Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালো ঘুড়ি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প402 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ড্রাগনের মুখোশ

    একজনের গলা শোনা গেল, ‘ও মশাই শুনছেন?’

    সেই গলার শব্দ শুনে সৈকত তাকিয়ে দেখল, জানালার ওপাশে নিজেরই বাড়ির দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন বিশু মিত্তির৷

    তাঁকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়ে তাড়াতাড়ি জানলার কাছে গিয়ে সৈকত বলল, ‘হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? কোনো খোঁজখবর নেই, ফিরলেন কবে?’

    বিশুবাবু হেসে জবাব দিলেন, ‘আজই সকালে ফিরেছি৷ হঠাৎই একটা জিনিসের খবর পেয়েছিলাম৷ তার খোঁজে এক জায়গায় গিয়েছিলাম৷’

    ‘কী জিনিস?’

    বিশুবাবু কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন, ‘আপনি কি আমার বাড়ি এখন একবার আসবেন? তা হলে সেটা আপনাকে দেখাব৷’

    বিকেল হয়ে আসছে৷ সৈকতের এখন কোনো কাজ নেই৷ কয়েক সপ্তাহ গল্পগুজব হয়নি বিশুবাবুর সাথে৷ সে বলল, ‘আমি আসছি৷’

    সৈকত যে বাড়িতে ভাড়া থাকে, সে বাড়ি থেকে বিশুবাবুর বাড়ির পিছনের বারান্দার ব্যবধান হাত ছয়েকের৷ বিশুবাবুর বারান্দার মুখোমুখি দোতলার এ ঘরে মাস ছয়েক হল আছে সৈকত৷ একলাই থাকে সে৷ বিশুবাবুও একলাই থাকেন তাঁর প্রাচীন পৈতৃক বাড়িতে৷ এ পাড়ায় লোকজন কেউ কারোও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করে না৷ কিন্তু সৈকতের ঘরের জানলা আর বিশুবাবুর বারান্দা মুখোমুখি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বেশ একটা পরিচয় গড়ে উঠেছে৷ সৈকত বেশ কয়েকবার বিশুবাবুর বাড়ি গিয়েছে৷ বিশুবাবুর পার্কস্ট্রিটে একটা ছোটো কিউরিওশপ আছে৷ আর আছে এক অদ্ভুত শখ৷

    তাদের দু-বাড়ির মধ্যে অনুচচ একটা প্রাচীর আছে৷ বিশুবাবুর বাড়ি যেতে হলে তিনটে বাড়ি পেরিয়ে যেতে হয় সৈকতকে৷ সৈকতের বাড়ির ঠিকানা চার নম্বর হরিপদ মিত্তির লেন, আর বিশুবাবুর আট৷

    কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে এল সৈকত৷ কলকাতা শহরের মধ্যে আরও একটা লুকনো কলকাতা আছে, যেখানে শহরের লোকজনের কোলাহল, গাড়ি-ঘোড়ার শব্দ প্রবেশ করে না৷ সরু-সরু সব গলি৷ তার দুপাশে রোয়াক আর দোতলার ঝুল-বারান্দাওলা পুরনো দিনের সব বাড়ি৷ দেড়শো-দুশো বছর তাদের বয়স৷ বাড়িগুলোর পাখিতোলা দরজা-জানলায় শেষ কবে রং হয়েছে কেউ বলতে পারে না৷ সদর দরজার গায়ে খসে যাওয়া পঙ্খের কাজ, বা মাথার উপর ছোট্ট কুলুঙ্গিতে শুঁড়ভাঙা, রংচটা ছোট্ট গণেশমূর্তি৷ কোনো বাড়ির চিলেকোঠা থেকে বটের ঝুরি নেমেছে৷ কোনোটার বারান্দার রেলিং ভেঙে ফোকলা হয়ে গিয়েছে৷ গলির রাস্তায় লোকজন বিশেষ থাকে না৷ নির্জন দুপুরে মাঝে-মাঝে শুধু টানা রিকশার টুংটাং ঘণ্টার শব্দ বা ফেরিওয়ালার হাঁক শোনা যায়৷ উত্তর কলকাতায় সৈকতদের এ পাড়াটা অনেকটা এমনই৷

    তিনটে বাড়ি টপকে সৈকত পৌঁছে গেল বিশুবাবুর বাড়িতে৷ সদর দরজা দিয়ে সে বাড়িতে ঢুকতেই নিস্তব্ধ উঠোন থেকে একঝাঁক গোলা পায়রা ডানা ঝাপটিয়ে দোতলার কার্নিশের দিকে উড়ে গেল৷ উঠোন ঘিরে তিনদিকে সার-সার তালাবন্ধ ঘর৷ এক কোণের অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে সৈকত গিয়ে ঢুকল বিশুবাবুর বৈঠকখানায়৷ সে ঘরে টেবিলের ওপাশে নিজের চেয়ারে তিনি বসে ছিলেন৷ সৈকত তাঁর মুখোমুখি টেবিলের এপাশে বসে ঘরে চারপাশ একবার দেখল৷ এ ঘরে ঢুকলে বেশ অদ্ভুত লাগে সৈকতের৷ মাথার উপর কড়িবরগা থেকে টেবিলের উপর নেমে আসা সেকেলে ঝুলন্ত বাতির কাঁপা-কাঁপা আলোয় সার-সার মুখ যেন চারপাশের দেওয়াল থেকে চেয়ে থাকে সৈকতের দিকে৷ নানারকমের সব মুখ৷ আসলে এগুলো সব মুখোশ৷ সারা পৃথিবী থেকে এগুলো সংগ্রহ করে এনেছেন বিশু মিত্তির৷ এটাই তাঁর শখ৷ মহিষের শিংওয়ালা আফ্রিকান উপজাতিদের কাঠের মুখোশ, ভয়ঙ্কর দেখতে রংচঙে তিববতি অপদেবতার মুখোশ, মধ্যযুগের সৈনিকদের ধাতব মুখোশ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের ডামিরা যে মুখোশ পরত, সেই মুখোশ৷ নানারকমের মুখোশ টাঙানো বিশুবাবুর বৈঠকখানাকে মুখোশের জাদুঘর বললেও অত্যুক্তি হয় না৷ এমনকী, বিশুবাবুর নিজের মুখের মতো হুবহু দেখতে ল্যাটেক্সের তৈরি একটা মুখোশও তাঁর চেয়ারের ঠিক মাথার উপরই দেওয়ালের গায়ে টাঙানো আছে৷ কেউ যেন তাঁর মাথা কেটে দেওয়ালের গায়ে বসিয়ে দিয়েছে৷ ইউরোপের কোনো দেশ থেকে নিজের এই মুখোশটা বানিয়ে এনেছেন তিনি৷

    সৈকত দেওয়ালগুলোর দিকে তাকিয়ে নেওয়ার পর বিশুবাবুর উদ্দেশ্যে বলল, ‘আপনার অন্তর্ধান রহস্য সম্বন্ধে এবার বলুন৷’

    বিশুবাবু বললেন, ‘আমার মুখোশ সংগ্রহের বাতিকের কথা তো আপনার জানাই আছে৷ হঠাৎই এক অদ্ভুত মুখোশের খোঁজ পেয়ে আমি ছুটেছিলাম ভারত-ভুটান সীমান্তে এক জায়গায়৷’

    ‘সে কোন জায়গা?’ জানতে চাইল সৈকত৷

    বিশুবাবু জবাব দিলেন, ‘সে জায়গা ম্যাপে তেমনভাবে আঁকা নেই, ট্রেক করে যেতে হয়৷ আপনাকে বললে ঠিক বুঝবেন না৷ পাহাড় আর জঙ্গল-ঘেরা সে জায়গায় ভুটানিদের এক প্রাচীন মন্দির মানে, ‘প্যাগোডা’ আছে৷ ড্রাগন প্যাগোডা৷ ভুটানের প্রাচীন আদিবাসী শরচপরা থাকে সেখানে৷ ভারী অদ্ভুত তারা৷ যে-কোনো পশুপাখি বা মানুষের গলার স্বর তারা হুবহু নকল করতে পারে৷ তারা নিজেদের পরিচয় দেয় ‘ড্রাকো’ অর্থাৎ ‘ড্রাগন’ বলে৷ তারা যে ড্রাকো মুখোশ পরে, তা সংগ্রহ করতেই গিয়েছিলাম ওখানে৷’

    সৈকত বলল, ‘এই অদ্ভুত জায়গার খোঁজ আপনি পেলেন কোথায়? মুখোশটা কই?’ এই বলে সে ঘরের দেওয়ালগুলোর দিকে তাকাল সেটা খোঁজার জন্য৷

    বিশুবাবু কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন, ‘এমনিতে ড্রাকোরা এই জঙ্গুলে জায়গা ছেড়ে বেরোয় না৷ কিন্তু দু-একজন লোককে তারা মাঝে-মাঝে বাইরে পাঠায় সভ্য পৃথিবী থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করার জন্য৷ এক্ষেত্রে কিন্তু সভ্য পৃথিবী বলতে বোঝায় তরাইয়ের ছোটো-ছোটো গ্রাম৷ ওরকমই এক গ্রামে আমার এক এজেন্টের সঙ্গে এক ড্রাকোর যোগাযোগ হয়েছিল৷ আমি খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছবার পর সেই ড্রাকোই আমাকে নিয়ে যায় পাহাড়-জঙ্গল-ঘেরা তাদের আস্তানায়৷’

    কথাগুলো বলতে-বলতে বিশুবাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে আবার ফিরে এলেন নিজের আসনে৷ তারপর টেবিল সংলগ্ন দেরাজ থেকে মাঝারি আকারের একটা চামড়ার ব্যাগ বের করে টেবিলের উপর রাখলেন৷ তার ভিতর থেকেই বেরিয়ে এল মুখোশটা৷ ড্রাগনের মুখোশ! বিশুবাবুর ঘরে ভয়ংকর দেখতে আরও অনেক মুখোশ আছে, কিন্তু এমন বীভৎস-হিংস্র মুখোশ এর আগে দেখেনি সৈকত৷ আঁশে ঢাকা মুখোশের মাথার দু’পাশে আঁকা ভাঁটার মতো হিংস্র চোখ, স্ফিত নাসারন্ধ্র দিয়ে যেন আগুন বেরোচ্ছে, ছুঁচলো মুখমণ্ডলে হাঁ করা চোয়ালের উপর-নীচে সার-সার তীক্ষ্ণ দাঁত, আর তার ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে লকলকে রক্তাক্ত সরীসৃপের চেরা জিভ৷ সব মিলিয়ে মুখোশটা যেন জিঘাংসার প্রতিমূর্তি৷ সৈকত চমকে উঠল মুখোশটা দেখে৷

    বিশুবাবু বললেন, ‘ড্রাকোদের বিশ্বাস, এ মুখোশ পরলে নাকি অপদেবতাদের বশ করা যায়, নানা অতিপ্রাকৃত শক্তিকে জাগানো যায়!’

    সৈকত বলল, ‘এ মুখোশটা ওরা আপনাকে এমনিতেই দিয়ে দিল?’

    প্রশ্নটা শুনে বিশুবাবু খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘কিছু খরচ করতে হয়েছে, তবে তা বিশেষ কিছু নয়৷’

    আর এর পরই সৈকতকে তিনি বেশ কিছুটা অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আমি এই মুখোশটা কয়েক দিনের জন্য আপনার কাছে রাখতে চাই, আশা করি আপনি আপত্তি করবেন না?’

    সৈকত বলল, ‘ঠিক আছে৷ কিন্তু আমার কাছে রাখতে চাইছেন কেন?’

    মুখোশটা ব্যাগে ঢুকিয়ে তিনি বললেন, ‘আসলে এই দোতলাটা আমি রিপেয়ার করব৷ জিনিসপত্র সব সরাতে হবে৷ মুখোশগুলোও সব দেওয়াল থেকে নামাতে হবে চুনকাম করাবার জন্য৷ কয়েকদিন লাগবে কাজ মিটতে৷ এই মুখোশটা কয়েকদিন আপনার কাছে থাকুক৷ তারপর এটা এনে নতুন দেওয়ালে টাঙাব৷’

    সৈকত আর এ প্রসঙ্গে কথা বাড়াল না৷ বিশুবাবু এর পর তাঁর অনুপস্থিতির সময়কালে শহরের খোঁজখবর জানতে চাইলেন৷ এই নিয়ে আলোচনা শুরু হল৷ শীতের বেলা, ঘণ্টাখানেক গল্পগুজবের পর মুখোশের ব্যাগটা নিয়ে সৈকত যখন বাইরে বেরিয়ে এল, তখন অন্ধকার নামতে শুরু করেছে৷

    নিজের বাড়ির দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে যাচ্ছিল সৈকত৷ তখনই পিছন থেকে ইংরেজিতে একটা প্রশ্ন কানে এল, ‘মি. বিশু মিত্রর বাড়ি এটা?’

    সৈকত পিছন ফিরে দেখল গলির আধো-অন্ধকারে তার কয়েক হাত তফাতে দাঁড়িয়ে আছে একজন লোক৷ গায়ে একটা উইন্ডচিটার৷

    টুপিটা মুখের উপর এমনভাবে নামানো, লোকটা মুখ বোঝা যাচ্ছে না৷

    সৈকত জবাব দিল, ‘না, এটা ওঁর বাড়ি নয়, আপনি তিনটে বাড়ি পেরিয়ে যান৷ তারপর যে গলির মুখ, তাতে ঢুকে বিশু মিত্রর সদর দরজা৷’

    লোকটা তার কথায় মৃদু ঘাড় নেড়ে এগোল সে দিকে৷

    দুই

    বাড়ি ফিরে মুখোশের ব্যাগটা সৈকত যত্ন করে তার আলমারিতে রেখে দিল৷ পরদিন ভোরে উঠে আবার অফিসে ছুটতে হবে৷ সোমবার কাজের চাপ আবার বেশি থাকে৷ কাজেই রাত আটটা নাগাদ খাওয়া সেরে দরজা-জানলা বন্ধ করে শুয়ে পড়ল সৈকত৷ ঘণ্টা চারেক পর হঠাৎ যেন ঘুম ভেঙে গেল তার৷ সৈকতের মনে হল, বিশুবাবুর দোতলা থেকে যেন বার কয়েক আর্তনাদের শব্দ কানে এল৷ ঘুম চোখে উঠে জানলাটা খুলল সৈকত৷ কিন্তু সঙ্গে-সঙ্গেই সে আর্তনাদ যেন থেমে গেল৷ জানলার তফাতেই নিঝুম ভাবে দাঁড়িয়ে আছে বিশুবাবুর বাড়ি৷ কোনো আলো জ্বলছে না৷ হয়তো আর্তনাদের শব্দটা নিজের মনের ভুল৷ এই ভেবে শুয়ে পড়ল৷

    পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে অন্য একটা শব্দ শুনতে পেল সে, কোকিলের ডাক৷ বিশুবাবুর বারান্দার দিক থেকেই এসেছে৷ জানলা খুলতেই ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ল সৈকতের ঘরে৷ কিন্তু পাখির ডাকটা বন্ধ হয়ে গেল৷ পাখিটাকেও দেখতে পেল না৷

    সোমবার অফিসে কাজের বেশ চাপ থাকে৷ সপ্তাহের প্রথম দিন৷ সারাদিন আর বিশুবাবুর কথা মাথায় ছিল না সৈকতের৷ অফিস করে যখন সে পাড়ায় ফিরল, তখন গলির ল্যাম্পপোস্টে হলদেটে আলো জ্বলে উঠেছে৷ বিশুবাবুর বাড়ির কাছে এসে হঠাৎই কেন জানি তার মনে পড়ে গেল, গতকাল রাতে ঘুম চোখে শোনা আর্তনাদের কথা৷ বিশুবাবু তাঁর দোকান বন্ধ করে সাধারণত সন্ধের মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসেন৷ সৈকতরে এখন ফিরে তেমন কোনো কাজ নেই৷ তাই সে ঢুকে পড়ল বিশুবাবুর বাড়িতে৷

    ‘বিশুবাবু আছেন নাকি?’ হাঁক দিতে-দিতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে সৈকত পা রাখল বিশুবাবুর বৈঠকখানায়৷ নিজের চেয়ারে বসে কী যেন করছিলেন তিনি৷ সৈকত ঘরে ঢুকতেই চমকে উঠে তার দিকে তাকালেন তিনি৷ বিশুবাবুর মাথায় টুপি, গলায় মাফলার, হাতে দস্তানা৷

    সৈকত একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বিশুবাবুর মুখোমুখি বসে জানতে চাইল, ‘সেজেগুজে বসে আছেন, বাইরে বেরোবেন নাকি?’

    বিশুবাবু কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে, অস্পষ্ট ভাবে বললেন, ‘গলায় ভীষণ ব্যথা, ডাক্তার দেখাতে যাব৷’

    সৈকত দেওয়ালগুলোর দিকে তাকাতে-তাকাতে বলল, ‘পাহাড়ের দেশে গিয়েছিলেন তো, মনে হয় এটা তার রি-অ্যাকশন৷ দার্জিলিং থেকে ফিরে আমার একবার এরকম হয়েছিল৷’

    বিশুবাবু তার কথায় শুধু ঘাড় নাড়লেন৷

    সৈকত জানতে চাইল, ‘কোন ডাক্তারকে দেখাতে যাচ্ছেন?’

    বিশুবাবু আবার অস্পষ্টভাবে বললেন, ‘দেখি কাকে পাই? গলায় খুব ব্যথা৷ সরি, কথা বলতে পারছি না৷’

    তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন সম্ভবত বেরোবার জন্য৷

    সৈকত উঠে পড়ল৷ তারপর বলল, ‘ঠিক আছে, একটু সাবধানে থাকবেন৷ ওষুধপত্তর খেলেই ঠিক হয়ে যাবে৷’

    সৈকতের ইচ্ছে ছিল, রাতের চিৎকারের শব্দের ব্যাপারে একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করে৷ বিশুবাবু কথা বলার মতো অবস্থায় নেই বলে সে আর কথাটা জানতে চাইল না৷ কিন্তু ঘর ছাড়ার আগে আরও একবার দেওয়ালগুলোর দিকে তাকাতেই হঠাৎ কেন জানি তার মনে হল, এ ঘরে কী একটা জিনিস যেন অনুপস্থিত৷

    সৈকত বাড়ি ফিরে এল৷ খাওয়া সেরে অন্য দিনের মতো ঠিক সময় ঘুমিয়ে পড়েছিল সে৷ কিন্তু মাঝরাতে এদিনও ঘুম ভেঙে গেল তার৷ তবে চিৎকার শুনে নয়, জানলাটা ভালো বন্ধ হয়নি৷ পাল্লাটা একটু ফাঁক করা৷ ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে ঘরে৷ সৈকত উঠে জানলাটা বন্ধ করতে যেতেই তার এক চিলতে ফাঁক দিয়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল৷ চাঁদের আলো এসে পড়েছে সামনের কুয়াশামাখা বারান্দায়৷ সেই বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত ভাবে সৈকতের জানলার দিকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন বিশুবাবু৷ সৈকতের ঘরে বাতি নেভানো বলে তাকে দেখতে পাচ্ছেন না তিনি৷ কিন্তু স্পষ্টতই তার ঘরটা দেখার চেষ্টা করছেন তিনি! তবে কি বিশুবাবু এত রাতে তাকে খুঁজছেন? সৈকত এই ভেবে তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য পাল্লাটা খুলল, কিন্তু পরমুহূর্তেই বিশুবাবু অদৃশ্য হয়ে গেলেন কুয়াশামাখা ভুতুড়ে বারান্দার এক কোণে৷ আর এলেন না!

    ভারী আশ্চর্য ব্যাপার তো! তাঁর তো ঠাণ্ডা লেগেছে৷ মাঝরাতে ঠাণ্ডায় দাঁড়িয়ে তিনি কী করছিলেন? অমন ভাবে অদৃশ্যই বা হলেন কেন? সৈকতের ব্যাপারটা বোধগম্য হল না৷ জানলা বন্ধ করে আবার সে বিছানায় এল৷ কিন্তু ঘুম আর এল না৷ আরও কিছুক্ষণ পর প্রায় শেষ রাতের দিকে স্পষ্ট দু’বার আর্তনাদ শুনতে পেল সৈকত৷ আর স্পষ্টতই সেটা ভেসে এল বিশুবাবুর বাড়ির দিক থেকেই৷ গলাটাও যেন বিশুবাবুরই৷ খাটে উঠে বসল সৈকত৷ অনেক ভেবেও ব্যাপারটার সে সমাধান করতে পারল না৷ এক সময় কোকিলের ডাক শোনা গেল৷ বিশুবাবুর বাড়ির দিক থেকে৷ ভোর হয়ে এল৷

    অফিসে এদিন চাপ একটু কম ছিল৷ রাতে ঘুম হয়নি৷ টিফিনের পর চেয়ারে বসে একটু ঢুলছিল সৈকত৷ রাতের ব্যাপারটা মাঝে-মাঝেই মাথায় হানা দিচ্ছে৷ আশপাশের চেয়ারে বসে তার কলিগরা নিজেদের মধ্যে নানা কথা আলোচনা করছিল৷ কী একটা প্রসঙ্গে যেন একজন বলল, ‘আজকাল কলকাতা শহরে তো পাখিই দেখা যায় না!’

    কথাটা কানে যেতেই সৈকত ঢুলুনি অবস্থাতেই বলল, ‘আমাদের পাড়ায় কিন্তু আছে৷ আজ ভোরেও আমি কোকিলের ডাক শুনেছি৷ গতকালও এই ডাকে আমার ঘুম ভেঙেছে৷’

    এ কথা শুনে পাশের চেয়ারে বসা এক কলিগ বলল, ‘ঘুমের ঘোরে কী বলছেন মশাই! শীতের ভোরে কোকিল ডাকে? কোকিল তো বসন্তের পাখি!’

    ঢুলুনি কেটে গেল সৈকতের৷ লোকটা তো ঠিকই বলল৷ ব্যাপারটা তো তার মাথায় আসেনি৷ তার পাড়ায় শীতে কোকিল ডাকে কী ভাবে? রাতের আর্তনাদের মতো এটাও তো এক রহস্যময় ব্যাপার৷ সৈকত ভেবে নিল ফেরার পথে একবার সে বিশুবাবুর বাড়িতে ঢুঁ মারবে৷

    সন্ধের পর পাড়ায় ফিরে সে গিয়ে ঢুকল বিশুবাবুর বাড়িতে৷ তিনি তাঁর রিভলভিং চেয়ারে দেওয়ালের দিকে পিছন ফিরে বসে ছিলেন৷ সৈকত তার মুখোশ-ঘরে পা রাখতেই তিনি ‘আমি একটু আসছি’ বলে পাশের একটা ঘরে তাড়াতাড়ি ঢুকে গেলেন৷ সৈকতের ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগল৷ সে ঘরে বসে দেওয়ালের গায়ের মুখোশগুলো দেখতে-দেখতে বিশুবাবুর প্রতীক্ষা করতে লাগল৷ কিন্তু আজও কেন জানি তার মনে হল, এ ঘরে কী একটা জিনিস যেন নেই৷ কিন্তু ব্যাপারটা সে ধরতে পারল না৷

    মিনিট দশেক পরই বিশুবাবু ফিরে এসে নিজের চেয়ারে বসলেন৷ সিলিং থেকে নেমে আসা ফ্যাকাশে আলোয় তাঁর মুখটা কেমন যেন গম্ভীর মনে হল সৈকতের৷ সৈকত তাঁকে প্রথমে প্রশ্ন করল, ‘আপনার শরীর কেমন আছে?’

    ‘ভালো না,’ সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন তিনি৷

    একটু ইতস্তত করে সৈকত এর পর বলল, ‘আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি, কিছু মনে করবেন না৷ পরপর দু-রাত আপনার বাড়ি থেকে কেমন যেন চিৎকারের শব্দ শুনলাম৷ আপনারই তো গলা মনে হয়৷ ব্যাপারটা কী?’

    বিশুবাবু কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থেকে জবাব দিলেন, ‘আমি চিৎকার করিনি!’

    সৈকত একটু আমতা-আমতা করে বলল, ‘কিন্তু আমি তো স্পষ্ট শুনেছি…’

    বিশুবাবু এবার বেশ উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন, ‘বলছি তো, আমি ব্যস্ত আছি৷ বিরক্ত করবেন না৷ আপনি এখন আসুন৷’

    সৈকত হতভম্ব হয়ে গেল তাঁর ব্যবহারে৷ আর থাকা চলে না৷ ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নীচে নেমে এল৷ একতলার উঠোন অতিক্রম করে সে যখন সদর দরজার দিকে এগোতে যাচ্ছে, তখনই একতলার কোনো একটা বন্ধ ঘর থেকে সে শুনতে পেল একটা চিৎকার! কেমন যেন একটা গোঙানির শব্দ৷ গলাটা কার তা সে সঠিক ধরতে পারল না৷ তবে সেটা মানুষেরই গলার শব্দ৷ বিশুবাবু কাউকে তাঁর বাড়িতে আটকে রেখেছেন? রাতের শব্দটা তা হলে কি বিশুবাবুর নয়, সে লোকটারই আর্তনাদ? কিছু বুঝতে না পেরে সৈকত বেরিয়ে এল বাড়ি ছেড়ে৷ গলির মুখে পাশে বাড়ির রোয়াকে বসে ছিলেন অঘোরবাবু৷ একই পাড়ার লোক হিসেবে মুখ চেনাচিনি আছে তাঁর সঙ্গে৷ বিশুবাবুর সদর দরজা থেকে সৈকতকে বেরিয়ে আসতে দেখে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, ‘বিশুবাবু কি বাড়িতে চিড়িয়াখানা খুলেছেন? দু-দিন ধরে দুপুরবেলা নানারকম পশুপাখির ডাক শোনা যাচ্ছে?’

    সৈকত একটু থমকে গেল তাঁর কথা শুনে৷ তারপর ‘জানি না,’ বলে হাঁটা লাগাল নিজের বাড়ির দিকে৷

    তিন

    বাড়িতে ফিরে এল সৈকত৷ বেশ অপমানিত বোধ করেছে সে বিশুবাবুর ব্যবহারে৷ সে ভাবল তার কাছে রাখা মুখোশটা কালই ফিরিয়ে দেবে বিশুবাবুকে৷ আলমারি থেকে ব্যাগটা নিয়ে মুখোশটা বের করে সেটা সৈকত একবার দেখল৷ তারপর মুখোশটা টেবিলে রেখে দিল৷

    ঘরের কাজকর্ম, রাতের খাওয়া মিটে যাওয়ার পর বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সৈকত৷ জানলার পাল্লাটা ইচ্ছে করেই কিছুটা ফাঁক করে রেখেছে সে৷ সেটার ফাঁক দিয়ে বিশুবাবুর বারান্দা দেখা যাচ্ছে৷ ঘুম আসছে না সৈকতের৷ বিশুবাবুর বাড়ির ব্যাপারটা, তাঁর আচরণ বেশ গোলমেলে লাগছে৷ পুরো ব্যাপারটার মধ্যে নিশ্চিত কোনো রহস্য আছে৷ তাঁর বাড়ি থেকে আর্তনাদের শব্দ, পশুপাখির ডাক শোন যাচ্ছে কেন? অন্ধকার ঘরে শুয়ে রহস্যভেদের চেষ্টা করতে লাগল সে৷ বাইরে রাত বাড়তে লাগল, কুয়াশাও নামতে শুরু করল তার সঙ্গে৷ একটা কুকুর কোথায় যেন কেঁদে উঠল৷ পাড়াটা নিঝুম হয়ে গেল তারপর৷ এর কিছুক্ষণের মদ্যেই খাটে শোয়া অবস্থাতেই সৈকত দেখল, সন্তর্পণে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন বিশুবাবু৷ চাদর মুড়ি দেওয়া থাকলেও তাঁকে চিনতে পারল সৈকত৷ তারপর বিশুবাবু উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করলেন তার জানলার দিকে৷ সৈকত মড়ার মতো চুপচাপ শুয়ে তাকে লক্ষ করতে লাগল৷ বিশুবাবু মনে হয় এক সময় নিশ্চিন্ত হলেন সৈকত ঘুমিয়ে পড়েছে এই ভেবে৷ তিনি বারান্দা থেকে একটা লম্বা আঁকশি তুলে নিয়ে সেটা সৈকতের জানলার দিকে বাড়িয়ে তা দিয়ে পাল্লাটা বেশ অনেকটা ফাঁক করলেন৷ তারপর আঁকশি সরিয়ে নিয়ে একটা টর্চ বের করে আলো ফেললেন সৈকতের ঘরে৷ সরু টর্চের আলো সৈকতের দেহ ছুঁয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল ঘরের ভিতর৷ হঠাৎ আলোটা এসে থেমে গেল টেবিলের ওপর রাখা মুখোশটার ওপর৷ বিশুবাবুর মুখ থেকে চাদরটা খসে গিয়েছে৷ সৈকত দেখল, চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা বিশুবাবুর মুখটা কেমন যেন চকচক করছে৷ যেন আলো ফেলে এই জিনিসটা খুঁজছিলেন তিনি৷ আর এর ঠিক পরই হঠাৎ একটা চিৎকার ভেসে এল বিশুবাবুর বাড়ির ভিতর থেকে৷ ঠিক সেই মুহূর্তে সৈকতও উঠে বসে জানলা দিয়ে বলে উঠল, ‘বিশুবাবু ও বিশুবাবু, কী দেখছেন আপনি?’ পরমুহূর্তেই বিশুবাবু অদৃশ্য হয়ে গেলেন বাড়ির ভিতর৷

    সৈকত সঙ্গে-সঙ্গে মনস্থির করে নিল এখনই সে যাবে বিশুবাবার বাড়ি৷ একটা বোঝাপড়ার প্রয়োজন৷ টেবিল থেকে মুখোশটা তুলে নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় নেমে এল সৈকত৷ শীতের রাস্তায় একটা কুকুর পর্যন্ত নেই৷ কুয়াশা মাখা রাস্তায় খয়াটে আলো ছড়াচ্ছে ল্যাম্পপোস্ট৷ গলি দিয়ে এগিয়ে সৈকত সোজা গিয়ে ঢুকল বিশুবাবুর বাড়িতে৷ অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে বিশুবাবুর বৈঠকখানার দরজায় টোকা দিল সে৷

    কয়েক মুহূর্ত পর দরজা খুললেন তিনি৷ চোখে-মুখে স্পষ্ট অসন্তাোষের ছাপ৷ তিনি বললেন, ‘এত রাতে আবার এসেছেন কেন?’

    সৈকতও বেশ ঝাঁজের সঙ্গে জবাব দিল, ‘গল্প করতে আসিনি, কয়েকটা ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে এসেছি৷ কিছু প্রশ্ন আছে৷’

    ‘আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই,’ রুক্ষ ভাবে বললেন বিশুবাবু৷ এরপর তিনি সম্ভবত সৈকতের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিতে চাইছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই তাঁর নজর গেল সৈকতের হাতে ধরা মুখোশটার দিকে৷ তাঁর মুখের ভাব মুহূর্তের মধ্যে যেন বদলে গেল৷ বেশ মোলায়েম স্বরে তিনি বললেন, ‘দিন, মুখোশটা আমাকে দিন!’

    সৈকত বলল, ‘এটা দিতেই তো এসেছি৷ কিন্তু তার আগে আমার প্রশ্নের জবাব দিতে হবে৷ আপনি আমার জানলায় লুকিয়ে উঁকি মারেন কেন? একটু আগে আঁকশি দিয়ে জানলা ফাঁক করে টর্চের আলো ফেলছিলেন কেন?’

    বিশুবাবু কোনো জবাব না দিয়ে কয়েক পা পিছিয়ে টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলেন সৈকতের দিকে৷ সৈকত ঘরে ঢুকে কয়েক পা এগিয়ে তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এর পর বলল, ‘আরও প্রশ্ন আছে৷ আপনার বাড়ি থেকে ইদানীং নানা ধরনের পশুপাখির ডাক শোনা যায় কেন? সবচেয়ে বড়ো কথা, রাতের বেলা কার চিৎকার ভেসে আসে আপনার বাড়ি থেকে?’

    বিশুবাবু একই রকম চুপ করে রইলেন৷

    সৈকত এক ঝলকে তাকিয়ে নিল ঘরের চারপাশ৷ মুহূর্তের জন্য তার মনে হল, কী একটা জিনিস যেন ঘরে নেই৷ ব্যাপারটা সে ধরেও ধরতে পারছে না৷

    বিশুবাবুকে চুপ করে থাকতে দেখে সে বলল, ‘আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু পেলাম না৷ কার চিৎকার শোনা যায়? আমার ধারণা, আপনি এ বাড়িতে কাউকে আটকে রেখেছেন৷ চিৎকারটা তারই৷ লোকটা পশুপাখির ডাক নকল করতে পারে৷ সম্ভবত সে সেই জায়গার লোক, যেখান থেকে মুখোশটা আপনি এনেছেন৷ কিন্তু তাকে আটকে রেখেছেন কেন?’

    বিশুবাবু তার কথা শুনে এবার কয়েক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন৷ তারপর বললেন, ‘আপনার প্রশ্নের জবাব পেলে সত্যি মুখোশটা আমার হাতে দেবেন তো?’

    ‘হ্যাঁ, দেব৷’ জবাব দিল সৈকত৷

    বিশুবাবু আর কোনো কথা না বলে ইশারায় তাকে অনুসরণ করতে বললেন৷

    ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে নেমে এলেন তিনি৷ তাঁর পিছনে সৈকত৷ একতলার বারান্দার শেষ প্রান্তে একটা তালাবন্ধ ঘরে সামনে এসে বাইরে থেকে সুইচ টিপে ঘরের ভিতরের আলো জ্বালালেন তিনি৷ তারপর চাবি বের করে তালা খোলার আগে সৈকতকে তিনি বললেন, ‘দিন, মুখোশটা এবার দিন৷ আপনার সব কৌতূহলের নিরসন করছি আমি৷’ সৈকতের মনে হল, বিশুবাবুর গলাটা এবার কেমন যেন অন্যরকম শোনাল৷ সৈকত আর কথা না বাড়িয়ে এবার মুখোশটা তুলে দিল তাঁর হাতে৷

    তালা খুলে ঘরে ঢুকল দুজন৷ ঘরের এক কোণে ধুলোর মধ্যে শুয়ে ছিল হাত-পা বাঁধা একজন লোক৷ তারা ঘরে ঢুকতেই লোকটা হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল৷ আর সে লোককে দেখেই চমকে গেল সৈকত৷ আরে, এও তো বিশুবাবু! দুজন বিশুবাবু! একজন তার পাশে দাঁড়িয়ে, আর-একজন দড়ি বাঁধা অবস্থায় মেঝেয় বসে৷ কেমন করে সম্ভব?

    আর এর পরই সৈকতের পাশে দাঁড়ানো বিশুবাবু হঠাৎ একটানে খুলে ফেলল তার মুখোশটা৷ সৈকতের পাশে এবার দাঁড়িয়ে আছে অন্য একটা লোক৷ তার চ্যাপ্টা নাক, নরুনচেরা চোখ, মাথায় ছোটো ছোটো চুল৷ ঠিক পাহাড়ি লোকদের মতো দেখতে৷ সৈকত এবার বুঝতে পারল, কেন তার বিশুবাবুর বৈঠকখানায় ঢুকলে মনে হচ্ছিল, কী একটা জিনিস যেন সে ঘরে নেই৷ যা ছিল না তা হল বিশুবাবুর সেই ল্যাটেক্সের মুখেশটা, যা পরে এতক্ষণ বিশুবাবু সেজেছিল তার পাশে দাঁড়ানো লোকটা৷ সে লোকটা এবার নিজেই সৈকতের উদ্দেশে বলল, ‘আমার নাম ড্রাকো থুপা৷ সেদিন আমিই আপনার কাছে এ বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছিলাম৷ আপনাকে এ বাড়ি থেকে বেরোতে দেখে পরে আমার ধারণা হয়েছিল যে, আপনার বাড়িতেই আমাদের এই পবিত্র মুখোশটা চালান করেছেন বিশু মিত্তির নামে এই লোকটা৷ আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার দিন আপনি একটা ব্যাগ নিয়ে এ বাড়ি থেকে আপনার বাড়িতে ফিরছিলেন৷ মুখোশের খোঁজেই আপনার ঘরে টর্চের আলো ফেলেছিলাম৷ আমাকে ক্ষমা করবেন৷ বিশুবাবু সেজে আপনাকে প্রতারিত করবার ইচ্ছে আমার ছিল না৷ বাধ্য হয়ে কাজটা করতে হয়েছে৷’

    সৈকত এবার লোকটার দিকে তাকিয়ে, আর একবার বিশুবাবুর দিকে তাকিয়ে বিস্মিত ভাবে লোকটাকে বলল, ‘এ সবেরে কী মানে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না৷ বিশুবাবুকে কেন আপনি আটকে রেখেছিলেন?’

    লোকটা এবার বিশুবাবুর দিকে তাকিয়ে প্রথমে বলল, ‘এসব কথা ওঁকে জিজ্ঞেস করুন৷’ তারপর বলল, ‘উনি মুখোশটার খোঁজ দিচ্ছিলেন না, তাই৷ বিশ্বাস করে এ লোকটাকে আমার সঙ্গে আমার গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের এই পবিত্র মুখোশ মন্দির থেকে চুরি করে উনি পালিয়ে এলেন৷ তবে ওঁর মনে হয়, ধারণা হয়েছিল হয়তো আমি ওঁর পিছু নিতে পারি, তাই মুখোশটা আপনার কাছে উনি পাচার করে দিলেন৷ আমার কথা বিশ্বাস না হলে আপনি আমার সঙ্গে আমার গ্রামে যেতে পারেন৷’

    সৈকত লোকটার কথা শুনে বিশুবাবুকে জিজ্ঞেস করল, ‘এ কি ঠিক বলছে?’

    সৈকতের কথার জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলেন বিশু মিত্তির৷ সৈকত বুঝল, লোকটার কথা সম্ভবত মিথ্যে নয়৷ ড্রাকো থুপা নামের লোকটা এরপর সৈকতকে বলল, ‘পশুপাখির ডাকগুলো নিশ্চয়ই আপনার সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছিল? আসলে আমরা প্রকৃতির সন্তান, ওগুলো আমাদের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে৷ এবার আমি যাচ্ছি৷ অনেক দুর্গম পথ আমাকে পাড়ি দিতে হবে৷’

    সৈকত বাধা দিল না৷ মুখোশটা নিয়ে ঘর ছেড়ে উঠোন পেরিয়ে বাইরে কুয়াশায় হারিয়ে গেল লোকটা৷

    মাথা নিচু করে বসে বিশুবাবু৷ সৈকত তাঁর বাঁধন খুলে দিয়ে কোনো কথা না বলে সে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এল৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকর্ণসুবর্ণর কড়ি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article একদা এক পানশালাতে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }