Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    নবারুণ ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প276 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঙাল মালসাট – ৪

    ৪

    এখন চলছে ক্যুইজের যুগ। পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে, কলতলায় কলতলায় চলেছে অবিরাম ক্যুইজ। মানুষের জ্ঞান যত বাড়ছে, মানুষের বাচ্চাদের হেডপিস যত সরেশ হচ্ছে ততই অবধারিত হয়ে উঠছে ক্যুইজের প্রয়োজনীয়তা। কলকাতায় কবে প্রথম পেচ্ছাপখানা চালু হল, লন্ডনে রাস্তায় হাগলে কত পাউন্ড জরিমানা হয়, কপিলদেবের দাদুর নাম কী, শান্তিনিকেতনে কোথায় কোথায় মাল কিনতে পাওয়া যায়, হাতিবাগানের শেষ বেবি-ট্যাক্সির ড্রাইভার কে, ক্রিকেট ব্যাটে ঘুণ ধরে না কেন, এরকম নানা প্রশ্ন ও তদনুযায়ী জবাবও মজুত রয়েছে। কিন্তু এই সিরিয়াল নভেলটি-র গত এপিসোডের শেষে ঐ কবিতাটি কার লেখা? অনেক ক্যুইজ মাস্টারও কেলিয়ে পড়বে। এবং শিশুদের প্রশ্নটি করে লাভ নেই। তাদের বাপগুলিও জানে না। তার আগের কোম্পানি হয়তো-বা জানত কিন্তু তাদেরও বেশিরভাগ অন্তর্হিত। সেই কবি এখনকার কাব্যকারদের মতো ঢ্যামনামি জানতেন না। তবে দুনিয়ায় হারামির হাট তখনো যে বসেনি এমনটি নয়। না হলে তিনি কোন দুঃখে লিখতে যাবেন,

    একটুকু ভালোবাসা একটি স্নেহের ভাষা,

    এক ফোঁটা আঁখিজল কোথাও না পাই!

    সত্যই এ বসুন্ধরা কেবলি রাক্ষস ভরা,

    দয়ার সে দেবতারা এ জগতে নাই!

    মিছামিছি দেশে দেশে ভ্রমিয়া বেড়াই।

    এঁরই সম্বন্ধে ১৩৫৫ সালে শ্রী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত লিখেছিলেন, ইনিই ‘বাঙ্গালাদেশের শেষ, জাতীয় বাঙ্গালী কবি’ এবং তাঁর আশা ছিল কেন, তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে ‘একথা সকলেই স্বীকার করিবেন।’ বলাই বাহুল্য যে কেউই এসব কথায় বিশ্বাস করে না। সেটা সম্ভবত আগেভাগেই আঁচ করেছিলেন শ্রী কৈলাসচন্দ্র আচার্য। ঐ কবির কাব্যসংকলনের তিনিই ছিলেন প্রকাশক যার ভূমিকা লিখেছিলেন যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত। ঐ ভূমিকাটিতে আর কী কী ছিল জানার বোধহয় আর উপায় নেই কারণ ‘প্রকাশকের কথা’-য় কৈলাসবাবু সাফকথা শুনিয়ে দিয়েছেন ‘কাগজের অভাবের জন্য বিশেষ অনিচ্ছায় ঐ ভূমিকার অধিকাংশ বাদ দিয়া তাহা মুদ্রিত হইল।’ ১৩৫৫ সালে পুঁজিবাদী বাজারে কাগজের ক্রাইসিস হয়েছিল না হয়নি তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের বিতর্ক চলবেই। যে কবিকে নিয়ে এত কিছু তাঁর কিন্তু অনেক সহজ সমাধান জানা ছিল,

    গু মাখিয়া মারি ঝাঁটা যত মনে লয়!

    বাঙ্গালী মানুষ যদি, প্রেত কারে কয়?

    বাঙালি তাঁকে মনে রাখেনি। রাখবেও না। অবশ্য তাতে স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের কিছু আসবে যাবে না।

    জানা আছে যে নানা অভিযোগ উঠবে। বেশ বাঁশবেড়ে-গুপ্তিপাড়া রুট খুলেছিল, আচমকা ধরতাইটা ভারিক্কি ধাঁচের হয়ে গেল কেন ঠাকুর? কিন্তু অনাদ্যন্ত চ্যাংড়ামি চলবে এরকম কোনো গ্যারান্টি কি ছিল? লেখকের মর্জি, তার খোলতাই, প্যাঁচ লড়াবার ধান্দা, বিশেষত আওকাৎ যদি ঠিক থাকে তাহলে ফলানা ডিমকা থেকে এক ডাইভে হেথা নয়, হেথা নয় হয়ে যেতেই পারে। আধুনিক আখ্যান খুবই অনেকান্তবাদী। ঐ হা হা হাসি, এই হু হু হাওয়া। এরকমই এখন চলবে। থেকে থেকে লেখকের নাক ডাকবে কারণ সে লেখার স্বপ্নে বিভোর। পাঠক কিন্তু সজাগ। যে প্রান্তরে পাঠানরা যুদ্ধ করেছিল এখন সেখানে পাঁঠা চরছে। এমতাবস্থায় পাঠককে জেগে থাকতে হবেই। সাহিত্য নামধারী বিশাল জঞ্জালের পাহাড় থেকে একটি কুটোও যেন না হারায়। গেলে রক্ষে নেই। মাত্র কিছুদিন আগে এরকম ছিল না। তখন পাঠক সাহিত্যকর্মকে পাশবালিশ বা বাঁদরটুপি মনে করত। এখন আর তা হওয়ার উপায় নেই। টিকিট কেটে হাতি চড়ার যুগ বিগত। চিরতরেই। এখন টিকিট নয়, খাল কাটার যুগ। এবং খাল কাটলে যা ঢোকার তা ঢুকবেই। বৃহত্তর, চক্রাকার জিলিপির প্যাঁচের মধ্যে এ হল একটি ছোট্ট পয়জার।

    সব সিরিয়ালে না হইলেও বেশ কয়েকটিতে রিক্যাপ বলিয়া একটি অংশ থাকে। ইহার ফলে আগে যাহা ঘটিয়াছিল তাহার মর্মসার বুদ্ধিমান দর্শক অচিরেই আত্মসাৎ করিয়া ফেলে এবং মাঝে মধ্যে ক্লাস ‘বাংক’ করিলেও মূল বিষয়টির অসংখ্য ডালপালার কোনো কুসুম হতেই নেশাচুর ভ্রমরের মতো কদাচ চ্যুত হয় না। সেমতোই এমনও নিশ্চয় ঘটিবে যে কোনো পাঠক হয়তো এই পর্ব হইতে বা ধরা যাক, এই বড় করিয়া হইতে এই মেট্রো নভেলটি পড়িতে শুরু করিলেন। এমনও প্রায়শই ঘটিয়া থাকে যে তিনি ইহার পূর্বে ‘মহারাষ্ট্র জীবনপ্রভাত’ ও ‘রাজপুত জীবনসন্ধ্যা’ পাঠ করিয়া এমনই তুরীয় আনন্দ উপভোগ করিয়াছিলেন যে ‘মাধবীকঙ্কন’ তাঁহার নিকট নিতান্তই রাবিশ বলিয়া মনে হইয়াছিল। তিনি হয়তো নিতান্তই স্নেহবশত বা আদিখ্যেতা করিয়া নভেলটি-র নাম ভাবিলেন ‘বাঙালী জীবন-নাইট’। অবশ্য এসবই মৃতপাঠ কারণ আগেভাগেই বড় করিয়া আছে। সিরিয়াল নভেলটিতে রিক্যাপ চলিবে? শেষের সেদিন যদি আজ না হয় তাহলে পাঠক তুমি নিরুত্তর কেন? দিবসের শেষে তোমাকে কুমিরে নেবে। কিন্তু তারও দেরি আছে। এত তাড়া কীসের?

    বড়িলাল কেটে পড়ার ঘন্টাদুয়েক বাদে ফ্যাতাড়ুরাও ভদির বাড়ি থেকে টলমল পায়ে বেরিয়ে এল। যদিও মাথা যথেষ্ট টরটরে।

    -উফ এতদিন কী খামকাজটাই না করে এসেচি!

    -যেমন?

    -ভাবতুম আমাদের কেউ ডিঙোতে পারবে না। ফ্যাতাড়ুদের সঙ্গে টক্কর দেনেওয়ালা কোনো মায়ের লাল পয়দা হয়নি। এখন দেখচি…

    -কী দেখচ?

    -দেখচি কোথায় বাঘের রোঁয়া, কোথায় ঝাঁটের লোম। চোক্তাররাই তাহলে টপ। যাক বাবা, ভাগ্যে দলে ভিড়িয়ে নিল। ভাবো তো, তিনজনের মুণ্ডু কেটে যদি টগরগাছের গোড়ায় ধড় শুদ্ধু পুঁতে দিত কোনো মামা বাঁচাতে পারত? নো পুলিশ কেস, নো ট্রেস।

    -আমার তো বাঁড়া ওদিকে অন্য চিন্তা। লাইফ-টাইফ নিয়ে ডি. এস. ঘাবড়ায় না কিন্তু বউ-এর আট মাস চলচে । ছেলেটাকে একবার বাপের খোমাটা অব্দি দেখাতে পারব না।

    -ঢপ মেরো নাতো, সবার আগে ব্রেক ডাউন করল কে? বলো মদনদা।

    -মদনদা কী বলবে? ছেলেটার কথা ভেবেই তো কেমন যেন ডুকরে উঠল …

    -আহা হা, কে আগে কাঁদল তাতে কী আসে যায়। বাংলা কথা সকলেরই পোঁদে ভয় ঢুকে গিয়েছিল।

    -হ্যাঁ, হেভি!

    -যাইহোক সে ভয়টয় কেটে গেছে অতএব ওসব নিয়ে ফালতু চুদুড়বুদুড় করে কোনো লাভ নেই।

    -একদম না।

    -এখন ঠাণ্ডা মাথায় বসে আমাদের ব্যাপারটা একবার ঝালিয়ে নিতে হবে। এতদিন ফ্যাতাড়ুই ছিল বড় তরফ। শের। কিন্তু চোক্তার দেখা যাচ্ছে শেরের বাবা, পাঁচ পো। গপ্পোটা জানো তো?

    -আমি জানি।

    -আমি জানি না।

    -ঠিক আছে, ডি. এস. এক ফাঁকে তোমাকে বলে দেবে। মোট কথা, এখন আমাদের চোক্তারের চামচাগিরি করতে হবে। চোক্তার লিডার, আমরা ক্যাডার। চোক্তার কাঁঠাল, আমরা লিচু।

    -চোক্তার তুমি এগিয়ে চলো! ফ্যাতাড়ু তোমার সঙ্গে আচে।

    -কুত্তার বাচ্চারা করে ঘেউ ঘেউ।

    চোক্তার কেঁদোবাঘ, ফ্যাতাড়ুরা ফেউ।

    -এইসব কথার মধ্যে বানালে?

    -জানবে।

    -মদনদা, পুরন্দর একটা জিনিস। আর ঝগড়া করব না।

    -আর একটা বানালুম। তবে জোরে বলা যাবেনা।

    -আস্তেই বলো না। কয়েকটা ঝি বাসন মাজচে। কী করবে শুনলে?

    -বাগানে শোভিছে কত

    সি. পি. এম ফুল

    তলায় ঘাপটি মেরে

    বাড়ে তৃণমূল

    -ঝিগুলো কিন্তু তাকাচ্ছে।

    -তাকাবেই তো। এই পাড়ায় আগে কংগ্রেসের হেভি রোয়াব ছিল। পরে মেজরিটি সি. পি. এম হয়ে গেল। এখন আবার তৃণমূল বাড়ছে। যে কোনো টাইমে ক্যালাকেলি লেগে যেতে পারে।

    -তুমি এতসব জাহাজের খবর জানলে কী করে?

    -আরে বাবা, কবি হলেই তো হল না। চোখকান খুলে রাখতে হয়। আমরা হলুম জানবে পলিটিক্যাল পোয়েট। ওসব ন্যাকড়ামো পদ্য-ফদ্য লিখি না। সবসময়ে তরতাজা। জ্যান্ত ট্যাংরা। একবার কাঁটা মেরে দিলেই সেপটিক। ক্যাপসুল না ঝাড়লে উপায় নেই। মাথায় ঢুকল?

    -ওসব পদ্য-ফদ্য মাথায় ঢুকিয়ে মরি আর কি। হাজারটা চিন্তা। এক কান দিয়ে শুনলুম। আর এক কান দিয়ে বেরিয়ে গেল। খেল খতম।

    -তাই তো হবে। দু-কানের মধ্যে স্রেফ ফাঁকা। ধরবে কিসে? ভগবান যে কতরকমের গাণ্ডু বানিয়েচে।

    মদন বুঝল ফের ক্যাচাল শুরু হবে,

    -থামো তো! যে যেমন বুঝেচ তাই নিয়ে থাকো। ভদিদা যা যা বলেচে সেগুলো মনে আচে? ডি. এস বলো তো চোক্তারের গুষ্টির আদিপুরুষ কে?

    -শুনেছিলুম। কিন্তু মনে নেই।

    -এই যে কোনো কিছু মন দিয়ে শোনো না, এর ফলে কিন্তু একদিন মোক্ষম ফেঁসে যাবে। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এই শুনলে আর ভুলে মেরে দিলে?

    -মাল খেলে এরকম হবেই।

    মদন রেগে দাঁত খুলে পকেটে ঢোকায়।

    -বাল! আমি আজ অব্দি যত মাল খেয়েচি তুমি সাঁতরে পার হতে পারবেনা। মাল খেলে এরকম হবেই!

    -ঠিক আচে বাবা। খেয়াল করে শুনিনি, গোক্ষুরি হয়েচে। এবার বলে দাও। আর ভুলব না।

    -জানি না বাবা, ভদিদা সব জানতে পারচে কিনা। ভদিদা খচে গেলে কী হবে আন্দাজ আচে?

    -আরে বাবা, আচে বলেই তো এই নাও দু কান ধরচি। এমন আর কক্ষুনো করব না।

    -ঠিক আচে। পুরন্দর, তোমার?

    -মানে তখন বৌদির মাথায় ঐ স্যাম্পু করা চুল দেখে একটা কবিতা ঘুরছিল তাই …

    -বাঃ চমৎকার, একেবারে ডুগিতবলা। ওটা কী স্যাম্পু মনে আচে?

    -না।

    – ওটা হল ডগ স্যাম্পু। সায়েবরা কুকুরদের মাখায়।। সায়েবদের কুকুর দেখেচ? ইয়া বড় বড় সোনালি লোম। ঠাণ্ডার দেশের কুকুর তো। বরফের মধ্যে হাগতে বেরোয়।

    -তাহলে ভদিদা বৌদির জন্যে ঐ স্যাম্পু আনতে গেল কেন? নিজের বৌ বলে কতা।

    -বলচি। সাধনা করে করে বৌদির মাথায় এমন জট পড়ে গিয়েছিল যে এমনি স্যাম্পুতে হত না। তখন ভদিদা নলেনকে দিয়ে ঐ স্যাম্পু আনাল। গায়ে কুকুরের ছবি। কেরোসিনে গোটা মাথা ভিজিয়ে নিল। উকুন-টুকুন সব হাওয়া হয়ে গেল। জটও আলগা হল। তারপর ডগ স্যাম্পু। এখন চুল দেখো না! চুল তো নয়, যেন পেখম।

    এর পরপর যে ঘটনাটা ঘটল তা বড়ই দুষ্প্রাপ্য। বস্তুত, ইন্টারনেটের মশারির মধ্যেও এই ধরনের ঘটনা যে ঘটতে পারে তা ভেবে ফেলাও খুবই সাহসের কাজ বটে। এই ঘটনাটিই তখন তার চেতলার বাড়ির ভাগের ঘরে শুয়ে বড়িলাল স্বপ্নে দেখেছিল। তার পেটে তখন প্রায় টেবিল চেয়ার ওল্টানো হোটেলের কুড়িয়ে বাড়িয়ে যোগানো ঠাণ্ডা কাঁটা কাঁটা ভাত আর পুরো ফুটে যাওয়া, সজারুর মতো দেখতে ফুলকপি ও আলুর ডালনা এবং পাকা মাছের লেজের তেলতেলে ছাল সব ওলটপালট খাচ্ছিল। বড়িলালের স্বপ্নটিতে সাউন্ড ট্র্যাক এক থাকলেও দৃশ্যটি সাদাকালো।

    ঝুন ঝুন ঝুন ঝুন, টগবগ টগবগ, সাঁই সপাশ সাঁই সপাশ ও ক্যাঁচকোঁচ ক্যাঁচকোঁচ শব্দ। আচমকা এই সশব্দ দৃশ্যটি ফ্যাতাড়ুদের প্রায় ঘাড়ে এসে পড়ায় তারা ত্রস্ত নেটিভের মতো অবিকল দক্ষতার সঙ্গে রাস্তার ধারে ছিটকে সরে যায়। এই হল কলকাতার সেই প্রসিদ্ধ ‘হাওয়া খানা’ বা (‘eat the air’) — ঝকমকে পালিশ করা ফিটন গাড়ি। সামনে চোখ বাঁধা আসল ঘোড়া, বেতো খচ্চর নয়। সহিসের মাথায় পেল্লায় পাগড়ি। মনে হবে রাজ্যপালের এডিকং। খোলা ফিটনে বিশাল আকৃতির এক মেমসাহেব বসে। ইনিই তিনি অর্থাৎ যার কথা আগেই বলা আছে সেই বেগম জনসন। চোখ প্যাঁটপ্যাঁট করে রাস্তার দুধারই নেকনজরে রাখছেন। উল্টোদিকের সিটে তন্বী দুটি কচি মেম। ঘুমন্ত বড়িলাল ও জাগন্ত ফ্যাতাড়ুদের কানে অদৃশ্য কোনো নম্র প্রেত বলে গেল, ‘বাঁ-দিকেরটিকে — চিনলে? উনি মিস স্যান্ডারসন। পাশেই মিস এমা র্যাংহাম।’ চারজনেই ফটাফট সেলাম ঠোকে। উরি গুরুঃ ফিটনের পরেই একেবারে ব্রিচেস ও হাতঢোলা সাদা সার্ট পরা দুই সাহেব। স্ব স্ব ঘোড়ায় দুলকি ঢঙে চলেছে। দুই সাহেবই একযোগে মুখ তুলে সিনেমার হোর্ডিং-এ রাণি মুখার্জির পাগলা করে দেওয়া ছবিটা একবার মেপে নিল। এবং তারপরই দুই কচি মেমের দিকে। এবারে প্রেত-কন্ঠের দরকারই হয় না। চারজনেই বুঝে যায় যে, অবধারিতভাবে একজন যেহেতু মিঃ স্লিম্যান সুতরাং অন্যজন মিঃ শেরউড হতে বাধ্য। ১৭৮১ সালে ক্যালকাটায় এরকম একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় (আনন্দবাজারে নয়) — ‘To be sold by private sale: Two coffree boys, who play reasonably well on the french horn; about eighteen years of age; belonging to a portuguese padre lately deceased’ এই দুটি কাফ্রি যুবককে মিঃ স্লিম্যান ও মিঃ শেরউড খরিদ করিয়াছিলেন। এই ‘হাওয়া খানা’-র শব্দময় দৃশ্যটি যেমন অতর্কিতে এসেছিল তেমনই ভ্যানিশ করে যায়। এ তো সবে শুরু। এরকমই এখন হতে থাকবে। ১০ নম্বর ক্লাইভ স্ট্রিট ছিল বেগম জনসনের ঠিকানা। অন্য দুই মিসিবাবার ঠিকানাও হয়তো একদিন আমরা পেয়ে যাব।

    -কী বুঝলে? ডি. এস?

    -মেম দুখানা কিন্তু ক্যাঁচা মাল, কিন্তু মুটকিটাকে দেখলে ভয় করে।

    -শোনো, ওদের সম্বন্ধে সমঝে কথা বলবে। একবার যদি সায়েবদের কানে ওঠে তাহলে দফারফা। পুরন্দর?

    -আমি ভাবচি এসবই কি চাকতির চক্কর। ভদিদা যে বলল সব তুলকালাম কান্ড হবে।

    -এ তো কলির সন্ধে। এখন তো আসর সবে বসতে শুরু করেচে। যাত্রাপার্টি এসে পোঁছয়নি।

    -মানে, জল আরও গড়াবে বলচ?

    -অনেক দূর। সোজা কথা হল চোক্তারি পরোয়ানা একবার জারি হয়ে গেলে আর কেউ থামাতে পারবে না।

    স্বপ্ন ফুরোবার পরে বড়িলালের ঘুম আরও গাঢ় হল। একই স্বপ্নে রাণি মুখার্জি, মিস স্যান্ডারসন ও মিস এমা র্যাংহাম-কে পাওয়া যেমন সুখের তেমনই বিরক্তিকর বেগম জনসন ও দুই কামুক সায়েবকে সহ্য করা। এতক্ষণ একটা রুগ্ন মাছি হনুমানজীর সামনে বসে নকুলদানা খাচ্ছিল। এবারে কী খেয়ালে সে বড়িলালের নাকে এসে বসল এবং এর ফলে ঘুমের ঘোরেই বড়িলাল পাশ ফিরে শুল। ঘোড়ার রেস চলছে। বড়িলালের ইতিহাস নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। থাকতেই বা যাবে কেন? কিন্তু এই শিক্ষাপ্রদ ঘুম তাকে ছাড়বে কেন? এবারে আর সাহেব মেম নয়, ঘোড়া। ঘোড়ার জল খাওয়ার চৌবাচ্চা বড়িলাল দেখেছে। এবারে সে জেনে ফেলল যে, ১৮১০ সালে বর্তমান রেস কোর্সটির পত্তন হলেও, এর আগেই, গার্ডেন রিচ-এর শেষ মাথায় একটি রেস কোর্স ছিল। হিকি’স গেজেটে ১৭৮০ সালেই রেস মিটিং ও রেস বল-এর খবর পাওয়া যায়। বেঙ্গল জকি ক্লাব স্থাপিত হয় ১৮০৩ সালে। বলাই বাহুল্য যে জকিগিরির সঙ্গে বাঙালির যোগাযোগ নিবিড় বলে কোনো সোচ্চার তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও ঘোড়ায় চড়ে হাগতে যাওয়া যে বাঙালির হাতের পাঁচ তা কে না জানে? বড়িলাল উপুড় হয়ে শুল।

    -তবে একটা কথা। ভদিদা যা বলেচে তা কিন্তু কাউকে বলতে যেও না। মানে এমন ভাবটি দেখাবে যে, তুমি কিচ্ছু জানো না।

    -খেপেচ? যার ভরসায় থাকা তার নাম মুখে আনা নেই।

    -টুঁ শব্দটি না। ভদিদা বলেচে কয়েকদিন আমাদের ওপর নজর রাখবে। তারপর একটা দুটো করে কাজ দিয়ে শুরু করবে।

    -আচ্ছা, ঐ যে কয়েকটা চাকতি যে উড়ে বেরোল সেগুলো এখন কী করে বেড়াচ্চে বলো তো?

    -জানবার যো নেই। সব গোপন খেলা। তবে ঐ যে ‘হাওয়া খানা’ ফিটন গেল, এটা চাকতিরই কারবার।

    -ছোট করে একটু আঁচ দিয়ে গেল। তাই না মদনদা?

    -তা তো বটেই। তবে ভদিদা বলেচে এখন দিন তিনচার বেশি কিছু হবে না। ডি. এস. মালকড়ির খবর কী?

    -আজ আমার পকেটে সাকুল্যে চার টাকা।

    – পুরন্দর?

    -কত লাগবে?

    -বেশি না। অন্ধকারটা না জমলে উড়তে পারব না। এই ফাঁকে একটু চা-বিস্কুট প্যাঁদাব ভাবছিলুম।

    -সে হয়ে যাবে। টাকা বারো আছে।

    -আমি নেই।

    -কেন?

    -একবার মাল স্টার্ট হয়ে গেলে তারপর চা-ফা খেতে আমার ঘেন্না করে। চার্জিং বলো তো আচি।

    -পকেটে তো চার টাকা। কী চার্জিং করবে। পোড়া ডিজেল?

    ডি. এস ওর তোবড়ানো ব্রিফকেসটা রাস্তার ওপরে রাখল। তারপর প্যান্ট আর পেটের তলার মধ্যে হাত গলিয়ে জাঙিয়ার ভেতর থেকে সরু করে ভাঁজ করা একটা একশো টাকার নোট বের করল। ভাঁজ খুলতে নোটটা হাওয়ায় দুলতে লাগল।

    -আমার নাম ডি. এস, বুঝেচ? পুজোর বাজারে আমার কাছে অল টাইম একটা দুটো বড় পাত্তি থাকবেই।

    -উরি শালাঃ হেভি হারামি তো!

    -তবে! কীরকম দিলুম মদনদা। বলো!

    -শোনো, তুমি যদি জাতক্যাওড়া না হতে, তোমাকে আমি ফ্যাতাড়ু করতুম?

    -নতুন এনার্জি এসে গেল। কেমন যেন ন্যাতাজোবড়া লাগছিল।

    -কোথায় যাবে? গাঁজা পার্ক না গরচা?

    -কোনোটাতেই না। দুটো ঠেকেই নানা উল্টোপাল্টা পাবলিক। তার চেয়ে বরং টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে চলো। জায়গাটা ছড়ানো। ভিড়ভাট্টাও কম।

    -এখানে কিন্তু মালটা সবসময় আসলি দেয় না, জানো তো? জল পাঞ্চ করে।

    -ছাড়ো না। আমার সঙ্গে জালি করা অত সোজা নয়। ওরা লোক চেনে।

    ফ্যাতাড়ুরা খুবই আনন্দময় বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সহযোগে টালিগঞ্জগামী একটি ২৯ নম্বর ট্রামের সেকেন্ড ক্লাসে উঠে গেল। এবং ট্রামটিও কালবিলম্ব না করে সংরক্ষিত ডাঙা দিয়ে ঝ্যাড়র ঝ্যাড়র শব্দ করতে করতে গড়াতে শুরু করল। এই লাইনের দুপাশেই কিছু ঘাস, কিছু বেঁটে মাপের টোপাকুল গাছ, কিছু অজানা গুল্ম ও অনেক পরিমাণে গু-এর পিরামিড দেখা যায়। দুপাশেই পিচ রাস্তা দিয়ে বিস্তর গাড়ি। দূষণের ধোঁয়া সবকিছুতেই এক মায়াময় মলিনতা আনে। আর ঝোড়ো বেয়াড়া বাতাস দিলেই দেখা যায় শান্তির সেই সাদা কবুতরের মতোই নানা মাপের পলিব্যাগ ওড়াউড়ি করছে। যারা পথে তাদের বাড়ির দিকে মন। যারা বাড়িতে তাদের টিভির দিকে। অতএব এসব খুচরো অলৌকিক দৃশ্য দেখার জন্য কারোরই টাইম নেই। অবশ্য পাগল ও চামচিকেরা এ বিষয়ে খুবই সমঝদার। যে কলকাতাকে ভেঙে, দুমড়ে, ঝলসে, গলিয়ে, থেঁতলে, খুবলে অজানা এক ধাতু ও সিন্থেটিক পদার্থের বিকট সমাহারে ঢেলে পাল্টানো হচ্ছে সেই কলকাতার আসল বন্ধু হল পাগল ও চামচিকেরা। সেই সঙ্গে কয়েকটা রঙ-মাখা মেয়ে, কুকুর, বাদুড়, বেড়াল, প্যাঁচা, ইঁদুর, ছুঁচো, আরশোলা, ভিখিরি ও পিঁপড়েরাও রয়েছে। মশা, মাছি ও শেষ কয়েকটি প্রজাতির শ্বাসরুদ্ধ প্রজাপতি ও মথ এবং চড়াই, শালিখ, কাক, চিলরাও এই দলে যোগ দিল। কেউ যদি বাদ পড়ে যায় তাদের জন্যেও এই জায়গাটা খোলা থাকল বলে ছেদচিহ্ন দেওয়া হল না

    কারোর মুখের ওপরে দরজা বন্ধ করে দেবার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। কেউ শুনুক বা না শুনুক এর জন্যে চেষ্টা একটা চালাতে হবেই। লেখায়, না-লেখায় – সব জায়গায়, সব সময়। তবেই না আসতে পারবে। আরে বাবা, সব থেকে যার গুমোর সেই গনগনে চুল্লির দরজাকেও খুলতে হয়। ফুরসৎ পেলে এসব ভাবনায় তো ফিরে আসাই যায়।

    সেই রাতেই টালিগঞ্জ ফাঁড়ির বাংলার ঠেকে ঢোকবার গলিতে ছোলাভেজা কেনার সময় ডি. এস.-এর সঙ্গে একজন গাল তোবড়ানো, খোঁচা দাড়ি আধবুড়ো ড্রাইভারের আলাপ হল। ওর বগলে একটা পাঁইট ছিল। পকেটে একটা প্লাস্টিকের গেলাশ। মুখে নেভা বিড়ি। দাঁতে কামড়ানো। ডি. এস. তাকে বগলদাবা করে বাকি দুজনের কাছে নিয়ে এসে বসাল। লোকটা মালে জল মেশায় না।

    – আমি এখানকার রেগুলার খদ্দের। রোজ আসি। একটা পাঁইট খাই। তারপর কেটে পড়ি। কোনো ঝুটঝামেলা নেই। পাঁইট ফুরোবে, আমিও হাওয়া। এক ফোঁটাও বেশি খাব না। কমও খাব না।

    – সব সময় হিসেব ঠিক থাকে?

    – রাখতে হয়। সব শিখেছি কাকে দেখে জানেন। আমার মালিককে দেখে। হেভি ঠাণ্ডা মাথার লোক। আজ অব্দি কোনোদিনও বলবে না, বলাই, দেরি হয়ে যাচ্চে। ঐ গাড়িটাকে ওভারটেক করো। ওকে চাপো। বরং বলবে যার বেশি বাপের বিয়ের তাড়া তাকে রাস্তা দিয়ে দে। সত্যিই বলুন। আপনাকেও যেতে হবে, আমাকেও যেতে হবে। এর মধ্যে গাঁড় মারামারি করে কোনো লাভ আছে?

    – এই কথাটাই তো লোকে বুঝতে চায় না।

    – একেই জানবেন রাস্তা কম। তারপর নিত্যি নতুন গাড়ি বেরুচ্ছে। আনকা ছোঁড়াগুলো স্টিয়ারিং ধরেই ভাবচে কী হনু রে। আরে বাবা, এর নাম কলকাতা। একানে রংবাজি করেচ কি মরেচ।

    পুরন্দর মালের গেলাশে আঙুল ডুবিয়ে একটা পোকা তুলল।

    – ভাগ্যে আপনার গেলাশে পড়েনি। নিট মালে কখন সাইজ হয়ে যেত।

    -সে ওর যা ভাগ্য তাই হবে। সব কপাল।

    – আপনি ভাগ্য-ফাগ্য মানেন?

    – আগে মানতুম না। আমার চার বছরের ছেলেটা, আজকে থাকলে জোয়ান হয়ে যেত, বুঝলেন, ডাক্তারের উল্টো টিটমেন্টে মরে গেল। সেই থেকে মানি।

    -কি হয়েছিল কী?

    – ওর আপনার একটা খিঁচ ধরত বুঝলেন। মিগি টাইপের। আমাদের মাতাতে কী যে ভর করল। পাড়ার ডাক্তার ছেড়ে বড় ডাক্তার দেখাতে গেলাম। ছেলেটা তখন সদ্য হাম থেকে উঠেচে।

    – এখনকার বড় ডাক্তার মানেই হারামি। খালি পয়সা খ্যাঁচার ধান্দা। গরিব ধরো আর বাঁড়া মুরগি বানাও।

    – আমাকে অনেকে তাতিয়েছিল। বলল ডাক্তারের সঙ্গে কেস করতে। আমি বললুম কেস করলে আমরা, গরিবরা, কোনোদিনও পারব? কেউ পেরেচে? উকিল, পুলিশ — সব ওদের হাতের পাঁচ।

    – আর কেসে জিতলে কি ছেলে ফিরে পেতেন?

    – সেই না কতা। ওর ভাগ্যে যা ছিল হয়েচে। কী করা যাবে?

    একটু দূরে একটা ছেলে উবু হয়ে বমি করছে। বমিটা মেঝেতে ঢাল আছে বলে গড়াচ্ছে। বমি টপকে টপকে খদ্দেররা ঢুকছে। বেরোচ্ছে।

    – ঠিক আচে ভাই। দেখা হবে। নামটা মনে রাখবেন। বলাই। আমি কখনো মুখ ভুলি না।

    বলাই চলে যাবার পরে ডি. এস. একটা চারমিনার ধরাল।

    – এই দুককের কতা শুনলে কেমন মুড অফ হয়ে যায়। আমি আর একটা বোতল নিয়ে আসি।

    – আবার বেশি নেশা হয়ে যাবে না তো! তারপর বাসট্রামে লোকে খিস্তি করবে?

    -কে খিস্তি করবে? কোন ল্যাওড়া খিস্তি করবে?

    ডি. এস বেশ জোরেই চেঁচায়। ফলে আশপাশের লোকজন ওকে দেখতে থাকে।

    – কী হচ্ছে কী? লোকজন সব দেখচে। মাল আনবে তো মাল আনো, এর মধ্যে আবার। ফালতু হুপহাপ আমি একদম বরদাস্ত করতে পারি না।

    এইবার ডি. এস বুক পকেট থেকে মাঝে মাঝে দাঁত ভাঙা একটা ময়লা চিরুনি বের করে চুল আঁচড়ে নিতে নিতে টলমল করে দাঁড়ায়। মুখে প্রায় হাসি।

    – খিস্তিটা কাকে করলাম সেটা বলতে পারবে?

    – পারব।

    -কাকে?

    — ঐ বোকাচোদা ডাক্তারকে।

    চাকতির ঘরে তুমুল বোঁ বোঁ-র হট্টিচাল্লি। নানা মাপের চাকতি সারা ঘরে চরকি খাচ্ছে। কয়েকটা ম্যানহোলের সাইজের, তারপর বগিথালা, রেকাবি, সোডার বোতলের ছিপি — ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন গোল মালের আদলে। তাজ্জব ব্যাপার হল এই বিকট বোম্বাচাকের মধ্যে কিন্তু চাকতি-চাকতি কোনো ধাক্কাধাক্কি বা ট্যাকলিং নেই। কেবল যখন তারা ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ করতে করতে খুব কাছে এসে পড়ছে তখন নীলচে ফুলকি উড়ছে। চাকতির ঘুঘুচক্কর এখন যেহেতু বহাল থাকবে অতএব আমরা বরং চাকতির ঘরের সামনে বারান্দায় কী হচ্ছে সেইদিকে ধাবিত হতে পারি। একই দৃশ্যে আবদ্ধ থাকলে চোখে ঝিঁঝি ধরে যেতে পারে এমন বিপদও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    বারান্দায় পঁচিশ পাওয়ারের একটি নোংরা ছাতাপড়া ডুম জ্বলছে বলে সবই কেমন ঘোলাটে ও ছত্রাকাছন্ন। গায়ে একটি আরশোলায় ফুটো করা চিমসে র্যাপার জড়িয়ে ভদি বসে আছে। পাশেই জবার মালা পরা বেচামণি। মালাটি হল জালি। প্লাস্টিকের জবাফুল, মধ্যে মধ্যে জরির জাঁক। ভদির সামনে গোটা পাঁচেক শুডঢা আর শুডঢি থেকে থেকে ভদিকে স্যালুট করছে এবং তাদের ক-হাত পেছনে ধুনুচিতে হাতপাখা মারছে নলেন। ভদি একতরফা তার ভলান্টিয়ারদের ডেঁটে যাচ্ছে।

    – গত বছর পাপনাশিনী মহাদ্বাদশীতে আমি কী বলেছিলুম? কী?

    – আঁজ্ঞে, সময় হলেই মহাচক্রপালা শুরু হবে।

    – আর কী বলেছিলুম?

    যে জবাব দিচ্ছিল সে মশা কামড়ানোর ফলে মাথার জায়গায় পোঁদ চুলকোয়।

    – ঠিক স্মরণে নেই।

    – গাণ্ডু হলে থাকবে কী করে? আমি বলিনি যে, সেইদিন সমাগত প্রায়।

    – আঁজ্ঞে হ্যাঁ।

    – যা বলব নামতা না করতে পারলে বাড়ি গিয়ে লিকে রাখবি। শালা! একটা পদ্য পড়েছিলুম। কেউ বলতে পারবি?

    – আঁজ্ঞে পারব।

    – তো বল।

    সেই শুডঢাটি গলা খাঁকারি দিয়ে রেডি হয় কিন্তু আচমকা বেচামণি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠায় ঘাবড়ে যায়।

    – ও কিছু না। ভর হচ্ছে তো! এরকম হবে! তুই বলে যা।

    – মুন্ডু মারেন উঁকি

    ফিক লো কালো খুকি

    জয় মহাভয় চাকতির জয়

    ধুকপুকি ধুকপুকি

    – বাঃ বাঃ তোর হবে। বলে দিলুম তোর হবে।

    আনন্দলাড়ুর মধ্যে আনন্দবটিকা

    যবন বর্ষশেষ, ঘোর বিভীষিকা।

    কী বুঝলি?

    – আপনার শাস্ত্রকথা, আমরা কী করে বুঝব?

    – বুঝবি। আমাকে বোঝাতে হবে না। পরের ইংরেজি মাসের সাত তারিকে কালীপুজো। ঐদিন দুনিয়া বুঝবে। আর চারদিন পরেই একটু জানান দেবে। নে এবার কেটে পড় তো। একদিকে ভলান্টিয়ার, দিনটা খেল ফ্যাতাড়ু, একন আবার বউ-এর ভর। নকড়াছকড়া করে দিল। নকড়াছকড়া করে দিল। ওরে নলেন। নলেন রে!

    পাঠান, পাঁঠা, পাঠক, পাঠ — এইরকমই হবে। যাইহোক, আনন্দলাড়ুর মধ্যে আনন্দবটিকা মানে যে আনন্দবাজারে যাদুকর আনন্দের বিজ্ঞাপন সেটা ক্লিয়ার হল। যবনবর্ষ মানে ১৯৯৯-এর ২৪ অক্টোবরেই আমাদের বলির পাঁঠাটি ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর নভেম্বর, ডিসেম্বর। ঘোর বিভীষিকা। ২৮ তারিখ যে মুন্ডু-ড্যান্স হয়েছিল তা সকলেই জানে। অতীব সংস্কৃতিবান পাঠক নিশ্চয়ই মুন্ডু-ড্যান্সকে ক্যান্ডি-ড্যান্সের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। ফেললেই বা কী? যাহা ক্যান্ডি তাহাই মুন্ডু। যে কোনো মোমেন্টে বিশৃঙ্খলা বিশালত্ব পেতে পারে। ভদি ভীমনাদে ‘বেচামণে!’ বলে ডেকে উঠতে পারে। এবার দেখা যাক কালীপুজোয় কী হয়। সাহিত্যেও আজকাল বিধিসম্মত সতর্কীকরণ সবিশেষ জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।

    ওপারে যেওনা ভাই ফটিংটিং-এর ভয়

    তারা তিন মিনষে মাথা কাটা, পা-য় কথা কয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য
    Next Article মরণজয়ী – নসীম হিজাযী

    Related Articles

    নবারুণ ভট্টাচার্য

    জার্নালিস্টের জার্নাল – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    হারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }