Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    মোস্তফা মীর এক পাতা গল্প1071 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পথভ্রষ্ট [দ্য ওয়ান্ডারার]

    পথভ্রষ্ট [দ্য ওয়ান্ডারার] 

    নীতিগর্ভ রূপক কাহিনী ও বাণীগুচ্ছ

    পথভ্রষ্ট লোকটি 

    দুই রাস্তার সংযোগস্থলে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, কিন্তু আলখাল্লা-পরা লোকটার হাতে ছিল ছড়ি এবং মুখের ওপর ছিল বেদনার অবগুণ্ঠন এবং পরস্পরকে সম্ভাষণ জানানোর পর আমি বলেছিলাম, ‘আমার বাড়িতে আসুন এবং আমার আতিথ্য গ্রহণ করুন।’

    আমার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বাড়ির প্রবেশদ্বারে আমাদের দেখা হল এবং অতিথি হিসেবে তারা লোকটাকে পছন্দ করল।

    তারপর আমরা প্রত্যেকেই খাবার টেবিলে বসলাম এবং লোকটাকে নিয়ে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম কারণ তার ভেতরে ছিল রহস্য এবং নীরবতা।

    নৈশভোজের পর আমরা আগুনের পাশে জড়ো হলাম এবং আমি জানতে চাইলাম তার দীর্ঘ ভ্রমণ সম্পর্কে।

    সে রাতে লোকটা আমাদেরকে অনেক গল্প শোনাল, এমনকি পরের দিনও। কিন্তু আমি যা স্মৃতিতে লিপিবদ্ধ করতে পেরেছি, তা তার সেইসব দিনগুলির তিক্ততা থেকে জন্ম নিয়েছে, যদিও সেই দিনগুলিতে সে ছিল দয়ালু এবং গল্পগুলো হল তার পথের ধুলো এবং সহিষ্ণুতা।

    এবং তিনদিন পর সে আমাদেরকে পরিত্যাগ করে গেলে আমরা অনুভবই করতে পারিনি যে একজন অতিথি নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল বরং অনুভব করেছিলাম আমাদের একজন এখনও বাগানের বাইরে আছে, যদিও সে কখনও ভেতরে আসে নাই।

    .

    পোশাক 

    একদিন সৌন্দর্য ও কদর্যতার সঙ্গে সমুদ্রতীরে পরস্পরের দেখা হয়ে গেল এবং একজন আরেক জনকে বলল, ‘চলো সমুদ্রস্নান করি।’

    তারপর তারা পোশাক খুলে পানিতে সাঁতরাতে লাগল। কিছুক্ষণ পর কদর্যতা তীরে উঠে সৌন্দর্যের পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করে নিজের পথে চলে গেল।

    শ্রীমতি সৌন্দর্যও একসময় তীরে উঠে দেখল তার পোশাক নেই এবং নগ্ন অবস্থায় সে খুব লজ্জিত হল। তারপর সে কদর্যতার ফেলে-যাওয়া পোশাকে নিজের শরীর ঢেকে নিজের পথে চলে গেল।

    এবং সেইদিন থেকে নারী ও পুরুষ পরস্পরকে চিনতে ভুল করল। যদিও তাদের কেউ কেউ সৌন্দর্যের মুখমণ্ডল দেখেছে এবং তার কদর্য পোশাক থাকা সত্ত্বেও তারা তাকে চেনে। আবার কেউ কেউ কদর্যতার মুখমণ্ডলও চেনে এবং তার সুন্দর পোশাক তাদের চোখ থেকে তাকে লুকাতে পারেনি।

    .

    ঈগল এবং ভরতপাখি 

    একটা উঁচু পাহাড়ের পাথরের উপর একটা ভরতপাখি ও একটা ঈগলের দেখা হল। ভরতপাখি বলল, ‘শুভ সকাল জনাব।’ ঈগল ভরতপাখির দিকে তাকিয়ে অস্পষ্টভাবে বলল, ‘শুভ সকাল।’ তারপর ভরতপাখি বলল, ‘আশা করি আপনার সবকিছুই ভালো।’ ‘হ্যাঁ’ জবাব দেয় ঈগল, ‘আমার সব খুবই ভালো, কিন্তু তুমি কি জানো না আমরা পাখিদের রাজা এবং আমরা নিজে থেকে কথা না বললে আমাদের ডাকাডাকি করতে হয় না।

    ভরতপাখি বলে, ‘আমার ধারণা, আমরা একই পরিবারের সদস্য।’

    .ঈগল তাচ্ছিল্যের সঙ্গে তার দিকে তাকায় এবং বলে, ‘কে কখন তোমাকে বলেছে আমরা একই পরিবারের সদস্য?’

    তারপর ভরতপাখি বলে, ‘আমি তোমাকে তা মনে করিয়ে দেব। যেরকম আমি উড়তে পারি, যত উঁচুতে তুমি উঠতে পারো। আমি গাইতে পারি এবং আনন্দ দিতে পারি এই পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীদের। কিন্তু তুমি না দাও সুখ, না দাও আনন্দ।’

    ঈগল ক্রুদ্ধ হয়ে বলল, ‘সুখ এবং আনন্দ! হে ক্ষুদ্র ধৃষ্ট প্রাণী, আমার ঠোঁটের এক খোঁচায় আমি তোমাকে নিশ্চিহ্ন করতে পারি। কিন্তু দুঃখের বিষয় তুমি আমার পায়ের সমান।’ তখন ভরতপাখি উপরে উঠে গেল, নেমে এল ঈগলের পিঠের উপরে এবং ঠোঁট দিয়ে পালক তুলতে লাগল। বিরক্ত হয়ে ঈগল অনেক উঁচুতে উঠে গেল যেন ইচ্ছে করলেই নিজেকে ক্ষুদ্র পাখিটার ওপর চড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু ঈগল ব্যর্থ হয়। অবশেষে সেই উঁচু পাহাড়ের পাথরের উপর সে আবার ফিরে আসে। এত অস্থির আর কখনোই তাকে মনে হয়নি। ক্ষুদ্র প্রাণীটা (ভরতপাখি) তখনও তার পিঠের ওপর সময়ের ভাগ্যকে অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে।

    ঠিক সেই সময় একটা ছোট্ট কাছিম এসে উপস্থিত হল এবং ঈগলের ওপর চোখ পড়া মাত্রই হাসতে শুরু করল। সে এত বেশি হাসতে লাগল যে হাসতে হাসতে প্রায় চিৎ হয়ে যায় আর কি!

    ঈগল তাকাল কাছিমের দিকে এবং বলল, ‘হে চুপি চুপি হামাগুড়ি দিয়ে চলা ধীরগামী বস্তু! পৃথিবীতে তোমার মতো আর দ্বিতীয় নেই। তোমার এত হাসির কারণ কী?

    কাছিম বলল, ‘কেন হাসছি? আমি দেখছি তুমি ঘোড়া হয়েছ। তোমার একটা ছোট্ট পাখি আছে এবং সে তোমার উপর চড়ে বসেছে। তবে এই ছোট্ট পাখিটা খুবই ভালো পাখি।’ ঈগল তখন কাছিমকে বলল, ‘তুমি তোমার কাজে যাও। এটা আমি ও আমার ভাই ভরতের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটা পারিবারিক বিষয়, বুঝলে?’

    .

    প্রেমের গান 

    একসময় এক কবি একটা প্রেমের গান লেখেন। গানটা ছিল খুবই সুন্দর। কবি সেই গানের অনেকগুলি কপি তৈরি করে বন্ধু ও পরিচিত জনদের কাছে পাঠান, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই রয়েছে। এমনকি তিনি এই প্রেমসংগীত এমন একজন যুবতী নারীকে পাঠান যার সঙ্গে একবারই তার দেখা হয়েছিল, যে বসবাস করে পাহাড়শ্রেণীরও উপরে। একদিন কি দুদিনের ভেতরেই যুবতীর চিঠি নিয়ে একজন বার্তাবাহক এল। তিনি চিঠিতে বলেছেন, ‘আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না আমাকে নিয়ে লেখা আপনার প্রেমের গানগুলি আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এর মধ্যে কোনো মিথ্যে নেই। এখন এসে আমার পিতা ও মাতার সঙ্গে দেখা করুন। আমরা বিয়ের উদ্দেশ্যে বাকদানের ব্যবস্থা করব।’

    চিঠির উত্তরে কবি যুবতীকে বললেন, ‘বন্ধু, আমার এটা ছিল একজন কবির হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসা প্রেমের গান, যা প্রত্যেক পুরুষ প্রত্যেক নারীর উদ্দেশে গায়।

    যুবতী তাকে এই বলে আবার চিঠি লেখেন, ‘তুমি ভণ্ড এবং মিথ্যেবাদী। আজ থেকে আমার কফিনে শোওয়ার দিন পর্যন্ত তোমার কারণে আমি সমস্ত কবিকে ঘৃণা করব।’

    .

    হাসি এবং কান্না 

    নীল নদীর তীরে এক সন্ধ্যায় এক হায়েনা ও এক কুমিরের দেখা হয়ে গেলে তারা থামল এবং পরস্পরকে সম্ভাষণ জানাল।

    হায়েনা বলল, ‘আপনার দিনগুলো কেমন যাচ্ছে জনাব?’

    কুমির উত্তরে বলল, ‘আমার দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে আমি আমার দুঃখ ও বেদনায় কাঁদি। তখন সব প্রাণী বলতে থাকে, ‘এগুলি কুমিরের চোখের জল’ এবং এই মন্তব্যে আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই।’

    তারপর হায়েনা বলল, ‘আপনি আপনার দুঃখ ও বেদনার কথা বললেন, কিন্তু একমূহুর্ত আমার কথা ভাবুন। আমি স্থিরদৃষ্টিতে পৃথিবীর সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে থাকি, এর বিস্ময় ও অলৌকিকত্ব এবং এর নির্ভেজাল আনন্দের ভেতর থেকে আমি হেসে উঠি, যেভাবে দিনগুলি হাসে এবং বনভূমির বাসিন্দার তখন বলে, এই হল হায়েনার হাসি।’

    .

    মেলায় 

    মেলায় শহরতলি থেকে খুব সুন্দরী একটা মেয়ে এল যার মুখমণ্ডলে একসঙ্গে গোলাপ ও পদ্মফুল ফুটেছিল। তার চুলে খেলা করছিল সূর্যাস্ত এবং ঠোঁটের ওপরে হাসছিল ভোরবেলা।

    অল্প কিছুক্ষণ পর সুদর্শন এক আগন্তুক তাদের দৃষ্টিসীমার ভেতরে এলে মেলায় আগত যুবকেরা মেয়েটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। একজন তার সঙ্গে নাচতে চাইল এবং অন্যেরা তার সম্মানে কেক কাটল এবং তারা প্রত্যেকেই তাকে চুম্বন করতে চাইল। মোটকথা, এটা ছিল একটা মেলা, তাই নয় কি?

    কিন্তু মেয়েটি এতে মনে কষ্ট পায় এবং ভয়ে চিৎকার কর ওঠে এবং যুবকদেরকে নিকৃষ্ট পর্যায়ের মানুষ বলে মনে করে। সে তাদেরকে তিরস্কার করে, এমনকি একজনের মুখে রীতিমতো আঘাত করতেও ছাড়ে না। তারপর সে সেখান থেকে দৌড়ে পালায়। এবং সেই সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে ফিরতে সে নিজেকে বলে, ‘আমি অসম্ভব বিরক্ত হয়েছি। কী পরিমাণ অভদ্র এবং বিরক্ত-উৎপাদনকারী এসব মানুষ। আমার ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

    একবছর পর মেলার সময় আবার সেই সুন্দরী মেয়ে মেলায় এল এবং লোকগুলি সম্পর্কে ভাবল। সে মেলায় এল সেই একইভাবে—গোলাপ ও পদ্মফুল একসঙ্গে ফুটে আছে মুখমণ্ডলে, চুলে সূর্যাস্ত এবং ঠোটে ভোরবেলার হাসি।

    কিন্তু এবার যুবকেরা তাকে দেখে দূরে চলে গেল এবং সারাদিন কেউ তার সন্ধান করেনি এবং সে ছিল একাকী।

    এবং সন্ধ্যায় বাড়ির রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে নিজের ভেতরে কেঁদে ফেলে, ‘আমি খুবই বিরক্ত হয়েছি। কী পরিমাণ অভদ্র এবং বিরক্ত-উৎপাদনকারী এসব যুবকেরা। আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

    .

    দুই রাজকুমারী 

    সাওয়াকিশ শহরে এক রাজকুমার বাস করত এবং সেই শহরের নারী, পুরুষ ও শিশু প্রত্যেকেই তাকে ভালোবাসত। এমনকি মাঠে চড়ে বেড়ানো পশুরাও তাকে সম্ভাষণ জানাতে আসত। কিন্তু লোকে বলাবলি করত তার রাজকুমারী স্ত্রী তাকে ভালোবাসত না, উপরন্তু তাকে ঘৃণা করত।

    একদিন প্রতিবেশী শহরের রাজকুমারী সাওয়াকিশ-এর রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা করতে এল। তারা একত্রে বসে কথা বলতে বলতে তাদের স্বামীর প্রসঙ্গ এসে পড়ল। সাওয়াকিশ-এর রাজকুমারী খুব আবেগের সঙ্গে বলল, — তোমার স্বামী রাজকুমার ও তোমার সুখ দেখে আমার হিংসা হয়, যদিও অনেকগুলি বছর তোমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি আমার স্বামীকে ঘৃণা করি। কারণ সে আমার প্রতি অনুরক্ত নয় এবং বস্তুতপক্ষে আমি একজন সবচেয়ে অসুখী নারী।’

    তারপর অতিথি রাজকুমারী স্থিরদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘বন্ধু আমার, সত্য হল যে, তুমি তোমার স্বামীকে ভালোবাসো। হ্যাঁ, এখনও তার জন্য তোমার অনুরাগ নিঃশেষিত হয়ে যায়নি এবং এটাই হল একজন নারীর জীবন, বাগানে আসা বসন্তের মতো। কিন্তু করুণা করো আমার ও আমার স্বামীর প্রতি, কারণ আমরা পরস্পরের দুঃখকষ্ট নীরবে সহ্য করি, যদিও তুমি এবং অন্যেরা মনে করো এই হচ্ছে সুখ।’

    .

    বজ্রের ঝলকানি 

    এক ঝড়ের দিনে এক খৃস্টান যাজক তার এলাকার প্রধান গির্জায় একা ছিলেন এবং খৃস্টান নয় এরকম একজন রমণী তার সামনে এসে দাঁড়াল এবং বলল, আমি খৃস্টান নই। নরকের আগুন থেকে আমার জন্য কি পরিত্রাণের কোনো ব্যবস্থা আছে?”

    যাজক রমণীর দিকে তাকালেন এবং তার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘না, এখানে শুধু তাদের জন্য পরিত্রাণের ব্যবস্থা আছে, যারা দীক্ষা গ্রহণ করেছে পবিত্র পানি অথবা আত্মার সাহায্যে।’

    কথা বলতে বলতেই আকাশ থেকে বজ্রসহ বিদ্যুৎচমক নেমে এল গির্জার ওপর এবং গীর্জা আগুনে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।

    শহরের লোকেরা দৌড়ে এল এবং রমণীকে উদ্ধার করল, কিন্তু যাজক পরিণত হল আগুনের খাদ্যে।

    .

    তপস্বী ও পশুরা 

    এক পাহাড়ের ভেতরে এক তপস্বী বসবাস করতেন। তাঁর হৃদয় ছিল খাঁটি এবং তিনি ছিলেন সাদা মনের মানুষ। ভূমির যাবতীয় পশু এবং আকাশে উড়ে বেড়ানো সমস্ত পাখি তাঁর কাছে আসত জোড়ায় জোড়ায় এবং তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। তারা আনন্দের সঙ্গে তপস্বীর কথা শুনতে শুনতে তাঁর চারপাশে জড়ো হত এবং রাত্রি না নামা পর্যন্ত তারা যেতনা এবং যখন তিনি তাদেরকে যেতে বলতেন, তখন তাদেরকে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলতেন তাঁর আশীর্বাদকৃত বাতাস এবং বনভূমির ওপর।

    এক সন্ধ্যায় তিনি ভালোবাসা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। একটা চিতাবাঘ মাথা তুলে তপস্বীকে বলল,’আপনি আমাদেরকে ভালোবাসা সম্পর্কে বলছেন। দয়া করে আমাদেরকে বলুন জনাব, আপনার সঙ্গী কোথায়?’

    তপস্বী বললেন, ‘আমার কোনো সঙ্গী নেই। ‘

    তখন পশু ও পাখিদের ভেতর থেকে বিস্ময়মিশ্রিত কান্না উত্থিত হল এবং নিজেদের ভেতরে তারা কথা বলতে শুরু করল, কীভাবে তিনি আমাদেরকে ভালোবাসা ও মিলন সম্পর্কে বলেন যেখানে তিনি নিজেই কিছু জানেন না।’ অবজ্ঞাভরে তারা তাকে একা ফেলে চলে যায়।

    সেই রাতে তপস্বী তার মাদুরের ওপর শুয়ে প্রচণ্ড তিক্ততায় বুক চাপড়ে কাঁদতে লাগলেন।

    .

    নবী ও শিশুটি 

    একদা নবী সারিয়া বাগানে এক শিশুর দেখা পেলেন। শিশুটি দৌড়ে তার কাছে এল এবং বলল, ‘শুভ সকাল জনাব’ এবং নবীও বললেন, ‘শুভ সকাল’, এবং এক মুহূর্তে পর আবার বললেন, ‘আমার ধারণা তুমি একা।’

    তারপর শিশুটি হাসতে হাসতে পুলকিত হয়ে বলল, ‘অনেক কষ্ট করে নার্সকে ফাঁকি দিয়েছি। সে মনে করেছে আমি ঐ ঝোপের ভেতরে, কিন্তু আপনিও আমাকে দেখতে পাননি।’ তারপর সে স্থিরদৃষ্টিতে নবীর মুখের দিকে তাকায় এবং বলে, ‘আপনিও একা। কীভাবে আপনার নার্সকে ফাঁকি দিয়েছেন।’

    নবী উত্তরে বললেন, ‘ও, হ্যাঁ, ওটা একটা আলাদা বিষয়। সত্য বলতে কি, প্রায় সময়ই আমি তাকে ফাঁকি দিতে পারি না, কিন্তু যখন আমি বাগানে এলাম সে ঝোপের পিছনে আমাকে খুঁজতে শুরু করল।’

    শিশুটি হাততালি দিয়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠল, ‘আপনিও আমার মতো হারিয়ে ফেলেছেন। এভাবে হারিয়ে যাওয়া খুব মজার তাই না’ তারপর একটু থেমে সে বলল, ‘আপনি কে?’

    লোকটি উত্তরে বলল, ‘সবাই আমাকে নবী সারিয়া বলে ডাকে এবং আমাকে বলো তুমি কে?’

    ‘আমি হলাম শুধুই আমি’ শিশুটি বলল, ‘এবং আমার নার্স আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং আমি কোথায় তা সে জানে না।’

    তারপর নবী শূন্যতার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকালেন এবং বললেন, ‘আমিও আমার নার্সের কাছ থেকে কিছুক্ষণের জন্য পালিয়েছি, কিন্তু সে আমাকে ঠিকই খুঁজে বের করবে। এবং শিশুটি বলল, ‘আমি জানি, আমিই আমাকে খুঁজে বের করব।’

    এ সময় একটা নারীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল যে শিশুটির নাম ধরে ডাকছে। শিশুটি বলল, ‘ঐযে দেখুন। বলেছিলাম না সে আমাকে খুঁজে বের করবে।’

    এবং একই সময় অন্য একটি কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘শিল্প কোথায় থাকে সারিয়া?’

    নবী বললেন, ‘এই যে ছোট্ট সোনামনি শোন, তারা আমাকে খুঁজে পেয়েছে।’

    এবং তারপর তার মুখখানা ওপরের দিকে তুলে সারিয়া বললেন, ‘আমি এখানে।’

    .

    মুক্তা 

    একটা ঝিনুক, তার প্রতিবেশী একটা ঝিনুককে বলল, ‘আমার ভেতরে খুবই বেদনা। এই বেদনা এতবেশি যে তা আমার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং আমি চরম সংকটের মধ্যে আছি।’

    অন্য ঝিনুক অহংকারের সঙ্গে আত্মতুষ্টির ভঙ্গিতে উত্তরে বলল, ‘প্রশংসা করো স্বর্গ এবং সমুদ্রের, আমার ভেতরে কোনো দুঃখ বা বেদনা নেই। আমি ভালো এবং পরিপূর্ণ, ভেতরে এবং বাইরে।’

    সেই মুহূর্তে একটা কাঁকড়া সেখান দিয়ে যাচ্ছিল এবং দুটো ঝিনুকের কথোপকথন সে শুনতে পেল এবং যে সুখী ও পরিপূর্ণ তার উদ্দেশে বলল, ‘হ্যাঁ, তুমি সুখী এবং পরিপূর্ণ কিন্তু তোমার প্রতিবেশী যে বেদনা বহন করছে তা হচ্ছে একটা মুক্তা—যা চূড়ান্তভাবে সৌন্দর্যকে অতিক্রম করে গেছে।’

    .

    দেহ এবং আত্মা 

    একজন নারী ও একজন পুরুষ জানালার ধারে বসেছিল, যে জানলা বসন্তের কারণে খোলা। তারা খুব ঘনিষ্ঠভাবে বসেছিল এবং নারীটি বলল, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি সুদর্শন এবং ধনী এবং তুমি সবসময়ই ভালো পোশাক পরিধান করে থাকো।’

    এবং পুরুষটি বলল, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি। তুমি হলে একটা চমৎকার চিন্তা, হাত দিয়ে ধরার ক্ষেত্রেও একটা দূরবর্তী বস্তু এবং আমার স্বপ্নের ভেতরে গাইতে থাকা একটা গান।’

    কিন্তু নারীটি ক্রুদ্ধ হয়ে তার কাছ থেকে সরে আসে এবং বলে, ‘জনাব, আমাকে এখন যেতে দিন। আমি কোনো চিন্তা নই এবং আমি এমন কোনো জিনিস নই যা আপনার স্বপ্নের ভেতরে চলাচল করে। আমি একজন নারী। আমি ভেবেছিলাম আমি আপনার কাঙ্ক্ষিত হব স্ত্রী হিসেবে এবং যে শিশুর জন্ম হয়নি তার মা হিসেবে।’

    এবং তারা আলাদা হয়ে গেল।

    লোকটা হৃদয় থেকে বলল, ‘লক্ষ্য করো, অন্য একটি স্বপ্ন এখন ধোঁয়াশায় পরিণত হচ্ছে।’

    নারীটি বলল, ‘চমৎকার। একটা মানুষ কীভাবে আমাকে ধোঁয়াশা ও স্বপ্নে পরিণত করল।’

    .

    রাজা 

    সাদিক রাজ্যের মানুষেরা রাজার রাজপ্রাসাদ ঘিরে ফেলে এবং চিৎকার করে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। রাজা রাজপ্রাসাদের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন, এক হাতে রাজমুকুট, অন্য হাতে রাজদণ্ড। তার চেহারার রাজকীয় হাবভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ চুপ করে যায় এবং তিনি তাদের সামনে দাঁড়ান এবং বলেন, ‘ হে বন্ধুরা আমার, তোমাদের ভেতরে কে আমার বিষয় নয়। এখানে আজ আমি আমার রাজমুকুট ও রাজদণ্ড তোমাদের কাছে সমর্পণ করছি। আমি তোমাদের একজন হব। আমি একজন মাত্র মানুষ, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি তোমাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করব এবং সেটাই হবে অনেক এবং উত্তম। সুতরাং রাজার কোনো প্রয়োজন নাই। চলো আমরা শস্য ও আঙুরক্ষেতে যাই এবং একসঙ্গে পরিশ্রম করি। তোমরা আমাকে অবশ্যই বলবে কোন্ শস্য বা আঙুরক্ষেতে আমার যাওয়া উচিত। এখন তোমরা প্রত্যেকেই রাজা।’

    জনগণ বিস্মিত হল এবং তাদের ওপর ভর করেছিল নীরবতা কারণ, যে রাজাকে তারা তাদের অসন্তোষের উৎস মনে করেছিল এখন সে-ই তার রাজমুকুট এবং রাজদণ্ড সমর্পণ করেছে তাদেরকে এবং পরিণত হয়েছে তাদের একজনে।

    তারপর প্রত্যেকেই যার যার পথে চলে গেল এবং রাজা একজন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শস্যক্ষেতের দিতে হাঁটতে লাগলেন।

    কিন্তু সাদিক সম্রাজ্য রাজা ছাড়া মোটেও ভালো ছিল না এবং অসন্তোষের ধোঁয়াশা ছিল রাজ্যের সর্বত্র। বাজার এলাকাগুলিতে লোকেরা চিৎকরা করে কাঁদত এবং বলত তাদেরকে কেউ পরিচালনা করুক অর্থাৎ তাদের একজন প্রয়োজন যে তাদেরকে শাসন করবে। বয়স্ক ও যুবকেরা বলল, যেন তারা সমস্বরে বলছে, ‘আমরা আমাদের রাজাকে পেয়ে যাব।’

    তারা রাজাকে অনুসন্ধান করতে থাকে এবং দেখতে পায় তিনি শস্যক্ষেতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তারা তাঁর সিংহাসন নিয়ে আসে তাঁর কাছে এবং তাঁর রাজমুকুট ও রাজদণ্ড। তারা বলে, ‘প্রবল ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারসহ আমাদেরকে শাসন করুন।’ রাজা বললেন, ‘বস্তুতপক্ষে প্রবল ক্ষমতার সঙ্গে আমি তোমাদেরকে শাসন করব এবং পৃথিবী ও স্বর্গের ঈশ্বরেরা আমাকে সাহায্য করবেন যেন আমি ন্যায়বিচারের সাথে শাসন করতে পারি।’

    রাজার উপস্থিতিতে নারী ও পুরুষেরা সেখানে উপস্থিত হল এবং তাকে একজন ব্যারন (খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি) সম্পর্কে বলল যে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে এবং তার সম্মুখে তারা ছিল ভূমিদাসের মতো। রাজা সরাসরি সেই ব্যারনকে তার সামনে ডেকে আনেন এবং বলেন, ‘ঈশ্বরের দাঁড়িপাল্লায় একজন মানুষের জীবন অত্যন্ত ভারী অন্য মানুষের জীবনের মতোই। কারণ, তুমি জান না তাদের জীবন কীভাবে ওজন করা হয় যারা তোমাদের শস্য ও আঙুরক্ষেতে কাজ করে। সুতরাং তুমি চিরদিনের জন্য এই রাজ্য পরিত্যাগ করবে।’

    .

    কয়েকদিন পর আরও কিছু লোক রাজার কাছে আসে এবং একজন কাউন্টেসের নিষ্ঠুরতা বর্ণনা করে যা পাহাড়সমান উঁচু এবং আরও বর্ণনা করে কীভাবে সে তাদেরকে বিভিন্ন যাতনা দিয়েছে। তক্ষুনি কাউন্টেসকে আদালতে নেওয়া হয় এবং রাজা তাকে দণ্ড হিসেবে দেন নির্বাসন এবং বলেন, ‘যারা আমাদের ভূমি চাষ করে এবং আঙুরক্ষেতের যত্ন নেয় তারা তাদের চেয়ে মহৎ, যারা আহার হিসেবে গ্রহণ করে নিজের প্রস্তুতকৃত রুটি এবং পান করে নিজের আঙুর-পেষণকারী যন্ত্র থেকে। যেহেতু তুমি এসব জানো না সুতরাং তুমি এই ভূমি পরিত্যাগ করবে এবং দূরে কোথাও চলে যাবে এই রাজ্য ছেড়ে।’ তারপর আরও কিছু নারী ও পুরুষ এল এবং বলল যে, বিশপ (উচ্চপদস্থ খ্রিস্টীয় যাজক) তাদেরকে দিয়ে বিশাল বিশাল পাথরখণ্ড বহন করিয়েছে ক্যাথেড্রালের (বিশপের এলাকাধীন প্রধান গির্জা) জন্য, কিন্তু তাদেরকে বিনিময়ে কিছুই দেয়নি, যদিও তারা জানে বিশপের ধনভাণ্ডার সোনা ও রুপায় পরিপূর্ণ এবং তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খালিহাতে ফিরিয়ে দিয়েছে।

    রাজা বিশপকে ডেকে পাঠালেন এবং সে আসার পর বললেন, ‘যে ক্রুশচিহ্ন তুমি বুকের ওপর ঝুলিয়েছ তার অর্থ হচ্ছে তুমি বিশ্বাস করো জীবন জীবনের জন্য? কিন্তু তুমি জীবন থেকে জীবনকে গ্রহণ করেছ এবং বিনিময়ে তাদেরকে কিছুই দাওনি। সুতরাং এই রাজ্য পরিত্যাগ করো এবং কখনও এখানে আর ফিরে আসবে না।’

    প্রতিদিন নারী ও পুরুষেরা রাজার কাছে আসে এবং জানায় কী পরিমাণ বোঝা তাদের ওপর চেপে বসে আছে এবং প্রতিদিনই অত্যাচারীদেরকে রাজা এই ভূমি থেকে নির্বাসনে দেন। এবং সাদিক রাজ্যের লোকেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়—তাদের হৃদয় উল্লাসে ভরে ওঠে। একদিন রাজ্যের বয়স্ক ও যুবকেরা এসে রাজার প্রাসাদ ঘিরে ফেলে এবং রাজাকে আহ্বান জানায়। রাজা একহাতে রাজমুকুট ও অন্যহাতে রাজদণ্ড নিয়ে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘আমি এই সিংহাসন পরিত্যাগ করে যেতে চাই।’

    জনগণ কেঁদে ফেলল, ‘না, না, আপনি হলেন আমাদের আইনসম্মত রাজা। আপনি সমস্ত বিষধর সাপ ধ্বংস করে এই ভূমিকে পরিচ্ছন্ন করেছেন, পালিয়ে গেছে নেকড়েরা আপনার ভয়ে। সুতরাং আমরা এসেছি গান গাইতে গাইতে, এসেছি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে। আপনার রাজমুকুট হচ্ছে আপনার ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং রাজদণ্ড হচ্ছে আপনার গৌরব।’

    তারপর রাজা বললেন, ‘আমি না, আমি না। তোমরাই তোমাদের রাজা। যখন তোমরা আমাকে দুর্বল এবং কুশাসক মনে করো, তখন তোমরাই দুর্বল হয়ে পড়ো এবং তখন কুশাসন চালু হয়। এখন এই ভূমি তোমাদেরকে বিদায় জানায়, কারণ তোমাদের ইচ্ছাশক্তির ভেতরে তা সুপ্ত অবস্থায় ছিল। এখন আমার মনে তোমাদের চিন্তা এবং আমার এই টিকে থাকা তোমাদের কর্মকাণ্ড রক্ষার জন্য নয়। রাজ্যপাল হিসেবেও এ রাজ্যে কেউ নেই। শুধুমাত্র সেই শাসনের অস্তিত্ব আছে যা নিজেদেরকে শাসন করে। তারপর রাজা তার রাজমুকুট ও রাজদণ্ড হাতে প্রাসাদে পুনরায় প্রবেশ করলেন। বৃদ্ধ এবং যুবকেরা প্রত্যেকেই যার-যার পথে চলে গেল এবং তারা প্রত্যেকেই ছিল পরিতৃপ্ত এবং প্রত্যেকেই ভাবতে লাগল রাজমুকুট ও রাজদণ্ড হাতে তারাই এখন রাজা।

    .

    বালির ওপর 

    এক লোক আরেক লোককে বলল, ‘বহুদিন আগে সমুদ্রের প্রবল স্রোতের সময় বালির ওপরে আমার ছড়ির ডগা দিয়ে একটা লাইন লিখেছিলাম এবং মানুষ এখনও কিছুদিন পরপর তা পড়ে এবং যেন এটা মুছে না যায় সে-ব্যাপারে তারা যত্নশীল।

    অন্য লোক বলল, ‘আমিও বালির ওপর একটা লাইন লিখেছিলাম, কিন্তু তখন সমুদ্রের স্রোত তত প্রবল ছিল না এবং বিশাল সমুদ্রের ঢেউ তা ধুয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাকে বলেন তো আপনি কী লিখেছিলেন?”

    প্রথম লোকটি বলল : আমি লিখেছিলাম : ‘আমি সে-ই যে এখানে আছে’। কিন্তু আপনি কী লিখেছিলেন?’

    অন্য লোকটি বলল, ‘আমি লিখেছিলাম, আমি হলাম বিশাল সমুদ্রের জলধারার একটি বিন্দু।’

    .

    তিনটি উপহার 

    এক সময় বিসাররী শহরে এক উদার রাজকুমার বসবাস করতেন। প্রত্যেকেই তাকে ভালোবাসত এবং সম্মান করত। কিন্তু এই শহরে একজন চরম গরিব লোক বসবাস করত যে রাজার প্রতি কটূক্তি করত এবং যার ধারাবাহিক রসিকতা ছিল মূলত অপ্ৰশংসা। রাজা এটা জানতেন যদিও তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    অবশেষে তিনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলেন এবং এক শীতের রাতে সেই লোকের দরজায় রাজকুমারের এক ভৃত্য এল একবস্তা ময়দা, একব্যাগ সাবান এবং একব্যাগ চিনি নিয়ে। এবং সে বলল, ‘আপনাকে স্মরণের চিহ্ন হিসেবে রাজকুমার এসব উপহার পাঠিয়েছেন।’ লোকটি অনুপ্রাণিত হয়, কারণ সে চিন্তা করে যে এ উপহার হচ্ছে তার প্রতি রাজকুমারের শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং এই গর্বে সে বিশপের কাছে যায় এবং রাজকুমার কী করেছে তা বলে, ‘আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমার ইচ্ছাশক্তির প্রতি রাজকুমারের কী পরিমাণ আকাঙ্ক্ষা?’

    কিন্তু বিশপ বলেন, ‘রাজকুমার কী পরিমাণ জ্ঞানী এবং তোমার বোঝাবুঝি কত ক্ষুদ্র। তিনি প্রতীকের মাধ্যমে কথা বলেছেন। তার ময়দা হল তোমার শূন্য পাকস্থলীর জন্য, সাবান হল তোমার নোংরা চামড়ার জন্য এবং তোমার তিক্ত জিভকে সুমিষ্ট করে তোলার জন্য হচ্ছে চিনি। ‘

    সেইদিন থেকে লোকটি খুবই লজ্জিত হল। তারপর থেকে সে রাজকুমারকে আরও বেশি ঘৃণা করতে লাগল এবং সেইসঙ্গে বিশপকেও, যে রাজকুমারকে তার সামনে প্রকাশ করেছিল। তারপর লোকটি নীরব হয়ে গেল।

    .

    শান্তি এবং যুদ্ধ 

    তিনটি কুকুর রোদ পোহাচ্ছিল এবং গল্প করছিল।

    প্রথম কুকুর স্বপ্নময় কণ্ঠে বলল, ‘বস্তুতপক্ষে এটা খুবই বিস্ময়কর কুকুরদের এই স্বাধীনতার দিনে বেঁচে থাকা। এই কথা বিবেচনা করে আমরা ভ্রমণ করি সমুদ্রের তলদেশ, পৃথিবীর উপরিভাগ, এমনকি মাথার ওপরের আকাশ এবং একমুহূর্তের জন্য মধ্যস্থতা করি কুকুরদের আরাম-আয়েশের জন্য উদ্ভাবিত যা-কিছু সামনের দিকে এগিয়ে আনা হয়েছে সেইসব, এমনকি আমাদের চোখ, কান ও নাকের জন্য।

    দ্বিতীয় কুকরটি বলল, ‘আমরা অধিক মনোযোগী শিল্পকলার প্রতি। জোছনা প্লাবিত রাতেই আমরা অধিক ছন্দোময়ভাবে ডাকাডাকি করি আমাদের পূর্বপুরুষের চেয়ে এবং যখন আমরা জলের ভেতরে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকাই তখন আমরা নিজের মুখের আদল পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই গতকালের চেয়ে।’

    তারপর তৃতীয় কুকুরটি বলল, ‘কিন্তু কী আমাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে এবং ছলনা করে আমাদের মনকে এবং সেটাই হল বোঝাবুঝির প্রশান্তি, যার অস্তিত্ব কুকুরের স্বাধীনতার দিনে প্রকাশিত হয়।’

    ঠিক সেই সময় তারা দেখতে পেল একজন কুকুর-শিকারি খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। কুকুরগুলো হঠাৎ লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং দ্রুতবেগে ছুটতে থাকে রাস্তা দিয়ে এবং দৌড়াতে দৌড়াতে তৃতীয় কুকরটি বলে, ‘ঈশ্বরের কসম, বাঁচতে হলে দৌড়াও। সভ্যতা আমাদের পেছনে।

    .

    নর্তকী 

    একবার বিরকাসা-এর রাজকুমারের বিচারালয়ে এক নর্তকী এল, সঙ্গে তার যন্ত্রশিল্পীরা। নর্তকী বিচারকক্ষে প্রবেশ করে রাজকুমারের সামনে নাচতে শুরু করল এবং সেইসঙ্গে বাজতে থাকল বীণা, বাঁশি এবং বহুতারবিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র।

    সে নাচছিল আলোর শিখার নৃত্য এবং তরবারি ও বর্শার ক্ষিপ্রতম নৃত্য; সে নাচছিল নক্ষত্র এবং মহাশূন্যের নৃত্য এবং আরও নাচছিল বাতাসে নৃতরত ফুলের নাচ।

    নৃত্যশেষে সে রাজকুমারের সিংহাসনের সামনে এসে দাঁড়াল এবং অভিবাদন জানাতে তার সামনে মাথা ও শরীর নোয়াল। রাজকুমার তাকে কাছে আসার আহ্বান জানালেন এবং বললেন, ‘সুন্দরী রমণী, তুমি হলে সেই উল্লাস ও শোভনতার কন্যা, যেখান থেকে তোমার শিল্পকলারা আসে? এবং এটা কেমন, তোমার কবিতা ও ছন্দের ভেতরে থাকা যাবতীয় উপাদানগুলি, যার সাহায্যে তুমি নির্দেশ দিয়ে থাকো?’

    নর্তকী আবার রাজকুমারকে অভিবাদন জানাতে মাথা ও শরীর নোয়ায় এবং উত্তরে বলে, ‘হে পরাক্রমশীল ও উদার রাজকুমার, আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর জানি না। শুধুমাত্র এইটুকু জানি : দার্শনিকের আত্মা বসবাস করে তার মস্তিষ্কে, কবির আত্মা বসবাস করে তার হৃদয়ে, গায়কের আত্মা বিলম্বিত হয় তার কণ্ঠনালির জন্য, কিন্তু নর্তকীর আত্মা থাকে তার পুরো শরীরের সঙ্গে।’

    .

    দুজন অভিভাবক দেবদূত 

    কোনো এক সন্ধ্যায় নগর-তোরণের সামনে দু’জন দেবদূতের দেখা হলে তারা পরস্পরকে সম্ভাষণ জানাল এবং কথা বলতে শুরু করল।

    একজন দেবদূত বলল, ‘আজকাল তুমি কী করছ এবং তোমাকে কী কাজ দেওয়া হয়েছে?’

    উত্তরে অন্যজন বলল, ‘আমাকে একটা পতিত মানুষের অভিভাবকের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে যে লোকটা উপত্যকার নিচের দিকে বসবাস করে। সে একটা অশ্রদ্ধার পাত্র এবং বিশাল পাপী। আমি তোমাকে নিশ্চিত করে বলতে চাই এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং আমি কঠিন পরিশ্রম করছি।’

    প্রথম দেবদূত বলল, ‘একটা সহজ কাজের ভার তোমাকে দেওয়া হয়েছে। আমি বহু পাপীকে চিনি এবং বহু সময় আমি তাদের অভিভাবকত্ব করেছি। কিন্তু বর্তমানে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধপুরুষের অভিভাবকত্ব করার, যে ওইখানে ছায়াঘেরা নিকুঞ্জে বসবাস করে এবং আমি তোমাকে নিশ্চিত করছি যে, এটা চূড়ান্তভাবে একটা কঠিন কাজ এবং অতিশয় সূক্ষ্ম।’

    প্রথম দেবদূত আবার বলল, ‘এটা একটা পূর্বধারণা মাত্র। একজন পাপীকে পাহারা দেওয়ার চেয়ে কীভাবে একজন সিদ্ধপুরুষকে পাহারা দেওয়া কঠিনতর কাজ হতে পারে?’ অন্য দেবদূত উত্তরে বলল, ‘কী ধৃষ্টতা আমাকে অনুমান বলে ডাকা হচ্ছে। আমি সত্য বলছি। আমার মনে হয় এটা তুমিই—যাকে প্রকৃতই অনুমান বলা যায়।’

    তারপর দেবদূতেরা কলহে জড়িয়ে পড়ে এবং মারামারি শুরু করে। প্রথমে মুখে মুখে, তারপর হাতাহাতি।

    যখন তারা হাতাহাতি করছিল তখন সেখানে একজন উঁচুশ্রেণীর দেবদূত হাজির হয় এবং তাদের মারামারি থামিয়ে দিয়ে বলে, ‘কেন তোমরা হাতাহাতি করছ? তোমাদের সমস্যাটা কী? তোমরা জানো না এটা খুবই অশোভন নগর-তোরণের সামনে দুজন অভিভাবক দেবদূতের এভাবে ঝগড়া করা? আমাকে বলো তো, তোমাদের মতানৈক্যের কারণ কী?’

    তারপর উভয় দেবদূতই একসঙ্গে কথা বলল। প্রত্যেকেই দাবি করছে তাকে যে-কাজ দেওয়া হয়েছে তা কঠিনতর এবং তার জন্য বিশাল স্বীকৃতির প্রয়োজন।

    উঁচুশ্রেণীর এই দেবদূত মাথা নাড়লেন এবং বললেন, ‘হে বন্ধুরা, আমার সম্মান ও পুরস্কারের দৃষ্টিকোণ থেকে বৃহত্তর দাবি কোটি তা আমি বলতে পারব না। কিন্তু যে ক্ষমতা আমাকে প্রদান করা হয়েছে ভালো অভিভাবকত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, তার সাহায্যে আমি তোমাদেরকে অন্য পেশা দান করতে পারি। তাহলে তোমরা আর কার কাজ সহজতর তা নিয়ে ঝগড়া করবে না। এখন এখান থেকে যাও এবং নিজের কাজ নিয়ে সুখী হও।’

    আদেশ অনুযায়ী দেবদূতেরা যার যার পথে চলে গেল কিন্তু প্রত্যেকেই বিশাল ক্রুদ্ধতা নিয়ে পেছনে তাকাল এবং প্রত্যেকেই মনে মনে বলল, ‘হাহ, এইসব উঁচুশ্রেণীর দেবদূতেরা। প্রতিদিন তারা জীবনকে কঠিনতর করে তোলে এবং এখনও পর্যন্ত আমাদের জন্য তা কঠিনতর।

    কিন্তু উঁচুশ্রেণীর দেবদূত সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং আরও একবার সে তাদেরকে বোঝাল এবং হৃদয় থেকে বলল, ‘বস্তুতপক্ষে আমরা সবসময়ই জাগ্রত এবং অভিভাবক দেবদূতদের ওপর সতর্কদৃষ্টি রাখছি।’

    .

    মূর্তি 

    একসময় পাহাড়ের ভেতরে এক লোক বসবাস করত। সে ছিল একটা মূর্তির মালিক এবং এই মূর্তি সংরক্ষণের ব্যাপারে উৎসাহিত হয়েছিল এক প্রাচীন চিত্রকরের দ্বারা। মূর্তিটা উপুড় হয়ে দরজার কাছে পড়েছিল এবং সে এটার ব্যাপারে মোটেও মনোযোগী ছিল না।

    একদিন শহর থেকে আসা এক লোক তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটা ছিল জ্ঞানী এবং সে মূর্তিটা দেখতে পায় এবং তার মালিককে জিজ্ঞাসা করে সে এটা বেচবে কিনা। মূর্তিটার মালিক হাসে এবং বলে, ‘তার জন্য প্রার্থনা করুন, যে এই মলিন ও নোংরা পাথরটা কিনতে চায়।’

    শহর থেকে আসা লোকটা বলল, ‘এটার বদলে আমি আপনাকে একটা রুপার মুদ্রা দেব।’ লোকটা প্রথমে স্তম্ভিত ও তারপর উৎফুল্ল হয়।

    একটা হাতির পিঠে করে মূর্তিটা শহরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বহু চন্দ্রমাস পেরিয়ে যাওয়ার পর পাহাড় থেকে সেই লোকটা শহর পরিদর্শনে আসে এবং রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটা দোকানের সামনে জটলা দেখতে পায় এবং শুনতে পায় উচ্চৈঃস্বরে কেউ চিৎকার করে বলছে : ‘আসুন এবং লক্ষ্য করুন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি মূর্তি। মাত্র দুটো রুপার মুদ্রার বিনিময়ে দেখুন একজন ভাস্করের সবচেয়ে চমকপ্রদ এই শিল্পকর্ম।’

    অতঃপর পাহাড় থেকে আসা লোকটা দুটো রুপার মুদ্রা দিয়ে দোকানে ঢুকে মুর্তিটা দেখল, যা সে মাত্র একটা রুপার মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করেছিল।

    .

    বিনিময় 

    কোনো একসময় দুই রাস্তার সংযোগস্থলে একজন গরিব কবি ও একজন ধনী নির্বোধের দেখা হল এবং তারা দৃষ্টিগোচর হয় এরকম সবকিছু নিয়েই কথা বলল শুধুমাত্র তাদের অসন্তোষ ছাড়া।

    সড়কের দেবদূত তখন ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার দুই হাত দু’জনের কাঁধে রাখলেন এবং তারা লক্ষ্য করল এক অলৌকিক ঘটনা : লোক দুটো তাদের দখল বিনিময় করল।

    তারপর তারা আলাদা হয়ে গেল, কিন্তু এর সঙ্গে সম্পর্কিত অদ্ভুত ঘটনাটি হল : কবি দেখল তার হাতে কিছুই নেই চলাচলরত শুকনো বালি ছাড়া এবং নির্বোধ তার চোখ বন্ধ করে কিছুই অনুভব করল না শুধুমাত্র হৃদয়ের ভেতরে চলাচলরত মেঘ ছাড়া।

    .

    ভালোবাসা এবং ঘৃণা 

    এক মহিলা একজন পুরুষকে বলল, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি,’ এবং পুরুষটি বলল, ‘তোমার ভালোবাসায় আমার হৃদয় আরও গুণসম্পন্ন হয়ে উঠবে।’

    মহিলা বলল, ‘তুমি আমাকে ভালোবাসো না?’ লোকটা স্থিরদৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল এবং কিছুই বলল না।

    তখন মহিলা চিৎকার করে কেঁদে ফেলল, ‘আমি তোমাকে ঘৃণা করি।’

    লোকটি বলল, ‘তোমার ঘৃণাও আমার হৃদয়কে সমৃদ্ধ করে তুলবে।’

    .

    স্বপ্ন 

    একটা লোক একটা স্বপ্ন দেখল এবং জেগে উঠে সে তার ভবিষ্যৎবক্তার কাছে গিয়ে মনে মনে ভাবল তার স্বপ্ন তার কাছে সহজই মনে হবে।

    ভবিষ্যত্বক্তা লোকটিকে বলল, ‘সেই স্বপ্নটা নিয়ে আমার কাছে এসো যা তুমি জাগরণের ভেতরে দেখেছিলে এবং আমি তোমাকে তার অর্থ বলে দেব, কিন্তু সেই স্বপ্নগুলি ছাড়া যারা আমার স্বাধীনতা ও তোমার কল্পনার ভেতরে বসবাস করে না।’

    .

    পাগল 

    পাগলাশ্রমের বাগানে একজন যুবকের সঙ্গে আমার দেখা হল, যার মুখখানা মলিন হলেও লাবণ্যময় এবং বিস্ময়ে পরিপূর্ণ।

    আমি তার পাশে বেঞ্চির ওপর বসলাম এবং বললাম, ‘তুমি এখানে কেন?

    সে আশ্চর্য হয়ে আমার দিকে তাকায় এবং বলে, ‘এটা একটা অশোভন প্রশ্ন যদিও আমি এর উত্তর দেব। আমার পিতা আমাকে তার প্রতিমূর্তিতে পুনরায় উৎপাদন করবেন। আমার চাচাও একই কাজ করবেন। আমার মা আমাকে তার কীর্তিমান পিতার প্রতিমূর্তি প্রদান করবেন। আমার বোন তার সমুদ্রগামী স্বামীকে ধরে রেখেছে, যা অনুসরণ করতে আমার জন্য এটা একটা যথাযথ উদাহরণ। আমার ভাই চিন্তা করে আমার তার মতো হওয়া উচিত—একজন চমৎকার শরীরচর্চাবিদ।’

    এবং আমার শিক্ষকেরা, ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, সংগীতজ্ঞ এবং নীতিবিশেষজ্ঞরা প্রত্যেকেই দৃঢ়সংকল্প এবং প্রত্যেকেই আমাকে পাবে, কিন্তু তা হল একটি আয়নায় তাদের নিজস্ব মুখের প্রতিফলন।’

    ‘সে কারণে আমি এখানে এসেছি। এখানে আমি অনেক বেশি মানসিক সুস্থতা ফিরে পেয়েছি। অন্তত এখানে আমি, আমি হতে পারব।’

    হঠাৎ করেই সে আমার দিকে ফিরল এবং বলল, ‘কিন্তু আমাকে বলুন, শিক্ষা ও ভালো পরামর্শের সাহায্যে আপনি কোনদিকে যাবেন।

    আমি উত্তরে বললাম, ‘আমি কোথাও যাব না। আমি একজন পরিদর্শক।’ সে বলল, ‘তাই! তাহলে আপনি তাদের একজন যে পাগলাশ্রমের দেয়ালের অন্যদিকে বসবাস করে।’

    .

    ব্যাঙগুলি 

    কোনো এক গ্রীষ্মের দিনে একটা ব্যাঙ তার সঙ্গীকে বলল, ‘আমি সেইসব লোকদের ভয় পাই তীরবর্তী বাড়িগুলিতে যারা বসবাস করে, কারণ তারা আমাদের নৈশ-সংগীতে খুবই বিরক্ত হয়।’

    উত্তরে তার সঙ্গী বলল, ‘কিন্তু তারা কি দিনের বেলায় কথা বলে আমাদের নীরবতা ভঙ্গ করে না?’

    ব্যাঙ বলল, ‘ভুলে গেলে চলবে না রাতের বেলা আমরা অতিরিক্ত গান গাই’, এবং তার সঙ্গী উত্তরে বলল, ‘এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, দিনের বেলায় তারা অনর্থক বকবক ও অতিরিক্ত চিৎকার করে থাকে।’

    তখন ব্যাঙ বলল, ‘কোলাব্যাঙের ব্যাপারে কী বলবে, যে সমস্ত প্রতিবেশীকে বিরক্ত করে তার গুরুগর্জন দিয়ে?

    এবং তার সঙ্গী উত্তরে বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই আছে এবং তুমি কি বলবে এইসব রাজনীতিবিদ, যাজক এবং বিজ্ঞানী যারা এই তীরে আসে এবং বাতাসকে ভরে তোলে ছন্দহীন অসংখ্য শব্দে।’

    তারপর ব্যাঙ বলল, ‘চলো এইসব মানুষের চেয়ে আমরা উন্নততর হই। এসো আমরা রাত্রে চুপচুপ থাকি। আমরা আমাদের গান চলো হৃদয়ে পুষে রাখি, যদিও চাঁদ আমাদেরকে ডাকাডাকি করে আমাদের ছন্দের জন্য এবং নক্ষত্র ডাকাডাকি করে আমাদের পদ্যের জন্য। সুতরাং চলো আমরা কমপক্ষে এক, দুই অথবা তিন রাত্রি নীরবতা পালন করি।’ তার সঙ্গী উত্তরে বলল, ‘খুব ভালো কথা, আমি তোমার সঙ্গে একমত। আমরা দেখতে পাব কি তোমার হৃদয়ের প্রাচুর্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।’

    সেই রাতে ব্যাঙেরা নীরব ছিল এবং পরবর্তী রাতেও নীরব ছিল, এমনকি তৃতীয় রাতেও তারা কোনো শব্দ করে নাই।

    এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিস্ময়ের বিষয় হল, লেকের পাশের বাড়িতে বসবাসরত বাচাল মহিলাটি তৃতীয় দিন নাস্তা খাওয়ার সময় চিৎকার করে স্বামীকে বলে, ‘তিন রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। ব্যাঙের ডাক আমার কানে আসলেই ঘুমের জন্য তখন আমার নিরাপদ সময় মনে হয়। কিন্তু গত তিন রাত তারা একেবারেই ডাকছে না। সম্ভবত কিছু একটা ঘটেছে এবং এই রাত্রি-জাগরণের কারণে আমার মাথাটার পাগল হওয়ার দশা হয়েছে।’

    ব্যাঙ এই কথা শুনে তার সঙ্গীর দিকে ফিরল এবং চোখ পিটপিট করে বলল, ‘আমাদের নীরবতায় আমরাই পাগল হতে বসেছি, ঠিক নয় কি?’

    উত্তরে সঙ্গী বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ, আমাদের ওপর রাত্রির এই নীরবতা খুবই ভয়াবহ এবং এখন আমি দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের গান থামানোর কোনো প্রয়োজন নেই তাদের সুবিধার জন্য, যাদের শূন্যতাগুলি শব্দ দিয়ে পূর্ণ করা অবশ্যই প্রয়োজন।

    এবং রাত্রিবেলায় চাঁদ আবার তাদের ডাকতে থাকে, তবে তা ছন্দ বিফলে যাবার জন্য নয়; নয় নক্ষত্রের আহ্বানে পদ্য হারিয়ে যাবার জন্য।

    .

    আইন এবং আইন প্ৰণয়ন 

    বহুবছর আগে এক রাজ্যে এক জ্ঞানী রাজা ছিলেন এবং তার আকাঙ্ক্ষা ছিল বিষয় অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা।

    তিনি এক হাজার গোত্রের এক হাজার জ্ঞানী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের আহ্বান জানান তার রাজ্যভবনে এসে তিনি যা জানেন সেটাই ঠিক এরকম কর্তৃত্বভরে কিছু বলার জন্য।

    এবং এই সবকিছুই হল রূপান্তরিত হওয়া।

    কিন্তু যখন এক হাজার আইন লেখা পশুচর্ম রাজার সামনে দেওয়া হল তখন তিনি তা পড়ে নিজের আত্মার ভেতরে কাঁদলেন, কারণ তার জানা ছিল না যে, তার রাজ্যে হাজার ধরনের অপরাধ রয়েছে।

    তারপর তিনি অনুলেখককে ডাকলেন এবং তিনি হাসিমুখে আইন সম্পর্কে নির্দেশ দিতে লাগলেন। তাঁর ছিল সাতটি আইন।

    এবং সেই এক হাজার জ্ঞানী মানুষ ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে পরিত্যাগ করে যায় এবং নিজ নিজ গোত্রে প্রত্যাবর্তন করে নিজেদের সেই আইনগুলি নিয়ে যা সম্পর্কে তারা কর্তৃত্বভরে বক্তব্য দিয়েছিল। তবে প্রত্যেক গোত্রভুক্ত মানুষই অনুসরণ করে তাদের জ্ঞানীব্যক্তিকে। তারপর থেকে আজকের দিন পর্যন্ত তারা হাজারো আইন গ্রহণ করেছে।

    এটা একটা বিশাল দেশ, কিন্তু এর রয়েছে এক হাজার কারাগার এবং এসব কারাগার পূর্ণ হয়ে আছে নারী, পুরুষ এবং হাজারো আইনভঙ্গকারী দ্বারা।

    বস্তুতপক্ষে এটা একটা বিশাল দেশ, কিন্তু এর জনগণ হচ্ছে এক হাজার আইন প্রণয়নকারী ও মাত্র একজন রাজার বংশধর।

    .

    গতকাল, আজ এবং আগামীকাল 

    আমি আমার বন্ধুকে বললাম, ‘দ্যাখো ঐ নারী পুরুষের বাহুতে হেলান দিয়ে আছে। কিন্তু গতকাল সে আমার বাহুতে হেলান দিয়েছিল।’

    আমার বন্ধু বলল, ‘এবং আগামীকাল সে আমার বাহুতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে।’

    আমি বললাম, ‘লক্ষ্য করো নারীটা তার গাঘেঁষে বসেছে। কিন্তু গতকাল সে আমার সঙ্গে খুবই অন্তরঙ্গভাবে বসেছিল।’

    এবং সে উত্তরে বলল, ‘আগামীকাল সে আমার গা ঘেঁষে বসে থাকবে।

    আমি বললাম, ‘ দ্যাখো পুরুষটার কাপ থেকে নারীটা পান করছে এবং গতকাল সে আমার কাপ থেকে পান করেছিল।’

    এবং সে বলল, ‘আগামীকাল আমার কাপ থেকে পান করবে।’

    তারপর আমি বললাম, ‘দ্যাখো, সে কেমন প্রেমময় দৃষ্টিতে পুরুষটার দিকে তাকিয়ে আছে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে। গতকাল সে আমার দিকেও এভাবে তাকিয়েছিল।’ এবং আমার বন্ধু বলল, ‘আগামীকাল তার স্থিরদৃষ্টি আমার ওপরেও পড়বে।’

    আমি বললাম, ‘তুমি কি নারীটির সেই প্রেম-সংগীত শুনতে পাচ্ছ না যা সে ঐ পুরুষটার কানে কানে শোনাচ্ছে। গতকাল সে আমার কানেও এই প্রেম-সংগীতের গুঞ্জনধ্বনি তুলেছিল।’

    এবং আমার বন্ধু বলল, ‘এবং আগামীকাল আমিও এমন প্রেমসংগীত শুনতে পাব।’ আমি বললাম, ‘দ্যাখো দ্যাখো ঐ নারী পুরুষটিকে জড়িয়ে ধরছে। গতকাল আমাকেও এভাবে জড়িয়ে ধরেছিল।’

    এবং আমার বন্ধু বলল, ‘আগামীকাল সে আমাকে জড়িয়ে ধরবে।’

    তারপর আমি বললাম, ‘কী অদ্ভুত এক নারী!

    কিন্তু সে উত্তরে বলল, ‘সে জীবন ভালোবাসে, পুরুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পছন্দ করে মৃত্যু। সে সমস্ত পুরুষকে জয় করে এবং পছন্দ করে অনন্তকাল, সে জড়িয়ে ধরে সব পুরুষকে।’

    .

    দার্শনিক এবং মুচি 

    জুতা পায়ে দিয়ে এক দার্শনিক এলেন এক মুচির দোকানে এবং বললেন, ‘আমার জুতাটা সেরে দাও।’

    মুচি বলল, ‘আমি একজনের জুতো সারছি। আরও একটায় তালি দিতে হবে। তারপর আপনারটা ধরব। দেরি হবে। তবে এক কাজ করুন, আপনি জুতোটা রেখে অন্য একজোড়া পায়ে দিয়ে যান। কাল এসে আপনারটা নিয়ে যাবেন।

    দার্শনিক খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, ‘আমার নিজের নয় এরকম জুতো আমি পরি না।’

    মুচি বলল, ‘আপনি সত্যিই একজন দার্শনিক এবং আপনি কখনও অন্যের জুতোর ভেতরে নিজের পা ঢোকান না—ঠিক আছে, এই রাস্তায় আরও একজন মুচি আছে যে দার্শনিকদের আমার চেয়ে ভালো বোঝে। সুতরাং তার কাছে গিয়ে আপনার জুতো সারিয়ে নিন।’

    .

    সেতুর নির্মাতা 

    এ্যান্টিওচ হচ্ছে এমন একটা স্থান যেখান দিয়ে আছসাই নদী সাগরের সঙ্গে মিলিত হতে যায়। এই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি নগরের এক অর্ধেককে অন্য অর্ধেকের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল। বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল এই সেতু এবং এই পাথরগুলি বহন করে আনা হয়েছিল পাহাড়ের ভেতর থেকে অ্যান্টিওচ-এর খচ্চরের পিঠে বহন করে। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এর একটা স্তম্ভের ওপর গ্রিক এবং আর্মেনিয় ভাষায় খোদাই করে লেখা হয় : ‘এই সেতুর নির্মাতা রাজা দ্বিতীয় এ্যান্টিওচুস।’ এবং স্রোতস্বিনী আছসাই নদীর ওপর নির্মিত এই চমৎকার সেতুর ওপর দিয়ে নগরের সব লোকই চলাচল করত।

    এক সন্ধ্যায় পাগল প্রকৃতির এক যুবক এই স্তম্ভের কাছে উদ্ভূত হয় যেখানে ঐ কথাগুলো খোদাই করা আছে এবং সে খোদাই করা জায়গাগুলো কয়লা দিয়ে ঢেকে ফেলে এবং তার ওপর লেখে, এই সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত পাথরগুলো বহন করে আনা হয়েছে পাহাড় থেকে খচ্চরের পিঠে করে। এটার ওপর দিয়ে সামনে ও পেছনে যাওয়ার সময় আপনি ও এ্যান্টিওচ-এর খচ্চরের পিঠে সওয়ার হচ্ছেন, যে প্রকৃতই এই সেতুর নির্মাতা।’

    যখন লোকেরা এই যুবকের লেখা পড়ত, তখন কেউ কেউ হাসত এবং কেউ কেউ বিস্মিত হত। আবার কেউ কেউ বলত, ‘হ্যাঁ, আমরা জানি কে এটা করেছে। এটা সেই পাগলটা না?’

    কিন্তু একটা খচ্চর হেসে অন্য খচ্চরকে বলল, ‘তুমি কি স্মরণ করতে পারছ না আমরা ঐসব পাথর বহন করেছিলাম, যদিও এখনও পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে এই সেতুর নির্মাতা রাজা এ্যান্টিওচুস।’

    .

    জাদ-এর মাঠ 

    জাদ-এর রাস্তার ওপর এক পর্যটকের সঙ্গে এক লোকের দেখা হয়েছিল, যে কাছাকাছি গ্রামে বসবাস করত এবং পর্যটক একটা বিশাল মাঠের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বললেন, ‘এটা সেই যুদ্ধক্ষেত্র নয় যেখানে রাজা আহলাম তার শত্রুদের অতিক্রম করে গিয়েছিলেন?

    লোকটা উত্তরে বলল, ‘এটা কখনই যুদ্ধক্ষেত্র ছিল না। এই বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল বিশাল শহর জাদ এবং এই নগরী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন এটা একটা চমৎকার মাঠ। তাই নয় কি?’

    তারপর পর্যটক ও লোকটা আলাদা হয়ে যায়।

    আধা মাইল যেতে-না-যেতেই পর্যটক অন্য এক লোকের সাক্ষাৎ পান এবং সেই মাঠ দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘এই মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল শহর জাদ এখন কোথায়?’

    লোকটা বলল, ‘এই জায়গায় কখনই কোনো শহর ছিল না। কিন্তু একসময় এখানে একটা আশ্রম ছিল এবং দক্ষিণদেশের লোকেরা তা ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

    কিছুক্ষণ পর জাদ-এর রাস্তার ওপর পর্যটক তৃতীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ পান এবং একই মাঠ দেখিয়ে আরও একবার প্রশ্ন করেন, ‘এটা কি সত্য নয় যে, এই সেই স্থান যেখানে এক সময় একটা বিশাল আশ্রম ছিল?’

    কিন্তু লোকটা উত্তরে বলল, ‘এই মাঠে এবং আশপাশে কোথাও কখনও কোনো আশ্রম ছিল না, কিন্তু আমাদের পিতা ও পিতামহেরা বলেছিলেন একসময় এই মাঠে একটা বিশাল উল্কাপিণ্ড খসে পড়েছিল।’

    পর্যটক হাঁটতে লাগলেন এবং মনে মনে খুবই বিস্মিত হলেন। তারপর তিনি একজন বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎ পান এবং তাকে অভিবাদন জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘জনাব, এই রাস্তার ওপর আমার তিনজন লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে যারা এই এলাকার কাছাকাছি বসবাস করে এবং তাদের প্রত্যেককেই আমি এই মাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং প্রত্যেকেই অস্বীকার করেছে অন্যেরা যা বলেছে এবং প্রত্যেকেই আমাকে নতুন গল্প শুনিয়েছে, যা অন্যেরা শোনায়নি।’

    তারপর বৃদ্ধলোকটি মাথা তুলে বললেন, ‘ হে আমার বন্ধু, এদের প্রত্যেকেই আপনাকে যা বলেছে তা বস্তুতপক্ষে তাই, কিন্তু আমাদের অল্প কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে আরও বিভিন্ন ঘটনা সংযুক্ত করতে এবং তা সত্যে পরিণত করতে সক্ষম। বাকিটা তারই ফলাফল।’

    .

    সোনালি বেল্ট 

    কোনো একদিন রাস্তায় দুটো লোকের দেখা হয়, যারা স্তম্ভের শহর সালামিস-এর দিকে হাঁটছিল। মধ্য বিকেলের দিকে তারা একটা নদীর তীরে উপস্থিত হয়। কিন্তু নদী পার হওয়ার জন্য কোনো সেতু ছিল না। তাদেরকে অবশ্যই সাঁতার কেটে নদী পার হতে হবে অথবা সন্ধান করতে হবে অন্য পথ যা তাদের কাছে অচেনা।

    তারা একজন আরেকজনকে বলল, ‘চলো আমরা সাঁতার কেটে নদী পার হই। নদীটা মোটেও চওড়া নয়।’ তারা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং সাঁতার কাটতে শুরু করল। এদের মধ্যে একজন যে সবসময়ই নদী ও নদীর গতিপথ চেনে, কিন্তু মাঝনদীর স্রোতে হঠাৎ সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং স্রোতের প্রবল টানে ভেসে যেতে থাকে। অন্য লোকটি কখনই সাঁতরে নদী অতিক্রম করেনি, কিন্তু দেখা গেল সে নদীর অপরতীরে দাঁড়িয়ে আছে। সে দেখতে পায় তার সঙ্গী এখনও স্রোতের সাথে যুদ্ধ করছে। ফলে সে আবার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নিরাপদে তার সঙ্গীকে তীরে নিয়ে আসে।

    এতক্ষণ স্রোতের সাথে যুদ্ধ করতে থাকা লোকটা বলে, ‘কিন্তু তুমি আমাকে বলেছিলে তুমি সাঁতার জানো না। কীভাবে তাহলে নদী অতিক্রম করলে নির্ভরতার সঙ্গে?’ দ্বিতীয় লোকটি তখন উত্তরে বলল, ‘বন্ধু, আমার এই বেল্টটা দেখেছ যা আমাকে বেষ্টন করে রেখেছে? এটা স্বর্ণমুদ্রায় পরিপূর্ণ, যা আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য উপাৰ্জন করেছি-এক বছরের কাজের পারিশ্রমিক। সোনাভর্তি এই বেল্টের ওজনই আমাকে নদী পার হওয়ার জন্য বহন করেছে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে যেতে এবং যখন আমি সাঁতার কাটছিলাম তখন আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা ছিল আমার কাঁধের ওপর।’ এবং লোকদুটি একসঙ্গে সালামিস শহরের দিকে হাঁটতে লাগল।

    .

    লালমাটি 

    একটা গাছ একজন মানুষকে বলল, ‘আমার শিকড় লালমাটির গভীরে ছড়ানো এবং তোমাকে আমার ফল দান করব।।’

    এবং লোকটা গাছকে বলল, ‘কী অদ্ভুতভাবে আমরা একই রকম। আমার শিকড়ও লালমাটির ভেতরে বিস্তৃত। এই লালমাটি তোমাকে শক্তি দান করে আমাকে ফল দান করবে এবং এই লালমাটিই আমাকে শিক্ষা দেয় : তোমাকে ধন্যবাদের সঙ্গে এই ফল গ্রহণ করতে।

    .

    পূর্ণিমা 

    শহরের আকাশে গৌরবময় চাঁদ উঠেছিল এবং শহরের সব কুকুর চাঁদের দিকে তাকিয়ে ডাকাডাকি শুরু করল।

    শুধুমাত্র একটা কুকুর ডাকল না এবং সে অন্যদেরকে গম্ভীর স্বরে বলল, ‘জাগরণ ঘুমের ভেতর থেকে আসা কোনো প্রশান্তি নয়, নয় তোমাদের ডাকাডাকিতে চাঁদকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনা।’

    তখন সব কুকুর ডাকাডাকি থামিয়ে দিলে ভয়াবহ নীরবতা নেমে আসে। কিন্তু যে কুকুরটা তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিল বাকি রাত নীরবতার কারণে সে-ই ডাকাডাকি করেছিল।

    .

    আশ্রমবাসী নবী 

    এক সময় এক আশ্রমবাসী নবী একই চন্দ্রমাসে তিনবার শহর ও বাজার এলাকাগুলিতে যেতেন ধর্মপ্রচার এবং জনগণের সঙ্গে মতামত ভাগাভাগি করতে। তিনি ছিলেন খুবই বাকপটু এবং সারা এলাকায় তার নাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।

    এক সন্ধ্যায় তিনজন লোক এল তার আশ্রমে এবং তিনি তাদেরকে সম্ভাষণ জানালেন। তারা বলল, ‘আপনি ধর্মপ্রচার করছেন এবং তা ভাগাভাগিও করছেন এবং আপনি তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুসন্ধান করেন, যারা অনেক জানে এবং যারা কম জানে তাদেরকে শিক্ষা দিতে পারে, কিন্তু আমাদের সন্দেহ হয় আপনার এই খ্যাতি আপনাকে সমৃদ্ধ করে তুলবে না। আপনার সমৃদ্ধ জ্ঞান আমাদেরকে দান করুন, কারণ আমাদের তা প্রয়োজন।’

    আশ্রমবাসী নবী বললেন, ‘বন্ধুরা আমার, আমার কিছুই নেই এই বিছানা, মাদুর এবং পানি খাওয়ার এই পাত্র ছাড়া। ইচ্ছা হলে তোমরা এগুলি নিতে পার। আমার কাছে সোনাও নেই, রুপাও নেই। ‘

    তারপর তারা নিজের প্রতি ঘৃণার ভাব নিয়ে নিচের দিকে তাকাল এবং নবীর দিক থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিল এবং সর্বশেষ লোকটি দরজার কাছে একমুহূর্তের জন্য দাঁড়াল এবং বলল, ‘তুমি ঠগ, তুমি প্রতারক। যা তুমি প্রচার করেছ এবং শিক্ষা দিয়েছ তা তুমি নিজে কোনোদিন পালন করো নাই।’

    .

    পুরোনো মদ 

    এককালে এক ধনীলোক তার মদ্যভাণ্ডার এবং তাতে রক্ষিত মদ নিয়ে গর্ব অনুভব করতেন। এসব মদের মধ্যে এক জগ পুরোনো মদ ছিল কিছু কিছু অনুষ্ঠানে পান করার জন্য এবং এটা শুধু তিনিই জানতেন।

    একদিন রাজ্যপাল তাকে পরিদর্শন করলেন এবং বললেন, ‘আপনার সেই অগটি কি শ্রেফ রাজ্যপালের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।’

    এবং সেই এলাকার এক বাজক তাকে পরিদর্শন করতে এলেন এবং নিজেকে বললেন, ‘না, আমি সেই জাগের মুখ খুলব না। সে এর মূল্য বুঝবে না এবং এর সৌর ও তার নাসারন্ধ্রে পৌঁছাবে না।

    ঐ এলাকার রাজকুমার একদিন এল এবং তার সঙ্গে বসে মদে চুমুক দিল এবং ভাবল, ‘স্রেফ একজন যুবরাজের জন্য এটা একটা রাজকীয় মদ।’

    এবং অন্য একদিন, যেদিন তার ভ্রাতুষ্পুত্রের বিয়ে হয়েছিল, সে নিজেকে বলল, ‘না, না এসব অতিথির সামনে এই জগ আনা যাবে না।’

    এভাবে অনেকগুলি বছর চলে গেল এবং তিনি মারা গেলেন। তাকে সমাহিত করা হল যেভাবে প্রতিটি ওকগাছের বীজকে বপন করা হয়।

    তাকে সমাহিত করার পর মদের পুরোনো জগটি অন্যান্য জগের সঙ্গে বের করে আনা হল এবং তা ভাগাভাগি করল কৃষক এবং প্রতিবেশীরা এবং কেউ জানল না এর প্রাচীনতা। তাদের কাপে তা কেবলই মদ হিসেবে ঝরে পড়ল।

    .

    দুটি কবিতা 

    বহু শতাব্দী আগে এথেন্সের রাস্তার ওপর দুজন কবির সাক্ষাৎ হলে তারা পরস্পরকে দেখে আনন্দিত হলেন।

    এক কবি অন্য কবিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সর্বশেষ কী লিখেছেন এবং বাদ্যযন্ত্রে কি তার সুর তোলা হয়েছে?’

    অন্য কবি গর্বের সঙ্গে উত্তর দিলেন, ‘আমি এইমাত্র আমার বিশাল কবিতাটা শেষ করেছি। সম্ভবত গ্রিকভাষায় লেখা এটাই সবচেয়ে দীর্ঘ কবিতা। কবিতায় সর্বময় ঈশ্বর জিউসের সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে।’

    তারপর তিনি তার আলখাল্লার তলা থেকে একটা পশুচর্ম বের করলেন এবং বললেন, ‘এখানে, লক্ষ করুন, এটা আমার সঙ্গেই আছে এবং আমি আপনাকে তা পড়ে শোনাব। আসুন এই সাদা সাইপ্রেস গাছের ছায়ায় বসি।’

    কবি তার কবিতা পড়লেন এবং এটা ছিল একটা দীর্ঘ কবিতা

    এবং অন্য কবি বললেন, ‘এটা একটা বিশাল কবিতা। এটা যুগের-পর-যুগ বেঁচে থাকবে এবং এই কবিতার মাধ্যমে আপনি মহিমান্বিত হয়ে উঠবেন।’

    প্রথম কবি শান্তভাবে বললেন, ‘গত কয়েকদিন আপনি কী লিখেছেন?’

    অন্য কবি বললেন, ‘আমি লিখেছি, কিন্তু খুবই কম। বাগানে খেলতে থাকা একটা শিশুর স্মৃতি নিয়ে মাত্র আট লাইন’ এবং তিনি লাইনগুলো আবৃত্তি করলেন।

    প্রথম কবি বললেন, ‘মন্দ নয়, মন্দ নয়।’

    তারপর তারা আলাদা হয়ে গেলেন।

    এবং দুহাজার বছর পর বর্তমানে এই কবিতা মুখে-মুখে ফেরে, মানুষের ভালোবাসা পায় এবং সযত্নে তা লালন করা হয়।

    এবং দীর্ঘ কবিতাটি বস্তুতপক্ষে যুগের-পর-যুগ ধরে গ্রন্থাগার ও পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে পড়ে থেকেছে এবং যদিও তা স্মরণ করা হয় কিন্তু কেউ তা ভালোবাসে না এবং পড়েও দেখে না।

    .

    রুথ নামের এক নারী 

    একবার তিনজন লোক দূর থেকে একটা সাদা বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল। বাড়িটা একাকী দাঁড়িয়ে ছিল একটা সবুজ পাহাড়ের ওপরে। তাদের একজন বলল, ‘এটা হল লেডি রুথ- এর বাড়ি। তিনি একজন ডাইনি।’

    দ্বিতীয় লোকটি বলল, ‘তুমি ভুল বলছ। লেডি রুথ একজন সুন্দরী নারী, যে এখানে বসবাস করে তার স্বপ্নকে পবিত্র করে তোলার জন্য।’

    তৃতীয় ব্যক্তি বলল, ‘ তোমরা দুজনেই ভুল বলছ। লেডি রুথ হচ্ছেন এই বিশাল ভূমির মালিক এবং সে ভূমিদাসদের রক্ত শোষণ করে।’

    তারা লেডি রুথকে নিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটতে লাগল। তারপর দুই রাস্তার সংযোগস্থলে তারা এক বৃদ্ধলোকের দেখা পেল এবং তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘দয়া করে আপনি কি লেডি রুথ সম্পর্কে কিছু বলবেন যিনি পাহাড়ের ওপরে ঐ সাদা বাড়িটিতে বসবাস করেন?’

    বৃদ্ধলোকটি মাথা তুলে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং বললেন, ‘আমার বয়স নব্বই বছর এবং আমি স্মরণ করতে পারি লেডি রুথকে যখন প্রথম দেখি তখন আমি বালক। কিন্তু আশি বছর আগে সে মারা গেছে এবং বাড়িটা এখন খালি পড়ে আছে। মাঝে মাঝে ঐ বাড়ি থেকে পেঁচার ডাক ভেসে আসে এবং মানুষ বলে থাকে এই জায়গায় ভূতপ্রেত চলাচল করে।’

    .

    ইঁদুর এবং বিড়াল 

    কোনো এক সন্ধ্যায় এক কবির সঙ্গে এক কৃষকের দেখা হল। কৃষকটি ছিল লাজুক, যদিও তারা কথা বলেছিল।

    কৃষকটি বলল, ‘আমি আপনাকে একটা গল্প শোনাতে চাই, যা আমি অনেক দেরিতে শুনেছি। একটা ফাঁদে একটা ইঁদুর ধরা পড়েছিল এবং ধরা পড়া অবস্থায় সে মনের সুখে পনির খাচ্ছিল এবং একটা বিড়াল সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। বিড়ালকে দেখে ইঁদুরটা ভয়ে শিউরে ওঠে কিন্তু সে জানত ফাঁদের ভেতরে সে নিরাপদ। তারপর বিড়ালটি বলল, ‘হে আমার বন্ধু তুমি তোমার শেষ খাবার খাচ্ছ।’

    ‘হ্যাঁ’, ইঁদুর উত্তরে বলল, ‘আমার একটা জীবন, আমার মৃত্যুও একটা, কিন্তু তোমার কী হবে? তারা আমাকে বলেছে তোমার নয়টা জীবন। এর অর্থ কি এই নয় তোমাকে নয়বার মরতে হবে?’

    কৃষক এবার কবির দিকে তাকাল এবং বলল, ‘এটা কি একটা বিস্ময়কর গল্প নয়?

    কবি তার কথার কোনো উত্তর দিলেন না, কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে নিজের আত্মাকে বললেন : ‘নিশ্চিত হতে হবে, আমাদের নয়টি জীবন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে এবং আমরা নয়বার মরব, নয়বার মারা যাব আমরা। সম্ভবত, একটা জীবনই উত্তম ছিল ফাঁদে ধরাপড়া অবস্থায়-একটুকরো পনিরসহ একজন কৃষকের জীবন যা কিনা তার শেষ খাবার, যদিও আমরা মরুভূমি এবং অরণ্যের সিংহের আত্মীয়-স্বজন নই।’

    .

    অভিশাপ 

    এক বৃদ্ধলোক একবার আমাকে বলেছিল, ‘তিরিশ বছর আগে এক নাবিক আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং আমি হৃদয় থেকে তাদের দুজনকেই অভিশাপ দিয়েছি, কারণ পৃথিবীতে আমি আমার মেয়েকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম।’

    ‘পালিয়ে যাওয়ার খুব অল্পদিনের ভেতরেই ঐ যুবক নাবিকের জাহাজ সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে পৌঁছছিল এবং তার সঙ্গে আমার প্রিয় কন্যাও আমার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। অতঃপর এখন আমার দিকে লক্ষ্য করো, আমি হলাম একটি যুবক ও যুবতীর হত্যাকারী। এটা ছিল আমার অভিশাপ যা তাদেরকে ধ্বংস করেছে। এখন আমার কবরে যাবার সময় হয়েছে, আমি এখন ঈশ্বরের ক্ষমা প্রার্থনা করি। ‘

    বৃদ্ধলোকটি এ পর্যন্তই বলল, কিন্তু তার কথায় একটা দাম্ভিকতার সুর ছিল এবং মনে হচ্ছিল সে এখনও তার অভিশাপের ক্ষমতা সম্পর্কে গর্বিত।

    .

    ডালিমগাছ 

    একটা লোকের ফলবাগানে অনেকগুলি ডালিমগাছ ছিল এবং অনেকগুলি শরৎকাল ধরে সে এসব ডালিম রুপালি ট্রেতে করে বাড়ির বাইরে রেখে দিত এবং ট্রে-এর ওপর প্রতীকচিহ্ন সম্বলিত একটা লেখা স্থাপন করত। লেখাটা হল : যা-কিছু আছে তার থেকে একটা নিন। আপনাকে শুভেচ্ছা।

    কিন্তু বহুলোকই এখান দিয়ে যায়, তবে কেউই কোনো ফল নেয়নি।

    তারপর লোকটা এ-বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করল এবং এক শরতে রুপালি ট্রেতে করে কোনো ডালিম বাড়ির বাইরে সে রাখল না, কিন্তু সে তার প্রতীকসহ লেখাটা আরও বড় করে স্থাপন করল : ‘এখানে আমাদের জমিতে সবচেয়ে ভালো ডালিমগাছ আছে, কিন্তু তা অন্যান্য সাব ডালিমের চেয়ে অধিক রৌপ্যমুদ্রায় বিক্রি করা হবে।’

    এখন সে লক্ষ্য করে প্রতিবেশী সব নারী ও পুরুষ তা কেনার জন্য ভিড় করতে শুরু করেছে।

    .

    ঈশ্বর এবং ঈশ্বরেরা 

    কিলাফিস শহরে এক কূটতার্কিক মন্দিরের সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে প্রচার করছিল বহু ঈশ্বরের ধর্ম আর লোকজন মনে মনে বলছিল : এই সবকিছু আমরা জানি। তারা কি আমাদের সঙ্গে বসবাস করবে না এবং অনুসরণ করবে না আমাদের, যেখানে আমরা যাই?’ এর অল্প কিছুদিন পর অন্য এক লোক বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে বলেছিল : ‘কোথাও কোনো ঈশ্বর নেই।’ এবং বহু মানুষ তার দেওয়া এই সংবাদ শুনে খুবই আনন্দিত হল, কারণ তারা ঈশ্বরের ভয়ে ভীত ছিল।

    এবং অন্য একদিন সেখানে বিশাল বাকপটু এক ব্যক্তি এল এবং বলল, ‘ঈশ্বর আছেন তবে একজন।’ লোকেরা আতঙ্কিত হল এবং তারা অনেক ঈশ্বরের চেয়ে এক ঈশ্বরের বিচার সম্পর্কে ভীত হয়ে পড়ল।

    একই ঋতুতে সেখানে আরও এক ব্যক্তি এল এবং জনগণকে বলল, ‘ঈশ্বর হল তিনজন এবং তারা বাতাসের ওপর বসবাস করে একজন হিসেবে এবং তাদের রয়েছে বিশাল উদার এক মাতা যে তাদের সঙ্গী এবং তাদের বোন।’

    তারা প্রত্যেকেই আয়েশে ছিল, কারণ তারা তাদের গোপনীয়তাকে প্রকাশ করেছিল, ‘একজনের ভেতরে তিন ঈশ্বর। তারা নিশ্চিতভাবেই আমাদের ব্যর্থতাকে অস্বীকৃতি জানাবেন। পাশাপাশি তাদের উদার মাতা নিশ্চিতভাবেই আমাদের মতো গরিব ও দুর্বল প্রাণীর জন্য ওকালতি করবেন।’

    যদিও আজকের দিন পর্যন্ত কিলাফিস শহরে বসবাসরত মানুষেরা প্রবল কলহে অংশগ্রহণ করে এবং পরস্পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে অনেক ঈশ্বর ও ঈশ্বরহীনতা এবং এক ঈশ্বর ও একের ভেতরে তিন ঈশ্বর এবং ঈশ্বরদের উদার মাতাকে নিয়ে।

    .

    সে ছিল বধির 

    এক ধনীলোকের একটা যুবতী স্ত্রী ছিল এবং সে ছিল পাথরের মতো বধির।

    একদিন সকালে যখন তারা নাস্তা করতে শুরু করেছে তখন স্ত্রী তাকে বলল, ‘গতকাল আমি বাজারে গিয়েছিলাম এবং সেখানে দেখলাম বিক্রির জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে দামেস্কের পোশাক, ভারতের বিছানার চাদর, পারস্যের নেকলেস এবং ইয়ামেনের ব্রেসলেট। একদল ব্যবসায়ী এসব জিনিস আমাদের শহরে নিয়ে এসেছে। এখন আমার দিকে দ্যাখো, একজন ধনীলোকের স্ত্রী হিসেবে আমি এই ছেঁড়া-পোশাক পরে আছি। আমি ঐ সুন্দর পোশাকগুলি কিনব।’

    ব্যস্ত স্বামী সকালের কফি খেতে খেতে বললেন, ‘হে প্রিয়তমা, তোমার যা মন চায় তা বাজারে গিয়ে কিনতে না পারার কোনো কারণ দেখছি না।’

    বধির স্ত্রী বলল, ‘তুমি সব সময়ই বলো, ‘না’। এটা মোটেও ঠিক নয়। আমার উচিত এই ছেঁড়া পোশাক পরেই আমাদের বন্ধুদের ভেতরে উপস্থিত হওয়া তোমার সম্পদ ও আমার বন্ধুদের লজ্জা দেওয়ার জন্য।’ এবং স্বামী বললেন, আমি ‘না’ বলিনি। তুমি স্বাধীনভাবেই বাজারে যেতে পারো এবং তা অনায়াসে কিনতে পারো।’

    কিন্তু স্ত্রী আবার তার কথায় ভুল বুঝল, এবং উত্তরে বলল, ‘সমস্ত ধনীলোকদের ভেতরে তুমি হচ্ছ কৃপণ। আমার সৌন্দর্য ও আমাকে আরও ভালো দেখানোর জন্য যা-কিছু প্রয়োজন সবই তুমি দিতে অস্বীকার করো, অথচ আমার বয়সের অন্য নারীরা দামি পোশাক পরে শহরের পার্কগুলোতে ঘুরে বেড়ায়।

    স্ত্রীটি কাঁদতে শুরু করল এবং, তার অশ্রু ঝরে পড়তে লাগল তার স্তনের ওপর এবং সে চিৎকার করে বলল, ‘যখনই আমি কোনো পোশাক অথবা গহনা কিনতে চাই তখনই তুমি বলো ‘না ‘না’।’

    তারপর স্বামীটি উঠে দাঁড়ালেন, পার্স বের করলেন এবং একমুঠো স্বর্ণমুদ্রা রাখলেন তার সামনে এবং খুবই নরম গলায় বললেন, ‘ হে প্রিয়তমা, যাও বাজারে যাও এবং তোমার যা ইচ্ছা হয় কিনে নাও।’

    সেইদিন থেকে এই যুবতী বধির স্ত্রীর কোনোকিছুর আকাঙ্ক্ষা হলে সে স্বামীর কাছে উপস্থিত হত দুইচোখে মুক্তাসদৃশ অশ্রু নিয়ে এবং তার স্বামী নীরব থেকে একমুঠো স্বর্ণমুদ্রা তার কোলের ওপর ফেলে দিতেন।

    এই সুযোগে স্ত্রীটি একজন যুবকের প্রেমে পড়েছে যার অভ্যাস হচ্ছে দীর্ঘভ্রমণে যাওয়া। তাই যখন সে ভ্রমণে যায় তখন স্ত্রীটি তার জানালায় বসে কাঁদতে থাকে।

    স্বামী তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখলেই মনে মনে ভাবেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো নতুন কাপড় এসেছে বাজারে— সিল্কের কোনো পোশাক অথবা দুর্লভ কোনো অলঙ্কার।’

    তিনি একমুঠো স্বর্ণমুদ্রা হাতে তুলে নিয়ে তার সামনে রাখেন।

    .

    অনুসন্ধান 

    হাজার বছর আগে লেবাননের এক ঢালু জায়গায় দুই দার্শনিকের দেখা হলে একজন অন্যজনকে বলেন, ‘কোথায় যাচ্ছেন?’ অন্য দার্শনিক বললেন, ‘আমি সন্ধান করছি যৌবনের প্রস্রবণ যা এইসব পাহাড়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে। আমি দেখেছি সেইসব লেখা যা ঐ প্রস্রবণকে বলছে সূর্যের উদ্দেশ্যে ফুল ফোটাতে। কিন্তু আপনি কী খুঁজছেন?

    প্রথম লোকটা এবার উত্তরে বলল, ‘আমি সন্ধান করছি মৃত্যুপরবর্তী রহস্য।’

    তারপর উভয় দার্শনিকই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অন্যজন তার এই বিশাল বিজ্ঞান সম্পর্কে মোটেও অবগত নয় এবং তারা প্রবল কলহে জড়িয়ে পড়ে এবং একজন আরেকজনের অবস্থাকে আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব বলে আখ্যায়িত করতে শুরু করে।

    বর্তমানে এই দুই দার্শনিক বাতাসের ওপরে উচ্চৈস্বরে ঝগড়া করছে। এ সময় এক আগন্তুক ওখান দিয়ে যাচ্ছিল, যে তার নিজের গ্রামে দুর্বল চিত্তের মানুষ হিসেবে বিবেচিত। সে শুনতে পেল দুই দার্শনিকের উত্তপ্ত বিতর্ক। সে কয়েকমুহূর্তের জন্য দাঁড়াল এবং তাদের বাদানুবাদ শুনল।

    তারপর সে দার্শনিকদের কাছে এল এবং বলল, ‘আমার মনে হয় আপনারা দুজনেই একই দার্শনিক গোষ্ঠীর চিন্তার ভেতরে আবদ্ধ এবং আপনারা একই কথা বলছেন, শুধুমাত্র কথা বলার সময় আপনারা ব্যবহার করছেন আলাদা আলাদা শব্দ। একজন অনুসন্ধান করছেন যৌবনের প্রস্রবণ এবং অন্যজন সন্ধান করছেন মৃত্যুর রহস্য। যদিও বস্তুতপক্ষে তারা একজন এবং একজন হিসেবেই আপনাদের ভেতরে তাদের বসবাস।’

    তারপর লোকটা ঘুরে দাঁড়াল এবং বলল, ‘বিদায় হে জ্ঞানী লোকেরা’ এবং লোকটা চলে যাবার সময় এমনভাবে হাসল যেন একটা রোগী হাসছে।

    দুই দার্শনিক নীরবতার ভেতরে একমুহূর্তের জন্য পরস্পরের দিকে তাকিয়ে দুজনেই হেসে উঠলেন। তাদের ভেতর থেকে একজন বললেন, ‘এখন কি আমরা একসঙ্গে হাঁটতে এবং কাঙ্ক্ষিত বস্তু অনুসন্ধান করতে পারি না?’

    .

    রাজদণ্ড 

    এক রাজা তার স্ত্রীকে বলল, ‘প্রকৃত অর্থে তুমি রানী নয়। আমার সঙ্গী হওয়ার ক্ষেত্রে তুমি খুবই কুরুচিপূর্ণ এবং অভদ্র।

    স্ত্রী বলল, ‘জনাব আপনি নিজেকে রাজা মনে করেন, কিন্তু বস্তুতপক্ষে আপনি কেবলই একজন গরিব এবং পুরোপুরিভাবে।

    একথায় রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে সোনালি রাজদণ্ড তুলে নিলেন হাতে এবং রানীর কপালে আঘাত করলেন।

    এমন সময় মাননীয় প্রাসাদ সরকার সেখানে প্রবেশ করল এবং বলল, ‘হে রাজা, এই রাজদণ্ডকে কারুকার্যখচিত করে তুলেছে এই ভূমির বিশাল এক চিত্রকর। কিন্তু দুঃখের বিষয়, একদিন আপনি এবং রানী তা ভুলে যাবেন, কিন্তু সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে তা প্রজন্মের-পর-প্রজন্ম রক্ষিত থাকবে। এখন আপনি সেই রাজদন্ড দিয়ে রানীর মাথার রক্ত ঝরিয়েছেন। সুতরাং জনাব, এই রাজদণ্ড অধিক স্মরণীয় বলে বিবেচিত হবে।’

    .

    পথ 

    পাহাড়ের ভেতরে এক নারী বসবাস করতেন যার একটি পুত্র ছিল এবং সে ছিল তার একমাত্র ও প্রথম সন্তান।

    এবং চিকিৎসক তার রোগশয্যার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সে জ্বরে মারা যায়।

    বেদনায় উন্মাদগ্রস্ত মা চিকিৎসকের কাছে কেঁদে কেঁদে সনির্বন্ধ অনুরোধ করলেন : ‘আমাকে বলুন, দয়া করে আমাকে বলুন, কিসের সঙ্গে সে সংগ্রাম করেছিল, যা তার সংগীতকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।’

    চিকিৎসক বললেন, ‘এটা ছিল জ্বর।’

    এবং মা বললেন, ‘কী সেই জ্বর?’

    উত্তরে চিকিৎসক বললেন, ‘আমি তা ব্যাখ্যা করতে পারি না। এটা খুবই ক্ষুদ্র একটি জিনিস যা পুরো শরীর পরিদর্শন করে এবং মনুষ্যচোখে আমরা তা দেখতে পাই না।’ সন্ধ্যায় যাজক এলেন তাকে সান্ত্বনা দিতে। মা কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বললেন, ‘কেন আমি আমার ছেলেকে হারালাম, আমার একমাত্র ছেলে, আমার প্রথম সন্তান।’ উত্তরে যাজক বললেন, ‘তুমি বলছ আমার সন্তান। এটা হচ্ছে ঈশ্বরের ইচ্ছা।’

    এবং নারীটি বললেন, ‘ঈশ্বর কী এবং কোথায় ঈশ্বর? ঈশ্বরকে দেখব। তার সামনে আমি অশ্রু দিয়ে আমার বক্ষও ভেজাতে পারি এবং ঢেলে দিতে পারি আমার হৃদয়ের রক্ত তার পায়ের পাতায়। আমাকে বলুন, কোথায় আমি তাকে পাব।’

    যাজক বললেন, ‘ঈশ্বর ক্ষুদ্রের ভেতরে বিশাল। মনুষ্যচোখে তিনি দৃশ্যমান নন।

    তারপর নারীটি চিৎকার করে কেঁদে বলল, ‘এই অতিশয় ক্ষুদ্র আমার সন্তানকে হত্যা করেছে অতিশয় বিশালের ইচ্ছার মাধ্যমে। তাহলে আমরা কি? আমরা কী?’

    সেই মুহূর্তে ঐ নারীর মাতা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেন মৃতছেলেটির কাফনের কাপড় নিয়ে এবং যাজকের কথা এবং তার কন্যার কান্না দুটোই তার কানে এল। তিনি কফিনটা নামিয়ে রাখলেন এবং কন্যার একটা হাত তুলে নিলেন নিজের হাতের ওপর এবং বললেন, ‘লক্ষ্মী মেয়ে আমার, প্রত্যেকেই আমরা অতিশয় ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্রের ভেতরে বৃহৎ এবং আমরা হলাম এই দুয়ের মাঝখানের পথ।

    .

    তিমি এবং প্রজাপতি 

    কোনো এক সন্ধ্যায় একজন পুরুষ ও একজন নারী নিজেদেরকে একত্রে দেখতে পেল একটা ঘোড়ার গাড়ির ভেতরে। তারা আগেও সাক্ষাৎ করেছিল।

    লোকটা ছিল কবি এবং সে নারীটির পাশে বসে মজা করে সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন গল্প বলে যাচ্ছিল। কিছু তার নিজের বয়ন করা, কিছু অন্যের।

    কিন্তু গল্প শুনতে শুনতে মহিলা একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন। হঠাৎ ঘোড়ার গাড়িটা একপাশে কাৎ হয়ে গেলে মহিলা জেগে গেলেন এবং বললেন, ‘তোমার জোনাহ ও তিমি গল্পের যে ব্যাখ্যা দিয়েছ তাতে আমি খুব খুশি হয়েছি এবং তোমার প্রশংসা করছি।’ এবং কবি বলল, ‘কিন্তু ম্যাডাম, আমি আপনাকে আমার নিজের একটা গল্প বলেছি প্রজাপতি এবং সাদা গোলাপ সম্পর্কে এবং তার মূল বিষয়বস্তু হল তারা পরস্পরের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করেছিল।’

    .

    সংক্রামক শান্তি 

    মুকুলিত একটি শাখা তার প্রতিবেশী একটা শাখাকে বলল, ‘এটা একটা শূন্যতায় ভরা অনুজ্জ্বল দিন।’ এবং অন্য শাখা উত্তরে বলল, ‘বস্তুতপক্ষে এটা একটা অনুজ্জ্বল ও শূন্যতায় ভরা দিন।’

    সেই মুহূর্তে একটা চড়াই পাখি এক শাখায় এসে বসল এবং অন্য একটা চড়াই বসল কাছাকাছি কোনো শাখায়।

    একটা চড়াই কিচিরমিচির করে বলল, ‘আমার সঙ্গী আমাকে পরিত্যাগ করে গেছে।’

    অন্য চড়াইটি প্রায় কেঁদে ফেলল, ‘আমার সঙ্গী তো চলে গেছে সে আর ফিরবে না। এখন কী করব আমি?’

    তারপর তারা দুজনে কিচিরমিচির শব্দ এবং তীব্র ভাষায় তিরস্কার করতে শুরু করল এবং অতি দ্রুত মারামারি করতে করতে কর্কশ শব্দ তৈরি করল বাতাসে।

    হঠাৎ করেই অন্য দুটো চড়াই আকাশ থেকে জোড় বেঁধে নেমে এল এবং ক্লান্তিহীন দুই চড়াইয়ের পাশে শান্তভাবে বসল এবং পরিবেশ শান্ত থাকায় সেখানে শান্তি ছিল। তারপর চারটি চড়াই জোড় বেঁধে উড়ে চলে গেল।

    প্রথম শাখা তখন তার প্রতিবেশী শাখাকে বলল, ‘ওটা ছিল পরাক্রমশালী একটি শব্দ যা সৰ্পিল।’ অন্য শাখা উত্তরে বলল, — তোমার যা ইচ্ছা তাই বলে একে আহ্বান জানাও। বর্তমানে এটা শান্ত এবং উচ্চতার বাতাস যদি শান্তি তৈরি করে তাহলে আমার মনে হয় তা উচ্চতার নিচেও শান্তি আনয়ন করতে পারে। তুমি কি আমার কাছাকাছি বাতাসে ছোট্ট একটা ঢেউ তুলবে না?’

    প্রথম শাখা উত্তরে বলল, ‘সম্ভবত। তবে শান্তির কসম, আগেই বসন্ত চলে গেছে।’

    তারপর পুরুষ-চড়াইটি প্রবল বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ তুলে স্ত্রী-চড়াইকে আলিঙ্গন করল।

    .

    ছায়া 

    জুন মাসের কোনো এক দিনে ঘাস দেবদারু গাছের ছায়াকে বলল, তুমি প্রায় সময়ই ডাইনে ও বামে চলাচল করে আমার শান্তি নষ্ট করো।’ ছায়া উত্তরে বলল, ‘আমি না, আমি না। আকাশের দিকে তাকাও। ওখানে একটা গাছ আছে, সেটাই বাতাসে পূর্বে ও পশ্চিমে চলাচল করে সূর্য ও মাটির মাঝখান দিয়ে।

    এবং ঘাস চোখ তুলে তাকায় এবং এই প্রথম সে দেখতে পায় একটা গাছ এবং শুনতে পায় গাছটি হৃদয়ের ভেতরে কথা বলছে, ‘লক্ষ্য কর আমার চেয়েও দীর্ঘতর ঘাস।’ এবং ঘাস নীরব থাকল।

    .

    সত্তর 

    এক কবি এক রাজকুমারীকে বলল, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি।’ এবং রাজকুমারী উত্তরে বলল, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি, হে আমার শিশুপুত্র।’

    ‘কিন্তু আমি আপনার শিশুসন্তান নই। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং আমি আপনাকে ভালোবাসি।’

    এবং রাজকুমারী বলল, ‘আমি বেশ কয়েকজন পুত্র ও কন্যার মাতা এবং তারাও বর্তমানে পুত্র ও কন্যার পিতামাতা এবং আমার ছেলেদের এক ছেলে তোমার চেয়ে বড়।’ এবং কবি বলল, ‘কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি।’

    এর অল্প কিছুদিনের ভেতরে রাজকুমারী মারা যায়। কিন্তু তার শেষ শ্বাসপ্রশ্বাস পুনরায় গ্রহণ করে পৃথিবীর বৃহত্তর শ্বাসপ্রশ্বাস, রাজকুমারী তার আত্মার ভেতরে কথা বলে আমার প্রত্যন্ত প্রিয় ও পছন্দের একমাত্র সন্তান আমার তরুণ কবি, এটা হতে পারে সেই দিন যেদিন আমরা আবার মিলিত হব এবং তখন আমার বয়স মোটেও সত্তর হবে না।’

    .

    ঈশ্বর-অনুসন্ধান 

    দুটো পুরুষ উপত্যকার ভেতরে হাঁটছিল এবং একজন পাহাড়ের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বললেন, ‘আপনি কি ঐ আশ্রমটা দেখেছেন? ওখানে এক লোক বাস করেন যিনি দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তিনি এই পৃথিবীতে ঈশ্বরকে ছাড়া আর কিছুই অনুসন্ধান করেন না এবং পৃথিবীতে তার কেউ নেই।’

    অন্য লোকটা বলল, — সে ঈশ্বরকে পাবে না যতক্ষণ সে আশ্রম পরিত্যগ করে আমাদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন না করছে, আমাদের আনন্দ ও বেদনা ভাগাভাগি করতে, নৃত্য করতে আমাদের বিয়ের উৎসবগুলিতে এবং তাদের সঙ্গে কান্নায় অংশ নিতে যারা আমাদের মৃতের কফিন ঘিরে ক্রন্দনরত।’

    অন্য লোকটি এসব কথা বিশ্বাস করে এবং বলে, ‘আপনি যা বলেছেন আমি তার সঙ্গে একমত। যদিও আমি বিশ্বাস করি আশ্রমবাসী ব্যক্তি একজন ভালো মানুষ এবং এটা কি এমন হতে পারে না যে, একজন ভালোমানুষের অনুপস্থিতি এসব বহুলোকের তথাকথিত ভালোত্বের চেয়ে অধিক উন্নততর?’

    .

    নদী 

    কাদিসা উপত্যকায় প্রবাহিত বিশাল নদীতে দুটি স্রোত এসে মিলিত হয়েছিল এবং তারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছিল।

    একটা স্রোত বলল, ‘কীভাবে তুমি এলে বন্ধু এবং তোমার পথ কেমন ছিল?

    অন্য স্রোত উত্তরে বলল, ‘আমার পথ ছিল বাধাগ্রস্ত। মিলের চাকা ভেঙে গিয়েছিল এবং সবচেয়ে দক্ষ কৃষক আমাকে পরিচালিত করেছিল আমার প্রণালী থেকে তার চারাগাছগুলির দিকে, যা মৃত। আমি সংগ্রাম করেছিলাম সেইসব অশ্লীলতাকে শুষে নিতে যারা কর্মহীন কিন্তু বসে বসে সূর্যালোকে তাদের আলস্যগুলিকে সেঁকে নেয়। তবে তোমার পথ কেমন ছিল ভাই?’

    অন্য স্রোত উত্তরে বলল, ‘আমার পথ ছিল ভিন্ন। আমি পাহাড় থেকে নেমে এসেছি। সুরভিত গুচ্ছপুষ্প এবং লাজুক উইলোর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে। এবং নারী ও পুরুষেরা রুপালি পাত্র ভরে পান করেছে আমাকে, ছোট্ট শিশুরা তীরে বসে গোলাপি পা দিয়ে পানি ঘেঁটেছে এবং তারা আমাকে নিয়ে প্রচুর হেসেছে এবং রচনা করেছে সুমধুর গান। করুণা হয় তোমার জন্য যে, তোমার চলার পথ তত সুখের ছিল না।’ সেই মুহূর্তে নদী উচ্চৈস্বরে কথা বলে উঠল, এসো, এসো, আমাদের সঙ্গে মিলিত হও, আমরা সমুদ্রে চলেছি। এসো, এসো, আমাদের সঙ্গে মিলিত হও, কিন্তু বেশি কথা বোলোনা। এখন আমার সঙ্গে থাক। এসো এসো আমাদের সঙ্গে মিলিত হও, কারণ আমার ভেতরে তোমরা দীর্ঘভ্রমণের কষ্ট ভুলে যাবে, ভুলে যাবে বেদনার উচ্ছলতা 1 এসো, এসো, আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। তুমি এবং আমি দুজনেই সব পথ ভুলে যাব যখন আমরা পৌঁছাব আমাদের মায়ের হৃদয়ে অর্থাৎ সমুদ্রে।’

    .

    দুই শিকারি 

    মে মাসের কোনো এক দিনে আনন্দ ও বেদনার সঙ্গে পরস্পরের দেখা হল একটা জলাভূমির পাশে এবং তারা শান্ত জলের পাশে বসে কথা বলতে শুরু করল। আনন্দ কথা বলল সৌন্দর্য নিয়ে যা এই পৃথিবীর ওপর বিদ্যমান পাহাড় ও বনের ভেতরে প্রাত্যহিক জীবনের বিস্ময় এবং সকালে ও সন্ধ্যায় শ্রুত সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এবং আনন্দ যা-কিছু বলল বেদনা তার সঙ্গে একমত হল কারণ সে জানত সময় এবং সৌন্দর্যের ভোজবাজি। এবং বেদনা ছিল বাকপটু, বিশেষ করে, যখন সে পাহাড় ও শস্যক্ষেতের ভেতর থেকে মে মাস সম্পর্কে কথা বলত।’

    আনন্দ ও বেদনা দীর্ঘক্ষণ একত্রে কথা বলল এবং সেইসব জিনিস সম্পর্কে একমত হল, যা তারা জানত। তখন জলাভূমির অন্য পাড়ে দু’জন শিকারি ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং বারবার এপাড়ের দিকে তাকাচ্ছিল। একজন বলল, ‘আমি ভেবে পাচ্ছি না ওরা দুজন কে?’ অন্য শিকারি বলল, ‘তুমি বলছ দুজন? কিন্তু আমি তো একজনকেই দেখতে পাচ্ছি।’

    প্রথম শিকারি বলল, ‘কিন্তু সেখানে দুজন।’ দ্বিতীয় শিকারি বলল, ‘আমি তো  একজনকেই দেখতে পাচ্ছি। জলাভূমির পানিতে একজনের প্রতিবিম্ব।’

    ‘না, ওখানে দুজন আছে।’ প্রথম শিকারি বলল ‘এবং এখনও জলে দুজনেরই প্রতিবিম্ব দেখতে পাচ্ছি।’

    কিন্তু দ্বিতীয় শিকারি আবার বলল, ‘শুধুমাত্র একজনকেই আমি দেখছি’ এবং অন্যজন বলল, ‘কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে দেখছি দুজন’ এবং আজকের দিন পর্যন্ত একজন শিকারি যা বলে, অন্যজন দেখে তার দ্বিগুণ এবং অন্যজন তখন আরও বলে, ‘আমার বন্ধু কিছুটা অন্ধ।’

    .

    অন্য এক পথভ্রষ্ট 

    কোনো একসময় রাস্তার ওপর এক লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। সে ছিল সামান্য পাগল এবং সে-কারণে আমাকে সে বলত : ‘আমি একজন পথভ্রষ্ট। প্রায়ই আমার মনে হয় আমি পিগমীদের ভেতরে সারা পৃথিবী হেঁটে বেড়াচ্ছি। কারণ আমার মস্তিষ্ক পৃথিবী থেকে সত্তর কিউবিটস (১৮ থেকে ২২ ইঞ্চি সমমানের দৈর্ঘ্যের পরিমাণ) দূরে অবস্থিত, ফলে এই মস্তিষ্ক উচ্চতর এবং মুক্তচিন্তার জন্ম দেয়।

    ‘কিন্তু সত্যি বলতে কী আমি মানুষের ভেতরে হাঁটি না, আমি হাঁটি তাদের ওপরে এবং তারা প্রত্যেকেই আমার পদচিহ্ন দেখতে পায় উন্মুক্ত মাঠে।’

    ‘এবং প্রায়ই আমি আমার পদচিহ্নের আকার ও আকৃতি নিয়ে তাদের আলোচনা ও অসম্মতি শুনতে পাই। কারণ সেখানে কেউ একজন আছে যে বলে ‘এগুলি হচ্ছে ম্যামোথ (অধুনালুপ্ত লোমশ হস্তী বিশেষ)-এর পদচিহ্ন, দূরবর্তী অতীতে যারা পৃথিবীতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াত।’ এবং অন্যজন বলল, ‘এটা হল সেই জায়গা যেখানে দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে উল্কাপিণ্ড খসে পড়েছে।’

    ‘কিন্তু তুমি আমার বন্ধু, তুমি ভালোভাবেই জানো যে, তারা একজন পথভ্রষ্টের পদচিহ্ন সংরক্ষণ করে না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত
    Next Article স্তালিন : মিথ্যাচার এবং প্রাসঙ্গিকতা – মনজুরুল হক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }