Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. কাগজের নৌকো

    বৃষ্টি এলেই কাগজের নৌকো বানানোর ধুম শুরু হতো, আর কেউ বড়ি দিলেই বৃষ্টি আসতো।

    মনি ভাইজান তৈরি করতো তিনপালের জাহাজ। এক একটা জাহাজের এক একটা নাম থাকতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ। প্রিন্স অব ওয়েলস। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজে থাকতো চালভাজা, প্রিন্স অব ওয়েলস-এ কালো পিঁপড়ে, সুড়সুড়ি পিঁপড়ে। কিছুদূর গিয়েই বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটায় চাবচুব হয়ে জাহাজগুলো ডুবে যেত। মনি ভাইজান বলতো, ইংরেজদের দিন শেষ হয়ে আসছে–

    তারপর ভাসমান পিপড়েগুলোর পাশে শুকনো পাতা ছেড়ে দিত মনি ভাইজান। বলতে লাইফবোট, অন্তত চেষ্টা করা যাক, যাতে ওরা প্রাণে বাঁচে—

    তোজো আজ খুশির চোটে আস্ত একখানা ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খাবে, বুঝলি পোকা!

    তুমুল বৃষ্টির পর কেঁচো বেরুতো। রানিবুবুর বিড়াল কুন্তির খুব অপছন্দের ছিল এই কেঁচো। কেঁচো দেখলেই সে ফ্ল্যাশ ফাশ জুড়ে দিয়ে লাফালাফি করতো।

    কুন্তি মনি ভাইজানের ধারেকাছে বড় একটা ঘেঁষতে চাইতো না, কি জানি, ভয় পেত বোধহয়। হয় একটা কাগজের ঠোঙার ভেতরে কুন্তির মাথা পুরে দিল, কুন্তি পিছনে হটা শুরু করলো, না হয় একটা ফিতে বেঁধে দিল কষে তার লেজে, মনি ভাইজান কুন্তিকে এইভাবে শাস্তি দিত। রানিবুবুকে কাঁদানোর সবচেয়ে সহজ রাস্তা ছিল এটাই।

    রানিবুবুকে ভ্যা বললেই ক্ষেপে যেতো। মনি ভাইজান কতো কিছু যে বের করতো মাথা থেকে।

    কুন্তির মারা যাওয়াটা বিরাট ঘটনা। আমরা বাড়িসুদ্ধ সবাই কেঁদেছিলাম। মুখে রক্ত তুলে আছড়ে-পিছড়ৈ মরেছিল কুন্তি, কে জানে কি হয়েছিল। এক সন্ধ্যায় হঠাৎ বাগান থেকে ঘরে ঢুকলো সে, ঢুকে রানিবুবুর পায়ে গা ঘসে ম্যাও ম্যাও জুড়ে দিল, তারপরই শুরু হলো তার ছটফটানি। সে কি কষ্ট! দেখা যায় না। মা বললে, ওকে কেউ কিছু খাইয়ে দিয়েছে—

    টিপু ভাইজান বললে, সাপে কামড়াতে পারে–

    এতো কষ্ট পেয়েছিল! ও মরুক, এতো কষ্ট চোখে দেখা যায়। এই বলে কেঁদে উঠেছিল মা।

    কান্নাকাটির ধুম পড়ায় পাড়াপ্রতিবেশীদের ভিড়ে ঘর ভরে গিয়েছিল, সে এক হুলস্থুল কাণ্ড।

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ভাষা
    Library
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    আব্বা অফিস থেকে ফিরে এইসব কাণ্ড-কারখানা দেখে বোকা হয়ে গিয়েছিল। ছি, ছি, লোকে বলবে কি, কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই তোমাদের, এটা একটা ব্যাপার হলো?

    সেই রাতেই কেনারাম কাকা থলের ভেতর ভরে একটা নতুন বিড়াল এনে হাজির করেছিলেন। অন্যেরা থামলেও রানিবুবুকে শান্ত করা যায়নি। কতো সুন্দর ছিল কুন্তি, কতো শান্ত–

    হয়তো তাই, কুন্তির মতো আর হয়নি, অমন সুন্দর আর হয় না। বিছানার ওপরের একফালি চিকচিকে রোদ সারা গায়ে পাউডারের মতো মেখে রাজরাণীর মতো বসে থাকতো কুন্তি। রানিবুবুর পড়ার সময় অঘোরে ঘুমাতো সে কে।লের ভেতর। কখনো মোটা দেখে একটা খাতা বেছে নিয়ে বসতো, তার ওপর বসে বসে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতো সে মুখের দিকে।

    কেনারাম কাকার দেয়া বিড়ালের নাম দেয়া হয়েছিল টোটা। টোটা ছিল ভীষণ বেয়াড়া। প্রায়ই সে পালিয়ে যেতো। তখন বাড়ি বাড়ি খোঁজা হতো। কতোবার যে ধরে আনতে হয়েছে তাকে। কারো কাছে বড় একটা ঘেষতো না সে, কেমন যেন একা একা স্বভাবের। আমাদের কাউকেই তার মনে ধরেনি। অবিশ্বাসের চোখে সে কটমট করে তাকিয়ে থাকতো। পাঁচিলের ওপরে শুয়ে শুয়ে কাটাতো সারাদিন। খিদে পেলে তবে ঘরে ঢুকতো, তারপর মিউমিউ করে ডাকতো, এমন ছিল তার জিদ।

    আরও দেখুন
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ই-বই
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা সাহিত্য
    PDF
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ভাষার বই

    একবার একটা শালিকের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়। সে ছিল খোঁড়া,, যেভাবেই হোক একটা ঠ্যাং তার ভেঙে গিয়েছিল। বাগানে গেলে আমাকে দেখলেই সে উড়ে আসতো, তারপর লাফিয়ে লাফিয়ে কাছে এসে কা কা চেঁচানি জুড়ে দিত। ধরে ধরে ফড়িং খাওয়াতাম ওকে। মনি ভাইজান একদিন বললে, শালিকটা কে জানিস?

    আমি বললাম, কে?

    আমাদের এক বোন। তুই দেখিসনি। তোর জন্মের ঠিক আগেই ও মরে যায়। ওর নাম ছিল তুলি–

    ও তো পাখি!

    মনি ভাইজান বললে, মরে পাখি হয়ে গেছে। আমরা তো ভাই, তাই আমাদের মায়া কাটাতে পারে না।

    সব শুনে হাহাকার করে উঠেছিল বুকের ভেতর। তুলির কথা মনে পড়লে মাকেও দেখছি বসে বসে কাঁদতে।।

    তারপর থেকে আমার একটাই কাজ, মাটির খুরিতে ভাত আর মাছ নিয়ে ফলশা গাছের পাশে সারা দুপুর বসে থাকা। বসে বসে কাঁটা বেছে মাছ-ভাত খাওয়াতাম। শুধু ভয় হতো, এই বুঝি কাঁটা বিধল গলায়। জিগ্যেস করতাম, তোমার কষ্ট হয়?

    আরও দেখুন
    Books
    বাংলা গল্প
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা কবিতা
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    অনলাইন বই
    বইয়ের
    পিডিএফ
    বাংলা লাইব্রেরী

     

    শীত লাগে না?

    লেপের ভেতর শুতে চাও?

    মা তোমার জন্যে এখনো কাঁদে—

    সব কথার একটাই জবাব ছিল তার, ক্যাঁ, ক্যাঁ। রাগ হতো। নিজের ওপর। ও-তো সব বলে, ওর সব কথা; সব দুঃখ, সব কষ্ট সবকিছুর কথা। কেবল আমি এমন গাধা যে, তার এক বর্ণও বুঝি না।

    পুঁটিকে জিজ্ঞেস করলাম একবার, পুঁটি তুমি পাখির কথা বোঝ?

    পুঁটি বললে, ওমা, ওটা আবার একটা কাজ, ও তো খুব সহজ।

    শালিকের কথা বোঝ?

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা উপন্যাস
    অনলাইন বুক
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা গল্প
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ই-বুক রিডার
    অনলাইন বই

    বুঝবো না কেন! তবে শালিকদের ভাষা হলো তোর গিয়ে ওই উড়েদের মতো; তংকা বংকা হইছন্তি খাইছন্তি এই ধরনের, আমাদের নটবরের কথা শুনিসনি! তা যাই বল, বেশ কঠিন!

    সব শুনে পুঁটি বললে, আমার সময় কখন যে, এতোসব শেখাবো তোকে? আমাদের বাবুদের বাড়ির দেমাকী বৌ মাগীর চোপা তো আর শুনিসনি! মাগীর দাতে আমি দড়ি হয়ে গেলাম, মলেও বাঁচি। উঠতে-বসতে শুধু কাজ আর কাজ। একটা হয়, ও যা বলে, আমি তা তোকে বুঝিয়ে দিতে পারি। কিন্তু কি দিবি আমাকে?

    একটা ডবল পয়সা হাতে ভরে আমার সঙ্গে বাগানে গিয়েছিল পুঁটি। মাটির খুরি উল্টে শালিকটা যখন ভাতের ডেলা খাচ্ছে আর কা কা করছে, তখন পুঁটি বললে, ওমা, কি পাকা মেয়েরে বাবা, কি বলছে জানিস, বলছে, ও পাকা, পোকা, তোর খুব সুন্দর বউ হবে! ও পোকা, পোকা, তোমার বউ ঠিক পুঁটির মতো সুন্দর হবে। দেখেছ, কি চালাক! ওমা, পেটে পেটে কি বুদ্ধি!

    বললাম, জিজ্ঞেস কর না, পা ভাঙলে কি করে?

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ভাষা
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    বাংলা গল্প
    বাংলা কমিকস

    পুঁটি বললে, ও তুলি, কি হয়েছিল তোমার পায়ে?

    ক্যাঁ ক্যাঁ করে শালিকটা ডাকার পর পুঁটি বললে, দেখেছ দেখেছ, কি বজ্জাত! আমাকে নচ্ছার বলে গাল দিল। পাকিস্তান চায় বলে হিন্দু পাখিরা নাকি ওর ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছে, শোন কথা! তা আমার কি দোষ বলো? ঐ শোন আবার কি বললে! বলছে, তোমার জাতভেয়েরা তো করেছে—

    তুলিপাখি যে অমন গাল দিতে পারে, আমার তা বিশ্বাস হতো না। কতো দুপুর গাছতলায় বসে বসে কেটেছে। হা-পিত্যেশ করে বসে আছি, খুরিতে ভাত নিয়ে, আসে না, আসে না, কিছুতেই আর আসে না। শেষে হয়তো এলো।

    যেদিন তুলি আসতো না, সবকিছু ফাঁকা হয়ে যেতো। সে যে কি কষ্ট! বুকের ভেতর গুমরে উঠতো কান্না। তখন সব পাখিদের দেখে আমার কান্না আসতো। কতো লোকের কতো ভাইবোন মরে গিয়ে এইভাবে পাখি হয়ে আছে, কেউ ওদের দ্যাখে না। কতো দুঃখ ওদের! রোদ-বৃষ্টি-শীতে কতো কষ্টই না ওদের হয়! না আছে ঘর, না লেপ-তোষক-কথা; গাছের ডালে ডালে কতো অনাদরে, কতো অবহেলায় ওদের দিন কাটে!

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    নতুন উপন্যাস
    বইয়ের
    বাংলা কমিকস
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ইসলামিক বই

    সেই তুলি, সেই তুলিপাখি, আমাদের সেই ছোট্ট বোন, একদিন কোথায় যে উড়ে গেল, আর সে ফেরেনি। মধুগুলগুলি আর সিঁদুর কৌটো আমগাছের ডালে শেষবারের মতো তাকে দেখা গেল; কোনো কথা বললে না সে। কি জানি, কেনু তার এমন অভিমান হলো।

    এক একদিন এক একটা অদ্ভুত মানুষ এসে হাজির হতো। অবিকল গরুর মতো হাম্বা শব্দ করে দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে হাতের পয়সা বাজাতে লাগলো।  একদিন একটা যমদূতের মতো লোক, তার গলায় জড়ানো মোটা দড়ি। ভয় পেয়ে দৌড়ে পালিয়েছিলাম, মনে আছে। চাল আর একটা আনি নিয়ে তবে সে নড়েছিল। মার মুখে শুনেছিলাম, লোকটার নাকি গরু মরেছে। মরার সময় গরুর গলায় দড়ি থাকলে তার মালিককে নাকি এইভাবেই প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঝাড়া এক মাস বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাকে ভিক্ষে করতে হবে। কথা বলা বারণ।।

    একবার এলো একটা খাড়া অন্ধ লোক। রোগা-পাতলা ছিপছিপে চেহারা। লোকটির দুটো চোখই পাথরের।

    মার পরনে ছিল খুব চিকন পাড়ের সাদা শাড়ি। সে বললে, আপনার এ বিধবার বেশ কেন মা?

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা গল্প
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

    মা তো অবাক!

    মনি ভাইজান আঙুল তুলে বললে, বলো দেখি কটা আঙুল?

    লোকটি বললে, তিনটে।

    এবার বলো, কি দেখছো?

    লোকটি হেসে বললে, তুমি তো ভারি পাজি ছেলে হে! তুমি বক দেখাচ্ছো!

    মনি ভাইজান বললে, এসব তোমার চালাকি। তুমি সব দেখতে পাও।

    লোকটি বললে, দেখতে না পেলে বলছি কি করে! তবে তোমরা যেমন চোখ দিয়ে দ্যাখো, তেমন নয়!

    ঠিক আছে দেখা যাবে, মনি ভাইজান বললে, আমি তোমার চোখ বেঁধে দেব, কামড়ালে কিন্তু ভালো হবে না!

    আরও দেখুন
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা কবিতা
    বইয়ের
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা গল্প

    গামছা দিয়ে কষে চোখ বেঁধে দেওয়ার পর মনি ভাইজান বললে, আচ্ছা এবার বলো কি দেখছো?

    একটা বই, বিষাদ সিন্ধু!

    এবার?

    একটা ছবি, সুভাষচন্দ্র বসু!

    মা বললে, তুই সর তো, আপনি কি চাল নেবেন, না পয়সা?

    লোকটি বললে, ওসব নিয়ে আমি কি করবো মা? ইচ্ছে করলে আমাকে একমুঠো ভাত খাওয়াতে পারেন!

    মা জিজ্ঞেস করলে, আপনি হিন্দু না মুসলমান?

    সে বললে, আমি হিন্দু!

    আরও দেখুন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    Library
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বিনামূল্যে বই

    আমরা মুসলামান, আমাদের এখানে খাবেন?

    মার কথার উত্তরে সে বললে, অন্নের কি কোনো জাত আছে মা?

    লোকটি যখন খাচ্ছে তখন মনি ভাইজান কাছে বসে বললে, আমাকে চোখ বন্ধ করে দেখতে শেখাবেন!

    কে কাকে শেখায়! শিখতে হয়।

    মনি ভাইজান নাছোড়বান্দার মতো বললে, আমি আপনার পা টিপে দেব, যা বলবেন তাই করব, আপনি আমাকে শেখান।

    লোকটি হেসে বললে, তোমার তো চোখ আছে বাবা, চেষ্টা করলেও তুমি পারবে না। তোমার মতো আমার চোখ নেই, তাই মন দিয়ে দেখতে হয়। মন সব পারে। ঐ যে এতো উঁচু হিমালয়, ইচ্ছে করলে এক লাফে ডিঙ্গিয়ে যেতে পারে ওটাকেও।

    মনি ভাইজান বললে, ঠিক আছে, আপনি না হয় আমার চোখ নষ্ট করে দিন…

    লোকটি মনি ভাইজানের পিঠে একটা হাত রেখে অদ্ভুতভাবে হেসে উঠলো। বললে, তুমি খুব বোকা। চোখ দিয়ে যা দেখা যায়, তার সবই তো তুমি দেখতে পাচ্ছো; এর জন্যে আবার মনকে টেনে আনা কেন? চোখের চেয়ে মনের দেখার ক্ষমতা অনেক বেশি, সে অনেক দ্যাখে, অনেকদূর পর্যন্ত দ্যাখে, চোখ যা পারে না। তা তুমি যদি সেই সব দেখতে চাও, তাহলে আগে মনকে খুঁজতে হবে—

    মনি ভাইজান বললে কি ভাবে—

    যেমন ধরো আগে বের করতে হবে, সে আছে কোথায়। যখন বুঝবে সে ঐখানে, তখন তার কাছে যাবে বলবে আমি দেখতে চাই। সে আমাকে যা বলেছিল, তোমাকেই সেই একই কথা বলবে। বলবে, তুমি লোভী, লোভীরা কখনো দেখতে পায় না। তুমি সময় চাইবে। নিজেকে সংশোধন করে তারপর আবার তার কাছে যাবে। বলবে এখন আর আমার কোনো লোভ নেই, তুমি আমাকে যেমন ইচ্ছে বাজিয়ে দ্যাখো। সে পরীক্ষায় যদি তুমি টিকে যাও, তাহলে তখনকার তখনই তোমার মনের চোখ খুলে যাবে–

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    নতুন উপন্যাস
    PDF
    বাংলা কমিকস
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা বই
    বাংলা ই-বই
    উপন্যাস সংগ্রহ

    যাবার সময় চাপা গলায় লোকটি মাকে বললো, খেয়াল রাখবেন এর দিকে, বিশেষ যত্ন নেবেন। জগতে এমন কিছু মানুষ জন্মায় যারা, কেবল কষ্ট পেতেই ভালোবাসে–

    কেমন যেন মনমরা হয়ে গিয়েছিল মনি ভাইজান এরপর থেকে। কারো সঙ্গেই মিশতো না। একা একা পুকুরপাড়ে বসে সবসময় পানির দিকে তাকিয়ে থাকতো। কখনো দ্যাখো পিঁপড়েদের চিনি খাওয়াচ্ছে, কখনো দ্যাখো গাছতলায় মাটির ওপর শুয়ে আছে, বলতে গেলে একেবারে অন্য রকমই হয়ে গিয়েছিল।

    শেষে পড়লো জ্বরে। মাসখানেক ভুগেছিল। টাইফয়েড ধরনের একটা কিছু। সেরে যখন উঠলো, তখন আর চেনাই যায় না। দারুণ ভেঙে গিয়েছিল স্বাস্থ্য।

    আবার সেই আগের মতো। ছবিদিকে দেখলেই চোখ ট্যারা করে বলে, স্টাইল! ব-র-ক-ধ-ঝ কুড় বা কুড় বা কুড় বা নিজ্জে—

    ছবিদি খেপে ওঠে, ছোটলোক, গুণ্ডা।

    রানিবুবুকে খোঁচা মেরে বলে, ভ্যাঁ!

    রানিবুবু ছুটে যায় মার কাছে নালিশ করতে, তখন নিজে নিজেই কান ধরে ওঠ-বস করতে করতে মনি ভাইজান বলে, ঠিক আছে। ওকথা আর বলবো না, বলবো খ-চ-ট-ত-প-

    পানুকে দেখতে পেয়ে বলে, বল ব্যাটা, ঝিনজার মানে কি?

    পানু ভয়ে ভয়ে বলে, ঝাঁজা—

    বাড়াবাড়িও ছিল। যেমন একবার:

    গিনজার মানে কি?

    গাঁজা–

    চটে যাবার ভান করে মনি ভাইজান বললে, খোল ব্যাটা, প্যান্ট খোল। এই, কে আছিস, চাকু নিয়ে যায়, আজ ওর নুনু কাটবো, ওকে মুসলমান বানিয়ে ছাড়বো। বল আল্লাহ!

    ভয়ে ভয়ে আলা না কি যেন বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিল পানু। সে বললে, ভগবান রাগ করবে, আমি পারবো না মনিদা, আমি পারবো না–

    এ নিয়ে এক বিরাট ঝক্কি বেধেছিল। কিন্তু সেকথা যাক। কেনারাম কাকা মনি ভাইজানের হয়ে একদল উত্তেজিত মানুষের সামনে জোড়হাতে ক্ষমা চেয়েছিলেন, শুধু এইটুকু মনে আছে।

    একটি বুড়ো ছিটকাপড়ওয়ালা ছিল। নমাস ছমাসে সে পিঠে ছিটকাপড়ের গাঁটরি নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসতো। খুব সম্ভব তার নাম ছিল জমাতালি। লোকটার সারা মুখে ছিল বসন্তের দাগ। যা সুন্দর ছিল তার হাসি! মনি ভাইজান বলতো, কোথেকে শিখেছ?

    সে বলতো, শিখিনি, চাঁদনিচকের এক দোকান থেকে নগদ নসিকে দিয়ে কিনেছি।

    দোকানের নাম?

    হনহনে হাজরার দোকান। সবাই চেনে, জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে। কতো রকমের যে ভ্যারাইটি। আসামি, মাদ্রাজি, কাশ্মিরি, বিলিতি, সে কতো রকমের। তা তুমি তো আর আমার মতো গরিব নও, তুমি কাশিরটাই নিও, দামটা একটু চড়া, এই যা। হোক চড়া, তবে সুতো খুব খাঁটি, বুননও খুব ভালো; এমন মিহি পাকা রঙের যে, রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে বাজি ধরলে জিতে যাবে।

    তখন মনি ভাইজান জিগ্যেস করতো, তোমার হাসিটা কোথাকার?

    চন্দননগরের! রঙটা ভালো তবে তেমন টিকসই নয়, অনেকবার ফেঁসে গেছে। কি আর করি, নদীয়ার শালকরদের কাছ থেকে হাতেপায়ে ধরে আবার রিফু করিয়ে নিতে হয়েছে। ঐ হাসিটা আছে বলেই দুটো করে খাচ্ছি–

    একবার জমাতালি মাকে বললে, বুবুজি, দোয়া করবেন, আমাদের মেয়ের বিয়ের সব ঠিক হয়ে গেছে–

    মা বললে, কোন্ মেয়ে?

    মেয়ে তো আমার একটাই। তা ভালোই। ভিটেমাটি। ভিটেমাটি আছে। চেনাজানা ছেলে। দূর সম্পর্কে ভাইপো। বড় চিন্তা ছিল বুবুজি, ছবিরন আমার মা-মরা মেয়ে–

    একটা পেতলের ঘড়া দিয়েছিল মা, এটা তোমার মেয়ের জন্যে নিয়ে যেও।

    হাটখোলা পার হয়ে দক্ষিণ পাড়ার দিকে যাবার পথে পড়তো নগেন স্যাকরার দোকান। সময়ে অসময়ে কতো যে হাঁটাহাঁটি করতে হয়েছে ওই পথে। আমাদের বাড়ির সব সোনারূপোর গহনাই নগেন স্যাকরার বানানো। হয় টাকা, না হয় পুরোনো গহনা ঘর থেকে দেয়া হতো। প্রতিবারই সে টাকা ভেঙে বসে থাকতো। মনি ভাইজান আর আমাকে যেতে হতো তাগাদায়। গেলেই বলতো, মাকে বোললা, কালকেই আমি যাচ্ছি!

    তার সে কাল বড় সহজে আর আসতো না। বেশিরভাগ সময়ই তাকে পাওয়া যেতো না, এমনিতেও তার যক্ষ্মারোগ ছিল। আব্বাকে না জানিয়ে মা এইসব তৈরি করাতো বলে কোনোরকমের উচ্চবাচ্য হতো না। সাধারণত আব্বা অফিসে চলে যাবার পর মা বলতো, ও মনি, বিকেলে একবার নগেন স্যাকরার কাছে যাস বাবা–

    নগেন স্যাকরার বৌ-ছেলে-মেয়ে সবই ছিল। বাড়িতে গেলে তার বৌ গুষ্ঠি উদ্ধার করতো তার নাম ধরে। বলতো, কবেই বা সে বাড়িতে ছিল। দ্যাখোগে, হাটখোলায় সেই খুঁটেকুড়নি মাগীর আঁচল ধরে নির্ঘাত পড়ে আছে। এতে রক্ত ওঠে, তবু মরেও না। মরলে আমার হাড়ে বাতাস লাগতো।

    শেষে হাটখোলায় মাধুর ঘরে তাকে পাওয়া যেতো। মাধু ছিল বিধবা। হাটখোলার ঘানিগাছ, বিস্কুটের তুন্দুর, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি আর কামারশালার পিছনে একটা একচালা মাটির ঘরে সে থাকতো। বিশাল বিশাল দুটি বটগাছ পেছনে রেখে, গুচ্ছের আশ শ্যাওড়া চাকুন্দে বনমুলো কাঁটানটে আর বিড়ালহাঁচি শেকুলকাটার বন পার হয়ে, তবে সেখানে যেতে হতো।

    মাধুর কেউ ছিল না। কখনো অন্য কাউকে সেখানে দেখিনি। বাড়ি-বাড়িতে সে খুঁটে আর গুল দিয়ে বেড়াতে। হাসলে তার গালে টোল পড়তো।

    হয়তো নগেন স্যাকরাকে দেখা গেল, একটা গামছা কোনোমতে মালকোঁচা মেরে উঠেীনের চড়চড়ে রোদে উদোম গায়ে সটান উপুড় হয়ে পড়ে আছে মাদুরের ওপর। আর তার তেল জবজবে পিঠে আচ্ছামতো মালিশ করে দিচ্ছে মাধু। হচ্ছে না কিছু হচ্ছে না, আরো চাপ দাও, আরো চাপ দাও–

    আমাদের দিকে চোখ পড়ায় হয়তো মাধু বলে উঠল, ওমা দ্যাখো দ্যাখো কারা এসেছে! এসো গো খোকাদাদারা, দাঁড়িয়ে রইলে কেন, এসো–

    ততক্ষণে ধড়ফড় করে উঠে বসেছে নগেন স্যাকরা। আরে, মনিবাবু যে, কি ভাগ্যি! কি ভাগ্যি! শিগগির পিঁড়ে এনে বসতে দাও মাধু, শিগগির! এ কি যে সে কথা! মনিদাদাবাবু! পোকা দাদাবাবু! অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য!

    আমার ছোট্ট সোনাদাদার মুখ লাল হয়ে গেছে রোদে—

    এই বলে গ্লাসভরা পানি আর দুটো বাতাসা হাতে দিতো মাধু।

    দু-একদিন এমন হয়েছে, মনি ভাইজান ফস করে বলে বসলো, আর নেই বাতাসা? থাকলে আরো দুটো দাও, পোকাটা একেবারে নেতিয়ে পড়েছে, কম দূরের পথ—

    কাঁচুমাচু মুখে মাধু বলে, আজ তো আর নেই মনি দাদাবাবু! বেশি করে আনিয়ে রাখবো এরপর থেকে। ছোট্ট সোনাদাদাকে একদিন সন্দেশ খাওয়াব—

    মা যেতে বলেছে তোমাকে আজকেই—

    মনি ভাইজানের মুখে একথা শুনে নগেন স্যাকরা বলতো, আজকেই! নিজের চোখে তো দেখলে মনিবাবু, আজকে কি করে যাই! শরীরের গাঁটে গাঁটে খিল। ঝাড়ের বাঁশ, কিছুতেই আর ভাঙতে চায় না। কালই যাচ্ছি আমি, চিন্তা করতে বারণ করো মাকে–

    কাল না গেলে কিন্তু ভালো হবে না–

    অবশ্যই যাব, অবশ্যই যাবো! আমার নিজের গরজ আছে না? কতোদিন মাকে দেখিনি, কালই যাব।

    ফেরার সময় ইচ্ছে করে একটা রূপোর আধুলি ফেলে রেখে আসে মনি ভাইজান উঠানের একপাশে। আমি দেখে ফেলায় বলে, কাউকে বলবি না, মাকেও না!

    এই রকম ছিল সেসব।

    একদিন দেখা গেল সত্যি সত্যিই পকেটে কোঁচা গুজে হাজির নগেন স্যাকরা। মা, মা কই— দরোজার বাইরে থেকেই চেঁচানি শুরু হয়ে যেতো তার। তারপর অনেকক্ষণ ধরে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে বাঁধাগতে সে বলতো, ছেলেকে মাপ করে দিন মা! মাপ না করলে আমি কিছুতেই মাথা তুলবো না।

    যতো রকমের নষ্টামি আছে সব শিখেছ–এইভাবে শুরু হতো ঝাড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার রাগ পড়ে যেতো। বলতো, বোস, আমার জিনিস কই।

    হয়ে এসেছে, এখন কেবল ছিলতে যে সময়টুকু। তা আগামী হপ্তাতেই পেয়ে যাবেন—

    তোমার কথা আর ব্যাঙের মাথা!

    মার যেমন কথা। দেখবেন এবারে কথার একন্নো আর নড়চড় হবে না।

    একবার এলে সহজে আর উঠতে চাইতো না। বসে বসে রাজ্যির কথার ভুশুড়ি ভাঙতো সে। আঁটুলি হয়ে যেত। আমি কিন্তু চা না খেয়ে উঠব না, কতদিন মার হাতের চা খাইনি–

    সে আমি জানি!

    চা-মুড়ি খেতে খেতে সে বলতো, এইভাবে আপনাদের পাঁচজনের দয়ায় কোনোরকমে জীবন কাটছে মা, বড় কষ্ট!

    তুমি তো নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছো। হাটেবাজারে পড়ে থাক, ঘর-সংসার দ্যাখে কে, এখন আর তোমাকে বিশ্বাস করে কে কাজ দেবে–

    দিব্যি করে বলছি মা ইচ্ছে করে কাউকে আমি ফাঁকি দিইনি। সময়মতো দিতে পারিনি, দু আনা সোনা এদিক-সেদিক হয়ে গেছে, এইটুকুই তো অপরাধ। তা সে আমি দিয়ে দেব। কড়ায় ক্রান্তিতে আমি সকলের সব পাওনা মিটিয়ে দেব, সব হিসেব আছে আমার কাছে, ফাঁকি দিলে সে নরকেও ঠাঁই পাবো না!

    মা বলতো, তুমি কাজে মন দাও, ঘরে মন দাও—

    ঘরে বড়ো অশান্তি মা!

    ঐ মাধু মাধু করেই তুমি মরবে—

    একথা বলছেন কেন মা! কি দিয়েছি আমি তাকে। এই আপনার পা ছুঁয়ে বলছি ও আমার এক পয়সাও নেয় না। উল্টো নিজের কাছে দু-এক টাকা যা থাকে দরকারের সময় তাই দিয়ে দেয়। দুঃখী মানুষের খারাপটাই শুধু দ্যাখে লোকে, আমি তো জানি— এই বলে একদিন কেঁদে ফেলেছিল নগেন স্যাকরা।

    বসে বসে বিকেল পার করে দিত। শেষে মাকে বলতে হতো, নগেন এবার তুমি যাও–

    প্রতিবার যাবার সময় পাঁচটা টাকা করে নিয়ে যেতো সে। সেই যে গেল, তারপর যথারীতি আর নামগন্ধ নেই আসার। আবার হাঁটাহাঁটি করতে হতো, তাগাদার পর তাগাদা শুরু হতো, শেষে সেই একই নিয়মে ঝট করে একদিন এসে হাজির। প্রায় প্রতিবারই ওঠার সময় সে বলতো, আমার কাপটা কিন্তু আলাদা করে রাখবেন মা, রাজরোগের ব্যাপার! এই বলে সে হাসতো। অদ্ভুত একটা হাসি। এ ব্যাপারে আমরা সতর্কই ছিলাম। গা ছোঁয়াছুঁয়ি হয়ে গেলে পুকুরে ডুব দিয়ে আসতে হতো মনি ভাইজানকে।

    একদিন বিকেলে শেঠ পুকুরের মাঠে মনি ভাইজানরা ফুটবল খেলছে আর আমি বসে বসে তা দেখছি। পেছনদিক থেকে সাদা থান পরা একজন হেঁটে গেল, কাপড়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে সে যাচ্ছে। মনে হলো এ আর কেউ নয়, মাধু।

    হাত নেড়ে ইশরা করলাম মনি ভাইজানকে। হাঁপাতে হাঁপাতে একদৌড়ে কাছে এস বললে, কিরে?

    মাধু কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছে–

    কেন?

    ঐ তো, দ্যাখো না—

    মনি ভাইজান চেঁচিয়ে বললে, মাধু, ও মাধু, দাঁড়াও!

    মাধুও দাঁড়াতে আমরা দুজন তার কাছে গেলাম। মনি ভাইজান বললে, কি হয়েছে তোমার, কাঁদছো কেন?

    ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল মাধু। কাঁদতে কাঁদতে তার গলা ভেঙে গিয়েছিল। বললে কতো মানুষের কাছে গেলাম, কেউ কিছু দিল না, সবাই দুর দুর করে তাড়িয়ে দ্যায়। আমি কার কাছে যাবো খোকা দাদাবাবু

    মনি ভাইজান বললে, কেন হয়েছে কি?

    মানষুটা মরে যাচ্ছে—

    ঘরের দোরেই তো হাসপাতাল, ধরে বেঁধে পাঠিয়ে দিতে পারলে সেখানে?

    যেতে যে চায় না, কতো করে তো বলছি! বলছি যাও, নিজের ছেলেমেয়েদের কাছে যাও, তা যাবে না। বেশি দেরি নেই, হয়ে এসেছে, মাধু আমার এখানেই বরাদ্দ— ডুকরে কেঁদে উঠে মাধু বললে, মুখে শুধু এই কথা। হাত ধরে কাঁদে আর বলে, কিছু করতে পারলাম না। ইচ্ছে ছিল! আমি কি কিছু চেয়েছি! বুক ফেটে যায়, ও বাবাগো——

    মাটির ওপরে বসে পড়লো মাধু, মনে হলো এইবার সে মরে যাবে। মনি ভাইজান নাক টিপে ধরলে হাঁ করে সে আকাশের দিকে মুখ তুলে দম নিলো।

    মরবে তো! মনি ভাইজান বললে, নোড়ো না এখান থেকে, যাবো আর আসবো। তারপর এক দৌড়ে অদৃশ্য।

    অল্পক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে এসেছিলো টাকা নিয়ে। খুব সম্ভব পাঁচ টাকা। আমাকে বলেছিল, খবরুদার, মাকে বলবি না পোকা, কাউকে না। কাল যদি ডিম-পরোটা হয়, আমার ভাগের থেকে আস্ত ডিমটাই তোকে দিয়ে দেব–

    বলিনি। পরদিন ডিম হয়েছিল কিনা মনে নেই, তবে টাকার কথা কাউকে বলিনি। এখনো মনে আছে সে কান্নার কথা। অমন কান্না আর কাউকে কখনো কাঁদতে দেখিনি। মাধুর ভালো নাম ছিলো মাধুরী। মাধুর ভেতর থেকে বোধহয় মাধুরীই কেঁদে উঠেছিল সেদিন অমন করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক
    Next Article অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }