কাঙাল মালসাট – ৬
৬
গত কিস্তিতে বা আগের অধ্যায়ের শ্বাস ওঠার সময় আমরা পর পর চারলাইনে যে রহস্যময় সংখ্যাগুলি সাজিয়েছিলাম তার প্রথম তিনটি পাতি লাল উড়ন তুবড়ির এবং শেষেরটি ইলেকট্রিক উড়নের ভাগ। আজকাল মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে যে নিরামিষ কালীপুজো চলছে তা এক অকহতব্য নিগ্রহ। বুড়িমা-র চকোলেট, বাচ্চু ক্যাপটেন, সাচ্চু ক্যাপটেন, কালীবোম +পটকা + ধানী কলকাত্তাওয়ালীকে, একেই ন্যাঙটো আরও হতশ্রী করে তুলেছে। উড়ন অবশ্য ৬৫ ডেসিবেলের ক্যাচালের আগেই ব্যানড হয়েছিল। তারও আগে আমরা নিষিদ্ধ হতে দেখেছি চটপটি, ছুঁচো বাজি, লোকের পিঠে মারার ভুঁই পটকা। এখনো গরিবদের পাড়ায় একটি দুটি মুহ্যমান চকোলেট বা আশার আলো চাগিয়ে তোলা উড়ন দেখা যায়। আতশবাজি কোনো নক্সাল চক্রান্ত নয়। বছরে একবার ধুন্ধুমার বাজি পোড়ালে ধোঁয়ায় নানা অপকারী ও উপকারী কীটপতঙ্গ-, যেমন শ্যামাপোকা ও মশা, খতম হয়। গন্ধকের ধূম কিছু হিংস্র জীবাণুকে ত্রাসে আক্রান্ত করে। পরন্তু ঐ একটি দিন বাঙালি যুদ্ধের একটু আঁচ পায়। কিন্তু কিছুই হবার উপায় নেই। যারা ছোটবেলা চাবিকামান দিয়ে হাত পাকিয়েছিল পরে তারা সহজেই পাইপগান ধাতস্থ করে ফেলে। মাইখেকো বাচ্চারা অবধি তুড়ি মেরে ৭২-১১-১১ ভাগে বারুদ বানিয়ে দড়ি বোমা বানাত। এই দিয়ে যার অচেনার ভয় কেটেছে সে তো পরে মলোটভ ককটেল না ঘেঁটে ছাড়বে না। নিদেন পক্ষে পাতি পেটো তো বাঁধবেই। সবাই এখন দাদু নাতি নির্বিশেষে ফুলঝুরি জ্বালাচ্ছে বা অসীম সাহসে বাপের মালের বোতলে বসিয়ে রকেট ছাড়ছে। এই বাঙালি ভবিষ্যতে ল্যাকটোজেন দিয়ে ভাত মেখে খাবে আর যৌবনে বগলে পাউডার দিয়ে সরকারি নন্দন চত্বরে গিয়ে ঝোপেঝাড়ে ঠেক খুঁজবে। অথচ এই বাঙালিই হেভি মারাকু টাইপের ছিল। বাঙালি, স্মরণ করো যে পেলের ব্রেজিলের স্বাধীনতার লড়াইতে কর্নেল সুরেশ বিশ্বাসের অঙ্গুলি হেলনে কামান গর্জন, স্মরণ করো সেই নমস্য বাঙালিদের যাঁরা নেটিভ রাজাদের জন্য মেশিনগান ও কামান বানাতেন। তুমি কি মউজার পিস্তলের গর্জন বিস্মৃত হয়েছ? লুইস গান, দমদম বুলেট, উইনচেষ্টার রিপিটার ইত্যাদি নাম কি তোমাদের হুঙ্কার ছাড়তে প্রলুব্ধ করে না? তবে তুমি মায়ের ভোগে যাও। বহু জাত যেখানে গেছে। যেখান থেকে কেউই ফেরে না কারণ ভিসা পাওয়া যায় না। অবশ্য এতে করে নিজেদের স্পেশাল টাইপের ঢ্যামনা ভাবার কোনো কারণ নেই। আজ যারা বেশি প্যাঁকপ্যাঁক করছে কাল তারাও একই গলতায় যাবে। সেখানে আগে থেকেই ডাইনোসর ও ম্যামথেরা মালা হাতে করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস হল এক ঝকমারি প্রহেলিকা। আগে শুনতাম আরামবাগের গান্ধী। এখন আরামবাগ বললেই বাঙালি জানে যে কেঁদো কেঁদো রাক্ষুসে চিকেনের কথা বলা হচ্ছে। সেই চিকেনের একটি ঠ্যাঙ দেখলেই ভয় করবে। ভাগ্যে তাদের জ্যান্ত দেখা যায় না। তবে হ্যাঁ, বাঙালির ফুড হ্যাবিট খুবই আগুয়ান। সে এখন বাড়িতেই রেঁধে, অবহেলায়, চিকেন মাঞ্চুরিয়ান খায়।
১৯৯৯-এর কালীপুজোয় এবার ‘কাঙাল মালসাট’ ঢুকবে। এটি বেশ বড়ো স্টেশান। জংশন। তার আগে দুটি টিকিয়াপাড়া মার্কা ছোট স্টেশানে গাড়ি না দাঁড়ালেও বলে রাখা দরকার যে :
১) কবি পুরন্দর ভাট অবজ্ঞার গ্লানি আর সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করেছে। ছিটকিনি-টানা বন্ধ ঘরের থেকে বিকট পচা গন্ধ পেয়ে লোকে দরজা ঠেলে দেখে মড়া নয়, মরা ইঁদুর। দেওয়ালে পুরন্দর ভাটের একটি ছবি। মালা পরানো। এবং তলায় সুতো দিয়ে বাঁধা একটি কাগজ যাতে ব্যর্থ কবি পুরন্দর ভাটের ইহজীবনের শেষ কবিতাটি লেখা। লেখাটি দেখলে অবশ্যই জ্ঞানী পাঠকদের এসেনিন ও মায়াকোভস্কির আত্মহননের আগে লেখা শেষ কবিতাগুলির কথা মনে পড়বে। না মনে পড়লেও ক্ষতি নেই। বক্তব্যটি এই প্রকার।
চুতিয়া পৃথিবী
পুরন্দর ভাট
(১৯৪৮-১৯৯৯)
আমার জীবনে নাই কেন কোনো ড্রামা
তাই দিব আমি কার্পাস ক্ষেতে হামা
আমার জীবনে নাই কেন কোনো ড্রিম
টিকটিকি আমি, পোকা খাই, পাড়ি ডিম
আমার মরণে হয় না তো হেডলাইন
প্রাসাদ গাত্রে মুতিয়া ভাঙিব আইন
আমার মরণে কাঁদিবে না কোনো মেনি
লেডি ক্যানিং-এর নাম থেকে লেডিকেনি
এক পা স্বর্গে, এক পা নরকে, ঝোলা
একটি কামান, দুটি কামানের গোলা।
কবিতাটি পড়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় ইস্কুল মাষ্টারের সংলাপ :
— কিছু বুঝলেন?
— মারাত্মক!
— মানে?
— অ্যাসটাউন্ডিং ইমেজ সব। অথচ কোনো রেকগনিশন পায় নি। আমি তো নামই শুনিনি।
— পুরন্দর ভাট? নামটা কী? বেঙ্গলি?
— সে বলা যায় না। বিহার বা উড়িষ্যা বর্ডারেরও হতে পারে। বোধহয় ভট্ট থেকে ভাট হয়েছে।
— বাঃ এই তো একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট পাওয়া গেল। ফ্রম ভট্ট টু ভাট।
— কিন্তু লোকটা গেল কোথায়?
— ওসব পোয়েট ফোয়েট মানুষের কিছু বলা যায় না মশাই। হয়ত গঙ্গায় ডাইভ দিয়েছে। এতক্ষণে স্যান্ডহেড।
— অসামান্য। কবিতাটি আমি টুকে নেব?
— নিন। বুঝতে পারছি কেসটা সুইসাইড। কিন্তু কনফার্মড না হওয়াতক আমাদের লিখতে হবে ‘মিসিং’।
— বডি পাওয়ার পরে?
— চুকে গেল। ফাইল ক্লোজড।
২) গোড়ার দিক থেকে যারা এই আখ্যানটি স্টাডি করছেন তাঁরা নিশ্চয়ই ভালুকের হাতে নিহত উপেক্ষিত ঔপন্যাসিক মিঃবি.কে. দাসের কথা ভুলে যাননি। তিনি তাঁর ডায়রিতে (যা পরে ইঁদুরে খেয়ে নেয়) লিখেছিলেন :
আমি বড় সাহিত্যিক তাই মাই জব ইজ পাঠককে বানানো ও পরে জবাই করা। মাই পেন ইজ আ নাইফ, ইফ নট আ সোর্ড। ছোটখাটো যে সব ট্র্যাশ অথরস আছে তারা রিডারদের মশা বানায় এবং পরে সেই মশার কামড়েই ম্যালেরিয়া হয়ে মরে। আমি অনলি দুইটা নভেল লিখিয়াছি। আর ইহাদের ওটি পেন না পেনিস কে বলিবে? কেবল পয়দা করিতেছে। গড আমার সহায়। এখন ডেভিল যদি একটু মায়ালু হন তো আই ক্যান শেক দা ওয়ার্ল্ড।
পাঠককে মুরগি বা মশা বলে মিঃ বি.কে.দাস যে ভালো করেননি তা কে না জানে। আসামের জঙ্গলে আচমকা ধৃত ভালুক শিশুর ক্রন্দন, ধেড়ে ভালুকদের ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ আস্ফালন, মিঃ বি.কে.দাস-এর অন্তিম গোঁ গোঁ আর্তনাদ, ভীত বাঁদরদের চ্যাঁ চ্যাঁ চিৎকার — এই ট্রাজেডি ‘হেকটর বধ’ হইতে কোনো অংশে কম যায় না।
অরিজিন্যাল টালিগঞ্জ থানার অবস্থা এখন প্রাক্তন যুগোশ্লাভিয়ার মতো। মাফিয়া, ছেনতাইবাজ, হেরোইন পেডলার, সাট্টাবাজ, চামড়াচোর (মানে রেপ-এর আসামী, স্মাগলার এবং নতুন গজিয়ে ওঠা লালু ক্রিমিনালদের সঙ্গে রাউডিদের সংখ্যা এমনই কোয়ান্টাম ধাক্কায় বেড়ে চলেছে যে সেসব সামলানো এক থানার কম্মো নয়। ফলে টালিগঞ্জ থানা ভেঙে দু টুকরো করা হয়েছে। কিন্তু শ্মশান সেই টালিগঞ্জ থানারই আওতায়। বেলগ্রেড যেমন অবশিষ্ট এক ফালি যুগোশ্লাভিয়াতেই থেকে গেছে। তা হলেও, পুরনো হাতি বলে কথা।
৭নভেম্বর, ১৯৯৯, মা কালীর পূজা। সকাল থেকে নীরবে নিরুপদ্রবেই কাটছিল সিভিল সোসাইটির কালীপুজো। মালের দোকান বন্ধ। প্রত্যেকবারই থাকে। তাতে কার কী ছেঁড়া যায়, কেউ জানে না। কারণ আগের দিন দোকানে দু-তিন মাইল লাইন পড়ে। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল। এশীয় বর্বরতার চিহ্নমাত্র নেই। উপরন্তু পরিশ্রমী ব্ল্যাকাররা বস্তা বস্তা মাল নিয়ে গিয়ে স্পেশাল স্টক করে। কলিকাতার কালীপুজোর আগেকার রূপটি আমরা যেমন রসঘনভাবে প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর ‘কালীপুজোর রাত’-এ পাই যে তারপর আর কোন পাঁচুকেই ভাবা যায় না। সবই প্রায় আলগা ঠাসা বসন তুবড়ি যা থেকে থেকে ভ্যাঁস ভ্যাঁস করে এবং অচিরেই নিঃশেষিত তামাশায় পর্যবসিত হয়। কলির কলকাতায় হালফিল সাহিত্য ও বাজি বানানো মোটের ওপর একই চেহারা নিয়েছে। সোরা, গন্ধক, কাঠকয়লা বাদেও কতই না পদার্থের যোগান পড়িত। তখন অবোধ শিশুরাও বলিয়া দিত লাল তারা চাহিলে ভূষা কালি ও গন্ধক ছাড়াও পটাস ক্লোরস ও শুকনা নাইট্রেট অফ স্ট্রান্সিরা লাগিবে। এমনই একটি জায়েন্ট লাল তারা ক্রেমলিনের উপরে জ্বলিত। সবুজ তারা চাও? নাইট্রেট অফ ব্যারাইট ও হরিতাল যোগাড় করো। নীল তারা না হইলে মন ভরিতেছে না? কিন্তু ভাই, নিদেনপক্ষে দুই ভরি কাশ্মিরী জাঙ্গাল তো লাগিবেই। অবাক কাণ্ড যে বাজি-বোম ইত্যাদির সঙ্গে কাশ্মীরের যোগ সূত্র কী প্রাচীন! ফুলের মালা, বাতাসা, মতিয়া, লাট্টু, আনারসী, চন্দ্রমল্লিকা, দায়ুদী, হাজরা, গাঁদা, যুঁই, নসরিন — এ সবই নানা ধাঁচের তুবড়ির ডাক নাম। হায়! হায়! তখন দাদুগণ বলিত, ‘বোমা? এতো ছেলেখেলা। নারিকেলের ছোট খোলে ছিদ্র করিয়া বন্দুকের দানা-বারুদ পুরিবে এবং ঐ ছিদ্রে লম্বা পলিতা দিয়া খোলের চর্তুদিকে উত্তমরূপে পাট জড়াইবে। এই বাজি পুষ্করিণীতে ফেলা ভালো। স্থলে পোড়াইলে বিপজ্জনক হইতে পারে।’ আজ বাঙালি এইসব শুনিলে ভ্যাবাচ্যাকা মারিয়া যায়। বাঙালি যে কেবল বোম দিয়া সাহেব বা স্বজাতি মারিত এমনই নয়। দেশ স্বাধীন হইবার পর একটি ভারতীয় সেনা অভিযাত্রী দল পিন্ডারি গ্লেসিয়ারে যায়। সেই দলে ছিলেন ক্যাপটেন শ্রী হেমেন্দ্র চন্দ্র কর, এম-এ। তিনি লিখিয়াছেন — ‘আমাদের রাস্তার পাশেই সরযূ নদী। পথ চলিতে চলিতে আমাদের হঠাৎ মাছ ধরিবার সখ হইল। সময় অল্প। তাই এক অভিনব উপায় অবলম্বন করা গেল। একটা গ্রেনেড (হাত বোমা) জলে ছুড়িয়া ফেলা গেল। অমনি জলের মধ্যে একটা তীব্র আলোড়ন শুরু হইল এবং ছোট বড় প্রচুর মাছ জলের উপর ভাসিয়া উঠিল। মাছগুলি সংগ্রহ করিলাম।’ সেই বাঙালি আজ ত্রস্ত বেড়ালের মতো, ভীত মার্জারের ন্যায় মাছের বাজারে চক্কর মারে ও ম্যাও ম্যাও করিয়া ক্রন্দন করে। বাঙালির লোম পড়িতেছে, লেজ ভিজা ও গোঁফ যা আছে তাহাতে তা-দেওয়া সম্ভব নয়।
সাড়ে সাতটা, পৌনে আটটা — দুটোর একটা হবে — থানার ঘোড়েল ইনফর্মার গগন চুড়ান্ত উত্তেজিত হয়ে টাকলা ও. সি.-র ঘরে ঢুকে পড়ে। মুখে অল্প রামের গন্ধ। হাতে স্তম্ভিত বিড়ি।
-স্যার! স্যার! ওফ ল অ্যান্ড অর্ডারের একেবারে গাঁড় মেরে দিয়েচে স্যার। আপনি ফোর্স নিয়ে না গেলে বানচোৎদের ট্যাকল করা যাবে না।
টাকলা ও. সি. ঘপ করে টুপিটা পরে নিল।
— কোথায়? কোন শালা?
— ওফ শ্মশান পেরোলেই দেখবেন। আদ্যিকালে এপারে ওপারে উড়নের ফাইট হতো। হাজারে হাজারে, মানে অত না হলেও অন্তত শয়ে শয়ে উড়ন ছুটছে। সে কি খিস্তি আর খিল্লি। মাদি, মদ্দা সব লাফাচ্ছে আর ডিং মেরে মেরে চিল্লোচ্চে।
— উড়ন? ইউ মিন উড়ন তুবড়ি। মালটা তো ব্যানড। পাচ্চে কোত্থেকে?
— আপনি মাইরি বড় আলফাল বকেন। ব্যানড। গিয়ে দেখবেন চলুন ঐ বালের ব্যানড কেউ মানছে না। ওপারে জেলেপাড়া ন নম্বর বস্তির সব মাল। এপারে কালীঘাটের যত ক্যাওড়া। সেইসঙ্গে বোম যা ফাটছে। একেবারে ফ্রন্ট বলে মনে হবে স্যার।
— এই। এই, কী যেন নাম তোমার। গাড়ি বের করতে বল তো। আমার জিপ যাবে। সঙ্গে … ফোর্স নেব?
— আগে আপনি দেখুন। গাদাগাদা লোক। হ্যাজাক জ্বেলে নানা দলও আসছে। কেমন যেন ঠেকচে। গায়ে তেল, হাতে কানচাপা লাঠি। ঠিক বুঝতে পারছি না কেসটা। আচ্ছা স্যার, বামফ্রন্ট গওরমেন্ট ফলটল করেনি তো?
— কি যে বকো না তুমি। কথার একটা ছিরিছাঁদ নেই। মালটাল পেঁদিয়ে কি দেখতে কি দেখেছ।
টালিগঞ্জ থানা থেকে জিপটি বেরিয়ে রাসবিহারীর দিকে ঘুরেই বাঁ দিকের গলতা ফুটো করে ঢুকে গেল। টাকলা ও. সি. খোঁচর বা কনস্টেবল কেউই জানল না যে ওপরে কালো জোব্বা পরে মদন ও ডি. এস উড়ে উড়ে ফলো করছে। ডি. এস ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদছে।
— শালা পুরন্দরের বাচ্চা। সুইসাইড করে কালীপুজোটা একেবারে ঝুলিয়ে দিল। কত কী ভেবে বাংলা-র স্টক করলাম। আর … আমি কিন্তু ভেতর থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। সুইসাইড অথচ আমরা টের পেলুম না?
— আমার বাবা না আঁচালে বিশ্বাস নেই। ব্যর্থ কবি। সুইসাইড করতেই পারে। করবি তো বাবা বেগন ফেগন কিছু চোঁ চাঁ মেরে দে। তা না, লাশের কোনো পাত্তা নেই। কি জানি, মাথায় ঢুকচে না।
— অপঘাতে মৃত্যু! আবার ভূতফুৎ যদি হয়ে যায় তো বিপদ। কম খচিয়েচি ওকে? এখন বাদ দাও। নীচে দেখ। উরিঃ শালা। একসঙ্গে কতগুলো উড়ন ছাড়চে দেখেচ?
— এঁদো গঙ্গায় রিফ্লেকশন হয়ে আরো বেশি দেখাচ্ছে। বোম কালী।
ডি. এস. এবং মদনের চেয়ে অনেক হায়ার অল্টিচুডে গোয়েন্দা উপগ্রহের মত উড়ছিল বিকট সেই ভদির বাবা দাঁড়কাক। এবং সেও একা ছিল না।
— ডি. এস, আমাদের ভদিদা বলেচে ছাদে বসে সবটা ওয়াচ করতে। কিন্তু সব ছাদে তো লোক!
— বরং আমরা ঐ ঘোড়ানিম গাছটায় গিয়ে বসি। ওখান থেকে বিস্তর দূর অব্দি দেখা যাবে।
— প্ল্যানটা মন্দ বাতলাওনি। এদিকটাও ক্লিয়ার। ওপরটাও। এদিক ওদিক দুদিক দেখে চুমুক মারো দুধের বাটি!
টাকলা ও. সি জিপ থেকে নামতেই অভ্যর্থনা জানাতে যারা দল বেঁধে এগিয়ে আসে তাদের হেডলাইটে দেখে ফিসফিস করে ইনফর্মার বলে,
— এদের ঘাঁটাবেন না স্যার।
— কেন! আর্মড?
— না স্যার, এরা কেউ মানুষ নয়। ভূত। এরা শ্মশানের রংবাজ ছিল। কবে মরে গেচে।
— বল কি ভায়া?
— হ্যাঁ নক্সাল আমলে অনেকে রিটায়ার্ড।
— আসুন স্যার! আসুন! সব কিছু একেবারে শান্তিতে চলছে। কোনো ঝুট ঝামেলা নেই।
ইনফর্মার কানে কানে বলে চলে,
— ওদের পেছনে সব বেপাড়ার মস্তান। আজ ওদের গেস্ট। জগা, ভানু, মংলা, ভুতনি, টালি, লন্ডন আর আর ঐ লম্বা কাবলেটা কে জানেন?
টাকলা ও.সি বেজায় ভয় পেয়ে গেছে।
— ও হল স্যার মিনা পেশোয়ারি। দাঙ্গার সময়ে মার্ডার হয়েছিল।
মাটি কাঁপিয়ে চকোলেট ও দোদমা ফাটে। একটা বড় হাউই আকাশে উঠে গিয়ে বুম করে ফেটে নেতাজির মুখ হয়ে গেল।
— এসব বাজি আর দেখবেন না স্যার। চিনা বাজারে অর্ডার দিতে হয়। আসুন স্যার।
এর মধ্যেই কাচের গাড়ি করে একটা বডি এল। ও. সি ঘামছে।
— মড়াটাও ভূত নাকি?
— হতে পারে স্যার। সবই হতে পারে। আপনি কোনো ট্যাঁ ফুঁ করবেন না।
— পাগল নাকি! খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আমার!
গঙ্গার দুপাড়ে বস্তা বস্তা উড়ন। এপার ওপার চার্জ হচ্ছে। একদিক থেকে অ্যাটাক কমে গেলেই উল্টোদিক থেকে বহুস্বরে ‘দুয়ো! দুয়ো!’ রব উঠছে। উড়ন কখনো ছোঁড়ার দৌলতে ব্যাংবাজির মত জলে বাউন্স করে ওপারে ধাওয়া করছে। মাঝে মধ্যে একটা আধটা পটাশ বা ইলেকট্রিক ঝাড়ের উড়ন, রাতকে দিন করে দিচ্ছে। সেই শৈল্পিক আভায় দীন ও আনন্দময় ভূতগুলিকে স্পষ্টতর দেখায়। বেশির ভাগই খালি গা ও গামছা পরা। এদেরই বাড়ির মেয়ে ভূতেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে মশলা ঝেড়েছে, গুঁড়িয়েছে, ছেঁকেছে, রোদে দিয়েছে। ভূত শিশুরা লাল উড়নের ‘সিটি’ খোল ও ইলেকট্রিক উড়নের ‘মতিয়া’ খোলগুলো ছোট ছোট আঙুলে মশলা দিয়ে ভরেছে যদিও ঠাসার কাজটা সিনিয়ার ভূতদের সাহায্য ছাড়া হয় না। অবশ্য কলকাতার লোকেদের এটা জানা দরকার যে কালীপূজোর পরদিন ভোরে যে শীর্ণ শিশুরা আধপোড়া বা নিভে যাওয়া বাজি কুড়োতে বেরোয় তারা ভূত নয় বরং ছোট সাইজের জ্যান্ত মানুষ। ছেঁড়া প্যান্ট দিয়ে নুনু বা পোঁদ দেখা গেলেও তারা লজ্জা পায় না। ঐ আধা-ন্যাংটো হাড় জিরজিরে শিশুদের প্রতি ‘কাঙাল মালসাট’ এর উপহার।
সোরা গন্ধক কয়লা
১০ ৩।। ৩।
১০ ২ ৪
১৮ ৩ ৩
১৬ ২।। ২
১৫ ২ ২
১৫ ২ ৩
ওপরের এই ভাগগুলো হল বন্দুকের বারুদের। এ বিষয়ে আর যা যা করণীয় তা ঠিক সাহিত্যের আওতায় পড়ে না।
হ্যাজাকের আলোয় লাঠির বোঁ বোঁ ঘুরণ ও ঠকাঠক সংঘর্ষ। তৎসহ লেঠেলদের লম্ভ ঝম্প ও সিংহনাদ।
টাকলা ও. সি.র কানে এবার অদৃশ্য ভৌতিক রেডিও বাজতে থাকে — ‘এরা হচ্ছে সব বাঙালি লাঠিয়াল — নানা আখড়ায় এরা শিক্ষা পেয়েছে। যোগীন্দ্র চন্দ্র, হরিমোহন, কৃষ্ণলাল, নারায়ণচন্দ্র, মতিলাল আর প্রিয়লাল বসুর আখড়াগুলোই আদি। ঐ যারা পাখসাট মারতে মারতে আসছে ওরা সব নতুন নতুন আখড়ায় শিখেছে। নুটুবিহারী দাস, গোপাল চন্দ্র প্রামাণিক, পাপড়ি আব্দুল, ডেঙো খলিফা, পচা খলিফা — কত নতুন নতুন আখড়া। ঐ, ঐ তো প্রফেসার এন. সি. বসাক। ওঁর বুকের উপরে ১০২৬ পাউন্ডের একটা পাথর রেখে লোহার হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হয়। ঐ মহিলা হলেন টুকুরানি — বারবেল তোলায় ওস্তাদ, তিরিশটা লোক বসা গরুর গাড়ি বুকের উপরে চালায়।’ একটি চকোলেট বোমা এসে টাকলা ও. সির পায়ের কাছে ফাটে ফলে ও.সি তিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে।
— ঘাবড়াবেন না স্যার। ছেলে ছোকরার কান্ড। পুজোগন্ডার দিন বলে কতা, আসুন, আমাদের রাঙ্গাজবা কম্পিটিশনটা একটু দেখে যান। সবে শুরু হয়েচে।
— রাঙাজবা কম্পিটিশন, মানে? কালীপুজোয় আবার ফুলেরও কম্পিটিশন বাঃ বাঃ।
এবারে ইনফর্মার গগন অ্যাকটিভ হয়। এবং তার ব্যাখ্যার সঙ্গে হাসিমুখে মাথা নেড়ে সায় দেয় আদি কলকাতার গুন্ডারা।
— না, না, এটা ফুলের ব্যাপার নয়। বলচি। একটা বড় ড্রাম থাকে। বুঝলেন। বড়, গোল, কালো ড্রাম। ওতে যে যা মাল আনবে সব ঢালা হয়।
— ককটেল?
— শুনুন না। ককটেলের বাবা। স্কচ, বাংলা, চোলাই, ব্র্যান্ডি, রাম, ভদকা, জিন, ওয়াইন — সব এক জায়গায়। ভরে গেলে একটা রবারের টিউব ডুবিয়ে দেওয়া হয়। একটা স্কেল লাগানো থাকে। তার গায়ে আলতো করে ঠেকিয়ে একটা রাঙা জবা ভাসানো থাকে।
— তারপর?
— এবার ঐ রবারের টিউব দিয়ে একবারে টেনে রাঙাজবা কে বেশি নামাতে পারে সেটা স্কেলে মাপা হয়। এবারে বুঝলেন?
— বুঝলাম।
— অবশ্য ফার্স্ট, সেকেন্ড, লাস্ট সব ওখানেই গড়াগড়ি যায়। অতরকম মালের মিশেল । বুঝতেই পারচেন। আমি কখনো টেস্ট করিনি তবে শুনেচি হেভি ধক। তাবড়, তাবড় মালখোরকেও ঝট করে ফেলে দেবে।
— চলুন স্যার। একটু না হয় প্রসাদ করে দেবেন। শ্মশানকালী বলে কতা!
— না, না, আমি ওসব খাই টাই না। আপনারা কমপিট করুন। আমি না হয় হাততালি দেব।
— সেকি হয়। আপনি না হয় স্যার আলাদা করে একটু হুইস্কি খান। জাহাজী মাল। এখনো ক্রেট খোলা হয়নি। আর সেই সঙ্গে একটু কষা মাংস। না বললে শুনব না স্যার। আগে স্যার কত মান্যগন্য লোক আসতেন। ওঃ কী যুগ ছিল। গোপালদা এলে তো মেয়েরা উলু দিত।
— গোপালদা, মানে?
— গোপাল পাঁঠার নাম শোনেননি স্যার? তারপর আপনার গিয়ে রাম চাটুজ্জ্যে!
— আরে, শুনব না কেন। কে না শুনেছে? কী গগন, তুমি কী বলো? এনারা এত করে বলচেন।
— তা তো বটেই! তা তো বটেই!
— তাহলে দুপাত্তর টেনে ব্যাক করা যাক। রিফিউজ করলে খারাপ দেখাবে।
— কারেক্ট ডিসিশনটা নিয়েচেন স্যার। ওনলি দুপাত্তর। আপনি যান স্যার। আমরা বরং এখেনে অপেক্ষা করি।
— সেও কি হয়? মায়ের পূজোয় আপনারা সব স্যারের সঙ্গে এসেচেন। সবাই হলেন অতিথি।
থানায় যখন জিপ ফিরল তখন রাত সাড়ে এগারোটা। সকলেই বেশ টম্বুর।
— তাহলে গগন, শেষে ভূতের হাতে মাল খাইয়ে ছাড়লে। কুঁক। মাংসটায় বড় ঝাল দিয়ে ফেলেচে। কুঁক। ভেরি হট!
— তবে মালটা কিন্তু সলিড।
— লেবেলটা পড়েছিলে? কুঁক।
— হ্যাঁ স্যার। হোয়াইট অ্যান্ড ম্যাকে।
— এসব যে সে মাল নয় বুঝলে? আসলি স্কচ। এক একটা ঝরনার জল এক একটা কোম্পানির হুইস্কিতে, বুঝলে? স্কটল্যান্ড! স্কচ! আরে দুর, নামটা গুলিয়ে গেল।
— হোয়াইট অ্যান্ড ম্যাকে স্যার।
— থ্যাংক ইউ। কুঁক। কত ভালো ভূত বলো তো। মাল খাইয়ে কী আপ্যায়ন। অথচ ইচ্ছে করলেই ক্যালাতে পারত। কারো বাপ ছিল না বাঁচায়।
— ঠিক বলেচেন স্যার।
— তবে ভূতের হাতে মাল খাওয়ার কেসটা না জানাজানি হলেই ভালো, বুঝলে? বদনাম হয়ে যাবে।
— আমি তো এই খিল বন্ধ করলুম কিন্তু ঐ শালারা … মানে কনস্টেবল …
— ধ্যুৎ, এমনিতেই বুদ্ধি কম। তা না হলে দুনিয়ায় এত কাজ থাকতে কনস্টেবল হয়? যে রেটে মাল পেঁদিয়েচে তাতে কাল কিস্যু মনে থাকবে না। কুঁক।
— স্যার, একটা কতা বলব।
— কী কতা?
— কেমন স্যার ভয় ভয় করচে।
— মা কালীর নাম করে লেটে যাও। আমরা তো আর ভূতের হাট বসাইনি। কুঁক।
সবারই অলক্ষ্যে বড়িলাল একটা রকে বসে একটা একটা করে মুড়ি-লজেন্স খাচ্ছিল। এবার সে বাড়ির দিকে পা বাড়াল। ডি. এস আর মদন হঠাৎ দেখল সব ভোঁ ভাঁ। জিপ যেই গেল অমনি ফুশ করে সব ভ্যানিশ! টিকে পচা, কেলে পচা, লেঠেল, প্রোফেসার বসাক সব হাওয়া। আকাশে যুদ্ধ বিমানের শব্দ। দুজনেই ওপরে তাকাল। গোটা চারেক আলোকিত চাকতি উড়তে উড়তে খেলা করছে। এই চাকতিরই বাহারী নাম ইউ. এফ. ও. বা আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট।
ভদি বারান্দায় বসেছিল। ডি. এস আর মদন উঠোনে নেমে মরা ডুম আলোয় ঝিম মারা বারান্দায় উঠল। নলেন স্ট্র দিয়ে চুক চুক করে ফ্রুটি খাচ্ছে। ভদি মাল সাজিয়ে বসেছে। পাশে বেচামণি গুটিসুটি মেরে ঘুমোচ্ছে। উঠোনে একটি বেড়াল বসে।
— কেমন জমেছিল?
— জব্বর। টাকলা ও. সি পুরো ধাঁ হয়ে গেছে।
— হুঁ হুঁ বাবা। বুঝবে। ধীরে ধীরে বুঝবে। এই মালটা কী জানো?
— ফরেন!
— না। এটা হল গোয়ার ফেনি। আজই হাতে এল।
ভদি ঢালে। হঠাৎ বেড়ালটা দুদ্দাড় করে পালায় কারণ বিশাল দাঁড়কাক নেমে আসে।
— আমার জন্যেও ঢাল। বাটিতে।
ভদি নলেনকে বলে,
— যা, বাবার বাটিটা নিয়ে আয়। আপনার ডানার বাত কেমন আছে বাবা? তেলটাতে কাজ হল?
— বাল হয়েচে। যেমন হারামি তুই তেমন তোর তেল। আর একটা গেলাসেও ঢাল।
— কে আসবেন বাবা?
— আসবেন টাসবেন না। এসে ওপরে ঘাপটি মেরে বসে আচে! ওরে। ঢের হয়েচে। এবার নেমে আয়।
হুস করে যে নেমে আসে তার নাম কবি পুরন্দর ভাট। মুখে একগাল হাসি। ডি. এস ভয় পেয়ে মদনকে জাপটে ধরে।
— তিন মাসের ভাড়া বাকি পড়েছিল। সুইসাইড নোট দিয়ে কেটে পড়লাম। এবারে বুঝুক শালারা। আমার হল এই টেকনিক। কয়েকদিন এক ঠেকে কাটাও। তারপর সুইসাইড নোট ঠেকিয়ে দিয়ে কেটে পড়।
— কিন্তু পুলিশ তো ছাড়বে না। ধরলে ফ্রড কেসে ফেলে দেবে।
— ছিঁচকে চোর ধরতে গেলে যাদের লাল সুতো বেরিয়ে পড়ে তারা ধরবে আমাকে? আই অ্যাম পোয়েট পুরন্দর ভাট। এই জানবে। ভদিদা তোমাকে আমি আগেই সবটা বলে রেখেছিলুম।
— হ্যাঁ, আমি কেসটা জানতাম।
বেচামণি হঠাৎ ঘুমের মধ্যে কথা বলতে শুরু করে।
— ওঁ নমঃ কট বিকট ঘোররূপিনী স্বাহা
ওঁ বক্র কিরণে শিরে রক্ষ ভয়ে মায়া
হ্যা মৃতা স্বাহা
ওঁ সর্ব্বলোক বশঙ্করায় কুরু কুরু স্বাহা
দাঁড়কাক ডানা ঝাপটে ঝাপটে বৌমাকে হাওয়া করে।
ভদি রাগি মুখ করে ঘপ করে এক গেলাস মেরে দেয়।
— মাগীর গলায় একদিন পা তুলে দেব। এই বলে দিলাম। নয়তো শাবলের এক বাড়িতে মাথা ফাঁক।
ডানার হাওয়া পেয়ে আনন্দিত বেচামণি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। ঘুমের মধ্যেই। ভদির বাবা খচে যায়। খ্যাঁচম্যাঁচ করে নখ ঠোঁট নাড়ে। চোখদুটো টর্চের মতো।
— ফের বৌমার নামে একটা কথা বললে কিন্তু আমি আর চুপ করে থাকব না। অন্যায় করবি আবার চোপাও চালাবি! নলেন বানচোৎ সব জানে। জেনে চোদনা সেজে থাকে। দেব, দেব ফ্যাতাড়ুদের সামনে হাটে হাঁড়ি ভেঙে?
— বাবা! আপনি পরিবারের হেড। দাঁড়কাক হলেও। আপনি সব ফ্যামিলি সিক্রেট ফাঁস করে দেবেন?
— বেশি তেড়ি বেড়ি করলেই দেব।
হঠাৎ নলেন চেঁচিয়ে ওঠে,
— ঐ দ্যাখো!
বেচামণিও ঘুম থেকে ধড়মড়িয়ে ওঠে।
— কী হয়েচে? বলবে তো?
কেউই জবাব দেয় না। সবাই যেদিকে তাকিয়ে বেচামণিও সেইদিকে দেখতে থাকে।
হাউইটি উঠে অনেক ওপরে গেল। তারপর ফুটফাট ভুটভাট করে ফাটতে ফাটতে একটা লালচে কাস্তে হাতুড়ির চেহারা নিল। তারপর ধীরে ধীরে নামতে লাগল।
