Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাউন্ট অব মন্টিক্রিষ্টো – আলেকজাণ্ডার ডুমা

    লেখক এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶

    ২১-২৩. স্পেনের বাজার পলায়ন

    স্পেনের বাজার পলায়ন রহস্যের জের মিটবার আগেই আর এক দারুণ খবর প্রকাশিত হলো প্যারিসের এক বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকায়।

    খবরটির শিরোনাম ছিল–”আলী পাশার হত্যা রহস্য।”

    সংবাদদাতা লিখেছিলেন–”জেনিনার সুলতান আলী পাশার মৃত্যু ও জেনিনার পতনের ইতিহাস এতকাল রহস্যাবৃত ছিল, কিন্তু সম্প্রতি এমন কতকগুলো বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ আমাদের হস্তগত হয়েছে যা থেকে আমরা নিঃসন্দেহে জানতে পেরেছি যে, আলী পাশাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়। যে নরপশুর বিশ্বাসঘাতকতায় আলী পাশার মৃত্যু হয়, সে ছিল তারই একজন সেনাপতি। খবরাখবর নিয়ে আরও জানা গেছে যে, ঐ বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি শুধু আলী পাশাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয় নাই, সে তাঁর প্রাসাদটিও অরক্ষিত অবস্থায় শত্রুদের হাতে তুলে দেয়। নাটকের কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ঐ বিশ্বাসঘাতক নরপশু আলী পাশার মহিষী ও তার একমাত্র কন্যা প্রিন্সেস হাইদীকে পাঁচ লক্ষ ফ্রাঁর বিনিময়ে এক দাস-ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে।

    গভীর লজ্জার এবং দুঃখের কথা এই যে, ঐ বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি আজ প্যারিসের অভিজাত মহলে কাউন্ট খেতাব নিয়ে সগর্বে বিচরণ করছে।

    জনসাধারণ ও সরকারের অবগতির জন্য লোকটির নামও আমরা প্রকাশ করছি। এর আগের নাম ছিল ‘ফার্নাল মন্ডেগু’, যে বর্তমানে কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ নামে পরিচিত।”

    ***

    এই সাংঘাতিক সংবাদটি যখন খবরের কাগজে বের হলো, মহামান্য কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ তখন শাসন-পরিষদের সভায় তার জন্য নির্দিষ্ট আসনে উপবিষ্ট।

    ফ্রান্সের শাসন-সংক্রান্ত ব্যাপারে যে উচ্চতম পরিষদের সদস্যবৃন্দ রাজাকে সুপরামর্শ প্রদান করে থাকেন, কাউন্ট-দ্য মারকার্ফ সেই সভার একজন মাননীয় সদস্য।

    সভার কাজ তখন চলছে, এই সময় একজন সদস্যকে সংবাদপত্রের একখানি বিশেষ সংখ্যা হাতে নিয়ে রীতিমত উত্তেজিতভাবে সভাকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেল। মাননীয় সদস্য সোজা সভাপতির কাছে গিয়ে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে নিম্নকণ্ঠে কি সব বলে সেই কাগজখানা তার হাতে দিলেন।

    সভাপতিও গভীর মনোযোগের সঙ্গে খবরের কাগজখানা পড়তে লাগলেন। কাগজখানা পড়বার সময় তার মুখের ভাব মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে লাগলো। উপস্থিত সদস্যরা কি ব্যাপার বুঝতে না পেরে মাননীয় সভাপতির মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।

    খবরটা পড়া হয়ে গেলে সভাপতি সদস্যদের দিকে তাকিয়ে তার স্বভাবসুলভ গভীরকণ্ঠে বললেন–মাননীয় সদস্যবৃন্দ! এইমাত্র সংবাদপত্রে একটি অতি গুরুতর বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টা এতই গুরুতর এবং বিশেষ করে ঐ সংবাদের সঙ্গে আমাদের এই পরিষদের সম্মান এত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে, আমি এ ব্যাপারটাকে আপনাদের গোচরে না এনে পারছি না।

    এই পর্যন্ত বলেই তিনি খবরের কাগজে প্রকাশিত সেই সাংঘাতিক সংবাদটি উচ্চকণ্ঠে পড়ে শোনালেন সদস্যদের কাছে।

    পড়া হয়ে গেলে, তিনি বললেন–মাননীয় কাউন্ট-দ্য মারকার্ফ এখন এখানেই উপস্থিত আছেন। আমি তাকে অনুরোধ করছি, তিনি এই জঘন্য হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদকে অস্বীকার করে সভার সামনে প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করুন যে, সংবাদপত্রে যে সব কথা লেখা হয়েছে ওগুলো একেবারেই মিথ্যা।

    সভাপতির এই কথায় উপস্থিত সভ্যবৃন্দ সবাই সমস্বরে বলে উঠলেন–নিশ্চয়! নিশ্চয়!

    কিন্তু কাউন্ট-দ্য-মারকাফের মুখ তখন মৃতের মতো পাণ্ডুর ও রক্তহীন হয়ে গেছে। তিনি কোন কথাই বললেন না।

    তাকে নীরব দেখে সভাপতি আশ্চর্য হয়ে বললেন–সে কি কাউন্ট! আপনি চুপচাপ বসে কেন? আপনি যদি প্রকাশ্য সভায় এই সংবাদকে মিথ্যা বলে ঘোষণা না করেন তাহলে আমাকে বাধ্য হয়ে আপনাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিতে হবে! কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ তখন শুষ্ককণ্ঠে বললেন–এ নিশ্চয়ই আমার কোন শত্রুর কাজ।

    সভাপতি বললেন–শত্রুর কাজই হোক আর মিত্রের কাজই হোক, এই সংবাদের ভিত্তিতে আমি আপনাকে যদি অভিযুক্ত না করি, তাহলে রাজার কাছে এবং দেশের কাছে আমাকে কর্তব্যভ্রষ্ট হতে হবে। তবে আপনি যদি সংবাদটাকে মিথ্যা ঘোষণা করেন, তাহলে আপনাকে জামিনে খালাস দিতে পারি, এই পর্যন্ত।

    কাউন্ট মারকার্ফ বললেন–এ সংবাদ মিথ্যা।

    তখন সভাপতি বললেন–বেশ! আপনার ঘোষণার উপরে বিশ্বাস রেখে আপনাকে আমি জামিনে মুক্তি দিচ্ছি। আগামী পরশু এখানেই এই মামলার বিচার আরম্ভ হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের মত দলিলপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে আপনি ঐ দিন অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। খবরের কাগজের আফিসেও আমি সমন পাঠাচ্ছি। তাদের আফিসে যদি এই মামলার কোন সাক্ষী থাকে, তাকে পাঠাতে অনুরোধ করে ব্যক্তিগতভাবে একখানি চিঠিও আমি দিচ্ছি সম্পাদককে।

    বিচার সভা। বারজন সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়েছে এই অসামান্য চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচার করবার জন্য।

    কাউন্ট-দ্য-মারকাকে দেখা গেল আসামীর কাঠগড়ার পাশে একখানা চেয়ারে বসে থাকতে। তার হাতে এক বান্ডিল কাগজ।

    আনুষ্ঠানিক ব্যাপারগুলো শেষ হতেই সভাপতি বললেন– আসামী ফার্নান্দ মন্ডেগু ওরফে কাউন্ট-দ্য-মারকা! আপনার বিরুদ্ধে যে সাংঘাতিক অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রতিলিপি আপনাকে আগেই দেওয়া হয়েছে। তবুও আর একবার অভিযোগগুলো আপনাকে শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বলে অভিযোগপত্রটি তুলে নিয়ে উচ্চকণ্ঠে পাঠ করে তিনি বললেন–আসামী ফার্নান্দ মন্ডেণ্ড! আপনি দোষী না নির্দোষ? কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ দাঁড়িয়ে উঠে বললেন–নির্দোষ।

    –বেশ। তাহলে আমি আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি নির্দোষিতা প্রমাণ করতে। আশা করি, আপনি যে নির্দোষ একথা প্রমাণ করতে পারবেন।

    –নিশ্চয়ই ধর্মাবতার, আমার কাছে যে দলিলপত্রাদি আছে তা থেকে আমি সন্দেহাতীতরূপে প্রমাণ করতে পারব যে আমি এ ব্যাপারে একেবারেই নির্দোষ। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি আমার হাতের এই দলিলগুলো পড়ে শোনাতে পারি।

    সভাপতি বললেন–পড়ুন।

    কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ তখন একে একে সেই দলিলগুলো বিচারকদের পড়ে শোনাতে লাগলেন।

    দলিলগুলো থেকে জানা গেল যে, আলী পাশা তাঁকে এত বেশি বিশ্বাস করতেন যে, নিজের স্ত্রী ও কন্যাকে রক্ষা করবার ভার পর্যন্ত তাকে দিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন। এমন কি আলী পাশার অন্তঃপুর অবধি তার ছিল অবাধ গতিবিধি। সভাপতি হঠাৎ প্রশ্ন করলেন এই সময়–কিন্তু এ থেকে পাশার মৃত্যু বা তার স্ত্রী কন্যার নিরুদ্দেশের কোন খবরই তো জানা যাচ্ছে না।

    কাউন্ট বললেন–তা যাচ্ছে না বটে, কিন্তু সেনা বিভাগের রিপোর্ট থেকে জানতে পারবেন যে আলী পাশার মৃত্যুর পর যখন প্রাসাদ আক্রান্ত হয়, আমি তখন পাশার পক্ষ থেকে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে শত্রুপক্ষের রাজার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। এই বলে আলী পাশার স্বাক্ষরিত একখানি অনুজ্ঞাপত্র ও সেনা বিভাগের কোন পদস্থ অফিসারের স্বাক্ষরিত একখানি রিপোর্ট আদালতে দাখিল করলেন তিনি।

    সভাপতি যখন সেই দলিল দুখানা পড়ছেন, ঠিক সেই সময়ে একজন পত্রবাহক একখানা পত্র এনে তার হাতে দিল।

    চিঠিখানা পড়ে সভাপতি আশ্চর্য হয়ে পত্রবাহককে বললেন–তাকে নিয়ে এসো।

    একটু পরেই দেখা গেল একজন বোরখাবৃতা মহিলা একজন পরিচারিকার সঙ্গে ধীর পদক্ষেপে আদালত কক্ষে প্রবেশ করছেন। মহিলা সভাপতির সামনে এসে দাঁড়াতেই তিনি বললেন–আপনিই লিখেছেন চিঠিখানা?

    বীণানিন্দিত কণ্ঠে সেই বোরখার ভিতর থেকে উত্তর এলো—হ্যাঁ।

    সভাপতি বললেন–বেশ! আমরা আপনার কথা শুনবো।

    এই বলেই অন্যান্য বিচারকদের লক্ষ্য করে এবং আসামীকে শুনিয়ে তিনি বললেন–এই মহিলা বলছেন যে ইনি পরলোকগত আলী পাশার কন্যা। ইনি এই আদালতে নিজের ইচ্ছায় সাক্ষ্য দিতে এসেছেন।

    সভাপতির মুখ থেকে এই কথা উচ্চারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে আদালত কক্ষে এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো। বিচারকবৃন্দ, দর্শকদল এবং আসামী সবাই একসঙ্গে তাকালেন সেই বোরখাবৃতা মহিলাটির দিকে।

    সভাপতি সেই মহিলাটির দিকে তাকিয়ে গম্ভীরস্বরে বললেন–আপনার যদি বিশেষ আপত্তি না থাকে, তাহলে আপনার মুখের আবরণটা সরিয়ে ফেলুন।

    মহিলাটি তখন তার বোরখা খুলে ফেললেন আদালতে দাঁড়িয়েই।

    সবাই বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, মহিলাটি অপূর্ব সুন্দরী।

    সভাপতি তখন জিজ্ঞাসা করলেন–আপনার নাম?

    –পিতা বেঁচে থাকতে আমার নাম ছিল জেনিনার শাহজাদী হাইদী।

    –”পিতা বেঁচে থাকতে” বলছেন কেন?

    –কারণ পিতার মৃত্যুর পর আমাকে এবং আমার মাকে এক দাস-ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়।

    এই সময় আসামী পক্ষের উকিল হঠাৎ প্রশ্ন করেন–কিন্তু আপনি যে স্বৰ্গত আলী পাশার কন্যা তার কোন প্রমাণ আছে?

    প্রিন্সেস হাইদী মৃদু হেসে বললেন–আছে বৈ কি! এই দেখুন আমার জন্মের সার্টিফিকেট (Birth Certificate)। আর এই দেখুন আমার বাপ্তাইজ হবার সার্টিফিকেট।

    এই বলে দুখানা সার্টিফিকেট সভাপতির টেবিলে রাখলেন তিনি।

    আসামী পক্ষের উকিল সেই কাগজ দুখানি সভাপতির কাছ থেকে নিয়ে ভাল করে পরীক্ষা করে দেখে আবার জিজ্ঞাসা করলেন–কিন্তু আপনার বাবা মুসলমান হয়েও আপনাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন–এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

    –অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য। আপনারা হয়তো জানেন যে, আমার বাবা মুসলমান হলেও আমার মা ছিলেন খ্রিষ্টান।

    –কিন্তু এ থেকে কি করে বোঝা যায় যে, আপনিই প্রিন্সেস হাইদী?

    –তা যায় না বটে, তবে যাতে জানা যায়, সে ব্যবস্থাও আমি করে এসেছি। আমার হাতের এই সর্বশেষ ও সর্বপ্রধান দলিলখানা পড়ে দেখলেই আপনারা জানতে পারবেন যে, কি সাংঘাতিক অন্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল আমাদের উপরে। আমাকে আর আমার মাকে ক্রীতদাসীরূপে বিক্রি করা হয়েছিল অল কবীর নামে একজন দাস-ব্যবসায়ী মুসলমানের কাছে। পাঁচ লক্ষ ঐ দামে আমাদের দুজনকে বিক্রি করা হয়।

    এই সময় কোন একজন দর্শক বলে উঠলেন–কী সাংঘাতিক!

    দর্শকের সেই কথার জের টেনে প্রিন্সেস হাইদী বললেন–শুধু সাংঘাতিকই নয়, এ রকম অমানুষিক বিশ্বাসঘাতকতা সভ্যজগতে বোধ হয় আজ পর্যন্ত আর কোথাও দেখা যায়নি।

    এই সময় সভাপতি বললেন–আপনার হাতের ঐ দলিলখানা দেবেন কি?

    –নিশ্চয়ই দেব ধর্মাবতার, কিন্তু দেবার আগে দলিলখানা এই প্রকাশ্য আদালতে একবার পড়ে শোনাতে চাই আমি। এই বলেই দলিলখানা পড়তে আরম্ভ করলেন প্রিন্সেস হাইদী–

    “আমি জেনিনার সৈন্যাধ্যক্ষ ফার্নান্দ মন্ডেগু সজ্ঞানে ও সুস্থ শরীরে নিহত আলী পাশার স্ত্রী ও কন্যাকে নগদ পাঁচ লক্ষ ফ্রাঁর বিনিময়ে দাস-ব্যবসায়ী অল কবীরের নিকট বিক্রয় করিলাম।”

    দলিলখানা পড়া শেষ হতেই কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ আর্তনাদ করে উঠলেন–মিথ্যা কথা! সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা! ও দলিল জাল।

    প্রিন্সেস হেসে বললেন–একথা আমি আগেই জানতাম যে, এই দলিলকে জাল বলা হবে, তাই আমি অল কবীরকেও আদালতে নিয়ে এসেছি। মাননীয় বিচারপতির অনুমতি পেলেই তাকে এখানে হাজির করতে পারি।

    সভাপতি বললেন–আসতে বলুন তাকে।

    সভাপতির অনুমতি পেয়ে প্রিন্সেস হাইদী তাঁর সহচরীকে কি যেন ইঙ্গিত করলেন। সহচরী সঙ্গে সঙ্গে আদালত থেকে বের হয়ে গেল। একটু পরেই একজন মধ্যবয়স্ক মুসলমানকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলো সে। সভাপতি জিজ্ঞাসা করলেন– আপনার নাম?

    –অল কবীর!

    –এই মহিলাকে আপনি চেনেন?

    –চিনি ধর্মাবতার।

    –কি করে?

    –ওঁকে এবং ওঁর মাকে আমার কাছে পাঁচ লক্ষ ফ্ৰাঁ মূল্যে বিক্রি করা হয়েছিল।

    –এঁর মা এখন কোথায়?

    –তিনি মারা গেছেন।

    –কে বিক্রি করেছিল এঁদের?

    –জেনিনার একজন সেনাধ্যক্ষ। তার নাম ফার্নান্দ মন্ডেগু।

    –দেখুন তো, এখানে সে লোক আছে কি না?

    সভাপতির নির্দেশে আল কবীর আদালত কক্ষের চারদিকে দৃষ্টিপাত করে হঠাৎ কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বললো–ঐ সেই লোক!

    অল কবীর কাউন্ট-দ্য-মারকাকে সনাক্ত করবার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত কক্ষে মৃদু গুঞ্জন উঠলো। সেই গুঞ্জনধ্বনির মধ্যে দুটি কথা স্পষ্টভাবে শোনা গেল—

    “বিশ্বাসঘাতক!” “নরপশু!”

    সভাপতি তখন আবার বললেন–দেখুন তো, প্রিন্সেস-এর হাতের ঐ দলিলখানা আসল দলিল কি না!

    সভাপতির নির্দেশে প্রিন্সেস হাইদীর হাত থেকে দলিলখানা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখে সে বললো–হ্যাঁ ধর্মাবতার, এই সেই দলিল!

    এই সময় আসামী পক্ষের উকিল তাকে প্রশ্ন করলো–এ দলিল ঐ মহিলার হাতে কি করে গেল বলতে পারেন?

    অল কবীর বললো–না, তা আমি বলতে পারি না। ঐ দলিল আমি কাউন্ট অব মন্টিক্রিষ্টোকে দিয়েছিলাম।

    –কাউট অ মন্টিক্রিষ্টোকে দিয়েছিলেন! কেন বলুন তো?

    –মোটা দাম পেয়ে। তিনি আমাকে আট লক্ষ ফ্রাঁ দিয়ে দলিলখানা সহ ঐ মহিলাকে কিনে নিয়েছিলেন।

    এই সময় সভাপতি প্রিন্সেস হাইদীর দিকে তাকিয়ে বললেন –একথা কি সত্য?

    –হ্যাঁ, ধর্মাবতার! সম্পূর্ণ সত্য। কাউন্ট অব মন্টিক্রিষ্টোই আমার বর্তমান প্রভু।

    সভাপতি তখন তীব্র দৃষ্টিতে কাউন্ট-দ্য-মারকার্যের দিকে তাকিয়ে জলদগম্ভীর স্বরে বললেন–আপনার কিছু বলবার আছে?

    কাউন্ট নীরব।

    সভাপতি তখন বিচার-সভার অন্যান্য সদস্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন–এইবার আপনাদের বলতে হবে, আসামী কাউন্ট-দ্য-মারকার্ফ ওরফে ফানা মন্ডেগু দোষী না নির্দোষ। সবাই একসঙ্গে উচ্চারণ করলেন–”দোষী”!

    .

    ২২.

    স্পানিশ হুণ্ডীর ব্যাপারে ব্যারন ড্যাংলার সর্বস্বান্ত হলেও বাইরে তিনি তা প্রকাশ হতে দেননি। তার ধারণা হয়েছিল যে, আবার তিনি সামলে নিতে পারবেন। তাই এদিকে যখন সারা প্যারিসে ফানা মন্ডের মামলা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে, সেই অবসরে তিনি ইটালীর কোটিপতি মেজর ক্যাভালকান্টির পুত্র এন্ডি ক্যাভালকান্টির সঙ্গে তাঁর মেয়ে ইউজিনির বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেললেন। খুব গোপনেই তিনি এই চালটি চেলেছিলেন, কারণ তার ধারণা হয়েছিল যে, এই বিয়ের ফলে মেজর ক্যাভালকান্টির অগাধ ঐশ্বর্য তার ব্যাঙ্কে এনে ফেলে ঐ অর্থের সাহায্যেই আবার অবস্থা ফেরাতে পারবেন। বিয়ের দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

    নির্ধারিত দিনে বর-কনে ও আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে গীর্জায় হাজির হলেন ড্যাংলার। অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়ে গেল।

    পুরোহিত “বিবাহ সমাপ্ত হয়েছে” এই কথাটা ঘোষণা করবার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ একদল পুলিশ সহ একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে হানা দিলেন সেখানে।

    ম্যাজিস্ট্রেট এন্ট্রি ক্যাভালকান্টিকে দেখিয়ে পুলিশদলকে হুকুম করলেন–গ্রেপ্তার করো ওকে!

    হুকুমের সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশদল এগিয়ে এসে বরবেশী এন্ট্রি ক্যাভালকান্টির হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিল।

    ব্যারন ড্যাংলার চিৎকার করে বলে উঠলেন–এ সব কি হচ্ছে জানতে পারি কি?

    ম্যাজিস্ট্রেট বললেন–নিশ্চয়ই! পলাতক খুনী আসামী বেনডেটোকে গ্রেপ্তার করা হলো।

    –বেনডেটো! পলাতক খুনী আসামী! কি বলছেন আপনি?

    –ঠিকই বলেছি ব্যারন। এন্ট্রি ক্যাভলকান্টি ছদ্মনামে যে লোকটি এখানে উপস্থিত আছে, সে একজন জেলখাটা দাগী এবং পলাতক খুনী আসামী।

    এই বলে একটু হেসে ম্যাজিস্ট্রেট আবার বললেন–আমি খুবই দুঃখিত ব্যারন, কিন্তু কি করবো, কর্তব্যের খাতিরে আমি একে গ্রেপ্তার না করে পারি না।

    এন্ড্রিকে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ইউজিনি অস্ফুট আর্তনাদ করে মেঝের উপর লুটিয়ে পড়লো, আর ব্যারন ড্যাংলার দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়লেন সেখানে।

    এই সময় হঠাৎ কাউন্ট অল্ মন্টিক্রিষ্টো সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যেন দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেলেন যে, বহুদিন আগে মার্সেঈ-এর গীর্জায় এক বিবাহ সভাতেও ঠিক এই রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। একটা ক্ষীণ হাসির রেখা তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই মনের ভাব গোপন করে তিনি ইউজিনির কাছে ছুটে গেলেন।

    তিনি দেখলেন–ইউজিনি অজ্ঞান হয়ে গেছে।

    .

    এ ইউজিনির বিয়ের এই মুখরোচক খবরটা পরদিন সকালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবার ফলে ড্যাংলার কোম্পানির ব্যাঙ্কে ‘রান’ আরম্ভ হয়ে গেল।

    ড্যাংলার যখন বুঝতে পারলেন যে আর রক্ষা নেই, তখন তিনি তাড়াতাড়ি ব্যাঙ্ক থেকে পঞ্চাশ হাজার ফ্রাঁর নোট পকেটস্থ করে পিছনের গুপ্ত দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন। পালিয়ে যাবার আগে স্ত্রী কন্যার কথা একবার তার মনে হলেও, “আপনি বাঁচলে বাপের নাম” এই প্রবাদবাক্যটি স্মরণ করে, তাদের ফেলে রেখেই পালিয়ে গেলেন তিনি।

    ***

    ইউজিনির বিবাহ সভা থেকে বাড়িতে ফিরতেই কাউন্ট অব মন্টিক্রিষ্টো খবর পেলেন যে ভাইকাউন্ট আলবার্ট তার জন্য বৈঠকখানায় অপেক্ষা করছেন।

    এই খবর শুনে কাউন্ট বৈঠকখানায় গিয়ে আলবার্টকে অভিবাদন জানিয়ে বললেন কি খবর ভাইকাউন্ট! আপনি হঠাৎ?

    আলবার্ট বললো–ভদ্রতার মামুলি বুলি কপচে দরকার নেই কাউন্ট, আমি আপনার কাছে কৈফিয়ৎ চাই।

    –কৈফিয়ৎ!

    –হ্যাঁ, কৈফিয়ৎ। আমার বাবাকে লোকচক্ষে হেয় করে আমাদের বংশের সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন আপনি। এ অপমানের প্রতিশোধ আমি নেব। আমি আপনাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করছি।

    –বেশ! তাই হবে। আমি সর্বদাই প্রস্তুত।

    –ভাল, কাল সকালেই আমাদের দেখা হচ্ছে তাহলে!

    সেই রাত্রেই।

    কাউন্ট অব্‌ মন্টিক্রিষ্টো অন্যমনস্কভাবে একখানা তলোয়ার হাতে নিয়ে তার ধার পরীক্ষা করছিলেন, এই সময় এক অবগুণ্ঠিতা মহিলার আবির্ভাব হলো সেই ঘরে।

    মহিলাটির দিকে তাকিয়ে কাউন্ট বললেন–আপনি কে মাদাম?

    অপরিচিতা মহিলাটি হঠাৎ তার মুখের উপরের অবগুণ্ঠন সরিয়ে ফেলে দিয়ে বললেন–আমি তোমার কাছে আমার ছেলের প্রাণভিক্ষা চাইতে এসেছি এডমন্ড।

    –আপনি! কাউন্টেস্-দ্য-মারকা! আপনি এখানে?

    –কাউন্টেন্স-দ্য-মারকার্ফ নই এডমন্ড। আমি মার্সেদেস।

    –মার্সেদেস! না না, সে নেই, সে বহুদিন আগে মারা গেছে। তাছাড়া, আমাকে আপনি এডমন্ড নামেই বা ডাকছেন কেন? কাউন্টের এই কথায় মার্সেদেস তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বললো–আমাকে তুমি ক্ষমা করো এডমন্ড। তুমি যদি জানতে যে কতখানি বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাকে বিয়ে করেছে ফার্নান্দ… কিন্তু থাক সে কথা, আমি শুধু তোমার কাছে আমার ছেলের প্রাণভিক্ষা চাইতে এসেছি আজ।

    তুমি তাহলে জানতে যে আমিই এডমন্ড দান্তে।

    –হ্যাঁ, এডমন্ড! তোমাকে যেদিন প্রথম আমাদের বাড়িতে দেখি, সেই দিনই আমি তোমাকে চিনতে পারি; কিন্তু সে কথা আমি আজ পর্যন্ত কাউকে বলিনি। তোমার সামনে সেদিন আমি বেরও হইনি। ইচ্ছা করেই বের হইনি। এডমন্ড! তুমি যদি জানতে…

    –সবই আমি জানি মার্সেদেস। যাইহোক, আমি কথা দিচ্ছি কাল তোমার ছেলে জয়ী হয়ে বাড়িতে ফিরবে। আমিই কাল তার হাতে প্রাণ দেব।

    –না, তোমাকে আমি মরতে দেব না!

    –সে কি! আমি না মরলে আলবার্ট কি করে জয়ী হবে?

    –তোমাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে না। আমি তা হতে দেব না। (তামার সঙ্গে আমার ছেলের দ্বন্দ্বযুদ্ধ…এ কিছুতেই হতে পারে না; না–না–না।

    এই বলেই মার্সেদেস ছুটে বেরিয়ে গেল সেই ঘর থেকে। কাউন্ট ধীরে ধীরে হাত থেকে তলোয়ারখানা টেবিলের উপর নামিয়ে রাখলেন।

    ***

    পরদিন সকালেই আলবার্ট এসে দেখা করলো কাউন্টের সঙ্গে। কাউন্টকে একা একটা ঘরে ডেকে নিয়ে সে তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বললো–আমাকে আপনি ক্ষমা করুন কাউন্ট! কাল রাত্রে মায়ের কাছে আমি সব কথা শুনেছি।

    কাউন্ট আলবার্টের হাত ধরে তুলে বুকের মধ্যে চেপে ধরলেন! তার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হলো না।

    কাউন্টের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে যেতেই মার্সেদেস তাকে বললো–তৈরি হয়ে নাও আলবার্ট, আমাদের এখনই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। রাস্তায় গাড়ি অপেক্ষা করছে। যাবার সময় আলবার্ট ঘৃণাপূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তার বাবার মুখের দিকে তাকালো একবার। তারপর নিঃশব্দে মায়ের সঙ্গে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।

    ওদের গাড়িখানা ফটক পার হয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ফার্নান্দ পকেট থেকে পিস্তল বের করে বুকের সঙ্গে লাগিয়ে গুলি করলো।

    সঙ্গে সঙ্গে তার প্রাণহীন দেহটি লুটিয়ে পড়লো মেঝের উপরে।

    .

    ২৩.

    এদিকে এন্ট্রি ক্যাভালকান্টির বিচার-সভায় আর এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। বিচারক যখন তার বাবার নাম জিজ্ঞাসা করলেন, তখন সে নিঃসঙ্কোচে প্রকিওরার-দ্য-রোয়া আঁসিয়ে ভিলেফোর্টের দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললো–উনিই আমার বাবা।

    এরপর আরও যে সবচাঞ্চল্যকর বিবরণ আদালতে প্রকাশ করলো সে, তাতে জানা গেল যে মঁসিয়ে ভিলেফোর্ট একজন দুশ্চরিত্র, লম্পট, জালিয়াং এবং নরহত্যাকারী। ব্যারনেস ড্যাংলারের সঙ্গে তার অবৈধ প্রণয়ের কথাটাও ফাঁস হয়ে গেল আদালতে।

    এইসব ব্যাপারে সেদিন কোর্ট থেকে পাগলের মত ছুটে এসে মঁসিয়ে ভিলেফোর্ট সেই যে ঘরের দরজা বন্ধ করলেন, তারপর দুটো দিন পার হয়ে গেলেও সে দরজা তিনি খুললেন না।

    ব্যাপার দেখে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকেরা যখন দরজা ভেঙে সেই ঘরে ঢুকলো, তখন দেখা গেল, মঁসিয়ে ভিলেফোর্ট মেঝের উপর দাঁড়িয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের মাথার চুলগুলো টেনে টেনে ছিঁড়ছেন। তিনি তখন রীতিমত উন্মাদ।

    .

    এইভাবে এডমন্ডের দুজন শত্রু নিপাত হবার পর বাকি থাকলো শুধু ড্যাংলার। এডমন্ড জানতে পেরেছিল (এখন থেকে আমরা কাউন্ট অব মন্টিক্রিষ্টোকে এডমন্ড বলেই অভিহিত করবো) যে ড্যাংলার ব্যাঙ্ক থেকে পঞ্চাশ হাজার ফ্রাঁ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে।

    সে তখন গোপনে দস্যু-দলপতি লুইগি ভাম্পার সঙ্গে দেখা করে ড্যাংলারকে খুঁজে বের করতে অনুরোধ করলো। লুইগি ভাম্পাকে এডমন্ড বহুবার বন্ধুভাবে সাহায্য করেছিল বলে সে এডমন্ডের কাছে কৃতজ্ঞ ছিল, তাই এডমন্ডের অনুরোধে সে ভিয়েনার পথ থেকে ড্যাংলারকে ধরে এনে কয়েদ করে রাখলো।

    চার দিন নির্জলা উপবাসে রাখবার পর ড্যাংলারের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার ফ্রাঁ আদায় করে এক প্লেট খাবার দিলে লুইগি ভাম্পা।

    পাঁচ দিনের মাথায় এডমন্ড এসে তার সঙ্গে দেখা করলো। তাকে দেখে ড্যাংলার অবাক হয়ে বললেন–একি! আপনি এখানে!

    এডমন্ড বললো–হ্যাঁ! লুইগি ভাম্পা আমার বিশেষ বন্ধ কি না! তাই দেখা করতে এসেছি তার সঙ্গে।

    এডমন্ডের কথা শুনে ড্যাংলার যেন হাতে স্বর্গ পেয়ে গেল। সে বললো–দেখুন দেখি, দস্যুরা আমাকে অকারণে বন্দী করে রেখেছে। আমার সব টাকা কেড়ে নিয়ে আমাকে এরা না খাইয়ে রেখেছে।

    এডমন্ড বললো–আপনার তাহলে খুব খিদে পেয়েছে, কেমন?

    –হ্যাঁ কাউন্ট, ভয়ানক খিদে পেয়েছে।

    –খুব কষ্ট হচ্ছে, না?

    –খুব।

    –তাহলে কষ্ট কাকে বলে বুঝতে পারছো কিছু কিছু? বন্দীজীবনে না খেয়ে থাকলে মনের অবস্থা কেমন হয় তাও কিছু কিছু বুঝেছো, তাই না?

    কাউন্টের মুখে এই রকম বেসুরো কথা শুনে ড্যাংলার যেন হকচকিয়ে গেল। কোন কথাই তার মুখ দিয়ে বের হলো না। এডমন্ড বলে চললো–মনে করে দেখ ড্যাংলার, তুমি একজন নির্দোষ যুবকের কী সর্বনাশ করেছিলে! জাল চিঠি পাঠিয়ে তাকে তুমি বিয়ের দিনে গ্রেপ্তার করিয়েছিলে, মনে আছে সে কথা? ভাবতে পারো কি যে, তোমার ষড়যন্ত্রের ফলে সেই হতভাগ্য যুবক কারাগারে বসে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, তিলে তিলে মৃত্যুর জন্য দিন গুনেছে। আর এদিকে তুমি ব্যারন সেজে সমাজের বুকের উপর বসে অত্যাচারের রথ চালিয়ে দিয়েছো! তুমি, তোমার বন্ধু ফার্নান্দ মন্ডেগু আর তোমাদের পাপ কাজের সহায়ক ভিলেফোর্ট এই তিন শয়তান একটি নির্দোষ হতভাগ্য যুবকের সর্বনাশ করে কেউ কাউন্ট, কেউ ব্যারন আর কেউ সরকারী প্রকিওরার সেজে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছিলে… মনে পড়ে সে সব কথা?

    –আপনি!…..কে আপনি…?

    –এখনও চিনতে পারছো না আমাকে শয়তান! আমি সেই, যাকে তুমি বিবাহ-সভা থেকে ধরিয়ে দিয়েছিলে, আমি সেই, যার বাগদত্তা বধূকে তোমার কুকর্মের সহায়ক ফার্নান্দ মন্ডেগু বিশ্বাসঘাতকতা করে বিবাহ করেছিল; আমি সেই, যাকে তোমার বন্ধু ভিলেফোর্ট কারাগারে পাঠিয়েছিল তার বাবার যড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে; আমি সেই, যে ফার্নান্দের কীর্তি-কাহিনী প্রকাশ করে দিয়ে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি সেই, যে তোমার প্রাণের বন্ধু ভিলেফোর্টের মুখোশ খুলে দেওয়ায় সে আজ উন্মাদ…আমি সেই এডমন্ড দান্তে!

    এডমন্ডের মুখে তার নাম শুনে ড্যাংলারের বুকটা কেঁপে উঠলো। সে তখন তার পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বলে উঠলো–এডমন্ড! আমাকে তুমি ক্ষমা করো।

    ড্যাংলারের এই কথায় হা-হা করে হেসে উঠে এডমন্ড বললো

    –ক্ষমা! হ্যাঁ, আমি তোমাকে ক্ষমাই করবো!

    এই বলে লুইগি ভাম্পার দিকে তাকিয়ে সে বললো আমার এই উপকারী বন্ধুটির আরামের দিকে দৃষ্টি রেখো। কাল সকালে আমি আবার এসে এর সম্বন্ধে যা হয় ব্যবস্থা করবো।

    .

    পরদিন সকালে এডমন্ড এসে আবার যখন দেখা করলো ড্যাংলারের সঙ্গে তখন ড্যাংলারের মাথার সবগুলো চুল সাদা হয়ে গেছে। এক রাত্রের মধ্যেই তার বয়স যেন ত্রিশ বৎসর বেড়ে গেছে। এডমন্ড তখন তার হাতে পাঁচটি ফ্ৰাঁ তুলে দিয়ে বললো–নাও, এই পাঁচ ফ্রাঁ নিয়ে আবার মানুষের সর্বনাশ করে বেড়াও গে। তোমাকে আমি মুক্তি দিলাম।

    -: সমাপ্ত :-

    ⤶
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleথ্রি মাস্কেটিয়ার্স – আলেকজান্ডার দ্যুমা
    Next Article সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ হিউম্যানকাইন্ড – ইউভাল নোয়া হারারি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }