেই অতীত হচ্ছে এই বর্তমান… আমি অবশ্যই জীবনের দিকে তাকাব যেভাবে বসন্তকাল শীতকালের দিকে তাকায় এবং গভীরভাবে চিন্তা করব জীবনের বাধাগুলি সম্পর্কে যেভাবে একজন কর্কশ পদচিহ্নের ওপর আরোহণ করেছিল এবং পৌঁছে গিয়েছিল পাহাড়ের শীর্ষে।’

    সেই মুহূর্তে যুবতী লেখা থামিয়ে দুই হাতের ভেতরে মুখ লুকাল এবং তিক্ত কান্নার ধ্বনি শোনা গেল। তার হৃদয় কলমের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাল অর্থাৎ তার ঐশ্বরিক গোপনীয়তা, কিন্তু ফিরিয়ে আনল ঢেলে দেওয়া শুকনো অশ্রুজল যা দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেল এবং মিশে গেল কোমল ইথারে- প্রেমিক-প্রেমিকা এবং ফুলের আত্মাগুলির বিশ্রামস্থল। একমুহূর্ত পর সে কলমটা তুলে নিল এবং যোগ করল। তুমি কি সেই যৌবনকে স্মরণ করতে পারো? তুমি কি পুনরায় সংগ্রহ করতে পারো সেই রশ্মিগুলি যা তার চোখ থেকে প্রবাহিত হয়েছিল এবং তার মুখের ওপর কষ্টের যে চিহ্ন? তুমি কি সেই হাসিকে পুনরায় আহ্বান জানাও যা যথারীতি একজন মায়ের অশ্রু ঝরায়, কেড়ে নেয় একমাত্র সন্তানকে তুমি কি তার শান্ত কণ্ঠস্বর পুনরায় চিহ্নিত করতে পার যা দূরবর্তী উপত্যাকার প্রতিধ্বনির ভেতরে কথা বলছে? তুমি কি স্মরণ করতে পারো তাকে ধ্যানরত অবস্থায়, যে আকুল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বস্তুসমূহের দিকে এবং তাদের সম্পর্কে কথা বলছে অদ্ভুত ভাষায় এবং তারপর তার মাথা বাঁকা করছে এবং ফেলছে দীর্ঘশ্বাস, যেন তার বিশাল হৃদয়ের গোপনীয়তা প্রকাশ করতে সে আতঙ্কিত হচ্ছে? তুমি কি তার স্বপ্ন ও বিশ্বাসসমূহকে পুনরায় আহ্বান জানাবে? তুমি কি যাবতীয় বস্তু পুনরায় সংগ্রহ করবে তোমার যৌবনের ভেতরে, মানবতা যাকে তার একজন সন্তান হিসেবে গণনা করে এবং যার দিকে আমার পিতা উৎকৃষ্টতার দৃষ্টিতে তাকায়, কারণ সে জাগতিক লোভের চেয়ে উন্নততর এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মহিমার চেয়েও মহত্তর?

    ‘প্রিয় বোন আমার, তুমি জানো, এই অবমাননার পৃথিবীতে আমি হলাম একজন অত্মোৎসর্গকারী এবং অবজ্ঞার শিকার। তুমি কি একজন বোনকে সহানুভূতি জানাবে ভয়াবহ রাত্রির নীরবতায় যে বসে আছে, ঢেলে দিচ্ছে তার অন্তরাত্মার পরিতৃপ্তি এবং প্রকাশ করছে তোমার কাছে তার হৃদয়ের গোপনীয়তাগুলি? আমি নিশ্চিত তুমি আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, কারণ আমি জানি ভালোবাসা তোমার হৃদয়ও পরিদর্শন করেছে।’

    ভোর হল এবং যুবতী আত্মসমর্পণ করল সুখনিদ্রার কাছে এবং আশা করল সেই সব স্বপ্নের চেয়ে অধিকতর মধুর ও কোমল স্বপ্ন দেখার, জাগরণে সে যার মুখোমুখি হয়েছিল।

    .

    মোহিনী হুরি 

    কোথায় আমাকে নিয়ে যাচ্ছ তুমি হে মোহিনী হুরি,
    এবং কতকাল আমি তোমাকে অনুসরণ করব
    এই নগন্য পথ ধরে, যেখানে রোপন করা হয়েছে কাঁটা?
    কতদিন আমাদের আত্মারা আরোহন ও অবতরণ
    করবে বেদনার সঙ্গে দলে-মুচড়ে যাওয়া
    পাথুরে পথের ওপর?

    একটা শিশুর মতো অনুসরণ করছ তার মাকে,
    আর আমি অনুসরণ করছি তোমাকে, ধরে আছি
    তোমার পোশাকের প্রান্ত, ভুলে যাচ্ছি আমার
    স্বপ্নগুলি এবং স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তোমার
    সৌন্দর্যের দিকে, আমার চোখ দুটিকে বেঁধে
    রাখছি তোমার যাদুমন্ত্রের সঙ্গে অপচ্ছায়াদের মিছিলে,
    যা পাখা না নাড়িয়ে আমার ওপর স্থির হয়ে ভেসে আছে
    এবং তোমাকে আক্রমণ করে আমার ভেতরের
    অন্তরাত্মার শক্তি দিয়ে, যাকে আমি
    অস্বীকার করতে পারি না।

    এক মুহূর্তের জন্য থাম, আমাকে দেখতে দাও তোমার
    প্রসন্নতা এবং এক মুহূর্তের জন্য আমার দিকে তাকাও,
    সম্ভবত আমি তোমার বিস্ময়কর চোখের ভেতর দিয়ে
    হৃদয়ের গোপনীয়তা জানতে পারব। থাম এবং
    বিশ্রাম নাও, কারণ আমি ক্লান্ত এবং আমার আত্মা
    এই উদ্ভট পদচিহ্নের ওপর আতঙ্কে কাঁপছে।
    থাম, কারণ আমরা পৌছে গেছি দুই রাস্তার সেই
    ভয়াবহ সংযোগস্থলে, যেখানে মৃত্যু আলিঙ্গন করে
    জীবনকে।

    হে হুরি, আমার কথা শোন। আমি ছিলাম
    পাখির মতো স্বাধীন, বিচরণ করেছি উপত্যকা এবং
    বণভূমির ভেতরে এবং উড়েছি প্রশস্ত আকাশে। সন্ধ্যায়
    বিশ্রাম নিয়েছি গাছের শাখার ওপর, ধ্যান করেছি
    বর্ণময় মেঘের শহরের মন্দির ও প্রাসাদগুলির,
    যা সূর্য ভোরবেলায় নির্মাণ করে এবং ধ্বংস করে গোধূলিবেলায়।

    আমি ছিলাম একটা চিন্তার মতো, শান্তিতে হাঁটছি একাকি
    পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে, উল্লসিত
    হচ্ছি জীবনের আনন্দ ও সৌন্দর্যের সঙ্গে এবং
    অনুসন্ধান করছি অস্তিত্বের চমৎকার রহস্য।

    আমি ছিলাম একটা স্বপ্ন, এগিয়ে যাচ্ছি রাত্রির
    বন্ধুত্বপূর্ণ পাখার তলা দিয়ে, প্রবেশ করছি
    যুবতীদের কক্ষের বন্ধ জানালা দিয়ে, প্রাণবন্ত
    করে তুলছি এবং জাগিয়ে রাখছি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে
    … তারপর আমি বসেছিলাম যুবকদের পাশে
    এবং আলোড়িত করেছিলাম তাদের আকাঙ্ক্ষাকে
    … তারপর আমি তদন্ত করেছিলাম বয়সীদের
    বাসস্থান এবং বিদ্ধ করেছিলাম তাদের
    পরিতৃপ্তির প্রশান্ত চিন্তাগুলিকে।

    তারপর আমার অলীক কল্পনাকে তুমি দখল
    করে নিলে এবং সেই সম্মোহিত মুহূর্তে আমি অনুভব
    করলাম নিজেকে একজন বন্দির মতো, যে টেনে
    নিয়ে যাচ্ছে তার হাতকড়া ও বেড়ি এবং
    বাধ্য হচ্ছে অপরিচিত জায়গায় যেতে…
    আমি তোমার মিষ্টি মদে নেশাগ্রস্ত হয়ে
    পড়েছিলাম যা আমার ইচ্ছা শক্তিকে হরণ করেছে
    এবং এখন আমি দেখতে পাই আমার ওষ্ঠ
    চুম্বন করছে সেই হাতদুটিকে যা আমাকে তীব্রভাবে
    আঘাত করে। তুমি কি তোমার আত্মার চোখ দিয়ে
    আমার আত্মার চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া দেখতে পাও না?
    এক মুহূর্তের জন্য থাম, আমি পুনরায় আমার শক্তি
    অর্জন করছি এবং ভারি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত
    করছি আমার ক্লান্ত পদযুগকে। আমি আমার কাপটা
    ভেঙে ফেলেছি যা থেকে আমি পান করেছি তোমার
    সুস্বাদু বিষ… বর্তমানে আমি একটা বিস্ময়কর
    ভূমিতে অবস্থান করছি এবং বিভ্রান্ত হয়েছি,
    আমি কোন পথ অনুসরণ করব?
    আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তুমি কি আমাকে
    তোমার সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে নেবে
    যে চকচকে চোখ মেলে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে
    এবং অকম্পিত আঙুলে আঁকড়ে ধরে আগুন?

    আমি আমার পাখাগুলিকে বাঁধনমুক্ত করেছি এবং
    আমি প্রস্তুত আরোহন করতে, তুমি কি একজন
    যুবকের সঙ্গ চাও যে তার দিনগুলিকে অতিবাহিত
    করছে একাকি ঈগলের মতো পাহাড়ের যত্রতত্র
    ঘুড়ে বেড়িয়ে এবং অপচয় করছে রাত্রিগুলি
    ক্লান্তিহীন সিংহের মতো মরুভূমিতে পথ হারিয়ে

    ‘তুমি কি পরিতৃপ্ত করবে নিজেকে তার মায়া মমতা
    দিয়ে, যে একজন পেশাদার আনন্দ দানকারী হিসেবে
    ভালোবাসার দিকে তাকায় এবং তাকে প্রত্যাখ্যান করে
    প্রভু হিসেবে মেনে নিতে?

    ‘তুমি কি সেই হৃদয়কে গ্রহণ করবে যে ভালোবাসে কিন্তু
    কখনও বশ্যতা স্বীকার করে না এবং পুড়ে যায় কিন্তু
    কখনও গলে না? তুমি কি একটি আত্মার সঙ্গে
    উদ্বিগ্ন হবে যে ঝড়ের মুখোমুখি শিহরিত হয় এবং
    কখনও আত্মসমর্পণ করে না? তুমি কি সঙ্গী হিসেবে
    একজনকে গ্রহণ করবে যে কাউকে দাসে পরিণত
    করেনা, একীভূতও হয় না? তুমি কি আমাকে জিতে নেবে
    কিন্তু অধিকার খাটাবেনা- তুমি নেবে আমার শরীর
    আমার হৃদয়টিকে নয়?

    এখানে এই হল আমার হাত- আঁকড়ে ধর তাকে তোমার
    সুন্দর হাত দু’খানা দিয়ে এবং এখানে আমার শরীর—তোমার
    প্রেমময় বাহু দিয়ে একে আলিঙ্গন কর এবং এখানে
    আমার ওষ্ঠ—তার ওপর প্রদান কর গভীর ও
    বিহ্বল চুম্বন।

    .

    পোশাকের পেছনে 

    র‍্যাচেল মধ্যরাত ঘুম থেকে জেগে উঠল এবং স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল তার কক্ষের ছাদে দৃশ্যযোগ্য কিছু একটার দিকে। সে জীবনের ফিসফিসানির চেয়ে অধিকতর প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, নরকের বিলাপমিশ্রিত আহ্বানের চেয়ে অধিকতর বিষণ্ণতা, সাদাপাখার খসখসানির চেয়ে অধিকতর কোমল শব্দ এবং ঢেউয়ের বার্তার চেয়ে গভরিতর বাণী শুনতে পেল… এটা স্পন্দিত হল আকাঙ্ক্ষা ও অন্তসারশূন্যতার সঙ্গে, আনন্দ ও দুর্গতির সঙ্গে এবং জীবনের মায়া-মমতার সঙ্গে, যদিও তা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত। র‍্যাচেল তারপর চোখ বন্ধ করে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং বলল, ‘ ভোরবেলা এই উপত্যকার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে। আমাদের উচিত সূর্যের দিকে যাওয়া এবং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।’ তার ঠোঁট দুটো ফাঁক হয়েছিল এবং তা প্রতিধ্বনি করছিল আত্মার ভেতরের গভীর ক্ষতের।

    সেই মুহূর্তে যাজক তার বিছানার কাছে এগিয়ে গেলেন এবং অনুভব করলেন তার হাত, কিন্তু তা ছিল বরফের মতো ঠাণ্ডা এবং যখন সে নির্মমভাবে আঙুল রাখল তার হৃদয়ের ওপর, সে নিশ্চিত হল যে, এটা ছিল অতীত যুগের মতো নিশ্চল এবং হৃদয়ের গোপনীয়তায় নীরব।

    গভীরতর হতাশার ভেতরে ফাদার মাথা নোয়ালেন। তার ঠোঁট শিহরিত হচ্ছিল, প্রত্যাশা করছিল একটা ঐশ্বরিক শব্দ উচ্চারণের এবং তা পুনরাবৃত্তি করছিল দূরবর্তী ও পরিত্যক্ত উপত্যকাগুলিতে রাত্রির প্রেতাত্মাদের দ্বারা।

    বুকের ওপর দুই হাত আড়াআড়িভাবে রাখার পর যাজক ঘরের অন্ধকারময় কোণায় বসে থাকা লোকটার দিকে তাকাল এবং দয়ালু কণ্ঠস্বরে বলল, ‘ তোমার প্রিয়তমা আলোর বিশাল বৃত্তের ভেতরে পৌঁছে গেছে। এসো হে আমার ভাই, চল আমরা হাঁটু গেড়ে বসি এবং প্রার্থনা করি।’

    বেদনার্ত স্বামী মাথা তুলল, তার চোখ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল অদৃশ্যের দিকে এবং তারপর পরিবর্তিত হল তার প্রতিক্রিয়া যেন সে তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পেল অপরিচিত ঈশ্বরের প্রেতাত্মাকে। সে তার অবশিষ্ট সবকিছু জড়ো করল এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে হেঁটে গেল তার স্ত্রীর বিছানার দিকে এবং হাঁটু গেড়ে বসল যাজকের পাশে, যে প্রার্থনা ও বিলাপ করছিল এবং আঙুল দিয়ে তৈরি করছিল ক্রুশচিহ্ন।

    তীব্র শোকে পীড়িত স্বামীর কাঁধে হাত রেখে ফাদার শান্ত স্বরে বললেন, ‘পাশের ঘরে যাও ভাই, কারণ তোমার বিশ্রাম প্রয়োজন। সে বাধ্য মানুষের মতো উঠে দাঁড়াল এবং পাশের ঘরে গিয়ে নিজেকে নিক্ষেপ করল একটা সংকীর্ণ বিছানায় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সে ঘুমের রাজ্যে পাল তুলে দিল একটা ছোট্ট শিশুর মতো, যে তার স্নেহময়ী মায়ের দয়ার্দ্র বাহুর ভেতরে আশ্রয় নিচ্ছে। যাজক ঘরের মাঝখানে একটা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং বিস্ময়কর একটা দ্বন্দ্ব তাকে চেপে ধরল। অশ্রুসজল চোখে যুবতীর ঠাণ্ডা শরীরটার দিকে তাকালেন তারপর পর্দার ফাঁক দিয়ে তাকালেন তার স্বামীর দিকে যে সুখনিদ্রার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। এক ঘণ্টা এক যুগের চেয়েও অধিকতর দীর্ঘ ছিল, এমনকি ভয়াবহ মৃত্যুর চেয়েও, যা ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে এবং দুটি পৃথক আত্মার মাঝখানে যাজক তখনও দাঁড়িয়েছিলেন। একজন স্বপ্ন দেখছিল যেভাবে শস্যক্ষেত স্বপ্ন দেখে শীতের বিয়োগান্তক নাটকের পর আসন্ন বসন্তের এবং অন্যরা বিশ্রাম নিচ্ছিল চিরদিনের জন্য।

    তারপর যাজক যুবতী নারীর শরীরের কাছাকাছি এলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসলেন যেন বেদীর সামনে তিনি প্রার্থনা করছেন। তিনি যুবতীর ঠাণ্ডা হাতটা ধরলেন এবং তা রাখলেন নিজের শিহরিত ওষ্ঠের ওপর এবং তাকালেন যুবতীর মুখের দিকে, যা মৃত্যুর কোমল অবগুণ্ঠনে সজ্জিত ছিল। একই সঙ্গে তার কণ্ঠস্বর ছিল রাত্রির মতো শান্ত এবং গহ্বরের মতো গভীর এবং দ্বিধাগ্রস্ত মানুষের আকাঙ্ক্ষার মতো এবং তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, ‘হে র‍্যাচেল, আমার আত্মার বধু আমার কথা শোন। অবশেষে আমি কথা বলতে পারলাম। মৃত্যু আমার ঠোঁট দুটোকে খুলে দিয়েছে সুতরাং জীবনের চেয়েও গভীরতর গোপনীয়তা আমি এখন তোমার কাছে প্রকাশ করতে পারি। যন্ত্রণা আমার জিভকে মুক্তি দিয়েছে এবং আমি তোমার কাছে প্রকাশ করতে পারি আমার ভোগান্তি যা বেদনার চেয়েও অধিক বেদনাদায়ক। আমার হৃদয়ের কান্না শোন, হে শুদ্ধতম আত্মা, মাটি ও আকাশের মাঝখানে পাখা না নাড়িয়ে স্থির হয়ে ভাসছে। যৌবনের প্রতি মনোযোগ দাও, যে শস্যক্ষেত থেকে তোমার ফিরে আসার অপেক্ষা করছে, স্থির দৃষ্টিতে গাছের পেছন থেকে নিজের দিকে তাকাও। এখানে একজন যাজক রয়েছে যে ঈশ্বরের সেবা করছে, নির্লজ্জের মতো আহ্বান জানাচ্ছে তোমাকে ঈশ্বরের শহরে পৌঁছানোর পর। আমি আমার ভালোবাসার শক্তিকে প্রমাণ করেছি তা গোপন করে।’

    আত্মাকে উন্মুক্ত করে ফাদার যুবতীর ওপর ঝুঁকলেন এবং তার কপালে, চোখে এবং গলায় তিনটি দীর্ঘ, উষ্ণ ও নীরব চুম্বনের ছাপ এঁকে দিলেন, ঢেলে দিতে লাগলেন তার হৃদয়ের ভালোবাসা ও যন্ত্রণার গোপনীয়তা ও বছরগুলির তীব্র মনোকষ্ট। তারপর তিনি হঠাৎ করেই অন্ধকার কোনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন এবং মেঝের ওপর পতিত হলেন মর্মবেদনার ভেতরে; কাঁপতে লাগলেন শরতের পাতার মতো যেন যুবতীর ঠাণ্ডা মুখের স্পর্শ জেগে ছিল তার ভেতরে এবং তা হল আত্মার অনুশোচনা। তারপর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসলেন, দু’হাতের ভেতরে মুখ লুকালেন এবং কোমল স্বরে ফিসফিস করে বললেন, ‘ হে ঈশ্বর… আমার পাপ ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন আমার দুর্বলতাগুলি। হে অধিপতি, আমি সেইসব প্রকাশ না করে থাকতে পারব না যা আপনি জানেন। সাত বছর আমি আমার হৃদয়ে এই গভীর গোপনীয়তাকে লুকিয়ে রেখেছি কথার পৃথিবী থেকে যতক্ষণ মৃত্যু এসে আমাকে বিচ্ছিন্ন না করে। আমাকে সাহায্য করুন হে ঈশ্বর, ভয়াবহ ও সুন্দর স্মৃতিগুলিকে লুকিয়ে ফেলতে যা মধুরতা বহন করে আনে জীবন থেকে এবং তিক্ততা বহন করে আনে আপনার কাছ থেকে। হে আমার অধিপতি আমাকে ও আমার দুর্বলতাকে ক্ষমা করুন।’

    যুবতীর মৃতদেহের দিকে না তাকিয়েই তিনি বিলাপ করতে লাগলেন যতক্ষণ না ভোর হল এবং খসে পড়ল গোলাপি অবগুন্ঠন দুটি স্থির প্রতিমূর্তির ওপর থেকে, যারা প্রকাশ করছিল একজন মানুষের কাছে ধর্ম ও ভালোবাসার দ্বন্দ্ব এবং অন্যদের কাছে জীবন ও মৃত্যুর শান্তি।

    .

    মৃত আমার জনগণ 

    [সিরিয়ায় দুর্ভিক্ষের সময় নির্বাসিত অবস্থায় লেখা

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ 

    আমার জনগণ চলে গেছে কিন্তু আমি রয়ে গেছি,
    বিলাপ করছি তাদের জন্য আমার নির্জনতার ভেতরে…
    আমার বন্ধুরা মৃত এবং তাদের মৃত্যুতে বিপর্যপ্ত
    হয়ে পড়েছে আমার জীবন ।

    আমার দেশের ছোট ছোট ঢিবিগুলো অশ্রুজল
    ও রক্তে ডুবে আছে, কারণ আমার জনতা ও অত্যন্ত
    প্রিয় মানুষেরা চলে গেছে এবং আমি এখানে বেঁচে আছি
    যেমন বেঁচে ছিলাম যখন আমার জনতা ও
    প্রিয় মানুষেরা জীবন এবং জীবনের অকৃপণ দান উপভোগ করেছিল এবং যখন আমার
    দেশের পাহাড়গুলি আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং তাদেরকে
    গ্রাস করেছিল সূর্যের আলো।

    আমার জনগণ মারা গেছে ক্ষুধায় এবং ক্ষুধাজনিত কারণে
    যে মারা যায়নি তাকে জবাই করা হয়েছিল তরবারি দিয়ে
    এবং আমি এখানে এই দূরবর্তী ভূমিতে উৎফুল্ল জনতার সঙ্গে যত্রতত্র
    ঘুরছি, যারা নরম বিছানায় ঘুমায় এবং সারাদিন হাসে,
    যখন দিনগুলি তাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে।

    খুব বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক মৃত্যু হয়েছিল আমার
    জনতার এবং এখানে আমি বেঁচে আছি প্রাচুর্য ও
    শান্তির ভেতরে … এটা একটা গভীর বিয়োগান্তক
    নাটক যা একটি চিরকালীন আইন এবং আমার হৃদয়ের
    মঞ্চে তা অভিনীত হচ্ছে, এই নাটক
    দেখার সময় কেউ কেউ সতর্কতা অবলম্বন করে,
    কারণ আমার জনগণ হচ্ছে ডানা
    ভেঙে যাওয়া পাখির মতো, যাকে পিছনে ফেলে গেছে
    তার ঝাঁকের পাখিরা।

    আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম এবং বেঁচে ছিলাম আমার
    জনতার ভেতরে যারা ক্ষুধায় মৃতপ্রায় এবং আমার নিপীড়িত
    দেশবাসীর মধ্যে যাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। বন্ধ্যা
    দিনগুলির বোঝা অধিকতর হালকা হবে আমার ক্লান্তিহীন
    স্বপ্নের ওপর এবং রাত্রির অস্পষ্টতা হবে কম অন্ধকার আমার
    অন্তঃসারশূন্য দৃষ্টি, ক্রন্দনরত হৃদয় এবং আমার আহত আত্মার সম্মুখে।
    কারণ, যারা জনগণের সঙ্গে তাদের দুঃখ ও মর্মবেদনা
    ভাগাভাগি করে তারা অনুভব করবে সর্বময় ক্ষমতার
    সুখ যা তৈরি হয়েছিল শুধুমাত্র আত্মোৎসর্গের ভোগান্তির
    মাধ্যমে। এবং সে নিজের ভেতরে শান্তিতে থাকবে, যখন
    সে নিষ্পাপ অবস্থায় মারা যায় তার নিষ্পাপ শিষ্যদের সঙ্গে।

    আমি বেঁচে আছি কিন্তু ক্ষুধা নিয়ে নয় এবং
    কষ্ট পাওয়া জনগণ যারা মৃত্যুর মিছিলে হাঁটছে
    মৃত্যুর দিকে যেতে শহীদ হওয়ার জন্য
    ….আমি এখানে বিস্তৃত সমুদ্রের ওপরে বেঁচে
    আছি প্রশান্তির ছায়া এবং শান্তির
    সূর্যালোকের ভেতরে… দয়ার্দ্র অঞ্চল এবং
    দুর্গত মানুষ থেকে আমি দূরে থাকি এবং যা কিছু
    আছে তা নিয়ে গর্বিত হতে পারিনা।
    এমনকি ফেলতে পারি না নিজের চোখের জল।

    একজন নির্বাসিত পুত্র তার জনগণের জন্য
    কি করতে পারে, যারা ক্ষুধাজনিত কারণে
    মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে এবং একজন অনুপস্থিত
    কবির বিলাপ তাদের কাছ কতটুকু মূল্যবান।
    আমি কি ছিলাম শস্যকণার শ্রবণেন্দ্রিয় এবং
    বেড়ে উঠেছিলাম আমার দেশের মাটিতে, ক্ষুধার্ত
    শিশুরা আমাকে আহরণ করবে এবং অপসারণ
    করবে আমার মর্মস্থল থেকে সবকিছু—মৃত্যুর আত্মা থেকে
    বেরিয়ে আসা মৃত্যুর হাত। আমি কি আমার দেশের
    বাগানের পাকা একটি ফল, ক্ষুধাজনিত কারণে মৃত্যুমুখে
    পতিত হয়েছে যে নারীরা তারা আমাকে জড়ো করবে এবং
    টেকসই হবে জীবন। আমি একটা পাখি ছিলাম
    যে দেশের আকাশে উড়ছে, আমার ক্ষুধার্ত ভাই
    আমাকে শিকার করবে এবং আমার শরীর থেকে ছাড়িয়ে
    নেবে মাংস যা তার শরীর থেকে আসা কবরের ছায়া।
    কিন্তু হায়! আমি শস্যকণার শ্রবনেন্দ্রিয় নই,
    যা সিরিয়ার সমতলভূমিতে বেড়ে উঠেছে,নই একটি
    পাকা ফল লেবাননের উপত্যকার, এটাই হল আমার
    দুর্ভাগ্য এবং এটাই হল আমার শব্দহীন
    বিপর্যয়, যা আমার আত্মা ও রাত্রির প্রেতাত্মার সম্মুখে বহন করে
    আনে অবমাননা… এই হচ্ছে সেই কষ্টকর
    বিয়োগান্তক নাটক যা শক্ত করে বেঁধে রেখেছে
    আমার জিভ এবং বাহু এবং আমাকে গ্রেফতার
    করেছে, আমার ক্ষমতা, ইচ্ছা এবং কর্মকাণ্ডকে
    জবরদখল করে। এই হল ঈশ্বর ও মানুষের
    সামনে আমার কপালের ওপর জলন্ত অভিশাপ।

    প্রায় সময়ই তারা আমাকে বলে, তোমার বিপর্যয়
    পৃথিবীর বিপর্যয় নয় এবং তোমার লোকেরা যে রক্ত ও
    অশ্রু ঝরিয়েছে তা অশ্রু ও রক্তের নদীর
    কাছে কিছুই নয় এবং প্রতিদিন প্রতিরাতে তা
    ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীর সমতলভূমি ও উপত্যকাগুলিতে….

    হ্যাঁ, আমার জনগণের মৃত্যু হচ্ছে একটি নিরব অভিযোগ,
    এটা একটা অপরাধ যা ধারণ করেছিল অদৃশ্য সাপের
    মস্তিস্ক… এটা ছিল সঙ্গীতহীন ও দৃশ্যহীন একটা বিয়োগান্তক নাটক…. এবং
    যদি আমার জনগণ স্বৈরশাসক ও নিপীড়ণকারীদের
    আক্রমণ করত তাহলে তারা মারা যেত বিদ্ৰোহী
    হিসেবে এবং আমি বলতাম, দুর্বলের
    বশ্যতার ছায়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে স্বাধীনতার আত্মদান
    অধিকতর মহৎ কাজ, কারণ যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন
    করে মৃত্যুর হাতে ধরা তরবারিসহ, সে-ই
    সত্যের অনন্তকালের সঙ্গে অনন্তকালকে মৃত্যুঞ্জয়ী
    করে তুলবে, কারণ জীবন মৃত্যুর চেয়ে দুর্বল এবং
    মৃত্যু সত্যের চেয়ে দুর্বল।

    যদি আমার জাতি অন্যসব জাতির যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে
    এবং মারা যায় যুদ্ধক্ষেত্রে, তাহলে আমি বলব যে,
    উন্মত্ত ঝড় তার পরাক্রমশীলতাসহ সবুজ শাখাগুলিকে
    ভেঙে ফেলেছে এবং শক্তিশালী মৃত্যু ঝড়ের আচ্ছাদনের
    নিচে অধিকতর মহৎ জরাগ্রস্ততার বাহুর নিচে
    ধীরে ধীরে ধ্বংস হওয়ার চেয়ে।
    কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া চোয়ালের মাঝখান থেকে
    কোন উদ্ধার নেই … আমার জনগণ পতিত হল
    এবং ক্রন্দনরত দেবদূতদের সঙ্গে কাঁদল।

    যদি ভূমিকম্প আমার দেশটাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে
    এবং আমার জনগণকে গ্রাস করে নেয়
    তার বক্ষের ভেতরে। আমি বলব, ‘একটি বিশাল
    এবং রহস্যময় আইন গতিশীল হয়েছে ঐশ্বরিক
    শক্তির দ্বারা এবং এটাই হবে শুদ্ধ পাগলামি
    যদি আমরা, দুর্বল ও মরণশীলেরা চেষ্টা করি
    অনুসন্ধান করতে এর গভীর গোপনীয়তা…’

    কিন্তু আমার জনগণ বিদ্রোহী হিসেবে মারা
    যায় নি, তাদেরকে হত্যা করা হয়নি যুদ্ধক্ষেত্রে,
    ভূমিকম্প চূর্ণ-বিচূর্ণ করেনি আমার দেশ এবং
    পরাভূত করেনি তাদেরকে। মৃত্যুই ছিল তাদের
    একমাত্র উদ্ধার এবং ক্ষুধাজনিত কারণে মৃত্যুমুখে
    পতিত হওয়াই ছিল একমাত্র ক্ষতি।

    আমার জনগণ মারা গিয়েছিল ক্রুশের ওপর…
    তারা যখন মারা যায় তখন দুহাত বাড়িয়ে
    রেখেছিল পূর্ব ও পশ্চিমের দিকে, এখন
    তাদের চোখ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল নভোমণ্ডলের
    অন্ধকারের দিকে… তারা মারা গিয়েছিল নীরবে
    কারণ মানবতা তার কান বন্ধ করে রেখেছিল যেন
    তাদের কান্না শুনতে না হয়। তারা মারা গিয়েছিল
    কারণ তারা শত্রুদেরকে বন্ধু হিসেবে নেয়নি।
    তারা মারা গিয়েছিল কারণ তারা ভালোবাসত
    প্রতিবেশীদের। তারা মারা গিয়েছিল কারণ তারা
    বিশ্বাস স্থাপন করেছিল সমস্ত মানবতার ওপর। তারা
    মারা গিয়েছিল কারণ তারা নিপীড়ণকারীদেরকে
    দমন করেনি। তারা মারা গিয়েছিল, কারণ তারা
    ছিল দলিত মথিত ফুল এবং তারা কারও পদযুগ
    চূর্ণ বিচূর্ণ করেনি। তারা মারা গিয়েছিল, কারণ
    তারা ছিল শান্তির নির্মাতা। তারা ক্ষুধায় ক্ষয়প্রাপ্ত
    হয়েছিল একটা সমৃদ্ধ ভূমিতে দুধ
    এবং মধুসহ। তারা মারা গিয়েছিল কারণ
    নরকের দানব বেড়ে উঠেছিল এবং ধ্বংস
    করেছিল সবকিছু যা তাদের শস্যক্ষেতে
    উৎপন্ন হয় এবং শস্যকণার শেষ প্রাপ্যটুকু লোভীর
    মতো খেয়ে ফেলে…
    তারা মারা গিয়েছিল কারণ সাপ এবং সাপের
    পুত্ররা মহাশূণ্যে বিষ নিক্ষেপ করেছে,
    যেখানে পবিত্র সীডার, গোলাপ
    ও জুঁই ফুলেরা প্রশ্বাসের সঙ্গে তাদের
    সুগন্ধ গ্রহণ করে।

    আমার জনগণ এবং তোমাদের জনগণ, আমার
    সিরিয় ভাইয়েরা মারা গেছে … তাদের জন্য
    কি করা যেতে পারে যারা মারা যাচ্ছে?
    আমাদের বিলাপ তাদের ক্ষুধাকে পরিতৃপ্ত
    করবে না এবং আমাদের অশ্রুজল মেটাবেনা
    তাদের তৃষ্ণা, ক্ষুধার লৌহ কঠিন
    থাবার ভেতর থেকে আমরা কিভাবে তাকে
    রক্ষা করতে পারি? হে আমার ভাই,
    দেখ দয়া, যে তোমাকে বাধ্য করে তোমার
    জীবনের একটি অংশ যে কোনো মানুষকে
    প্রদান করতে, যে একটা ছায়ার ভেতরে জীবনকে
    নিঃশেষে করছে, যা হলো একমাত্র সদগুণ এবং যা
    তোমাকে রাতের শান্তি এবং দিনের আলোয়
    গুণসম্পন্ন করে তুলবে… স্মরণ কর
    হে আমার ভাই, যে মুদ্রা তুমি বিবর্ণ হাতের
    ওপর ছুঁড়ে দাও, সেই হাত
    তোমার দিকে বাড়ানো রয়েছে এবং তা হচ্ছে
    সোনালী শৃঙ্খল, যা তোমার সমৃদ্ধ হাতকে
    বেঁধে ফেলে ঈশ্বরের স্নেহশীল হৃদয়ের সঙ্গে…

    .

    উচ্চাভিলাসী উদ্যান-উদ্ভিদ 

    একটা চমৎকার উদ্যান-উদ্ভিদ শান্তিতে বসবাস করত তার বন্ধুদের ভেতরে এবং আনন্দে দুলতে থাকত নির্জন বাগানে অন্যান্য ফুলগুলির মাঝখানে। এক সকালে তাকে যখন অলংকৃত করেছিল শিশির বিন্দু, সে তার মাথা তুলে দেখল, একটা লম্বা ও সুদর্শন গোলাপ গর্ব ভরে দাঁড়িয়ে আছে, তার উচ্চতা পৌঁছে যাচ্ছে মহাশূন্যে, পান্নাখচিত বাতির ওপর জলন্ত মশালের মতো।

    উদ্যান-উদ্ভিদ তার নীল ঠোঁট খুলে বলল, ‘এই সব ফুলের ভেতরে আমিই হলাম সবচেয়ে দুর্ভাগা এবং তাদের উপস্থিতিতে কি পরিমান বিনয়ী অবস্থান আমি গ্রহণ করেছি! প্রকৃতি আমাকে তৈরি করেছে বেঁটে ও নগন্য হিসেবে… আমি মাটির খুব কাছাকাছি বসবাস করি এবং নীল আকাশের দিকে আমার মাথা তুলতে পারিনা অথবা ঘোরাতে পারিনা মুখ সূর্যের দিকে যেভাবে গোলাপেরা ঘোরায়।’

    গোলাপ তার প্রতিবেশীর কথা শুনতে পেল। সে উচ্চহাসি হাসল এবং বলতে শুরু করল, ‘কি বিস্ময়কর তোমার কথাবার্তা! তুমি হলে ভাগ্যবান যদিও তুমি তোমার ভাগ্য উপলব্ধি করতে পারনা। প্রকৃতি তোমাকে দান করেছে সুগন্ধ ও সৌন্দর্য, যা সে অন্য কারো জন্য অনুমোদন করেনি… একপাশে জড়ো কর তোমার চিন্তাগুলিকে এবং পরিতৃপ্ত হও। স্মরণ কর যে নিজের প্রতি বিনয়ী আচরণ করে সে প্রসংশিত হবে এবং যে নিজের প্রশংসা করে সে চূর্ণবিচূর্ণ হবে।’

    উদ্যান-উদ্ভিদ উত্তরে বলল, ‘তুমি আমাকে স্বান্তনা দিচ্ছ কারণ তোমার সেসব আছে যা আমি ব্যাকুলভাবে কামনা করি… তুমি তিক্ততার অনুভূতি আমার ভেতরে জাগিয়ে তুলতে চাও এবং বোঝাতে চাও যে, তুমি মহৎ…. দুস্থ মানুষের কাছে সৌভাগ্য প্রচার করা কি বেদানাদায়ক এবং কি পরিমাণ কঠোর একজন শক্তিশালী যখন সে পরামর্শদাতা হিসেবে দুর্বলদের মাঝখানে দাঁড়ায়।

    প্রকৃতি গোলাপ ও উদ্যান-উদ্ভিদের কথোপকথোন শুনল এবং সে বলল, ‘হে আমার প্রিয় কন্যা উদ্যান-উদ্ভিদ? তোমার কি হয়েছে, তোমার সমস্ত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য বিনয়ী ও মধুর। তোমার অন্তরে কি লোভ প্রবেশ করেছে এবং অসাড় করে দিচ্ছে তোমার বিচরাবুদ্ধিকে?’ ওকালতির ভঙ্গিতে উদ্যান-উদ্ভিদ জবাব দিল, ‘হে আমার মহৎ ও দয়ালু মাতা, সহানুভূতি ও ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে আছ, আমি আমার হৃদয় ও আত্মার ভেতর থেকে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমার অনুরোধ রক্ষা করতে এবং একদিনের জন্য আমাকে গোলাপে পরিণত হওয়ার অনুমতি দিতে।’

    প্রকৃতি উত্তর দিল, ‘তুমি জাননা তুমি কি অনুসন্ধান করছ। তুমি তোমার লুকিয়ে থাকা বিনয় সম্পর্কে অসচেতন যা রয়েছে তোমার অন্ধ উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে। তুমি যদি গোলাপে পরিণত হও তাহলে দুঃখিত হবে এবং অনুশোচনা তখন তোমাকে কোনো সাহায্যই করবে না।’ উদ্যান-উদ্ভিদ বলল, ‘আমাকে একটা লম্বা গোলাপ গাছে পরিণত কর, কারণ আমি গর্ব ভরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই এবং ভাগ্য সম্পর্কে কোনো বিবেচনাই করতে চাই না। এটা হবে আমার নিজের কর্মকাণ্ড।’ প্রকৃতি বলল, —আমি তোমার অনুরোধ রক্ষা করব। কিন্তু যদি বিপরীত কিছু ঘটে তাহলে অবশ্যই তুমি তোমাকে অভিযুক্ত করবে।’

    প্রকৃতি তার রহস্যময় ও যাদুকরী আঙুল বাড়িয়ে দিল সামনে এবং উদ্যান উদ্ভিদের শিকড় স্পর্শ করল এবং সে সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ একটা গোলাপ গাছে পরিবর্তিত হল এবং বাগানের সমস্ত গাছের ওপরে সে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকল।

    সন্ধ্যায় আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে গেল। বজ্রপাতের শব্দ অস্তিত্বের নিরবতাকে খান খান করে ভেঙে ফেলল এবং বাগানকে আক্রমণ করতে শুরু করল, পাঠিয়ে দিল বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাস। ঝড় গাছের শাখাগুলিকে ভেঙে ফেলল, উপড়ে ফেলল চারাগাছগুলিকে এবং ভেঙে ফেলল দীর্ঘ ফুলের ঠোঁটগুলি, শুধুমাত্র একটি ফুলের কোনো ক্ষতি হয়নি যে ফুটেছিল মাটির কাছাকাছি। নির্জন বাগান খুবই কষ্ট পাচ্ছিল যুদ্ধরত আকাশের কারণে। যখন ঝড় থামল এবং আকাশ পরিস্কার হল তখন সমস্ত ফুলেরা বর্জ্য হিসেবে পড়েছিল এবং প্রকৃতির তীব্র ক্রোধ থেকে কেউই রেহাই পায়নি শুধুমাত্র উদ্যান-উদ্ভিদের ক্ষুদ্র একটা গোত্র ছাড়া, যা বাগানের দেয়ালের পাশে লুকিয়ে ছিল।

    গাছ ও ফুলের এই বিয়োগান্তক নাটক দেখে একজন যুবতী উদ্যান-উদ্ভিদ আনন্দের সঙ্গে হেসে তার সঙ্গীকে ডেকে বলল, ‘দেখ ঝড় এইসব অহংকারী ফুলগুলির অবস্থা কি করেছে।’ অন্য এক উদ্যান-উদ্ভিদ বলল, ‘আমরা ছোট এবং মাটির খুব কাছাকাছি আমরা বসবাস করি, কিন্তু আমরা আকাশের ক্রোধ থেকে নিরাপদ।’ তৃতীয় একজন বলল, ‘উচ্চতার দিক থেকে আমরা ছোট এবং ঝড় আমাদেরকে পরাভূত করতে অক্ষম।’

    সেই মুহূর্তে উদ্যান-উদ্ভিদের রানী তার পাশে পরিবর্তিত উদ্যান-উদ্ভিদকে দেখল, ঝড় যাকে সজোরে নিক্ষেপ করেছে এবং ভেজা ঘাসের ওপর সে বিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে যুদ্ধক্ষেত্রে খুঁড়িয়ে চলা সৈনিকের মতো। রাণী তার মাথাটা তুলে নিল এবং তার পরিবারকে আহবান জানিয়ে বলল, ‘দেখ, আমার কন্যারা এবং গভীরভাবে চিন্তা কর সেইসব, লোভ যা সম্পন্ন করেছে এই উদ্যান-উদ্ভিদের প্রতি, যে এক ঘণ্টার জন্য গর্বিত গোলাপে পরিণত হয়েছিল। এই দৃশ্যের স্মৃতিকে হতে দাও তোমাদের সৌভাগ্যের স্মরণ।’

    মৃত্যু পথযাত্রী গোলাপ তারপর নড়েচড়ে এবং অবশিষ্ট শক্তিকে একত্রিত করে শান্ত কণ্ঠে বলল, ‘তুমি তৃপ্ত এবং তুমি একজন নম্র ও ধৈর্যশীল নির্বোধ, আমি ঝড়কে কখনও ভয় পাইনি। গতকাল আমি তৃপ্ত ছিলাম জীবনের সঙ্গে কিন্তু পরিতৃপ্তি আমার জীবনের ঝড় ও অস্তিত্বের মাঝখানে বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অসুস্থ ও নিস্ক্রিয় শান্তি এবং মনের সুস্থতার ভেতরে আমাকে আটকে রাখা। আমিও একই জীবনযাপন করতে পারতাম যেমন তুমি যাপন কর এখন ভীতির সঙ্গে সেঁটে থেকে।… আমি শীতের অপেক্ষা করতে পারতাম আমাকে বরফ দিয়ে ঢেকে দিতে এবং সরবরাহ করতে মৃত্যু, যা নিশ্চিতভাবেই দাবি করবে সমস্ত উদ্যান-উদ্ভিদ … আমি এখন সুখী কারণ… বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্যের ভেতরে আমি আমার ছোট্ট পৃথিবীর বাইরের দিকটা অনুসন্ধান করেছি। কিছু একটা যা তোমরা এখনও সম্পন্ন করনি। আমি লোভকে এড়িয়ে যেতে পারতাম যার প্রকৃতি আমার চেয়েও উচ্চতর, কিন্তু আমি যখন কর্ণপাত করি রাত্রির নিরবতার দিকে, তখন আমি শুনতে পাই স্বর্গীয় পৃথিবীটা জাগতিক পৃথিবীর সঙ্গে কথা বলছে, ‘অস্তিত্বের ওপরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের সত্তার অপরিহার্য উদ্দেশ্য।’ সেই মুহূর্তে আমার আত্মা বিদ্রোহ করল এবং আমার হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটি অবস্থান যা আমার সীমাবদ্ধ অস্তিত্বের চেয়ে উচ্চতর। আমি উপলব্ধি করলাম যে নরক নক্ষত্রদের গান শুনতে পারেনা এবং সেই মুহূর্তে আমি যুদ্ধ শুরু করলাম আমার ক্ষুদ্রতার বিরুদ্ধে এবং আমার ব্যাকুল ইচ্ছা জেগে উঠল সেইসব জিনিসের জন্য যা আমার ছিল না, যতক্ষণ আমার বিদ্রোহ বিশাল ক্ষমতায় পরিণত না হয় এবং আমার আকাঙ্ক্ষা একটা ইচ্ছা শক্তিকে সৃষ্টি না করে… প্রকৃতি হচ্ছে আমাদের গভীরতর স্বপ্নের ব্যাপকতা, সে আমার অনুরোধ রক্ষা করে এবং তার যাদুকরী আঙুল দিয়ে আমাকে পরিবর্তিত করে উদ্যান-উদ্ভিদ থেকে গোলাপে’

    পরিবর্তিত গোলাপ এক মুহূর্ত নিরব থাকল এবং দুর্বল কণ্ঠস্বরে সাফল্যের সঙ্গে গর্ব মিলিয়ে বলল, ‘এক ঘণ্টা আমি গর্বিত গোলাপ হিসেবে বসবার করেছি এবং এসময় আমি অবস্থান করেছি রাণীর মতো। গোলাপের চোখের পেছন থেকে আমি পৃথিবীর দিকে তাকিয়েছি, আমি মহাশূন্যের ফিসফিসানি শুনেছি গোলাপের কানের মাধ্যমে এবং স্পর্শ করেছি আলোর পোশাকের ভাঁজ গোলাপ ফুলের পাঁপড়িসহ। এখানে কে একরকম সম্মান দাবি করতে পারে?’ এসব বলার পর সে তার মাথা নিচু করল এবং শ্বাসরুদ্ধকর কণ্ঠে বলল, আমি এখন মারা যাব, কারণ আমার আত্মা তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। শেষপর্যন্ত আমি আমার জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করেছি একটা পৃথিবীর প্রতি যা আমার জন্মের সংকীর্ণ গুহার ওপরে বসবাস করে। এই হল জীবনের রূপরেখা… এই হল অস্তিত্বের গোপনীয়তা’ তারপর গোলাপ শিহরিত হল, ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিল তার পাপড়িগুলি এবং শেষবারের মতো প্রশ্বাস গ্রহণ করল স্বর্গীয় হাসিসহ… জীবনের আশা ও আকাঙ্ক্ষার পরিপূর্ণতার হাসি… বিজয়ের হাসি… একজন ঈশ্বরের হাসি।

    .

    ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা 

    [যিশু খ্রীষ্ট্রের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তারিখে লেখা]

    আজ এবং প্রতিবছর একই দিনে মানুষ হঠাৎ করেই চিৎকার করে ওঠে গভীর সুখনিদ্রা থেকে এবং যুগের প্রেতাত্মার সামনে দাঁড়ায়, অশ্রুসজল চোখে তাকায় মাউন্ট ক্যালভারির দিকে স্বাক্ষ্য দিতে যে, নাজারেতবাসী যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল… কিন্তু যখনই দিনটি শেষ হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা আসে, তখন মানুষ ফিরে আসে এবং হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করে অলীক দেবতার সামনে।

    আজ খ্রীস্টানদের আত্মা স্মৃতির পাখায় চড়ে উড়ে যায় জেরুজালেমে। সেখানে তারা জনতার ভিড়ের ভেতরে দাঁড়াবে, বুক চাপড়াবে এবং স্থির দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকবে, তাঁকে পরানো হবে কাঁটায় বেষ্টন করা রাজমুকুট, যিনি স্বর্গের দিকে দু’হাত প্রসারিত করেছেন এবং তাকিয়ে আছেন মৃত্যুর অবগুণ্ঠনের পেছন থেকে জীবনের গভীরতার দিকে…

    কিন্তু যখন রাত্রির পর্দা সরে যাবে, দিনের মঞ্চের ওপর থেকে এই সংক্ষিপ্ত নাটকটির পরিসমাপ্তি ঘটবে তখন খ্রিস্টানেরা দলে দলে ফিরে যাবে এবং শুয়ে পড়বে বিস্মৃতির ছায়ায় অজ্ঞতা ও আলস্যের মাঝখানে।

    প্রতি বছরের এই দিনে দার্শনিকেরা তাদের অন্ধকার গুহা পরিত্যাগ করেন, চিন্তাবিদেরা ঠাণ্ডা কক্ষ, কবিরা তাদের কাল্পনিক কুজ্ঞবন এবং সবাই দাঁড়ায় সেই শব্দহীন পাহাড়ের ওপর শ্রদ্ধান্বিতভাবে এবং তারা শুনছে একজন যুবক তার হত্যাকারীদের সম্পর্কে বলছে, ‘পিতা, তাদেরকে ক্ষমা করুণ, কারণ তারা জানেনা, তার কি করছে?

    কিন্তু অন্ধকারে নিরবতা যেভাবে আলোর কণ্ঠস্বরের শ্বাসরুদ্ধ করে দেয়, দার্শনিক, চিন্তাবিদ ও কবিরা ফিরে যায় তাদের সংকীর্ণ ফাটলে এবং ঢেকে দেয় তাদের আত্মাগুলি পশুচর্মের পাণ্ডুলিপির অর্থহীন পাতাগুলি দিয়ে।

    যে নারী তাদেরকে ব্যস্ত করে রাখে জীবনের গৌরবের ভেতরে, সে-ই তাদেরকে কর্মতৎপর করে তুলবে আজ তাদের আয়েশী আসন থেকে বেদনার্ত নারীকে দেখতে, যে দাঁড়িয়ে আছে উন্মত্ত ঝড়ের ভেতরে ক্রুশের মুখোমুখি একটা কোমল চারাগাছের মতো এবং যখন তারা কাছাকাছি আসবে তখন শুনতে পাবে একটা গভীর আর্তনাদ এবং বেদনার্ত মর্মপীড়া।

    যে সব যুবক ও যুবতী আধুনিক সভ্যতার প্রবল জনধারার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে রত তারা আজ এক মুহূর্তের জন্য থামবে এবং পেছনে তাকিয়ে দেখবে যুবতী ম্যাগডালিন অশ্রু দিয়ে ধুয়ে দিচ্ছে একজন পবিত্র মানুষের পদযুগ যাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে পৃথিবী ও স্বর্গের মাঝখানে এবং যখন তাদের অগভীর চোখ ঐ দৃশ্য দেখে দেখে ক্লান্ত হবে তখন তারা বিচ্ছিন্ন হবে এবং হেসে উঠবে দ্রুত।

    প্রতিবছর এই দিনে মানবতা জেগে ওঠে বসন্ত জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে নাজারেতবাসীদের সঙ্গে, তারপর সে তার চোখ বন্ধ করে এবং নিজেকে সমর্পন করে সুখনিদ্রার ভেতরে। কিন্তু বসন্ত জেগে থাকেব, হাসবে, এগিয়ে যেতে থাকবে এবং অঙ্গীভূত হতে গ্রীষ্মকালের এবং পরিধান করবে সুরভিত সোনালী পোশাক। মানবতা হচ্ছে একজন বিলাপকারী, যে স্মৃতিগুচ্ছ ও যুগের নায়কদের জন্য বিলাপ করা উপভোগ করছে… মানবতা যদি উপলব্ধির অধিকারে থাকে তাহলে সেখানে উল্লাস থাকবে তাদের মহিমার ওপর। মানবতা হচ্ছে একটা শিশুর মতো যে একটা আহত পশুর সাহায্যে উল্লাসের ভেতের দাঁড়িয়ে থাকে। মানবতা হাসে প্রবল শক্তিশালী জলধারার সম্মুখে যা তাকে বহন করে নিয়ে যায় বিস্মৃতির ভেতরে, যা হলো গাছের শুকনো শাখাগুলি এবং নিশ্চিতভাবে তা ঝেঁটিয়ে বিদায় করে সবকিছু কিন্তু সামর্থকে দ্রুতগতিসম্পন্ন করে না।

    মানবতা নাজারেতবাসী যীশুর দিকে তাকায় একজন দুস্থ মানুষের মতো, যে দুর্গতি ও অপমানে ভুগছে সমস্ত দুর্বলের সঙ্গে এবং সে করুণাপ্রাপ্ত হয়, কারণ মানবতা বিশ্বাস করে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারা হয়েছিল যন্ত্রণাদায়কভাবে… এবং সেইসব মানবতা তাকে প্রস্তাব দেয় কাঁদতে, হাহাকার করতে এবং বিলাপ করতে। কারণ শতাব্দীর মানবতা পবিত্রতার ভেতরে দুর্বলতার পূজা করছে।

    নাজারেতবাসীরা দুর্বল ছিল না। তিনি ছিলেন শক্তিশালী এবং এখনও শক্তিশালী! কিন্তু জনগণ শক্তির প্রকৃত অর্থ শুনতে চায় না।

    যিশু কখনও আতঙ্কের ভেতরে জীবনযাপন করেননি, তিনি কষ্টে ভুগতে ভুগতে মারা যাননি অথবা তিনি কোনো অভিযোগও করেননি… তিনি জীবনযাপন করেছেন নেতার মতো। তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে। নায়কোচিত মৃত্যু হয়েছিল তার যা তার হত্যাকারী ও উৎপীড়কদের ভীত করে তুলেছিল। যীশু কোনো পাখি ছিলেন না যার ডানাগুলি ভাঙা; তিনি ছিলেন একটা উম্মত্ত ঝড়, যা সবগুলি বঙ্কিম ডানা ভেঙে ফেলেছিল। তিনি কষ্টকে ভয় পেতেন না, ভয় পেতেন না শত্রুদের। তিনি তার হত্যাকারীদের সামনে কষ্ট ভোগ করেননি। তিনি ছিলেন স্বাধীন, সাহসী এবং বেপরোয়া। তিনি উপেক্ষা করেছেন সমস্ত উৎপীড়ক ও দমনকারীদের। তিনি দেখেছিলেন সংক্রামক অসুখ এবং তা সারিয়ে তুলেছিলেন… তিনি ছিলেন বাকশক্তিহীন এবং তিনি চূর্ণবিচূর্ণ করেছিলেন মিথ্যাচার এবং শ্বাসরোধ করেছিলেন প্রতারণার।

    যীশু আলোর বৃত্তের হৃদয় থেকে আসেননি ধ্বংস করতে ঘরবাড়ি এবং নির্মাণ করতে ধ্বংসস্তূপের ওপর সন্ন্যাসীদের আশ্রম। তিনি শক্তিশালীদেরকে কখনও সন্ন্যাসী বা যাজক হতে প্ররোচিত করেননি, কিন্তু তিনি এসেছিলেন পৃথিবীতে একটা নতুন আত্মাকে ক্ষমতাসহ সামনে পাঠাতে এবং মানুষের হাড় ও মাথার খুলির ওপর নির্মিত যে কোনো আশ্রমের ভিত্তিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে… তিনি এসেছিলেন রাজকীয় প্রমানগুলি ধ্বংস করতে, যা দুর্বলের কবরের ওপর নির্মিত এবং ভেঙে ফেলতে প্রতিমাগুলি যা গরিবদের শরীরের ওপর খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যীশু প্রেরিত হননি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের মাঝখানে চমৎকার চার্চ ও মন্দির নির্মাণের শিক্ষা দিতে…. তিনি এসেছিলেন মানুষের হৃদয়কে মন্দিরে পরিণত করতে, আত্মাকে পরিণত করতে বেদিতে এবং মনকে পরিণত করতে একজন যাজকে।

    এটাই ছিল নাজারেতবাসী যীশুর উদ্দেশ্য এবং এমনই ছিল তার শিক্ষা যে কারণে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তবে মানবতা যদি জ্ঞানী হয়, তাহলে সে আজ সামনে দাঁড়াবে এবং সামর্থের সঙ্গে গাইবে বিজয়ের গান এবং সাফল্যের স্তোত্রগীতি

    হে ক্রুশবিদ্ধ যীশু, কারা বেদনার্ত চোখে তাকিয়ে আছে মাউণ্ট ক্যালভারি থেকে যুগের বিষণ্ন মিছিলের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে এবং শুনছে অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতির কলরব এবং উপলব্ধি করছে অনন্তকালের স্বপ্নগুলিকে… ক্রুশের ওপর আপনার সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষমতা অধিক গৌরবমণ্ডিত ও মর্যাদাসম্পন্ন এক হাজার রাজার চেয়ে, যারা এক হাজার সিংহাসনে বসে আছে, এক হাজার সাম্রাজ্যে… মৃত্যুর মর্মবেদনার ভেতরে আপনার সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষমতা অধিক শক্তিশালী এক হাজার জেনারেলের চেয়ে এক হাজার যুদ্ধের ভেতরে…

    আপনার দুঃখসহ আপনার সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষমতা অধিক আনন্দদায়ক পল্লবিত বসন্তের চেয়ে… ভোগান্তিসহ আপনার সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষমতা অধিক সাহসিকতার সঙ্গে শব্দহীন, স্বর্গের দেবদূতদের কান্নার চেয়ে….

    আপনার আক্রমনকারীদের মুখোমুখি আপনার সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষমতা অধিক দৃঢ় পাথরের পাহাড়ের চেয়ে,…

    আপনার ঝাঁটার বেষ্টনী অধিক দীপ্তিময় ও মহিমান্বিত বাহরাম এর রাজমুকুটের চেয়ে… আপনার পেরেকবিদ্ধ হাত অধিক সুন্দর জুপিটারের রাজদণ্ডের চেয়ে….

    আপনারে পায়ের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া রক্ত অধিক উজ্জ্বল ইসতার এর নেকলেসের চেয়ে…

    দুর্বলদের ক্ষমা করুন যারা আজ বিলাপ করে, কারণ তারা জানেনা কিভাবে তারা শোক প্রকাশ করবে…

    ক্ষমা করুন তাদেরকে, কারণ তারা জানেনা যে আপনি মৃত্যুকে জয় করেছেন মৃত্যু দিয়ে এবং মৃত্যুর ওপর স্থাপন করেছেন জীবনকে …

    ক্ষমা করুন তাদেরকে, কারণ তারা জানেনা যে আপনার শক্তি এখনও পর্যন্ত তাদেরকে অপেক্ষা করিয়ে রাখে … ক্ষমা করুন তাদেরকে, যারা জানেনা যে, প্রতিটি দিনই হচ্ছে আপনার দিন।

    .

    ধর্মীয় উৎসবের সন্ধ্যা 

    রাত্রি নেমেছিল এবং অন্ধকার গ্রাস করেছিল শহরকে। আলো জ্বলছিল প্রাসাদ, পর্ণকুটির এবং দোকানগুলিতে। উৎসবের পোশাক পরা অবস্থায় জনগণ রাস্তায় কোলাহল করছিল এবং তাদের চেহারায় আবির্ভূত হয়েছিল উৎসব উদযাপন ও পরিতৃপ্তির চিহ্ন।

    আমি জনতার এই উচ্চৈঃস্বরে চেঁচামেচি এড়িয়ে একা হাঁটতে লাগলাম, গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলাম সেই লোকটি সম্পর্কে যার মহত্ত্বকে তারা সম্মান জানাচ্ছিল এবং ধ্যান করছিলাম যুগের সেই প্রতিভাবানকে যার জন্ম হয়েছিল দারিদ্র্যের ভেতরে, জীবনযাপন করেছিল সৎভাবে এবং মারা গিয়েছিল ক্রুশের ওপর।

    আমি ভাবছিলাম সেই জলন্ত মশাল সম্পর্কে যা সিরিয়ার গ্রামগুলিকে আলো দিয়েছিল পবিত্র আত্মার দ্বারা… পবিত্র আত্মা সবগুলি যুগের ওপরে পাখা না নাড়িয়ে আকাশে স্থির হয়ে ভেসে থাকে এবং অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখে একটি সভ্যতাকে, তারপর দেখে অন্য সভ্যতাকে তার সত্যের ভেতর দিয়ে।

    আমি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটা বাগানে গিয়ে পৌঁছালাম। বসলাম একটা সাদামাটা বেঞ্চির ওপর এবং দেখতে শুরু করলাম নগ্ন গাছগুলোর ভেতর দিয়ে জনাকীর্ণ রাস্তাগুলো। আমি শুনতে পাচ্ছিলাম উপাসনা পরিচালনাকারী যাজকের প্রশংসাগীতি এবং স্তবগান।

    এক ঘণ্টা গভীর চিন্তা-ভাবনার পর আমার পাশে বসে থাকা একটা লোককে দেখে আমি বিস্মিত হলাম। তার হাতে একটা ভাঙা ডাল এবং সে ডালটা দিয়ে মাটিতে উদ্ভট চিত্র আঁকছে। আমি প্রথমে চমকে উঠেছিলাম কারণ আমি তাকে দেখিনি এবং তার কাছে আসারও কোনো শব্দ পাইনি, কিন্তু আমি মনে মনে বলছিলাম, ‘সে আমার মতোই নির্জনতা পছন্দ করে।’ তার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম পুরনো ফ্যাশনের পোশাক ও দীর্ঘ চুল ছাড়া সে ছিল একজন মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ, যে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মনে হয় সে আমার ভেতরের চিন্তাকে পড়তে পারছে, কারণ গভীর ও শান্ত স্বরে সে বলল, ‘শুভ সন্ধ্যা। হে পুত্র আমার।’ আমিও সম্মানের সঙ্গে জবাব দিলাম, ‘শুভ সন্ধ্যা।’ সে আবার ভূমিতে চিত্রাঙ্কনের কাজ শুরু করল এবং তার প্রশান্ত কণ্ঠস্বর আমার কানে তখনও প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল এবং আমি আবার তাকে বললাম, ‘আপনি কি এই শহরে একজন আগন্তুক?’

    ‘হ্যাঁ আমি একজন আগন্তুক, এই শহরে এবং প্রত্যেক শহরে।’ সে জবাব দিল। আমি তাকে স্বান্তনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বললাম, একজন আগন্তুকের উচিত ভুলে যাওয়া যে সে একজন বহিরাগত এই ছুটির দিনগুলিতে, কারণ মানুষের ভেতরে যেমন উদারতা রয়েছে তেমনি দয়াও রয়েছে।’ সে ক্লান্তভাবে জবাব দিল, ‘এই সব দিনগুলিতে আমি আগন্তুকের চেয়েও বেশি কিছু অন্য দিনগুলির তুলনায়।’ এসব বলে সে নির্মেঘ আকাশের দিকে তাকাল। তার চোখ অনুসন্ধান করল নক্ষত্রপুঞ্জ এবং ঠোঁট এমনভাবে শিহরিত হচ্ছিল যেন সে মহাশূণ্যে একটি দূরবর্তী দেশের প্রতিমূর্তি দেখতে পেয়েছে। তার অদ্ভুত বক্তব্যে আমার আগ্রহ সৃষ্টি হল এবং আমি বললাম, ‘এখনই হল বছরের সেই সময় যখন মানুষ অন্য মানুষের প্রতি দয়া দেখায়। ধনীরা গরিবদেরকে স্মরণ করে এবং শক্তিশালীরা সমবেদনা জানায় দুর্বলদের।’

    লোকটা আমাকে বলল, ‘হ্যাঁ, গরিবদের ওপর ধনীদের এই ক্ষণস্থায়ী করুণা খুবই তিক্ত এবং দুর্বলদের প্রতি শক্তিশালীদের সহানুভূতি উৎকৃষ্টতার তাগিদ ছাড়া আর কিছু নয়।’

    আমি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষাণা করলাম, ‘আপনার কথার প্রসাংশা করার মতো গুণ রয়েছে, কিন্তু দুর্বল গরিবেরা ধনীদের হৃদয়ের ভেতরে কি প্রকাশিত হচ্ছে না হচ্ছে তা পরোয়াই করেন এবং ক্ষুধার্ত সেইসব পদ্ধতি সম্পর্কে কখনই চিন্তা করেনা, যার মাধ্যমে তার আকাঙ্খার রুটিটা দলাইমলাই করে তৈরি এবং সেঁকে তোলা হয়।

    সে উত্তরে বলল, ‘যে গ্রহণ করে সে তত মনোযোগী হয় না, কিন্তু সে দান করে সে বহন করে সতর্কতার বোঝা যা হচ্ছে একটা ভ্রাতৃত্ব বোধের দৃশ্য এবং তা বন্ধুত্বপূর্ণ সাহায্যের দিকে এগিয়ে যায়, আত্মমর্যাদার দিকে নয়।

    আমি তার প্রাজ্ঞতায় বিস্মিত হলাম এবং পুনরায় গভীরভাবে ধ্যান করতে লাগলাম তার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মুখমণ্ডল ও অদ্ভুত পোষাক সম্পর্কে। ধ্যান কেটে যাওয়ার পর আমি আবার আমার ভেতরে ফিরে এলাম এবং বললাম, ‘আমার মনে হয় আপনার সাহায্য প্রয়োজন। আপনি কি আমার কাছ থেকে কিছু অর্থ গ্রহণ করবেন?’ সে একটু বেদনার হাসি হাসল এবং বলল, ‘হ্যাঁ, আমার অবশ্যই সাহায্যের প্রয়োজন কিন্তু তা সোনা ও রূপা নয়।’

    আমি হত বিহ্বল হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কি সেই জিনিস যা আপনার প্রয়োজন?’

    ‘আমার একটা আশ্রয় দরকার। আমার এমন একটা জায়গা প্রয়োজন যেখানে আমি আমার মস্তিস্ক ও চিন্তাকে বিশ্রাম দিতে পারি।’

    আমি বললাম, ‘দয়া করে এই দুই দিনার গ্রহণ করুন এবং সাময়িকভাবে বিশ্রাম নেয়ার জন্য কোনো পান্থশালায় চলে যান।’

    সে বেদনার্ত কণ্ঠে জবাব দিল, ‘আমি প্রত্যেক পান্থশালায় চেষ্টা করেছি এবং আঘাত করেছি প্রতিটি দরজায়, কিন্তু ব্যার্থ হয়েছি। প্রতিটি খাবারের দোকানে ঢুকেছি, কিন্তু কেউ আমাকে ন্যূনতম সাহায্যও করেনি। আমি ক্ষুধার্ত নয়, আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি হতাশ হয়েছি কিন্তু ক্লান্ত নয়। আমি মাথার ওপরে একটা ছাদ অনুসন্ধান করিনি, আমি মানুষের আশ্রয় অনুসন্ধান করেছি।’ আমি মনে মনে বললাম, ‘লোকটা কি অদ্ভুত। একবার কথা বলছে দার্শনিকের মতো, আবার কথা বলছে পাগলের মতো।’ আমি যখন আমার অন্তরাত্মাকে এসব চিন্তার কথা ফিসফিস করে বলছিলাম, তখন সে আমার দিকে স্থির দৃস্টিতে তাকিয়ে ছিল। তারপর সে মৃদুকণ্ঠে বলল, ‘হ্যাঁ আমি একজন পাগল, কিন্তু একজন পাগল নিজেকে দেখতে পায় আশ্রয়হীন আগন্তুক ও খাদ্যহীন ক্ষুধার্ত হিসেবে, কারণ মানুষের হৃদয় শূণ্যতায় পরিপূর্ণ।’

    আমি তার কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং বললাম, ‘আমি অনুতাপ করি আমার চিন্তার অজ্ঞতার কারণে। আপনি কি দয়া করে আমার আতিথেয়তা গ্রহন করবেন এবং আশ্রয় নেবেন আমার বাড়িতে।’

    ‘আমি আপনার দরজায় কড়া নেড়েছি এবং হাজার বার কড়া নেড়েছি সমস্ত দরজায় এবং কেউ কোনো জবাব দেয়নি’ কঠোরভাবে জবাব দিল লোকটা।

    এখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, সে একজন পাগল এবং আমি তাকে পরামর্শ দিলাম, ‘এবার তাহলে চলুন, আমার বাড়ির দিকে যাই।’ সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল এবং বলল, ‘যদি আপনি আমার পরিচয় জানতেন তাহলে আমাকে আপনার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন না।’

    আমি ধীরে ধীরে ভয়ের সাথে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনি কে?

    সমুদ্রের গর্জনের মতো সে চিৎকার করে উঠল, ‘আমি হলাম বিপ্লব, যে সেইসব নির্মাণ করেছে যা পুরোজাতি ধ্বংস করেছে… আমি হলাম ঝড় যে চারাগাছ উপড়ে ফেলে এবং বেড়ে ওঠে যুগের সঙ্গে সঙ্গে।… আমি হলাম সেই একজন, যে পৃথিবীতে এসেেছ শান্তি নয়, যুদ্ধকে ছড়িয়ে দিতে মানুষের মাঝে, কারণ মানুষ শুধুমাত্র দুর্গতির ভেতরেই তৃপ্ত হয়ে থাকে।’

    তার কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছিল। সে উঠে দাঁড়াল এবং তার চারপাশে তৈরি হল আলোর ধোঁয়াশা। সে তার হাতদুটো সামনের দিকে বাড়ালো এবং আমি দেখলাম তার হাতের তালুতে পেরেক ঠোকার চিহ্ন।

    আমি নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললাম, ‘হে নাজারেতবাসী যিশু।’

    তীব্র মনোকষ্টে তিনি বলে যেতে লাগলেন, ‘আমাকে সম্মান দেখানোর জন্য মানুষ উৎসব উদযাপন করে, তাড়া করে প্রচলিত প্রথা ও রীতিকে, যুগে যুগে উচ্চারিত হয় আমার নাম কিন্তু প্রকৃতঅর্থে আমি একজন আগন্তুক, দীর্ঘ ভ্রমণে বেরিয়েছি, পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং কেউ আমাকে চেনে না। শেয়ালের গর্ত আছে এবং আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখিদের রয়েছে বাসা কিন্তু মানুষের পুত্রের জন্য কোনো স্থান নেই যেখানে সে তার মস্তিস্ককে বিশ্রাম দেবে।’

    সেই মুহূর্তে আমি আমার চোখ খুললাম এবং মাথা উঁচু করে চারদিকে তাকালাম, কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না শুধু আমার সম্মুখে একটি ধোঁয়ার স্তম্ভ ছাড়া এবং আমি শুনলাম শুধুমাত্র রাত্রির নিরবতায় থর থর করে কাঁপতে থাকা কণ্ঠস্বর, যা অনন্তকালের গভীরতা থেকে উঠে আসছে। আমি নিজেকে সংযত করলাম এবং তাকালাম সেই দূরবর্তী জনতার দিকে যারা গান গাইছে এবং আমার ভেতরে একটা কণ্ঠস্বর কথা বলে উঠল, ‘যে শক্তি হৃদয়কে আহত হওয়া থেকে রক্ষা করে সেই শক্তি হৃদয়কে প্রতিরোধ করে নিজের বিশালত্বের ভেতরে প্রসারিত হওয়ার অভিপ্রায় থেকে। কণ্ঠস্বরের গান খুবই মধুর কিন্তু হৃয়য়ের গান হচ্ছে স্বর্গের কণ্ঠস্বর এবং পরিশুদ্ধ।

    .

    গোর খোঁদক 

    রাত্রির ভয়াবহ নীরবতার ভেতরে সমস্ত স্বর্গীয় জিনিস অদৃশ্য হয়ে গেল ঘন মেঘের অবগুণ্ঠনের পেছনে এবং আমি নিঃসঙ্গ ও ভীত অবস্থায় মৃত্যুর অপচ্ছায়ার উপত্যকায় হেঁটে বেড়ালাম।

    মধ্যরাতে এই অপচ্ছায়া আমাকে পার হয়ে গেল লাফিয়ে লাফিয়ে তাদের অদ্ভুত পাঁজরযুক্ত পাখাসহ। আমি লক্ষ্য করলাম একটা দৈত্যাকৃতির ভূত আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চেষ্টা করছে আমাকে মুগ্ধ করতে তার সম্মোহনের দ্বারা। সে বজ্রকণ্ঠে বলে উঠল, ‘তোমার ভীতি রয়েছে দুটি ভাঁজের ভেতরে। আমাকে দেখে তুমি ভয় পাচ্ছ। তুমি তা লুকাতে পারছো না, কারণ তুমি মাকড়সার সরু সূতোর চেয়েও দুর্বল। তোমার জাগতিক নাম কি?’

    আমি একটা পাথরে ঠেস দিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিলাম, এই আকস্মিক ধাক্কায় নিজেকে অসুস্থ মনে হতে লাগল এবং আমি কাঁপতে কাঁপতে উত্তর দিলাম, ‘আমার নাম আবদুল্লাহ। এর অর্থ হল ‘ঈশ্বরের দাস।’ কয়েক মুহূর্তের জন্য সে নিরব হয়ে রইল ভীতিকর নৈঃশব্দের ভেতরে। আমি তার উপস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আবার আমি ধাক্কা খেলাম তার চিন্তা, বক্তব্য, বিস্ময়কর বিশ্বাস ও ধ্যান সম্পর্কে জেনে।

    সে গম্ভীর গলায় বলল, ‘ঈশ্বরের দাসের সংখ্যা অনেক এবং এই দাসসহ ঈশ্বরের দুঃখ ও বিশাল। কেন তোমার পিতা তোমাকে ‘অশুভ শক্তির প্রভু’ বলে ডাকেন না, পৃথিবীর বিশাল বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আরও একটি বিপর্যয় বলে ডাকার পরিবর্তে? তুমি আতঙ্কের সঙ্গে একেবারে সেঁটে আছ তোমার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পাওয়া উপহার সামগ্রীর ক্ষুদ্র বৃত্তের ভেতরে। তোমার দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে তোমার পিতামাতার অর্পিত সম্পত্তি এবং তুমি মৃত্যুর দাস হয়ে রয়ে যাবে যতক্ষণ তুমি মৃতদের একজনে পরিনত না হও।’

    ‘তোমার প্রবণতা হচ্ছে অপচয় করা এবং পরিত্যক্ত হওয়া এবং তোমার জীবন হচ্ছে অন্তঃসারশূন্য। প্রকৃত জীবন কখনই তোমাকে পরিদর্শন করেনি, কখনও করবেও না এবং তোমার প্রতারণাকারী সত্তাও উপলব্ধি করতে পারবে না যে, তুমি বেঁচে আছ কিন্তু প্রকৃতঅর্থে তুমি বেঁচে নেই, তুমি মৃত। তোমার মোহগ্রস্ত চোখ দেখতে পায় জীবনের ঝড়ের সামনে মানুষ কাঁপছে এবং তুমি বিশ্বাস কর তারা বেঁচে থাকবে, যদিও সত্যের ভেতরে তারা জন্ম থেকেই মৃত। সেখানে কেউ নেই যে তাদেরকে সমাহিত করবে এবং এখন একটি মাত্র পেশাই আছে তোমার জন্য এবং তা হল গোর খোঁদকের এবং তুমি পার কয়েকজন জীবন্ত মৃতকে মুক্ত করে দিতে যারা গৃহে, পথে এবং চার্চে স্তূপাকারে পড়ে আছে।’

    আমি প্রতিবাদ করি, ‘আমি এ ধরনের প্রবণতাকে তাড়া করতে পারিনা, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আমার সহযোগিতা ও সঙ্গ প্ৰয়োজন।’

    সে আমার দিকে ঝুঁকে এল, দেখাল তার বিনুনির মতো পাকানো মাংসপেশী, যাকে একটা শক্তিশালী ওক গাছের শিকড়ের মতো মনে হয়, যা জীবন ও শক্তিতে পরিপূর্ণ। সে ক্রুদ্ধস্বরে চিৎকারে যারে বলল, ‘প্রত্যেককে একটা করে কোদাল দাও এবং তাদেরকে শিক্ষা দাও কবর খোঁড়ার, তোমার জীবন আর কিছু নয় ভয়াবহ দূর্গতি ছাড়া, যা লুকানো রয়েছে দেয়ালের সাদা প্লাস্টারের পেছনে। সুতরাং আমাদের সঙ্গে যোগ দাও কারণ আমারা মানে জ্বিনেরাই হল শুধুমাত্র বাস্তবতার স্বত্বাধিকারী। কবর খোঁড়ার কাজ ধীরগতিসম্পন্ন হলেও তা ইতিবাচক সুফল বয়ে আনে, যা মৃত প্রাণীদের অপসৃত হয়ে যাওয়ার কারণ যারা শিহরিত হয় ঝড়ের ভেতরে, কখনও তারা ঝড়ের সঙ্গে হাঁটেনি।’ সে তন্ময় হয়ে কিছুক্ষণ ভাবল এবং তদন্তের ভঙ্গিতে বলল, ‘তোমার ধর্ম কি?’

    সাহসের সঙ্গে আমি বললাম, ‘আমি ঈশ্বর বিশ্বাস করি এবং শ্রদ্ধা করি তার নবীদের 1 আমি ভালোবাসি সদগুণ এবং পরকালে আমার বিশ্বাস আছে।’ উল্লেখ্যযোগ্য প্রাজ্ঞতা ও দৃঢ়বিশ্বাস সহ সে জবাব দিল, ‘এই অর্থহীন কথাবার্তা স্থাপন করা হয়েছিল মানুষের ঠোঁটের ওপর কিন্তু জ্ঞানের সাহায্যে নয় এবং তুমি প্রকৃতঅর্থে তোমাকেই শুধু বিশ্বাস কর এবং তুমি কাউকেই সম্মান করনা নিজেকে ছাড়া এবং তুমি বিশ্বস কর তোমার আকাঙ্ক্ষার পরকালকে। শুরু থেকেই মানুষ নিজের সত্তার পূজা করেছে, আহ্বান জানিয়েছে সেই সত্তাকে যথাযথ নামে এখন পর্যন্ত এবং যখন সে ঈশ্বর শব্দটিকে ব্যবহার করে তখন তার অর্থ হয় সেই একই সত্তা।’ তারপর সেই দৈত্যাকৃতির ভূত উঁচুস্বরে গর্জন করে উঠল, এবং তা প্রতিধ্বনিত হল গুহার ভেতরে এবং সে বিদ্রুপ করে বলল, ‘কি অদ্ভুত তারা, যারা নিজের সত্তার পূজা করে এবং তাদের প্রকৃত অস্তিত্ব জাগতিক খোলস ছাড়া আর কিছুই নয়।

    সে একটু থামল এবং আমি তার কথা গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলাম এবং ধ্যান করতে লাগলাম তার কথার অর্থ নিয়ে। সে যে জ্ঞানের অধিকারী তা জীবনের চেয়ে বিস্ময়কর, মৃত্যুর চেয়ে অধিক ভয়াবহ এবং সত্যের চেয়ে গভীরতর। আমি সলজ্জভাবে বললাম, ‘তোমার কি কোনো ধর্ম আছে অথবা কোনো ঈশ্বর?’

    সে বলতে শুরু করল, ‘আমার নাম হল পাগল ঈশ্বর এবং সব সময়েই আমি জন্মেছিলাম এবং আমি হলাম আমার সত্তার ঈশ্বর। আমি জ্ঞানী নই, কারণ প্রজ্ঞতা হচ্ছে দুর্বলদের একটা গুণাবলী। আমি শক্তিশালী, আমার পায়ের তলা দিয়ে চলাচল করে এই পৃথিবী এবং যখন আমি থামি তখন নক্ষত্রদের মিছিলও থেমে যায়। আমি মানুষকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করি… রাত্রির দৈত্যগুলিকে সঙ্গ দেই… আমি জ্বিনের বিশাল রাজার সঙ্গে মিলিত হই… আমাকে অধিকার করে রাখে অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতার গোপনীয়তাগুলি।

    ভোরবেলায় আমি তীব্র কটাক্ষ করি সূর্যকে… দুপুরবেলা অভিশাপ দেই মানবতাকে…. সন্ধ্যার আমি প্রকৃতিকে ডুবিয়ে দেই… রাত্রিবেলা হাঁটু গেড়ে বসে আমি আমাকেই পূজা করি। আমি কখনও ঘুমাই না, কারণ আমিই সময়, আমি সমুদ্র এবং আমি স্বয়ং… আমি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি মনুষ্য প্রজাতিকে, পান করি তাদের রক্ত তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এবং ব্যবহার করি তাদের পাতনোন্মুখ রুদ্ধশ্বাস নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য। যদিও তোমরাই তোমাদেরকে ধোঁকা দাও। তোমরা আমার ভাই এবং তোমরা বেঁচে থাকো যেভাবে আমি বাঁচি। ভণ্ডরা দূরে যাও। হামাগুঁড়ি দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে যাও এবং নিজের সত্তাকে পূজা করতে থাক সেই সব জীবন্তের ভেতরে যারা আসলে মৃত। আমি বিভ্ৰান্ত বোধ করতে লাগলাম। বিশ্বাস করতে লাগলাম সেইসব যা আমি শুনেছিলাম এবং দেখেছিলাম। কিছু কিছু সত্য উচ্চারণের সময় আমি কষ্টে কেঁদে ফেলেছিলাম এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরেছিলাম শস্যক্ষেতে সারারাত ধরে হতাশা ও গভীর চিন্তার ভেতরে। আমি একটা কোদাল সংগ্রহ করলাম এবং নিজেকে বললাম, ‘গভীরভাবে খনন কর কবরটা,… এখন যাও এবং যেখানেই কোনো জীবন্তের সন্ধান পাবে যে মূলত মৃত, তাকে এনে সমাহিত কর।

    সেই দিন থেকে আমি কবর খুঁড়ছি এবং করব দিচ্ছি সেই সব জীবন্ত মানুষকে যা আসলে মৃত। কিন্তু এরা সংখ্যায় অনেক এবং আমি একা, কেউ নেই আমাকে সাহায্য করার…

    .

    মধুময় বিষ 

    উত্তর লেবাননের তালু গ্রামের লোকেরা এর চমৎকার উজ্জ্বল ভোরবেলায় জড়ো হল তাদের বসতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট চার্চের প্রাঙ্গনে। তারা আলোচনা করছিল হঠাৎ করেই ফারিজ রাহালের উধাও হয়ে যাওয়া সম্পর্কে। সে এ ব্যাপারে কোনো আভাস ইঙ্গিত বা ব্যাখ্যা কিছুই দেয়নি এবং ছয় মাস হলো সে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেছে। ফারিজ রাহাল ছিল একজন শেখ এবং গ্রামের নেতা এবং সে তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে এই সম্মানিত সামাজিক অবস্থানটি অর্জন করেছিল উত্তরাধিকার সূত্রে, যারা কয়েক যুগ ধরে তালুর শাসনকাজ পরিচালনা করে আসছিল। যদিও তার বয়স সাতাশ বছরের বেশি ছিল না, কিন্তু সে বিশিষ্ট ক্ষমতার অধিকারী। তার আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিলনা। ফলে গ্রামের কৃষকরা তাকে সম্মান করত। ফারিজ যখন সুসানকে বিয়ে করে তখন গ্রামের লোকেরা বলাবলি করেছিল ফারিজ রাহল কি পরিমাণ ভাগ্যবান। মানুষ যা আশা করে তার সবকিছুই যে অর্জন করেছে জীবনের অকৃপন দান থেকে এবং সে একজন যুবক’

    সেই সকালে যখন তালুর প্রত্যেকেই সুখনিদ্রা থেকে জেগে উঠল এবং জানল যে, শেখ তার সমস্ত সোনা ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে গ্রাম পরিত্যাগ করেছে কাউকে বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়ে। ফলে মানুষের ঔৎসুক্য বেড়েছিল কিন্তু সেইসব কারণ তার জানতনা যা তাকে প্ররোচিত করেছিল স্ত্রী, ঘরবাড়ি, শস্যক্ষেত ও আঙুর বাগান পরিত্যাগ করে যেতে। প্রচলিত প্রথা ও ভৌগোলিক কারণে উত্তর লেবাননের জীবন ছিল অতিমাত্রায় বন্ধুত্বপূর্ণ এবং জনগণ তাদের আনন্দ ও বেদনা পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করত, উদ্দীপ্ত হত বিনয়ী আত্মা এবং সহজাত বংশ চেতনার দ্বারা। যে কোনো ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষ সভা আহ্বান করত তদন্ত করার জন্য, সম্ভাব্য সব ধরনের সহাযোগিতা প্রদান করত এবং ফিরে যেত তাদের কর্মক্ষেত্রে, যতক্ষণ না ভাগ্য তাদেরকে নতুন দায়িত্ব দেয়।

    এটা ছিল এমন একটা বিষয় যার জন্য তুলার জনগণ মাঠের কাজ ফেলে চলে আসে এবং জড়োসড়ো হয় তুলার ‘মার’ নামক চার্চে শেখের অন্তর্ধান সম্পর্কে আলোচনা এবং মতামত প্রদান করতে।

    এটা ছিল সেই সময় যখন স্থানীয় চার্চের প্রধান ছিলেন ফাদার এস্তেফান। তিনি জনতার মাঝে উপস্থিত হলেন এবং সমর্থন করলেন সেই সব বিষয়গুলিকে যা গভীর দুঃখ ভোগের চিহ্ন এবং যা একজন বেদনার্ত আত্মা বহন করে থাকে। তিনি কিছুক্ষণ গভীরভাবে চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ‘আমাকে তোমারা কোনো প্রশ্ন করোনা। আজ ভোর হওয়ার আগে শেখ ফারিজ আমার দরজায় কড়া নেড়েছিল এবং আমি তাকে দেখলাম সে ঘোড়ার লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে আছে এবং তার মুখমণ্ডলে ফুটে উঠেছে কবরের দুঃখ এবং তীব্র মর্মবেদনা। সে বলল, ‘আমি আপনাকে বিদায় জানাতে এসেছি, কারণ আমি পাল তুলেছি সমুদ্রের ওপরে এবং আমি আর এই ভূমিতে কখনও ফিরে আসব না।’ সে আমার হাতে একটা সিলমোহরকৃত এনভেলপ দিয়ে বলে এটা তার প্রিয়তম বন্ধু নবীহ মালিকের জন্য। আমাকে অনুরোধ করছে পৌঁছে দিতে। তারপর সে ঘোড়ায় চড়ে পূবের দিকে চলে গেছে। তার এই অস্বাভাবিক প্রস্থানের উদ্দেশ্য উপলব্ধির কোনো সুযোগই সে আমাকে দেয়নি।’

    একজন গ্রামবাসী বলল, ‘নিঃসন্দেহে এই চিঠিই তার চলে যাওয়ার গোপনীয়তা আমাদের কাছে প্রকাশ করবে, কারণ নবীহ হল তার অন্তরঙ্গ বন্ধু।’ অন্য একজন বলল, ‘ফাদার আপনি কি তার স্ত্রীকে দেখেছেন?’ ফাদার উত্তর দিলেন, ‘ভোরের প্রার্থানার পর আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং দেখলাম সে জানালায় দাঁড়িয়ে আছে, স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে কিন্তু কিছুই দেখছে না, মনে হচ্ছে তার বোধশক্তি লোপ পেয়েছে এবং ফারিজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতেই সে শুধু বলল, ‘আমি জানিনা। আমি জানিনা। তারপর সে একটা শিশুর মতো কাঁদতে লাগল যেন সে এইমাত্র এতিম হয়েছে।’ ফাদার কথা শেষ করল এবং তক্ষুনি জনতা গ্রামের পূর্ব দিক থেকে আসা গুলির শব্দে ভীত হয়ে উঠল এবং সেই শব্দের সঙ্গে সঙ্গে তিক্ত হাহাকার করে উঠল এক নারী। জনতা এক মুহূর্তের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়ল এবং তারপর নারী, পুরুষ ও শিশুরা দৌড়াতে লাগল ঘটনাস্থলের দিকে এবং তাদের মুখের উপর ছিল ভয়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখোশ। তারা বাগানে পৌঁছাল এবং মুখোমুখি হল সবচেয়ে বীভৎস্য এক নাটকের যেখানে দৃশ্যায়িত হয়েছে একটা মৃত্যু। রক্তাক্ত অবস্থায় নবীহ মালিক মাটিতে পড়ে আছে, তার বক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছে রক্তের ধারা এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সুসান; শেখ ফারিজ রাহালের স্ত্রী, নিজের চুল ছিঁড়ছে এবং টুকরো করে ফেলেছে তার পোশাক এবং দুই হাত প্রসারিত করে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে উম্মাদের মতো চিৎকার করে বলছে, ‘নবীহ… নবীহ… কেন তুমি এটা করলে।’

    দর্শকেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায় এবং এটা ছিল এরকম যে, ভাগ্যের অদৃশ্য হাত ঠাণ্ডা আঙুল দিয়ে আঁকড়ে ধরেছিল তাদের হৃদয়। যাজক দেখতে পেলেন মৃত নবীহ এর ডান হাতে সেই চিঠিটা যা সেই সকালে তিনি তাকে দিয়েছিলেন এবং জনতার অলক্ষ্যে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সেই চিঠিটা নিজের পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে ফেললেন।

    নবীহ-কে তার দুঃস্থ মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। একমাত্র পুত্রের প্রাণহীণ শরীর দেখে তার বিচারবুদ্ধি লোপ পেলো। সুসান ধীরে ধীরে তার বাড়ির দিকে যেতে লাগল দ্বিধাগ্রস্ত জীবন এবং আঁকড়ে ধরার জন্য উদগ্রীব মৃত্যুর মাঝখানে দোদুল্যমান অবস্থায়।

    ফাদার এস্তেফান বাড়ি পৌঁছে ঘরের দরজা বন্ধ করলেন, চশমাটা ভালো করে মুছে নিলেন এবং শিহরিত কণ্ঠে ফিসফিস করে নিজেকে পড়ে শোনাতে শুরু করলেন যা তিনি মৃত নবীহ এর হাত থেকে নিয়েছিলেন।

    আমার প্রিয়তম বন্ধু নবীহ,

    আমাকে অবশ্যই আমার পিতার গ্রাম পরিত্যাগ করতে হবে, কারণ আমার ধারাবাহিক উপস্থিতি তোমার ও আমার জন্য বহন করে এনেছে দুর্গতি। আত্মার ভেতরে তুমি সৎ, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের প্রতারণাকে তুমি ঘৃণা কর, যদিও আমি জানি সুসান নিষ্পাপ এবং সদগুনসম্পন্ন নারী, আমি আরও জানি প্রকৃত ভালোবাসা যা তোমার ও সুসানের হৃদয়ের মিলন ঘটিয়েছে তোমার ক্ষমতা ও আমার আকাঙ্ক্ষার ওপরে। আমি পরাক্রমশালী ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারিনা, যেমন আমি পারিনা বিশাল কাদিসা নদীর শক্তিশালী স্রোতপ্রবাহকে থামিয়ে দিতে।

    ‘তুমি সেই তখন থেকে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নবীহ, যখন আমরা ছেলেবেলায় শস্যক্ষেতে খেলা করতাম, খেলা করতাম ঈশ্বরের সম্মুখে, বিশ্বাস কর, তখন থেকেই তুমি আমার বন্ধু হয়ে আছ। আমি প্রার্থনা করি যেন তুমি আমার সম্পর্কে ভবিষ্যতেও ভালো চিন্তা করবে যেমন অতীতে করেছিলে। সুসানকে ব’ল যে আমি তাকে ভালোবাসি এবং আমি তাকে বিয়ে করে একটা ভুল কাজ করেছি। আরো ব’ল যে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় বেদনার কারণে এবং আমি ক্লান্তিহীন নিদ্রা থেকে জেগে উঠি রাত্রির নিরবতার ভেতরে এবং আমি পর্যবেক্ষণ করি সে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করছে যীশুর পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত বেদির সামনে, কাঁদছে এবং বুক চাপড়াচ্ছে নিদারুণ যন্ত্রণায়।

    এই নারীর দ্বারা যে ভোগান্তি হয়েছে তার জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই, বিশেষ করে সে নিজেকে খুঁজে পায় বন্দি অবস্থায় দু’জন পুরুষের মাঝখানে যাদের একজনকে সে ভালোবাসে এবং অন্যজন তাকে ভালোবাসে। সুসান ক্রমাগত একটা বেদনার্ত সংঘাতের মধ্যে সময় কাটিয়েছে, কিন্তু সেই বেদনা নিয়েই সম্মানের সঙ্গে এবং নিরবে স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছে। সে ক্লান্ত, কিন্তু তোমার জন্য যে প্রকৃত ভালোবাসা তাকে সে গলাটিপে হত্যা করেনি।

    আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি এবং আর কোনোদিনই ফিরব না, কারণ আমি একটি প্রকৃত ও চিরন্তন ভালোবাসার মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারিনা। ঈশ্বরকে তার ভাঁজ খোলা বাহু দিয়ে তোমাকে আলিঙ্গন করতে দাও এবং একমাত্র ঈশ্বরই পারেন তার রহস্যময় বিচক্ষণতা দিয়ে তোমাকে রক্ষা ও আশীর্বাদ করতে।

    ফাদার এস্তেফান চিঠিটা ভাঁজ করে পকেটে রেখে দিলেন এবং জানালার পাশে বসলেন এবং এই জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল দুরের উপত্যকাগুলি। গভীর চিন্তার বিশাল সমুদ্রে তিনি পাল উড়িয়েছেন এবং প্রাজ্ঞ ও গভীর ধ্যানের পর তিনি হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন যেন তিনি দেখতে পেলেন তার জটিল চিন্তার জটের ভেতরে একটা কোমল ও বিস্ময়কর গোপনীয়তা প্রতারণাপূর্ণ নিষ্ঠুরতার ছদ্মবেশ পরে আছে এবং তাকে ঢেকে ফেলেছে চাতুর্য। তিনি কেঁদে ফেললেন, ‘কি বিচক্ষণ তুমি ফারিজ। কি ব্যাপক কিন্তু সাধারণ তোমার অপরাধ। তুমি তার কাছে পাঠিয়েছিলে নিয়তির বিষ মেশানো মধু এবং মৃত্যুকে গিলে ফেলেছিলে একটা চিঠির ভেতরে এবং যখন নবীহ তার অস্ত্র তার হৃদয়ের দিকে তাক করে তখন এটা ছিল তোমার আঙুল যা বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়েছে এবং এটা ছিল তোমার ইচ্ছা যা তার ইচ্ছাকে গ্রাস করে নিয়েছিল… কি রকম চালাক তুমি ফারিজ।’ যাজক কাঁপতে কাঁপতে তার চেয়ারে গিয়ে বসলেন, মাথা নাড়লেন এবং আঙুল দিয়ে দাঁড়ি আঁচড়ালেন। তার ঠোঁটের ওপর আবির্ভূত হল হাসি যার অর্থ অধিক ভয়াবহ এই বিয়োগান্তক নাটকের চেয়ে তিনি তার প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত গ্রন্থটি খুললেন এবং পড়তে পড়তে ভাবতে লাগলেন। মাঝে মধ্যে বিরতি নেওয়ার সময় মাথা তুললেন একজন নারীর হাহাকার ও বিলাপ শুনতে যা ভেসে আসছিল তুলা গ্রামের হৃদয় থেকে এবং যা লেবাননেন পবিত্র সীড়ার বনের কাছাকাছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত
    Next Article স্তালিন : মিথ্যাচার এবং প্রাসঙ্গিকতা – মনজুরুল হক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }