Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং

    স্টিফেন হকিং এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. সময়ের তীর

    ০৯. সময়ের তীর (The Arrow of Time)

    আগের অধ্যায়গুলোতে আমরা দেখেছি কালের ধর্ম সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে। এই শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত লোকের বিশ্বাস ছিল পরম কালে। অর্থাৎ প্রতিটি ঘটনাকেই “কাল” নামক একটি বিশেষ সংখ্যা দ্বারা অনন্য উপায়ে চিহ্নিত করা যায় এবং বিশ্বাস ছিল দুটি ঘটনার অন্তর্বর্তীকাল বিষয়ে প্রতিটি ভাল ঘড়িরই মতৈক্য থাকবে। কিন্তু পর্যবেক্ষক যে ভাবেই চলমান হল না কেন আলোকের গতি সব সময় প্রতিটি পর্যবেক্ষক সাপেক্ষ একই মনে হবে– এই আবিষ্কার অপেক্ষবাদের পথ দেখাল এবং তার ফলে অনন্য পরম কাল সম্পর্কিত চিন্তাধারা পরিত্যাগ করতে হল। তার বদলে ধারণা হল প্রতিটি পর্যবেক্ষকেরই কালের মাপন হবে তার নিজস্ব এবং সেটা চিহ্নিত হবে তিনি যে ঘড়ি বহন করছেন তার সাহায্যে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের বহন করা নিজস্ব ঘড়িতে সব সময় মতৈক্য থাকবে তার কোন অর্থ নেই। সুতরাং কাল হয়ে দাঁড়াল একটি আরও ব্যক্তিগত ধারণা এবং সে ধারণা যে পর্যবেক্ষক মাপছেন সেই পর্যবেক্ষক সাপেক্ষ।

    মহাকর্ষের সঙ্গে কণাবাদী বলবিদ্যা মেলানোর চেষ্টার ফলে কাল্পনিক’ কাল সম্পর্কিত চিন্তন উপস্থিত করতে হয়েছে। কাল্পনিক কালের সঙ্গে স্থানে অভিমুখের পার্থক্য করা সম্ভব নয়। কেউ উত্তরে গেলে–অভিমুখ ঘুরিয়ে নিয়ে তিনি দক্ষিণেও যেতে পারেন। কেউ যদি কাল্পনিক কালে সম্মুখে যেতে পারেন তাহলে অভিমুখ ঘুরিয়ে তার পশ্চাতে যাওয়াও সম্ভব হওয়া উচিত। এর অর্থ : কাল্পনিক কালে অস্ত্র পশ্চাৎ অভিমুখের ভিতরে কোন গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকা সম্ভব নয়। অন্য দিকে বাস্তব কালের অভিমুখে দৃষ্টি দিলে অগ্র পশ্চাৎ অভিমুখের ভিতরে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আমরা সবাই একথা জানি। অতীত এবং ভবিষ্যতের এই পার্থক্যের উৎস কি? কেন আমরা অতীতকে মনে রাখি কিন্তু ভবিষ্যৎকে মনে রাখি না?

    বিজ্ঞানের বিধিগুলো অতীত এবং ভবিষ্যতের ভিতরে কোন পার্থক্য স্বীকার করে না। আগের ব্যাখ্যা মত আরও সঠিকভাবে বলা যায় C, P এবং T এর সমন্বয় ক্রিয়াতে (কিম্বা প্রতিসাম্যে- symmetries) বিজ্ঞানের বিধিগুলো অপরিবর্তিত থাকে। (C এর অর্থ কণিকার বিপরীত কণিকায় পরিবর্তন, P এর অর্থ প্রতিবিম্ব গ্রহণ। অর্থাৎ বাম এবং ডানের পরস্পরে পরিবর্তন এবং T এর অর্থ সমস্ত কণিকার গতির অভিমুখ বিপরীত করা: কার্যত কণিকার গতিকে পশ্চাত্মখী করা)। C এবং P নামক দুটি ক্রিয়া স্বকৃতভাবে সমন্বিত হলেও সমস্ত স্বাভাবিক অবস্থায় বিজ্ঞানের যে বিধিগুলো পদার্থের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলো অপরিবর্তিত থাকে। অন্যভাবে বলা যায় অন্য একটি গ্রহের অধিবাসীরা যদি আমাদের দর্পণ প্রতিবিম্ব হয় এবং যদি পদার্থ দিয়ে গঠিত না হয়ে বিপরীত পদার্থ দিয়ে গঠিত হয় তাহলেও তাদের জীবন একই রকম হবে।

    C এবং P ক্রিয়া আর CP এবং T ক্রিয়ার সমন্বয়ে যদি বিজ্ঞানের বিধিগুলো অপরিবর্তিত থাকে তাহলে শুধুমাত্র T ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও সেগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। তবুও সাধারণ জীবনে বাস্তব কালের ক্ষেত্রে অগ্র পশ্চাৎ অভিমুখে একটি বিরাট পার্থক্য থাকে। কল্পনা করুন টেবিল থেকে একটি জলের পেয়ালা মেঝেতে পড়ে গিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। এর একটি আলোকচিত্র নিলে আপনি সহজেই বলতে পারবেন চিত্রটি অগ্রগামী না পশ্চাৎগামী। আপনি অতীতের দিকে চালনা করলে দেখবেন টুকরোগুলো মেঝে থেকে হঠাৎ একত্রিত হয়ে লাফিয়ে টেবিলের উপর উঠে একটি সম্পূর্ণ পেয়ালা হয়ে গেছে। আপনি বলতে পারবেন আলোকচিত্রটি পশ্চাৎগামী, কারণ এরকম আচরণ সাধারণ জীবনে কখনোই দেখা যায় না। এরকম হলে যারা চীনামাটির বাসনপত্র তৈরি করে তাদের ব্যবসা উঠে যেত।

    পেয়ালার ভাঙা টুকরোগুলো মেঝেতে একত্র হয়ে কেন আবার টেবিলে ওঠে না, তার কারণ সাধারণত দেখানো হয় : তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় বিধি অনুসারে এটা নিষিদ্ধ। এই বিধি অনুসারে যে কোন বদ্ধ তন্ত্রে (closed system) কালের সঙ্গে সঙ্গে বিশৃঙ্খল (entropy) সবসময়ই বৃদ্ধি পায়। অন্য কথায় বলা যায়, এটা এক ধরনের মারফির বিধি (Murphy’s law)। জিনিসপত্র সব সময়েই গোলমাল হয়ে যেতে চায়। টেবিলের উপরের না ভাঙা পেয়ালাটি একটি উঁচুদরের সংগঠিত অবস্থা; মেঝের উপরের ভাঙা পেয়ালাটি একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা। টেবিলের উপরের অতীতের পেয়ালা থেকে মেঝের উপরের ভবিষ্যতের ভাঙা পেয়ালায় স্বচ্ছন্দেই যাওয়া যায় কিন্তু উল্টো দিকে যাওয়া যায় না।

    তথাকথিত কালের তীরের একটি উদাহরণ হল কালের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা (এন্ট্রপি entropy) বৃদ্ধি। এই কালের তীর অতীত আর ভবিষ্যতের পার্থক্য আনে, কালকে একটি অভিমুখ দান করে। অন্ততপক্ষে তিনটি বিভিন্ন কালের তীর রয়েছে। প্রথমটি তাপগতীয় (thermodynamic) কালের তীর। অর্থাৎ কালের যে অভিমুখে বিশৃঙখলা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক কালের তীর (psychological arrow of time)। এটা হল সেই অভিমুখ, যে অভিমুখে আমরা কালের স্রোত বোধ করি । যে অভিমুখে অতীত স্মরণ করি কিন্তু ভবিষ্যৎ স্মরণ করি না। আর অন্তিমে রয়েছে মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক (cosmologicalকালের তীর। মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত না হয়ে যে অভিমুখে সম্প্রসারিত হচ্ছে এটা হল সেই অভিমুখ।

    মহাবিশ্বের সীমানাহীনতার অবস্থার সঙ্গে দুর্বল নরত্বীয় নীতি যুক্ত করলে তিনটি তীরের কেন একই অভিমুখ– সেটা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তাছাড়া ব্যাখ্যা করা যেতে পারে কেনই বা একটি ভাল সংজ্ঞাবিশিষ্ট কালের তীর থাকবে। এই অধ্যায়ে আমি সেই তথ্যের সমর্থনে যুক্তি দেখাব। আমার যুক্তি হবে তাপগতীয় তীর নির্ধারণ করে মনস্তাত্ত্বিক তীর এবং এই দুটি তীরের অভিমুখ অবশ্যম্ভাবী রূপে সব সময় অভিন্ন। যদি মহাবিশ্বের সীমানাহীন অবস্থা মেনে নেয়া হয় তাহলে আমরা দেখব সুসংজ্ঞিত তাপগতীয় এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক কালের তীর অবশ্যই থাকবে কিন্তু মহাবিশ্বের ইতিহাসের সমকালে তাদের অভিমুখ এক থাকবে না। কিন্তু আমার যুক্তি হবে– যখন তাদের অভিমুখ অভিন্ন হয় একমাত্র তখনই এই প্রশ্ন করার উপযুক্ত বুদ্ধিমান জীব বিকাশের উপযুক্ত অবস্থা হয় : কালের যে অভিমুখে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল, সে অভিমুখেই কেন বিশৃঙ্খলা বাড়ে?

    প্রথমে আমি আলোচনা করব তাপবিদ্যুৎ গতীয় কালের তীর। সব সময়ই সুশৃঙ্খল অবস্থার চাইতে বিশৃঙ্খল অবস্থার সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। এই তথ্যেরই ফলশ্রুতি তাপগতি বিদ্যার দ্বিতীয় বিধি। বিচার করুন একটি বাক্সের ভিতরের কয়েক টুকরো জিগস Jigsaw-করাত দিয়ে কাটা কয়েকটা টুকরো। ঠিকমত মেলাতে পারলে একটি ছবি হয়)। এগুলোর একটি এবং একটিমাত্র বিন্যাসেই সম্পূর্ণ একটি ছবি হয়। কিন্তু টুকরোগুলোর এমন বহুসংখ্যক বিন্যাস আছে যেগুলোতে টুকরোগুলো বিশৃঙ্খল থাকে এবং কোন ছবিই হয় না।

    অনুমান করা যাক একটি তন্ত্র খুব অল্প সংখ্যক সুশৃঙ্খল অবস্থার কোন একটিতে শুরু হয়েছে। কালে কালে বৈজ্ঞানিক বিধি অনুসারে তন্ত্রগুলোর বিবর্তন হবে এবং তন্ত্রটির অবস্থারও পরিবর্তন হবে। পরবর্তীকালে তন্ত্রটির সুশৃঙ্খল অবস্থার চাইতে বিশৃঙ্খল অবস্থায় উপনীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার কারণ বিশৃঙ্খল অবস্থার সংখ্যা বেশি। সুতরাং তন্ত্রটি যদি প্রাথমিক স্তরে উচ্চস্তরের শৃঙ্খলা মেনে চলে তাহলে কালে কালে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির প্রবণতা থাকবে।

    অনুমান করা যাক জিগস এর খণ্ডগুলো একটি বাক্সে শুরু করল একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায়। এ অবস্থায় তারা একটি চিত্র গঠন করল। বাক্সটিকে একটি ঝাঁকুনি দিলে তারা অন্য বিন্যাস গ্রহণ করবে, সম্ভবত সেটি হবে একটি বিশৃঙ্খল বিন্যাস। সে অবস্থায় খণ্ডগুলো আর সঠিক চিত্র গঠন করতে পারবে না। তার সহজ কারণ হল বিশৃঙ্খল অবস্থার সংখ্যা অনেক বেশি। কিছু কিছু খণ্ড একত্র হয়ে তখনো হয়ত চিত্রটির কিছু অংশ গঠন করতে পারবে। কিন্তু বাক্সটিতে যত ঝাঁকুনি দেবেন– সম্ভবনা হল ঐ অংশগুলো ততই ভেঙে তালগোল পাকিয়ে যাবে। এ অবস্থায় তারা আর কোন রকম চিত্ৰই গঠন করতে পারবে না। সুতরাং খণ্ডগুলো যদি প্রথমে উচ্চস্তরের সুশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ে শুরু করে তাহলেও সম্ভাবনা হল কালে খণ্ডগুলোর বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে।

    কিন্তু অনুমান করা যাক, ইশ্বর স্থির করেছিলেন মহাবিশ্বের শুরু যেভাবেই হোক না কেন এর পরিণতি হবে উচ্চস্তরের সুশৃঙ্খল অবস্থা। আদিমকালে মহাবিশ্ব হয়ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকবে। তার অর্থ কালের সঙ্গে বিশৃঙ্খল হ্রাস পাবে। আপনি ভাঙা পেয়ালার টুকরোগুলোর একত্র হয়ে টেবিলের উপর লাফিয়ে ওঠা দেখতে পারেন। কিন্তু টুকরোগুলোকে পর্যবেক্ষণ করছেন এরকম যে কোন মানুষ এমন মহাবিশ্বে বসবাস করবেন যেখানে কালের গতির সঙ্গে বিশৃঙ্খলা হ্রাস পায়। আমার যুক্তি হবে সেই সমস্ত মানুষের কালের মনস্তাত্ত্বিক তীর হবে পশ্চাৎমুখী। অর্থাৎ তারা ভবিষ্যতের ঘটনাগুলো মনে রাখবে, অতীতের ঘটনাগুলোকে মনে রাখবে না। পেয়ালাটি যখন ভেঙে যাবে তখন তারা মনে রাখবে ওটা টেবিলের উপর ছিল। আবার ওটা যখন টেবিলের উপর থাকবে তখন ওরা মনে রাখবে না যে, ওটা মেঝের উপর ছিল।

    মানবিক স্মৃতিশক্তি বিষয়ে আলোচনা করা শক্ত, কারণ মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে সেটা আমরা বিস্তৃতভাবে জানি না। কিন্তু কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি কিভাবে কাজ করে তার সবটাই আমরা জানি। সেজন্য আমি কম্পিউটার সাপেক্ষ কালের মনস্তাত্ত্বিক তীর নিয়ে আলোচনা করব। আমার মনে হয় কম্পিউটারের তীর এবং মানবিক তীর অভিন্ন : এ অনুমান যুক্তিসঙ্গত। তা যদি না হত তাহলে আগামীকালের মূল্য মনে রাখে এরকম কোন কম্পিউটারের মালিক হলে শেয়ার বাজারে বিরাট লাভ করা যেত।

    একটি কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি মূলত একটি কৌশল যার এমন কতকগুলো উপাদান আছে যেগুলো দুটি অবস্থার যে কোন একটি অবস্থায় থাকতে পারে। সবচাইতে সরল উদাহরণ হল একটি অ্যাবাকাস্ (Abacus) (১)। এর যে সরলতম রূপ তাতে থাকে কয়েকটি তার। প্রতিটি তারে একটি করে গুটি থাকে। গুটিটিকে যে কোন দুটি অবস্থানের একটি অবস্থানে রাখা যায়। কম্পিউটারের স্মৃতিতে একটি জিনিস নথিভুক্ত করার আগে তার স্মৃতি থাকে বিশৃঙ্খল অবস্থায়। দুটি সম্ভাব্য অবস্থায় যে কোন একটি অবস্থার সম্ভাবনা থাকে সমান। (অ্যাবাকাসের গুটিগুলো তারের উপর এলোমেলো ভাবে ছড়ানো থাকে) স্মৃতিশক্তি এবং স্মরণীয়ের পারস্পরিক ক্রিয়ার পর গুটিগুলো নিশ্চিতভাবে দুটি অবস্থার একটি অবস্থায় থাকবে আর সেটা নির্ভর করবে তন্ত্রটির অবস্থার উপর। (অ্যাবাকাসের প্রতিটি গুটি থাকে তারের বাঁ দিকে কিম্বা ডান দিকে)। সুতরাং স্মৃতিটি বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় পৌঁছেছে, কিন্তু স্মৃতিটি সঠিক অবস্থায় রয়েছে সেটা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। (উদাহরণ : গুটিটিকে চালানো কিম্বা কম্পিউটারে শক্তি সরবরাহ করা)। এই শক্তি ক্ষয় হয়ে তাপের রূপ নেয় এবং মহাবিশ্বে বিশৃঙ্খলার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি সবসময়ই স্মৃতির শৃঙ্খলা বৃদ্ধির চাইতে বেশি : এটা সর্বদাই দেখানো যেতে পারে। সুতরাং কম্পিউটার শীতল রাখার পাখা যে তাপ বহিষ্কার করে তার অর্থ হল কম্পিউটার যখন একটি জিনিস স্মৃতির অন্তর্ভুক্ত করে তখনও মহাবিশ্বের মোট বিশৃঙ্খলার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সময়ের যে অভিমুখে কম্পিউটার অতীতকে স্মরণ করে সেই অভিমুখ এবং বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির অভিমুখ অভিন্ন।

    সুতরাং কালের অভিমুখ সম্পর্কে আমাদের ব্যক্তিনিষ্ঠ (subjective) বোধ অর্থাৎ কালের মনস্তাত্ত্বিক তীর আমাদের মস্তিষ্কের স্থির হয় কালের তাপগতীয় তীর দিয়ে। ঠিক একটি কম্পিউটারের মত যে ক্রমে বিশৃঙখলা (entropy) বাড়ে, সেই ক্রমেই আমাদের বিভিন্ন বিষয় স্মরণে রাখতে হবে। এর ফলে তাপগতিবিদ্যিার দ্বিতীয় বিধি প্রায় তুচ্ছ হয়ে দাঁড়ায়। কালের গতির সঙ্গে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় যার কারণ যে অভিমুখে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় সেই অভিমুখেই আমরা কাল মাপি। এর চাইতে ভাল বাজি ধরার বিষয় আপনি খুঁজে পাবেন না।

    কিন্তু কালের তাপগতীয় তীরের অস্তিত্ব কেন থাকবে? কিম্বা অন্য কথায় বলা যায়– কালের একটি প্রান্তে (অর্থাৎ যে প্রান্তকে আমরা অতীত বলি) মহাবিশ্ব কেন উচ্চস্তরের সুশৃঙ্খল অবস্থায় থাকবে? কেন সবসময় সম্পূর্ণ বিশৃখল অবস্থায় থাকবে না? আসলে এ সম্ভাবনাই সবচাইতে বেশি বলে মনে হতে পারে এবং কেন সময়ের যে অভিমুখে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং যে অভিমুখে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল সেই দুটি অভিমুখ অভিন্ন

    মহাবিশ্ব কিভাবে শুরু হত সে বিষয়ে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করা চিরায়ত ব্যাপক অপেক্ষবাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ বৃহৎ বিস্ফোরণের অনন্যতায় বিজ্ঞানের সমস্ত জানিত বিধি ভেঙে পড়ে। মহাবিশ্ব অত্যন্ত মসৃণ এবং বিস্ফোরণের অনন্যতায় বিজ্ঞানের সমস্ত জানিত বিধি ভেঙে পড়ে। মহাবিশ্ব অত্যন্ত মসৃণ এবং সুশৃঙ্খল অবস্থায় শুরু হতে পারত। সে অবস্থা হতে পারত আমাদের পর্যবেক্ষণ করা কালের সুসংজ্ঞিত তাপগতীয় এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক কালের তীরের পথিকৃৎ। কিন্তু এটা একই রকম ভালভাবে শুরু হতে পারত পিণ্ডপিণ্ড (lumpy) এবং বিশৃঙ্খল অবস্থায়। সেক্ষেত্রে মহাবিশ্ব থাকত সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থায়, সুতরাং কালের গতির সঙ্গে বিশৃঙ্খলা আর বাড়তে পারত না : হয় স্থির থাকত, নয়ত বিশৃঙ্খলা হ্রাস পেত। স্থির থাকলে কালের কোন সুসংজ্ঞিত তাপগতীয় তীর থাকত না। হ্রাস পেলে কালের তাপগতীয় তীরের অভিমুখ এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক তীরের অভিমুখ হত বিপরীত। আমাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে এ দুটি সম্ভাবনার কোনটিই মেলে না। আমরা কিন্তু দেখেছি চিরায়ত ব্যাপক অপেক্ষবাদ ভবিষ্যদ্বাণী করে নিজের পতনের। স্থান-কালের বক্রতা বৃহৎ হলে কণাবাদী মহাকর্ষীয় অভিক্রিয়া (quantum gravitational effect) গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং মহাবিশ্বের উত্তম বিবরণরূপে চিরায়ত তত্ত্বের অস্তিত্ব আর থাকবে না। মহাবিশ্বের আরম্ভ বুঝতে হলে কণাবাদী মহাকর্ষীয় তত্ত্ব ব্যবহার করতে হবে।

    আগের অধ্যায় আমরা দেখেছি কণাবাদী মহাকর্ষীয় তত্ত্বে মহাবিশ্বের অবস্থার বিবরণ দিতে হলেও বলতে হবে মহাবিশ্বের সম্ভাব্য ইতিহাসগুলোর অতীতের স্থান কালের সীমান্তে কিরকম আচরণ হত। ইতিহাসগুলো যদি সীমানাহীনতার শর্ত পূরণ করে অর্থাৎ তারা যদি আয়তনের সসীম হয় কিন্তু তাদের কোন সীমানা, কিনারা কিম্বা অনন্যতা যদি না থাকে তাহলে আমরা যা জানি না এবং যা জানা সম্ভব নয় তার বিবরণ দেয়ার অসুবিধা এড়াতে পারি। সেক্ষেত্রে কালের আরম্ভ হবে স্থান-কালের একটি নিয়মানুগ (regular) মসৃণ বিন্দু এবং মহাবিশ্ব তার সম্প্রসারণ শুরু করতে অত্যন্ত মসৃণ এবং নিয়মানুগ অবস্থায়। সেক্ষেত্রে মহাবিশ্ব সম্পূর্ণ সমরূপ হত না কারণ তাহলে কণাবাদী তত্ত্বের অনিশ্চয়তাবাদ লঙ্ঘিত হত। কণাগুলোর গতিবেগ এবং ঘনত্বে সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি হতে হত। কিন্তু সীমানাহীন অবস্থার নিহিতার্থ হল : এই হ্রাস-বৃদ্ধি হত যতটা সম্ভব অল্প তবে অনিশ্চয়তাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে।

    মহাবিশ্বের শুরুতে কিছুকাল অতি দ্রুত সম্প্রসারণ হত (exponential or inflationary)। আয়তনে মহাবিশ্ব বৃদ্ধি পেত বহুগুণ। এই সম্প্রসারণের সময় ঘনত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি প্রথমে কম থাকত কিন্তু পরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করত। যে অঞ্চলের ঘনতু গড় ঘনত্বের চাইতে সামান্য বেশি সেই সমস্ত অঞ্চলে অধিক ভরের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের জন্য সম্প্রসারণের হার হ্রাস পেত। পরিমাণে ঐ সমস্ত অঞ্চলের সম্প্রসারণ বন্ধ হত এবং চুপসে গিয়ে তৈরি হত নীহারিকা, তারকা এবং আমাদের মত জীব। মহাবিশ্ব শুরু হত মসৃণ এবং নিয়মানুগ অবস্থায় এবং কালের গতির সঙ্গে পিণ্ড পিণ্ড এবং বিশৃঙ্খল হত। এটাই হত কালের তাপগতীয় তীরের ব্যাখ্যা।

    কিন্তু যদি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হয়ে সঙ্কোচন শুরু হত, তখন কি হত? তাহলে কি কালের তাপগতীয় তীর বিপরীতমুখী হত? এবং কালের গতির সঙ্গে কি বিশৃঙ্খলা হ্রাস পেত? যারা সম্প্রসারণশীল অবস্থা থেকে সঙ্কোচনশীল অবস্থা পর্যন্ত বেঁচে থাকত তাদের সম্পর্কে নানা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মত সম্ভাবনার পথিকৃৎ হত এরকম ঘটনা। তারা কি পেয়ালার ভাঙা টুকরোগুলোর মেঝেতে একত্র হয়ে লাফিয়ে টেবিলে ফিরে যাওয়া দেখত? তারা কি শেয়ার বাজারে পরের দিনের দাম মনে রেখে অনেক টাকা রোজগার করে নিত? মহাবিশ্ব যখন আবার চুপসে যাবে তখন কি হবে তা নিয়ে মাথা ঘামানো একটু বেশি পণ্ডিতীর (academic) ব্যাপার হয়ে যাবে কারণ অন্তত এক হাজার কোটি বছরের আগে মহাবিশ্বের সঙ্কোচন শুরু হবে না। কিন্তু কি হবে সেটা জানবার একটি দ্রুততর পদ্ধতি আছে : কৃষ্ণগহ্বরে ঝাঁপ দেয়া। একটি তারকা চুপসে গিয়ে কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হওয়া অনেকটা সমগ্র মহাবিশ্বেরর চুপসে যাওয়ার শেষের অবস্থার মত। সুতরাং যদি মহাবিশ্বের সঙ্কোচনশীল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা হ্রাস পায় তাহলে আশা করা যেতে পারে কৃষ্ণগহ্বরের ভিতরেও বিশঙ্খলা হ্রাস পাবে। সুতরাং একজন মহাকাশচারী কৃষ্ণগহ্বরের ভিতর পড়ে গেলে হয়ত তিনি রুলেট (roulette এক ধরনের জুয়া ছোট ছোট বল দিয়ে খেলা হয়) খেলায় বলটা কোথায় গেছে বাজি ধরার আগেই সেটি মনে রেখে অনেক টাকা করতে পারবেন। কিন্তু তিনি দুর্ভাগ্যক্রমে বেশিক্ষণ খেলতে পারবেন না– তার আগেই তিনি স্প্যাঘেটি (এক ধরনের সেমাই) হয়ে যাবেন। তিনি কালের তাপগতীয় তীরের বিপরীতমুখী হওয়ার সংবাদও আমাদের দিতে পারবেন না কিম্বা বাজিতে জেতা টাকা ব্যাঙ্কে দিতেও পারবেন না। তার কারণ তিনি কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা দিগন্তের আড়ালে আটকে যাবেন।

    প্রথমে আমার বিশ্বাস ছিল মহাবিশ্ব পুনর্বার চুপসে গেলে বিশৃঙ্খলা হ্রাস পাবে। কারণ আমার ধারণা ছিল মহাবিশ্ব যখন আবার ক্ষুদ্র হবে তখন তাকে মসৃণ আর নিয়মানুগ অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। এর অর্থ হত সঙ্কোচনের দশা সম্প্রসারণের দশার কালিক বৈপরীত্যের মত হবে। সঙ্কোচনের অবস্থায় মানুষ তার জীবন যাপন করবে পশ্চাত্মখী হয়ে: জন্মের আগেই মৃত্যু হবে এবং মহাবিশ্ব যেমন সঙ্কুচিত হবে তারাও তেমন তরুণতর হবে।

    এ চিন্তনের আকর্ষণ আছে কারণ এর অর্থ হবে সঙ্কোচন দশা এবং সম্প্রসারণ দশার ভিতরে একটি চমৎকার প্রতিসাম্য (symmetry)। কিন্তু মহাবিশ্ব সম্পর্কিত অন্যান্য চিন্তন থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই চিন্তনকে শুধুমাত্র তার নিজস্বতা দিয়ে গ্রহণ করা যায় না। প্রশ্নটা হল : এ ধারণা কি সীমাহীন অবস্থার ভিতরে নিহিত আছে? না কি ঐ অবস্থার সঙ্গে এ ধারণা সঙ্গতিহীন? আমি আগে বলেছি– আমি ভেবেছিলাম সীমানাহীন অবস্থার ভিতরে এই চিন্তন নিহিত আছে যে সঙ্কোচনের দশায় বিশৃঙ্খলা হ্রাস পাবে। আমার ভুল হয়েছিল অংশত ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে উপমার (analogy) ফলে। যদি মহাবিশ্বের আরম্ভকে উত্তর মেরুর অনুরূপ বলে ধরে নেয়া হয় তাহলে অন্তিম অবস্থায় মহাবিশ্বের হওয়া উচিত আরম্ভের অনুরূপ, ঠিক যেমন দক্ষিণ মেরু উত্তর মেরুর অনুরূপ। উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর সঙ্গে মহাবিশ্বের শুরু এবং শেষের সাদৃশ্য কিন্তু কাল্পনিক কালে। বাস্তব কালে শুরু এবং শেষের ভিতরে খুবই পার্থক্য থাকতে পারে। মহাবিশ্বের একটি সরল প্রতিরূপ নিয়ে গবেষণায় চুপসে যাওয়া অবস্থাকে মনে হয়েছিল সম্প্রসারণশীল দশার কালিক বৈপরীত্যের মত। আমার ভুল হওয়ার একটি কারণ এই গবেষণা। কিন্তু সীমানাহীন অবস্থা হলেই যে সঙ্কোচনশীল দশা সম্প্রসারণশীল দশার কালিক বৈপরীত্য হবে এরকম কোন আবশ্যিকতা নেই। এ বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন আমার সহকর্মী পেনস্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডন পেজ (Don Page)। রেমন্ড লাগ্লাম (Raymond Laflamme) নামে আমার একজন ছাত্র তার গবেষণায় দেখলেন অন্য একটি সামান্য জটিল প্রতিরূপে মহাবিশ্বের চুপসে যাওয়া এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণে অনেকটা পার্থক্য। আমি বুঝতে পারলাম নিজের ভুল : সীমাহীন অবস্থার ভিতরে নিহিত অর্থ রয়েছে। সে অর্থ : সঙ্কোচনশীল দশায় বিশৃঙ্খলা বাড়তেই থাকবে। মহাবিশ্বের পূর্ণবার সঙ্কোচনের সময় কিম্বা কৃষ্ণগহ্বরের ভিতরে, কালের তাপগতীয় কিম্বা মনস্তত্ত্বভিত্তিক তীরের বৈপরীত্য (reverse) হবে না।

    নিজের এরকম একটি ভুল আবিষ্কার করলে আপনি কি করবেন? কিছু লোক কখনোই ভুল স্বীকার করেন না এবং তাঁরা নিজেদের মত সমর্থন করার জন্য নতুন নতুন যুক্তি খুঁজে বার করেন আর অনেক সময়ই যুক্তিগুলো হয় পরস্পর সামঞ্জস্যহীন। কৃষ্ণগহ্বর তত্ত্বের বিরোধীতা করার জন্য এডিংটন এরকমই করেছিলেন। আবার অনেকে দাবি করেন প্রথমত তারা কখনোই আসলে এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেননি কিম্বা। করলেও করেছেন ঐ দৃষ্টিভঙ্গি কতটা সামঞ্জস্যহীন সেটা দেখানোর জন্য। আমার মনে হয় যদি আপনি ছাপার অক্ষরে মেনে নেন যে আপনি ভুল করেছিলেন তাহলে ব্যাপারটা অনেক ভাল দেখায় আর বিভ্রান্তিও কমে। এর একজন ভাল উদাহরণ ছিলেন আইনস্টাইন। তিনি যখন মহাবিশ্বের একটি স্থির প্রতিরূপ গঠন করার চেষ্টা করেছিলেন তখন তিনি মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক ধ্রুবক উপস্থিত করেছিলেন। শেষে তিনি বলেছেন এটা ছিল তাঁর জীবনের সবচাইতে বড় ভুল।

    কালের তীরের প্রসঙ্গে ফিরে এলে একটি প্রশ্ন থেকে যায় : আমাদের পর্যবেক্ষণে কেন কালের তাপগতীয় তীর এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক তীরের অভিমুখ অভিন্ন হয়? কিম্বা অন্য কথায় বরা যায় : যে অভিমুখে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়, কেন সেই অভিমুখেই বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়? যদি একথা বিশ্বাস করা যায় যে সীমাহীনতার প্রস্তাবে যে অর্থ নিহিত আছে বলে মনে হয় সেই অনুসারে মহাবিশ্বে প্রথমে সম্প্রসারিত হবে এবং পরে সঙ্কুচিত হবে, তাহলে একটি প্রশ্ন আসবে : কেন আমাদের অবস্থান সঙ্কোচনশীল দশায় না থেকে সম্প্রসারণশীল দশায় থাকবে?

    দুর্বল নরত্বীয় নীতির ভিত্তিতে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া যেতে পারে। সঙ্কোচনশীল দশার অবস্থা এমন বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্বের উপযুক্ত হবে না যারা প্রশ্ন করতে পারে : যে অভিমুখে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল কেন সেই অভিমুখেই বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাচ্ছে? সীমানাহীনতার প্রস্তাব যে ভবিষ্যদ্বাণী করে তার অর্থ : আদিম মহাবিশ্বের স্ফীতির হার ছিল ক্রান্তিক হারের critical rate) খুব কাছাকাছি। সেই হারে পূর্ণবার চুপসে যাওয়া এড়ানো সম্ভব হবে এবং বহুকাল পর্যন্ত মহাবিশ্ব পূর্ণবার চুপসে যাবে না। ততদিনে তারকাগুলো পুড়ে শেষ হয়ে যাবে এবং সেগুলোর ভিতরকার প্রোটন, গাভিটন এবং নিউট্রিনো এবং বিকিরণে (radiation) রূপান্তরিত হবে। তখন মহাবিশ্ব থাকবে প্রায় সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থায়। কালের শক্তিশালী তাপগতীয় তীর থাকবে না। বিশৃঙ্খলা আর বাড়তে পারবে না। তার কারণ, মহাবিশ্ব তখন প্রায় সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থায়। কিন্তু বুদ্ধিমান জীবের ক্রিয়াকর্মের জন্য কালের শক্তিশালী তাপগতীয় তীর প্রয়োজন। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন। খাদ্য শক্তির একটি সুশৃঙ্খল রূপ। সেটি রূপান্তরিত হয় তাপে। তাপ শক্তির একটি বিশৃঙ্খল রূপ। সুতরাং মহাবিশ্বের সঙ্কোচনশীল দশায় বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। কালের তাপগতয়ি তীর এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক তীরের একই অভিমুখ আমরা কেন দেখতে পাই তার ব্যাখ্যা এটাই। ব্যাপারটা কিন্তু এরকম নয় যে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে বিশৃঙ্খলা বুদ্ধি পায়, বরং সীমানাহীন অবস্থাই বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি করে এবং সম্প্রসারণশীল দশাই শুধুমাত্র বুদ্ধিমান জীবের উপযুক্ত অবস্থা।

    সংক্ষেপে বলা যায় বিজ্ঞানের বিধি, কালের অগ্রগতি এবং পশ্চাঙ্গতির ভিতর কোন পার্থক্য করে না। কিন্তু কালের অন্তত এমন তিনটি তীর রয়েছে যেগুলো অতীত এবং ভবিষ্যতের ভিতর পার্থক্য করে। সেগুলো হল তাপগতীয় তীর অর্থাৎ যে অভিমুখে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়, মনস্তাত্ত্বিক তীর অর্থাৎ কালের যে অভিমুখে আমরা অতীত স্মরণ করি কিন্তু ভবিষ্যৎ স্মরণ করি না এবং মহাবিশ্বতত্ত্বভিত্তিক তীর অর্থাৎ যে অভিমুখে মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত না হয়ে সম্প্রসারিত হয়। আমি দেখিয়েছি মনস্তাত্ত্বিক তীর এবং তাপগতীয় তীর মূলত অভিন্ন, সুতরাং এই দুটি তীরের অভিমুখ সব সময়ই অভিন্ন হবে। মহাবিশ্বের সীমানাহীনতার প্রস্তাব কালের একটি সুসংজ্ঞিত তাপগতীয় তীরের অস্তিত্ব রয়েছে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করে, কারণ মহাবিশ্বের আরম্ভ মসৃণ এবং সুশৃঙ্খল অবস্থায় হওয়া আবশ্যিক এবং আমাদের পর্যবেক্ষণে তাপগতীয় তীর এবং মহাবিশ্বতত্ত্ব ভিত্তিক তীরের ঐক্যের কারণ : বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব শুধুমাত্র সম্প্রসারণশীল দশায়ই থাকতে পারে। সঙ্কোচনশীল দশা অনুপযুক্ত হবে, তার কারণে সে দশায় কালের কোন শক্তিশালী তাপগতীয় তীর থাকে না।

    মহাবিশ্ব বোঝার প্রচেষ্টায় মানবজাতির প্রগতি–যে মহাবিশ্বে বিশৃঙ্খলা বর্ধমান সেই মহাবিশ্বে একটি সুশৃঙ্খল কোণ (corner-? নীড়) সৃষ্টি করেছে। এ বইয়ের প্রতিটি শব্দ যদি আপনি মনে রাখেন তাহলে আপনার স্মৃতি প্রায় দু’মিলিয়ন (১০,০০,০০০ = এ মিলিয়ান) খণ্ড সংবাদ নথিভুক্ত করেছে, আপনার মস্তিষ্কের শৃঙ্খলা বেড়েছে দু’মিলিয়ান একক। তাবে এই বই পড়ার সময় অন্তত এক হাজার ক্যালরি খাদ্যরূপ সুশৃঙ্খল শক্তিকে আপনি তাপরূপ বিশৃঙখল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। এই পরিমাণ শক্তি ঘর্ম এবং পরিচলনের (পরিচলন– convection) ফলে দেহ থেকে আপনার চারপাশের বায়ুতে হারিয়েছেন। এর ফলে মহাবিশ্বের বিশৃঙ্খলা বাড়বে প্রায় কুড়ি মিলিয়ান, মিলিয়ান, মিলিয়ান, মিলিয়ান, একক অর্থাৎ আপনার মস্তিষ্কে যে শৃঙ্খলা বেড়েছে, তার দশ মিলিয়ান, মিলিয়ান, মিলিয়ান গুণ, অবশ্য আপনি যদি এ বইয়ের সবটাই মনে রাখেন। এতক্ষণ আমি যে সমস্ত আংশিক তত্ত্বের বিবরণ দিয়েছি কি করে লোকে সেগুলো সংযুক্ত করে মহাবিশ্বের সবকিছু ব্যাখ্যা করে এরকম সম্পূর্ণ একটি ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব গঠন করার চেষ্টা করছেন পরের অধ্যায়ে সেটা ব্যাখ্যা করে আমাদের পরিবেশের শৃঙ্খলা আর একটু বাড়াতে চেষ্টা করব।

    ——–
    ১. একধরনের সরল গণনাযন্ত্র — অনুবাদক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাকহোল – স্টিফেন হকিং
    Next Article কৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং

    Related Articles

    স্টিফেন হকিং

    কৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    ব্ল্যাকহোল – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    মাই ব্রিফ হিস্ট্রি (আত্মস্মৃতি) – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }