Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কামিনী কাঞ্চন – কাসেম বিন আবুবাকার

    কাসেম বিন আবুবাকার এক পাতা গল্প124 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কামিনী কাঞ্চন – ২

    ২

    নাহিদা বিরক্ত গলায় বলল, চাপাবাজি মারার আর জায়গা পেলি না। এ যেন রূপকথার রাজপুত্র, কোনো দোষই নেই। এতবেশি ভালো বিশ্বাস হয় না। মানুষ মাত্রেই দোষ-গুণ থাকবে। তারপর বলল, গুণের কথা তো অনেক বললি, দেখতে কেমন তা তো বললি না। তোর যা রূপ, যেমন তেমন ছেলেকে তো তুই পছন্দ করবি না। মনে হয় রূপকথার রাজপুত্রের মতো নিশ্চয় সুন্দর? আর তা না হলে তোর কপালে দুঃখ আছে।

    শর্মিলা বলল, দুঃখের পালা শেষ হয়েছে। এবার সুখের পালা। তোর অনুমান ঠিক; তবে একেবারে রূপকথার রাজপুত্রের মতো দেখতে না হলেও প্রায় কাছাকাছি। ওকে দেখলে তোর মাথা ঘুরে যাবে। যা দারুণ দেখতে না, তোকে সে কথা ভাষায় বলতে পারব না। ওকে দেখার জন্য মন খুব উতলা হয়ে উঠেছে। মনে হয় এক্ষুনি তার কাছে ছুটে যাই। ওর জন্যে আমি সব করতে পারি। এমনকি প্রয়োজনে প্রাণও দিতে পারি। তুই তো জানিস, শর্মিলার সঙ্গে একটু আলাপ করার জন্য কত ছেলে পাগলের মতো পিছনে পিছনে ঘুরঘুর করত। এখন সেই শর্মিলা এমন একজনকে পেয়েছে যে, সে নিজেই তার পিছনে ঘুরঘুর করার জন্য পাগল হয়ে রয়েছে। তারপর বুকের জামার ভেতর থেকে একটা প্লাসটিকের খাম বের করে তার হাতে দিয়ে বলল, মাথা ঠিক রাখবি কিন্তু।

    নাহিদা খাম থেকে ছবিটা বের করে দেখেই চমকে উঠল। মনে হলো, তার হার্টবিট বুঝি বন্ধ হয়ে গেল। নাহিদ হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা সাঁতারের ড্রেস পরে সুইমিং পুলের উপর দু’হাত কোমরে রেখে ঝাঁপ দেবার আগেই ফটোটা তোলা হয়েছে। তার সুঠাম ও বলিষ্ঠ শরীরের দিকে চেয়ে নাহিদা নিশ্বাস নিতে ভুলে গেল। সে নাহিদের এত গুণের কথা জানত না। আরও জানত না, এমন সাদাসিধে ক্যাবলাকান্ত ঢিলে-ঢোলা প্যান্ট ও ঝোলা পাঞ্জাবি পরা পুরুষটার মধ্যে এরকম একটা চমৎকার শরীর লুকিয়ে থাকতে পারে। লোমে ভর্তি চওড়া বুক, সুগঠিত হাত পা, মরালের মতো গ্রীবা, যা দেখলে যে কোনো নারী প্রলুব্ধ না হয়ে পারবে না। সব মেয়েরাই এ রকম পুরুষ কামনা করে। তাই নাহিদাও নাহিদের শারীরিক সৌন্দর্য দেখে বাস্তব জ্ঞান হারিয়ে ফেলল, বারান্দায় কলিং বেলের শব্দে হুঁশ হতে আস্তে আস্তে শর্মিলার মুখের দিকে তাকাল।

    শর্মিলা বলল, খুব অবাক হয়েছিস না? ও একজন দক্ষ সাঁতারুও। ভাইয়ার কাছে শুনেছি, গত বছর সাফ গেমসে সাঁতারে দু’টো স্বর্ণপদক পেয়েছে।

    নাহিদার তখন কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে গোসল করার ঘটনা মনে পড়ল-খালাতো ভাইবোনদের সঙ্গে গোসল করার সময় নাহিদা যখন নাহিদকেও গোসল করতে বলল, তখন নাহিদ বলেছিল, গোসলের সময় সাঁতার না কাটলে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। নাহিদা বলল, সাঁতার কাটতে আপনাকে কে নিষেধ করছে? নাহিদ মৃদু হেসে বলেছিল, সাঁতারের ড্রেস আনতে ভুলে গেছি। ড্রেস ছাড়া আমি কখনো সমুদ্রে সাঁতার কাটি নি। সাঁতার কাটতে কাটতে সমুদ্রের ভিতর এক দেড় কিলোমিটার না গেলে তাকে সাঁতার বলে না। তার কথা শুনে নাহিদা বিদ্রুপের হাসি হেসে বলেছিল, ঐরকম সাঁতারুরা কোনোদিন ড্রেস নিতে ভুল করে না। নাহিদ তখন মুখের অবস্থা এমন করেছিল, যেন সত্যি সত্যিই সে বিদ্রুপের পাত্র।

    এখন শর্মিলার কথা শুনে ও নাহিদকে সাঁতারের পোশাকে দেখে বিশ্বাস হলো, সেদিন নাহিদ সত্যি কথাই বলেছিল। অথচ বিদ্রূপটা কেমন সহজে মেনে নিয়ে তা চেহারার মধ্যে প্রকাশ করেছিল। সেকথা মনে করে নাহিদা নিজের কাছে নিজে খুব ছোট হয়ে গেল।

    শর্মিলা তাকে এতক্ষণ ধরে ছবির দিকে চেয়ে থাকতে দেখে খুশি হলো। বলল, কিরে, ছবি দেখে কি মনে হচ্ছে, মানুষটার মধ্যে এত গুণ থাকতে পারে?

    নাহিদা বলল, সব বিশ্বাস না হলেও কিছু কিছু হচ্ছে। তারপর শর্মিলা যাতে তার মনের অবস্থা বুঝতে না পারে, সেইরকম ভাব প্রকাশ করে বলল, এমন একটা সাধারণ ছেলের মধ্যে ভালো লাগার মতো কী আছে, যা দেখে তুই এত পাগল হলি? তুই বললি ছবি দেখে আমার মাথা ঘুরে যাবে। কিন্তু মাথা ঘোরা তো দূরের কথা, এতক্ষণ ধরে দেখেও আমি আকর্ষণীয় কিছু খুঁজে পেলাম না। তবে যে সব মেয়েরা শরীর ছাড়া কিছুই বোঝে না, সে সব মেয়েরা অবশ্য একে পেতে চাইবে। ভাবতে খুব অবাক লাগছে, তোর মতো মেয়ে এরকম একটা ছবি বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস।

    শর্মিলা হাসি চেপে রেখে বুকের জামার ভিতর থেকে আর একটা প্লাস্টিকের খাম বের করে নাহিদার হাতে দেবার সময় বলল, তুই যে শরীরের চাওয়া পাওয়ার কথা বললি, তা অস্বীকার করব না। তবে একটা কথা বোধহয় তোর জানা নেই, কোনো শিক্ষিত ছেলেমেয়েই শুধু শরীরের চাওয়া পাওয়ার জন্য একে অপরকে ভালোবাসে না। যদিও শরীরের চাহিদা ও ভালোবাসা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তবুও তাদের মধ্যে তফাত অনেক। শরীরের চাহিদা আর ভালোবাসা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।

    নাহিদা দ্বিতীয় ছবিটা দেখে আরও অবাক হলো। নাহিদ সাদা রং-এর কাবলি স্যুট ও মাথায় সাদা গোল টুপি পরে একটা বাড়ির লনে দাঁড়িয়ে আছে। নাহিদার মনে হলো, একজন যুবক দরবেশ তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। নাহিদের এই রূপ দেখে নাহিদার চোখ যেমন জুড়িয়ে গেল, তেমনি মনটা অজানা এক আনন্দে ভরে গেল।

    শর্মিলা হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল, কিরে এবার কী রকম দেখছিস?

    নাহিদা সংযত স্বরে বলল, তুই একে ভালোবাসিস, আমার দেখার সঙ্গে তোর দেখার মিল হবে না। তোর মনের মানুষ মিললেও আমার এখনও মিলে নি। মিললে তখন হয়তো তোর মতো আমার দৃষ্টিশক্তি হবে। আমি এই মানুষটাকে চিনি না, জানি না। শুধু ছবি দেখে মানুষের ভালো-মন্দ বোঝা যায় না। তবে খুব আশ্চর্য হচ্ছি, তোর মতো সুন্দরী ও অত্যাধুনিকা মেয়ে একটা দরবেশ ধরনের ছেলের জন্য পাগল হয়েছিস। আবার পোশাক পরিচ্ছদও পরিবর্তন করেছিস। এই সব বিশ্বাস করতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে।

    শর্মিলা বলল, দেখ নাহিদা, তোর সঙ্গে আমার অনেক দিন থেকে গভীর সম্পর্ক থাকলেও তুই আমকে পুরোপুরি বুঝেছিলি বলে মনে হয় না। আমি সব সময় হাসি-খুশি ও চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে। বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে ডেটিং করে বেড়াই। তাই তোর ধারণা, গভীরতা বলতে আমার কিছু নেই। আমি কোনোদিন কোনো ছেলেকে ভালোবাসতেই পারব না। তোর ধারণা কতটা সত্য বলব না, তবে একথা জেনে রাখিস, অক্সফোর্ডের শর্মিলা নামের যে ছাত্রীটি তোর বান্ধবী ছিল, সে এই শর্মিলা নয়। এই শর্মিলা অনেক বদলে গেছে। মানুষ কখন বদলাবে, তা কেউ জানে না। জানে শুধু সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্। “তারই ইশারায় এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চলছে। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কেউ হেদায়েত প্রাপ্ত হয় না। এটা কোরআন পাকের কথা। মনে হচ্ছে তুইও অনেক বদলে গেছিস। তাই হয়তো আমরা একে অন্যকে চিনতে পারছি না, বুঝতে পারছি না। তারপর কয়েক সেকেন্ড চুপু করে থেকে বলল, তুই যে দরবেশ ছেলেটার কথা বললি, নদী যেমন সাগরে মিশবার জন্য অশান্তর মতো প্রবাহিত হয়, তেমনই ওকে পাবার জন্য আমার মনও অশান্ত হয়ে উঠেছে। তুই যদি কাউকে ভালোবাসতিস, তা হলে আমার কথাগুলো বুঝতে পারতিস। এবার থাক আমার কথা, যে তোকে লিফট দিচ্ছে তার কথা বল।

    নাহিদা শর্মিলার কথা শুনে ক্রমান্বয়ে বিস্ময়ে অভিভূত হচ্ছে। সেই সাথে তার প্রতি ঈর্ষায় নাহিদার মন ভরে উঠছে। তবু মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, তার কথা বলার মতো কিছু নেই। ঢিলে-ঢালা পোশাক পরা একটা সাধারণ ছেলে। দেখলে গেঁয়ো গেঁয়ো মনে হয়। তারপর ছবি দুটো ফেরত দিয়ে বলল, এর বেশি তার সম্বন্ধে কিছু বলার নেই।

    শর্মিলা বলল, এবার চলি, ওরা সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

    শর্মিলা চলে যাবার পর নাহিদার শরীর ও মন দুটোই খারাপ লাগতে লাগল। বার বার নাহিদের ছবি দুটো চোখে ভেসে উঠছে। ভীষণ অস্বস্তি অনুভব করল। হঠাৎ মনে হলো, শর্মিলার সাথে কথা বলার সময় নাহিদ যদি এসে পড়ত, তা হলে কী হতো? কথাটা ভেবে চমকে উঠল। জীবনে এই প্রথম নিজের অজান্তে তার মুখ থেকে বিড়বিড় করে বেরিয়ে গেল, আল্লাহগো, নাহিদ ফিরে আসার আগে শর্মিলা যেন এখান থেকে চলে যায়।

    কিছুক্ষণ পরে শর্মিলা এসে বিদায় নিয়ে চলে যেতে নাহিদা অনেকটা স্বস্তিবোধ করল। একটা কথা তার বার বার মনে হতে লাগল, অমন গোবেচারা ছেলের মধ্যে এত গুণ কী করে থাকতে পারে? সিদ্ধান্ত নিল, সত্য মিথ্যা যাচাই করে দেখতে হবে।

    নাহিদ মাগরিবের নামাযের পর ফিরে এসে নাহিদার দরজায় টোকা দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

    নাহিদার কিছু ভালো লাগছিল না। সে রুমের পিছনের বারান্দায় চেয়ারে বসে রাস্তার যানবাহন ও লোকজনের চলাচল দেখছিল। দরজায় টোকা দেবার শব্দ পেয়ে দরজা খুলে নাহিদকে দেখে স্বভাব বশতঃ চোটপাট দেখিয়ে দেরিতে ফেরার কৈফিয়ত চাইতে যাচ্ছিল; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে শর্মিলার কথাগুলো মনে পড়তে সামলে নিল। তখন নাহিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে লজ্জা বোধ করল। মাথা নিচু করে বলল, আপনি রুমে যান, আমি আসছি।

    নাহিদ বেশ একটু অবাক হয়ে রুমে এসে কলিং বেলের সুইচে চাপ দিয়ে ভাবল, হঠাৎ মেয়েটার পরিবর্তন হলো কেন? দেরি করে ফেরার জন্য এটা কি তার রাগ, না অভিমান?

    হোটেল বয় আসার পর তাকে চা-নাস্তার অর্ডার দিল।

    সে চা-নাস্তা দিয়ে যাবার একটু পরে নাহিদা দরজার বাইরে এসে বলল, আসতে পারি?

    : আসুন।

    নাহিদা ভিতরে ঢুকে বলল, বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে?

    : না হয় নি। তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে এত দেরি হলো। দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আসুন নাস্তা খেয়ে নিই।

    নাস্তা খাওয়ার সময় কেউ কোনো কথা বলল না। শুধু মাঝে মাঝে একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে গিয়ে ধরা পড়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিচ্ছে।

    চা খেতে খেতে নাহিদ বলল, আপনাকে একা রেখে এতক্ষণ বাইরে থাকা আমার উচিত হয় নি। সে জন্য ক্ষমা চাইছি। বিশ্বাস করুন, বন্ধুটার সঙ্গে দেখা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

    নাহিদা বলল, এতে ক্ষমা চাওয়ার কী আছে। আমি ফরেনে মানুষ হয়েছি। একা থাকা আমার অভ্যাস আছে। আপনার দেশের বাড়ি কোথায়?

    : গাজীপুর।

    : আমার দিনাজপুর সদরপুর গ্রামে। আচ্ছা, ধর্ম সম্বন্ধে আপনার ধারণা কী?

    : হঠাৎ ধর্ম সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছেন কেন?

    : না, মানে এমনি হঠাৎ মনে হলো, তাই ….।

    নাহিদ অল্পক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ধর্মের আভিধানিক অর্থ অনেক। তার মধ্যে প্রকৃত এবং প্রধান অর্থ হলো বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাকের আইন। তিনি যুগে যুগে মানুষকে ভালোভাবে জীবন যাপন ও তাঁর উপাসনা করার জন্য যে সব আইন প্রেরণ করেছেন, সেইগুলোকে ধর্মীয় আইন বলে। যারা তাঁকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর আইন মেনে চলে তাদেরকে ধার্মিক বলে। প্রত্যেক মানুষের উচিত, সৃষ্টিকর্তার আইন মেনে চলা।

    : ধর্মের অর্থ যদি তাই হয়, তা হলে ধর্মে গোঁড়ামিত্ব এল কেন?

    নাহিদ মৃদু হেসে বলল, আসলে ধর্মে যেমন গোঁড়ামি নেই, তেমনি জোর জবরদস্তিও নেই। যারা ধর্মের গোঁড়ামির কথা বলেন, তারা আসলে ধর্ম সম্বন্ধে খুব কম জ্ঞান রাখেন। যেমন ধরুন, আমরা সবাই বাজারের গরু, মহিষ ও খাসির গোশত কিনে এনে খাই। আর সেটা আমাদের জন্য হালাল। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা বাজারের এইসব গোশত খায় না। তারা বলে, যারা ঐ সব পশু জবেহ করছে, তাদের মধ্যে অনেকে রোজা নামায করে না। এমনকি পেশাব করে পানিও নেয় না। পাক-নাপাক কী জিনিস তাও জানে না। তাদের হাতের গোশত খাওয়া ঠিক নয়। এখন আমরা ঐ সব লোকদের গোঁড়া বলি। কিন্তু আমরা যদি তাদের এই কথাগুলো বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখা যাবে, তারা ঠিক কথাই বলেছে এবং আমরাই বরং তাদেরকে গোঁড়া বলে ভুল করছি। কারণ, যারা যে কাজই করুক না কেন, সবাইকেই ধর্মের আইন অনুসারে করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় মানুষ ধর্মের আইনের তোয়াক্কা না করে, যে যার ইচ্ছামতো কাজ করছে। অনুরূপভাবে মানুষের গোঁড়ামির অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা যা কিছু করছি, তা আল্লাহ পাকের আইন মোতাবেক নয়। তাই যারা মানুষকে আল্লাহপাকের আইন মোতাবেক সব কিছু করার জন্য ঐ সবের প্রতিবাদ করছে, তাদেরকে আমরা গোঁড়া বা মৌলবাদী বলি। আসলে আমরা যদি আল্লাহপাকের আইন সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করতাম, তাহলে গোঁড়া বা মৌলবাদী ভেবে যাদেরকে ঘৃণা করি, তাদেরকে তা ভাবতাম না। কিছু মনে করবেন না, এবার আমি ধর্ম সম্বন্ধে আপনার ধারণা জানতে চাই।

    নাহিদা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, দেখুন, ধর্ম সম্বন্ধে আমি একরকম কিছুই জানি না, কী করে বলব বলুন।

    : তবু ভালো না মন্দ এটাও তো বলতে পারেন।

    : ধর্মকে আমি ভালো মনে করি; কিন্তু ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি আমি পছন্দ করি না।

    : ধর্মও তাই বলে। কিন্তু আপনি ধর্ম ভালো জেনেও ধর্মীয় আইন মেনে চলবেন না, আর ধার্মিক লোকেরা আপনাকে কিছু না বলে চুপ করে থাকবে, এটা তো হতে পারে না। কারণ ধর্মগ্রন্থে আছে, “এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই।” এই ভাই যদি জেনে অথবা না জেনে ধর্মের আইনের নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে, তা হলে অন্য ভাইয়ের কি বাধা দেওয়া উচিত না? তাছাড়া বাধা দেওয়াটাও ধর্মের আইন। অথচ কী আশ্চর্য কথা, যারা বাধা দিচ্ছে তাদেরকে আমরা গোঁড়া বলি। আবার কেউ যদি ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলে তখন যারা তার প্রতিবাদ করে, তা হলে সেটাকেও আমরা ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি বলি। এখন আমি যদি আপনাকে বলি, আপনি মুসলমান ঘরের মেয়ে হয়ে কেন নামায পড়েন না, রোযা রাখেন না, কোরআন হাদিসে মেয়েদেরকে যেভাবে কাপড় পরতে বলা হয়েছে, সেভাবে পারেন না, তা হলে নিশ্চয় আপনি আমাকে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করছি বলবেন অথবা গোঁড়া বলবেন। অথচ আপনি নিজেই বললেন, ধর্মকে ভালো বলে জানেন। আসলে মডার্ন শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা ধর্ম সম্বন্ধে পড়াশুনা না করে ধর্ম কী জিনিস জানে না। তাই তাদেরকে ধর্মের কথা শুনিয়ে কোনো অন্যায় করতে কেউ নিষেধ করলে, তাকে তারা গোঁড়া অথবা ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করছে বলে। এবার এসব কথা থাক, আপনি রুমে যান, আমি এশার নামায পড়ে নিই। তারপর ডিনার খাওয়া যাবে।

    ঘুমোবার সময় নাহিদার নাহিদের কথা মনে পড়তে লাগল। কিছুতেই দু’চোখের পাতা এক করতে পারল না। ধর্ম সম্বন্ধে নাহিদ যে সব কথা বলেছিল, সেগুলো চিন্তা করতে করতে তার জ্ঞানের দুয়ার খুলে গেল। তার বিবেক বলে উঠল, ধর্মীয় বই পড়ে ধর্মকে জানা প্রত্যেকের কর্তব্য। এখন তার শর্মিলার কথা মনে পড়ল। যার নাকি চরিত্র বলতে কিছু নেই, তার মতো মেয়ে নাহিদকে পাবার জন্য কত চেঞ্জ হয়ে গেছে। সেইসাথে তার প্রতি ঈর্ষায় নাহিদার মন ভরে গেল। এই সব ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, তা জানতে পারল না।

    পরের দিন সকালে নাস্তা খেয়ে যাত্রা শুরু করল।

    আড়াইটার সময় বগুড়ায় পৌঁছে হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে নাহিদ নাহিদাকে বলল, গাড়িতে গরম লাগবে, এখানেই বসুন। আমি যোহরের নামায পড়ে আসি।

    সোয়া তিনটায় ওরা আবার যাত্রা শুরু করল।

    সকাল থেকে ভীষণ গরম পড়েছে। দুপুরের পর থেকে কোদালে মেঘে আকাশ ঢেকে রয়েছে। একটুও বাতাস বইছে না। গরমে লোকজন আইঢাই করছে। অবশ্য ওদের কোনো কষ্ট হচ্ছে না। নব্বই পঁচানব্বই কিলোমিটার বেগে নাহিদ গাড়ি চালাচ্ছে। গাড়ির জানালা দিয়ে বাতাস ওদের গায়ে লাগছে।

    রংপুর টাউনে এসে নাহিদা বলল, একটু চা খেতে পারলে ভালো হতো।

    কিছুক্ষণ হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নহিদার কথা শুনে নাহিদ একটা হোটেলের কাছে গাড়ি পার্ক করে তাকে নিয়ে চা খেতে ঢুকল।

    চা খাওয়ার সময় জোরে বৃষ্টি নামল। সেই সঙ্গে ঝড়ও শুরু হলো।

    ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেও যখন ঝড়-বৃষ্টি থামার লক্ষণ দেখা গেল না তখন নাগিদ বলল, চলুন রওয়ানা দেওয়া যাক, নচেৎ দিনাজপুর পৌঁছাতে রাত হয়ে যাবে।

    নাহিদা বলল, তাই চলুন।

    গাড়িতে উঠার সময় দু’জনেই ভিজে গেল। রাস্তার ওপারে গাড়ি ছিল। রাস্তা পার হয়ে আনতে যেতে নাহিদ বেশি ভিজেছে।

    পকেট থেকে রুমাল বের করে নাহিদ মাথা ও চোখ-মুখ মোছার সময় নাহিদাকেও মুছতে বলে গাড়ি ছেড়ে দিল।

    নাহিদা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে মাথা ও চোখ-মুখ মুছে বলল, আপনার জামা কাপড় একদম ভিজে গেছে, পাল্টে নিলে হতো না?

    নাহিদ মৃদু হেসে বলল, এতটুকুতে কিছু হবে না।

    নাহিদ সেকেন্ড গিয়ারে গাড়ি চালাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি ক্রমশঃ বাড়ছে। সৈয়দপুর পার হয়ে দশ পনেরো কিলোমিটার আসার পর এমন অবস্থা হলো, হেড লাইট জ্বেলেও রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। শেষে বাধ্য হয়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি থামাতে হলো। গাড়ির ভিতরের লাইট জ্বেলে ঘড়ি দেখল, সাড়ে পাঁচটা।

    নাহিদ সব সময় অযুর সাথে থাকার চেষ্টা করে। বিশেষ করে যখন দূরে কোথাও যায় তখন অযু রাখার জন্য সজাগ থাকে। আজো বগুড়ায় জোহরের নামাজ পড়ে অযু রেখেছে। পরিচিত রাস্তা। কেবলা জানা আছে। নাহিদাকে সিট টপকে পিছনের সিটে যেতে বলে বলল, আমি নামায পড়ব। নাহিদা পিছনের সিটে গিয়ে বসার পর নাহিদ পাশের সিটে সরে এসে বসে বসে আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ল। অবশ্য প্রত্যেক নামাযের বিরতি সময়ে নাহিদার সাথে এই পরিস্থিতির আলোচনা করেছে। এশার নামাযের পরও ঝড়-বৃষ্টি সমানে হচ্ছে। মাঝে মাঝে মেঘের গর্জনের সাথে সাথে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং দূরে দূরে বজ্রপাতও হচ্ছে। বিদ্যুতের আলোতে দেখতে পেল, তারা মাঠের মাঝখানে রয়েছে। গ্রাম অনেক দূরে।

    নাহিদ খুব চিন্তায় পড়ে গেল। নিজের জন্য তার কোনো চিন্তা নেই। সঙ্গে একজন যুবতিকে নিয়ে মাঠের মাঝখানে এই দুর্যোগপূর্ণ রাত কাটাবে কী করে? সেই চিন্তা তাকে অস্থির করে তুলল। মনে মনে দোওয়া ইউনুস পড়তে পড়তে আল্লাহ পাকের কাছে সাহায্য চাইতে লাগল।

    এদিকে বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকে দুজনেরই পেশাব পেয়েছে। কিন্তু লজ্জায় কেউ তা প্রকাশ করতে পারছে না। শেষে নাহিদ যখন সহ্য করতে পারল না তখন দরজা খুলে গাড়ির পিছনের দিকে গিয়ে কাজ সারল। তারপর বুট খুলে তার ব্রিফকেস ও নাহিদার চামড়ার সুটকেস নিয়ে গাড়িতে উঠল।

    নাহিদ ভিজে জাব হয়ে গেল। গাড়ির ভিতরে এসে নাহিদাকে তার দিকে চাইতে দেখে যা বুঝার বুঝে গেল। বলল, কষ্ট করে আমার মতো আপনিও কাজ সেরে আসুন।

    নাহিদা সেই আড়াইটার সময় বগুড়ায় হোটেলে ভাত খাওয়ার পর বাথরুমে গিয়েছিল। তাছাড়া ঠাণ্ডার দিনে সবারই একটু বেশি পেশাবের বেগ হয়। এখন নাহিদার পেশাবের বেগে তলপেট টনটন করছিল। নাহিদের কথা শুনে লজ্জা পেলেও দরজা খুলে গাড়ির পিছনে গিয়ে কাজ সেরে এল।

    ততক্ষণে নাহিদ ব্রিফকেস খুলে জামা কাপড় বের করে ভিজে জামা কাপড় খুলে সেগুলো পরে নিয়েছে।

    নাহিদা ফিরে এলে তাকে তার সুটকেস দিয়ে বলল, ভিজে কাপড় পাল্টে ফেলুন। তারপর গাড়ির ভিতরের লাইট অফ করে দিল।

    নাহিদা বসে বসে কোনো রকমে শুকনো কাপড় পরে ভিজে কাপড়গুলো সিটের নিচে রেখে দিল।

    ভিজে গিয়ে দু’জনকেই শীত পাচ্ছে। নাহিদ বলল, চাদর থাকলে বের করে গায়ে দিন। ঠাণ্ডা লেগে অসুখ করতে পারে।

    নাহিদার সুটকেসে চাদর ছিল না। তাই দু’টো শাড়ি বের করে দু’ভাজ করে একটা নিজে গায়ে দিল, আর অন্যটা নাহিদকে দিয়ে বলল, নিন আপনিও গায়ে দিন।

    নাহিদ কোনো প্রতিবাদ না করে শাড়িটা নিয়ে চাদরের মতো গায়ে জড়াল। তারপর জিজ্ঞেস করল, আপনার ভয় পাচ্ছে না-কি?

    : পেলেও করার কিছু আছে কি?

    : তা অবশ্য নেই। আমি কিন্তু ভয় টয় কী জিনিস জানি না। শুধু আপনি রয়েছেন বলে যা একটু দুশ্চিন্তা।

    : দুশ্চিন্তা কীসের?

    : আমরা লোকালয় থেকে দূরে রয়েছি। এ সময় যদি দুষ্কৃতিকারীরা হামলা করে? আমি একা থাকলে কোনো চিন্তাই করতাম না। আপনি মেয়েছেলে, তার উপর যুবতি। তবে আপনার দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অন্ততঃ আল্লাহ পাক যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে জীবিত রাখছেন ততক্ষণ কেউ আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

    : কিন্তু ওরা যদি দলে বেশি থাকে এবং ওদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে?

    : আমার কাছেও লাইসেন্স করা একটা পিস্তল সব সময় থাকে। যদিও দু’আড়াই বছরের চাকরি জীবনে একটিবারও সেটার দরকার পড়ে নি, তবুও সাহেবের অর্ডার মোতাবেক সেটা কাছে রাখি। ওসব কথা বাদ দিয়ে খাবার কথা চিন্তা করুন। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

    নাহিদারও একই অবস্থা। তবু তার কথা শুনে হেসে উঠে বলল, কোনো। উপায় যখন নেই তখন আর কী করা যাবে? উপোস থাকতে হবে। আর তা না হলে বলে সুটকেস থেকে বিস্কুটের একটা প্যাকেট বের করে বলল, এগুলে খেয়ে খিদে নিবারণ করি আসুন। যদিও এগুলো খেয়ে কিছু হবে না, তবুও “সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং।”

    দু’জনে বিস্কুটের প্যাকেট সাবাড় করল। তারপর নাহিদার পানির বোতল থেকে পানি খেল।

    পানি খাওয়ার পর নাহিদা বলল, চা খেতে পারলে যা হতো না?

    নাহিদ বলল, যা সম্ভব নয়, তার জন্যে হাপিত্যেশ করে লাভ নেই।

    তারপর তারা গল্প করতে লাগল।

    গত দুদিন থেকে নাহিদের শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছিল। তার উপর আজ দু’বার বৃষ্টিতে ভিজে রাত বারোটার সময় কাঁপ দিয়ে জ্বর এল। সিটের উপর পা তুলে বসে কাঁপতে লাগল। খাওয়ার পর লাইট বন্ধ করে তারা গল্প করছিল। ক্রমশ কাঁপুনি বেশি হতে নাহিদ গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল, এবার একটু ঘুমোবার চেষ্টা করুন, রাত অনেক হয়েছে।

    নাহিদার কাছে তার গলার স্বর স্বাভাবিক মনে হলো না। আতঙ্কিত হয়ে বলল, কী ব্যাপার আপনার গলার স্বর কাঁপছে কেন?

    নাহিদ কোনোরকমে বলল, আমার বোধহয় জ্বর এসেছে। আপনি ঘুমিয়ে পড়ন।

    নাহিদা বলল, সে কী? ভিতরের লাইটটা জ্বালান তো।

    লাইট জ্বালানো সম্ভব নয়, নাহিদ বলল।

    নাহিদা তার কপালে হাত দিয়ে চমকে উঠে বলল, এ কী, জ্বরে যে গা পুড়ে যাচ্ছে!

    নাহিদা সব সময় জ্বরের জন্য সিটালজিন, প্যারাসিটামল, নাপা এবং পেটের অসুখের জন্য ক্লীয়ন, মেট্রিল, নিলিগ্রাম, ফ্লাজিল আর মাথাব্যথার ও বমির জন্য স্টিমেটিল ট্যাবলেট সঙ্গে রাখে। দু’টো নাপা ও একটা প্যারাসিটামল নিয়ে সিট টপকে সামনের সিটে এসে লাইট জ্বেলে নাহিদকে খাইয়ে দিল। তারপর নিজের গায়ে যে শাড়িটা ছিল, সেটা তার গায়ে দিল। কিন্তু তাতেও নাহিদের কাঁপুনি থামল না।

    নাহিদা খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে বসেছে। নাহিদের তখন কাঁপুনি আরও বেড়েছে। তবু কোনোরকমে বলল, প্লিজ, একটু সরে বসুন। কথা বলতে গিয়ে নাহিদের কাঁপুনির চোটে দাঁতে দাঁত লেগে ঠক ঠক করছে।

    নাহিদা তার কথায় কর্ণপাত না করে নাহিদকে দুহাতে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে বুকে চেপে ধরে কাঁপুনি থামাবার চেষ্টা করল।

    নাহিদের বাধা দেবার মতো ক্ষমতা ছিল না। নাহিদা জড়িয়ে ধরার পরও কাঁপতে লাগল।

    প্রায় আধঘণ্টা নাহিদা তাকে ঐভাবে জড়িয়ে রইল। তারপর যখন বুঝতে পারল, কাঁপুনি থেমে গেছে এবং তাকে ঘাম দিচ্ছে তখন আলিঙ্গনমুক্ত হয়ে আঁচল দিয়ে নাহিদের কপালের ও মুখের ঘাম মুছে দিল। ঘুমিয়ে পড়েছে দেখে তার বুকে মাথা রেখে সেও ঘুমিয়ে পড়ল।

    খুব গরম লাগাতে প্রথমে নাহিদের ঘুম ভাঙল। দেখল, ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে এক টুকরোও মেঘের চিহ্ন নেই। পূর্ব দিগন্তে সূর্য টকটকে লাল রং ছড়িয়ে একটু উপরে উঠেছে। মাঠে বেশ পানি জমে গেছে। তারপর নাহিদাকে আলুথালু বেশে তার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তার মুখের দিকে চেয়ে নিষ্পাপ শিশুর মুখের মতো মনে হলো। মাথায় হাত রেখে আস্তে নাড়া দিয়ে বলল, উঠুন, সকাল হয়ে গেছে।

    নাহিদার ঘুম ভেঙে গেল। সোজা হয়ে বসে গায়ের কাপড় ঠিকঠাক করে লজ্জিত স্বরে বলল, রাতে যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। তারপর কপালে হাত রেখে বলল, জ্বর নেই দেখছি, এখন কেমন লাগছে?

    নাহিদ গা থেকে শাড়ি দুটো খুলে তার হাতে দিয়ে বলল, সময় মতো ডাক্তারি বিদ্যা কাজে লাগিয়েছিলেন। ভালো না হয়ে কি পারি?

    ততক্ষণে ছোট বড় বেশকিছু পথিক গাড়ির চারপাশে দাঁড়িয়ে উৎসুক দৃষ্টিতে তাদের দিকে চেয়ে রয়েছে।

    তা লক্ষ করে নাহিদা ড্রাইভিং সিটে সরে বসে জানালার কাঁচ নামিয়ে তাদেরকে বলল, আমরা ঝড়-বৃষ্টির জন্য এখানে আটকা পড়েছিলাম, আপনারা সরে দাঁড়ান।

    নাহিদও তার দিকের জানালার কাঁচ নামিয়ে তাদেরকে সরে যেতে বলল।

    তারা সরে যাবার পর নাহিদা গাড়ি ছেড়ে দিয়ে স্পিড বাড়িয়ে দিল।

    জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকে নাহিদার এলোমেলো চুলগুলো অশান্ত বালকের মতো চোখ-মুখ ঢেকে দিচ্ছে। এক হাত দিয়ে চুলগুলো সরাতে সরাতে নাহিদকে উদ্দেশ করে বলল, জানালার কাঁচ তুলে দিন, ঠাণ্ডা লেগে যাবে। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে একবার চেয়ে দেখল সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রয়েছে। দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বলল, কী ভাবছেন?

    : ভাবছি, এই ট্র্যাজেডিময় যাত্রাপথের ঘটনাটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    : শুধু ঘটনাটাই মনে থাকবে, যাকে নিয়ে ঘটনা, তার কথা মনে থাকবে না?

    নাহিদ কিছুক্ষণ নাহিদার মুখের দিকে চেয়ে থেকে আবার চোখ বন্ধ করে নিল।

    নাহিদা গাড়ির আয়নায় তা দেখতে পেয়ে বলল, প্রশ্নের উত্তর দিলেন না যে?

    নাহিদ একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, উত্তর দেবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

    এরপর কেউ আর কোনো কথা বলল না।

    দিনাজপুর টাউনে এসে একটা হোটেলের সামনে গাড়ি থামিয়ে নাহিদা বলল, আসুন প্রথমে কিছু খেয়ে নিই, তারপর আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমর প্রেম – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article অবাঞ্ছিত উইল – কাসেম বিন আবুবাকার

    Related Articles

    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    জানি তুমি আসবে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কালোমেয়ে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    একদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কে ডাকে তোমায় – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }