কাঙাল মালসাট – ১৪
১৪
মার্কসবাদের বহুল প্রচার ও প্রসারের ফলে বেশির ভাগ পাঠকই আজকাল নাস্তিক। ধর্মচর্চা দেশ থেকে লোপাট হওয়ার যোগাড়। তাই নাস্তিকদের নাস্তানাবুদ না করে বরং ঝেড়ে কাশাই ভালো যে মান্যবর লোচন গোস্বামী হলেন মতুয়া ধর্মের মহাপথিক। তাঁর যে কত লীলা তার লেখাজোখা নেই। সন্দেহের নিরসন এভাবেই ঘটে। শিষ্যরা গুরুদের বাজিয়ে নেয়। গুরুরাও বেজে ওঠেন। এরপর হল কবিদের ডকুমেন্টেশন-এর কাজ। যেটি করে শ্রী হরিবর সরকার আমাদের অশেষ ঋণে আবদ্ধ করেছেন। কেন যে করতে গেলেন সে প্রশ্ন অবশ্য ওঠে। এই অকৃতজ্ঞ ও গোলোকায়িত জাত অর্থাৎ বাঙালির জন্য কিছুই করা উচিৎ নয়। ‘কাঙাল মালসাট’ এর কথাই ধরা যাক। এটি যদি পুস্তু বা কপটিক ভাষায় লেখা হত তাহলে এতক্ষণে ঢি ঢি পড়ে যেত। পালি বা মাগধী অপপ্রাকৃতে লেখা হলেও অন্যরকম কিছু ঘটত বলে মনে হয় না। অবশ্য লেখক এক ভেবে লেখে। হয় আর এক। যেমন ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’। এ প্রসঙ্গে উপযুক্ত সময়ে বরং ফেরা যাবে। ভদি ও সরখেলের মধ্যে টেলিফোনে যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে সে দিকে মনোনিবেশ করা যাক —
— দুঁদুঁ বার ফোঁন কঁরলুঁম। ভাঁবলুম কীঁ হঁল?
— হঁবে আঁবার কী। পাঁইখানায় গেঁছলুম।
— তাঁই বঁলো। কোঁনো খঁবর আঁচে?
— আঁচে। মঁরচে পঁড়া এঁকটা সোঁর্ড আঁর দুঁটো ভোজালি বেঁরিয়েচে।
— ভেঁরি গুঁড। বাঁট নোঁ আঁসলি মাল।
— নোঁ।
— নুঁনুকাঁমান, সোঁর্ড, ভোঁজালি! পোঁদ মেঁরে দেঁব।
— কাঁর?
— যেঁ লাঁগতে আঁসবে। কেঁরোসিনে ভিঁজিয়েচ?
— কীঁ?
— ওই সোঁর্ড। তাঁরপর গিঁয়ে ভোঁজালি?
— কেঁন?
— মঁরচে ছেঁড়ে যাঁবে।
— কেঁরোসিন নেঁই।
— আঁজ রাঁতে আঁমি নিঁয়ে যাঁব।
— ঠিঁক আঁচে।
— কোঁনো চিঁন্তা নেঁই। এঁকটা এঁকটা কঁরে ধঁরে পোঁদ মেঁরে দেঁব।
— রাঁখলুম।
— তাঁহলে রাঁতে।
— অঁ।
প্রায় এক সরখেল মাটি খোঁড়া হয়ে গেছে। অথচ কত সরখেল খুঁড়লে যে আসলি মাল পাওয়া যাবে তা কে বলতে পারে? আবার এমনও তো হতে পারে যে খোঁড়াকে খোঁড়াই সার হল, হতে রইল খন্তা। ভদির কপালে টেনশনের ঘাম ফুটতে না ফুটতে বেচামণি আঁচল দিয়ে মুছে দেয়।
— কী নিয়ে এত দুশ্চিন্তা করচ গো?
— সে তুমি বুঝবে না।
— জানিনে বাপু। বললেই ওই অ্যাক কতা। তুমি বুজবে না। তুমি বুজবে না।
— আহাহা এ হল গে মদ্দাদের ব্যাপার। বলি আর তুমি সাতকাহন করে বেড়াও।
–তোমার সব কাণ্ড বাণ্ড আমি বুঝি সাতকাহন করে বেড়াই।
— করনি। করতে কতক্ষণ? মেয়েজাত পেটে কতা রাখতে পারে না। এই জানবে।
— ওরে আমার ব্যাটাছেলেরে। তুমি যে শিশি বোতলে ভূত পোষো আমি কারুকে বলতে গেচি?
ভদি দেখল কেস বেগড়বাঁই হয়ে যেতে পারে। এক হল বেচামণি হাঁউ মাঁউ জুড়ে দিতে পারে। এবং তখন না থাকলেও বাবা সব জেনে যাবে এবং উস্তমপুস্তম করে ছাড়বে। বাপ হয়ে ছেলের বৌ-এর দিকে অত টাঁক কেন? এরকম কথাও যে ভদি কখনও ভাবেনি তা নয়। ভদি কথা ঘুরিয়ে দিল।
— আমি কি তাই বলেচি? এই যে তোমার দিদির বাড়ি ঘুরে এলে দমদমায় — মনে খিঁচ থাকলে কি তোমাকে যেতে দিতুম? বিশ্বাস আচে বলেই না ছেড়েচি।
বেচামণি টোপটা গিলে নিল।
— জামাইবাবু আমাকে কী বলেছিল জানো তো?
— কী?
— এই বেচু, তোর ওই গদি না ভদি রোজ রোজ সায়েবদের কোম্পানীর মাল খায় – কী করে রে? শুনেচি তো অকম্মে কুকম্মে ঘর ভাড়া দেয়।
— খানকির ছেলে। তা তুমি কী বললে?
— আমিও বললুম, দ্যাখো জামাইবাবু, আমরা হলাম ঘরকুনো বউ। পুরুষমানুষ কী মদ খাচ্চে, কী কারবার করচে ওসব নিয়ে ভাবি না। তবে অযত্ন করলে কি অবিশ্বাসের কাজ করলে টের পেতুম। দিদি বলল, দেখলে তো, শালীর মুখের পোঁচড়াটা খেতে হল। এমনিই কি লোকে গুয়ো হাড়কেল বলে।
–ভাল বলেচে তো।
— মায়ের পেটের বড় বোন। ও কি বোজে না দুবেলা ওকে ঠকাচ্চে? তোর গিয়ে বলে ছেলের বিয়ে হয়ে গেচে, নাতিপুতি হবার যোগাড়, আর তুই কিনা…
— আহাহা, ওসব কতা আর তুলো না। সববো দোষের ওপরে জানবে মাগির দোষ। ও ছোঁকছোÒকানি ধরেচে কি মরেচ। তবিল-তক্তপোষ সব নিলেম করিয়ে ছাড়বে। পেটটা ফাঁপচে। একটু তেলজল পুলটিস করে দেবে?
– ব্যতা নেইতো? অতগুলো পুঁই-চিংড়ি গবগব করে খেলে … তখনই জানি…
— ঘেঁচু জানো। বুজলে, এই সরখেল আর আমি একটা জবর বিসনেস খুলতে চলেচি। সেই চিন্তাতেই পেট ফাঁপছে। একবার যদি লেগে যায়…
– কী হবে গো লাগলে?
– লাগলে? এই ধরো তো বালী বা পুরী যাওয়ার বাই উঠলো বা বিন্দাবন-মথুরা। হাওড়ায় গিয়ে আর ভিড়ভাট্টায় রেলগাড়ি চড়তে হবে না।
— তবে?
— বাড়ির ছাদ থেকে যাবে। সেজেগুজে ছাদে উঠবে। দেখবে বড় ফড়িং-এর মতো দাঁড়িয়ে। হেলিকপটার। মন্ত্রী-ফন্ত্রী সব চড়ে। চড়ে ফড়ফড় করে উড়ে বেড়ায়।
— অ্যাঁ
— এই জানবে। ভদি সরকার যকন খেলতে শুরু করবেনা তখন দেখবে সব শালা পোঁদ সামলাতে ব্যস্ত। সামনে পড়লেই মেরে দেব।
— ও আবার কী কতা।
— এই হল হকের কতা। গাঁড় মারা যাওয়ার ভয় তো লড়তে এসো না। তুমিও ভালো, আমিও ভালো, জয় জগতের জয়! ঘেঁটে দে মা। ভালো করে একটিবার ঘেঁটে দে।
এই বাক্যালাপের কাছাকাছি সময়েই ক্যালকাটার বিখ্যাত জুয়েলার ভি. ডি. দত্ত একটি নক্ষত্র-সন্ধ্যার আয়োজন করে। তাকলাগানো অনুষ্ঠানটি হয় কলামন্দিরে। ওই কলামন্দিরেই বেসমেন্টে একটি ছোট কলামন্দিরও আছে। সেখানে তখন রবিঠাকুরের ভাঙা গান হচ্ছিল। আর বড়টিতে তখন স্টেজজুড়ে ফুটবল, ইতিহাস, চলচ্চিত্র, সাংবাদিকতা, রান্না, ফ্যাশন ডিজাইনিং, পেডিকিওর, দর্শন, রাজনীতি, কুকুরপালন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রের দিকপালেরা বসে। চার-পাঁচটি কেবল চ্যানেলের ক্যামেরা চলছে। এমন সময় পাট ভাঙা সিল্কের পাঞ্জাবি ও ফাইন ধুতি হাঁকিয়ে হাসিমুখে যে মঞ্চে প্রবেশ করেছিল তার নাম হল ডি. এস। এসেই সে অনুষ্ঠানের অ্যাংকার বা নোঙর রহস্যময়ী মিস ম. -র হাত থেকে কর্ডলেস মাইক্রোফোন নিয়ে বলল,
— এসে গেছি। মুম্বাই ফ্লাইট দেড় ঘন্টা লেট। প্লেনে বোমা ছিল। গন্ধ শুঁকে কুকুর বোমা বের করল। সে বহুৎ হরকৎ। কিন্তু স্টেজে চেয়ার কই যে ঠেকাব? চেয়ার! চেয়ার লাও শালা! চেয়া…র!
চেয়ার এসে গেল হুড়মুড় করে। সকলেই ঘাবড়ে গেছে। মিস ম. রসা ডিস্টিলারির বাংলার গন্ধ পেয়েছিল। ঘঁক করে আঁতে লাগে।
— একেনে সব হেক্কড় টাইপের মাল বসে আচে। অন্তত আপনাদের তাই ধারণা। কিন্তু সবই আলফাল। গিদধড়। ওই যে ইতিহাস মারাতে যে মালটা এসেচে ও হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কিউরেটর। ওর মুখটা দেকুন। চোনাঢেকুর গিলচে। কেন বলুন তো? ভাবচে আমি ফাঁস করে দেব যে বাঞ্চোতের পোঁদে গু। কী রে? দেব? কাল দুপুরে কী করছিলি?
কিউরেটরকে নিজের সিটে এলিয়ে যেতে দেখে পাশের বিশিষ্টরা ঘাবড়ে গেল। হলেও গুঁইগাঁই। পুলিশ এগোয়। পার্ক স্ট্রিটের ওসি চেঁচায়,
– আপনি কে? আপনি কি ইনভাইটেড ?
– আমার নাম ডি. এস । কোক শাস্ত্রর ওপরে অথরিটি। ইনভিটেশনের গাঁড় মারি। আর কিছু?
হলে তুমুল হট্টগোল। কেবল চ্যানেলরা ডি. এস-এর ছবি তুলছে। এইসময় হলে আলো নিভে গেল। হেভি গুমুঙ্গুলি। কোনো মহিলার চিৎকার। মারপিট লেগে গেছে। ঢিপ ঢাপ টিক দেওয়ার সাউন্ড। চেয়ার ভাঙছে। পুলিশ ও হলের সিট দেখানোর আশারদের টর্চ। সেই আলোয় দেখা যায় ডি .এস তিন চার মানুষ হাইটে উড়ে বেড়াচ্চে। হাতে কর্ডলেস। সব ছাপিয়ে ডি. এস এর স্টিরিও ভয়েস-
— এবারে বাঁড়া বুঝেচতো আমি কে? ম্যায় হুঁ ডি. এস। সবাই এক কপি করে ‘কোক-শাস্ত্র’ কিনে ফেলুন। জানতে পারবেন কাশ্মিরের রাজাকে কোকা পণ্ডিত মেল-ফিমেল নিয়ে কী বলেছিল। জানলে আপনারাও বর্তে যাবেন। ফোর টাইপস অব কামিনী রয়েচে। সব মাগিই একটা না একটা টাইপে পড়বে। টাইপ বুঝে বন্দোবস্ত – এই চোদনা ও. সি টর্চ মেরে কী করবি — আমাকে ধরবি –
এইসময় ঝপ করে চার পাঁচ সেকেন্ডের জন্যে আলো ফিরে এল। দেখা গেল কোক-শাস্ত্রের ওপরে অথরিটিই শুধু নয়, ওপরে আরও দুটি মানুষ অর্থাৎ মদন ও পুরন্দর ভাটও উড়ছে। এবং বিশাল দাঁড়কাক। আলো নিভে গেল। এবং ওপর থেকে, অজানা অন্ধকারের অ্যামবিয়েন্সের মধ্যে জলীয় কিছু তরল তিনটি রেখায়, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঝিরঝিরি হতে পারে, ছনছন করেও হবে না কেন ফের লাইট অন ও অফ
… কলকাতার হাতবদল এইবার আর সল্টলেকের অদৃশ্য দৈনিকের পাতায় উড়োখবর হয়ে আটকে থাকল না। স্বয়ং সি. এম কেও নড়েচড়ে বসতে হল। নগরপাল ও মহানির্দেশকের শিরচ্ছেদ ও খণ্ড খণ্ড সেক্স-ভকিলের করুণ ঘটনা তাঁর কাছে অজানা ছিল না। কিন্তু এটা ঠিক যে এইসব ঘটনাকে যতটা আমল দেওয়া উচিত ছিল তা তিনি দেননি। তাঁর আমলের নানা বিশিষ্টতার মধ্যে এটাও হয়তো একটি বলে ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদেরা মন্তব্য করবেন। কেউ হয়তো বলবেন এই পর্বের নানা ঘটনাবলীকে মার্কসবাদের অমোঘ আওতায় এনে ফেলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। এনে ফেলতে পারলে বোধহয় ইতিহাস মই ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারত। মই নিয়ে পালানো হয়তো সম্ভব কিন্তু সিঁড়ি সরানো অত সহজ নয়। কেউ হয়তো বাঙালির কোনো জেনেটিক গোলমালই এর জন্য দায়ী বলে মনে করবেন। ঘটনা একটিই — কিন্তু ব্যাখ্যা অসংখ্য। বিশ্লেষণ ও ইঙ্গিতের এই বহুত্ব হতে বাঁচার একটি উপায় হল ক্লোনিং। সব ইতিহাসবিদকে কোতল করে যদি একটিকে ক্লোন করা যায় তাহলে ঝামেলা চুকে যায়। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্র কারো হাতেই অত অঢেল ক্ষমতা নেই। এটা আত্মস্থ করেই গোয়েবেলস বলেছিলেন যে নিজের আইন ভাঙার ক্ষমতা রাষ্ট্রের থাকা উচিত। সংস্কৃতি — এই শব্দটা শুনলেই নাকি ভদ্রলোকের হাত রিভলবারের দিকে যাওয়ার জন্যে নিশপিশ করত। লোকটা চুতিয়া টাইপের ছিল। এবং এরকম মাল ফুরিয়ে গেছে বলে যেন কোনো নির্বোধ পাঠক বগলে পাউডার দিতে না শুরু করে। খেল এখনও বাকি হ্যায়। পহেলা ঝাঁকির পর আসবে কাশী মথুরা। আসবে ট্রেবলিংকা, বুখেনভান্ড মৃত্যু শিবির। আসবে সাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গুলাগ। জামাই ষষ্ঠী আর আইবুড়ো ভাত, মোনামুনির খেলা, সাধ-এর ফাটা পায়েস — কী ভেবেছিলে পাঁচু? এভাবেই চলবে পানসি? ডেস্টিনেশন ইনু মিত্তিরের বেলঘরিয়া? সে গুড়ে মগরাহাটের ফাইন স্যান্ড।
রাইটার্স-এর খুচরো ঘটনাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে এবার আমরা স্থায়ী আমানতের দিকে ঠ্যাং বাড়াব। যে কোনো মেজর বা মেজর জেনারেল নভেলের নভেলটি হল তার বিভাগ-চলন। হালের উদাহরণ মানে যা হাতেনাতে ঘোরে তেমনই একটি হল মিলান কুন্দেরার ‘জোক’। এখানেও মজা আছে। ভূমিকায় যাঁকে কুন্দেরা মহান ঔপন্যাসিক বলেছেন সেই প্রখ্যাত কবি লুই আরাগঁর উপন্যাস খুব কমসংখ্যক পাঁচুই পড়েছে। লে হুলিয়া।
মহাকরণ থেকে একটি বুলেট-প্রুফ সাদা অ্যাম্বি বেরোচ্ছিল। তাতে ছিলেন সি. এম, গৃহমন্ত্রী (এঁকে আমরা স্তালিনের খপ্পরে নাস্তানবুদ হতে দেখেছি) এবং সি. এম-এর একান্ত সচিব রাখেকেষ্ট যার একমাত্র কাজ হল সি. এম-এর সর্বাবস্থার ভিডিও একটি হ্যান্ডিক্যামে সঞ্চয় করা। অ্যাম্বি দুলকি গড়ানে এগোচ্ছিল কিন্তু রে-ব্যান সানগ্লাস পরা স্লিম একটি সার্জেন্ট হাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল। সকলেই হতবাক। অতীব বিরক্ত হয়ে কাচ নামিয়ে কমরেড আচার্য গর্জে উঠলেন।
– ব্যাপারটা কী কমরেড সার্জেন্ট?
কমরেড সার্জেন্ট ঘুরে তাকাল। কচি সাহেবটি। মুখে তখনও ডার্বিশায়ারের কাঁচা গরুর দুধের গন্ধ। গোঁফটিও দুধেল যেমন শিশুদের হয়। সাহেব যা বলল তা এই,
– নেটিভ, টুমি চোপ মারিয়া বসিয়া ঠাকো। পহলে গোরা, উসকা বাদ গরু-ঘোড়া-বুঝিলে? নটি করিবে টো এক ব্যাটন খাইবে হারামখোরের বাচ্চা। ক্যাঁচকোঁচক্যাঁচক্যাঁচক্যাঁ
উত্তেজক এই দৃশ্যে শব্দ উঠিল, ক্রমশই উপরে, ঝুনঝুনঝুনঝুন টগবগটগবগ সাঁই সপাশ সাঁই সপাশ ও ক্যাঁচকোঁচক্যাঁচক্যোঁচ। ঘোড়ার টানা হাওদাই বা যেন। বেগম জনসন। মিস স্যান্ডারসন। মিস এমা র্যং হাম। মিস্টার স্লিম্যান। সেই পাঙ্খাবরদারের গাঁড়ে কিক। সেই মিসিবাবার কুকুরদের মেটিং-সিজন। সেই হুমদো সাহেবদের মারাত্বক ডুয়েল ও গুলি মিস। মতিলাল শীলের বোতল ও কর্কের ব্যবসা। ছোবদার, মশালচি, ঘেসুড়ে, খানসামা, খিদমৎগার, হুঁকাবরদার, মালি, ভিস্তি, ধোবি ও আয়াদের প্যাঁকপ্যাঁকানি। ভুটানি ও রোহিল্লা আফগানদের হুমকি। কিন্তু অন্তে একটি সাদা অ্যাম্বাসাডর। বুলেট-গ্রুপ।
রাষ্ট্রের টনক যখন নড়ে তখন যা নড়ে না চড়ে না তেমনদেরও নড়ে বসতে হয়। রাজ্যের টনক নড়াও অন্যরকম নয়। কেন্দ্র যখন নাড়বেই না তখন রাজ্য তো আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না। তাই গোলাপ মল্লিকের কাছে তলব এল যে কিছুদিন ও বছরখানেক আগে যে দুটি ফাইল সে পাঠিয়েছিল এবং যে দুটি ফাইলের ওপরে ‘বাল’ ও ‘পাগলাচোদা’ লিখে ফেরত পাঠানো হয়েছিল সেই দুটি ফাইল যেন অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করে, উপরের মন্তব্যদুটি নির্ভুলভাবে মুছে বা কালি দিয়ে ধেবড়ে ঢাকাচাপা দিয়ে, ওপর মহলে পাঠানো হয় এবং এই তলবটি অতিশয় আর্জেন্ট। তলবটি হাতে পেয়ে গোলাপ তৎক্ষণাৎ সাধুর কাছে চলে গেল ও উভয়ের মধ্যে এই রকম বাক্যালাপ হল,
– দেখচেন স্যার, পুরো গাঁড়ক্যাচাল বোস। সেই দুটো ফাইল, তখন বানচোৎগুলো পাত্তা দিল না। এখন বলচে ফের চাই।
তারকনাথ তখন মন দিয়ে ‘বিষপ্রয়োগে হত্যা-সেকাল আর একাল’ বলে একটি বই পড়ছিলেন। যিনি মুচকি হেসে গোলাপকে বল্লেন,
– পটাসিয়াম সায়ানাইড নয়, ফাইটোটক্সিনও নয়, স্রেফ ওভারডোজ অব জাফরান দিয়েই লোক সাবড়ে দেওয়া যায়। কী বুঝলে?
– জাফরান তো বিরিয়ানিতে দেয়।
– কারেক্ট! চান্স পেলেই তো প্যাঁদাও। ফিউচারে আর খেও না। হয়তো ভুল করেই বেশি পড়ে গেল। কোনো মার্ডারের মোটিভই ছিল না। মধ্যে থেকে তুমি অক্কা পেয়ে গেলে।
– সে না হয় আর খেলাম না। কিন্তু ফাইলদুটোর ব্যাপারে কী করি বলুন তো।
– কোন ফাইল?
– ওই যে সেই রবিঠাকুরের বিজ্ঞাপন আর …
– সরকার নামে পাগলাটার সেই হিজিবিজি, তাই তো?
গোলাপ দেখল যে তারকনাথের মতো দুঁদে গোয়েন্দাও সরখেলকে ভুলে সরকার বলে দিয়েছে। এবং এই ভুলের ল্যাজ ধরেই তার বুকের মধ্যে গোলাপেরই একটি করুণ কাঁটা যেন ফুটে গেল — বেচারা সরখেল। বৌ-মরা দাঁত-পড়া সরখেল। বাঘের মুণ্ডুর মতো গাঁদার চাষ করে। এখন পুলিশ ওকে বেঘোরে ক্যালাবে।
– হ্যাঁ, সার।
– এইটা বলতে যা টাইম নিলে তাতে করে ইনফার করচি তুমি রিয়ালি ওরিড। ঘাবড়িও না। টাইম নিয়ে খোঁজো। চাঁইরা যখন চাইছে তখন তো দিতেই হবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে ফাইল হাতের মোয়া নয়। ধুলোপড়া অত দিস্তে দিস্তে ফাইল — খুঁজেপেতে বের করতেও তো টাইম লাগবে। বলেছে যখন লেগে পড়ো।
– সে না হয় লাগলাম। কিন্তু বলুন। তখন ওইভাবে ফেরৎ পাঠাল। গ্যারান্টি দিতে পারি ওরা খুলেও দেখেনি। বলুন, এটা অন্যায় নয়?
– যত পড়ছি বুঝলে তত ন্যায়-অন্যায় গুলিয়ে যাচ্ছে। সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। বিরিয়ানির জাফরান। তাকেও বিশ্বাস নেই। তোমার ক-বছর?
– কিসের স্যার?
– কিসের আবার। রিটায়ারমেন্টের।
– আরো বছর পাঁচেক আছে।
– ভুগবে। আমি তো নেক্সট ইয়ারেই ভাগলবা। যাই হোক লেগে পড়ো। টাইম লাগুক। আমি সামলাবো।
সাধু পুনরায় ‘বিষপ্রয়োগে হত্যা-সেকাল আর একাল’-এ মন দিলেন। গোলাপ ঠিক করল যে ছাদে উঠে দন্ডবায়সবাবাকে ডাকতে হবে। আচ্ছা, কালিঘাটে গিয়ে একবার সরখেলকে সাবধান করে দিলে কেমন হয়?
এর পরদিন গোলাপ দুটো ফাইলই পেয়েছিল। ওপরে লেখা মন্তব্যদুটির ওপরে কালো কালি বুলিয়ে দিয়েছিল। সাধু ফাইলদুটি ওপরে পাঠিয়েছিল। কিন্তু খুলতেই ক্যাচাল।
একটিতে ছিল শ্রীঘৃত সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের বাণী। বলাই বাহুল্য যে সেটি নেই। বরং একটি মুদ্রিত কবিতা বা কবিতার অংশ …
… বাকি আছে আর
দোদুল কদম্ব বনে
লোলুপ, লোমশ মনে
নিতম্ব প্রহার
এবং দ্বিতীয় ফাইল, যাতে সরখেলের প্রবন্ধটি ছিল, সেখানে, জেরক্স কপি একটি – (৫ই মার্চ ১৮৩৪। ২৩ ফাল্গুন ১২৪০)
দিল্লী। – অবগত হওয়া গেল যে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু সম্বাদ যখন দিল্লীর বাদশাহের দরবারে পঁহুছিল তখন দরবারস্থ তাবল্লোক একেবারে হতাশ হইলেন। বিশেষতঃ শ্রীযুক্ত মির্জ্জা সিলিং ও তাঁহার পক্ষীয় লোকেরা কহিলেন যে ইঁহার উদ্যোগক্রমে আমাদের বার্ষিক যে তিন লক্ষ টাকা বৃদ্ধি সম্ভাবনা ছিল এইক্ষণে সে ভরসা গেল। কিন্তু তদ্বিসয়ে কিঞ্চিতমাত্র ভয় নাই যদ্যপি গবর্নমেন্ট উক্ত সংখ্যক টাকা দিতে অঙ্গীকার করিয়া থাকেন তবে যে ব্যক্তির উদ্যোগে অঙ্গীকৃত হইয়াছিলেনএইক্ষণে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে বলিয়া কখনও অপহ্নব করিবেন না।
সমূহ বিচলিত গোয়েন্দা কর্তারা শুধু যে নার্ভাস হয়ে পড়েন তাই নয়, তারকনাথ সাধুকে এমনও প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছিলেন যে তাঁদের সন্দেহের তীর যেহেতু গোলাপকেই বিদ্ধ করছে অতএব গোলাপ মল্লিককে তাঁরা সদলবলে ‘গ্রিল’ করতে চান। এর জবাবে তারকনাথ গেয়ে উঠেছিল, ‘তবে কেন পায়না বিচার নিহত গোলাপ’ … এবং বলেছিল,
– পোঁদে নেই ইন্দি, ভজোরে গোবিন্দি। কার ঝাঁটে কটা লোম দেখে নেব। গোলাপকে টাচ করে দেখুক না একবার। ওই তো সব যোগাড় করেছিল — রবিঠাকুরের ঘি-এর কোম্পানি, তারপর গিয়ে সরকারের হুমকি। তখন ঢ্যামনাচোদার মতো ফাইলের ওপরে ‘বাল’ আর ‘পাগলাচোদা’ কে লিকেছিল? আপনারা। গ্রিল করচে। গ্রিল করবে। মার্ডার আর মড়া ঘেঁটে ঘেঁটে পুরো জীবনটা গেল, এখন কোত্থেকে ঝাঁটুয়া এসে বলছে রোজ-কে গ্রিল করবে। তুলকালাম লাগিয়ে দেব। লালবাজার, মিনিস্ট্রি, লর্ড সিনহা সব জায়গায় হুড়কালাম লাগিয়ে দেব। দেখবেন? অ্যাসোসিয়েশনের কানে কথাটা তুলব?
– আহ মি. সাধু। অযথা আপনি এক্সাইটেড হয়ে পড়েছেন। অ্যাকচুয়ালি আমরা ঠিক ওটা মিন করিনি।
– দেখুন। সাফসুৎরো বলে দিলুম। আই অ্যাম তারকনাথ সাধু। আপনারা যখন ল্যাক্টোজেন খাচছেন তখন থ্রি-নট-থ্রি দিয়ে বগল চুলকোচ্ছি-বি কেয়ারফুল। গোলাপের একগাছাতেও যদি কারো হাত লাগে তাহলে আগুন লেগে যাবে।
– সে না হয় হল। গোলাপ যেমন আছে তেমনই থাকবে। কেউ ওকে ট্যাম্পার করবে না। কিন্তু ফাইলদুটোর মধ্যে থেকে মাল হাওয়া নিউ মাল ইন – এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?
– আমি বলব ম্যাজিক অ্যান্ড মিষ্ট্রি। যতক্ষণ না অন্য প্রমাণ পাচ্ছি। ততক্ষণ আমি চুপ। তবে গোলাপ এর কিছুই জানে না। বেচারা। সব ফাইল আমার ঘরে। ধরলে আমাকে ধরুন। করুন, গ্রিল না কী করবেন।
– ঘাড়ে আমাদের কটা মাথা, মি. সাধু?
– একটা করেই তো জানতাম। এখন মনে হচ্ছে এক্সট্রাও গজাচ্ছে।
তারকনাথ দমাস করে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে এল এবং একতরফা ঝাপড়া খেলে যেমন হয় তেমনই থুম্বোমারা হুলোর মতো মুখ করে গোয়েন্দা দপ্তরের চাঁইরা বসে থাকল। দমদম বুলেটের সামনে পড়েও বেঁচে গেলে ফেসকাটিং ওই রকম হয়ে যায়।
ছায়া ঘনিয়েছে। ঝোপে ঝোপে সড়সড় করছে কলিকালের বাতাস। হাফখাওয়া বাতাসার মতো মুন। এবং কালিপড়া, ঝুলে যাওয়া মুনলাইট। ট্রপিকাল অরণ্যের ইনসেক্টদের ঘুনঘুনে শব্দ। এরই মধ্যে, গোলাপ মল্লিক সরখেলের বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির। কোথাও একটা, কেমন একটা ‘খপ খপ’ শব্দ হচ্ছে। অভিজ্ঞ কান বলে দিল শব্দটা লৌকিক। অলৌকিক নয়। গোলাপ চাপা গলায় ডাকল,
– ‘সরখেল? সরখে…ল!
অমনি ‘খপ, খপ’ স্টপ। গোলাপ দু পা এগোল। এবং ওখানেই নির্বিরোধী, সাকার স্ট্যাচু। কারণ তার পিঠে একটি খোঁচা। লেগেছে এবং ঠেকে আছে। এবং একটি হুঁশিয়ারি।
– নড়বি না। নড়লেই খতম। হাত ওঠা … ওঠা।
গোলাপ দুহাত তুলে দাঁড়াল। সামনে থেকে টর্চের আলো। আলোর পেছনে অস্পষ্ট একটি আদল।
– আরে! গোলাপভায়া! অ্যাই, সোর্ড সরিয়ে নাও। দেখচ নাম ধরে ডাকচে। ও আমার ফ্রেন্ড। খুঁচিয়ে ফুঁচিয়ে দাওনিতো?
ভদি বলল,
— এখনও দিইনি। আরেকটু লেট করলে, হাত পা কাঁপছিল, হয়তো খোঁচাই লেগে যেত।
গোলাপ এতক্ষণে কথা বলল,
– হাত কাঁপবে কেন? সোর্ড ফোর্ড ধরে অভ্যেস নেই বুঝি?
– অভ্যেস থাকবেনা কেন? সবই চলে। তবে মোগলাই আমলের মালতো। ওরা হত ছয়, সাড়ে ছয়, সাত – ওজনও নব্বই থেকে শুরু। আমাদের হাতে ঠিক খেলে না।
সরখেল গোলাপকে ঘরে নিয়ে গেল। সরখেল আন্ডারওয়্যার পরা। চিমড়ে। সারা গায়ে ঘাম আর মাটি। গোলাপ বলল,
– বাগান করছিলে?
– মনে রেখেচ তাহলে। বাগানও করছি, সেইসঙ্গে মিউটিনিরও ব্যবস্থা করচি। লেখাটা পড়েছিলে?
– পড়িনি? খুব ক্লিয়ারকাট। তাহলে বলচ যে যুদ্ধ একটা লাগবেই?
ভদি বলল,
– কী মনে হয়? এইসব সোর্ড ফোর্ড, তারপর গিয়ে নুনুকামান, গাদা বন্দুক – এমনি এমনি?
– অ্যাঁজ্ঞে, নুনুকামান মানে?
– ও হল আপনার পোর্তুগীজদের ক্যানন। ছোট সাইজের পোনাকামানও বলা যায়। বজরা টু বজরা হেভি এফেকটিভ।
– থামো তো। বলো গোলাপ ভায়া, কী মনে করে?
– এলাম। তবে উদ্দেশ্য ছিল। সাবধান করা। তোমার সেই লেখাটা বুঝলে …
– বুঝেছি। ওপরওয়ালাদের হাতে পড়ার জন্যেই তোমাকে দিয়েছিলুম। কী বলচে শালারা। পড়ে নিশ্চই পোঁদে ভয় ধরেচে।
– প্রথমে পড়েইনি। বুঝলে? এখন তলব করেছিল। ফাইল দিলুম। সে মাল নেই। কী সব রামমোহন রায় কোথায় মরেচে ফরেচে এইসব …
– থাকবে কী করে। এখন ওই ফাইল খুললে দ্যাখা যাবে রামমোহনফোহনও নেই। ফের নতুন মাল। ফের বন্ধ করে ফের খুললে আবার নতুন লেখা। বানচোৎদের এমন গুলিয়ে দেব যে হেগে ছুঁচোতে ভুলে যাবে।
কন্ঠস্বরটি দন্ডবায়সের। তিনি ভাঙা জানলায় বসে একবার ডানা ঝাপটালেন।
– প্রভু? আপনি?
গোলাপ উঠে গিয়ে দুই ঠ্যাঙের নখে হাত দিয়ে প্রণাম করে।
– কি রে? আমার সাধের গোলাপকে কেমন শুকনো লাগচে।
– এ কিছু নয় প্রভু। দপ্তরে সব ওপরওয়ালা হারামিপনা করছিল। এখন রসে গেচে।
– যাবেই। তুই আমার আশ্রিত। তোর পোঁদে যে লাগবে উল্টে তারটাই খোলতাই করে মেরে দেব। বল।
– আঁজ্ঞে প্রভু, এসেছিলুম সরখেলকে সাবধান করতে। আর যদি আঁজ্ঞা করেন তো মনের বাসনাটা খুলে পেতে বলি।
– বল। ভদি, ভালো করে শোন। তুই যা আনমনা।
– না, বাবা। মন দিয়ে শুনচি। কিচু মনে করোনিতো ভাই গোলাপ।
– না ভাই মিউটিনিতে এমনটা তো হবেই। মনে করাকরির কী আচে? আঁজ্ঞে বাবা, আমিও আপনাদের দলে ভিড়ব।
– ভিড়বি কিরে? তুই তো ভিড়েই আচিস। তুই আপনার লোক না হলে সরখেল তোকে চোতাটা দিত?
– আঁজ্ঞে লালবাজারে কী চুদুড়বুদুড় চলছে, কে কী ছক করচে সব এসে বলব। শালাদের ওপরে আমার হেভি খার।
– সে তো বলবিই। এই না হলে গোলাপ। ভদি, গোলাপ মিউটিনিতে নাম লেকাল। ওকে একটু আপ্যায়ন করবি না?
– ছি ছি বাবা, তাও কি বলতে হয়? গোলাপ ভাই, কী খাবে বলো, বাংলু না বিলিতি?
সরখেল বলে ওঠে,
– কোনো নজ্জা নেই। সব খোলামেলা। আমি একটু হাতমুখ ধুয়ে আসি। সারাদিন ওই বাগান … কম হ্যাপা?
গোলাপ ঝাঁকে ভিড়ে পড়ে।
– বিলিতিই বলো তবে।
– সরখেল, ফোনে নলেনকে বলে দাও তো।
– দিচ্চি!
– একদিন দিনমানে এসে সরখেলের ফুলবাগানের ফুল দেখতে হবে।
দাঁড়কাক খুক খুক করে হাসল। ভদি বিশেষ উচ্চবাচ্চ করল না। হাতমুখ ধুয়ে সরখেল এসে গেল। নলেন রামের বোতল, গেলাস আর ছোলাভাজা দিয়ে গেল। বড়ই আন্তরিক এই পরিবেশ।
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের আগে দেশের পরিবেশ কি এমনটিই ছিল? অর্থাৎ ভারতের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের আগে। হে মার্কসবিদ পাঠক, তুমি ‘বিদ্রোহে বাঙালী’ পড়িয়াছ? বলো না গো!
