Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. পেঁপের আঠার ফোঁটা

    এক চামচ গ্লুকোজে পেঁপের আঠার ফোঁটা ফেলে আমাকে খাওয়াতে মা। কোনো কোনোদিন আবার কুমারেশ, কিংবা কালমেঘের বড়ি। বেলপোড়া, বেলের মোরব্বা, কিংবা চুনের পানি, এইসবও চলতো। ঘুম থেকে উঠে সকালে খালি পেটে খেতে হতো।

    পোকা, এই ছিল আমার ডাক নাম। কেনারাম বাবুর দেওয়া নাম। তিনি ছিলেন আব্বার বন্ধু। আমরা ডাকতাম কাকা।

    কেনারাম বাবুকে নিয়ে একটা ছড়া প্রচলিত ছিল:

    কেনারাম কিনে আনে
    তুলারাম তুলে রাখে
    ফেলারাম ফেলে দেয়
    বেচারাম বেচে দেয়

    কেনারাম কাকাই জানেন আমার নাম পোকা দিয়েছিলেন কেন। পোকা, পোকা, পোকা আছিস– এই বলে তিনি হাঁকডাক শুরু করে দিতেন।

    আমি বেরুলে বলতেন, যা, জুতো পায়ে দিয়ে আয়।

    কেনারাম কাকা আমার হাত ধরে হাতিপুকুরের দিকে যেতেন। হাতিপুকুরের গোটা এলাকাটা বিশাল বিশাল রেনট্রিতে ঘেরা ছিল। আর ছিল গুলোর। গাছগুলোর নাম তার মুখ থেকেই শোনা, গাছাগাছড়ার কতো নাম যে মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। এখানে সেখানে বড় বড় গাছের ছায়ায় বিছিয়ে থাকতো তেঁতুলের মতো শুকনো ফল; সেগুলো গরু-ছাগলের খুব পছন্দের ছিল।

    হাতিপুকরের ঠিক মাঝখানে ঢিপির মতো দ্বীপ। লোহার সাঁকো পেরিয়ে সেখানে যেতে হতো। ঢিপির চূড়ায় গোল চবুতারার নিচে বেদি ছিল, সেখানে আমরা বসতাম।

    ওখানে বসে বসে দ্বীপের গায়ের এক একটা গাছের দিকে আঙুল তুলে কেনারাম কাকা বলতেন, ঐ যে গন্ধরাজের মতো যেটা দেখছিস, ওটা হলো গিয়ে তোর হিং গাছ, আর ঐ যে পামের মতো যেটা, ওটা হচ্ছে গিয়ে তোর সাবুদানার গাছ।

    ফেরার পথে বলতেন, কি খাবি, পান্তুয়া না রসগোল্লা?

    আরও দেখুন
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    সেবা প্রকাশনীর বই
    পিডিএফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ইসলামিক বই
    অনলাইন বই
    বাংলা বই
    ই-বই ডাউনলোড

    বলতাম, রসমঞ্জরি!

    ওই সময় কোনো একটা ব্যাপার নিয়ে আব্বার সঙ্গে তার অবনিবনা চলছিল, কথাবার্তা বন্ধ ছিল দুজনের। পরে অবশ্য ওসব মিটে যায়।

    মাঝে মাঝে ইরানি জিপসিদের তাবু পড়তো হাতিপুকুরের পাড়ে। কুঁচিওলা ঘাঘরা পরা লম্বা লম্বা বেণী ঝোলানো মেয়েরা মাথায় ফুটতোলা রুমাল বেঁধে কামসুতোর দড়ি পাকাতো। ছুরি, কাঁচি, নানা রঙের পাথর আরমার চুলের গুছি, এইসব নিয়ে তারা ঝঝ দুপুরে বাড়ি-বাড়িতে ঘুরতো।

    মনে আছে, একদিন ভরদুপুরে মাথায় রুমাল জড়ানো এক জিপসি মেয়ে কিভাবে আমাদের ভয় দেখিয়েছিল। জামার ভেতর রঙিন পুঁতির মালা বের করে ফিসফিসিয়ে মেয়েলোকটি মাকে বললে, বাহোৎ কিমতি, বাহোৎ বাহোৎ কিমতি, সস্তেমে দে দেতা, লেলো, লেলো–

    মার কোনো উৎসাহ না দেখে সে আবার বললে, কিসিকোত বোলনা মাৎ, সেরেফ দাশ রুপেয়া, লেও–

    আরও দেখুন
    Books
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা গল্প
    PDF
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    বাংলা সাহিত্য

    মার দরোজা বন্ধ করার উদ্যোগ দেখে সে ফস করে কোমরে গোঁজা ছুরি বের করলে। ভয়ে তো আমাদের হাতে-পায়ে খিল ধরা অবস্থা। সেই পুঁতির মালা শেষ পর্যন্ত মাকে নিতে হয়েছিল।

    আর একবার একটা কাণ্ড ঘটেছিল। হঠাৎ এক দুপুরে এসে হাজির চিমটেওলা এক সাধু, সারা গায়ে ছাইমাখা, মাথায় গিটবাধা খোঁপা। বললে, মানস সরোবর থেকে আসলাম

    মা একটা আধুলি দিলে আমার হাতে, বললে যা দিয়ে আয়—

    সাধু বললে, আমি ভিক্ষে নিই না।

    মা জিজ্ঞেস করলে, তাহলে আপনি কি চান?

    তোর ঘরে না একটা সিন্দুক আছে কাঠের?

    মা আমতা আমতা করে বললে, আছে, আমরা তাতে লেপতোষক রাখি—

    আরও দেখুন
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা উপন্যাস
    ই-বই ডাউনলোড
    বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ

    জানি জানি, সবই জানি, না জানলে আর বলছি কিভাবে! তুই একটা বোকা সাধু হেসে বললে, লেপ-তোষক দিয়ে ওটাকে ভরিয়ে রেখছিস! আমি ইচ্ছে করলে তোর ঐ সিন্দুকটাকে টাকায় ভরে দিতে পারি।

    সব শুনে মা হাঁ হয়ে গিয়েছিল।

    শুধু একটা ফুঁ! যে টাকায় ফুঁ দেব সেটা এক লক্ষ গুণ বেড়ে যাবে–

    কুড়িয়ে-বাড়িয়ে গুচ্ছে নোট এনে সামনে ধরে মা। ফুঁ দেবার পর সাধু বললে, গোপন রাখার কথাটা, বলবি না কাউকে, রাত ঠিক দুটোর সময় টাকায় আর যাবে সিন্দুক।

    মেঝের ওপর টাকাগুলোকে ছড়িয়ে দিয়ে দুহাতে ঘেঁটে দিলে সাধু।

    কিন্তু সে রকম কিছু ঘটেনি।

    রাতে বারবার উঠে মার সিন্দুক খোলাখুলি দেখে আব্বা সম্ভবত কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছিল। বললে, আসলটা গুণে দ্যাখো–

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইন বুক
    বইয়ের
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা বই
    বাংলা কবিতা
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    নতুন উপন্যাস

    সে হিসেব মার নিজেরও জানা ছিল না। কৌটো-কাটা, বিছানার তলা, বাক্স, শাড়ির ভাঁজ, এইসব হাতড়ে যেখানে যা পেয়েছিল, তাই হাজির করেছিল সাধুর সামনে। তবে বহু টাকাই যে হাতসাফাই হয়ে থােয়া গিয়েছিল তা ধরতে কোনো অসুবিধে হয়নি।

    মাকে ঠকানো খুব সহজ ব্যাপার ছিল। কেঁদে পড়লেই হলো। চাল-ডাল, পুরনো কাপড়, আলুটা পেঁয়াজটা বিলানো এসব তো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। খুব সহজেই মানুষের মুখের কথা বিশ্বাস করে ফেলতো মা। এভাবে প্রায়ই একে-তাকে বাড়িতে আশ্রয় দিত। তারপর দুচারদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল এটা-ওটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যথারীতি নতুন মানুষটিও উধাও।

    আমরাও নানারকমে মাকে ঠকাতাম। টিপু ভাইজান ও মনি ভাইজান যোগসাজশ করে প্রায়ই বোকা বানাতো মাকে। অনেক সময় রানিবুবু বুঝতে পেরে সব ফাঁস করে দিত মার কাছে। ঝগড়াফ্যাসাদ কম হয়নি এসব নিয়ে।

    এই রকম কতো কি!

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    গ্রন্থাগার সেবা
    Library
    বাংলা ভাষা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা সাহিত্য
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অডিওবুক

    শীতকালের সকালে মাঝে মাঝে পুকুরের কোণে জোড়া কুলগাছের তলায় মাদুর পেতে আসন গেড়ে বসে দুলে দুলে রিডিং পড়তো সবাই পাল্লা দিয়ে। আব্বা ডুবে থাকতো ডিকশেনারির ভেতর। কোনো কোনোদিন আবার বসে মটরশুঁটি ছিলতো। ছোলা হয়ে গেলে বলতো, পোকা যাও, তোমার মাকে দিয়ে এসো। আর কিছু ছোলার থাকলে তাও নিয়ে আসবে।

    কুলগাছতলায় বসেই দুধ-মুড়ি থিন এ্যারারুট বিস্কুট, এইসব খাওয়া চলতো। তখনো বইপত্তর ছুঁইনি, মাঝে মাঝে কেবল শ্লেটপেন্সিল নিয়ে মাছ আর হিজিবিজি কাগাবগা আঁকি।

    আমাদের একপাশে ছিল কলকাতার বাবুদের বিশাল বাগান, নন্দনকানন। বাগান দেখাশোনার জন্যে কুঁড়েঘর তুলে বসবাস করতো সাঁওতালরা। ওদের ডাকতে হতো সর্দার বলে। কাঠবিল্লীর ওপর ছিল ওদের ভারি লোভ, চোখে পড়লে আর রক্ষে নেই, ঘচাং করে তীর মেরে তাকে মাটিতে ফেলবে। মাঝে মাঝে দেখা যেতো তারা দল বেঁধে শিকার থেকে ফিরছে; কাঁধের বাঁশে ঝোলানো বুনো শুয়োর, বনবিড়াল আর কাঠবিল্লী। ওদের কুকুরগুলো ছিল বেজায় রাগী।

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ভাষা
    অনলাইন বই
    বই পড়ুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ইসলামিক বই

    আমাদের আশুচাচাও একজন ডাকসাইটে শিকারী ছিলেন। সাঁওতালদের নিয়ে তিনি বছরে দুএকবার শিকারে বেরুতেন। খোলা জিপগাড়ির মাথায় বাঘ শুইয়ে বল্লমধারী সাঁওতালদের নিয়ে তিনি সবগুলো রাস্তায় চক্কর দিতেন। বিশেষ করে এস.ডি.ও আর মনুসেফ সাহেবের কুঠির সামনে পৌঁছানোর পর সাঁওতালদের হৈ হৈ রৈ রৈ আরো বেড়ে যেতো। হরিতলার মোড়ে এলে কিছুক্ষণের জন্যে গাড়ি থামাতেন। তারপর যখন দেখতে না দেখতে মাছির মতো চারপাশে চাক বাঁধাতো মানুষজন, তখন ব্যস্ত হয়ে বলতেন, আঃ কি মুশকিল! ভিড় ছাড়ো, ভিড় ছাড়ো, কি এমন দেখার আছে।

    হরিতলায় একটা টিউবওয়েল ছিল। উড়ে নটবরকে প্রায় সারাদিনই দেখা যেতো কল পাম্প করতে। অনেক বাড়িতেই সে সময় টিউবওয়েল ছিল না। তার কাজ ছিল গালের একপাশে পানের ঢিবলে খুঁজে বাঁকে করে বাড়ি বাড়িতে পানি পৌঁছে দেওয়া। সে বেচারা ছিল ভারি ভালো মানুষ। ভালো মানুষ পেয়ে অনেকেই তার পেছনে লেগে থাকতো। আমাদের মনি ভাইজানও তাদের ভেতের একজন। নটবর উড়েকে দেখলেই সে ধক্কা মারিবি ধক্কা মারিবি, তংকা মারিবি কাঁই–বলে চিৎকার করে দৌড়ে একদিকে পালিয়ে যেতো।

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বইয়ের
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    Books

    সবকিছু ছিল থিতানো। কোথাও কোনো কোলাহল নেই, উপদ্রব নেই; থাকলেও সব বোঝার মতো বয়েস হয়নি তখনও।

    দিন দিন একটু একটু করে রাস্তাগুলো চোখের সামনে বড় হয়, আলো-বাতাসের ভেতর নানা রঙের পালক ভেসে বেড়ায়, জানা হয়ে যায় অনেক বাড়ি, তাদের নাম। দত্তবাড়ি, মিত্তিরবাড়ি, ঘোষালবাড়ি, বোসবাড়ি, গোদবুড়ির বাড়ি, করিমন বিবির বাড়ি, এসবই ততদিন চেনা হয়ে গেছে।

    মাঝে মাঝে আমরা থলে নিয়ে করিমন বিবির জঙ্গলে ডোবা বাগান গিয়ে হাজির হতাম। তার বাড়ির কাশীর পেয়ারা ঐ অঞ্চলে আমাদের জন্মাবার বহু আগে থেকেই বিখ্যাত ছিল।

    হাঁকডাক শুনে একচালা মাটির ঘরের ভেতর থেকে ছেড়া ধুন্ধুড়ি মাকা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে থক খক করে কাশতে কাশতে বেরিয়ে আসতো বুড়ি। বলতো, কি চাইগ কেঁাকারা, এ্যামন হুমদাম নাগিয়েচো ক্যানো!

    পেয়ারার কথা শুনে বলতো, আগে দেকেনি পয়সা কতো এনেচো, দাও–

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    গ্রন্থাগার
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ

    প্রতিবারই বরাদ্দ ছিল সিকি। কাঁপা কাঁপা হাতে পয়সা নিয়ে বলতো, না বাপু, এ্যাতো কোমে কিভাবে দিই বনো দিকিনি! তা কোনো বাড়ির ছেনে তোমরা?

    শোনার পর বলতো, এয়েচো যকোন ফেরাবো না। মাকে বোনো, এরপর থেকে এক টাকার কোমে আমি প্যায়রা দিতি পারবো না।

    প্রতিবারই এইরকম হতো। বুড়ির কেউ ছিল না। ছানি পড়েছিল চোখে। দুতিন গণ্ডা পেয়ারার নাম করে মনি ভাইজান থলে ভরে পেয়ারা পেড়ে নিত। বুড়ির আন্দাজ ছিল সাঙ্ঘাতিক।

    এইরকম আরো একজন ছিল। গিরিবালা। মুখময় তার গুটিবসন্তের দাগ। মাঝে মাঝে আমরা তার ফাইফরমাশ খেটে দিতাম। চলাফেরার তেমন ক্ষমতা ছিল না বুড়ির। আমাদের কাউকে দেখলে মাঝে মাঝে ডেকে বলতো, ও ড্যাবরাচোখে খোকা, আমারে পেঁচোর দোকান থেকে এক পয়সার ইসবগুলের ভুষি এনে দিবি বাবা–

    কোদালদেঁতো, খ্যাংরাকাঠি, দেঁতোমাণিক, লগিঠেঙো, পেত্নী চোঁষা, কোমরভাঙা, হুপো—এইভাবে এক একজনকে এক এক নামে ডাকতো বুড়ি।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    Library
    বাংলা বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা অডিওবুক

    আমাকে বলতো, হরে ড্যাবরাচোখো, বে করবি আমারে, তোরে আমার ভারি পচন্দ।

    গিরিবালাকে আমরা নাম ধরেই ডাকতাম। বলতাম, গিরিবালা, ও গিরিবালা–

    ভেতর থেকে বুড়ি বলতো, গিরিবালা মরেচে—

    মনি ভাইজান বলতো, শ্মশানে যাবি?

    তোর সঙ্গে সমরণে যাবো, নিবি?

    বছরে একবার একটা অন্ধ ফকির আসতো, ফেদু। দেশ ফরিদপুর।

    তার নাম করে ফেতরার পয়সা ভোলা থাকতো। সে এসে একরাত থেকে যেতো। আমরা তার কাছে নানান রকমের গল্প শুনতাম। সে বলতো ভূত ধরার মন্ত্র জানে। বলতো, বড়শিতে কাঁচা মাছ গেঁথে বাঁশের ছিপ দিয়ে সে নাকি একসময় বাড়ি বাড়ি ভূত ধরেছে।

    আরও দেখুন
    নতুন উপন্যাস
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ভাষা
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বিনামূল্যে বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা গল্প
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ

    তার ঝোলায় একটা রাক্ষসের শিং ছিল; তার ভেতরে খুচরো পয়সা ভরে মুখে ছিপি এঁটে রাখতো। একটা কৌটোয় সুগন্ধি কবিরাজি বড়ি ভরা থাকতো; কাশির দোষ থাকায় সে ঐ বড়ি গালে রাখতো। চাইলে একটার বেশি কখনোই দিত না। একবার মনি ভাইজান ফেদুর কৌটোর সব বড়ি বেমালুম সাবাড় করে দিয়েছিল।

    ছোলাভাজা, মটরভাজা, কিংবা আখ চিবুতে চিবুতে গিরিবালার দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে মনি ভাইজান ডাকতো, গিরিবালা, ও গিরিবালা–

    গিরিবালা গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করতো, কে র‍্যা?

    মনি ভাইজান বলতে, আমি তোর বর, মনি—

    ওরে আমর ধম্মোপুত্তুর র‍্যা?

    মটরভাজা এনেছি খাবি?

    আরও দেখুন
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বিনামূল্যে বই
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    Library
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ভাষা

    মন খারাপ থাকলে এক একদিন হাউমাউ করে কান্নাকাটি জুড়ে দিত। অকারণেও অনেক সময় তাকে এইভাবে পা ছড়িয়ে বসে কপাল ঠুকে বিলাপ করে কাঁদতে দেখা যেতো।

    মনি ভাইজান তখন বলবে, দ্যাখো দ্যাখো, কি সুন্দর বুড়ির গানের গলা!

    মর আবাগীর ব্যাটা, মর! তোর ওলাউঠো হোক, জিব খসে পড়ক–গিরিবালা সুর করে এইসব জুড়লে মনি ভাইজান পকেট থেকে ভেলিগুড়ের প্যাকেট বের করে তার হাতে দিত। মনি ভাইজানের অভ্যেস ছিল চাল-তেল-চিনি সকলের অগোচরে বাড়ি থেকে সরানো। গিরিবালা খুব খুশি হলে মনি ভাইজানের গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতো, অ সোনা, অ মাণিক, রাজচক্কোত্তি হ বাপ, রাজকপালে হ বাপ, আমার মতো ফুটোকপালে যেন কেউ না হয়–

    তিনকুলে কেউ ছিল না বুড়ির। একটা পলস্তারা খসা দোতলা বাড়ির কোণের ঘর আগলে কিভাবে যে পড়ে থাকতো। উঠোনময় ছিল জঙ্গল। উঠোনের পাঁচিলের গা ঘেঁষে একটা কাঁঠাল গাছ, সেখানে আস্তানা ছিল তক্ষকের। মাঝে মাঝে তক্ষকটা যখন ডেকে উঠতো, তখন গোটা উঠোন, উঠোন ঘেঁষা বাড়িটা, কেমন যেন হা হা করে উঠতো সবকিছু। উঠোনের জঙ্গলের ভেতর রাশি রাশি তারার মতো ফুটে থাকতো করমচা। সিড়ির গা ছুঁয়ে ছিল গাঁদা, দোপাটি আর সন্ধ্যামণির ঝোপ; আপনা আপনিই হতো এসব।

    গিরিবালা উঠোনের জঙ্গলের দিকে আঙুল বাড়িয়ে মাঝে মাঝে মনি ভাইজানকে বলতো, রাতের বেলায় কারা যেন হোথায় আসে, ফিসফাস করে কথা কয়–

    তোর ঘাড় মটকাবে একদিন, দেখিস?

    বুড়ি বলতো, ওরা সব আমার আপনজন, একদিন তো এরা সব এ বাড়িতেই ছিল। বাড়ির মায়া, সে কি কেউ কখনো ত্যাগ করতে পারে র‍্যা! বড় মায়া! দ্যাখনা, দাঁতে দড়ি দিয়ে কেমন পড়ে রইলুম, সে তো ঐ মায়ার জন্যেই–

    কলুদের মেয়েরা গিরিবালার বাড়ির সবগুলো দেয়ালে খুঁটে দিয়ে রাখতো। কার বারণ কে শোনে। একে ছানিপড়া চোখ, তায় হাড় জিরজিরে; এমন কেউ নেই যে তার হয়ে দুটো কথা বলে; ঘরের দেয়াল, বারান্দার গা, পাঁচিলের গা, কোথাও বাদ রাখতো না। মনে হতো গোটা বাড়িটাই ঘুঁটের তৈরি।

    কলুদের মেয়েরা ছিল ভারি মুখফোঁড়া। চোপার জোর আর গলাবাজিতে তাদের সঙ্গে কেউ পেরে উঠতো না। খুব ছোট থাকতেই মেয়েগুলোর বিয়ে হয়ে যেত।

    গিরিবালার সঙ্গে প্রায়ই এটা-ওটা নিয়ে ঝগড়া লাগতো ওদের। শেষ পর্যন্ত ঠ্যাং ছড়িয়ে বসে কপালে করাঘাত শুরু করতো বুড়ি। আর শাপমণ্যি, সে তো আছেই।

    আমাদের বাড়িতেই ঘুঁটের দরকার হতো। মনি ভাইজান পয়সা নিজের পকেটে রেখে গিরিবালার দেয়াল থেকে থলে ভরে খুঁটে আনতো। একবার ব্যাপারটা আমি দেখে ফেলি। মনি ভাইজান বলেছিল, বলবি না কাউকে, তোকে ভাগ দেব।

    বলার সাহস আমার এমনিতেই ছিল না। তবু নানাভাবে মনি ভাইজান এটা-সেটা ভাগ দিতো। যেদিন পরোটা আর ডিম হতে সকালে, আমি আগেই ডিম খেয়ে ফেলতাম। মনি ভাইজান নিজের ভাগ থেকে আমাকে ধার দিতো। এইভাবে মাছগোশ থেকে শুরু করে সবকিছুই ধার দিতো খাবার সময়। ঝগড়া বাধলেই বলতো, এক্ষুণি সব ফেরত চাই!

    অবশ্য আমাকে কখনো শোধ দিতে হয়নি সেসব।

    মনি ভাইজান বাক্সের তালা খোলার মন্ত্র জানতো। টিনের ফলা লাগানো তীর ছুঁড়ে গাছ থেকে এঁচোড় পাড়তে পারতো। পুকুরে নেমে পাল্লা দিয়ে টিপু ভাইজানের সঙ্গে সাঁতার কাটতো। ডুবসাঁতারে কারো সাধ্যি ছিল না তার সঙ্গে পেরে ওঠা। পোকাটা একটা ভ্যাবলা–এই ছিল মনি ভাইজানের ধারণা।

    মনি ভাইজানের সামনে পড়ে গেলে সবসময় একদিকে কেটে পড়বার তাল করতো পানু। মনি ভাইজান ধরে ফেলে বলতো, এ্যাই, টিনজার মানে কি?

    পানু আমতা আমতা করে বলতো, টাঁজা।

    টিনচার মানে কি?

    টাচা।

    প্যাঁপোঁ মানে কি?

    পোঁপা–

    তখন মনি ভাইজান বলতো, প্যান্ট খোল হারামজাদা, প্যান্ট খোল!

    পানু বোতাম খুলে প্যান্টটা ছেড়ে দিতো।

    এইবার গুণে গুণে তেরোবার কান ধরে উঠ-বস কর। দম ছাড়বি না, খবরদার!

    পানু তাই করতো।

    এইরকম অদ্ভুত অদ্ভুত সবখেয়াল ছিল মনি ভাইজানের। ঘোষালদের ছেলে গনু একবার কুল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। সেই থেকে গনুকে দেখলেই মনি ভাইজান, বলতো, এই, পা টেপ, মুও ছাতুছানা করে দেব তোর।

    গনু বসে বসে পা টিপে দিত মনি ভাইজানের। আর মনি ভাইজান গান ধরতো আয় বাদি আয় বেগম হবি, আমি খোয়াব দেখেছি, আমি পেখম মেলেছি, আমি সজ্জা করেছি—

    মনি ভাইজানের সঙ্গে আমি মাঝে মাঝে হাতিপুকুরের পাড়ে যেতাম। মনি ভাইজান বলতো, ঐ কোর্টবাড়িতে যাবার একটা গোপন সুড়ঙ্গ আছে পানির তলায়, সুড়ঙ্গটা বের করতে হবে। ঐ গোলবাড়িটার নিচে কি আছে জানিস পোকা? ওয়ারেন হেস্টিংস-এর গুপ্তধন। বড় হলে তার কথা জানতে পারবি।

    মাঝে মাঝে হাতকড়া পরা কয়েদীর পালকে কোমরে দড়ি বেঁধে কোর্টে নেওয়া হতো। মনি ভাইজান তখন রাস্তার ধার থেকে চেঁচিয়ে বলতো, এই যে জাহামাহাই বাহাবাহারা জিহিলিহিপিহি খাবে?

    চোখে পড়লে এইসব ব্যাপার নিয়ে টিপু ভাইজান অভিযোগ তুলতো, আব্বাকে দেখতাম বকাঝকা করতে।

    এমন ঘটলে মনি ভাইজান রেগে গিয়ে টিপু ভাইজানকে বলতো, দাঁড়া, তোর লাগালাগি আমি বার করছি। সব্বাইকে বলে দেবো তোর নাম দুদু।

    টিপু ভাইজানের ডাক নাম ছিল দুদু। আমাদের নানীমার দেওয়া নাম। এই নাম ধরে অনেকেই তাকে ক্ষ্যাপাতো বলে শেষ পর্যন্ত সেটা বাতিল হয়ে যায়। এই নামটার ব্যাপারে টিপু ভাইজানের ভেতরে ভেতরে বোধহয় একটা ভয় ছিল।

    বাধ্য হয়ে মনি ভাইজানের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করে নিতে হতো। বোঝাপড়া মানে, কিছু না কিছু একটা ঘুস দিয়ে তবে রফা।

    প্রতি বছরই রথের মেলা থেকে কিছু না কিছু চারা অথবা কলম কেনা হতো। আব্বা আমাদের সকলের ভেতরে সেগুলো ভাগ করে দিত। ভারি সুন্দর ধরেছিল হাতের একটা ফলশা গাছ। পুঁটির কাছ থেকে শিখে আমিও ঐ গাছটার সঙ্গে কথা বলতাম। গাছটা উত্তর দিত না ঠিকই, কিন্তু জন্তুর কানের মতো চওড়া চওড়া পাতা নেড়ে খুব মনোযাগ দিয়ে সব শুনতো।

    টিপু ভাইজানের লাগানো গোলাপজাম গাছের মাথায় একদিন সকালে দেখা গেল একটা খোলাপিঠে ঝুলছে। হুলস্থুল কাণ্ড। কিন্তু পিঠেটি আমাদের কারে ভাগ্যে জোটেনি। একটা হনুমান দেখতে পেয়ে লাফ দিয়ে এসে সেটাকে ছিঁড়ে নিয়ে গালে পপারে। এই নিয়ে মনি ভাইজানের একটা গান ছিল, বীর হনুমান লাফ দিয়েছে, বাঁচবে না বাঁচবে না–

    কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল, গোটা তিনেকপিঠে ধরেছে গাছে। টিপু ভাইজানকে তখন মনি ভাইজান বললে, তোকে ভুল করে গোলাপজাম গাছের চারা মনে করে খোলাপিঠের চারাই দিয়ে দিয়েছে—

    টিপু ভাইজান বলেছিল, হতেও পারে, অসম্ভব কিছু নয়!

    এই নিয়ে অনেক হাসাহাসি হয়েছিল। গল্পটা রটে গিয়েছিল মধ্যমগ্রাম কি কাজীপাড়া পর্যন্ত। টিপুর ভাইজানকে দেখলে দুর্গাদাস বাবু ঠাট্টা করে বলতো, ও টিপু পিঠে বেচবে, কতো করে নেবে জোড়া?

    কেউবা জিগ্যেস করতো, তোমার পিঠেগাছের ডালের তক্তা কেমন, মজবুত তো? আমার একটা জলচৌকি দরকার—

    টিপু ভাইজান এইসব ব্যাপারে খুব বেশি একটা মেলামেশা করতো না কারো সঙ্গে। তার স্বভাবও ছিল কিছুটা মখুচোরাগোছের। ইস্কুল আর বাড়ি, বাড়ি আর ইস্কুল, এই ছিল তার সীমানা।

    দুপুরে মা যখন কাঁথা সেলাই করতে বসতো, তখন রানিবুবু তাকে সাহায্য করতো। মা যখন নতুন কথা পাড়তো, তখন আমিও ধারেকাছে থাকতাম। ওটা বোধহয় একটা নেশা ছিল মার। সুঁয়ে সুতো পরিয়ে দেওয়া, ঝোল চেকে নুন হয়েছে কি না বলা, একটা কঞ্চি হাতে করে বসে বসে রোদে দেয়া আচার পাহারা দেওয়া আমার কাজ তো ছিল এইসবই।

    পাড় জুড়ে জুড়ে বড় সুন্দর একটা দস্তরখানা তৈরি করেছিল মা। মনি ভাইজান বলতো, ওটা রেখে দাও, আমার বউ আসলে দিও–

    মাঝে মাঝে দূর সম্পর্কের এক নানা আসতেন আমাদের বাড়িতে। সবাই বলতো তাঁর মাথায় না-কি ছিট। স্বদেশী আন্দোলনের সময় তিনি ইংরেজের চাকরি ছেড়ে বইয়ের ব্যবসা খুলেছিলেন। তবে সে ব্যবসা তাঁর চলেনি। পরে ইস্কুলে মাস্টারি করতেন।

    আমরা যখন তাকে দেখি, তখন তাঁর ঝরঝরে অবস্থা। তাঁর কোটের পকেটে পিপড়ে আর তেলাপোকার বাস ছিল। পকেটে চিনি রাখতেন, মাঝে মাঝে কাঁকড়াবিছেও রাখতেন তিনি পকেটে! পিপড়েগুলো ছিল তাঁর পোষা। কখনো শুনিনি তাঁকে কামড়েছে।

    কামড়ায় না?

    কেন কামড়াবে? আমি তো ওদের কামড়াইনি! বলতেন, আল্লাতালার জীব, সব এক–

    বলতেন, ম-এ মুসলমান, ম-এ মু্র্দফরাস, ম-এ মুচি, সব সমান।

    তাঁর কোলে যখন আমাদের রানিবুকুর বিড়াল কুন্তি লাফ মেরে উঠে বসতে, তিনি বলতেন, বড় আদর চায় এরা, এরা আদর ভালোবাসে, সবাই আদর ভালোবাসে—

    সিনেমার সন্ধ্যারানী বলতে অজ্ঞান ছিলেন। বলতেন, আমি ওকে বিয়ে করবো, বড় ভালো মেয়ে, বড় ভালো মেয়ে, আহা কি মায়া–

    মনি ভাইজান বলতো, নানাভাই, আজ তোমার সেই সন্ধ্যারানী আসবে!

    নানা বলতেন, সত্যি?

    বিকেলে দেখো, আমি তোমার কথা বলেছি—

    বিকেলে একহাত ঘোমটা টেনে দরজার সামনে যে এসে দাঁড়ালো, নানাভাই প্রথমে তাকে চিনতে পারেন নি। কেমন একটু হতভম্ব মতো হয়ে গিয়েছিলেন প্রথমটায়। অবশ্য পরে ধরতে পেরেছিলেন। ওল্টানো ছাতা ধরে তাড়া করেছিলেন তিনি শাড়ি জড়ানো মনি ভাইজানকে, সেই বড় রাস্তা পর্যন্ত। কতো কি যে হতো! রানিবুবুর ক্লাসের অনেক মেয়েরাই আসতো আমাদের বাড়িতে। ছবি, তরু, রমা, রানু, বেলা, শিবানী, আরো অনেকে। তারা সবাই ছিল চৌধুরীপাড়ার মেয়ে। দক্ষিণ পাড়ার মানুষজনের ছোঁয়াছুঁয়ির ভয়টা একটু বেশিই ছিল, তারা গা বাঁচিয়ে চলতে সবসময়; তারা আমাদের বলতো মোচোনমান। গলায় গলায় ভাব ছিল ছবিদির সঙ্গে। ছবিদিকেও ক্ষেপাতো মনি ভাইজান। ব-র-ক-ধ-ঝ বললেই ছবিদি চটে যেতো। চটলে মনি ভাইজানকে বলতো, গুপ্তা।

    মনি ভাইজান বলতো, গুণ্ডি।

    তোর কোনো লাজলজ্জা নেই, মেয়েদের পেছনে লাগিস কেন? এই বলে বকাবকি করতো মা।

    ওরা এতো গুজগুজ করে কেন?

    তাতে তোর কি, তোর কি দরকার এসব দেখার?

    ছবিদি আমাকে খুব ভালোবাসতো। কত জলছবিই যে আমি তার কাছ থেকে পেয়েছিলাম। একবার বইয়ের মলাটে এঁকে দিয়েছিল একটা রাজহাঁস, সে কি তার গর্বিত ভঙ্গি, আমি সেটা খুব যত্ন করে চারটে ভাঁজ ফেলে তোষকের তলায় রেখে দিয়েছিলাম।

    তোষকের তলায় দেশলায়ের বাক্সের ভেতর পুরে টিকটিকির ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তোলাও ছিল একটা খেলা।

    ছবিদি মিত্তির বাড়ির মেয়ে। তার বাবা শিবশংকর মিত্তির ছিলেন নামকরা উকিল। রানিবুবুর সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই মিত্তির বাড়িতে যেতাম আমি। ছবিদির ঘরে দেয়ালের তাকে ছোট দুটো কাচের বয়ামে কুঁচ সাজানো থাকতো। একটায় লাল কুঁচ। অপরটায় লালের মাথায় ছোট্ট কালো ফোঁটা। ফাঁক পেয়ে এবার বেশকিছু কুঁচ বের করে নিয়েছিলাম। ঘরে ফিরে শিশিতে ভরে সেই কুঁচগুলো আমি তোষকের তলায় রেখে দিয়েছিলাম।

    ছবিদিদের বাড়ি থেকে আমি আরো একটি বস্তু সংগ্রহ করেছিলাম, সেটি একটি রাক্ষসের ছবি। মোটা একটি বইয়ের ভেতর থেকে রঙিন পাতাটি খাসিয়ে নিয়ে বইটি যথাস্থানে আবার রেখে দিয়েছিলাম। ফেদুর ঝোলার ভেতরের কালো কুচকুচে শিং-এর সঙ্গে ছবির রাক্ষসের শিং-এর বেশ মিল ছিল।

    কুঁচের কথা যেভাবেই হোক ছবিদি জেনে গিয়েছিল। একদিন বললে পোকা, তোকে আমি ভালো জানতাম—

    কিছু না বুঝে আমি তার মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম।

    ছবিদি বললে, আমি কি দিতাম না, চাইলেই তো পারতিস, মনিদার পাল্লায় পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিস তুইও—

    কুঁচভরা ছোট্ট একটা বয়াম দিয়ে দিয়েছিল ছবিদি, মনে আছে।

    একদিন সকলে মিলে আমাদের বাগানে চড়ুইভাতি করলে। সেদিন সকলে শখ করে শাড়ি পরেছিল। মনি ভাইজান চোখ মটকে ছবিদিকে বললে, স্টাইল!–-

    সে কি কান্না ছবিদির, ছোটলোক। ছোটলোক! রানিবুবু ছুটে গিয়ে তখুক তখনই মাকে বলে দিয়েছিল।

    রাখ, তোর বজ্জাতিপনা আমি বার করছি–এই বলে হাতে কাঠের বেলুন নিয়ে মা সেই কোহিতুর আমগাছের গোড়া অবধি মনি ভাইজানকে তাড়া করেছিল।

    সেসব কতো কথা। ইচ্ছে করলেও এখন আর সব মনে পড়ে না। কতো কথা, কতো চার ভঁজ-করা ছবি, তেশিরা কাচ, লালকুঁচ, কতো সকাল-দুপুর-বিকেল বোকার মতো হারিয়ে ফেলেছে পোকা! কখনো মনে হয় নি, একদিন সবকিছুরই আবার খোঁজ পড়বে নতুন করে। বড় অবহেলা ছিল পোকার, বড় অবহেলা। অযত্ন আর হেলাফেলায় কতো কিছুই যে সে হারিয়ে ফেলেছে! জিনজার এখন গানের মতো বাজে, হিনজার এখন বুকের ভেতরে নিরবচ্ছিন্ন শব্দ তোলে। হু হু বাতাসের গায়ে নকশা-ভোলা ফুলের মতো অবিরল আকুলতা, পোকার বুকের ভেতরের ফাঁকা দালানকোঠা গুম গুম করে বাজে, পোকা তুই মর, পোকা তুই মর।

    যা কিছু নিঃশব্দ, যা কিছু শব্দময়, যা কিছু দৃশ্যগোচর, দৃশ্যাতীত, সবকিছুই একজোট হয়ে হাত ধরাধরি করে ঘিরে ধরে; অদ্ভুত এক বাজনার তালে তালে আস্ত একটি রাত মোমের মতো গলে পড়ে, জিনজার-হিনজার জিনজার-গিনজার, জিনজার-হিনজার পোকা শোনে, শুনতে পায়। পোকা পোকা হয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক
    Next Article অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }