Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    সৌমিক দে এক পাতা গল্প168 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দেবীগ্রামের অভিশাপ

    দেবীগ্রাম নামেই গ্রাম, আসলে একটা মাঝারি করদ রাজ্য। দেবীগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানটা বড় মনোরম। বর্তমানে যে রাজ্যটাকে তোমরা ঝাড়খণ্ড নামে চেনো, সেইটে এই কয় বচ্ছর আগেও ছিল সুবা বিহারের অংশ। তো, বাংলা শেষ হয়ে যে পথটা বোকারো হয়ে রাঁচির দিকে চলে গিয়েচে, তার কাছাকাছিই ছিল দেবীগ্রামের রাজ্যপাট। রাজ্যের এক দিক সমভূমি, একাংশ মালভূমি। নিরুত্তাপ, নির্বিঘ্ন এই রাজ্যের রাজার নাম মল্ল রায়। তাঁর পিতামহ শ্রী অপারশক্তি রায়ের আমলে এই রাজ্য কারিগরি, যন্ত্রশিল্প, স্থাপত্য আর উন্নতির শীর্ষে গিয়েচিলো। তিনি নিজে কালাপানি পার করে বিলেত গিয়ে কারিগরিবিদ্যা আয়ত্ত করে বিদেশী শিল্পী নিয়ে ভূমিদান করে তাদের বসত করিয়েচিলেন গাঁয়ে। তাদের দিয়ে বহু অসামান্য স্থাপত্যের নিদর্শন তৈয়ারি করেচিলেন তিনি। অপারশক্তি নিজে ছিলেন একাধারে ধুরন্ধর তন্ত্রবিদ এবং অসাধারণ শাসক। শোনা যায়, তার আমলে এক অতি ভয়ঙ্কর পিশাচ লম্ববেগা আক্রমণ করে দেবীপুরে। সেই পিশাচ নাকি এক ভয়ানক তান্ত্রিকের অগ্নিমন্থন সাধনায় পাতাল থেকে নিজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে জেগে উঠে প্রথমেই সেই তান্ত্রিককে হত্যা করে কোনো এক প্রক্রিয়ায় পঞ্চমুন্ডির বাঁধনমুক্ত হয়ে যায়, ফলে সে হয়ে ওঠে দুর্দমনীয় এক অতি ভয়াল সত্বা।

    তার হাতে অজস্র প্রজা বিনষ্ট হয় দেখে অপারশক্তি নিজে তার প্রিয় মিত্র সম্বুদ্ধ রায়কে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। রাজা সম্বুদ্ধ রায় নিজেও বলবান পিশাচসিদ্ধ ছিলেন। তারা দুইজনে দুর্গাপূজার সময়ে দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে মন্ত্রবলে দুইখানি অব্যর্থ আয়ুধ তৈয়ারি করেন ওই মহা বলশালী পিশাচকে পরাভূত করার জন্য। তারা পিশাচ লম্ববেগাকে পরাস্ত করে হিমনিদ্রায় অভিভূত করে বন্দী করেন, কারণ লম্ববেগার মৃত্যু নেই। সম্বুদ্ধর তৈয়ারি করা অস্ত্র দিয়েই পিশাচকে নিদ্রাভিভূত করা হয় এবং অপারশক্তি পরবর্তীতে নিজের তৈরি অব্যবহৃত অস্ত্রখানি লুকিয়ে ফেলেন রাজবাড়িতেই। অপারশক্তি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ নিজের পুত্র বীরবলের সঙ্গে সম্বুদ্ধর কন্যা ইন্দুমতীর বিবাহ দেন। পুত্রের বিবাহের আনন্দে রাজ্য জুড়ে দীর্ঘিকা খনন, দেউল নির্মাণ, রাজবাড়িতে দেবী মহিষাসুরমর্দ্দিনীর প্রকাণ্ড মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে। সেই অধুনা প্রয়াত রাজা বীরবলেরই সন্তান বর্তমান রাজা মল্ল রায়।

    মল্ল বাপের মতোই বীর, সুপুরুষ আর বিচক্ষণ, কিন্তু বর্তমানে দেবীগ্রামের রাজপুরুষদের মধ্যে সাজো সাজো রব। সেনাপতি রাজবর্মা গোপনে চার সহস্র সৈনিককে নিজের দলে টেনে যুদ্ধ ঘোষণা করে রাঁচি থেকে এগিয়ে আসচে। এমনকি রাজ পুরোহিত তথা মন্ত্রণাদাতা বীরভদ্রও তার সঙ্গে যোগ দিয়েচে। আগামীকাল দেবীগ্রামে পৌঁছালেই যুদ্ধ অনিবার্য। রাজবর্মা ইচ্ছে করেই ঠিক এই সময়টাই বেছে নিয়েচে, কারণ এই রাজপরিবারের দুর্গাপূজা আশপাশের মধ্যে বিখ্যাত। পূজার মধ্যে সকলে আয়োজন নিয়েই মেতে থাকবে, ফলে সতর্ক হবার সময় পাবে কম। মল্ল পূজার কাজ পুরনারীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে থাকলো পাঁচ হাজার বাছাই সেনা নিয়ে, কিন্তু ধূর্তামিতে মল্ল কখোনোই রাজবর্মার সমকক্ষ ছিলো না। রাজবর্মা তার ভাই সুলোচনকে এক সহস্র সৈন্য দিয়ে সঙ্গোপনে দেবীগ্রামের মহাবনে লুক্কায়িত থাকার জন্য পাঠিয়ে দিলো।

    রণনীতিতে রাজবর্মা পন্ডিত ছিল নিঃসন্দেহে। দেবীগ্রামের বনের পাশ দিয়ে মল্লর পাঁচ হাজার সেনা যখন রাজবর্মার মুখোমুখি হবে, তখন আচমকা সুলোচন তার হাজার সৈন্য নিয়ে পিছন থেকে আক্রমণ করবে। পিছন থেকে আক্রমণ করা শত্রুকে রণে বিমুখ করা অসাধ্য, এ তত্ব রাজবর্মার জানা ছিল। সে এগিয়ে আসতে থাকলো। এদিকে রাজবর্মার অনুপস্থিতিতে সেনাপতিত্ব করার মতো সুযোগ্য লোক মল্ল এত দ্রুত পাবে কোথা? তাই বাধ্য হয়ে নিজের শ্যালক সুবোধ সিংহকেই এই দায়িত্ব দিলো। রাতে মল্লর নিজস্ব সেনা তৈরি, সকাল হলেই যুদ্ধ বাধবে, মল্ল পরিদর্শনে গিয়ে দেখলো সুবোধ ঘুমুচ্চে। মল্ল মহা ক্রুদ্ধ হয়ে কইলো, “এ তোমার কী আচরণ সুবোধ? তুমি কোনো আয়োজন তদারক করচো না?”

    সুবোধ কাঁচা ঘুম ভেঙে কইলো, “দেখবো আর কী মহারাজ, সেনাদের নির্দেশ দেওয়াই রয়েচে। যুদ্ধ তো কাল। আজ শরীরটে ঝরঝরে রাখা প্রয়োজন।” কথার মাঝেই একজন সেনা আধিকারিক বীরপ্রতাপ এসে কী যেন ইশারা করে গেল। সুবোধের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি খেলে গেল। সুবোধ বললে, “মহারাজ, হাতাহাতি যুদ্ধের চেয়েও বড়ো যুদ্ধ হল শত্রুর মস্তিষ্কের গতিবিধি অনুধাবন করা, আমি শুয়ে শুয়ে সেইটেই করচিলাম। সেনাদের আদেশ দিতে হবে যাতে যুদ্ধ হলেও রাজপুরোহিত বীরভদ্রকে নিহত না করে জীবন্ত বন্দী করে।”

    “সেই তুচ্ছ পুরোহিতটাকে নিয়ে কালব্যয় না করে রাজবর্মাকে নিয়ে ভাবো সুবোধ।”

    সুবোধ হেসে কইলো, “যুদ্ধে মানুষ সবসময়ে শক্তিমান মিত্রকে পাশে চায়, যে যুদ্ধ জেতার সহায়ক হবে। সেখানে রাজবর্মার রাজবাড়ির পুরোহিতকে সযত্নে দলে নেবার কারণটা কী? কারণ তো কিছু আছেই মহারাজ, সেটাই তার থেকে জানতে হবে।”

    মল্ল সহসা কথাটা উড়িয়ে দিতে পারলো না। মল্ল যখন চিন্তিত মুখে কক্ষ থেকে চলে যাবে, তখন সুবোধ কইলো, “দুশ্চিন্তা করবেন না মহারাজ, জিত আপনারই হবে কাল। রাজবর্মার সেনা চার হাজার, আমাদের পাঁচ। আর তা ছাড়া রাজবর্মা থানা ফেলচে দেবীগ্রামের বন পেরিয়ে জুমলার চরে। সে চাইলে বন পেরিয়ে দেবীগ্রামের ভিতরে ঢুকে আসতে পারতো রাতের মধ্যে, কিন্তু সে ঢোকেনি। রাজবর্মার মতো শয়তানের থেকে এতটা উদারতা আমি আশা করি নে। তাই ভাবলাম, আমাদের তো ভোরে দেবীগ্রামের বন পাশে রেখেই যেতে হবে অগত্যা, তো রাজবর্মা আবার বনের মধ্যে গুপ্তঘাতক লুকিয়ে রাখেনি তো? যা বদবুদ্ধি, বিশ্বাস কি? তাই বীরপ্রতাপকে পাঠিয়েচিলাম গোপনে। সে এখুনি ইশারা করে গেল যে আমার অনুমান নির্ভুল। কম করে সাতশত আটশত সেনা ছিল লুকিয়ে। বীরপ্রতাপ তাদের বনেই নিকেশ করে রেখে এসেচে। রাজবর্মা তাদের আশাতে বসে থেকেই বোকার মতো পরাস্ত হবে কাল।”

    সুবোধের কথাই সত্য হল। তার ধুরন্ধর বুদ্ধির চালে রাজবর্মার সৈন্য খড়ের গাদায় ছুঁচের ন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। রাজবর্মা শূলে গেল এবং সুবোধের উৎপীড়নে আধমরা হয়ে বেঈমান রাজপুরোহিত যা বললে, তাতে সকলের মাথায় বজ্রাঘাত হল! বীরভদ্র গোপনে রাজবাড়ির পরিত্যক্ত কয়েদঘরে ঢুকে বাঁধন কেটে ঘুমন্ত পিশাচকে মুক্ত করে দিয়েচে তার এক চেলার সাহায্যে। পিশাচ বেরিয়েই সেই চেলাকে সংহার করেচে, কিন্তু তাকে যুদ্ধে লাগিয়ে মল্লকে হারানোর পরিকল্পনার আগেই রাজবর্মা পরাজিত ও নিহত হল!

    কথা শুনে মল্ল আর সুবোধের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হল! তারা কয়েদঘরে গিয়ে দেখলে, যে বিশেষ গোখুরো সাপের কলকা করা কলকবজা আঁটা পেতলের তোরঙ্গে পিশাচ লম্ববেগাকে হিমনিদ্রায় ভরে রাখা হয়েচিল, সেই তোরঙ্গের মাথায় বসানো ছিল একখানা গুরুভার পেতলের স্থূল দণ্ড! সেইটে পাশে পড়ে আছে। আর পড়ে রয়েচে একখানা হাত খানেক লম্বা ধাতব বস্তু, যেটা ধাতুর তৈয়ারি না হলে অনায়াসে কোনো জীবের অস্থিপঞ্জর বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। এইটিই হল রাজা সম্বুদ্ধের তৈরি করা সেই মহাস্ত্র, যা দিয়ে পিশাচকে নিদ্রিত অবস্থায় তোরঙ্গবন্দী করার পর তোরঙ্গের ভিতরে রেখে ডালা বন্ধ করে পেতলের ভারী চাবিকাঠিটা এঁটে দেওয়া হয়। এই পঞ্জরাকৃতি অস্ত্রটিই পিশাচের নিদ্রাকে আপাতঃ অনন্ত নিদ্রায় পরিণত করে। এই চাবিকাঠির দণ্ডটিও যেমন তেমন দণ্ড নয়। এটি পেতলবরণ হলেও পিতল নয়, কিছু বিশেষ ধাতুর সংমিশ্রণে তৈয়ারি করা বস্তু, যার ক্ষয় অতি নগণ্য। বিশেষ ওজনের এই দণ্ডটির ওজনে হেরফের হলে চাবি তার গুণ হারাবে। এক্ষণে মল্ল অসহায়ের মতো দেখচে, তোরঙ্গের ডালা উন্মুক্ত। এই নিষ্ঠুর কুটিল পিশাচের নরসংহারের আখ্যান সে শুনেচে ঠাকুরদাদার কাছে ছেলেবেলায়। কিন্তু তিনি বা তাঁর মিত্র সম্বুদ্ধ আজ জীবিত নেই। এই পিশাচের মূল লক্ষ্য এখন রাজপরিবার, কিন্তু আজ তার সংহার রুখবে কে?

    মল্ল রাজপরিবারের সকলকে রাজবাটীর বাইরে যাবার নিষেধাজ্ঞা প্রচার করলেও, পরদিন দুর্গাষ্টমীতে নিজের মায়ের নদীতে পূজা-স্নান-চণ্ডীপাঠ করতে যাওয়া আটকাতে পারলেন না,-ধর্মপ্রাণ বৃদ্ধার ধমক আর বাক্যবাণে। রাজমাতা বৃদ্ধা হলেও দশাসই এবং মুখরা। মল্ল তাঁকে কিছু ভয় করতেন আবার অত্যন্ত ভালোওবাসতেন। রাজমাতা দুইজন পুরস্ত্রী আর কয়েকজন প্রহরী পরিবেষ্টিত হয়ে তিনটি গো-যানে বেলা বাড়তে রওয়ানা হল নদীর উদ্দেশে এবং রক্তলোলুপ পিশাচ লম্ববেগা এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল ওৎ পেতে। বহু বহু কাল সে নিদ্রায় ছিল। আজ তার রক্তপান করার দিন। আগে মায়ের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দেখুক তার পুত্র, তারপর পুত্রের দেহ দেখবে তার পুত্র…, এভাবে গোটা রাজপরিবারকে নিঃশেষ করে সে তাকে বন্দী করার অপমানের শোধ নেবে। লম্ববেগা একটা কালো মেঘ সেজে উড়ে চললো গো-যানের সঙ্গে সঙ্গে।

    দামোদরের শাখানদী হিসেবে বয়ে গিয়েচে একটা মাঝারি শাখানদী, দেবীগ্রামের গা ছুঁয়ে। সেই ঘাটের কাছে নরঘাতক পিশাচ একটা প্রাচীন বটগাছের রূপ নিয়ে বসে রইলো বাকি দু-একটা গাছের সঙ্গে গা মিশিয়ে। আশপাশের গাছগুলিতে অনেক পাখপাখালি উড়চে, বসচে, কিন্তু এই গাছের কাছে ঘেঁষচে না। মানুষের দল টেরটি না পেলেও মনুষ্যেতর জীবদের ফাঁকি দেওয়া যায় না। পিশাচ লম্ববেগা অপেক্ষা করে রইল মোক্ষম সুযোগের। অনেক লোকের মাঝে নরহত্যা করা তার প্রিয় পন্থা নয়। তার চোখে রয়েচে সম্মোহনের মহাশক্তি। তার চোখের পানে একটিবার সরাসরি চাইলেই যে কোনো জীব তার বশবর্তী হয়ে পড়ে। তখন সে যা দেখাতে চায়, যা শোনাতে চায়, সেই হতভাগ্য তাই-ই দেখে, তাই-ই শোনে। তারপর সেই অসহায় শিকারকে বোকা বানিয়ে আবডালে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে সে মনের আনন্দে। লম্ববেগা ওৎ পেতে রইল।

    নদীতে আসার আগে একটা ছোটো বন পড়ে পথে। সেইটে পেরোলেই নদীর ঘাট। বন থেকে বেরিয়ে আসার ঠিক আগের মুহূর্তেই বনের সীমানায় একখানা গোরুর গাড়ি খারাপ হয়ে আটকে গেল। শত চেষ্টাতেও কেন জানি নড়ানো গেল না। অগত্যা বাকি দুটিকে নিয়ে রাজমাতা নামলেন নদীর ঘাটে, ঠিক পিশাচের পাশ দিয়েই। লম্ববেগা তার বৃক্ষরূপী পাতায় পাতায় লক্ষ চোখে লক্ষ্য রাখলো দুর্বল মুহূর্তের। সকলে মিলে জলে নেমে স্তব করচে, স্নান করচে, হঠাৎ রাজমাতার মনে পড়লো তার সোনার চশমাখানা সে ফেলে এসেচে ওই খারাপ হয়ে যাওয়া গরুর গাড়িতে। নামে গো-যান হলে হয় কি, সেটি রাজ পরিবারের যুগ্যি করেই তৈয়ার করা। দুই পাশে কিংখাবের পর্দায় ছাওয়া, ঝালর দেওয়া, গদি আঁটা গাড়ি। বাকি দুইটি সাধারণ। বৃদ্ধা হেঁকে বললে, “ও লো কামিনী, চশমাখানা যে রয়ে গেল মা গাড়িতে, সেখানা না হলে গীতা পাঠ করি কেমনে?”

    কামিনীর জল থেকে ওঠার তৎপরতা দেখা গেল না বিশেষ। সে অনুনয়ের স্বরে বললো, “এই তো নামলাম মা, একটু পরেই আনচি গিয়ে।”

    রাজমাতা অসন্তুষ্ট হয়ে বিড়বিড় করে বললে, “তবেই হয়েচে মা, তুমি জলে নেমেচ মানে দিন ফুরিয়েচে আর কি।” এই বলে নিজেই স্থূল শরীর নিয়ে বকবক করতে করতে চললো গরুর গাড়ির পানে।

    .

    ভূতপূর্ব রাজবৈদ্য বিষাণজীর বয়স একশোর ঊর্দ্ধে হলেও এখনও চলৎশক্তি হারায়নি, কিছু কিছু চিকিৎসাও করে, যদিও তার পুত্র শঙ্করজীই বর্তমান রাজবৈদ্য। বিষাণজী অশক্ত পায়ে লাঠি নিয়ে ঠুকঠুক করতে করতে মল্লর কাছে এলো একটু দ্বিপ্রহর পড়লে পর। মল্ল তখনও দিবানিদ্রা ভেঙে ওঠেনি, বিষাণজীর সানুনয় অনুরোধে রানিমা স্বামীকে ডেকে তুললে পর মল্ল বিস্মিত এবং ইতস্ততঃ হয়ে বাইরে এসে কইলো, “বৈদজী! এই অসময়ে! সব কুশল তো?”

    বিষাণজী বিষণ্ণ ও উদ্বিগ্ন মুখে কইলো, “মহারাজ, আপনার অনিদ্রার রোগ, তায় রক্তচাপের রোগী, এভাবে ডাকার জন্য লজ্জিত, কিন্তু একটা কথা বলা দরকার মনে হল বলে তড়িঘড়ি এলাম মহারাজ।”

    “না না, ওসব ঠিক আছে, বলুন বৈদজী কী বলবেন?”

    “মহারাজ, আমি বেলা থেকেই পাতা-লতা চয়ন করি রোজ। আজও করচিলাম। তখন দেখি রাজমাতার বহর চলেচে বোধকরি নদীস্নানে। দুর্গাষ্টমী তো আজ। কিন্তু হঠাৎ ঠাহর করলাম, একখানা মেঘের মতো কি একটা উড়ে চলেচে বহরের মাথায় মাথায়। প্রথম ভাবলুম মেঘ, তারপর দেখি বহরটা বহুদূর চলে যাওয়ার পরও মেঘটা তেমনি উড়ে চলেচে গাড়ির মাথাতেই। বাতাস ছিল বিস্তর, কিন্তু সে মেঘ ভাঙেও না, গড়েও না, একই আকারে রয়ে গিয়েচে। এমনটা তো দেখিনি কখনও। আমার বয়স হয়েচে মহারাজ, অনেক রকম দেখেচি, শুনেচি। লক্ষণ বড় ভালো ঠেকচে না আমার।”

    মল্লর শিরদাঁড়া বেয়ে আতঙ্কের স্রোত বয়ে গেল! শয়তান পাষণ্ড পিশাচ তবে পুরুষদের বাগে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা-কে… মল্লর চোখ থেকে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়লো। সে তার মা-কে যে কী ভীষণ ভালোবাসে তা সেই জানে। বড়ো দেরি হয়ে গিয়েচে! হা ঈশ্বর! বিফল হবে জেনেও মল্ল লোকজন নিয়ে তেজী ঘোড়া ছুটিয়ে বেরিয়ে পড়লো নদীর পানে নক্ষত্র বেগে। হয়তো পিশাচটা তাকে বের করতেই চায় বাইরে। তাই হোক। তাকে নিয়ে মাকে মুক্তি দিক নিষ্ঠুর পিশাচ। যাবার পথে মল্ল থামলো পারিবারিক মহিষমদ্দিনী মন্দিরে। মল্লর পিতামহের স্থাপিত মহার্ঘ্য দেউল। মল্ল চোখ মুছে প্রতিমার পানে চেয়ে ধরা গলায় বললো, “হে ভবাণী, যদি কখনও এতটুকু পূণ্য করে থাকি, তবে আজ দয়া করো দেবী।”

    বৃদ্ধা একাকী নদীর পাড় থেকে একটু দূরে যেতেই পিশাচটা গাছের রূপ ত্যাগ করে বায়ুর বেগে উড়ে গেল গোরুর গাড়ির কাছের বনে আর এক শীর্ণদেহী ব্রাহ্মণ সেজে দাঁড়িয়ে রইল। বৃদ্ধা রাগে দুই একবার পিছনে তাকিয়ে কেউই জল থেকে ওঠেনি দেখে যখন গাড়ির কাছে পৌঁছেচে, তখনই সে আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বিস্মিত সুরে বললে, “এ কী! মা আপনি এখানে? প্রণাম হই”–এই বলে রাজমাতার চোখের পানে সোজাসুজি চেয়ে এগিয়ে এসে প্রণাম করলো। বৃদ্ধাও ব্রাহ্মণকে যথোচিত মর্যাদা দিয়ে হাতজোড় করে তারপর কইলো, “তুমি কে বাছা? আমাদের প্রজা?”

    “হাঁ মা, কতবার রাজবাটী গিয়েচি। আমাকে চিনতে পারলেন না মা? ভালো করে দেখুন তো।”

    পিশাচের উদ্দেশ্য, যাতে বুড়ী তার চোখের পানে চায়। বুড়ীর ছিন্নভিন্ন শরীরটা নিয়ে যখন তার লোকজন কাঁদতে কাঁদতে রাজবাড়িতে যাবে, সে ভারি মজা হবে। সে রাজবাড়িতে ঢুকতে পারবে না মজা দেখতে, কারণ সেখানে ওই সর্বনাশা জাদু তোরঙ্গটা রয়েচে, তার উপর আজকে দুর্গাষ্টমী। আজ সেটার কাছাকাছি গেলে বড়ো বিপদ হতে পারে। যদিও এখন আর ওই তোরঙ্গের বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে তাকে বন্দী করার বিদ্যা জানা মানুষ দেশে নাই।

    এই সব ভাবতে ভাবতেই পিশাচ দেখলো, বৃদ্ধা তার দিকে তাকালেও তখনও তার বশ হয়নি। প্রথমে একটু বিচলিত হলেও পরক্ষণেই তার কারণটা তার কুটিল মাথায় এলো। বুড়ী চশমা ছাড়া তার চোখের মণি দেখতে পায়নি। ব্রাহ্মণ গলায় একটু বিদ্রূপ ঢেলে কইলো, “গাড়ির থেকে চশমা পরে নিন দেবী। বেলা পড়ে আসচে বলে ঠাহর হচ্চে না বোধহয়। এখনও কত কিছু পরিষ্কার দেখতে হবে আপনাকে।

    বৃদ্ধা কিংখাব সরিয়ে চশমা খুঁজচিল, এ কথায় খাপ্পা হয়ে বেরিয়ে এসে কইলো, “কেন? কমটা কী দেখলাম শুনি। তোমার এত সাহস, আমার সঙ্গে এমন রসিকতা করো? আমি কে জানার পরেও?”

    আকাশে হঠাৎই মেঘ ছেয়ে এসেচে। পিশাচ চিবিয়ে চিবিয়ে কইলো, “রসিকতা আমি করি না বুড়ী। তোর মহামূল্য সোনার চশমা পর, তারপর তোকে দেখাচ্ছি তুই কী দেখতে চলেচিস।”

    বৃদ্ধা এহেন স্পর্ধায় নির্বাক হয়ে থেকে বলল, “বেলা কমে এলে চশমা ছাড়া অসুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু একেবারে দেখিনে তা নয় বাছা। ঘাটের কাছে গিয়ে বেছে বেছে একটা গাছেই পাখি বসচে না যেমন দেখেচি, তেমনি হঠাৎ করে ঘাটের কাছে একখানা বটগাছ গুণতিতে কম পড়ছে, তাও দেখেচি। আসলে আমার চশমাটা শুধুই পুঁথিপত্তর পড়ার জন্য লাগে। তুই ঠিক আসবি আমি জানতুম, তাই সঠিক ক্ষণের অপেক্ষায় তোর জন্য অষ্টমীর বরণডালা সাজিয়ে রেখেচি। এই দেখ…”– এই বলে বৃদ্ধা বলিষ্ঠ হাতের এক টানে ছইয়ের কিংখাবটা সরিয়ে দিতেই, লম্ববেগা পিশাচ সরু নজরে ভিতরটা দেখেই ভয়ে কেঁপে উঠে পিছিয়ে গেল কয়েক পা! গাড়ির ভিতর সেই সর্বনাশা গোখুরোর ছাপওয়ালা তোরঙ্গটা! সেই ভয়ঙ্কর বজ্রসিন্দুক! এই যন্তরের ফাঁদটাই তার একমাত্র যম! ভয়ঙ্কর কলকবজা বসানো এক মারাত্মক টোপ, আর সেই ফাঁদের মূল চাবিকাঠি, যে পেতলের গুরুভার দণ্ডটা রাজপুরোহিতের চেলাটা তোরঙ্গ থেকে সরিয়ে তাকে মুক্ত করেচিলো, এই ধূর্ত বৃদ্ধা চশমা খোঁজার নাম করে তার বলশালী হাতে তোরঙ্গতে আবার এঁটে দিয়েচে তাকে সিন্দুকের চৌহদ্দির মধ্যে টেনে এনে! তাই আকাশে এত মেঘ জমেচে চোখের পলকে! এখুনি এই তল্লাট ছেড়ে দূরে চলে যেতে হবে। আজকের দিনটা কেটে গেলে আর ভয় নেই। লম্ববেগা বিপ্রর ছদ্মবেশ ছেড়ে নিজের ভয়াল পিশাচরূপ পরিগ্রহ করে আকাশ কাঁপানো গর্জন করে দেখলো অসীম সাহসিনী এই বৃদ্ধার চোখের পলকটুকুও কাঁপলো না! লম্ববেগা হিংস্র ঘড়ঘড়ে গলায় চিৎকার করে উঠলো, “চাবিকাঠি খুলে ফেল মূর্খ স্ত্রীলোক! নয়তো আজ নয় কাল হোক, হাজার বছর পরে হোক, আমি তোর বংশধরদের খুঁজে খুঁজে নিকেশ করবো। আর আজ যদি মুক্তি দিস আমাকে, তবে তোর পরিবারের দিকে আমি আর দৃষ্টি দেবো না। কেন তুচ্ছ প্রজাদের জন্য নিজের বংশকে বিনষ্ট করচিস?”

    বৃদ্ধা স্থির, অবিচলিত স্বরে কইলো, “কারণ আমি দেবীগ্রামের রাজমাতা। সকল প্রজার মা।”

    তাদের ঠিক মাথার উপরে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ মেঘ ঝড়ের মতো ঘুরপাক খেতে আরম্ভ করেচে দেখে লম্ববেগা হিংস্র মুখে একবার অগ্নিদৃষ্টি হেনে বায়ুর বেগে বাতাসে লাফিয়ে উঠলো, কিন্তু চারদিকে যেন একটা অদৃশ্য কাচের বলয় তৈরি হয়েচে! পিশাচ সেই বলয় ভাঙতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করচে, তখনই চোখের পলকে মেঘ চিরে, চরাচরের যেন সব শব্দকে ছাপিয়ে চোখ ধাঁধানো বজ্র নেমে এলো পিশাচের উপরে। লম্ববেগা অচৈতন্য হয়ে ঝুপ করে আছড়ে পড়লো মাটিতে। রাজা সম্বুদ্ধের কন্যা, বাপের সুযোগ্যা তন্ত্রশিষ্যা, রাজমাতা ইন্দুমতী একটা শ্বাস ফেলে মহিষাসুরমর্দ্দিনীর উদ্দ্যেশে প্রণাম জানালো। কামিনী ছুটে এসে কইলো, “তুমি যতই আসার পথে আমাদের শিখিয়ে পড়িয়ে আনো মা, তুমি যখন একলা গাড়িটার দিকে এলে তখন আমার প্রাণটা ভয়ে উড়ে যাচ্চিলো মা! আচ্ছা, তুমি এই গাড়িটা এইখানে খারাপ হবার মতো করে ফেলে রাখতে বললে কেন তখন?”

    বৃদ্ধা ক্লিষ্ট হেসে বললে, “লম্ববেগা অতি ধুরন্ধর পিশাচ। আমি যদি শুধু শুধুই তোদের ছেড়ে একা দলছুট হতুম, তবে হতভাগা ঠিক বুঝে ফেলতো যে নিশ্চয়ই বুড়ীর কিছু চালাকি রয়েচে। কিন্তু যখন তোকে বকাবকি করে চণ্ডীপাঠের জন্য চশমা আনতে গাড়ির দিকে এলাম, তখন সে ফাঁদটা ধরতে পারেনি। এইও প্রহরীরা, তোমরা এটাকে তুলে তোরঙ্গয় ভরে দাও। ভয় নেই, জাগবে না। আসার সময়ে পুকুরপাড়ে বৈদজীকে দেখেচিলুম উপরের মেঘটার দিকে হাঁ করে চেয়ে রয়েচে। সে-ও নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেচে যে ওটা মেঘ নয়। এতক্ষণে মল্লকেও বলেচে নিশ্চয়ই। যা কানভাঙানি স্বভাব। মল্ল এলো বলে।”

    প্রহরীরা লম্ববেগাকে ভয়ে ভয়ে তুলে তোরঙ্গয় ঢুকিয়ে দিতেই ইন্দুমতী গাড়িতে রাখা হাত দুই লম্বা অস্থিপঞ্জরের মতো ধাতব অস্ত্রটা লম্ববেগার বুকের উপর রেখে ডালা চাপা দিয়ে দিলো। হিংস্র পিশাচ মহা হিমনিদ্রায় অভিভূত হয়ে অন্ধকারে ঢেকে গেল, যে হিমনিদ্রা ভবিষ্যতে শত শত বৎসর পর আবার কেউ ভাঙাবে এবং যা আমার জীবনের একটা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে যাবে।

    মল্ল এসে সব শুনে আনন্দে মাকে জড়িয়ে ধরলো। তার পিতামহ, মাতামহের মতো মায়েরও যে তন্ত্রবিদ্যায় এতদৃশ পারদর্শীতা আর সাহস রয়েচে, তা মল্লের জানা ছিল না! ইন্দুমতী ধীরে ধীরে বললে, “শোনো বাবা, এই পিশাচের মরণ নাই হয়তো। একে কেবল হিমনিদ্রায় পাঠাতে পারি, কিন্তু ভবিষ্যতেও যে কোনো বেঈমান রাজবর্মা এসে আবার একে জাগিয়ে তুলবে না, তার ঠিক কি? এ ভাবে হবে না। বিশেষতঃ এখন এই তোরঙ্গর কথা রাজ্যশুদ্ধ লোক জেনেই গিয়েচে। একে ধর্ম আর বিশ্বাসের বাঁধনে মোড়ক দিয়ে যুগের পর যুগ আড়ালে রাখতে হবে। এই পিত্তল দণ্ডটা যে একটা বিশেষ ওজনের দণ্ড তা জানো তো? এক রতি ওজন হেরফের হলেও তোরঙ্গর কলকবজা কাজ করবে না বলেই বিশেষ ধাতু দিয়ে এই দণ্ড তৈয়ার করা হয়েচে। আমি তোমাকে ধাতুর অনুপাত আর নির্দিষ্ট নিখুঁত ওজন বলে দেবো। ঠিক সেইভাবেই একটা রাধামাধবের যুগল বিগ্রহ তৈয়ারি করাবে। তার নিম্নদেশটা হবে… এই দেখো… এই দণ্ডটার মতোই প্যাঁচওয়ালা। এবার থেকে এই গুরুভার দণ্ডটার জায়গায় ঐ সম ওজনের বিগ্রহটা বসবে। মন্দিরে থাকবে এই তোরঙ্গ। সবার সুমুখে পূজা পাবে। কেউ কখনও একে রাধামাধবের বেদী ছাড়া কিছুই ভাবতে পারবে না।

    আর হ্যাঁ, যেইটে তোরঙ্গের ভিতরে দিয়েচি, সেইটে আমার পিতা, রাজা সম্বুদ্ধের তৈয়ারি অস্ত্র। কিন্তু তোমার পিতামহের গড়া অস্ত্রখানা সেবার প্রয়োজন পড়েনি বলে তিনি সেইটে লুকিয়ে রেখে গিয়েচিলেন রাজভবনেই। আমি এতদিনে খুঁজে খুঁজে তার সন্ধান পেয়েচি। তোমাকেও বলবো। আজ নয়। কখনও সে জেগে উঠলে তার মূল আক্রমণ হবে আমাদের পরিবারকে ঘিরেই, এটুকু অনুমান করতে পারি…” – রাজমাতা নিজের রসনাকে সংযত করে পিশাচের বলা শেষ কথাগুলো গোপন করে গেল।

    মল্ল সামান্য বিরতি নিয়ে ইতস্ততঃ করে মায়ের মুখের পানে চাইতেই বৃদ্ধা একটা শ্বাস ফেলে কইলো, “বুঝেচি বাবা, বলচি। আমি আমার পিতার মুখে এই পিশাচের জাত সম্পর্কে শুনেচিলাম, কিন্তু তুমি তো তন্ত্রজ্ঞ নও, তাই তোমার মুখে সেই ভয়ঙ্কর পিশাচ প্রজাতির নাম উল্লেখও তাকে আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু এটুকু জেনে রাখো, ব্রহ্মার সন্তানের জন্ম হয়েচিল ভগবান শিবের চৌকাঠে। তারই পশ্চিমে রাবণের তৈরি এই পিশাচের দীঘি আজও লুকিয়ে রয়েচে। তোমাকে কিছু কিছু বিদ্যাভ্যাস করিয়ে তবে নামটা বলবো।”

    (এখানে একটা কথা কয়ে রাখা দরকার। রাজমাতা কিন্তু এই ঘটনার পর অধিক দিন জীবিত ছিলেন না। হঠাৎই তাঁর মৃত্যু হয় সন্ন্যাস রোগে। কিছু কিছু সঙ্কেত তাম্রপত্রে লিখে গেলেও নিজের পুত্রকে তিনি পিশাচ সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলে যেতে পারেননি। মাতার মৃত্যুর পর রাজা মল্ল পত্রযোগে কোনো এক পন্ডিতকে এর সমাধান করতে অনুরোধ করেন যথোপযুক্ত রাজকোষ ব্যায় করে, কিন্তু কোনো সন্ধান মেলে না)

    যা-ই হোক, পিশাচ বন্দীর পর সকলে ফিরে এলো দেবীগ্রাম রাজভবনে। রাজমাতা ইন্দুমতী পিশাচ দমনের খুশীতে গোটা দুর্গামন্দির ফুলে ফুলে সাজিয়ে অর্ঘ্য দিলো। মহিষমর্দ্দিনীর মন্দিরের নূতন নামকরণ হলো দুর্গতিনাশিনী। নামকরণের সম্মান প্রজারা রাজমাতাকেই দিলে। মহানবমীর পূণ্য প্রভাতে সাঁচের উপর চুনসুড়কি গুলে ইন্দুমতী আঙুল দিয়ে লিখলো, ‘দুরগতিনাশিনীর দেউল’। ভূতপূর্ব রাজবৈদ্য বিষাণজী মাথা নেড়ে কইলো, “উঁহুহু রাজমাতা, বানান-প্রয়োগে প্রমাদ হল যে।”

    বৃদ্ধা অপ্রস্তুত হয়ে রেগে উত্তর দেবার আগেই মল্ল হেসে মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বললে, “হোক ভুল বৈদজী, এই ছাঁচই মন্দিরগাত্রে রাখবো আমি।”

    বৃদ্ধা সগর্বে মুখ তুলে প্রগলভ বিষাণজীকে নজর দিয়ে প্রায় ভস্ম করে দেওয়ার জোগাড়। উপস্থিত পৌরজন সকলে বহুদিন পর প্রাণ খুলে হেসে উঠলো। শুধু হাসির মধ্যেও সামান্য বিষণ্ণ স্বরে মল্ল তার মাকে শুধালো, “কিন্তু যদি সত্য সত্যই কখনও পিশাচ লম্ববেগা মুক্তি পায়, তবে তাকে পরাস্ত করার বিধি ভবিষ্যতের মানুষ পাবে কোথা মা? ততোদিনে মানুষের মেধা, মনন, চাতুৰ্য্য ঊর্দ্ধগামী হবে নাকি কালের গর্ভে নিকৃষ্ট হয়ে পড়বে, তা-ই বা কে বলতে পারে? এইবারই তো ভেবেচিলাম পিতামহ আর মাতামহের অবর্তমানে আর কেউই তেমনটি নাই, কিন্তু আপনি সেই বিদ্যা জানতেন বলেই এ যাত্রা দেবীগ্রাম রক্ষা পেল। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে?”

    “সে চিন্তা আমারও আছে মল্ল। আমার পরিবার আর প্রজাদের রক্ষার দায় আমারই, হোক তারা ভবিষ্যতের মানুষ। ভবিষ্যত হোক বা ভূত, লোভী, দাম্ভিক আর ইতর মানুষ চিরকালই থাকবে। বলা যায় না, আবার কখনও কারুর দাম্ভিক হস্তক্ষেপে যদি এই কালান্তক যম আবার জেগে ওঠে, নির্বিচার নরহত্যায় মেতে ওঠে, তবে তাকে প্রশমন করার বিধি আবশ্যক হবেই হবে। গোপন ষড়যন্ত্রের সে সব সংকেত আমি হেঁয়ালির ভাষায় লিখে রাখবো পুঁথিতে। তোমাকেও পড়াবো।”

    মল্ল বিস্মিত হয়ে শুধালো, “গোপন ষড়যন্ত্র? দেবীগ্রামে?”

    “হাঁ বাবা, এই রাজ্যেই।”

    রাজমাতা ইন্দুমতীর ঠোঁটে একচিলতে রহস্যের হাসি খেলে গেল। তা দেখে মল্লর ধ্রুব প্রত্যয় হল যে, তার মা সর্বসমক্ষে কিছু একটা গোপন করচেন। কারা কীসের ষড়যন্ত্র করে চলেচে গোপনে যা রাজমাতা ধরে ফেলেচেন? তারপর বৃদ্ধা একটা শ্বাস ফেলে নিজের মনে ভবাণীর প্রতিমার পানে চেয়ে বললে, “তোমার সসাগরা পৃথিবীতে তোমার সন্তান কেউ না কেউ তো নিশ্চয়ই সে যুগেও থাকবে মা, যে সব হেঁয়ালি, সংকেত আর নিশান ভেদ করে নিজের ক্ষুরধার মেধা দিয়ে এই ভয়ানক কুটিল পিশাচের সঙ্গে সমানে সমানে পাল্লা নেবে? থাকবে না মা?”

    দেবী দুর্গা উত্তর দিলেন না, তাঁর বরাভয় দৃষ্টি মেলে চেয়ে রইলেন কেবল। সে দৃষ্টির পানে চেয়ে রাজমাতা ইন্দুমতী হৃষ্ট হলেন। তার মানসদৃষ্টি সময়ের বাধা অতিক্রম করে যেন ভেসে চললো ভবিষ্যতের ওপারে, যেখানে এতক্ষণে ইতিমধ্যেই নূতন পটভূমিতে, নূতন নূতন চরিত্রদের অবলম্বন করে আরম্ভ হয়ে গিয়েচে সেই একই মানুষে-পিশাচে বুদ্ধির চতুরঙ্গ খেলা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    Related Articles

    সৌমিক দে

    কালীগুণীন ত্রাহিমাম – সৌমিক দে

    March 20, 2026
    সৌমিক দে

    সর্বংসহ কালীগুণীন – সৌমিক দে

    March 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }